কোন্দলে হুঁশিয়ারি,শেখ হাসিনা কঠোর
সদ্য সমাপ্ত স্থানীয় সরকার নির্বাচনে ব্যক্তিস্বার্থে যারা নৌকার বিরোধিতা করেছেন, তারা এমপি পদে দলীয় মনোনয়ন পাবেন না। তারা দলীয় পদধারী হলে বহিষ্কৃত হবেন। দলীয় নেতা-কর্মী ও এমপিদের প্রতি এমন হুঁশিয়ারি আওয়ামী লীগ সভানেত্রী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার। শনিবার রাতে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী সংসদের বৈঠকে কেন্দ্রীয় নেতা ও দলের এমপিদের এ বার্তা দেন প্রধানমন্ত্রী। টানা তৃতীয় মেয়াদে ক্ষমতায় আসতে প্রার্থী বাছাইয়ে চমক দিয়ে ঝুঁকিমুক্ত হতে চান তিনি। চার স্তরের রিপোর্ট ও ব্যাপক যাচাই-বাছাই শেষে তিনি তুলে দেবেন দলীয় প্রতীক নৌকা। যারা ক্ষমতায় থেকে জনবিচ্ছিন্ন, দখলবাজ, নিজের আধিপত্য বিস্তার করতে সাংগঠনিক ক্ষতি করেছেন, এলাকায় গডফাদারের ভূমিকায় দলকে করেছেন বিতর্কিত, এমন এমপি-মন্ত্রী নৌকায় চড়তে পারবেন না। এ ব্যাপারে দলীয় প্রধান শেখ হাসিনা কঠোর। দলীয় সূত্রমতে, আগামী ডিসেম্বরে একাদশ জাতীয় নির্বাচনের জোর সম্ভাবনা রয়েছে। আর মাত্র নয় মাসের কম সময় হাতে রয়েছে। এ নির্বাচনে হ্যাটট্রিক জয় করাই আওয়ামী লীগের প্রধান লক্ষ্য। এজন্য প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এক বছর আগেই দলীয় প্রার্থী বাছাইয়ে কাজ শুরু করে দিয়েছেন। বর্তমানে মন্ত্রী-এমপিদের কে কী করছেন সে তথ্য ছাড়াও তিনি সম্ভাব্য মনোনয়ন প্রত্যাশীদের ব্যাপারে খোঁজখবর নেওয়া অব্যাহত রেখেছেন। অনেককে ডেকে এনে তিনি সংশোধন হওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন। সূত্র জানায়, আওয়ামী লীগকে সবচেয়ে ভাবনায় ফেলেছে অভ্যন্তরীণ দলাদলি। দলীয় কোন্দলই আওয়ামী লীগের বিজয়ের পথে কাঁটা হয়ে দাঁড়াতে পারে বলে দলের উচ্চ পর্যায় মনে করছে। জেলায় জেলায় নেতার সঙ্গে এমপির, এমপির সঙ্গে মন্ত্রীর, এমনকি এমপির সঙ্গে নিজ দলের স্থানীয় সরকারের বিভিন্ন পর্যায়ের জনপ্রতিনিধির দ্বন্দ্ব চরম আকার ধারণ করেছে। শুধু এমপিই নয়, আওয়ামী লীগ সমর্থিত পেশাজীবীদের দ্বন্দ্বের চিত্রও এখন প্রকাশ্যে। সদ্য সমাপ্ত ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন ও সুপ্রিম কোর্ট বার অ্যাসোসিয়েশন নির্বাচনে আওয়ামী লীগ সমর্থিত প্রার্থীদের হারের কারণ হিসেবে দলের অভ্যন্তরীণ কোন্দলকে চিহ্নিত করা হয়েছে। গত শনিবার রাতে গণভবনে আওয়ামী লীগের কার্যনির্বাহী সংসদের বৈঠকে এ দুটি নির্বাচন নিয়ে ব্যাপক আলোচনা হয়। সভায় খাদ্যমন্ত্রী অ্যাডভোকেট কামরুল ইসলাম সুপ্রিম কোর্টের কয়েকজন আইনজীবী নেতার নাম উল্লেখ করে বলেন, সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবীদের মধ্যে একটা কথা প্রচলন আছে,ওকে শোয়াইয়া দাও। আমাদের দলের প্রার্থীদের পরাজয়ের অন্যতম কারণ হচ্ছে সিনিয়র কয়েকজন নেতা। তারা চাননি বলেই আমাদের প্রার্থীদের শোয়াইয়া দিয়েছে। সুপ্রিম কোর্টের নির্বাচনে পরাজয়ের কারণ চিহ্নিত করতে আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য কাজী জাফর উল্লাহর নেতৃত্বে পাঁচ সদস্যের কমিটি গঠন করা হয়েছে। একই সঙ্গে ইউপি নির্বাচনে যারা বিদ্রোহী ছিলেন, যেসব নেতা ও এমপি-মন্ত্রী নিজের বলয় ঠিক রাখতে বিদ্রোহী প্রার্থীদের মাঠে রেখেছিলেন, তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে যুগ্ম ও সাংগঠনিক সম্পাদকদের নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। শেখ হাসিনা হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেন, ব্যক্তিস্বার্থে সদ্য সমাপ্ত স্থানীয় সরকার নির্বাচনে যারা নৌকার বিরোধিতা করেছেন, তারা যদি এমপি হয়ে থাকেন বা এমপির জন্য মনোনয়ন চান, আমার হাত থেকে তারা মনোনয়ন পাবেন না। সূত্রমতে, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা চার ধাপে দলীয় প্রার্থী চূড়ান্ত করছেন। ইতিমধ্যে দলীয় প্রার্থীদের ব্যাপারে তার হাতে কয়েক দফা রিপোর্ট এসেছে। কিছু কিছু এমপি-মন্ত্রীর এলাকায় গডফাদারের ভূমিকা, বিএনপি ও জামায়াত-শিবিরের নেতা-কর্মীদের দলে ভেড়ানো, সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড চালানো, নির্বাচনী এলাকার জনগণের সঙ্গে সম্পর্ক না রাখা ও এলাকায় খুবই কম যাওয়া, নিজস্ব বলয় সৃষ্টির মাধ্যমে তৃণমূল নেতা-কর্মীদের বিভক্ত করে রাখা, স্বজনপ্রীতি ও অযোগ্যদের দলে গুরুত্বপূর্ণ পদ দেওয়া, চাকরি দেওয়ার কথা বলে নেতা-কর্মীদের কাছ থেকে লাখ লাখ টাকা নিয়ে চাকরি না দেওয়া ও টাকা ফেরত না দেওয়া, বিরুদ্ধে বললেই হামলা-মামলা দিয়ে হয়রানি বা পঙ্গু করে দেওয়া অথবা জীবন নিয়ে নেওয়া, ত্যাগী নেতা-কর্মীদের সঙ্গে দুর্ব্যবহার এবং বিদ্যুতের লাইন দেওয়ার নাম করে জনসাধারণের কাছ থেকে বাড়তি টাকা নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এ ছাড়া স্থানীয়ভাবে পুলিশকে ব্যবহার করে নিজ দলীয় নেতা-কর্মীদের হয়রানির মতো অভিযোগও আছে কোনো কোনো এমপির বিরুদ্ধে। এমন অভিযোগ যাদের বিরুদ্ধে রয়েছে, তাদের এবার দলীয় মনোনয়ন দেওয়া হবে না। আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য আবদুল মতিন খসরু বলেন,প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পরিষ্কার বার্তা হচ্ছে- জনসম্পৃক্ততা না থাকলে একাদশ নির্বাচনে দলের মনোনয়ন নয়। শনিবার আওয়ামী লীগের কার্যনির্বাহী সংসদের বৈঠকেও তিনি পরিষ্কারভাবে বলেছেন, যাদের বিরুদ্ধে নানা অভিযোগ আছে, তাদের তাঁর (শেখ হাসিনা) হাত থেকে মনোনয়ন দেবেন না। তিনি বলেন,উন্নয়নের ধারাবাহিকতা ধরে রাখতে একাদশ সংসদ নির্বাচনে আমাদের বিজয় অর্জন করতে হবে। এজন্য যেখানে যেমন প্রার্থী প্রয়োজন, সেখানেই তাই দেওয়া হবে। যত বড় প্রভাবশালীই হোন না কেন, বিতর্কিতরা নৌকা পাবেন না। আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক আবু সাঈদ আল মাহমুদ স্বপন বলেন,সমাজ, দল-নৈতিকতাবিরোধী কেউ আওয়ামী লীগের মনোনয়ন পাবেন না। জনসম্পৃক্ত, সমাজহিতৈষী ও দলের প্রতি কমিটমেন্ট এমন গুণ যাদের আছে, তারাই দলের প্রার্থী তালিকায় থাকবেন।
চার সিদ্ধান্ত বিএনপি নেতাদের বৈঠকে
সিনিয়র নেতাদের বৈঠকে চারটি সিদ্ধান্ত নিয়েছে বিএনপি। সরকারের কৌশল ও বিভ্রান্তি সৃষ্টির ব্যাপারে সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বন, দলের সাংগঠনিক সফর ও দায়িত্বশীলতার সঙ্গে প্রতিবেদন তৈরি, চলমান আন্দোলন জোরদার করা এবং সিটি করপোরেশন নির্বাচনে অংশগ্রহণ ও দলীয় প্রার্থীর পক্ষে সর্বাত্মক নির্বাচন পরিচালনার কৌশল প্রণয়ন। বৈঠকে অংশ নেয়া একাধিক নেতা এ তথ্য জানিয়েছেন। বিএনপির একাধিক দায়িত্বশীল নেতা জানান, কারাগারে যাওয়ার আগে দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের পরামর্শে ও সিনিয়র নেতাদের সমন্বিত মতামতের মাধ্যমে দল পরিচালনার নির্দেশনা দিয়ে গেছেন খালেদা জিয়া। সে অনুযায়ী দলের সিনিয়র নেতাদের সম্মিলিত মতামতের ভিত্তিতেই চূড়ান্ত করা হচ্ছে সব সিদ্ধান্ত। নেতারা জানান, বৈঠকের শুরুতেই দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে একটি নির্দেশনামূলক বক্তব্য দেন। বিএনপি নেতারা জানান, সরকারের ধারণা ছিল জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় সাজা পেয়ে খালেদা জিয়া কারাগারে গেলে রাজনীতির মাধ্যমে বড় ধরনের ইমেজ সংকটে পড়বেন তিনি ও তার দল। অন্যদিকে চাপ ও লোভে ফেলে নেতাদের একাংশের মাধ্যমে বিএনপিতে ভাঙন ধরানো যাবে। কিন্তু সরকারের দুটি ধারণাই মিথ্যা প্রমাণ করেছে দেশের মানুষ ও দলের নেতাকর্মীরা। কিন্তু তার বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগকে বিশ্বাস করেনি দেশের মানুষ। কারাগারে গিয়ে ইমেজ সঙ্কটের চেয়ে উল্টো জনপ্রিয়তা বেড়েছে খালেদা জিয়ার। অন্যদিকে দলের নেতাকর্মীদের নানা ক্ষোভ-বিক্ষোভও ভুলিয়ে দিয়েছে খালেদা জিয়ার কারাবাস। নেতৃত্বের সর্বস্তরে সবধরনের দ্বিধাদ্বন্দ্ব ভুলে এককাতারে অবস্থান করছেন নেতারা। দলে ভাঙন ধরানোর ব্যাপারে যাদের নিয়ে গুঞ্জন তৈরি করা হয়েছিল বাস্তবে তারাই বেশি সক্রিয় আইনি লড়াই ও রাজপথের কর্মসূচিতে। নেতারা জানান, প্রাথমিক কৌশলে ব্যর্থ হয়ে সরকার এখন নতুন কৌশলে এগোনোর চেষ্টা করছে। বিএনপি নেতাদের দ্বন্দ্ব ও পরস্পরের প্রতি অবিশ্বাস তৈরির অপচেষ্টা চলছে। অন্যদিকে কারাগারে প্রথম তিনদিন ডিভিশন না দেয়া, প্রাপ্যসুবিধা বঞ্চিত করা, পরিত্যক্ত ভবনে রাখা ও ব্যক্তিগত চিকিৎসকদের সাক্ষাতের সুযোগ না দেয়ার পরও মানসিকভাবে টলেনি খালেদা জিয়ার মনোবল। কিন্তু স্বাভাবিকভাবেই বয়সজনিত কিছু অসুস্থতা রয়েছে ৭৩ বছর বয়সী খালেদা জিয়ার। ফলে খালেদা জিয়ার অসুস্থতা নিয়ে ধোঁয়াশা তৈরির মাধ্যমে নতুন কৌশল করছে সরকার। একদিকে অসুস্থতার কথা বলে গত বুধবার তাকে জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট মামলায় আদালতে হাজির করা হয়নি। একই কারণে বাতিল করা হয়েছে তার সঙ্গে দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের বুধবার ও বৃহস্পতিবারের নির্ধারিত সাক্ষাৎ। বৃহস্পতিবার সিভিল সার্জনের নেতৃত্বে একটি চিকিৎসক টিম ও রোববার বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের একটি টিম কারাগারে গিয়ে খালেদা জিয়ার স্বাস্থ্য পরীক্ষা করেন। কিন্তু কারাবিধি মেনে বারবার আবেদনের পরও খালেদা জিয়ার ব্যক্তিগত চিকিৎসকদের সাক্ষাতের সুযোগ দেয়নি কারা কর্তৃপক্ষ। এমন পরিস্থিতিতে চিকিৎসার জন্য খালেদা জিয়াকে বিদেশে পাঠানোর একটি গুঞ্জন ছড়িয়ে পড়েছে রাজনৈতিক মহলে। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় খালেদা জিয়ার ছোটভাই শামীম এস্কান্দার ও তার পরিবার এবং জিয়া পরিবারের ছোট ছেলে প্রয়াত আরাফাত রহমানের স্ত্রী শর্মিলী রহমানসহ স্বজনরা কারাগারে গিয়ে তার সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। অন্যদিকে বিএনপি মহাসচিবের একটি বক্তব্যকে বিকৃত করে খালেদা জিয়ার বিদেশে চিকিৎসা নিয়ে সে গুঞ্জনকে জোরদার করে তোলা হয়। নেতারা জানান, বৈঠকে সিদ্ধান্ত হয়েছে- নেতাদের মধ্যে পরস্পরের বিরুদ্ধে সন্দেহ-অবিশ্বাস সৃষ্টি, খালেদা জিয়ার চিকিৎসা সংক্রান্ত ব্যাপারে সরকারের সকল কৌশলের ব্যাপারে সর্বোচ্চ সতর্ক থাকতে হবে। এসব ব্যাপারে বক্তব্য দেয়ার সময় সতর্কতার সঙ্গে কথা বলতে হবে। দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের নির্দেশনা অনুযায়ী সবাইকে একই সুরে কথা বলতে হবে। এ ব্যাপারে বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান আবদুল্লাহ আল নোমান বলেন, দীর্ঘ একযুগ ক্ষমতার বাইরে রয়েছে বিএনপি। বড় রাজনৈতিক দল হিসেবে নেতৃত্বের প্রতিযোগিতায় নেতাকর্মীরা কাঙ্ক্ষিত মূল্যায়ন পায়নি। তারপরও এ সময় একজন নেতাকর্মী দল ছেড়ে যায়নি। এটা প্রমাণ করে বিএনপিতে ভাঙন ধরানোর চেষ্টা করে সফল হবে না সরকার। তারপরও আমাদের সবাইকে সবসময় সতর্ক থাকতে হবে। আরেক ভাইস চেয়ারম্যান আবদুল আউয়াল মিন্টু বলেন, এটা খুবই অভাবনীয়, সিনিয়র নেতাদের ঐক্য দেখে আমাদের দলের নেতারা উজ্জীবিত। নেতারা জানান, চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে কারাগারে পাঠানোর পর আন্দোলনের অংশ হিসেবেই সাংগঠনিক কর্মকাণ্ডগুলো অব্যাহত ও নেতাকর্মীদের চাঙ্গা রাখার অংশ হিসেবে জেলাপর্যায়ের সাংগঠনিক সফরের উদ্যোগ নেয়া হয়। এজন্য শীর্ষ নেতৃত্বের তরফে সিনিয়র নেতাদের নেতৃত্বে বেশকিছু টিমও গঠন করা হয়। এ সফরে বিএনপির আন্দোলনে জনসম্পৃক্ততা বাড়ানোর পাশাপাশি দলের মধ্যে কোনও সমস্যা থাকলে তা সমাধানের চেষ্টা করতে হবে। বৈঠকে সিদ্ধান্ত হয়েছে- নেতাদের যাকে যে জেলায় সাংগঠনিক সফরের দায়িত্ব দেয়া হয়েছে তারা যেন সফরগুলো সম্পন্ন করেন। সেই সঙ্গে আন্তরিকতা ও দায়িত্বশীলতার সঙ্গে সাংগঠনিক প্রতিবেদন তৈরি করে যথাযথ সময়ে শীর্ষ নেতৃত্বের কাছে জমা দেন। এক্ষেত্রে কোনো ধরনের অবহেলার অভিযোগ পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্ট নেতাকে জবাবদিহি করতে হবে। নেতারা জানান, চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার মুক্তি ও নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে সুষ্ঠু জাতীয় নির্বাচনের দাবিতে বিএনপির চলমান আন্দোলনের নানাদিক পর্যালোচনা করা হয় বৈঠকে। বেশির ভাগ নেতাই চলমান আন্দোলনের ইতিবাচক দিকগুলো তুলে ধরেন। বিশেষ করে খালেদা জিয়া কারাগারে গেলে বিএনপি কড়া আন্দোলনের যাবে এবং সে সুযোগকে কাজে লাগিয়ে নৈরাজ্য সৃষ্টি করে বিএনপি নেতাকর্মীদের ঘাড়েই তার দায়ভার চাপাবে সরকার সমর্থকরা- এমন একটি আশঙ্কা ছিল বিএনপির। অতীত আন্দোলনের পূর্বাপর থেকে শিক্ষা নিয়ে এবার সে পথে হাঁটেনি। এতে একদিকে সরকার যেমন বিরোধী নেতাকর্মী দমনে সফল হয়নি তেমনি দেশের মানুষের কাছে প্রশ্নবিদ্ধ হয়নি বিএনপির আন্দোলন। বরং বিএনপির শান্তিপূর্ণ আন্দোলন কর্মসূচি এবং সেসব কর্মসূচিতে সরকারের বাধার কারণে বেড়েছে জনমত ও জনপ্রিয়তা। চলমান শান্তিপূর্ণ কর্মসূচির ধারাবাহিকতায় জনসম্পৃক্ততামূলক নতুন কিছু কর্মসূচি দেয়ার কথা বলেন নেতারা। সে আলোচনায় ঢাকাসহ সারা দেশে সমাবেশ আয়োজনে পুলিশের অনুমতির অপেক্ষা এবং পুলিশি অনুমতির সরকারি কৌশল সম্পর্কে পর্যালোচনা করা হয়। বৈঠকে নেতারা বলেন, পুলিশি অনুমতির মাধ্যমে রাজনীতি নিয়ন্ত্রণ করছে সরকার। কিন্তু কর্মসূচি পালনে সবসময় এ অনুমতির অপেক্ষা কর্মীদের মনোবল নষ্ট করতে পারে। বৈঠকে খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবিতে চলমান আন্দোলন আরও কীভাবে জোরদার করা যায় তা নিয়েও আলোচনা হয়েছে। বৈঠকে সিদ্ধান্ত হয়েছে- শান্তিপূর্ণ আন্দোলনকে পর্যায়ক্রমে জোরদার করতে হবে। প্রয়োজনে পুলিশের অনুমতি ছাড়াই সভা-সমাবেশ আয়োজনের পদক্ষেপ নিতে হবে। তবে এক্ষেত্রে কোনোভাবেই তাড়াহুড়ো বা হঠকারি কোন সিদ্ধান্ত নেয়া যাবে না। নেতারা জানান, মামলাগুলো আইনিভাবে মোকাবিলাকে প্রাধান্য দেয়ার নির্দেশনা ছিল চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার। কিন্তু সরকার পদে পদে নানা কৌশল করে জামিন প্রক্রিয়াকে বিলম্বিত করেছে। বৈঠকে নেতারা মত দেন, এ পর্যায়ে এসে আইনি লড়াইয়ের পাশাপাশি রাজনৈতিকভাবে মোকাবিলার বিষয়টিও গুরুত্ব দিতে হবে। দলের ভাইস চেয়ারম্যান মো. শাহজাহান বলেন, চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবিতে শান্তিপূর্ণ আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে। তবে সরকার যদি কোনো সমঝোতায় না আসে, তাহলে রাজনৈতিক দল হিসেবে যে ধরনের কঠোর আন্দোলনে যাওয়া দরকার আমরা যাবো, সে বিষয়ে আলোচনা করা হয়েছে। নেতারা জানান, নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে জাতীয় নির্বাচনের দাবিতে আন্দোলন করে আসছে বিএনপি। তারা এখন পর্যন্ত সে লক্ষ্য থেকে সরে আসেনি। এছাড়া বর্তমান সরকার ও নির্বাচন কমিশনের অধীনে সুষ্ঠু নির্বাচনের পরিবেশ ও নির্বাচন পরিচালনার সম্ভাবনা একেবারেই ক্ষীণ। কিন্তু গণতান্ত্রিক রাজনৈতিক দল হিসেবে ভোটের মাঠে বিএনপির উপস্থিতি এবং নির্বাচনে অংশগ্রহণ একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। কারণ স্থানীয় সরকার নির্বাচনের মাধ্যমে মানুষের দুয়ারে দুয়ারে পৌঁছানো যায়। এতে একদিকে সাংগঠনিক ভিত মজবুত হয় অন্যদিকে জাতীয় নির্বাচনের কিছুটা প্রস্তুতিও সারা হয়। তাই জাতীয় নির্বাচনের বছরে আন্দোলনের অংশ হিসেবে আসন্ন সিটি করপোরেশন নির্বাচনগুলোতে অংশগ্রহণ জরুরি। সিটি করপোরেশন নির্বাচনে অংশগ্রহণের ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নেয়ার বিষয়টি সিনিয়র নেতাদের উপর ছেড়ে দিয়েছিলেন কারাবন্দি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া ও লন্ডনে অবস্থানরত ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। বৈঠকে নেতারা একবাক্য নির্বাচনের পক্ষে মত দিয়েছেন। বৈঠকে সিদ্ধান্ত হয়- আসন্ন গাজীপুর ও খুলনা সিটি করপোরেশন নির্বাচনে অংশ নেবে বিএনপি। সার্বিক প্রতিকূল পরিস্থিতিতেও বিজয় ছিনিয়ে আনার লক্ষ্যেই নির্বাচনী প্রস্তুতি নিতে হবে। সরকারের কৌশলগুলো বিবেচনায় রেখেই প্রচারনা ও নির্বাচন পরিচালনায় বিএনপিকে পাল্টা কৌশল ঠিক করতে হবে। নির্বাচনী প্রচার ও পরিচালনায় কাজে লাগাতে হবে দক্ষ, বিশ্বস্ত ও ত্যাগী নেতাকর্মীদের। দলীয় প্রার্থী মনোনয়নে সর্বাধিক গুরুত্ব দিতে হবে তৃণমূল নেতাকর্মীদের মতামত। বৈঠকে গাজীপুর ও খুলনা সিটি করপোরেশন নির্বাচনে দলের সম্ভাব্য মেয়র প্রার্থীদের নাম নিয়েও আলোচনা হয়। তবে সিদ্ধান্ত নেয়া হয়- দলের পক্ষ থেকে স্থানীয় নেতাকর্মীদের মতামত সংগ্রহ ও পর্যালোচনার মাধ্যমে ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের সঙ্গে আলোচনা করে স্থায়ী কমিটিসহ সিনিয়র নেতারা প্রার্থীর নাম চূড়ান্ত করবেন। বৈঠক সূত্র জানায়, গাজীপুর সিটি নির্বাচনে মেয়র পদে পরিবর্তন আসতে পারে। এক্ষেত্রে গাজীপুরে হাসান উদ্দিন সরকার ও খুলনায় মনিরুজ্জামান মনি আলোচনায় এগিয়ে রয়েছেন। এ ব্যাপারে বৈঠক শেষে দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর সাংবাদিকদের বলেন, সুষ্ঠু ভোট নিয়ে সংশয় থাকলেও আমরা গাজীপুর ও খুলনা সিটি করপোরেশন নির্বাচনে অংশ নেব। বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার মুক্তির আন্দোলন আরও গতিশীল করার লক্ষ্যে আন্দোলনের অংশ হিসেবেই আমরা এই নির্বাচনে অংশগ্রহণের সিদ্ধান্ত নিয়েছি। এছাড়া গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়াকে অব্যাহত রাখা, জনগণের অধিকার প্রয়োগের সৃযোগ সৃষ্টির জন্য আমরা এই নির্বাচনে অংশগ্রহণ করব। বিএনপি স্থায়ী কমিটির সদস্য লে. জে. (অব.) মাহবুবুর রহমান বলেন, বৈঠকে সকল নেতাই একমত পোষণ করেছেন খালেদা জিয়াকে মুক্ত করেই আগামী নির্বাচনে যাবে বিএনপি। এদিকে দলের সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রিজভী আহমেদ সাংবাদিকদের বলেন, গাজীপুর ও খুলনা সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করেছে নির্বাচন কমিশন। দুটি নির্বাচনই দলীয় প্রতীকে অনুষ্ঠিত হবে। ফলে প্রধানমন্ত্রী বাংলাদেশের যে প্রান্তেই নৌকার পক্ষে ভোট চান না কেন তা ঘোষিত তফসিলের মধ্যে পড়ে এবং সেটা নির্বাচনী আচরণ বিধিমালার সুস্পষ্ট লঙ্ঘন। সূত্র: মানবজমিন
আ লীগের জন্য পরীক্ষা সিটি নির্বাচন
আসন্ন সিটি করপোরেশন নির্বাচনে জয় নিয়ে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস। সোমবার দুপুরে রাজধানীর মৌচাক এলাকায় খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবিতে লিফলেট বিতরণকালে সাংবাদিকদের কাছে এসব কথা বলেন। আব্বাস বলেন, এই নির্বাচন আওয়ামী লীগের জন্য একটা পরীক্ষা তারা কতটুকু সুষ্ঠু করতে পারে। আমরা মনে করি জনগণের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণের মাধ্যমে এই নির্বাচনে তারা কিছু করতে পারবে না। বিএনপির প্রার্থী জয়লাভ করবে। বেগম খালেদা জিয়ার সঙ্গে বিএনপির মহাসচিবসহ তিনি দেখা করার চেষ্টা করেও দেখা করতে পারেননি জানিয়ে মির্জা আব্বাস বলেন, উনি কতটুকু সুস্থ, কতটুকু অসুস্থ, সরকার যা বলছে আমরা সেটুকুই মনে করছি। আসলে উনি কতটুকু অসুস্থ আছেন, আমরা তো ভালোই দেখে আসছিলাম। সেদিন জেলখানা থেকে যখন আনলো না আদালতে, তখন স্বাভাবিকভাবে একটা প্রশ্ন ওঠে। এখন আমরা আইনের দিক এবং কর্মসূচির মাধ্যমে এগিয়ে যাবো। বিএনপির শান্তিপূর্ণ কর্মসূচিতে সরকারের বাধার অভিযোগ তুলে সাবেক এই মন্ত্রী বলেন, ভয়াবহ করুণ পরিণতির জন্য এই স্বৈরাচারী সরকারকে প্রস্তুত থাকতে হবে।
সরকার দুর্নীতিকেও এক দলীয় করেছে: খসরু
বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেছেন, আপনি দুর্নীতি করতে চাইলেই তা করতে পারবেন না। আওয়ামী লীগ দুর্নীতিকেও একদলীয় করে ফেলেছে। এখন দুর্নীতিও একদলীয়ভাবে চলছে। তাদের বাইরে কারো দুর্নীতি করার কোন সুযোগ নেই। আপনি দুর্নীতি করতে চাইলে তাদের সঙ্গে থাকতে হবে। সোমবার দুপুরে জাতীয় প্রেসক্লাবে খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবিতে জাতীয়তাবাদী প্রজন্ম ৭১ কর্তৃক আয়োজিত প্রতিবাদ সভায় তিনি এ কথা বলেন। আমির খসরু বলেন, এই সরকার ১৭ বছর আগে দুর্নীতির জন্য স্বীকৃতি পেয়েছে। এখন পেয়েছে স্বৈরতন্ত্রের স্বীকৃতি। আগামীতে শ্রেষ্ঠ দুর্নীতিবাজ সরকারের স্বীকৃতি পাওয়ার অপেক্ষায় আছে। ইতিমধ্যে মানুষের কাছে সে স্বীকৃতি পেয়ে গেছে। আমির খসরু বলেন, রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতায় যেমন সন্ত্রাস হচ্ছে তেমনি রাষ্ট্রের পৃষ্ঠপোষকতায় দুর্নীতি হচ্ছে অভিযোগ করে। তিনি বলেন, রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতায় যখন দুর্নীতি হয় সেটা ছোট সংখ্যায় হয়না। হাজারর হাজার কোটি টাকার দুর্নীতি হচ্ছে। কুইক রেন্টালের নামে কুইক দুর্নীতি হয়েছে আর মেগা প্রজেক্টে মেগা দুর্নীতি হচ্ছে। বাংলাদেশের মানুষের সমস্ত সম্পদ কেড়ে নিয়েছে। ব্যাংকে এখন টাকা নেই। ঋণের মাধ্যমে ব্যাংক খালি করেছে। আর এটা পূরণ করছে ট্যাক্সের টাকা দিয়ে। খালেদা জিয়ার কারাবাসের বিষয়ে তিনি বলেন, উনি জেল খাটছেন গণতন্ত্রের জন্য। বাড়ি হারাতে হয়েছে, আদরের ছেলেকে হারিয়েছেন এই গণতন্ত্রের জন্য। আগামীতে উনি বিশ্বনেতা হবেন। বিশ্ববাসীর কাছে গণতন্ত্রের মাতা হিসেবে পরিচিত হবেন। আজ যারা তাকে কারাগারে রেখেছেন তারা বুঝতে পারছেন না কাকে আটকে রেখেছেন। প্রতিবাদ সভায় সভাপতিত্ব করেন সংগঠনের সভাপতি ঢালী আমিনুল ইসলাম রিপন। উপস্থিত ছিলেন বিএনপি চেয়ারম্যান ভবরকত উল্লাহ বুলু, জাতীয় পার্টির (কাজী জাফর) প্রেসিডিয়াম সদস্য আহসান হাবীব লিংকন, বিএনপির সহ সাংগঠনিক সম্পাদক অ্যাডভোকেট আব্দুস সালাম আজাদ, নির্বাহী সদস্য আবু নাসের রহমত উল্লাহ, রফিক শিকদার, নিপুণ রায় চৌধুরী প্রমুখ।
বিএনপি বলুক -কী- এমন কাজ তারা করেছে,জনগণ তাদের ভোট দেবে?
আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেছেন, বিএনপি বলুক কী এমন কাজ তারা করেছে, যা দেখে জনগণ ভোট দিয়ে নির্বাচনে তাদের জয়ী করবে। সোমবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে শ্রীনগর উপজেলা বাজার এলাকায় বেইলি ব্রিজের কাজ পরিদর্শন শেষে তিনি এ কথা বলেন। ওবায়দুল কাদের বলেন, নির্বাচনে আসা না আসা বিএনপির গণতান্ত্রিক অধিকার, সরকারের দয়া নয়। নিজেদের এ অধিকার তারা নিজেরাই প্রয়োগ করবে। মন্ত্রী বলেন, খালেদা জিয়া গ্রেফতারের পর যখন কারাগারে গেলেন, বিএনপি তখন ভেবেছিল সারা দেশে আন্দোলনের জোয়ার আসবে। কিন্তু কোথাও কোনো আন্দোলন হয়নি। খালেদা জিয়া যখন জেলে গেলেন, সেই সময়ও তারা আন্দোলন করতে পারেনি। জনগণ যখন নির্বাচনের মুডে, তখন আন্দোলনের ডাকে জনগণ সাড়া দেবে এটি দুঃস্বপ্নের নামান্তর। দেশের মানুষ তাদের আন্দোলনে ৯ বছরে সাড়া দেয়নি, ৯ মাসেও দেবে না। বিএনপির রাজনীতি এখন ভাঙা রেকর্ড বাজানোর মতো,বলেন সেতুমন্ত্রী। আগামী নির্বাচনেও আওয়ামী লীগের জয় হবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, শেখ হাসিনা সারা দেশে কয়েকটি জায়গায় জনসভা করেছেন। এসব জনসভা বিশেষ করে ফখরুল সাহেবের বাড়ি ঠাকুগাঁওয়ে যেভাবে লোক সমাগম হয়েছিল স্বাধীনতার পর তা কখনও হয়নি। চাঁদপুরে সর্ববৃহৎ জনসভায় যে উপস্থিতি হয়েছে, তাতে প্রমাণ হয় আগামী নির্বাচনেও জনগণ আওয়ামী লীগের নৌকাকে নির্বাচিত করবে। কাদের বলেন, চাঁদেরও কলঙ্ক থাকে, আওয়ামী লীগ তো একটা সরকার, আমাদের ভুলত্রুটি কিছু থাকতেই পারে। আমাদের কাজ জনগণের কাছে দিবালোকের মতো পরিষ্কার।
কী হবে কারাবন্দী খালেদা জিয়ার
কী হবে কারাবন্দী বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার? তিনি কি একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন করতে পারবেন? তার শারীরিক অবস্থাই বা এখন কেমন? অসুস্থ থাকলে তার চিকিৎসা কোথায় হবে-দেশে না বিদেশে? এ নিয়ে হাজারো প্রশ্ন বিএনপি নেতা-কর্মী ও সমর্থকদের। আগ্রহের শেষ নেই রাজনৈতিক পর্যবেক্ষক মহলেও। বিএনপি চেয়ারপারসনের শারীরিক সুস্থতা নিয়ে পুরোটাই রহস্যে ঘেরা। এ নিয়ে রাজনৈতিক উত্তাপও বইছে। গত বৃহস্পতিবার তাকে আদালতে নেওয়া হয়নি অসুস্থতার কারণ দেখিয়ে। বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে কারাগারে সাক্ষাতের সুযোগও দেওয়া হয়নি একই কারণে। কারাকর্তৃপক্ষ অবশ্য বলছে, সুস্থ আছেন বেগম খালেদা জিয়া। তবে পারিবারিক সদস্যদের বাইরে দলীয় নেতাদের সাক্ষাতে বাধা নিয়েও নানা প্রশ্ন উঠছে। বেগম জিয়ার শারীরিক অসুস্থতা নিয়ে বিতণ্ডায় জড়িয়ে পড়েছে প্রধান দুই দল আওয়ামী লীগ ও বিএনপি। গত বৃহস্পতিবার বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুলের পূর্ব নির্ধারিত সাক্ষাৎ অসুস্থতার কারণ দেখিয়ে বাতিল করায় বিএনপিতে সন্দেহ আরও পাকাপোক্ত হয়েছে। দলটি দাবিই করে বসে, গোপনে বেগম জিয়াকে বিদেশে পাঠানোর চেষ্টা করেছিল সরকার। তবে গতকাল স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান বেগম জিয়ার অসুস্থতার খবর নাকচ করে দিয়েছেন। সাতক্ষীরার দেবহাটা থানার নতুন ভবন উদ্বোধনকালে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, খালেদা জিয়ার কোনো গুরুতর সমস্যার কথা আমরা শুনিনি, যার জন্য তাকে বিদেশে পাঠাতে হবে। তিনি (খালেদা জিয়া) জানিয়েছিলেন অসুস্থ বোধ করছেন। তার অনুরোধে ডাক্তার পরীক্ষা-নিরীক্ষা করেছেন। ডাক্তার জানিয়েছেন, তিনি আগের রোগে ভুগছেন। নতুন কোনো রোগ তার মধ্যে পাওয়া যায়নি। ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারের চিকিৎসক ডা. মাহমুদুল হাসান শুভ বলেন,বার্ধক্যজনিত কয়েকটি সমস্যা ছাড়া বেগম জিয়ার শারীরিক অবস্থা যথেষ্ট স্বাভাবিক। তিনি নিয়মমতো খাবার খাচ্ছেন। একই বক্তব্য কারাগারের দুজন পদস্থ কর্মকর্তার। তাদের দাবি,খালেদা জিয়ার অসুস্থতা নিয়ে বাইরে পাল্টাপাল্টি যেসব বক্তব্য দেওয়া হচ্ছে তার সঙ্গে বাস্তবতার কোনো মিল নেই। তিনি পুরোপুরি সুস্থ রয়েছেন। বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ প্রশ্ন তুলে বলেন,এ নিয়ে সরকার সুস্পষ্ট কোনো ব্যাখ্যা দিচ্ছে না। এ কারণেই সন্দেহ আরও বেড়েছে। তা ছাড়া তাঁর অসুস্থতা যদি নাই থাকে, তাহলে বৃহস্পতিবার আদালতে কেন আনা হলো না। তখন তো অসুস্থতার কথাই বলা হয় আদালতকে। আমি মনে করি, এ ব্যাপারে সরকারের একটি আনুষ্ঠানিক বক্তব্য থাকা উচিত। গত শুক্রবার বিকাল সাড়ে ৪টার দিকে বেগম খালেদা জিয়ার প্রয়াত পুত্র আরাফাত রহমান কোকোর স্ত্রী শর্মিলা রহমানসহ ছয়জন স্বজন তার সঙ্গে কারাগারে গিয়ে দেখা করেছেন। বাকিরা হলেন- নাতনি জাহিয়া রহমান, ভাই শামীম এস্কান্দার, ভাবী কানিজ ফাতেমা, শামীম এস্কান্দারের ছেলে অভিক এস্কান্দার ও ভাগ্নে ডা. মো. মামুন। এই প্রথম কোকোর স্ত্রী খালেদা জিয়ার সঙ্গে দেখা করতে কারাগারে গেলেন। প্রায় ৩০ মিনিটকাল অবস্থানের সময় তারা খালেদা জিয়ার শারীরিক অবস্থার খোঁজখবর নেন ও কথা বলেন। পরিবারের এক সদস্য জানান, বেগম জিয়া শারীরিকভাবে মোটামুটি ভালোই আছেন। তবে হাঁটুতে একটু ব্যথা আছে। এটা আগেই ছিল। নাজিম উদ্দীন রোডের ১৭ একর জমির ওপর পুরনো কেন্দ্রীয় কারাগারে গত ৫২ দিন ধরে বন্দী বেগম খালেদা জিয়া। তিনি সেখানে কীভাবে সময় পার করছেন এই নিয়ে আগ্রহের শেষ নেই দলের নেতা-কর্মীসহ সাধারণ মানুষের। ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারের সিনিয়র জেল সুপার জাহাঙ্গীর কবীর বলেন, বেগম খালেদা জিয়ার স্বাস্থ্যের দেখভাল করার জন্য একজন ফার্মাসিস্ট এবং একজন চিকিৎসক সার্বক্ষণিক দায়িত্ব পালন করছেন। তিনি চাইলেই তাদের ডেকে স্বাস্থ্য পরীক্ষা করিয়ে নিচ্ছেন। এর বাইরে নিয়মমতো খাবার গ্রহণসহ সবকিছুই স্বাভাবিক তার। সূত্র জানায়, একাদশ জাতীয় নির্বাচনে বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া অংশ নিতে পারবেন কি না তা স্পষ্ট নয়। নির্বাচনের আগে তার মুক্তি মিলবে কি না তাও পরিষ্কার করে বলা যাচ্ছে না। বিএনপি নেতারা অবশ্য বলছেন, সরকার চাইছে, বেগম খালেদা জিয়াকে বাইরে রেখেই নির্বাচন। সেখানে তারা বিএনপির একটি অংশকেও চায়। এ জন্য তারা বিএনপির কারও কারও সঙ্গে যোগাযোগও করছেন। একইভাবে বিএনপি জোটের নেতাদেরও খালেদা জিয়া বিহীন নির্বাচনে অংশ নেওয়ার চেষ্টায় রয়েছে সরকার। এ ব্যাপারে জোটের ছোট বড় দলের নেতাদের সঙ্গেও নানাভাবে কথাবার্তা চলছে। এ নিয়ে নানা প্রলোভনের পাশাপাশি ভয়ভীতিও দেখানো হচ্ছে বলে জানান বিএনপি ও জোটের নেতারা। বিএনপি নেতারা অবশ্য বলছেন, সরকার যত চেষ্টাই করুক বিএনপি ভাঙবে না। এমনকি জোটও ভাঙবে না। এর আগেও সরকার একাধিকবার চেষ্টা করেছিল কিন্তু বিএনপির কেউই দল ত্যাগ করেনি। জোটও অটুট রয়েছে। এগুলো হচ্ছে একটি অপপ্রচার। তা ছাড়া বেগম জিয়ার কারাগারে যাওয়ার পর থেকে বিএনপি নেতা-কর্মীরা সবাই ঐক্যবদ্ধ। বিএনপি এখন আগের চেয়ে বেশি শক্তিশালী। বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ বলেন,বিএনপির সামনে এখন তিনটি এজেন্ডা রয়েছে। প্রথম এজেন্ডা হচ্ছে- বেগম খালেদা জিয়াকে মুক্ত করতে হবে। এ জন্য আইনি লড়াইয়ের পাশাপাশি রাজপথে আন্দোলন গড়ে তুলতে হবে। সরকার যত কৌশল আর ষড়যন্ত্রই করুক না কেন-বেগম খালেদা জিয়াকে বন্দী করে রাখতে পারবে না। খালেদা জিয়াকে ছাড়া বিএনপি নির্বাচনেও যাবে না। দ্বিতীয়ত, একটি নির্দলীয় নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে জাতীয় নির্বাচনের দাবি আদায় করতে হবে। তৃতীয়ত, দেশের মানুষের প্রতিনিধিত্ব করতে হবে সম্পূর্ণ গণতান্ত্রিক পন্থায়।
দলীয় কোন্দল-গ্রুপিং অনুসন্ধানে পাঁচ সদস্যের কমিটি গঠন,আওয়ামী লীগের
সারাদেশে দলীয় কোন্দল-গ্রুপিং এবং কি কারণে নির্বাচনে দলীয় প্রার্থীরা পরাজিত হচ্ছেন তা অনুসন্ধানে পাঁচ সদস্যের কমিটি গঠন করেছে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ। শনিবার সন্ধ্যায় প্রধানমন্ত্রীর সরকারি বাসভবন গণভবনে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী সংসদের সভায় আলোচনার পর এ কমিটি গঠন করা হয়। সভায় উপস্থিত একাধিক নেতা বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য কাজী জাফরুল্লাহর নেতৃত্বে এ কমিটিতে রয়েছেন- যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুব উল আলম হানিফ, ডা. দীপু মনি, জাহাঙ্গীর কবির নানক ও মো. আব্দুর রহমান। সভায় উপস্থিত একাধিক নেতা জানান, দলের প্রচার সম্পাদক হাছান মাহমুদ দলীয় কোন্দলের প্রসঙ্গ টেনে সভায় বক্তব্য উত্থাপন করেন। এরপর পুরো বৈঠকে দলের বিভিন্ন স্তরে কোন্দল নিরসনের বিষয় নিয়েই আলোচনা করেন প্রায় সব কেন্দ্রীয় নেতারা। কেন্দ্রীয় নেতাদের বক্তব্যে সম্প্রতি অনুষ্ঠিত সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির নির্বাচনেও কোন্দলের কারণে আওয়ামী লীগ সমর্থিত প্রার্থীদের পরাজিত হয়েছে বলে দাবি করা হয়। একই সঙ্গে নেতাদের বক্তব্যে উঠে আসে স্থানীয় সরকার নির্বাচন, বিভিন্ন পেশাজীবী সংগঠনের নির্বাচনে আওয়ামী লীগ সমর্থিত প্রার্থীদের পরাজয়ের বিভিন্ন দিক। পরে অনুসন্ধান কমিটিকে সুপ্রিম কোর্ট বার নির্বাচনে পরাজয়ের কারণ অনুসন্ধান করে দলীয় প্রধানের নিকট প্রতিবেদন জমা দেয়ার নির্দেশ দেন দলীয় প্রধান শেখ হাসিনা। নেতাদের বক্তব্য শুনে দলের ও নৌকার বিরুদ্ধে বিভিন্ন এলাকায় যেসব নেতা ও এমপি অবস্থান নিয়েছে তাদেরকে ভবিষ্যতে নৌকা প্রতীক দেয়া হবে না বলে হুঁশিয়ারি করেন আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। সভায় দলের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য কাজী জাফরুল্লাহকে প্রধান করে চার যুগ্ম সাধারণ সম্পাদকের সমন্বয়ে গঠিত কমিটিকে সারাদেশে দলের গ্রুপিংয়ে জড়িতদের চিহ্নিত ও তাদের বিষয়ে বিস্তারিত তুলে ধরে দ্রুত প্রতিবেদন জমা দেয়ার নির্দেশ দেন আওয়ামী লীগ প্রধান। একই সঙ্গে সারাদেশের এ সকল কোন্দল-গ্রুপিং নিরসনে কাজ করার পাশাপাশি মে মাসে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া বার কাউন্সিল নির্বাচন তদারকি করার নির্দেশ দেয়া হয় কমিটিকে। অপর দিকে ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থীদের পরাজয়ের কারণ অনুসন্ধানে সংশ্লিষ্ট সাংগঠনিক সম্পাদকদের দায়িত্ব দেয়া হয়। এদিকে বাংলাদেশ উন্নয়নশীল দেশের মর্যাদা লাভ করায় আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে নাগরিক সংবর্ধনা প্রদানের বিষয়ে আলোচনার সূত্রপাত করেন আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মো. আব্দুর রহমান। পরে একে একে এ প্রসঙ্গে আলোচনায় যোগ দেন দলের প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক হাছান মাহমুদ, এস এম কামাল হোসেনসহ সভায় উপস্থিত অধিকাংশ নেতারা। সভায় উপস্থিত ওই নেতারা জানান, কোন তারিখে সংবর্ধনা দেয়া হবে তা নির্ধারণ হয়নি। কারণ আগামী মাসে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বেশ কয়েকটি সরকারি সফরে লন্ডন, অস্ট্রেলিয়াসহ বিভিন্ন দেশে অবস্থান করবেন। তবে আগামী ১৭ মে আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনার স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবসের দিন এ সংবর্ধনা আয়োজনা করা হতে পারে বলেও সভায় আলোচনা হয়। সূত্র: জাগো নিউজ
জিয়ার শারীরিক অবস্থা নিয়ে মিথ্যাচার করছে বিএনপি নেতারা:কাদের
বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার শারীরিক অবস্থা নিয়ে বিএনপি নেতারা মিথ্যাচার করছে বলে অভিযোগ করেছেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের। শনিবার দুপুরে বাইপাইল- আব্দুল্লাহপুর মহাসড়কের আশুলিয়ার জিরাবোতে মহাসড়কের উন্নয়ন কাজ পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের সাথে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন। ওবায়দুল কাদের বলেন, ইতোমধ্যে কারাগারে থাকা বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার সাথে দেখা করেছে সিভিল সার্জন। খালেদা জিয়ার অসুস্থতা নিয়ে মেডিকেল বোর্ড গঠন করা হবে। তিনি বলেন, মেডিকেল বোর্ড যদি মনে করেন এদেশেই খালেদা জিয়ার চিকিৎসা করা সম্ভব তাহলে দেশেই চিকিৎসা করা হবে। আর যদি মেডিকেল বোর্ড মনে করেন দেশে চিকিৎসা হবে না তাহলে বিদেশে নিয়ে চিকিৎসা করা হবে। সেতুমন্ত্রী বলেন, বিএনপি ক্ষমতায় থাকতে দেশে নীল নকশার নির্বাচন করতে চেয়েছিলো, আওয়ামী লীগ কখনো দেশে নীল নকশা নির্বাচন করে না। আগামী রোজার ঈদের আগে টাঙ্গাইল-চন্দ্রা ও বাইপাইল-আব্দুল্লাহপুর মহাসড়কে যানজট হবে না বলে জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, আমি এখানে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক হিসেবে আসেনি মন্ত্রী হিসেবে রাষ্ট্রীয় কাজে এসেছি। তাই আমি আসলে কোনো নেতাকর্মী যেন শোডাউন না করে। এসময় উপস্থিত ছিলেন ঢাকা-১৯ আসনের সংসদ সদস্য ডা. এনামুর রহমান, যুবলীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক ফারুক হাসান তুহিন, সাভার উপজেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক দেওয়ান মেহেদী হাসান মঞ্জু, আশুলিয়া থানা যুবলীগের আহ্বায়ক কবির হোসেন সরকার, আশুলিয়া থানা যুবলীগের সাবেক প্রতিষ্ঠাতা সাধারণ সম্পাদক শাহাদাৎ হোসেন খাঁনসহ সড়ক বিভাগের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।
বিএনপি গণতন্ত্র থেকে এক হাজার মাইল দূরে সরে গেছে:ইনু
বিএনপি গণতন্ত্র থেকে এক হাজার মাইল দূরে সরে গেছে বলে মন্তব্য করেছেন তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু। তিনি বলেন,কখনো আগুন সন্ত্রাস করে, কখনো জঙ্গি সন্ত্রাস করে, কখনো সংসদ বয়কট করে তাঁরা গণতন্ত্রের ঘর থেকে বেরিয়ে গেছেন। তাঁরা গণতন্ত্র থেকে এখন এক হাজার মাইল দূরে। তারা কখনো পাকিস্তানের পক্ষে ওকালতি করে, কখনো রাজাকারকে নিয়ে জঙ্গি সন্ত্রাস করে, সেই বিএনপি এখন গণতন্ত্রের জন্য চিৎকার করছে। শনিবার কুষ্টিয়া শহরের একটি অবকাশ যাপন কেন্দ্রে বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেল বাংলাভিশনের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর অনুষ্ঠানে যোগ দিয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এসব কথা বলেন মন্ত্রী। ইনু বলেন,বিএনপির মুখে গণতন্ত্র, খালেদা জিয়ার মুখ গণতন্ত্র কিন্তু আচলে এবং পকেটে তাদের হচ্ছে রাজাকার, জঙ্গি এবং জামায়াত এবং আগুন সন্ত্রাসীরা। কার্যত তারা গণতন্ত্রের জন্য বিশ্বাসযোগ্য কোনো রাজনৈতিক দল নয়। বরঞ্চ বিএনপি বার বার প্রমাণ করেছে যে বিএনপি হচ্ছে খুনিদের আস্তানা এবং রাজাকার, জঙ্গি সন্ত্রাসীদের ঠিকানা। সেই বিএনপি বাংলাদেশের রাজনীতিতে একটা বিপজ্জনক প্রতিষ্ঠান হিসেবে এখনো টিকে আছে কেবল আইনের জোরে। আমরা মনে করি যে প্রচলিত যে আইন আছে সেই আইনে বিএনপি দলগতভাবে নির্বাচন করতে পারে। সে ব্যাপারে কোনো আইন এখনো পরিবর্তন হয়নি। সুতরাং বিএনপিকে বাদ দিয়ে কোনো নির্বাচনের পরিকল্পনা সরকারের নেই। তথাকথিত সহায়ক সরকারের রূপরেখাহীন সহায়ক সরকারের প্রস্তাব, খালেদা জিয়ার মুক্তির প্রস্তাব- এসব অপরাধীদের ছাড় দেওয়ার প্রস্তাব, আগুন সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে মামলা না করার প্রস্তাব নির্বাচনে অংশগ্রহণের পূর্বশর্ত হিসেবে যদি বিএনপি দাঁড় করায় তাহলে আমরা বলব যে কোনো শর্ত দিয়ে নির্বাচনে অংশগ্রহণ করার বিষয়টার নিষ্পত্তি হতে পারে না। বিএনপি মূলত নির্বাচন বানচাল ও বর্জন করার চক্রান্ত করছে বলেও অভিযোগ করেন তথ্যমন্ত্রী। বাংলাভিশনেরর প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর সংক্ষিপ্ত আলোচনা শেষে কেক কেটে রযালিতে অংশ নেন তথ্যমন্ত্রী। পরে সেখানেই মন্ত্রীকে গার্ড অব অনার দেওয়া হয়। এ সময় জেলা প্রশাসন, পুলিশ প্রশাসনের কর্মকর্তারা ছাড়াও জেলা জাসদের নেতাকর্মীরা ও সাংবাদিকরা উপস্থিত ছিলেন।

রাজনীতি পাতার আরো খবর