খালেদার আইনজীবী কার্লাইলকে ঢুকতে দিলো না ভারত
অনলাইন ডেস্ক: বিরোধীদল বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার ব্রিটিশ আইনজীবী লর্ড আলেকজান্ডার কার্লাইলকে ভারত প্রবেশের অনুমতি দেয়া হয়নি। বুধবার (১১ জুলাই) রাতে তাকে দিল্লি বিমানবন্দর থেকে ফেরত পাঠানো হয়েছে। খবর বিবিসি বাংলা’র লর্ড কার্লাইলের মিডিয়া টিমের সূত্রের বরাত দিয়ে বিবিসি জানায়, বুধবার গভীর রাতে দিল্লি বিমানবন্দরে এসে পৌঁছান খালেদা জিয়ার আইনজীবী। তখন ইমিগ্রেশন বিভাগের কর্মকর্তারা তাকে জানান, ভারত সরকার তার ভিসা প্রত্যাহার করেছে। এরপর তাকে দিল্লি বিমানবন্দর থেকেই লন্ডনের ফিরতি ফ্লাইটে তুলে দেয়া হয়। এ ব্যাপারে ভারতীয় কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে আনুষ্ঠানিক কোনও বক্তব্য পাওয়া যায়নি। বৃহস্পতিবার দিল্লিতে একটি পাঁচতারা হোটেলে এক সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হওয়ার কথা ছিল তার। কিন্তু এখন লর্ড কার্লাইলের সেই সংবাদ সম্মেলন বাতিল করা হয়েছে বলে তার মিডিয়া টিম থেকে জানানো হয়েছে। এর আগে দিল্লি ফরেন করেসপন্ডেন্টস ক্লাব তার শুক্রবারের নির্ধারিত সংবাদ সম্মেলনটি বাতিল দেয়। এরপরই তিনি দিল্লি ওই পাঁচতারা হোটেলে সংবাদ সম্মেলন করতে চেয়েছিলেন। অালোকিত বাংলাদেশ
অরফানেজ ট্রাস্ট মামলার রিভিউ আবেদন আপিল বিভাগে মুলতবি
অনলাইন ডেস্ক: জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলার আপিল ৩১ জুলাইয়ের মধ্যে নিষ্পত্তির আদেশ রিভিউ চেয়ে খালেদা জিয়ার করা আবেদন স্ট্যান্ডওভার (মুলতবি) রেখেছেন আপিল বিভাগ। তবে ৩১ জুলাইয়ের মধ্যে আপিল শুনানি শেষ না করতে পারলে রিভিউ আবেদন বিবেচনা (কনসিডার) করবেন আদালত। বৃহস্পতিবার (১২ জুলাই) প্রধান বিচারপতির নেতৃত্বে চার বিচারপতির আপিল বেঞ্চ এ আদেশ দেন। আগে ৯ জুলাই এ আবেদনের ওপর শুনানি শেষ হয়। রাষ্ট্রপক্ষে আদালতে ছিলেন অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম। দুর্নীতি দমন কমিশনের পক্ষে আইনজীবী খুরশীদ আলম খান এবং খালেদা জিয়ার পক্ষে ছিলেন মওদুদ আহমদ, এ জে মোহাম্মদ আলী ও জয়নুল আবেদীন। মামলায় পাঁচ বছরের দণ্ডের বিরুদ্ধে আপিল করে জামিন আবেদনের পর খালেদা জিয়াকে ১২ মার্চ চার মাসের জামিন দেন হাইকোর্ট। এর বিরুদ্ধে দুদক ও রাষ্ট্রপক্ষের আপিলের পর গত ১৬ মে তা বহাল রেখে ৩১ জুলাইয়ের মধ্যে আপিল নিষ্পত্তির নির্দেশ দিয়েছিলেন উচ্চতর আদালত। পরে খালেদা জিয়া ৩১ জুলাইয়ের মধ্যে হাইকোর্টে আপিল মামলার নিষ্পত্তিতে আপিল বিভাগের আদেশ পুনর্বিবেচনা (রিভিউ) চেয়ে আবেদন করেন। এ আবেদনের পর ৫ জুলাই আপিল বিভাগের চেম্বার আদালত সোমবার (৯ জুলাই) শুনানির পূর্ণাঙ্গ বেঞ্চে পাঠানোর আদেশ দেন। সে অনুসারে সোমবার এ আবেদনের ওপর শুনানি হয়। এ মামলায় ছয় আসামির মধ্যে খালেদা জিয়াসহ তিনজন কারাবন্দি। বাকি তিন আসামি পলাতক রয়েছেন। খালেদা জিয়া ছাড়া বাকি দুইজন হলেন, মাগুরার সাবেক এমপি কাজী সালিমুল হক কামাল ওরফে ইকোনো কামাল ও ব্যবসায়ী শরফুদ্দিন আহমেদ। পলাতক তিনজন হলেন- বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারপারসন তারেক রহমান, সাবেক মুখ্য সচিব ড. কামাল উদ্দিন সিদ্দিকী, বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমানের ভাগ্নে মমিনুর রহমান। গত ৮ ফেব্রুয়ারি বকশীবাজারে কারা অধিদফতরের প্যারেড গ্রাউন্ডে স্থাপিত ঢাকার বিশেষ জজ আদালত-৫ এর বিচারক ড. মো. আখতারুজ্জামান মামলাটিতে খালেদা জিয়ার পাঁচ বছরের কারাদণ্ড দেন। একইসঙ্গে খালেদার ছেলে ও বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারপারসন তারেক রহমান, মাগুরার সাবেক এমপি কাজী সালিমুল হক কামাল, ব্যবসায়ী শরফুদ্দিন আহমেদ, ড. কামাল উদ্দিন সিদ্দিকী ও মমিনুর রহমানকে ১০ বছর করে কারাদণ্ড দেন আদালত। রায় ঘোষণার ১১ দিন পর ১৯ ফেব্রুয়ারি বিকেলে রায়ের সার্টিফায়েড কপি বা অনুলিপি হাতে পান খালেদা জিয়ার আইনজীবীরা। এরপর হাইকোর্টের সংশ্লিষ্ট শাখায় ২০ ফেব্রুয়ারি তারা এ আবেদন করেন। ২২ ফেব্রুয়ারি খালেদা জিয়ার আপিল শুনানির জন্য গ্রহণ এবং অর্থদণ্ড স্থগিত করে নথি তলব করেন আদালত। এরপর ৭ মার্চ অপর আসামি মাগুরার সাবেক এমপি কাজী সালিমুল হক কামালের আপিলও শুনানির জন্য গ্রহণ করেন হাইকোর্ট। ১০ মে আরেক আসামি শরফুদ্দিনের আপিল শুনানির জন্য গ্রহণ করেন আদালত।
বাংলাদেশ রসাতলে যাবে বিএনপির হাতে ক্ষমতা ছেড়ে দিলে: ওবায়দুল কাদের
অনলাইন ডেস্ক: একদিনের জন্য বিএনপির হাতে ক্ষমতা ছেড়ে দিলে বাংলাদেশ রসাতলে যাবে। একদিনেই দেশে রক্তের নদী বয়ে যাবে, একদিনেই দেশ সন্ত্রাসের লীলাভূমি হয়ে যাবে, পুরনো হাওয়া ভবন পুরনো খাওয়া ভবনে রূপান্তর হবে। বুধবার রাজধানীর একটি অভিজাত হোটেলে নারী নেতৃত্বের ওপর এক কর্মশালায় আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের এসব কথা বলেন। আওয়ামী লীগের গবেষণা সংস্থা সিআরআই এর উদ্যোগে এ সেমিনারের আয়োজন করা হয়। মঙ্গলবার (১০ই জুলাই) বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের দেয়া বক্তব্যের সমালোচনা করে তিনি বলেন, আগামী জাতীয় নির্বাচনে আসুন, জনপ্রিয়তা যাচাই হবে। জনগণ আমাদের ভোট না দিলে আমরা তো সরকারে আসতে পারবো না। কাজেই জাতীয় নির্বাচনে অংশ নিয়ে পরীক্ষা নিতে পারেন। গাজীপুরে শিক্ষা হয়নি, খুলনায়ও শিক্ষা হয়নি, আর কত শিক্ষা চান? ‘খালেদা ছাড়া বিএনপি নির্বাচনে যাবে না’ এমন বক্তব্যের জেরে আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক কাদের বলেন, বিএনপির কথার সঙ্গে কাজের মিল নেই। অক্টোবরে নির্বাচনের শিডিউল ঘোষণা হবে, দেখা যাবে এই কথার মানে কী? তাকে (খালেদা জিয়া) ছাড়া নির্বাচনে যাবেন কি, যাবেন না। তিনি বলেন, খালেদা জিয়াকে দণ্ড দিয়েছেন আদালত, মুক্তিও দিতে পারেন আদালত। তাদের কথায় মনে হয় আওয়ামী লীগই যেন তাকে আটকে রেখেছে, শেখ হাসিনা আটকে রেখেছেন। বিএনপি নেতাদের উদ্দেশ্য করে ওবায়দুল কাদের বলেন, আপনারা বলেছেন ইসির সচিব আওয়ামী লীগ দলীয় অফিসে যান। আমি চ্যালেঞ্জ করছি, ইলেকশন কমিশন সচিব কোনো দিনও আওয়ামী লীগ অফিসে যাননি। এটা তাদের সাজানো, বানোয়াট, মিথ্যা কথা এবং রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। এটা তাদের প্রমাণ করতে হবে। তা না হলে এর জবাব দিতে হবে।
গ্রেফতারি পরোয়ানা খালেদা জিয়া ও গয়েশ্বরের বিরুদ্ধে
অনলাইন ডেস্ক: বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া ও দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায়ের বিরুদ্ধে মুক্তিযোদ্ধাদের নিয়ে কটূক্তি মামলায় গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেছেন আদালত। বুধবার ঢাকা মহানগর হাকিম আবু সাঈদ মামলার প্রতিবেদন আমলে নিয়ে এ পরোয়ানা জারি করেন। একই সঙ্গে আদালত আগামী ৭ আগস্ট গ্রেফতার-সংক্রান্ত তামিল প্রতিবেদন দাখিলের জন্য দিন ধার্য করেন। মামলার বাদী বাংলাদেশ জননেত্রী পরিষদের সভাপতি এবি সিদ্দিকী এসব তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, অভিযোগের সত্যতা পাওয়ায় গত ৯ জুলাই খালেদা জিয়া ও গয়েশ্বরের বিরুদ্ধে আদালতে প্রতিবেদন দাখিল করেন মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা শাহবাগ থানার পরিদর্শক জাফর আলী। এদিন (বুধবার) আসামিদের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারির আবেদন করা হয়। শুনানি শেষে আদালত আসামিদের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেছেন। আদালত সূত্র জানায়, ২০১৫ সালের ২১ ডিসেম্বর ইঞ্জিনিয়ার্স ইন্সটিটিউশনে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী মুক্তিযোদ্ধা দল আয়োজিত এক আলোচনা সভায় খালেদা জিয়া বলেন, তিনি (বঙ্গবন্ধু) বাংলাদেশের স্বাধীনতা চাননি। তিনি পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী হতে চেয়েছিলেন। প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান স্বাধীনতা ঘোষণা করেন। আজকে বলা হয়, এতো শহীদ হয়েছে, এটা নিয়েও অনেক বিতর্ক আছে। অপরদিকে একই বছরের জাতীয় প্রেসক্লাবে এক অনুষ্ঠানে শহীদ বুদ্ধিজীবীদের প্রসঙ্গে গয়েশ্বর চন্দ্র রায় বলেন, একাত্তরের ১৪ ডিসেম্বর পর্যন্ত যারা পাকিস্তানের বেতন-ভাতা খেয়েছেন, তারা নির্বোধের মতো মারা গেলেন। আর আমাদের মতো নির্বোধরা শহীদ বুদ্ধিজীবী হিসেবে তাদের ফুল দেই। আবার না গেলে পাপ হয়। তারা (শহীদ বুদ্ধিজীবী) যদি বুদ্ধিমান হতেন তবে ১৪ ডিসেম্বর পর্যন্ত নিজ ঘরে থাকলেন কেন? তাদের ওই বক্তব্য বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে শহীদ ও শহীদ বুদ্ধিজীবীদের ভূমিকাকে প্রশ্নবিদ্ধ করে, যা মানহানিকর। এ অভিযোগে ২০১৬ সালের ৫ জানুয়ারি বাংলাদেশ জননেত্রী পরিষদের সভাপতি এবি সিদ্দিকী বাদী হয়ে এ মামলাটি দায়ের করেন।
স্বজনরা খালেদা জিয়ার দেখা পাচ্ছেন না
অনলাইন ডেস্ক :দুর্নীতি মামলায় দণ্ডিত হয়ে কারাবন্দি বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার সঙ্গে পরিবারের সদস্যদের দেখা করতে দেওয়া হচ্ছে না বলে অভিযোগ করেছেন দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি এটিকে মানবাধিকারের লংঘন বলেও অভিহিত করেন।আজ বুধবার সকালে দলের নয়াপল্টন কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এই অভিযোগ করেন।বিএনপির মহাসচিব বলেন, খালেদা জিয়াকে দীর্ঘ ১১ দিন তাঁর পরিবারের সঙ্গে এবং দলের কারো সঙ্গে দেখা করতে দেওয়া হচ্ছে না। এ বিষয়ে কারা কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলেও এটি নিয়ে তারা কোনো কথা না বলে কারাবিধির অজুহাত দেখাচ্ছেন।মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, জেলকোড লঙ্ঘন করে খালেদা জিয়াকে তাঁর পরিবার ও বন্ধু এবং রাজনৈতিক সহকর্মীর সঙ্গে দেখা করতে দিচ্ছে না। এটা মানবাধিকারের লঙ্ঘন।মির্জা ফখরুল আরও বলেন, ‘খালেদা জিয়াকে সাজা দেওয়ার মূল কারণ তাঁকে এবং বিএনপিকে বাইরে রেখে একতরফা নির্বাচন করে ক্ষমতা দখল দীর্ঘায়িত করা। কারণ, তিনি আজীবন গণতন্ত্রের জন্য সংগ্রাম করেছেন।সংসদ ভেঙে নির্বাচন দেওয়ার দাবি জানিয়ে মির্জা ফখরুল বলেন, ‘আপনাদের শুভচিন্তার উদয় হোক। খালেদা জিয়াকে মুক্তি দিন, চিকিৎসার ব্যবস্থা করুন। সংসদ ভেঙে দিয়ে নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে নির্বাচন দিন।
দুই মামলায় খালেদার জামিন শুনানি ৩১ জুলাই
অনলাইন ডেস্ক :যুদ্ধাপরাধীদের মদদ দেয়া ও ভুয়া জন্মদিন পালনের পৃথক দুই মামলায় বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার জামিন আবেদন করা হয়েছে।বুধবার ঢাকা মহানগর দায়রা জজ আদালতের বিচারক কেএম ইমরুল কায়েস আগামী ৩১ জুলাই জামিন শুনানির জন্য দিন ঠিক করেছেন।মামলা দু'টিতে খালেদা জিয়ার আইনজীবী মাসুদ আহমেদ তালুকদার আবেদন করেন।আদালতে অতিরিক্ত পাবলিক প্রসিকিউটর তাপস কুমার পাল জামিন আবেদনের বিষয়টি নিশ্চিত করেন।এর আগে গত ৫ জুলাই রাজধানীর বকশিবাজারে আলিয়া মাদ্রাসা মাঠের অস্থায়ী আদালতে পৃথক দুই মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট খুরশীদ আলম ও আহসান হাবিবের আদালত এ দুই মামলায় খালেদা জিয়ার জামিন নামঞ্জুর করেন।২০১৬ সালের ০৩ নভেম্বর এবি সিদ্দিকী ‘স্বীকৃত স্বাধীনতাবিরোধীদের গাড়িতে জাতীয় পতাকা তুলে দিয়ে দেশের মানচিত্র ও জাতীয় পতাকার মানহানি ঘটানোর অভিযোগে ঢাকার সিএমএম আদালতে মানহানির মামলাটি দায়ের করেছিলেন।মামলায় অভিযোগ করা হয়, ‘১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে সপরিবারে হত্যার পর কলঙ্কিত মুক্তিযোদ্ধা মেজর জেনারেল জিয়াউর রহমান ০৭ নভেম্বর সিপাহী বিপ্লবের মাধ্যমে সামরিক সরকারের দায়িত্ব দখল করে মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসকে কলঙ্কিত করেছেন। ১৯৮১ সালের ১৭ মে বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দেশে ফিরে এলে তাকে হুমকি দিয়ে তার বাবার বাড়িতে প্রবেশ করতে দেননি। এছাড়া খালেদা জিয়া ২০০১ সালে ক্ষমতা গ্রহণ করে স্বাধীনতাবিরোধী আলবদর-রাজাকারদের হাতে মন্ত্রিত্ব তুলে দেন। যার মাধ্যমে স্বীকৃত স্বাধীনতাবিরোধীদের গাড়িতে জাতীয় পতাকা তুলে দিয়ে দেশের মানচিত্র ও জাতীয় পতাকার মানহানি ঘটিয়েছেন’।আগস্ট ভুয়া জন্মদিন পালনের অভিযোগে ২০১৬ সালের ৩০ আগস্ট ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক গাজী জহিরুল ইসলাম বাদী হয়ে ঢাকার সিএমএম আদালতে অপর মামলাটি দায়ের করেছিলেন।বাদী মামলায় অভিযোগ করেন, খালেদা জিয়ার জন্মদিন নিয়ে ১৯৯৭ সালে ১৯ ও ২২ আগস্ট দুটি জাতীয় দৈনিকে প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। ওই প্রতিবেদনে মেট্রিক পরীক্ষার মার্কশিট অনুযায়ী খালেদা জিয়ার জন্ম তারিখ ৫ সেপ্টেম্বর ১৯৪৬ সাল, ১৯৯১ সালে প্রধানমন্ত্রী থাকাকালে একটি দৈনিকে তার জীবনী নিয়ে প্রকাশিত প্রতিবেদনে ১৯ আগস্ট ১৯৪৫ সাল, বিবাহের কাবিননামায় ৪ আগস্ট ১৯৪৪ সাল ও ২০০১ সালে মেশিন রিডেবল পার্সপোর্ট অনুযায়ী তার জন্মদিন ৫ আগস্ট ১৯৪৬ সাল বলে উল্লেখ করা হয়।মামলায় আরও বলা হয়, বিভিন্ন মাধ্যমে তার ৪টি জন্মদিন পাওয়া গেলেও ১৫ আগস্ট খালেদা জিয়ার জন্মদিন মর্মে কোনো তথ্যপ্রমাণ পাওয়া যায়নি। তিনি ৪টি জন্মদিনের একটিও পালন না করে ১৯৯৬ সাল থেকে ১৫ আগস্ট জাতির জনক বঙ্গবন্ধুর শাহাদাত বার্ষিকী তথা জাতীয় শোক দিবসে ঘটা করে জন্মদিন পালন করছেন।
বাংলাদেশের আপত্তি সত্ত্বেও দিল্লি যাচ্ছেন খালেদার আইনজীবী
অনলাইন ডেস্ক: বাংলাদেশ সরকারের তীব্র আপত্তি সত্ত্বেও দিল্লিতে বিএনপি নেত্রী খালেদা জিয়ার বৃটিশ আইনজীবী লর্ড কার্লাইলের পূর্ব নির্ধারিত কর্মসূচি পুরোপুরি বাতিল হচ্ছে না। দিল্লির ফরেন করেসপন্ডেন্টস ক্লাব তার শুক্রবারের নির্ধারিত সংবাদ সম্মেলন বাতিল করে দিলেও তার একদিন আগেই তিনি দিল্লিতে অন্য কোনো জায়গায় সংবাদমাধ্যমের সঙ্গে মিলিত হবেন বলে বৃটিশ আইনজীবী লর্ড কার্লাইল বিবিসিকে জানিয়েছেন। বাংলাদেশে কারাবন্দি বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে মামলাটি কেন ‘সাজানো’ ও ‘রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপূর্ণ’, সেটাই তার ওই সংবাদ সম্মেলনে ব্যাখ্যা করার কথা। তবে লর্ড কার্লাইল যদি ভারতের মাটিকে ব্যবহার করে বাংলাদেশ সরকারের বিরুদ্ধে কোনো রাজনৈতিক ক্যাম্পেইন চালান- ঢাকা সেটা আদৌ পছন্দ করবে না বলে ইতিমধ্যেই দিল্লিকে জানানো হয়েছে। নির্ভরযোগ্য একাধিক সূত্রে জানা গেছে, লর্ড কার্লাইল দিল্লিতে আসছেন এ খবর জানাজানি হওয়ার পরই ভারতে অবস্থিত বাংলাদেশ হাইকমিশন ভারতের কাছে তাদের আপত্তির কথা জানিয়েছে। এমনকি, দু-তিনদিন আগেই প্রধানমন্ত্রী হাসিনার রাজনৈতিক উপদেষ্টা এইচ টি ইমাম ভারত সফরে এসে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী এম জে আকবর এবং রাম মাধবের মতো বিজেপির শীর্ষ নেতাদের সাক্ষাতের সময় প্রসঙ্গটি উঠিয়েছেন। লর্ড কার্লাইলকে ভারতে এসে সংবাদ সম্মেলন করতে দেয়ার বিরুদ্ধে আপত্তি সম্পর্কে ঢাকার পক্ষ থেকে যে যুক্তি দেয়া হয়েছে সেটি এরকম- লর্ড কার্লাইল খালেদা জিয়ার হয়ে মামলায় লড়তে আর্থিকভাবে চুক্তিবদ্ধ। ফলে দিল্লিতে তিনি যেসব কথা বলতে আসছেন সেগুলো একটা ‘পেইড রাজনৈতিক ক্যাম্পেনে’র অংশ- যার নিশানা হলো বাংলাদেশ সরকার। ঢাকার পক্ষ থেকে এমন কথাও বলা হয়েছে যে এখন বাংলাদেশ যেভাবে তাদের ভূখ-কে ভারতবিরোধী কার্যকলাপের জন্য ব্যবহৃত হতে দেয় না, সেভাবে ভারতেরও উচিত নয় দিল্লির মাটিকে বাংলাদেশবিরোধী প্রচারের জন্য ব্যবহৃত হতে দেয়া। বাংলাদেশের একটি শীর্ষ কূটনৈতিক সূত্র বিবিসি বাংলাকে এমনও বলেছেন,“লর্ড কার্লাইল ভারতে এসে তাজমহল বেড়াতে যান, ইন্ডিয়া গেটে হাওয়া খান- আমাদের কিছুই বলার নেই। কিন্তু দিল্লি সফরকে তিনি যদি বাংলাদেশের বিরুদ্ধে প্রচারে কাজে লাগান- তাও আবার পয়সা নিয়ে- সেটা মোটেই ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্কে কোনো ভালো সংকেত দেবে না।” লর্ড কার্লাইল চেয়েছিলেন ১৩ই জুলাই দিল্লির ফরেন করেসপন্ডেন্টস ক্লাব বা এফসিসি-তে তিনি মিডিয়ার মুখোমুখি হবেন এবং সেভাবে ওই ক্লাবের মিলনায়তনটি প্রাথমিকভাবে বুকিংও করে রেখেছিলেন। কিন্তু ওই একই দিনে দক্ষিণ কোরিয়ার রাষ্ট্রদূতও ক্লাবে আসছেন, এই যুক্তিতে শেষ মুহূর্তে এফসিসি তার বুকিং বাতিল করে দিয়েছে। ফলে লর্ড কার্লাইল এখন দিল্লিতেই অন্য কোনো জায়গায় সংবাদ সম্মেলন করতে বাধ্য হচ্ছেন- আর তার দিনটাও একদিন এগিয়ে এনে ১২ই জুলাই বৃহস্পতিবার করা হয়েছে। তবে গত রাতে তিনি বিবিসিকে হোয়াটসঅ্যাপে জানিয়েছেন, তার দিল্লি সফর মোটেও বাতিল হচ্ছে না- এবং খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে যে মামলা নিয়ে তিনি কথা বলতে চান, সেটাও দিল্লিতে অবশ্যই বলবেন। কিন্তু বৃহস্পতিবার কোথায়, কটার সময় তিনি মিডিয়ার মুখোমুখি হবেন- সেগুলো এখনও প্রকাশ করা হয়নি, যাতে এফসিসি-র মতো তারাও না শেষ মুহূর্তে কোনো কারণে বেঁকে বসে। গত সোমবার লর্ড কার্লাইল বিবিসিকে বলেন, তার ভারতীয় ভিসা হয়ে গেছে। আসলে বৃটিশ নাগরিকরা এখন ভারতে যাওয়ার জন্য সফরের অনেক আগেই ই-ভিসা বা ইলেকট্রনিক ভিসার আবেদন করে রাখতে পারেন, আর সচরাচর তা মঞ্জুরও হয়ে যায় খুব তাড়াতাড়ি। ফলে ধারণা করা হচ্ছে, লর্ড কার্লাইলের ভিসার অবেদনেও ভারতের সিলমোহর পড়ে গেছে অনেক আগেই। আর একজন প্রবীণ বৃটিশ লর্ড ও বিখ্যাত আইনজীবীর ভিসা বাতিলের যুক্তি খাড়া করাও ভারত সরকারের জন্য মুশকিল। দিল্লির সরকারি সূত্রে জানা গেছে, এই কারণেই বাংলাদেশ সরকারের স্পষ্ট আপত্তি সত্ত্বেও দিল্লি কিন্তু লর্ড কার্লাইলের ভারত সফর বাতিল করতে পারছে না। কিন্তু সরকারি মহলের প্রভাব খাটিয়ে দিল্লিতে তার কর্মসূচিতে বাধা তৈরি করার চেষ্টা একটা আছে, সেই ইঙ্গিত রয়েছে।সূত্র: ওয়ান নিউজ বিডি
জয়ের মিশনে আওয়ামী লীগ
অনলাইন ডেস্ক: রাজশাহী, সিলেট ও বরিশাল সিটিতে মঙ্গলবার থেকে নির্বাচনী প্রচারণা শুরু হয়েছে। আগামী ৩০ জুলাই এ তিন সিটিতে প্রথমবারের মতো অনুষ্ঠিত হবে দলীয় প্রতীকে ভোট। তিন সিটিতেই মূল প্রতিদ্বন্দ্বিতা হবে নৌকা ও ধানের শীষের প্রার্থীদের মধ্যে। খুলনা ও গাজীপুরের মতো এ তিন সিটিতেও জয় চায় ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ। কেন্দ্রীয় ও স্থানীয়ভাবে নির্বাচন পরিচালনার জন্য আলাদা টিম গঠন করা হয়েছে। খুলনার পর গাজীপুরেও বড় ব্যবধানে জয় পাওয়া আওয়ামী লীগের নজর এখন বাকি তিন সিটি করপোরেশন নির্বাচনে। রাজশাহীতে আওয়ামী লীগের প্রার্থী মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি ও সাবেক মেয়র এ এইচ এম খায়রুজ্জামান লিটন, সিলেটে মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি ও সাবেক মেয়র বদর উদ্দিন আহমদ কামরান। বরিশালে দলীয় প্রার্থী আবুল হাসানাত আবদুল্লাহর পুত্র মহানগর আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সাদিক সেরনিয়াবাত আবদুল্লাহ। রাজশাহীতে লিটনকে ১৪ দল সমর্থন দিয়েছে। সিলেটে আওয়ামী লীগের একক প্রার্থী থাকলেও বিএনপি প্রার্থীর সামনে চ্যালেঞ্জ দলীয় বিদ্রোহী প্রার্থী এবং জোটের শরিক জামায়াতের প্রার্থী। বরিশালে আওয়ামী লীগ ঐক্যবদ্ধ। আর প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীর দল বিএনপিতে অভ্যন্তরীণ সংকট। ফলে বাড়তি সুবিধা দেখছে আওয়ামী লীগ। দলের দায়িত্বশীল নেতারা মনে করছেন, এই তিন সিটি নির্বাচনে বিগত দিনে যে ভুলত্রুটি ছিল তা শুধরে নেওয়া হয়েছে। এ জন্য প্রথমেই জোর দেওয়া হয়েছে দলীয় ঐক্যের ওপর। এ ছাড়া এই তিন সিটিতে আওয়ামী লীগের একক প্রার্থী। অন্যদিকে বিএনপির বিদ্রোহী প্রার্থী ছাড়াও রয়েছে জোটের প্রার্থী। ফলে সুবিধাজনক অবস্থানে আওয়ামী লীগের প্রার্থীরা। ইতিমধ্যে তিন সিটিতে জয়ের লক্ষ্যে নানা কর্মকৌশল প্রণয়ন করেছেন দলটির নীতিনির্ধারকরা। এরই অংশ হিসেবে দলটির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদকের নেতৃত্বে গঠিত তিনটি পৃথক সাংগঠনিক টিম গঠন করা হয়েছে। স্থানীয়ভাবেও গঠন করা হয়েছে পৃথক নির্বাচনী টিম। আজ থেকে কেন্দ্রীয় নেতারা সিটি এলাকাগুলোয় নির্বাচনী প্রচার শুরু করছেন। এ ছাড়া যুবলীগ, ছাত্রলীগ, কৃষক লীগ, মহিলা লীগ ও যুব মহিলা লীগ পৃথকভাবে টিম গঠন করে নির্বাচনী প্রচারণায় নামছে। জানা গেছে, রাজশাহীতে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় টিমের নেতৃত্বে রয়েছেন বিভাগীয় যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর কবির নানক। সমন্বয়কের দায়িত্ব পালন করছেন বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক খালিদ মাহমুদ চৌধুরী। এ প্রসঙ্গে আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর কবির নানক বলেন, ‘দলীয় ঐক্য এবং সরকারের ধারাবাহিক উন্নয়নের ফলেই নৌকার প্রার্থী বিজয়ী হবে। দেশের মানুষ এখন উন্নয়নে বিশ্বাস করে। বিগত সময়ে এসব সিটিতে যারা নির্বাচিত হয়েছিলেন, তারা কোনো উন্নয়ন করতে পারেননি। তারা জনগণের সঙ্গে প্রতারণা করেছেন। এখন মানুষ অনেক সচেতন।’ স্থানীয়ভাবে নির্বাচনী সমন্বয় করছেন মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ডাবলু সরকার। সিলেট সিটি নির্বাচনে দায়িত্বে রয়েছেন আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুব-উল আলম হানিফ। সমন্বয়কের দায়িত্বে রয়েছেন বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক আহমদ হোসেন। তারা একাধিকবার বিভাগীয় নেতা-কর্মীদের নিয়ে বৈঠক করেছেন। নির্বাচনে জয় নিশ্চিতে নানা কর্মপরিকল্পনাসহ কেন্দ্রের নির্দেশ স্থানীয় নেতাদের কাছে পৌঁছে দেন। দলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুব-উল আলম হানিফ আওয়ামী লীগের মেয়র প্রার্থী বদর উদ্দিন আহমদ কামরানের বিজয় নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি বলেন, ‘এই নির্বাচনে আমাদের শঙ্কার কোনো কারণ নেই। গতবার দলে কিছু অনৈক্য ছিল। এবার আওয়ামী লীগ ঐক্যবদ্ধ।’ বদর উদ্দিন আহমদ কামরানের নির্বাচন পরিচালনা কমিটির আহ্বায়ক করা হয়েছে জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক শফিকুর রহমান চৌধুরীকে। কমিটির সদস্য সচিব মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আসাদ উদ্দিন আহমদ। বরিশাল সিটি নির্বাচনকে সামনে রেখে স্থানীয় নেতাদের নিয়ে বৈঠক করেছেন বিভাগীয় দায়িত্বপ্রাপ্ত যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আবদুর রহমান ও সাংগঠনিক সম্পাদক বাহাউদ্দিন নাছিম। স্থানীয় নেতাদের নিয়ে কেন্দ্রীয় এই টিম সিটির বাইরে গিয়ে নেতাদের নিয়ে বৈঠক করে নির্বাচনী নানা নির্দেশনা দিয়েছেন। কয়েক দিন ধরে বরিশালের সব পর্যায়ের নেতাদের সঙ্গে ধারাবাহিক বৈঠক করছেন আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় সদস্য গোলাম রাব্বানী চিনু। তিনি জানিয়েছেন, স্থানীয়ভাবে তিনটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। বরিশাল বিভাগের দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতা আবদুর রহমান জানিয়েছেন, প্রধানমন্ত্রীর উন্নয়নে আস্থা রেখে সারা দেশের মতো বরিশালের মানুষও নৌকায় ভোট দেবে।সূত্র: বাংলাদেশ প্রতিদিন
সিলেট সিটি নির্বাচনে প্রতীক পেয়েই প্রচারণায় প্রার্থীরা
অনলাইন ডেস্ক: সিলেট সিটি কর্পোরেশন (সিসিক) নির্বাচনে সাত মেয়রসহ প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীদের প্রতীক বরাদ্দ দেয়া হয়েছে। উৎসবমুখর পরিবেশে মঙ্গলবার সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত সিসিক নির্বাচনের রিটার্নিং কর্মকর্তা ও সিলেটের আঞ্চলিক নির্বাচন কর্মকর্তা মো. আলীমুজ্জামান প্রার্থীদের মাঝে প্রতীক বরাদ্দ দেন। মেয়র পদে আওয়ামী লীগের একক প্রার্থী বদর উদ্দিন আহমদ কামরানকে ‘নৌকা’, বিএনপি মনোনীত আরিফুল হক চৌধুরীকে ‘ধানের শীষ’, ইসলামী আন্দোলনের ডা. মোয়াজ্জেম হোসেন খানকে ‘হাত পাখা’ এবং সিপিবি-বাসদ মনোনীত আবু জাফরকে দলীয় প্রতীক মই ছাড়াও আরো তিন স্বতন্ত্র প্রার্থীকে প্রতীক বরাদ্দ দেয়া হয়। স্বতন্ত্র প্রার্থীদের মধ্যে নাগরিক ফোরাম মনোনীত প্রার্থী মহানগর জামায়াতের আমির এহসানুল মাহবুব জুবায়ের ‘টেবিল ঘড়ি’, বিএনপির বিদ্রোহী ও নাগরিক কমিটির প্রার্থী মহানগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক বদরুজ্জামান সেলিম ‘বাস গাড়ি’ এবং সিলেট কল্যাণ সংস্থার প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি এহসানুল হক তাহের ‘হরিণ’ প্রতীক বরাদ্দ পেয়েছেন। এছাড়া সিসিকে ২৭টি সাধারণ ওয়ার্ডের কাউন্সিলর পদে ১২৭ এবং ৯টি সংরক্ষিত ওয়ার্ডের কাউন্সিলর পদে ৬২ জনকেও প্রতীক বরাদ্দ দেয়া হয়েছে। নির্বাচন কমিশন থেকে প্রতীক পাওয়ার পরপরই জোর প্রচারণায় নেমেছেন প্রার্থীরা। দুপুরের পর থেকে অনেক প্রার্থীর পক্ষে নগরীতে মাইকিংও শুরু হয়েছে। বদর উদ্দিন আহমদ কামরান এবং আরিফুল হক চৌধুরীর ব্যানারেও ছেয়ে গেছে সিলেট নগরী। এর মধ্য দিয়ে প্রথমবারের মতো দলীয় প্রতীক ও মনোনয়নে আগামী ৩০ জুলাই অনুষ্ঠেয় সিলেট সিটি নির্বাচনের আনুষ্ঠানিক প্রচারণা শুরু হলো। এদিকে, সকালে সিসিক নির্বাচনের রিটার্নিং কর্মকর্তা মো. আলীমুজ্জামানের হাত থেকে প্রতীক বরাদ্দ পেয়েই দলীয় নেতা-কর্মীদের নিয়ে সকাল সাড়ে ১০টায় হযরত শাহজালাল (রহ.) মাজার জিয়ারতে যান আওয়ামী লীগের প্রার্থী বদর উদ্দিন আহমদ কামরান। বেলা সাড়ে ১১টায় বিএনপির প্রার্থী আরিফুল হক চৌধুরী মাজার জিয়ারতে যান। মাজার জিয়ারত শেষে তারা দুজনেই দরগাহ মহল্লা এলাকায় আনুষ্ঠানিক গণসংযোগ শুরু করেন। এ সময় তাদের পক্ষে লিফলেট বিতরণ করা হয়েছে। দুই প্রার্থীই নির্বাচনে জয়ের ব্যাপারে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন। আওয়ামী লীগের বদর উদ্দিন আহমদ কামরান বলেন, ‘সিলেট হচ্ছে আধ্যাত্মিক নগর। এ নগরে রাজনৈতিক সম্প্রীতি ও ঐক্যের বন্ধন রয়েছে। এবার সিলেটের মানুষ নৌকার পক্ষে গণজোয়ার তুলেছেন। এজন্য আগামী ৩০ জুলাই নির্বাচনে তারা উন্নয়নের প্রতীক হিসেবে নৌকার বিজয় নিশ্চিত করবেন বলে আশাবাদী।’ উন্নয়নের ধারা অব্যাহত রাখতে ধানের শীষ প্রতীকে ভোট দিয়ে ফের তাকে নির্বাচিত করতে নগরবাসীর সহযোগিতা চেয়েছেন বিএনপির মেয়র প্রার্থী সদ্য সাবেক মেয়র আরিফুল হক চৌধুরী। তিনি সংবাদমাধ্যমের সাথে আলাপকালে এ সহযোগিতা চান। নির্বাচন নিরপেক্ষ হলে ধানের শীষের বিজয় নিশ্চিত বলেও উল্লেখ করেন তিনি। অন্যদিকে, শাহজালাল (রহ.) মাজার জিয়ারতের মাধ্যমে গণসংযোগ শুরু করেছেন বিএনপির বিদ্রোহী মহানগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক বদরুজ্জামান সেলিম। এ সময় তিনি নগরের উন্নয়নের জন্য তার প্রতীক 'বাস গাড়ি' মার্কায় ভোট চান। এছাড়া, জামায়াত প্রার্থী এহসানুল মাহবুব জুবায়েরও আনুষ্ঠানিক নির্বাচনী প্রচারণা শুরু করেছেন। এছাড়া ইসলামী আন্দোলন মনোনীত ডা. মোয়াজ্জেম হোসেন খান দরগাহ মসজিদে জোহরের নামাজ শেষে আনুষ্ঠানিক গণসংযোগ শুরু করেছেন বলে দলীয় সূত্র জানিয়েছে।