আন্দোলন করে মুক্ত করা যায় না দণ্ডপ্রাপ্ত আসামিকে বললেন হানিফ
একজন আদালতের রায়ে দণ্ডপ্রাপ্ত আসামিকে আন্দোলন করে মুক্ত করা যায় না। পৃথিবীর কোনো দেশেই এমন কোনো নজির নেই। তাই বেগম খালেদা জিয়াকে মুক্ত করতে হলে আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমেই মুক্ত করতে হবে বলে জানিয়েছেন আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুব উল আলম হানিফ। রোববার বেলা ১২টায় কুষ্টিয়া লালন একাডেমির উন্নয়ন কাজের পরিদর্শন শেষে তিনি এসব কথা বলেন। এসময় হানিফ বলেন, সরকারের বিরুদ্ধে আন্দোলন করে দাবি আদায়ের ক্ষমতা বিএনপির কতটুকু আছে তা জনগণ জানে। বিএনপির নেতা-কর্মীদের এই ধরনের বক্তব্য দেয়ার মাধ্যমে প্রমাণিত হয় আসলে তারা বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তি চায় না। তিনি আরও বলেন, বিএনপি গত নয় বছর ধরে এমন অনেক হুমকি দিয়ে সরকারকে বাধ্য করার চেষ্টা করেছেন। এর ফলাফল কী হয়েছে তা দেশবাসী জানে। তাই বিএনপির এই ধরনের কথাবার্তার কোনো মূল্যে নেই। এসময় জেলা আওয়ামী লীগের সিনিয়র সহ-সভাপতি হাজী রবিউল ইসলাম, সাধারণ সম্পাদক আজগর আলী, শহর আওয়ামী লীগের সভাপতি তাইজাল আলী খানসহ আওয়ামী লীগ ও অঙ্গ-সংগঠনের নেতা-কর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
রংপুর এর ২২ আসনে জয়ী হলেই ক্ষমতায় যাব: এরশাদ
প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ দূত ও জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ বলেছেন, রংপুর ছিল জাতীয় পার্টির দুর্গ। সেটা কিছুটা নষ্ট হয়ে গেছে। আমাদের আসনগুলো ছিনতাই করা হয়েছে। এ দুর্গ মেরামত করতে হবে। আগামী নির্বাচনে রংপুর অঞ্চলের ২২টি আসনে জয়ী হলে আমরাই ক্ষমতায় যাব। রোববার দুপুরে টাউন হল মাঠে আয়োজিত রংপুর জেলা জাতীয় পার্টির সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন। এরশাদ বলেন, বিগত দিনে আমাদের ছাড়া কেউই এককভাবে ক্ষমতায় আসতে পারেনি, আগামীতেও পারবে না। ৯১ সালে বিএনপি আর ৯৬ সালে আওয়ামী লীগ এ দুই দল আমাদের সহায়তা নিয়েই সরকার গঠন করেছিল। ফলে আমাদের অবহেলা করবেন না। তিনি বলেন, সম্প্রতি দেশের বিভিন্ন ইস্যুতে আওয়ামী লীগ সরকারের সুনাম ক্ষুণ্ন হয়েছে। বর্তমানের তাদের অবস্থা নাজুক। জনগণের আস্থা হারিয়ে সরকার এখন দিশেহারা। আর বিএনপির অবস্থা ছিন্নভিন্ন। তাদের চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া দুর্নীতির মামলায় কারাভোগ করছেন। বিএনপি এখন নেতাশূন্য দল। আগামী নির্বাচনে তারা অংশ নিতে পারবে কি-না তা নিয়ে আমার সন্দেহ আছে। এরশাদ বলেন, দেশের জনগণ এখন আওয়ামী লীগ আর বিএনপির দুঃশাসনের কারণে তাদের প্রতি আস্থা একেবারে হারিয়ে ফেলেছে। নির্বাচন যদি সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ হয় তাহলে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসতে পারবে না। আমাদের দাবি নির্বাচন সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ করার সব পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে। খালেদা জিয়ার উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, তিনি আমাকে অন্যায়ভাবে ৬ বছর কারাগারে আটক করে রেখেছিলেন। আল্লাহর বিচার দেখেন তিনি এখন কারাগারে। আমি যখন কারাগারে ছিলাম আমাকে কারও সঙ্গে কথা বলার সুযোগ দেয়া হতো না। অসুস্থ হবার পরেও আমাকে হাসপাতালে নেয়া হয়নি। এখন তিনি সুস্থ হয়েও হাসপাতালে যাবার ভান করেন। এ সময় এরশাদ জাতীয় পার্টির সব নেতাকর্মীকে আগামী নির্বাচনের জন্য প্রস্তুতি নেবার আহ্বান জানান। জাতীয় পার্টির প্রেসিডিয়াম সদস্য ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মশিউর রহমান রাঙ্গার সভাপতিত্বে এ সম্মেলনে আরও বক্তব্য দেন দলের কো-চেয়ারম্যান জিএম কাদের, মহাসচিব রুহুল আমিন হাওলাদার, প্রেসিডিয়াম সদস্য ফিরোজ রশীদ চৌধুরী, রংপুর সিটি কর্পোরেশনের মেয়র মোস্তাফিজার রহমান মোস্তফা ও সাধারণ সম্পাদক এস এম ইয়াসির প্রমুখ। পরে এরশাদ রংপুর জেলা জাতীয় পার্টির সভাপতি হিসেবে স্থানীয় সরকার পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মশিউর রহমান রাঙ্গা ও সাধারণ সম্পাদক হিসেবে শিল্পপতি ফকরুল ইসলাম জাহাঙ্গীরের নাম ঘোষণা করেন।
সরকারি চাকরিতে স্বাধীনতাবিরোধীদের নিয়োগ বন্ধের দাবি ও ৬ দফা ঘোষণা
কোটা সংস্কার আন্দোলনে হত্যার গুজব ছড়িয়ে উস্কানিদাতাদের চিহ্নিত করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি এবং সরকারি চাকরিতে স্বাধীনতাবিরোধীদের নিয়োগ বন্ধের দাবিতে ৬ দফা দাবি ঘোষণা করা হয়েছে। জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে রোববার দুপুরে মুক্তিযোদ্ধা ও তাদের সন্তানদের গণজমায়েত থেকে এই ৬ দফা দাবি বাস্তবায়নে প্রায় দেড় মাসব্যাপী কর্মসূচি ঘোষণা করেছেন সরকারের নৌমন্ত্রী শাজাহান খান। শ্রমিক কর্মচারী পেশাজীবী মুক্তিযোদ্ধা সমন্বয় পরিষদ এবং মুক্তিযোদ্ধা সন্তান ও প্রজন্ম সমন্বয় পরিষদের পক্ষ থেকে এই গণজমায়েত করা হয়। ৬ দফা দাবি হলো ১) কোটা সংস্কার আন্দোলনের নামে হত্যার গুজব ছড়িয়ে উস্কানি দিয়ে দেশে অরাজকতা, নাশকতা, নৈরাজ্য ও সন্ত্রাস সৃষ্টিকারীদের চিহ্নিত করে তাদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা করতে হবে। ২) জামায়াত-শিবির, যুদ্ধাপরাধী, স্বাধীনতাবিরোধী ব্যক্তি ও তাদের সন্তানদের সরকারি চাকরিতে নিয়োগ দেয়া বন্ধ করতে হবে। ৩) জামায়াত- শিবির ও স্বাধীনতাবিরোধী যারা সরকারি চাকরিতে বহাল থেকে দেশের উন্নয়ন ব্যাহত করছে এবং মুক্তিযুদ্ধ ও সরকারের সরকারবিরোধী নানা চক্রান্তে লিপ্ত রয়েছে তাদের চিহ্নিত করে চাকরি থেকে বরখাস্ত করতে হবে। ৪) যুদ্ধাপরাধীদের সকল স্থাবর অস্থাবর সম্পত্তি সরকারের অনুকূলে বাজেয়াপ্ত করতে হবে। ৫) ২০১৩, ১৪ ও ১৫ সালে যারা পুড়িয়ে, পিটিয়ে, কুপিয়ে শ্রমিক কর্মচারী পেশাজীবী মুক্তিযোদ্ধা, পুলিশ, বিজিবি, ছাত্র, যুবক শিশু নারীসহ অসংখ্য মানুষ হত্যা করেছে এবং আগুন সন্ত্রাস সৃষ্টি করে বেসরকারি ও রাষ্ট্রীয় সম্পদ ধ্বংস করেছে, স্পেশাল ট্রাইবুন্যাল গঠন করে তাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা করতে হবে। ৬) মুক্তিযোদ্ধাদের সম্মান ক্ষুণ্নকারী এবং মুক্তিযুদ্ধ ও বঙ্গবন্ধু সম্পর্কে কটাক্ষকারীদের বিরুদ্ধে হলোকাস্ট বা জেনোসাইড ডিনায়েল এর আদলে আইন প্রণয়ন করে বিচারের ব্যবস্থা করতে হবে। ৬ দফা দাবি বাস্তবায়নের দাবিতে নৌমন্ত্রী প্রায় দেঢ় মাসব্যাপী কর্মসূচি ঘোষণা করেছে। কর্মসূচিগুলো হল আগামী ১৮ এপ্রিল (বুধবার) দেশের সকল জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে সমন্বয় পরিষদের ৬ দফা দাবির ভিত্তিতে জেলা প্রশাসক ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রীকে স্মারকলিপি প্রদান; ২০ এপ্রিল থেকে ৩১ মে পর্যন্ত বিভিন্ন জেলায় গণসংযোগ; ২২ এপ্রিল সকাল ১০টায় ঢাকায় সকল মহানগর জেলা ও উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের সাবেক কমান্ডার, সহকারী কমান্ডার, ডেপুটি কমান্ডার ও মুক্তিযুদ্ধের চেতনা বাস্তবায়ন মঞ্চের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকদের প্রতিনিধি সভা; ৩০ এপ্রিল বিকেল ৩টায় সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে মুক্তিযুদ্ধের স্বপক্ষের শক্তির সকল সংগঠন ও সকল স্তরের জনতার এক মহাসমাবেশ; ৫ মে জাতীয় কনভেনশন অনুষ্ঠিত হবে। নৌমন্ত্রী শাহজাহান খানের সভাপতিত্বে গণজমায়েতে আরও উপস্থিত ছিলেন, মুক্তিযোদ্ধা সন্তান ও প্রজন্ম সমন্বয় পরিষদের আহবায়ক আশিবুর রহমান খান, বীর মুক্তিযোদ্ধা ইসমত কাদির গামা, বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল মালেক মিয়া, বীর মুক্তিযোদ্ধা ওসমান আলী, বীর মুক্তিযোদ্ধা এ বি এম সুলতান আহমেদ, জাসদের সাধারণ সম্পাদক শিরিন সুলতানা, সাংবাদিক আবেদ খান, নাট্যব্যক্তিত্ব রোকেয়া প্রাচী, জাতীয় প্রেস ক্লাবের সভাপতি শফিকুর রহমান এবং এডভোকেট আসাদুজ্জামান দুর্জয় প্রমুখ। এতে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হক ও তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনুর উপস্থিত থাকার কথা ছিল।
সুষ্ঠু নির্বাচন হলে জাতীয় পার্টিই সরকার গঠন করবে :এরশাদ
আগামী জাতীয় নির্বাচন সুষ্ঠু হলে জাতীয় পার্টিই সরকার গঠন করবে বলে দাবি করেছেন দলটির চেয়ারম্যান হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ। শনিবার দুপুরে নীলফামারীর সৈয়দপুর উপজেলার বাঙ্গালীপুর ইউনিয়নে দলের কর্মীসভার যোগ দেয়ার আগে সাংবাদিকদের তিনি একথা বলেন। এরশাদ বলেন, আগামী নির্বাচনে বিএনপি আসবে কি না তার কোনো নিশ্চয়তা নেই। দলটি ছিন্নভিন্ন হয়ে গেছে। আমরা এককভাবে ৩০০ আসনে প্রার্থী দেব। সুষ্ঠু নির্বাচন হলে জাতীয় পার্টিই সরকার গঠন করবে। সাবেক এই রাষ্ট্রপতি আরও বলেন, নানা অপকর্মের ফলে সরকারের সুনাম ক্ষুণ্ন হয়েছে। এ কারণে জাতীয় পার্টির সরকার গঠনের সম্ভাবনা অনেক বেড়ে গেছে। এ সময় জাপা মহাসচিব রুহুল আমিন হাওলাদার, নীলফামারী-৪ আসনের সংসদ সদস্য শওকত চৌধুরী প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।
প্রধানমন্ত্রী সফরে যাওয়ার আগেই এ সপ্তাহে আ'লীগের নির্বাচন পরিচালনা কমিটি ঘোষণা হতে পারে
আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সৌদি আরব সফরে যাওয়ার আগেই চূড়ান্ত করতে পারেন দলটির জাতীয় নির্বাচন পরিচালনা কমিটি ২০১৮। ইতিমধ্যে শেখ হাসিনার কাছে ৩৬ সদস্য কমিটির একটি খসড়া প্রস্তাব জমা দেয়া হয়েছে। নির্বাচন পরিচালনার সঙ্গে সংশ্লিষ্টরা বলছেন, চূড়ান্তভাবে এ কমিটি হবে ২১ অথবা ১৯ সদস্যের। আজকালের মধ্যেই কমিটি চূড়ান্ত করে তা সংবাদ বিজ্ঞপ্তি আকারে গণমাধ্যমে পাঠিয়ে দেয়া হতে পারে। আওয়ামী লীগের বিশ্বস্ত সূত্রে এ খবর পাওয়া গেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক নির্বাচন পরিচালনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট একজন জানান, খসড়া তালিকা দলের সভাপতি শেখ হাসিনার কাছে জমা হয়েছে। তিনি যাচাই-বাছাই শেষে কমিটির আকার চূড়ান্ত করবেন। সূত্র মতে, গতবারের কমিটি ছিল ১৭ সদস্যের। এবার তা বাড়িয়ে ১৯ অথবা সর্বোচ্চ ২১ সদস্যবিশিষ্ট করা হতে পারে। দলের সভাপতির বিবেচনার জন্য সংশ্লিষ্টরা ৩৬ জনের নাম প্রস্তাব করেছেন। সূত্র জানায়, প্রস্তাবিত নির্বাচন পরিচালনা কমিটিতে চেয়ারম্যান হিসেবে দলের সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নাম প্রস্তাব করা হয়েছে। কো-চেয়ারম্যান হিসেবে প্রস্তাব রয়েছে দলের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য এবং প্রধানমন্ত্রীর রাজনীতিবিষয়ক উপদেষ্টা এইচটি ইমামের নাম। রীতি অনুযায়ী সদস্য সচিব হিসেবে দলের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরের নাম রয়েছে। প্রস্তাবিত কমিটিতে শেষ নামটি দলের কার্যনির্বাহী সংসদের সদস্য অ্যাডভোকেট এবিএম রিয়াজুল কবির কাওছারের। এছাড়া এতে উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য ও শিল্পমন্ত্রী আমির হোসেন আমু, বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ, ড. মশিউর রহমান, ড. রাশিদুল আলম, প্রেসিডিয়াম সদস্য শেখ ফজলুল করিম সেলিম, কাজী জাফর উল্ল্যাহ, সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম, ড. আবদুর রাজ্জাক, আবদুল মতিন খসরু এবং চার যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক মাহবুবউল আলম হানিফ, ডা. দিপু মনি, জাহাঙ্গীর কবির নানক, আবদুর রহমানের নাম রয়েছে। এছাড়া প্রস্তাবিত কমিটিতে আট সাংগঠনিক সম্পাদক আহমদ হোসেন, আফম বাহাউদ্দিন নাসিম, বিএম মোজাম্মেল হক, মিসবাহ উদ্দিন সিরাজ, আবু সাঈদ আল মাহমুদ স্বপন, খালিদ মাহমুদ চৌধুরী, এনামুল হক শামীম, ব্যারিস্টার মুহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেলের নামও রয়েছে। সম্পাদকীয় পদের মধ্যে প্রচার সম্পাদক ড. হাছান মাহমুদ, দফতর সম্পাদক ড. আবদুস সোবহান গোলাপ, সাংস্কৃতিক সম্পাদক অসীম কুমার উকিলের নাম প্রস্তাব করা হয়েছে। কার্যনির্বাহী সংসদ সদস্যদের মধ্যে নাম রয়েছে আবুল হাসনাত আবদুল্লাহ, আখতারুজ্জামান, মেরিনা জাহান প্রমুখ। নির্বাচন পরিচালনা কমিটি গঠনের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট আওয়ামী লীগের শীর্ষস্থানীয় একটি সূত্র জানায়, তারা আশা করছেন, আজকালের মধ্যেই প্রধানমন্ত্রী কমিটি চূড়ান্ত করবেন। এতে তিনি সংযোজন-বিয়োজন করতে পারেন। প্রস্তাবিত নামগুলো থেকে বেছে নেয়ার পাশাপাশি শেখ হাসিনা প্রয়োজন অনুযায়ী আরও দু’একজনের নাম অন্তর্ভুক্ত করতে পারেন। তবে তিনি যাই করুন বিদেশে যাওয়ার আগেই চূড়ান্ত করে যাবেন বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা। প্রসঙ্গত, সৌদি আরবের বাদশাহের আমন্ত্রণে মিলিটারি এক্সারসাইজ ‘গালফ্ শিল্ড-১’ এর সমাপনী অনুষ্ঠানে যোগদানের জন্য আগামীকাল রোববার বিকাল ৪টায় সৌদি আরবের উদ্দেশে যাত্রা করবেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি যুক্তরাজ্য হয়ে দেশে ফিরবেন বলে জানা গেছে। পূর্ব নির্ধারিত সূচি অনুযায়ী ২২ এপ্রিল দেশে ফিরে তিনি আবার ২৬ এপ্রিল অস্ট্রেলিয়া সফরে যাবেন এবং ৩০ এপ্রিল দেশে ফিরবেন।
অডিও ভাইরাল ছাত্রী নির্যাতনকারী সেই ছাত্রলীগ নেত্রীর
কবি সুফিয়া কামাল হল ছাত্রলীগ নেত্রী ইফফাত জাহান এষা কিভাবে দরজা লাগিয়ে হলে সাধারণ ছাত্রীদের উপর নির্যাতন করার পাশাপাশি একচেটিয়া নিয়ন্ত্রণ-বিস্তার ও দখলদারিত্ব কায়েম করেছে তার প্রমাণ একটি অডিও রেকর্ডে শোনা গেছে। পাঠকদের জন্য দেয়া হল- অডিও রেকর্ডের শুরুতে এষা তার রুমে বসে সাধারণ ছাত্রীদের ডেকে নিয়ে ধমকাচ্ছেন-এমন শোনা যায়। এষা : এই তোরে অনেক দিন দেখা যায় না। তুই না কি আমারে নিয়ে কি সব বলছিস রুমের মধ্যে? কি বলসিন সাধারণ ছাত্রী : কে বলছে? এষা : যেই বলুক তোর কোন জেনে লাভ আছে । কেউ না কেউ তো বলসে যারা শুনছে। নাইলে বাতাসে ভেসে তো আর আমার কানে কথাটা আসে নাই। চেটাং চেটাং কথা বলা বাদ দিস। নাইলে তোর মত শ্রাবণীকে এখানে মারতে মারতে মেরে ফেলব। আমারে তো চিনোস নাই যা বলবি পঞ্চাশবার ভেবে বলবি । এই কথার কারণে বহুবার অনেকেরে জীবন খারাপ অবস্থা নেমে এসেছে। আপা স্লামলাইকুম বলে আরেক ছাত্রী এষার রুমে ঢুকলে তাকেও জেরা করতে শুনা যায়। তখন এষা তাকে জিজ্ঞাসা করে তোর নাম ফেসবুকে জান্নাতুল ফেরদৌস আশা। আরেক সাধারণ শিক্ষার্থী বলেন, না আপা আমার নাম জান্নাতুল সুমী। এষা : গতকাল কারা কারা কোটা সংস্কার আন্দোলনে গিয়েছিলি। হাত তোল। এই তুই ভাব নিয়ে দাড়ায় আাসোস কেন? সোজা হয়ে দাড়া। তোরা যে প্রিন্স ভাইয়ের কথায় গেছিস। প্রিন্স ভাই কি হলের কেও। তারে ফোন দে ডাক দে বল তোর এষা আপা ডাকছে। আজকে কারা গেছিলি হাত তোল। তুই গেসিলি। তোরা আমারে ধানায় পানায় বুজদিস, আমার উঠে নাই না কি?
উত্তরাঞ্চলে যাচ্ছেন এরশাদ পহেলা বৈশাখে
চারদিনের সফরে পহেলা বৈশাখ রংপুর যাচ্ছেন জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ। এই সফরে তিনি রংপুর, নীলফামারী ও লালমনিরহাট জেলায় দলীয় ও সামাজিক বিভিন্ন অনুষ্ঠানে যোগ দেবেন। বৃহস্পতিবার সাবেক রাষ্ট্রপতি হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের প্রেস অ্যান্ড পলিটিক্যাল সেক্রেটারি সুনীল শুভরায় স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। ওই দিন সকাল পৌনে ১০টায় ইউএস-বাংলার উড়োজাহাজে সৈয়দপুরের উদ্দেশ্যে ঢাকা ত্যাগ করবেন। দুপুর ১২টায় সাবেক রাষ্ট্রপতি রংপুর সার্কিট হাউসে উপস্থিত থাকবেন এবং দুপুর সাড়ে ১২টায় গুপ্তপাড়ায় রংপুর লায়ন্স স্কুল অ্যান্ড কলেজে বাংলা নববর্ষের অনুষ্ঠানে যোগ দেবেন। বিকেল ৫টায় রংপুর পল্লীনিবাসে জাতীয় পার্টির সর্বস্তরের নেতাকর্মীদের সঙ্গে নববর্ষের শুভেচ্ছা বিনিময় করবেন পার্টি চেয়ারম্যান হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ। ১৫ এপ্রিল বেলা ১১টায় রংপুর পাবলিক লাইব্রেরি মাঠে জেলা জাতীয় পার্টির কাউন্সিল অধিবেশনে যোগ দেবেন জাপা চেয়ারম্যান হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ। ১৬ এপ্রিল দুপুর ১২টায় নীলফামারী জেলার জলঢাকা ডাকবাংলো মাঠে এক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান। বিকেল ৪টায় লালমনিরহাটের আদিতমারীতে কুমড়ীরহাট এসসি স্কুল অ্যান্ড কলেজ মাঠে আয়োজিত জনসভায় ভাষণ দেবেন জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান। ১৭ এপ্রিল দুপুরে রংপুর থেকে সৈয়দপুর বিমানবন্দর হয়ে রাজধানীতে ফিরবেন জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ।
খালেদার বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন ২৪ জুন:গ্যাটকো মামলায়
গ্যাটকো দুর্নীতি মামলায় বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াসহ ২০ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনের শুনানির জন্য আগামী ২৪ জুন দিন ধার্য করেছেন আদালত। বৃহস্পতিবার মামলার অভিযোগ গঠন শুনানির দিন ধার্য ছিল। তবে আসামি পক্ষের আইনজীবী সানাউল্লাহ মিয়া শুনানি পেছানোর আবেদন করলে রাজধানীর বকশীবাজারের আলিয়া মাদরাসা মাঠে স্থাপিত ঢাকার বিশেষ জজ আদালত-৩ এর ভারপ্রাপ্ত বিচারক আতাউর রহমান আবেদন মঞ্জুর করেন এ দিন ধার্য করেন। ২০০৭ সালের ২ সেপ্টেম্বর দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) উপ-পরিচালক গোলাম শাহরিয়ার চৌধুরী সাবেক চারদলীয় জোট সরকারের তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া, তার ছোট ছেলে আরাফাত রহমান কোকোসহ ১৩ জনের বিরুদ্ধে তেজগাঁও থানায় এ মামলা করেন। মামলার পরদিন খালেদা জিয়া ও কোকোকে গ্রেফতার করা হয়। ওই বছরের ১৮ সেপ্টেম্বর মামলাটি অন্তর্ভুক্ত করা হয় জরুরি ক্ষমতা আইনে। পরের বছর ১৩ মে খালেদা জিয়াসহ ২৪ জনের বিরুদ্ধে এ মামলায় অভিযোগপত্র দেয়া হয়। মামলার অভিযোগপত্রে বলা হয়েছে, আসামিরা পরস্পর যোগসাজশে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান গ্যাটকোকে ঢাকার কমলাপুর আইসিডি ও চট্টগ্রাম বন্দরের কনটেইনার হ্যান্ডলিংয়ের কাজ পাইয়ে দিয়ে রাষ্ট্রের ১৪ কোটি ৫৬ লাখ ৩৭ হাজার ৬১৬ টাকার ক্ষতি করেছেন। পরে মামলাটি জরুরি ক্ষমতা আইনে অন্তর্ভুক্ত করার বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে এবং বিচারিক আদালতে মামলার কার্যক্রমের উপর স্থগিতাদেশ চেয়ে ২০০৭ সালের ২৭ সেপ্টেম্বর হাইকোর্টে আলাদা দুটি রিট আবেদন করেন খালেদা জিয়া ও আরাফাত রহমান কোকো। এর তিনদিন পর খালেদা ও কোকোর বিরুদ্ধে মামলার কার্যক্রম স্থগিত করে রুল দেন হাইকোর্ট। একই সঙ্গে মামলাটি জরুরি ক্ষমতা আইনের অন্তর্ভুক্ত করা কেন বেআইনি ও কর্তৃত্ব বহির্ভূত ঘোষণা করা হবে না- তা জানতে চাওয়া হয়। তবে হাইকোর্টের দেয়া স্থগিতাদেশ পরে আপিল বিভাগে বাতিল হয়ে যায়। দুদক আইনে গ্যাটকো মামলা দায়েরের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে ২০০৮ সালে আরেকটি রিট আবেদন করেন খালেদা জিয়া। তার আবেদনে হাইকোর্ট আবারও মামলার কার্যক্রমের উপর স্থগিতাদেশ দেন এবং মামলাটি কেন বাতিলের নির্দেশ দেয়া হবে না- এ মর্মে রুল জারি করেন। মামলার উল্লেখযোগ্য আসামিরা হলেন- বিগত চারদলীয় জোট সরকারের মন্ত্রী খন্দকার মোশাররফ হোসেন, এম শামসুল ইসলাম, এম কে আনোয়ার, আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী এবং জামায়াতের সাবেক আমির মতিউর রহমান নিজামী। তবে মামলার ২৪ আসামির মধ্যে খালেদা জিয়ার ছোট ছেলে আরাফাত রহমান কোকো, সাবেক অর্থমন্ত্রী সাইফুর রহমান, বিএনপির সাবেক মহাসচিব আব্দুল মান্নান ভূঁইয়া ও সাবেক মন্ত্রী মতিউর রহমান নিজামী মারা যাওয়ায় এখন আসামির সংখ্যা ২০।
মির্জা ফখরুলকে টেলিফোনে ওবায়দুল কাদেরের সমবেদনা
বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের মায়ের মৃত্যুতে সমবেদনা জানাতে টেলিফোন করেছেন আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের। বৃহস্পতিবার দুপুর মির্জা ফখরুলকে টেলিফোন করেন ওবায়দুল কাদের। আওয়ামী লীগের উপ-দফতর সম্পাদক ব্যারিস্টার বিপ্লব বড়ুয়া এ তথ্য নিশ্চিত করেন। মির্জা ফখরুলকে টেলিফোনে ওবায়দুল কাদের বলেন, মায়ের মৃত্যুর বেদনা আমি বুঝি। কিছু দিন আগে আমারও মাতৃ বিয়োগ ঘটেছে। আপনি অতিদ্রুত এই শোক কাটিয়ে ওঠেন এটাই প্রত্যাশা। আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে আপনাকে সমবেদনা জানাই। এ সময় মায়ের দাফন কোথায় হবে জানতে চান ওবায়দুল কাদের। মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর জানান, ঠাকুরগাঁও পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হবে।

রাজনীতি পাতার আরো খবর