পাসপোর্ট জমা দিয়েছেন তারেক রহমান,সারেন্ডার করেননি: রিজভী
বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান রাজনৈতিক আশ্রয়ের জন্য যুক্তরাজ্যের হোম ডিপার্টমেন্টে তার পাসপোর্ট জমা দিয়েছেন, কিন্তু সারেন্ডার করেননি। বৃহস্পতিবার রাজধানীর নয়াপল্টনে এক সংবাদ সম্মেলনে এ কথা জানিয়েছেন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী। এ সময় সাংবাদিকদের তিনি বলেন, তারেক রহমান ব্রিটেনের আইন মোতাবেক সেখানে বসবাস করছেন। এ কথাটি আমি এবং আমার দলের পক্ষ থেকে আপনাদের কাছে বারবার উপস্থাপন করা হয়েছে। রিজভী আরও বলেন, তারেক রহমান বাংলাদেশের নাগরিকত্ব বর্জন করেননি। যুক্তরাজ্যের অভিবাসন আইনে শত শত দেশের নাগরিকরা যেভাবে পলিটিক্যাল অ্যাসাইলাম নিয়ে অবস্থান করেন, সেভাবেই তিনি সেখানে অবস্থান করছেন। এ সময় বিএনপির মুখপাত্র প্রশ্ন রেখে বলেন, আওয়ামী লীগপ্রধান শেখ হাসিনার কাছে জানতে চাই- আপনি কিভাবে দিল্লিতে নির্বাসিত জীবন কাটিয়েছিলেন? রাজনৈতিক আশ্রয়ে কিভাবে ছিলেন? আপনার ছোট বোন শেখ রেহানা কিভাবে ব্রিটেনে অবস্থান করেছিলেন? রিজভীর অভিযোগ, সরকার তারেক রহমানের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করতে ব্যর্থ হয়ে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলমকে দিয়ে প্রশ্নবিদ্ধ কাগজপত্র উপস্থাপন করাচ্ছে। কিন্তু শাহরিয়ার আলম দেশের মানুষের সমালোচনার মুখে নিজের ফেসবুক থেকে উপস্থাপিত কাগজপত্র সরিয়ে ফেলেছেন বলে দাবি করেন এ বিএনপি নেতা। সংবাদ সম্মেলনে বুধবার গ্রেফতার বগুড়ার শাহজাহানপুর উপজেলা ছাত্রদল সাধারণ সম্পাদক রেজাউল করিম রেজা ও গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জ উপজেলা যুবদল সভাপতি জাকির হোসেন জুয়েলের মুক্তি দাবি করা হয়।
বাকশাল চালুর ইঙ্গিত হানিফের বক্তব্যে: রিজভী
শেখ হাসিনা যতদিন জীবিত আছেন, ততদিন পর্যন্ত আওয়ামী লীগ বাংলাদেশে ক্ষমতায় থাকবে আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুবউল আলম হানিফের এই বক্তব্য স্বীকৃত স্বৈরাচারী সরকারেরই যথার্থ প্রতিধ্বনি বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী। তিনি বলেছেন, তার এই বক্তব্য গণতন্ত্রকে চিরদিনের জন্য নির্বাসনে পাঠিয়ে বাকশাল পুরোদমে চালু রাখার ইঙ্গিতবাহী। তারা যে দেশকে গৃহযুদ্ধের দিকে ঠেলে দিতে চায়, তার বক্তব্য সেটিরই বহি:প্রকাশ। বৃহস্পতিবার সকালে নয়া পল্টনে দলীয় কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে রুহুল কবির রিজভী এসব বলেন। এসময় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা কিভাবে দিল্লিতে নির্বাসিত জীবন কাটিয়েছিলেন? রাজনৈতিক আশ্রয়ে কিভাবে ছিলেন? তার ছোট বোন শেখ রেহানা কিভাবে ব্রিটেনে অবস্থান করেছিলেন? জাতির সামনে এর জবাব দেয়ার আহ্বান জানান রিজভী। তিনি বলেন, বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে নিয়ে সরকারি ষড়যন্ত্রের যেন শেষ নেই। তারেক রহমানকে নিয়ে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলমের বক্তব্যে সাধারণ মানুষের মাঝে সমালোচনার ঝড় বইছে। সমালোচনার মুখে তিনি তার ফেসবুকে পোস্ট দেওয়া সকল ডকুমেন্টস সরিয়ে নিয়ে এখন বলছেন, তার ফেসবুক হ্যাকড হয়েছে। মূলত প্রশ্নবিদ্ধ কাগজপত্র উপস্থাপন করে তিনি সবার কাছে হাসির পাত্রে পরিণত হয়েছেন। বিএনপির এই নেতা বলেন, তারেক রহমান ব্রিটেনের আইন মোতাবেক সেখানে বসবাস করছেন যা দলের পক্ষ থেকে বার বার উপস্থাপন করা হয়েছে। তিনি বলেন, আওয়ামী লীগ প্রধান শেখ হাসিনা প্রতিহিংসা চরিতার্থ করতে নানাভাবে ষড়যন্ত্র ও তদ্বির করে ব্যর্থ হয়ে তার কেবিনেটের প্রতিমন্ত্রীকে দিয়ে জাতির সামনে প্রশ্নবিদ্ধ কাগজপত্র উপস্থাপন করাচ্ছেন। দেশের মানুষের সমালোচনা ও প্রত্যাখানের মুখে শাহরিয়ার আলম তার ফেসবুক থেকে উপস্থাপিত কাগজপত্র সরিয়ে ফেলেছেন। বিনা ভোটের সরকারকে সবসময় জাল জালিয়াতির আশ্রয় নিয়েই চলতে হয়। আমি পরিষ্কার ভাষায় আবারো বলতে চাই- তারেক রহমান বাংলাদেশের নাগরিকত্ব বর্জন করেননি। যুক্তরাজ্যের অভিবাসন আইনে শত শত দেশের নাগরিকরা যেভাবে পলিটিক্যাল অ্যাসাইলাম নিয়ে অবস্থান করেন সেভাবেই তিনি সেখানে অবস্থান করছেন। তিনি যুক্তরাজ্যের হোম ডিপার্টমেন্টে পলিটিক্যাল এসাইমেন্টের জন্য তার পাসপোর্টটি জমা দিয়েছেন, সারেন্ডার করেননি। রিজভী বলেন, আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুবউল আলম হানিফ বলেছেন, শেখ হাসিনা যতদিন জীবিত আছেন, ততদিন পর্যন্ত শেখ হাসিনার নেতৃত্বে আওয়ামী লীগ বাংলাদেশে ক্ষমতায় থাকবে, শেখ হাসিনা ততদিন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী থাকবেন। ২০১৮ সাল নয়, ২০২৪ সালে নয়, ২০২৯ সালের পরে তাদের ক্ষমতায় আসার জন্য ভাবনা করতে হবে। আওয়ামী লীগ নেতার এই বক্তব্য স্বীকৃত স্বৈরাচারী সরকারেরই যথার্থ প্রতিধ্বনি। এই বক্তব্যে গণতন্ত্রকে চিরদিনের জন্য নির্বাসনে পাঠিয়ে বাকশাল পুরোদমে চালু রাখার ইঙ্গিতবাহী। তারা যে দেশকে গৃহযুদ্ধের দিকে ঠেলে দিতে চায়, তার বক্তব্য সেটিরই বহি:প্রকাশ। তিনি বলেন, দেশজুড়ে বেকারত্ব, রাজনৈতিক মতপ্রকাশে স্বাধীনতাহরণ, লুটপাট ও দমননীতির বেপরোয়া উত্থানকে আরো দীর্ঘায়িত করা। দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে বেআইনী কারাবাসে আটকে রেখে তাকে যথাযথ চিকিৎসা না দিয়ে তার অসুস্থতা তীব্র থেকে তীব্রতর করার এক ভয়ঙ্কর মাস্টারপ্ল্যানের যে অংশ, তা হানিফ সাহেবের বক্তব্যে ফুটে উঠেছে। দেশনেত্রীর অসুস্থতা নিয়ে মানুষের উদ্বিগ্ন মনকে অন্যদিকে নিবদ্ধ করার জন্যই সরকারের নানা কারসাজির মধ্যে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের নাগরিকত্ব নিয়ে উদ্ভট, ভুয়া ও হাস্যকর প্রশ্ন তোলা আরেকটি কারসাজি। তিনি বলেন, হানিফ সাহেবের বক্তব্যে কী প্রমাণ হলো আপনারা সদলবলে ভারতে গিয়েছিলেন কী ক্ষমতায় টিকে থাকতে দেনদরবার করতে? বিভিন্ন মাধ্যমে সরকার জেনে গেছে যে, সুষ্ঠু নির্বাচন হলে আওয়ামী লীগ ২০/২২টির বেশি আসন পাবে না। তাই একতরফা নির্বাচনের পক্ষে নাক গলাতে তারা দৌড়ঝাপ শুরু করে দিয়েছে। দেশকে গণতন্ত্রহীন করে আওয়ামী সরকার সন্ত্রাসবাদের মাধ্যমে গোটা দেশকে নিয়ন্ত্রণ করছে। হানিফ সাহেবের বক্তব্যে জাতির সামনে ভয়ঙ্কর তথ্য বেরিয়ে আসলো, গণতন্ত্র বিধ্বংসী আওয়ামী লীগের পকিল্পনার বহিঃপ্রকাশ ঘটলো। কিন্তু জনগণ এবার আর বিন্দুমাত্র ছাড় দেবে না। রিজভী বলেন, গতকাল বগুড়ায় দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার নি:শর্ত মুক্তির দাবিতে চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা হেলালুজ্জামান তালুকদা লালুর নেতৃত্বে নেতাকর্মীরা লিফলেট বিতরণের এক পর্যায়ে বগুড়ার শাহজাহানপুর উপজেলা ছাত্রদল সাধারণ সম্পাদক রেজাউল করিম রেজাকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জ উপজেলা যুবদল সভাপতি জাকির হোসেন জুয়েলকেও গ্রেফতার করেছে পুলিশ। আমি তাদেরকে গ্রেফতারের ঘটনায় তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি এবং অবিলম্বে তাদের নি:শর্ত মুক্তি দাবি করছি।
নয়াপল্টনে বিএনপির মানববন্ধন খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবিতে
বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবিতে মানববন্ধন করছে দলটির নেতাকর্মীরা।মানববন্ধনে অংশ নিতে বুধবার সকাল ১০টা থেকেই রাজধানীর নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে জড়ো শত শত নেতাকর্মী। মানববন্ধনে উপস্থিত আছেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেনসহ দলের সিনিয়র নেতারা।গত ৮ ফেব্রুয়ারি জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলার রায় ঘোষণা করেন বিশেষ আদালতের বিচারক ডা. মো. আখতারুজ্জামান। রায়ে তিনি সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়াকে পাঁচ বছরের কারাদণ্ডাদেশ দেন। এ ছাড়া বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানসহ পাঁচ আসামিকে ১০ বছর করে কারাদণ্ড এবং দুই কোটি ১০ লাখ টাকা করে জরিমানা করা হয়। রায় ঘোষণার পর থেকেই খালেদা জিয়া পুরান ঢাকার নাজিমউদ্দিন রোডের পুরনো কারাগারে আছেন।খালেদা জিয়া কারাবন্দি হওয়ার পর থেকেই তার মুক্তির দাবিতে বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করছে বিএনপি। তারই ধারাবাহিকতায় আজ মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করছে দলটির নেতাকর্মীরা।
দেশের রাজনীতিতে হঠাৎ করে ছড়িয়ে পড়েছে উত্তাপ,তারেকের পাসপোর্ট নিয়ে তোলপাড়
দেশের রাজনীতিতে হঠাৎ করে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে নিয়ে ছড়িয়ে পড়েছে উত্তাপ। ইস্যু তারেকের পাসপোর্ট। গত ২১ এপ্রিল লন্ডনে এক সভায় পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলম জানান, তারেক রহমান বাংলাদেশি পাসপোর্ট স্যারেন্ডার করেছেন। তার এ বক্তব্য ফেইক অবিহিত করে পাল্টা চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে দিয়ে বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী প্রমাণের আহ্বন জানান। প্রতিমন্ত্রীর বিরুদ্ধে আইনি নোটিশ দেন তারেক রহমান। অতঃপর তারেকের পাসপোর্ট বিতর্কে ডালপালা ছড়িয়ে পড়ে সর্বত্র। সভা সেমিনার, টিভির টকশো, ফেসবুক, ব্লগ, টুইটার, প্রিন্ট মিডিয়ার রিপোর্ট, উপ-সম্পাদকীয় সর্বত্রই চলছে তারেকের পাসপোর্ট ইস্যু নিয়ে বিতর্ক। সরকার আর বিএনপির পাল্টাপাল্টি বক্তব্যে উত্তপ্ত হয়ে পড়েছে রাজনৈতিক অঙ্গন। এখন সবকিছু ছাপিয়ে তারেক রহমানের পাসপোর্ট ইস্যু নিয়ে চলছে তোলপাড়। প্রতিমন্ত্রীর বক্তব্য প্রমানের জন্য বিএনপি থেকে চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে দেয়ার পর আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে সংবাদ সম্মেলন করে উল্টো বিএনপির প্রতি চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে দেয়া হয়। বলা হয় তারেক রহমান লন্ডনস্থ বাংলাদেশ হাইকমিশনে পাসপোর্ট স্যারেন্ডার করেননি তার প্রমাণ দিন। আবার প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলম অভিযোগ করে বলেন, বিদেশে থেকে পাসপোর্ট ফেরত দেয়ার অর্থ হলো তারেক দেশের নাগরিকত্ব বর্জন করেছেন। তার দেশে ফেরার ইচ্ছে নেই বলেই হয়তো পাসপোর্ট সারেন্ডার করেছেন। অন্যদিকে প্রতিমন্ত্রীর দেয়া প্রমাণপত্রে ১৩টি ভুল রয়েছে এবং অভিযোগ আজগুবি মন্তব্য করে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, লন্ডনে অবস্থানরত বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান সেই দেশের (ইংল্যান্ড) আইন অনুযায়ী পাসপোর্ট জমা দিয়ে ট্রাভেল পারমিট নিয়েছেন। সরকারের লোকদের পক্ষ থেকে সামাজিক মাধ্যম ও গণমাধ্যমে তারেক রহমান বাংলাদেশের নাগরিকত্ব প্রত্যাহার করেছেন মর্মে যে প্রচার চালাচ্ছে তা রাজনৈতিক প্রতিহিংসামূলক। এমনকি আওয়ামী লীগের সাবেক নেতা বর্তমানে নাগরিক ঐক্যের আহবায়ক মাহমুদুর রহমান মান্নাও প্রতিমন্ত্রীর প্রদর্শিত প্রমাণপত্রকে নকল হিসেবে অবিহিত করেছেন। তারেক রহমান বিদেশে থেকে বাংলাদেশের নাগরিকত্বের পাসপোর্ট স্যারেন্ডার করেছেন প্রতিমন্ত্রীর এই বক্তব্য মিডিয়ায় ফলাও করে প্রচার শুরু হলে বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী নয়াপল্টন্থ কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করেন। তিনি তারেক রহমানের পাসপোর্ট হাইকমিশনে জমার বিষয়ে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী দেয়া তথ্যকে উড়ো খবর হিসেবে অবিহিত করে আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের আভাস দেন। সরকারের উদ্দেশে তিনি বলেন, হাইকমিশন তো সরকারের নিয়ন্ত্রণে। তারেক রহমান পাসপোর্ট জমা দিয়ে থাকলে সেটি প্রদর্শন করে দেখান। তিনি পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীর উদ্দেশে বলেন,প্রধানমন্ত্রীর আস্থাভাজন হওয়ার জন্য রাজনৈতিক প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে মিথ্যা কথা বলে মন্ত্রিত্ব টিকিয়ে রাখার চেষ্টা নিজের আত্মা বিক্রির সমতুল্য। অতপর তারেক রহমানের পক্ষে উকিল নোটিশ পাঠানো হয় প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলম ও যাচাই-বাছাই না করে খবর প্রকাশ করা দুটি দৈনিক পত্রিকার বিরুদ্ধে। ব্যারিস্টার কায়সার কামাল স্বাক্ষরিত ওই লিগ্যাল নোটিশে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান বাংলাদেশের নাগরিকত্ব বর্জন করেছেন এ খবর ভিত্তিহীন দাবি করে তা প্রত্যাহার করতে বলা হয়। ১০ দিনের মধ্যে বক্তব্য প্রত্যাহার না করলে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে বলে নোটিশে উল্লেখ করা হয়। ব্যারিস্টার কায়সার কামাল বলেছেন, উদ্দেশ্যপ্রণোদিত হয়ে তারেক রহমানকে রাজনৈতিকভাবে হেয় করতেই সম্পূর্ণ মিথ্যা ও বানোয়াট বক্তব্য দেয়া হয়েছে। ১০ দিনের মধ্যে বক্তব্য প্রত্যাহার করে জাতির কাছে প্রকাশ্যে ক্ষমা চাইতে হবে। অন্যথায় তাদের সবার বিরুদ্ধে দেওয়ানি ও ফৌজদারি মামলা করা হবে। অন্যদিকে গুলশানের বাসায় সংবাদ সম্মেলন করে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলম বলেন, দেশে ফেরার ইচ্ছে নেই বলেই হয়তো তারেক রহমান পাসপোর্ট সারেন্ডার করেছেন। ২০০৮ সালে তিনি যখন লন্ডনে যান তখন স্মার্ট কার্ডও ছিল না। পাসপোর্ট তার একমাত্র পরিচয়পত্র ছিল। সেই পাসপোর্ট তিনি সারেন্ডার করেছেন। তিনি আবেদনও করেননি নতুন পাসপোর্টের জন্য। নতুন পাসপোর্টের আবেদন জানিয়ে থাকলে তার রিসিপ্ট কপি দেখানোর আহ্বান জানিয়ে শাহরিয়ার আলম বলেন, বিদেশে থেকে পাসপোর্ট ফেরত দেওয়ার অর্থ হলো তিনি দেশের নাগরিকত্ব বর্জন করেছেন। বিএনপি বলে আসছে তিনি চিকিৎসার জন্য সেখানে অবস্থান করছেন। এটা হাস্যকর। বিএনপির লিগ্যাল নোটিশের ব্যাপারে প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, আমি কোনো নোটিশ পাইনি। আই ওয়েলকাম ইট। এটা শুনে ভালো লাগছে যে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বাংলাদেশের আদালতে আশ্রয় নেয়ার অভিপ্রায় ব্যক্ত করেছে। কিন্তু সেই সঙ্গে আমার এই প্রশ্ন যে আদালত তারেক রহমানকে খুঁজে বেড়াচ্ছে সেই আদালতের আশ্রয় নিলে আদালত তাকে আশ্রয় দেবে কিনা? নাগরিকত্ব ছেড়ে দিতে হলে কি কোনো আইনগত প্রক্রিয়া অনুসরণ করতে হয় জানতে চাইলে শাহরিয়ার আলম বলেন, আমি জানি না। পররাষ্ট্রমন্ত্রীর দায়িত্ব অতদূর পড়ে না; ওটা আইনমন্ত্রীর বিষয়। আমরা যতদূর জানি ২০১৪ সালের ২ জুনের পর তারেক রহমান আন্তর্জাতিক কোনো সফর বা অন্য কোনো দেশে যাননি। এর আগে প্রতিমন্ত্রী বলেছিলেন, ২০১৪ সালের জুন মাসের ২ তারিখে ব্রিটিশ হোম অফিস (ইমিগ্রেশন অ্যান্ড এনফোর্সমেন্ট) থেকে বাংলাদেশ দূতাবাসে একটি চিঠি পাঠানো হয়। চিঠিতে তারেক রহমান, স্ত্রী জোবায়দা রহমান, মেয়ে জাইমা রহমান ও মঈনুল ইসলাম নামে এক ব্যক্তির পাসপোর্ট হস্তান্তর করার বিষয় উল্লেখ করা হয়। লন্ডনে বাংলাদেশ হাইকমিশনে সবুজ পাসপোর্ট জমা দিয়ে বাংলাদেশের নাগরিকত্ব বর্জন করেছেন তারেক রহমান। অবশ্য এর আগে দেশের প্রখ্যাত একজন মিডিয়া ব্যক্তিত্বের সম্পাদনায় প্রকাশিত অনলাইন পত্রিকায় তারেকের স্ত্রী-কন্যা ইংল্যান্ডের নাগরিকত্বের জন্য আবেদন করেছেন শিরোনামে রিপোর্ট প্রকাশ করে পরে তাদের কাছে ভুল স্বীকার করে মিডিয়ার মাধ্যমেই ক্ষমা চেয়েছেন। তবে তারেক রহমানের আইনজীবী ব্যারিস্টার কায়সার কামাল বলেন, লন্ডন, যুক্তরাষ্ট্র বা পশ্চিমা বিশ্বে কেউ অবৈধভাবে বসবাস করতে পারে না। চিকিৎসার জন্য তারেক রহমান বিগত ৯ বছর ধরে ব্রিটেনে আছেন বৈধভাবেই। তিনি পরিবার নিয়ে সেখানে অবস্থান করছেন। বাংলাদেশের নাগরিকত্ব নিয়েই তিনি বৈধভাবে ব্রিটেনে বসবাস করছেন। তারেক রহমান ব্রিটেনের নাগরিকত্ব নিয়েছেন কিনা এই প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, তারেক রহমান বাংলাদেশে সর্ববৃহৎ একটি দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান। তার অন্য কোনো দেশের নাগরিকত্ব গ্রহণের প্রশ্নই আসে না। বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর সংবাদ সম্মেলন করে বলেন, তারেক রহমান সাবেক প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার সন্তান। তিনি একজন সম্মানিত নাগরিক। তার বিরুদ্ধে সরকার ভিত্তিহীন অপপ্রচার চালাচ্ছে। সরকারের মিথ্যা বক্তব্যের কারণে তারেক রহমানের জীবন এখন নিরাপত্তাহীনতায় আছে। পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলম গতকাল ফেসবুক স্ট্যাটাস দিয়ে বলেন, রিজভী সাহেব চ্যালেঞ্জ দিয়েছিলেন তারেকের ফিরিয়ে দেয়া পাসপোর্ট থাকলে তা দেখাতে। গতকাল তা মিডিয়ায় দেখিয়ে উল্টো চ্যালেঞ্জ দিয়েছিলাম, তাদের পরিবারের পাসপোর্ট ফেরত দেয়া না হলে তারা দেখাক অথবা মেয়াদ বৃদ্ধির আবেদন করলে তাও প্রমাণসহ বলুক। জবাবে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, আমরা দৃঢ়তার সঙ্গে স্পষ্ট ভাষায় দেশবাসীকে জানাচ্ছি তারেক রহমান জন্মসূত্রে বাংলাদেশের একজন গর্বিত নাগরিক। তিনি তার এই প্রিয় দেশের নাগরিক ছিলেন, আছেন ও থাকবেন। তারেক রহমান বিশ্বের অসংখ্য বরেণ্য রাজনীতিবিদ, সরকারবিরোধী বিশিষ্ট ব্যক্তিদের মতোই সাময়িকভাবে বিদেশে রাজনৈতিক আশ্রয় চেয়েছেন। সঙ্গত কারণেই তা পেয়েছেন। এই প্রক্রিয়ার স্বাভাবিক অংশ হিসেবেই তিনি যুক্তরাজ্যের স্বরাষ্ট্র বিভাগে তার পাসপোর্ট জমা দিয়েছেন। সে দেশে প্রচলিত আইন অনুযায়ী তার পাসপোর্ট জমা রেখে তাকে ট্রাভেল পারমিট দেওয়া হয়েছে। কাজেই এই মুহূর্তে বাংলাদেশের পাসপোর্ট তার কোনো কাজে লাগছে না। যখনই তিনি দেশে ফেরার মতো সুস্থ হবেন তখনই তিনি দেশের অন্যান্য নাগরিকের মতোই পাসপোর্টের জন্য আবেদন জানাতে এবং তা অর্জন করতে পারবেন। স্রেফ জমা রাখার জন্য ব্রিটিশ স্বরাষ্ট্র বিভাগ থেকে তারেক রহমানের পাসপোর্ট লন্ডন হাইকমিশনে পাঠানোর যে তথ্য প্রচার করা হচ্ছে, তার দ্বারা কোনো আইন কিংবা যুক্তিতে প্রমাণ হয় না যে তিনি বাংলাদেশের নাগরিকত্ব পরিত্যাগ করেছেন। লন্ডন সফরের একমাত্র অর্জন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীর সংগ্রহ করা তারেক রহমানের ২০০৮ সালে ইস্যু করা পাসপোর্টের ৩টি পাতা এবং ব্রিটিশ স্বরাষ্ট্র বিভাগের অসংখ্য ভুলে ভরা রহস্যজনক একটি চিঠির ফটোকপি। কী বিচিত্র এই সরকার! কী দুর্বল তাদের অপকৌশল! তথ্য প্রতিমন্ত্রী অ্যাডভোকেট তারানা হালিম বলেছেন, তারেক রহমান তার পাসপোর্ট নবায়ন না করে সরকারের কাছে ফেরত দিয়েছেন। এখনও তিনি কীভাবে বাংলাদেশের নাগরিক? এদিকে তারেক রহমানের পাসপোর্ট স্যারেন্ডার নিয়ে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলমের উপস্থাপিত যুক্তরাজ্যের নথি নকল বলে দাবি করেছেন নাগরিক ঐক্যের আহ্বায়ক মাহমুদুর রহমান মান্না। তিনি বলেন, একটা দলিল নকল করার সময় যখন ভুল হয়, তখন বুঝতে হবে যিনি নকল করছেন, তিনি টেনশনে আছেন। না হলে এত ভুল হয় না। ব্রিটিশ হোম ডিপার্টমেন্ট দিচ্ছে বাংলাদেশ অ্যাম্বাসিকে। বাংলাদেশ অ্যাম্বাসি নামে কিছু আছে? দ্যাট ইজ বাংলাদেশ হাইকমিশন। যারা কমনওয়েলথের মধ্যে আছে তারা অ্যাম্বাসি বলে না। তারপর লেখছে স্যারস, ওরে বাবা রে এতগুলো স্যার কোথা থেকে আসল? চিঠি যখন লিখি, তখন ১০ জন স্যারের কাছে লিখি নাকি! এরপর এই চিঠির মধ্যে এরকম করে পাসপোর্ট কথা বলা হয়েছে, বোঝাই যাচ্ছে না, এটা কী কারণে দেওয়া হচ্ছে। সবশেষে যে সই করেছে তার কোনো নাম নেই। বানান ভুল আছে। বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আবদুল মঈন খান বলেন, এত বিজ্ঞ রাজনৈতিক শক্তি সরকার রপ্ত করেছে, আমার প্রশ্ন জাগে, এত বুদ্ধিমান সরকার, তারা কি নাগরিকত্ব এবং একটি ট্রাভেল ডকুমেন্টের মধ্যে যে ব্যবধান, সেই সামান্য ব্যবধানটি বুঝতে পারেনি? সাবেক আইন মন্ত্রী ব্যারিস্টার শফিক আহমেদ বলেছেন উনি (তারেক রহমান) ভিসা নিয়ে গিয়েছিলেন। সেই ভিসার একটি মেয়াদ আছে। ভিসার মেয়াদ উত্তীর্ণ হয়ে গেলে তিনি সেখানে কীভাবে থাকছেন, তা নিয়ে কিন্তু প্রশ্ন এসে যায়। সেজন্য পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী একথা বলেছেন যে উনি পাসপোর্ট জমা দিয়েছেন। এর উদ্দেশ্য কী হতে পারে? তিনি মেয়াদ বাড়ানোর জন্য পাঠিয়েছেন, অথবা পাসপোর্ট সারেন্ডার (ত্যাগ) করেছেন। এ সম্পর্কে আমার মনে হয় আরও কিছু তথ্য দরকার। সত্যতা যাচাই করা দরকার, উনি ব্রিটিশ নাগরিকত্ব পেয়েছেন কিনা এবং সেই প্রেক্ষিতেই বাংলাদেশের নাগরিকত্ব বর্জন করেছেন কিনা, সেটা এখন জানার বিষয়। পাসপোর্টে একটি মেয়াদ থাকে। মেয়াদ শেষ হলে পাসপোর্ট ইস্যু করবে কে? বাংলাদেশের সরকারের কাছ থেকেই তো পাসপোর্ট নিয়েছে। ব্রিটিশ সরকার তো পাসপোর্ট ইস্যু করবে না। সেক্ষেত্রে উনি (পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী) হয়তো প্রিজাম্পশন (ধারণা) করেছেন। এটা তো ধারণা হয় যে বাংলাদেশে উনার (তারেক রহমান) নাগরিকত্ব নেই। সেটা দেখাতেই ব্রিটিশ সরকারকে পাসপোর্ট দিয়েছেন। সুতরাং পাসপোর্ট জমার মাধ্যমে এখন তিনি বাংলাদেশের নাগরিকত্ব বর্জন এবং ব্রিটিশ নাগরিকত্ব গ্রহণ করেছেন কিনা তা দেখার বিষয়। এটি না জেনে আমাদের মনে হয় কোনও মন্তব্য করা ঠিক হবে না। অবশ্য তারেক রহমানকে অবিলম্বে বাংলাদেশের আইনের আওতায় সোপর্দ করার জন্য যুক্তরাজ্য সরকারের প্রতি জোর দাবি জানিয়েছে আওয়ামী লীগ। সোমবার রাজধানীর ধানমন্ডিতে আওয়ামী লীগ সভাপতির রাজনৈতিক কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে এ দাবি জানিয়ে দলের নেতা আবু সাঈদ আল মাহমুদ স্বপন বলেন, এই ধরনের অপরাধী ও আন্তর্জাতিক সন্ত্রাসবাদের পৃষ্ঠপোষকের স্থান যুক্তরাজ্যে হতে পারে না। তারেক রহমানের কাছে বাংলাদেশের কোনো পাসপোর্ট যদি থাকে সেটি আগে দেখাক। তিনি ওয়ান ইলেভেনের পর একবার মাত্র পাসপোর্ট রিনিউ করেছেন। এরপর ব্রিটিশ হোম অফিসের মাধ্যমে ডাকযোগে তিনি বাংলাদেশি পাসপোর্ট স্যারেন্ডার করেন।
পাসপোর্ট জমা দিয়ে ট্রাভেল পারমিট নিয়েছেন তারেক রহমান আইন অনুযায়ী
লন্ডনে অবস্থানরত বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান যুক্তরাজ্যের আইন অনুযায়ী পাসপোর্ট জমা দিয়ে ট্রাভেল পারমিট নিয়েছেন বলে দাবি করেছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। মঙ্গলবার বেলা সোয়া ১১ টার দিকে নয়াপল্টনের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ দাবি করেন। মির্জা ফখরুল বলেন, লন্ডনে অবস্থানরত বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান সেই দেশের আইন অনুযায়ী পাসপোর্ট জমা দিয়ে ট্রাভেল পারমিট নিয়েছেন। সরকারের লোকদের পক্ষ থেকে সামাজিক মাধ্যম ও গণমাধ্যমে তারেক রহমান বাংলাদেশের নাগরিকত্ব প্রত্যাহার করেছেন মর্মে যে প্রচার চালাচ্ছে তা রাজনৈতিক প্রতিহিংসামূলক। তিনি বলেন, তারেক রহমান সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার সন্তান। তিনি একজন সম্মানিত নাগরিক। তার বিরুদ্ধে সরকার ভিত্তিহীন অপপ্রচার চালাচ্ছে। এসব অপপ্রাচার বন্ধের জন্য আমরা আহ্বান জানাচ্ছি। ফখরুল বলেন, সরকারের লোকজনের এসব বক্তব্য-বিবৃতির কারণে তারেক রহমানের জীবন এখন নিরাপত্তাহীনতায় আছে।
রিজভীর মিছিল-সুয্যি মামা জাগার পরেই
আবারও শহর জেগে উঠার আগেই দলীয় কার্যালয় থেকে ঝটিকা মিছিল করে আবার কার্যালয়ে ঢুকে গেলেন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী। বৃহস্পতিবার রিজভী যখন মিছিল করেছেন, তখন ভোরের সূর্য উঠলেও অতটা দৃষ্টিগ্রাহ্য হয়নি। আবহাওয়া অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী আজ সূর্য উঠেছে ভোর পাঁচটা ৩৪ মিনিটে। আর রিজভী মিছিল বের করেন ভোর পৌনে ছয়টায়। বিএনপি অফিসের কর্মচারী শামিমুর রহমান জানান, ভোরে রিজভীর নেতৃত্বে মিছিলটি নয়াপল্টনের দলীয় কার্যালয় থেকে কাকরাইল অভিমুখে কিছুদূর এগিয়ে যাওয়ার পর আবার ফিরে আসে। এতে যুবদল, স্বেছাসেবকদল ও ছাত্রদলের কয়েকজন কর্মী ছিলেন। জনা বিশেক কর্মী নিয়ে মিছিলটি যখন বের হয় তখন পুলিশ তো দূরের কথা নয়াপল্টন এলাকার দোকানপাটও খোলেনি। কাকডাকা ভোরে তেমন কোনো পথচারীদেরও দেখা মেলেনি। গত ১৭ মার্চ এবং তার এক সপ্তাহ আগেও সূর্য উঠার পর পর নয়াপল্টনে ঝটিকা মিছিল করেন রিজভী। দুই দিনই গোটা দশেক নেতা-কর্মী নিয়ে দলীয় কার্যালয়ের সামনে কিছুদূর অগ্রসর হয়েই ফিরে আসেন বিএনপি নেতা। বিএনপির কর্মসূচি থাকলে নয়াপল্টনের দলীয় কার্যালয়ে সকাল থেকেই থাকে পুলিশের কড়া পাহারা। প্রায়ই বিভিন্ন মামলার আসামি নেতা-কর্মীদেরকে গ্রেপ্তারও করেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। রিজভীও একাধিক মামলার আসামি। আর গ্রেপ্তার এড়াতে ২৯ জানুয়ারি থেকে তিনি দলীয় কার্যালয়ে অবস্থান করছেন। ৮ ফেব্রুয়ারি বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবিতে বিভিন্ন কর্মসূচিতে রিজভী দলীয় কার্যালয়ের বারান্দা থেকে স্লোগান দিয়েছেন। মাঝে লিফফেট বিতরণের দিন তিনি সংক্ষিপ্ত সময়ের জন্য কার্যালয়ের নিচে নেমেছিলেন। কিন্তু পুলিশ দেখে আবার উঠেও পড়েন। ১০ মার্চ ভোরের সেই মিছিলের পর রুহুল কবির রিজভী ঢাকাটাইমসকে বলেন,আমার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা আছে। তাই সকালেই কার্যালয় থেকে বেরিয়ে কর্মসূচিতে অংশ নিয়েছি।
বিএনপি বনাম জামায়াত গাজীপুরে
খুলনা সিটি করপোরেশনে না দিলেও গাজীপুরে মেয়র পদে প্রার্থী দিয়েছে বিএনপির শরিক জামায়াতে ইসলামী। তবে নিবন্ধন বাতিল হওয়ায় দলীয় প্রতীকে ভোট করা সম্ভব নয় বলে দলটির নেতা প্রার্থিতা জমা দিয়েছেন স্বতন্ত্র হিসেবে। জাতীয় পর্যায়ে দল দুটি সব জায়গায় একসঙ্গে লড়াই করলেও গাজীপুরে পরস্পরের প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে আবির্ভূত হওয়া আলোচনার খোরাক জুগিয়েছে গাজীপুরে। জামায়াতের এমন কাজে বিস্মিত হয়েছে বিএনপি। দলের কেন্দ্রীয় এবং গাজীপুরের নেতারা বলছেন, ২০ দলীয় জোটের সবশেষ বৈঠকে একসঙ্গে নির্বাচন করার বিষয়ে কথা হয়েছিল। তারপরও জামায়াত গাজীপুরে প্রার্থী দিয়ে অঙ্গীকার ভঙ্গ করেছে। গাজীপুরে জামায়াতের স্বতন্ত্র প্রার্থী বলছেন, তাকে ভোট থেকে সরে দাঁড়াতে হবে, এমন কোনো নির্দেশনা কেন্দ্র থেকে আসেনি। বরং তিনি মনে করেন বিএনপিই তাকে সমর্থন দিয়ে তাদের প্রার্থী প্রত্যাহার করে নেবে আগামী ডিসেম্বর বা জানুয়ারিতে জাতীয় নির্বাচনকে সামনে রেখে পাঁচ সিটি করপোরেশন নির্বাচনে দুই প্রধান দল আওয়ামী লীগ ও বিএনপির লড়াইয়ের দিকে দৃষ্টি থাকবে সারা দেশের। এর মধ্যে আগামী প্রথম পর্বে গাজীপুর ও খুলনায় ভোট হবে আগামী ১৫ মে। এর মধ্যে গাজীপুরে বিএনপি প্রার্থী করেছে হাসান উদ্দিন সরকারকে। তাকে মোকাবেলা করতে হবে আওয়ামী লীগের জাহাঙ্গীর আলমকে। খুলনায় বিএনপি প্রার্থী করেছে নজরুল ইসলাম মঞ্জুকে। তিনি মোকাবেলা করবেন আওয়ামী লীগের তালুকদার আবদুল খালেককে। গাজীপুরে নিজেরা প্রার্থী না দিয়ে আওয়ামী লীগের জাহাঙ্গীর আলমকে সমর্থন দেয়ার কথা জানিয়েছেন জাতীয় পার্টির স্থানীয় নেতারা। এই দিক দিয়ে কিছুটা হলেও বিএনপির জন্য বেকায়দা করে দিয়েছে জামায়াতে ইসলামী। এখানে হাসান উদ্দিন সরকারের একজন প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াত নেতা সানাউল্লাহ। তিনি প্রার্থিতা জমা দিয়েছেন এবং সেটা বৈধও ঘোষণা হয়েছে। স্বতন্ত্র প্রার্থী বিধায় তার পক্ষে এক শতাংশ ভোটারের সমর্থন আগেই জমা দিতে হয়েছে। সানাউল্লাহ ঢাকাটাইমসকে বলেন, জামায়াতের নিবন্ধন প্রক্রিয়া বাতিল হওয়ার কারণে দলীয়ভাবে নির্বাচন করতে পারিনি। রাজনৈতিক দল হিসেবে জনগণের প্রতিনিধিত্ব করার নিমিত্তে সতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে মনোনয়নপত্র দাখিল করেছি। জোটের প্রধান শরিক বিএনপিকে চ্যালেঞ্জ করার বিষয়ে জানতে চাইলে জামায়াত নেতা বলেন, আমরা জোটের মধ্যে আছি, আলাপ আলোচনা চলছে। সার্বিক বিষয় বিবেচনা করে আমরা প্রত্যাশা করছি ২০ দল থেকে আমাদেরকে সমর্থন জানানো হবে। তবে বিএনপি নেতারা বলছেন, প্রার্থিতা প্রত্যাহারে ২৩ এপ্রিল পর্যন্ত সময় আছে। এর মধ্যে কেন্দ্রীয়ভাবে জামায়াতের সঙ্গে আলাপ-আলোচনা করে সানাউল্লাহকে বসিয়ে দেয়ার বিষয়ে তারা আত্মবিশ্বাসী। গাজীপুর জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক কাজী ছাইয়্যেদুল আলম বাবুল ঢাকাটাইমসকে বলেন,আমরা মনে করি ২০ দলীয় ঐক্যজোটের পক্ষ থেকেই আমাদের প্রার্থী হাসান উদ্দিন সরকার ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে নির্বাচন করছেন। জোটের অন্য যারা ফরম তুলেছেন তাদের বিষয়ে কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দের সঙ্গে যোগাযোগ হচ্ছে। আমরা আশা করি ২০ দলীয় জোট ঐক্যবদ্ধভাবেই ধানের শীষ প্রতীকে নির্বাচন করবে। বিষয়টি খুব কঠিন বলে আমরা মনে করছি না। বিএনপি প্রার্থী হাসান উদ্দিন সরকার বলেন,২০ দলীয় জোটের ঐক্য সময়ের ব্যাপার মাত্র। আশা করছি শিগগির অপর প্রার্থীরা বিএনপিকে সমর্থন দেবে। এর আগে উচ্চ আদালতের রায়ে আটকে যাওয়া ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন নির্বাচনেও জামায়াত সেখানে প্রার্থী দিয়েছিল। স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে ভোটের লড়াইয়ে নামতে প্রস্তুত ছিলেন সেলিম উদ্দিন। জামায়াতের সূত্র জানায়, ঢাকা উত্তরের পর গাজীপুরেও তাদের প্রার্থী দেয়ার উদ্দেশ্য বিএনপির ওপর চাপ সৃষ্টি। সিলেট সিটি করপোরেশন নির্বাচনে জামায়াত বিএনপির সমর্থন আশা করে। আর এই লক্ষ্য নিয়েই আগাচ্ছে তারা। ২০ দলের নেতারা জানান, জোটের সবশেষ বৈঠকে গাজীপুরে জামায়াতের মেয়র পদে প্রার্থী দেয়া নিয়ে চাপে ছিলেন বৈঠকে উপস্থিত জামায়াতের প্রতিনিধি আব্দুল হালিম। সেদিন বিএনপির পক্ষ থেকে প্রার্থিতা প্রত্যাহারের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিয়ে তাদেরকে জানানোর কথা বললেও জামায়াত সিদ্ধান্ত জানায়নি এখনও। বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও ২০ দলের সমন্বয়ক নজরুল ইসলাম খান ঢাকাটাইমসকে বলেন,সিটি নির্বাচনে ২০ দলের জোটগত প্রার্থী দেওয়ার বিষয়ে জোটের বৈঠকেই সিদ্ধান্ত হয়েছে। তারপরেও জামায়াত স্বতন্ত্রভাবে গাজীপুরে প্রার্থী দিয়েছে। সেটি নিয়েও জোটের বৈঠকে আলোচনা হয়েছে। তারা আমাদের কাছে সময় চেয়েছে। এখন প্রয়োজনে আবারও তাদের কাছে বিষয়টি নিয়ে জানতে চাওয়া হবে। তবে এটি নিয়ে খুব বেশি সমস্যা হবে না। শেষ পর্যন্ত জামায়াতের প্রার্থী যদি থেকেই যায় তাহলে কী হবে- এমন প্রশ্নে বিএনপি নেতা বলেন,আলোচনা হচ্ছে। আশা করি সমস্যা থাকবে না। শেষ পর্যন্ত ২০ দলের প্রার্থী একজনই থাকবে আমরা আশা করি। জামায়াতের একজন নেতা ঢাকাটাইমসকে বলেন,গাজীপুরে মেয়র পদে প্রার্থিতা প্রত্যাহার বা বিএনপিকে সহযোগিতার বিষয়ে কোনো প্রস্তাব এখনও দেয়া হয়নি। এ বিষয়ে জানতে চাইলে নজরুল ইসলাম খান বলেন,এ কথা সত্য নয়। জোটের বৈঠকে এ বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। শরিকরা সবাই জোটের প্রার্থীর পক্ষে কাজ করবেন সেটাও সিদ্ধান্ত হয়েছে। সুতরাং এমন কথা সঠিক না। বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল ঢাকাটাইমসকে বলেন, এটা এক ধরনের কৌশল। তবে দেখবেন যথাসময়ে তাদের প্রার্থিতা শুধু প্রত্যাহার নয়, জামায়াতের প্রার্থী মঞ্চে এসে বক্তব্যও দেবেন।
মোকাবেলায় প্রস্তুত আ.লীগ-বিএনপি কোন্দল মিটিয়ে খুলনায়
খুলনা সিটি করপোরেশন নির্বাচনে প্রার্থিতা বাছাইয়ের আগে আওয়ামী লীগ এবং বিএনপিতে ছিল কোন্দল আতঙ্ক। নিজ দলের নেতারাই হারের কারণ হয় কি না, এ নিয়ে ছিল নানা কথাবার্তা। তবে দুই দলের প্রার্থী বাছাইয়ে বুদ্ধিমত্তার কারণে দুই দলেই কোন্দল দূর হয়েছে। পরস্পরকে মোকাবেলার জন্য একাট্টা আওয়ামী লীগ ও বিএনপি। আগামী ১৫ মে যে দুই মহানগরে ভোট হবে তার একটি খুলনা। সেদিন দক্ষিণের এই শহর আর ঢাকা লাগোয়া গাজীপুরের ভোট আগামী জাতীয় নির্বাচনের আগে জনতার মাঝে দুই প্রধান দল আওয়ামী লীগ ও বিএনপির অবস্থানের একটি পরীক্ষা হবে। আর এই পরীক্ষায় পাস করতে দুই দলই প্রস্তুতি নিচ্ছে ব্যাপক। ২০১৩ সালে দেশের পাঁচ মহানগর খুলনা, রাজশাহী, বরিশাল, সিলেট এবং গাজীপুরে জিতেছিলেন বিএনপি সমর্থিত প্রার্থীরা। এবার ভোট হবে সরাসরি দলীয় প্রতীকে। খুলনায় তখন ২০০৮ সালের ভোটে বিজয়ী তালুকদার আবদুল খালেকের পরাজয়ের জন্য যেসব কারণ বিবেচনা করা হয় তার একটি ছিল দলের ভেতরে বিরোধ। মেয়র হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে দৃশ্যমান উন্নয়নের সঙ্গে ৬০ হাজারেরও বেশি ভোটে পরাজয় সামঞ্জস্যপূর্ণ ছিল না। ওই ভোটের আগে থেকেই জানা যাচ্ছিল স্থানীয়ভাবে প্রভাবশালী কয়েকজন নেতা খালেকের বিরোধিতা করছেন। আর ভোটের পরে দেখা যায়, আওয়ামী লীগের নেতাদের প্রভাবিত এলাকায় খালেক ভোট পেয়েছেন অনেক কম। পাঁচ বছর আগের এই অভিজ্ঞতার কারণেই খালেক এবার খুলনায় ভোটে লড়তে রাজি ছিলেন না। দলের মনোনয়ন ফরমও কেনেননি তিনি। আর ভোটে আগ্রহী নন জানিয়ে দেয়ার পর প্রার্থিতার দৌঁড়ে ছিলেন আওয়ামী লীগের পাঁচ জনেরও বেশি নেতা। এদের কাউকে মনোনয়ন দিলে পাঁচ বছর আগের মতোই পরিস্থিতি হয় কি না, এ নিয়ে তৈরি হয় শঙ্কা। একেক নেতা একেক বলয় তৈরি করলেও এবার খালেকের পক্ষে একাট্টা খুলনা আওয়ামী লীগ। তাকে মনোনয়ন দিতে সর্বসম্মত প্রস্তাব পাঠানো হয় আওয়ামী লীগের কেন্দ্রে। আর শেখ হাসিনা তাকেই বেছে নেন। এরপর খালেক বাগেরহাট-৩ আসনের সংসদ সদস্যপদ ছেড়ে খুলনায় ভোটে দাঁড়িয়েছেন। এ বিষয়ে কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের নেতা এস এম কামাল ঢাকাটাইমসকে বলেন, নির্বাচনে দলীয় প্রার্থীর পক্ষে কাজ করবেন না, এমন নেতাদের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করার নির্দেশ রয়েছে। বর্তমানে খুলনার সকল নেতা-কর্মী ঐক্যবদ্ধ। এখন কোনো কোন্দল নেই। সকলে দলের প্রার্থীদের নির্বাচিত করার লক্ষ্যে একট্টা হয়ে মাঠে নেমেছেন। মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মিজানুর রহমান মিজান বলেন,প্রধানমন্ত্রী বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনাকে খুলনা সিটি উপহার দিতে চাই। আমাদের মধ্যে কোন কোন্দল নেই। সকল ভেদাভেদ ভুলে নেতাকর্মীরা তালুকদার আব্দুল খালেককে বিজয়ী করতে মাঠে কাজ করছে। খালেকের প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপির নজরুল ইসলাম মঞ্জু। তাকে প্রার্থী হিসেবে বাছাই করাটা অনেকটাই ছিল চমকের মতোই। যদিও এবারও ২০১৩ সালে জয়ী মনিরুজ্জামান মনি প্রার্থী হচ্ছেন, এটাই ছিল অনুমিত। খুলনা জেলা ও মহানগর বিএনপির নেতাদের মধ্যে গত সাত-আট বছর ধরেই কোন্দল ছিল প্রকাশ্যে। এক পক্ষের সঙ্গে অন্য পক্ষের মুখ দেখাদেখিই ছিল বন্ধ। ২০১৩ সালে এই নগরে বিএনপির সমর্থন না পেয়ে জেলা বিএনপির সভাপতি শফিকুল আলম মনা প্রধান নির্বাচনী এজেন্ট হয়েছিলেন মনিরুজ্জামান মনির। এবার মনিকে মনোনয়ন দিলে মানবেন না ঘোষণা দিয়ে রেখেছিলেন মনা। তিনি আশা করেছিলেন, তার হাতেই উঠবে ধানের শীষ। তবে মনি দলের প্রতীক না পাওয়ায় মনা তার অপ্রাপ্তির বেদনা ভুলেছেন। খুলনায় নগর বিএনপির সভাপতি নজরুল ইসলাম মঞ্জু ও সাধারণ সম্পাদক মনিরুজ্জামান মনি একটি উপদলের নেতৃত্ব দিয়ে আসছেন। তাদের প্রতিপক্ষ নগর বিএনপির সহ-সভাপতি শাহারুজ্জামান মোর্ত্তজা ও কোষাধ্যক্ষ আরিফুর রহমান মিঠুর অনুসারীরা। এই দুই প্রতিপক্ষের মধ্যে কয়েক দফা সঘর্ষ ও পাল্টাপাল্টি সংবাদ সম্মেলন, মিছিল-সমাবেশের মতো ঘটনা ঘটেছে খুলনায়। এবার ভোটে এর প্রভাব পড়ে কি না এ নিয়ে দুশ্চিন্তা ছিল বিএনপির মধ্যে। এই পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ এপ্রিল বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারপারসন তারেক রহমান যুক্তরাজ্য থেকে মুঠোফানে কথা বলেন খুলনা জেলা ও মহানগরের কয়েকজন নেতার সঙ্গে। সেই থেকে বিএনপির নেতা-কর্মীরা কোন্দল ভুলে দলীয় প্রার্থীকে জেতাতে একসঙ্গে কাজ শুরু করেছেন। জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আমীর এজাজ খান বলেন, দলীয় প্রার্থীর বিরুদ্ধে কাজ না করা তো দূরের কথা, যদি কেউ নির্বাচনে প্রকাশ্যে দলের প্রার্থীর পক্ষে মাঠে না থাকে তাকে দল থেকে বহিষ্কারের নির্দেশ রয়েছে। জেলা বিএনপির সভাপতি শফিকুল আলম মনা বলেন, আমাদের মধ্যে কোন বিভেদ নেই। আমরা দলীয় প্রার্থীকে বিজয়ী করে দেশনেত্রীকে (খালেদা জিয়া) আবার খুলনা সিটি উপহার দেব। আগামী ১৫ মের ভোটে খালেক ও মঞ্জু ছাড়াও ইসলামী আন্দোলনের মোজাম্মেল হক, সিপিবির মিজানুর রহমান এবং জাতীয় পার্টিও এস এম মুশফিকুর রহমানের মনোনয়ন বৈধ ঘোষণা করা হয়েছে। আগামী ২৩ এপ্রিল পর্যন্ত প্রার্থিতা প্রত্যাহারের সুযোগ আছে। খুলনায় জোর প্রচার আছে জাতীয় পার্টি প্রার্থিতা প্রত্যাহার করে আওয়ামী লীগকে সমর্থন দেবে।

রাজনীতি পাতার আরো খবর