খালেদা জিয়া ব্রিজের কিছু বোঝেন না, উনি যেটুকু বুঝেছেন সেটুকু বলেছেন-প্রধানমন্ত্রী
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, ‘খালেদা জিয়া ব্রিজের কিছু বোঝেন না, উনি যেটুকু বুঝেছেন সেটুকু বলেছেন। তাই তার এ বক্তব্যের ব্যাপারে আমার কিছু বলার নেই। বুধবার মন্ত্রিসভার বৈঠক শেষে অনির্ধারিত আলোচনায় পদ্মা সেতু নিয়ে বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার বক্তব্যের সমালোচনা করে তিনি এ কথা বলেন। মন্ত্রিপরিষদের একাধিক সূত্র বিষয়টি নিশ্চিত করেছে। মঙ্গলবার ছাত্রদলের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর সভায় খালেদা জিয়া নির্মাণাধীন পদ্মা সেতু প্রসঙ্গে বলেন, ‘জোড়াতালি দিয়ে পদ্মা সেতু বানানো হচ্ছে। এই সেতুতে ঝুঁকি আছে। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত এ বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন শেখ হাসিনা। মন্ত্রিপরিষদের সদস্য ছাড়াও বৈঠকে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের ঊধ্র্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। মঙ্গলবার জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের ৩৯তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত ছাত্রসমাবেশে রাজধানীর ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশনের দরজা বন্ধ প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী জানান, মিলনায়তনের ভাড়ার টাকা পরিশোধ না করায় ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন কর্তৃপক্ষই দরজা বন্ধ রেখেছিল। পরে ওবায়দুল কাদেরের হস্তক্ষেপে দরজা খুলে দেয়া হয়। মন্ত্রিসভা সূত্র জানায়, বৈঠকে প্রসঙ্গটি উঠলে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা জানান, তালা বন্ধের ঘটনাটি জানার পর আমি আমাদের দলের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরকে জানাই। এটা কেন হচ্ছে, এতে সরকারের সমালোচনা হবে। বিষয়টি তাকে দেখতে বলি। ওবায়দুল কাদের ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশনের সভাপতির কাছে জানতে চান- কেন মিলনায়তনের দরজা বন্ধ রাখা হয়েছে? ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন কর্তৃপক্ষ ওবায়দুল কাদেরকে জানায়- ভাড়ার টাকা পরিশোধ করেনি বলে দরজা বন্ধ রাখা হয়েছে। ওবায়দুল কাদের তখন তাদের বলেছে ভাড়ার টাকা পরিশোধ হয়েছি কী হয়নি সেটা পরে দেখা যাবে, তাদের যেহেতু ভাড়া দেয়া হয়েছে তাড়াতাড়ি দরজা খুলে দিন। এটা নিয়ে সরকারের সমালোচনা হবে। এরপর দরজা খুলে দেয় ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন,-বলেন প্রধানমন্ত্রী।
বিএনপি নেত্রী নির্বাচনে হেরে যাওয়ার ভয়ে এখন জনগণের সামনে প্রলাপ বকছেন সেতু মন্ত্রী
আসন্ন জাতীয় নির্বাচন শেখ হাসিনার অধীনে নয়, নির্বাচন কমিশনের অধীনে হবে বলে মন্তব্য করেছেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রী ওবায়দুল কাদের। তিনি বলেন, বিএনপি নেত্রী নির্বাচনে হেরে যাওয়ার ভয়ে এখন জনগণের সামনে প্রলাপ বকছেন। বুধবার দুপুরে খাগড়াছড়িতে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এ কথা বলেন তিনি। এর আগে জেলার রামগড়ে বাংলাদেশ-ভারত মৈত্রী সেতু-১ এর জন্য নির্ধারিত স্থান পরিদর্শনে যান ওবায়দুল কাদের। এসময় বাংলাদেশে নিযুক্ত ভারতীয় হাই-কমিশনার হর্ষ বর্ধন শ্রিংলা এবং প্রশাসনের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। ১৫০ মিটার দৈর্ঘ্যের সেতুটি ভারতের অর্থায়নে নির্মাণ করা হবে। আর সেতুটি নির্মাণ করা হলে, চট্টগ্রামের সঙ্গে ভারতের দক্ষিণ ত্রিপুরার সরাসরি সড়ক যোগাযোগ সম্ভব হবে বলেও জানান ওবায়দুল কাদের। এছাড়া তিনি আরো বলেন, 'বিএনপি বার বার কেন জাতিকে ব্ল্যাক মেইল করছে!। তারা বলছে শেখ হাসিনার অধীনে নির্বাচন হবে। শেখা হাসিনার অধীনে নির্বাচন হবে না। নির্বাচন কমিশনের অধীনে নির্বাচন হবে।' পদ্মা সেতু প্রসঙ্গে তিনি বলেন,'ইনশাল্লাহ পদ্মা সেতু যথা সময়ে শেষ হবে। আর পদ্মা সেতু হলে আমরা একটু খেয়াল করবো বিএনপি নেত্রী ও তার দলের লোকেরা উঠবেন কিনা।'
সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে সমাবেশ করার অনুমতি না পেলে নয়াপল্টনে সমাবেশের অনুমতি চেয়েছে বিএনপি
বুধবার নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলন করেন বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী। ৫ জানুয়ারি সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে সমাবেশ করার অনুমতি না পেলে নয়াপল্টনে সমাবেশের অনুমতি চেয়েছেন বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী। গতকাল বুধবার নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে রুহুল কবির রিজভী এ কথা বলেন। তিনি বলেন, সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের বিকল্প হিসেবে নয়াপল্টনে সমাবেশ করার অনুমতি চেয়ে পুলিশ ও ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনকে চিঠি দেওয়া হয়েছে। রুহুল কবির রিজভী বলেন, ‘যদি সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে সমাবেশ করার অনুমতি দেওয়া না হয়, তাহলে নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে ৫ জানুয়ারি সমাবেশের অনুমতি দেওয়ার জন্য আমরা আহ্বান জানাচ্ছি। আমরা ইতিমধ্যে সিটি করপোরেশন ও পুলিশকে চিঠিও দিয়েছি। দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর থেকে ৫ জানুয়ারি ‘গণতন্ত্র হত্যা দিবস’ হিসেবে পালন করে আসছে বিএনপি। সরকারের সমালোচনা করে রিজভী বলেন, ‘৫ জানুয়ারি নিয়ে সরকারের একটা গভীর নীলনকশা ও তামাশা আছে। সেই তামাশার প্রতিফলন দেখতে পেলাম যে একটা অখ্যাত পার্টিকে অনুমতি দেওয়া হয়েছে।’ তিনি বলেন, বিএনপির আবেদনকে পাশ কাটিয়ে অনেক আগেই অন্য দলকে অনুমিত দেওয়া হয়েছে বলে পুলিশ যে বক্তব্য দিচ্ছে, সেটি সরকারের হীন পরিকল্পনা বাস্তবায়নের অংশ। এটি তাদের হিংসাপরায়ণ নীতির প্রতিফলন। বিএনপির বিভিন্ন নেতা-কর্মীকে গ্রেপ্তার, ছাত্রদল ও যুবদলের কর্মীদের হত্যার তীব্র নিন্দা জানান রিজভী। তিনি বিএনপির গ্রেপ্তার নেতা-কর্মীদের মুক্তির দাবি জানান। বিএনপির চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা আবদুস সালাম, আবুল খায়ের ভূঁইয়া, কেন্দ্রীয় নেতা আজিজুল বারী হেলাল, দীপেন দেওয়ান প্রমুখ সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন।
জনগণের সেবক হয়ে কাজ করাই আওয়ামী লীগের লক্ষ্য-প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, আওয়ামী লীগ জনগণের সেবক। জনগণের সেবক হয়ে কাজ করাই আওয়ামী লীগের লক্ষ্য। মঙ্গলবার সকালে রাজধানীতে বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে (বিআইসিসি) জাতীয় সমাজসেবা দিবস উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় তিনি এ কথা বলেন। প্রধানমন্ত্রী বলেন, দরিদ্র জনগোষ্ঠীর কল্যাণ, ভবঘুরেদের পুনর্বাসনসহ দরিদ্র পিতা-মাতার ভরণ-পোষণেও তার সরকার যুগোপযোগী আইন করেছে। মঙ্গলবার জাতীয় সমাজসেবা দিবস উপলক্ষে সমাজসেবা অধিদপ্তর এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে। প্রসঙ্গত, দারিদ্র্য বিমোচন ও সামাজিক ক্ষমতায়নে সমাজসেবা অধিদপ্তর সুদমুক্ত ক্ষুদ্রঋণ, সামাজিক সুরক্ষা ভাতা ও উপবৃত্তি, প্রতিবন্ধী ব্যক্তির আবাসন ও ভরণপোষণসহ শিক্ষা, প্রশিক্ষণ ও পুনর্বাসন, শিশু সুরক্ষা এবং প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর দক্ষতা উন্নয়নে ৫০টি কর্মসূচি বাস্তবায়ন করছে।
হাসিনার অধীনে কোনো নির্বাচন সুষ্ঠু হয়নি এবং সুষ্ঠু হবেও না ভবিষ্যতে- বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা
রাজধানীর ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন মিলনায়তনে আয়োজিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া। বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া বলেছেন, এই পার্লামেন্ট রেখে নির্বাচন হবে না। আর হাসিনার অধীনেও নির্বাচন হবে না। আমরা বিএনপি, নির্বাচনী দল। আমরা নির্বাচন করব। বাইরে রাখতে চাইলেই রাখা যাবে না, নির্বাচন করব আমরা। গতকাল মঙ্গলবার সন্ধ্যায় রাজধানীর ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন মিলনায়তনে এক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে খালেদা জিয়া এ মন্তব্য করেন। ছাত্রদলের ৩৯তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আলোচনা সভাটির আয়োজন করে কেন্দ্রীয় ছাত্রদল। বেলা দুইটার সময় অনুষ্ঠান শুরু হওয়ার কথা থাকলেও ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন মিলনায়তনের মূল ফটক তালাবদ্ধ ছিল। মিলনায়তন বরাদ্দ পাওয়ার পরেও সেটি তালাবদ্ধ থাকায় বিএনপির নেতা-কর্মীরা ক্ষুব্ধ হন। এরপর বেলা তিনটার দিকে দলের নেতা-কর্মীরা মিলনায়তনের মূল ফটকের সামনে জড়ো হয়ে বিক্ষোভ করেন। এ সময় বিএনপির নেতারা বলেন, তালা না খুললে তাঁরা সেখান থেকে যাবেন না। এরপর বিকেল ৪টা ২৫ মিনিটের দিকে খালেদা জিয়া মিলনায়তনের সামনে এসে উপস্থিত হন। তখন বিএনপির নেতা-কর্মীরা মুহুর্মুহু স্লোগান দিতে থাকেন। এ সময় খালেদা জিয়া তাঁর গাড়িতে বসে অপেক্ষা করছিলেন। মিলনায়তন বরাদ্দ পাওয়ার পরও কেন তা খুলে দেওয়া হয়নি, বিষয়টি জানতে চান খালেদা জিয়া। এরপর তিনি তাঁর গাড়িতে অবস্থান করেন। দলীয় প্রধানের অপেক্ষার সময় দলের নেতারা স্লোগান দিতে থাকেন। একপর্যায়ে বিএনপির এক নেতা বিকেল ৫টা ১৬ মিনিটে মাইকে ঘোষণা করেন যে কর্তৃপক্ষ বিএনপি চেয়ারপারসনের সম্মানে মিলনায়তনের তালা খুলে দিয়েছে। এরপর দলের নেতা-কর্মীরা মিলনায়তনে প্রবেশ করে। বিকেল পাঁচটা ৪০ মিনিটের দিকে খালেদা জিয়া আলোচনা সভার মঞ্চে যোগ দেন। খালেদা জিয়া বলেন, এই সরকার জনগণের ভোটে নির্বাচিত নয়। ভোটে নির্বাচিত নয় বলেই তাদের অধীনে নির্বাচন হতে পারে না। আজকে পার্লামেন্ট বলে কিছুই নেই। হাসিনারা ক্ষমতায় থাকার জন্য পার্লামেন্ট রেখে নির্বাচন করার ব্যবস্থা করেছিল। ২০১৪ সালের নির্বাচনে এরা কেউ ভোটই পায়নি। এরা পার্লামেন্টের মেম্বার থাকার যোগ্য নয়। কাজেই পার্লামেন্ট ভেঙে দিয়ে নির্বাচন দিতে হবে।তিনি বলেন, নির্বাচন হবে। আমরা নির্বাচন করব। কিন্তু সে নির্বাচনটি হতে হবে নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে। হাসিনার অধীনে নয়। সেই নির্বাচনই এই দেশে হবে। কারণ, সারা পৃথিবী বুঝে গেছে হাসিনার অধীনে কোনো নির্বাচন সুষ্ঠু হয়নি, হবে না। সেটা মানুষ বুঝেছে। আ.লীগ ক্ষমতায় থাকলে আমরা বাঁচতে পারব না।। দেশের পরিবর্তন আনতে হলে আওয়ামী লীগকে ক্ষমতা থেকে সরাতে হবে উল্লেখ করে খালেদা জিয়া বলেন, ‘আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় থাকলে আমরা আর বাঁচতে পারব না। সে জন্য যে করেই হোক আওয়ামী লীগকে ক্ষমতা থেকে বিদায় নিতে হবে। অন্য কোনো সরকার আসতে হবে। জনগণের যারা কল্যাণ চায়, ভালো চায়তাদের সরকার মানুষ দেখতে চায়। সে জন্যই মানুষ একটি পরিবর্তন চায়। পরিবর্তনের জন্য প্রয়োজন দেশে একটি নিরপেক্ষ নির্দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচন। কেন বলছি, প্রথম কথাহাসিনার অধীনে আমরা যতগুলো নির্বাচন দেখেছি, কোনো নির্বাচনই সুষ্ঠু হয়েছে কেউ বলবে না। বিদেশিরাও বলবে না। হাসিনার অধীনে কোনো নির্বাচন সুষ্ঠু হয়নি এবং সুষ্ঠু হবেও না ভবিষ্যতে। এক ব্যক্তির ইচ্ছায় সবকিছু চলছে ।। দেশ এক ব্যক্তির ইচ্ছায় চলছে অভিযোগ করে খালেদা জিয়া বলেন, আজ এক ব্যক্তির ইচ্ছায় সবকিছু চলছে বলেই কোনো কিছু চলছে না। দেশ আজ অচল। দেশ আজ সামনের দিকে না গিয়ে পেছনের দিকে যাচ্ছে। মানুষের অবক্ষয় হচ্ছে। এর জন্য দায়ী হলো এই আওয়ামী লীগ। আওয়ামী লীগ যতবার ক্ষমতায় এসেছে, ততবার এই দেশে মানুষের অধিকার কেড়ে নিয়েছে। আওয়ামী লীগ মানুষের ওপর নির্যাতন করেছে, গুম-খুন করেছে, দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধি পেয়েছে এবং মানুষের জানমালের স্বাধীনতা হরণ করেছে। এই হলো আওয়ামী লীগ। এই দলকে দেশের মানুষ কখনো বিশ্বাস করে না। জনগণের ভোটে তারা কখনো ক্ষমতায় আসেনি। কারও না কারও ঘাড়ে ভর দিয়ে, পা দিয়ে তারা ক্ষমতায় বসেছে। জনগণের ভোটে ক্ষমতায় বসেনি। সে জন্য তাদের ভয়। এ জন্যই তারা বিএনপিকে ভয় পায়। বিএনপি বারবার জনগণের ভোট নিয়ে ক্ষমতায় এসেছে এবং জনগণের সমস্যা সমাধানের জন্য কাজ করে গেছে। এমন অবস্থা, লবণ দিয়ে ভাত খাওয়ারও উপায় নেই।। আওয়ামী লীগের পকেটের মধ্যেউন্নয়নের জোয়ার বইছে দাবি করে খালেদা জিয়া বলেন, দেশে উন্নয়নের কোনো জোয়ার নেই। গ্রাম দেশে যান, মানুষের কোনো কাজ নেই। অভাব-অনটন-দুঃখ। জিনিসপত্রের দাম এতই বেশি। প্রতিটি জিনিসের দাম বেশি।...২০১৪ সালে তো কোনো ইলেকশন হয়নি, কাজেই তখন আর ভোটের জন্য মানুষের কাছে যাওয়ারও দরকার হয়নি, বলারও দরকার হয়নি। এই আওয়ামী লীগ ২০০৮ সালে বলেছিল না, ১০ টাকা সের চাল খাওয়াব? বিনা মূল্যে সার দেব, ঘরে ঘরে চাকরি দেব। কিন্তু তার কোনটি বাস্তবায়ন করেছে তারা? আজকে ১০ টাকা কেজি চালের জায়গায় ৭০ টাকা কেজি চাল। ১২০ টাকা পেঁয়াজ। দেশের মানুষ কী খাবে তাহলে? লবণ দিয়ে ভাত খাওয়ারও উপায় নেই, এমন অবস্থায় চলে গেছে। আগে গোলাগুলি করে ব্যাংক ডাকাতি হতো, এখন বোঝা যায় না ।। সরকার এই আমলে পদ্মা সেতু নির্মাণ করতে পারবে না দাবি করে বিএনপি চেয়ারপারসন বলেন, ‘এখন পদ্মা সেতুর স্বপ্ন দেখাচ্ছে। কিন্তু পদ্মা সেতু এই আওয়ামী লীগের আমলে হবে না। আর সেই সেতুতে ওঠার জন্য...একটি যদি জোড়াতালি দিয়ে বানায়, সেই সেতুতে কে উঠতে যাবেন না। অনেক রিস্ক (ঝুঁকি) আছে। ব্যাংক খাতে ডাকাতি হচ্ছে অভিযোগ করে তিনি বলেন, আমরা তো এর আগে শুনেছিলাম ব্যাংক ডাকাতি হতো গুলি করে। আর এখন ব্যাংক ডাকাতি এমন সুপরিকল্পিতভাবে হচ্ছে, কেউ টের পাচ্ছে না। পরে খবরের কাগজে আমরা দেখছি, জানছি কী সুন্দরভাবে ঠান্ডা মাথায় ব্যাংকগুলোর সব টাকা লুট করেছে। এগুলো কার টাকা? জনগণের টাকা। আওয়ামী লীগ এলেই কেন শেয়ারবাজারে ধস নামে? শেয়ার মার্কেটের টাকা কোথায় যায়? প্রধান বিচারপতির নিয়োগ বিষয়ে খালেদা জিয়া বলেন, প্রধান বিচারপতি এখনো নিয়োগ দেওয়া হয়নি। কারণ এখনো মতলবটা তাদের ভালো নয়, সে জন্যই। কিন্তু মওদুদ সাহেব বলেছেন যে একদিনও নাকি খালি রাখা যায় না প্রধান বিচারপতির পদ। কাজেই আমরা বলতে চাই, হাসিনা যা চাইবে, সেটা না করলেই তাকে ক্ষমতা থেকে বিদায় নিতে হবে। তার নামে মামলা হবে। তাকে জেলে যেতে হবে, অত্যাচারিত হতে হবে। যদি এক ব্যক্তি সবকিছু করে, তাহলে এক ব্যক্তির শাসন তো এ দেশে চলতে পারে না। এ জন্য তো এ দেশের মানুষ যুদ্ধ করেনি। এ দেশের মানুষ করেছিল যখন পাকিস্তানিরা এ দেশের মানুষের স্বাধীনতা দিচ্ছিল না। মানুষের অধিকার ফিরিয়ে আনার জন্যই তো এ দেশের মানুষ যুদ্ধ করেছিল। কিন্তু সে অধিকার তারা (সরকার) কেড়ে নিয়েছে। জঙ্গি আ.লীগের সৃষ্টি।।সরকার কথায় কথায় জঙ্গির ভয় দেখায় অভিযোগ করে খালেদা জিয়া বলেন, বিএনপি যখন ক্ষমতায় ছিল, তখন এই আওয়ামী লীগ জঙ্গি সৃষ্টি করেছিল। জঙ্গিদের বড় বড় নেতা, শায়খ আবদুর রহমান, বাংলা ভাইসব তাদের আত্মীয়স্বজন। জঙ্গি তো তারা সৃষ্টি করেছে। কথায় কথায় কিছু হলেই জঙ্গির ভয় দেখায়। কিন্তু এই জঙ্গি আওয়ামী লীগের সৃষ্টি। বাংলাদেশের মানুষ জঙ্গি নয়। বাংলাদেশের মানুষ অত্যন্ত শান্তিপ্রিয়। তারা শান্তিতে থাকতে চায়, তারা জঙ্গি হতে চায় না। কিন্তু তাদের মিথ্যা অপবাদ দিয়ে জঙ্গি বানানো হচ্ছে। বিদেশিদের কাছে জঙ্গি দেখানো হচ্ছে। দাড়ি-টুপিওয়ালা হলেই সে জঙ্গি হয়ে যায়। আওয়ামী লীগ স্বাধীনতার ঘোষণা দেয়নি দাবি করে সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া বলেন, জিয়াউর রহমানের ডাকে দেশের ছাত্র, যুবক, সাধারণ মানুষ সবাই সাড়া দিয়ে মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণ করেছেন। প্রতিবেশী দেশ ভারত আমাদের সাহায্য করেছে, আমাদের লোকজনকে থাকার অনুমতি দিয়েছে, তাদের সে জন্য ধন্যবাদ। আমরা বন্ধু হিসেবে সব সময় মনে রাখব। কাজেই তাদের (ভারত) বন্ধুর মতো দেখতে চাই। আমরা ভালো সম্পর্ক চাই। আওয়ামী লীগ স্বাধীনতার ঘোষণা দেয়নি। এটা দিয়েছে শহীদ জিয়াউর রহমান। যেটা দেওয়ার কথা ছিল আওয়ামী লীগের, তাদের নেতাদের দিয়ে সেধেও পারা যায়নি। পুলিশের দোষ নেই, তাদের ব্যবহার করা হচ্ছে।। পুলিশের কর্মকাণ্ড বিষয়ে খালেদা জিয়া বলেন,আমরা তো শৃঙ্খলা মেনেই চলতে চাই। কিন্তু শৃঙ্খলা ভাঙেই তারা, আওয়ামী লীগ ভাঙে; তার লোকজনকে দিয়ে করায় এবং পুলিশকে প্রতিটি কাজে ব্যবহার করে। পুলিশ খারাপ নয়। কিন্তু আওয়ামী লীগ খারাপ করছে তাদের। পুলিশকে আমরা বলব, আপনারা জনগণের সেবক। এই দেশের মানুষ আপনাদের কাছে সবাই সমান। কী সরকারি দল, কী বিরোধী দলসবার কথা আপনাদের চিন্তা করে সেভাবে আপনারা এগোবেন। আপনাদের সঙ্গে আমাদের কোনো বিরোধ নেই কিংবা আপনাদের ওপর আমাদের কোনো রাগও নেই। আপনারা আপনাদের মতো কাজ করে যাবেন, কিন্তু আমি বলিএই যে কথায় কথায় আমার ছেলেদের ধরে নিয়ে যাওয়া হয়! আজও অনেক ছেলেকে ধরে নিয়ে গেছে। এই যে কথায় কথায় আমাদের ছেলেদের ধরে নিয়ে যাওয়া, সেগুলো বন্ধ করেন। ঘরে ঘরে গিয়ে ছেলেদের ধরা, এগুলো বন্ধ করেন। আর যাদের জেলখানায় রেখেছেন, এখন তাদের ছেড়ে দিন। ছাত্রদল কীভাবে কর্মসূচি পালন করে তা দেখতে গোয়েন্দা নিয়োগ ।।ছাত্রদলের নেতা-কর্মীদের উদ্দেশে খালেদা জিয়া বলেন, ছাত্রদের যেসব সমস্যা, সেসব বিষয়ে নিয়ে কাজ করতে হবে। কথা বলতে হবে। বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন সমস্যা নিয়েও কথা বলতে হবে। বিদেশ থেকে ভালো ভালো ডিগ্রি নিয়ে এসেও অনেকে এখন চাকরি পায় না। বিএনপি শিক্ষিত বেকারদের জন্য চাকরির ব্যবস্থা করবে। শুধু চেহারা দেখালে আর ছবি ওঠালে হবে না উল্লেখ করে খালেদা জিয়া বলেন, ১০-১২ জন লোক নিয়ে ছবি ওঠাল, আমি রাস্তায় ছিলাম-আমি আন্দোলনে ছিলামএগুলো আর চলবে না। আমরাও বিকল্প ব্যবস্থা করেছি। তোমরা কীভাবে চলছ, কর্মসূচিগুলো কীভাবে পালন করছ, সেগুলো দেখার জন্য আমরা গোয়েন্দা নিয়োগ করেছি। বিএনপি নেতৃবৃন্দও তার মধ্যে (নজরদারি) থাকবে। কেউ বাদ যাবে না। ছাত্রদলের সভাপতি রাজীব আহসানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য মওদুদ আহমদ, মঈন খান, ভাইস চেয়ারম্যান আবদুল্লাহ আল নোমান, আবদুল আউয়াল মিন্টু, যুগ্ম মহাসচিব আমানউল্লাহ আমান, সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল, হাবিব-উন নবী খান সোহেল, যুবদলের সাধারণ সম্পাদক সুলতান সালাহউদ্দিন প্রমুখ।
রংপুরে বিজয়ের মধ্য দিয়ে প্রমাণ হয়েছে জাতীয় পার্টি শক্তিশালী একটি দল- হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ
জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ বলেছেন, রংপুরে বিজয়ের মধ্য দিয়ে প্রমাণ হয়েছে জাতীয় পার্টি শক্তিশালী একটি দল। একই অনুষ্ঠানে বেগম রওশন এরশাদ বলেন, জাতীয় পার্টি কারো দাবার গুটি নয়, বরং রাজা হতে চায়। সোমবার সকালে রাজধানীর ইঞ্জিনিয়ার্স ইন্সটিটিউটে জাতীয় পার্টির ৩২ তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আলোচনা সভায় তারা এ মন্তব্য করেন। এ সময় এরশাদ আরো বলেন, 'আমরা প্রমাণ করেছি জাতীয় পার্টি আছে। সবচেয়ে শক্তিশালী দল হিসেবে আছে। আমরা সব সময় নির্যাতিত হয়েছি। অনেকদিন পরে আমরা নিজের পায়ে দাঁড়িয়েছি। এবং এমন অবস্থায় দাঁড়িয়েছি যেখানে জাতীয় পার্টি রাজনীতিতে বড় ফ্যাক্টর। জাতীয় পার্টি ছাড়া আগামী নির্বাচন হবে না। ' এছাড়া রওশন এরশাদ বলেন, 'আমরা কারো দাবার গুটি হতে চায় না। আমরা রাজা হতে চাই'
এই বছরের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ গণতন্ত্রকে ফিরিয়ে আনা বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।
নির্দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচনের মাধ্যমে গণতন্ত্র ফিরিয়ে আনাই বিএনপির নতুন বছরের চ্যালেঞ্জ বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। সোমবার বিকেলে ছাত্রদলের প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী উপলক্ষে জিয়ার সমাধিতে ফুল দিতে গিয়ে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন। এ সময় তিনি বলেন, 'এই বছরের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ গণতন্ত্রকে ফিরিয়ে আনা। সরকার যে অবস্থানে আছে তাতে কোনো সমস্যার সমাধান হবে না। এ বিষয়ে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর আরো বলেন, 'তারা চায় একদলীয় শাসন। বর্তমান সরকার কোনো আলোচনা ছাড়ায় তাদের সেই তথাকথিত সংবিধান অনুযায়ী নির্বাচন করতে চায়। তারা যা করছে জনগণ মেনে নেবে না। জনগণ চায় নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে একটি সুষ্ঠু নির্বাচন।'
জ্বালাও-পোড়াও করে যারা মানুষ হত্যা করেছে এদেশের জনগণ তাদের কখনই ভোট দেবে না-নাসিম
আওয়ামী লীগের সভাপতিমন্ডলীর সদস্য এবং স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম বলেছেন, জ্বালাও-পোড়াও করে যারা মানুষ হত্যা করেছে এদেশের জনগণ আর কোন দিন তাদের ভোট দেবে না। গতকাল রোববার কাজীপুরের গান্ধাইলে পরিবার পরিকল্পনা বিভাগ আয়োজিত পরিবার কল্যাণ সেবা ও প্রচার সাপ্তাহের উদ্বোধন উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন। আগামী নির্বাচনে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে আবারও নৌকা মার্কায় ভোট দিয়ে বিজয়ী করার আহবান জানিয়ে মোহাম্মদ নাসিম বলেন, জ্বালাও-পোড়াও ও মানুষ হত্যাকারীদের দল বিএনপি ক্ষমতায় এলে দেশের উন্নয়ন স্থবির হয়ে যাবে, দেশ অন্ধকারে নিমজ্জিত হবে। নতুন করে হাওয়া ভবনের সৃষ্টি হবে। তাই জ্বালাও পোড়াও মানুষ হত্যাকারীদের এদেশের জনগণ আর কোন দিনই ভোট দেবে না। ইউপি চেয়ারম্যান শওকত হোসেনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক সৈয়দ ইরতিজা আহসান, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার শাহিনুর আলম খান, উপজেলা নির্বাহী অফিসার শফিকুল ইসলাম, উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক খলিলুর রহমান, উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান সাইফুল ইসলাম বেলাল প্রমুখ বক্তব্য রাখেন। দেশবাসীকে নতুন বছরের শুভেচ্ছা জানিয়ে মোহাম্মদ নাসিম বলেন, আগামী বছর বিজয়ের মাসে নির্বাচন অনুষ্ঠান হবে। সেই নির্বাচনে খালেদা জিয়ার দল বিএনপিসহ সকল দল অংশ গ্রহণ করবে। স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, দেশে শিশু ও মাতৃ মৃত্যুহার কমেছে। শেখ হাসিনার যোগ্য নেতৃত্বে দেশে এখন উন্নয়ন এবং শান্তির পথে এগিয়ে যাচ্ছে। পরে তিনি চালিতাডাঙ্গা ইউনিয়নের মাথাইলচাপর আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয়ের ভবন নির্মাণের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন। এছাড়াও বিকেলে স্বাস্থ্যমন্ত্রী ৬৫ কোটি টাকা ব্যয়ে সরকারের যমুনা নদীর ডানতীর রক্ষা প্রকল্পের ড্রেজিং কার্যত্রমের কাজের অগ্রগতি পরিদর্শন করেন।
বিএনপি চেয়ারপারসন মামলার রায় ও আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে ঘিরে বিএনপির ভিতরে চলছে নানা আলোচন
রায় ও ভাঙন আতঙ্কে বিএনপি, কর্মীদের চোখ খালেদা তারেকের দিকে বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার মামলার রায় ও আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে ঘিরে বিএনপির ভিতরে চলছে নানামুখী আলোচনা। শুধু তাই নয়, এক ধরনের আতঙ্কও তৈরি হয়েছে। যদিও দলীয় নেতারা বলছেন, আতঙ্কের কিছু নেই। যে কোনো মূল্যে দলীয় ঐক্য ধরে রাখা হবে। চেয়ারপারসনের সাজা হলে সরকারবিরোধী একক আন্দোলনে যাবে বিএনপি। কোথাও কোনো ছাড় দেওয়া হবে না। যারা দলের বিরুদ্ধে অবস্থান নেবে তারা চিরতরে হারিয়ে যাবে। অতীতেও অনেকেই এমন করেছিল। আজ তারা কোথাও নেই। সংকট মোকাবিলা করেই বিএনপি আগামীর রাজনীতি করবে। তারপরও ত্যাগী নেতারা মনে করেন, জাতীয় নির্বাচন সামনে রেখে বিএনপির ভিতরে অন্তর্কলহ সৃষ্টির চেষ্টা চলছে। বিশেষ করে দলীয় চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে দুদকের দুটি মামলার গতি বাড়ায় এ আশঙ্কা জোরালো হচ্ছে। বিএনপির নেতাদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, ২০১৩ সালের ১৯ ডিসেম্বর মার্চ ফর ডেমোক্রেসি কর্মসূচি যেসব নেতার জন্য সফল হয়নি বলে দলে আলোচনা আছে, তাদের দিকেই সন্দেহের দৃষ্টি। এরা সরকারের কাছ থেকে নানা সুবিধা নিয়ে বিএনপিকে আবারও ব্যর্থতার দিকে নিয়ে যেতে চাচ্ছে। বিএনপি ঘরানার বুদ্ধিজীবীরাও দল ভাঙার বিষয়টি উড়িয়ে দিচ্ছেন না। এ ব্যাপারে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক ড. এমাজউদ্দীন আহমদ বলেন, গণতন্ত্র যখন সমাজের ভিতরে শিকড় গাড়তে পারেনি, তখন অন্যভাবে হলেও দলটাকে (বিএনপিকে) ধ্বংস করে দেওয়ার চেষ্টা হতেই পারে। আর তা নিয়ে দলীয় নেতা-কর্মী, সমর্থক সবাই উদ্বেগ ও আতঙ্কে আছেন। গণস্বাস্থ্য হাসপাতালের প্রতিষ্ঠাতা বীর মুক্তিযোদ্ধা ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী বলেন, দল ভাঙার চেষ্টা হতেই পারে। অতীতেও হয়েছে। নেতা-কর্মীরাও উদ্বিগ্ন এবং আতঙ্কিত। তবে সঠিক সময়ে সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে পারলে কিছুই হবে না। আমার বিশ্বাস, শেষ পর্যন্ত বিএনপিকে কেউ ভাঙতে পারবে না। নাম প্রকাশ না করে বিএনপির কয়েকজন নেতা জানান, কেন্দ্রীয় অনেক নেতার মধ্যেই হঠাৎ আবার সরকার প্রীতি বেড়ে গেছে। তারা নানা কায়দায় চেষ্টা করছেন, দলীয় সিদ্ধান্তগুলো সরকারের অনুকূলে নিতে। এমনকি তারা আর্থিকসহ নানা সুযোগ-সুবিধার প্রস্তাবও দিচ্ছেন কিছু নেতাকে। যারা তাদের কথা শুনছেন না, তাদের নানারকম ভয়ভীতি দেখানো হচ্ছে। নতুন করে মামলা-মোকদ্দমা দেওয়া শুরু হয়েছে। এরাই ২০১৩ সালের ১৯ ডিসেম্বর কৌশলে বেগম খালেদা জিয়াকে দিয়ে মার্চ ফর ডেমোক্রেসি কর্মসূচি ডেকে জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের নেতাদের ঢাকায় এনে বিপদে ফেলেছিলেন। সেই ব্যক্তিরা এবারও মোটা অঙ্কের অর্থের বিনিময়ে দলকে বিপদে ফেলার জন্য তত্পর হয়ে ওঠেছেন। এ প্রক্রিয়ায় দলের স্থায়ী কমিটির দু-একজন সদস্যসহ কেন্দ্রীয় কমিটির ডজন খানেক নেতা জড়িত থাকার কথা দলে আলোচনা আছে। এ ছাড়া চেয়ারপারসনের গুলশান কার্যালয়ের দুজন বিতর্কিত কর্মকর্তাও এর সঙ্গে সম্পৃক্ত বলে দল ও অঙ্গসংগঠনের নেতা-কর্মীদের সূত্রে জানা গেছে। বেগম খালেদা জিয়াকে মামলার চাপ দিয়ে সরকারের প্রস্তাবগুলোতে রাজি করাতে না পারলে শেষ পর্যন্ত তাকে অন্তরীণ করে হলেও সরকারি এজেন্ডা বাস্তবায়ন করতে চান তারা। এদের কেউ কেউ আগামী সংসদের বিরোধী দলের নেতা হওয়ার স্বপ্ন দেখছেন বলে নেতা-কর্মীরা ধারণা করছেন। এ ব্যাপারে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন বলেন, কারা কী করছেন, জানি না। তবে জন্মের পর থেকেই বিএনপির বিরুদ্ধে বার বার ষড়যন্ত্র হয়েছে। তবে শেষ পর্যন্ত কেউই সফল হয়নি। এ সরকারও ক্ষমতাকে দীর্ঘস্থায়ী করার জন্য বিএনপিকে ভাঙার চেষ্টা করবে, এটাই স্বাভাবিক। কিন্তু সফল হবে না। বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, সরকারের পক্ষ থেকে পরোক্ষ বা প্রত্যক্ষভাবে দল ভাঙার যত চেষ্টাই করা হোক না কেন, তা কখনোই সফল হবে না। অতীতেও তারা অনেক চেষ্টা করেছে, ওয়ান-ইলেভেন এর সময়ও করেছে, পারেনি। মামলা-হামলা দিয়ে কখনো জনআন্দোলন ঠেকানো যায় না। কাজেই তারাও (সরকার) সফল হবে না। স্থায়ী কমিটির অপর সদস্য আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, বেগম খালেদা জিয়াকে মিথ্যা মামলায় সাজা দিয়ে আবারও একটি প্রতারণার নির্বাচন করতে চাচ্ছে সরকার। এর আগে দল ভাঙতে চায় তারা। কিন্তু এবার আর তা হবে না। সেই চেষ্টা করলে নতুন বছরে এই সরকারকে উচ্চ মাশুল দিয়ে বিদায় নিতে হবে। বিএনপি সমর্থক বুদ্ধিজীবী ও দলের ত্যাগী নেতারা মনে করেন, দলের বর্তমান পরিস্থিতির জন্য প্রধানত দায়ী বেগম খালেদা জিয়ার ঘরে বসে থাকা। দেশের মানুষ পরিবর্তন চায়। আর সে জন্য বিএনপিকেও বদলাতে হবে। বদলাতে হবে চেয়ারপারসনের অফিসের সময়সূচি। কোনোক্রমেই রাত ১০টার পর তার অফিসে থাকা ঠিক হবে না। আবার অফিসে আসতেও হবে তাঁকে বিকাল ৪টার মধ্যে। এ প্রসঙ্গে ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী বলেন, বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়াকে অঘোষিতভাবে অন্তরীণ করেই রাখা হয়েছে। এ জন্য অনেকটা তিনি নিজেই দায়ী। আর ঘরে বসে না থেকে তাঁর উচিত সিলেটসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে সফর করা। তা না হলে দল ভাঙার ষড়যন্ত্র মোকাবিলা সম্ভব হবে না। তৃণমূল সফর করলে দল যেমন চাঙ্গা হবে, সরকারও ষড়যন্ত্র থেকে পিছিয়ে যেতে বাধ্য হবে।