নির্বাচনকালীন সরকার নিয়ে আলোচনার তাগিদ ফখরুলের
নির্বাচন কমিশন (ইসি) ও সরকারের কঠোর সমালোচনা করেছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি বলেছেন, সরকার নিজেদের ইচ্ছা পূরণে ইসিতে তাদের পছন্দমত লোক বসিয়েছে। যাতে করে আবারও একতরফা ভোটের মাধ্যমে ক্ষমতায় আসতে পারে।তিনি বলেন, নির্বাচনকালীন সরকার নিয়ে রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে আলাপ আলোচনার মাধ্যমে সমাধানে আসা দরকার।বুধবার সকালে শ্রমিক দলের ৩৯তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা প্রয়াত রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের সমাধিতে শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে সাংবাদিকদের কাছে তিনি এ কথা বলেন। বিএনপি মহাসচিব বলেন, বর্তমান নির্বাচন কমিশন মেরুদণ্ডহীন। তাদের সুষ্ঠু নির্বাচন করার কোনো যোগ্যতাই নেই। তারা সরকারের ইচ্ছা পূরণে কাজ করছে। তিনি বলেন, আমরা আগেও বলেছি, বর্তমান নির্বাচন কমিশন সরকারের ইচ্ছা পূরণে কাজ করছে। তাদের দিয়ে সুষ্ঠু নির্বাচন সম্ভব না। উটপাখি যেমন ঝড় আসলে বালুর মধ্যে মাথা ঢুকিয়ে মনে করে ঝড় তাদের আঘাত করবে না, এ ইসির অবস্থাও ঠিক তেমনই। তারা মনে করে নিরপেক্ষ নির্বাচন না করলে জনজোয়ার তাদের আঘাত করবে না। বিএনপি মহাসচিব বলেন,রাজনৈতিকভাবে নির্বাচনকালীন সরকার নিয়ে সমস্যার সমাধান হওয়ার আগে তফসিল ঘোষণা কখনই জনগণ মেনে নেবে না। সীমানা নির্ধারণের ক্ষেত্রেও একই বিষয় কাজ করছে। সরকার যে নির্দেশ দিচ্ছে কমিশন তাই বাস্তবায়ন করছে। তাদের নিজস্ব কোনো চিন্তা ভবনা নেই। জনগণের সঙ্গে আলাপ আলোচনার মাধ্যমে সীমানা নির্ধারনের যে নিয়ম রয়েছে সেটিও তারা পালন করছে না। তিনি বলেন,সরকার সব সময় চেষ্টা করেছে দেশের প্রধান বিরোধী দলকে দূরে রেখে, খালেদা জিয়াকে বাহিরে রেখে একতরফা নির্বাচনের। কারণ তারা পুরোপুরি জনবিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। তাদের জনগণের কাছে যাওয়ার জায়গা নেই। তিনি আরও বলেন,আওয়ামী লীগ নিশ্চিত বিরোধী দল নির্বাচনে গেলে তাদের ভরাডুবি হবে। সে জন্য একতরফা নির্বাচনের জন্যই এ কমিশন গঠন করেছে। যাতে তাদের মাধ্যমে আবারও ক্ষমতায় আসতে পারে। কিন্তু এটি কখনও জনগণের কাছে গ্রহণযোগ্য হবো না আমরা আগেই বলেছি। সিটি কর্পোরেশন নির্বাচন নিয়ে মির্জা ফখরুল বলেন,গাজীপুরের এসপি হারুণকে সরানোর জন্য আমরা চিঠি দিয়েছিলাম কিন্তু কমিশন কোনো ব্যবস্থা নেয়নি। উল্টো আমাদের জোটের ৪৫ নেতাকর্মীকে গ্রেফতার করেছে। এমনকি যিনি মেয়র পদে দাঁড়িয়েছিলেন তাকেও গ্রেফতার করা হয়েছে। এসব কারণে এ নির্বাচন সুষ্ঠু হবে এটি মনে করার কোনো কারণ আমি দেখছি না। বিএনপি মহাসচিব বলেন, আওয়ামী লীগ রাজনীতিকে একটি ভয়াবহ অন্ধকার গহ্বরের দিকে নিয়ে যাচ্ছে। নির্বাচন নিয়ে বিরোধী দলের সঙ্গে কোনো আলোচনা না করে, জনগণের মতামতকে উপেক্ষা করে একদলীয় শাসনব্যবস্থা পাকাপোক্ত করতেই সরকারের এ প্রচেষ্টা। এ সময় দলের ভাইস চেয়ারম্যান বরকত উল্লাহ বুলু, শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন, সাধারণ সম্পাদক নুরুল ইসলাম খান নাসিমসহ শ্রমিক দলের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
খালেদা জিয়া প্রতিহিংসার বদৌলতে কারাগারে বন্দী: রিজভী
দুর্নীতির দায়ে সাজাপ্রাপ্ত বিএনপি চেয়ারপার্স বেগম খালেদা জিয়া আদালতের বদৌলতে নয় বরং প্রতিহিংসার বদৌলতে কারাগারে বন্দী রয়েছেন বলে অভিযোগ করেছেন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম-মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী। সোমবার রাজধানীর নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ অভিযোগ করেন। রুহুল কবির রিজভী বলেন, খালেদা জিয়া আদালতের বদৌলতে নয়, শেখ হাসিনার প্রতিহিংসার বদৌলতে কারাগারে বন্দী। এটাই সর্বজনস্বীকৃত। আদালতের মাধ্যমে একটা আনুষ্ঠানিকতা করা হয়েছে মাত্র। ঢাকা মহানগর দক্ষিণ বিএনপির সিনিয়র নেতাদের নির্বিচারে গ্রেপ্তার আসন্ন দুই সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনের জন্য একটি মেসেজ। সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনকে প্রভাবিত করতে এবং নেতাকর্মী ও সাধারণ ভোটারদের মধ্যে ভীতি ছড়াতেই নেতাদের ব্যাপকহারে আটক করা হয়েছে। আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরের বক্তব্যের প্রতিক্রিয়ায় রিজভী বলেন, বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার শারীরিক অসুস্থতা নিয়ে আওয়ামী লীগ নেতারা উপহাস, তাচ্ছিল্য ও মশকরা করছেন। খালেদা জিয়ার চিকিৎসা নিয়ে সরকারের যে টালবাহানা ও ষড়যন্ত্রের কথা আমরা বলে আসছি তা ওবায়দুল কাদের সাহেবের কথায় আবারও স্পষ্ট হলো। আমি আবারও খালেদা জিয়ার নিঃশর্ত মুক্তি এবং তার পছন্দ অনুযায়ী ইউনাইটেড হাসপাতালে চিকিৎসার ব্যবস্থা করার জন্য জোর দাবি জানাচ্ছি। সংবাদ সম্মেলনে অন্যদের মধ্যে বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা আতাউর রহমান ঢালী, যুগ্ম-মহাসচিব খায়রুল কবির খোকন, সহ-দপ্তর সম্পাদক মনির হোসেন, শ্রমিক দলের সাধারণ সম্পাদক নুরুল ইসলাম নাসিম প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।
কোন সিন্ডিকেট দ্বারা ছাত্রলীগের নেতৃত্ব হবে না: ওবায়দুল কাদের
ছাত্রলীগে যেন আর কোন অনুপ্রবেশকারী ডুকতে না পারে সেদিকে সজাগ থাকার পরামর্শ দিয়ে সাবেক ছাত্রলীগ সভাপতি আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের বলেন,কোন সিন্ডিকেট দ্বারা ছাত্রলীগ চলবে না। রোববার দুপুরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসটি অডিটরিয়ামে ঢাকা বিশ্ববিদ্যায়ল ছাত্রলীগের বার্ষিক সম্মেলনে তিনি এ কথা বলেন। ওবায়দুল কাদের বলেন,বাংলাদেশকে উন্নয়নের মহা সড়কে নিয়েগেছে বঙ্গবন্ধু কন্য শেখ হাসিনা। ছাত্রলীগকে রাজনৈতিক আদর্শের মহাসড়কে ফিরে আসতে হবে। ছাত্রলীগকে রাজনৈতিক আদর্শের মহাসড়কে আসতে হবে। সুনামের ধারায় ফিরে আসতে হবে। ছাত্রলীগকে অতীতের ধারায় ফিরে আসতে হবে। ছাত্রলীগ কোন সিন্ডিকেট দিয়ে চলবে না জানিয়ে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বলেন,আমি চাই ত্যাগী যোগ্য নেতৃত্ব। কারো পকেটের কমিটি দিয়ে ছাত্রলীগের নেতৃত্ব হবে না। কোন সিন্ডিকেট দ্বারা ছাত্রলীগ চলবে না। ছাত্রলীগ চলবে বঙ্গবন্ধুর আদর্শে শেখ হাসিনার নির্দেশনায়। এর বাইরে কোন ভাবনা চিন্তা করার অবকাশ নেই। ছাত্রলীগে যেন আর কোন অনুপ্রবেশকারী ঢুকতে না পারে সেদিকে সজাগ থাকার পরামর্শ দিয়ে সাবেক ছাত্রলীগ সভাপতি বলেন,আমি নেতৃবৃন্দদের বলবো আপনা আপনাদের পূর্বসূরিদের কথা ভাবুন। নেতা বানিয়ে যাবেন কিন্তু আপনি যখন বিদায় নিবেন তখন নতুনরা আপনাকে কি চোখে দেখবে সেটা একবার ভেবে দেখুন। চিরদিন কারো ক্লাউড থাকে না। চলে গেলে অনেক কিছুই অনেকে ভুলে যায়। টাকা পয়সার কর্মীরা থাকবে না, আদর্শের কর্মীরা থাকবে। যবরদস্তি করে অযোগ্যকে নেতা বানাবেন, দুঃসময় এলে হাজার পাওয়ারের বাতি দিয়েও খুঁজে পাওয়া যাবে না। সাহসী মেধাবী চরিত্রবান নেতা বানান সর্বেস্তরে। তিনি বলেন,অনুপ্রবেশকারী পরগাছা যেন পার্টির নেতৃত্বে আর না আসতে পারে। পরগাছাদের জন্য ছাত্রলীগ কোন সুযোগ দিবে না। সোহাগ জাকিরকে বলবো তোমরা ভালো কিছু করে যাও। ভালো কিছু দিয়ে যাও। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের সভাপতি আবিদ আল হাসানের সভাপতিত্বে বক্তব্য রাখেন আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গির কবির নানক, সাংগঠনিক সম্পাদক এ কে এম এনামুল হক শামীম, কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সভাপতি সাইফুর রহমান সোহাগ, সাধারণ সম্পাদক এস এম জাকির হোসাইন
ঢাবি ছাত্রলীগ ইভিনিং কোর্স বন্ধ চায়
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে চলমান নৈশ্য বিভাগে কোন ছাত্র যাতে আর না ভর্তি হতে পারে সেই ব্যাপারে পদক্ষেপ নিতে কর্তৃপক্ষের কাছে দাবি জানিয়েছে শাখা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক মোতাহার হোসেন প্রিন্স। রোববার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের সম্মেলনে কর্তৃপক্ষ ও সম্মেলনের প্রধান অতিথি আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক সরকারের সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রীকে উদ্দেশ্য করে এমন দাবি তুলেন প্রিন্স। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক প্রিন্স বলেন,বিশ্ববিদ্যালয় ক্যম্পাস আমাদের প্রানের ক্যম্পাস। বাংলাদেশের সকল সফল আন্দোলন সংগ্রামের সূচনা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্ররা করেছে। আর আজকে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যম্পাসে বহিরাগতদের আনাগোনা অনেক বেড়ে গেছে। তিনি বলেন,আর এই বহিরাগতদের আনাগোনা বিভিন্ন সময় বিশৃঙ্খল পরিবেশ সৃষ্টি করছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের ইভিনিং কোর্সের মাধ্যমে বহিরাগত বাড়ছে। আমি বলতে চাই অবিলম্বে এই কোর্স বন্ধ করতে হবে, বাণিজ্য বন্ধ করতে হবে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের সভাপতি আবিদ আল হাসানের সভাপতিত্বে বক্তব্য রাখেন আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর কবির নানক, সাংগঠনিক সম্পাদক এ কে এম এনামুল হক শামীম, কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সভাপতি সাইফুর রহমান সোহাগ, সাধারণ সম্পাদক এস এম জাকির হোসাইন।
আচরণবিধির লঙ্ঘন গাজীপুরে মন্ত্রী-এমপিদের ভোট চাওয়া
বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম-মহাসচিব রুহুল কবির রিজভীর অভিযোগ, গাজীপুর সিটি করপোরেশন (গাসিক) নির্বাচনে আওয়ামী লীগ মনোনীত মেয়র প্রার্থীর পক্ষে মন্ত্রী-এমপিরা ভোট চেয়ে নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘন করেছেন। রিজভী বলেছেন, গাজীপুরের মৌচাকে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হকের সভাপতিত্বে নির্বাচনী যৌথসভায় সংসদ সদস্য (এমপি) জাহাঙ্গীর কবির নানক ও বাহাউদ্দিন নাছিম আওয়ামী লীগের প্রার্থী জাহাঙ্গীর আলমকে বিজয়ী করতে জনগণের কাছে ভোট চেয়েছেন। যা নির্বাচনী আচরণবিধির সুস্পষ্ট লঙ্ঘন। রাজধানীর নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে রোববার (২৯ এপ্রিল) সকালে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে রিজভী এ অভিযোগ করেন। তিনি বলেন, আসন্ন খুলনা ও গাজীপুর সিটি করপোরেশন নির্বাচনে লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড তৈরি করতে ব্যর্থ হয়েছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। এখন পর্যন্ত ওই দুই সিটিতে নির্বাচনী পরিবেশ তৈরি করতে পারেনি সংস্থাটি। বিএনপির এ মুখপাত্র বলেন, নির্বাচনী প্রচারণা শুরু হলেও দুই সিটিতে ক্ষমতাসীনদের অস্ত্রের ছড়াছড়ি এখনও চলছে। আচরণবিধি লঙ্ঘনের অভিযোগ অভিযোগ জমা দিলেও ইসি অন্ধের ভূমিকা পালন করছে। তিনি জানান, মিথ্যা ও ষড়যন্ত্রমূলক মামলায় কারাবন্দি খালেদা জিয়ার শারীরিক অবস্থা আগের চেয়ে আরও অবনতি হয়েছে। দলের মহাসচিবসহ সিনিয়র নেতারা তার সঙ্গে দেখা করার পর খালেদা জিয়ার সর্বশেষ শারীরিক পরিস্থিতি তুলে ধরেছেন তিনি। রিজভী বলেন, এখনও পছন্দ অনুযায়ী হাসপাতাল ও ব্যক্তিগত চিকিৎসকদের দিয়ে গুরুতর অসুস্থ খালেদা জিয়ার চিকিৎসার ব্যবস্থা না করে তিলে তিলে কষ্ট দিয়ে সরকার প্রতিহিংসা বাস্তবায়নের দিকে এগোচ্ছে। এ নিয়ে জনমনে এখন নানা প্রশ্ন ও শঙ্কা তৈরি হয়েছে। খালেদার সুচিকিৎসার দাবি জানিয়ে বিএনপির এই নেতা বলেন, আমি আবারও খালেদা জিয়াকে তার পছন্দের হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়ার জোর দাবি জানাচ্ছি। তিনি বলেন, বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে নিয়ে ক্ষমতাসীনদের অন্তহীন ষড়যন্ত্র বারবার ব্যর্থ হয়েছে। এখন প্রধানমন্ত্রীর একজন উপ প্রেস সচিবের ফেসবুক আইডি থেকে নানা মিথ্যা ও বানোয়াট গল্প বানিয়ে প্রচার করা হচ্ছে। এ ধরনের ঘটনায় আমরা তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি। সংবাদ সম্মেলনে চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা আবদুস সালাম ও অ্যাডভোকেট তৈমুর আলম খন্দকার, প্রচারণা সম্পাদক শহীদ উদ্দিন এ্যানী, সহ-দফতর সম্পাদক মনির হোসেন প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।
সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির নির্বাচনে ব্যক্তিস্বার্থে দলীয় স্বার্থের পরাজয়
সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির নির্বাচনে দলের বড় বড় নেতাদের ব্যক্তিগত স্বার্থের কাছে দলীয় স্বার্থ পরাজিত হয়েছে বলে তথ্য পেয়েছে আওয়ামী লীগের অনুসন্ধান কমিটি।আওয়ামী লীগ সমর্থিত প্রার্থীদের পরাজয়ের কারণ অনুসন্ধান করতে গিয়ে এ চিত্র বেরিয়ে এসেছে। পাশাপাশি অধিকাংশ নেতাই দলীয় শৃঙ্খলা না মানায় অন্তঃকোন্দলের চাপ দৃশ্যমান হয়েছে কমিটির কাছে। অনুসন্ধান কমিটির একাধিক নেতার কাছ থেকে এমন তথ্য পাওয়া গেছে।সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির ২০১৮-১৯ সেশনের নির্বাচনে ১৪টি পদের মধ্যে সভাপতি-সম্পাদকসহ গুরুত্বপূর্ণ ১০টি পদে জয় পান বিএনপি ও জামায়াত সমর্থিত আইনজীবীরা। ২০১৭-১৮ সেশনের মেয়াদেও সভাপতি-সম্পাদক পদে নির্বাচিত হন তারা। অন্যদিকে সহ-সম্পাদকসহ চারটি পদে জয় পান সরকার সমর্থক আইনজীবীরা। নির্বাচনে সভাপতি পদে বিজয়ী হন বিএনপি ও জামায়াত সমর্থিত জাতীয়তাবাদী ঐক্য প্যানেলের অ্যাডভোকেট জয়নুল আবেদীন। তিনি আওয়ামী আইনজীবী সমন্বয় পরিষদ থেকে দাঁড়ানো অ্যাডভোকেট ইউসুফ হোসেন হুমায়ুনের চেয়ে ৫৪ ভোট বেশি পান। এর আগের মেয়াদেও সভাপতি নির্বাচিত হন জয়নুল আবেদীন। সম্পাদক পদে নির্বাচিত হন ব্যারিস্টার এ এম মাহবুব উদ্দিন খোকন। তিনি ভোট পান দুই হাজার ৬১৬টি। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ছিলেন আওয়ামী লীগ সমর্থিত প্যানেলের অ্যাডভোকেট এস কে মো. মোরসেদ। ব্যারিস্টার মাহবুব উদ্দিন খোকন টানা ষষ্ঠবারের মতো বিজয়ী হন। গত ৩১ মার্চ অনুষ্ঠিত আওয়ামী লীগের কার্যনির্বাহী সংসদের সর্বশেষ সভায় সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির নির্বাচনে আওয়ামী লীগ সমর্থিত প্যানেলের ভরাডুবি, বিদ্রোহী প্রার্থীদের কারণে স্থানীয় সরকার নির্বাচনে দল মনোনীত প্রার্থীদের পরাজয় এবং সারাদেশে দলীয় দ্বন্দ্ব-কোন্দলের কারণ অনুসন্ধানে পাঁচ সদস্যের অনুসন্ধান কমিটি গঠন করা হয়। দলটির সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য কাজী জাফরুল্লাহর নেতৃত্বে গঠিত কমিটিতে আরও রয়েছেন দলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুব-উল আলম হানিফ, ডা. দীপু মনি, জাহাঙ্গীর কবির নানক ও আব্দুর রহমান। কমিটি গঠনের পরের দিন অনুষ্ঠিত প্রথম বৈঠকে অনুসন্ধান কমিটি সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির নির্বাচনে পরাজয়ের কারণ অনুসন্ধনে প্রার্থীদের ডেকে কথা বলেন। পরাজিত প্রার্থীদের কাছ থেকে পরাজয়ের কারণগুলো জেনে নেয় কমিটি। অনুসন্ধান কমিটির দ্বিতীয় বৈঠকে অংশ নেন অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম, সৈয়দ রেজাউর রহমান, নজীবুল্লাহ হীরু ও ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল মোতাহার হোসেন সাজু। গত ৭ এপ্রিল দলের আট বিভাগের দায়িত্বে থাকা সাংগঠনিক সম্পাদকদের সঙ্গে বৈঠক করে অনুসন্ধান কমিটি। অনুসন্ধান কমিটির তথ্য মতে, দায়িত্ব পাওয়ার পর থেকে চারটি বৈঠক করেন তারা। বৈঠকগুলোতে অংশ নেয়া নেতাদের কাছ থেকে বিভিন্ন তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহের পাশাপাশি তথ্যের সত্যতা যাচাই-বাছাই করা হয়। এরই মধ্যে বাংলা নতুন বছর এবং গাজীপুর ও খুলনা সিটি কর্পোরেশন নির্বাচন নিয়ে যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও সাংগঠনিক সম্পাদকদের ব্যস্ততায় অনুসন্ধান কমিটির কাজে কিছুটা গতি হারায়। নাম প্রকাশ না করার শর্তে অনুসন্ধান কমিটির এক সদস্য বলেন,আমাদের দলের ভেতরে অনেকেই দলীয় শৃঙ্খলা মানেন না, সবাই এমপি হতে চান, সবাই মন্ত্রী হতে চান। এসব কারণে তারা নিজের স্বার্থটা দলের স্বার্থের চেয়ে বড় করে দেখেন। এ জন্য সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির নির্বাচনে দল সমর্থিত প্রার্থীরা পরাজিত হয়েছেন। ওই নির্বাচনে দলের অনেক বড় বড় আইনজীবী দলের সমর্থিত প্রার্থীর বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছেন অথবা নীরব ভূমিকা পালন করেছেন। কমিটির সদস্যদের দেয়া তথ্য অনুযায়ী, টানা দুই মেয়াদে ক্ষমতা থাকায় সারাদেশেই অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্বের চিত্র ভয়াবহ। নেতৃত্বের প্রতিদ্বন্দ্বিতার নামে দলের ক্ষতি করছেন এসব নেতারা। আরও দু-একটা বৈঠক করে সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির নির্বাচনে পরাজয় সংক্রান্ত প্রতিবেদন চূড়ান্ত করা হবে। মে মাসের প্রথম সপ্তাহে প্রতিবেদন জমা দেয়া হবে দলীয় প্রধান শেখ হাসিনার কাছে। ওই প্রতিবেদনে জাতীয় নির্বাচনের আগে অভ্যন্তরীণ এসব দ্বন্দ্বে জড়িতদের বিষয়ে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করে কড়া বার্তা দিতে দলীয় প্রধানের কাছে সুপারিশ করবে অনুসন্ধান কমিটি। অনুসন্ধান কমিটির প্রধান ও আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য কাজী জাফরুল্লাহ এ প্রসঙ্গে বলেন,আপনি কি মনে করছেন প্রার্থী নিয়ে দ্বন্দ্ব ছিল? এবার যদি আমাকে হারিয়ে দেন তাহলে আগামীতে আপনি সুযোগ পাবেন। অনেক বড় বড় নাম এসেছে যারা দলীয় ফোরামে থাকা সত্ত্বেও তাদের যে ভূমিকা রাখার কথা ছিল সেটা তো তারা রাখেই নাই বরং নেতিবাচক অনেক কথাবার্তা বলেছেন। আশা করছি শিগগিরই আমরা প্রতিবেদন জমা দিতে পারব।
ছাত্রলীগের আগামীর নেতৃত্ব ভোট নয়, সিলেকশনেই আসবে
দক্ষ, যোগ্য ও মেধাবী নেতৃত্ব আনার লক্ষ্যে ২০০৬ সালে ছাত্রলীগে ভোট প্রক্রিয়া চালু হয়। আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা পরামর্শেই এই প্রক্রিয়া শুরু হয়। গত তিনটি সম্মেলনে এভাবেই ছাত্রলীগের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক নির্বাচন করা হয়। সারাদেশ থেকে আসা কাউন্সিলরা এই ভোটে অংশ নেন। তবে যে লক্ষ্যে এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছিল তা গত তিনটি কমিটি তা পূরণ হয়নি বলে মনে করেন আওয়ামী লীগের শীর্ষ নেতারা। দলীয় সভাপতিও তেমনটাই মনে করেন বলে তার ঘনিষ্ঠ সূত্রগুলো জানিয়েছে। ফলে ছাত্রলীগের নেতা নির্বাচনে আবার সিলেকশন পদ্ধতির দিকে ফিরে যাওয়া হচ্ছে। আসন্ন ২৯তম সম্মেলন থেকেই এটা কার্যকর হতে পারে। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় নেতাদের বড় একটি অংশও ভোট বিরোধী। ওই অংশটি গত তিনটি কমিটির কার্যক্রম তুলে ধরে ভোটে নেতা নির্বাচনের নানা কুফল শেখ হাসিনার সামনে তুলে ধরেন। তারা মনে করে, ভোট প্রক্রিয়া প্রশ্নবিদ্ধ হয়েছে। ভোটের সুযোগটি কাজে লাগিয়ে নানা কৌশলে ব্যর্থ নেতৃত্ব বের করে আনা হয়েছে। তাই ভোট প্রক্রিয়া আপাতত বাদ দিতে আওয়ামী লীগ নেতারা শেখ হাসিনাকে পরামর্শ দিয়েছেন। আগামী ১১ ও ১২ মে ছাত্রলীগের ২৯তম সম্মেলন অনুষ্ঠিত হবে। এরই মধ্যে ঢাকা মহানগর উত্তর-দক্ষিণ সম্মেলন সম্পন্ন হয়েছে। আগামী রবিবার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সম্মেলন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। পারিবারিকভাবে যারা আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত, পরিবার থেকেই মুজিব আদর্শে অনুপ্রাণিত, স্বাধীনতা ও মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় উদ্ধুদ্ধ এবং শিক্ষিত মার্জিত ছেলে মেয়েদেরকেই নেতা হওয়ার যোগ্য বলে বিবেচিত হবেন। এসব যোগ্যতায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ুয়া নয়, এমন কেউ পাওয়া গেলেও নেতা হওয়ার সুযোগ থেকে যাবে। জানা গেছে, ভোট পদ্ধতিতে ব্যর্থ নেতৃত্ব বেরিয়ে আসার ফলে এখন বাধ্য হয়েই ভোট প্রক্রিয়া থেকে সরে আসার সিদ্ধান্ত নিতে যাচ্ছে আওয়ামী লীগের সর্বোচ্চ নীতি-নির্ধারকরা। সংগঠনে গণতন্ত্রের চর্চা করতে ভোট প্রক্রিয়া অনুসরণ করলেও নেতৃত্ব নির্বাচনে গত তিনটি সম্মেলনে কাঙ্ক্ষিত ফলাফল না আসায় আবারও সিলেকশন পদ্ধতিতে ফিরে যাচ্ছে আওয়ামী লীগের হাইকমান্ড। আওয়ামী লীগের নীতি নির্ধারণী পর্যায়ের গুরুত্বপূর্ণ নেতারা জানিয়েছেন, এবারের সম্মেলনে ছাত্রলীগের নেতৃত্ব নির্বাচনে ভোট প্রক্রিয়া আর থাকছে না। আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সিলেকশনে পদ্ধতি এই সংগঠনের নেতা বের করে আনবেন। আরও বেশ কয়েকজন কেন্দ্রীয় নেতা জানিয়েছেন, সর্বশেষ দুটি সম্মেলনে ভোটে নেতা নির্বাচনের প্রক্রিয়াকে কলুষিত করা হয়েছে। দক্ষ ও যোগ্য নেতৃত্বের বদৌলতে অদক্ষ, অযোগ্য, অসাংগঠনিক, ভিন্ন চিন্তা-চেতনা এবং ভিন্ন আদর্শের ছেলেরা ছাত্রলীগের নেতা নির্বাচিত হয়েছে। এ কারণে বিভিন্ন সময়ে নানা দুষ্কর্মের সঙ্গে ছাত্রলীগ নেতাদের সম্পৃক্ততার অভিযোগও উঠেছে। অনুপ্রবেশের সুযোগটিও ভোট প্রক্রিয়ার ফলে এসেছে। তাই আওয়ামী লীগের শীর্ষ পর্যায়ে এবার ভোট দিয়ে নেতা নির্বাচন না করার পক্ষে অবস্থান গ্রহণ করেছেন। আওয়ামী লীগের সম্পাদকমণ্ডলীর তিন জন গুরুত্বপূর্ণ নেতা বলেন, ছাত্রলীগের নেতা নির্বাচন এবার ভোটে হবে না। দ্বিতীয় অধিবেশন শেষ করে প্রস্তবিত নামগুলো নিয়ে আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা দলের সিনিয়র নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করে দুই জন নেতা নির্বাচন করবেন। তাদের হাতে সংগঠনের দায়িত্ব অর্পণ করবেন। আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক দুই সদস্য বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, সম্প্রতি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে কোটা সংস্কার আন্দোলনকে কেন্দ্র করে যে পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে তাতে ছাত্র সংগঠন হিসেবে ছাত্রলীগ কোনও ভূমিকা পালন করতে পারেনি। বরং ছাত্রলীগই এই আন্দোলনে ইন্ধন যুগিয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। শেখ হাসিনা মনে করেন, দুর্বল নেতৃত্ব থাকার কারণে এই আন্দোলনে ছাত্রলীগের কোনও নিয়ন্ত্রণ ছিল না। বিষয়টি শেখ হাসিনাকে হতাশ করেছে। ওই দুই নেতা আরও বলেন, শেখ হাসিনা বুঝতে পেরেছন ভোটের সুযোগ নিয়ে দুর্বল নেতারা নেতৃত্বে এসেছে। অনুপ্রবেশের সুযোগটিও এসেছে ভোট পদ্ধতিতে। তাই এ পদ্ধতি আপাতত স্থগিত করতে তিনি ইতিমধ্যেই সম্মত হয়েছেন। শেখ হাসিনা এবার ছাত্রলীগের সম্মেলন দেখভালের দায়িত্ব দিয়েছেন কেন্দ্রের অনেক নেতাকে। তাদের কাছে ইঙ্গিত রয়েছে ছাত্রলীগের এবারের নেতা নির্বাচিত হবে সিলেকশনে। শেখ হাসিনা নিজেই এবার নেতা সিলেকশন করবেন।

রাজনীতি পাতার আরো খবর