রবিবার, ফেব্রুয়ারী ১৭, ২০১৯
বিজয় উদযাপন করছে আওয়ামী লীগ
অনলাইন ডেস্ক: একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নিরঙ্কুশ জয় অর্জন করায় আওয়ামী লীগ আজ বিজয় উদযাপন করছে। এ উপলক্ষে শনিবার বেলা আড়াইটায় রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে বিজয় মহাসমাবেশে মিলিত হচ্ছে দলটির সর্বস্তরের নেতাকর্মী। সেখানে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে আওয়ামী লীগের জোট শরীকদের, দেশের সুশীল ও নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিদেরও। এ বিজয় সমাবেশকে কেন্দ্র করে সকাল থেকেই সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে দলের নেতাকর্মীরা জড়ো হচ্ছে। এ বিজয় সমাবেশে আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন। গত ৩০ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ২৫৭ আসন পেয়ে ভূমিধস জয়ের দেখা পায় আওয়ামী লীগ। এ জয় উদযাপনেই এ মহাসমাবেশের আয়োজন করেছে দলটি। আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন মহাজোট ২৯৯ আসনের মধ্যে ২৮৮টিতে জয়লাভ করেছে। জোট সঙ্গী জাতীয় পার্টি ২২টি আসন পেয়ে সংসদে প্রধান বিরোধীদলের ভূমিকা পালনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এক প্রার্থী মারা যাওয়ায় গত ৩০ ডিসেম্বরের নির্বাচনে গাইবান্ধা-৩ আসনে ভোটগ্রহণ হয়নি। এদিকে একাদশ সংসদের নির্বাচনে দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম দল বিএনপি ও ২০ দলীয় জোট এবং তাদের জোট সঙ্গী জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট নির্বাচনে অংশ নিলেও তারা মাত্র আটটি আসন পেয়েছে। এর মধ্যে বিএনপির জোট সঙ্গী গণফোরাম জয়লাভ করেছে দুই আসনে। তবে, ঐক্যফ্রন্টের নির্বাচিত সংসদ সদস্যরা এখনও শপথ নেননি। একাদশ জাতীয় নির্বাচনে বিপুল ব্যবধানে জয়লাভের পর আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা গত ৭ জানুয়ারি তার মন্ত্রিসভার ৪৬ সদস্যকে নিয়ে শপথ নেন। ৪৭ সদস্যের নতুন মন্ত্রিসভায় প্রধানমন্ত্রী ছাড়াও ২৪ জন মন্ত্রী, ১৯ জন প্রতিমন্ত্রী ও তিনজন উপমন্ত্রী রয়েছেন। তাদের মধ্যে ২৭ জনই নতুন মুখ। জাতির সামনে তুলে ধরা নির্বাচনী ইশতেহার বাস্তবায়নে মন্ত্রিসভার কাজে গতি আনতে তাদের বেছে নেয়া হয়েছে।-ইউএনবি
চোখ থাকতেই অন্ধ বিএনপি: তথ্যমন্ত্রী
অনলাইন ডেস্ক: তথ্যমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ বলেছেন, বিএনপি চোখ থাকতেই অন্ধ, তাই তাদের অন্ধত্ব দূর করা যায় না। বিএনপি বলে, দেশে কোনো উন্নয়ন হয় নাই। কিন্তু তারা আওয়ামী লীগ যে ফ্লাইওভার বানিয়েছে সেই ফ্লাইওভার দিয়ে যাতায়াত করে। একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দেশের মানুষ উন্নয়নের পক্ষে রায় দিয়েছে আর বিএনপিকে লাল কার্ড দেখিয়েছে মন্তব্য করে তথ্যমন্ত্রী বলেন, বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর দেশে অসুস্থ ধারার রাজনীতি করেন। শুক্রবার সন্ধ্যায় ঢাকার সাভারের তেঁতুলঝোড়া উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজ মাঠে ঢাকা-২ আসনের সংসদ সদস্য ও সাবেক খাদ্যমন্ত্রী অ্যাডভোকেট কামরুল ইসলামকে সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে যোগ দিয়ে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন ড. হাছান মাহমুদ। বিএনপির নেতৃবৃন্দের উদ্দেশে তথ্যমন্ত্রী বলেন, আপনাদের আওয়ামী লীগ ভালো না, কিন্তু আওয়ামী লীগের বানানো রাস্তা-ফ্লাইওভার ব্যবহার করতে ভালো লাগে। সুতরাং বাংলাদেশের মানুষ যে রায় দিয়েছে এই রায় উন্নয়নের পক্ষে, প্রগতির পক্ষে। দেশের মানুষ আওয়ামী লীগকে চারবার ক্ষমতায় বসিয়েছে তাই দেশের মানুষের সঙ্গে কোনো খারাপ আচরণ করা যাবে না বলে নেতাকর্মীদের সতর্ক করে দেন আওয়ামী লীগের প্রচার সম্পাদক ড. হাছান মাহমুদ। জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের সংলাপ প্রসঙ্গে তথ্যমন্ত্রী বলেন, জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট বলছে জাতীয় সংলাপ করবে। ওই মিটিংয়ে মির্জা ফখরুল সাহেব যাননি, জিজ্ঞেস করলে আবদুর রব সাহেব বললেন, তিনি অসুস্থ। গয়েশ্বর বাবু বা অন্যরা আসেননি কেন জানতে চাইলে বললেন জানি না। দেখেন ঐক্যফ্রন্টের মধ্যেই ঐক্য নাই, তারা কিসের জাতীয় সংলাপ করবে। তৃতীয় বারের মতো ঢাকা-২ আসনের সংসদ্য নির্বাচিত হওয়ায় অ্যাডভোকেট কামরুল ইসলামকে এ সংবর্ধনা দেন সাভারের ভাকুর্তা, আমিনবাজার ও তেঁতুলঝোড়া ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা। সাভার উপজেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মঞ্জুরুল আলম রাজীবের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আরো উপস্থিত ছিলেন দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ প্রতিমন্ত্রী ডা. এনামুর রহমান, ঢাকা জেলা উত্তর স্বেচ্ছাসেবক লীগের সাধারণ সম্পাদক সায়েম মোল্লা, সাভার উপজেলা যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক নাছির আহমেদ, তেঁতুলঝোড়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ফখরুল আলম সমর, তেঁতুলঝোড়া ইউনিয়ন যুবলীগের সভাপতি আব্দুল কাইয়ুমসহ আরো অনেকে। সংবর্ধনা অনুষ্ঠান শেষে মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।
১৯ জানুয়ারি আ.লীগের বিজয় সমাবেশ
অনলাইন ডেস্ক: একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নিরঙ্কুশ বিজয় উপলক্ষে রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে আওয়ামী লীগের বিজয় সমাবেশ আগামীকাল শনিবার (১৯ জানুয়ারি)। সমাবেশে সভাপতিত্ব করবেন আওয়ামী লীগ সভাপতি এবং প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি সমাবেশের দিক নির্দেশনামূলক বক্তব্য দেবেন। সমাবেশ শুরু হবে দুপুর আড়াইটায়। তবে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান শুরু হবে দুপুর ১২টায়। সকাল এগারোটায় সমাবেশস্থলে প্রবেশের গেইট খুলে দেয়া হবে। এদিকে আগামীকালের রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের বিজয় সমাবেশ সফল করার লক্ষে সার্বিক প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে আওয়ামী লীগ। সমাবেশ সফল করার লক্ষে দলের পক্ষ থেকে ব্যাপক প্রস্তুতি গ্রহণ করা হয়েছে। ঢাকা মহানগর উত্তর ও দক্ষিণ আওয়ামী লীগ, ঢাকা ও তার আশপাশের জেলার আওয়ামী লীগ ও দলীয় প্রতিনিধিদের সঙ্গে প্রস্তুতি সভা করেছে দলটি। এ উপলক্ষে আজ রাজধানীর বঙ্গবন্ধু এভিনিউতে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে ঢাকা মহানগর দক্ষিণ আওয়ামী লীগ বর্ধিত সভার আয়োজন করে। তথ্যমন্ত্রী এবং আওয়ামী লীগের প্রচার সম্পাদক হাছান মাহমুদ এতে প্রধান অতিথির বক্তব্য দেন। তিনি শনিবারের বিজয় সমাবেশ, উৎসব নয় উল্লেখ করে নেতাকর্মীদের উদ্দেশে বলেন, সমাবেশ বর্ণিল কিন্তু সুশৃঙ্খল হবে। নেত্রীর বক্তব্য শেষ হওয়া পর্যন্ত সবাই উপস্থিত থাকার নির্দেশনাও দেন তিনি। এছাড়াও এর আগে আওয়ামী লীগের বিভিন্ন সহযোগী সংগঠনের সঙ্গেও প্রস্তুতি সভাও অনুষ্ঠিত হয়েছে। স্বাধীনতার পর এ বিজয় সমাবেশকে স্মরণীয় করে রাখতে বিপুল জনসমাগমের জন্য সার্বিক প্রস্তুতি গ্রহণ করা হয়েছে। উল্লেখ্য, গত বছরের ৩০ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগ এককভাবে ২৫৭ টি আসনে জয়লাভ করে।
ঐক্যফ্রন্টের বৈঠকে অংশ নেননি মুখপাত্র মির্জা ফখরুল
অনলাইন ডেস্ক: জাতীয় সংলাপের বিষয়ে আলোচনা ও পেশাজীবী সম্মেলনের আয়োজনসহ বেশ কয়েকটি বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতে জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের স্টিয়ারিং কমিটির বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। তবে পূর্বনির্ধারিত বৈঠকে আসেননি স্টিয়ারিং কমিটির সদস্য, বিএনপির মহাসচিব ও ঐক্যফ্রন্টের মুখপাত্র মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। বৃহস্পতিবার (১৭ জানুয়ারি) বিকেল পৌনে ৫টায় ড. কামাল হোসেনের মতিঝিলের চেম্বারে এ বৈঠক শুরু হয়। বৈঠকে মির্জা ফখরুলে অংশ না বিষয়ে ঐক্যফ্রন্টের প্রধান সমন্বয়ক মোস্তফা মোহসীন মন্টু বলেন, ‘শারীরিক অসুস্থতার কারণে মির্জা ফখরুল আজকের বৈঠকে অংশ নেনেনি। এছাড়াও বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায় ও ড. মঈন খাঁন বৈঠকে অংশ নেওয়ার কথা ছিল। কিন্তু বিএনপির নিজস্ব কিছু বৈঠকে অংশ নেয়ায় তারা যথাসময়ে ঐক্যফ্রন্টের বৈঠকে অংশ নিতে পারেননি। বৈঠকে আরও উপস্থিত আছেন-ঐক্যফ্রন্টের প্রধান সমন্বয়ক মোস্তফা মোহসীন মন্টু, গণফোরামের কার্যকরী সভাপতি ও ঐক্যফ্রন্ট নেতা সুব্রত চৌধুরী, নাগরিক ঐক্যের আহ্বায়ক মাহমুদুর রহমান মান্না, জেএসডির সভাপতি আ স ম আব্দুর রব, বঙ্গবীর কাদের সিদ্দিকী, সুলতান মনসুর চৌধুরীসহ দলের সিনিয়র নেতারা। জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট সূত্রে জানা গেছে, বৈঠকে জাতীয় সংলাপের বিষয়ে আলোচনা হবে। সংলাপে কে কে যাবে, কী কী এজেন্ডা থাকবে, সেগুলো নিয়ে কথা হবে। এছাড়াও পেশাজীবীসহ রাজনৈতিক দলের নেতাদের নিয়ে এ মাসের শেষ দিকে একটি সম্মেলন অনুষ্ঠিত হবে। সেই সম্মেলনের প্রস্তুতি, তারিখ নির্ধারণ,কারা কারা দাওয়াত পাবেন, কীভাবে অনুষ্ঠান সম্পন্ন হবে এসব বিষয়ে বৈঠকে আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নেয়া হবে বৈঠকে।
১৪ দলীয় জোট ও মহাজোটের মধ্যে কোনো বিবাদ নেই: ওবায়দুল কাদের
অনলাইন ডেস্ক: ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন ১৪ দলীয় জোট এবং মহাজোটের মধ্যে কোনো ধরনের বিবাদ নেই বলে জানিয়েছেন সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের। তিনি বলেন, মহাজোট নামে যে ঐক্য তা নিবাচনী আর ১৪ দলের সাথে আমাদের যে সম্পর্ক তা রাজনৈতিক। রাজনৈতিক জোট থাকবে, তা আমরা ভেঙে দেইনি। জোট ও মহাজোটের মধ্যে কোনো ধরনের বিবাদ, ভাঙন বা টানাপোড়েন নেই। যদি কোনো ভুল বোঝাবুঝি হয় তাহলে সেটি আলোচনার মাধ্যমে সমাধান করা হবে। বৃহস্পতিবার সকালে রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে আওয়ামী লীগের সমাবেশের প্রস্তুতি পরিদর্শনে এসে এসব কথা বলেন তিনি। আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক কাদের আরও বলেন, রাজনৈতিক জোট যদি বিরোধীদলের ভূমিকা পালন করে, গঠনমূলক আলোচনা করে তা সরকারের জন্য ভালো, তাদের জন্যও ভালো। রাজনৈতিক কারণে ১৪ দলের শরিরদের বিরোধী দলে থাকাই ভালো। এতে সরকারের ভুল সংশোধন এবং সমালোচনার সুযোগ থাকবে, যোগ করেন তিনি। বিএনপিকে বেপরোয়া গাড়িচালকের সাথে তুলনা করে কাদের বলেন, পরাজিত বিএনপি বেপরোয়া হলেও সরকার ধৈর্যশীল। আওয়ামী লীগ বিশাল জয় অর্জনের সাথে দেশ ও মানুষের প্রতি বিশাল দায়িত্ব পেয়েছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।
জনগণ টিআইবির রূপকথার গল্পের জবাব দেবে: কাদের
অনলাইন ডেস্ক: আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেছেন, দেশের জনগণ জাতীয় নির্বাচন নিয়ে টিআইবির অলীক ও অবিশ্বাস্য রূপকথার গল্পের জবাব দেবে। তিনি বলেন, টিআইবি নির্বাচন নিরপেক্ষ হয়নি বলে অলীক, অবিশ্বাস্য রূপকথার কাহিনী সাজাচ্ছে। নির্বাচনে স্বচ্ছ ব্যালট বাক্স ব্যবহার করা হয়েছে। বিএনপির কোন এজেন্ট বা টিআইবির একজন প্রতিনিধিও নির্বাচনের দিন স্বচ্ছ ব্যালট বাক্সের বিরুদ্ধে কোন কথা বলেননি। সেতুমন্ত্রী কাদের বলেন, নির্বাচনের দিন তারা নির্বাচনের কারচুপির কোন কারণ খোঁজে পাননি। আর এখন তারা নির্বাচন নিয়ে কেন অলীক রূপকথার গল্প সাজাচ্ছেন তা আমরা জানি। দেশের জনগণই তার জবাব দেবে। ওবায়দুল কাদের বুধবার দুপুরে রাজধানীর বঙ্গবন্ধু এভিনিউয়ের দলীয় কার্যালয়ে ঢাকা মহানগর দক্ষিণ যুবলীগের উদ্যোগে আয়োজিত বর্ধিত সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এ কথা বলেন। একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনার নেতৃত্বে নিরঙ্কুশ বিজয় উপলক্ষে আগামী ১৯ জানুয়ারি সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের জনসভা সফল করার লক্ষ্যে এ বর্ধিত সভার আয়োজন করা হয়। ঢাকা মহানগর দক্ষিণ যুবলীগের সভাপতি ইসমাঈল হোসেন চৌধুরী সম্রাটের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন আওয়ামী যুবলীগের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ ওমর ফারুক চৌধুরী। সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক রেজাউল করিম রেজার পরিচালনায় অনুষ্ঠিত সভায় প্রধান বক্তা হিসেবে বক্তব্য রাখেন আওয়ামী যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক মো. হারুনুর রশিদ। ওবায়দুল কাদের বলেন, বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বেপরোয়া চালক হয়ে গেছেন। কখন যে তিনি কোন দুর্ঘটনা ঘটিয়ে ফেলেন, সে বিষয়ে সকলকে সচেতন থাকতে হবে। তিনি বলেন, গত দশ বছরে বিএনপির যে মহাসচিব দশ মিনিটের জন্যও আন্দোলন করতে পারেননি, যার নেতৃত্বে জাতীয় নির্বাচনে বিএনপি দশটিরও কম আসন পায়, লজ্জা-শরম থাকলে তিনি আরো আগেই পদত্যাগ করতেন। কাদের বলেন, আন্দোলনে চরম ব্যর্থতা, নির্বাচনে শোচনীয় পরাজয়, লজ্জা-শরম থাকলে আপনাকে আরো অনেক আগেই পদত্যাগ করা উচিত ছিল। তিনি বলেন, তার (ফখরুল) নির্বাচনে জনগণের স্বতঃস্ফূর্ত গণজাগরণ ভাল লাগছে না। একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মত অভূতপূর্ব ফলাফল ৭৫-পরবর্তী সময়ে কেউ কখনো দেখেনি। এ বিজয়কে যারা প্রত্যাখ্যান করে জনগণের কাছে তাদের ক্ষমা চাওয়া উচিত। সেতুমন্ত্রী কাদের আরো বলেন, বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল তার দলের শোচনীয় পরাজয়ের জন্য পদত্যাগ না করে নির্বাচনে কারচুপির অভিযোগ আনেন। নির্বাচনে কারচুপি হলে তিনি (ফখরুল) কীভাবে জয়লাভ করলেন? আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক কাদের যুবলীগের নেতা-কর্মীদের উদ্দেশ্যে বলেন, আওয়ামী যুবলীগ একটি সুশৃঙ্খল সংগঠন। আগামী ১৯ জানুয়ারির আওয়ামী লীগের বিজয় সমাবেশকেও সুশৃঙ্খলভাবে সম্পন্ন করার জন্য তাদের অগ্রণী ভূমিকা পালন করতে হবে। এ সমাবেশে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দেশের জনগণ ও দলের জন্য গুরুত্বপূর্ণ দিকনির্দেশনা দেবেন বলেও জানান তিনি।- আলোকিত বাংলাদেশ
জোটগত হবে না উপজেলা নির্বাচন: ওবায়দুল কাদের
অনলাইন ডেস্ক: আসন্ন উপজেলা নির্বাচন শরিকদের সঙ্গে জোটগতভাবে করবেন না বলে জানিয়েছেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক, সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের। ওবায়দুল কাদের বলেন, আসন্ন উপজেলা পরিষদ নির্বাচন জোটগত হবে না। যার যার দলীয় প্রতীকে ভোট হবে। আজ মঙ্গলবার রাজধানীর একটি কনভেনশন সেন্টারে আওয়ামী লীগ ঢাকা মহানগর উত্তর শাখার বর্ধিত সভায় এসব কথা বলেন ওবায়দুল কাদের। প্রধানমন্ত্রী আবারও রাজনৈতিক দলগুলোর সাথে সংলাপে বসবেন, এ নিয়ে কোনো ধূম্রজাল নেই জানিয়ে ওবায়দুল কাদের বলেন, শুধু শুভেচ্ছা জানানোর জন্যই প্রধানমন্ত্রী আমন্ত্রণ জানাবেন। ৭৫টি দলের সঙ্গে তিনি পর্যায়ক্রমে সংলাপ করেছেন। সবাইকে আবারও তিনি গণভবনে আমন্ত্রণ জানাতে চান। শুভেচ্ছা বিনিময় করবেন তিনি। আমন্ত্রণ জানানোর উদ্দেশ্য সংলাপ নয়। নির্বাচন নিয়ে সংলাপের কোনো প্রয়োজন নেই, এ নিয়ে ধূম্রজাল কেন হবে। আমরা সংলাপ শব্দটাই উচ্চারণ করিনি। নির্বাচনের ক্রেডিবিলিটি নিয়ে কোনো দেশ প্রশ্ন তোলেনি। এখানে কেন এ নিয়ে প্রশ্ন উঠছে আমি জানি না। একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিশাল বিজয় উদযাপনের লক্ষ্যে আগামী শনিবার রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে বিজয় সমাবেশ করবে আওয়ামী লীগ। সমাবেশ সফল করতে নেতাকর্মীদের প্রতি আহ্বান জানান ওবায়দুল কাদের। ওবায়দুল কাদের বলেন, দলে দলে, সুশৃঙ্খলভাবে ব্যানার নিয়ে, ফেস্টুন নিয়ে, ঢাকঢোল পিটিয়ে ও উৎসবের সরঞ্জাম নিয়ে কালারফুল একটা সমাবেশ আমরা করতে চাই। মানুষ যেন এই ধারণা না পায়, যে মহাবিজয়ে ক্ষমতা পেয়ে মহাদাপট দেখাচ্ছে। এবার বিজয় বড়, ধৈর্যও ধরতে হবে বড়। আমাদের সহনশীলতা প্রদর্শন করতে হবে। বড় বিজয়ের সঙ্গে বড় দায়িত্ব এসে গেছে।
আ. লীগের মনোনয়নপত্র বিক্রি শুরু সংরক্ষিত নারী আসনে
অনলাইন ডেস্ক: জাতীয় সংসদে নারীদের সংরক্ষিত আসনের জন্য বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের দলীয় মনোনয়নপত্র বিক্রি আজ মঙ্গলবার সকাল থেকে শুরু হয়েছে। সকাল ১০টায় ধানমণ্ডিতে আওয়ামী লীগ সভাপতির দলীয় কার্যালয়ে মনোনয়নপত্র বিক্রির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন দলের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের। মনোনয়নপত্র বিক্রির নির্ধারিত সময়ের আগ থেকেই দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে দলের নারী নেতারা এসে কার্যালয়ের সামনে জড়ো হন। এবার জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মনোনয়নপত্রের মতোই বিভাগওয়ারি বুথ করে মনোনয়নপত্র দেওয়া হচ্ছে। গত ৩০ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত হয় একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন। এতে ২৫৭টি আসনে জয় পেয়ে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করে টানা তৃতীয় মেয়াদে সরকার গঠন করে আওয়ামী লীগ। এরই মধ্যে নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যদের শপথ অনুষ্ঠিত হয়েছে। নতুন মন্ত্রিসভার শপথ শেষে মন্ত্রীরা দায়িত্বও পালন করতে শুরু করেছেন। আনুপাতিক প্রতিনিধিত্ব পদ্ধতিতে এবার আওয়ামী লীগ ৪৩টি, জাতীয় পার্টি চারটি, বিএনপি একটি, ওয়ার্কার্স পার্টি একটি ও স্বতন্ত্র প্রার্থীরা জোটভুক্ত হয়ে একটি সংরক্ষিত আসন পেতে পারেন। ২০১১ সালে সংবিধানের পঞ্চদশ সংশোধনীতে সংরক্ষিত নারী আসনের সংখ্যা ৪৫ থেকে বাড়িয়ে ৫০ করা হয়েছে। আইন অনুযায়ী, জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ভোটের ফল গেজেট আকারে প্রকাশের পরবর্তী ৯০ দিনের মধ্যে সংরক্ষিত নারী আসনের নির্বাচনের বাধ্যবাধকতা আছে। সে হিসাবে আগামী ১ এপ্রিলের মধ্যে এই নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে হবে। এ বিষয়ে গতকাল নির্বাচন কমিশনের সচিব হেলালুদ্দিন আহমদ বলেন, সংরক্ষিত নারী আসনের এমপিদের (সংসদ সদস্য) ভোটের জন্য রাজনৈতিক দলগুলোকে চিঠি দেওয়া হবে। দলগুলো অন্য কোনো রাজনৈতিক দল না জোটের সঙ্গে নির্বাচন করবে- তা জানানোর জন্য বলা হবে। স্বতন্ত্র এমপিরা কীভাবে নির্বাচন করবেন তাও জানাতে বলা হবে। এককভাবে থাকবেন না জোটগতভাবে নির্বাচন করবেন তা ইসিকে ৩০ জানুয়ারি মধ্যে অবহিত করতে হবে। এ নির্বাচনের জন্য ১২ ফেব্রুয়ারি ভোটার তালিকা প্রণয়ন করা হবে। ১৭ ফেব্রুয়ারি ৫০টি সংরক্ষিত আসনের তফসিল ঘোষণা করা হবে।
সংলাপ নয়, হবে নির্বাচন-পরবর্তী শুভেচ্ছা বিনিময়: ওবায়দুল কাদের
অনলাইন ডেস্ক: আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেছেন, সংলাপ নয়, নির্বাচন পরবর্তী শুভেচ্ছা জানানোর জন্য রাজনৈতিক দলগুলোকে আমন্ত্রণ জানানো হবে। তিনি বলেন, সংলাপ নয়, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা যেহেতু জাতীয় নির্বাচনের আগে রাজনৈতিক দলগুলোকে সংলাপের আমন্ত্রণ জানিয়েছিলেন, সেহেতু তিনি (শেখ হাসিনা) নির্বাচন-পরবর্তী শুভেচ্ছা জানানোর জন্য তাদের আমন্ত্রণ জানাতে চান। সেতুমন্ত্রী বলেন, সংলাপে প্রায় ৭৫টি রাজনৈতিক দল অংশগ্রহণ করেছিল। এই রাজনৈতিক দলগুলোকে আমন্ত্রণ জানিয়ে চিঠি দেয়া হবে। এ রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে জাতীয় পার্টি, বিএনপি, জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট, যুক্তফ্রন্ট, কেন্দ্রীয় ১৪ দল, বামজোটসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দল রয়েছে। ওবায়দুল কাদের সোমবার বিকেলে রাজধানীর বঙ্গবন্ধু এভিনিউয়ের দলীয় কার্যালয়ে জাতীয় নির্বাচনে আওয়ামী লীগের নিরঙ্কুশ বিজয় উদযাপন উপলক্ষে আগামী ১৯ জানুয়ারি সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের বিজয় সমাবেশকে সফল করতে ঢাকা মহানগর দক্ষিণ আওয়ামী লীগের বর্ধিত সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এ কথা বলেন। ঢাকা মহানগর দক্ষিণ আওয়ামী লীগের সভাপতি আবুল হাসনাতের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখন আওয়ামী লীগের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক এবং শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপুমনি এমপি, যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক আব্দুর রহমান ও ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের মেয়র মোহাম্মদ সাঈদ খোকন। সভায় প্রধান বক্তা হিসেবে বক্তব্য রাখেন ঢাকা মহানগর দক্ষিণ আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক শাহে আলম মুরাদ। সভায় অন্যদের মধ্যে আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক এবং নৌপরিবহন প্রতিমন্ত্রী খালিদ মাহমুদ চৌধুরী এমপি, সাংগঠনিক সম্পাদক বিএম মোজাম্মেল হক, শিক্ষা উপ-মন্ত্রী ও সাংগঠনিক সম্পাদক ব্যারিস্টার মুহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল ও বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিবিষয়ক সম্পাদক ইঞ্জিনিয়ার আব্দুস সবুর উপস্থিত ছিলেন। আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের বলেন, জাতীয় নির্বাচন নিয়ে সংলাপের কোনো বিষয় নেই। এ নির্বাচন নিয়ে সারাবিশ্বে কোনো বিতর্ক ও সংশয় নেই। পুরো গণতান্ত্রিক বিশ্ব নির্বাচনে নিরঙ্কুশ বিজয় অর্জন করায় আওয়ামী লীগ সভাপতি এবং প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে অভিনন্দন জানিয়েছেন। তিনি বলেন, আমি আগেও বলেছি, জাতীয় নির্বাচন নিয়ে সংলাপের কোনো প্রয়োজন নেই। সংলাপের দাবি হাস্যকর। তারপরও গতকালের কয়েকটি সংবাদ মাধ্যমে সংলাপ নিয়ে ধূম্রজালের সৃষ্টি হয়েছে। তাই এ বিষয়টি পরিষ্কার করলাম। কাদের এ বিষয়ে আরো বলেন, নির্বাচন-পরবর্তী শুভেচ্ছায় আমন্ত্রণ জানিয়ে রাজনৈতিক দলগুলোকে চিঠি দেয়া হবে। এটা সংলাপের কোনো আমন্ত্রণ নয়। সেতুমন্ত্রী কাদের বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে আওয়ামী লীগ ঐক্যবদ্ধ ছিল বলেই নির্বাচনে আওয়ামী লীগ এ মহাবিজয় অর্জন করতে সক্ষম হয়েছে। ভবিষ্যতেও এ বিজয় অব্যাহত থাকবে। আসন্ন উপজেলা ও সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনেও বিজয়ের এ ধারা অব্যাহত থাকবে। তিনি বলেন, আওয়ামী লীগের এই মহাবিজয়ে দলের দায়িত্বও অনেক বেড়ে গেছে। তবে আমাদের সামনে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হলো সরকারের মধ্যে যাতে দল হারিয়ে না যায়। দল যেন সরকারকে পরিচালনা করে। আওয়ামী লীগ যত ঐক্যবদ্ধই থাকুক না কেন, সংগঠন হিসেবে আমাদের কিছু দুর্বলতা রয়েছে। রাজধানীতে যেমন রয়েছে সারাদেশেও তেমনি রয়েছে। নির্বাচনে বিজয়কে সুসংহত করতে হলে সাংগঠনিক এই দুর্বলতা দূর করতে হবে। দলকে সংগঠিত করার মাধ্যমেই আমরা আমাদের বিজয়কে সুসংহত করতে চাই। আওয়ামী লীগের এই সাংগঠনিক দুর্বলতা দূর করতে সমর্থ হলে বঙ্গবন্ধুর এই দল কখনো পরাজিত হবে না। দলের মধ্যে যে দুর্বলতা রয়েছে তা অনতিক্রম্য নয়, তা অতিক্রমযোগ্য। আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক কাদের বলেন, সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের বিজয় সমাবেশে যারা মিছিল নিয়ে আসবেন তারা বাদ্যযন্ত্র ও ব্যানার-ফেস্টুন নিয়ে আসবেন ঠিক আছে। তবে ব্যানার-ফেস্টুন নিয়ে কেউ সমাবেশস্থলে প্রবেশ করবেন না। আর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ভাষণ শেষ হওয়ার আগ পর্যন্ত কেউ সমাবেশস্থল ত্যাগ করবেন না। তিনি আরো বলেন, সমাবেশস্থলে প্রবেশের জন্য আগের চেয়ে বেশি প্রবেশপথ তৈরি করা হবে এবং নারীদের জন্য আলাদা প্রবেশপথ থাকবে। সমাবেশ যাতে সর্বোচ্চ সুশৃঙ্খল হয় সে বিষয়টিকে সকলকে প্রধান্য দিতে হবে।

রাজনীতি পাতার আরো খবর