পাঁচ দিনের সফরে সিঙ্গাপুর যাচ্ছেন এরশাদ
নিয়মিত মেডিকেল চেকআপের জন্য পাঁচ দিনের সফরে সিঙ্গাপুর যাচ্ছেন জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান সাবেক রাষ্ট্রপতি পল্লীবন্ধু হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ। গত ২৩ এপ্রিল রাত ১১টা ৫৫ মিনিটে সিঙ্গাপুর এয়ারলাইনসের এসকিউ-৪৪৭ বিমানযোগে তিনি রওনা দেবেন। হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের প্রেস সেক্রেটারি সুনীল শুভরায়কে এ তথ্য জানান। আগামী ১৪ জুলাই সন্ধ্যা ৬টায় তার বাংলাদেশে ফিরে আসার কথা রয়েছে। এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের ডেপুটি প্রেস সেক্রেটারি দেলোয়ার জালালী। সফরসঙ্গী হিসেবে সাবেক রাষ্ট্রপতির সঙ্গে যাচ্ছেন পার্টির মহাসচিব এবিএম রুহুল আমীন হাওলাদার এমপি, প্রেসিডিয়াম সদস্য জিয়াউদ্দিন আহমেদ বাবলু এমপি, প্রেসিডিয়াম সদস্য মেজর (অব) খালেদ আখতার ও প্রেসিডিয়াম সদস্য আলহাজ শফিকুল ইসলাম সেন্টু।
বিএনপি ছাড়া অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন সম্ভব না
অনলাইন ডেস্ক :বিএনপির সঙ্গে সরকারকে সমঝোতায় আসতে বাধ্য করা হবে বলে মন্তব্য করেছেন দলটির স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যরিস্টার মওদুদ আহমদ।তিনি বলেন, বিএনপি ছাড়া অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন সম্ভব না। তাই বিএনপির সঙ্গে সরকারের সমঝোতায় আসতে হবে। আর অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন সেদিন হবে যেদিন বেগম খালেদা জিয়া মুক্ত হবে। শনিবার (৭ জুলাই) জাতীয় প্রেস ক্লাবের কনফারেন্স লাউঞ্জে বাংলাদেশ জাতীয় মানবাধিকার পরিষদ আয়োজিত এক আলোচনা সভায় তিনি এ মন্তব্য করেন।নির্বাচন কমিশনের সমালোচনা করে মওদুদ বলেন, আমরা আগেই বলেছি এই নির্বাচন কমিশন পুনর্গঠন করতে হবে। খুলনা এবং গাজীপুরের নির্বাচনের মাধ্যমে এই কমিশনের মুখোশ উন্মোচন হয়ে গেছে। আমরা বারবার বলছি আগামী নির্বাচনে সেনাবাহিনীকে ম্যাজিস্ট্রেসি ক্ষমতা দিতে হবে। নির্বাচনের ৯০ দিন আগে সংসদ ভেঙে দিতে হবে এবং এই নির্বাচন কমিশন পুনর্গঠন করতে হবে।কোটা সংস্কার আন্দোলনের সঙ্গে কোনও রাজনৈতিক দল জড়িত নেই এমন দাবি করে মওদুদ বলেন, এটা একটা স্বতস্ফুর্ত সাধারণ শিক্ষার্থীদের আন্দোলন। ১০০ টা সরকারি চাকরির নিয়োগের মধ্যে ৫৬টি যদি কোটায় চলে যায় তাহলে থাকে কি? বাকি যে ৪৪ শতাংশ নিয়োগ পায় তার মধ্যে রাজনৈতিক প্রভাব খাটানো হয়। প্রধানমন্ত্রী ১১ এপ্রিল সংসদে দাঁড়িয়ে বলেছেন কোটা পদ্ধতি বাতিল করা হবে। আমরা শুনে তার প্রশংসা করেছিলাম। কিন্তু ২৭ জুন তিনি আবার একই সংসদে দাঁড়িয়ে বললেন কোটা পদ্ধতি থাকবে। আমরা কিভাবে তার কথা বিশ্বাস করবো? প্রধানমন্ত্রীর প্রতি আহ্বান জানাই যে কথা বলেছেন তা রক্ষা করেন। এমনিতেই জনগণের অনেক বিশ্বাস আপনার ওপর থেকে চলে গেছে। গণবিস্ফোরনের মাধ্যমে এই অবৈধ সরকারের পতন ঘটাতে হবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, স্বাধীনতার ৪৬ বছর পরেও আমাদের চ্যালেঞ্জ এদেশে গণতন্ত্র ফিরিয়ে আনা। এর চেয়ে দুর্ভাগ্যজনক একটা জাতির জন্য আর কি হতে পারে? তাহলে কি এটা একটি ব্যর্থ রাষ্ট্র ? জাতি কি তাহলে ব্যর্থ হয়ে গেল? আজকে যে সংকট তা নির্বাচন যতই ঘনিয়ে আসবে ততই মজবুত হবে। আমাদের এই সংকট থেকে উত্তরণের জন্য সর্বদলীয় জাতীয় ঐক্য সৃষ্টি করে গণবিস্ফোরণের মাধ্যমে এই সরকারের পতন ঘটাতে হবে। এর চেয়ে কোনও বিকল্প আর নেই। হয় শান্তিপূর্ণ সমঝোতায় আসতে বাধ্য করা হবে আর না হয় অতীতে যে ধরনের কর্মসূচির মাধ্যমে স্বৈরাচারের পতন ঘটানো হয়েছে তা করতে হবে।দেশের উচ্চতম আদালতের আদেশকে অকার্যকর করার জন্য নিম্ন আদালতের ম্যাজিস্ট্রেটকে ব্যবহার করা হচ্ছে এমন অভিযোগ করে মওদুদ বলেন, সম্পূর্ণ বানোয়াট মিথ্যা মামলার ওপর ভিত্তি করে খালেদা জিয়াকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। আজকে ৫ মাস হয়ে গেছে তিনি জেলে। আপিল বিভাগ হাইকোর্টের দেওয়া জামিন বহাল রেখেছে। তারপরও আমরা তাকে মুক্ত করতে পারছিনা। দেশের উচ্চতম আদালতের আদেশকে অকার্যকর করতে নিম্ন আদালতের ম্যাজিস্ট্রেটকে ব্যবহার করা হচ্ছে। এই ম্যাজিস্ট্রেট নির্বাহী বিভাগের কাজ করছে। দেশের মানুষকে বোঝাতে হবে উচ্চতম আদালতের জামিন আদেশ কিভাবে ম্যাজিস্ট্রেট বিলম্ব করে। আজকে খালেদা জিয়ার ব্যপারে এরকম হলে সাধারণ মানুষের কি অবস্থা তাহলে চিন্তা করেন। কোথায় যাবে সাধারন মানুষ যদি আদালতে সুবিচার না পায়। আমরা চাই আইনি প্রক্রিয়ায় খালেদা জিয়াকে মুক্ত করে নিয়ে আসতে কিন্তু রাজপথ ছাড়া আর কোনও উপায় থাকবে না। আয়োজক সংগঠনের চেয়ারম্যান মো. রফিকুল ইসলামের সভাপতিত্বে এবং মহাসচিব আ স ম মোস্তফা কামালের সঞ্চালনায় আরও বক্তব্য দেন-বিএনপির ভাইস-চেয়ারম্যান,শামসুজ্জামান দুদু, নির্বাহী কমিটির সদস্য আবু নাসের মোহাম্মাদ রহমাতুল্লাহ,খালেদা ইয়াসমিন,কৃষকদলের সহ-দপ্তর সম্পাদক এস কে সাদী প্রমুখ।
রোববার ঢাকা মহানগরীর থানায় থানায় বিক্ষোভ কর্মসূচি
অনলাইন ডেস্ক :বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার নিঃশর্ত মুক্তির দাবিতে ডাকা সমাবেশ করতে না দেওয়ার প্রতিবাদে আগামী রোববার ঢাকা মহানগরীর থানায় থানায় বিক্ষোভ কর্মসূচি ঘোষণা দিয়েছে দলটি। দলের জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী আজ শুক্রবার দুপুরে দলের নয়াপল্টন কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে এ কর্মসূচি ঘোষণা করেন। দলের পক্ষে ঘোষিত কর্মসূচি বিএনপি এবং এর অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের সব পর্যায়ের নেতাকর্মীকে পালনের জন্য অনুরোধ জানান তিনি। এ সময় আগামী নির্বাচন নিয়ে রিজভী বলেন, প্রধানমন্ত্রী ইউরোপিয়ান ইউনিয়নের (ইইউ) নতুন রাষ্ট্রদূতকে বলেছেন, চলতি বছরের শেষের দিকে অবাধ, সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। কিন্তু আমি তাঁর উদ্দেশে বলতে চাই, বর্তমানে দেশে অবাধ, সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের কোনো পরিবেশ নেই। আর বিএনপির চেয়ারপারসনকে ছাড়া বিএনপি জাতীয় নির্বাচনে অংশ নেবে না।
বিএনপির তিনশ আসনের তালিকা চূড়ান্ত করার খবর মিথ্যা বানোয়াট
অনলাইন ডেস্ক :বিএনপির তিনশ আসনের তালিকা চূড়ান্ত করার খবর মিথ্যা বানোয়াট ও ভিত্তিহীন বলে জানিয়েছেন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম-মহাসচিব রুহুল কবীর রিজভী আহমেদ। তিনি বলেন, সরকারের দ্বারা প্রভাবিত হয়ে এমন সংবাদ প্রচার করা হয়েছে। রিজভী আহমেদ জানান, খালেদা জিয়ার মুক্তি ও নিরপেক্ষ সরকার ছাড়া কোন জাতীয় নির্বাচনে অংশ নেবে না বিএনপি। অন্যদিকে, দলটির আরেক নেতা খন্দকার মাহবুব হোসেন বলেন, খালেদা জিয়াকে তিলে তিলে নিঃশেষ করতেই জামিন স্থগিত করা হয়েছে। জাতীয় ঐক্য ছাড়া তার মুক্তি সম্ভব নয় বলেও তার দাবি। রাজধানীতে আলাদা আলোচনায় এসব কথা বলেন বিএনপি নেতারা।আগামী জাতীয় নির্বাচন সামনে রেখে, বিএনপি তিনশ আসনের প্রার্থী চূড়ান্ত করেছে। একটি জাতীয় দৈনিকে এমন খবর প্রচারের প্রতিবাদ জানাতেই, নয়াপল্টনের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এই সংবাদ সম্মলেন। পত্রিকাটির সমালোচনা করে দলটির নেতা রিজভী আহমেদ বলেন, খালেদা জিয়ার অসুস্থতা থেকে জনদৃস্টি অন্যদিকে ফেরাতেই সরকার এমন খবর প্রচার করছে।তার বক্তব্য উঠে আসে কোটা আন্দোলন প্রসঙ্গ। সারাদেশে আন্দোলনকারিদের ওপর বর্বর আক্রমন চালানো হচ্ছে বলেও মন্তব্য করেন রিজভী।এদিকে, ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে এক আলোচনায় যোগ দিয়ে আরেক নেতা খন্দকার মাহবুব হোসেন কথা বলেন, খালেদা জিয়ার জামিনের স্থগিতাদেশ নিয়ে। খালেদা জিয়ার মুক্তি ও জাতীয় নির্বাচন ইস্যুতে জনগণকে ঐক্যবদ্ধ করতে নেতাকর্মীদের আহ্বান জানান বিএনপি নেতারা।
কাউকে সরকার রাজনৈতিক কর্মসূচি পালন করতে দিচ্ছে না
অনলাইন ডেস্ক :বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেছেন, কাউকে সরকার সভা-সমাবেশ কিংবা রাজনৈতিক কর্মসূচি পালন করতে দিচ্ছে না। প্রতিবাদী কণ্ঠস্বরকে দমিয়ে রাখতে পুলিশ ও দলীয় ক্যাডারদের ব্যবহার করছেন তারা। বৃহস্পতিবার (৫ জুলাই) রাজধানীর নয়াপল্টনে বিএনপি কার্যালয়ে নিয়মিত সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন তিনি। শিক্ষাঙ্গনগুলোতে এখন ছাত্রলীগ ও পুলিশের তাণ্ডবে বিভীষিকাময় অবস্থা বিরাজ করছে অভিযোগ করে তিনি বলেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়সহ দেশের সকল বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা তাদের শান্তিপূর্ণ কর্মসূচি পালনকালে যেভাবে ছাত্রলীগ ও পুলিশের নির্যাতন ও নিপীড়ণের শিকার হচ্ছে, যেভাবে জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে শিক্ষক ও উদ্বিগ্ন অভিভাবকদের পুলিশি তাণ্ডবের শিকার হতে হয়েছে, যেভাবে শহীদ মিনারে ছাত্রলীগের হাতে ছাত্রীরা লাঞ্ছিত হয়েছে-ছাত্রলীগের এসব তাণ্ডব লগি-বৈঠারই পূনরাবৃত্তি বলে দেশবাসী মনে করে। প্রতিবাদী শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা বলছেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এখন মৃত্যুপুরীতে পরিণত হয়েছে। অবৈধ ক্ষমতার বিবর্তনে ভয়াল প্রেতাত্মা হয়ে ভীষণ মূর্তি ধারণ করেছে। শেখ হাসিনার আগ্রাসী থাবায় সারাদেশই এখন বধ্যভূমি- এমন অভিযোগ করে বিএনপির এই নেতা বলেন, গুম, খুন, অপহরণ, বিচার বহির্ভূত হত্যা, গ্রেপ্তার, নির্যাতন ও দলীয় সন্ত্রাসীদের তাণ্ডবই হলো এখন শেখ হাসিনার টিকে থাকার অবলম্বন। সম্প্রতি ছাত্রলীগ নেতাদেরকে নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর বৈঠকের সমালোচনা করে তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী সেখানে তাদেরকে কী ছবক দিয়েছেন তা আল্লাহ মাবুদই জানেন। ঢাকা ও রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে কোটা সংস্কার আন্দোলনে আন্দোলনরত সাধারণ ছাত্র-ছাত্রীদের রক্তাক্ত করার বীরত্বে তাদেরকে একইভাবে আগামী নির্বাচনে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড করতে নির্দেশ দিয়েছেন বলে মনে হয়। প্রধানমন্ত্রীর সাথে হামলাকারী ছাত্রলীগ নেতাদের উক্ত বৈঠক নতুন করে প্রতিবাদকারিদের রক্ত ঝরাতে তাদের আরও উৎসাহিত করবে বলেও অভিযোগ করেন রিজভী। সংবাদ সম্মেলনে আরো উপস্থিত ছিলেন বিএনপির চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা আবুল খায়ের ভূইয়া, যুগ্ম-মহাসচিব সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল, প্রচার সম্পাদক শহীদ উদ্দীন চৌধুরী, যুবদল নেতা গিয়াস উদ্দীন মামুন প্রমুখ।
মির্জা ফখরুল হাসপাতালে
অনলাইন ডেস্ক :অসুস্থ বোধ করায় বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে। বৃহস্পতিবার (৫ জুলাই) সকালে তাকে গুলশানের ইউনাইটেড হাসপাতালে ভর্তি করা হয় বলে জানিয়েছেন তার ব্যক্তিগত সহকারী (পিএস) মোহাম্মদ ইউনুস। ফখরুলের শারীরিক অবস্থা সম্পর্কে বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান ডা. এজেডএম জাহিদ হোসেন বলেন, ‌‘মহাসচিব কিছুটা অসুস্থ বোধ করছিলেন। চেকআপের জন্য তাকে ইউনাউটেড হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে। ওই হাসপাতালে ফখরুল হৃদরোগ বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক মমিন-উজ-জামানের তত্ত্বাবধায়নে আছেন বলে জাহিদ হোসেন জানান। মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর আগে থেকেই বিভিন্ন ধরনের রোগে আক্রান্ত। তিনি কয়েকবার বিদেশে চিকিৎসা করিয়েছেন। সর্বশেষ গত ২ এপ্রিল বিএনপির মহাসচিব অসুস্থ হয়ে রাজধানীর একটি হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিলেন। দুই দিন চিকিৎসা নিয়ে বাসায় ফেরেন।
খালেদা জিয়ার জামিন নামঞ্জুর
অনলাইন ডেস্ক :ভুয়া জন্মদিন পালন ও মুক্তিযুদ্ধকে অবমাননার অভিযোগের দুই মামলায় বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার জামিন আবেদন নামঞ্জুর করেছে আদালত।বৃহস্পতিবার পুরান ঢাকার বকশীবাজারের আলিয়া মাদ্রাসা মাঠে স্থাপিত অস্থায়ী মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের বিচারক আহসান হাবিব ও খুরশেদ আলম এ আদেশ দেন।গত ২১ জুন খালেদা জিয়ার আইনজীবী সানাউল্লাহ মিয়া ও জিয়া উদ্দিন জিয়া জামিনের আবেদন করেন। জামিন শুনানি শেষে আদেশের জন্য আজকের (বৃহস্পতিবার) দিন ধার্য করে আদালত।২০০১ সালে জাতীয় সংসদ নির্বাচনে স্বাধীনতাবিরোধী যুদ্ধাপরাধী জামাতের সঙ্গে জোট করে নির্বাচিত হয়ে সরকারের দায়িত্ব গ্রহণ করেন খালেদা জিয়া। ২০১৬ সালের ৩ নভেম্বর ঢাকা মহানগর হাকিম আদালতে সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে একটি মানহানির মামলা করেন জননেত্রী পরিষদের সভাপতি এবি সিদ্দিকী।আর ভুয়া জন্মদিন পালনের অভিযোগ এনে ২০১৬ সালের ৩০ আগস্ট ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক গাজী জহিরুল ইসলাম বাদি হয়ে একটি মামলা করেন।উল্লেখ্য, গত ৮ ফেব্রুয়ারি জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট মামলায় খালেদা জিয়ার ৫ বছরের কারাদণ্ড দেয়া হয়েছে। রায়ের পরই খালেদা জিয়াকে নাজিমুদ্দিন রোডে পুরনো কেন্দ্রীয় কারাগারে নেয়া হয়।
কমিটি পেতে অপেক্ষা বাড়ল ছাত্রলীগের পদপ্রত্যাশী নেতাদের
প্রত্যাশিত কমিটি পেতে অপেক্ষা বাড়ল ছাত্রলীগের পদপ্রত্যাশী নেতাদের। বুধবার দীর্ঘক্ষণ আলোচনা করার পর কমিটি গঠন নিয়ে আরও সময় নিয়েছেন আওয়ামী লীগ সভাপতি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। একই সঙ্গে এত আবেদনে বিস্ময় প্রকাশ করে বক্তব্যরত নেতাদের কাছে পদপ্রত্যাশার কারণ জানতে চান তিনি। ছাত্রলীগের সাংগঠনিক নেত্রী শেখ হাসিনা বলেন, আমি যাকে দায়িত্ব দেব তার নেতৃত্বে কাজ করতে হবে। সংগঠনকে এগিয়ে নিতে হবে। তবে সংগঠনের নেতা নির্বাচনে শেখ হাসিনার ওপর আস্থা রাখলেও বক্তব্যে ছাত্রলীগ নেতারা নিজেদের আত্মপ্রচারই করেছেন বেশি। সম্মেলনের দুই মাস পর ছাত্রলীগের পদপ্রত্যাশী নেতাদের গণভবনে ডেকে মতবিনিময় করেন শেখ হাসিনা। বুধবার রাতে প্রধানমন্ত্রী তার সরকারি বাসভবন গণভবনে সভাপতি-সাধারণ সম্পাদক পদ চেয়ে আবেদন করা পদপ্রত্যাশী ১৬৯ জন নেতাকে নিয়ে দীর্ঘক্ষণ আলোচনা করেন। তবে আলোচনা হলেও কমিটি নিয়ে কোনো অগ্রগতি হয়নি। গত ১১ ও ১২ মে ছাত্রলীগের ২৯তম জাতীয় সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। দ্বিতীয় অধিবেশনের পর কমিটি ঘোষণার নিয়ম থাকলেও শীর্ষ পদের নেতৃত্ব বাছাইয়ে সময় নেন আওয়ামী লীগ সভাপতি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। ছাত্রলীগের নেতৃত্ব গঠন নিয়ে দীর্ঘদিন থেকে সমালোচনা হয়ে আসছিল। বিষয়টি আওয়ামী লীগের সভাপতি পর্যন্ত গড়ালে এবার সমঝোতার ভিত্তিতে নেতা নির্বাচনের সিদ্ধান্ত হয়। সম্মেলনের আগে সভাপতি-সাধারণ সম্পাদক পদে ২৩২টি ফরম জমা পড়ে। এসব আবেদন যাচাই-বাছাইয়ে দুই মাস সময় নেন আওয়ামী লীগ সভাপতি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। দীর্ঘ অনুসন্ধান ও আবেদন যাচাই-বাছাই শেষে বুধবার পদপ্রত্যাশী নেতাদের গণভবনে ডাকেন তিনি। বৈঠকে উপস্থিত একাধিক ছাত্রলীগ নেতার সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, খুব ধৈর্যের সঙ্গে প্রত্যেক পদপ্রত্যাশী নেতাদের বক্তব্য শুনেছেন শেখ হাসিনা। সবার বক্তব্য ও পদ পাওয়ার আগ্রহ দেখে তিনি বলেছেন, সবাই নেতা হবে না। আর আমি সবাইকে পদ দিতেও পারব না। সবাই উপযুক্ত। আমি আরও যাচাই-বাছাই করে দেখব। আরও সময় লাগবে। আমি পরে জানাব। এ সময় তিনি বলেন, আমি যাকে দায়িত্ব দেব, তার নেতৃত্বে সবাই কাজ করবে। সংগঠনকে এগিয়ে নিয়ে যাবে। এ সময় উপস্থিত ছাত্রলীগ নেতারা স্লোগান দিয়ে গণভবন মুখরিত করে তোলেন। সবাই একই সুরে বলেন, ‘নেত্রী আপনি যাকে দায়িত্ব দেবেন আমরা তার নেতৃত্বেই কাজ করব। আপনার নির্দেশনা মেনে চলব।’ বক্তব্যের শুরুতে সংক্ষিপ্ত আলোনায় অংশ নেন ছাত্রলীগের সভাপতি সাইফুর রহমান সোহাগ। পরিচালনা করেন সাধারণ সম্পাদক জাকির হোসাইন। তবে শেষপর্যন্ত তাকে পরিচালনা করতে হয়নি। বক্তব্য দিতে ইচ্ছুক সবাই একে একে বক্তব্য দিয়ে সাংগঠনিক নেত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করার চেষ্টা করেছেন। এ সময় বক্তব্য দেয়ার আগ্রহীর সংখ্যা বেড়ে গেলে মাইক নিয়ে টানাটনি হয়। এতে বিশৃঙ্খলার সৃষ্টি হয়। ছাত্রলীগের একটি সূত্র জানায়, বয়স নিয়েও কথা বলেছেন কয়েকজন নেতা। এ বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করলে তিনি বলেন, বিষয়গুলো নিয়ে আরেকটু দেখতে হবে। তারপর কমিটি হবে। এবার ছাত্রলীগের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক হওয়ার বয়স ২৮ বছর। গত ২৮তম কাউন্সিলে এ বয়স ছিল ২৯ বছর। বয়সসীমার কারণেও অনেক নেতা বাদ পড়বেন। আর এবার ছাত্রলীগে নেতৃত্ব নির্বাচিত হচ্ছে ‘সিলেকশনের’ মাধ্যমে, ফলে সবার মধ্যেই এক ধরনের ‘আশা’ কাজ করছে। কেউ যেন নিরাশ না হন, সে কারণে বৈঠক করা হচ্ছে। এ সময় আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক মুহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল, দফতর সম্পাদক আবদুস সোবহান গোলাপ, উপ-দফতর সম্পাদক বিপ্লব বড়ুয়া উপস্থিত ছিলেন। তবে সেখানে উপস্থিত ছিলেন না দলের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের।
রাজশাহী, সিলেট ও বরিশাল সিটি নির্বাচনেও জয়ের ধারা অব্যাহত রাখতে কঠোর বার্তা
খুলনা ও গাজীপুরের পর এবার রাজশাহী, সিলেট ও বরিশাল সিটি করপোরেশনের নির্বাচনে জয়ের ধারা অব্যাহত রাখতে এবং ভোটের দিন বিশৃংখলা রোধে কঠোর অবস্থানে আওয়ামী লীগ। ইতোমধ্যে কোন্দল নিরসন করে ঐক্যবদ্ধ থাকা, দলীয় মেয়র প্রার্থীর পক্ষে স্বতস্ফূর্তভাবে কাজ করা এবং ভোটের দিন বিশৃংখলার কারণে ভোটের গ্রহণযোগ্যতা নিয়ে যেন প্রশ্ন না উঠে সেদিকে নজড় দেওয়ার তাগিদ দিয়েছেন। পাশাপাশি কাউন্সিলর প্রার্থীদের রেশারেশি রোধে তিন সিটির তৃণমূলে কঠোরতার বার্তা দিয়েছে ক্ষমতাসীনরা। দলটি মনে করছে, অব্যাহত উন্নয়নের কারণে নৌকার প্রতি জনগণের আস্থা রয়েছে। এমনিতেই তিন সিটিতেই বড় ধরণের জয়ে পাবে ক্ষমতাসীনরা। কিন্তু অভ্যন্তরীন কোন্দল ও দলের একাধিক কাউন্সিলর প্রার্থীর রেশারেশির কারণে বিপাকে পড়তে হচ্ছে দলকে। ভোটের দিন কাউন্সিলর প্রার্থীদের মারামারি ও বিশৃংখলার কারণে ভোটের গ্রহনযোগ্যতা নিয়ে ইতোমধ্যে প্রশ্নও উঠেছে। বাংলাদেশে নিযুক্ত যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত মার্শিয়া ব্লুম বার্ণিকাট গাজীপুরের নির্বাচনে প্রশ্ন তুলে বলেছেন, নির্বাচনে অনিয়ম এবং বিরোধী দলের রাজনৈতিক নেতা ও পোলিং এজেন্টদের হয়রানির খবরে তার দেশ উদ্বিগ্ন। বিষয়টি নিয়ে চিন্তিত না হলেও আগামী তিন সিটির নির্বাচনে শৃংখলার ব্যাপারে আরো কঠোরতা অবলম্বন করবে আওয়ামী লীগ। যদি নেতারা নিজেদের অভ্যন্তরীণ দ্ব›দ্ব অব্যাহত রাখে, সেক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে তাৎক্ষণিকভাবে কঠোর ব্যবস্থা নেয়া হবে বলে তৃণমূলে হুশিয়ারি দিয়েছেন সাংগঠনিক সফরে থাকা কেন্দ্রীয় নেতারা। দলের কেন্দ্রীয় নেতারা মনে করছেন, গত পাঁচ বছর বিএনপির মেয়ররা এই সিটিগুলোতে তেমন উন্নয়ন করতে পারেননি। তাই জনগণ তাদের কাছ থেকে মুখ ফিরিয়ে নিয়ে সারাদেশের অব্যহত উন্নয়নের সঙ্গে যুক্ত হতে নৌকার প্রার্থীকেই ভোট দেবে। খুলনা ও গাজীপুরের প্রভাব এই তিন সিটির জনমনেও পড়বে। এছাড়া অব্যহত পরাজয়ের কারণে বিএনপির প্রার্থীদের পাশাপাশি বিএনপির সমর্থকরাও হতাশ। সেজন্য জয়ের ব্যাপারে জয়ের ব্যাপারে শতভাগ বিশ্বাসী আওয়ামী লীগ। এই কারণে বিশৃংখলার কারণে নির্বাচন নিয়ে প্রশ্ন উঠুক তা চায় না ক্ষতাসীনরা। আর তাই তিন সিটির দায়ত্বিপ্রাপ্ত নেতারা নিজ নিজ সিটিতে সফর করে বার্তা পৌছে দিয়েছেন। বরিশাল সিটির দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতা দলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আব্দুর রহমান ও সাংগঠনিক সম্পাদক আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম। রাজশাহীতে যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর কবির নানক এবং সাংগঠনিক সম্পাদক খালিদ মাহমুদ চৌধুরী। সিলেটে যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুব উল আলম হানিফ এবং সাংগঠনিক সম্পাদক আহমদ হোসেন। তারা সকলেই তিন সিটিতে দলের বর্ধিত সভায় কেন্দ্রীয় নির্দেশনা পৌছে দিয়ে ঐক্যবদ্ধভাবে প্রার্থীর পক্ষে কাজ করতে বলেছেন। এই সিটি করপোরেশন নির্বাচনগুলোতে কেন্দ্রীয় নেতাদের ইমেজ রক্ষার বিষয় হয়ে দাড়িয়েছে। খুলনা ও গাজীপুরের দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতারা দলীয় প্রার্থীর জয়ের মাধ্যমে সফল হয়েছেন। বর্তমানে রাজশাহী, বরিশাল ও সিলেটের দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতারাও বিফল হতে চান না। সেজন্য তারা জয় পেতে কঠোরভাবেই মাঠে নেমেছেন। গত সোমবার রাজশাহী জেলা ও মহানগর আওয়ামী লীগ আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে জাহাঙ্গীর কবির নানক বলেছেন, এই নির্বাচন নেতাকর্মীদের জন্য অগ্নিপরীক্ষা। কেন্দ্রগুলোতে ভোট কমবেশি হলে আপনাদের জবাব দিতে হবে। বেশি হলে পুরস্কার আর কম হলে তিরস্কার রয়েছে। এজন্য প্রতিটি ওয়ার্ডের প্রতিটি মহল্লায় মহল্লায় গিয়ে ভোটারদের কাছে ভোট চাইতে হবে। ৩০ জুলাই অনুষ্ঠিত হবে রাজশাহী, সিলেট ও বরিশাল সিটি কর্পোরেশন নির্বাচন। ইতোমধ্যে এই তিন সিটিতে মনোনয়নপত্র বিতরণ-জমা ও প্রার্থী যাচাই-বাছাইয়ের কাজ শেষ হয়েছে। ৯ জুলাই প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ দিন। এরপর ১০ জুলাই এ তিন সিটি নির্বাচনের প্রার্থীদের মধ্যে প্রতীক বরাদ্দ দেবে নির্বাচন কমিশন। সেদিন থেকেই আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হবে প্রার্থীদের প্রচার-প্রচারণার কাজ। সবকটি সিটিতেই জয়ের প্রস্তুতি আওয়ামী লীগে। দলের সভাপতিমন্ডলীর সদস্য কার্ণেল (অব.) ফারুক খান বলেন, জনগণ এখন অনেক বেশি সচেতন। জনগণ বোঝে কোন প্রার্থীকে ভোট দিলে উন্নয়ন হবে। তাই আমরা আশাবাদি তিনি সিটিতেই নৌকার প্রার্থী বিজয়ী হবে। এদিকে খোঁজ নিয়ে জানা যায়, রাজশাহীতে আওয়ামী লীগের প্রার্থী এএইচএম খায়রুজ্জামান লিটনের পক্ষে সবাই ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করছেন। সাম্প্রতিক বিএনপি জামায়াতের টানাপোড়নে রাজশাহীতে আওয়ামী লীগের জন্য অতিরিক্ত সুবিধা হবে মনে করছেন নেতারা। জানতে চাইলে নির্বাচনের দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতা ও কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক খালিদ মাহমুদ চৌধুরী বলেন, খায়রুজ্জমান লিটন রাজনীতির নক্ষত্র। বিগত সময়ে মেয়র থাকাকালীন যেসব উন্নয়ন করেছিলেন বর্তমান মেয়রের সময় সেসব উন্নয়নের অভাব রাজশাহীর মানুষ উপলব্ধি করছেন। তাই এবার বিপুল ভোটে নৌকার প্রার্থী জয় পাবে বলে মনে করেন এই নেতা। সিলেটে দলীয় কোন্দল নিরসনে এরই মধ্যে কঠোর বার্তা দিয়েছেন কেন্দ্রীয় নেতারা। আর অনেক আগ থেকে বদর উদ্দিন আহমদ কামরানকে সবুজ সংকেত দেয়ায় অন্য কেউ সেখানে তেমন কোন কর্মকান্ড চালাননি। এছাড়া জামায়াতের সিলেট মহানগর আমীর এ্যড. এহসান মাহবুব জোবায়ের মেয়র প্রার্থী হওয়ায় বিএনপি অনেকটা দুর্বল হয়ে গেছে বলে মনে করছে আওয়ামী লীগ। আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুবউল আলম হানিফ বলেন, মানুষ উন্নয়নে বিশ্বাসী। খুলনা ও গাজীপুরে মানুষ দেশের অগ্রগতির পক্ষে রায় দিয়ে আওয়ামী লীগের প্রার্থীকে বিপুল ভোটে নির্বাচিত করেছে। আসন্ন তিন সিটি নির্বাচনেও ভোটাররা উন্নয়ন-অগ্রগতির পক্ষে ভোট দেবে। এদিকে বরিশাল মহানগর আওয়ামী লীগের প্রকাশ্য কোন দ্ব›দ্ব নেই। তবে নিরব দ্বন্দ্ব নিসরনের চেষ্টা করছেন কেন্দ্রীয় নেতারা। মহানগর আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি কর্নেল (অব.) জাহিদ ফারুক শামীম ও মাহবুব উদ্দিন আহমেদ প্রার্থীতার ঘোষণা দিলেও পরে তারা ঐক্যবদ্ধভাবে মেয়র প্রার্থী সাদিক আবদুল্লাহর পক্ষে অবস্থান নিয়েছেন। বঙ্গবন্ধুর ভাগ্নে আবুল হাসানাত আবদুল্লাহর বড় ছেলে সেরনিয়াবাত সাদিক আবদুল্লাহ । সুন্দর নেতৃত্বের মাধ্যমে সবকিছু ইতোমধ্যে গোছগাছ করে নিয়েছেন সাদিক। জয়ের ব্যাপারে আশাবাদী উল্লেখ করে সাংগঠনিক সম্পাদক বাহাউদ্দিন নাছিম বলেন, নতুন প্রজন্মের নেতৃত্ব দিচ্ছেন সাদিক। যুব সমাজ গাজীপুরের মতো তাকেও বিপুল ভোটে নির্বাচিত করবে। প্রতিপক্ষের বয়স্ক ও বরিশালের উন্নয়ন হন্তারক কোনো প্রার্থীকে আর সিটি মেয়র হিসেবে দেখতে চায় না। এদিকে গত শনিবার গণভবনে দলের ইউনিয়ন পর্যায়ের নেতাদের বিশেষ বর্ধিত সভায় কোন্দল ভুলে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার তাগিদ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি বলেন, আওয়ামী লীগ যখন দৃঢ়প্রতিজ্ঞ থাকে, তখনই বিজয় অর্জন করে। গাজীপুরে জয়ের পেছনে সবচেয়ে বড় শক্তি যেটা কাজ করেছে, সেটা হল একতা। সবাই ঐক্যবদ্ধ ছিল বলেই বিজয় আনতে পেরেছে। খুলনায় রাগ-ক্ষোভ ভুলে সবাই এক হয়েছিল বলেই বিজয় এসেছিল। দলীয় কোন্দল নিরসন ও বিদ্রোহী প্রার্থীদের হুশিয়ারি দিয়ে সেদিন বিশেষ বর্ধিত সভায় আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের বলেন, যারা দলে দ্ব›দ্ব করবে, নির্বাচনে দলের বাইরে গিয়ে নির্বাচন করবে তাদের কিছুতেই ছাড় দেয়া হবে না। তাদের বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।