সরকারের প্রতি বিশ্বাস করা যায় না
গাজীপুরের জনগণকে সাহসী উল্লেখ করে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান বলেছেন, তাই আসন্ন গাজীপুর সিটি করপোরেশন নির্বাচনে সরকার ইচ্ছা করলেও তেমন ক্ষতি করতে পারবে না। মঙ্গলবার বিকেলে গাজীপুরের হাড়িনাল এলাকায় সিটি করপোরেশন নির্বাচনে বিএনপির পক্ষে প্রচারণায় অংশ নিয়ে সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন নজরুল ইসলাম খান। বিএনপির এই নেতা বলেন, ‘যে প্রক্রিয়ায় এই সরকার ক্ষমতায় এসেছে ২০১৪ সালে এবং এই পরবর্তী পর্যায়ে বিভিন্ন নির্বাচনে তার যে আচরণ তাতে এই সরকারের প্রতি বিশ্বাস করা যায় না যে সরকার একটা নির্বিঘ্ন এবং একটা অবাধ সুষ্ঠু নির্বাচন দেবে। নির্বাচন কমিশনের ওপর সরকারের প্রভাব যে কত বেশি এটা আমরা খুলনায় দেখলাম। কিন্তু তারপরও আমরা আশা করি যে মুক্তিযুদ্ধের ঐতিহ্যমণ্ডিত গাজীপুর। এই এলাকার মানুষ অনেক সাহসী এবং আমরা বিশ্বাস করি যে সাহস করে তারা নির্বাচন কেন্দ্রে থাকবে এবং ভোট দেবে এবং সরকার ইচ্ছা করলেও এখানে তেমন কিছু ক্ষতি করতে পারবে না।’ এর আগে হাড়িনাল এলাকায় ধানের শীষ প্রতীকের মেয়র পদপ্রার্থী মুক্তিযোদ্ধা আলহাজ হাসান উদ্দিন সরকারের পক্ষে ভোট চেয়ে লিফলেট বিতরণ করেন নজরুল ইসলাম খান। সেই সঙ্গে বক্তব্য দেন পথসভায়। এ সময় বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক ও গাজীপুর জেলা বিএনপির সভাপতি ফজলুল হক মিলন, বিএনপির আরেক সাংগঠনিক সম্পাদক শামা ওবায়েদ ও স্থানীয় বিএনপির নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
সড়ক দুর্ঘটনার কবলে মোশাররফ, নিহত ১
সড়ক দুর্ঘটনার কবলে পড়েছে বিএনপি’র স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেনের গাড়িবহর। এ ঘটনায় রায়হান নামে এক ছাত্রদলকর্মী নিহত হয়েছেন। মঙ্গলবার (১৯ জুন) দুপুর ১২টায় কুমিল্লার দাউদকান্দি উপজেলা থেকে ২৫টি মাইক্রোবাসের বহর নিয়ে ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) চেয়ারম্যান মুজিবুর রহমানের ছেলের বৌভাত অনুষ্ঠানে যোগ দিতে গিয়ে এ ঘটনা ঘটে। জানা গেছে, দুপুরে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের আমিরাবাদ ইউটার্নে ঢাকাগামী শ্যামলী পরিবহনের একটি বাস বেপরোয়া গতিতে এসে তার বহরের তিনটি মাইক্রোবাস ও দাঁড়িয়ে থাকা দু’টি প্রাইভেটকারকে ধাক্কা দেয়। এতে ঘটনাস্থলেই দাউদকান্দি পৌর ছাত্রদলকর্মী রায়হানের মৃত্যু হয়। এ ঘটনায় পৌর ছাত্রদল সভাপতি আল আমিনসহ গুরুতর আহত হয়েছেন অন্তত ১৫ জন। তাদের মধ্যে ১০ জনকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। দাউদকান্দি হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবুল কালাম আজাদ বলেন, এ ঘটনায় খন্দকার মোশাররফ হোসেনের কিছু হয়নি। আমরা খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে আহতদের উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠিয়েছি।
২১ জুন সারা দেশে বিক্ষোভ সমাবেশ
বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার মুক্তি ও সুচিকিৎসার দাবিতে আগামী ২১ জুন সারা দেশে বিক্ষোভ সমাবেশ করবে বিএনপি। আজ মঙ্গলবার রাজধানীর নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত প্রেস ব্রিফিংয়ে এসব কথা জানান বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী। তিনি জানান, আগামী ২১ জুন দেশের জেলা ও মহানগরীতে বিক্ষোভ সমাবেশ করবে বিএনপি। রুহুল কবির রিজভী বলেন, ‘দেশের সর্বজনপ্রিয় নন্দিত-নেত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে শুধু অন্যায়ভাবে সাজাই দেওয়া হয়নি, এখন তাঁর ওপর চলছে নানা কায়দায় অমানবিক নিষ্ঠুর নির্যাতন। তাঁর শারীরিক অসুস্থতার যাতে যথাযথ চিকিৎসা না হয় তার জন্য সরকার এমন কোনো ফন্দি নাই যা আঁটছে না। চিকিৎসাকে বিলম্বিত করার জন্য মন্ত্রীদের দিয়ে নানা কাহিনী শোনানো হচ্ছে মানুষকে।’ রিজভী বলেন, ‘বারবার কারাবিধির কথা বলে মন্ত্রীরা বেগম জিয়াকে তাঁর যথাযথ চিকিৎসা নিতে বিষয়টিকে গায়ের জোরে আটকাতে চাচ্ছে। কারাবিধি নিয়ে মন্ত্রীদের কথায় মনে হয় তারা যেন ধর্মীয় বাণী আওড়াচ্ছেন যেটির বরখেলাপ হলে মহাপাপ হয়ে যাবে।’ রিজভী আরো বলেন, ‘বেগম খালেদা জিয়া ইউনাইটেড হাসপাতালে চিকিৎসা করাতে চান এইজন্য যে, এর আগে তিনি সেখানে চিকিৎসা নিয়েছেন। তাঁর ব্যক্তিগত চিকিৎসক, উন্নতমানের পরীক্ষা নিরীক্ষার যন্ত্রপাতি-যেগুলো সুযোগ ইউনাইটেড হাসপাতালে রয়েছে বলেই তিনি সেখানে চিকিৎসা করাতে চান। রোগী সাধারণত আস্থাভাজন চিকিৎসকের কাছেই যেতে চান।’ রুহুল কবির রিজভী বলেন, ‘দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া নিজ দেশেরই একটি হাসপাতালে চিকিৎসা করাতে চাচ্ছেন যেখানে তাঁর যথাযথ চিকিৎসা হবে বলে তিনি মনে করেন। আর এই জন্য রাষ্ট্রের কোনো টাকা লাগবে না - তাঁর আত্মীয়স্বজনরাই চিকিৎসার ব্যয় বহন করবে বলে সুস্পষ্টভাবে জানিয়েছেন। ১৮৯৪ সালে কারাবিধি যখন তৈরি হয় তখন ইউনাইটেড বা স্কয়ার হাসপাতাল ছিল না। কিন্তু এখন বেসরকারি হাসপাতালে সেবার মান উন্নতমানের বলেই মানুষ সেখানে ভিড় করে। সরকারি হাসপাতালে বিশেষজ্ঞ ডাক্তার থাকলেও সেবার মান এত নিম্নমানের যে মানুষ জমি-জায়গা বিক্রি করে হলেও বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসে। বিদ্যমান কারাবিধিতেই বর্তমান প্রধানমন্ত্রী স্কয়ারের ন্যায় বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছিলেন, এ বিষয়টি আইনমন্ত্রী, সেতুমন্ত্রী, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এড়িয়ে যান।
খালেদা জিয়ার সাক্ষাৎ পেলেন পরিবারের ২০ সদস্যে
বিএনপি চেয়ারপার্সন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া কারাগারে ঈদ পালন করছেন। এর আগে ১/১১ সরকারের সময় রোজার ঈদ ও কোরবানির ঈদ সংসদ ভবন এলাকার সাব জেলে কাটিয়েছিলেন তিনি। এবার রোজার ঈদ কাটছে নজিম উদ্দিন রোডের পুরনো কেন্দ্রীয় কারাগারে। জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দূর্নীতি মামলায় দুর্নীতির মামলায় ৭৩ বছর বয়সী খালেদা জিয়া দণ্ড পেয়ে চার মাসেরও বেশি সময় ধরে পুরান ঢাকার ওই কারাগারে আছেন। এদিকে শনিবার দুপুরের দিকে খালেদা জিয়ার সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন পরিবারের ২০ সদস্য। স্বজনদের মধ্যে খালেদা জিয়ার বড় বোন সেলিমা ইসলাম, ভাই শামিম এস্কান্দার, ভাইয়ের স্ত্রী কানিজ ফাতেমা এবং তাদের ছেলে অভি এস্কান্দার, খালেদা জিয়ার ভাগ্নে মামুনসহ অন্যান্যরা ছিলেন। তারা খালেদা জিয়াকে খাবার, নতুন কাপড় এবং ফুল দেন। কারা সূত্র জানায়, ঈদ উপলক্ষে কারাবন্দিদের জন্য সাধারণত বিশেষ খাবারের আয়োজন করে কারা কর্তৃপক্ষ। একই আয়োজন ছিল কারাবন্দি খালেদা জিয়ার জন্যও। ঈদের দিন সকালে তার জন্য সেমাই-মুড়ি, পায়েস, ফিন্নি ছিল। দুপুরে ছিল পোলাও, মুরগি-গরুর মাংস, রাতে পোলাও মাছ-মাংস দেয়া হবে। তবে খালেদা জিয়া সাধারণত সকাল ও রাতে রুটি খান। মিষ্টি জাতীয় খাবার তার পছন্দ না হলেও ঈদের দিন সেমাই-পায়েস একটু করে খেয়েছেন। এছাড়া দুপুরে কারা কর্তৃপক্ষ তাকে বিশেষ খাবার সরবরাহ করলেও তিনি পরিবারের দেয়া খাবারই খেয়েছেন। রাতে কারা কর্তৃপক্ষের সরবরাহকৃত সবজি-ডাল ও মুরগির মাংস দিয়ে রুটি খাবেন বলে কারাসূত্রে জানা গেছে। কারাসূত্র জানায়, খালেদা জিয়া খাবারের ক্ষেত্রে খুব সচেতন। তিনি তৈলাক্তযুক্ত খাবার খুব কম খান। মুরগির মাংস খান। গরুর মাংস দুয়েক পিস খান। এছাড়া মাছ যদি খান, তাহলে শিং, পাবদা ও রুই মাছ খান। সকালে ও রাতে রুটি খান। সূত্র জানায়, খালেদা জিয়ার স্বাস্থের অবস্থা আগের মতোই রয়েছে। উন্নতি বা অবনতি বলা যাবে না। টেম্পারেচার বেশি থাকা ও রোজা রাখায় খালেদা জিয়ার শরীর একটু দূর্বল। তবে এটি দুশ্চিন্তার মতো নয়। চার থেকে পাঁচদিনের মধ্যে শরীরের দূর্বলতা কেটে যাবে।
খালেদা জিয়ার সাথে দেখা করতে পারেননি বিএনপি নেতারা
ঈদের দিনে আজ শনিবার কারাবন্দি বিএনপি চেয়ারপরসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার সাথে দেখা করতে গিয়ে বিফল হয়ে ফিরেছন দলটির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরসহ বিএনপি নেতারা। পুলিশের বাধার কারণে কারাগারের সামনেই পৌঁছতে পারেননি বলে জানিয়েছেন বিএনপি নেতারা। এই বিষয়ে ডিএমপির লালবাগ বিভাগের উপ-কমিশনার ইব্রাহিম খান সংবাদমাধ্যমকে বলেন, “যাদের যাওয়ার অনুমতি আছে তারা যাবেন, যাদের অনুমতি নেই, তারা যাবেন না।” তিনি বলেন, আমরা কাউকে আটকাইনি, তবে সেখানে যাতে গ্যাদারিং না হয়, সেজন্য নিরাপত্তার স্বার্থে আমাদের ব্যবস্থা নিতে হয়। অনুমতির বিষয়ে কারা কর্তৃপক্ষের কোনো বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি। চার মাস ধরে কারাবন্দি বিএনপি চেয়ারপারসনের সঙ্গে ঈদের দিন দেখা করতে যাবেন বলে আগেই জানিয়েছিলেন দলটির নেতারা। সেই অনুযায়ী, শনিবার দুপুর ১২টার দিকে মহাসচিব ফখরুলসহ স্থায়ী কমিটির সদস্যরা নাজিম উদ্দিন সড়কের পুরনো কারাগারের সামনে উপস্থিত হন। তবে কারাগারের মূল ফটক থেকে প্রায় আধা কিলোমিটার দূরে পুলিশ ব্যারিকেডে তারা আটকা পড়েন। নেতাদের সঙ্গে প্রায় দুই শ' বিএনপি কর্মীও সেখানে উপস্থিত ছিলেন। পুলিশের বাধার মুখে তারা সেখানে অবস্থান নিয়ে খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবিতে স্লোগান দিতে থাকেন। পরে তারা ফিরে আসেন। বিএনপি মহাসচিব সাক্ষাতের আবেদনের অনুলিপি দেখিয়ে সাংবাদিকদের বলেন, “তিন দিন আগে আমরা সাক্ষাতের জন্য আবেদন করেছিলাম। নিয়ম আছে, ঈদের দিন বন্দির সঙ্গে দেখা করার। কিন্তু পুলিশ আমাদেরকে এখানে আটকিয়ে রেখেছে। জেল গেইটের কাছেও যেতে দিচ্ছে না। এটা অত্যন্ত দুঃখজনক।” দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য খন্দকার মোশাররফ হোসেন বলেন, “পুলিশ আমাদের যেতে দিল না। এটা তাদের কাজ নয়। পুলিশের দায়িত্ব ছিল আমাদেরকে জেল কর্তৃপক্ষের কাছে পৌঁছিয়ে দেওয়া।” স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস বলেন, “আমরা অনেকবার জেল খেটেছি, অনেক বছর জেলে থেকেছি। দেখেছি ঈদের দিন আত্মীয়-স্বজন, কাছের মানুষদের দেখা-সাক্ষাৎ করার সুযোগ থাকে। এবার যে অমানবিক আচরণ করা হয়েছে, এরকম অতীতে আর কখনও দেখিনি।” সেখানে বিএনপি নেতাদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, নজরুল ইসলাম খান, সেলিমা রহমান, বরকতউল্লাহ বুলু, আবদুল আউয়াল মিন্টু, এজেডএম জাহিদ হোসেন, আহমেদ আজম খান, জয়নুল আবদিন ফারুক, শিরীন সুলতানা, আফরোজা আব্বাস, সুলতানা আহমেদ প্রমুখ। বিএনপি নেতারা এর আগে কারাবন্দি চেয়ারপারসনের সাক্ষাৎ পেলেও বিফল হওয়ার ঘটনাও রয়েছে। খালেদা জিয়ার অসুস্থতা নিয়ে আলোচনার মধ্যে কারা মহাপরিদর্শক সৈয়দ ইফতেখার উদ্দিন সম্প্রতি বলেছিলেন, ঈদের দিন স্বজনরা বিএনপি চেয়ারপারসনের সঙ্গে দেখা করার সুযোগ পাবেন, খাবারও নিতে পারবেন। ‘আন্দোলন জোরদার হবে’ খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবিতে আন্দোলনে ‘পর্যায়ক্রমে’ জোরদার করা হবে বলে জানিয়েছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল। সকালে শেরে বাংলা নগরে বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমানের কবরে ফুল দিয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে একথা জানান তিনি। কারাগারে খালেদা জিয়ার সঙ্গে দেখা করতে যাওয়ার আগে জিয়ার সমাধিতে যান তারা। ফখরুল বলেন, “আমাদের দেশনেত্রীকে সরকার মিথ্যা মামলায় অন্যায়ভাবে কারাগারে বন্দি করে রেখেছে। আমরা আজকে ভরাক্রান্ত হৃদয়ে ঈদ উদযাপন করছি। “আমরা আন্দোলনের মধ্যে আছি। আমাদের নেত্রী যে শান্তিপূর্ণ আন্দোলনের কথা বলে গেছেন, সেই নিয়মতান্ত্রিক শান্তিপূর্ণ আন্দোলনকে আমরা প্রত্যেকটি স্তরে জোরদার করছি। আমরা মনে করি, আন্দোলনের মাধ্যমে দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে আমরা মুক্ত করতে পারব।” ফখরুল বলেন, “বিএনপির কাছে এখন মূল চ্যালেঞ্জ গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করা। আমরা দেশনেত্রীকে মুক্ত করে একটি নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে নির্বাচনের মাধ্যমে জনগনের সরকার প্রতিষ্ঠা করতে পারব।
খালেদা জিয়ার এবারের ঈদ কাটবে ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে
বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার এবারের ঈদ কাটবে ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে। প্রতিবছর ঈদের দিন বাংলাদেশে নিযুক্ত বিদেশি কূটনীতিক ও আন্তর্জাতিক সংস্থার প্রতিনিধি, বিশিষ্ট নাগরিক, দলের নেতাকর্মীসহ মানুষের সঙ্গে ঈদ শুভেচ্ছা বিনিময় করলেও এবার সে সুযোগ পাচ্ছেন না। কারাবন্দি থাকায় যুক্তরাজ্যে অবস্থানকারী নিজের বড় ছেলে তারেক রহমান সহ দুই ছেলের বউ, তিন নাতনীর সঙ্গে মোবাইলে শুভেচ্ছা বিনিময়ের সুযোগও নেই। জিয়ারত করতে যেতে পারবেন না দলের প্রতিষ্ঠাতা শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের মাজারে। কারাগারে অসুস্থ হয়ে পড়া খালেদা জিয়ার ঈদের দিনটি কাটবে যথারীতি পুরান ঢাকার নাজিমউদ্দিন রোডের পরিত্যক্ত কারাগারের ডে কেয়ার সেন্টারে। কারাবিধি অনুযায়ী ঈদের দিন কারাবন্দিরা যেটুকু ভালো-মন্দ খাবার পান সেটুকুই বরাদ্দ পাবেন তিনি। নিঃসঙ্গ কারাপ্রকোষ্ঠে তাকে সঙ্গ দেবেন কেবল গৃহপরিচারিকা ফাতেমা। এর আগেও ওয়ান ইলেভেনের সময় কারাবন্দি অবস্থায় ঈদুল ফিতর ও ঈদুল আজহা কাটিয়েছেন সংসদ ভবনে স্থাপিত বিশেষ সাবজেলে। এদিকে ঈদের দিন কারাবিধি অনুযায়ী বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার সঙ্গে সাক্ষাৎ করবেন তার পরিবারের সদস্য ও স্বজনেরা। তারা সেখানে খালেদা জিয়ার জন্য বাসা থেকে কিছু খাবারও নিয়ে যেতে পারবেন বলে ইতিমধ্যে গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন ডিআইজি প্রিজন্স। অন্যদিকে ঈদের দিন খালেদা জিয়ার সঙ্গে সাক্ষাৎ করার চেষ্টা করবেন বিএনপি স্থায়ী কমিটির সদস্যরা। এ জন্য তারা ইতিমধ্যে কারাকর্তৃপক্ষ ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট শাখায় আবেদনও করেছেন। ওদিকে প্রতিবছর দলের শীর্ষ নেতা খালেদা জিয়ার ঈদ শুভেচ্ছা অনুষ্ঠানে অংশ নিতে রাজধানীতেই ঈদ করতেন দলের সিনিয়র নেতারা। কিন্তু এবার একদিকে খালেদা জিয়া কারাগারে অন্যদিকে জাতীয় নির্বাচনের বছর। ফলে নেতাদের বেশিরভাগই এবারের ঈদ করবেন নিজ নিজ এলাকায়। তারপরও দলের সিনিয়র কিছু নেতা রাজধানীতে ঈদ করবেন এবং ঈদের দিন সাক্ষাতের চেষ্টায় ছুটে যাবেন পুরান ঢাকার পরিত্যক্ত ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারের ফটকে।
খালেদা জিয়ার মুক্তি নিয়ে আইনজীবীদের ভিন্ন মত
রাজনীতির ঊর্ধ্বে উঠে মানবিক বিবেচনায় বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার প্যারোলে মুক্তির দাবি করে দলটির ভাইস চেয়ারম্যান খন্দকার মাহবুব হোসেনের বক্তব্যকে তাঁর ব্যক্তিগত মত বলে উল্লেখ করেছেন সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির সভাপতি অ্যাডভোকেট জয়নুল আবেদীন। সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির সভাপতি বলেন, ‘প্যারোলে মুক্তি নিয়ে খন্দকার মাহবুব হোসেন যে বক্তব্য দিয়েছেন এটা ওনার ব্যক্তিগত মতামত। আমাদের সঙ্গে তিনি আলোচনা করেননি।’ বৃহস্পতিবার দুপুর ১২টার দিকে সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির অডিটরিয়ামে মাদকমুক্ত অভিযানের নামে ‘বিনা বিচারে হত্যাকাণ্ডের’ প্রতিবাদে এক সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে সমিতির সভাপতি এ কথা বলেন। তবে সমিতির সম্পাদক ব্যারিস্টার মাহবুব উদ্দিন খোকন বলেন, খালেদা জিয়া খুবই অসুস্থ। তাঁর চিকিৎসার জন্য খন্দকার মাহবুব হোসেন সম্ভবত এ দাবি করেছেন। এর আগে গতকাল এক সংবাদ সম্মেলনে বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান ও জ্যেষ্ঠ আইনজীবী খন্দকার মাহবুব হোসেন বলেছেন, দীর্ঘ চার মাসের বেশি সময় ধরে কারাবন্দি থেকে খালেদা জিয়ার রোগ আরো জটিল আকার ধারণ করেছে, তৈরি করেছে জীবন শঙ্কা। এ অবস্থায় প্রচলিত আইনের ধারাবাহিকতায় দ্রুত মুক্তির সুযোগ না থাকায় প্যারোলই একমাত্র সমাধান। এ বক্তব্য প্রসঙ্গে জানতে চাইলে জয়নুল আবেদীন বলেন, ‘গতকালকে আমাদের একজন আইনজীবী (খন্দকার মাহবুব) যে বক্তব্য দিয়েছেন আমরা মনে করি, এটা তাঁর ব্যক্তিগত মতামত। তাঁর এই ব্যক্তিগত মতামতের ওপর আমরা কোনো বক্তব্য রাখতে চাই না।’ বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে ইউনাইটেড হাসপাতালে চিকিৎসাসেবা দেওয়ার দাবি জানিয়ে সমিতির সভাপতি জয়নুল আবেদীন বলেন, ‘দেশের একজন নাগরিক এবং সাবেক তিন তিনবারের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে তাঁর চিকিৎসা পাওয়ার অধিকার রয়েছে। সেই চিকিৎসা তিনি যেভাবে চাইবেন সেভাবেই সেই চিকিৎসাসেবা দেওয়া উচিত। আমরা আইনজীবী হিসেবে মনে করি আইনের দৃষ্টিতে তাঁর সে অধিকার রয়েছে।’ লিখিত বক্তব্যে জয়নুল আবেদীন বলেন, ‘আমরা চাই বাংলাদেশ মাদকমুক্ত হোক। কিন্তু তা অবশ্যই আইন মোতাবেক হতে হবে। বিচার বহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের মাধ্যমে নয়।’ তিনি বলেন, রাজনৈতিক উদ্দেশ্য প্রণোদিতভাবে নয়, প্রকৃত মাদক ব্যবসায়ী ও গডফাদার এবং এর সঙ্গে সম্পৃক্ত সব ব্যক্তিকে আইনের কাছে সোপর্দ করার জন্য জোর দাবি জানাচ্ছি। তবে বিচার বহির্ভূত হত্যাকাণ্ড থেকে সব মহলকে বিরত থাকার জন্য আহ্বান জানাচ্ছি।
দেশনেত্রী এখন কারাগারে, আমাদের আনন্দ নেই, খুশি নেই
ঈদের দিন কারাগারে বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার সঙ্গে দলের স্থায়ী কমিটির সদস্যরা দেখা করতে পারেন বলে জানিয়েছেন দলটির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী। আজ দুপুরে নয়াপল্টন বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক সংবাদ ব্রিফিংয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি একথা জানান। রিজভী আহমেদ বলেন, ঈদ একটি ধর্মীয় অনুষ্ঠান, এটি এবাদতও। তাই আমাদের নেতারা হয়তো সবাই সেটা পালন করবেন, নামাজও পড়বেন। তবে দেশনেত্রী এখন কারাগারে। আমাদের কারো মনে আনন্দ নেই, খুশি নেই। ঈদের দিন দলের স্থায়ী কমিটির সদস্যরা দলের প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমানের মাজারে যাবেন। এছাড়া, তারা কারাগারেও দেখা করতে যাবেন বলে শুনেছি। জানতে পেরেছি দেখা করার জন্য সরকারের কাছে আবেদনও করেছেন। তবে স্পেসিফিকভাবে কিছু বলাতে পারব না। তিনি বলেন, সরকার খালেদা জিয়ার চিকিৎসা নিয়ে নোংড়া রাজনীতি করছে। রাজনৈতিক ময়দানে শেখ হাসিনার একমাত্র প্রতিপক্ষ খালেদা জিয়া। এই জন্য তার সঙ্গে এটা করা হচ্ছে। তাদের মনে রাখা দরকার আওয়ামী লীগ প্রধান শেখ হাসিনা প্যারোলে মুক্তি পেয়ে বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছিল। তার দলের নেতারাও কারাভোগের সময় বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছেন। কিন্তু দেশনেত্রীকে সেই সুযোগ দেয়া হচ্ছে না। এর একমাত্র উদ্দেশ্য খালেদা জিয়াকে সরিয়ে দেয়া। কিন্তু এসব অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করার জন্য খুব শিগগিরই জনতা বাঁধ ভাঙা জোয়ারের মতো বেরিয়ে আসবে। আরো উপস্থিত ছিলেন- যুগ্ম মহাসচিব সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল, খায়রুল কবির খোকন, সাংগঠনিক সম্পাদক রুহুল ককুদ্দুস তালুকদার দুলু, সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক আব্দুস সালাম আজাদ, নির্বাহী কমিটির সদস্য অধ্যাপক আমিনুল ইসলাম, ওলামা দলের সভাপতি হাফেজ মাওলানা আব্দুল মালেক, সাধারণ সম্পাদক মাওলানা নেসারুল হক প্রমুখ।