পর্দার আড়ালে নানা তৎপরতা জোট রাজনীতি
অনলাইন ডেস্ক: দরজায় কড়া নাড়ছে নির্বাচন। কী হয়, কী হবে, নানা অনিশ্চয়তা। তারপরও পর্দার অন্তরালে তৎপরতা থেমে নেই। নিজেদের প্রস্তুত করছে রাজনৈতিক দলগুলো। ক্ষমতাসীন দলের শীর্ষ নেতৃত্ব থেকে এরই মধ্যে দলের তৃণমূলকে নির্দেশনা দেয়া হয়েছে, আগামী নির্বাচন অংশগ্রহণমূলক হবে ধরে নিয়ে সেভাবেই প্রস্তুতি নিতে। অভ্যন্তরীণ কোন্দল নিরসনই দলটি প্রধান চ্যালেঞ্জ মনে করছে। ওদিকে, নানা অনিশ্চয়তার পরও বিএনপি নির্বাচনের এক ধরনের প্রস্তুতি শুরু করেছে। দলটি এখন সবচেয়ে বেশি চেষ্টা করছে অপেক্ষাকৃত প্রগতিশীল মনোভাবাপন্ন দলগুলোর সমন্বয়ে একটি বৃহৎ জোট গঠনের জন্য। বিএনপির পক্ষ থেকে একে জাতীয় ঐক্য নামে অভিহিত করা হচ্ছে। এ জাতীয় ঐক্যের জন্য বিএনপি সর্বোচ্চ ছাড় দিতে প্রস্তুত রয়েছে বলেও জানা যাচ্ছে। একাধিক সূত্রে জানা গেছে, জাতীয় ঐক্যের প্রচেষ্টায় বিএনপির পক্ষ থেকে গণফোরাম, নাগরিক ঐক্য, জাসদ (রব), কৃষক-শ্রমিক জনতা লীগ, বিকল্প ধারা, সিপিবিসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়েছে। এখনও দলগুলোর মধ্যে আলোচনা অব্যাহত রয়েছে। বেশিরভাগ দলই অভিন্ন স্বার্থে এ জাতীয় ঐক্যের ব্যাপারে একমত হয়েছে। শুরুর দিকে ভিন্ন মঞ্চ থেকে অভিন্ন কর্মসূচি পালন করা হতে পারে। তবে, বেশ কিছু জটিলতাও এখন পর্যন্ত রয়ে গেছে। ২০ দলীয় জোটের ভেতরও কিছু টানাপড়েন তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে জামায়াতের সঙ্গে বিএনপির দূরত্ব বাড়ছে। সিলেট সিটি করপোরেশনে জোটের বাইরে গিয়ে জামায়াতের পক্ষ থেকে মেয়র পদে প্রার্থী দেয়া হয়েছে। অন্য সিটিগুলোতে জামায়াতের প্রার্থী না থাকলেও বিএনপির পক্ষে সেভাবে সরব নেই জামায়াতের নেতাকর্মীরা। এই পরিস্থিতিতে আগামী সংসদ নির্বাচনে জামায়াতের অবস্থান কোন দিকে যায় সেদিকে দৃষ্টি থাকবে পর্যবেক্ষক মহলের। জামায়াতের আমির মকবুল আহমাদ সম্প্রতি কারাগার থেকে মুক্তি পেয়েছেন। এ নিয়েও রাজনৈতিক মহলে কৌতূহল তৈরি হয়েছে। তবে, বিএনপির বৃহত্তর জাতীয় ঐক্যের প্রচেষ্টায় নেতৃত্ব, প্রলোভন আর চাপ এ তিনটি বিষয়ই সবচেয়ে বেশি আলোচনায় রয়েছে। একজন রাজনৈতিক পর্যবেক্ষক বলেন, একটি সিটি নির্বাচনে একজন বিদ্রোহী প্রার্থীকে নিজের ইচ্ছার বিরুদ্ধেই প্রার্থী হতে হয়েছে। এরআগে নানা চাপ এবং প্রলোভনে ২০ দলের শরিক বেশ কয়েকটি দলের মধ্যে ভাঙন দেখা দেয়। সামনের দিনগুলোতে এমন পরিস্থিতি আরো প্রবল হতে পারে। তবে, বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া কারাগারে থাকায় সম্ভাব্য জোটের নেতৃত্ব কে দেবেন তা নিয়ে জটিলতা রয়েছে। যদিও পরিস্থিতির পরিবর্তনে এ নিয়ে ছাড় দিতেও বেশিরভাগ দল প্রস্তুত রয়েছে বলে একটি সূত্র জানাচ্ছে। এক্ষেত্রে জোটের নেতৃত্বে বড় ধরনের চমকও থাকতে পারে। সরকারের অংশীদার জাতীয় পার্টির আগামী দিনে কী ভূমিকা হতে পারে তা নিয়েও রাজনৈতিক পর্যবেক্ষক মহলে আলোচনা রয়েছে। অতীতে হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ নানা নাটকীয়তা তৈরি করেছিলেন। যদিও বিএনপির সঙ্গে কখনও তার নির্বাচনী ঐক্য হয়নি। চার দলীয় জোট গঠনের সময় এরশাদ ঐক্যের কাবিননামায় স্বাক্ষর করলেও পরে জোট ত্যাগ করেন। এখন জাতীয় পার্টিতে রওশন এরশাদও একটি শক্তিশালী প্রভাব বলয়ের নেতৃত্বে রয়েছেন। তবে, আগামীদিনে মহাজোটে জাতীয় পার্টির স্থান অন্য একটি দল নিতে পারে এমন গুঞ্জনও রয়েছে। যে দলটি এখন বিএনপির ঐক্য প্রচেষ্টার আলোচনাতেও আছে। রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা বলছেন, আগামী অক্টোবরের শেষ দিকে নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার কথা রয়েছে। এর আগে পরে রাজনীতিতে নানা নাটকীয় ঘটনা ঘটতে পারে। যদিও সর্বত্রই ক্ষমতাসীনদের নিয়ন্ত্রণ বজায় রয়েছে। এবং এ নিয়ন্ত্রণ চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে পারে এমন কোনো ঘটনাও ঘটেনি। কোটা সংস্কার আন্দোলন ইস্যুতেও কঠোর অবস্থান নিয়ে ক্ষমতাসীনরা সর্বত্র একটি বার্তা পৌঁছে দিতে সক্ষম হয়েছে। সামনের দিনগুলোতেও যে সরকারের কঠোর অবস্থান অব্যাহত থাকবে তা বলাই বাহুল্য। নানা ইস্যুতে পশ্চিমা দেশগুলো কিছু নড়াচড়ার চেষ্টা করলেও সরকারের যে তা পছন্দ হয়নি তা তাদের জানিয়ে দেয়া হয়েছে। বাংলাদেশকে নিয়ে চীন-ভারতের এক ধরনের ঠান্ডা লড়াইয়ের খবর মাঝে মধ্যেই আন্তর্জাতিক সংবাদ মাধ্যমে বেরোয়। তবে ঢাকার পক্ষ থেকে দিল্লিকে এটা বুঝানোর চেষ্টা হয়েছে যে, চীনের অবস্থান শুধুই বাণিজ্যিক। জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট মামলায় হাইকোর্টে খালেদা জিয়ার আপিলের শুনানি এরই মধ্যে শুরু হয়ে গেছে। তার জামিনে মুক্তির ব্যাপারে এখন বিএনপির হেভিওয়েট আইনজীবীরাও কোনো আশার কথা বলছেন না। দলটি শেষ পর্যন্ত এ ইস্যুতে কী কৌশল অবলম্বন করে, আদৌ কোনো কৌশল অবলম্বন করতে পারে কি-না সেদিকেও খেয়াল রাখছেন পর্যবেক্ষকরা। প্রকাশ্যে রাজনীতি এখন স্থির। সর্বত্র নিয়ন্ত্রণ। পর্দার আড়ালে জোট রাজনীতিতে নড়াচড়া চলছে। সামনের দিনগুলোতে তা আরো তীব্র হবে। যদিও তীব্র প্রতিযোগিতার কোনো আভাস নেই। সূত্র: মানবজমিন
২০ জুলাই (শুক্রবার) বিকাল ৩টায় বিএনপির বিক্ষোভ
অনলাইন ডেস্ক: কারাগারে থাকা দলের চেয়ারপাসন খালেদা জিয়ার সুচিকিৎসা না দেওয়ার প্রতিবাদে আগামী ২০ জুলাই (শুক্রবার) বিকাল ৩টায় নয়াপল্টনে দলীয় কার্যালয়ের সামনে বিক্ষোভ সমাবেশের ঘোষণা দিয়েছে বিএনপি। রোববার (১৫ জুলাই) বেলা সাড়ে ১১টায় নয়াপল্টনে দলীয় কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে এ ঘোষণা দেন দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। সংবাদ সম্মেলনে অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন- স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. আব্দুল মঈন খান, সিনিয়র যুগ্ম-মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী, প্রশিক্ষণ বিষয়ক সম্পাদক এবিএম মোশাররফ হোসেন, সহ-সাংগঠনিক আবদুস সালাম আজাদ, বিএনপি নেতা আসাদুল করীম শাহীন, আবুল কালাম আজাদ, অধ্যাপক আমিনুল ইসলাম প্রমুখ।
বিএনপির বিক্ষোভ ২০ জুলাই
অনলাইন ডেস্ক :কারাগারে থাকা দলের চেয়ারপাসন খালেদা জিয়ার সুচিকিৎসা না দেওয়ার প্রতিবাদে আগামী ২০ জুলাই (শুক্রবার) বিকাল ৩টায় নয়াপল্টনে দলীয় কার্যালয়ের সামনে বিক্ষোভ সমাবেশের ঘোষণা দিয়েছে বিএনপি। রোববার (১৫ জুলাই) বেলা সাড়ে ১১টায় নয়াপল্টনে দলীয় কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে এ ঘোষণা দেন দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। সংবাদ সম্মেলনে অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন- স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. আব্দুল মঈন খান, সিনিয়র যুগ্ম-মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী, প্রশিক্ষণ বিষয়ক সম্পাদক এবিএম মোশাররফ হোসেন, সহ-সাংগঠনিক আবদুস সালাম আজাদ, বিএনপি নেতা আসাদুল করীম শাহীন, আবুল কালাম আজাদ, অধ্যাপক আমিনুল ইসলাম প্রমুখ।
শারীরিক-মানসিক প্রস্তুতি নিতে হবে: মওদুদ
অনলাইন ডেস্ক: এখন সময় খুব কম। আর মাত্র আড়াই মাস সময় আছে। এ অল্প সময়ের মাঝে আমাদের প্রস্তুতি নিতে হবে শারীরিক ও মানসিকভাবে। এবার ২০১৪ সালের মতো নির্বাচন হতে দেব না। বিনা চ্যালেঞ্জে সরকারকে একতরফা নির্বাচন করতে দেওয়া হবে না বলে জানিয়েছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ। খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবিতে আজ শনিবার জাতীয় প্রেসক্লাবের ভিআইপি লাউঞ্জে জিয়া আদর্শ একাডেমি আয়োজিত প্রতিবাদ সমাবেশে তিনি এসব কথা বলেন। মওদুদ বলেন, এবার সরকারকে আগের মতো নির্বাচন করতে দেওয়া হবে না। সরকার যদি বিএনপি ও খালেদা জিয়াকে বাদ দিয়ে নির্বাচন করতে চায় তাহলে সেটি প্রতিহত করা হবে। খালেদা জিয়া ও বিএনপিকে বাদ দিয়ে কোনো নির্বাচন বাংলাদেশে হবে না। আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচন হতে হবে বিএনপিসহ সব দলের অংশগ্রহণে। খালেদা জিয়ার মুক্তি ও বিএনপির অংশগ্রহণ ছাড়া দেশে কোনো গ্রহণযোগ্য নির্বাচন হবে না। সাবেক এ আইনমন্ত্রী আরও বলেন, আগামী নির্বাচনের আগে খালেদা জিয়ার মুক্তি দিতে হবে। সংসদ ভেঙে দিতে হবে, নিরপেক্ষ সরকার ব্যবস্থা ফিরিয়ে আনতে হবে, ম্যাজিস্ট্রেসি পাওয়ার দিয়ে সেনা মোতায়েন করতে হতে হবে। ২০১৪ সালের মতো পাতানো নির্বাচন করতে দেওয়া হবে না। বিএনপি নেতা বলেন, আপনারা প্রস্তুতি নিন, আর যে আড়াই মাস সময় আছে তার মধ্যে নিজেদের তৈরি করতে হবে সরকারের অপশাসনের বিরুদ্ধে গণআন্দোলন গড়ে তুলতে। আমরা সঠিক সময়ে কর্মসূচি দেওয়া। এখন কর্মসূচি দিলাম সেটি সফল না হয় তাহলে লাভ কি হবে? দেখেন না এখনো সব কিছুই সরকারের নিয়ন্ত্রণে। তাই সময় মতো আন্দোলনের কর্মসূচি দেওয়া হবে। সে জন্য প্রস্তুত থাকুন। বিএনপির এই শীর্ষ নেতা বলেন, এখন সময় এসেছে সরকারে অপশাসনের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করার। গণপ্রতিরোধ গড়ে তুলে খালেদা জিয়ার মুক্তি ও নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে নির্বাচন দিতে বাধ্য করা হবে। তাই সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে আন্দোলনের জন্য প্রস্তুত থাকতে হবে। সময় মতো ডাক আসবে। তিনি বলেন, শুধু বিএনপি বা বিরোধী দল নয় আওয়ামী লীগের যারা বুদ্ধিজীবী আছেন তারাও স্বীকার করবেন, আজ যে সংকট তৈরি হয়েছে, অতীতে তা আর কখনো হয়নি। আজ আমাদের বাংলাদেশ অনেক পেছনে চলে গেছে। আমাদের মৌলিক অধিকারগুলো অনুপস্থিত। আমাদের সবচেয়ে কষ্টের বিষয় হচ্ছে স্বাধীনতার ৪৬ বছর পরও আমরা গণতন্ত্রের জন্য লড়াই করছি। অথচ এ স্বাধীনতার জন্য আমরা ২৬ বছর পাকিস্তানিদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করেছি। কোটা আন্দোলনের বিষয়ে মওদুদ আহমদ বলেন, প্রধানমন্ত্রী সংসদে দাঁড়িয়ে বললেন কোটা থাকবে না। এখন আবার সেই প্রধানমন্ত্রীই সংসদে বললেন হাইকোর্টের রায় আছে, তাই মুক্তিযুদ্ধ কোটা বাতিল হবে না। যদি আদালতের রায় থাকে, তাহলে সরকারের এমপি-মন্ত্রীদের উচিত আইন সংশোধন করে প্রধানমন্ত্রীর ওয়াদা রক্ষা করা। কাজটি আসলে এপ্রিলের পরেই করা দরকার ছিল সরকারের। প্রতিবাদ সভায় আরো বক্তব্য দেন বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান সাংবাদিক শওকত মাহমুদ, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা হাবিবুর রহমান হাবিব, গণশিক্ষাবিষয়ক সম্পাদক সেলিম ভূঁইয়া।
বিএনপি নেতাদের দেখে মনেই হয় না নেত্রী জেলে!
অনলাইন ডেস্ক: দুর্নীতি মামলায় সাজাপ্রাপ্ত হয়ে গত ৫ মাস ধরে কারাগারে রয়েছেন বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া। কিন্তু বিএনপির মহাসচিব থেকে শুরু করে স্থায়ী কমিটির সদস্য, ভাইস চেয়ারম্যান, উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য, যুগ্ম-মহাসচিব, সাংগঠনিক সম্পাদক কিংবা কোনো সম্পাদক, কাউকে দেখে কিংবা তাদের ভাব-ভঙ্গিতে মনেই হয় না যে খালেদা জিয়া ৫ মাস ধরে কারাগারে। বিএনপির কর্মসূচি থেকে শুরু করে নেতাদের চালচলনেও তেমন কোনো প্রভাব পড়েনি। গত ৫ মাসে খালেদা জিয়াকে কারামুক্ত করতে তেমন কোনো কঠোর কোনো কর্মসূচিও চোখে পড়েনি। সর্বশেষ গত ৯ জুলাই মহানগর নাট্যমঞ্চে প্রতীকী অনশন কর্মসূচিতেও লোকসমাগম তেমন একটা লক্ষ্য করা যায়নি। সিনিয়র নেতাদের কার্যকলাপে মনে হয় তারা অনেক ফুরফুরে মেজাজেই আছেন। খালেদা জিয়া কারাগারে থাকায় রমজান মাস কিংবা ঈদ কোনোটাতেই প্রভাব পড়েনি নেতাদের কাজে-কর্মে। বিএনপির তৃণমূলের নেতাকর্মীরা এখন রাস্তাঘাটে, চায়ের টেবিলের আলোচনায় এ ধরনের কথাই বলছেন। সূত্র জানায়, শুধু মিডিয়ার সামনে বক্তৃতা দেওয়ার সময় খালেদা জিয়ার মুক্তি চান নেতারা। একে অপরের বিরুদ্ধে বিষোদগার করেন। একজন অপরজনকে বলেন, ঘরে বসে আন্দোলন করলে হবে না। রাস্তায় নামতে হবে। কেউ আবার কঠোর কর্মসূচির কথা বলেন। কিন্তু কঠোর কর্মসূচির ঘোষণা কে, কখন, কিভাবে দেবেন সে বিষয়ে কেউ কিছু বলেন না। বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য থেকে শুরু করে নির্বাহী কমিটির সদস্যরাও বক্তৃতা বিবৃতিতে বলেন আইনি লড়াইয়ে নেত্রীকে মুক্ত করা যাবে না। নেত্রীর মুক্তির জন্য কঠোর কর্মসূচি দিতে হবে। কিন্তু সেই কঠোর কর্মসূচি কী, কখন ঘোষণা হবে সেটা কেউ জানেন না। স্থায়ী কমিটির সদস্য মওদুদ আহমদ গত ৫ মাসে বিভিন্ন কর্মসূচিতে বলেছেন সরকার খালেদা জিয়াকে বেশিদিন আটকে রাখতে পারবে না। আইনের মাধ্যমে তিনি শিগগিরই বের হয়ে আসবেন। আবার তিনিই বলেছেন, তাকে মুক্ত করতে হলে রাজপথে কঠোর কর্মসূচি দিতে হবে। আন্দোলনের কোনো বিকল্প নেই। উপযুক্ত সময়ে কঠোর কর্মসূচি দেয়া হবে। স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেনও বিভিন্ন অনুষ্ঠানে বলেছেন, খালেদা জিয়াকে এই সরকার মুক্তি দেবে না। আইনি লড়াইয়ে খালেদা জিয়াকে মুক্ত করা যাবে না। তাকে মুক্ত করতে হলে কঠোর কর্মসূচি দিতে হবে। মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, ঘর থেকে বাইরে বের হতে হবে। ঘরের মধ্যে সভা-সমাবেশ করলে কোনো লাভ হবে না। মানুষের কাছে যেতে হবে। কিন্তু মানুষের কাছে কে কিভাবে যাবে তার কোনো নির্দেশনা নেই তার বক্তৃতায়। নেতাদের এসব বক্তব্যে হতাশা প্রকাশ করেছেন বিএনপির তৃণমূল নেতাকর্মীরা। তারা বলছেন, সিনিয়র নেতারা আন্দোলন কর্মসূচির পক্ষে কেউ নেই। তাদের দেখে মনে হয় সবাই ভালো আছেন। সুতরাং আন্দোলনও হবে না, খালেদা জিয়াও মুক্তি পাবেন না। আওয়ামী লীগ সরকার আবারও একতরফা নির্বাচনের মাধ্যমে ক্ষমতায় আসবে। নাম না প্রকাশ করার শর্তে বিএনপির এক নেতা বলেন, বৃহস্পতিবার (১২ জুলাই) সন্ধ্যায় রাজধানীর একটি হোটেলে মানবাধিকার নিয়ে কূটনীতিকদের দাওয়াত দিয়ে যে গোলটেবিল করা হলো, সেখানে খালেদা জিয়ার বিষয়ে কঠোর কোনো বক্তব্য ছিল না। দু’একজন নেতা বক্তৃতার মধ্যে খালেদা জিয়ার মামলার বিষয়টি উচ্চারণ করলেও প্রামাণ্য চিত্রে খালেদা জিয়ার মামলা বা তার জেল জীবন নিয়ে কোনো কিছু দেখানো হয়নি। গত রমজানে ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে একটি ইফতার মাহফিলে যোগ দিয়ে স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায় বলেছিলেন, নেত্রীর মাধ্যমে যাদের গাড়ি বাড়ি হয়েছে। সুনাম হয়েছে, মন্ত্রী হয়েছেন এমপি হয়েছেন। তাদের কি নেত্রীর জন্য মোটেও দরদ হয় না। তাকে জেলে রেখে ঈদ করেন, কেনাকাটা করেন, এতে কি মোটেও গায়ে বাধে না? গয়েশ্বরের সেই প্রশ্নের জবাব খুঁজে পাওয়া যায়নি। তবে নেতাদের চাল-চলন দেখে মোটেই বোঝা যাবে না, যে তাদের নেত্রীর কারাবাসের ৫ মাস ইতোমধ্যেই শেষ। আদৌ তিনি কারাগার থেকে ছাড়া পাবেন কী না তারও কোনো গ্যারান্টি নেই। একের পর এক যেভাবে তাকে মামলার জালে জড়িয়ে ফেলা হচ্ছে তাতে তার মুক্তি এখন সুদূর পরাহত। প্রতীকী অনশনে আশানুরূপ জনসমাগম হয়নি স্বীকার করে ঢাকা বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক আব্দুস সালাম আজাদ বাংলানিউজকে বলেন, অনুমতি পাওয়া না পাওয়া ও পুলিশী হয়রানির কারণেই সেখানে উপস্থিতি কম ছিল। তবে নেত্রী জেলে নেতাদের আচরণে এমনটি মনে হয় না এ বক্তব্যের সঙ্গে দ্বিমত পোষণ করে আব্দুস সালাম বলেন, আমরা নেত্রীর জন্য জীবন দিতে রাজি আছি। শেষ রক্তবিন্দু দিয়ে হলেও নেত্রীর মুক্তির আন্দোলন চালিয়ে যাব। তবে আমরা পুলিশী নির্যাতনে জর্জরিত এ বিষয়টিও মনে রাখতে হবে। বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর
খালেদা জিয়াকে ছাড়া এদেশে কোনো সুষ্ঠু নির্বাচন হবে না
অনলাইন ডেস্ক :কোটা আন্দোলনকারীদের সঙ্গে কোনো রাজনৈতিক দলের সম্পর্ক নেই দাবি করে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ বলেছেন, প্রধানমন্ত্রী ১১ এপ্রিল সংসদে বললেন কোটা থাকবে না। আবার ২৭ জুন বললেন কোটা থাকবে। তিনি সংসদকে সম্মান করেন না বলেই কথা দিয়ে কথা রাখেননি। শুক্রবার (১৩ জুলাই) দুপুরে জাতীয় প্রেসক্লাবের ভিআইপি লাউঞ্জে এক প্রতিবাদী যুব সমাবেশে তিনি একথা বলেন। মওদুদ বলেন, এখন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও মুক্তিযোদ্ধা বিষয়ক মন্ত্রী বলছেন আদালতের নাকি রায় আছে। মুক্তিযোদ্ধা কোটা বাতিল করা যাবে না। আমি মনে করি না যে এ ধরনের কোনো রায় আছে। যদি থেকেও থাকে অ্যাটর্নি জেনারেল সেটা যেকোনো সময় পরিবর্তন করতে পারেন। নিয়ত ঠিক থাকলে সবকিছুই করা সম্ভব। কোটা আন্দোলনে জড়িতদের পুলিশি হয়রানি ও নির্যাতনের বিচার একদিন এদেশে হবে বলেও হুঁশিয়ারি দেন তিনি। ডা. জাফরুল্লাহকে দায়িত্ব নিতে বলে মওদুদ বলেন, আমরা যদি জাতীয় ঐক্য করতে ব্যর্থ হই, তাহলে আপনি দায়িত্ব নিয়ে সেই ভূমিকা পালন করবেন। চেকোস্লোভাকিয়ায় ডা. জাফরুল্লাহর মতো একজন সুশীল সমাজের প্রতিনিধি ছিলেন, তিনি সেই দেশের ফ্যাসিবাদী সরকারের বিদায়ের সময় দায়িত্ব নিয়েছিলেন। জাফরুল্লাহর উদ্দেশ্যে মওদুদ আহমদ আরও বলেন, আপনি একজন ডাক্তারও। ফ্যাসিবাদী সরকারের কারণে গণতন্ত্র এখন মৃতপ্রায়। এখান থেকে উদ্ধার করতে হবে। সেজন্য আপনাকে ভূমিকা রাখতে হবে। জাতীয় ঐক্যের কোনো বিকল্প নেই উল্লেখ করে মওদুদ বলেন, একমাত্র বিকল্প জাতীয় ঐক্যের মাধ্যমে এই সরকারকে বিদায় করতে হবে। পৃথিবীর কোথাও সাধারণ নিয়মে ফ্যাসিবাদের বিদায় হয়নি। হাইকোর্ট খালেদা জিয়াকে চার মাসের জামিন দিলেও তিনি একদিনের জন্যও বাইরের আলো-বাতাস দেখার সুযোগ পেলেন না। এটা অত্যন্ত দুঃখজনক মন্তব্য করে বিএনপির এই নেতা বলেন, নিম্নতম পর্যায়ের বিচারক ম্যাজিস্ট্রেটের কারণেই এটা হয়েছে। উচ্চ আদালতের চেয়ে তিনি বেশি ক্ষমতাবান। তারপরও আমাদের কোনো উপায় নেই। ওই আদালতের কাছেই আমাদের যেতে হবে। আমি আশাবাদী নির্বাচনের আগেই খালেদা জিয়া মুক্ত হবেন। তাকে ছাড়া বিএনপি কোনো নির্বাচনে যাবে না। কারণ খালেদা জিয়াকে ছাড়া এদেশে কোনো সুষ্ঠু নির্বাচন হবে না। খালেদা জিয়া ও তারেক রহমানের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রীয় ষড়যন্ত্র বন্ধ এবং নির্বাচনকালীন নিরপেক্ষ সরকার গঠনের দাবিতে এ সমাবেশেরআয়োজন করে স্বাধীনতা ফোরাম। এতে সভাপতিত্ব করেন সংগঠনটির সভাপতি আবু নাসের মুহম্মদ রহমাতুল্লাহ। অন্যদের মধ্যে বক্তব্য দেন গণস্বাস্থ্যের প্রতিষ্ঠাতা ডা. জাফরুল্লাহ, বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান সেলিমা রহমান, ডা. এজেড এম জাহিদ হোসেন, জাতীয় দলের চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেটএহসানুল হুদা, বিএনপির নির্বাহী কমিটির সদস্য খালেদা ইয়াসমিন, ২০ দলীয় জোট যুক্তরাজ্য শাখার সমন্বয়কারী মাওলানা সোয়ায়েব আহমেদ, বিএনপি নেতা মনিরুজ্জামান মনির, স্বাধীনতা ফোরামের সাধারণ সম্পাদক ইঞ্জিনিয়ার আজিজুল ইসলাম প্রমুখ।
এই ইসির অধীনে কখনওই সুষ্ঠু নির্বাচন সম্ভব নয়
অনলাইন ডেস্ক :সিটি করপোরেশন নির্বাচন ইস্যুতে বিনা ওয়ারেন্টে কাউকে গ্রেপ্তারের বিষয়ে সরকারের হুমকির মুখে ইসি প্রতিরোধহীনভাবে আত্মসমর্পন করেছে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী। আজ নয়াপল্টন দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক সংবাদ ব্রিফিংয়ে তিনি এ মন্তব্য করেন। রিজভী বলেন, আগে নিয়ম ছিল বিনা ওয়ারেন্টে নির্বাচনের সময় কাউকে গ্রেপ্তার করা যাবে না। কিন্তু এখন সে নির্দেশনা থেকে সরে এসেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। গতকাল ইসির সঙ্গে আইনশৃঙ্খলাবাহিনীর বৈঠক শেষে সিইসি এ কথা জানান। এ সিদ্ধান্ত সরকারের হুমকির মুখে ইসির প্রতিরোধহীন আত্মসমর্পন। আগামী নির্বাচন গুলোতে সরকার খুলনা-গাজীপুর মার্কা নতুন মডেলের ভোট সন্ত্রাসের নির্বাচন নির্বিঘ করতেই ইসি তার আগের সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসতে বাধ্য হয়েছে। যে দেশে আইনের শাসন নেই, সেদেশে আইন প্রয়োগকারী বাহিনীগুলো ভোটারদের সঙ্গে নয় বরং সরকারের সঙ্গেই তাল মিলিয়ে চলতে হয়। সুতরাং আগামী নির্বাচনগুলো কোন রং ও রূপে আত্মপ্রকাশ করবে তা এখনই খুব সহজে অনুমান করা যায়। তিন সিটিতেই আইনশৃঙ্খলাবাহিনী নির্লজ্জভাবে সরকারি দলের প্রার্থীদের পক্ষে কাজ করে যাচ্ছে। রিজভী আরো বলেন, আইনশৃঙ্খলাবাহিনীর মামলা হামলার হুমকির মুখে আমাদের নেতাকর্মীদের নিজ সিটি কর্পোরেশন এলাকার বাহিরে অন্যত্র পালিয়ে বেড়াতে হচ্ছে। আর গ্রেপ্তারের হিড়িকতো চলছেই। রাজশাহীতে ধানের শীষের প্রার্থী মোসাদ্দেক হোসেন বুলবুল নির্বাচনী অনাচারে লিপ্ত কাশিয়া ডাঙ্গা থানার ওসি ও গোয়েন্দা পুলিশের ওসির প্রত্যাহার চাইলেও নির্বাচন কমিশনের স্থানীয় কর্মকর্তারা অভিযোগে কান না দিয়ে আকাশের দিকে চেয়ে থাকেন। রাজশাহীতে সারা শহরজুড়ে ক্ষমতাসীন দলের প্রার্থী এমনভাবে পোস্টার সেঁটেছে যে সেখানে অন্য কারও পোস্টার লাগানোর কোন জায়গাই নেই। সিলেটে ধানের শীষের প্রার্থী আরিফুল হক চৌধুরির প্রচার প্রচারণা বিরত রেখে থানার সামনে অনশন করতে হচ্ছে গ্রেপ্তারকৃত নেতা-কর্মীদের মুক্তির জন্য। বরিশাল ও রাজশাহীতে সরকারি দলের পক্ষ থেকে কালো টাকার ছড়াছড়ি চলছে। অস্বাভাবিক টাকা খরচ দৃশ্যমান হলেও সেখানে নির্বাচনী কর্মকর্তারা মুখে কুলুপ এঁটে বসে আছেন। বরিশালে বিএনপির সমর্থকদের নির্বাচনী প্রচারণায় বাধা দেওয়া হচ্ছে। ধানের শীষের পোস্টার ছিড়ে ফেলছে, মাইক ভাঙচুর করছে, সমর্থকদের মারধর করছে। খুলনা ও গাজীপুরে অনুসৃত নীতি বাস্তবাায়ন করছেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার। এই ইসির অধীনে কখনওই সুষ্ঠু নির্বাচন সম্ভব নয়। তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা গত পরশু জাতীয় সংসদে বলেছেন বিএনপির চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়াকে রাজনৈতিকভাবে গ্রেপ্তার করা হয়নি। রাজনৈতিকভাবে গ্রেপ্তার করতে হলে খালেদা জিয়াকে ২০১৪-২০১৫ সালে গ্রেপ্তার করা যেত। বেগম খালেদা জিয়াকে কারাবন্দি করার পরিকল্পনা শেখ হাসিনা অনেক আগেই করেছিলেন। ২০০৯ সালে ক্ষমতায় আসার পর থেকেই তিনি নীলনকশা অনুযায়ী কাজ করতে শুরু করেন। সুতরাং গত পরশুদিনের বক্তব্য সত্যের অপলাপ। সরকার প্রধান যে প্রতিহিংসার বশবর্তী হয়ে বেগম খালেদা জিয়াকে যে কারাগারে আটকে রাখবেন তার আরও প্রমাণ রয়েছে যেমন, তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনুসহ মন্ত্রী ও আওয়ামী লীগের নেতারা বিগত কয়েকবছর ধরে বলে আসছেন বেগম জিয়ার জন্য কারাগারের সেল প্রস্তত করা হয়েছে। সুতরাং রাজনৈতিক উদ্দেশ্যেই বেগম জিয়াকে মিথ্যা তথ্যের উপর ভিত্তি করে সাজানো মামলায় ক্যাঙ্গারু আদালত কর্তৃক সাজা দিয়ে বন্দী করে রাখা হয়েছে এটি বোঝার জন্য বেশী কষ্ট করতে হয় না। শেখ হাসিনার জিঘাংসার শিকার দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া। দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া জনপ্রিয়তা শেখ হাসিনার জন্য অসহ্যের কারণ। অবৈধ ক্ষমতার মৌতাতে বুঁদ হওয়া নিষ্ঠুর একদলীয় চেতনার শেখ হাসিনা কখনই বেগম জিয়ার সাফল্য ও জনপ্রিয়তাকে একেবারেই মেনে নিতে পারেন না বলেই তাঁকে জনবিচ্ছিন্ন করতে কারাগারে বন্দী করে রেখেছেন। শেখ হাসিনা একতরফা নির্বাচন করার জন্য বেগম খালেদা জিয়াকে মিথ্যা মামলার নাটক সাজিয়ে সাজা দিয়ে কারাবন্দী করেছেন। প্রধানমন্ত্রীর উদ্দশ্যে পরিস্কার করে বলতে চাই আপনি যতই ষড়যেন্ত্রের জাল বুনতে থাকুন না কেন বেগম খালেদা জিয়াকে ছাড়া কোন নির্বাচন হবে না জনগন হতে দেবে না। বন্ধুরা, হাইকোর্টের রায় থাকায় মুক্তিযোদ্ধা কোটা বাতিল করা সম্ভব নয় বলে গতকাল জাতীয় সংসদে জানিয়েছেন জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তাহলে তিনি ছাত্রদের তুমুল আন্দোলনের মুখে কোটা বাতিলের কথা কেন বলেছিলেন? তখনতো হাইকোর্টের রায় ছিল। তখন তাঁর মুক্তিযোদ্ধাদের কথা মনে হয়নি। মুক্তিযুদ্ধ মুক্তিযোদ্ধাদের প্রতি শেখ হাসিনার দরদ ভাঁওতাবাজি ছাড়া আর কিছুই নয়। মুক্তিযোদ্ধাদের প্রতি নুন্যতম শ্রদ্ধাবোধ থাকলে ৭১এর রনাঙ্গনের বীর মুক্তিযোদ্ধা কর্ণেল (অব) অলি আহমেদ বীর বিক্রমের উপর ছাত্রলীগ যুবলীগকে দিয়ে হামলা করাতেন না। এ হামলা পরিকল্পিত, তাঁকে হত্যার উদ্দেশ্যেই এ হামলা করা হয়েছে। সংসদে প্রধানমন্ত্রীর জাতির উদ্দেশ্যে যে কোন ঘোষনা মানেই সেটি আইনের সমতুল্য এবং তা কার্যকর হতে হবে। আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা কোটা বাতিল চায়নি তারা কোট সংস্কার চেয়েছিল। প্রধানমন্ত্রীর গতকালের বক্তব্যে এটা এখন সুস্পষ্ট যে, তিনি ছাত্র আন্দোলনকে বিভ্রান্ত করতেই সেদিন প্রতারণার আশ্রয় নিয়েছিলেন। মিথ্যা প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। সেদিন আমরা বলেছিলাম কোটা বাতিলের ঘোষনা একটা ধাপ্পাবাজি। আন্দোলনে ছাত্র নেতাদেরকে ধোঁকা দেয়ার জন্যই দিনে দুপুরে প্রধানমন্ত্রী ম্যাকিভ্যালির চাতুর্যের আশ্রয় নিয়েছিলেন। ঈদের পর আবারও ছাত্র আন্দোলন শুরু হলে প্রধানমন্ত্রী বেছে নিয়েছেন দলন পীড়নের নিষ্ঠুর পথ। বিভিন্ন বিশ^বিদ্যালয়ে হাতুড়ি রাম দা আর বাশেঁর লঠিসহ ছাত্রলীগকে লেলিয়ে দেওয়া হয়েছে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের উপর। কোটা সংস্কার আন্দোলনের অন্যতম ছাত্রনেতা রাশেদকে দিনের পর দিন রিমান্ডের নামে তাকে থেতলে দেওয়া হচ্ছে। তার অত্যাচারের বিভীষিকার কাহিনী শুনলে কোন মানুষই চোখের পানি আটকে রাখতে পারবে না। তার মায়ের আহাজারিতে আকাশ বাতাস ভারি হয়ে উঠেছে। একের পর এক কোটা সংস্কার আন্দোলনের ছাত্রদের এখন গ্রেপ্তার করে তাদের উপর পৈশাচিক উৎপীড়নের মাধ্যমে জানিয়ে দেওয়া হচ্ছে সরকারের বিরুদ্ধে যে কোন আন্দোলনের পরিণতি কত ভয়ংকর হতে পারে। সরকার প্রধান যে কত ভয়াবহ প্রতিশোধ পরায়ণ হতে পারেন তার একের পর এক দৃষ্টান্ত আমরা দেখতে পাচ্ছি আন্দোলনরত শিক্ষাথীদের ওপর নেমে আসা বর্বরতার নিদর্শন দেখে। এ অবৈধ সরকার রাষ্ট্র সমাজের সর্বত্র ঘৃণা ছড়াচ্ছে। ব্রিফিংয়ে অন্যান্যের মধ্যে আরো উপস্থিত ছিলেন, বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা হাবিবুর রহমান হাবিব, যুগ্ম মহাসচিব খায়রুল কবির খোকন, প্রকাশনা সম্পাদক হাবিবুল ইসলাম হাবিব, সহ সাংগঠনিক সম্পাদক অ্যাডভোকেট আবদুস সালাম আজাদ প্রমুখ। মানবজমিন
মানবধিকার লংঘন এখন বাংলাদেশের নিত্য ঘটনা
অনলাইন ডেস্ক :মানবধিকার লংঘন এখন বাংলাদেশের নিত্য নৈমিত্তিক ঘটনা হয়ে দাঁড়িয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি অভিযোগ করেন, বিএনপির ৫ শতাধিক নেতাকর্মী নিখোঁজ ও ১০ হাজার নেতাকর্মীকে রাজনৈতিকভাবে হত্যা করা হয়েছে। এছাড়া সারাদেশের বিএনপির ৭৮হাজার নেতাকর্মীকে মামলা দেওয়া হয়েছে। ১৮ লক্ষ মানুষকে অভিযুক্ত করা হয়েছে।বৃহস্পতিবার বিকেলে রাজধানীর গুলশানের হোটেল লেকশোতে অনুষ্ঠিত এক সেমিনারে এই কথা বলেন।দেশের চলমান রাজনীতি ও সরকারের বিভিন্ন কর্মকান্ডের বিষয়ে বাংলাদেশে নিযুক্ত বিভিন্ন দেশের কূটনীতিক ও প্রতিনিধিদের অবহিত করে সেমিনারে দেওয়া বক্তব্যে মির্জা ফখরুল বলেন, মানুষের লাশ পড়ে থাকছে, নারীরা অধিকার থেকে বঞ্চিত হচ্ছে, সম্ভ্রম হারাচ্ছে, শিশুরা নির্যাতিত হচ্ছে, রাজনীতিক দলের যারা ভিন্নমত পোষণ করে তাদের ওপরে রাষ্ট্রীয়বাহিনীর নির্যাতন, ভিন্নমত পোষণকারী ছাত্রকে হাতুড়ি দিয়ে পেটানো হয়েছে, এটা এখন বাংলাদেশের প্রতিদিনের চিত্র।বিএনপি মহাসচিব বলেন, আমরা অনেকবার এ বিষয়গুলো বিভিন্ন সমাবেশের মাধ্যমে বলেছি। কিন্তু দুভার্গ্যরে কথা এতো কিছু পরেও সরকারের কর্নগোচর হয় না। আমরা জানি এই সরকার ক্ষমতায় টিকে থাকার জন্য মরিয়া হয়ে উঠেছে। আর এ কারনে তারা ন্যায় নীতি সংবধিান কোনো কিছুর তোয়াক্কা না করে তারা একের পর এক মানবধিকার লংঘন করে তারা ক্ষমতাকে চিরস্থায়ী করতে চায়।অনুষ্ঠানে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, ব্যারিস্টার মওদদু আহমদ, মির্জা আব্বাস, ড. মঈন খান, নজরুল ইসলাম খানপ্রমুখ।
খালেদা জিয়ার জামিনের মেয়াদ ১৯ জুলাই পর্যন্ত বাড়িয়েছেন হাইকোর্ট
অনলাইন ডেস্ক :জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় খালেদা জিয়ার জামিনের মেয়াদ ১৯ জুলাই পর্যন্ত বাড়িয়েছেন হাইকোর্ট। একইসঙ্গে ৫ বছরের কারাদণ্ডের বিরুদ্ধে বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার করা আপিলের শুনানি রোববার পর্যন্ত মুলতবি করেছেন আদালত। বৃহস্পতিবার বিচারপতি এম. ইনায়েতুর রহিম ও বিচারপতি মো. মোস্তাফিজুর রহমানের বেঞ্চে এ আদেশ দেন। আদালতে খালেদার পক্ষে ছিলেন মওদুদ আহমদ, এ জে মোহাম্মদ আলী , জয়নুল আবেদীন ও আব্দুর রেজাক খান। দুদকের পক্ষে রয়েছেন আইনজীবী খুরশীদ আলম। এর আগে সকাল এগারোটায় খালেদার আপিলের ওপর শুনানি শুরু হয়। শুরুতে খালেদা জিয়ার পক্ষে আইনজীবী আব্দুর রেজাক খান মামলার পেপারবুক থেকে এফআইআর পড়া শুরু করেন। এরপর চার্জশীট পড়েন আইনজীবী এ জে মোহাম্মদ আলী। এদিকে এ মামলায় খালেদার জামিনের মেয়াদ ১২ জুলাই শেষ হচ্ছে উল্লেখ করে মেয়াদ বৃদ্ধির আবেদন করেছিলেন আইনজীবীরা। এ আবেদনের পর আদালত ১৯ জুলাই পর্য্ন্ত জামিনের মেয়াদ বাড়িয়েছেন বলে সাংবাদিকদের জানিয়েছেন মওদুদ আহমদ। এ মামলায় ছয় আসামির মধ্যে খালেদা জিয়াসহ তিনজন কারাবন্দি। বাকি তিন আসামি পলাতক রয়েছেন। খালেদা জিয়া ছাড়া বাকি দুইজন হলেন, মাগুরার সাবেক এমপি কাজী সালিমুল হক কামাল ওরফে ইকোনো কামাল ও ব্যবসায়ী শরফুদ্দিন আহমেদ। পলাতক তিনজন হলেন-বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারপারসন তারেক রহমান, সাবেক মুখ্য সচিব ড. কামাল উদ্দিন সিদ্দিকী, বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমানের ভাগ্নে মমিনুর রহমান।