খালেদা জিয়ার নাইকো মামলায় অভিযোগ শুনানি ১৫ জানুয়ারি
নাইকো দুর্নীতি মামলায় ১১ আসামির মধ্যে আরও চারজনের অভিযোগ থেকে অব্যাহতির আবেদনের শুনানি শেষ হয়েছে। জামিনে থাকা মামলার প্রধান আসামি সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া, সাবেক আইনমন্ত্রী ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ ও সাবেক জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী এ কে এম মোশাররফ হোসেনের আবেদনের শুনানির দিন আগামী বছরের ১৫ জানুয়ারি ধার্য করেছেন আদালত। ঢাকার ৯ নম্বর বিশেষ জজ মাহমুদুল কবীরের আদালতে মামলাটির অভিযোগ (চার্জ) গঠনের শুনানি চলছে। এর অংশ হিসেবে প্রথমে নেওয়া হচ্ছে আসামিদের অভিযোগ থেকে অব্যাহতির আবেদনের শুনানি। সোমবার আবেদনের শুনানি শেষ হওয়া চার আসামি হলেন- সাবেক সচিব মো. শফিউর রহমান, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ মন্ত্রণালয়ের সাবেক ভারপ্রাপ্ত সচিব খন্দকার শহীদুল ইসলাম, ঢাকা ক্লাবের সাবেক সভাপতি সেলিম ভূঁইয়া ও ব্যবসায়ী গিয়াস উদ্দিন আল মামুন। এর আগে জ্বালানি ও খনিজসম্পদ মন্ত্রণালয়ের সাবেক সিনিয়র সহকারী সচিব সি এম ইউছুফ হোসাইনের পক্ষে মামলা থেকে অব্যাহতির বিষয়ে শুনানি হয়। এ নিয়ে মোট ৫ আসামির আবেদনের শুনানি শেষ হলো। গত ২০ নভেম্বর দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) স্পেশাল পাবলিক প্রসিকিউটর মোশাররফ হোসেন কাজল বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াসহ মামলার ১১ আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনের আবেদন জানান। কানাডার কোম্পানি নাইকোর সঙ্গে অস্বচ্ছ চুক্তির মাধ্যমে রাষ্ট্রের বিপুল পরিমাণ আর্থিক ক্ষতিসাধন ও দুর্নীতির অভিযোগে খালেদা জিয়াসহ পাঁচজনের বিরুদ্ধে দুদকের সহকারী পরিচালক মুহাম্মদ মাহবুবুল আলম ২০০৭ সালের ০৯ ডিসেম্বর তেজগাঁও থানায় মামলাটি করেন। ২০০৮ সালের ৫ মে এ মামলায় খালেদা জিয়াসহ ১১ জনের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র (চার্জশিট) দাখিল করেন দুদকের সহকারী পরিচালক এস এম সাহেদুর রহমান। অভিযোগপত্রে প্রায় ১৩ হাজার ৭৭৭ কোটি টাকার রাষ্ট্রীয় ক্ষতির অভিযোগ আনা হয়। নাইকো ছাড়াও গ্যাটকো ও বড়পুকুরিয়া কয়লাখনি দুর্নীতি মামলার বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে তা বাতিলের আবেদন জানিয়ে পৃথক পৃথক রিট করেছিলেন খালেদা জিয়া। এসব রিট আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে দুর্নীতি মামলাগুলোর কার্যক্রম স্থগিত ও রুল জারি করেছিলেন হাইকোর্ট।
জনগণের রায় নিয়ে সরকার ক্ষমতায় আসেনি
বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর সরকারের উদ্দেশে বলেছেন, অনেক হয়েছে। জোর করে অনেকদিন ক্ষমতায় টিকে আছেন। বাংলাদেশের সব প্রতিষ্ঠান ধ্বংস করে দিয়েছেন। আর নয়। এখন দেয়ালের ভাষা পড়ুন। জনগণের মুখের ভাষা দেখুন। একটি নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে অবাধ গ্রহণযোগ্য নির্বাচন করে জণগণের হাতে ক্ষমতা তুলে দিন।বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী কাজী জাফর আহমেদের প্রথম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে কুমিল্লার চৌদ্দগ্রাম উপজেলার চিওড়ায় এক সমাবেশে শনিবার (২৭ আগস্ট) দুপুরে এসব কথা বলেন ফখরুল। এর আগে বিএনপি মহাসচিব কাজী জাফর আহমেদের কবর জিয়ারত এবং পারিবারিক মিলাদ ও দোয়ার মাহফিলে অংশ নেন। ফখরুল বলেন, জনগণের রায় নিয়ে সরকার ক্ষমতায় আসেনি। নির্বাচনের নামে তারা ১৫৪ জনকে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় এমপি বানিয়েছে। শতকরা ৫ জন মানুষও তাদের ভোট দেয়নি। ৭২ থেকে ৭৫ সালে ছেলে কর্তৃক পিতার মাথা কেটে ফুটবল খেলার ইতিহাস আমরা ভুলে যাইনি। তারা গান পাউডার দিয়ে বাসের ১১ যাত্রীকে পুড়িয়ে মারে। সরকার ইতিহাস ভুলে গিয়ে আমাদের ১ হাজার ভাইকে হত্যা, শ সহকর্মীকে গুম ও হাজার হাজার ভাইকে পঙ্গু ও প্রত্যেকের নামে ১০-১৫টি করে মামলা দিয়েছে। সাংবাদিকদের উদ্দেশে তিনি বলেন, সাংবাদিকদের লেখার স্বাধীনতা সরকার কব্জায় নিয়েছে। এখন আর তারা যা দেখে তা লিখতে পারে না। সাগর-রুনিসহ ২৯ জন সাংবাদিক হত্যার বিচার এখনও হয়নি। মির্জা ফখরুল আক্ষেপ করে বলেন, সারা দেশের মানুষের বিরোধিতার পরও সরকার ভারতের স্বার্থে সুন্দরবনে কয়লা দিয়ে রামপাল বিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণ করছে। এতে নদী মাছশূন্য ও দক্ষিণাঞ্চল মরুভূমিতে পরিণত হবে। দেশের স্বার্থ রক্ষায় সরকার জনগণের দাবির প্রতি কর্ণপাত করছে না। জাতীয় পার্টির কুমিল্লা দক্ষিণ জেলা সভাপতি এয়ার আহমেদ সেলিমের সভাপতিত্বে উক্ত অনুষ্ঠানে প্রধান বক্তা ছিলেন জাপার (জাফর) মহাসচিব মোস্তফা জামাল হায়দার। বিশেষ অতিথি ছিলেন জাগপার চেয়ারম্যান শফিউল আলম প্রধান, ন্যাপের মো. ফরহাদ, বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক কর্নেল আনোয়ারুল আজিম, কুমিল্লা সিটি মেয়র মনিরুল হক সাক্কু, বিভাগীয় সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক মোস্তাক মিয়া। এসময় কুমিল্লা জেলা ও চৌদ্দগ্রাম উপজেলার বিএনপি, জাতীয় পার্টি ও জামায়াতের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতারা উপস্থিত ছিলেন।
বিএনপির নেতাকর্মীরা প্রতিনিয়ত মিথ্যা কথা বলে :স্বাস্থ্যমন্ত্রী
বিএনপির নেতাকর্মীরা প্রতিনিয়ত ‘কুৎসা’ প্রচার করে মন্তব্য করে স্বাস্থ্যমন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম বলেছেন, খালেদা জিয়াসহ বিএনপির নেতাকর্মীরা প্রতিনিয়ত মিথ্যা কথা বলে। প্রতিনিয়ত আমাদের নামে কুৎসা প্রচার করে থাকেন। এজন্য খালেদা জিয়াসহ বিএনপির নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে কুৎসা ও মিথ্যা প্রচার করার মামলা হওয়া উচিত।শেখ হাসিনা জাতীয় বার্ন ইন্সটিটিউট ও ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের আইসিইউতে বর্ধিত বেড পরিদর্শন শেষে তিনি এ কথা বলেন। স্বাস্থ্যমন্ত্রী আরো বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার অধীনেই আগামী নিবার্চন অনুষ্ঠিত হবে। আর এই নির্বাচনে বিএনপি অংশগ্রহণ করবে। আওয়ামী লীগ চিরদিনই জনগণের ভোটে নির্বাচিত হয়েছে। বিএনপি’ই বারবার সামরিক শাসন জারি করে ক্ষমতা দখল করেছে। পরিদর্শন কালে স্বাস্থ্যমন্ত্রীর সাথে জাতীয় বার্ন ইউনিটের সমন্বয়ক ডা. সামন্ত লাল সেন, বার্ন ইউনিটের পরিচালক আবুল কালাম আজাদ, ঢামেক হাসপাতাল পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল একেএম নাসির উদ্দিন প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।
দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচন সুষ্ঠু হবে না:মির্জা ফখরুল
আগামী জাতীয় নির্বাচন অবশ্যই নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে হবে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি বলেছেন, ‘একটি কথা খুব স্পষ্ট বাংলাদেশের মানুষ আর কখনও ২০১৪ সালের মতো নির্বাচন হতে দেবে না। আমরা নির্বাচন চাই। দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচন সুষ্ঠু হবে না। তাই নির্বাচন অবশ্যই নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে হবে।’ শনিবার দুপুরে জাতীয় প্রেসক্লাব মিলনায়তনে এক আলোচনায় তিনি এসব কথা বলেন। দলের ১০ম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে এ আলোচনা সভার আয়োজন করে বাংলাদেশ কল্যাণ পার্টি। মির্জা ফখরুল বলেন, ‘প্রত্যাশা করি আপনাদের (সরকার) শুভবুদ্ধির উদয় হউক, কথায় কথায় আন্ডারইস্টিমেট করবেন না। দেশের মানুষ সব কিছু মেনে নেবে তা ভাববেন না। এরাই গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠায় স্বৈরাচারকে বিদায় করেছে এবং অধিকার প্রতিষ্ঠায় পাকহানাদারদের বিদায় করতে লড়াই করেছে।’ প্রধানমন্ত্রীকে উদ্দেশ্য করে তিনি বলেন, ‘মিথ্যাচার, অপপ্রচারের মাধ্যমে জনগণকে বিভ্রান্ত করে কি অর্জন করতে চান। আবার নির্বাচন করতে চান। বিএনপিকে নির্বাচন করতে দেয়া যাবে না, নির্বাচন ও রাজনীতি থেকে দূরে রাখতে চান।’ ‘যে সংসদে ১৫৪ জন বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হয় সেই সংসদ বাংলাদেশের মানুষের প্রতিনিধিত্ব করে না। যে আইন তৈরি করা হয়, সংবিধান যেভাবে পরিবর্তন করা হয় সেটা জনগণের জন্য আইন কিংবা সংবিধান নয়। আর এটাই বাস্তবতা,’ যোগ করেন তিনি। ক্ষমতায় যেতে যারা বাধা দেবে ও দিচ্ছে তাদেরকে গুম করছে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ সরকার উল্লেখ করেন বিএনপির মহাসচিব। তিনি বলেন, ‘আওয়ামী লীগ নতুন করে অত্যন্ত সুপরিকল্পিতভাবে মানুষকে বোকা বানিয়ে অধিকার কেড়ে নিয়ে ক্ষমতা পাকাপোক্ত করতে চায়। মূলত আওয়ামী লীগ যখন ক্ষমতায় আসে তখন তাদের আসল চেহারায় ফিরে আসে। সেই চেহারা হচ্ছে ধ্বংসাত্মক ও ফ্যাসিস্ট। মনে রাখতে হবে ফ্যাসিস্টদের বিরুদ্ধে গণতন্ত্রের যে লড়াই তা অসম। তবে আমরা এখন নির্বাচনকে সামনে রেখে আন্দোলন করে যাচ্ছি।’ আলোচনায় অংশ নিয়ে গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের প্রতিষ্ঠাতা ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী বলেন, ‘বিএনপির জন্য আন্দোলন এক মাত্র পথ। অথচ প্রধানমন্ত্রী কথার জালে বিএনপিকে দিনে নয়াপল্টন এবং রাতে গুলশান অফিসে আটকে রেখেছে।’ মির্জা ফখরুলের উদ্দেশ্যে বলেন, ‘আপনি বলেছেন প্রধানমন্ত্রীর বিরুদ্ধে আইনী ব্যবস্থা নিবেন। প্রশ্নটা হচ্ছে আপনি কোন বিচারকের কাছে বিচার চাইবেন, তাদের কি সেই বিচার বিভাগ ও বিবেক আছে। যারা বিচারের আগেই ফাঁসির আদেশ দিয়েছেন।’ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কথার ফাঁদে পড়ে আন্দোলন ব্যাহত না করতে বিএনপিকে পরামর্শ দেন তিনি। জাফরুল্লাহ বলেন, সবাই আজ প্রধানমন্ত্রীর প্রতি ক্ষুব্ধ তবে আমি ততোটা ক্ষুব্ধ নই। কারণ ইতোমধ্যে রাজনৈতিক প্রজ্ঞায় উনি উনার পিতাকে ছাড়িয়ে গিয়েছেন। প্রধানমন্ত্রী আপনি বলেছেন প্রশ্নবিদ্ধ নির্বাচন আর হবে না, তাহলে ভয়টা কোথায়? তবে সম্প্রতি কিছু অসঙ্গতিপূর্ণভাবে প্রধানমন্ত্রী বিরোধী দলের প্রতি উদ্দেশ্য করে বলেছেন বিএনপি নাকে খত দিয়ে নির্বাচনে আসবে। আসলেই কী এটা উনার (প্রধানমন্ত্রী) বক্তব্য নাকি ভারতের কারো কাছ থেকে পাওয়া নির্দেশ? কল্যাণ পার্টির চেয়ারম্যান মেজর জেনারেল (অব.) সৈয়দ মুহাম্মদ ইবরাহিমের সভাপতিত্বে বক্তব্য দেন, জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টি (জাগপা) সভাপতি অধ্যাপিকা রেহেনা প্রধান, ন্যাশনাল ডেমোক্রেটিক পার্টির চেয়ারম্যান খন্দকার গোলাম মোর্তুজা, জাতীয়তাবাদী মুত্তিযোদ্ধা দলের সাধারণ সম্পাদক সাদেক খান, বাংলাদেশ ন্যাপের মহাসচিব গোলাম মোস্তফা ভূঁইয়া, বাংলাদেশ কল্যাণ পার্টির কেন্দ্রীয় নেতা প্রফেসর ডা. ইকবাল হাসান, অ্যাডভোকেট আজাদ মাহমুদ, শাহজাদা আলম, মোহাম্মদ ইলিয়াস হোসেন, সাইদুর রহমান তামান্না, অ্যাডভোকেট এম এ আজিজ, মতিউর রহমান, সৈয়দ নজরুল ইসলাম, নরুল কবির ভূঁইয়া প্রমুখ।
বেগম রোকেয়া ছিলেন এদেশের নারী জাগরণের অগ্রদূত :খালেদা জিয়া
বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেনের জন্ম ও মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে তার স্মৃতির প্রতি গভীর শ্রদ্ধা এবং রুহের মাগফিরাত কামনা করে এক বাণীতে বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া বলেছেন, এদেশের রক্ষণশীল সমাজ ব্যবস্থায় বেড়ে ওঠা বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন ছিলেন এদেশের নারী জাগরণের অগ্রদূত। তিনি তার নিজ জীবনের বাস্তবতার মধ্যে উপলব্ধি করেছিলেন সমাজে নারীর পশ্চাদপদ অবস্থান। উপলব্ধি করেছিলেন শিক্ষাই নারীর আত্মমর্যাদা প্রতিষ্ঠার প্রধান অবলম্বন। তার জীবন-সংগ্রামের লক্ষ্যই ছিল নারী শিক্ষার বিস্তারের মধ্য দিয়ে নারীমুক্তি। আর নারীমুক্তির বাণী বহন করতে গিয়ে তাকে সমাজের গোঁড়া রক্ষণশীলদের প্রচণ্ড আক্রমণের মুখোমুখি হতে হয়েছিল। তা সত্ত্বেও তিনি ছিলেন কর্তব্যকর্মে অদম্য ও অবিচল। বিএনপি চেয়ারপারসন বলেন, বেগম রোকেয়া তার ক্ষুরধার লেখনির মাধ্যমে নারীর প্রতি সমাজের অন্যায় ও বৈষম্যমূলক আচরণের মূলে আঘাত হেনে ছিলেন। সংসার, সমাজ ও অর্থনীতি জীবনের এই তিনটি ক্ষেত্রে নারীকে স্বায়ত্ত্বশাসিত ও আত্মমর্যাদাশীল হতে তিনি গভীরভাবে উদ্বুদ্ধ করেছিলেন। আর এজন্য তিনি বিশ্বাস করতেন নারীকে উপযুক্ত শিক্ষা গ্রহণ করতে হবে। নারী সমাজকে স্বাবলম্বী করতে তিনি সামাজিক আন্দোলন গড়ে তুলে ছিলেন, শত কুপমন্ডুকতার বাধা সত্বেও। বেগম রোকেয়ার কর্মময় জীবন ও আদর্শ নারী সমাজকে আরো উদ্যমী ও অনুপ্রাণিত করবে বলে মন্তব্য করেন বেগম জিয়া। ভিন্ন এক বাণীতে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বেগম রোকেয়ার স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে বলেন, বেগম রোকেয়া এ দেশের নারী জাগরণের এক কিংবদন্তিতুল্য পথিকৃত। তিনি নারী সমাজে শিক্ষার আলো পৌঁছে দিতে যে ভূমিকা পালন করেছেন তা বৈপ্লবিক। তিনি দূরদর্শী দৃষ্টিভঙ্গিতে উপলব্ধি করেছিলেন যে, নারীর ভাগ্যোন্নয়নে শিক্ষা ও স্বাবলম্বিতা গুরুত্বপূর্ণ। বেগম রোকেয়ার জীবন ও তাঁর আদর্শ বাস্তবায়নেই এদেশের নারী সমাজকে আলোকিত ও আত্মনির্ভরশীল করতে প্রেরণা যোগাবে। দেশ ও জাতির কল্যাণে আত্মনিবেদিত হওয়ার জন্য সব নারীর প্রতি আহবান জানান বিএনপি মহাসচিব।
মার্কিন দূতাবাস ঘেরাও করার ঘোষণা দিয়েছে হেফাজতে ইসলাম
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জেরুজালেমকে ইসরাইলের রাজধানী হিসেবে স্বীকৃতি দেয়ায় ১৩ ডিসেম্বর ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস ঘেরাও করার ঘোষণা দিয়েছে হেফাজতে ইসলাম। ওই দিন বেলা ১১টায় দূতাবাস ঘেরাও করা হবে বলে সমাবেশে জানানো হয়। শুক্রবার জুমার নামাজের পর রাজধানীর বায়তুল মোকাররম মসজিদের উত্তরগেটে আয়োজিত এক বিক্ষোভ সমাবেশে এ ঘোষণা দেন হেফাজতের ঢাকা মহানগরের আমির মাওলানা নূর হোসেন কাসেমি। সমাবেশে মাওলানা নূর হোসেন কাসেমি বলেন, মুসলমানদের পবিত্র শহর আল কুদসকে (জেরুজালেম) ইহুদিবাদী ইসরাইলের রাজধানী হিসেবে স্বীকৃতি দেয়ার এ সিদ্ধান্ত প্রত্যাহার করতে হবে। তিনি আরও বলেন, এ সিদ্ধান্ত প্রত্যাহার হওয়ার আগ পর্যন্ত আমাদের আন্দোলন চলবে। আমরা ঘরে ফিরব না। অন্যদিকে জেরুজালেমকে ইসরাইলের রাজধানী হিসেবে স্বীকৃতি দেয়ার প্রতিবাদে ঢাকাসহ সারা দেশে বিক্ষোভ মিছিল করেছেন বিভিন্ন ইসলামি সংগঠন ও সাধারণ মুসল্লিরা।
বক্তব্য প্রত্যাহার করে ক্ষমা না চাইলে প্রধানমন্ত্রীর বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেবে বিএনপি :মির্
খালেদা জিয়াকে জড়িয়ে প্রধানমন্ত্রীর দুর্নীতিসংক্রান্ত বক্তব্য বেআইনি ও শাস্তিযোগ্য অপরাধ বলে মন্তব্য করেছে বিএনপি। শুক্রবার সকালে বিএনপি চেয়ারপারসনের গুলশান কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে এ মন্তব্য করেন দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। বৃহস্পতিবার গণভবনে সংবাদ সম্মেলন করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, সৌদিতে খালেদা জিয়া ও তারেক জিয়ার বিশাল শপিংমল ও সম্পদ পাওয়ার খবর বিদেশ থেকে এসেছে। টাকা পাচার, মানিলন্ডারিং বিএনপি এবং খালেদা জিয়ার ছেলেরা করেছে। এসব বক্তব্য প্রত্যাহার করে ক্ষমা না চাইলে প্রধানমন্ত্রীর বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেবে বলে সংবাদ সম্মেলনে হুশিয়ারি দিয়েছে বিএনপি।
বিএনপির নির্বাচন ঠেকানোর কোনো শক্তি বা সামর্থ্য নেই :রাশেদ খান মেনন
আগাম জাতীয় সংসদ নির্বাচনের কোনো সম্ভাবনা নেই বলে মন্তব্য করেছেন বেসরকারি বিমান ও পর্যটনমন্ত্রী রাশেদ খান মেনন। বৃহস্পতিবার দুপুর ১২টার দিকে মেহেরপুরের গাংনীতে ওয়ার্কার্স পার্টির কার্যালয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী এ কথা বলেন। রাশেদ খান মেনন আরো বলেন, সংবিধানে যেভাবে আছে সেভাবেই নির্বাচন হবে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার অধীনে যে সরকার আছে সেই সরকারের অধীনেই নির্বাচন হবে। নির্বাচনের আয়োজন করবে নির্বাচন কমিশন। মন্ত্রী বলেন, বিএনপির নির্বাচন ঠেকানোর কোনো শক্তি বা সামর্থ্য নেই। পরে মেহেরপুর গাংনীর ভাটপাড়া জেলা প্রশাসক ইকোপার্কের শুভ উদ্বোধন করেন ওয়ার্কার্স পার্টির নেতা। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে জেলা প্রশাসক পরিমল সিংহের সভাপতিত্বে উপস্থিত ছিলেন মেহেরপুর জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি সংসদ সদস্য অধ্যাপক ফরহাদ হোসেন দোদুল, মেহেরপুর-২ আসনের সংসদ সদস্য মকবুল হোসেন, জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এম এ খালেক, ওয়ার্কার্স পার্টির পলিটব্যুরোর সদস্য কমরেড নূর আহম্মেদ বকুল, জেলা কমিটির সাধারণ সম্পাদক কমরেড আবদুল মাবুদ।
বিসিআইএম করিডোর নির্মাণে চীনের সহযোগিতা চাই : ওবায়দুল কাদের
আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের বাংলাদেশ, চীন, ভারত, মিয়ানমার ইকোনমিক করিডোর নির্মাণের জন্য মিয়ানমারকে সহযোগিতা করতে রাজী করানোর জন্য চীনের সহযোগিতা চেয়েছেন। তিনি আজ দুপুরে রাজধানীর হোটেল সোনারগাঁওয়ের সুরমা হলে সফররত চীনা কমিউনিস্ট পার্টির প্রতিনিধিদলের সাথে সৌজন্য সাক্ষাতকালে এ সহযোগিতা চান। আওয়ামী লীগের আমন্ত্রনে চীনের এ প্রতিনিধিদল বাংলাদেশে তিন দিনের সরকারী সফরে রয়েছে। চীনের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের সহকারী মন্ত্রী ওয়াং ইয়াজুনের নেতৃত্বে প্রতিনিধিদলের অন্য সদস্যরা হলেন, চীনের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের মহাপরিচালক জাং সুয়ে, পরিচালক হু জিয়াওদং, তান উই ও মি এবং ফু উইরাং। ওবায়দুল কাদের বলেন,বাংলাদেশ, চীন, ভারত, মিয়ানমার (বিসিআইএম) ইকোনমিক করিডোর বাস্তবায়নের জন্য বাংলাদেশের দুকিলোমিটার রাস্তা নির্মাণ করতে হবে। এ রাস্তা নির্মানের জন্য বাংলাদেশ সরকার আগ্রহী। কিন্তু এ রাস্তা নির্মানের জন্য মিয়ানমারের পক্ষ থেকে কিছু সহযোগিতা দরকার। তিনি বলেন, মিয়ানমার সরকার এ সহযোগিতা করছে না। বাংলাদেশ এ বিষয়ে চীনের সহযোগিতা চায়। সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেন, জাতিসংঘের সাধারণ অধিবেশনে যোগদানের সময় গলব্লাডারে অস্ত্রোপচারের জন্য প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে কয়েক দিন বেশি যুক্তরাষ্ট্রে থাকতে হয়েছে। একই সময়ে মিয়ানমার থেকে রোহিঙ্গা ইনফ্লাক্সকে মোকাবেলা করার জন্য প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশে তাকে দেশে থাকতে হয়। তিনি বলেন, তাই ইচ্ছা থাকা স্বত্বেও আমি চীনে সফর করা আওয়ামী লীগের দুটি সফরে অংশ গ্রহন করতে পারি নি। সমুদ্র ও পাহাড় সকলকেই আলোড়িত করে। কিন্তু পরিস্থিতির কারণে আমি যেতে পারিনি। কাদের বলেন, আমরা নিশ্চিত করছি যে, আমরা এক চীন নীতির সম্পূর্ণ পক্ষে। তিব্বত ও তাইওয়ান চীনের অবিচ্ছেদ্য অংশ বলে আমরা মনেপ্রাণে বিশ্বাস করি। ওবায়দুল কাদের একটি ভালো সময় দেখে চীন সফরে যাওয়ার আগ্রহ ব্যক্ত করেন এবং বিভিন্ন সময়ে আওয়ামী লীগের প্রতিনিধি দলের চীন সফরে সে দেশের আথিতিয়েতার ভূয়সী প্রশংসা করেন। ওবায়দুল কাদেরের নেতৃত্বে আওয়ামী লীগের প্রতিনিধিদলের অন্য সদস্যরা হলেন, আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য অ্যাম্বেসেডর মোহাম্মদ জমির, আওয়ামী লীগের সভাপতিমন্ডলীর সদস্য কর্ণেল (অব.) মুহাম্মদ ফারুক খান, যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক মাহবুব-উল-আলম হানিফ, সাংগঠনিক সম্পাদক ব্যরিস্টার মুহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক ড. হাছান মাহমুদ, দপ্তর সম্পাদক ড. আবদুস সোবহান গোলাপ, আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক শাম্মী আহমেদ, তথ্য ও গবেষনা সম্পাদক এডভোকেট আফজাল হোসেন, মহিলা বিষয়ক সম্পাদক ফজিলাতুন নেসা ইন্দিরা, উপ-দপ্তর সম্পাদক ব্যরিস্টার বিপ্লব বড়য়া ও আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্য নির্বাহী কমিটির সদস্য এডভোকেট রিয়াজুল কবির কাওছার। আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক কাদের দেশের যোগাযোগ ক্ষেত্রে চীনের সহযোগিতার ব্যাপক প্রশংসা করে বলেন, বাংলাদেশের দেশের যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়নে চীন সবচেয়ে বড় অংশীদার। তিনি বলেন, পদ্মা সেতু দেশের সবচেয়ে বড় মেগা প্রকল্প। এটা জাতির স্বপ্নের সেতু। বিশ্ব ব্যাংক বঙ্গবন্ধু পরিবারের সদস্যদের বিরুদ্ধে মিথ্যা অপবাদ দিয়ে অর্থায়ন বন্ধ করে দেওয়ার পর অনেকে ভেবেছিল এ সেতু নির্মিত হবে না। এ সেতু নির্মাণ করার সঙ্গে সাহস এবং সামর্থের বিষয় জড়িত ছিল। কারণ প্রমত্তা পদ্মা নদীর ওপর বিশ্বের বৃহত্তম সেতুগুলোর মধ্যে অন্যতম সেতুটি নির্মিত হবে কিনা সন্দেহ দেখা দিয়েছিল। তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সকল জল্পনা কল্পনার অবসান করে সাহসিকতার সঙ্গে নিজস্ব অর্থায়নে ত্রিশ হাজার কোটি টাকা ব্যয়ে এ সেতু নির্মাণ করার প্রকল্প গ্রহন করেন। চীনের চায়না মেজর ব্রীজ এবং চায়না সিনো হাইড্রো কোম্পানী এ সেতু নির্মানের কাজ পায়। কাদের বলেন, আমরা অত্যন্ত খুশি যে স্পেয়ারের ওপর স্প্যান স্থাপন করেছি। স্বপ্নের পদ্মা সেতু এখন বাস্তবতা। তিনি বলেন, ৮ম চায়না ব্রীজ নির্মানের কাজ প্রায় শেষ পর্যায়ে রয়েছে। ৯ম চায়না ব্রীজ নির্মানে চীনের সহযোগিতা পেতে যাচ্ছি। এ ব্রীজ দেশের উন্নয়নে খুবই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে। সেতুমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশের সঙ্গে অনেক দেশের সম্পর্ক রয়েছে। কিন্তু দেশের যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়নে চীনের মতো আর কোন দেশ এগিয়ে আসে নি। তিনি বলেন, চট্টগ্রামের কর্ণফূলী নদীর তলদেশে টানেল নির্মাণের জন্য চায়নিজ এক্সিম ব্যাংক অর্থায়নে আগ্রহ প্রকাশ করেছে এবং ঢাকা এলিভেটেড এক্সপ্রেস ওয়ে নির্মাণে ইতোমধ্যে চীনের সাথে চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে। তিনি আরো বলেন, চীনের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্ক যেভাবে দৃঢ় হচ্ছে তাতে অচীরেই আওয়ামী লীগের সঙ্গে চীনা কমিউনিস্ট পার্টির পার্টি টু পার্টি সম্পর্ক আরো সম্প্রসারিত হয়ে বাংলীদেশী জনগনের সঙ্গে চীনা জনগনের সম্পর্ক গড়ে উঠবে।বাসস