এবার ঢাবি থেকে বহিষ্কার ছাত্রলীগ নেত্রী এশা
কোটা সংস্কার আন্দোলনে অংশগ্রহণ করায় ছাত্রীদের ওপর নির্যাতন ও এক ছাত্রীর পায়ের রগ কেটে দেয়ার অভিযোগে ছাত্রলীগ নেত্রী ইফফাত আরা এশাকে বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। তিনি দর্শন বিভাগের মাস্টার্সের শিক্ষার্থী বলে জানা গেছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক গোলাম রব্বানী এশাকে বহিষ্কারের সিদ্ধান্তের বিষয়ে নিশ্চিত করেন। এর আগে তিনি এশাকে হল থেকে বহিষ্কারের আদেশ দেন। এদিকে একইসাথে তাকে সুফিয়া কামাল হলের সভাপতি পদ থেকে বহিষ্কার করে কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগ। মঙ্গলবার দিবাগত রাতে ছাত্রলীগ সভাপতি সাইফুর রহমান সোহাগ ও সাধারণ সম্পাদক এস এম জাকির হোসেন স্বাক্ষরিত বিবৃতিতে এ তথ্য জানানো হয়। জানা যায়, সন্ধ্যায় হলের ছাত্রীরা কোটা সংস্কার আন্দোলনে যোগ দিতে গেলে এশার নেতৃত্বে ছাত্রলীগ কর্মীরা তাদেরকে বাধা দেয়। পরে আন্দোলন থেকে ফিরে আসলে তাদেরকে গেস্টরুমে ডেকে নিয়ে মারধর করে রক্তাক্ত করে। এক পর্যায়ে এশা নিজ হাতে মোরশেদা বেগম নামের উদ্ভিদবিদ্যা বিভাগের চতুর্থ বর্ষের এক ছাত্রীর পায়ের রগ কেটে দেয় বলে অভিযোগ করে হলের ছাত্রীরা। হলের সিঁড়ি ও মেঝেতে রক্তের ফোঁটা দেখা গেছে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওচিত্রে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক ছাত্রী জানান, গতকালও আন্দোলন থেকে ফেরত ছাত্রীদেরকে গেস্টরুমে ডেকে নিয়ে নির্যাতন করেন এশা। গতকাল সেটি ভয়ে কেউ স্বীকার করতে চায়নি। আজকেও একইভাবে সে ছাত্রীদের ওপর নির্যাতন চালালে হলের ছাত্রীরা ক্ষোভে ফেটে ওঠে। এদিকে ছাত্রী নির্যাতনের প্রতিবাদে সুফিয়া কামাল হল সহ বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রী হলগুলোতে বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে। এক পর্যায়ে ছাত্রদের হল থেকে শিক্ষার্থীরা বিক্ষোভ মিছিল নিয়ে সুফিয়া কামাল হলের সামনে জড়ো হয়। এদিকে জিয়াউর রহমান হল সহ কয়েকটি হলে ছাত্রদের বের হতে বাধা দিলে এক পর্যায়ের গেইটের তালা ভেঙ্গে বেরিয়ে আসে ছাত্ররা। সর্বশেষ পরিস্থিতিতে জানা যায়, ঢাবির পুরো ক্যাম্পাসে উত্তেজনা পরিস্থিতি বিরাজ করছে। টিএসসি, শহিদ মিনার সহ কয়েকটি জায়গায় ছাত্ররা বিক্ষোভ ও মিছিল করছে। এদিকে ছাত্রী হলের নিরাপত্তায় পুলিশ নিয়োজিত রয়েছে বলে জানা গেছে।
বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল কারাগার থেকে মুক্তি
বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল কারাগার থেকে জামিনে মুক্তি পেয়েছেন। মঙ্গলবার সন্ধ্যা সোয়া ৬টার দিকে গাজীপুর কাশিমপুর কেন্দ্রীয় কারাগার-২ থেকে তিনি মুক্তি পান। আলালের মুক্তির বিষয়টি জানিয়েছেন তার ব্যক্তিগত কর্মকর্তা জাহাঙ্গীর হোসেন। কাশিমপুর কেন্দ্রীয় কারাগার-২ এর ডেপুটি জেলার মো. মাসুদ হোসেন জানান, বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল কাশিমপুর কেন্দ্রীয় কারাগার-২ এ বন্দি ছিলেন। মঙ্গলবার সকালে তার জামিনের কাগজপত্র কারাগারে এসে পৌঁছায়। পরে তা যাচাই-বাছাই শেষে সন্ধ্যায় তাকে কারাগার থেকে মুক্তি দেয়া হয়েছে। গত ২৫ ফেব্রুয়ারি তাকে এ কারাগারে পাঠানো হয়। এর আগে কিছু দিন তিনি কাশিমপুর হাইসিকিউরিটি কেন্দ্রীয় কারাগারেও বন্দি ছিলেন। গত ২৪ ফেব্রুয়ারি বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার কারামুক্তির দাবিতে নয়াপল্টন কালো পতাকা প্রদর্শন কর্মসূচি শেষে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে অংশ নেন আলাল। সংবাদ সম্মেলন শেষে বের হলে ডিবি পুলিশ তাকে আটক করে।
বিএনপির উস্কানি দেখছেন কোটা সংস্কার আন্দোলনে বললেন তথ্যমন্ত্রী
কোটা সংস্কারের শান্তিপূর্ণ আন্দোলনে বিএনপি প্রকাশ্যে বিবৃতি দিয়ে উস্কানি দিয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন তথ্যমন্ত্রী হাসানুল ইক ইনু। মঙ্গলবার দুপুরে সচিবালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ অভিযোগ করেন। তথ্যমন্ত্রী দাবি করেন, বিডিআর (বর্তমান বিজিবি) বিদ্রোহের সময় বেগম জিয়া প্রকাশ্যে বিদ্রোহীদের উস্কানি দিয়েছেন। হেফাজতের তাণ্ডবের সময়ও বেগম জিয়া প্রকাশ্যে তাণ্ডবের পক্ষে উস্কানি দিয়েছেন। কোটা সংস্কারের শান্তিপূর্ণ আন্দোলনের মধ্যে যখন সহিংসতা, নাশকতা ও অন্তর্ঘাত শুরু হয়, তখনো বিএনপি শান্তির আহ্বান না জানিয়ে প্রকাশ্যে বিবৃতি দিয়ে উস্কানি দিয়েছে। তাই কোটা সংস্কার আন্দোলনের মধ্যে যে নাশকতা-অন্তর্ঘাতের উস্কানি আছে তা বুঝতে অসুবিধা হয় না। তিনি বলেন, উস্কানিদাতারা লাশের গুজব ছড়িয়ে ছাত্র-ছাত্রীদের সহিংসতার দিকে ঠেলে দিতে চেয়েছিল। উস্কানিদাতারা লাশ চেয়েছিল। আল্লাহর কাছে হাজার শোকর তাদের ইচ্ছা পূরণ হয়নি। তারা লাশ পায়নি, লাশ ফেলতে পারেনি। এসময় ইনু বলেন, কোটা পদ্ধতি স্থায়ী বা চিরস্থায়ী কোনো বন্দোবস্ত নয়। কোটা পদ্ধতি অপরিবর্তনীয়ও নয়। সময়ের প্রয়োজনে কোটা পদ্ধতির প্রয়োগ পরিবর্তন হয়েছে। কোটা পদ্ধতি নিয়ে আলোচনা, পরীক্ষা-নিরীক্ষা, মূল্যায়ন, পুনঃমূল্যায়ন ও সংস্কার হয়েছে, ভবিষ্যতেও হতেই পারে। তিনি দাবি করেন, বর্তমান সরকার কোটা পদ্ধতি চালু করেনি। বরং শেখ হাসিনার সরকার কোটা পদ্ধতি প্রয়োগের বিষয়টি সুস্পষ্টকরণ ও যৌক্তিকিকরণের পদক্ষেপ নিয়েছে। তথ্যমন্ত্রী বলেন, মুক্তিযোদ্ধা কোটা নিয়েই কি মূল আপত্তি? কোটা পদ্ধতি সংস্কারের দাবিতে আন্দোলনকারী ছাত্র-ছাত্রীরা কোটা পদ্ধতি সংস্কারের সুনির্দিষ্ট কোনো প্রস্তাব না দিলেও বিভিন্ন ব্যক্তি, মহল, পত্র-পত্রিকা, গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে যে সকল বক্তব্য দিচ্ছেন তা দেখে মনে হয়, মুক্তিযোদ্ধা কোটা নিয়েই তাদের আপত্তি। মুক্তিযোদ্ধা কোটা তাদের গায়ে জ্বালা ধরিয়েছে। তিনি দাবি করেন, তারা কোটা পদ্ধতি নিয়ে কথা বলতে গিয়ে মুক্তিযোদ্ধাদের এমন ভাষায় অসম্মান ও হেয়প্রতিপন্ন করে চলেছেন যে, মুক্তিযোদ্ধারা মুক্তিযুদ্ধ করে অন্যায় করে ফেলেছেন। ওই সকল ব্যক্তি ও মহল শুধু মুক্তিযোদ্ধাদেরই নয়, মহান মুক্তিযুদ্ধ নিয়েও চরম অবমাননাকর কটূক্তি করে চলেছেন। তথ্যমন্ত্রী বলেন, আমরা মুক্তিযোদ্ধা কোটার বিরোধিতার নামে মুক্তিযোদ্ধাদের অসম্মান করা এবং মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে অসম্মানজনক কথাবার্তা বলা বন্ধ করার জন্য আহ্বান জানাচ্ছি। তিনি আরো বলেন, কোটা সংস্কার আন্দোলনের মধ্যে গভীর রাতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের বাসভবনে হামলা, ভাংচুর ও অগ্নিসংযোগ এবং সড়ক-মহাসড়ক অবরোধসহ যে সহিংসতা, নাশকতা ও অন্তর্ঘাত হয়েছে তা সাধারণ ছাত্র-ছাত্রীদের কাজ বলে আমরা বিশ্বাস করি না। যারা জল ঘোলা করে রাজনৈতিক স্বার্থ হাসিল করতে চায়, তারাই এসব করেছে। ইনু বলেন, আমাদের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা খালেদা জিয়ার মতো অন্ধ ও বধির না। বেগম জিয়া ক্ষমতায় থাকাকালে বা ক্ষমতার বাইরে থাকাকালেও জনগণের কথা শুনতে পেতেন না, জনগণের দুঃখ-আহাজারি দেখতে পেতেন না। তিনি চোখে ঠুলি, কানে তুলো দিয়ে চলেন। কিন্তু আমাদের প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনা সারাক্ষণই জনগণের দিকে তাকিয়ে থাকেন। তিনি জনগণের মনের কথাও শুনতে পান। জনগণের দুঃখে কাঁদেন, জনগণের সুখে হাসেন। তিনি বলেন, এজন্যই আমাদের প্রধানমন্ত্রী কোটা সংস্কার নিয়ে ছাত্র-ছাত্রীদের আন্দোলনের মধ্যে এতো সহিংসতা, নাশকতা ও অন্তর্ঘাত হওয়ার পরও তার পক্ষ থেকে সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রীকে আন্দোলনকারীদের সঙ্গে বসে তাদের বক্তব্য শোনার নির্দেশ দিয়েছেন। একইসঙ্গে কোটা পদ্ধতি পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে দেখারও নির্দেশ দিয়েছেন।
নির্বাচন ঠেকাতে চক্রান্ত করছে বিএনপি-জামায়াত:স্বাস্থ্যমন্ত্রী
স্বাস্থ্যমন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম বলেছেন, বিএনপি-জামায়াত নির্বাচন ঠেকাতে নানা চক্রান্ত করছে। তারা বিভিন্ন ফর্মুলা দিচ্ছে। কিন্তু কোনো ফর্মুলা দিয়ে লাভ নেই। সংবিধান অনুযায়ী শেখ হাসিনার অধীনে নির্বাচন হবে। এ নির্বাচন ঠেকানোর কেউ নেই। মঙ্গলবার দুপুরে কাজিপুর উপজেলা পরিষদ মাঠে উপজেলা আওয়ামী লীগ আয়োজিত এক বিশাল জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন। মন্ত্রী বলেন, অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনে জনগণ যাদের রায় দেবে তারাই সরকার গঠন করবে। আগামী ডিসেম্বরে জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। ওই নির্বাচনী মাঠে যারা ফাউল করবে, জনগণ তাদের লালকার্ড দেখিয়ে মাঠ থেকে বের করে দেবে। নাসিম আরও বলেন, খালেদা জিয়াকে আওয়ামী লীগ জেলে পাঠায় নাই। তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলে করা দুর্নীতি মামলায় আদালতের রায়ে সাজাপ্রাপ্ত হয়ে তিনি কারাবন্দি রয়েছেন। জনসভায় বিশেষ অতিথির বক্তব্যে মুক্তিযোদ্ধা বিষয়ক মন্ত্রী আ.ক.ম মোজাম্মেল হক এমপি বলেছেন, মুক্তিযোদ্ধারা জাতির শ্রেষ্ঠ সন্তান। এ কারণেই বর্তমান সরকার মুক্তিযোদ্ধাদের সর্বোচ্চ সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করতে কাজ করছে। মুক্তিযোদ্ধাদের আবাসন সংকটসহ সব সমস্যা সমাধান করবে এই সরকার। নৌপরিবহন মন্ত্রী শাহজাহান খান এমপি বলেন, বিএনপি-জামায়াত খুনির দল। তাদের হাতে দেশ নিরাপদ নয়। তারা আন্দোলনের নামে মানুষ পুড়িয়ে মেরেছে। ব্যর্থ হয়ে বর্তমানে কোটা সংস্কারের আন্দোলনকে উস্কে দিচ্ছে। কাজিপুরের সাবেক সংসদ সদস্য তানভীর শাকিল জয়ের সভাপতিত্বে সমাবেশে আরও বক্তব্য রাখেন, বগুড়া-৫ আসনের সংসদ সদস্য এসপি (অব.) হাবিবুর রহমান, সিরাজগঞ্জ জেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি আবু ইউসুফ সূর্য্য, কাজিপুর উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক খলিল সিরাজী ও উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান মোজাম্মেল হক বকুল বক্তব্য রাখেন। এর আগে তিন মন্ত্রী মুক্তিযুদ্ধে বরইতলী স্মৃতিস্তম্ভ, শহীদ এম মনসুর আলী অডিটোরিয়ার ও কুড়িপডাড়া মনসুর আলী জামে মসজিদ উদ্বোধন করেন। বিকেলে সদর উপজেলার বাগবাটিতে আওয়ামী লীগ আয়োজিত বিশাল জনসভায় বক্তব্য রাখবেন এই তিন মন্ত্রী।
ছাড় পাবে না উপাচার্যের বাসভবনে হামলার সঙ্গে জড়িতরা
আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেছেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের বাসভবনে চালানো নারকীয় বর্বরতার সঙ্গে জড়িতরা কোনো অবস্থাতেই ছাড় পাবে না। ভিডিও দেখে কয়েকজনকে চিহ্নিত করা হয়েছে বলেও জানান তিনি। মঙ্গলবার সকালে ঢাবি উপাচার্যের বাসভবন পরিদর্শনে গিয়ে তিনি এ কথা বলেন। ওবায়দুল কাদের বলেন, উপাচার্যের বাসভবনে হামলা পরিকল্পিতভাবে ঘটানো হয়েছে। এসব হামলাকারীদের খুঁজে বের করে আইনের আওতায় আনা হবে। মন্ত্রী বলেন, এই হামলা একাত্তরের বর্বরতাকেও হার মানায়। একাত্তরের ২৫ মার্চ কালো রাতেও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে এরকম হামলা হয়েছিল। কিন্তু ভিসির বাসভবন কখনও আক্রান্ত হয়নি। এমনকি স্বাধীনতার ৪৭ বছরেও এরকম ঘটনা ঘটেনি। বেডরুমসহ সবকিছু তছনছ করা হয়েছে। বাথরুমের কমোড, আসবাবপত্র ও ভিসির পরিবারের স্বর্ণালঙ্কার পর্যন্ত লুট করা হয়েছে। তিনি আরও বলেন, এটি যে পরিকল্পিত হামলা তা প্রমাণিত। কারণ ক্লোজড সার্কিট ক্যামেরা বিকল করে দেয়া হয়েছে। এই নারকীয় বর্বরতার সঙ্গে জড়িতদের কাউকে কোনো অবস্থাতেই ছাড় দেয়া হবে না। তদন্ত চলছে। কিছুটা চিহ্নিত হয়েছে। বাকিটাও চিহ্নিত হবে। এর বিচার করতেই হবে। এ ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি যেন না ঘটে। কোটা সংস্কারের দাবিতে আন্দোলনকারীরা সরকারের সঙ্গে সমঝোতা অনুয়ায়ী তাদের কর্মসূচি স্থগিত রাখবেন বলে আশা করেন ওবায়দুল কাদের। তিনি বলেন, সমঝোতা হওয়ার পরও যারা কোটা সংস্কারের দাবিতে কর্মসূচি পালন করছে তাদের রাজনৈতিক আদর্শ খতিয়ে দেখতে হবে।
নানা রোগের ঝুঁকি বেড়েছে খালেদা জিয়ার
সুচিকিৎসার জন্য অবিলম্বে বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার মুক্তি চেয়েছেন দেশের বিশিষ্ট চিকিৎসক সমাজ। তারা আশঙ্কা ব্যক্ত করেছেন, স্যাঁতসেঁতে ও বসবাস অযোগ্য ভবনে বন্দি রাখার কারণে বয়সজনিত নানা রোগে আক্রান্ত বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার হৃদরোগ, পক্ষাঘাত, ঔষধ-প্রতিরোধী জীবাণুর মাধ্যমে ফুসফুসের সংক্রমণ বা নিউমোনিয়া ও মানসিক রোগে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি বেড়ে গেছে। কারাগার বিশেষ করে পুরোনো, পরিত্যক্ত দূষণযুক্ত ভবনে স্বাস্থ্য ও জীবন উভয়ই অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়তে পারে। এই বয়স ও স্বাস্থ্যগত অবস্থায় ব্যক্তিগত পরিচর্যার বিষয়টি সুচিকিৎসার স্বার্থেই গুরুত্ববহ হয়ে ওঠে। এটা কেবল পারিবারিক ও ব্যক্তিগত উদ্যোগেই পূর্ণভাবে নিশ্চিত করা সম্ভব। সোমবার ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে দেশের বিশিষ্ট চিকিৎসকরা এ আশঙ্কার কথা জানান। সেই সঙ্গে তারা প্রত্যাশা করেছেন, সরকার একটি স্থিতিশীল ও উন্নয়নমুখী বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করার জন্য দেশে সকল মানুষের বাক ও রাজনৈতিক স্বাধীনতা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে খালেদা জিয়াকে নিঃশর্ত মুক্তি দিয়ে তাঁর সুচিকিৎসার অধিকারের বিষয়টি সুনিশ্চিত করবেন। ড্যাবের মহাসচিব প্রফেসর ডা. এজেডএম জাহিদ হোসেনের পরিচালনায় সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পড়েন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের সার্জারি বিভাগের সাবেক ডিন প্রফেসর ডা. সাইফুল ইসলাম। লিখিত বক্তব্যে তিনি বলেন, কারাগারে খালেদা জিয়ার সঙ্গে নিদারুণ অমানবিক ও মানবেতর আচরণ করা হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠছে নানা মহলে। জানা যায়, পরিত্যক্ত ঘোষিত একটি সূর্যালোকহীন, নির্জন, স্যাঁতসেঁতে পুরোনো ও বসবাস অযোগ্য ভবনে তাকে মধ্যযুগীয় কায়দায় বন্দি করে রাখা হয়েছে। ডিভিশন দেয়া হলেও বলা হচ্ছে, তাঁর বিছানা, বালিশ ও আসবাবও অত্যন্ত নিম্নমানের ও ব্যবহার অযোগ্য। একজন অসুস্থ মানুষ হিসাবে তাঁর খাদ্য-খাবারের মান নিয়েও নানা প্রশ্ন উঠছে। কেউ কেউ তাঁর এই বন্দি অবস্থাকে বীভৎস নির্যাতনের প্রতীক কনসানট্রেশন ক্যাম্পের সঙ্গে তুলনীয় বলে মনে করছেন। তাঁর পরিবারের অন্যদের মতো খালেদা জিয়াকেও শারীরিক ও মানসিকভাবে নির্যাতন করে এক শোচনীয় পরিণতির দিকে ঠেলে দেয়াই প্রকৃত উদ্দেশ্য সে বিষয়ে জনমনের সন্দেহ প্রকট হচ্ছে। বক্তব্যে তিনি বলেন, এই পরিবেশে একজন সুস্থ মানুষেরও নানা মারাত্মক ব্যাধিতে আক্রান্ত হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেড়ে যায়। সেক্ষেত্রে খালেদা জিয়ার মতো আগে থেকেই বয়সজনিত নানা রোগব্যাধিতে আক্রান্ত একজন বর্ষিয়ান নারীর এই নির্জন মানবেতর কারাবাস স্বাস্থ্য ও স্বাভাবিক জীবনযাপনের জন্য কতটা ক্ষতিকারক হতে পারে তা’ সাধারণ মানুষকেও গভীরভাবে ভাবিয়ে তুলেছে। কারণ, খালেদা জিয়া দীর্ঘদিন ধরে জটিল নানা রোগে ভুগছেন। ইতিপূর্বে তাঁর দুই হাঁটু প্রতিস্থাপন, চোখের অপারেশন হয়েছে। তিনি কোনো সাধারণ রোগী নন। চিকিৎসকদের পরিভাষায় তিনি একজন বিশেষ পরিচর্যা সাপেক্ষ রোগী। সে হিসাবে সুচিকিৎসার স্বার্থে তাঁর একান্ত ব্যক্তিগত পরিচর্যার সকল সুবিধা নিশ্চিত করা সকল সভ্য, গণতান্ত্রিক ও মানবিকতাবোধসম্পন্ন জাতির কর্তব্য। এর অভাবে, সমপ্রতি তিনি ঘাড়, মেরুদণ্ড ও স্নায়ুবিক সমস্যায় আক্রান্ত হয়ে পড়েছেন। চিকিৎসকরা বলেন, স্যাঁতসেঁতে পরিবেশে যেকোনো সময়ে পড়ে গিয়ে তাঁর হাঁটু, উরুসন্ধি, হাত ও মেরুদণ্ডের হাড়ভাঙ্গা সহ মস্তিষ্ক ও স্পাইনাল কর্ডে আঘাতজনিত পক্ষাঘাত রোগ ঘটতে পারে। নির্জন, নিঃসঙ্গ, নিরাপত্তাহীন পরিবেশের কারণে নিদ্রাহীনতা, উদ্বেগ, বিষণ্নতাসহ নানা মানসিক রোগাক্রান্ত হয়ে পড়ার সম্ভাবনা বহুগুণ বেড়ে গেছে। বিরূপ, নিপীড়নমূলক পরিবেশ ও অস্বাভাবিক মানসিক চাপের ফলে তাঁর আকস্মিক হৃদরোগে আক্রান্ত হওয়ারও ঝুঁঁকিও বেড়েছে। পুরোনো, পরিত্যক্ত দূষণযুক্ত ভবনের বিষাক্ত পরিবেশে তাঁর মারাত্মক ঔষধ-প্রতিরোধী জীবাণুর মাধ্যমে ফুসফুসের সংক্রমণ বা নিউমোনিয়ার সম্ভাবনা বেশ প্রবল হয়ে উঠতে পারে। এ ছাড়া ভয়ঙ্কর মাত্রার ভিটামিন-ডি ও ক্যালসিয়ামের শূন্যতা দেখা দিতে পারে। এই বয়স ও স্বাস্থ্যগত অবস্থায় ব্যক্তিগত পরিচর্যার বিষয়টি সুচিকিৎসার স্বার্থেই গুরুত্ববহ হয়ে ওঠে। এটা কেবল পারিবারিক ও ব্যক্তিগত উদ্যোগেই পূর্ণভাবে নিশ্চিত করা সম্ভব। কারাগার বিশেষ করে পুরোনো, পরিত্যক্ত দূষণযুক্ত ভবনে স্বাস্থ্য ও জীবন উভয়ই অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়তে পারে। চিকিৎসকরা বলেন, খালেদা জিয়া কারাগারে অসুস্থ হয়ে পড়েছেন। এই কারাগারের বসবাস অযোগ্যতা ছাড়াও নিয়মিত চিকিৎসার কোনই সুযোগ সুবিধা নেই। হেফাজতে সামপ্রতিক বছরকালে সাড়ে ছয় শতাধিক মৃত্যুর খবর ইতিমধ্যে নানাবিধ শঙ্কা বাড়িয়েছে। ফলে বিএনপির অগণিত নেতাকর্মীর পাশাপাশি দেশবাসীও খালেদা জিয়ার অসুস্থতার সংবাদে দুঃখভারাক্রান্ত ও দুশ্চিন্তাগ্রস্ত হয়ে পড়েছে। চিকিৎসকরা বলেন, অনেকেরই বিশ্বাস খালেদা জিয়ার স্বাস্থ্য পরীক্ষার প্রশাসনিক তৎপরতার বিষয়টি এক রকম লোক দেখানো, হঠকারিতামূলক ও জনবিভ্রান্তি সৃষ্টির সুপরিকল্পিত প্রচেষ্টা। কারণ গত ৭ই এপ্রিল কোনো রকম পূর্ব প্রস্তুতি ছাড়া হুট করে তাঁকে সরকারি চিকিৎসক দলের দেয়া মামুলী এক্স-রে ও রক্ত-পরীক্ষার জন্য বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় হাসপাতালে নেয়া হয়। অভিযোগ উঠেছে, এ সময়ে একজন বিশেষ শারীরিক চাহিদাসম্পন্ন রোগীর গাড়ি থেকে নামা ও সাধারণ চলাচলের উপযুক্ত ন্যূনতম সুবিধেও তাঁর জন্যে প্রস্তুত রাখা হয়নি। চিকিৎসকরা বলেন, সরকার খালেদা জিয়ার অসুস্থতার বিষয়টি স্বীকার করে নিয়ে তার নিজস্ব পছন্দের ৪ সদস্যের একটি মেডিকেল বোর্ড দিয়ে স্বাস্থ্য পরীক্ষার ব্যবস্থা নেয়। ব্যক্তিগত চিকিৎসকদের সাক্ষাতের সরকারি অনুমতি থাকলেও কার্র্যত সরকার ও তাঁর সঙ্গে থাকা প্রশাসনের লোকজন তাঁকে এই প্রত্যাশিত সুযোগ থেকে বঞ্চিত করেন। কার্যত ব্যক্তিগত চিকিৎসকরা যথাস্থানে উপস্থিত থাকলেও তাদেরকে মামুলী সৌজন্য বিনিময়ের বাইরে চিকিৎসা বিষয়ে কোনো শারীরিক পরীক্ষা-নিরীক্ষা করার সুযোগ দেয়া হয়নি। চিকিৎসকরা বলেন, নতুন কোনো চিকিৎসক দলের পক্ষে খালেদা জিয়ার সম্পূর্ণ অবস্থা এক নজরে ও এক নিমিশে অনুধাবন ও নির্ণয় করা একেবারেই অবাস্তব কল্পনা। ফলে, সরকারকে খালেদা জিয়ার প্রতি সহানুভূতিশীল ও তাঁর চিকিৎসার ব্যাপারে যত্নবান প্রমাণ করতে হলে তাঁর ব্যক্তিগত চিকিৎসক দলের ভূমিকা উপেক্ষা করা সমীচীন নয়। তারা বলেন, উপযুক্ত স্বাস্থ্য সেবা সংবিধান বলে একটি মৌলিক অধিকার। এ বিষয়ে বন্দি-অবন্দি নাগরিক অবস্থা নির্বিশেষে সরকারের বিশেষ দায়িত্ব রয়েছে। বিশেষ করে বন্দি অবস্থায় সকল দায় সরকারের ওপর বর্তায়। জেল-কোড অনুযায়ী যেকোনো বন্দি তার বিশেষ স্বাস্থ্যগত চাহিদার কারণে পছন্দের চিকিৎসকের সেবা পাওয়ার অধিকার রাখেন। তবে এ ক্ষেত্রে পুরো ব্যাপারটাই একটি প্রহসনে পরিণত হয়েছে। খালেদা জিয়ার অসুস্থতার বিষয়ে সরকার সদিচ্ছা ও আন্তরিকতা প্রকাশে চরমভাবে ব্যর্থ হয়েছে দেশবাসীর বিশ্বাস। চিকিৎসকরা বলেন, ধারাবাহিক বিষয়াবলী জনমনে খালেদা জিয়ার স্বাস্থ্য বিষয়, জীবন ও রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ নিয়ে নানা পক্ষের ব্যাপক ও বহুমুখী ষড়যন্ত্র ও অভিসন্ধি বিষয়ে গভীর উৎকণ্ঠা জন্মানোর সুযোগ করে দিয়েছে। বাংলাদেশের উন্নয়ন ও অগ্রগতি, গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠায় খালেদা জিয়ার অবদানের কথা উল্লেখ করে চিকিৎসকরা বলেন, জনগণ আশা করে সকল চক্রান্ত-ষড়যন্ত্র ভেদ করে সসম্মানে নির্দোষ প্রমাণিত হবেন তিনি। চিকিৎসকরা প্রত্যাশা করেন, সরকার গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের প্রতি সম্মান দেখাবে। সেই সঙ্গে সকল নাগরিকগণের উন্মুক্ত সভা-সমাবেশের অধিকার নিশ্চিত করে, রাজনৈতিক নেতা-কর্মী ও সাধারণ মানুষের বিরুদ্ধে মিথ্যা, ষড়যন্ত্র ও হয়রানিমূলক মামলা প্রত্যাহারের মাধ্যমে ভয়ভীতি ও প্রশাসনিক নির্যাতনের অবসান ঘটাবে। দেশে গণতান্ত্রিক পরিবেশ নিশ্চিত করে একটি স্বচ্ছ, নিরপেক্ষ, অংশগ্রহণমূলক ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন নিশ্চিত করবে। সংবাদ সম্মেলনে প্রফেসর ডা. আবদুল মান্নান মিয়া, প্রফেসর ডা. শাহাবুদ্দিন, প্রফেসর ডা. গোলাম মঈনউদ্দিন, প্রফেসর ডা. সাইদুর রহমান, প্রফেসর ডা. একেএম আজিজুল হক, প্রফেসর ডা. ফরহাদ হালিম ডোনার, প্রফেসর ডা. মোস্তাক রহিম স্বপনসহ অর্ধশতাধিক বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক উপস্থিত ছিলেন।
খুলনায় মঞ্জু,গাজীপুরে হাসান বিএনপির প্রার্থী
আসন্ন খুলনা ও গাজীপুর সিটি কর্পোরেশনে দলীয় প্রার্থী মনোনয়ন দিয়েছে বিএনপি। সোমবার রাতে দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর সাংবাদিকদের সামনে প্রার্থীদের নাম ঘোষণা করেন। মির্জা ফখরুল জানান, গাজীপুরে বিএনপির নির্বাহী সদস্য হাসান সরকার ও খুলনায় কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক ও খুলনা মহানগর সভাপতি নজরুল ইসলাম মঞ্জুকে মেয়র পদে মনোনয়ন দিয়েছে বিএনপি। এরআগে দুই সিটিতে বিএনপির মনোনয়ন পেতে ৯ জন রোববার রাতে দলের মনোনয়ন বোর্ডের কাছে সাক্ষাৎকার দিয়েছিলেন। তাদের মধ্যে গাজীপুরের বর্তমান মেয়র আবদুল মান্নানসহ ছয়জন এবং খুলনার বর্তমান মেয়র মনিরুজ্জামান মনিসহ তিনজন মেয়র পদে বিএনপির প্রার্থী হতে চেয়েছিলেন। এ দুই সিটি কর্পোরেশনের নির্বাচনের জন্য ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ গাজীপুরে নৌকা প্রতীকে নতুন প্রার্থী জাহাঙ্গীর আলমকে মনোনয়ন দেয়। আর খুলনায় গতবার হেরে যাওয়া তালুকদার আবদুল খালেক এবারও আওয়ামী লীগের মনোনয়ন পায়। উল্লেখ্য, আগামী ১৫ মে গাজীপুর ও খুলনা সিটি কর্পোরেশনে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। তফসিল অনুযায়ী, রিটার্নিং কর্মকর্তার কাছে মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার শেষ সময় ১২ এপ্রিল। যাচাই-বাছাই ১৫-১৬ এপ্রিল ও প্রত্যাহারের শেষ সময় ২৩ এপ্রিল।
কোটা সংস্কার আন্দোলনের পেছনে অশুভ শক্তির হাত আছে :নানক
কোটা সংস্কার আন্দোলনের পেছনে অশুভ শক্তির হাত আছে বলে মনে করেন আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সংসদ সদস্য জাহাঙ্গীর কবির নানক। তাঁর মতে, এর মাধ্যমে দেশকে অস্থিতিশীল করার চেষ্টা করা হচ্ছে। সোমবার সচিবালয়ে আন্দোলনকারীদের সঙ্গে বৈঠকে যোগ দিতে এসে নিজের প্রতিক্রিয়ায় সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন আওয়ামী লীগের এই নেতা। নানক বলেন, ‘আমরাও ছাত্র আন্দোলন করেছি। যৌক্তিক দাবিতে, নিয়মতান্ত্রিক পদ্ধতিতে। কিন্তু গতকাল কোটা সংস্কারের দাবিতে যে আন্দোলন হলো সেটা কোন ধরনের?’ গতকাল রোববার ব্যাপক তাণ্ডব চালানো হয়েছে উল্লেখ করে জাহাঙ্গীর কবির নানক বলেন, ‘গান পাউডার দিয়ে বিভিন্ন জিনিস পুড়িয়ে দেওয়া হয়েছে, ভিসির বাসভবনে হামলা হয়েছে। এগুলো আন্দোলনের আওতায় পড়ে না। এগুলো ধ্বংসাত্মক কর্মসূচি।’ এর পেছনে যারা আছে তাদের তদন্তের মাধ্যমে খুঁজে বের করা হবে বলে জানান নানক। তিনি বলেন, ‘দেশ বর্তমানে স্থিতিশীল। এই স্থিতিশীল পরিবেশকে অস্থিতিশীল করার জন্য এই ঘটনা ঘটানো হয়েছে। এখানে কোমলমতি ছাত্রছাত্রীদেরকে ভুল বোঝানো হয়েছে।’ সরকার মেধাবীদের অবহেলার পক্ষে নয় বলেও মন্তব্য করেন এই নেতা।
আওয়ামী লীগের সকল ষড়যন্ত্র ব্যর্থ হয়েছে :ড. খন্দকার মোশাররফ
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নামে বিভিন্ন ইস্যুতে অ্যাকাউন্ট খোলা হয়েছে উল্লেখ করে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন বলেছেন, জনগণ এসব অ্যাকাউন্টের খবর একদিন নেবে এবং তার বিচারও করবে। সোমবার দুপুরে জাতীয় প্রেস ক্লাবে ‘শফিউল বারী বাবু, ইয়াসীন আলী মুক্তি পরিষদ’ আয়োজিত প্রতিবাদী সভায় তিনি এ কথা বলেন। খন্দকার মোশাররফ বলেন, শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে অ্যাকাউন্ট খোলা হয়ে গেছে। তিনি (প্রধানমন্ত্রী) ক্ষমতায় আসার পর পরই পিলখানায় ঘটনা ঘটেছে। এটার কিন্তু সম্পূর্ণ রিপোর্ট বের হয়নি। এটা অ্যাকাউন্টে জমা হচ্ছে। শেয়ার বাজার লুট করে লাখ লাখ মানুষকে পথে বসানো হয়েছে সেটারও একটি রিপোর্ট করা হয়েছিল। আপনার (প্রধানমন্ত্রী) অর্থমন্ত্রী বলেছিলেন, রিপোর্ট যাদের নাম আছে, তাদের হাত অর্থমন্ত্রীর চেয়ে লম্বা। তারা অর্থমন্ত্রীর চেয়ে প্রভাবশালী। তাহলে তারা কারা হবেন? এই অ্যাকাউন্টও প্রধানমন্ত্রী বিরুদ্ধে খোলা হয়ে গেছে। বর্তমান প্রধানমন্ত্রী বিদ্যুতের দাম ১০ থেকে ১২ টাকা বৃদ্ধি করেছেন। এ দাম বৃদ্ধি করে প্রত্যেকের (জনগণের) পকেট কেটেছেন। এটাও কিন্তু অ্যাকাউন্ট খোলা হয়েছে? ব্যাংক ও রিজার্ভ লুট করা হয়েছে। এগুলোরও অ্যাকাউন্ট খোলা হচ্ছে। গুম, খুন এবং মিথ্যা মামলায় বেগম জিয়াকে যেভাবে নির্যাতন করা হচ্ছে সেটারও অ্যাকাউন্ট খোলা হয়েছে। আওয়ামী লীগের সকল ষড়যন্ত্র ব্যর্থ হয়েছ মন্তব্য করে তিনি বলেন, তারা আবোল-তাবোল বকছেন। বলছেন, বিএনপির জন সমর্থন নেই। জন সমর্থন যদি না থাকে তাহলে সোহরাওয়ার্দীতে বিএনপিকে জনসভা করার অনুমতি দিতে ভয় পান কেন? আওয়ামী লীগ যতই ষড়যন্ত্র করুক না কেনো, দেশের মানুষ ৫ জানুয়ারির মত প্রহসনের নির্বাচন আর হতে দেবে না। এ বছর নির্বাচনের বছর উল্লেখ করে খন্দকার মোশাররফ বলেন, গণতান্ত্রিক দেশে নির্বাচনকে সুষ্ঠু, গ্রহণযোগ্য ও নিরপেক্ষ করতে গণতান্ত্রিক স্পেস প্রয়োজন। কিন্তু নির্বাচনের বছরে সে সুযোগ সরকার দিচ্ছে না। এছাড়া গণতান্ত্রিক স্পেসকে আওয়ামী লীগ তাদের বাক্সবন্দী করে ৫ জানুয়ারির মত আরেকটি প্রহসনের নির্বাচন করার ষড়যন্ত্র করছে সরকার। নেতা-কর্মীদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, খালেদা জিয়াকে কারাগারে নিয়ে বিএনপিকে বেকায়দায় ফেলার গভীর ষড়যন্ত্র ছিল। তবে বিএনপির নেতা-কর্মীরা সরকারের পাতা ফাঁদে পা দেয়নি। গত ৮ ফেব্রুয়ারি থেকে এখন পর্যন্ত শান্তিপূর্ণ ও নিয়মতান্ত্রিক আন্দোলন চলছে। এতেই সরকার ভীত! সভায় বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান, ভাইস চেয়ারম্যান আব্দুল্লাহ আল নোমান, বরকতউল্লাহ বুলু, স্বেচ্ছাসেবক বিষয়ক সম্পাদক মীর সরাফত আলী সপু প্রমুখ বক্তব্যে রাখেন।

রাজনীতি পাতার আরো খবর