ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছেন বিএনপি নেতারা
জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট মামলায় খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে শাস্তির রায় ঘোষণা হলে সঙ্গে সঙ্গে আন্দোলন কর্মসূচী পালন শুরু করবে বিএনপি। হরতাল-অবরোধসহ লাগাতার আন্দোলন শুরুর সিদ্ধান্ত নিয়ে রাখলেও কৌশলগত কারণে আগাম ঘোষণা দেয়া হচ্ছে না। তবে রায় ঘোষণার সঙ্গে সঙ্গেই এ রায়ের প্রতি অনাস্থা প্রকাশের পাশাপাশি এ কর্মসূচী ঘোষণার প্রস্তুতি নিয়ে রাখা হয়েছে। জোরদার আন্দোলন কর্মসূচী পালনের মধ্য দিয়ে সরকার পতনের চেষ্টা করবে দলটি। ইতোমধ্যেই বিএনপি চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়া দলের সিনিয়র নেতাদের এমন নির্দেশনা দিয়ে রেখেছেন। জানা যায়, সর্বশেষ বিএনপির নীতিনির্ধারণী ফোরাম স্থায়ী কমিটির বৈঠকেও খালেদা জিয়ার মামলা ও পরবর্তী করণীয় নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। এ সময় খালেদা জিয়াকে জেলে পাঠানো হলে কঠোর আন্দোলনে নামার পাশাপাশি তাকে (খালেদা জিয়াকে) ছাড়া একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে না যাওয়ার পক্ষে সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। আর আন্দোলনে সারাদেশের সর্বস্তরের নেতাকর্মীকে সম্পৃক্ত করার লক্ষ্যে রায় ঘোষণার আগেই খালেদা জিয়া জোটের শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে ম বিনিময়ের পাশাপাশি বিএনপি ও এর বিভিন্ন অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করার সিদ্ধান্ত নেন। আন্দোলনের পূর্বপ্রস্তুতির অংশ হিসেবে ইতোমধ্যেই ২০ দলীয় জোটের শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করেছেন বিএনপি চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়া। এর পর তিনি দলের ভাইস চেয়ারম্যান, উপদেষ্টা পরিষদ, যুগ্ম মহাসচিব, সাংগঠনিক সম্পাদক ও ঢাকা মহানগর, আশপাশের জেলা নেতা ও অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাদের সঙ্গে পৃথক পৃথক বৈঠক করবেন। এ ছাড়া তিনি জাতীয় নির্বাহী কমিটির নেতাদের সঙ্গেও বৈঠক করবেন এবং আন্দোলন কর্মসূচীর কৌশল নিয়ে তাদের সঙ্গে মতবিনিময় করবেন। শনিবার রাতে বিএনপির স্থায়ী কমিটির বৈঠক শেষে দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে বলেন, আন্দোলন কর্মসূচী নিয়ে আলোচনা হলেও এখনই তা বলা যাবে না। আমরা আশঙ্কা করছি, খালেদা জিয়াকে নির্বাচনের বাইরে রাখতে তাকে জেলে পাঠানো হতে পারে। তবে মামলার রায় কি হয় আমরা আগে তা দেখতে চাই। তাই খালেদা জিয়ার মামলার রায় ঘোষণার পর আন্দোলন কর্মসূচী ঘোষণা করা হবে। আর কর্মসূচী ঘোষণার সঙ্গে সঙ্গে এবার সারাদেশের সর্বস্তরের নেতাকর্মীরা রাজপথে নেমে আসবে। জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট মামলার রায়ে খালেদা জিয়ার জেল হলে দল কিভাবে চলবে এ নিয়ে বিএনপির স্থায়ী কমিটির বৈঠকে আলোচনা হয়েছে। তবে স্থায়ী কমিটির সদস্যদের পক্ষ থেকে কেউ কেউ তারেক রহমান অথবা তার স্ত্রী ডাঃ জোবাইদা রহমানকে খালেদা জিয়ার অনুপস্থিতিতে বিএনপির চেয়ারম্যানের দায়িত্ব দেয়া যায় কিনা প্রস্তাব করলেও খালেদা জিয়া এতে সায় দেননি বলে জানা যায়। খালেদা জিয়া এ প্রসঙ্গে বৈঠকে বলেছেন, যদি আদালতে আমার বিরুদ্ধে মামলায় কোন নেতিবাচক রায় আসে এবং শেষ পর্যন্ত আমাকে জেলে যেতে হয় তাহলে ড. মোশাররফ ও ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদসহ দলে যারা সিনিয়র আছেন তাদের সহযোগিতা নিয়ে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে। কোন অবস্থায় যেন দলে বিশৃঙ্খলা না হয়। দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে দলের সর্বস্তরের নেতাকর্মীর সঙ্গে সমন্বয় করার কথাও বলেন খালেদা জিয়া। স্থায়ী কমিটির বৈঠকে সম্প্রতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর সম্পর্কে সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভীর নেতিবাচক সমালোচনা প্রসঙ্গে স্থায়ী কমিটির এক সদস্য খালেদা জিয়ার দৃষ্টি আকর্ষণ করলে তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেছেন, কেন রিজভী দলের মহাসচিব সম্পর্কে নেতিবাচক কথা বলবে। ভবিষ্যতে এমনটি যেন আর না হয়। দলের মধ্যে সবাইকে শৃঙ্খলা মেনে চলতে হবে। কেউ শৃঙ্খলা ভাঙ্গার চেষ্টা করলে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেয়া হবে। মামলার রায়ের কারণে জেলে যেতে হলে বিভিন্ন মহল থেকে দল ভাঙ্গার চেষ্টা হতে পারে আশঙ্কা করে খালেদা জিয়া সবাইকে সতর্ক থাকারও নির্দেশ দেন। এদিকে বিএনপি চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়াকে মামলার শাস্তি থেকে রক্ষা এবং একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন যেন সুষ্ঠু হয় সে লক্ষ্য সামনে রেখে আবারও কূটনীতিক তৎপরতা জোরদার করছে বিএনপি। এরই অংশ হিসেবে মঙ্গলবার বিকেলে বিএনপি চেয়ারপার্সনের রাজনৈতিক কার্যালয়ে ঢাকায় কর্মরত বিভিন্ন দেশের কূটনীতিকদের সঙ্গে বৈঠকের কথা রয়েছে বিএনপির। বৈঠকে প্রায় ১০০ দেশের কূটনীতিক এবং ২০টি বিদেশী সংস্থা ও প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। এ বৈঠকে খালেদা জিয়াসহ দলের নেতাকর্মীদের মামলা, একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনসহ সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা হবে বলে জানা গেছে। বৈঠকে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরসহ দলের সিনিয়র নেতারা উপস্থিত থেকে বিদেশী কূটনীতিকদের কাছে সার্বিক পরিস্থিতি তুলে ধরবেন। একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে ইতোমধ্যেই বিএনপির কূটনৈতিক সেল গঠন করা হয়েছে। এ সেলে কাজ করছেন দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, ড. আব্দুল মঈন খান, দলের ভাইস চেয়ারম্যান ইনাম আহমেদ চৌধুরী, চেয়ারপার্সনের উপদেষ্টা রিয়াজ রহমান, সাবিহ উদ্দিন আহমেদ, বিশেষ সম্পাদক ড. আসাদুজ্জামান রিপন, আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাাদক মাসুদ আহমেদ তালুকদার, সাংগঠনিক সম্পাদক শামা ওবায়েদ, সহআন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক এ্যাডভোকেট ফাহিমা নাসরীন মুন্নী, ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানাসহ অনেকে। উল্লেখ্য, ৮ ফেব্রুয়ারি জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট মামলায় খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে রায় হওয়ার তারিখ নির্ধারিত। বিশেষ কোন কারণ না থাকলে ওইদিনই রায় হবে। ইতোমধ্যেই বিভিন্ন মহল থেকে আশঙ্কা করা হচ্ছে, এ মামলায় খালেদা জিয়ার শাস্তি হলে জেলে পাঠানো হতে পারে। আর এ আশঙ্কার কারণে বিএনপিও নড়েচড়ে বসেছে। খালেদা জিয়া জেলে গেলে কি করতে হবে এমন প্রস্তুতি নিয়েও দলের সর্বস্তরের নেতারা এখন ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছে। শনিবার রাত ৯টা থেকে ১২ টা পর্যন্ত গুলশান কার্যালয়ে স্থায়ী কমিটির সদস্যদের নিয়ে বৈঠক করেন খালেদা জিয়া। জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট মামলার রায় খালেদা জিয়ার বিপক্ষে যাবে এমনটা ধরে নিয়েও বৈঠকে আলোচনা হয়। একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে খালেদা জিয়া জেলে গেলে পরবর্তী করণীয় কি হবে এ নিয়েই আলোচনা হয়। এ সময় খালেদা জিয়া নিজেও সিনিয়র নেতাদের কিছু গুরুত্বপূর্ণ পরামর্শ দেন। বিএনপির স্থায়ী কমিটির বৈঠকে অধিকাংশ নেতা খালেদা জিয়াকে জেলে পাঠানো হলে হরতাল ও অবরোধসহ কঠোর আন্দোলনের পক্ষে অবস্থান নেন। আর খালেদা জিয়াও আন্দোলনের পক্ষে সায় দেন। তবে তিনি এও বলেন, ২০১৩ ও ২০১৪ সালের আন্দোলন কেন ব্যর্থ হলো সেখান থেকে শিক্ষা না নিলে আন্দোলন সফল করা যাবে না। তাই তিনি আন্দোলন কর্মসূচীর আগে ২০ দলীয় জোটের শীর্ষ নেতা ও বিএনপির সর্বস্তরের নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করার কথা জানান। সর্বস্তরের নেতাকর্মীদের উদ্বুদ্ধ করে আন্দোলনের মাঠে নামলে তা সফল হবে বলেও তিনি জানান। খোঁজ নিয়ে জানা যায়, খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট মামলার রায়ের তারিখ ঘোষণার পর থেকেই বিএনপি নেতাকর্মীর মধ্যে এক ধরনের চাপা ক্ষোভ বিরাজ করছে। দলের বিভিন্ন স্তর থেকে রাজপথে আন্দোলনে নামার দাবিও উঠছে। তবে আন্দোলন শুরু হলে সরকার কঠোর হস্তে তা দমনের চেষ্টা করবে এমন ভাবনা থেকেই দলীয় হাইকমান্ড আন্দোলনে নামার আগে নানামুখী কৌশল ঠিক করে নিচ্ছেন। তবে রায়ের তারিখ ঘোষণার পর বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতারা সতর্ক অবস্থানে রয়েছেন। রায় ও আন্দোলনের আগে গ্রেফতার হতে পারেন এমন আশঙ্কা থেকে কেউ কেউ আবাসস্থলও পরিবর্তন করেছেন। দলের বিভিন্ন স্তরের নেতারা দফায় দফায় বিভিন্ন জায়গায় নিজেদের মধ্যে বৈঠকও করছেন। এ ছাড়া কেন্দ্র থেকে জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের নেতাদের কাছে আন্দোলনের প্রস্তুতি নেয়ার নির্দেশনা পাঠানো হয়েছে বলেও সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে। অপরদিকে খালেদা জিয়ার মামলার রায়কে কেন্দ্র করে বিএনপি রাজপথে আন্দোলনে নামলে সরকারী দল আওয়ামী লীগও পাল্টা কর্মসূচী নিয়ে মাঠে নামবে। এ ছাড়া সরকার আইনশৃঙ্খলা বাহিনী দিয়ে কঠোর হস্তে তা দমনের চেষ্টা করবে এসব কিছু মাথায় রেখেই বিএনপিকে আন্দোলনের ছক সাজাতে হচ্ছে। এ নিয়ে দলের এক কেন্দ্রীয় নেতা জানান, আগের আন্দোলনের ব্যর্থতা ও এবার কি হতে পারে সব সম্ভাবনা সামনে রেখেই কর্মসূচী ঠিক করা হচ্ছে। বিএনপিকে আর চুপ থাকলে হবে না। আন্দোলন করেই অধিকার আদায় করে নিতে হবে। সরকারই বিএনপিকে আন্দোলনে যেতে বাধ্য করছে। এ বিষয়ে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন বলেন, খালেদা জিয়াকে জেলে পাঠানোর রায় দেয়া হলে সঙ্গে সঙ্গে কঠোর আন্দোলন শুরু হবে। এবার আন্দোলন শুরু হলে সরকারের পতন না ঘটিয়ে আমরা ঘরে ফিরব না। আর এবার আমরা খালেদা জিয়ার মুক্তি দাবি করব না। কারণ, এ সরকারের কাছে মুক্তি দাবি করে লাভ হবে না। সরকারের পতন ঘটিয়ে আমরা নিরপেক্ষ সরকারের দাবি আদায় করে খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে নির্বাচনে যাব। জনগণের রায় নিয়ে আবারও আমরা ক্ষমতায় যাব। বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায় বলেন, জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট মামলায় খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে শাস্তির রায় হলে দুর্বার আন্দোলন শুরু হবে। আর এ আন্দোলনে সরকার পতনের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করা হবে। দলের সর্বস্তরের নেতাকর্মী আন্দোলনের প্রস্তুতি নিচ্ছে। রায় ঘোষণার সঙ্গে সঙ্গেই সারাদেশে আন্দোলন শুরু হবে। বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, এত তাড়াতাড়ি খালেদা জিয়ার মামলার রায় ঘোষণার তারিখ নির্ধারণ নিয়ে জনমনে আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। অন্যায়ভাবে খালেদা জিয়াকে শাস্তি দেয়া হলে বা জেলে নেয়া হলে বিএনপি নেতাকর্মীরা ঘরে বসে থাকবে না। রাজপথে কঠোর আন্দোলন শুরু করা হবে। আর এ আন্দোলনেই বর্তমান সরকারের পতন ঘটবে। বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান আবদুল্লাহ আল নোমান বলেন, খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে নেতিবাচক রায় দিলে সারাদেশে গণআন্দোলন শুরু হবে। আর এর দায় বর্তমান সরকারকেই নিতে হবে। দেশে এমন আন্দোলন শুরু হবে যে স্বৈরাচারী এরশাদ সরকারের মতো বর্তমান সরকারকেও ক্ষমতা থেকে বিদায় নিতে হবে। এর পর সরকারী দলের লোকেরা পালানোর পথও পাবে না।
বিএনপির সিনিয়র নেতাদের স্বেচ্ছায় কারাবরণ
জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট মামলায় বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে জেলে পাঠালে দলের সিনিয়র নেতারা স্বেচ্ছায় কারাবরণ করবেন। রোববার বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন এ ঘোষণা দিয়েছেন। এ ছাড়া খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে অন্যায়ভাবে রায় হলে সরকার পতনের আন্দোলন শুরু হবে বলেও হুমকি দেন তিনি। উল্লেখ্য, আগামী ৮ ফেব্রুয়ারি জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট মামলার রায় ঘোষণা করবে ঢাকার পঞ্চম জজ আদালত। দুই কোটি ১০ লাখ টাকা আত্মসাতের এ মামলার প্রধান আসামি খালেদা জিয়া ছাড়া এ মামলার অন্য আসামিরা হলেন- বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমান, মাগুরার সাবেক সংসদ সদস্য (এমপি) কাজী সালিমুল হক কামাল, ব্যবসায়ী শরফুদ্দিন আহমেদ, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সাবেক সচিব কামাল উদ্দিন সিদ্দিকী ও সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ভাগনে মমিনুর রহমান। অভিযোগ প্রমাণিত হলে এ মামলায় খালেদা জিয়ার সর্বোচ্চ যাবজ্জীবন কারাদণ্ড হতে পারে। সেক্ষেত্রে আগামী নির্বাচনে অংশ নেয়ার অযোগ্য হয়ে পড়বেন সাবেক এ প্রধানমন্ত্রী।
১৫ ফেব্রুয়ারি ৫ লাখ মানুষ জড়ো করার টার্গেট জাপার
আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে শক্তি পরীক্ষায় মাঠে নামছে বিরোধী দল জাতীয় পার্টি। এরি ধারাবাহিকতায় জাকজমকপূর্ণ মহাসমাবেশের জোর প্রস্তুতি নিচ্ছে দলটি। যদিও বলা হচ্ছে পার্টির ৩২তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে এই আয়োজন। আগামী ১৫ ফেব্রুয়ারি রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে এই মহাসমাবেশ অনুষ্ঠিত হবে। এতে ব্যয় ধরা হয়েছে পাঁচ কোটি টাকারও বেশি। দলের শীর্ষ নেতারা জানিয়েছেন, মহাসমাবেশে আগামী নির্বাচনে জাপার অবস্থান পরিষ্কার করবেন দলটির চেয়ারম্যান হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ। পাশাপাশি দলের সম্ভাব্য এমপি প্রার্থীদের নামও ঘোষণা করা হতে পারে। সব মিলিয়ে নির্বাচনের আগ মুহূর্তে বিরোধী দলের মহাসমাবেশকে কেন্দ্র করে চলছে রাজনৈতিক নানা হিসাব-নিকাশ। দলীয় সূত্রগুলো বলছে, আওয়ামী লীগসহ বিভিন্ন দলের নেতাদেরও সমাবেশে আমন্ত্রণ জানানো হবে। তবে এই তালিকায় বিএনপি-জামায়াতের নাম নেই। জাতীয় পার্টির একাধিক প্রেসিডিয়াম সদস্য ও সাংগঠনিক সম্পাদকদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, মহাসমাবেশে সফল করতে ইতোমধ্যে জেলা উপজেলায় আনুষ্ঠানিক চিঠি পাঠানো হয়েছে। এছাড়া কেন্দ্রীয়ভাবে সমন্বয় করতে আলাদা কমিটিও গঠন করা হয়েছে। রাজনৈতিক শক্তি জানান দেয়ার এই আয়োজনে যে কোন মূল্যে সফল হতে চায় জাপা। এর মধ্য দিয়ে রাজনৈতিক উদ্দেশ্য হাসিল করতে চায় দলটি। সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, মহাসমাবেশে কমপক্ষে পাঁচ লক্ষাধিক নেতাকর্মী সমর্থক ও সাধারণ মানুষের উপস্থিতি নিশ্চিত করতে চান এরশাদ। দলের চেয়ারম্যান নিজেই জানিয়েছেন এই খরচের কথা। সোমবার বনানী কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত এক যৌথ সভায় খরচের কথা জানান তিনি। তিনি বলেন, ১৫ ফেব্রুয়ারি সবচেয়ে বড় সমাবেশের আয়োজন হবে। বাজেট পাঁচ কোটি টাকা। এ বাজেট সংগ্রহ করতে হবে। দেখাতে হবে জনগণ আমাদের প্রতি আকৃষ্ট। দূর-দূরান্ত থেকে মানুষ আসবে। লঞ্চ, বাস ট্রেন ভাড়া করতে হবে। এজন্য দলের এমপি, প্রেসিডিয়ামের সদস্য, কেন্দ্রীয় ও জেলা নেতাদের পৃথক পৃথক চাঁদা নির্ধারণ করা হয়েছে। বিশেষ করে এমপিদের থেকে সমাবেশের বেশিরভাগ অর্থ সংগ্রহ করতে চায় দলটি। একাদশ জাতীয় নির্বাচনের আগে দলের অন্যান্য রাজনৈতিক দল, দেশের মানুষ ও বিদেশী বন্ধুদের কাছে নিজের শক্তি জানান দিতে এই মহাসমাবেশে জনতার ঢল নামাতে চান এরশাদ। এজন্য তিনি দলের সকল স্তরের কেন্দ্রীয় নেতাদের নির্দেশ দিয়েছেন সর্বশক্তি নিয়োগ করে সমাবেশ সফল করার জন্য। দলের বর্তমান এমপিদের পাশাপাশি আগামী নির্বাচনে যারা জাপার মনোনয়ন প্রত্যাশী তাদের সকলকেই নিজ নিজ নির্বাচনী আসন থেকে কমপক্ষে তিন হাজার নেতাকর্মী সমর্থক নিয়ে মহাসমাবেশে উপস্থিতি নিশ্চিত করার নির্দেশ দেয়া হয়েছে। আর দলের চেয়ারম্যানের এই নির্দেশ ইতোমধ্যে পার্টির মহাসচিব এবিএম রুহুল আমিন হাওলাদার এমপি মনোনয়ন প্রত্যাশী নেতাসহ সংশ্লিষ্টদের জানিয়ে দিয়েছেন। মহাসমাবেশ সফল করার জন্য ইতোমধ্যে দেশের সকল জেলা উপজেলার জাতীয় পার্টির নেতাকর্মীরা ব্যাপক প্রস্তুতি নিয়েছেন। পার্টির বিভিন্ন অঙ্গ সহযোগী সংগঠনের নেতাদের মধ্যে চলছে প্রস্তুতি। জাতীয় যুব সংহতি, জাতীয় ছাত্র সমাজ, জাতীয় কৃষক পার্টি ও জাতীয় স্বেচ্ছাসেবক পার্টি, জাতীয় শ্রমিক পার্টির কেন্দ্রীয় টিম মহাসমাবেশের প্রচার করার কাজে সারাদেশ সফর করছেন। জাতীয় পার্টির সিনিয়র নেতারাও বিভিন্ন জেলা উপজেলা সফর করে কর্মীসভা, বর্ধিত সভা ও সমাবেশ করছেন। দলীয় সূত্রে জানা গেছে, আগামী নির্বাচনের জন্য এরশাদ তিন রকম প্রস্তুতি নিয়েছেন। এরমধ্যে প্রথম হলো একক নির্বাচন। এরপর আওয়ামী লীগের সঙ্গে আবারও মহাজোট করে নির্বাচনে অংশ নেয়া ও তৃতীয় রাজনৈতিক শক্তির সঙ্গে নিজেদের যুক্ত করে ক্ষমতায় আসা। একক নির্বাচনের প্রয়োজনে ইতোমধ্যে দলের প্রার্থী বাছাই শেষ হয়েছে। আসন প্রতি প্রার্থী ঠিক করা হয়েছে তিনজন। এছাড়া মহাজোট করে নির্বাচন করলে ১০০ আসনের তালিকা দেয়া হয়েছে আওয়ামী লীগের হাতে। বিএনপি নির্বাচনে এলে আওয়ামী লীগকে সরাসরি সমর্থন দেবে জাপা। না এলে একক নির্বাচন করবে দলটি। তবে আসন ভাগাভাগি হবে আপোসের ভিত্তিতে। কোন কারণে আওয়ামী লীগের সঙ্গে বনাবনি না হলে তৃতীয় সারির রাজনৈতিক দল নিয়ে বৃহৎ রাজনৈতিক শক্তির উত্থান ঘটাতে চায় জাতীয় পার্টি। এই প্রক্রিয়া অব্যাহত রয়েছে। এর মধ্যে গণফোরাম, বিকল্পধারা, নাগরিক ঐক্য, কৃষক শ্রমিক জনতা লীগ, বাসদসহ আরও বেশ কয়েকটি রাজনৈতিক দল রয়েছে। এছাড়া এরশাদের নাম সর্বস্ব ৫৯ দলের জোট তো আছেই। সব মিলিয়ে রাজনৈতিক পরিস্থিতি সর্বশেষ সিদ্ধান্ত যাওয়ার পথ দেখাবে। তবে মহাসমাবেশে আওয়ামী লীগের কাছে নির্বাচনে নিজেদের চাওয়া পাওয়ার কথা তুলে ধরবেন এরশাদ। পাশাপাশি বিকল্প চিন্তা গুলোও খোলাসা করবেন তিনি। রাজনৈতিক সুবিধা নিশ্চিত করতেই এই কৌশলে আগাচ্ছেন সাবেক এই সেনা প্রধান। দলের মহাসচিব এবিএম রুহুল আমিন হাওলাদার বলেন, আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে এই মহাসমাবেশ দলের জন্য টার্নিং পয়েন্ট। সবাই দেখবে জাপার কর্মী আছে। সমর্থক আছে। তাই কোন দলই আমাদের ছোট করে দেখার সুযোগ পাবে না। সবাইকে গুরুত্বের সঙ্গে জাপাকে দেখতে হবে। আমরা নিজেদের প্রয়োজনে রাজনীতিতে গুরুত্ব বাড়াতে চাই। এর কোন বিকল্প নেই বলেও মনে করেন তিনি। দলের কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক মনিরুল ইসলাম মিলন বলেন, মহাসমাবেশকে কেন্দ্র করে দলের নেতাকর্মীদের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ উদ্দীপনার সৃষ্টি হয়েছে। আশা করি, আগামী নির্বাচন নিয়ে সমাবেশে গুরুত্বপূর্ণ দিক নির্দেশনা দেবেন দলের চেয়ারম্যান। সে অনুযায়ী নেতা-কর্মীরা সারাদেশে একযোগে কাজ করতে পারবেন। তাছাড়া রংপুর সিটি নির্বাচনের পর জাতীয় পার্টি এখন আগের চেয়ে অনেক বেশি শক্তিশালী। সমাবেশের প্রস্তুতি সম্পর্কে ঢাকা মহানগর দক্ষিণ জাতীয় পার্টির সাধারণ সম্পাদক জহিরুল আলম রুবেল বলেন, শ্যামপুর- কদমতলি থেকে পনের হাজার ও ঢাকা দক্ষিণের অন্যান্য থানা থেকে পনের হাজার নেতাকর্মী অংশ নেবে। আগামী ১ ফেব্রুয়ারি থেকে ১৪ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত বিরামহীনভাবে ঢাকা মহানগর দক্ষিণে সকল থানা ও ওয়ার্ডে ওয়ার্ডে পথ সভা, প্রচার মিছিল ও চারটি জনসভা হবে।
৩০০ আসনে পার্থী দিবেন বল্লেন এরশাদ
জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ বলেছেন, জাপার ৯ বছরে দেশের মানুষ শান্তিতে ছিল। সে সময় নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্রের দাম ছিল মানুষের নাগালের মধ্যে। আমার আমলে দেশের মানুষ খেয়ে-পরে স্বাচ্ছন্দে ছিল। নিরাপদে ছিল। তাই এবার আমরা ৩০০ আসনে প্রার্থী দেব এবং আগের চেয়ে অনেক ভালো করব। আর সে লক্ষ্য নিয়ে আমরা মাঠে কাজ করে যাচ্ছি। দলীয় নেতাকর্মীরাও মাঠে রয়েছেন। মঙ্গলবার তিন দিনের সফরে এসে রংপুর সার্কিট হাউসে এরশাদ সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন। এরশাদ বলেন, বিএনপি নির্বাচনে যাক বা না যাক আমরা নির্বাচনে যাব। বিএনপির আমলে আমাকে জেলে দিয়ে ধুকে ধুকে মারতে চেয়েছিল। কিন্তু রংপুরের মানুষের ভালোবাসায় আমি আবার নতুন জীবন পেয়েছি। আমাদের অবস্থান অনেক ভালো। দেশের মানুষ আবার জাতীয় পার্টিকে ক্ষমতায় দেখতে চায়। এ সময় উপস্থিত ছিলেন জাপার কেন্দ্রীয় সদস্য ও স্থানীয় সরকার পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মসিউর রহমান রাঙ্গা, রংপুর সিটি করপোরেশনের নবনির্বাচিত মেয়র মোস্তাফিজার রহমান মোস্তফা, মহানগর জাতীয় পার্টির সাধারণ সম্পাদক এস এম ইয়াছির এবং আবদুর রাজ্জাক প্রমুখ।
বিরোধী রাজনৈতিক দলের নেতাদের কারাগারে রেখে দেশে কোনো নির্বাচন হবে না - ফখরুল
বিরোধী রাজনৈতিক দলের নেতাদের কারাগারে রেখে দেশে কোনো নির্বাচন হবে না বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। আজ সোমবার দুপুর ১২টায় নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের নিচে বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমানের ৮২ তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে দুস্থদের মাঝে ত্রাণ বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে মির্জা ফখরুল এসব কথা বলেন। মির্জা ফখরুল বলেন, মিথ্যা মামলা দিয়ে বিরোধী রাজনৈতিক দলের নেতা-কর্মীদের কারাগারে রেখে দেশে কোনো নির্বাচন হবে না। মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার করতে হবে। নির্বাচনে সবার জন্য সমান সুযোগ লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড তৈরি করতে হবে। ফখরুল ইসলাম বলেন, বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে সপ্তাহে তিন থেকে চার দিন আদালতে যেতে হয়, আর প্রধানমন্ত্রী হেলিকপ্টারে চড়ে ভোট চেয়ে বেড়াচ্ছেন। এভাবে সুষ্ঠু নির্বাচন হতে পারে না। মির্জা ফখরুল বলেন, 'আমাদের কথা পরিষ্কার। বর্তমান রাজনৈতিক সংকট নিরসনে নির্বাচন চাই। তবে সেই নির্বাচন হতে হবে অতি দ্রুত ও নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে। যে নির্বাচনে দেশের মানুষ তার ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারে।' তিনি বলেন, 'আমাদের যে ভোটাধিকার কেড়ে নেওয়া হয়েছে তা ফিরিয়ে আনতে সবাইকে জেগে উঠতে হবে। সজাগ হতে হবে।' সরকারের উন্নয়ন কর্মসূচির সমালোচনা করে বিএনপির মহাসচিব ফখরুল বলেন, এই সরকার সবক্ষেত্রে ব্যর্থ। তাদের উন্নয়ন শুধু একটি গোষ্ঠীর জন্য। সে গোষ্ঠীর যারা ধনী, তারাই ধনী হচ্ছে। তাদের উন্নয়ন এমন যে, আজ ঢাকায় গাড়ি চলে না। ঘণ্টার পর ঘণ্টা পথেই বসে থাকতে হয়। নিজ দলের সহযোগী সংগঠনের প্রশংসা করে ফখরুল ইসলাম বলেন, প্রতিটি ক্ষেত্রে মহিলা দল এগিয়ে চলছে। মহিলা দলই একমাত্র সংগঠন, যারা শত প্রতিকূলতার মাঝেও প্রতিটি সাংগঠনিক জেলা সফর করে কাউন্সিল করতে পারছে। এমনকি ঢাকায় যে সমস্ত কর্মসূচি পালিত হয় তাতেও পিছিয়ে নেই মহিলা দল। মহিলা দলের সভাপতি আফরোজা আব্বাস, সাধারণ সম্পাদক সুলতানা আহমেদ, জ্যেষ্ঠ সহসভাপতি নুরজাহান ইয়াসমিন, জ্যেষ্ঠ যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হেলেন জেরিন খানসহ সংগঠনের নেতা কর্মীরা এ সময় উপস্থিত ছিলেন।
জোর করে ক্ষমতায় থাকার জন্য আওয়ামী লীগ নির্বাচন বানচালের চেষ্টা করবে - মওদুদ
জোর করে ক্ষমতায় থাকার জন্য আওয়ামী লীগ নির্বাচন বানচালের চেষ্টা করবে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ। শনিবার দুপুরে জাতীয় প্রেসক্লাবে এক আলোচনা সভায় তিনি এ মন্তব্য করেন। সরকারের উদ্দেশে মওদুদ বলেন, একদলীয়ভাবে একটা নির্বাচন করে ফেলতে পারবেন- সেটা এবার সম্ভবপর হবে না। আমি বলে রাখি- বিএনপি নির্বাচনী মাঠে নামলে দেশের রাজনৈতিক চিত্র বদলে যাবে। একবার মাঠে নামলে যে গণজোয়ার সৃষ্টি হবে, আওয়ামী লীগ তখন আমাদের সামনে টিকে থাকতে পারবে না। তখন গণজোয়ারের ভয়ে আওয়ামী লীগ জোর করে ক্ষমতায় থাকার জন্য একাদশ সংসদ নির্বাচন বানচালের চেষ্টা করবে। এ ব্যাপারে সবাইকে সতর্ক থাকারও আহ্বান জানান মওদুদ। নির্বাচনকালীন সরকার গঠন নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্য প্রসঙ্গে সাবেক এই আইনমন্ত্রী বলেন, নির্বাচনকালীন সরকার বলে প্রধানমন্ত্রী ঘোষণা দিয়েছেন- এটা খুব ভালো কথা। নির্বাচনকালীন সরকারব্যবস্থা বলে আমাদের সংবিধানে কোনো কিছু নেই। তার মানে প্রধানমন্ত্রী সংবিধান থেকে একটু বেরিয়ে এসছেন। তাহলে একটা সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে। বিএনপির এ নেতা বলেন, আমরা অবশ্যই তাকে (প্রধানমন্ত্রী) স্বাগত জানাব, সহযোগিতা করব। তখন সবাই মিলে একটা সমঝোতার মাধ্যমে আগামী নির্বাচন সুষ্ঠু, অবাধ ও নিরপেক্ষ করার প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া যেতে পারে। জাতীয় প্রেসক্লাবে বাংলাদেশ ইয়ুথ ফোরামের উদ্যোগে জিয়াউর রহমানের ৮২তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে অয়োজিত সভায় সংগঠনের সহসভাপতি মাহমুদুল হাসান শামীম সভাপতিত্ব করেন। সভায় বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা জয়নুল আবদিন ফারুক, নির্বাহী কমিটির সদস্য আবু নাসের মুহাম্মদ রহমাতুল্লাহ, খালেদা ইয়াসমীন প্রমুখ বক্তব্য রাখেন।
নির্বাচনকালীন সহায়ক সরকারের রূপরেখা দেবে বিএনপি
নির্বাচনকালীন একটি নিরপেক্ষ সরকার না হলে নির্বাচন সুষ্ঠু হবে না। বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।তিনি বলেন, আওয়ামীলীগ সরকার জানেন যে; নির্বাচন যদি নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে হয়, সুষ্ঠু অবাধ হয়, সব মানুষ যদি ভোট দিতে পারে তা হলে আওয়ামী লীগের ভরাডুবি হবে। তারা কখনও ক্ষমতায় আসতে পারবে না। শনিবার রাজধানীর নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে দলের চিকিৎসক সংগঠন ডক্টরস অ্যাসোসিযেশন অব বাংলাদেশ-ড্যাবের দিনব্যাপী ফ্রি মেডিকেল ক্যাম্পের উদ্বোধন শেষে তিনি এ কথা বলেন। তিনি বলেন, আমরা নির্বাচনকালীন সরকারের রূপরেখা দেব। আমরা মনে করি যে, প্রত্যেকটি বিষয়ের একটি সময় আছে। সেই সঠিক সময়েই অর্থাৎ যথাসময়ে অবশ্যই নির্বাচকালীন সহায়ক সরকারের রূপরেখা জাতির কাছে তুলে ধরা হবে। বিএনপির সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ৮২তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষ এ মেডিকেল ক্যাম্পের আয়োজন করা হয়। ফখরুল বলেন, আমরা বারবার বলেছি- নির্বাচনকালীন একটি নিরপেক্ষ সরকার চাই। আমরা আওয়ামী লীগের সরকার চাই না, শেখ হাসিনার সরকার চাই না। আমাদের দীর্ঘ পথের অভিজ্ঞতা- তাদের অধীনে কোনোদিন নির্বাচন সুষ্ঠু হতে পারে না। কারণ সব কিছুই গায়ের জোরে নিয়ে যেতে চান তারা। অনুষ্ঠানে ড্যাবের মহাসচিব অধ্যাপক ডা. এজেডএম জাহিদ হোসেন, বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা অধ্যাপক ডা. সিরাজউদ্দিন আহমদ, আতাউর রহমান ঢালী, অধ্যাপক ডা. নজরুল ইসলাম, ডা. মোফাখখারুল ইসলাম. ডা. আহমেদ মঞ্জুরুল, ডা. মিজানুর রহমান মিয়া. ডা. সামিউল হাসান, ডা. মো. সাইফুল ইসলাম. ডা. গাজী শাহিনুর ইসলাম প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।
এটি নির্বাচন কমিশনের চরম ব্যর্থতা বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলগীর
হার নিশ্চিত জেনে সুযোগ নিয়েছে সরকার। ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের মেয়র পদে উপনির্বাচনের তফসিলের কার্যকারিতা তিন মাসের জন্য স্থগিত করে হাইকোর্টের দেওয়া নির্দেশে প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি বলেছেন, এটি নির্বাচন কমিশনের চরম ব্যর্থতা। সরকার হেরে যাওয়ার ভয়ে এ সুযোগ নিয়েছে বলেও মন্তব্য করেছেন মির্জা ফখরুল। আজ বুধবার সকালে এ উপনির্বাচনের তফসিলের কার্যকারিতা তিন মাসের জন্য স্থগিত করেন হাইকোর্ট। ডিএনসিসির সম্প্রসারিত অংশের কাউন্সিলর নির্বাচনের সার্কুলারের কার্যক্রমও স্থগিত করা হয়। পৃথক দুটি রিট আবেদনের ওপর শুনানি শেষে বিচারপতি নাইমা হায়দার ও বিচারপতি জাফর আহমেদের সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চ রুলসহ এ আদেশ দেন। উপনির্বাচন স্থগিত সম্পর্কে হাইকোর্টের নির্দেশের বিষয়ে জানতে চাইলে মির্জা ফখরুল প্রথম আলোকে বলেন, এটা নির্বাচন কমিশনের চরম ব্যর্থতা। কারণ, তারা সীমানা নির্ধারণ না করেই নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করে। এটা আইন অনুযায়ী হয় না। মির্জা ফখরুল আরও বলেন, সরকার যেহেতু নির্বাচনের ফলাফল আগেই জানত, অর্থাৎ তারা হেরে যাবে, তাই তারা সুযোগ নিয়েছে বলে আমরা মনে করি। ৯ জানুয়ারি মেয়র পদে উপনির্বাচনের জন্য ঘোষিত তফসিল ও ১৮টি সম্প্রসারিত অংশে কাউন্সিলর ও সংরক্ষিত কাউন্সিলর নির্বাচনে সার্কুলার কেন আইনগত কর্তৃত্ববহির্ভূত ঘোষণা করা হবে না, এ মর্মে রুল চেয়েছেন হাইকোর্ট। গত ৩০ নভেম্বর মেয়র আনিসুল হকের আকস্মিক মৃত্যুর পর ডিএনসিসির মেয়র পদে উপনির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করে নির্বাচন কমিশন। তফসিল অনুযায়ী, আগামী ২৬ ফেব্রুয়ারি ডিএনসিসির মেয়র পদসহ ঢাকার দুই সিটি করপোরেশনে নতুন যুক্ত হওয়া ১৮টি করে ৩৬টি সাধারণ ওয়ার্ড এবং ৬টি করে ১২টি সংরক্ষিত ওয়ার্ডেরও ভোট হওয়ার কথা ছিল। ৯ জানুয়ারি তফসিল ঘোষণার এক সপ্তাহের ব্যবধানে এর বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে গতকাল পৃথক রিট হয়। একটি রিটের আবেদনকারী ভাটারা ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান আতাউর রহমান। অপর রিট আবেদনকারী হলেন বেরাইদ ইউপির চেয়ারম্যান জাহাঙ্গীর আলম।