সাংবাদিককে ঐক্যবদ্ধ হয়ে কাজ করার আহবান
বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, বাংলাদেশের সংবাদপত্রের ইতিহাসে ১৯৭৫ সালের ১৬ জুন এক কালিমালিপ্ত দিন। এদিন তখনকার সরকার তাদের অনুগত ৪টি সংবাদপত্র রেখে অন্যসব পত্রিকা বন্ধ করে দিয়ে বিভিন্ন সংবাদপত্রে কর্মরত অসংখ্য সংবাদ কর্মীকে বেকার করে হতাশার অতল গহব্বরে ঠেলে দিয়েছিল। বিএনপির পক্ষ থেকে দেয়া এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এসব কথা জানানো হয়। সেখানে দাবি করা হয়, পরবর্তীতে রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান বহুদলীয় গণতন্ত্র ফিরিয়ে দিয়ে সংবাদপত্রের স্বাধীনতা নিশ্চিত করেন। বাতিল করেন কালো আইন। বর্তমান সরকার নতুন আঙ্গিকে সংবাদপত্র ও সাংবাদিকদের ওপর দল ও দমন-পীড়ণ অব্যাহত রেখেছে বলে বিএনপি মহাসচিব অভিযোগ করেন। সংবাদপত্রের স্বাধীনতা রক্ষার সংগ্রামে সকল সাংবাদিককে ঐক্যবদ্ধ হয়ে কাজ করার আহবান জানান তিনি।
বিএনপি বিভিন্ন দেশে গিয়ে ষড়যন্ত্রে লিপ্ত রয়েছে
ক্ষমতায় যাওয়ার জন্য বিএনপি বিদেশিদের কাছে ধরনা দিচ্ছে মন্তব্য করে খাদ্যমন্ত্রী অ্যাডভোকেট কামরুল ইসলাম বলেন, ‘আগামী নির্বাচন বানচালের ষড়যন্ত্র করছে দলটি।’ বুধবার (১৩ জুন) দুপুরে জাতীয় প্রেসক্লাবে আলোচনা সভায় এ কথা বলেন তিনি। এতে আরও বক্তব্য রাখেন আওয়ামী লীগের প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক ড. হাছান মাহমুদ। এ সময় কামরুল ইসলাম বলেন, ‘১/১১ কুশীলব এখনো সক্রিয়। সেনা সমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময় ১/১১ কুশীলবরা যেভাবে সক্রিয় ছিল। শেখ হাসিনাকে রাজনীতি থেকে মাইনাস করার চেষ্টা করা হয়েছে। ওইসব কুশীলব আবার ষড়যন্ত্রে সক্রিয় রয়েছে। এখন তারা ফর্মুলা দিচ্ছে পরপর দুইবারের বেশি প্রধানমন্ত্রী থাকা যাবে না। বিএনপি এবং ১/১১ এর কুশীলবরা আজকে একাট্টা হয়ে ষড়যন্ত্রে লিপ্ত রয়েছে। বিএনপি ভারতসহ বিভিন্ন দেশে গিয়ে ষড়যন্ত্রে লিপ্ত রয়েছে। দুই দিন আগে বিভিন্ন সংবাদপত্রে দেখবেন, বিএনপির নেতারা ভারত গিয়েছিল। সেখানে গিয়ে নাকে খত দিয়ে এসেছে।’ তিনি আরও বলেন, ‘বিএনপির সময় ভারতের বিচ্ছিন্নতাবাদীদের জন্যে যে ১০ ট্রাক অস্ত্রের ট্রানজিট দিয়েছিল তখনকার সরকার প্রধান। তারা এমন কাজ আর করবে না বলে নাকে খত দিয়ে এসেছে। বিএনপি ক্ষমতায় এলে ভারত বিরোধিতা করবে না, তারা সংখ্যালঘুদের ওপর নির্যাতন করবে না বলে নাকে খত দিয়ে এসেছে।
ভারত আমাদের প্রতিবেশী ও বন্ধু রাষ্ট্র
বিএনপি ভারত বিরোধী নয় বলে সাফ জানিয়ে দিয়েছেন দলটির ভাইস চেয়ারম্যান আব্দুল্লাহ আল নোমান। বিএনপির একটি প্রতিনিধি দলের ভারত সফর প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ভারত সফর নিয়ে আমাদের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে কথা হচ্ছে। কিন্তু সেখানে কোন নির্দিষ্ট এজেন্ডা ছিল না। আর আমরা সরকারেও নাই। তবে আমাদের সঙ্গে ভারতের নেতৃবৃন্দের বিভিন্ন বিষয়ে কথা হয়েছে। তারাও কথা বলেছে, আমারও কথা বলেছি। বুধবার দুপুরে জাতীয় প্রেসক্লাবে মো. গোলাপ মিয়া আয়োজিত এক আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিলে তিনি এ কথা বলেন। শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ৩৭তম শাহাদাৎ বার্ষিকী ও বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার কারা ও রোগ মুক্তি উপলক্ষে এ দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়। আব্দুল্লাহ আল নোমান বলেন, আমরা বলেছি, ভারত আমাদের প্রতিবেশী ও বন্ধু রাষ্ট্র। কিন্তু বন্ধুর সাথে আমাদের দ্বিপক্ষীয় অনেক সমস্যা রয়েছে। আর এই সমস্যাগুলো বলতে গেলেই যে, আমরা (বিএনপি) ভারত বিরোধী হলাম-সেটা নয়। দেশের বর্তমান পরিস্থিতি নাজুক অবস্থায় দাঁড়িয়েছে মন্তব্য করে তিনি বলেন, এই পরিস্থিতি ও অর্থনৈতিকভাবে দেশকে মুক্ত করার জন্য একটি সরকার প্রয়োজন। যে সরকার হবে গণতান্ত্রিক। যে সরকার একটি নির্বানের মাধ্যমে নির্বাচিত হবে। আর এজন্য সহায়ক সরকার দরকার। তাই অবিলম্বে যৌথভাবে কনফান্সের মাধ্যমে একটি নীতিমালা তৈরী করা হোক। যে নীতিমালার মাধ্যমে সহায়ক সরকার নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় নেতৃত্ব দেবে। ২০১৮-১৯ সালের প্রস্তাবিত বাজেট প্রসঙ্গে নোমান বলেন, যে ঘাটতি বাজেট দেয়া হয়েছে, এটা একটি উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। কারণ যারা দ্ররিদ ও মধ্যবিত্ত তাদের ট্যাক্স প্রদান করতে হবে। আর যারা ব্যাংক লুট করেছেন, তাদের কাছে যাবে এই টাকা। বেগম জিয়ার শারীরিক অসুস্থ্যতার বর্ণনা দিয়ে তিনি বলেন, সরকার খালেদা জিয়ার অসুস্থ্যতা ভিন্নখাতে প্রভাবিত করে রাজনৈতিক ইস্যুতে নিয়ে যেতে চায়। অবিলম্বে বেগম জিয়াকে ইউনাইটেড হসপিটালে নিয়ে উন্নত চিকিৎসা করার জন্য সরকারের প্রতি আবারও দাবি জানান তিনি। জাতীয়তাবাদী সমর্থক দলের যুগ্ম আহ্বায়ক সরকার জাহাঙ্গীর আলমের সভাপতিত্বে সভায় বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা ব্যারিস্টার হায়দার আলীসহ প্রমুখ বক্তব্য রাখেন।
পছন্দের হাসপাতালে পাঠাবে না সরকার,ইউনাইটেডেই অনড় খালেদা জিয়া
কারাবন্দি বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া ইউনাইটেড হাসপাতালেই চিকিৎসা নেওয়ার ব্যাপারে অনড় অবস্থানে রয়েছেন। অন্যদিকে, জেল কোড অনুযায়ী সরকারি হাসপাতাল বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ে (বিএসএমএমইউ)চিকিৎসা সেবা দেওয়ার প্রস্তাবের পর এবার সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে (সিএমএইচ)তাকে চিকিৎসা নেওয়ার প্রস্তাব দেবে সরকার। এর পরিপ্রেক্ষিতে সঙ্গে কথা হয়েছে বিএনপি ও আওয়ামী লীগ নেতাদের। তারা পরিষ্কার করেছেন তাদের অবস্থান: বিএনপির অবস্থান: কারাবন্দি খালেদা জিয়ার সুচিকিৎসা নিশ্চিত করতে দলীয় প্রধানের ইচ্ছাকেই প্রাধান্য দিচ্ছে বিএনপি। দলটির নেতারা বলছেন, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয় হাসপাতালে চিকিৎসা গ্রহণে বেগম জিয়ার আপত্তি আছে এবং সেখানকার পরিবেশ নিয়ে তিনি প্রশ্ন তুলেছেন। সর্বোপরি সরকারের তরফে বেসরকারি হাসপাতালে নেওয়ার বিষয়ে নিয়ম না থাকার কথা বলা হলেও এ ধরনের নজির বাংলাদেশে আছে বলেও জানান তারা। এছাড়া চিকিৎসার ক্ষেত্রে রোগীর মানসিক অবস্থাকে আমলে নেওয়াটাই প্রথমত জরুরি বলে মনে করেন বিএনপিপন্থী চিকিৎসকরা। খালেদা জিয়াকে চিকিৎসার জন্য সিএমএইচে নেওয়ার ব্যাপারে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আজ যে প্রস্তাব দেওয়ার কথা জানিয়েছেন সে প্রসঙ্গে বিএনপি চেয়ারপারসনের কার্যালয়ের প্রভাবশালী এক কর্মকর্তা বলেন, ‘বেগম জিয়ার চিকিৎসা বিষয়টি এখন পুরোপুরি সরকার ও তার (খালেদা জিয়া) নিজের ওপর নির্ভর করছে। বাইরে থেকে দল ও নেতারা কেবল বিষয়টি নিয়ে উদ্বিগ্ন হতে পারে। বেগম জিয়া যদি সিএমএইচে যেতে চান, তাহলে তো দলের কিছু করার নেই।’ তবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী যার চিঠির পরিপ্রেক্ষিতে এই প্রস্তাব দেওয়ার কথা বলেছেন সেই শামীম ইস্কান্দারের (খালেদা জিয়ার ছোট ভাই) মনোভাব জানতে তাকে ফোন করা হলে তিনি ফোন রিসিভ করেননি। প্রসঙ্গত: মঙ্গলবার (১২ জুন) খালেদা জিয়াকে উন্নত চিকিৎসার জন্য রাজধানীর ইউনাইটেড হাসপাতালে ভর্তির জন্য তার ছোট ভাই শামীম ইস্কান্দারের আবেদন নিয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁ কামালের সঙ্গে দেখা করেছিলেন খালেদা জিয়ার উপদেষ্টা বিজন কান্তি সরকারসহ দুই চিকিৎসক। তখন খালেদা জিয়াকে সিএমএইচে চিকিৎসা দেওয়ার প্রস্তাব জানাবেন বলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এমন প্রস্তাব দেওয়ার কথা বললেও বিএনপি নেতারা দলীয় চেয়ারপারসনের ইচ্ছানুযায়ী এখনও ইউনাইটেড হাসপাতালে তার চিকিৎসার ব্যাপারেই মনোভাব দেখাচ্ছেন। এ বিষয়ে বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান শামসুজ্জামান দুদু বলেন, ‘ম্যাডামকে হাসপাতালে না নিয়ে সরকার একগুঁয়েমি করছে। অতীতে শেখ হাসিনাও চিকিৎসার উদ্দেশ্যে প্যারোলে মুক্তি নিয়ে বিদেশে গেছেন। কিন্তু, সরকার এখন ম্যাডামের (খালেদা জিয়া) বিষয়টি অনুমোদন করছে না, এটা গোয়ার্তুমি। তাকে কৌশলে আরও অসুস্থ ও বিপদগ্রস্ত করা হচ্ছে আইনের নামে। অসৎ উদ্দেশ্যে এটা করছে সরকার। এ কারণে তার মৃত্যুও হতে পারে।’ দুদু মনে করেন, খালেদা জিয়াকে তার চাহিদামতো চিকিৎসা না করালে আন্দোলনের প্রশ্ন জোরালো হয়ে আসবে। তার মন্তব্য, ‘ আইন যখন কাজ করে না, তখন শিষ্টাচারের প্রশ্ন মিথ্যে।’ বিএনপি নেতারা বলছেন, ‘সম্প্রতি খালেদা জিয়ার স্বাস্থ্যের অবনতি ঘটেছে এবং তার সুচিকিৎসার জন্য ইউনাইটেড হাসপাতালই সর্বোত্তম। আর ব্যক্তিগতভাবে বিএনপির চেয়ারপারসন বেসরকারি হাসপাতালটিতে যাওয়ার পক্ষে মত প্রকাশ করেছেন। বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাও তার নিজের চাহিদামতো এক-এগারোর সময় স্কয়ার হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছেন। এখন খালেদা জিয়ার চাহিদামতো এর পক্ষে জোরদার তৎপরতা চালিয়ে যাচ্ছে বিএনপি ও তার পরিবারের সদস্যরা। ইতোমধ্যে বেসরকারি হাসপাতালের খরচ নির্বাহের প্রতিশ্রুতি দিয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে একটি আবেদনও করা হয়েছে।’ এ বিষয়ে স্থায়ী কমিটির অন্যতম সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ বলেন, ‘প্রয়োজনের খালেদা জিয়ার বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসায় যে ব্যয় হবে তা বিএনপি বহন করবে এবং আমরা তাকে অতি দ্রুত ইউনাইটেড হাসপাতালে চিকিৎসাসেবা দিতে হবে।’ তিনি জানান, খালেদা জিয়ার পরিবারের পক্ষ থেকে এই আবেদন নিয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে দেওয়া হয়েছে। বিএনপির ভাইস-চেয়ারম্যান আবদুল্লাহ আল নোমান বলছেন, ‘খালেদা জিয়াকে নিয়ে সরকার যা করছে তা অত্যন্ত নির্লজ্জভাবে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। এতে করে আওয়ামী লীগের রাজনীতি নষ্ট হচ্ছে এবং মানুষ খারাপভাবে নিচ্ছে। এক-এগারো সরকারের সময়ে শেখ হাসিনা ও আবদুল জলিলকেও তাদের চাহিদামতো চিকিৎসা দেওয়া হয়েছিল। সবচেয়ে বড় কথা খালেদা জিয়া বিএসএমএমইউ-তে চিকিৎসা গ্রহণে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করছেন না।’ চেয়ারপারসনের মিডিয়া উইং সদস্য শায়রুল কবির খান জানান, ‘ওয়ান-ইলেভেনের সময় বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তার চোখের সমস্যার জন্য স্কয়ার হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছেন।’ ওই সময় দায়িত্বে ছিলেন সাবেক উপ কারা মহাপরিদর্শক মেজর (অব.) শামসুল হায়দার সিদ্দিকী। তিনি বলেন, ‘এক-এগারোর সময় বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে স্কয়ার হাসপাতালে আনা হয়েছিল। কারাবিধিতে আছে, যদি জেলখানায় কেউ অসুস্থ হয়ে পড়েন, তখন কারাগারের যে চিকিৎসক আছেন, তিনি পরীক্ষা-নিরীক্ষা করবেন। যদি ওই চিকিৎসকরা তার ট্রিটমেন্ট ( চিকিৎসা) করতে পারেন, তাহলে সেটা করবেন। আর যদি চিকিৎসকরা মনে করেন কারাবন্দি’র অসুস্থতার গুরুত্ব এত বেশি যে তার চিকিৎসা জেলে সম্ভব না, তাহলে তাকে বাইরের হাসপাতালে পাঠাতে হবে; তখন সরকারি হাসপাতালে পাঠানো হয়। এক্ষেত্রে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয় হাসপাতালে প্রিজন সেল রয়েছে, ওইখানে পাঠানোর কথা।’ ‘এখন প্রিজন সেলে বা হাসপাতালে যদি সংশ্লিষ্ট কারাবন্দির চিকিৎসার সুযোগ-সুবিধা না থাকে, তাহলে কারা কর্তৃপক্ষ বা সরকার অন্য বেসরকারি হাসপাতালের কথা চিন্তা করেন। সর্বোপরি সবকিছুর পরেও যিনি বন্দি থাকেন, তিনি যদি বলেন বা ইচ্ছা করেন, অন্য বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসা করাতে চান, আর এটা যদি সরকার অনুমোদন করেন, তখন কিন্তু সেটা সম্ভব। আর এ কারণেই ওয়ান-ইলেভেনের সময় বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা স্কয়ার হাসপাতালে আসতে পেরেছেন এবং তখনকার আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আবদুল জলিল ল্যাবএইডে যেতে পেরেছেন।’ ‘কী কারণে? কারণ তারা বলছেন, তখনকার সরকার সেটা অনুমোদন করেছে। এ কারণেই তারা তাদের পছন্দমতো হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে পেরেছেন।’ বিএনপিপন্থী চিকিৎসকরাও খালেদা জিয়ার চিকিৎসা তার চাহিদামতো করতে আহ্বান জানিয়েছেন। মহাসচিব অধ্যাপক ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন বলেন, ‘বেগম জিয়া মনে করেন, যে বিএসএমএমইউ’তে তার চিকিৎসা হবে না। তাকে অনতিবিলম্বে ইউনাইটেডে নেওয়া হোক।’ বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক ডা. সাখাওয়াত হাসান জীবন বলেন, ‘বেগম জিয়াকে চিকিৎসার জন্য সরকার যা করছে, তা রাজনৈতিক ইতিহাসে ন্যাক্কারজনক হিসেবে চিহ্নিত থাকবে। শেখ হাসিনা নিজে চিকিৎসা নিতে পেরেছেন স্কয়ার হাসপাতাল থেকে, কিন্তু এখন প্রতিহিংসার বশবর্তী হয়ে বেগম জিয়াকে সুচিকিৎসাবঞ্চিত করা হচ্ছে।’ তিনি আরও বলেন, ‘কী অদ্ভূত, যিনি রোগী, তার মানসিক অবস্থাকে আমলে নেবে না সরকার ‘ প্রসঙ্গত, গত ৯ জুন সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়াকে দ্রুত ইউনাইটেড হাসপাতালে ভর্তির সুপারিশ করেন তার ব্যক্তিগত চিকিৎসকরা। ওই দিন তার চিকিৎসক ডা. এফএম সিদ্দিকী বলেন, ‘আমরা পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে চার পাতার একটি মেডিক্যাল প্রতিবেদন দিয়ে এসেছি কারা কর্তৃপক্ষকে। যেখানে উল্লেখ করা আছে, ৫ জুন কী ঘটেছে ও তার কেমন চিকিৎসা প্রয়োজন। কারা কর্তৃপক্ষ এগুলো আপনাদের সঙ্গে শেয়ার করলে জানতে পারবেন।’ খালেদা জিয়া গত ৮ ফেব্রুয়ারি থেকে কারাগারে রয়েছেন। আওয়ামী লীগের অবস্থান: বিএনপির চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার চিকিৎসা নিয়ে তিনি ও তার দল রাজনৈতিক ফায়দা হাসিলের চেষ্টা করছে বলে দাবি করছে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের নীতি-নির্ধারকরা। তারা জানিয়েছেন, খালেদার যেসব শারীরিক সমস্যার কথা বিএনপির পক্ষ থেকে দাবি করা হচ্ছে চিকিৎসার জন্যে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকরা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ে (বিএসএমএমইউ) রয়েছে। রাজনৈতিক ফায়দা হাসিল করার জন্যে মূলত বিএনপি ইউনাইটেড হাসপাতালে চিকিৎসাসেবা নেওয়ার জন্যে গোঁ ধরে বসে আছে। আওয়ামী লীগ নেতারা বলেন, খালেদা জিয়া একজন সাজাপ্রাপ্ত আসামি। ফলে জেলকোড মেনে তার ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নিতে হয় সরকারকে। বিএনপি অন্যায় দাবি করবে আর সরকার তাদের দাবি পূরণ করে ফেলবে সেটাও হয় না। ক্ষমতাসীন দলের নীতি-নির্ধারকরা দাবি করেন, খালেদা জিয়া অসুস্থ হলে নিশ্চয়ই চিকিৎসাসেবা পাবেন, তবে তা হতে হবে জেলকোড মেনে। এদিকে মঙ্গলবার খালেদা জিয়ার পরিবারের পক্ষ থেকে আবারও সরকারের সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ে খালেদার চিকিৎসা ইউনাইটেড হাসপাতালে করার জন্যে আবেদন করা হয়েছে। তবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান সাংবাদিকদের জানিয়েছেন, তারা চাইলে খালেদার চিকিৎসার ব্যবস্থা সরকার সিএমএইচে করতে পারে। এর মধ্য দিয়ে সরকারে অবস্থান খানিকটা নড়চড় হয়েছে। শেষ পর্যন্ত ইউনাইটেড হাসপাতালে খালেদার চিকিৎসার সুযোগ দেওয়া হবে কী না জানতে চাইলে সরকারের দুই জন মন্ত্রী বলেন, বিএনপি যেখানে চাইবে সরকার সুযোগ দিয়ে দেবে তা হবে না। ওই দুই মন্ত্রী বলেন, এটা বিএনপির রাজনৈতিক খেলা। খালেদার চিকিৎসাকে ইস্যু করে তারা ফায়দা লুটে নিতে চায়। এই খেলার পার্ট সরকার কেন হবে? এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য ড. আবদুর রাজ্জাক বলেন, খালেদা জিয়া ও তার দল চিকিৎসাকে কেন্দ্র করে গোঁ ধরে বসে থাকার একমাত্র কারণ রাজনৈতিক ফায়দা লুটে নেওয়া। রাজনৈতিক নেতাদের বিএসএমএমইউতেই চিকিৎসা সেবা দেওয়া হয়। এই হাসপাতালে বিশেষজ্ঞ ডাক্তাররাই সেবা দেন। আবদুর রাজ্জাক বলেন, এই হাসপাতালের ডাক্তাররাই নামিদামি প্রাইভেট হাসপাতালেও চিকিৎসা দেন। বঙ্গবন্ধু মেডিক্যাল দেশের প্রধান হাসপাতাল। এখানে চিকিৎসা না নেওয়ার মানে কী সেটাও ভালো করে খুঁজে বের করা উচিত। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সিএমএইচে খালেদাকে চিকিৎসা দেওয়ার প্রস্তাব বিএনপি নিশ্চয়ই আপত্তি করবে না বলে মনে করেন আবদুর রাজ্জাক। দলের অপর সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য ফারুক খান বলেন, খালেদা জিয়ার চিকিৎসা যেখানেই হোক তা হতে হবে জেলকোড অনুযায়ী, কারণ তিনি একজন সাজাপ্রাপ্ত আসামি। তিনি কীভাবে সুযোগ সুবিধা গ্রহণ করবেন তা নিশ্চয়ই জেলকোডে উল্লেখ রয়েছে। বিএনপি ও খালেদা জিয়া দাবি করলেন আর সরকার পূরণ করে ফেললেন বিষয়টি এমন নয়। তিনি বলেন, খালেদা জিয়ার যেসব শারীরিক সমস্যার কথা আমরা জেনেছি তার ভালো চিকিৎসা বিএসএমএমইউতে রয়েছে। ফারুক খান বলেন, বিএনপি কোনও কিছুতেই আইন কানুন, নিয়ম এসবের তোয়াক্কা করে না। তারা সব কিছুতেই রাজনৈতিক ফায়দা খোঁজে। অমুক হাসপাতালে নয়, তমুক হাসপাতালে চিকিৎসার সুযোগ দেওয়ার দাবি তুলে ফায়দা হাসিল করতে চায়। এ প্রসঙ্গে আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক খালিদ মাহমুদ বলেন, খালেদা জিয়া সাজাপ্রাপ্ত আসামি। তিনি জেল খাটছেন। তার জন্যে একটি আইন কানুন রয়েছে, তা হল জেলকোড। তাকে জেলকোডের বাইরে গিয়ে সুযোগ দেওয়ার অধিকার কারও নাই। তিনি বলেন, খালেদা জিয়া অসুস্থ হয়েছেন চিকিৎসাটাই জরুরি বলে মনে করি। কিন্তু, তাদের অমুক নয় তমুক হাসপাতালের দাবি তোলায় জনগণের ভেতরে সন্দেহ ঢুকেছে খালেদা জিয়া আসলেই অসুস্থ কী না।
দল নিবন্ধন নিয়ে তামাশা করছে ইসি: ববি হাজ্জাজ
প্রায় আট মাস হতে চললো অথচ নতুন রাজনৈতিক দলের নিবন্ধন নিয়ে সিদ্ধান্তে পৌঁছাতে পারেনি নির্বাচন কমিশন (ইসি)। এদিকে মাঠের রাজনীতিতে যেসব দল সরব রয়েছে তারাই বাদ পড়েছে। আর অপেক্ষাকৃত পিছিয়ে থাকা দুটি দলকে নিবন্ধন দেওয়ার প্রক্রিয়ায় রেখেছে সংস্থাটি। এ অবস্থায় রাজনীতিতে সক্রিয় দলগুলো ইতিমধ্যেই নির্বাচন কমিশনে এসে ধরনা দিচ্ছে। সোমবারও (১১ জুন) কয়েকটি দলের নেতাদের ইসিতে ঘুরতে দেখা গেছে। যারা ইসি সচিবের সাক্ষাৎ না পেয়েই ফিরে গেছেন। তাদের যুক্তি নিবন্ধন না দিলেও তো জানিয়ে দেবে। কিন্তু প্রায় আট মাস হতে চললো এখনো কোনো সাড়াশব্দ নেই ইসির। দেশের রাজনীতিতে সক্রিয় হিসেবে যে দলগুলোকে দেখা যায় সেগুলো হলো- নাগরিক ঐক্য, বাংলাদেশ জাসদ, গণসংহতি আন্দোলন ও ন্যাশনাল ডেমোক্রেটিক মুভমেন্ট (এনডিএম)। এ চারটি দলের আবেদন যাচাই করে ইসি অযোগ্যের তালিকায় রেখে দিয়েছে। অন্যদিকে বাংলাদেশ কংগ্রেস ও গণ-আজাদী লীগকে যোগ্য হিসেবে চিহ্নিত করে তাদের সম্পর্কে তদন্ত করার প্রক্রিয়া নেওয়া হচ্ছে। দলের গঠনতন্ত্র ও প্রয়োজনীয় দলিলাদি যথাযথভাবে জমা না দেওয়ায় মাহমুদুর রহমান মান্নার নাগরিক ঐক্য, জোনায়েদ সাকির গণসংহতি আন্দোলন, শরীফ নূরুল আম্বিয়ার জাসদ একাংশের বাংলাদেশ জাসদ এবং ববি হাজ্জাজের এনডিএমকে নিবন্ধন অযোগ্য করেছে ইসি। নিবন্ধন প্রক্রিয়া নিয়ে এনডিএম-এর চেয়ারম্যান ববি হাজ্জাজ এক প্রতিক্রিয়ায় বলেন, সরকার নির্বাচন কমিশনকে নিয়ে তামাশা করছে। আর নির্বাচন কমিশন তামাশা করছে রাজনৈতিক দল নিবন্ধন নিয়ে। তিনি বলেন, ২০১৩ সালেও রাজনৈতিক অস্তিত্বহীন দুটি দলকে নিবন্ধন দিয়েছিল কমিশন। নীল নকশার নির্বাচন করার লক্ষ্যে এবারো তাই হতে যাচ্ছে। আমরা নিশ্চিত যথাযথ গোয়েন্দা প্রতিবেদন এবং মিডিয়ায় প্রকাশিত রিপোর্ট সংগ্রহ করলে দেখা যাবে দেশের সবচেয়ে সাংগঠনিকভাবে তৎপর এবং উদীয়মান দল হলো- এনডিএম। নির্বাচন কমিশন আমাদের নিবন্ধন না দিলে আদালতে যাবো। ২০১৭ সালের অক্টোবরে দলগুলোর কাছে নিবন্ধন পাওয়ার জন্য আবেদনপত্র জমা দেওয়ার আহ্বান জানায় ইসি। ৩১ ডিসেম্বরের মধ্যে ৭৬টি দল আবেদন করে। সাত মাস ধরে যাচাই-বাছাই করে করে দুটি দলকে যোগ্য হিসেবে অভিহিত করে সংশ্লিষ্ট কমিটি। এখন এদের সম্পর্কে তদন্ত করা হবে। এরপর ইতিবাচক প্রতিবেদন এলে তারা নিবন্ধন পাবে। অথচ সংসদ নির্বাচনের রোডম্যাপ অনুযায়ী, ২০১৮ সালের মধ্যে নিবন্ধনের কাজ শেষ করার কথা ছিল। সম্প্রতি নাগরিক ঐক্যের আহ্বায়ক মাহমুদুর রহমান মান্না গণমাধ্যমকে বলেছেন, আমাদের দলকে রেজিস্ট্রেশন করার জন্য নির্বাচন কমিশন যা চেয়েছে সেসব কাগজ আমরা দিয়েছি। কিন্তু তার কত অগ্রগতি হয়েছে সেটা জানতে গেলে নির্বাচন কমিশন বিরক্ত হয়। বলে, পরে জানাবে। বাংলাদেশ জাসদ’র স্থায়ী কমিটির সদস্য মুশতাক হোসেন বলেন, আশা করি নির্বাচন কমিশন তার নিরপেক্ষতাকে প্রশ্নবিদ্ধ করবে না। আমাদের দু’জন সংসদ সদস্য রয়েছে। তাই নিবন্ধন না পেলে ইসি প্রশ্নবিদ্ধ হবে। গণসংহতি আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়কারী জোনায়েদ সাকিও ক্ষোভ প্রকাশ করে জানিয়েছেন, ইসি সচিবের সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে চেয়েও সাক্ষাৎ পাননি তিনি। এদিকে গণ-আজাদী লীগ ক্ষমতাসীন ১৪ দলীয় জোটের শরিক। আর বাংলাদেশ কংগ্রেসও নিবন্ধন পাবে বলেই আশা করছে। নিবন্ধনের বিষয়ে ইসির একটি সূত্র জানান, নিবন্ধনের বিষয়টি শেষ পর্যায়ে রয়েছে। দু’টি দল যোগ্য বলে সংশ্লিষ্ট কমিটি প্রতিবেদন দিয়েছে। এখন তাদের সম্পর্কে মাঠ লেবেলে তদন্ত করে দেখা হতে পারে, অফিস, কমিটি আছে কি না। ২০০৮ সালের পূর্বে নিবন্ধন ছাড়াই সংসদ নির্বাচনে অংশ নেওয়া যেত। কিন্তু এখন নির্বাচন অংশ নিতে চাইলে রাজনৈতিক দল হিসেবে ইসি থেকে নিবন্ধন নিতে হয়। বর্তমানে ৪০টি রাজনৈতিক দল নিবন্ধিত রয়েছে। ২০১৩ সালে সাংস্কৃতিক মুক্তিজোট এবং বাংলাদেশ ন্যাশনালিস্ট ফ্রন্টকে নিবন্ধন দেয় ইসি। এরপর আর কোনো দল নিবন্ধন পায়নি। একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে আগামী অক্টোবর থেকে ২০১৯ সালের ২৮ জানুয়ারির মধ্যে। এক্ষেত্রে নিবন্ধন নেওয়ার জন্য দলগুলোর হাতে আর মাত্র ৩ মাস সময়।
বিএসএমএমইউতে চিকিৎসা নিতে চান না খালেদা
দুর্নীতি মামলায় কারাবন্দী বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া বিএসএমএমইউ হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে চান না বলে জানিয়েছেন দলের জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী। সোমবার (১১ জুন) বিকেলে নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ দাবি করেন। রিজভী বলেন,বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া বিএসএমএমইউ হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে নিরাপদ মনে করেন না বলেই তিনি সেখানে চিকিৎসা নিতে চাচ্ছেন না। দেশের জনগণ বেগম খালেদা জিয়ার অসুস্থতা নিয়ে চরম উৎকন্ঠিত। তিনি অভিযোগ করেন, ইউনাইটেড হাসপাতালে উন্নতমানের চিকিৎসার দাবি উপেক্ষা করে সরকার বেগম জিয়াকে বিএসএমএমইউ হাসপাতালে চিকিৎসা দেয়ার কথা বলে চলেছে। সেখানে তো সব দলবাজ চিকিৎসক। বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদেরকে তো আগেই সেখান থেকে চাকুরীচ্যুত করে বিদায় দিয়ে দেয়া হয়েছে। তিনি আরও বলেন,আওয়ামী লীগের দলবাজ চিকিৎসকদের দ্বারা তার (খালেদা জিয়া) যথাযথ চিকিৎসা হবে না। কেন না তাদের ওপর বেগম জিয়া এবং দেশের মানুষের কোন আস্থা নেই। তারপরও সরকার জবরদস্তিমূলকভাবে তাকে বিএসএমএমইউ হাসপাতালে চিকিৎসা দেয়ার কথা বলা, দূরভিসন্ধিমূলক ও সুপরিকল্পিত চক্রান্ত। রুহুল কবির রিজভী অভিযোগ করেন, গুরুত্বর অসুস্থ খালেদা জিয়ার চিকিৎসা নিয়ে যে তাচ্ছিল্য ও অবহেলা চলছে তাতে গভীর আশঙ্কা হয় সরকার বেগম জিয়াকে দুনিয়া থেকে সরিয়ে দেয়ার মহাচক্রান্তে লিপ্ত রয়েছে। গত ৫ জুন ট্রানজিয়েন্ট স্কীমিক অ্যাটাকে (টিআইএ) খালেদা জিয়া প্রায় ৫/৬ মিনিট অজ্ঞান হয়ে পড়েছিলেন উল্লেখ করে তিনি বলেন, বেগম জিয়ার নিকটাত্মীয়রা তার সাথে দেখা করে আসার পর ঘটনা আমাদেরকে অবহিত করার পূর্ব মূহুর্ত পর্যন্ত কারা কর্তৃপক্ষ নিরব নিশ্চুপ থেকেছে। আমরা গণমাধ্যমে এ বিষয়ে সোচ্চার হওয়ার পর কারা কর্তৃপক্ষ ঘটনাটি জানে না বলে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী বলেছেন। তাহলে কী বিএনপি চেয়ারপারসনের জীবন ও নিরাপত্তাকে হুমকির মুখে ঠেলে দিতেই কারা কর্তৃপক্ষ বিষয়টি এড়িয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেছে? বেগম জিয়া রাজি থাকলে মঙ্গলবার তাকে বিএসএমএমইউ হাসপাতালে নেওয়া হবে- কারা মহাপরিদর্শক (আইজি প্রিজন্স) সৈয়দ ইফতেখার উদ্দিনের এই বক্তব্যের প্রতি দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে তিনি বলেন, আইজি প্রিজন্স সরকারের নির্দেশের বাইয়ের কথা কথা বলতে পারবেন? সুতরাং তার বক্তব্য দূরভিসন্ধিমূলক ও সুপরিকল্পিত চক্রান্ত রয়েছে।
নিবন্ধন না পেলে আদালতে যাবে গণসংহতি আন্দোলন
নির্বাচন কমিশনকে (ইসি) আদালত পর্যন্ত নিয়ে যাওয়ার হুমকি দিয়েছে গণসংহতি আন্দোলন। দলটির দাবি- নিবন্ধন নেয়ার জন্য সব শর্ত পূরণ করে ইসিতে আবেদন করা হলেও তারা নিবন্ধন পাচ্ছেন না বলে গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশিত হয়েছে। নিবন্ধন না পেলে আদালতের শরণাপন্ন হবেন বলে জানিয়েছেন দলটি প্রধান সমন্বয়ক জোনায়েদ সাকি। আগারগাঁওয়ে নির্বাচন ভবনে প্রধান নির্বাচন কমিশনারের কাছে দলের প্রধান সমন্বয়ক ও ভারপ্রাপ্ত নির্বাহী সমন্বয়কারী স্বাক্ষরিত একটি চিঠি সোমবার দেয়া হয়। চিঠি দেয়ার পর জোনায়েদ সাকি সাংবাদিকদের বলেন, দুটি দল ছাড়া গণসংহতি আন্দোলনসহ বাকি দলগুলোকে বাতিল করা হয়েছে বলে আমরা মিডিয়ার মাধ্যমে জানতে পেরেছি। তাই এ বিষয়ে আজকে আমরা কমিশনকে চিঠি দিচ্ছি। প্রয়োজনে পরবর্তীতে স্মারকলিপি দেয়া হবে। সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে সাকি বলেন, আমরা সব শর্ত পূরণ করে আবেদন করেছি। নির্বাচন কমিশনের যে তিনটি শর্ত আছে তার তিন নম্বর শর্ত পূরণ করে আমরা আবেদন করেছি। যেখানে মাঠপর্যায়ে নির্দিষ্ট পরিমাণ দলীয় কার্যালয় থাকার কথা। আমাদের সে পরিমাণ দলীয় কার্যালয় রয়েছে। আমাদের জানা মতে, মাঠপর্যায়ে কোনো পরিদর্শন করেনি কমিশন। তাহলে কিসের ভিত্তিতে আমাদের আবেদন বাতিল হয় সেটি বোধগম্য নয়। তিনি বলেন, নিবন্ধন না পেলে এটি পাওয়ার জন্য যতগুলো ধাপ পূরণ করতে হয়, আমরা তা করব। প্রয়োজন হলে আমরা অবশ্যই আদালতে যাব। প্রসঙ্গত, এর আগে ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে অংশ নিয়ে জামানত হারান জোনায়েদ সাকি। এছাড়া দলের নিবন্ধনের শর্তও পূরণ করতে পারেনি গণসংহতি আন্দোলন। এ বিষয়ে ইসির একাধিক কর্মকর্তা জাগো নিউজকে বলেন, দলটি কোনো শর্তই পূরণ করতে পারেনি। এক ব্যক্তি নির্ভর এই দলকে কোনোভাবেই নিবন্ধন দেবে না ইসি।
১৪ জুন সারা দেশের ডিসিদের কাছে জিয়ার মুক্তির দাবিতে স্মারকলিপি
আসন্ন ঈদুল ফিতরের আগেই বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার নিঃশর্ত মুক্তি ও সুচিকিৎসার দাবিতে আগামী ১৪ জুন সারা দেশের জেলা প্রশাসকদের (ডিসি) কাছে স্মারকলিপি দেবে দলটি। সোমবার বিকেলে রাজধানীর নয়াপল্টনের দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ কর্মসূচি ঘোষণা করেন বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী। রুহুল কবির রিজভী বলেন,‘আমরা আবারও সরকারের কাছে জোরালো দাবি করছি, কাল বিলম্ব না করে এই মুহূর্তে খালেদা জিয়াকে তাঁর পছন্দ অনুযায়ী বিশেষায়িত ইউনাইটেড হাসপাতালে ভর্তি করে সুচিকিৎসার ব্যবস্থা করা হোক। ঈদুল ফিতরের আগেই তাঁকে নিঃশর্ত মুক্তি দেওয়া হোক। খালেদা জিয়ার জীবন বিপন্ন করার গভীর ষড়যন্ত্রে মেতেছে সরকার। এক অমানবিক প্রতিহিংসার শিকার বেগম জিয়া এখন গুরুতর অসুস্থতা নিয়ে বিধ্বস্ত, অবাসযোগ্য, অন্ধকার গুহার মতো একটি কক্ষের মধ্যে বন্দি।’ রুহুল কবির রিজভী অভিযোগ করে বলেন, ‘খালেদা জিয়া চিকিৎসা বঞ্চিত, তাঁর মানবাধিকার লঙ্ঘিত, বেঁচে থাকার অধিকার অপহৃত। গত ৫ জুন ‘ট্রানজিয়েন্ট ইস্কিমিক অ্যাটাক’ (টিআইএ) এ আক্রান্ত হয়ে তিনি পাঁচ-ছয় মিনিট অজ্ঞান হয়ে পড়েছিলেন। কিন্তু দুই দিন পর বেগম জিয়ার নিকটাত্মীয়রা দেখা করে আসার পর আমাদেরকে এই ঘটনা জানানো হয়। কিন্তু তার আগ পর্যন্ত কারা কর্তৃপক্ষ নীরব নিশ্চুপ থেকেছে। আমরা গণমাধ্যমে এ বিষয়ে সোচ্চার হওয়ার পর কারা কর্তৃপক্ষ ঘটনাটি জানে না বলে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মন্তব্য করেন। তাহলে কি দেশনেত্রীর জীবন ও নিরাপত্তাকে হুমকির মুখে ঠেলে দিতেই কারা কর্তৃপক্ষ বিষয়টি এড়িয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেছে?’ আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের দাবি করেছিলেন যে বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার মাইল্ড স্ট্রোক না, বরং সামান্য সুগার ফল করেছিল। তাঁর এই মন্তব্যের জবাবে রুহুল কবির রিজভী বলেন, ‘আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদকও বলেছিলেন যে,খালেদা জিয়ার সুগার লেভেল কমে গিয়েছিল। যদি তাঁর কথাই ঠিক হয় তাহলে সুগার লেভেল কমে যাওয়াও তো বিপজ্জনক। কিন্তু বাস্তবে উনি টিআইএতে আক্রান্ত হয়ে জ্ঞান হারিয়েছিলেন। যা তাঁর ব্যক্তিগত চিকিৎসকদের মাধ্যমে জানা যায়। চিকিৎসকগণ বেগম জিয়ার চিকিৎসা নিয়ে কিছু পরীক্ষা-নিরীক্ষাসহ তাৎক্ষণিক ইউনাইটেড হাসপাতালে ভর্তির সুপারিশ করেছিলেন। দেশনেত্রীর জ্ঞান হারানোর মতো এত বড় একটি দুঃসংবাদের পরেও কারা কর্তৃপক্ষ তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেওয়া তো দূরের কথা, দিনের পর দিন সময় ক্ষেপণ করে তাঁর অসুস্থতাকে আশঙ্কাজনক মাত্রায় নিয়ে যেতে চাচ্ছে।’ বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার সুচিকিৎসার দাবি করে রুহুল কবির রিজভী আরো বলেন, ‘সরকার বেগম জিয়াকে দুনিয়া থেকে সরিয়ে দেওয়ার মহাচক্রান্তে লিপ্ত রয়েছে। আর সেই জন্যে গুরুতর অসুস্থ খালেদা জিয়ার চিকিৎসা নিয়ে তাচ্ছিল্য ও অবহেলা করছে। বারবার ইউনাইটেড হাসপাতালে উন্নতমানের চিকিৎসার দাবি উপেক্ষা করে সরকার তাঁকে পিজি হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়ার কথা বলছেন। সেখানে তো সব দলবাজ চিকিৎসক। বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদেরকে তো আগেই সেখান থেকে চাকরিচ্যুত করে বিদায় দিয়ে দেওয়া হয়েছে। আওয়ামী লীগের দলবাজ চিকিৎসকদের দ্বারা বেগম জিয়ার যথাযথ চিকিৎসা হবে না। কেননা তাদের ওপর খালেদা জিয়া এবং দেশের মানুষের কোনো আস্থা নেই। তারপরেও সরকার জবরদস্তিমূলকভাবে তাঁকে পিজি হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়ার কথা বলা দূরভিসন্ধিমূলক ও সুপরিকল্পিত চক্রান্ত।’ এ সময় সংবাদ সম্মেলনে বিএনপির অন্য নেতাকর্মীরাও উপস্থিত ছিলেন।