স্থানীয় নির্বাচন আর জাতীয় নির্বাচনকে এক করে দেখা যাবে না : মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর
বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, তার দল মনে করছে জাতীয় নির্বাচন হচ্ছে ‘চেঞ্জ দা গভর্নমেন্ট’ আর স্থানীয় সরকারের নির্বাচনের মধ্যে দিয়ে নির্বাচন সম্পর্কে নির্বাচন কমিশন ও সরকারের মনোভাব বুঝা যায়। তাই স্থানীয় নির্বাচন আর জাতীয় নির্বাচনকে এক করে দেখা যাবে না। তবে স্থানীয় নির্বাচনকেও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ অভিহিত করে ফখরুল বলেন, এ নির্বাচনের মধ্যে দিয়ে আবার প্রমাণিত হবে এ সরকার সত্যিকার অর্থে কী করতে যাচ্ছে ? অতীতের নির্বাচনগুলোর মতো তারা আচরণ করবে কিনা। নির্বাচন কমিশন কতটুকু নিরপেক্ষতার সঙ্গে অবাধ নির্বাচন পরিচালনা করতে পারবে কিনা তা নির্বাচনের জন্য একটা লেবেল প্লেয়িং ফিল্ড তৈরি করতে পারবে কিনা যদি ইতিমধ্যে আমাদের যথেষ্ট অসুবিধার মধ্যে পড়তে হচ্ছে এবং সব ধরনের সমস্যার মুখোমুখি হতে হচ্ছে। আমাদের দলের চেয়ারপারসন থেকে শুরু করে সিনিয়র লিডারসহ সারাদেশের অনেকের মিথ্যা মামলার মোকাবিলা করতে হচ্ছে। তারপরেও আমরা গণতান্ত্রিক লেবেলগুলো আছে এর প্রত্যেকটিকে আমরা অংশ গ্রহণ করতে চাই। বিবিসি বাংলার সাথে এক সাক্ষাতকারে ফখরুল আরো বলেন, বিএনপির স্ট্যান্ডিং কমিটির সদস্যরা সর্বসম্মতিক্রমে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন উপ-নির্বাচনে মেয়র প্রার্থী হিসেবে তাবিথ আউয়ালকেই বেছে নিয়েছেন। সকল প্রার্থীর চেয়ে তাকেই যোগ্য মনে করছে বিএনপি। অন্যান্য প্রার্থীরাও তার পক্ষে কাজ করার কথা বলেছে। সোমবার রাতে ঢাকায় দলটির চেয়ারপারসন কার্যালয়ে মনোনয়ন প্রত্যাশীদের সাক্ষাতকার শেষে বিএনপির পার্লামেন্টারি বোর্ডের বৈঠকে প্রার্থী চূড়ান্ত করা হয়। দলটির বিভিন্ন পর্যায়ের পাঁচজন নেতা এর আগের দিন মনোনয়ন ফরম সংগ্রহ করেন। এদের মধ্যে তাবিথ আউয়াল গত সিটি নির্বাচনে প্রয়াত আনিসুল হকের প্রতিদ্বন্দ্বী ছিলেন। তবে ভোটের দিন তিনি নির্বাচন বর্জনের ঘোষণা দেন। কী বিবেচনায় তাবিথ আউয়ালকে বেছে নেয়া হলো দলের পক্ষ থেকে ? এ প্রসঙ্গে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, গতবার আমাদের দলের সমর্থনে তাবিথ আউয়াল নির্বাচন করেছিলেন। তাকে প্রত্যাহারের নির্দেশ দেয়ার পরেও সে প্রায় ৩ লাখ থেকে সাড়ে ৩ লাখ ভোট পেয়েছিল। তাবিথ আউয়াল শিক্ষিত ছেলে এবং গত নির্বাচনে তার যথেষ্ট অভিজ্ঞতা হয়েছিল। তরুণ প্রজন্মের প্রতিনিধি হিসেবে আমরা মনে করি তাবিথ আউয়াল বর্তমান পরিস্থিতিতে সবচেয়ে ভালো প্রার্থী হবে। অন্যান্য যারা ছিলেন তারাও যোগ্য ছিলেন, কিন্তু অন্যান্যের তুলনায় তাকে বেশি যোগ্য মনে করেছি। স্থায়ী কমিটির বৈঠকের পরে বিষয়টি চূড়ান্ত হলো, মূল বিষয়ে কী সামনে রেখে আপনারা এ সিদ্ধান্তে পৌঁছলেন ? জবাবে ফখরুল ইসলাম বলেন, যারা প্রার্থীর জন্য ফরম নিয়েছে তাদের আমরা ইন্টারভিউ নিয়েছি এবং সকলের কাছ থেকে আমরা জানতে চেয়েছি, তারা মেয়র পদের জন্য নিজের যোগ্যতা কিভাবে মনে করে ? মেয়র নির্বাচিত হলে তারা কী কী কাজ করবে ? সবার মতামতের ভিত্তির ওপরে আমাদের বোর্ডের সর্বসম্মতিক্রমে তাবিথ আউয়ালকে মনোনিত করা হয়েছে।
অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন অনুষ্ঠানের পরীক্ষায়(ইসি) বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম-মহাসচিব রিজভী
উত্তর সিটির উপনির্বাচনে সেনা মোতায়েনের দাবি বিএনপির। ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন নির্বাচনে জনগণ যাতে নির্ভয়ে ভোট দিতে পারেন, সেজন্য সেনাবাহিনী মোতায়েনের দাবি জানিয়েছেন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম-মহাসচিব রুহল কবির রিজভী। সোমবার বেলা ১২টায় নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন। একই সঙ্গে এই উপ-নির্বাচন আদৌ হবে কিনা তা নিয়েও সংশয় প্রকাশ করেন বিএনপির এই নেতা। রুহল কবির রিজভী অভিযোগ করে বলেন, অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন অনুষ্ঠানের পরীক্ষায় নির্বাচন কমিশন (ইসি) পাস করতে পারেনি। বর্তমান নির্বাচন কমিশন এখন পর্যন্ত যেসব স্থানীয় সরকার নির্বাচন করেছে, তাতে তারা ক্ষমতাসীনদের আঙ্গাবাহী ভূমিকা পালন করেছে।
ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের উপনির্বাচনে বিএনপির প্রার্থী কে হবেন তা জানা যাবে আগামীকাল
ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের উপনির্বাচনে বিএনপির প্রার্থী কে হবেন তা জানা যাবে আগামীকাল সোমবার। রবিবার মনোনয়ন ফরম বিক্রি শুরু করেছে বিএনপি। বেলা ১১টার দিকে দলের জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী আনুষ্ঠানিকভাবে মনোনয়ন ফরম বিক্রির পর এ তথ্য জানান। জোটগতভাবে প্রার্থী ঘোষণার কথা জানতে চাইলে রিজভী জানান, আলোচনা চলছে। উত্তর সিটিতে কাউন্সিলর পদে দলীয় প্রার্থী দেবেন কি না এমন প্রশ্নের জবাবে রিজভী বলেন, এলাকায় স্থানীয়ভাবে যারা রাজনীতি করেন জনপ্রিয়তা অনুযায়ী তাঁরা নির্বাচন করবেন। ঢাকার নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে দলের সহ প্রকাশনা সম্পাদক শাকিল ওয়াহেদ রিজভীর কাছ থেকে মনোনয়ন ফরম নেন। পরে শাকিল বিশ্বমানের সিটির মতো করে ঢাকা মহানগর উত্তরকে গড়ে তোলার প্রত্যয় জানান। সাড়ে ১২টার দিকে সাবেক সংসদ সদস্য মেজর অব আখতারুজ্জামান মনোনয়ন নেন। মেয়র নির্বাচিত হলে ঢাকা সিটির জন্য তার সর্বোচ্চ দিয়ে কাজ করার প্রত্যয় জানান তিনি। বেলা পৌনে একটার দিকে ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির সভাপতি আব্দুল কাইয়ুমের পক্ষে মহানগর উত্তর বিএনপির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি বজলুল বাশিত মনোনয়ন সংগ্রহ করেন। আব্দুল কাইয়ুম মামলার জন্য বিদেশে অবস্থান করছেন। মনোনয়ন সংগ্রহের পর বজলুল বাশিত বলেন, কাইয়ুম বলেছেন তাকে যদি দল থেকে মনোনয়ন দেওয়া হয় তিনি দলের হয়ে কাজ করবেন। এরপর দলের সিদ্ধান্ত তিনি মেনে নেবেন।
আজ শনিবার নির্বাচনের জন্য বিএনপির দলীয় প্রার্থীর নাম ঘোষণা করা হবে
ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের মেয়র পদে উপনির্বাচন হবে ২৬ ফেব্রুয়ারি। আজ শনিবার এ নির্বাচনের জন্য বিএনপির দলীয় প্রার্থীর নাম ঘোষণা করা হবে। নির্বাচনে প্রার্থী বাছাইয়ের ক্ষেত্রে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আমির খসরু মাহমুদ বিবিসি বাংলাকে বলেছেন, সৎ ও নিষ্ঠাবান এবং নতুন প্রজন্মের চাহিদা বিবেচনা করা হবে। গত বছরের নির্বাচনে যিনি ছিলেন, এবারও প্রার্থী বাছাইয়ের ক্ষেত্রে তিনি অগ্রাধিকার পেতে যাচ্ছেন। সেটা কতটুকু ঠিক ? জবাবে আমির খসরু বলেন, ওটা নির্বাহী কমিটির মাধ্যমে বাছাই হবে। যিনি গতবার করেছেন, তিনি দুই ঘন্টার মধ্যে ৩ লক্ষ ৬০ হাজার ভোট পেয়েছেন এবং ব্যবধানও সেরকম ছিল না। সেদিক থেকে কোনো সমস্যা নেই। তাছাড়া বিএনপি বাংলাদেশের সবচেয়ে জনপ্রিয় দল। সবকিছু মিলিয়ে বিএনপি প্রার্থীর জয়ী হওয়া উচিত। বিএনপির জোটের একটি শরীক দল জামায়াত এর মধ্যে প্রার্থী ঘোষণা করেছেন। আপনারা এর মধ্যে আজকে প্রার্থী ঘোষণা করবেন। তাহলে এ নির্বাচনটি দলগতভাবে প্রার্থী হবে নাকি যোগ্যতাভাবে দেয়ার সম্ভাবনা আছে ? জবাবে আমির খসরু বলেন, সেটা তো সিদ্ধান্ত হয়নি। সেটা আজ হয়তো স্ট্যান্ডিং কমিটির আলোচনা হতে পারে। যদি আপনারা সিদ্ধান্ত নেন দলবদ্ধভাবে নির্বাচনে অংশগ্রহণ করবেন। তখন কোন একজন প্রার্থীকে ছাড় দিতে হবে ? জবাবে আমির খসরু বলেন, সেটা জোটগত সিদ্ধান্ত নিলে, জোটগত হবে। জামায়াত ইসলামের হলে জোটগত হবে কিনা দলীয়গত হবে সেই ধরণের সিদ্ধান্ত আমার জানা নেই। বিভিন্ন জায়গায় বিভিন্নভাবে মেয়র নির্বাচন হয়েছে, এগুলো মোটামুটি দলগতভাবে হয়েছে। ঢাকার নির্বাচনটা এখন পর্যন্ত দলগতভাবে হচ্ছে। পরবর্তীতে যদি পরিবর্তন হয় তখন সেটা আমরা দেখব। ঢাকার উত্তরের প্রয়াত মেয়র আনিসুল হকের ভিন্ন পরিকল্পনা ছিল। সেখানে বিএনপির প্রার্থীর ভিন্ন কোন পদক্ষেপ নেয়ার পরিকল্পনা কি আছে নাকি প্রয়াত মেয়রের কর্মকান্ডগুলো আপনারা অব্যাহত রাখবেন? জবাবে আমির খসরু বলেন, না। ডেভলপমেন্টে অবশ্যই জনগণের একটা চাহিদা আছে। ডেভলপমেন্টের সাথে সাথে রাজনৈতিক ব্যাপারগুলো আজকের মানুষদের বিভিন্নভাবে পীড়া দিচ্ছে। একবছর পরে জাতীয় নির্বাচনে দেশবাসি আশা করছে, সরকারের পরিবর্তন হবে। এটা কিন্তু গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। সুতরাং সবকিছু মিলিয়ে বুঝা যায়, সেটাও বিবেচনায় আনবে। উন্নয়ন ও মানুষের রাজনৈতিক অধিকারগুলোও মাথায় থাকবে।
বেগম জিয়ার জয় নিশ্চিত জেনে তার বিরুদ্ধে সংসদে প্রধানমন্ত্রী মিথ্যাচার করছেন- মির্জা ফখরুল
আগামী নির্বাচনে বেগম জিয়ার জয় নিশ্চিত জেনে তার বিরুদ্ধে সংসদে প্রধানমন্ত্রী মিথ্যাচার করছেন বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। বৃহস্পতিবার দুপুরে রাজধানীর নয়াপল্টনে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি একথা বলেন। এসময় তিনি বলেন, বেগম জিয়াকে নিয়ে সংসদে যে বক্তব্য দেয়া হয়েছে তাতে রাজনৈতিক দূরত্ব আরও বাড়বে। এ সময় তিনি বলেন, 'বিএনপির একটা জোয়ার বইছে তখন আওয়ামী লীগ বেগম জিয়ার নামে ভিত্তিহীন অপপ্রচার চালাচ্ছে।' ফখরুল বলেন, 'খালেদা ভীতির কারণে সরকার দলীয়দের মাথায় গোলযোগ সৃষ্টি হয়েছে। মিথ্যাচার বন্ধ করেন। জাতিকে বিভ্রান্ত করার চেষ্টাও বন্ধ করেন। জাতি বিভ্রান্ত হবে না।' ভিভ্রান্তি ছড়ানো বিষয়টাকে রাষ্ট্রদোহীতাও বলেও অভিযোগ করেছেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।
জীবনের শেষ নির্বাচনে জাতীয় পার্টিকে ক্ষমতায় দেখে যেতে চাই-এইচ এম এরশাদ।
এরশাদের শেষ ইচ্ছা! জীবনের শেষ নির্বাচনে জাতীয় পার্টিকে ক্ষমতায় দেখে যেতে চাই। ক্ষমতায় না গিয়ে মরতে চাই না। কথাগুলো বলেছেন জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান এইচ এম এরশাদ। মঙ্গলবার কাকরাইলে জাতীয় পার্টির যৌথসভায় এ মন্তব্য করেন তিনি। আগামী ১৫ ফেব্রুয়ারি ঢাকায় সমাবেশ করতে চায় জাতীয় পার্টি। আর সেই সমাবেশ সফল করতে যৌথসভার আয়োজন করে জাপা। এ সময় তিনি বলেন, 'আমার জীবনের শেষ নির্বাচন জাতীয় পার্টিকে ক্ষমতায় দেখে যেতে চাই। এর আগে মরতে চাই না।’ আগামীতে দেশের অবস্থা অস্থিতিশীল হওয়ার আশঙ্কা করে তিনি জানান দেশের পরিস্থিতি যাই হোক। নিজেরা শক্তিশালী হলে ভয়ের কিছু নেই। দেশের প্রধান দুই দলের কারো কাছেই দেশ নিরাপদ না উল্লেখ করে জাপার চেয়ারম্যান বলেন, 'আগামী ১৫ ফেব্রুয়ারি পাঁচ লাখ লোক জোগাড় করে আনতে পারলে জাতীয় পার্টির ক্ষমতায় যাওয়া নিশ্চিত।'
আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচন আবারও একতরফা করতে যড়যন্ত্র ও অপচেষ্টা চলছে- রিজভী
বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী অভিযোগ করেছেন, দলের চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে ব্যাঘাত সৃষ্টি করতে এবং তাঁকে হয়রানি করতে ১৪টি মামলা বকশীবাজারের বিশেষ আদালতে স্থানান্তর করা হয়েছে। আজ বুধবার দুপুরে ঢাকার নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে রিজভী এ অভিযোগ করেন। খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে বিভিন্ন অভিযোগে করা ১৪টি মামলা গত সোমবার বকশীবাজারে স্থাপিত বিশেষ জজ আদালতে স্থানান্তর করা হয়। এ বিষয়ে আইন মন্ত্রণালয় একটি প্রজ্ঞাপন জারি করে। রুহুল কবির রিজভী বলেন, বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে হয়রানিমূলক মিথ্যা মামলায় এমনিতে সপ্তাহে কয়েক দিন আদালতে হাজিরা দিতে হয়। নতুন মামলাগুলো বকশীবাজারে স্থানান্তরের উদ্দেশ্য হলো খালেদা জিয়াকে প্রতিনিয়ত হয়রানির মধ্যে রাখা। আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচন আবারও একতরফা করতে যে যড়যন্ত্র ও অপচেষ্টা চলছে, এটি তারই অংশ। তিনি অভিযোগ করেন, ‘এটি ক্যামেরা ট্রায়ালের মাধ্যমে বিচারকাজ পরিচালনা করার গভীর ষড়যন্ত্র। আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে আরও বেশি হয়রানি করতেই সরকারের আরেকটি নির্মম পদক্ষেপ। এ সময় উত্তর সিটি করপোরেশন উপনির্বাচনে সুষ্ঠু পরিবেশ নেই দাবি করে রুহুল কবির রিজভী বলেন, বিএনপি তথা ২০–দলীয় জোটের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে প্রার্থিতা ঘোষণার প্রস্তুতি চলছে। কিন্তু আজও গণমাধ্যমে খবর বেরিয়েছে, শঙ্কা ও সংশয়ের মধ্যেই তফসিল ঘোষণা হয়েছে। হঠাৎ আইনি মারপ্যাঁচ দেখিয়ে নির্বাচনকে কোনো রাজনৈতিক উদ্দেশ্য হাসিলের চেষ্টা হয় কি না, তা নিয়ে জনমনে গভীর সন্দেহ সৃষ্টি হয়েছে। বিএনপির এই নেতা আরও অভিযোগ করেন, ‘আদৌ নির্বাচন সুষ্ঠু হবে কি না, এমন প্রশ্নও ঘুরপাক খাচ্ছে। ডিএনসিসি নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা হলেও এখন পর্যন্ত সুষ্ঠু নির্বাচনের কোনো পরিবেশ নির্বাচনী এলাকায় নেই। বিরোধী দলগুলোর সভা-সমাবেশ দূরে থাক, মতবিনিময় সভা করার মতোও পরিবেশ নেই। গতকাল মঙ্গলবার ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন উপনির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করেছে নির্বাচন কমিশন। তফসিল অনুযায়ী, ভোট গ্রহণ হবে আগামী ২৬ ফেব্রুয়ারি। প্রার্থীদের মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার শেষ দিন ১৮ জানুয়ারি, তা যাচাই-বাছাই হবে ২১ ও ২২ জানুয়ারি। মনোনয়ন প্রত্যাহারের শেষ সময় ২৯ জানুয়ারি।
মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের কর্মী সমাবেশস্থলে ১৪৪ ধারা জারি করেছে প্রশাসন
মির্জা ফখরুলের কর্মসূচিতে ১৪৪ ধারা জারি। ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার রুহিয়া, ভলারহাট, ঢোলরহাট, রাজাগাঁও, রামনাথে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের কর্মী সমাবেশস্থলে ১৪৪ ধারা জারি করেছে প্রশাসন। এসব জায়গায় আওয়ামী লীগ পাল্টা কর্মসূচি ডাকায় অনির্দিষ্টকালের জন্য ১৪৪ ধারা জারি করা হয়েছে। শনিবার সকাল মির্জা ফখরুলের ঠাকুরগাঁও যাওয়ার কথা ছিল। কিন্তু, স্থানীয় প্রশাসন ১৪৪ ধারা জারি করায় তিনি আর যাননি। বিএনপি চেয়ারপারসনের প্রেস উইংয়ের সদস্য শায়রুল কবির খান এ তথ্য জানিয়েছেন। তিনি বলেন, সদর থানার ১, ২, ৪, ৫ ও ৬ নম্বর ওয়ার্ডে বিএনপি মহাসচিবের গণসংযোগ কর্মসূচি ছিল। কিন্তু, ওখানে সকাল থেকে স্থানীয় প্রশাসন ১৪৪ ধারা জারি করেছে। এজন্য তিনি নিজ এলাকায় যেতে পারছেন না।
বিএনপি নেতৃত্বাধীন ২০-দলীয় জোটের প্রার্থী তালিকায় ১০০ নতুন মুখ খুঁজছেন চেয়ারপারসন
আগামী একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপি নেতৃত্বাধীন ২০-দলীয় জোটের প্রার্থী তালিকায় ১০০ নতুন মুখ খুঁজছেন চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া। এ প্রার্থী তালিকায় প্রবীণ ও নবীন রাজনীতিবিদদের সমন্বয় ঘটাতে চান তিনি। প্রার্থী বাছাইয়ের কাজ প্রায় শেষ পর্যায়ে। জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ের দুটি অভিজ্ঞ ও শতভাগ পেশাদারি সংস্থার মাধ্যমে এই তালিকাটি তৈরি করাচ্ছে বিএনপি। এতদিন অনেক কিছু শোনা গেলেও শেষ পর্যন্ত উল্টে যাচ্ছে বিএনপির নির্বাচনী গণিতের পাতা। সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো নিশ্চিত করেছে, আগামী নির্বাচনের এই প্রার্থী তালিকায় বিগত ২০০১ এবং ২০০৮ সালে অনুষ্ঠিত জাতীয় নির্বাচনে দলীয় টিকিটে অংশ নেওয়া প্রার্থীদের মধ্য থেকেই বেশিরভাগ প্রার্থী বাছাই করা হচ্ছে। এর মাঝে সাবেক ছাত্রদল নেতা ও ব্যবসায়ীদের অগ্রাধিকার দেওয়া হবে। সর্বমোট ৩০০ প্রার্থীর মধ্য থেকে জোটের শরিকদের মধ্যে বণ্টন প্রক্রিয়াসহ বিভিন্ন কারণে প্রায় শতাধিক প্রার্থী পরিবর্তন হতে চলেছে। এক্ষেত্রে নতুন মুখের প্রার্থী খুঁজছে দলটি। দলের চেয়ারপারসন এই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন এবং সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নেতৃত্বে দেশি ও বিদেশি দুটি পেশাদারি সংস্থা কাজ করছে। এবারের প্রার্থী বাছাইয়ের ক্ষেত্রে সংস্কারপন্থি, মূলধারা, বয়োজ্যেষ্ঠতা, জামায়াতসহ শরিক দল, বিগত নির্বাচনে পুরনো প্রার্থীসহ ভোটের সংখ্যা ও ভোটের পার্থক্য এ বিষয়গুলো বিবেচনায় নিয়েই চূড়ান্ত করা হচ্ছে প্রার্থী তালিকা। জানা গেছে, যারা ইতিমধ্যে মারা গেছেন কিংবা এতটাই বয়োজ্যেষ্ঠ হয়ে পড়েছেন যে- শারীরিকভাবে একেবারে অক্ষম, তারা সবাই এবারের প্রার্থী তালিকা থেকে বাদ যাচ্ছেন। এ ছাড়াও যারা এর মধ্যে দল ছেড়ে চলে গেছেন কিংবা দল থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে, তারাও এবারের তালিকা থেকে বাদ পড়তে যাচ্ছেন। তবে মৃত কিংবা বয়োজ্যেষ্ঠ অক্ষম নেতাদের এলাকায় তাদের স্থলে তাদের যোগ্য কোনো উত্তরাধিকারী কিংবা সংশ্লিষ্ট এলাকার যোগ্য ও সামর্থ্যবান নেতাদের মধ্য থেকেও মনোনয়ন দেওয়ার কথা চিন্তা করা হচ্ছে। এদিকে সংশ্লিষ্ট অপর একটি সূত্রে জানা গেছে, আগামী নির্বাচনে ২০-দলীয় জোটের শরিক দলের আসন চাহিদা মাথায় রেখেই চলছে এই প্রার্থিতা বাছাইয়ের কাজ। জাতীয় সংসদে বিগত দিনে প্রতিনিধিত্ব করেছে- এমন শরিক দলগুলো ছাড়াও নতুন আরও বেশ কয়েকটি দলের শীর্ষ কয়েকজন নেতাকেও এবার মনোনয়ন দেওয়ার কথা বিবেচনা করছে বিএনপি। বিএনপি নেতৃত্বাধীন জোটের প্রধান শরিক দল জামায়াতে ইসলামীকে নিয়ে এখন দুভাবে চিন্তা করছে বিএনপি। এক. জামায়াতের নিবন্ধন যদি ঠিক থাকে- আর তারা তাদের দলীয় প্রতীক নিয়ে নির্বাচনে যেতে সক্ষম হয়, তবে সেক্ষেত্রে বিএনপি সর্বোচ্চ ৩০টি আসনে ছাড় দেওয়ার কথা ভাবছে। আর যদি নিবন্ধন এবং দলীয় প্রতীক দুটোই হারায়- তবে সেক্ষেত্রে সর্বোচ্চ ১০ থেকে ১৫টি আসনে ছাড় দিতে পারে বিএনপি। বিগত ২০০৮ সালের নির্বাচনে ৪০টি আসনে জোটের মনোনয়ন পেয়েছিল জামায়াতে ইসলামী। কিন্তু এবার তার অর্ধেক আসন পেতে পারে দলটি। কারণ বিএনপি ধরেই নিয়েছে জামায়াত শেষ পর্যন্ত তাদের দলীয় নিবন্ধন ও দলীয় প্রতীক ফিরে পাচ্ছে না। আর যদি ফিরে পায় তবে সেটি হবে সরকারের বদান্যতা। আর তখন তাদের নিয়ে আলাদাভাবে হিসাব-নিকাশ করতে হবে বিএনপিকে। তবে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এবার বলেছেন অন্য কথা। তিনি পরিষ্কার ভাষায় বলেছেন, জামায়াত জোটে ছিল, এখনো আছে এবং আশা করছি ভবিষ্যতেও থাকবে। আওয়ামী লীগের সঙ্গে গেলেই তারা ভালো, আর বিএনপির সঙ্গে থাকলে খারাপ- ক্ষমতাসীনদের এসব ভাঁওতাবাজি জনগণ ভালো করেই বুছে গেছে। স্বৈরাচারি এরশাদকে নিয়ে সরকার গঠন করলেও তাদের কোনো সমস্যা নেই। সমস্যা শুধু বিএনপির সঙ্গে আসলেই। বিএনপির স্থায়ী কমিটির অন্যতম সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন বলেন, বিএনপি গণতান্ত্রিক রাজনৈতিক দল। নির্বাচনে জনগণের ভোটের মাধ্যমেই সরকার পরিবর্তনে আমরা বিশ্বাসী। আর প্রার্থী বাছাইয়ের বিষয়টিও নির্বাচনী প্রক্রিয়ারই একটি অংশ। বিএনপি যে কোনো সময়ে নির্বাচনের জন্যই প্রস্তুত। তবে সে নির্বাচন হতে হবে- নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে অবাধ ও সুষ্ঠু। অন্যথায়- এবার আর কোনো প্রহসনের নির্বাচন এদেশের জনগণ বরদাশত করবে না। সরকার যদি মনে করে বিরোধী দলের নেতা-কর্মীদের মামলা-হামলা দিয়ে আর গুম, খুন করে ৫ জানুয়ারির মতো আরেকটা নির্বাচন করে আবারও ক্ষমতা ধরে রাখবে তাহলে সেটি হবে তাদের দুঃস্বপ্ন। এ বিষয়ে বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান চৌধুরী কামাল ইবনে ইউসুফ বলেন, বিএনপির সব কার্যক্রমই এখন নির্বাচনমুখী। দল গোছানো থেকে শুরু করে সাংগঠনিক কার্যক্রম পর্যন্ত সব কিছুরই লক্ষ্য আগামী জাতীয় নির্বাচন।