খুলনা ও গাজীপুর সিটিতে ভোট গ্রহন ১৫ মে
গাজীপুর ও খুলনা সিটি করপোরেশনে ১৫ মে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। এই দুই সিটিতে মনোনয়নপত্র জমা দেয়ার শেষ দিন ১২ এপ্রিল। মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারের শেষ দিন ২৩ এপ্রিল। আর যাচাই বাছাই ১৫-১৮ এপ্রিল। প্রধান নির্বাচন কমিশনার কে এম নূরুল হুদা শনিবার নির্বাচন কমিশন ভবনে এই তফসিল ঘোষণা করেন। এর আগে বেলা ১১টায় এ সংক্রান্ত বৈঠকে বসে কমিশন। সিইসি বলেন, গাজীপুরে ভোটার ১১ লাখ ৬৪ হাজার ৪২৫ জন। আর খুলনায় ভোটার ৪ লাখ ৯৪ হাজার ৪৫৪ জন। সূত্র জানায়, আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগেই গাজীপুর, রাজশাহী, খুলনা, বরিশাল ও সিলেট এই পাঁচ সিটিতে ভোটগ্রহণ করতে হবে। তাই আসছে রমজানের আগে গাজীপুর ও খুলনা সিটি ভোট শেষ করে ঈদের পর অন্য তিন সিটিতে ভোট করবে ইসি। ইসির সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, গাজীপুর সিটি করপোরেশনের ৫ বছর মেয়াদ পূর্ণ হবে ৪ সেপ্টেম্বর, সিলেটের ৮ অক্টোবর, খুলনার ২৫ সেপ্টেম্বর, রাজশাহীর ৫ অক্টোবর এবং বরিশালের ২৩ অক্টোবর। স্থানীয় সরকার (সিটি করপোরেশন) আইন অনুযায়ী করপোরেশনের প্রথম বৈঠক থেকে ৫ বছর মেয়াদ পূর্ণ হওয়ার ১৮০ দিন আগে যেকোনো সময় নির্বাচন করতে হবে।
খালেদা জিয়া অসুস্থ থাকায় সাক্ষাতের অনুমতি পেলেন না ফখরুল
বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া অসুস্থ থাকায় কারাগারে তার সঙ্গে সাক্ষাৎ করার অনুমতি পাননি দলটির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। বিএনপি চেয়ারপারসনের গণমাধ্যম শাখার কর্মকর্তা শায়রুল কবীর খান জানান, বৃহস্পতিবার বিকাল ৩টায় পুরান ঢাকার নাজিমউদ্দিন রোডের পুরনো কেন্দ্রীয় কারাগারে গিয়ে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের দেখা করার কথা ছিল।কিন্তু দুপুরে বিএনপি মহাসচিবকে জানিয়ে দেয়া হয়- বিএনপি চেয়ারপারসন অসুস্থ, তাই তিনি দেখা করার অনুমতি পাচ্ছেন না। এর আগে শায়রুল কবীর জানিয়েছিলেন, ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন ও বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে করণীয় বিষয় নিয়ে বিএনপি চেয়ারপারসন ও মহাসচিবের মধ্যে আজ আলোচনা হতে পারে। উল্লেখ্য, ৮ ফেব্রুয়ারি ঢাকার বিশেষ জজ আদালত ৫-এর বিচারক ড. আখতারুজ্জামানের আদালত খালেদা জিয়াকে পাঁচ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দেন। একই আদালত খালেদা জিয়া ও তারেক রহমানসহ ছয় আসামির প্রত্যেককে ২ কোটি ১০ লাখ ৭১ হাজার ৬৪৩ টাকা করে অর্থদণ্ডে দণ্ডিত করেন। রায়ের পর থেকে কারাগারে আছেন খালেদা জিয়া।
আওয়ামী লীগের বিজয়ের হাতিয়ার নারী ও তরুণ ভোটাররাই:কাদের
নারী ও তরুণ ভোটাররাই আগামী নির্বাচনে আওয়ামী লীগের বিজয়ের হাতিয়ার বলে দাবি করেছেন দলটির সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের।কাদের বৃহস্পতিবার দুপুরে ঠাকুরগাঁও জেলা সরকারি বালক উচ্চ বিদ্যালয়ের মাঠে আওয়ামী লীগ আয়োজিত জনসভায় তিনি এমন দাবি করেন। বিএনপি দুর্দিনে জনগণের পাশে থাকে না অভিযোগ করে তিনি বলেন, মনে আছে শীতের সময়ে আমরা এসেছিলাম কম্বল নিয়ে, তখন কোথাও তাদের দেখা যায় নাই। আপনাদের বিপদের সময় কে আপনাদের পাশে থাকে? শেখ হাসিনার কম্বল নিয়ে ঠাকুরগাঁওয়ে আওয়ামী লীগ এসেছে। কাদের বলেন,বিএনপির পায়ের তলায় মাটি নাই। বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে পদত্যাগ করতে বলেন, আপনারা ঠাকুরগাঁওবাসী কী বলেন? এই প্রশ্ন করা হলে জনসভায় উপস্থিত সবাই সমস্বরে বলেন না, না, না। নৌকার পক্ষে ভোট চেয়ে ওবায়দুল কাদের বলেন, বিএনপি ক্ষমতায় এলে সারাদেশে খাওয়া ভবন হবে। দুর্নীতি, সন্ত্রাস, জঙ্গিবাদ পেট্রলবোমা মারবে আপনারা কী তা চান? জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি দবিরুল ইসলামের সভাপতিত্বে জনসভায় আরও বক্তব্য দেন কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের, সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য রমেশ চন্দ্র সেন, পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ এইচ এম মাহমুদ আলী, দলের যুগ্ম সাধারণ মাহবুব উল আলম হানিফ, জাহাঙ্গীর কবির নানক, সাংগঠনিক সম্পাদক খালিদ মাহমুদ চৌধুরী, স্বেচ্ছাসেবক লীগ সাধারণ সম্পাদক পঙ্কজ দেবনাথ, যুব মহিলা লীগের সাধারণ সম্পাদক অপু উকিল, ছাত্রলীগের সভাপতি সাইফুর রহমান সোহাগ প্রমুখ।
চাইলে অন্যদিন সমাবেশের অনুমতি পাবে বিএনপি: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল বলেছেন, আশঙ্কাজনক কোনো তথ্য ছিল বলেই ২৯ মার্চ বিএনপিকে সমাবেশের অনুমতি দেয়নি পুলিশ। তবে অন্য সময় চাইলে নিশ্চয় তারা অনুমতি পাবে। বৃহস্পতিবার দুপুরে মানিকগঞ্জ জেলা আনসার একাডেমিতে নবগঠিত ৩৮ আনসার ব্যাটালিয়নের ফ্ল্যাগ রেইজিংয়ের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, পুলিশ প্রশাসনের কাছে বিভিন্ন তথ্য উপাত্ত থাকে। সেগুলো বিশ্লেষণ করে সমাবেশের অনুমতি দেয়া হয়। ২৯ মার্চ হয়তো কোনো অসুবিধা ছিল যে কারণে পুলিশ বিএনপিকে সমাবেশের অনুমতি দেয়নি। বিএনপি অন্য দিন চাইলে অবশ্যই অনুমতি দেয়া হবে। তিনি আরও বলেন, পুলিশ কমিশনারের দায়িত্ব হলো জনগণের জানমাল রক্ষা করা। যানজট যাতে না হয় সেগুলো দেখাশুনা করা। অনুমতি নিয়ে রাজনৈতিক কর্মসূচি করা হবে এই প্রসঙ্গ আসেই না। জাতীয় পার্টি ঢাকায় বিশাল সমাবেশ করেছে। অন্যান্য পার্টি সমাবেশ করছে। অনুষ্ঠানে আনসার ও ভিডিপির মহাপরিচালক মেজর জেনারেল পাশা হাবীব উদ্দিন, অতিরিক্ত মহাপরিচালক ব্রিগ্রেডিয়ার নুরুল আলম, মানিকগঞ্জের জেলা প্রশাসক মো. নাজমুছ সাদাত সেলিম, পুলিশ সুপার রিফাত রহমান শামীম, জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট গোলাম মহীউদ্দীন উপস্থিত ছিলেন।
আত্মস্বীকৃত দুর্নীতিবাজ দল বিএনপি: কাদের
গঠনতন্ত্রের ৭ ধারা তুলে দিয়ে বিএনপি মেনেই নিয়েছে তারা আত্মস্বীকৃত দুর্নীতিবাজ দল। বললেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের। বুধবার সকালে সচিবালয়ে এক প্রেস ব্রিফিংয়ে তিনি এ মন্তব্য করেন। ওবায়দুল কাদের বলেন, বিএনপির গঠনতন্ত্রে ছিল দুর্নীতিতে দণ্ডিত হলে বা দেউলিয়া হয় বা সামাজিকভাবে কুখ্যাত বা পরিচিত হয় তাহলে গঠনতন্ত্র বলে দলে থাকার অধিকার নেই। বেগম জিয়ার দুর্নীতির মামলার রায়ের তারিখের পর দলটি কলমের খোঁচায় ৭ ধারা পরিবর্তন করে। নির্বাচনী প্রক্রিয়া অনুযায়ী দেশে যথাসময়ে জাতীয় সংসদ নির্বাচন হবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, নির্বাচনের সময় প্রধানমন্ত্রী পদত্যাগের প্রশ্নই আসে না। নির্বাচনে আসা না আসা বিএনপির নিজেদের ব্যাপার। সরকার কেনো তাদের নির্বাচনে ডাকবে? নির্বাচনকালীন সরকার গঠন নিয়ে এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, সংসদে প্রতিনিধিত্বকারী দলগুলোর মাঝ থেকে নির্বাচনকালীন সরকার গঠন হবে। আর এটা পুরোপুরি প্রধানমন্ত্রীর এখতিয়ার। স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবসে বিএনপির র‍্যালির বিষয়ে ওবায়দুল কাদের বলেন, তাদের (বিএনপির) লজ্জা পাওয়া উচিৎ। তারা যখন ক্ষমতায় ছিল ২১ ফেব্রুয়ারিতে আমাদের অফিসের বারান্দায়ও সভা করতে দেয়নি। জনদুর্ভোগের কথা ভেবে আমরা রুলিং পার্টি পর্যন্ত র‍্যালি করলাম না। তারা করলো। তাই তাদের অভিযোগ অবান্তর। সাংগঠনিকভাবে আওয়ামী লীগের অবস্থা সম্পর্কে জানতে চাইলে ওবায়দুল কাদের বলেন, আমরা শক্তিশালী। ভালো অবস্থানে আছি। সুপ্রিম কোর্টে (সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির নির্বাচন) জিতে বিএনপি মনে করছে দেশ জয় করে ফেলেছে। আমরা যে এত জায়গায় জয়ী হই, তার কোনও সংবাদ আসে না। সম্প্রতি জার্মান একটি গবেষণা প্রতিষ্ঠানে বাংলাদেশকে স্বৈরতান্ত্রিক দেশ হিসেবে অভিহিত করা হয়েছে। এ প্রসঙ্গে সেতুমন্ত্রী বলেন, জাতিসংঘ যখন বাংলাদেশকে স্বল্পোন্নত দেশ থেকে উন্নয়নশীল দেশের স্বীকৃতি দিয়েছে, ঠিক সেই মুহূর্তেই এই প্রতিবেদন প্রকাশ করা হয়েছে। এমন প্রতিবেদনের প্রতিবেদনের কী উদ্দেশ্য, তা খতিয়ে দেখছি। আমরা এরই মধ্যে কাগজপত্র সংগ্রহ করেছি।
জনতার ঢল নামবে সমাবেশে-এ ভয়ে অনুমতি দিচ্ছে না সরকার
রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে সমাবেশ হলে সেখানে জনগণের ঢল নামবে। আর এ ভয় থেকেই সরকার সমাবেশের অনুমতি দিচ্ছে না বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী। বুধবার রাজধানীর নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে এ মন্তব্য করেন তিনি। রিজভী বলেন, বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার মুক্তি এবং মিথ্যা ও সাজানো মামলায় বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানকে সাজা দেয়ার প্রতিবাদে বৃহস্পতিবার রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে সমাবেশের প্রস্তুতি চলছে। অথচ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে এখনও এই সমাবেশের অনুমতি মেলেনি। তিনি বলেন, ভোটারবিহীন সরকার বিএনপি চেয়ারপারসন, তিনবারের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও দেশের বৃহৎ রাজনৈতিক দলের প্রধান যিনি গণতন্ত্রের মা হিসেবে জনগণের মধ্যে স্বীকৃতি পেয়েছেন, সেই দেশনেত্রী খালেদা জিয়াকে আগামী নির্বাচন থেকে মাইনাস করতে অসত্য মামলায় বন্দি করে রেখেছে। এমনকি তার জামিনে সরাসরি বিরোধিতা করছে সরকার। বর্তমান সরকার এখন মাইনাস টু নয়, মাইনাস ওয়ান ফর্মুলা বাস্তবায়ন করতে মরিয়া হয়ে উঠেছে। সংবাদ সম্মেলনে খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবিতে আগামী ১ এপ্রিল লিফলেট বিতরণ, ৩ এপ্রিল প্রতিবাদ কর্মসূচির ঘোষণা দেন রিজভী। এ ছাড়া ৭ এপ্রিল বরিশাল এবং ১০ এপ্রিল সিলেটে সমাবেশ অনুষ্ঠিত হবে বলেও জানান তিনি।
বর্তমান প্রতিনিধিত্বকারী দল নিয়ে নির্বাচনকালীন সরকার: কাদের
বর্তমান জাতীয় সংসদে প্রতিনিধিত্বকারী দলগুলো নিয়ে নির্বাচনকালীন সরকার গঠন করা হবে বলে জানিয়েছেন সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের। বুধবার সচিবালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, সংসদে প্রতিনিধিত্বকারী দলগুলোর মাঝ থেকে নির্বাচনকালীন সরকার গঠন হবে। আর এটা পুরোপুরি প্রধানমন্ত্রীর এখতিয়ার। নির্বাচনী প্রক্রিয়া অনুযায়ী দেশে যথাসময়ে জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে বলেও জানান ওবায়দুল কাদের। তিনি বলেন, নির্বাচনের সময় প্রধানমন্ত্রীর পদত্যাগের প্রশ্নই আসে না। প্রধানমন্ত্রী পদত্যাগ করলে দেশ চালাবেন কে? খালেদা জিয়া কি কারাগার থেকে বেরিয়ে এসে দেশ চালাবেন? সাংবাদিকদের আরেক প্রশ্নের জবাবে আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের বলেন, নির্বাচনে আসা না আসা বিএনপির নিজেদের ব্যাপার। সরকার কেন তাদের নির্বাচনে ডাকবে?
আদালতের কাছে ন্যায়বিচার চাই খালেদার মুক্তি নয়:ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী
গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের প্রতিষ্ঠাতা ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী বলেছেন, বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার মুক্তি নয়, আদালতের কাছে ন্যায়বিচার চাই। তিনি বলেন, যেখানে ১০ হাজারের বেশি নেতা-কর্মী বিনা অপরাধে জেলে। কার কাছে আমি মুক্তি চাইবো? বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবিতে আয়োজিত মানববন্ধন কর্মসূচিতে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন ডা. জাফরুল্লাহ। মঙ্গলবার জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে এ মানববন্ধন কর্মসূচির আয়োজন করা হয়। মানববন্ধনে অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন, বিএফইউজের সভাপতি রুহুল আমিন গাজী, বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য ইসমাঈল হোসেন বেঙ্গল প্রমুখ।
হার -জিত দুটোতেই লাভের হিসাব কষছে বিএনপি
জাতীয় নির্বাচনের আগ মুহূর্তে পাঁচ সিটি করপোরেশন নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। এ ছাড়াও খুব শিগগিরই হতে যাচ্ছে স্থানীয় সরকারের আরও অন্তত একশটি নির্বাচন। জাতীয় নির্বাচনের আগ মুহূর্তে এসব নির্বাচন গুরুত্বপূর্ণ বার্তা দেবে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা। নানা প্রতিকূল পরিবেশেও স্থানীয় সরকার নির্বাচনে অংশগ্রহণের ব্যাপারে বিএনপির ইতিবাচক অবস্থান রয়েছে। এবারও সিটি নির্বাচনে বিএনপি অংশ নেবে বলে দলীয় নির্ভরযোগ্য সূত্রগুলো আভাস দিয়েছে। বিএনপি মনে করছে, যে কোনো পরিস্থিতিতে সুষ্ঠু ভোট হলে পাঁচ সিটি নির্বাচনের সবগুলোতেই বিএনপি জয়লাভ করবে। আবার ভোট ডাকাতির মাধ্যমে দলীয় প্রার্থীদের বিজয় ছিনিয়ে নিলে সেখানেও লাভের হিসাবই কষছে বিএনপি। জাতীয় নির্বাচনের আগে স্থানীয় সরকার নির্বাচনে ভোট কারচুপির ইস্যুকে কাজে লাগিয়ে প্রচারণা চালাতে সহায়তা হবে বলে মনে করছেন দলের নীতিনির্ধারকরা। বিষয়টি নিয়ে আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলেও প্রচারণা চালাবে বিএনপি। এতে একাদশ জাতীয় নির্বাচনে নির্দলীয় নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে ভোটগ্রহণের দাবিটি আরও জোরালো হবে বলেও মনে করছেন বিএনপির নীতিনির্ধারকরা। সিটি নির্বাচন প্রসঙ্গে সন্ধ্যায় বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, স্থানীয় সরকার নির্বাচনে বিএনপির আগের অবস্থান ছিল অংশ নেওয়ার। এর আগে বিএনপি নানা প্রতিকূল পরিবেশেও অংশ নিয়েছে। সেখানে যেগুলো মোটামুটি ভোট সুষ্ঠু হয়েছে তাতে বিএনপি জয়লাভও করেছে। তবে দেশে এখন নির্বাচন করার মতো কোনো পরিবেশ নেই। সুষ্ঠু পরিবেশ তৈরি না হলে আসন্ন পাঁচ সিটি করপোরেশনের নির্বাচনে অংশ নেবে কিনা ভেবে দেখা হবে। এ নিয়ে আমরা দু-এক দিনের মধ্যেই সিনিয়র নেতাদের সঙ্গে বসব। সেই বৈঠকেই নির্ধারিত হবে, আমরা সিটি নির্বাচনে অংশ নেব কি না। দলের সিনিয়র একাধিক নেতার সঙ্গে আলাপকালে জানা গেছে, আসন্ন পাঁচ সিটি নির্বাচনেও অংশ নেবে বিএনপি। এ নিয়ে পাঁচ সিটিতে দলের সম্ভাব্য প্রার্থীদের সবুজ সংকেতও দেওয়া হয়েছে। এখন শুধু আনুষ্ঠানিক ঘোষণার বাকি। সম্ভাব্য প্রার্থীরাও আটঘাট বেঁধেই মাঠে নামছেন। এরই মধ্যে সংশ্লিষ্ট এলাকাগুলোতে সম্ভাব্য প্রার্থীদের ব্যানার ফেস্টুনসহ নানা পোস্টার শোভা পাচ্ছে। এক্ষেত্রে দলের প্রধান বেগম খালেদা জিয়ার কারান্তরীণ থাকার বিষয়টি অন্তরায় হবে না। বিএনপি প্রধান জেলে যাওয়ার আগেও পাঁচ সিটি নির্বাচনে অংশগ্রহণ নিয়ে ইতিবাচক মনোভাবের কথা নেতাদের জানিয়েছেন। সিটি নির্বাচনে অংশ নিয়ে দলীয় প্রার্থী বিজয়ী হলে বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তি আন্দোলন আরও বেগবান হবে বলেও বলছেন নেতারা। অন্যথায় ভোট কারচুপি হলে তা নিয়েও আন্দোলনের ইস্যু তৈরি হবে। তবে নির্বাচন কমিশন ও স্থানীয় প্রশাসনের নিরপেক্ষতা ও অনুকূল পরিবেশের ওপর নজর রাখা হবে। নির্বাচন মোটামুটিভাবে সুষ্ঠু হলে মেয়র পদে বিএনপি পাঁচটিতেই বিজয়ী হবে বলেও সিনিয়র নেতারা আশাবাদ ব্যক্ত করেন। জানা যায়, গাজীপুর ও খুলনা সিটি নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা হবে ৩১ র্মাচ। সে অনুযায়ী মে মাসের দ্বিতীয় সপ্তাহে গাজীপুর ও খুলনা সিটি নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। আর ঈদুল ফিতরের পর সিলেট, রাজশাহী ও বরিশাল সিটিতে নির্বাচন আয়োজনের চিন্তাভাবনা করছে নির্বাচন কমিশন। এক্ষেত্রে গাজীপুর সিটি নির্বাচনে বিএনপির আগের প্রার্থীই অর্থাৎ বর্তমান মেয়র অধ্যাপক আবদুল মান্নানই প্রার্থী অনেকটা চূড়ান্ত। তিনি এলাকায় নেতা-কর্মীসহ সর্বস্তরের মানুষের সঙ্গে যোগাযোগও করছেন। খুলনায় প্রার্থী পরিবর্তন হওয়ার সম্ভাবনাই বেশি। সেখানে বিএনপির বর্তমান মেয়র মনিরুল ইসলাম মনি। এবার সেখানে বিএনপির আন্দোলন সংগ্রামে থাকা খুলনা জেলা বিএনপির সভাপতি অ্যাডভোকেট শফিকুল আলম মনাও দলীয় সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে নেতা-কর্মীদের চিন্তায় জায়গা করে নিয়েছেন। কেন্দ্রে বিএনপির দায়িত্বপ্রাপ্ত এক সিনিয়র নেতা জানান, শফিকুল আলম মনারই প্রার্থী হওয়ার সম্ভাবনা বেশি। আবার কেউ কেউ বলছেন, খুলনা মহানগর সভাপতি নজরুল ইসলাম মঞ্জুও দলের প্রার্থী হতে পারেন। বিএনপি সূত্র জানায়, রাজশাহীতেও বর্তমান মেয়র মোসাদ্দেক হোসেন বুলবুলই দলীয় সম্ভাব্য প্রার্থী। নানা প্রতিকূলতার মধ্যেও তিনিও নির্বাচনী গণসংযোগ করছেন। একইভাবে সিলেট সিটি করপোরেশনেও বিএনপির আগের প্রার্থী বর্তমান মেয়র আরিফুল হকই নির্বাচনী মাঠে। দলের হাইকমান্ড থেকেও সবুজ সংকেত পেয়েছেন তিনি। সেখানে ইলিয়াসপন্থি নেতা-কর্মীসহ সংশ্লিষ্ট সবার সঙ্গেই তার নিবিড় যোগাযোগ রয়েছে। এ কারণে দলের মনোয়ন পেতে তার বেগ পেতে হবে না। এদিকে বরিশাল সিটি করপোরেশনে বিএনপির মেয়র প্রার্থী বদল হওয়ার সম্ভাবনাই বেশি। সেখানে বর্তমান মেয়র আহসান হাবিব কামালের সঙ্গে স্থানীয় নেতা-কর্মীদের একটা দূরত্ব হয়ে গেছে। তাছাড়া তিনি অসুখ-বিসুখসহ নানা কারণে ঢাকাই থাকেন বেশি। সেক্ষেত্রে সেখানে বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক মজিবর রহমান সরোয়ারকেই বেছে নিতে পারে বিএনপি। স্থানীয়ভাবেও তার সর্বস্তরে একটি গ্রহণযোগ্যতা রয়েছে। কোনো কারণে মজিবর রহমান সরোয়ার নির্বাচন না করলে প্রার্থী দৌড়ে এগিয়ে রয়েছেন বরিশাল বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক বিলকিস জাহান শিরিন, বরিশাল জেলা দক্ষিণ বিএনপির সভাপতি এবাদুল হক চান ও মহানগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক জিয়া শিকদার। বর্তমান মেয়র আহসান হাবিব কামালও ফের প্রার্থী হওয়ার জন্য তৎপরতা চালাচ্ছেন। প্রার্থীতার দৌড়ে এগিয়ে থাকা মজিবর রহমান সরোয়ার জানান, মেয়র নির্বাচন করার ইচ্ছা তার নেই। তবে বিএনপির হাইকমান্ড যদি তাকে নির্বাচন করতে বলে সেক্ষেত্রে তিনি বিবেচনা করবেন। বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান মো. শাহজাহান বলেন, সিটি নির্বাচনে আমরা যেতে চাই। তবে আমরা দেখব, নির্বাচন কমিশন আর স্থানীয় প্রশাসন কতটুকু নিরপেক্ষ। নির্বাচনের অনুকূল পরিবেশ আছে কি না। আমাদের প্রার্থীর কোনো সমস্যা নেই। সুষ্ঠু নির্বাচন হলে বিএনপি পাঁচটি সিটিতেই জয়ী হবে ইনশা আল্লাহ। সূত্র: বাংলাদেশ প্রতিদিন

রাজনীতি পাতার আরো খবর