বিদ্যমান কোটাপদ্ধতি সম্পর্কে আমরা উৎকণ্ঠিত : ফখরুল
কোটা সংস্কারের দাবিতে ছাত্রদের শান্তিপূর্ণ যৌক্তিক আন্দোলনে ছাত্রলীগ সশস্ত্র হামলা করেছে বলে অভিযোগ করেছেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি বলেন, বিএনপি ক্ষমতায় এসে সরকার গঠন করলে মুক্তিযোদ্ধা, নারী ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর কোটা রেখে বাকি কোটা তুলে দেবে। সোমবার দুপুরে নয়াপল্টনে দলীয় কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে বিএনপি মহাসচিব এ কথা বলেন। আন্দোলনকারীদের ওপর হামলার নিন্দা জানিয়ে তিনি বলেন, গতকাল শিক্ষার্থীদের শান্তিপূর্ণ আন্দোলনের প্রতিবাদ বিক্ষোভে মুখরিত হয়ে ওঠে। আন্দোলনকারীদের দমাতে পুলিশ সহিংস হয়ে ওঠে। তাদের ওপর বেপরোয়া লাঠিচার্জ, টিয়ারশেল, রবার বুলেট নিক্ষেপ করেছে। ফখরুল বলেন, কোটা সংস্কারের দাবিতে ছাত্রদের যৌক্তিক আন্দোলন সম্পর্কে আমরা অবহিত। বিদ্যমান কোটাপদ্ধতি সম্পর্কে আমরা উৎকণ্ঠিত। বিনা উসকানিতে পুলিশ আন্দোলনকারীদের ওপর যে হামলা চালিয়েছে আমরা তার নিন্দা জানাই। পাশাপাশি পুলিশের হামলায় আহতদের আশু সুস্থতা কামনা করছি। যারা পুলিশের হাতে আটক হয়েছেন আমরা তাদের অবিলম্বে মুক্তির দাবি জানাচ্ছি। বিএনপি ‘ভিশন-২০৩০’-এ কোটার বিষয়টি স্পষ্ট করেছে, মন্তব্য করে মির্জা ফখরুল বলেন, এই আন্দোলনে দেশের প্রায় চার কোটি শিক্ষিত যুবসমাজের জীবন-জীবিকার প্রশ্নটি জড়িত। এ ব্যাপারে বিএনপির স্থায়ী কমিটি উৎকণ্ঠিত। সংবাদ সম্মেলনে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, মির্জা আব্বাস, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, ড. আব্দুল মঈন খান, নজরুল ইসলাম খান, আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভীসহ আরও অনেকে উপস্থিত ছিলেন।
বৈঠকে বিএনপি-মনোনয়ন প্রত্যাশীদের নিয়ে
আসন্ন গাজীপুর ও খুলনা সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে মেয়র পদে যারা দলীয় মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেছেন তাদের নিয়ে বৈঠকে বসেছে বিএনপির মনোনয়ন বোর্ড। রোববার বিকেল সাড়ে ৫টায় গুলশানে বিএনপি চেয়ারপারসনের রাজনৈতিক কার্যালয়ে এই বৈঠক শুরু হয়। বৈঠকের শুরুতেই খুলনা সিটিতে মনোনয়ন প্রত্যাশীরা বোর্ডের কাছে সাক্ষাৎকার দিচ্ছেন। এরপর সন্ধ্যা ৭টার দিকে গাজীপুরের মনোনয়ন প্রত্যাশীদের সাক্ষাৎকার নেয়া হবে। গুলশান কার্যালয়ে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ, লে. জেনারেল ( অব) মাহবুবুর রহমান, ব্যারিস্টার রফিকুল ইসলাম মিয়া, মির্জা আব্বাস, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, ড. আবদুল মঈন খান, আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী প্রার্থীদের সাক্ষাৎকার নিচ্ছেন। খুলনা সিটিতে বিএনপির টিকিটে লড়তে আগ্রহীরা হলেন, বর্তমান মেয়র মোহাম্মদ মনিরুজ্জামান, কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক নজরুল ইসলাম, জেলা বিএনপির সভাপতি শফিকুল আলম। গাজীপুর সিটি কর্পোরেশনে মেয়র পদে লড়তে দলের মনোনন পেতে চান বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান ও গাজীপুর সিটির বর্তমান মেয়র এম এ মান্নান, দলটির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য হাসানউদ্দিন সরকার, শ্রমিক দলের কার্যকরী সভাপতি সালাউদ্দিন সরকার, মেয়র মান্নানের ছেলে এম মনজুরুল করীম, গাজীপুর জেলা বিএনপি নেতা শওকত হোসেন সরকার, আবদুস সালাম ও জেলা ছাত্রদলের সভাপতি শরাফত হোসেন।
বিএনপিকে আস্থা রাখার আহ্বান নাসিমের-খালেদা জিয়ার চিকিৎসায়
দলের চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার চিকিৎসায় বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বিএসএমএমইউ) ওপর আস্থা রাখতে বিএনপির প্রতি আহবান জানিয়েছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম। তিনি বলেন, খালেদা জিয়ার সুচিকিৎসায় কোনো ঘাটতি হবে না। আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী সব ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে। শনিবার রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে বিশ্ব স্বাস্থ্য দিবস উপলক্ষে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে তিনি এ আহ্বান জানান। স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, খালেদা জিয়া বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় (বিএসএমএমইউ) হাসপাতালে চিকিৎসা সেবা নিতে গেছেন। আমরা হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে তার চিকিৎসা সেবার সব ধরনের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থার নির্দেশ দিয়েছি। তিনি একজন সাবেক প্রধানমন্ত্রী ছিলেন, একজন রাজনীতিবিদ, তিনি অবশ্যই সুচিকিৎসা পাবেন। বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের উদ্দেশে নাসিম বলেন, তারা খালেদা জিয়াকে একটি বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসা সেবার দেয়ার জন্য দাবি করেছিলেন। বিএসএমএমইউ হাসপাতালটি বাংলাদেশের প্রসিদ্ধ হাসপাতাল। এখানে সুচিকিৎসার ব্যবস্থা আছে। আমাদের ওপর আস্থা রাখুন, তিনি সুচিকিৎসা পাবেন। উল্লেখ্য, বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার স্বাস্থ্য পরীক্ষার জন্য আজ কারাগার থেকে বিএসএমএমইউতে নেয়া হয়। স্বাস্থ্য পরীক্ষা শেষে ফের তাকে নাজিমউদ্দিন রোডের পুরাতন কারাগারে ফিরিয়ে নেয়া হয়।
ফের কারাগারে স্বাস্থ্য পরীক্ষা শেষে খালেদা জিয়া
স্বাস্থ্য পরীক্ষা শেষে বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে নাজিমউদ্দিন রোডের পুরাতন কারাগারে ফিরিয়ে নেয়া হয়েছে। শনিবার দুপুর দেড়টায় শাহবাগের বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় (বিএসএমএমইউ) থেকে তাকে নিয়ে কারাগারের উদ্দেশে রওনা করে কারা কর্তৃপক্ষের গাড়ি বহর। দুপুর ২টায় খালেদা জিয়াকে বহনকারী গাড়ি পুরাতন কেন্দ্রীয় কারাগারের প্রধান ফটকে পৌঁছায়। এর আগে তাকে বিএসএমএমইউর রেডিওলজি ও ইমেজিং বিভাগের ১/এ নম্বর কক্ষে নিয়ে এক্সরে করানো হয়। এরপর সাবেক প্রধানমন্ত্রী হেটে গাড়িতে ওঠেন। কড়া নিরাপত্তায় তাকে নিয়ে কারাগারের পথে রওনা দেন কারারক্ষী ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা। এ সময় গাড়িবহরে একটি অ্যাম্বুলেন্স, দুটি গাড়ি ছিল। এর সামনে পেছনে র‌্যাবের পাহারা ছিল। বেলা ১১টা ২০ মিনিটের দিকে খালেদা জিয়াকে কারাগার থেকে বিএসএমএমইউতে আনা হয়। সেখানে পৌঁছানোর পর তাকে প্রথমে নেয়া হয় হাসপাতালের কেবিন ব্লকে। ৫১২ নম্বর কেবিনে কিছুক্ষণ রাখার পর কেবিন ব্লকের প্যাথলজি বিভাগে রক্ত পরীক্ষা করা হয়। রক্ত পরীক্ষা শেষে বিএনপি নেত্রীকে এক্সরে করতে নেয়া হয়। জানা গেছে, চিকিৎসার জন্য গঠিত চার সদস্যের মেডিকেল বোর্ডের পরামর্শে রক্ত পরীক্ষা ও এক্সরের জন্য খালেদা জিয়ারকে কারাগার থেকে বিএসএমএমইউতে আনা হয়। জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় ৮ ফেব্রুয়ারি খালেদা জিয়াকে পাঁচ বছরের কারাদণ্ড দেয়া হয়। এরপর থেকে গত দুই মাসে ধরে তিনি পুরনো কারাগারে রয়েছেন। কারাগারে ৭৩ বছরের বিএনপি নেত্রীর শারীরিক সমস্যা দেখা দিলে ঢাকা মেডিকেল কলেজের অর্থোপেডিক বিভাগের প্রধান অধ্যাপক ড. মো. শামসুজ্জামান শাহীনের নেতৃত্বে চার সদস্যের মেডিকেল বোর্ড গঠন করা হয়। বোর্ডের অন্য সদস্যরা হলেন ডা. মনসুর হাবীব (নিউরোলজি), টিটু মিয়া (মেডিসিন) ও সোহেলী রহমান (ফিজিক্যাল মেডিসিন)। গত ৪ এপ্রিল মেডিকেল বোর্ডের প্রধান অধ্যাপক ড. শামসুজ্জামান শাহীন জানান, আগের সমস্যাগুলোর পাশাপাশি খালেদা জিয়ার নতুন কিছু সমস্যা দেখা দিয়েছে। আপাতত তার রক্ত পরীক্ষার পাশপাশি দুই হাঁটুতে এক্সরে করাতে হবে। পরীক্ষার পরই বোঝা যাবে তার অসুস্থতা গুরুতর কিনা। এরপরও পরীক্ষা-নিরীক্ষার প্রয়োজন হতে পারে। ডা. শাহীন বলেন, খালেদা জিয়ার দুই হাঁটু প্রতিস্থাপন করা। তার হাঁটুতে এখন যে ব্যথা তা বয়স থেকে হতে পারে। আগের অপারেশনের জেরে হতে পারে, আবার নতুন হতে পারে। তার কোমর ও ঘাড়ে বড় ধরনের কোনো সমস্যা আছে কিনা তা জানতে সিটিস্ক্যান বা এমআরআই করানো লাগতে পারে। তার ব্যথা কেবল শিনশিন-ঝিনঝিনের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নাকি হাড় পর্যন্ত পৌঁছেছে তা জানতে আরও পরীক্ষা-নিরীক্ষা প্রয়োজন। জানা গেছে, শনিবার খালেদা জিয়ার রক্ত পরীক্ষা ও এক্সরের প্রতিবেদন পাওয়ার পর মেডিকেল বোর্ড তার পরবর্তী চিকিৎসার বিষয়ে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করবে।
নতুন মুখের কাফেলা আওয়ামী লীগে
আগামী নির্বাচনে বিতর্কিত নেতাদের বাদ দেয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে আওয়ামী লীগ। জনসম্পৃক্ত ও ভাবমূর্তি ভালো এমন নেতাদের সামনে আনতে চায় দলটি। এজন্য সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দেয়া হচ্ছে রাজনীতিতে আসা নতুন মুখকে। দলের এ মনোভাবের কথা এরই মধ্যে ছড়িয়ে পড়েছে। তাই আগামী নির্বাচনে আওয়ামী লীগের টিকেটে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে আগ্রহী অনেকে। নির্বাচনের সময় যতই ঘনিয়ে আসছে তাদের প্রচারনা ততই বাড়ছে। মিটিং, মিছিল, সমাবেশসহ দলীয় কর্মসূচিতে তারা থাকছেন সক্রিয়ভাবে। এভাবে নির্বাচনকেন্দ্রিক আওয়ামী লীগের নতুন মুখের কাফেলা দীর্ঘ হচ্ছে। আওয়ামী লীগের বেশ ক জন নীতি-নির্ধারকের সঙ্গে কথা বলে এসব তথ্য জানা গেছে। তারা জানান, আগামী নির্বাচনে অন্তত ৪২ জেলার ৮৫ আসনে নতুন মুখ দেখা যেতে পারে। যদিও শেষ মুহূর্তে দলীয় প্রার্থিতা অনেকাংশে নির্ভর করে প্রতিপক্ষের প্রার্থী মনোনয়নের উপর। নেতাকর্মীদের কাছে স্বচ্ছ ভাবমূর্তি ও জনগণের কাছে গ্রহণযোগ্যতা রয়েছে, এলাকায় সুপরিচিত, মানুষের কল্যাণে কাজ করেন, দক্ষ সংগঠক, সৎ, নিষ্ঠাবান ও শিক্ষিত, এমন ব্যক্তিরাই দলীয় প্রতীক পাবেন। সাংগঠনিক কাজে সংশ্লিষ্ট না থাকলেও দলীয় আদর্শকে ধারণ করেন এমন ব্যক্তিদের মধ্য থেকে কাউকে কাউকে মনোনয়ন দেয়ার সম্ভাবনাও আছে। দলের হাইকমান্ড এসব যোগ্যতাসম্পন্ন নেতাদের সারা দেশ থেকে বাছাই করছে। এবার প্রায় দুইশ আসনে এমন প্রার্থী দেয়া হবে যারা লড়াই করে বিজয় নিশ্চিত করতে পারবেন। আবার ক্ষেত্রবিশেষে বিএনপির প্রার্থীর প্রভাব, গ্রহণযোগ্যতার বিপরীতে আওয়ামী লীগের প্রার্থী মনোনয়ন নির্ভর করবে। আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় এক নেতা শুধু ঢাকার আসনগুলো নিয়ে বলেন, ঢাকার ২০টি আসনের মধ্যে ১৬টি আওয়ামী লীগের। এর মধ্যে জাতীয় পার্টির একটি, ওয়ার্কার্স পার্টির একটি, স্বতন্ত্র একটি ও বিএনএফর একটি। সূত্র মতে, আওয়ামী লীগের ১৬টির মধ্যে চারটিতে নতুন মুখ দেখা যেতে পারে। গাজীপুরে বদল হতে পারে দুটি আসনের প্রার্থী। নরসিংদীতে বদল হতে পারে দুটিতে। সম্প্রতি দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে দলের সাংগঠনিক সফর শেষ করে আসা কেন্দ্রীয় এক নেতা জানান, মেহেরপুর ও কুষ্টিয়ায় দুটি আসনে পরিবর্তন হতে পারে। চুয়াডাঙ্গায় বদল হচ্ছে একটি আসন। ঝিনাইদহ জেলায় নতুন প্রার্থী আসছেন তিনটি আসনে। যশোরে চরমভাবে এলাকায় বিতর্কিত হয়ে পড়েছেন তিন এমপি। মাগুরায় পরিবর্তন হচ্ছে একটি আসনে। খুলনায় নতুন মুখ আসছেন তিনটি আসনে। নতুনদের গুরুত্ব দেয়া প্রসঙ্গে দলের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক আবদুর রহমান বলেন, আওয়ামী লীগের রাজনীতি যেমন দেশ গঠনের তেমনি নেতৃত্ব গঠনেরও। নতুনদের বিষয়ে আওয়ামী লীগ সবসময় উদার। নতুনদের অগ্রাধিকার দেয়া হলে প্রজন্ম রাজনীতির বিকাশ ঘটে। পাশাপাশি সিনিয়রদের গুরুত্বও কম না। কারণ তাদের ঝুলিতে রয়েছে অনেক অভিজ্ঞতা ও অর্জন। আসন্ন একাদশ সংসদ নির্বাচনে দলের প্রার্থী তালিকার বেশ বড় একটা অংশ থাকবে তরুণদের দখলে। নতুন মুখগুলোর বেশির ভাগই সাবেক ছাত্রলীগ, যুবলীগ, স্বেচ্ছাসেবক লীগ ও আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় নেতা। এ ছাড়া আওয়ামী লীগ-সমর্থিত বিভিন্ন পেশাজীবী সংগঠনের নেতারাও রয়েছেন মনোনয়ন দৌড়ে। একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে ঘিরে এলাকায় মাঠপর্যায়ে তোড়জোড় শুরু করে দিয়েছেন ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগের মনোনয়ন প্রত্যাশীরা। নতুনদের এ তালিকায় রয়েছেন, শরীয়তপুর-২ আসনে দলের সাংগঠনিক সম্পাদক এনামুল হক শামীম, রাজবাড়ী-২ আসনে ছাত্রলীগের সাবেক কেন্দ্রীয় নেতা শেখ সোহেল রানা টিপু, ঢাকা-১৫ আসনে স্বেচ্ছাসেবকলীগের কেন্দ্রীয় যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক গাজী মেজবাউল হোসেন সাচ্চু, ব্যারিস্টার বিপ্লব বড়ুয়া, মাগুরা-১ আসনে মনোনয়ন প্রত্যাশা করছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সহকারী একান্ত সচিব এডভোকেট সাইফুজ্জামান শিখর, ফেনী-৩ আসন (সোনাগাজী-দাগনভূঞা) অভিনেত্রী রোকেয়া প্রাচী, দলের কেন্দ্রীয় কমিটির সাংস্কৃতিক সম্পাদক অসীম কুমার উকিল (নেত্রকোনা-৩), আওয়ামী লীগের তথ্য ও গবেষণা সম্পাদক আফজাল হোসেন, সচিব আবদুল মালেক (পটুয়াখালী-১), কৃষি ও সমবায়বিষয়ক সম্পাদক ফরিদুন্নাহার লাইলী (লক্ষ্মীপুর-৪) ত্রাণ ও সমাজকল্যাণ সম্পাদক সুজিত রায় নন্দী (চাঁদপুর-৩), উপ-প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক আমিনুল ইসলাম (চট্টগ্রাম-১৫), চট্টগ্রাম-৯ (কোতোয়ালি), কেন্দ্রীয় নেতা মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল, সাংবাদিক ও পেশাজীবী নেতা রিয়াজ হায়দার চৌধুরী, কক্সবাজার ৩ আসনে জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি ইশতিয়াক আহমেদ জয়, কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী সদস্য এবিএম রিয়াজুল কবীর কাওছার (নরসিংদী-৫), নেত্রকোনা-৫ আসন থেকে আাওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক আহমেদ হোসেন, সিলেট-১ আসনে আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক মিসবাহউদ্দিন সিরাজ, মুন্সীগঞ্জ-২ আসনে প্রচারণায় নেমেছেন অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম, ফরিদপুর-১ আসনে সাবেক ছাত্রনেতা এবং ঢাকাটাইমস ও সাপ্তাহিক এই সময় সম্পাদক আরিফুর রহমান দোলন, ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি লিয়াকত শিকদার, বাগেরহাট-৪ আসনে সাবেক ছাত্রলীগ সভাপতি এইচএম. বদিউজ্জামান সোহাগ, চট্টগ্রাম-৬ (রাউজান) আসনে ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক মাহফুজুল হায়দার চৌধুরী রোটন, আলোচিত অন্যদের মধ্যে রয়েছেন কেন্দ্রীয় সদস্য মারুফা আক্তার পপি (জামালপুর-৫), নুরুল ইসলাম ঠাণ্ডু, হাসান আলী (সিরাজগঞ্জ-১), হাবিবুর রহমান স্বপন, চয়ন ইসলাম (সিরাজগঞ্জ-৫), গাইবান্ধার-৫ সাঘাটা ফুলছড়িতে ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি মাহমুদ হাসান রিপন। নতুন মুখ হিসেবে মনোনয়ন প্রত্যাশা প্রসঙ্গে আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক এনামুল হক শামীম বলেন, আমার নির্বাচনী এলাকায় পারিবারিকভাবে আমাদের রাজনৈতিক ঐতিহ্য রয়েছে। বলা যায়, জন্মগতভাবে আমরা মানুষের সঙ্গেই আছি। দলের দুঃসময় থেকে শুরু করে সব সময় ওতপ্রোতভাবে জড়িত। আওয়ামী লীগের একজন পরীক্ষিত নেতা হিসেবে আগামী নির্বাচনে দলের মনোনয়ন প্রত্যাশা করছি। একই প্রসঙ্গে অপর মনোনয়ন প্রত্যাশী ও আওয়ামী লীগের উপ-প্রচার সম্পাদক আমিনুল ইসলাম বলেন, স্বাভাবিকভাবে এলাকার মানুষ রাজনীতিবিদদের কাছে অনেক কিছু প্রত্যাশা করে। বিশেষ করে বিপদে-আপদে নেতাদের পাশে পেতে চায়। রাজনীতিবিদদের মাধ্যমে উন্নত জীবন পাওয়ায় তাদের প্রত্যাশা। আমি নির্বাচনী এলাকার মানুষদের এ ধরনের প্রত্যাশা উপলব্ধি করে তাদের পাশে থেকে কাজ করছি। আরও কাজ করতে চাই। এদিকে প্রতিটি নির্বাচনী এলাকায় দফায় দফায় সাংগঠনিক ও প্রশাসনিক জরিপ পরিচালনা করা হচ্ছে। এসব জরিপ প্রতিবেদনে বর্তমান এমপিদের ভালো ও মন্দ কাজের পর্যালোচনা করেই আগামী নির্বাচনে প্রার্থী মনোনয়ন চূড়ান্ত করা হবে। ইতিমধ্যে পরিচালিত একাধিক জরিপ রিপোর্ট দলের হাইকমান্ডের হাতে রয়েছে। প্রতিটি রিপোর্ট পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে পর্যালোচনা করা হচ্ছে। তবে এলাকায় জনপ্রিয় এমপিরা যাতে কোনো ধরনের ষড়যন্ত্রের শিকার হয়ে বাদ না পড়েন সেটিও হাইকমান্ডের বিবেচনায় রয়েছে। পাশাপাশি ওই এলাকার অবস্থা, অন্য মনোনয়নপ্রত্যাশীদের সংক্ষিপ্ত পরিচিতি, এলাকায় তাদের ইতিবাচক এবং নেতিবাচক দিকগুলো খতিয়ে দেখা হচ্ছে। বিতর্কিত এমপিদের স্থলে এবার নতুন মুখ দেখা যেতে পারে বলে জানা গেছে। ইতিমধ্যে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের বিভিন্ন সভা-সমাবেশে আগামী নির্বাচনে কোন ধরনের প্রার্থী দলের পছন্দ সেটা বারবার বলে আসছেন। কোনো ধরনের বিতর্কিত ভাবমূর্তির কোনো জনপ্রতিনিধিকে এবার মনোনয়ন দেয়া হবে না সেটাও প্রকাশ্যে ঘোষণা দিয়েছেন। আওয়ামী লীগের হাইকমান্ড গত এক বছর ধরে প্রার্থী বাছাই নিয়ে কাজ শুরু করেছেন। তারই অংশ হিসেবে বিতর্কিত অনেককে ডেকে এনে সংশোধন হওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন হাইকমান্ড। এরপরেও যারা সংশোধন হননি তাদের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নেয়া হবে বলে দলীয় সূত্র জানায়। সূত্র: মানবজমিন
সিটি নির্বাচনে ইসির কমিটি-লেভেল প্লেইং ফিল্ড তৈরিতে
আসন্ন গাজীপুর ও খুলনা সিটি করপোরেশন নির্বাচনে পরিবেশ সুষ্ঠু রাখা ও সবার জন্য সমান সুযোগ ( লেভেল প্লেইং ফিল্ড) তৈরির লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে আলাদা দুটি সমন্বয় কমিটি গঠন করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। গাজীপুর সিটির জন্য ঢাকার বিভাগীয় কমিশনার ও খুলনা সিটির জন্য খুলনা বিভাগীয় কমিশনারের নেতৃত্বে ১২ সদস্যের কমিটিতে বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থার পদস্থ কর্মকর্তাদেরও রাখা হয়েছে। গত মঙ্গলবার পৃথক দুই চিঠিতে এসব কমিটি গঠনের বিষয়টি সংশ্লিষ্টদের পাঠিয়ে দেয়া হয়েছে। ইসির পাঠানো চিঠিতে আচরণবিধি প্রতিপালনের জন্য গাজীপুরে ১০ জন ও খুলনায় পাঁচজন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মোতায়েনের নির্দেশনা দিয়েছে। ঢাকা ও খুলনার বিভাগীয় কমিশনারদের এ সংক্রান্ত পদক্ষেপ নিতে বলা হয়েছে। ইসি সচিবালয়ে সূত্রে জানা গেছে, দুই সিটি নির্বাচনের সামগ্রিক পরিবেশ সুষ্ঠু রাখার স্বার্থেই সমন্বয় কমিটি গঠন করা হয়েছে। এসব কমিটিকে প্রতি সপ্তাহে অন্তত একটি সভা করতে বলা হয়েছে। ওই সভার কার্যবিবরণী নির্বাচন কমিশনকে জানাতে বলা হয়েছে যা থেকে কমিশন নির্বাচনী এলাকার বাস্তব পরিস্থিতি সম্পর্কে ধারণা নিতে পারবেন। গাজীপুর সিটি করপোরেশনের জন্য গঠিত সমন্বয় কমিটিতে আহ্বায়ক করা হয়েছে ঢাকার বিভাগীয় কমিশনারকে। আর সদস্য সচিব করা হয়েছে গাজীপুর জেলা নির্বাচন কর্মকর্তাকে। এ কমিটির সদস্যরা হলেন- ঢাকা রেঞ্জের উপমহাপুলিশ পরিদর্শক, বিজিবির সেক্টর কমান্ডার, গাজীপুরের ডিসি ও এসপি, গাজীপুর সিটি করপোরেশন নির্বাচনের রিটার্নিং অফিসার, র‌্যাবের সংশ্লিষ্ট অধিনায়ক, আনসার ও ভিডিপির সংশ্লিষ্ট পরিচালক, জাতীয় গোয়েন্দা সংস্থার (এনএসআই) যুগ্ম-পরিচালক, ডিজিএফআই কর্মকর্তা ও ঢাকার সিনিয়র জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা। এ কমিটির কার্যক্রম সম্পর্কে চিঠিতে বলা হয়েছে- নির্বাচনের সুষ্ঠু পরিবেশ নিশ্চিত এবং লেভেল প্লেইং ফিল্ড তৈরিতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেয়া। মোবাইল কোর্টের কার্যক্রম মনিটর করা। বিরূপ পরিস্থিতির উদ্ভব হলে বা আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটলে তাৎক্ষণিকভাবে তা সমাধানের ব্যবস্থা নেয়া এবং ইসিকে তা জানানো। নির্বাচন পরিচালনার ক্ষেত্রে রিটার্নিং কর্মকর্তাকে সার্বিক সহায়তা করা। একই পদমর্যাদার কর্মকর্তাদের দিয়ে খুলনা সিটি করপোরেশনের সমন্বয় কমিটি গঠন করা হয়েছে।ওই কমিটির কার্যপরিধিও গাজীপুরের মতোই একই ধরনের নির্ধারণ করা হয়েছে। এদিকে দুই সিটিতে আচরণবিধি তদারকি ও আইন-শৃঙ্খলা রক্ষায় ম্যাজিস্ট্রেট মোতায়েন করতে ঢাকা ও খুলনার বিভাগীয় কমিশনারকে চিঠি দিয়েছে ইসি। চিঠিতে গাজীপুর সিটি করপোরেশনের জন্য ১০ জন ও খুলনা সিটি করপারেশনের জন্য পাঁচজন ম্যাজিস্ট্রেট মোতায়েন করতে বলা হয়েছে। এসব ম্যাজিস্ট্রেট মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারের শেষ দিন অর্থাৎ পহেলা এপ্রিল পর্যন্ত ২৪ দিন মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করবেন। প্রার্থিতা প্রত্যাহারের পর নির্বাচনী এলাকাগুলোতে ম্যাজিস্ট্রেটের সংখ্যা আরও বাড়ানো হবে। এছাড়াও এরই মধ্যে রাজনৈতিক দলগুলোকে তাদের ক্ষমতাপ্রাপ্ত ব্যক্তির নামের তালিকা ইসিতে পাঠাতেও চিঠি দিয়েছে ইসি।
গাজীপুর ও খুলনায় তোড়জোড় প্রার্থী চূড়ান্তে
১৫ মে অনুষ্ঠিত হবে গাজীপুর ও খুলনা সিটি কর্পোরেশন নির্বাচন। এ নির্বাচন উপলক্ষ্যে আওয়ামী লীগ ও বিএনপির মধ্যে মেয়র প্রার্থী চূড়ান্তকরণ নিয়ে শুরু হয়েছে তোড়জোড়। একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে এই ভোট হওয়ায় দুই দলের জন্যই সিটি নির্বাচনের ফলাফল খুবই গুরুত্বপূর্ণ। উন্নয়নের ধারাবাহিকতা অব্যাহত রাখাতে জনসমর্থন সরকারের পক্ষ্যে জানান দিতে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের জন্য এই ভোট অগ্নি পরীক্ষার সমতুল্য। অন্যদিকে দুই সিটিতে মেয়র পদ ধরে রাখা এবং ক্ষমতাসীনরা জনগণ থেকে বিচ্ছিন্ন বার্তা দেশবাসীকে দিতে বিজয় বিএনপির জন্য খুবই জরুরী। আবার মিটিং মিছিল করতে না দেয়ায় সারাদেশের নিষ্ক্রিয় ও হতাশ নেতাকর্মীদের জানান দেয়া যে হতাশ হওয়ার কিছু নেই সময় মতো জনগণ ফুঁসে উঠবে। এদেশের মানুষ ভোট পাগল; নির্বাচনের দিক তথা একদিনের রাজা। নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিরা ভোটের পর জনগণের তেমন খোঁজখবর না রাখলেও নির্বাচনে ভোট দেয়ার জন্য মানুষ মুখিয়ে থাকেন। নির্বাচনকে (জাতীয় ও স্থানীয়) মানুষ মনে করে উৎসব। নির্বাচন এলেই প্রার্থী এবং ভোটার দুই পক্ষই মেতে উঠে উৎসবে, আনন্দ-উল্লাসে। কিন্তু ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারীর নির্বাচন এবং পরবর্তী সময়ে ভোটের অধিকার হারিয়ে মানুষ সংক্ষুব্ধ। কিছুদিন আগে ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের মেয়র নির্বাচনের প্রক্রিয়া শুরু হলে উৎসবে মেতে ওঠে ওই এলাকার ভোটার। হঠাৎ করে নির্বাচন প্রক্রিয়া স্থগিত হওয়ায় উৎসবের সেই আনন্দ ধপ করে নিভে যায়। এখন গাজীপুর ও খুলনা সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনের প্রক্রিয়া শুরু হওয়ায় দুই সিটির বিভিন্ন পাড়ায় মহল্লায় শুরু হয়ে গেছে উৎসবের আবহ। মানুষের মধ্যে চলছে ভোট নিয়ে আলোচনা-সমালোচনা-বিতর্ক। কোন প্রার্থী কেমন, কোন প্রতীকের ফলাফল ভাল করতে পারে চলছে তার চুলচেরা বিশ্লেষণ। দুই সিটির (গাজীপুর-খুলনা) সাধারণ ভোটাররা যখন ভোট দেয়ার জন্য মুখিয়ে; তখন মূল প্রতিদ্ব;িদ্ব আওয়ামী লীগ ও বিএনপির মধ্যে চলছে তুমুল উত্তেজনা। ডিসেম্বরে অনুষ্ঠেয় জাতীয় নির্বাচনের আগে দুই সিটি কর্পোশনের নির্বাচনকে মনে করছে প্রাক-নির্বাচনী পরীক্ষা। সিটি কর্পোরেশন স্থানীয় নির্বাচন এবং সীমিত পরিসরে ভোট হলেও আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে এই ভোট প্রভাব ফেলতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে। ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ মনে করছে এই ভোট তাদের জন্য অগ্নি পরীক্ষা। এই ভোটে বিজয়ী হলে আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে উন্নয়নের ধারাবাহিকতা অব্যাহত রাখার শ্লোগান দিয়ে দেশবাসীর কাছে ভোটের জন্য যাওয়া সহজ হবে। দলীয় নেতাকর্মীদের মনোবলও বাড়বে। তাছাড়া সারাদেশের জনগণকে বার্তা দেয়া যাবে মানুষ ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের কর্মকান্ডে খুশি এবং নৌকার সঙ্গেই রয়েছে। অন্যদিকে দুই সিটির বর্তমান মেয়র বিএনপি থেকে নির্বাচিত। বিএনপি চায় দুই সিটি নিজেদের পূর্বাবস্থা ধরে রাখতে। একই সঙ্গে নির্বাচনে বিজয়ী হয়ে দেশবাসী ও ক্ষমতাসীন দলকে বার্তা দিতে চায় জনগণ আওয়ামী লীগের সঙ্গে নেই। জুলুম নির্যাতন করে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ জনবিচ্ছিন্ন হয়ে বিএনপির দিকে মানুষ ঝুকে পড়েছে। এখন শুধু জাতীয় নির্বাচনের জন্য প্রহর গুনছে। একই সঙ্গে দুই সিটি কর্পোরেশনের এই নির্বাচন সিইসি এম নূরুল হুদার নেতৃত্বাধীন নির্বাচন কমিশনের জন্য বিশেষ পরীক্ষাও বটে। এখনো তারা সবার আস্থা অর্জন করতে পারেনি। ইসি যদি সরকারের প্রভাব উপেক্ষা করে দুই সিটির নির্বাচন নিরপেক্ষ ও গ্রহণযোগ্যভাবে সম্পন্ন করতে পারে তাহলে তাদের প্রতি কিছুটা হলেও মানুষের আস্থার সৃষ্টি হবে। নির্বাচন বিশেষজ্ঞরা তাদের পক্ষ্যে দুতিয়ালী করবেন। স্থানীয় সরকার বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ড. তোফায়েল আহমদ ও নির্বাচন বিশেষজ্ঞ ড. বদিউল আলম মজুমদার বলেছেন, দুই সিটির নির্বাচন হচ্ছে এটা খুশির খবর। কিন্তু ঢাকা উত্তরসহ বরিশাল, রাজশাহী, সিলেট সিটি নির্বাচন কেন হচ্ছে না সেটা বড় প্রশ্ন। গাজীপুর ও খুলনা সিটি কর্পোরেশনে নির্বাচিত মেয়ররা বেশির ভাগ সময় স্বাভাবিক কাজকর্ম করতে পারেননি। নির্বাচিত মেয়ররা রাজনৈতিক প্রতিহিংসায় হয় কারাগারে নয়তো বরখাস্তের তকমা নিয়ে কাজ করা থেকে বিরত ছিলেন। গাজীপুরে ২০১৩ সালের ৬ জুলাই এবং খুলনায় ২০১৩ সালের ১৫ জুন ভোট অনুষ্ঠিত হয়। খুলনা সিটির সঙ্গে একই দিনে রাজশাজী, বরিশাল ও সিলেট সিটি কর্পোরেশনেও ভোট হয়। সবগুলো সিটি কর্পোরেশনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী বিজয়ী হওয়ায় নির্বাচিত মেয়রদের ক্ষমতাসীনদের রোষানলে পড়তে হয়। স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের ক্ষমতাবলে সিটি মেয়রদের দফায় দফায় দায়িত্ব থেকে সাময়িক অব্যাহতি, কোর্টের রায়ে আবার দায়িত্ব গ্রহণ আবার অব্যাহতি; পুনরায় কোর্টের নির্দেশে দায়িত্ব পুনর্বহাল করার ঘটনা ঘটে। শুধু তাই নয় নির্বাচিত মেয়রদের একের পর এক মামলায় জড়িয়ে গ্রেফতার এবং বছরের পর বছর কারাগারে বন্দী রাখা হয়। জামিনে বের হয়ে আসার পর আবার গ্রেফতার করে কারাগারে নেয়া হয়। নির্বাচনের পর থেকেই মন্ত্রণালয় ও নির্বাচিত মেয়রদের এই টম-জেরি খেলা সাধারণ ভোটাররা ভালভাবে নেননি। ফলে জুলুম নির্যাতনের শিকার মেয়রদের ওপর সাধারণ মানুষের সহানুভুতি আরো বেড়ে গেছে। একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের সাড়ে ৬ মাস আগে হচ্ছে গাজীপুর ও খুলনা সিটি করপোরেশন নির্বাচন। নির্বাচনে আওয়ামী লীগের নৌকা এবং বিএনপির ধানের শীষ মার্কার প্রার্থীদের মধ্যে যে প্রতিদ্বন্দ্বিতা হবে তা প্রায় নিশ্চিত। ঘোষিত তফসিল অনুযায়ী নির্বাচনের প্রায় দেড় মাস বাকী থাকলেও নির্বাচনকে ঘিরে উৎসবের আমেজ ছড়িয়ে পড়েছে গাজীপুর ও খুলনা সিটি করপোরেশনের পাড়া মহল্লায়। নির্বাচন পাগল সম্ভাব্য প্রার্থী ও ভোটাররা এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে প্রচারণা শুরু না করলেও রাজনৈতিক দলগুলোর অভ্যন্তরে ভোটের ডামাডোল শুরু হয়ে গেছে। সিটি এলাকাগুলোয় সম্ভাব্য প্রার্থীদের ভোট চাচ্ছেন। মেয়রসহ বিভিন্ন পদে মনোনয়ন প্রত্যাশীদের কর্মী-সমর্থকরা নেমে পড়েছেন জনসংযোগে। কেউ কেউ মিছিলও করছেন। অন্যদিকে আওয়ামী লীগ ও বিএনপির কেন্দ্রীয় পর্যায়ে নিজ নিজ দলের প্রার্থী মনোনয়নে তোড়জোর শুরু হয়ে গেছে। দুই সিটি করপোরেশন নির্বাচনে মেয়র পদে মনোনয়ন প্রত্যাশীদের মাঝে ফরম বিতরণ করবে আওয়ামী লীগ ৫ ও ৬ এপ্রিল। পরের দিন ধানমন্ডিস্থ দলীয় সভাপতি শেখ হাসিনার রাজনৈতিক কার্যালয়ে মনোনয়নের আবেদন ফরম জমা নেয়া হবে। মনোনয়নপত্রের আবেদন ফরম জমা নেয়ার পর দলের স্থানীয় সরকার মনোনয়ন বোর্ডের বৈঠক ডেকে আগ্রহীদের ইন্টারভিউ নিয়ে যোগ্য প্রার্থী বাছাই করে তাকে দলের মনোনয়ন দেওয়া হবে। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে এখনো মনোনয়ন পত্র বিতরণ শুরু না হলেও খুলনা সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে এবার আওয়ামী লীগের প্রার্থী হিসেবে বাগেরহাট-৩ আসনের এমপি তালুকদার আবদুল খালেকের নাম প্রায় চূড়ান্ত। তবে দলের আরো দুই তিনজন দলীয় মনোনয়নের জন্য দৌঁড়ঝাপ করছেন। আর গাজীপুর সিটি কর্পোরেশনে আওয়ামী লীগের মেয়র প্রার্থী মনোনয়ন প্রত্যাশি বেশ কয়েকজন হলেও সাবেক পৌর চেয়ারম্যান আজমত উল্লাহ খান, ও যুব নেতা মোঃ জাহাঙ্গীর আলমের মধ্যে যে কোনো একজনকে মেয়র প্রার্থী করা হতে পারে। এদিকে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয় থেকে গাজীপুর ও খুলনা সিটি কর্পোরেশনে মেয়র পদে মনোনয়ন প্রত্যাশীদের ৫ এপ্রিল দলীয় কার্যালয় থেকে ফরম ক্রয়ের জন্য আহবান জানানো হয়েছে। এখনো ফরম ক্রয়- বিক্রয় শুরু না হলেও খুলনা ও গাজীপুর থেকে বেশ কয়েকজন মনোনয়ন প্রত্যাশী মেয়র পদে দলীয় মনোনয়নের জন্য চেষ্টা তদবির শুরু করেছেন। তবে বিএনপির বেশ কয়েকজন নেতার সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে অনেকেই প্রার্থীতার জন্য দোঁড়ঝাপ করলেও খুলনায় ধানের শীর্ষের প্রার্থী বর্তমান মেয়র মনিরুজ্জামান মনিকে মনোনয়ন দেয়ার সম্ভাবনাই বেশি। আর গাজীপুর সিটি নির্বাচনে বর্তমান মেয়র অধ্যাপক আবদুল মান্নানের বাইরে দল কাউকে প্রার্থী হিসেবে ভাবছে না। তবে দীর্ঘ ৫ বছর জুলুম নির্যাতন-হামলা মামলা এবং কারাভোগের কারণে শারীরিকভাবে অসুস্থ হয়ে পড়েছেন অধ্যাপক মান্নান। তিনি যদি এবার মেয়র পদে নির্বাচন করতে আগ্রহী না হন তাহলে তার অনুমতি নিয়েই হাসান উদ্দিন সরকারকে ধানের শীষের প্রার্থী করার সম্ভাবনা রয়েছে।
খালেদার মুক্তি আগে তারপর নির্বাচন
বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ বলেছেন, খালেদা জিয়ার মুক্তি বাংলাদেশের মানুষ নিশ্চিত করবে রাজপথে, আদালতে যদি না পারি। খালেদা ছাড়া নির্বাচন হবে না। খালেদার মুক্তি না হওয়া পর্যন্ত নির্বাচন নিয়ে আমাদের প্রশ্ন না করাই ভালো। আগে তার মুক্তি নিশ্চিত করবো তারপর নির্বাচনে অংশ নেবো। বুধবার সন্ধ্যায় জাতীয় প্রেসক্লাবের কনফারেন্স লাউঞ্জে অপরাজেয় বাংলাদেশ আয়োজিত আলোচনা সভায় এ মন্তব্য করেন মওদুদ আহমদ। মওদুদ বলেন, এই সরকারের আমলে বিচারের আগে রায় হয়ে যায়। মামলা চলমান অবস্থায় পার্লামেন্টে দাঁড়িয়ে প্রধানমন্ত্রী বললেন যে, খালেদা জিয়া চোর। আমরা একজন প্রধানমন্ত্রীর কাছে এমন বক্তব্য প্রত্যাশা করি নাই। অপরাজেয় বাংলাদেশের সভাপতি ফরিদা মনি শহিদুল্লাহর সভাপতিত্বে এ সময় উপস্থিত ছিলেন আয়োজক সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক ইসমাইল হোসেন সিরাজী, সাবেক সংসদ সদস্য ইসমাঈল হোসেন বেঙ্গল, ওদুদ ভূইয়া, এনডিপির মহাসচিব মঞ্জুর হোসেন ঈসা প্রমুখ।
কেউ হাত গুটিয়ে বসে থাকবে না নেত্রীর মুক্তি না দিলে:রিজভী
বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে মুক্তি না দিলে কেউ হাত গুটিয়ে বসে থাকবে না বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন দলের সিনিয়র যুগ্ম-মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী। সরকারের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন,৭৩ বছর বয়স্ক এই জাতীয় নেত্রীর প্রকৃত শারীরিক অবস্থা কী তা এখনো আমরা জানি না। তার মুক্তি নিয়ে যে টালবাহানা শুরু করেছেন, তা বন্ধ করুন। তা না হলে কেউ হাত গুটিয়ে বসে থাকবে না। বুধবার নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন। রিজভী বলেন,দেশনেত্রী খালেদা জিয়াকে ছাড়া আগামী জাতীয় নির্বাচন এদেশে হবে না। এটাই শেষ কথা। তিনি বলেন,জিডিপি প্রবৃদ্ধি বাড়ার সরকারি ঘোষণা চাপাবাজি। রাজকোষ কেলেঙ্কারিসহ সমস্ত ব্যাংক লুট করে ফোকলা করে দেয়া হয়েছে। ব্যাংকের স্বাভাবিক লেনদেনেও বর্তমানে প্রভাব পড়ছে, বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভ কমতে কমতে এখন সর্ব নিম্ন পর্যায়ে। রেমিটেন্সে ধস নেমেছে, দুঃশাসনের কবলে পড়ে দেশি-বিদেশি বিনিয়োগে স্থবিরতা বিরাজ করছে, রপ্তানি আয় কমছে ব্যাপক হারে। উন্নয়নের নামে চলছে দেশজুড়ে হরিলুট। বিএনপির এ নেতা আরও বলেন, গ্লোবাল কম্পোজিটিভ ইনডেক্স বলছে, এশিয়ার মধ্যে নেপালের পরই সবচেয়ে খারাপ রাস্তা বাংলাদেশে। তার পরও জিডিপি প্রবৃদ্ধি বাড়ার সরকারি ঘোষণা চাপাবাজি। বর্তমানে আওয়ামী লীগ একটি বিরাট দুর্নীতি ও চুরির মহাবিদ্যালয় এমন মন্তব্য করে করে বিএনপির এই নেতা বলেন,যেখানে হাজার হাজার কোটি টাকা আত্মসাতের শিক্ষা দেয়া হয়। চুরি বিদ্যা মহাবিদ্যা একমাত্র আওয়ামী লীগই অর্জন করেছে। আর এসবের বিরুদ্ধে প্রতিবাদী কণ্ঠস্বর হিসেবেই খালেদা জিয়াকে মিথ্যা জালিয়াতির নথির মাধ্যমে বানোয়াট মামলায় বন্দী রাখা হয়েছে। কিন্তু এতে সরকারের শেষ রক্ষা হবে না। এক প্রশ্নের জবাবে রিজভী বলেন,২০ দলীয় জোট এখনো ঐক্যবদ্ধ আছে। অলি ভাই (অলি আহম্মেদ) অনেক প্রোগ্রাম করছেন দেশনেত্রী খালেদা জিয়ার মুক্তির জন্য। তবে সরকারের পক্ষ থেকে সেল গঠন করা হয়েছে। তাদের কাজ প্রপাগান্ডা চালানো। আসন বণ্টন নয়, আগামী নির্বাচনের আগে নেত্রীকে মুক্ত করতে হবে। তার নেতৃত্বেই নির্বাচনে অংশগ্রহণ করা হবে। সংবাদ সম্মেলনে আরো উপস্থিত ছিলেন, বিএনপির ভাইস-চেয়ারম্যান মীর মোহাম্মদ নাসির উদ্দিন আহমেদ, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা ব্যারিস্টার জিয়াউর রহমান, কবির মুরাদ, সহ-দপ্তর সম্পাদক তাইফুল ইসলাম টিপু, বেলাল আহমেদ প্রমুখ।

রাজনীতি পাতার আরো খবর