নয়াপল্টনে গাড়ি ভাঙচুরকারীসহ গ্রেপ্তারকৃত ৬ যুবকের রিমান্ড মঞ্জুর
অনলাইন ডেস্ক: রাজধানীর নয়াপল্টনে বিএনপির মনোনয়ন ফরম বিক্রির সময় পুলিশের সঙ্গে নেতাকর্মীদের সংঘর্ষের ঘটনায় গ্রেপ্তারকৃত ৬ যুবকের পাঁচ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত। মঙ্গলবার দুপুরে ঢাকা মহানগর হাকিম দেবব্রত বিশ্বাস এই আদেশ দেন। মামলাটির তদন্ত কর্মকর্তা ডিবির পরিদর্শক কামরুল ইসলাম আসামিদের আদালতে হাজির করে ১০ দিনের রিমান্ড আবেদন জানান। রিমান্ডে যাওয়া অপর আসামিরা হলেন-শাহাজানপুর থানা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক মো. সোহাগ ভূইয়া, ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য মো. আব্বাস আলী, ছাত্রদলের ঢাকা মহানগর উত্তরের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আশরাফুল ইসলাম রবিন, ছাত্রদলের জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় শাখার যুগ্ম সম্পাদক জাকির হোসেন উজ্জল ও ছাত্রদলের তিতুমীর কলেজ শাখার সহ-সভাপতি মো. মাহবুবুল আলম। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ডিবির পুলিশ পরিদর্শক মো. কামরুল ইসলাম আসামিদের আদালতে হাজির করে ১০ দিনের রিমান্ড আবেদন করেন। রিমান্ড আবেদনে বলা হয়, আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মনোনয়নপত্র সংগ্রহের জন্য বিএনপির নয়াপল্টনস্থ কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে গত ১৪ নভেম্বর আইনশৃঙ্খলা বাহিনী নিয়োজিত করা হয়। নির্বাচন কমিশন কর্তৃক জারিকৃত নির্বাচন আচরণবিধিতে ব্যান্ড পার্টি, ব্যানার-ফেস্টুন নিয়ে শোডাউন করার নিষেধাজ্ঞা সত্বেও বিএনপিনেত্রী আফরোজা আব্বাসের নেতৃত্বে একটি মিছিল ফকিরাপুলের দিক থেকে ব্যান্ড পার্টি, ব্যানার-ফেস্টুন নিয়ে শোডাউন করে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে আসে। এরপর নবী উল্লাহ নবী দও কফিল উদ্দিনের নেতৃত্বে দুটি মিছিল শোডাউন করে একই দিকে আসতে থাকে এবং সর্বশেষ মির্জা আব্বাস ৮ থেকে ১০ হাজার জনের একটি মিছিল নিয়ে কার্যালয়ে আসেন। তারা নয়াপলন্টস্থ ভিআইপি রোড বন্ধ করে মিছিল ও শোডাউন করে যানবাহন চলাচল বন্ধ করে জনদুর্ভোগ সৃষ্টি করে। যানবাহন চলাচল স্বাভাবিক ও জনদুর্ভোগ সৃষ্টি না করার জন্য তাদের রাস্তার এক লেন ছেড়ে দেওয়ার কথা বললে তারা ক্ষিপ্ত হয়। তাদের নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘনের বিষয়টি বিএনপি অফিসে অবস্থানরত রুহুল কবির রিজভীসহ অন্য জ্যেষ্ঠ নেতাদের জানানো হয়। অফিসের মাইকের মাধ্যমে যানবাহন চলাচলের প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি না করার বিষয়ে নেতা-কর্মীদের উদ্দেশে ঘোষণা দিতে অনুরোধ করা হয়। বেলা ১২টা ৫৫মিনিটের দিকে মির্জা আব্বাসের নেতৃত্বে নয়াপল্টনস্থ ভিআইপি রোডে বে-নামীয় গাড়ির শোরুমের উত্তর পাশে রাস্তায় আসামিরা বিএনপির পার্টি অফিস থেকে লাঠি-সোটা নিয়ে পুলিশকে হত্যার উদ্দেশ্যে ইট-পাটকেল নিক্ষেপ করে। তারা কয়েকটি ককটেল বোমা নিক্ষেপ করে এলাকায় আতঙ্ক সৃষ্টি করে। এ সময় তারা ৬০ লাখ টাকার একটি গাড়িতে আগুন ধরিয়ে দেয়। রিমান্ড আবেদনে আরো বলা হয়, তাদের নিক্ষিপ্ত ইটের আঘাতে সহকারী পুলিশ কমিশনার মিশু বিশ্বাসহ কয়েকজন পুলিশ সদস্য মারাত্মক জখম হয়। আসামিদের মধ্যে হৃদয় থান হেলমেট পরে লাঠি দ্বারা পুলিশের ব্যবহৃত মিটসুবিসি গাড়ি ভাঙচুর করে এবং হোসেন আলী, সোহাগ ভূইয়া ও আব্বাস আলী তাদের পরিহিত শার্ট খুলে খালি গায়ে আনন্দ প্রকাশ করে এবং পুলিশকে উদ্দেশ্যে করে গালিগালাজ করে। তাই মামলার এজাহারনামীয় অন্যান্য পলাতক আসামিসহ ধ্বংসাত্মক কর্মকাণ্ডের মূল পরিকল্পনাকারীসহ ইন্ধন ও মদদ দাতাদের নাম-ঠিকানা সংগ্রহপূর্বক গ্রেপ্তারের লক্ষ্যে ১০ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করা প্রয়োজন। আসামি পক্ষে ঢাকা আইনজীবী সমিতির সভাপতি গোলাম মোস্তফা খান রিমান্ড বাতিল করে জামিনের আবেদন করেন। শুনানিতে তিনি বলেন, ধানমন্ডিতে রাস্তা ব্লক করলে সমস্যা হয় না। যতো সমস্যা বিএনপি করলে। নির্বাচন কমিশনের দিক থেকে কোন নিষেধাজ্ঞা না থাকলেও পুলিশের উস্কানিতে সেদিন ওই ঘটনা ঘটে। সেদিন নির্বাচনে যারা নোমিনেশন জমা দিতে এসেছিল তাদের সমর্থকরা সেদিন পুলিশের ওই আচরণের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ তৈরি করেছিল। তারা নিশ্চয়ই করেছে। শুধু পুলিশের মারবে খেয়ে যাবে, কিছু বলবে না তা তো হয়না। পুলিশ বলেছে এরা সনাক্তকৃত, তাহলে রিমান্ডের কি প্রয়োজন? রাষ্ট্রপক্ষে সালমা হাই টুনিসহ কয়েকজন আইনজীবী ১০ দিনের রিমান্ড মঞ্জুরের প্রার্থনা করেন। উভয়পক্ষের শুনানি শেষে আদালত ৫ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। মঙ্গলবার মিন্টো রোডে ডিএমপির মিডিয়া সেন্টারে এক সংবাদ ব্রিফিংয়ে পুলিশের অতিরিক্ত কমিশনার ও কাউন্টার টেররিজম অ্যান্ড ট্রান্স ন্যাশনাল ক্রাইম ইউনিটের প্রধান মনিরুল ইসলাম বলেন, রাজধানীর নয়াপল্টনে বিএনপির কার্যালয়ের সামনে দলটির নেতাদের নির্দেশে পুলিশের ওপর হামলা চালিয়েছিলেন কর্মীরা। রাজনৈতিক ফায়দা লোটার জন্য এই হামলা চালানো হয়। এ ঘটনায় ছয়জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। উল্লেখ্য, মনোনয়নপত্র সংগ্রহের সময় গত ১৪ নভেম্বর দুপুরে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে পুলিশের সঙ্গে দলটির নেতা-কর্মীদের সংঘর্ষ হয়। এ সময় পুলিশের একটি পিকআপ ভ্যানসহ দুটি গাড়ি জ্বালিয়ে দেওয়া হয়। সংঘর্ষে পুলিশের পাঁচ কর্মকর্তা, দুজন আনসার সদস্যসহ ২৩ পুলিশ সদস্য আহত হন। ওই ঘটনায় ওইদিন রাতে পুলিশ বাদী হয়ে পল্টন থানায় পৃথক তিনটি মামলা করে।
বিএনপি নেতা রফিকুল ইসলাম মিয়ার ৩ বছরের কারাদণ্ড
অনলাইন ডেস্ক :বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য রফিকুল ইসলাম মিয়াকে তিন বছরের কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। মঙ্গলবার ঢাকার ৬ নম্বর বিশেষ জজ আদালতের বিচারক ড. শেখ গোলাম মাহাবুব এই আদেশ দেন। সম্পদের হিসাব বিবরণী দাখিল না করার অভিযোগে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) দায়ের করা মামলায় এর রায় দেওয়া হয়। এর আগে জ্ঞাত আয় বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের অভিযোগে ২০০১ সালে ৭ এপ্রিল তার বিরুদ্ধে নোটিশ জারি করে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। দুদকের নোটিশ ওই বছরের জুনের ১০ তারিখে রফিকুল ইসলাম মিয়া গ্রহণ করলেও কোনো জবাব দেননি। পরে ২০০৪ সালের ১৫ জানুয়ারি তার বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করে দুদক। পরে ওই বছরের ৩০ নভেম্বর তার বিরুদ্ধে চার্জশীট দেয়া হয় এবং ২০১৭ সালের ১৪ নভেম্বর বিচার শুরু হয়।
তৃতীয় দিনের মতো বিএনপির মনোনয়ন প্রত্যাশীদের সাক্ষাৎকার গ্রহণ শুরু
অনলাইন ডেস্ক :তৃতীয় দিনের মতো ধানের শীষ প্রতীকে মনোনয়ন প্রত্যাশীদের সাক্ষাৎকার গ্রহণ শুরু করেছে বিএনপি। আজ মঙ্গলবার সকাল ১০টা ১৫ মিনিটের দিকে ফেনী-১ আসনের মনোনয়ন প্রত্যাশীদের দিয়ে এ কার্যক্রম শুরু করেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলামের নেতৃত্বে মনোনয়ন বোর্ডেও সদস্যরা। তবে অন্যদিন দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে সাক্ষৎকার গ্রহণ করলেও আজ গুলশান কার্যালয়ের ইন্টারনেট সংযোগ বিচ্ছিন্ন থাকায় সেটি ব্যহত হচ্ছে। শুধু মনোনয়ন বোর্ডেও সদস্যরাই এ সাক্ষাৎকার গ্রহন করছেন। বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার প্রেস উইং সদস্য শায়রুল কবির ও শামসুদ্দিন দিদার মানবজমিনকে বলেন, সকালে চেক করে দেখা গেছে এখনো ইন্টারনেট সংযোগ চালু হয়নি। তাই সাক্ষাৎকারে ভিডিও কনফারেন্সেরও কোনো সুযোগ নেই। এদিকে সাক্ষাৎকার গ্রহণকে কেন্দ্রে করে কার্যালয়ের সামনে নেতাকর্মীদের ভীড় লক্ষ করা গেছে সকাল থেকেই। প্রত্যেক নেতার সঙ্গেই তার কিছু অনুসারী নেতাকর্মী এসে কার্যালয়ের সামনে অপেক্ষা করছেন। তবে তারা কোনো শ্লোগান দিচ্ছেন না। অন্যদিনের মতো সাক্ষাৎকারকে ঘিরে বিএনপি কার্যালয় এলাকায় সতর্ক অবস্থানে ছিল পুলিশ। কার্যালয় এলাকায় প্রবেশের মূল রাস্তার দুই মোড়ে ডাইভারশন করা হয়েছে। গাড়িগুলোতে তল্লাশি চালিয়ে বিএনপির গুলশান কার্যালয়ের সামনের রাস্তায় প্রবেশ করানো হচ্ছে। জনসাধারণ চলাচলও সীমিত করা হয়েছে। তবে কার্যালয়ের সামনে কোনো পুলিশ মোতায়েন করা হয়নি। অন্যদিকে সাক্ষৎকার গ্রহণকে কেন্দ্র করে সিএসএফ সদস্যরা বেশ তৎপর রয়েছে। কার্যালয়ের ভেতরে মনোনয়ন প্রত্যাশীদের ছাড়া কাউকে প্রবেশ করতে দেয়া হচ্ছে না। ফটো সাংবাদিকদেরও বেছে বেছে প্রবেশ করানো হচ্ছে। সকাল ১০ টা ১৫ থেকে দুপুর পর্যন্ত চট্টগ্রাম বিভাগ এবং বেলা আড়াইটা থেকে রাত পর্যন্ত কুমিল্লা ও সিলেট বিভাগের প্রার্থীদের সাক্ষাৎকার গ্রহণ করা হবে। পরদিন বুধবার সকাল ৯টা থেকে দেড়টা পর্যন্ত ময়মনসিংহ বিভাগ ও বৃহত্তর ফরিদপুর এলাকা এবং বেলা আড়াইটা থেকে রাত পর্যন্ত ঢাকা বিভাগের প্রার্থীদের সাক্ষাৎকার গ্রহণ করা হবে। এর আগে রোববার প্রথমদিনে রংপুর বিভাগে ৩৩ আসনে ১৫৮ জনের সাক্ষাৎকার নেয়া হয় এবং রাজশাহী বিভাগে ৩৯ আসনে ৩৬৮ জনের সাক্ষাৎকার নেয়া হয়। একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপির মনোনয়ন নিয়ে সংসদ সদস্য হতে চান ৪ হাজার ৫৮০ জন। ধানের শীষ প্রতীকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার জন্য এরা সবাই দলটির কেন্দ্রীয় কার্যালয় থেকে মনোনয়ন ফরম কিনেছেন। যাচাই-বাছাই শেষে বিএনপির প্রার্থী চূড়ান্ত করা হবে ৮ই ডিসেম্বর।
স্কাইপি ও ইন্টারনেট বন্ধ করে দিয়েছে সরকার :রিজভী
অনলাইন ডেস্ক :দলের মনোনয়ন প্রত্যাশীদের সাথে তারেক রহমানের সাক্ষাৎকার রুখতেই গুলশান কার্যালয়ের স্কাইপি ও ইন্টারনেট যোগাযোগ সরকার বন্ধ করে দিয়েছে বলে অভিযোগ করেছে বিএনপি। গতকাল সোমবার রাত সাড়ে ৯টায় এক জরুরি সংবাদ সম্মেলনে দলের সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী এই অভিযোগ করেন। নয়া পল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এই সংবাদ সম্মেলন হয়। তিনি বলেন, নির্বাচন কমিশনের সচিব বললেন, বিএনপির মনোনয়ন প্রক্রিয়ায় ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সংশ্লিষ্টতার বিষয়ে নির্বাচন কমিশনের কিছু করার নেই। তার এই বক্তব্যের পরপরই আমরা জানতে পারলাম বিটিআরসি স্কাইপি বন্ধ করে দিয়েছে। গুলশান অফিস থেকে আমাকে জানিয়েছে যে, সেখানে সকল ইন্টারনেট লাইন বন্ধ হয়ে গেছে, স্কাইপি বন্ধ করে দেয়া হয়েছে।এর উদ্দেশ্য একটাই বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান যাতে মনোনয়ন প্রত্যাশীদের সাক্ষাৎকার গ্রহণ করতে না পারেন। আমি সরকারের এহেন ন্যাক্কারজনক সংকীর্ণ মানসিকতার নিন্দা ও ধিক্কার জানাই এবং অবিলম্বে স্কাইপি খুলে দেবার আহবান জানাচ্ছি। রিজভী অভিযোগ করে বলেন, সরকার আগামী নির্বাচনকে নিজেদের অনুকূলে নেয়ার জন্য ক্লান্তিহীনভাবে রাষ্ট্রযন্ত্রকে ব্যবহার করছে। বিএনপির নির্বাচনী প্রক্রিয়ার তৎপরতাকে বাধা প্রদান করার জন্য সরকার সব ধরনের শক্তি প্রয়োগ করে যাচ্ছে। স্কাইপি বন্ধ করার ঘটনা সরকারের নিম্নরুচির পরিচায়ক। স্কাইপি বন্ধ করার মাধ্যমে আবারো প্রমাণিত হলো নির্বাচনী মাঠ আওয়ামী জোটের একচেটিয়া দখলে থাকবে। তিনি বলেন, ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের আওয়াজ ভেসে উঠলেই সরকার যে মূর্ছা যায় আর সেজন্য দুর থেকে ভেসে আসা শব্দকেও আটকানোর জন্য তারা উঠেপড়ে লাগে। সরকার কর্তৃক তারেক রহমানের আওয়াজকে বাধা দেয়ার অর্থই হচ্ছে গণতন্ত্রের গলাটিপে ধরা। রাজধানীতে যশোরের মনোনয়নপ্রত্যাশী আবু বকর, ছাত্র দলের আব্বাস, মো. হোসেন, আশরাফুল ইসলাম রবিন, জাকির হোসেন, মাহবুবুল আলম, খুলনার শাহিনুর আলমকে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী তুলে নিয়ে আটকের পর অস্বীকার করায় উদ্বেগ প্রকাশ করে অবিলম্বে তাদেরকে জনসমক্ষে হাজির করার দাবি জানিয়েছেন রিজভী। এছাড়া ঢাকা মহানগর দক্ষিনের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও ধানমন্ডি থানার সভাপতি শেখ রবিউল আলম রবিকে সাদা পোষাকে পুলিশ রাতে গ্রেফতার করায় তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ এবং অবিলম্বে তার মুক্তির দাবি জানান তিনি।
বাজে ইলেকশন হলেও আমরা করব: ড. কামাল হোসেন
অনলাইন ডেস্ক: জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের আহ্বায়ক ড. কামাল হোসেন বলেছেন, প্রতিযোগী নিজেই যদি আম্পায়ারিং করে তা হলে তো হলো না। তিনি বলেন, বাজে ইলেকশন হলেও আমরা করব। আজ সোমবার রাজধানীর বেইলি রোডে নিজ বাসভবনে সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন ড. কামাল হোসেন। এর আগে তাঁর সঙ্গে দেখা করতে তাঁর বাসভবনে যান ব্রিটিশ হাইকমিশনার অ্যালিসন ব্লেক। ড. কামাল জানান অবাধ ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের পরিবেশ এখনও তৈরি হয়নি এবং পুলিশ প্রশাসনের ভূমিকা পক্ষপাতমূলক। উভয়ে প্রায় এক ঘণ্টা কথা বলেন। পরে কোন বিষয়ে আলোচনা হয়েছে জানতে চাইলে ড. কামাল হোসেন বলেন, দেশের সার্বিক পরিস্থিতি তিনি জানতে চেয়েছেন। বিশেষ করে জানতে চেয়েছেন, কী ধরনের নির্বাচন হতে যাচ্ছে। ড. কামাল হোসেন বলেন, ইলেকশন কোনোভাবেই বয়কট করা যাবে না। বাজে ইলেকশন হলেও আমরা করব।তিনি বলেন, বয়কট করে পাঁচ বছর চালিয়ে নিল এটা তো নজিরবিহীন। আমাদের ইতিহাসে এমন ঘটনা ঘটেনি। ড. কামাল বলেন, ব্রিটিশ হাইকমিশনারকে জানানো হয়েছে, ঐক্যফ্রন্ট নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে নির্বাচন চায়। সেই লক্ষ্যে সাত দফা দাবিও সরকারকে দেওয়া হয়েছে। জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের শীর্ষ এই নেতা বলেন, সরকার অনেকভাবে নিরপেক্ষ করা যায়, তত্ত্বাবধায়ক ব্যবস্থা ছাড়াও। এটা আমাদের সংলাপে বলেছি। তিনি আরো বলেন, পুলিশকে যেভাবে দলীয় বাহিনী হিসাবে করা হয়েছে এসব তো উদ্বেগের কারণ। ব্রিটিশ হাইকমিশনারের কাছে ৫ জানুয়ারির নির্বাচনে ১৫৪ জন বিনা ভোটে নির্বাচিত হওয়ার বিষয়টি তুলে ধরা হয়েছে জানিয়ে ড. কামাল বলেন, ৫ জানুয়ারির পর নির্বাচিত সরকার না থাকার কারণে দেশের অনেক ক্ষতি হয়েছে।
হুসেইন মুহাম্মদ এরশাদের পালিত মেয়ের বিরুদ্ধে মামলা
অনলাইন ডেস্ক: নারায়ণগঞ্জে জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান হুসেইন মুহাম্মদ এরশাদের পালিতা কন্যা ও জাতীয় মহিলা পার্টির কেন্দ্রীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক অনন্যা হুসেইন মৌসুমীর বিরুদ্ধে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে মামলা হয়েছে। সোনারগাঁও উপজেলা ছাত্র সমাজের সভাপতি ফজলুল হক মাস্টার বাদী হয়ে মামলাটি দায়ের করেন। তিনি নারায়ণগঞ্জ-৩(সোনারগাঁও) আসনের বর্তমান জাতীয় পার্টির সংসদ সদস্য লিয়াকত হোসেন খোকার সমর্থক। মৌসুমীর নিজ ফেসবুকে একটি স্ট্যাটাস দেয়া নিয়ে সোমবার রাতে সোনারগাঁও থানায় এ মামলাটি দায়ের করেন ফজলুল হক মাস্টার। মামলায় উল্লেখ করা হয়, কিছুদিন ধরে অনন্যা হুসেইন মৌসুমী তার ফেসবুকে জাতীয় পার্টির মহাসচিব রুহুল আমিন হাওলাদারের বিরুদ্ধে বিভিন্ন ধরনের মিথ্যা বানোয়াট তথ্য প্রচার করে তার মানহানি করছেন। তার লেখায় জাতীয় পার্টির মানহানি, দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গ ও আইন শৃঙ্খলার অবনতি হতে পারে। মামলার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন সোনারগাঁও থানা পুলিশের পরিদর্শক (তদন্ত) সেলিম মিয়া। এ বিষয়ে অভিযুক্ত অনন্যা হুসেইন মৌসুমী বলেছেন, আমি মামলা খাওয়ার মত কিছু করি নাই। সারা জীবন তৃনমূল থেকে কাজ করতে করতে জীবন যুদ্ধ জয়ে হয়ে এখানে এসেছি। কেউ যদি ভেবে থাকে আমি ভয়ে মুখ খুলবোনা সেটা সবার জন্য ভুল হবে। এরশাদ স্যার নিজে আমাকে অনেক কিছু বলেছেন, তার অনেক প্রমাণও আছে। সত্য বলতে আমি ভয় পাইনা। মৃত্যু হলেও মাথা পেতে নেবো। তিনি আরও বলেন, সব মিডিয়ার ভাই বোনদের অনুরোধক্রমে বলছি আমার অনেক কিছু বলার, প্রমাণিত করার আছে। শুধু স্যারের সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় আছি। আমারও অনেক প্রমাণসহ দেয়ার আছে। ক্ষমতার অপব্যবহার করা ভালো, বেশী করা ভালো না। আমিও প্রধানমন্ত্রীকে ওপেন চিঠি লিখবো। স্যার কি বলে দেখি শুধু অপেক্ষায় রইলাম। ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারির নির্বাচনে এখানে নৌকা প্রতীকে মনোনয়ন পান উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান মোশারফ হোসেন। জাতীয় পার্টি থেকে মনোনয়ন পান বর্তমান এমপি লিয়াকত হোসেন খোকা। ওই নির্বাচনে আওয়ামী লীগ তার মহাজোটের শরীক দল জাতীয় পার্টিকে এ আসনটি ছেড়ে দিলে এখানে মোশারফ হোসেন তার মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করে নেন। বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় জাতীয় পাটির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব লিয়াকত হোসেন খোকা এমপি নির্বাচিত হন। এর আগে আসনটিতে অপরিচিতই ছিলেন এমপি খোকা। এক সময় এখানকার জাতীয় পার্টির হাল ধরে ছিলেন মৌসুমী। বিভিন্ন এলাকায় ঘুরে ঘুরে বাড়ি বাড়ি গিয়ে জাতীয় পার্টির নেতাকর্মী সংগ্রহ ও কমিটি গঠন করেছিলেন। ৫ জানুয়ারির সেই নির্বাচনে তিনি মনোনয়ন পাননি। এমনকি সাড়ে ৪ বছর তিনি সোনারগাঁয়ে রাজনীতিও করতে পারেননি। এর আগে এখানে লিয়াকত হোসেন খোকা রাজনীতিতে ছিলেন না। ওই সময় সোনারগাঁও উপজেলা জাতীয়পার্টির সভাপতি ছিলেন মৌসুমী। নির্বাচনের কয়েক মাসের মাথায় উপজেলা জাতীয় পার্টির অফিসে হামলার শিকার হন মৌসুমী। ওই সময় তিনি থানায় অভিযোগ দিলেও মামলা নেয়া হয়নি। পরে তিনি কেন্দ্রীয় জাতীয় পার্টির রাজনীতিতে সম্পৃক্ত হন। গত ৭ সেপ্টেম্বর তিনি সোনারগাঁয়ে নির্বাচনী মাঠে নামেন। এ আসন থেকে এবার লাঙ্গল প্রতীকে মৌসুমী ও এমপি খোকা মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন।
বিএনপির নির্বাচনী ইশতেহারে দুর্নীতিমুক্ত উন্নয়নের বিষয়টি প্রাধান্য পাবে: আমীর খসরু
অনলাইন ডেস্ক: বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেছেন, বিএনপির নির্বাচনী ইশতেহারে দুর্নীতিমুক্ত উন্নয়নের বিষয়টি প্রাধান্য পাবে। আধুনিক জনকল্যাণমূলক রাষ্ট্র গড়ার লক্ষ্যে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের দলীয় ইশতেহার প্রস্তুত করা হচ্ছে। সোমবার রাজধানীর গুলশানে বিএনপি চেয়ারপারসনের কার্যালয়ে দলীয় মনোনয়নপ্রত্যাশীদের সাক্ষাৎকার গ্রহণের আগে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এসব কথা বলেন তিনি। বিএনপি একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে ইশতেহার প্রস্তুত করছে বলে জানিয়ে আমীর খসরু বলেন, যার মূল বিষয়বস্তু হবে দুর্নীতিমুক্ত উন্নয়ন। তাতে থাকবে শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও কর্মসংস্থানের নিশ্চয়তা। নির্বাচনের জন্য এখনও সমতল ক্রীড়াভূমি নিশ্চিত করা হয়নি উল্লেখ করে আমীর খসরু বলেন,আমরা যে সাত দফা দিয়েছিলাম তার একটিও মানা হয়নি। তার পরও আমরা নির্বাচনে আছি। আশা করছি নির্বাচন কমিশন সবার জন্য সমান সুযোগ সৃষ্টি করবে। জনগণ তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করে দেশে গণতন্ত্র ফিরিয়ে আনবে। বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার গুলশান কার্যালয়ে সোমবার সকাল ৯টার কিছু সময় পর শুরু হয় মনোনয়নপ্রত্যাশীদের দ্বিতীয় দিনের সাক্ষাৎকার। সকালে বরিশাল বিভাগ ও বিকালে খুলনা বিভাগের মনোনয়নপ্রত্যাশীদের সাক্ষাৎকার নেয়া হচ্ছে। বরিশাল-১ আসনের মনোনয়নপ্রত্যাশীদের সাক্ষাৎকারের মধ্য দিয়ে শুরু হয় দ্বিতীয় দিনের প্রার্থী বাছাই কার্যক্রম। মনোনয়ন বোর্ডে আছেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ, ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ, ব্যারিস্টার জমির উদ্দিন সরকার, ব্যারিস্টার রফিকুল ইসলাম মিয়া, ড. আবদুল মঈন খান, মির্জা আব্বাস, গয়েশ্বর চন্দ্র রায় প্রমুখ। ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে মনোনয়ন নির্ধারণী প্রক্রিয়ায় যুক্ত আছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান।
আলোড়ন সৃষ্টি হয়েছে মনোনয়ন বিক্রিতে
অনলাইন ডেস্ক: একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে মনোনয়ন বিক্রিতে আলোড়ন সৃষ্টি হয়েছে। এবার জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিভিন্ন দল মাত্র তিনশ আসনের বিপরীতে রাজনৈতিক দলগুলোর মনোনয়ন প্রত্যাশীর সংখ্যা প্রায় ১২ হাজার। প্রতিটি আসনে মনোনয়ন প্রত্যাশীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে প্রায় ৪০ জন; যা দেশের ইতিহাসে রের্কড গড়েছে। নির্বাচনে শুধু মনোনয়ন প্রত্যাশীর সংখ্যাই চমক লাগায়নি। চমক লাগিয়েছেন মনোনয়ন প্রত্যাশীরাও। রাজনীতির নিয়মিত কর্মীদের বাইরে গিয়ে প্রার্থী হওয়ার অভিপ্রায় ব্যক্ত করেছেন ক্রীড়াবিদ, ব্যবসায়ী, সাবেক আমলা, সাবেক সেনাকর্মকর্তা, রুপালি জগতের তারকা ও আলোচিত ইউটিউবারও। বিশেষ করে ইউটিউবের মধ্য দিয়ে কয়েক বছর ধরে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেওয়া ইউটিউবার আশরাফুল আলম ওরফে হিরো আলম চমক সৃষ্টি করেছেন জাতীয় পার্টির মনোনয়ন ফরম কিনে। একই পরিবার থেকে একাধিক মনোনয়ন প্রত্যাশী রয়েছেন এমন আসনের সংখ্যা নেহাত কম নয়। সবাই চাইছেন কোনো না কোনোভাবে এমপি হতে। ৪৭ বছরের ইতিহাসে মনোনয়ন ফরম বিক্রিতে রেকর্ড গড়েছে রাজনৈতিক দলগুলো। বিশ্বের গণতান্ত্রিক দেশগুলোর মধ্যে বাংলাদেশে মাত্র তিনশ আসনের বিপরীতে রাজনৈতিক দলগুলোর মনোনয়ন প্রত্যাশীর সংখ্যা প্রায় ১২ হাজারের কাছাকাছি; যা দেশের ইতিহাসে অবশ্যই রেকর্ড। তবে অন্যান্য দেশের পরিসংখ্যান না থাকায় নির্বাচনের ক্ষেত্রে এটিই বিশ্ব রেকর্ড কিনা তা বলা সম্ভব হচ্ছে না। অঙ্কের হিসাবে আওয়ামী লীগ, বিএনপিসহ সব রাজনৈতিক দলের মনোনয়ন প্রত্যাশীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে প্রতি আসনে প্রায় ৪০ জন। স্বাধীনতার পর গত ১০টি জাতীয় সংসদ নির্বাচনে এত মনোনয়ন প্রত্যাশী অতীতে কখনও দেখা যায়নি। সর্বশেষ হিসাব অনুযায়ী, ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগের মোট মনোনয়ন প্রত্যাশীর সংখ্যা ৪ হাজার ২৩। অর্থাৎ প্রতি আসনে দলটির মনোনয়ন প্রত্যাশীর সংখ্যা ১৩। বিএনপিতে তিনশ আসনের বিপরীতে মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেছেন ৪ হাজার ৫৮০। এ দলটির প্রতি আসনে প্রার্থীর সংখ্যা ১৫ জন। বর্তমান সংসদের বিরোধী দল জাতীয় পার্টিও মনোনয়ন বিক্রিতে রেকর্ড করেছে। দলটি তিনশ আসনের বিপরীতে মনোনয়ন ফরম বিক্রি করেছে ২ হাজার ৮৬৫টি। এ দলটিরও প্রতি আসনে মনোনয়ন প্রত্যাশী ১০ জন। বড় এ তিন দলের বাইরেও অন্যান্য দলের মনোনয়ন প্রত্যাশীর সংখ্যাও অবাক করার মতো। হাতেগোনা ১০ থেকে ১৫ আসনেও বিজয়ী হওয়ার মতো যোগ্য প্রার্থী না থাকলেও এসব দল মনোনয়ন বিক্রি করেছে শত শত। জানা গেছে, বিএনপির সঙ্গে জোটবদ্ধ হয়ে নির্বাচনে আসা ঐক্যফ্রন্টের অন্য দলগুলোতে মনোনয়ন প্রত্যাশীর সংখ্যা দেড় শতাধিক ছাড়িয়ে গেছে। আওয়ামী লীগের সঙ্গে জোটে আসা যুক্তফ্রন্ট, ইসলামী ঐক্যজোটসহ অন্য দলগুলোও দলীয়ভাবে এক থেকে দেড়শ মনোনয়ন প্রত্যাশীর কাছে মনোনয়ন ফরম বিতরণ করেছে বলে জানা গেছে। এছাড়া বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি, ওয়ার্কার্স পার্টি, জাসদ, সাম্যবাদী দল, কমিউনিস্ট কেন্দ্রসহ বাম রাজনৈতিক দলগুলো এবং জাতীয় পার্টি জেপিসহ অন্যান্য দল মিলিয়ে প্রায় শতাধিক মনোনয়ন প্রত্যাশী রয়েছে বলে তাদের দাবি। সব রাজনৈতিক দলের মনোনয়ন ফরম বিক্রির হিসাবগুলো মিলিয়ে দেখা গেছে, আওয়ামী লীগ, বিএনপি ও জাতীয় পার্টি এ তিন রাজনৈতিক দলেরই মনোনয়ন প্রত্যাশীর সংখ্যা ১১ হাজার ৪৬৭। এক্ষেত্রে আওয়ামী লীগ থেকে এগিয়ে রয়েছে আগে নির্বাচন বর্জনকারী দল বিএনপি। আওয়ামী লীগ ৪ হাজার ২৩ জন মনোনয়ন প্রত্যাশীর বিপরীতে বিএনপি মনোনয়ন ফরম বিক্রি করেছে ৪ হাজার ৫৮০টি। এছাড়া ঐক্যফ্রন্ট, যুক্তফ্রন্ট, বাম গণতান্ত্রিক জোট, ১৪ দল, জাতীয় পার্টি জেপি, ইসলামী দলগুলো এবং নিবন্ধন হারানো জামায়াতসহ নির্বাচনে আসা সব রাজনৈতিক দলের মনোনয়ন প্রত্যাশীর সংখ্যাও কম-বেশি ৫শ মতো। সব রাজনৈতিক দলের মনোনয়ন ফরম বিক্রির হিসাব যোগ করলে তা প্রায় ১২ হাজারের ছুঁই ছুঁই। বাংলাদেশের ইতিহাসে বিরল ঘটনা। এ বিষয়ে সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন) সম্পাদক বদিউল আলম মজুমদার আলোকিত বাংলাদেশকে বলেন, আসলে সবাই এখন এমপি হতে চান। এটা রাজনীতির অপব্যবহার। কারণ কিছু লোক ছাড়া সবাই জনগণের জন্য নয়, নিজের ব্যক্তিগত ক্ষমতার জন্য এমপি হওয়ার চেষ্টা করছে। এটি ভবিষ্যৎ রাজনীতির জন্য ভালো নয়। এছাড়া মনোনয়ন ফরম বিক্রিতে আলোড়ন সৃষ্টি করেছে কয়েকটি আসন। বরিশাল বিভাগের বরগুনা-১ আসন থেকে নৌকা মার্কার মনোনয়ন ফরম কিনেছেন ৫২ জন। মনোনয়ন কেনার ক্ষেত্রে এ আসনের মনোনয়ন প্রত্যাশীরা এ মুহূর্তে শীর্ষে রয়েছেন। এর পরপরই অবস্থান ঢাকা বিভাগের নারায়ণগঞ্জ-১ আসন (রূপগঞ্জ)। ৪০ প্রার্থী এ আসন থেকে নৌকার মনোনয়ন চাইছেন এবার। নৌকা মার্কার ৩০টি মনোনয়ন ফরম কিনে তৃতীয় অবস্থানে রয়েছে রংপুরের কুড়িগ্রাম-৪। এরপর ২৬টি মনোনয়ন ফরম কিনেছেন চট্টগ্রাম বিভাগের কক্সবাজার-১ ও ময়মনসিংহ বিভাগের নেত্রকোনা-১ প্রার্থীরা। প্রতি আসনে গড়ে ১৩ জন মনোনয়ন প্রত্যাশী রয়েছে নৌকা মার্কায়। শুধু তাই নয়, মনোনয়ন কেনায় একই পরিবার থেকে একাধিক প্রার্থী মনোনয়ন কিনে যেমন আলোচিত হচ্ছেন, তেমনি একই পরিবার থেকে আওয়ামী লীগ-বিএনপি উভয় দলের মনোনয়ন ফরম কিনে আলোচনার জন্ম দিচ্ছেন কেউ কেউ। আবার এমন প্রার্থীও রয়েছেন যিনি একইসঙ্গে দুই দল থেকে মনোনয়ন ফরম কিনেছেন। রাজনীতির মাঠে সরব আলোচনা না হলেও গণমাধ্যমে নানাভাবে আলোচনার খোরাক হচ্ছেন তারা। এক সময়ের বিএনপির ডাকসাইটের নেতা ও মন্ত্রী ব্যারিস্টার নাজমুল হুদা এবার মনোনয়ন ফরম কিনেছেন আওয়ামী লীগ থেকে। আর তার মেয়ে অ্যাডভোকেট অন্তরা সেলিমা হুদা মনোনয়ন কিনেছেন বিএনপি থেকে। নাজমুল হুদা নৌকা মার্কা নিয়ে এবার ঢাকা-১৭ আসন থেকে নির্বাচন করতে চাইছেন। অপরদিকে নাজমুল হুদার সাবেক আসন ঢাকা-১ থেকে বিএনপির ধানের শীষ নিয়ে নির্বাচন করতে চান তার মেয়ে অন্তরা হুদা। জাতীয় পার্টির প্রেসিডিয়াম সদস্য, সাবেক প্রতিমন্ত্রী ও বর্তমান সংসদ সদস্য সালমা ইসলাম বরাবরের মতোই নিজ দল থেকে মনোনয়ন ফরম কিনেছেন। লড়তে চান তার আসন ঢাকা-১ থেকে। কিন্তু তার ছেলে শামীম ইসলাম আওয়ামী লীগের প্রার্থী হয়ে লড়তে চান ঢাকা-১১ আসনে। আবার একই পরিবার থেকে দুই দলের প্রার্থী যেমন রয়েছে, তেমনি একই পরিবার থেকে একই মার্কার একাধিক মনোনয়ন প্রত্যাশী রয়েছেন আওয়ামী লীগ-বিএনপিতে। বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান ও সাবেক প্রতিমন্ত্রী আবদুল মান্নান ঢাকা-১ আসনের জন্য বিএনপির মনোনয়ন ফরম কিনেছেন। একইসঙ্গে তার মেয়ে ব্যারিস্টার মেহনাজ মান্নান দলের মনোনয়ন ফরম কিনেছেন একই আসনে প্রার্থী হওয়ার অভিপ্রায় থেকে। কুমিল্ল-১ (মেঘনা-দাউদকান্দি) আসনে আওয়ামী লীগ থেকে মনোনয়ন ফরম কিনেছেন বাবা-ছেলে। আওয়ামী লীগ থেকে কিনেছেন বর্তমান সংসদ সদস্য মেজর জেনারেল (অব.) সুবিদ আলী ভূঁইয়া ও তার ছেলে দাউদকান্দি উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান মেজর (অব.) মোহাম্মদ আলী সুমন। বিএনপি থেকে দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন এবং তার ছেলে ও কেন্দ্রীয় বিএনপি সদস্য ড. খন্দকার মারুফ হোসেন দলীয় মনোনয়ন ফরম কিনেছেন। কুমিল্লা-৩ (মুরাদনগর) আসনেও একই অবস্থা। আওয়ামী লীগ থেকে মনোনয়ন চাইছেন কুমিল্লা উত্তর জেলা আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর আলম সরকার ও তার ছেলে স্বেচ্ছাসেবক লীগ নেতা এবং দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে স্বতন্ত্র পদে নির্বাচনে অংশ নেওয়া ড. আহসানুল আলম কিশোর। বিএনপি থেকে মনোনয়ন চাইছেন বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান সাবেক এমপি কাজী শাহ মোফাজ্জাল হোসাইন কায়কোবাদ এবং তার ভাই কেএম মুজিবুল হক ও জুন্নন বশরী। একই আসন থেকে বিএনপি থেকে মনোনয়ন প্রত্যাশী বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও সাবেক মন্ত্রী ব্যারিস্টার রফিকুল ইসলাম মিয়া এবং তার সহধর্মিণী অধ্যাপিক সাদিয়া রফিক। কুমিল্লা-৪ (দেবিদ্বার) আসনে বিএনপির প্রার্থী হয়েছেন স্বামী-স্ত্রী এবং ছেলে। কুমিল্লা উত্তর জেলা বিএনপির সভাপতি ও সাবেক সংসদ সদস্য ইঞ্জিনিয়ার মঞ্জুরুল আহসান মুন্সি, তার স্ত্রী কুমিল্লা (উত্তর) জেলা বিএনপির সহ-সভাপতি বেগম মাজেদা আহসান মুন্সি ও তাদের ছেলে কুমিল্লা উত্তর জেলা বিএনপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ব্যারিস্টার রিজবিউল আহসান মুন্সি দলের মনোনয়ন ফরম কিনেছেন। প্রতিটি আসনে প্রার্থিতার ছড়াছড়ির বিষয়টিও ভালো চোখে দেখছেন না আওয়ামী লীগের নীতিনির্ধারকরা। এরই মধ্যে দলের পক্ষ থেকে প্রার্থীদের স্পষ্টভাবে জানিয়ে দেয়া হয়েছে, নৌকা যার, সবাই তার। কেউ দলের সিদ্ধান্ত অমান্য করলে রক্ষা নেই। তাৎক্ষণিক আওয়ামী লীগ থেকে আজীবনের জন্য বহিষ্কার করা হবে, আর কোনোদিন দলে ফিরিয়ে নেওয়া হবে না। আর মনোনয়ন ফরমের অঙ্গীকারনামাতেও এ বিষয়টি স্পষ্টভাবে উল্লেখ ছিল। এ কঠোর অঙ্গীকারনামা মেনেই আওয়ামী লীগের মনোনয়ন প্রত্যাশীরা স্বাক্ষর করে দলীয় প্রধান শেখ হাসিনার কাছে মনোনয়ন ফরম জমা দিয়েছেন। এদিকে সাবেক আমলাদের মধ্যে মনোনয়ন কিনে আলোচিত হয়েছেন বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গভর্নর ড. মোহাম্মদ ফরাসউদ্দিন। সিলেট-১, (সিলেট সদর-কোম্পানীগঞ্জ) আসন থেকে প্রার্থী হতে চাচ্ছেন জাতিসংঘে বাংলাদেশের সাবেক স্থায়ী প্রতিনিধি অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিতের ভাই একেএ মোমেন। আমলাদের পাশাপাশি আওয়ামী লীগের মনোনয়নপত্র কিনেছেন ক্রীড়া ও শোবিজ তারকারাও। এখন পর্যন্ত ১২ তারকা আওয়ামী লীগের মনোনয়নপত্র কিনেছেন বলে জানা গেছে। তারা হলেন চিত্রনায়িকা সারাহ বেগম কবরী, অভিনেত্রী তারানা হালিম, রোকেয়া প্রাচী, শমী কায়সার, শিল্পী মমতাজ, চিত্রনায়ক শাকিল খান, অভিনেতা সিদ্দিকুর রহমান, ডিপজল, ফারুক, অভিনয় শিল্পী জ্যোতিকা জ্যোতি, ক্রিকেটার মাশরাফি বিন মুর্তজা ও দুর্জয়। প্রসঙ্গত, পুনঃতফসিল অনুযায়ী একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে মনোনয়নপত্র দাখিলের শেষ দিন ২৮ নভেম্বর, মনোনয়নপত্র বাছাইয়ের দিন ২ ডিসেম্বর, প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ দিন ৯ ডিসেম্বর এবং ভোটের দিন ৩০ ডিসেম্বর।
বিএনপির মনোনয়নপ্রত্যাশীদের সাক্ষাৎকার শুরু আজ
অনলাইন ডেস্ক: আসন্ন একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপির মনোনয়নপ্রত্যাশীদের সাক্ষাৎকার গ্রহণ শুরু হয়েছে। রোববার (১৮ নভেম্বর) গুলশানে বিএনপি চেয়ারপারসনের রাজনৈতিক কার্যালয়ে এ সাক্ষাৎকার শুরু হয়। প্রথম দিন সকাল ৯টা থেকে বেলা দেড়টা পর্যন্ত রংপুর বিভাগ এবং দুপুর আড়াইটা থেকে রাজশাহী বিভাগের সাক্ষাৎকার হবে। দলের মনোনয়ন বোর্ড এ সাক্ষাৎকার নেবে। বোর্ডে উপস্থিত রয়েছেন, মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ, ব্যারিস্টার জমির উদ্দিন সরকার, লে. জেনারেল (অব.) মাহবুবুর রহমান, ব্যারিস্টার জমির উদ্দিন সরকার, ড. আব্দুল মঈন খান, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, নজরুল ইসলাম খান, আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। সাক্ষাৎকারের সময়সূচি অনুযায়ী, সোমবার সকাল ৯টা থেকে দেড়টা পর্যন্ত বরিশাল বিভাগ, দুপুর আড়াইটায় খুলনা বিভাগ, মঙ্গলবার সকাল ৯টা থেকে আড়াইটা পর্যন্ত চট্টগ্রাম বিভাগ, দুপুর আড়াইটা থেকে বৃহত্তর কুমিল্লা ও সিলেট বিভাগ, বুধবার সকাল ৯টা থেকে আড়াইটা পর্যন্ত ময়মনসিংহ ও ফরিদপুর বিভাগ, দুপুর আড়াইটা থেকে ঢাকা বিভাগের মনোনয়নপ্রত্যাশীদের সাক্ষাৎকার অনুষ্ঠিত হবে। বিএনপি মনোনয়নপ্রত্যাশীদের মধ্যে ফরম বিক্রি ও জমা শুরু হয় ১২ নভেম্বর, যা শেষ হয় শুক্রবার রাতে। বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেন, মনোনয়নপ্রত্যাশীদের সাক্ষাতের সময় আবেদন ফরম জমাদানের রসিদ অবশ্যই সঙ্গে আনতে হবে। মনোনয়নপ্রত্যাশীরা তাদের সমর্থকদের সঙ্গে নিয়ে আসতে পারবেন না। সমর্থকদের সঙ্গে করে আনলে তা অসদাচরণ বলে গণ্য হবে। তিনি বলেন, গুলশান কার্যালয়কে কেন্দ্র করে এর আশপাশে মনোনয়নপ্রত্যাশী ও আমন্ত্রিতরা ছাড়া অন্য কেউ থাকতে পারবে না। শুধু মহানগর ও জেলাধীন নির্বাচনী এলাকার মনোনয়নপ্রত্যাশীদের সাক্ষাতের সময় ওই মহানগর ও জেলা বিএনপির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক উপস্থিত থাকবেন। সংশ্লিষ্টবিভাগের সাংগঠনিক সম্পাদক ও সহ-সাংগঠনিক সম্পাদকরাও উপস্থিত থাকবেন। অন্যদিকে শনিবার রাজধানীর নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে রুহুল কবির রিজভী জানিয়েছেন, মোট ৪ হাজার ৫৮০টি মনোনয়ন ফরম বিক্রি হয়েছে। তবে জমার সংখ্যাটা পরে জানাবেন বলে জানিয়েছেন তিনি। বিএনপি মনোনয়ন ফরম বিক্রি করেছে ৫ হাজার টাকায়। জমার সময় ফরমের সঙ্গে ২৫ হাজার টাকা জামানত হিসেবে দিতে হয় মনোনয়নপ্রত্যাশীদের। চার দিনে মোট ৪ হাজার ৫৮০টি মনোনয়ন ফরম বিক্রি থেকে বিএনপির আয় হয়েছে ২ কোটি টাকার ওপরে।

রাজনীতি পাতার আরো খবর