ধানের শীষ প্রতীকে যে ১১টি রাজনৈতিক দল প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবে
অনলাইন ডেস্ক: আগামী ৩০ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপির ধানের শীষ প্রতীকে ১১টি নিবন্ধিত রাজনৈতিক দল প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবে। দলগুলো হলো- বিএনপি, গণফোরাম, এলডিপি (অলি আহমেদ), জেএসডি (আব্দুর রব), বিজেপি (পার্থ), কৃষক শ্রমিক জনতা লীগ (কাদের সিদ্দিকী), খেলাফত মজলিস, জাগপা, কল্যাণ পার্টি, বাংলাদেশ মুসলিম লীগ ও জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশ। বার্তাসংস্থা ইউএনবি এ তথ্য দিয়েছে। ১১ দলের নাম উল্লেখ করে বিএনপি আজ বুধবার বিকেলে নির্বাচন কমিশনে চিঠি পাঠিয়েছে। বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর স্বাক্ষরিত চিঠিটি ইসি সচিব হেলালুদ্দীন আহমদের হাতে তুলে দেন দলটির যুগ্ম মহাসচিব মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল।
নির্বাচন কমিশনে আব্বাসের মনোনয়নপত্র বৈধতার বিরুদ্ধে মেননের আপিল
অনলাইন ডেস্ক: বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাসের মনোনয়নপত্র বৈধতার বিরুদ্ধে নির্বাচন কমিশনে (ইসি) আপিল আবেদন করেছেন একই আসনের ওয়ার্কার্স পার্টির প্রার্থী রাশেদ খান মেনন। আগারগাঁওয়ে নির্বাচন ভবনে বুধবার রাশেদ খান মেননের পক্ষে আবেদনটি জমা দেন তার আইনজীবী জিয়াদ আল মালুম। একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ নেয়ার জন্য ঢাকা-৮ আসনে মনোনয়নপত্র জমা দিয়ে বৈধতা পেয়েছেন মির্জা আব্বাস। একই আসনে নির্বাচনে অংশগ্রহণের জন্য মনোনয়নপত্র জমা দেন রাশেদ খান মেনন। পরে আইনজীবী জিয়াদ আল মালুম সাংবাদিকদের বলেন, হলফনামায় তথ্য গোপন করার অভিযোগে মির্জা আব্বাসের প্রার্থিতা বাতিল চেয়ে রাশেদ খান মেননের পক্ষে নির্বাচন কমিশনে আপিল করা হয়েছে। তিনি বলেন, মির্জা আব্বাস হলফনামায় তার স্ত্রী আফরোজা আব্বাস ঋণখেলাপি এটা গোপন করেছেন। এছাড়া মির্জা আব্বাস হলফনামায় লিখেছিন- তার স্ত্রী তার কাছে ৭৩ লাখ টাকার বেশি পাবেন। আবার স্ত্রী লিখেছেন- তিনি তার স্বামীর কাছে ১ কোটি টাকা পাবেন। এটি বিভ্রান্তিকর তথ্য।
চার ভাগে বিভক্ত জাতীয় পার্টি
অনলাইন ডেস্ক: রংপুর-২ (বদরগঞ্জ-তারাগঞ্জ) আসনে জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের কমান্ড মানছেন না কেউ। এ আসনে তিনি উপজেলা জাতীয় পার্টির সভাপতি অধ্যাপক আসাদুজ্জামান চৌধুরী সাবলুকে মনোনীত করলেও সাবেক এমপি আনিসুল ইসলাম মণ্ডল ও পার্টির প্রেসিডিয়াম সদস্য এরশাদের জামাতা জিয়াউদ্দিন বাবলু মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন এ আসনে। বারবার নেতৃত্ব পরিবর্তন, বহিরাগত জাতীয় পার্টির নেতার মনোনয়ন দাখিলকে কেন্দ্র করে উপজেলায় পার্টির মাঝে চাপা ক্ষোভ বিরাজ করছে। পার্টির চেয়ারম্যান উভয় সংকটে পড়েছেন। জাতীয় পার্টি চার ভাগে বিভক্তির কারণে এ আসনটি আওয়ামী লীগের ঘরে চলে যেতে পারে বলে মনে করছেন অনেকে। এদিকে হামার নেতা সাবলু, হঠাও ভাটিয়া বাবলু স্লোগান তুলে জিয়াউদ্দিন বাবলুকে বদরগঞ্জ-তারাগঞ্জ আসনে অবাঞ্ছিত ঘোষণা করে স্থানীয় নেতাকর্মীরা বিক্ষোভ, মানববন্ধন ও সড়ক অবরোধ কর্মসূচি পালন করেছেন। জানা যায়, রংপুরে এরশাদের জনপ্রিয়তা ও লাঙ্গলের ঘাঁটিকে কাজে লাগিয়ে ২০০১ সালে মোহাম্মদ আলী সরকার বদরগঞ্জ-তারাগঞ্জ আসনে জাতীয় পার্টির এমপি নির্বাচিত হন। এরপর ২০০৮ সালে দলের চেয়ারম্যান এইচএম এরশাদ ব্যবসায়ী আনিসুল ইসলাম মণ্ডলকে মনোনয়ন দিলে তিনি জাতীয় পার্টির এমপি নির্বাচিত হন। ২০১৪ সালে বদরগঞ্জ উপজেলা বঙ্গবন্ধু পরিষদের সাবেক সভাপতি আসদুজ্জামান সাবলু চৌধুরীকে জাতীয় পার্টির পক্ষ থেকে মনোনয়ন দেওয়া হয়। তৎকালীন জাতীয় পার্টি নির্বাচনে অংশ না নেওয়ার নাটকীয়তায় তিনি মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করে নিলে আওয়ামী লীগের প্রার্থী আবুল কালাম মো. আহসানুল হক চৌধুরী ডিউক বিনা ভোটে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। বারবার দলের নেতৃত্ব পরিবর্তনের কারণে এ আসনে জাতীয় পার্টির নেতারা চার ভাগে বিভক্ত হয়ে পড়েছেন। উপজেলা সভাপতি আসাদুজ্জামান চৌধুরী সাবলু, সাবেক এমপি আনিসুল ইসলাম মণ্ডল ও জাতীয় আইনজীবী ফেডারেশনের কেন্দ্রীয় কমিটির বিভাগীয় যুগ্ম সম্পাদক অ্যাডভোকেট মোকাম্মেল হক চৌধুরীর নেতৃত্বে চলছে দল। এর মধ্যে জাতীয় পার্টির কিছু সুবিধাভোগী নেতাকর্মীরা জিয়াউদ্দিন বাবলুর পক্ষে অবস্থান নিয়েছে অভিযোগ করেছেন স্থানীয় নেতাকর্মীরা। একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আসাদুজ্জামান চৌধুরী সাবলু, আনিসুল ইসলাম মণ্ডল ও অ্যাডভোকেট মোকাম্মেল হক চৌধুরী দল থেকে মনোনয়ন প্রত্যাশী হিসেবে এ আসনের বিভিন্ন হাট-বাজারসহ গুরুত্বপূর্ণ স্থানে ব্যানার-ফেস্টুন লাগিয়ে ছিলেন। ২৮ নভেম্বর এ আসনে জাতীয় পার্টির মনোনীত প্রার্থী হিসেবে আসাদুজ্জামান চৌধুরী সাবলু, স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে আনিসুল ইসলাম মণ্ডল উপজেলা নির্বাচন রিটার্নিং অফিসারের কাছে মনোনয়নপত্র জমা দেন। সেই সঙ্গে জাতীয় পার্টির প্রেসিডিয়াম সদস্য চট্টগ্রাম-৯ আসনের এমপি জিয়াউদ্দিন বাবলু এ আসনে তার মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন। স্থানীয় নেতাকর্মীরা অভিযোগ করেন, বারবার নেতৃত্বের পরিবর্তনে দলে বিভক্তি, এ আসন ধরে রাখতে পরিকল্পনা না থাকা, স্থানীয় পর্যায়ে কোন্দলের কারণে দলের প্রতি বিমুখ হয়ে পড়েছেন তৃণমূলের কর্মীরা। এর আগে বদরগঞ্জ পৌরসভা নির্বাচনে এরশাদের লাঙ্গল প্রতীক নিয়ে মেয়র পদে লড়াই করা উপজেলা জাতীয় পার্টির নেতা লাতিফুল খাবির প্রতিদ্বন্দ্বিতায় আসতে পারেননি। এছাড়া ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে বদরগঞ্জ ও তারাগঞ্জ উপজেলার ১৫টি ইউনিয়নের মধ্যে বেশির ভাগ ইউনিয়নে প্রার্থী দিতে পারেনি জাতীয় পার্টি। সাবেক সংসদ সদস্য আনিসুল ইসলাম মণ্ডল অভিযোগ করে বলেন, আওয়ামী লীগ থেকে জাতীয় পার্টিতে আসা সাবলু চৌধুরী দলের নেতৃত্ব পাওয়ার পর দল সংগঠিত না হয়ে বিভক্ত হয়ে পড়েছে। তার রাজনৈতিক মতাদর্শের মিল না থাকায় তৃণমূলের নেতাকর্মীরা আস্থা রাখতে পারেনি। তাই বেশির ভাগ নেতাকর্মী ও সাধারণ ভোটার আমার সঙ্গে রয়েছে। তাদের কারণে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে আমি মনোনয়নপত্র জমা দিয়ে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতায় অংশ নিয়েছি। আমি নির্বাচিত হয়ে বদরগঞ্জ-তারাগঞ্জ আসনের মানুষের জীবনমান উন্নয়নের পাশাপাশি দলকে পুনরায় শক্তিশালী করব।
বিএনপি হলেই অবৈধ,আ.লীগের মনোনয়নপত্র বৈধ: রিজভী
অনলাইন ডেস্ক: মনোনয়নপত্র বাছাইয়ে বিএনপির প্রার্থীদের সঙ্গে নির্বাচন কমিশন (ইসি) পক্ষপাতদুষ্ট আচরণ করেছে বলে অভিযোগ করেছেন দলের সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী। বুধবার নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে নিয়মিত সংবাদ সম্মেলনে বলেছেন, আওয়ামী লীগ প্রার্থীর মনোনয়ন হলেই বৈধ আর বিএনপির প্রার্থীর অবৈধ-এ নীতি অনুসরণ করেছে ইসি। রিজভীর অভিযোগ-বিএনপির প্রার্থী, আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী ও স্বতন্ত্র প্রার্থীদের মনোনয়নপত্র কেবল যাচাই-বাছাই হয়েছে এবং বাতিল করা হয়েছে গণহারে। আওয়ামী লীগ প্রার্থীদের মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই করা হয়নি। বিষয়টি এমন ছিল যে, বিএনপি হলেই অবৈধ আর আওয়ামী লীগের প্রার্থী হলেই বৈধ। রিজভী বলেন, জাতীয় সংসদ নির্বাচনের সময় যত ঘনিয়ে আসছে, নির্বাচন কমিশন খোলস ভেঙে তাদের আওয়ামী চেহারাটা ততটাই উন্মোচিত হয়ে পড়ছে। তিনি বলেন, নির্বাচনের আগেই সম্ভবত ক্ষমতাসীন দলের বিজয় নিশ্চিত করতে নানারকম কলাকৌশল ফন্দিফিকির করছে কমিশন। এর একটি ড্রেস রিহার্সেল হয়ে গেল মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাইয়ের সময় বিপুলসংখ্যক প্রার্থীর মনোনয়নপত্র বাতিলের মধ্য দিয়ে। রিজভী দাবি করেন, মনোনয়নপত্র বাছাইয়ে সরকারের মনোবাঞ্ছা বাস্তবায়ন করার পর এখন মাঠের নিয়ন্ত্রণ যাতে ক্ষমতাসীন দলের হাতেই থাকে, সে জন্য নির্বাচন কমিশন কখনও প্রকাশ্যে আবার কখনও পর্দার অন্তরালে নিরন্তর কাজ করে যাচ্ছে। তিনি বলেন, ইসি নোটিশ দিচ্ছে-নির্বাচনের আগে প্রার্থীদের পক্ষ থেকে পোলিং এজেন্টদের তালিকা তাদের দিতে হবে। সেই তালিকা ধরে নতুন করে ধরপাকড় শুরু করার নীলনকশা যার প্রমাণ গাজীপুর, রাজশাহী ও খুলনা সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনেও মিলেছে।
ইসির সঙ্গে আঁতাতের প্রমাণ চাইলেন ওবায়দুল কাদের
অনলাইন ডেস্ক: বিএনপিকে উদ্দেশ্য করে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেছেন,এই দল (বিএনপি) দুর্নীতিতে পাঁচবারের বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন। কানাডার ফেডারেল আদালত সন্ত্রাসী দল হিসেবে চিহ্নিত করেছে তাদের। সন্ত্রাসী ও দুর্নীতিপরায়ণ দল হিসেবে যে দুর্নাম, সেটি তারা কিভাবে ঘোচাবে? তাদের সাংগঠনিক শৃঙ্খলা নেই, এজন্য এভাবে মনোনয়ন বাণিজ্য হয়েছে। দুর্নীতিটা তাদের রক্তের সঙ্গে মিশে গিয়েছে। বুধবার (৫ ডিসেম্বর) সকালে হাইকোর্ট সংলগ্ন তিন নেতার মাজারে গণতন্ত্রের মানসপুত্র হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দীর কবরে শ্রদ্ধা জানাতে এসে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এসব কথা বলেন। ওবায়দুল কাদের বিএনপি নেতাদের উদ্দেশে বলেন, সরকারের সঙ্গে আঁতাত করে ইসি বিএনপির প্রার্থীদের মনোনয়নপত্র বাতিল করেছে, এমন কোনো প্রমাণ থাকলে আমাদের দিন। বিএনপির নির্বাচন কমিশন পুনর্গঠন দাবির জবাবে ওবায়দুল কাদের বলেন,নির্বাচনের বাকি ২৪ দিন। যারা এ সময়ের মধ্যে নির্বাচন কমিশন পুনর্গঠনের কথা বলবে, বুঝতে হবে তাদের অন্য কোনো মতলব আছে। তারা নির্বাচন বানচালের ষড়যন্ত্র করছে। এই সময়ে এসে নির্বাচন কমিশন পুনর্গঠন করার মতো অবস্থা নেই। হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দীর ৫৫তম মৃত্যুবার্ষিকীতে তার কবরে আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে শ্রদ্ধা জানিয়ে ওবায়দুল কাদের আরও বলেন,আন্দোলন-সংগ্রামের মধ্য দিয়ে আমরা গণতন্ত্রের যাত্রা শুরু করেছি। আজকে আমরা এই অঙ্গীকারই করবো, গণতন্ত্রকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দেওয়ার সংগ্রাম অব্যাহত রাখবো। এদিকে হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দীর কবরে সকাল থেকেই ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানাচ্ছে বিভিন্ন রাজনৈতিক দল, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের নেতাকর্মীরা। আওয়ামী যুবলীগের পক্ষে শ্রদ্ধা জানিয়েছেন সংগঠনের চেয়ারম্যান ওমর ফারুক চৌধুরী, ছাত্রলীগের পক্ষে কেন্দ্রীয় সভাপতি রেজোয়ানুল হক চৌধুরী শোভন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের পক্ষে সভাপতি সনজিত চন্দ্র দাস ও সাধারণ সম্পাদক সাদ্দাম হোসেন। এছাড়া, জাতীয় গণতান্ত্রিক দল, জাতীয় পার্টি-জেপি, জাতীয় যুব সংহতিও শ্রদ্ধা জ্ঞাপন করেছে সোহরাওয়ার্দীর কবরে। এসময় সংগঠনগুলোর বিপুল সংখ্যক নেতাকর্মী উপস্থিত ছিলেন।
নৌকার হ্যাটট্রিক জয়ের লক্ষ্যে,আটঘাট বেঁধে প্রচারে নামবে আওয়ামী লীগ
অনলাইন ডেস্ক: নৌকার হ্যাটট্রিক জয়ের লক্ষ্যে নির্বাচনি কার্যক্রমের দলীয় সব প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ ও তাদের মিত্ররা। দলীয়ভাবে নির্বাচনি প্রচার প্রচারণা চালানোর পাশাপাশি মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের সব শক্তিকে মাঠে নামানোর প্রস্তুতি চলছে। জেলা উপজেলা পর্যায়ে বিজয়মঞ্চ করে মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের শক্তির প্রার্থীর জন্য ভোট চাইবেন তারা। এছাড়া দলীয়ভাবে নির্বাচনি কর্মকা- পর্যবেক্ষণ করতে নির্বাচন পর্যবেক্ষণ কমিটি গঠন করে কাজও শুরু করে দেওয়া হয়েছে। দলের বিদ্রোহী প্রার্থীদের বাগে এনে সবাইকে একযোগে মাঠে নামানোর জন্য কাজ চলছে। নৌকার জয় নিশ্চিত করে টানা তৃতীয়বারের মতো সরকার গঠন করার লক্ষ্যে পুরোদমে নির্বাচনি কর্মযজ্ঞ শুরু করে দিয়েছেন আওয়ামী লীগের সবগুলো শাখার নেতারা। আওয়ামী লীগের একাধিক কেন্দ্রীয় নেতার সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, আওয়ামী লীগ নির্বাচন কেন্দ্রিক কর্মকাণ্ড প্রায় গুছিয়ে এনেছে। চলছে শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি। আনুষ্ঠানিক প্রচারণা শুরুর আগেই সব প্রস্তুতি সম্পন্ন করতে প্রতিনিয়ত বৈঠক করছেন উপকমিটির সদস্যরা। নির্বাচন পরিচালনা কমিটিসহ ১৫টি উপকমিটির কোনো না কোনো কমিটির সদস্যরা প্রায় প্রতিদিনই নিজেদের মতো করে বৈঠক করছেন সব প্রস্তুতি সম্পন্ন করা লক্ষ্যে। এছাড়া নির্বাচনে দলীয় কার্যক্রমসহ নির্বাচনের বিষয়গুলো পর্যবেক্ষণ করার লক্ষ্যে নির্বাচন পর্যবেক্ষণ কমিটিও গঠন করে কাজ শুরু করা হয়েছে দলটির পক্ষ থেকে। মঙ্গলবার সকালে কমিটির আহ্বায়ক ড. গওহর রিজভী ও সদস্য সচিব আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক দীপু মনি সংশ্লিষ্টদের নিয়ে বৈঠক করেছেন। শিগগিরই সারা দেশের ৩০০ আসনে এ কমিটি কাজ করবে। প্রতিটি আসনে সংগঠনের অবস্থা ও দলীয় নেতাকর্মীদের কার্মকাণ্ডের চিত্র তুলে আনতে কাজ করবে এ কমিটির সদস্যরা। মাঠের চিত্র পর্যবেক্ষণ করতে প্রতিটি জায়গায় ২ থেকে ৩ জনের একটি টিম পাঠানো হবে। সেই টিম এসে মাঠের চিত্র তুলে ধরে রিপোর্ট জমা দেবে কেন্দ্রে। এছাড়া ১১ ডিসেম্বর টুঙ্গিপাড়ায় জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করার মধ্য দিয়ে দলীয় সভাপতি শেখ হাসিনার নেতৃত্বে আনুষ্ঠানিকভাবে প্রচার কার্যক্রম শুরু করার যে খসড়া প্রস্তুত করা হয়েছে তাও দুই একদিনের মধ্যে চূড়ান্ত করে ফেলা হবে বলেও জানা গেছে। জানতে চাইলে আওয়ামী লীগের প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক ও প্রচার উপকমিটির সদস্য সচিব ড. হাছান মাহমুদ আলোকিত বাংলাদেশকে বলেন, এরই মধ্যে নির্বাচন সংক্রান্ত সব প্রস্তুতি আমরা সম্পন্ন করে ফেলেছি। প্রতীক বরাদ্দ দেওয়ার পরেই আমাদের প্রার্থীরা নৌকার পক্ষে ভোট চাওয়া ও প্রচারের কাজ শুরু করবেন। অন্যদিকে দলীয় প্রধানের প্রচারে নামার বিষয়ে দলটির সাংগঠনিক সম্পাদক ও নির্বাচন পরিচালনা কাজে সমন্বয়ের দায়িত্বে থাকা কেন্দ্রীয় নেতাদের অন্যতম আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম আলোকিত বাংলাদেশকে বলেন, ১১ ডিসেম্বর টুঙ্গিপাড়ায় জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদনের মধ্য দিয়ে আমাদের নেত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে আনুষ্ঠানিকভাবে প্রচার কার্যক্রম শুরু করার যে খসড়া প্রস্তুত করা হয়েছে তাও দুই-একদিনের মধ্যে চূড়ান্ত করে ফেলা হবে। এরপর নেত্রীর সিলেটে হজরত শাহজালাল (রহ.) ও শাহ পরানের মাজার জিয়ারত করারও কথাও রয়েছে। পাশাপাশি বিভাগীয় শহরগুলোতেও যাওয়ার চিন্তা করছেন। নেত্রীর কাছে সময়সূচি জমা দেওয়া হয়েছে দুই-একদিনের মধ্যে তা চূড়ান্ত হয়ে যাবে। দলীয় সূত্রে জানা গেছে, বিদ্রোহী প্রার্থীদের বাগে আনাসহ সব ধরনের দ্বন্দ্ব ও গ্রুপিং মিটিয়ে দলীয় প্রার্থীর পক্ষে মাঠে নামানোর পাশাপাশি নির্বাচনি কাজের মনিটরিং ও সমন্বয় করার জন্যই কয়েকজন কেন্দ্রীয় নেতাকে এবার নির্বাচন থেকে দূরে রাখা হয়েছে। কেন্দ্র থেকে পুরো নির্বাচনি কাজ পর্যবেক্ষণ ও সমন্বয় করার জন্য আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর কবির নানক, আবদুর রহমান, সাংগঠনিক সম্পাদক আহমদ হোসেন, আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম, বিএম মোজাম্মেল হককে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। তারা অন্য কেন্দ্রীয় নেতাদের নিয়ে নির্বাচনকেন্দ্রিক কার্যক্রম পরিচালনা ও দেখভাল করবেন। সাধারণ সম্পাদক ও সভাপতিকে বিভিন্ন বিষয়ে রিপোর্ট করবেন। এ প্রসঙ্গে ওবায়দুল কাদের বলেন, জাহাঙ্গীর কবির নানকের নেতৃত্বে একটি টিম সার্বক্ষণিক কাজ করবে। তারা নির্বাচন করছেন না। তারা কেন্দ্রে থাকবেন, নির্বাচন পর্যবেক্ষণে কাজ করবেন। এতে হেড কোয়ার্টারে নেতৃত্বের ঘাটতি পূরণ হবে। আমিও মাঝে মাঝে আসব। এরই মধ্যে আওয়ামী লীগের দায়িত্বপ্রাপ্ত ৫ নেতা ধানমন্ডি অফিস থেকে বিদ্রোহীদের সঙ্গে যোগাযোগ করে তাদের বোঝাচ্ছেন, সঙ্গে নেত্রীর (শেখ হাসিনা) কঠোর বার্তাও পৌঁছে দিচ্ছেন। ৯ ডিসেম্বর প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ দিনের আগেই সমস্যা মিটিয়ে ফেলে সবাইকে মাঠে নামানো সম্ভব হবে বলেও আশা করছেন দায়িত্বশীলরা। এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম বলেন, আমরা কাজ শুরু করেছি। ফলও ভালো। এরই মধ্যে বিভিন্ন আসনেও বিদ্রোহীরা তাদের মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করতে শুরু করেছেন। আশা করছি, দুই-একদিনের মধ্যে সব ঠিক হয়ে যাবে। সবাই ঐক্যবদ্ধভাবে নৌকার প্রার্থীকে জেতাতে কাজ করবে। এদিকে ১৬ ডিসেম্বর থেকে সারা দেশে জেলা উপজেলায় মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের বিভিন্ন সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠন এবং মুক্তিযোদ্ধাদের দিয়ে বিজয়মঞ্চ করে নৌকার প্রার্থীদের পক্ষে প্রচারণা চালানোর জন্য কাজ করছে ১৪ দলের কেন্দ্রীয় নেতারা। এখানে মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের শক্তির সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠন ও মুক্তিযোদ্ধা এবং সমাজের বিশিষ্টজনদের রাখার পরিকল্পনা করা হয়েছে। এ প্রসঙ্গে সাম্যবাদী দলের সাধারণ সম্পাদক ও ১৪ দলের অন্যতম নেতা ডা. দিলীপ বড়ুয়া আলোকিত বাংলাদেশকে বলেন, সারা দেশে জেলা-উপজেলা পর্যায়ে বিজয়মঞ্চ গঠন করে মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের শক্তির পক্ষে প্রচারণা চালানোর পরিকল্পনা করা হয়েছে। সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোটের সভাপতি গোলাম কুদ্দুসকে আহ্বায়ক করে একটি কমিটিও করা হবে। ৬ ডিসেম্বর এ বিষয়ে সংবাদ সম্মেলন করে আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেওয়া হবে। এছাড়া, একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নৌকার মনোনীত প্রার্থীদের পক্ষে কাজ করতে সোমবার ৮ বিভাগের জন্য বিভাগীয় নির্বাচন ও সমন্বয় কমিটি গঠন করা হয়েছে। প্রতি বিভাগের জন্য দুইজন করে নেতাকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।
মিথ্যাচারের ফ্যাক্টরি হচ্ছে নয়াপল্টন: ওবায়দুল কাদের
অনলাইন ডেস্ক: রোজ সংবাদ সম্মেলন করে বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভীর নানা অভিযোগের দিকে ইঙ্গিত করেছেন আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের। তিনি বলেছেন, নয়াপল্টন হচ্ছে মিথ্যাচারের ফ্যাক্টরি। সেখানে একজন আবাসিক নেতা রয়েছেন, তিনি সবসময়ই মিথ্যাচার করে বেড়াচ্ছেন। রাজধানীর ধানমণ্ডির আওয়ামী লীগ সভাপতির রাজনৈতিক কার্যালয়ে মঙ্গলবার (৪ ডিসেম্বর) এক সংবাদ ব্রিফিংয়ে এসব কথা বলেন তিনি। আওয়ামী লীগ জিয়া পরিবারকে নিশ্চিহ্ন করতে চায় বিএনপির এমন বক্তব্যের জবাবে ওবায়দুল কাদের বলেন, ইতিহাস বলে-জিয়া পরিবারই বঙ্গবন্ধু পরিবারকে নিশ্চিহ্ন করার জন্য সব ধরনের চেষ্টা করেছে। বঙ্গবন্ধুর খুনিদের নিরাপদে কারা বিদেশ পাঠিয়েছিল, ইনডেমনিটি অধ্যাদেশ জারি করে কারা খুনিদের বিচার বন্ধ করেছিল, খুনিদের দূতাবাসে চাকরি দিয়েছিল, কারা পঞ্চম সংশোধনী করেছিল-সবই দেশবাসী জানে। বিএনপিই এসব করেছিল। বঙ্গবন্ধুর হত্যাকাণ্ডের বেনিফিশিয়ারি (সুবিধাভোগী) জিয়াউর রহমান, তার ছেলে তারেক রহমান বঙ্গবন্ধুকন্যা হত্যা প্রচেষ্টা (একুশ আগস্ট) মামলায় দণ্ডিত-এমতাবস্থায় জিয়া পরিবারকে বাংলাদেশে রাজনীতি থেকে দূরে রাখার কোনো চিন্তা আওয়ামী লীগের আছে কিনা সাংবাদিকের এমন প্রশ্নের জবাবে আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক বলেন, ইতিহাস বলে-জিয়া পরিবার বঙ্গবন্ধু পরিবারকে নিশ্চিহ্ন করার চেষ্টা করেছে। জিয়া পরিবারকে সরিয়ে দেয়ার কোনো পরিকল্পনা আমাদের নেই। ১৫ আগস্টের নেপথ্যে তারাই ছিল-খুঁজলে তাই বেরিয়ে আসবে। তারাই আবার সেই খুনিদের পুরস্কৃত করেছে, পুনবার্সিত করেছে। আমাদের নেত্রীকে লক্ষ্য করে ২১ আগস্ট বোমা হামলা ঘটিয়েছিল। এর বিচারও হয়েছে-যোগ করেন কাদের। বিএনপির দুই শীর্ষ নেতা খালেদা জিয়া ও তারেক রহমানের সাজার বিষয়ে ওবায়দুল কাদের বলেন, আমার পাপে আমি ভিকটিম (ভুক্তভোগী)। আমার অন্যায়ে আমি ভিকটিম। এখানে অন্যদের কি করার আছে? তিনি আরও বলেন, খালেদা জিয়াসহ বিএনপি নেতাদের বিরুদ্ধে আদালত আদেশ দিয়েছেন। এখানে রাজনৈতিকভাবে আমরা তাদের হয়রানি করিনি। বিএনপি মনোনয়ন বাণিজ্য করেছে, অভিযোগ করে ওবায়দুল কাদের বলেন, একাদশ নির্বাচনে প্রার্থী বাছাইয়ে বিএনপি বাণিজ্য করেছে। যাদের কাছ থেকে টাকা নেয়া হয়েছে, তারা বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতাদের বাড়িতে গিয়েও ধরণা দিচ্ছেন। আমাদের খবর আছে- সেসব বিএনপি নেতা (টাকা নেয়া) এখন পালিয়ে বেড়াচ্ছেন। এ সময় আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ডা. দীপু মনিসহ আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় নেতারা উপস্থিত ছিলেন।
মনোনয়ন-বাণিজ্য করেছে বিএনপি: ওবায়দুল কাদের
অনলাইন ডেস্ক: আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের বলেছেন, বিএনপির এত প্রার্থীর মনোনয়নপত্র বাতিল হওয়ার পরও ৫৫৫ প্রার্থী টিকে থাকাই প্রমাণ করে, তারা মনোনয়ন-বাণিজ্য করেছে। আজ মঙ্গলবার রাজধানীর ধানমণ্ডিতে আওয়ামী লীগ সভাপতির কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে কাদের এ অভিযোগ করেন। জিয়া পরিবার বাংলাদেশের রাজনীতি থেকে নিশ্চিহ্ন হয়ে যাক, তা আওয়ামী লীগ চায় না বলেও মন্তব্য করেন কাদের। একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ৩০০ আসনের জন্য বিএনপির ৬৯৬ জন প্রার্থী মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছিলেন। কমিশন কর্তৃক যাচাই-বাছাইয়ের পর শেষ পর্যন্ত তাদের প্রার্থী টিকে আছে ৫৫৫ জন। ৩০০ আসনের জন্য এত সংখ্যক প্রার্থীকে মনোনয়ন দেওয়াকে বিএনপির মনোনয়ন-বাণিজ্য বলে অভিযোগ করলেন ওবায়দুল কাদের। কাদের বলেন, ১৪১ জন বাদ যাওয়ার পরও ৫৫৫ জনের নাম এখনো প্রার্থিতায় আছে। আমরা তো বিশ্বস্ত সূত্রে খবর পেয়েছি এবং গুঞ্জন ছড়িয়ে পড়ছে। ডালপালা বিস্তার করেছে। যে বিএনপি মনোনয়ন-বাণিজ্যে এবার রেকর্ড করেছে। এ সময় জিয়া পরিবার বাংলাদেশের রাজনীতি থেকে নিশ্চিহ্ন হয়ে যাক, তা আওয়ামী লীগ চায় না বলেও দাবি করেন কাদের। বলেন, জিয়া পরিবারকে নিশ্চিহ্ন! জিয়া পরিবারই বঙ্গবন্ধু পরিবারকে নিশ্চিহ্ন করার জন্য বারবার চক্রান্ত, ষড়যন্ত্র করেছে। নেপথ্যে কি ছিল না ১৫ আগস্টের? অস্বীকার করতে পারে তারা? আমরা তো তাদের নিশ্চিহ্ন করতে চাইনি। তাদের ওপর যা হচ্ছে, সেটা আদালতের আদেশে হচ্ছে। এখানে আমাদের, রাজনৈতিকভাবে আমরা কোনোভাবে হয়রানি, হুমকি এসব আমরা করতে যাইনি। নির্বাচনে জয়ী হতে পারবে না জেনে বিএনপি দেশে অস্থিরতা ও অস্থিতিশীলতা সৃষ্টি করে নির্বাচন বানচালের চক্রান্ত করছে বলেও অভিযোগ করেন কাদের। বিএনপি নেতারা ক্রমাগত তাদের নির্বাচনী এলাকায় নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘন করছেন বলেও দাবি করেন তিনি। বিএনপি গঠনের পর এই প্রথম জিয়া পরিবারের কেউ নির্বাচনে অংশ নিচ্ছেন না এ বিষয়ে ওবায়দুল কাদেরের দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে তিনি বলেন, রাজনীতির মাঠে প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে আওয়ামী লীগ বিএনপিকে চায়। কাদের বলেন, বিএনপি একটা বড় দল। এটা গণতান্ত্রিক রাজনীতিতে বিরোধী দল থাকলেও আমাদের কোনো ক্ষতি নেই। এ সময় জনগণের কথা চিন্তা করে বিএনপিকে নির্বাচন থেকে সরে না যাওয়ার আহ্বান জানান আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের।
জেলগেটে নিপুণসহ দুজনকে জিজ্ঞাসাবাদের নির্দেশ
অনলাইন ডেস্ক: নয়াপল্টনে বিএনপির কার্যালয়ের সামনে পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষের ঘটনায় করা আরেক মামলার বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য অ্যাডভোকেট নিপুণ রায় চৌধুরী ও ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সংসদের সহসাধারণ সম্পাদক আরিফা সুলতানা রুমাকে জেলগেটে জিজ্ঞাসাবাদের নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। আজ মঙ্গলবার ঢাকার মহানগর হাকিম তোফাজ্জল হোসেন আদেশ দেন। আদালতের সাধারণ নিবন্ধন কর্মকর্তা উপপরিদর্শক (এসআই) জালাল উদ্দিন সাংবাদিকদের জানান, আজ ঢাকার মুখ্য মহানগর হাকিমের আদালতে পল্টন থানার নাশকতার আরেক মামলায় নিপুণসহ দুজনকে হাজির করে সাত দিন রিমান্ডে নেওয়ার আবেদন করেন। সে আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে আইনজীবী সানাউল্লাহ মিয়াসহ একাধিক আইনজীবী রিমান্ড বাতিলপূর্বক জামিনের আবেদন করেন। শুনানি শেষে বিচারক রিমান্ড ও জামিনের আবেদন খারিজ করে একদিন জেলগেটে তাঁদের জিজ্ঞাসাবাদের জন্য অনুমতি দেন। গত ১৫ নভেম্বর বৃহস্পতিবার রাত ৮টার দিকে রাজধানীর কাকরাইল থেকে নিপুণকে আটক করা হয়। এর পরে তাঁকে পল্টন থানার নাশকতার মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হলে ঢাকার মুখ্য মহানগর হাকিমের আদালতে হাজির করে পাঁচ দিনের রিমান্ডে পাঠানো হয়। এর পর থেকে তিনি কারাগারে রয়েছেন। অন্যদিকে আরিফা সুলতানা রুমাকে একই দিন হাইকোর্ট এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। নথি থেকে জানা যায়, মনোনয়নপত্রের ফরম সংগ্রহের সময় গত ১৪ নভেম্বর দুপুরে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে পুলিশের সঙ্গে নেতাকর্মীদের সংঘর্ষ হয়। সংঘর্ষে পুলিশের একটি পিকআপ ভ্যানসহ দুটি গাড়ি জ্বালিয়ে দেওয়া হয়। এতে পুলিশের পাঁচ কর্মকর্তা, দুজন আনসার সদস্যসহ ২৩ পুলিশ সদস্য আহত হন। ওই ঘটনায় পুলিশ বাদী হয়ে পল্টন থানায় পৃথক তিনটি মামলা করে। তিন মামলাতেই আসামি করা হয়েছে নিপুণ রায়কে।