একতরফা নির্বাচনের দিন ৫ জানুয়ারি রাজধানীতে বড় শোডাউন করতে চায় বিএনপি
একতরফা নির্বাচনের দিন ৫ জানুয়ারি রাজধানীতে বড় শোডাউন করতে চায় বিএনপি। তবে অনুমতি না মিললে ঘরোয়া আলোচনা সভা এবং তাও সম্ভব না হলে দেশব্যাপী কালো পতাকা প্রদর্শনের কর্মসূচি দিবে দলটি। জানা গেছে, এর আগে ৫ জানুয়ারিকে ঘিরে কঠোর আন্দোলন করে দফায় দফায় ব্যর্থ হওয়া বিএনপি এবার একেবারে শান্তিপূর্ণভাবে কর্মসূচি পালনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। বিগত আন্দোলনের ব্যর্থতা থেকে শিক্ষা নিয়ে এবারে প্রথমেই অলআউট আন্দোলনে না গিয়ে ধীরে ধীরে আন্দোলনকে বেগবান করতে চায় তারা। বিএনপি সূত্রমতে, দলের বেশ কয়েকজন প্রভাবশালী নেতা ২০১৮ সালের ৫ জানুয়ারি থেকে আবারো কঠোর আন্দোলনে নামতে বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে পরামর্শ দিয়েছিলেন। তবে খালেদা জিয়া তাতে রাজি হননি। কারণ, ২০১৫ সালের মতো আন্দোলন ব্যর্থ হলে বিএনপিকে তার মূল্য দিতে হবে; যার পরিণতি ভোগ করতে হবে অনেক বছর ধরে। এজন্য এবার একেবারেই শান্ত্মিপূর্ণ উপায়ে কর্মসূচি পালনের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। সিদ্ধান্ত্ম অনুযায়ী দলটি ৫ জানুয়ারি রাজধানী ঢাকার সোহরাওয়ার্দী উদ্যান অথবা নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার উপস্থিতিতে সমাবেশ করতে চায়। ঢাকা মহানগর পুলিশ কমিশনারের কাছে কর্মসূচির অনুমতি চেয়ে শিগগির আবেদন করা হতে পারে। একইভাবে ঢাকার বাইরের জেলা সদর ও মহানগরে সমাবেশ করার পরিকল্পনা আছে। সমাবেশের অনুমতি না দিলেও হরতাল বা অবরোধের মতো কর্মসূচি দিয়ে কঠোর অবস্থানে যাবে না বিএনপি। সেক্ষেত্রে মহানগরের থানায় থানায় বিক্ষোভ অথবা ঘরোয়াভাবে আলোচনা সভা করবে। পাশাপাশি ৫ জানুয়ারিকে গণতন্ত্র হত্যা দিবস আখ্যা দিয়ে এই দিনটিতে কালো পতাকা হাতে যার যার অবস্থান থেকে প্রতিবাদ জানাবেন দলের নেতাকর্মীরা। বিএনপির সিনিয়র এক নেতা বলেন, আগামী ৫ জানুয়ারির কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে কোনো সংঘাতে যেতে চায় না বিএনপি। তবে ব্যাপক জমায়েত ঘটিয়ে দিনটিতে কালো পতাকা হাতে রাজপথে থেকে কর্মসূচি করার প্রস্তুতি চলছে। ৫ জানুয়ারির কর্মসূচির বিষয়ে দলের সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রম্নহুল কবির রিজভী যায়যায়দিনকে বলেন, গণতন্ত্র হত্যার এই দিনে বিএনপি অবশ্যই কর্মসূচি পালন করবে। তবে কী কর্মসূচি হবে তা এখনও চূড়ান্ত হয়নি। দ্রততম সময়ের মধ্যে এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত হবে। একই বিষযে দলের যুগ্ম মহাসচিব সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল বলেন, গণতন্ত্র হত্যা দিবসের এ দিনটির প্রতিবাদে কর্মসূচি করা গণতান্ত্রিক দল হিসেবে বিএনপির দায়িত্ব। সেক্ষেত্রে ঢাকায় সমাবেশসহ দিনটিতে কালো পতাকা হাতে নেতাকর্মীদের রাজপথে থাকার শান্তিপূর্ণ কর্মসূচি নেয়া হতে পারে। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ৫ জানুয়ারি শান্ত্মিপূর্ণ কর্মসূচি পালনের সিদ্ধান্ত থাকলেও পর্যায়ক্রমে কঠোর আন্দোলনের কর্মসূচি যাওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে বিএনপির। বিশেষ করে বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার মামলার রায়ের বিষয়টি দেখে কর্মসূচি দিনক্ষণ ঠিক করা হবে। জিয়া চ্যারিটেবল ও জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট মামলার রায় ঘোষণার আগ পর্যন্ত সংঘাতপূর্ণ কোনো কর্মসূচিতে না যাওয়ার সিদ্ধান্ত আছে তাদের। এই মামলাগুলোর রায় খালেদা জিয়ার বিপক্ষে গেলে কালবিলম্ব না করে বড় ধরনের আন্দোলনের যাবে বিএনপি। যার ধারাবাহিকতা থাকতে পারে আগামী জাতীয় নির্বাচন পর্যন্ত। আর মামলার রায় যদি খালেদা জিয়ার পক্ষে আসে সেক্ষেত্রে সমঝোতার মাধ্যমে নির্দলীয় সরকারের ইসু্যটি সমাধানের জন্য সরকারকে আরো সময় দিবে। আর তাতেও কাজ না হলে আগামী জুলাই-আগস্টে অলআউট আন্দোলনে যাবে বিএনপি। প্রসঙ্গত, দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচন বন্ধে ২০১৩ সালের শেষ দিকে ধারাবাহিক আন্দোলন শুরু করে বিএনপি। হরতালের পাশাপাশি লাগাতার অবরোধ কর্মসূচিও ঘোষণা করে দলটি। ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারি নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার পরও বেশ কিছু দিন আন্দোলন অব্যাহত রাখে দলটি। পরে আন্দোলন থেকে সরে এলেও নির্বাচনের এক বছর পূর্তি উপলক্ষে আবারও কর্মসূচিতে যায় তারা। দলের চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে সভা করতে না দেয়ায় ২০১৫ সালের ৬ জানুয়ারি আবারও অনির্দিষ্টকালের অবরোধ কর্মসূচি ঘোষণা করে বিএনপি। কর্মসূচি চলাকালে বিভিন্ন সহিংসতার ঘটনায় দায়ের করা মামলায় গ্রেফতার হন দলের অধিকাংশ শীর্ষ নেতা। ফলে সাংগঠনিকভাবে দুর্বল হয়ে পড়ে বিএনপি। এরপর থেকে আর কোনো আন্দোলন যেতে পারেনি দলটি।
বিএনপি গণতন্ত্র- নির্বাচনের মুখোশ পরে সহায়ক সরকারের ফাঁদপেতে নির্বাচন বানচাল করতে চায়-ইনু
তথ্যমন্ত্রী ও জাসদ সভাপতি হাসানুল হক ইনু বলেছেন, নির্বাচন ও গণতন্ত্রের মুখোশ পরে নির্বাচন বানচাল করতেই সহায়ক সরকারের প্রস্তাব দিয়েছেন খালেদা জিয়া। তিনি দুর্নীতি-সন্ত্রাসের বিচার থেকে নিজেকে রক্ষা করতে নির্বাচনকে দরকষাকষির হাতিয়ার বানাতে চান। ঢাকার রমনায় ইঞ্জিনিয়ারস ইন্সটিটিউশন প্রাঙ্গণে বুধবার বিকেলে জাসদের নির্বাচন বানচালের চক্রান্ত মোকাবিলা শীর্ষক সমাবেশ ও র্যালিতে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় এসব কথা বলেন জাসদ সভাপতি ইনু। হাসানুল হক ইনু বলেন, দেশ যখন সাংবিধানিক প্রক্রিয়ায় নির্বাচনের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে, তখন বিএনপি ও খালেদা জিয়া গণতন্ত্র- নির্বাচনের মুখোশ পরে সহায়ক সরকারের ফাঁদপেতে তা বানচাল করতে চায়। মনে রাখতে হবে, নির্বাচন কোনো দরকষাকষির হাতিয়ার নয়। এ অবস্থায় দেশের সামনে চারটি চ্যালেঞ্জ রয়েছে উল্লেখ করে তথ্যমন্ত্রী বলেন, নির্বাচন বানচালের চক্রান্ত মোকাবিলা, যথাসময়ে নির্বাচন অনুষ্ঠান, বিএনপি-খালেদা-জঙ্গি-রাজাকার চক্রকে ক্ষমতার বাইরে রাখা ও উন্নয়নের ধারা এগিয়ে নেয়াই এখনকার সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। তিনি বলেন, দেশবাসীকে ঐক্যবদ্ধভাবে এ চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করে যথাসময়ে নির্বাচন অনুষ্ঠান ও বিএনপি-খালেদা-জঙ্গি-রাজাকার চক্রকে ক্ষমতার বাইরে রাখতে হবে এবং একাজে জাসদ থাকবে সামনে। জাসদ সহসভাপতি ফজলুর রহমান বাবুলের সভাপতিত্বে দলীয় নেতাদের মধ্যে সাধারণ সম্পাদক শিরীন আখতার এমপি, শওকত রায়হান, নূরুল আখতার, এড হাবিবুর রহমান শওকত প্রমুখ সমাবেশে বক্তব্য রাখেন। সমাবেশ শেষে লাল পতাকাশোভিত স্লোগানমুখর র্যালি রমনা থেকে পল্টনে গিয়ে সমাপ্ত হয়।
দুর্নীতি মামলায় খালেদার পঞ্চম দিনের যুক্তিতর্ক উপস্থাপন আজ
জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় বেগম খালেদা জিয়ার উপস্থিতিতে আজ (বৃহস্পতিবার) পঞ্চম দিনের মতো যুক্তিতর্ক উপস্থাপন করবেন বেগম জিয়ার আইনজীবীরা। গতকাল (বুধবার) সকাল সোয়া ১১টার দিকে রাজধানীর বকশীবাজারে স্থাপিত অস্থায়ী জজ আদালতে পৌঁছান বেগম খালেদা জিয়া। তার পক্ষে আইনজীবী আবদুর রেজাক খান চতুর্থ দিনের মতো আদালতে যুক্তিতর্ক উপস্থাপন করে বক্তব্য শেষ করেন। যুক্তি উপস্থাপন শেষে তিনি আদালতের কাছে বেগম জিয়ার খালাসের আরজি জানিয়ে বলেন, এ মামলার সঙ্গে বেগম জিয়ার জড়িত থাকার প্রমাণ দিতে বাদী পক্ষ ব্যর্থ হয়েছে। তবে দুদকের আইনজীবীর দাবি, এ মামলায় ৩২ জন সাক্ষীর সাক্ষ্য ও দলিলে বেগম জিয়ার স্বাক্ষর প্রমাণ করে তার নির্দেশেই অর্থ আত্মসাৎ করা হয়েছে। ২০০৮ সালের ৩ জুলাই ২ কোটি ১০ লাখ একাত্তর হাজার টাকা আত্মসাতের অভিযোগে রাজধানীর রমনা থানায় বেগম খালেদা জিয়া ও তারেক রহমানসহ ৬ জনের বিরুদ্ধে মামলা করে দুদক।
কোনো সাক্ষ্য-প্রমাণ দিয়ে খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ প্রমাণ করতে পারেনি দুদক
জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার পক্ষে তার আইনজীবীরা তৃতীয় দিনের মতো যুক্তিতর্ক উপস্থাপন করেছেন। আইনজীবী আবদুর রেজ্জাক খান গতকাল তা আদালতে উপস্থাপন করেন। যুক্তিতর্ক শেষ না হওয়ায় আজ বুধবার পরবর্তী দিন ধার্য করেছে আদালত। গতকাল রাজধানীর বকশীবাজারের আলিয়া মাদ্রাসা মাঠে স্থাপিত ঢাকার ৫ নম্বর বিশেষ জজ ড. আখতারুজ্জামানের আদালত যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষে এ আদেশ দেন। যুক্তিতর্ক শুনানিতে আবদুর রেজ্জাক খান বলেন, এই মামলার সঙ্গে খালেদা জিয়ার মানসম্মান জড়িত। এ মামলায় কিছুই নেই। কোনো সাক্ষ্য-প্রমাণ দিয়ে খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ প্রমাণ করতে পারেনি দুদক। আইনজীবী রেজ্জাক খানের যুক্তিতর্ক উপস্থাপনের পর খালেদা জিয়ার পক্ষে তাঁর আরও তিন আইনজীবী খন্দকার মাহবুব হোসেন, এ জে মোহাম্মদ আলী ও ব্যারিস্টার জমিরউদ্দিন সরকারের যুক্তি উপস্থাপন করার কথা রয়েছে। এ সময় খালেদা জিয়ার পক্ষে আদালতের ভিতরে দেড় শতাধিক আইনজীবী উপস্থিত ছিলেন। তৃতীয় দিনের যুক্তিতর্ক শুনানি শেষে আদালত চত্বরে বিএনপি স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ উপস্থিত সাংবাদিকদের বলেন, এটি একটি রাজনৈতিক মামলা। বেগম খালেদা জিয়া প্রধানমন্ত্রী থাকাকালে ক্ষমতার অপব্যবহার করেছেন, এটা দুদকের ৩২ জন সাক্ষীর একজনও আদালতে বলেননি। তাঁকে হয়রানির জন্যই এ মামলা করা হয়েছে। অতএব আমরা আশা করছি, এ মামলায় খালাস পাবেন বেগম খালেদা জিয়া। শুনানিতে অ্যাডভোকেট আবদুর রেজ্জাক খান আরও বলেন, জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলার অভিযোগ গঠন আইন মেনে করা হয়নি। যেহেতু বেগম খালেদা জিয়া একজন সাবেক প্রধানমন্ত্রী, তাই সব আসামির সঙ্গে একত্রে তাঁর বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করার সুযোগ নেই। দুদক এর ১৩তম সাক্ষীর সাক্ষ্য খণ্ডানোর যুক্তি তুলে ধরে তিনি বলেন, সোনালী ব্যাংক কর্তৃপক্ষ অর্থ লেনদেনের অনিয়ম হয়েছে বলে কোনো তথ্য দেয়নি। এ সময় তিনি সোনালী ব্যাংকের কোনো ডকুমেন্ট আদালতে প্রদর্শিত হয়নি জানিয়ে কোনো সাক্ষী মূল ডকুমেন্টগুলো দেখেছেন এমন কোনো সাক্ষ্য কেউ দেননি মর্মে আদালতকে অবহিত করেন। রেজ্জাক খান আরও বলেন, খালেদা জিয়াকে এ মামলায় প্রধান আসামি করা হয়েছে। অথচ কোনো সাক্ষী তাঁদের সাক্ষ্যে বলেননি, এ ঘটনার সঙ্গে তাঁর সম্পৃক্ততা ছিল। এ ছাড়া জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট মামলায় তদন্তকারী কর্মকর্তা তদন্তকালে এই টাকার উৎস সম্পর্কে সঠিক কোনো তথ্য উদঘাটন করতে পারেননি। এ ছাড়া স্বচ্ছ ও পরিষ্কারভাবে তদন্তও করেননি। তদন্ত কর্মকর্তা জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট মামলার টাকা কোথা থেকে এসেছে তা খুঁজে বের করতেও ব্যর্থ হয়েছেন। অন্যদিকে, আদালতের কার্যক্রম শেষে দুদকের আইনজীবী মোশাররফ হোসেন কাজল সাংবাদিকদের বলেন, এই মামলায় দুদক সাক্ষ্য-প্রমাণ দিয়ে খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ প্রমাণ করতে সক্ষম হয়েছে। আমরা খালেদা জিয়ার সর্বোচ্চ সাজা চেয়েছি আদালতে। দুদকের পক্ষে গতকাল অ্যাডভোকেট মোশাররফ হোসেন কাজল ছাড়াও মহানগর পাবলিক প্রসিকিউটর আবদুল্লাহ আবু, অ্যাডভোকেট মীর আবদুস সালাম, অ্যাডভোকেট আমিন উদ্দিন মানিক আদালতে উপস্থিত ছিলেন। বেলা সাড়ে ১১টা থেকে বিকাল পৌনে ৪টা পর্যন্ত টানা সোয়া চার ঘণ্টা সময় ধরে এই যুক্তিতর্ক চলে। মাঝখানে শুধু ঘণ্টাখানেক সময় নামাজ ও মধ্যাহ্নভোজের বিরতি দেওয়া হয়। বিশেষ জজ আদালতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর বিপুল সদস্য মোতায়েন করা হয়। শুনানি চলাকালে আদালতের সামনের রাস্তায় যান চলাচল বন্ধ করে দেওয়া হয়। তাছাড়া আশপাশের রাস্তার দোকানপাটও বন্ধ রাখা হয়। এ ছাড়া ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল ও হাই কোর্ট এলাকাসহ বিভিন্ন স্থানের মোড়ে বেগম খালেদা জিয়ার আদালতে যাওয়া উপলক্ষে বিএনপি ও অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের হাজার হাজার নেতা-কর্মী তাঁকে যাওয়া ও আসার সময় মিছিলসহ অভ্যর্থনা জানান। সকালে আদালতে যাওয়ার সময় হাই কোর্ট এলাকা থেকে কমপক্ষে আটজন নেতা-কর্মীকে পুলিশ আটক করে নিয়ে যায় বলে উপস্থিত নেতারা জানান। এ ছাড়া আদালতে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস, ভাইস চেয়ারম্যান আবদুল্লাহ আল নোমান, আবদুল আউয়াল মিন্টু, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা আবদুস সালাম, দলের সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী আহমেদ, যুগ্ম মহাসচিব সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল, খায়রুল কবির খোকন, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা আমানউল্লাহ আমান, বিএনপি নেতা নাজীমউদ্দিন আলম, রুহুল কুদ্দুস তালুকদার দুলু, শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানী, মহিলা দল নেত্রী আফরোজা আব্বাস প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন। গত ২০ ও ২১ ডিসেম্বর বেগম খালেদা জিয়ার পক্ষে জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় যুক্তি উপস্থাপন করেন তার আইনজীবীরা। এর আগে ১৯ ডিসেম্বর রাষ্ট্রপক্ষে দুদকের আইনজীবী মোশাররফ হোসেন কাজল এ মামলায় যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষ করেন। গত ২১ ডিসেম্বর জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় খালেদা জিয়ার পক্ষে যুক্তি উপস্থাপন করেন তার আইনজীবী আবদুর রেজ্জাক খান। ওই দিন তার যুক্তি উপস্থাপন শেষ না হওয়ায় গতকাল ২৬, আজ ২৭ ও আগামীকাল ২৮ ডিসেম্বর পরবর্তী যুক্তি উপস্থাপনের দিন ধার্য করে আদালত। অন্যদিকে জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় আত্মপক্ষ সমর্থনে লিখিত বক্তব্য জমা দিয়েছেন খালেদা জিয়া এবং মামলায় কোনো সাফাই সাক্ষী দেবেন না বলেও আদালতকে জানান তিনি। জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় বেগম খালেদা জিয়া ও তারেক রহমান ছাড়া অন্য আসামিরা হলেন— মাগুরার সাবেক এমপি কাজী সালিমুল হক কামাল, ব্যবসায়ী শরফুদ্দিন আহমেদ, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সাবেক মুখ্যসচিব কামাল উদ্দিন সিদ্দিকী ও বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমানের ভাগ্নে মমিনুর রহমান। মামলার অন্য আসামিরা হলেন— খালেদা জিয়ার সাবেক রাজনৈতিক সচিব হারিছ চৌধুরী (পলাতক), হারিছের তখনকার এপিএস জিয়াউল ইসলাম মুন্না এবং ঢাকার সাবেক মেয়র সাদেক হোসেন খোকার একান্ত সচিব মনিরুল ইসলাম খান।
ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় হাজিরা দিতে আদালতে পৌঁছেছেন বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া
জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় হাজিরা দিতে আদালতে পৌঁছেছেন বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া। আজ বুধবার চতুর্থ দিনের মতো যুক্তিতর্ক উপস্থাপন করবেন তার আইনজীবীরা। বুধবার সকাল ১১ টা ১৫ মিনিটে রাজধানীর বকশিবাজারের আলিয়া মাদ্রাসায় স্থাপিত বিশেষ আদালতে উপস্থিত হন বিএনপি চেয়ারপারসন। এর আগে সকাল ১০টা ৫৪ মিনিটে গুলশান নিজ বাসভবন থেকে আদালতের উদ্দেশ্য রওনা হন তিনি। চেয়ারপারসনের মিডিয়া উইং সদস্য শামসুদ্দিন দিদার এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। এদিকে গতকাল যুক্তিতর্ক উপস্থাপন করেন খালেদা জিয়ার আইনজীবী অ্যাডভোকেট আব্দুর রেজ্জাক খান। তিনি মামলায় দাখিল করা নথিপত্র থেকে যুক্তি উপস্থাপন করেন। বকশিবাজারের আলিয়া মাদ্রাসায় স্থাপিত বিশেষ আদালত-৫ এর বিচারক ড. আখতারুজ্জামানের আদালতে এ মামলার যুক্তিতর্ক উপস্থাপন চলছে। দুই কোটি ১০ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগে ২০০৮ সালের ৩ জুলাই রমনা থানায় মামলা করে দুদক। খালেদা জিয়া ছাড়াও এই মামলায় তার বড় ছেলে তারেক রহমান, সাবেক মুখ্য সচিব কামাল উদ্দিন সিদ্দিকী, প্রয়াত রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ভাগ্নে মমিনুর রহমান, মাগুরার সাবেক সংসদ সদস্য কাজী সালিমুল হক কামাল ও ব্যবসায়ী শরফুদ্দিন আহমেদকে আসামি করা হয়।
রসিক নির্বাচনে আওয়ামী লীগের হারের কারণ খুঁজে বের করার নির্দেশ
রংপুরে আ. লীগের হারের কারণ খোঁজার নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর রংপুর সিটি করপোরেশন নির্বাচনে আওয়ামী লীগের হারের কারণ খুঁজে বের করার নির্দেশ দিয়েছেন দলের সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। সেই সঙ্গে আগামী জাতীয় নির্বাচনকে সামনে রেখে দলের কেন্দ্রীয় নেতাদের সারা দেশে রাজনৈতিক ও সাংগঠনিক তৎপরতা বাড়ানোর নির্দেশ দিয়েছেন তিনি। শনিবার রাতে আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সভায় তিনি এ নির্দেশ দেন। সভা শেষে দলের সভাপতিমণ্ডলীর কয়েকজন সদস্যের সঙ্গে কথা বলে এসব তথ্য জানা যায়। প্রধানমন্ত্রীর সরকারি বাসভবন গণভবনে শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় রংপুর সিটি করপোরেশন নির্বাচন নিয়ে আলোচনা হয়। এ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের মেয়র প্রার্থীর পরাজয়ের বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, আমাদের প্রার্থীর অবস্থা ভালো ছিল না। বিজয়ী হতে পারবে না সেটা বোঝা যাচ্ছিল। সেখানে সুষ্ঠু নির্বাচন হয়েছে। কিন্তু এতো ভোটের ব্যবধানে পরাজিত হওয়ার কারণ কি? কোথায় কি সমস্যা ছিল এটা খতিয়ে দেখতে হবে।
দুর্নীতির দুই মামলায় হাজিরা দিতে আদালতে হাজির হয়েছেন বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া।
জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট ও চ্যারিটেবল ট্রাস্ট দুর্নীতির দুই মামলায় হাজিরা দিতে আদালতে হাজির হয়েছেন বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া। আজ মঙ্গলবার সকাল সোয়া ১১টায় তিনি আদালতে পৌছেন। রাজধানীর পুরান ঢাকার বকশীবাজার আলিয়া মাদ্রাসা মাঠে স্থাপিত অস্থায়ী বিশেষ জজ ড. মো. আখতারুজ্জামানের আদালতে এ দুটি মামলার বিচারকাজ চলছে। পরে প্রায় সাড়ে ১১টায় খালেদা জিয়ার আইনজীবী আব্দুর রেজ্জাক খান জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলার যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শুরু করেন। এদিকে বিশেষ আদালতের নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। মঙ্গলবার সকালে দেখা গেছে আদালত প্রাঙ্গণের প্রবেশ পথে বসানো হয়েছে একটি আর্চওয়ে। গত মঙ্গলবার রাষ্ট্রপক্ষে যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষ হয়। দুর্নীতি দমন কমিশনের প্রধান কৌঁসুলি মোশাররফ হোসেন কাজল এ মামলার অনুসন্ধান প্রতিবেদন ও এজাহার পড়ার মধ্য দিয়ে যুক্তি উপস্থাপন শুরু করেন। দুই ঘণ্টারও বেশি সময় শুনানি শেষে রাষ্ট্রপক্ষ মামলার প্রধান আসামি খালেদা জিয়াসহ সব আসামির সর্বোচ্চ শাস্তি যাবজ্জীবন কারাদণ্ড প্রার্থনা করেন। পরে ২০ ও ২১ ডিসেম্বর অরফানেজ ট্রাস্ট মামলায় খালেদা জিয়ার পক্ষে যুক্তি উপস্থাপন শুরু করেন তার আইনজীবীরা। প্রসঙ্গত, তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময় ২০০৮ সালের ৩ জুলাই রমনা থানায় জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলা দায়ের করে দুদক। এতিমদের সহায়তা করার উদ্দেশ্যে একটি বিদেশি ব্যাংক থেকে আসা দুই কোটি ১০ লাখ ৭১ হাজার ৬৭১ টাকা আত্মসাৎ করার অভিযোগ এনে এ মামলা দায়ের করা হয়। তদন্ত শেষে ২০০৯ সালের ৫ আগস্ট তদন্ত কর্মকর্তা আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন। এরপর ২০১৪ সালের ১৯ মার্চ ঢাকার তৃতীয় বিশেষ জজ অভিযোগ গঠন করে খালেদা জিয়াসহ ছয় আসামির বিচার শুরু করেন। মামলায় খালেদা জিয়াসহ আসামি ছয়জন। অপর পাঁচ আসামি হলেন, খালেদার বড় ছেলে তারেক রহমান, মাগুরার সাবেক এমপি কাজী সালিমুল হক কামাল ওরফে ইকোনো কামাল, ব্যবসায়ী শরফুদ্দিন আহমেদ, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সাবেক সচিব ড. কামাল উদ্দিন সিদ্দিকী ও প্রয়াত রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ভাগ্নে মোমিনুর রহমান। আসামিদের মধ্যে ড. কামাল সিদ্দিকী ও মোমিনুর রহমান মামলার শুরু থেকেই পলাতক। তারেক রহমান নয় বছর ধরে লন্ডনে রয়েছেন। এ মামলায় তার বিরুদ্ধে আদালতে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি রয়েছে। বাকিরা জামিনে আছেন।
আগামী নির্বাচন ঠেকানোর সাধ্য কারো নেই : স্বাস্থ্যমন্ত্রী
আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য ও স্বাস্থ্যমন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম বলেছেন, বিএনপি আগামী নির্বাচনে শুধু অংশই নেবে না, তারা সেই নির্বাচনের ফলাফল মেনে নিতেও বাধ্য হবে। তিনি বলেন, আগামী নির্বাচন ঠেকানোর সাধ্য কারো নেই। রোববার রাজধানীর একটি কনভেনশন সেন্টারে আয়োজিত অনুষ্ঠান শেষে সাংবাদিকদের কাছে একথা বলেন নাসিম। মন্ত্রী বলেন, দেশে নির্বাচন ঠেকানোর ক্ষমতা কারো নাই। ১৪ সালেও তারা নির্বাচন ঠেকানোর জন্য জ্বালাও পোড়াও করেছিল, ব্যর্থ হয়েছে। সম্পূর্ণ ব্যর্থ হয়েছে। বরঞ্চ তারা রাজনীতির মূল স্রোত থেকে ছিটকে পড়ে গেছে। এটা সম্ভাবনা নাই। তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রশ্নই ওঠে না। সংবিধান অনুযায়ী বর্তমান সরকারের অধীনে নির্বাচন হবে এবং সেই নির্বাচনে তারা দেখবেন আগামী নির্বাচনে অংশগ্রহণ করবে। শুধু নির্বাচনে অংশগ্রহণ করবে না, নির্বাচনের ফলাফল তারা মেনে নিতে বাধ্য হবে। আওয়ামী লীগ নেতা বলেন, তার দল কোনো ষড়যন্ত্র করে না। বিএনপি সব সময় ষড়যন্ত্র করে। তাই তাদের মাথায় ষড়যন্ত্র ঘুরে বেড়ায়। কিশোরীর পুষ্টি এবং স্বাস্থ্য ও শিক্ষাসেবায় জবাবদিহিতা শীর্ষক শিশু সংসদের ১৬তম এই বিশেষ অধিবেশনে দেশের ২৩টি জেলার শিশু সংসদ সদস্য এবং ২৪ জন শিশু প্রতিনিধি অংশ নেয়। এতে যোগ দেন মোহাম্মদ নাসিম। চাইল্ড পার্লামেন্টে প্রতিনিধিদের প্রশ্নের উত্তরে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, কমিউনিটি ক্লিনিকে প্রসূতি মায়েদের পাশাপাশি শিশু-কিশোরদেরও চিকিৎসাসেবা দেওয়া হবে। এজন্য এসব ক্লিনিকে আগামীতে ১০ হাজার চিকিৎসক নিয়োগ দেওয়া হবে। এ প্রসঙ্গে মন্ত্রী আরো বলেন, প্রতি সপ্তাহে অন্তত একদিন কমিউনিটি হেলথ ক্লিনিকে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকরা শিশুদের স্বাস্থ্য সেবা দেবেন, আমরা সে ব্যবস্থা নিশ্চিত করবো। তবে এর জন্য সময় লাগবে।
মুক্তিযুদ্ধের সত্যিকারের লক্ষ্য অর্জিত হয়নি :মির্জা ফখরুল
মুক্তিযোদ্ধাদের ওপর শাসকগোষ্ঠীর নির্যাতন দেখে লজ্জা প্রকাশ করেছেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। ঢাকা মহানগর নাট্যমঞ্চে রোববার দুপুরে বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা দলের সমাবেশে তিনি এ কথা বলেন। মির্জা ফখরুল বলেন, মুক্তিযোদ্ধা দল কোনো রাজনৈতিক সংগঠন নয়, একটি গর্বিত প্রতিষ্ঠান। কিন্তু ধিক্কার দিই যখন দেখি মুক্তিযোদ্ধা দলের সমাবেশের অনুমতি না দেওয়ার জন্য বর্তমানে যে দলটি ক্ষমতায় রয়েছে, যারা নিজে;দের মুক্তিযুদ্ধের একমাত্র ধারক মনে করে-বাহক মনে করে, সেই আওয়ামী লীগ সরকার সম্মেলনের অনুমতি দিতে গড়িম‌সি করে। আমরা লজ্জিত হই যখন দেখি এই শাসকগোষ্ঠী মুক্তিযোদ্ধাদের ওপর নির্যাতন চালাচ্ছে। যখন দেখি সত্যিকারের মুক্তিযোদ্ধাদের বাদ দিয়ে তারা তাদের দলভুক্ত মুক্তিযোদ্ধাদের তালিকা নাম লিখছে।' তিনি আরো বলেছেন, আজকে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা এবং অধিকার আদায়ের শপথ নেব। মুক্তিযুদ্ধের সত্যিকারের লক্ষ্য অর্জিত হয়নি। ফখরুল বলেন, আমরা মুক্তিযুদ্ধের এই মাসে কাউকে ছোট করতে চাই না, খাটো করতে চাই না। আমরা ডেভিলসকে তার শেয়ার দিতে চাই। এই আদর্শ আমরা শিখেছি শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের কাছ থেকে। তারা আওয়ামী লীগ, তারা মুক্তিযুদ্ধকে একটা সেলফ প্রোডাক্টে পরিণত করেছে। ধর্ম ব্যবসায়ীরা যেভাবে ধর্মকে তাদের ব্যবসায় পরিণত করে, আজকে আওয়ামী লীগ, স্বাধীনতাকে, মুক্তিযুদ্ধ তাদের রাজনৈতিক একটা প্রোডাক্টে পরিণত করতে চাইছে। তারা ভাগ করে ফেলেছে দেশকে, মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের শক্তি, মুক্তিযুদ্ধের বিপক্ষের শক্তি। তারা বলে যে, তারাই নাকি একমাত্র মুক্তিযুদ্ধে পক্ষের শক্তি।