সিলেট সিটিতে বিএনপির প্রার্থী আরিফ
সব জল্পনা-কল্পনার অবসার ঘটিয়ে সিলেট সিটি করপোরেশন (সিসিক) নির্বাচনে বিএনপির দলীয় মনোনয়ন পেলেন দলের নির্বাহী কমিটির সদস্য বর্তমান মেয়র আরিফুল হক চৌধুরী। বুধবার ঢাকায় বিএনপি চেয়ারপারসনের গুলশান কার্যালয়ে কেন্দ্রীয় ও সিলেটের নেতৃবৃন্দের বৈঠক শেষে আরিফুল হকের নাম ঘোষণা করেন দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। সভায় উপস্থিত থাকা সিলেট জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আলী আহমদ এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, সভায় উপস্থিত ছিলেন বিএনপির স্থানীয় কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, ড. মঈন খান প্রমুখ। এছাড়া মেয়র পদে বিএনপির মনোনয়ন প্রত্যাশী অপর চার নেতাও বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন। এবার সিলেট সিটি নির্বাচনে বিএনপি থেকে মেয়র পদে নির্বাচন করতে আগ্রহী ছিলেন ছয়জন। তারা হলেন- বর্তমান মেয়র আরিফুল হক চৌধুরী, সিলেট মহানগর বিএনপির সভাপতি নাসিম হোসাইন, সিনিয়র সহ-সভাপতি আবদুল কাইয়ুম জালালী পংকী, সহ-সভাপতি রেজাউল হাসান কয়েস লোদী, সাধারণ সম্পাদক বদরুজ্জামান সেলিম ও সাবেক ছাত্রদল নেতা সালাহ উদ্দিন রিমন। এর আগে রোববার বিকালে রাজশাহীতে বর্তমান মেয়র মোসাদ্দেক হোসেন বুলবুল আর বরিশালে দলের যুগ্ম-মহাসচিব মজিবুর রহমান সরোয়ারকে দলের প্রার্থী হিসেবে ঘোষণা দেয়। তবে দলীয় কোন্দল থাকায় সিলেট সিটিতে প্রার্থী ঘোষণা বিলম্বিত হয়।
শতাধিক কেন্দ্র দখল, নৌকায় সিল মারছে পুলিশ: রিজভী
গাজীপুর সিটি করপোরেশনের প্রায় শতাধিক কেন্দ্র থেকে বিএনপির এজেন্টদের বের করে দিয়ে নৌকা মার্কায় সিল মারার অভিযোগ করেছে বিএনপি। ভোটে গোলযোগ ঠেকানোর দায়িত্বে থাকা পুলিশই ভোট দিচ্ছে বলে অভিযোগ দলটির। মঙ্গলবার (২৬জুন) সকাল আটটায় গাজীপুরে ভোট শুরুর তিন ঘণ্টারও বেশি সময় পর নয়াপল্টনে দলীয় কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলন করে দলের পক্ষ থেকে প্রতিক্রিয়া জানান বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী। এসময় তিনি এসব অভিযোগ করেন। নির্বাচন কমিশন ছাড়াও আওয়ামী লীগের ‘সন্ত্রাসীরাও’ ব্যালট পেপার ছাপিয়েছে বলেও অভিযোগ রিজভীর। তিনি বলেন, ‘মুন্সিপাড়া ন্যাশনাল প্রিন্টিং প্রেসে সারারাত ব্যালট পেপার ছাপিয়ে আওয়ামী সন্ত্রাসীরা সেগুলো নিয়ে বিভিন্ন ভোটকেন্দ্রে গেছে।’ ‘পুলিশ আওয়ামী ক্যাডারের ভূমিকা অবতীর্ণ হয়েছে। তাদের উপস্থিতিতে বিএনপির এজেন্ট বের করে দিয়ে সরকারি দলের প্রার্থীর পক্ষে নৌকা প্রতীকে সিল মারছে। ভোটার উপস্থিতি থাকলেও বলা হচ্ছে ভোট হয়ে গেছে।’ বিএনপি কোনো আলোচিত ভোটে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করলে সচরাচর সকাল আটটা থেকেই বিএনপি কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলন করেন রিজভী। তবে রিজভী আজ ঘুমিয়েছেন বেলা করে। সকাল নয়টায় প্রথম ব্রিফিং করার কথা থাকলেও তিনি সাংবাদিকদের সামনে আসেননি। সকালে টঙ্গীর নিজ কেন্দ্রে ভোট দিয়ে বিএনপির প্রার্থী হাসান উদ্দিন সরকার ১০ কেন্দ্র থেকে তার এজেন্ট বের করে দেয়ার অভিযোগ করেছিলেন। এরপর তিনি আর কোনো অভিযোগ করেননি। তবে রিজভী বলেন, ‘গাজীপুর সিটি নির্বাচন নিয়ে এ পর্যন্ত যে খবর পাচ্ছি তা উদ্বেগজনক। আমরা আগে যে সন্দেহ করেছিলাম গাজীপুরে তারই প্রতিফলন পাচ্ছি। নির্বাচন কমিশন এবার তাদের কথা রাখলেন না। তারা আরব্য উপন্যাসের একচোখা দৈত্যের মতো করছে।’ ‘বিএনপির এজেন্টদের কেন্দ্রে ঢুকতে দেয়া হচ্ছে না। ঢুকলেও তাদের বের করে দেয়া হচ্ছে। এছাড়া গতকাল থেকে শুরু করে আজ সকাল পর্যন্ত অনেক নেতাকর্মী গ্রেপ্তার করা হয়েছে।’ রিজভী বলেন, ‘স্থানীয় এমপি জাহিদ রাসেলের এলাকায় এজেন্ট ও ভোটারদের ঢুকতে দেয়নি। কালিয়াকৈরৈর কয়েকটি কেন্দ্র থেকে বিএনপি প্রার্থীর এজেন্টদের বের করে দিয়েছে পুলিশ। পরে নিজেরাই সিল মারে। মুন্নু টেক্সটাইল কেন্দ্রে বাইরে ভোটার থাকলেও ভেতরে ফাঁকা।’‘৮ নং ধানের শীষের এজেন্ট বের করে দেয়া হয়েছে। ওই কেন্দ্রে কাউন্সিলরদের ব্যালট দেয়া হয়, মেয়রের ব্যালটে তারা নিজেরাই সিল মারে।’ ’৪১, ৫৫ নং ওয়ার্ড পুবাইলে সব এজেন্টদের বের করে দেয়া হয়েছে। কাশিমপুরে পুলিশ নির্দেশ দিচ্ছে নৌকায় সিল মারতে।’ নির্বাচন কমিশনের বক্তব্যের সঙ্গে কাজের মিল নেই দাবি করে রিজভী বলেন, ‘মানুষ কার উপর আস্থা রাখবে? এ নির্বাচন কমিশন ভাঙা হাড়ি। ভাঙা হাড়ি কখনও জোড়া লাগে না।’ বিভিন্ন কেন্দ্রে এজেন্ট বের করার অভিযোগ বিএনপিপ্রার্থীর: গাজীপুর সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনের ভোটগ্রহণ শুরুতেই বিএনপির পোলিং এজেন্টদের বিভিন্ন ভোটকেন্দ্র থেকে বের করে দেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন দলের মেয়রপ্রার্থী হাসান উদ্দিন সরকার। মঙ্গলবার (২৬জুন) সকালে বশির উদ্দিন উদয়ন অ্যাকাডেমি ভোটকেন্দ্রে ভোটদান শেষে সাংবাদিকদের কাছে এমন অভিযোগ করেন তিনি। এসব অভিযোগ জানানোর জন্য রিটার্নিং অফিসারের খোঁজ করেও পাননি বলেও দাবি করে হাসান সরকার। তিনি বলেন, মঙ্গলবার সকাল ৮টায় ভোট শুরু হওয়ার পর থেকে আধঘণ্টার মধ্যেই অন্তত ১০টি কেন্দ্র থেকে বিএনপির পোলিং এজেন্টদের বের করে দেয়া হয়েছে। বেশকিছু জায়গায় তাদের মারধর করার ঘটনা ঘটেছে। এমনকি অনেক এজেন্টকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন বিএনপির এ প্রার্থী। এ ব্যাপারে হাইকোর্ট ও নির্বাচন কমিশনের কোনো নির্দেশনা সরকার মানছে না বলেও তিনি মন্তব্য করেন। হাসান সরকার বলেন, ‘আমি রাতে প্রধান নির্বাচন কমিশনারকে মুখে বলেছি যে, আপনাদের নির্দেশ থাকার পরও কেন আমাদেরকে গ্রেপ্তার করা হচ্ছে? উনি বলেছেন ‘আমি দেখছি’।’ তবে জনগণ ভোট মেনে নিলে তিনিও মেনে নেবেন জানিয়ে বলেন, নির্বাচন সুষ্ঠু হলে আমি জয়ের ব্যাপারে শতভাগ নিশ্চিত। নির্বাচনী এলাকায় বহিরাগত থাকার বিষয়টি নিয়েও কিছু বলতে চান না বিএনপি প্রার্থী। তিনি বলেন, ‘এখানে ভোটার ১১ লাখ। কিন্তু অধিবাসী হবে ২০-২৫ লাখ। এখানে বাংলাদেশের বিভিন্ন অঞ্চলের মানুষ চাকরি করে। আমি কাকে বহিরাগত বলব?’ প্রসঙ্গত, মঙ্গলবার সকাল আটটায় গাজীপুর সিটি নির্বাচনের ভোটগ্রহণ শুরু হয়েছে। চলবে বিকাল চারটা পর্যন্ত। প্রতিষ্ঠাকালের দিক থেকে কনিষ্ঠতম এবং আয়তনের দিক থেকে সবচেয়ে বড় এই সিটিতে এবারই প্রথম দলীয় প্রতীকে পছন্দের প্রার্থীকে ভোট দিচ্ছেন গাজীপুর নগরবাসী।
কুমিল্লার মামলায় খালেদার জামিন আপিলে বহাল
নাশকতার অভিযোগে বিশেষ ক্ষমতা আইনে কুমিল্লায় দায়ের এক মামলায় বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে হাইকোর্টের দেয়া জামিন বহাল রেখেছেন আপিল বিভাগ। মঙ্গলবার প্রধান বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেনের নেতৃত্বাধীন তিন বিচারপতির আপিল বেঞ্চ এ আদেশ দেন। একইসঙ্গে আদেশে এই মামলায় খালেদা জিয়ার জামিন বিষয়ে দেয়া রুল এক সপ্তাহের মধ্যে নিষ্পতি করতে হাইকোর্টকে নির্দেশ দেয়া হয়েছে। আদালতে রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম। আর খালেদা জিয়ার পক্ষে ছিলেন খন্দকার মাহবুব হোসেন ও এ জে মোহাম্মদ আলী। এর আগে গত ২৮ মে বিচারপতি একেএম আসাদুজ্জামান ও বিচারপতি জেবিএম হাসানের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ নাশকতাসহ কুমিল্লার দুই মামলায় খালেদা জিয়াকে জামিন দিয়েছিলেন। পরে এ জামিনাদেশ স্থগিত চেয়ে রাষ্ট্রপক্ষ আবেদন করে। ২৯ মে আপিল বিভাগের চেম্বার আদালত জামিন স্থগিত রেখে ৩১ মে পূর্ণাঙ্গ বেঞ্চে শুনানির আদেশ দেন। সেই অনুসারে ৩১ মে শুনানির পর আপিল বিভাগ খালেদা জিয়াকে হাইকোর্টের দেয়া জামিন স্থগিত রেখে রাষ্ট্রপক্ষকে লিভ টু আপিল করতে আদেশ দেন। এ ছাড়া ২৪ জুন এ বিষয়ে শুনানির জন্য দিনও ধার্য করেন আদালত। পরে রাষ্ট্রপক্ষ লিভ টু আপিল দায়ের করেন। গত ২০ মে হাইকোর্টে ওই দুই মামলায় জামিন আবেদন করেন খালেদা জিয়া। ২৭ মে কুমিল্লায় ওই দুই মামলার ওপর শুনানি শেষে ২৮ মে খালেদাকে জামিন দেন হাইকোর্ট। ২০১৫ সালের জানুয়ারিতে ২০ দলীয় জোটের অবরোধ চলাকালে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের চৌদ্দগ্রামে দুষ্কৃতকারীদের ছোড়া পেট্রলবোমায় আইকন পরিবহনের একটি বাসের ৬ যাত্রী অগ্নিদগ্ধ হয়ে মারা যান।
পোলিং এজেন্টদের বের করে দেওয়ার অভিযোগ বিএনপি প্রার্থীর
নিজের দলের পোলিং এজেন্টদের বের করে দেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন গাজীপুর সিটি করপোরেশন নির্বাচনের মেয়র পদপ্রার্থী হাসান উদ্দিন সরকার। এ নির্বাচনে তিনি ভোট গ্রহণ সুষ্ঠু হওয়া নিয়েও সংশয় প্রকাশ করেন। মঙ্গলবার সকাল ৮টা থেকে এ সিটি করপোরেশনের ভোট শুরু হয়। ভোট চলবে একটানা বিকেল ৪টা পর্যন্ত। সকাল সোয়া ৮টার দিকে নগরীর বশিরউদ্দিন উদয়ন একাডেমি স্কুল কেন্দ্রে আসেন হাসান উদ্দিন সরকার। এ সময় তাঁর সঙ্গে দলীয় নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন। পরে তিনি সেখানে ভোট দিয়ে গণমাধ্যমের সঙ্গে কথা বলেন। অন্যদিকে বিএনপির প্রতিদ্বন্দ্বী আওয়ামী লীগের মেয়র পদপ্রার্থী জাহাঙ্গীর আলম সকালে নগরীর কানাইয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে ভোট দিয়েছেন। পরে তিনি বিভিন্ন কেন্দ্র ঘুরে দেখেন। ভোট দিয়ে বিএনপি মেয়র প্রার্থী হাসান উদ্দিন সরকার এক প্রশ্নের জবাবে বলেন, সুষ্ঠু ভোট হবে না। এরই মথ্যে ১০ থেকে ১২ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে সকালবেলা। এজেন্টদের পুলিশ মাইরা মাইরা বের করে দিচ্ছে।’ তবে কোন কোন কেন্দ্রে এজেন্টদের বের করে দেওয়া হচ্ছে বা কাদের গ্রেপ্তার করা হচ্ছে, এ ব্যাপারে জানতে চাইলে বিএনপির প্রার্থী বলেন, ‘নামগুলো আমার কাছে নেই। রেকর্ড রাখা হচ্ছে।’ এ সময় হাসান উদ্দিন সরকার আরো বলেন, ‘আমি শুধু বলব, আমি নির্বাচনে আছি, থাকব। সর্বশেষ পর্যন্ত নির্বাচনে আমি ফলাফল দেখে মন্তব্য করব।’ তবে বিএনপির প্রার্থীর অভিযোগের ব্যাপারে কোনো লিখিত পাননি বলে জানিয়েছেন নির্বাচনের রিটার্নিং কর্মকর্তা রকিব উদ্দিন মণ্ডল। আরো প্রার্থী থাকলেও গাজীপুর সিটির মেয়র পদে প্রধান দুই প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী হলেন আওয়ামী লীগের (নৌকা) মনোনীত জাহাঙ্গীর আলম ও বিএনপির (ধানের শীষ) মনোনীত হাসান উদ্দিন সরকার। হাসান উদ্দিন সরকারও সকাল সোয়া ৮টার দিকে নগরীর বশিরউদ্দিন উদয়ন একাডেমি স্কুল কেন্দ্রে ভোট দেন। এদিকে, নিরাপত্তার চাদরে ঢেকে ফেলা হয়েছে পুরো সিটি করপোরেশন এলাকা। নির্বাচনী এলাকায় টহল দিচ্ছেন আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা। আজ নির্বাচনী এলাকার সব অফিস, কল-কারখানা, স্কুল-কলেজসহ প্রতিষ্ঠানগুলোতে সাধারণ ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে। মহানগরীর ৫৭টি ওয়ার্ডে ৪২৫ কেন্দ্রের দুই হাজার ৭৬১টি বুথে পাঁচ সহস্রাধিক পোলিং এজেন্ট কাজ করছেন। গাজীপুর সিটি করপোরেশন নির্বাচনে চাপুলিয়া মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় (ভোটার-২৪৮০), চাপুলিয়া মফিজউদ্দিন খান উচ্চ বিদ্যালয় (ভোটার-২৫৫২), পশ্চিম জয়দেবপুরের মারিয়ালী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্র-১ (ভোটার-২৫৬২), মারিয়ালী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্র-২ (ভোটার-২৮২৭), রানী বিলাসমনি সরকারি বালক উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্র-১ (ভোটার-১৯২৭) ও রানী বিলাসমনি সরকারি বালক উচ্চবিদ্যালয় কেন্দ্র-২ (ভোটার-২০৭৭) এ ছয়টি কেন্দ্রে ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিন (ইভিএম) ব্যবহার করা হচ্ছে। সিটি মেয়র ও কাউন্সিলর পদে জনপ্রতিনিধি বাছাইয়ে ভোট দিচ্ছে গাজীপুরবাসী। এই নির্বাচনে ৪২৫টি কেন্দ্রে মোট ভোটার সংখ্যা ১১ লাখ ৩৭ হাজার ৭৩৬ জন। মোট সাত মেয়র প্রার্থীর পাশাপাশি ২৫৪ জন সাধারণ কাউন্সিলর ও ৮৪ জন সংরক্ষিত মহিলা কাউন্সিলর প্রার্থী এই নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। এর আগে ২০১৩ সালে এ সিটি করপোরেশনের প্রথম নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। ওই নির্বাচনে মেয়র পদে বিপুল ভোটের ব্যবধানে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী অধ্যাপক এম এ মান্নান নির্বাচিত হন। অধ্যাপক মান্নান মেয়র পদে নির্বাচিত হলেও সরকারের রোষানলে পড়ে গত পাঁচ বছরের অধিকাংশ সময় তিনি কারাগারে বন্দি ছিলেন। দ্বিতীয়বারের মতো এ সিটি করপোরেশনের নির্বাচনে মোট ৪২৫টি কেন্দ্রে ভোট গ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে।
খালেদা জিয়ার জামিনের বিষয়ে আদেশ ২ জুলাই
কুমিল্লায় বাসে পেট্রোল বোমা হামলায় ৮ জন নিহতের ঘটনায় দায়ের করা মামলায় কারাবন্দি খালেদা জিয়াকে হাইকোর্টের দেয়া জামিনের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রপক্ষের করা আবেদনের ওপর রাষ্ট্র ও আসামিপক্ষের শুনানি শেষ হয়েছে। এ বিষয়ে আদেশের জন্য আগামী ২ জুলাই দিন ধার্য করা হয়েছে। এ ছাড়া একই ঘটনায় বিশেষ ক্ষমতা আইনে করা অপর এক মামলায় রাষ্ট্রপক্ষের লিভ টু আপিলের শুনানির জন্য আগামীকাল, ২৫ জুন দিন ঠিক করা হয়েছে। প্রধান বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেনের নেতৃত্বাধীন চার বিচারপতির পূর্ণাঙ্গ আপিল বেঞ্চ শুনানি নিয়ে আজ রোববার দিন ধার্য করে এই আদেশ দেন। জামিন স্থগিত চেয়ে আদালতে রাষ্ট্রপক্ষে শুনানি করেন অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম। আর খালেদা জিয়ার পক্ষে শুনানি করেন খন্দকার মাহবুব হোসেন ও এ জে মোহাম্মদ আলী। গত ২৮ মে বিচারপতি এ কে এম আসাদুজ্জামান ও বিচারপতি জে বি এম হাসানের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ কুমিল্লার দুই মামলায় খালেদাকে জামিন দেন। এর একটি হত্যা মামলা। আর অন্যটি নাশকতার মামলা। এদিকে, আজ আপিল বিভাগ নাশকতার মামলাটির ওপর শুনানির জন্য আগামীকাল সোমবার দিন ধার্য করেও আদেশ দেন। হাইকোর্টের জামিনাদেশ দুটি স্থগিত চেয়ে রাষ্ট্রপক্ষের আবেদনের পরদিন গত ২৯ মে আপিল বিভাগের চেম্বার আদালত জামিন স্থগিত রেখে ৩১ মে পূর্ণাঙ্গ বেঞ্চে শুনানির জন্য রাখেন। এর ধারাবাহিকতায় ৩১ মে শুনানির পর আপিল বিভাগ খালেদা জিয়াকে হাইকোর্টের দেওয়া জামিন স্থগিত রেখে রাষ্ট্রপক্ষকে লিভ টু আপিল করতে আদেশ দেন। এ ছাড়া ২৪ জুন (আজ) এ বিষয়ে শুনানির জন্য দিনও ধার্য করেন আদালত। পরে রাষ্ট্রপক্ষ লিভ টু আপিল দায়ের করেন। গত ২০ মে হাইকোর্টে ওই দুই মামলায় জামিন আবেদন করেন খালেদা জিয়া। ২৭ মে কুমিল্লার দুই মামলার ওপর শুনানি শেষে ২৮ মে খালেদাকে জামিন দেন হাইকোর্ট। ২০১৫ সালের শুরুর দিকে ২০ দলীয় জোটের অবরোধ চলাকালে ঢাকা- চট্টগ্রাম মহাসড়কের চৌদ্দগ্রামে দুষ্কৃতিকারীদের ছোড়া পেট্রোলবোমায় আইকন পরিবহনের একটি বাসের কয়েকজন যাত্রীর অগ্নিদগ্ধ হয়ে মারা যান। আহত হন আরো ২০ জন। ওসব ঘটনায় মামলা দুটি করা হয়।
গাজীপুরে নির্বাচন প্রচারণার আজ শেষ দিন
গাজীপুর সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে প্রচারণার আজ রোববার শেষ দিন। প্রার্থীরা ব্যস্ত শেষ মুহুর্তের প্রচারণায়। আওয়ামী লীগের মেয়র প্রার্থী জাহাঙ্গীর আলম সালনায় সকাল ৮টায় প্রচারণা শুরু করেছেন। আর বিএনপির মেয়র প্রার্থী হাসান উদ্দিন সরকার টঙ্গী থানা বিএনপির কার্যালয়ে প্রেস ব্রিফিং করবেন বেলা ১১টায়। কাউন্সিল প্রার্থী ও তাদের কর্মীরা দিনরাত প্রস্তুতি নিচ্ছেন নির্বাচনের পোলিং এজেন্ট নিয়োগ প্রশিক্ষণ নিয়ে। এদিকে, ২৯ প্লাটুন বিজিবি মোতায়েন হয়েছে নির্বাচনী এলাকায়। টঙ্গী, জেলা শহর এবং মৌচাকের জাতীয় স্কাউট প্রশিক্ষণ কেন্দ্র তারা অবস্থান করছেন। তাছাড়া, র্যাব ৫৮টি টিম, ১০ হাজার ২৪ জন পুলিশ ও আনসার সদস্য মোতায়েন থাকবে। নির্বাচনী সহায়ক দ্রব্যাদি আজ প্রিজাইডিং অফিসারদের মধ্যে বিতরণ করা হবে বলে জানিয়েছেন রিটার্নিং অফিসার রকিব উদ্দিন মন্ডল। প্রসঙ্গত, গাজীপুর সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনের তফশিল ঘোষণা করা হয় গত ৩১ মার্চ। ঘোষিত তফশিল অনুযায়ী ১৫ মে এ সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনের ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু সীমানা নির্ধারণ নিয়ে জটিলতাকে কেন্দ্র করে হাইকোর্ট গত ৬ মে গাজীপুর সিটি কর্পোরেশন নির্বাচন তিন মাসের জন্য স্থগিত করে আদেশ দেয়। এতে স্থগিত হয়ে যায় নির্বাচনী সকল প্রকার কার্যক্রম। পরে হাইকোর্টের ওই আদেশের বিরুদ্ধে সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগে আপিল করেন আওয়ামী লীগ ও বিএনপির দুই মেয়র প্রার্থী এবং নির্বাচন কমিশন। শুনানি শেষে ওই স্থগিতাদেশ প্রত্যাহার করে নির্বাচন অনুষ্ঠান করার আদেশ দেন উচ্চ আদালতে। উচ্চ আদালতের আদেশের প্রেক্ষিতে আগামী ২৬ জুন গাজীপুর সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনের ভোটগ্রহণের তারিখ নির্ধারণ করে দ্বিতীয় দফায় ঘোষণা দেয় নির্বাচন কমিশন। নতুন ঘোষিত তারিখ অনুযায়ী প্রার্থীরা ১৮ জুন হতে এ নির্বাচনে আনুষ্ঠানিক প্রচার প্রচারণা শুরু করেন। উল্লেখ্য, গাজীপুর সিটি কর্পোরেশনের এবারের নির্বাচনে মেয়র পদে আওয়ামী লীগ ও বিএনপি মনোনীত প্রার্থীসহ ৭জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। এদের মধ্যে ৬ জন বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের মনোনীত এবং একজন স্বতন্ত্র প্রার্থী রয়েছেন। এছাড়াও গাজীপুর সিটি কর্পোরেশনের ৫৭টি সাধারণ ওয়ার্ডের সাধারণ আসনের কাউন্সিলর পদে ২৫৪ জন এবং ১৯টি সংরক্ষিত ওয়ার্ডের সংরক্ষিত আসনের কাউন্সিলর পদে ৮৪জন প্রার্থী এ নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। এবারের নির্বাচনে একটি ওয়ার্ডে সাধারণ আসনের কাউন্সিলর পদে একজন প্রার্থী বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হয়েছেন। এবার গাজীপুর সিটি কর্পোরেশনের ৫৭টি সাধারণ ও ১৯টি সংরক্ষিত ওয়ার্ডে মোট ভোটার সংখ্যা ১১ লাখ ৩৭ হাজার ৭৩৬ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ৫ লাখ ৬৯ হাজার ৯৩৫ এবং নারী ভোটার ৫ লাখ ৬৭ হাজার ৮০১।
আওয়ামী লীগের ৬৯তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী আজ
স্বাধীনতা-সংগ্রামে নেতৃত্বদানকারী দেশের অন্যতম প্রাচীন রাজনৈতিক দল বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের ৬৯তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী আজ। ১৯৪৯ সালের এদিনে পুরান ঢাকার ঐতিহ্যবাহী রোজ গার্ডেনে প্রতিষ্ঠিত এ দলটির ৬৯ বছর শেষ করে ৭০ বছরে পদার্পণের দিন আজ। এবার দিবসটি একটু ব্যতিক্রম আয়োজনের মধ্য দিয়ে পালন করতে যাচ্ছে দলটি। এ দিন নিজস্ব ভবনে পা রেখে ৭০তম বছরের পথচলা শুরু করতে যাচ্ছে ঐতিহ্যবাহী রাজনৈতিক দলটি। দৃষ্টিনন্দন ও আধুনিক সব সুযোগসুবিধা সম্পন্ন বঙ্গবন্ধু এভিনিউয়ের নতুন ১০তলা ভবন হবে দক্ষিণ এশিয়ার মধ্যে অন্যতম আধুনিক রাজনৈতিক দলের অফিস ও আওয়ামী লীগের স্থায়ী ঠিকানা। দলের ৬৯তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর দিনে দলীয় সভাপতি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নতুন ভবনের উদ্বোধন করবেন। সকাল ১০টায় ফলক উন্মোচনের পর শেখ হাসিনা সেখানে একটি বকুল গাছের চারা রোপণ করবেন। পরে তিনি নতুন ভবনটি পরিদর্শন করবেন। এ বিষয়ে শুক্রবার আওয়ামী লীগ সভাপতির ধানমন্ডির রাজনৈতিক কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে দলের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেন, বঙ্গবন্ধুকন্যার দৃঢ়তা এবং কমিটমেন্টের জন্য আমাদের কেন্দ্রীয় প্রধান ভবন নির্মাণ হয়েছে। আমরা দলীয় তহবিলের টাকায় এ কার্যালয় নির্মাণ করেছি। এ কার্যালয়টি আধুনিক এবং ডিজিটাল বাংলাদেশের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে ডিজিটাল সুযোগ-সুবিধাসহ নির্মাণ করা হয়েছে। ভবনের ফলক উন্মোচনের পর নেত্রী সেখানে একটি বকুল গাছের চারা রোপণ করবেন এবং এরপর অফিস ভবনটি পরিদর্শন করবেন। যা যা আছে নতুন ভবনে : বিল্ডিং কোড মেনে সামনের দিকে রাস্তা থেকে ১০ ফুট ও পেছনের দিকে ১৭ ফুট জায়গা ছেড়ে মোট জমির ৬৫ শতাংশ ব্যবহার করে এটি তৈরি করা হয়েছে। সামনের দেয়ালের দুই পাশ কাঁচ দিয়ে ঘেরা আর মাঝখানে সিরামিকের ইটের বন্ধন। সামনের দেয়ালজুড়ে দলের সাইনবোর্ডসহ দলীয় স্লোগান ‘জয় বাংলা জয় বঙ্গবন্ধু’, চার মূলনীতি খোদাই করে লেখা। ভবনের সামনে-পেছনে ছেড়ে দেওয়া জায়গায় হবে বাগান। এ ভবনের সামনে ২০০৪ সালের ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলায় নিহতদের স্মরণে স্থায়ী স্মৃতিসৌধ নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে। ভবনের নিচে রক্ষিত নির্দেশনা অনুযায়ী জানা যায়, চতুর্থ ও পঞ্চম তলায় সাধারণ অফিস, ডিজিটাল লাইব্রেরি ও মিডিয়া রুম। ষষ্ঠ তলায় সম্মেলন কক্ষ। সপ্তম তলা দলের কোষাধ্যক্ষের জন্য। অষ্টম তলায় সাধারণ সম্পাদকের অফিস। আর নবম তলায় বসবেন দলের সভাপতি। একদম উপরে দশম তলায় থাকবে ক্যাফটেরিয়া। দ্বিতীয় তলার কনফারেন্স রুমে ৩৫০ জনের বসার ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। তৃতীয় তলায় ২৪০ জনের বসার ব্যবস্থা থাকবে। মাঝখানে কনফারেন্স রুম আর দুই পাশে বেশকিছু কক্ষ রয়েছে। তিন তলার সামনের অংশ ‘ওপেন স্কাই টেরাস’। অনেকটা বাসার ড্রয়িংরুম বা পাঁচতারকা হোটেলের আদলে করা এ অংশ। এখানে কৃত্রিম বাগানের ফাঁকে ফাঁকে চেয়ার-টেবিল দিয়ে বসার ব্যবস্থা থাকছে। পাশাপাশি থাকবে চা-কফি খাওয়ার আয়োজন। এছাড়া ভবনের চার ও পাঁচ তলায় দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয় ছাড়াও সহযোগী-ভ্রাতৃপ্রতিমসহ সমমনা অন্যান্য সংগঠনের কার্যালয় হিসেবে ব্যবহৃত হবে। সাত, আট ও নয় তলায় দলীয় সভাপতি, সাধারণ সম্পাদক, প্রেসিডিয়াম সদস্য, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক, সাংগঠনিক সম্পাদক, বিষয়ভিত্তিক সম্পাদকসহ কেন্দ্রীয় নেতাদের কক্ষ রাখা হয়েছে। এর মধ্যে সভাপতির ফ্লোর থাকবে বুলেটপ্রুফ ডাবল গ্লাস। এছাড়া ভবনের বিভিন্ন তলায় রাখা হয়েছে ডিজিটাল লাইব্রেরি, সেমিনার রুম এবং সাংবাদিক লাউঞ্জ। দলের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের জন্য রাখা হয়েছে সুপরিসর কক্ষ। দলের সভাপতির কক্ষের সঙ্গে রয়েছে বিশ্রামাঘার ও নামাজের জায়গা। এছাড়া ডিজিটাল লাইব্রেরি, ভিআইপি লাউঞ্জ, সাংবাদিক লাউঞ্জ, ডরমিটরি ও ক্যান্টিন থাকছে। জানা গেছে, ভবনটির ছয় বা সাত তলা পর্যন্ত ঢাকা মহানগর আওয়ামী লীগ, ছাত্রলীগ, যুবলীগ, কৃষক লীগ, স্বেচ্ছাসেবক লীগ, মহিলা লীগসহ বিভিন্ন অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের অফিস থাকবে। আওয়ামী লীগের নিজস্ব ফান্ড থেকে ১০ কোটি টাকা ব্যয়ে ভবনটির নির্মাণকাজ শুরু করা হলেও নির্মাণসামগ্রীর দাম বৃদ্ধি পাওয়ায় নির্মাণ খরচ বেশ বেড়েছে। নেতারা জানিয়েছেন, নতুন ভবন উদ্বোধনের পর আওয়ামী লীগের সব সাংগঠনিক কার্যক্রম চলবে ২৩, বঙ্গবন্ধু এভিনিউর এ কার্যালয় থেকে। আর ধানমন্ডির আওয়ামী লীগ সভাপতির কার্যালয় থেকে দলের নির্বাচনি কার্যক্রম ও সিআরআইসহ দলের অন্যান্য সংস্থার গবেষণামূলক কর্মকা- পরিচালিত হবে। কর্মসূচি : শনিবার সকাল ৯টায় আওয়ামী লীগ সভানেত্রী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে ধানমন্ডিতে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতিকৃতিতে শ্রদ্ধা জানাবেন দলের কেন্দ্রীয় নেতারা। এরপর বঙ্গবন্ধু এভিনিউয়ে আওয়ামী লীগের প্রধান কার্যালয়ে জাতীয় ও দলীয় পতাকা উত্তোলন করা হবে। সেখানে জাতীয় সঙ্গীত পরিবেশন এবং পায়রা ও বেলুন ওড়ানো শেষে দলের প্রধান কার্যালয়ের নতুন ভবনের ফলক উন্মোচন করবেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। পরে বেলা ১১টায় তিনি দলের নেতাদের নিয়ে বিশেষ বর্ধিত সভায় অংশ নেবেন। আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সঙ্গে এ বর্ধিত সভায় ঢাকা মহানগর উত্তর ও দক্ষিণের সভাপতি, সাধারণ সম্পাদক, দেশের বিভিন্ন মহানগরের সভাপতি, সাধারণ সম্পাদক ও সারা দেশের জেলা ও উপজেলা, পৌরসভা আওয়ামী লীগের সভাপতি, সাধারণ সম্পাদকরা মিলিয়ে মোট ৪ হাজার ১৫৭ নেতা উপস্থিত থাকবেন। আওয়ামী লীগ মনোনীত সংসদ সদস্য এবং সিটি করপোরেশন, উপজেলা ও পৌরসভায় দল মনোনীত মেয়র ও চেয়ারম্যন এবং দলের সহযোগী সংগঠনের সভাপতি, সাধারণ সম্পাদকরাও এ সময় উপস্থিত থাকবেন।
আওয়ামী লীগ ও জাপাতে বিরোধ
আসন্ন একাদশতম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে রংপুর-১ (গঙ্গাচড়া) আসনের ভোটের হিসাব-নিকাশ আগের মতোই থাকার সম্ভাবনা বেশি। মহাজোট না থাকলেও পট পরিবর্তনের আভাস স্পষ্ট নয়। কারণ, ১৯৯১ থেকে ২০১৪ সালের দশম সংসদ নির্বাচন পর্যন্ত এ আসনটি জাতীয় পার্টির দখলে রয়েছে। এবার মহাজোটের সুতো ছিঁড়ে গেলে ভোটযুদ্ধ হবে আওয়ামী লীগের সঙ্গে। মহাজোট বহাল থাকলে সহজ জয় পেতে পারে জাতীয় পার্টি। এ আসনে জামায়াতের ভোট হয়ে উঠতে পারে ফ্যাক্টর। কারণ প্রতিটি নির্বাচনে জামায়াতের প্রার্থী ছিল দ্বিতীয় স্থানে। জাতীয় সংসদের ১৯নং আসন রংপুর-১ (গঙ্গাচড়া)। মোট ভোটার সংখ্যা প্রায় ১ লাখ ৯৭ হাজার। এ আসনটিতে ১৯৯১ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জাতীয় পার্টির প্রার্থী করিম উদ্দিন ভরসা জয় লাভ করেন। ১৯৯৬ সালের জাতীয় পার্টির প্রার্থী হয়ে সরফুদ্দিন আহমেদ ঝন্টু, ২০০১ সালে জাতীয় পার্টির প্রার্থী মসিউর রহমান রাঙ্গা, ২০০৮ সালে জাতীয় পার্টির প্রার্থী এরশাদের ভাতিজা হোসেন মকবুল শাহরিয়ার আসিফ এবং ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারি দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে এ আসন থেকে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় দ্বিতীয় বারের মতো এমপি নির্বাচিত হন মসিউর রহমান রাঙ্গা। ঐক্যবদ্ধ নির্বাচন হলে এবারও রংপুর-১ আসনটি ছেড়ে দিতে হতে পারে মহাজোটের শরিক জাতীয় পার্টির মসিউর রহমান রাঙ্গাকে। এ কারণে স্থানীয় জনগণ বলছেন, চলমান উন্নয়নের ধারা অব্যাহত রাখতে জাতীয় পার্টির সম্ভাব্য প্রার্থী বর্তমান এমপি মসিউর রহমান রাঙ্গাতেই আস্থা রাখতে হবে গঙ্গাচড়াবাসীকে। জোটের প্রার্থী হলে ফল তার পক্ষেই যাওয়ার সম্ভাবনা শতভাগ। গঙ্গাচড়া উপজেলা জাতীয় পার্টির সাংগঠনিক কোন্দল ও গ্রুপিংয়ের কারণে দুর্বল হলেও জনপ্রিয়তা রয়েছে জাপা চেয়ারম্যান হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের। আসন্ন সংসদ নির্বাচনে জাপা প্রার্থী হিসেবে মসিউর রহমান রাঙ্গার মনোনয়ন প্রায় নিশ্চিত। তাই উন্নয়ন কাজ এবং নিজের ও পার্টি চেয়ারম্যানের ইমেজের কারণে জয়ের মালা তারই হতে পারে। গঙ্গাচড়া ইউনিয়নের বয়োবৃদ্ধ তবারক আলী বলেন, গঙ্গাচড়া থেকে এমপি নির্বাচিত হলে প্রতিমন্ত্রী রাঙ্গা যে কোনো মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী হতে পারেন, সে যোগ্যতা তার আছে। একজন মন্ত্রী পেলে গঙ্গাচড়াবাসীর দুঃখ থাকবে না। এনজিও কর্মী রওনক জাহান বলেন, প্রতিমন্ত্রী রাঙ্গা গঙ্গাচড়া উন্নয়নে খুব চেষ্টা করছেন। আমরা তো দেখছি তার প্রচেষ্টাগুলো। সামষ্টিক উন্নয়নে রাঙ্গা এমপির তুলনা হয় না। উপজেলা জাতীয় পার্টির সভাপতি শামসুল আলম বলেন, গঙ্গাচড়ায় জাতীয় পার্টি ৯০ দশকের মতো আবার ফিরে এসেছে। জাতীয় পাটির্র প্রার্থী ১০০ শতাংশ বিপুল ভোটে বিজয়ী হবে। জোট হলে নিশ্চিত বিজয় ঠেকাবার মতো কেউ নেই। এ আসনটিতে জাতীয় পার্টির প্রার্থীর সঙ্গে ভোটের মূল প্রতিদ্বন্দ্বিতা হতো জামায়াতে ইসলামের সঙ্গে। আওয়ামী লীগের প্রার্থী সব সময় তৃতীয় অবস্থানে থাকতেন। তবে এবার আওয়ামী লীগের মনোনয়নপ্রত্যাশীরা জোরেসোরে মাঠে নেমেছেন। নিজ নামে সেঁটেছেন রঙিন ব্যানার পোস্টার। জোটবদ্ধ নির্বাচন হলে এবারও এ আসন ছেড়ে দিতে হবে মহাজোটের শরিক জাতীয় পার্টিকে। এ নিয়ে আওয়ামী লীগের মধ্যে স্বস্তি ও অস্বস্তি দুটিই দেখা দিয়েছে। আওয়ামী লীগের স্থানীয় নেতাদের দাবি, জাতীয় পার্টি নয়- এবার আওয়ামী লীগের প্রার্থী রাখতে হবে গঙ্গাচড়া আসনে। তাদের মতে, সরকারি দলের এমপি ছাড়া কাক্সিক্ষত উন্নয়ন সম্ভব নয়। তাই আগেই নির্বাচনি মাঠে নেমেছেন কেন্দ্রীয় স্বেচ্ছাসেবক লীগের সদস্য রবিউল ইসলাম রেজভী, বর্তমান উপজেলা চেয়ারম্যান ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সম্পাদক আসাদুজ্জামান বাবলু ও উপজেলা আওয়ামী লীগের আহ্বায়ক সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান রুহুল আমীন। মহাজোট না থাকলে জাতীয় পার্টি ও আওয়ামী লীগের মধ্যে ভোটযুদ্ধ জমে উঠবে। উপজেলা আওয়ামী লীগের আহ্বায়ক রুহুল আমীন বলেন, আমি পরপর দুইবার দলীয় মনোনয়ন পেয়েছিলাম। কেন্দ্রীয় সিদ্ধান্তে তা প্রত্যাহার করেছি। এবার আবার দলীয় মনোনয়ন চাইব। আওয়ামী লীগ নেতা রবিউল ইসলাম রেজভী বলেন, এবার দলীয় প্রার্থী হলে রেকর্ড পরিমাণ ভোটে নৌকা প্রতীকের ভোট নিশ্চিত করবেন গঙ্গাচড়ার জনগণ। আমি দলীয় মনোনয়ন চাইব। মহাজোট বহাল থাকলে কেন্দ্রীয় সিদ্ধান্ত মেনে নিয়ে কাজ করব। জামায়াতের শক্ত প্রার্থী রুহুল ইসলাম সুজা মিয়া পীর সাহেব মৃত্যুর পর এ আসনে জামায়াতের কোনো শক্ত প্রার্থী নেই। মামলা ও গ্রেপ্তার আতঙ্কে প্রায় ঝিমিয়ে পড়া বিএনপি-জামায়াত জোটের নেতারা ও বসে না থেকে নির্বাচনের প্রস্তুতি নিচ্ছেন ঢিমেতালে। জামায়াতের নিবন্ধন বাতিল হওয়ায় এবার তারা দলীয় প্রার্থী দিতে পারবে না। তাই বিএনপির আড়ালে নির্বাচনে অংশ নিতে পারে জামায়াত। অথবা তাদের ভোট বিভক্ত হতে পারে। বিএনপির মনোনয়নপ্রত্যাশী হিসেবে জেলা বিএনপির সহ-সভাপতি ওয়াহেদুজ্জামান মাবু ও যুগ্ম সম্পাদক মোকাররম হোসেন সুজন, জেলা নাগরিক ঐক্যের আহ্বায়ক খায়রুল আলম বাবু, ন্যাশনাল কংগ্রেস বাংলাদেশ (এনসিবি) এনসিবির কেন্দ্রীয় বন ও পরিবেশ সম্পাদক ইছা মো. সবুজসহ (ইছাহাক) কয়েকজন জেলা পর্যায়ের নেতার নাম শোনা যাচ্ছে। গঙ্গাচড়া উন্নয়নে স্থানীয় প্রার্থীর দাবিতে অনড় স্বতন্ত্র প্রার্থী শিল্পপতি সিএম সাদিক নির্বাচনি মাঠ দাপিয়ে বেড়াচ্ছেন। তার দাবি ভাড়াটিয়া এমপি নয়, গঙ্গাচড়ার স্থানীয় নাগরিককে এমপি নির্বাচিত করতে হবে। অন্যদিকে, এরশাদের ভাতিজা সাবেক এমপি হোসেন মকবুল শাহরিয়ার আসিফ স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়ে নির্বাচনি মাঠে নামতে পারেন। গেল রংপুর সিটি করপোরেশন নির্বাচনে জাপা চেয়ারম্যানের আদেশ অমান্য করে প্রার্থী হওয়ায় তাকে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়।