রবিবার, ফেব্রুয়ারী ১৭, ২০১৯
সরকারি জুলুমের তীব্র কষাঘাতে বিরাণভূমিতে পরিণত দেশ: রিজভী
অনলাইন ডেস্ক: সরকারি জুলুমের তীব্র কষাঘাতে সারা দেশ বিরাণভূমিতে পরিণত হয়েছে। গোটা দেশকে ভূতুড়ে বাড়িতে পরিণত করার উদ্যোগ চলছে। একদিকে লাগামহীন গ্রেপ্তারের উন্মাদনা, অন্যদিকে গায়েবি মামলার জলোচ্ছ্বাসে সারা দেশ প্লাবিত বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী। দলীয় নেতাকর্মীদের গ্রেপ্তারের নিন্দা জানিয়ে বিএনপির এই নেতা বলেন, বিরোধী দলের নেতাকর্মীরা গ্রাম থেকে শহরে, শহর থেকে বন্দরে ছুটে বেড়াচ্ছে। বিএনপি নেতাকর্মীরা ঘরছাড়া, গ্রাম ও শহর নেতাশূন্য, কর্মীশূন্য। তৃণমূলের ওয়ার্ড থেকে জাতীয় পর্যায় পর্যন্ত বিভিন্ন কমিটিতে সভাপতি থেকে সর্বশেষ সদস্য পর্যন্ত সবার বিরুদ্ধে অসংখ্য মিথ্যা মামলা দেওয়া হচ্ছে। বিএনপিসহ বিরোধী দলগুলোর সাধারণ সমর্থকরাও এই হামলার ছোবল থেকে রেহাই পাচ্ছে না। শনিবার রাজধানীর নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন। রিজভী আরো বলেন, মূলত ভোটারশূন্য করার জন্যই অবৈধ সরকার বিএনপির ওপর আগাম আক্রমণ শুরু করেছে। বিএনপির নেতাকর্মীরা যাতে আন্দোলন বা নির্বাচনের কাজে অংশগ্রহণ করতে না পারে সেজন্যই এই আগাম অভিযান। আগামী নির্বাচনে বিএনপির এজেন্ট দেওয়া দূরে থাক, প্রার্থীও যাতে খুঁজে না পাওয়া যায়, সেজন্য সরকার মামলা-হামলার আগাম আক্রমণ চালিয়ে যাচ্ছে। কারাবন্দি খালেদা জিয়ার চিকিৎসার জন্য গঠিত মেডিকেল বোর্ডে তার ব্যক্তিগত চিকিৎসকদের অন্তর্ভূক্ত না করায় সরকারের সমালোচনা করে বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব বলেন, খালেদা জিয়ার পছন্দমতো চিকিৎসকদের দ্বারা চিকিৎসা নেওয়ার অধিকার নেই। সরকারই ঠিক করে দিচ্ছে কারা হবেন খালেদা জিয়ার চিকিৎসক। তাই সরকার পরিবারসহ জনগণের দাবিকে পাত্তা না দিয়ে আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে সক্রিয় এমন চিকিৎসকদের দিয়ে তাঁর মেডিকেল বোর্ড গঠন করেছে। খালেদা জিয়ার ব্যক্তিগত চিকিৎসকদের স্বাস্থ্য পরীক্ষার সুযোগ না দিয়ে ক্ষমতাসীন দলের ডাক্তারদের দিয়ে মেডিকেল বোর্ড গঠন দূরভিসন্ধিমূলক। গুরুতর অসুস্থ ব্যক্তির চিকিৎসা নিয়ে এটি এক চরম তামাশা। খালেদা জিয়ার স্বাস্থ্য পরীক্ষায় তার ব্যক্তিগত চিকিৎসকদের অন্তর্ভূক্ত করার আশ্বাস দেওয়ার পরও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী কথা রাখেননি বলেও অভিযোগ করেন রিজভী। তিনি বলেন, আওয়ামী লীগ দল হিসেবে প্রকৃতিগতভাবেই ডাবল স্ট্যান্ডার্ডের। চিকিৎসা নিয়ে ছিনিমিনি খেলার অপরিণামদর্শিতার মাশুল একদিন তাদের দিতেই হবে। সরকার ইচ্ছাকৃতভাবেই খালেদা জিয়াকে গুরুতর শারীরিক অসুস্থতার দিকে ঠেলে দিচ্ছে। সরকার সংসদের চলতি অধিবেশনে ডিজিটাল নিরাপত্তা বিল আনতে পারে বলে বিভিন্ন গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। রুহুল কবির রিজভীর অভিযোগ, সব শ্রেণি-পেশার মানুষের মতকে উপেক্ষা করে বহুল আলোচিত ডিজিটাল নিরাপত্তা বিলের ওপর প্রতিবেদন তৈরি করেছে সংসদীয় কমিটি। বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব বলেন, এই আইন পাস করা হলে গণমাধ্যম ও সাংবাদিকদের স্বাধীনতা হুমকির মুখে পড়বে। গণমাধ্যমকে সম্পূর্ণরূপে নিয়ন্ত্রণ করতেই এই আইন করা হচ্ছে। শুধু গণমাধ্যমই নয়, সরকারবিরোধী যেকোনো সমালোচনার পায়ে জিঞ্জির পরাতেই এই আইন। যাতে কেউ সরকারের বিরুদ্ধে টু শব্দটিও উচ্চারণ করতে না পারে। এটি একটি ভয়ঙ্কর কালাকানুন। দলমত নির্বিশেষে সব মানুষকে এই আইনের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধভাবে প্রতিরোধ গড়ে তোলার জোর আহ্বান জানান রিজভী। আলোকিত বাংলাদেশ
যুক্তফ্রন্ট-জাতীয় ঐক্য প্রক্রিয়ার ঘোষণা আজ
অনলাইন ডেস্ক: নির্দলীয়-নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে নির্বাচন ও তফসিলের আগেই সব রাজনৈতিক দলের সঙ্গে আলোচনা করে নির্বাচনি রোডম্যাপ নির্ধারণসহ পাঁচ দফা ঘোষণা করতে যাচ্ছে বি চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন যুক্তফ্রন্ট ও ড. কামাল হোসেনের নেতৃত্বাধীন জাতীয় ঐক্যপ্রক্রিয়া। শনিবার বিকালে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার থেকে এই ঘোষণা দেওয়া হবে বলে জানা গেছে। এই পাঁচ দফা পূরণে যুক্তফ্রন্টের নয় দফা এবং জাতীয় ঐক্য প্রক্রিয়ার সাত দফার সমন্বয়ে একটি অভিন্ন কর্মসূচি প্রণয়নও করা হয়েছে। এসব বিষয়ে দেশবাসীকে অবহিত করার পাশাপাশি অঙ্গীকারবদ্ধও হবেন বি চৌধুরী, ড. কামাল হোসেন, আ স ম রব ও মাহমুদুর রহমান মান্না। গত বৃহস্পতিবার রাতে রাজধানীর উত্তরায় জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দলের (জেএসডি) সভাপতি আ স ম আবদুর রবের বাসায় এক বৈঠক হয়। সেখানে বৃহত্তর জাতীয় ঐক্য গড়ে তোলার লক্ষ্যে কাজ করার জন্য একমত হন যুক্তফ্রন্ট ও জাতীয় ঐক্য প্রক্রিয়ার নেতারা। গত ২৮ আগস্ট ড. কামাল হোসেনের বেইলি রোডের বাসায় যুক্তফ্রন্ট ও জাতীয় ঐক্য প্রক্রিয়ার বৈঠক হয়। ওই বৈঠক থেকে ড. কামাল ও বি. চৌধুরী একসঙ্গে কাজ করার বিষয়ে ঐকমত্য পোষণ করেন। অন্যদিকে, বিএনপিও বৃহত্তর ঐক্য গড়ার কাজ করে আসছে। ২০ দলীয় জোটের বাইরে বিএনপি অন্য দলগুলোর সঙ্গে ঐক্য প্রক্রিয়ায় অংশ নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বলে জানা গেছে। যা থাকছে ঘোষণায় দুই শীর্ষ নেতার ঐক্যবদ্ধ ঘোষণাপত্রে বলা হয়েছে, বর্তমানে একটি জনসমর্থনহীন, অনির্বাচিত সরকার দেশ শাসন করছে। সন্ত্রাস, গ্রেপ্তার, মিথ্যা মামলা ও পুলিশ প্রশাসন ব্যবহার করে ক্ষমতায় টিকে আছে। জনসমর্থন নিয়ে কেউ যাতে ক্ষমতায় না আসতে পারে সেজন্য তারা জনগণের অবাধ রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের অধিকারসহ গণতান্ত্রিক ও ভোটাধিকার কেড়ে নিয়েছে। আগামী নির্বাচনে যে কোনোভাবে জয়লাভের জন্য ইভিএম পদ্ধতি প্রবর্তন, ক্ষমতায় থেকে নির্বাচন অনুষ্ঠানসহ একের পর এক কূটকৌশল অবলম্বন করছে। সন্ত্রাস, গুম, খুন, বিচারবহির্ভূত হত্যা এবং নির্বিচারে জেল-জুলুম ও নির্যাতনের মাধ্যমে জনগণের ভোটাধিকারসহ, মৌলিক, মানবাধিকার ও সাংবিধানিক অধিকারসমূহ কেড়ে নেওয়া হয়েছে। সরকারি চাকরিতে ‘কোটা সংস্কার’ এবং ‘নিরাপদ সড়ক’ -এর দাবিতে ছাত্র সমাজের শান্তিপূর্ণ আন্দোলন পুলিশ ও সরকারি নামধারী ছাত্র সংগঠন অত্যন্ত ন্যাক্কারজনকভাবে দমনে লিপ্ত। এখানে মত প্রকাশের স্বাধীনতা নেই, ভিন্নমতের কাউকে নির্বিঘ্নে সভা-সমাবেশ করতে দেওয়া হয় না। রাষ্ট্রের আইন বিভাগ, শাসন বিভাগ ও বিচার বিভাগসহ সমগ্র রাষ্ট্র্র যন্ত্রকে এক ব্যক্তিকেন্দ্রিক স্বেচ্ছাচারী নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে জনগণের গণতান্ত্রিক অধিকারসমূহ হরণ করা হয়েছে। এই পরিস্থিতি থেকে দেশ, জাতি ও জনগণকে মুক্ত করে রাষ্ট্র ও সমাজের সর্বত্র কার্যকর গণতন্ত্র, আইনের শাসন ও আইনের নিরপেক্ষ প্রয়োগ সুনিশ্চিত করার লক্ষ্যে-বৃহত্তর জাতীয় ঐক্য গঠনের কোনো বিকল্প নেই। তাই, প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে সকল স্বাধীনতাবিরোধী রাজনৈতিক দল ও ব্যক্তিদের বাদ দিয়ে মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় বিশ্বাসী রাজনৈতিক দল, সামাজিক শক্তি ও নাগরিক সমাজসহ জনগণকে সুসংগঠিত করে আমরা নিম্নবর্ণিত অভিন্ন দাবি আদায় এবং লক্ষ্যসমূহ বাস্তবায়নে শান্তিপূর্ণ ও অহিংস গণআন্দোলন গড়ে তোলার অঙ্গীকার ব্যক্ত করে বৃহত্তর জাতীয় ঐক্য গড়ার কার্যকর উদ্যোগ অব্যাহত রাখার ঘোষণা প্রদান করছি। দাবিসমূহ ১। আসন্ন জাতীয় একাদশ সংসদ নির্বাচনে সকলের জন্য সমান সুযোগ সুবিধা অর্থাৎ লেভেল প্লেইং ফিল্ড নিশ্চিত করার লক্ষ্যে নির্বাচনী তফসিল ঘোষণার পূর্বেই বর্তমান সংসদ ভেঙে দিয়ে রাজনৈতিক দলসমূহের সঙ্গে আলাপ আলোচনার মাধ্যমে নির্বাচনকালীন নিরপেক্ষ সরকার গঠন করতে হবে। নির্বাচনকালীন সরকারের দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তিগণ নির্বাচনে প্রার্থী হতে পারবেন না। ২। অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন নিশ্চিত করার লক্ষ্যে বাক, ব্যক্তি, সংবাদপত্র, টেলিভিশন, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ও সকল রাজনৈতিক দলের সভা-সমাবেশের স্বাধীনতা নিশ্চিত করতে হবে এবং আলাপ-আলোচনার মাধ্যমে গ্রহণযোগ্য ব্যক্তিদের নিয়ে নির্বাচন কমিশন পুনর্গঠন করতে হবে। ৩। ‘কোটা সংস্কার’ এবং ‘নিরাপদ সড়ক’ আন্দোলনে নেতৃত্বদানকারী ছাত্র-ছাত্রীসহ সকল রাজনৈতিক দলের নেতা-কর্মীদের বিরুদ্ধে আনীত মিথ্যা মামলাসমূহ প্রত্যাহার করতে এবং গ্রেপ্তারকৃতদের মুক্তি দিতে হবে। এখন থেকে নির্বাচন শেষ না হওয়া পর্যন্ত কোন রাজনৈতিক দলের নেতা-কর্মীদের গ্রেফতার করা যাবে না। ৪। নির্বাচনের ০১ (এক) মাস পূর্ব থেকে নির্বাচনের পর ১০ (দশ) দিন পর্যন্ত মোট ৪০ (চল্লিশ) দিন প্রতিটি নির্বাচনী এলাকায় ম্যাজিস্টেসি ক্ষমতাসহ সেনাবাহিনী মোতায়েন করতে হবে এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনী নিয়োজিত ও নিয়ন্ত্রণের পূর্ণ ক্ষমতা নির্বাচন কমিশনের ওপর ন্যস্ত করতে হবে। ৫। নির্বাচনে ইভিএম ব্যবহারের চিন্তা ও পরিকল্পনা বাদ দিতে হবে, গণ প্রতিনিধিত্ব আদেশ ১৯৭২ এর যুগোপযোগী সংশোধনের মাধ্যমে গণমুখী করতে হবে এবং লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড নিশ্চিত করতে হবে।
সুষ্ঠু নির্বাচনের প্রধান বাধা প্রধানমন্ত্রী নিজেই: বিএনপি
অনলাইন ডেস্ক: নির্বাচন কমিশনকে সুষ্ঠু নির্বাচন আয়োজনে সব ধরণের সহযোগিতা দেবেন-প্রধানমন্ত্রীর এমন বক্তব্য জনগণের হাসির খোরাক বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী। রিজভী বলেন, বর্তমান সরকারের পদত্যাগই সুষ্ঠু নির্বাচনের গ্যারান্টি। আজ বৃহস্পতিবার নয়াপল্টন দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক সংবাদ ব্রিফিংয়ে তিনি একথা বলেন। রিজভী আরও বলেন, সুষ্ঠু নির্বাচনের প্রধান অন্তরায় প্রধানমন্ত্রী নিজে, সুতরাং ইসিকে তার সহযোগিতা দেয়ার অর্থ হলো, আগামী জাতীয় নির্বাচনে ফন্দি ফিকির করা। এ ব্যাপারে কোন সন্দেহ নেই, কারণ সেটির বহু স্পষ্ট প্রমাণ তিনি ইতিমধ্যে দিয়েছেন। কিভাবে ইসি সরকারি দলের ভোট সন্ত্রাস ও ডাকাতির ফলাফলের বৈধতা দেয় সেটি গত নির্বাচনগুলোতে ফুটে উঠেছে। শেখ হাসিনার কমিশনকে সহযোগিতা করার অর্থ হলো ইসি’র আত্মসমর্পন নিশ্চিত করা। সেই ইসি’র নির্বাচনে সাধারণ ভোটারদের বাড়িতে বসে থাকতে হবে, ভোট কেন্দ্রে যাওয়ার অধিকার থাকবে না। দেশে সুষ্ঠু নির্বাচনের একমাত্র গ্যারান্টি শেখ হাসিনার পদত্যাগ ও নির্দলীয় নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে নির্বাচন। তিনি বলেন, সরকার পুলিশি চাপ দিয়ে দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতিকে ভীতিকর পর্যায়ে নিয়ে এসেছে। আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর বিবেকবর্জিত অমানবিক নিষ্ঠুরতায় বিরোধী দলের বিরুদ্ধে আগ্রাসী ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়েছে। শান্তিপূর্ণ কর্মসূচিতেও পাইকারী গ্রেপ্তার ও প্রবল বন্যার স্রোতের মতো মিথ্যা মামলার অভিঘাতে মানুষের স্বাভাবিক জীবন-যাপন দুঃস্বপ্নের মধ্যে কাটছে। তিনি আরো বলেন, আগামী নির্বাচন সরকারি দলের নাগালের মধ্যে রাখার জন্যই আইনশৃঙ্খলা বাহিনী বিএনপিকে দমন করতে বেপরোয়া হয়ে ওঠেছে। তাদের বানোয়াট মামলার শিকার হয়েছেন দেশের বর্ষিয়ান নেতা ও গুরুতর অসুস্থ বিএনপি জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য তরিকুল ইসলাম। প্রহসন ও হাস্যকর মামলা দেয়া হয়েছে অ্যাডভোকেট খন্দকার মাহবুব হোসেন এবং অ্যাডভোকেট রেজাক খান, অ্যাডভোকেট নিতাই রায় চৌধুরী এর মতো প্রবীণ ও বরেণ্য আইনজীবীসহ বিএনপি’র ক্ষুদ্র জনগোষ্ঠী বিষয়ক সম্পাদক এম এ মালেক, মুক্তিযোদ্ধ দলের সভাপতি ইশতিয়াক আজিজ উলফাত, সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক অনিন্দ্য ইসলাম অমিত ও শহীদুল ইসলাম বাবুল, সহ-দফতর সম্পাদক তাইফুল ইসলাম টিপু ও বেলাল আহমেদ, গায়ক মনির খান, নির্বাহী কমিটির সদস্য হাসান মামুন, এ্যাডভোকেট রফিক শিকদার, এ্যাডভোকেট তাহেরুল ইসলাম তৌহিদ, শেখ মো: শামীম, এ্যাডভোকেট ফেরদৌসী আক্তার ওয়াহিদা, সাবেরা আলাউদ্দিন, কাজী মফিজুর রহমানসহ অসংখ্য নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে।মুজিবনগর উপজেলা বিএনপির সহ-সভাপতি জহিরুল ইসলাম মেম্বার, জেলা যুবদলের সহ-সভাপতি আজিজুল হক, যুগ্ম সম্পাদক আশরাফ হোসেন, আসাদুল হক লালু, জেলা ছাত্রদলের যুগ্ম সম্পাদক হামিদুল হক ও রবিউল হকসহ ২১ জনকে গতরাতে পুলিশ গ্রেফতার করেছে। এসব নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে করা মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার ও নি:শর্ত মুক্তির দাবি জানান রিজভী। শীর্ষনিউজ
আজ জাতিসংঘের সঙ্গে ফখরুলের বৈঠক
অনলাইন ডেস্ক: আগামী নির্বাচন ও দেশের সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ে নিউইয়র্কে জাতিসংঘের সদর দফতরে আজ বৈঠকে বসছে বিএনপির প্রতিনিধি দল। এই দলের নেতৃত্ব দিচ্ছেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। স্থানীয় সময় সকাল সাড়ে ১০টায় (বাংলাদেশ সময় রাত সাড়ে ১১টা) সংস্থাটির রাজনীতিবিষয়ক সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মিরোস্লাভ জেনকার সঙ্গে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুলের এ বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে। এতে বাংলাদেশের সার্বিক পরিস্থিতি, খালেদা জিয়ার মুক্তি ও আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচন নিয়ে দলের পর্যবেক্ষণ তুলে ধরা হবে বলে জানা গেছে। এ সফরে জাতিসংঘের মহাসচিব এন্তোনি গুতেরাসের সঙ্গে বৈঠক হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্টের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের সঙ্গে বিএনপির প্রতিনিধি দলের বৈঠক হতে পারে। আজকের বৈঠকে যোগ দেয়ার উদ্দেশে জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেসের আমন্ত্রণে মঙ্গলবার মধ্যরাতে নিউইয়র্কের উদ্দেশে বাংলাদেশ ছেড়েছেন বিএনপি মহাসচিব । সূত্র জানায়, দেশের সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা হলেও বৈঠকে আগামী সাধারণ নির্বাচন নিয়ে সৃষ্ট জটিলতাকেই বেশি প্রাধান্য দেবে বিএনপির প্রতিনিধি দল। ২০১৪ সালের নির্বাচনের আগে জাতিসংঘের তৎকালীন দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়াবিষয়ক সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল অস্কার ফার্নান্দেজ তারানকোর সঙ্গে বৈঠকে সরকার কয়েক মাসের মধ্যে নতুন নির্বাচন দেয়ার প্রতিশ্রতি দিলেও তা রক্ষা করেনি। এ বিষয়টি তুলে ধরে আগামী নির্বাচন অবাধ ও সুষ্ঠু করতে জাতিসংঘের সহায়তা চাওয়া হতে পারে। জাতীয় সংসদ নির্বাচনের কয়েক মাস আগে এ বৈঠক অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন বিএনপি নেতারা। তাদের মতে, জাতিসংঘ ও কমনওয়েলথের তত্ত্বাবধানে পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে নির্বাচন অনুষ্ঠানের নজির রয়েছে। সরকার শেষ পর্যন্ত পদত্যাগ করে নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে নির্বাচনের উদ্যোগ না নিলে এ বিষয়ে পদক্ষেপ নেয়ার জন্য জাতিসংঘের সহযোগিতা চাইতে পারে বিএনপি। সব দলের অংশগ্রহণে অবাধ ও নিরপেক্ষ নির্বাচন নিশ্চিত করার লক্ষ্যে সরাসরি জাতিসংঘের হস্তক্ষেপও চাইতে পারেন তারা। সূত্র জানায়, নিউইয়র্ক যাওয়ার আগে দলের সিনিয়র কয়েক নেতার সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে বৈঠকে কোন বিষয়গুলো তুলে ধরা হবে তা চূড়ান্ত করেন মির্জা ফখরুল। বিএনপির এক নীতিনির্ধারক জানান, আগামী জাতীয় নির্বাচন, চেয়ারপারসনের মুক্তি, দেশের অব্যাহত গুম, হত্যা, মানবাধিকার লঙ্ঘনসহ সার্বিক অবস্থা তুলে ধরা হবে বৈঠকে। এজন্য একটি লিখিত বক্তব্য তৈরি করা হয়েছে। দেশের গণমাধ্যমে প্রকাশিত এ সংক্রান্ত বিভিন্ন প্রতিবেদন ও ছবির কাটিং সংগ্রহ করা হয়েছে। বিগত স্থানীয় সরকার নির্বাচনে ব্যাপক অনিয়ম ও কারচুপির চিত্রও তুলে ধরা হবে। অনিয়মের একটি প্রতিবেদনও তৈরি করা হয়েছে। সেখানে কীভাবে প্রকাশ্যে ব্যালটে সিল মারছেন সেই চিত্রসহ ভিডিও ক্লিপিংসও রয়েছে। সর্বশেষ নেতাকর্মীদের নামে মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানি ও গণগ্রেফতারের বিষয়টিও জাতিসংঘকে অবহিত করা হবে।
তরুণরা এগিয়ে আসলে সরকারের বিদায় কেউ ঠেকাতে পারবে না: বি. চৌধুরী
অনলাইন ডেস্ক: ক্ষমতাসীন সরকারকে স্বৈরাচার আখ্যা দিয়ে যুক্তফ্রন্টের চেয়ারম্যান সাবেক রাষ্ট্রপতি অধ্যাপক ডা. একিউএম বদরুদ্দোজা (বি) চৌধুরী বলেছেন, তরুণরা এগিয়ে আসলে সরকারের বিদায় কেউ ঠেকাতে পারবে না। বুধবার গুলশানের অল কমিউনিটি ক্লাবে বিকল্পধারার সহযোগী সংগঠন প্রজন্ম বাংলাদেশ আয়োজিত রাজনৈতিক আন্দোলনে অহিংস কর্মসূচি শীর্ষক কর্মশালায় তিনি এ কথা বলেন। বি চৌধুরী বলেন, আমি তরুণদের নিয়ে অত্যন্ত আশাবাদী। বিশ্বে যত বড় বড় কল্যাণকর কাজ হয়েছে সব তরুণদের হাত ধরে হয়েছে। আমাদের ভাষা আন্দোলন, স্বাধীনতা আন্দোলন সব তরুণদের হাত ধরে হয়েছে। তিনি বলেন, বর্তমানেও কোটা সংস্কার আন্দোলন করছে তরুণরা। নিরাপদ সড়ক চাই আন্দোলন করেছে ১৪/১৫ বছরের কিশোররা। স্কুলের ছোট ছোট ছেলেমেয়ে রাজপথে দাঁড়িয়ে যখন বলেছে- উই ওয়ান্ট জাস্টিজ, তখন গোটা দেশ তাদের পাশে দাঁড়িয়েছিল। সারাবিশ্ব অবাক বিস্ময়ে তাকিয়ে দেখেছে।’ সাবেক এই রাষ্ট্রপতি বলেন, এ আন্দোলন ছিল সম্পূর্ণ অহিংস ও শান্তিপূর্ণ। তারপরও সরকার তাদের পুলিশ দিয়ে লাঠিপেটা করেছে। তাদেরকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তিনি বলেন, এই চরম স্বেচ্ছাচার ও স্বৈরাচারকে আর সহ্য করা যায় না। তরুণরা এগিয়ে আসলে এই স্বেচ্ছাচার সরকারের বিদায় কেউ ঠেকাতে পারবে না। জ্বালাও-পোড়াও এবং হত্যা-গুম ও গ্রেফতারের সহিংস রাজনীতির স্থান দখল করে নিতে পারে অহিংস গণঅভ্যুত্থান।
ইসিকে সব ধরনের সহযোগিতা দেবে সরকার: প্রধানমন্ত্রী
অনলাইন ডেস্ক: প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, সংবিধান অনুযায়ী নির্বাচন কমিশন স্বাধীনভাবে নির্বাচন পরিচালনা করতে পারে। নির্বাচন কমিশনের ব্যবস্থাপনায় দেশের জনগণ সুষ্ঠুভাবে তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করবে। বর্তমান নির্বাচন কমিশন তাদের অর্পিত সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতা অনুযায়ী সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন অনুষ্ঠানের সকল কার্যক্রম গ্রহণ করবে বলে সরকার প্রত্যাশা করে। সরকার আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচন সুষ্ঠুভাবে সম্পাদনের জন্য নির্বাচন কমিশনকে তার সাংবিধানিক দায়িত্ব পালনে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা প্রদান করবে। স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরীর সভাপতিত্বে বুধবার সংসদ অধিবেশনে প্রধানমন্ত্রীর জন্য নির্ধারিত ত্রিশ মিনিটের প্রশ্নোত্তর পর্বে সরকার দলীয় সংসদ সদস্য মনিরুল ইসলামের প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, সুষ্ঠুভাবে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠানের লক্ষ্যে ইতোমধ্যে নির্বাচন কমিশনের চাহিদা অনুসারে প্রয়োজনীয় অর্থ বরাদ্দ করা হয়েছে। নির্বাচন কমিশনকে শক্তিশালী করার জন্য জনবলের সংখ্যা বৃদ্ধি করা হয়েছে। ভৌত অবকাঠামো উন্নয়নের জন্য কমিশনের চাহিদা অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। সরকার দলীয় সংসদ সদস্য মমতাজ বেগমের প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশের অপ্রতিরোধ্য অগ্রযাত্রা অব্যাহত রাখতে, দেশের জনগণের সার্বিক মুক্তি-অর্জন এবং উন্নয়নের ধারাবাহিকতা নিশ্চিতকরণে আওয়ামী লীগ সরকার নানাবিধ পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে। সোনার বাংলা গড়ার প্রত্যয়ে বর্তমান সরকার রূপকল্প-২০২১, দিনবদলের সনদ, গণতান্ত্রিক ও অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্যে নিরলস প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। প্রধানমন্ত্রী বলেন, রাষ্ট্র ও সমাজের সর্বস্তরে সুশাসন সুসংহতকরণ, গণতন্ত্রের প্রাতিষ্ঠানিকীকরণ এবং জনগণের সর্বাত্মক অংশগ্রহণের মাধ্যমে আমরা এসব লক্ষ্য অর্জনে সক্ষম হবো। ২০১৫ সালের ১লা জুলাই বাংলাদেশ নিম্ন আয়ের দেশ থেকে বেরিয়ে এসেছে।
কুমিল্লায় খালেদা জিয়ার জামিন শুনানি পিছিয়ে ২০ সেপ্টেম্বর
অনলাইন ডেস্ক: কুমিল্লার চৌদ্দগ্রামে দুর্বৃত্তদের পেট্রোল বোমায় বাসের আট যাত্রী হত্যামামলায় বিএনপি চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়ার জামিন আবেদনের শুনানি পিছিয়ে আগামী ২০ সেপ্টেম্বর শুনানির পরবর্তী দিন ধার্য করা হয়েছে। রাষ্ট্রপক্ষের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে কুমিল্লার ৫নং আমলি আদালতের জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট বিপ্লব দেবনাথ বুধবার এ আদেশ দেন। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন খালেদা জিয়ার পক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট কাইমুল হক রিংকু। আদালত সূত্রে জানা গেছে, বিএনপি-জামায়াতসহ ২০ দলীয় জোটের ডাকা লাগাতার হরতাল-অবরোধ চলাকালে ২০১৫ সালের ৩ ফেব্রুয়ারি ভোররাতে কক্সবাজার থেকে ছেড়ে আসা ঢাকাগামী আইকন পরিবহনের একটি নৈশকোচ কুমিল্লার চৌদ্দগ্রামের জগমোহনপুর নামক স্থানে পৌঁছলে দুর্বৃত্তরা বাসটি লক্ষ্য করে পেট্রোল বোমা নিক্ষেপ করে। এতে আগুনে পুড়ে বাসের ঘুমন্ত আট যাত্রী মারা যায়। এ ঘটনায় চৌদ্দগ্রাম থানার এসআই নুরুজ্জামান হাওলাদার বাদী হয়ে হত্যা ও বিস্ফোরক আইনে পৃথক ২টি মামলা দায়ের করেন। এ দুটি মামলায় ২ বছর ১ মাস তদন্ত ও পুলিশসহ ৬২ জন সাক্ষীর সাক্ষ্যগ্রহণ শেষে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা চৌদ্দগ্রাম থানার এসআই মো. ইব্রাহিম গত বছরের ৬ মার্চ আদালতে চার্জশিট দাখিল করেন। খালেদা জিয়ার আইনজীবী অ্যাডভোকেট কাইমুল হক রিংকু সাংবাদিকদের জানান, এ মামলার সব আসামি জামিনে রয়েছেন। খালেদা জিয়া বয়োবৃদ্ধ, গুরুতর অসুস্থ এবং তিনি দেশের তিনবারের প্রধানমন্ত্রী ছিলেন। আমরা তার জামিন চেয়েছি, কিন্তু একাধিকবার তার জামিন আবেদনের শুনানি পেছানো হয়। আদালত তার জামিন শুনানির দিন পিছিয়ে ২০ সেপ্টেম্বর ধার্য করেছেন। আমরা আশা করি আদালতে ন্যায়বিচার পাব। আলোকিত বাংলাদেশ
আজ খালেদা জিয়ার উপদেষ্টাদের সঙ্গে বিএনপি বৈঠক
অনলাইন ডেস্ক: বৈঠকের ধারাবাহিকতায় দলের স্থায়ী কমিটির সদস্যরা বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার উপদেষ্টা কাউন্সিলের সদস্যদের সঙ্গে বসবে। আজ মঙ্গলবার সন্ধ্যা ৭টায় বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার গুলশানের রাজনৈতিক কার্যালয়ে এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে। উদ্ভুত পরিস্থিতিতে দলের করণীয় ঠিক করতে তাদের মতামত নিবেন দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের নেতৃত্বে বিএনপির শীর্ষ নেতারা। গতকাল ভাইস চেয়ারম্যানদের মতামত নেওয়া হয়। বিএনপির চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য আতাউর রহমান ঢালী এ তথ্য নিশ্চিত করেন। বিএনপির চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তি, সুচিকিৎসা, নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে নির্বাচনের দাবি আদায়, ভোটের আগে সংসদ ভেঙে দেওয়া ও তফসিলের আগে সরকারের পদত্যাগসহ বিভিন্ন দাবিতে আন্দোলন চালিয়ে যেতে করণীয় ঠিক করতে দলের বিভিন্ন সারির নেতাকর্মীদের সঙ্গে বৈঠক করছে বিএনপির স্থায়ী কমিটি। আতাউর রহমান ঢালী জানান, বিএনপির বিভিন্ন সারির নেতাদের সঙ্গে স্থায়ী কমিটির বৈঠকে নেতাদের কাছ থেকে পাওয়া পরামর্শ ও মতামত শুনে তা লন্ডনে দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারপারসন তারেক রহমানকে জানানো হবে। পরে তাঁর সঙ্গে আলোচনা করে পরবর্তী করণীয় নির্ধারণ করবে দলটি। এ ছাড়া পরে দলের যুগ্ম মহাসচিব ও বিভিন্ন সম্পাদকের সঙ্গে বৈঠক করবেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্যরা।
বৃহত্তর ঐক্য গড়ার পরামর্শ বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যানদের
অনলাইন ডেস্ক: একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে বিকল্পধারা, জেএসডি ও নাগরিক ঐক্যের সমন্বয়ে গঠিত যুক্তফ্রন্ট এবং ড. কামাল হোসেনের গণফোরের সঙ্গে সর্বোচ্চ ছাড় দিয়ে হলেও বৃহত্তর জাতীয় ঐক্য গড়ার পরামর্শ দিয়েছেন বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যানরা। সোমবার রাতে গুলশানে বিএনপি চেয়ারপারসনের কার্যালয়ে দলটির স্থায়ী কমিটির সঙ্গে ভাইস চেয়ারম্যানদের বৈঠকে এই পরামর্শ দেওয়া হয়। রাত সাড়ে ৭টা থেকে দেড় ঘণ্টাব্যাপী ওই বৈঠক চলে। বৈঠক সূত্রে জানা যায়, বৈঠকে ১৫ জনের মতো ভাইস চেয়ারম্যান বক্তব্য রাখেন। প্রত্যকের বক্তব্যে ঘুরে ফিরে বৃহত্তর জাতীয় ঐক্য করার বিষয়টি উঠে আসে। এসময় সবাই বলেছেন, দলীয় চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার মুক্তি ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের দাবি মানতে সরকারকে বাধ্য করতে প্রয়োজন হলে আমাদের সর্বোচ্চ ছাড় দিয়ে হলেও বৃহত্তর জাতীয় ঐক্য করতে হবে। আর এটা হয়ে গেলে ঐক্যবদ্ধভাবে আন্দোলনে গতি বাড়াতে হবে। এছাড়া সবাই বলেছেন, জাতীয় ঐক্য গড়ার জন্য স্থায়ী কমিটি যেভাবে এগিয়ে যাচ্ছে তা ঠিক আছে। বৈঠকের বিষয়ে বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান শামসুজ্জামান দুদু বলেন, আলোচনার মূখ্য বিষয় ছিল খালেদা জিয়ার মুক্তি ছাড়া নির্বাচনে না যাওয়া। নির্বাচনের আগে সংসদ ভেঙে দেওয়া, একটি নির্দলীয় সরকার প্রতিষ্ঠা করা এবং জাতীয় ঐক্যের জন্য চেষ্টা করা।’ দুদু বলেন, ‘যুক্তফ্রন্ট ও ড.কামাল হোসেন যেসব বক্তব্য দিয়েছেন সেগুলো আমাদের বক্তব্য থেকে বেশি দূরে নয়। সুতারাং এখন চাইলে ঐক্য করা যায়।’ দুদু আরও বলেন, ‘বিএনপি নির্বাচনে যাওয়ার পক্ষে। তবে নিরপেক্ষ নির্বাচনের পথ সৃষ্টি করতে হবে সরকারকে। আমরা ৭২ সালের সংবিধানে ফিরে যেতে পারলে, কেন ৯৬ সালের তত্ত্বাবধায়ক সরকারে ফিরে যেতে পারবো না? শীর্ষ নিউজ

রাজনীতি পাতার আরো খবর