জোরালো কর্মসূচির হুঁশিয়ারি বিএনপির
আওয়ামী লীগকে ক্ষমতা থেকে উৎখাত করতে জোরালো কর্মসূচির হুঁশিয়ারি দিয়েছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মওদুদ আহমদ। তিনি বলেছেন, একটু ধৈর্য ধরেন, অপেক্ষা করুন। উপযুক্ত সময়ে উপযুক্ত কর্মসূচি দেওয়া হবে এবং সেই কর্মসূচি কঠোর কর্মসূচি হবে। এটার কোনো নরম বা ওই যে ভদ্রলোকের শান্তিপূর্ণ কর্মসূচি হবে না। কারণ, আমরা জানি কোনো ফ্যাসিবাদী সরকারকে, কোনো স্বৈরাচারী সরকারকে নিয়মতান্ত্রিক উপায়ে উৎখাত করা যায় না। শনিবার জাতীয় প্রেসক্লাবে নাগরিক অধিকার আন্দোলন ফোরাম আয়োজিত আলোচনা সভায় এসব কথা বলেন বিএনপির এই নেতা। সরকার খালেদা জিয়াকে মানসিকভাবে কষ্ট দিয়ে জাতীয় নির্বাচনের বাইরে রাখার উদ্দেশ্যেই তার জামিন বিলম্ব করছে বলে অভিযোগ করেন ব্যারিস্টার মওদুদ। সাবেক এই আইনমন্ত্রী আরও বলেন, বিএনপি খালেদা জিয়ার মামলা খারিজ চায় না, জামিন চায়। খালেদা জিয়ার জামিন বিলম্বিত করা সরকারের হীনম্মন্যতার পরিচয়ই বহন করে। গত ৮ ফেব্রুয়ারি জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট মামলায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়াকে পাঁচ বছরের কারাদণ্ড দেন বিশেষ আদালত। এরপর পুরান ঢাকার নাজিমউদ্দিন রোডের পুরোনো কারাগারকে বিশেষ কারাগার ঘোষণা দিয়ে তাকে সেখানেই রাখা হয়েছে। এ মামলায় হাইকোর্টে জামিন পান খালেদা জিয়া। তবে মামলার বাদী রাষ্ট্রপক্ষ ও দুর্নীতি দমন কমিশন এ আদেশের বিরুদ্ধে আবেদন করলে আপিল বিভাগে তাঁর জামিন আটকে যায়।
খালেদা জিয়ার মাইল্ড স্ট্রোক : ধারণা চিকিৎসকের
বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার ‘মাইল্ড স্ট্রোক’ হয়েছে বলে ধারণা করেছেন তার ব্যক্তিগত চিকিৎসক। তিনি সাংবাদিকদের জানান, বিএনপি চেয়ারপারসনের ‘মাইল্ড স্ট্রোক’ হতে পারে বলে আমাদের ধারণা। আজ শনিবার বিকেলে কারাবন্দি খালেদা জিয়াকে দেখতে তার ব্যক্তিগত চার চিকিৎসক পুরোনো ঢাকার কেন্দ্রীয় কারাগারে যান। খালেদা জিয়াকে দেড় ঘণ্টারও বেশি সময় ধরে পর্যবেক্ষণের পর ঢাকা মেডিকেল কলেজের মেডিসিন বিভাগের অধ্যাপক এফ এম সিদ্দিকী তাদের বক্তব্য সাংবাদিকদের কাছে তুলে ধরেন। তিনি বলেন, গত ৫ জুন তিনি হঠাৎ করে পড়ে গিয়েছিলেন। তিনি ওই সময়টার কথা বলতে পারছেন না। তার একটি মাইল্ড স্ট্রোক হয়েছে বলে আমরা ধারণা করছি। বর্তমানে উনার কথায় কিছুটা জড়তা আছে, তবে কমিউনিকেশন করতে পারছেন। তবে স্ট্রোকের বিষয়টি নিশ্চিত হতে আরও পরীক্ষা-নিরীক্ষার জন্য খালেদা জিয়াকে কারাগারের বাইরে বিশেষায়িত একটি হাসপাতালে ভর্তি করতে সুপারিশ করেছেন তার ব্যক্তিগত এই চিকিৎসকরা। এদিকে বিএনপি চেয়ারপারসনের চিকিৎসা নিয়ে চার পৃষ্ঠার একটি সুপারিশমালা কারা কর্তৃপক্ষকে দিয়েছেন বলে জানান অধ্যাপক এফ এম সিদ্দিকী।অধ্যাপক এফ এম সিদ্দিকীর সঙ্গে ছিলেন নিউরো মেডিসিনের অধ্যাপক সৈয়দ ওয়াহিদুর রহমান, চক্ষু বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক আব্দুল কুদ্দুস এবং কার্ডিওলজিস্ট ডা. মোহাম্মদ মামুন।
বিএনপির বিক্ষোভ মিছিল রোববার
বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার সঙ্গে তার পরিবারের সদস্যরা দেখা করেছেন। শুক্রবার বিকেল সোয়া ৪টার দিকে তারা পুরান ঢাকার কেন্দ্রীয় কারাগারে প্রবেশ করেন। বের হন পৌনে ৬টার দিকে। এদিকে খালেদা জিয়ার সুচিকিৎসার দাবিতে রোববার সারাদেশের জেলা ও মহানগরে এবং ঢাকা মহানগরীর থানায় থানায় প্রতিবাদ কর্মসূচি পালনের কথা রয়েছে। কারাগারে ঢোকার আগে বা বের হওয়ার পর খালেদা জিয়ার স্বজনরা কারও সঙ্গে কথা বলেননি। তাদের মধ্যে ছিলেন খালেদা জিয়ার ভাই সাইদ এস্কান্দার, তার স্ত্রী কানিজ ফাতেমা, তাদের দুই ছেলে অভিক এস্কান্দার ও অরিক এস্কান্দার এবং ভাগ্নে ডা. মামুন। দলের পক্ষ থেকে বিএনপি এবং এর সহযোগী সংগঠনের সব পর্যায়ের নেতাকর্মীকে প্রতিবাদ কর্মসূচি পালনের জন্য আহ্বান জানানো হয়েছে। দলের সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী শুক্রবার রাতে এক জরুরি সংবাদ সম্মেলনে এ কর্মসূচি ঘোষণা করেন। তিনি এ সময় বলেন, কেন্দ্রীয় কারাগারে সাক্ষাৎ শেষে নিকটাত্মীয়রা দেশনেত্রী সম্পর্কে যে বর্ণনা দিয়েছেন তা শুধু মর্মস্পর্শীই নয়, হৃদয়বিদারক। সরকারের জিঘাংসার কশাঘাতের ভয়াবহতা তার প্রতি অমানবিক আচরণের মাত্রা থেকেই বোঝা যায়। রিজভী বলেন, নিকটাত্মীয়রা বলেছেন, গত ৫ জুন খালেদা জিয়া দাঁড়িয়ে থাকা অবস্থায় মাথা ঘুরে পড়ে গিয়েছিলেন। তিনি তিন সপ্তাহ ধরে ভীষণ জ্বরে ভুগছেন, যা কোনোক্রমেই থামছে না। চিকিৎসাবিদ্যায় এটিকে বলা হয় টিআইএ (ট্রানজিয়েন্ট স্কিমিক অ্যাটাক)। দেশনেত্রীর পা দুটো এখনও ফুলে আছে এবং তিনি তার শরীরের ভারসাম্য রক্ষা করতে পারছেন না। এ সময় বিএনপি নেতা রিজভী চ্যালেঞ্জ দিয়ে বলেন, খালেদা জিয়ার অসুস্থতা নিয়ে এর আগেও কথা হয়েছে। তখন সে অনুযায়ী ব্যবস্থা নিলে তার স্বাস্থ্যের এত অবনতি হতো না। সরকারের ইচ্ছাকৃত অবহেলা ও উদাসীনতার কারণে খালেদা জিয়ার চিকিৎসার ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। যা থেকে বোঝা যায়, সরকার এবং সরকার প্রভাবিত প্রশাসনযন্ত্র কোনো গভীর ষড়যন্ত্রে লিপ্ত রয়েছে।
দেশে প্রতিটি হত্যার বিচার করা হবে
মাদকদ্রব্য নির্মূলের নামে সরকার বিরোধী দল নির্মূল করতে চায়’ অভিযোগ করে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ বলেছেন, কোনও সরকার মাদক নির্মূলের নামে মানুষ হত্যার হুকুম দিতে পারে না। আমরা প্রতিটি হত্যার অনুসন্ধান করবো। শুক্রবার জাতীয় প্রেস ক্লাবের ভিআইপি লাউঞ্জে ইয়ুথ ফোরাম আয়োজিত এক আলোচনা সভায় তিনি একথা বলেন।মওদুদ আহমদ বলেন, মাদকদ্রব্য নির্মূলের নামে বিরোধী দল নির্মূল করতে চায় এই সরকার। আমাদের অনেক নেতাকর্মীর নাম তাদের কথিত তালিকায় তালিকাভুক্ত করা শুরু করেছে। কোনও দায়িত্বশীল সভ্য সরকার এভাবে মানুষকে হত্যা করার হুকুম দিতে পারে না। এই সরকার তা দিয়ে বিরাট একটি অপরাধ করেছে। আমরা প্রতিটি হত্যা অনুসন্ধান করবো। প্রতিটি হত্যার বিচার করা হবে এই বাংলাদেশে। ‘কে মাদক ব্যবসায়ী এটা কে নির্ধারণ করে দিয়েছে?’ এমন প্রশ্ন তুলে মওদুদ বলেন, ‘এই যে তারা বলে বন্দুকযুদ্ধে মাদক ব্যবসায়ী নিহত হয়েছে, সে যে ব্যবসায়ী এটা কে নির্ধারণ করেছে? এই যে একটা তরুণ ছেলে রাস্তা দিয়ে যাচ্ছে কিংবা গ্রামের এক কৃষককে বন্দুকযুদ্ধে মেরে ফেলা হলো, সে যে মাদক ব্যবসায়ী এটা কে নির্ধারণ করছে? কোনও আদালত সিদ্ধান্ত দিয়েছে? এই বিনা বিচারে হত্যা অনেকটা গণহত্যার মতো। ঠান্ডামাথায় তাদের হত্যা করা হলো। আমার মাদক ব্যবসায়ীদের প্রতি কোনও দুর্বলতা নেই। আমি চাই সমগ্র দেশ মাদকমুক্ত হোক। সেটা আমরা সবাই চাই। কিন্তু এই ৯ বছরে সরকার কী করেছে সেটাও জানতে চাই। ২০১৮-১৯ অর্থবছরের বাজেটকে বড় একটি সুন্দর নীল বেলুনের সঙ্গে তুলনা করে মওদুদ বলেন, এই বাজেটের ভেতরটা শূন্য। একটা সুই দিয়ে গুঁতা দিলে ফেটে যাবে। ইট ইজ এ বিগ বিউটিফুল ব্লু বেলুন, যার ভেতরে কিচ্ছু নাই, শূন্য। এটা একটি গতানুগতিক বাজেট। নির্বাচনকে সামনে রেখে এই বাজেট দেওয়া হয়েছে। এই বাজেট সম্পর্কে মন্তব্য করার আগে আমার প্রশ্ন এই সরকারের বৈধতা আছে কিনা। এই সরকারের বাজেট দেওয়ার অধিকার আছে কিনা। গত ৯ বছরের শাসনে জনগণকে যা কষ্ট দিয়েছেন সেটা ইতিহাস একদিন রায় দেবে। মানুষ এই কষ্টগুলো ভুলে নাই। বিগত বছরে যে পরিমাণ অর্থ পাচার হয়েছে, ব্যাংক লুট হয়েছে এগুলো নিরসন করার কোনও নির্দেশনা এই বাজেটে নেই।বর্তমান নির্বাচন কমিশনের অধীনে সুষ্ঠু নির্বাচন সম্ভব না’ দাবি করে মওদুদ বলেন, এতদিন ইসি বলে আসছে সেনা মোতায়েন করা হবে না। হঠাৎ করে তারা এখন বলছে সেনা মোতায়েন হবে জাতীয় নির্বাচনে। হঠাৎ করে কেন বললেন সেটাও একটা প্রশ্ন। তবে সেনা মোতায়েন করলে সেনাবাহিনীকে ম্যাজিস্ট্রেসি ক্ষমতা দিতে হবে। শুধু স্ট্রাইকিং ফোর্স হিসেবে রাখলে হবে না। যাতে জনগণ নির্বাচনের দিন নির্ভয়ে ভোট প্রদান করতে পারে সেই পরিবেশ রাখতে হবে।
এই বিশাল বাজেট লুটপাটের জন্যই
বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী বলেছেন প্রস্তাবিত বাজেট জনকল্যাণমূলক না হওয়ায় জনগণ হতাশ হয়েছে। তারা যেহেতু জনগণের সরকার নয়, আর এই এমপিরা যেহেতু জনগণের ভোটে নির্বাচিত নন, তাই তাদের কাছ থেকে জনকল্যাণমূখী বাজেট আশা করা যায় না। প্রস্তাবিত বাজেট মানুষের প্রত্যাশা পূরণ করতে পারবে না। মূলত নির্বাচনকে সামনে রেখে সর্বশেষ লুটপাটের জন্যই এ বিশাল বাজেট পেশ করা হয়েছে। শুক্রবার রাজধানীর নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ অভিযোগ করেন। তিনি বলেন, ফুলিয়ে ফাঁপিয়ে বাজেট বড় করা হয়েছে। বাজেটের আকার বড় করে জনগণের সঙ্গে ধাপ্পাবাজি করা হয়েছে। এ বাজেট বাস্তবায়ন অসম্ভব। এটা মানুষকে বোকা বানানোর বাজেট, এটা প্রতারণার বাজেট। আপনারা দেখেছেন গত অর্থবছরেও ৪ লাখ ২৬৬ কোটি টাকার বাজেট দেওয়া হয়েছিল। কি দেখলাম লুটপাট আর হরিলুট। সারা দেশের রাস্তা ঘাটের দিকে তাকান। দেশের ৮৫ হাজার কি. মি. সড়ক বর্তমানে বেহাল অবস্থা বিরাজ করছে। অথচ মেগা প্রকল্পের নামে তারা বাঘা দুর্নীতি করেছে। গতবার এত বিগ বাজেট দেয়ার পরও বাংলাদেশের বিপুল সংখ্যক মানুষ দারিদ্র সীমার নীচে। আর দেশের উত্তরাঞ্চলের হতদরিদ্রের সংখ্যা দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে। এবারেও অবকাঠামো খাতে বরাদ্দ রাখা হয়েছে শুধু লুটপাটের জন্য। প্রস্তাবিত বাজেটেও মেগা দূর্নীতির জন্য সকল পথ খোলা রাখা হয়েছে। সামষ্টিক অর্থনীতির সূচকগুলোর অনিশ্চয়তা ও অস্থিরতা বিদ্যমান। রিজভী অারো বলেন, বাজেটে যে বড় ঘাটতি রয়েছে তা পূরণ করা অসম্ভব। সেজন্য ঋণ ও সঞ্চয়পত্রের ওপর ঝুঁকতে হবে সরকারকে। প্রস্তাবিত বাজেট কর, ঋণ আর বিদেশী অনুদান নির্ভর। বাজেটে ২০১৮-১৯ অর্থ বছরে রাজস্ব লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ৩ লাখ ৩৯ হাজার ২৮০ কোটি টাকা, এর মধ্যে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের মাধ্যমে কর হিসেবে দুই লাখ ৯৬ হাজার ২০১ কোটি টাকা আদায় করা হবে। যা জনগণের রক্ত চুষে আদায় করতে হবে। তাই এক কথায় বলা যায় প্রস্তাবিত বাজেট জনগণের রক্ত চোষার লুটের বাজেট। চলতি আয়-ব্যয়ে বিশাল ঘাটতি থাকবে, কারণ আমদানি ব্যয় বাড়ছে, রফতানী আয় কমছে। রফতানী আয়ের তুলনায় আমদানী ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় মূলস্ফীতি ব্যাপকভাবে বৃদ্ধি পাবে। রিজভী অভিযোগ করে বলেন, বাজেটে নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টির কোন সুনির্দিষ্ট দিক নির্দেশনা নেই। দেশে সুশাসন না থাকায় বর্তমানে দেশে বিনিয়োগের পরিবেশ নেই। দেশী-বিদেশী বিনিয়োগ বন্ধ রয়েছে। শেয়ার মার্কেট থেকে বিদেশী বিনিয়োগ তুলে নিচ্ছে। বর্তমানে দেশে কর্মক্ষম বেকারের সংখ্যা প্রায় সাড়ে চার কোটি। বাজেটে কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা তেমনভাবে না রাখায় বেকার সমস্যা আরও বেড়ে যাবে। প্রস্তাবিত বাজেট পাশ হলে সকল জিনিসপত্রের দাম বেড়ে যাবে। বাড়ীঘরের ট্যাক্স বাড়বে, বাসাভাড়া বাড়বে, ফলে সামগ্রিকভাবে নিন্ম মধ্যবিত্ত ও মধ্যবিত্তরা বিপাকে পড়বে। কারণ মূল্য সংযোজন করের ওপর নির্ভরশীলতা বাড়ছে। ভ্যাটের ব্যাপ্তি বৃদ্ধি পেলে মধ্য বিত্ত ও নিন্ম মধ্যবিত্তরাই কষ্ট পাবে বেশী। প্রস্তাবিত বাজেটে সামাজিক নিরাপত্তা অগ্রাহ্যই থেকেছে। এর আগেও সার্বজনীন পেনশনের কথা বলা হলেও বাস্তবায়ন হয়নি, এবারেও তাই।
কুমিল্লায় বিএনপির অফিস ভাঙচুর:কমিটিতে অসন্তোষ
মঙ্গলবার রাত সাড়ে ৯টার দিকে কুমিল্লায় জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের কমিটি গঠন নিয়ে সৃষ্ট অসন্তোষে দক্ষিণ জেলা বিএনপির কার্যালয়ে ভাঙচুর করেছে ক্ষুব্ধ নেতা-কর্মীরা। বিকেলে কুমিল্লা মহানগর ও দক্ষিণ জেলা ছাত্রদলের আংশিক কমিটি ঘোষণা করা হয়। কমিটি গঠনের পর রাতে কুমিল্লা সিটি করপোরেশন (কুসিক) মেয়র মনিরুল হক সাক্কু সমর্থিত ছয়জন ও জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক হাজী আমিন উর রশীদ ইয়াছিন গ্রুপ সমর্থিত পাঁচজনসহ মোট ১১ জন ছাত্রদল নেতা প্রত্যাশিত পদ না পেয়ে এ ভাঙচুর চালান। আগে সন্ধ্যায় তারা নগরীর কান্দিরপাড়ের জেলা বিএনপির পার্টি অফিসে সাংবাদিক সম্মেলন করে সোয়া ৯টায় পদত্যাগ করেন। কুসিক মেয়র মনিরুল হক সাক্কু গ্রুপের যারা পদত্যাগ করেছেন তারা হলেন- মহানগর ছাত্রদলের সহ-সভাপতি আসিফ ইকবাল ফারিয়াল ও সাংগাঠনিক সম্পাদক শরিফ উদ্দিন বাহার এবং কুমিল্লা দক্ষিণ জেলা ছাত্রদলের সিনিয়র সহসভাপতি ওমর ফারুক সার্কিট, সহসভাপতি আরিফুর রহমান সুমন, জামাল হোসেন নয়ন ও সাংগাঠনিক সম্পাদক মো. সাইফুদ্দিন। তাছাড়া জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক হাজী আমিন উর রশীদ ইয়াছিন গ্রুপ সমর্থিত পাঁচজন প্রত্যাশিত পদ না পাওয়ায় পদত্যাগ করেছেন। তারা হলেন- মহানগর ছাত্রদলের সহসভাপতি তুষার পাল, সাধারণ সম্পাদক ফরিদ উদ্দিন শিবলু এবং জেলা দক্ষিণ ছাত্রদলের সহসভাপতি শরিফুল ইসলাম সওদাগর, যুগ্ম সম্পাদক রায়হান চৌধুরী ও যুগ্ম সম্পাদক ইরফানুল হক বাবু।
হঠাৎ বিদেশ মিশন শুরু করেছে বিএনপি
একাদশ জাতীয় নির্বাচনের আগে হঠাৎই বিদেশ মিশন শুরু করেছে দীর্ঘ ১১ বছর ক্ষমতার বাইরে থাকা বিএনপি। গত রবিবার সকাল ১১টা ৫ মিনিটে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ব্যাংককে যান। একই দিনে ব্যাংকক যান বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। বিএনপি জোটের শরিক দল এনডিপির চেয়ারম্যান খন্দকার গোলাম মর্তুজাও ব্যাংককে। আজ যাচ্ছেন বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু। সেখান থেকে দুই নেতার লল্ডনে যাওয়ার কথা রয়েছে। লন্ডনে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সঙ্গে দেখা করে পরিবর্তিত পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনার কথা রয়েছে তাদের। এরই মধ্যে দিল্লি সফরে গেছেন বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান আবদুল আউয়াল মিন্টু। সেখানে তার কয়েকজন কূটনীতিকের সঙ্গে বৈঠকের কথা রয়েছে। মির্জা ফখরুলের পরিবারের সদস্যরা জানান, ব্যাংককের বামরুনগ্রাদ হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছেন বিএনপি মহাসচিব। সেখানে হৃদরোগ বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ভিসুটের সঙ্গে অ্যাপয়েন্টমেন্টও করা হয়। সেখানে গতকাল তিনি হার্টের চিকিৎসা করেছেন। এরপর আইবিএস চিকিৎসা করাবেন। এ ছাড়া মির্জা ফখরুলের সহধর্মিণী রাহাত আরাও শারীরিক চেকআপ করাবেন। আগামী সপ্তাহেই তাদের দেশে ফেরার কথা। বিএনপি মহাসচিবের হৃদরোগ ছাড়াও রয়েছে ঘাড়ে ইন্টারনাল ক্যারোটিড আর্টারিতে জটিলতা। এদিকে দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীর ব্যাংকক থেকে লন্ডন ও আমেরিকা যাওয়ার কথা রয়েছে। আগে যুক্তরাষ্ট্র তারপর যুক্তরাজ্য যেতে পারেন তিনি। তবে বিএনপির শীর্ষ নেতাদের ব্যাংকক সফর ঘিরে দলের ভিতরে-বাইরে নানা গুঞ্জন সৃষ্টি হয়েছে। কেউ কেউ বলছেন, দুই নেতা লন্ডনও যেতে পারেন। তবে লন্ডনে যাওয়ার বিষয়টি অস্বীকার করেন বিএনপি মহাসচিব। দেশ ছাড়ার আগে সাংবাদিকদের জানান, তিনি ব্যাংকক যাচ্ছেন। চিকিৎসা শেষে সপ্তাহ খানেকের মধ্যেই ফিরবেন। আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীও একই কথা বলে যান। ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু বলেন, ব্যাংককে তিনি চোখের চিকিৎসা করাবেন। তবে জোটের শরিক দলের নেতা গোলাম মর্তুজা ব্যাংকক সফরে কেন গেছেন তা জানা যায়নি।
আন্তর্জাতিক চাপ মোকাবেলায় কৌশলী আওয়ামী লীগ
বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া মুক্তি না পেলে আগামী জাতীয় নির্বাচনে দলটি অংশগ্রহণ করবে না এমন অবস্থানে ক্রমেই সরকারের উপর আন্তর্জাতিক চাপ বাড়ছে। আর গত নির্বাচনের মত এবারও তারা নির্বাচনসংক্রান্ত ব্যাপারে প্রভাব বিস্তারে তৎপরতা চালাচ্ছে। বিভিন্ন সময় অনানুষ্ঠানিক আলোচনার মধ্য দিয়ে কয়েকটি প্রভাবশালী দেশ ও সংস্থার প্রতিনিধিরা এ বিষয়ে সক্রিয় ভূমিকা রাখছে। ঈদের পর থেকে নির্বাচনের আগ পর্যন্ত তৎপরতা আরো বাড়বে সে চিন্তা মাথায় রেখে যেকোন ধরণের চাপ সুকৌশলে ও শক্তভাবে মোকাবেলা করার প্রস্তুতি নিচ্ছে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ সরকার। দলটির নীতিনির্ধারকদের মতে, জাতীয় নির্বাচনের আগে আন্তর্জাতিক অঙ্গনের প্রভাবশালী দেশ ও সংস্থা নির্বাচনে প্রভাব বিস্তার করার জন্য সক্রিয় হয়ে ওঠে। গত জাতীয় নির্বাচনের আগেও এমনটি হয়েছিল। তাই আন্তর্জাতিক মহলকে সুকৌশলে এবং সচেতনতার সঙ্গে মোকাবেলা করা হবে যেন তারা জাতীয় নির্বাচনের গ্রহণযোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন না তোলে। ক্ষমতাসীনদের কৌশল- শক্তের ভক্ত, নরমের জম।কেউ যেন দেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ করতে না পারে সেজন্য শক্ত অবস্থানে থাকা এবং অপরদিকে আন্তর্জাতিক মহলের বিভিন্ন প্রশ্ন, শঙ্কার বিষয়ে যুক্তিযুক্তভাবে সঠিক জবাব উপস্থাপন ও সরকারের অবস্থান তুলে ধরে তাদের সন্তুষ্ট করা। এই কৌশল এজন্য যে, কোন দল বা গোষ্ঠী যাতে কোন আন্তর্জাতিক সংস্থাকে বিভ্রান্ত করতে না পারে। এছাড়া বৈদেশিক শক্তির উপর ভরসা করে কোন রাজনৈতিক দল যেন সহিংসতা তৈরী করতে না পারে সে ব্যাপারেও সজাগ দৃষ্টি রাখবে ক্ষমতাসীনরা। আওয়ামী লীগ নেতারা জানান, নির্বাচনে প্রভাব বিস্তারের জন্য বৈদেশিক শক্তির কাছে তিনটি ইস্যু রয়েছে- এক. নির্বাচনের আগে বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তি, দুই. নির্বাচনকালীন সরকার, তিন. কম গণতন্ত্রের অজুহাত। এছাড়া তারা যে যে ইস্যুতে কথা বলতে চায় এবং বিএনপিসহ অন্যান্য বিরোধীদলগুলো তাদের যেভাবে সরকারবিরোধী ইস্যুতে কথা বলার সুযোগ করে দেবে সেসব বিষয়ে আগেভাগেই প্রস্তুতি নেয়া হচ্ছে। এজন্য দলের কেন্দ্রীয় আন্তর্জাতিক উপ-কমিটি যথাযথভাবে প্রস্তুতি নিচ্ছে যেন যেকোন পরিস্থিতি মোকাবেলা এবং বিভিন্ন দেশ ও সংস্থার সঙ্গে দ্রুত যোগাযোগ করার মাধ্যমে তাদের সন্তুষ্ট কর যায়। এই উপ-কমিটি এখন থেকেই পররাষ্ট্রমন্ত্রণালয়ের পাশাপাশি বৈদেশিক কূটনীতিকদের সঙ্গে যোগাযোগ রক্ষা করবে এবং বিভিন্ন ইস্যুতে সরকারের অবস্থান তুলে ধরবে। এছাড়া কেউ যেন তাদের ভুল বোঝাতে না পারে সে বিষয়েও পদক্ষেপ নেবে। এদিকে কয়েকটি দেশের বাংলাদেশ দূতাবাসকেও সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে এবং সেইসব দেশের বিভিন্ন প্রশ্ন ও উদ্বেগের বিষয়ে যুক্তির মাধ্যমে সমাধান করতে বলা হয়েছে। এছাড়া সরকার বিরোধী কোন ষড়যন্ত্র হয় কি না সে বিষয়েও লক্ষ্য রাখতে বলা হয়েছে। সূত্র জানায়, বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার জেলে যাওয়ার মামলা সংক্রান্ত পূর্ণাঙ্গ তথ্য বিভিন্ন দূতাবাসে পাঠানো হয়েছে। এছাড়া কয়েকটি প্রভাবশালী দেশের প্রতিনিধিদের সঙ্গে অনানুষ্ঠানিক আলোচনায় সরকারের তরফ থেকে বার্তা দেয়া হচ্ছে খালেদা জিয়ার জেল হবার পেছনে সরকারের কোন হাত নেই; দেশের গতানুগতিক আইন অনুযায়ী এই বিচার হয়েছে। এছাড়া জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট মামলা আওয়ামী লীগ সরকার করেনি; করেছে ১/১১এর তত্তবধায়ক সরকার এবং এ মামলায় খালেদা জিয়া যে নিতান্তই দোষী তার তথ্য উপাত্ত উপস্থাপন করা হচ্ছে। এদিকে নির্বাচন ব্যবস্থা ও নির্বাচনকালীন সরকারের বিষয়ে কূটনীতিকদের বার্তা দেয়া হচ্ছে তাদের দেশ অর্থাৎ আমেরিকা, ব্রিটেন, কানাডাসহ বেশিরভাগ দেশে যে পদ্ধতিতে নির্বাচন হয় বাংলাদেশেও একই পদ্ধতিতে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। এক্ষেত্রে তাদের দেশের মত একই আইন ও সংবিধানে যেহেতু বাংলাদেশের নির্বাচন হচ্ছে তাই তাদের এ বিষয়ে চিন্তি হবার কিছু নেই। আর কম গণতন্ত্রের বিষয়ে কয়েকটি দেশের অজুহাতের বিষয়ে শক্ত অবস্থানে থেকে আওয়ামী লীগ বলছে, তাদের দেশে গণতন্ত্র কতটুকু রয়েছে এবং বিশ্বের বিভিন্ন দেশে তারা যা করছে এর চেয়ে বাংলাদেশ অনেক ভালো রয়েছে। তাদের কাছ থেকে গণতন্ত্র শিখতে হবে না। এছাড়া বিগত সময়ে বিএনপির অগ্নি-সন্ত্রাস, জ্বালাও-পোড়াও, সহিংসতা তুলে ধরে দলটি থেকে বিভিন্ন দেশের সমর্থন নষ্ট করার প্রচেষ্টা চালানো হবে। সম্প্রতি ২৩ মে গণভবনে কূটনীতিকদের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর ইফতারে সরকারের অবস্থান সম্পর্কে বার্তা দেয়া হয়েছে। এছাড়া ২৮ মে, বাংলাদেশের চলমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে ঢাকায় দায়িত্বরত বিভিন্ন দেশের অর্ধ-শতাধিক কূটনীতিকদের ব্রিফ করেছে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিষয়ক উপ কমিটি। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে আওয়ামী লীগের বর্তমান সরকারের অধীনে বাংলাদেশের অভূতপূর্ব আর্থ-সামাজিক উন্নয়নের চিত্র তুলে ধরা হয় বিদেশি কূটনীতিকদের সামনে। সেই সঙ্গে তুলে ধরা হয় বিএনপি-জামায়াতের নাশকতার তথ্য। আওয়ামী লীগ নেতাদের মতে, দেশের কিছু বুদ্ধিজীবি ও রাজনীতিক রয়েছেন যারা নির্বাচনের আগে দেশকে অস্থিতিশীল করার জন্য ভূমিকা রেখে থাকেন। বিভিন্ন দূতাবাসের সঙ্গে যোগাযোগ করে তাদের ভুল বুঝিয়ে দেশের অভ্যন্তরীন বিষয়ে হস্তক্ষেপ করতে সহযোগীতা করেন। এবার সে দিকে তীক্ষ্ণ দৃষ্টি রাখতে দলের নির্দেশনা দেয়া হয়েছে ইতোমধ্যে। এছাড়া শুধু নির্বাচন নয় কোন বিষয়েই যেন বৈদেশিক শক্তি হস্তক্ষেপ না করতে পারে সে বিষয়ে শক্ত অবস্থানে থাকবে সরকার। প্রয়োজনে দল ও সরকারের তরফ থেকে নিয়মিত এ ধরণের ব্রিফিংয়ের আয়োজন করা হবে। সম্প্রতি বাংলাদেশের মাদকবিরোধী অভিযানে নজর রাখার কথা জানিয়ে জাতিসংঘের মাদক অপরাধবিরোধী সংস্থা ইউএনওডিসিও। তারা মাদক নিয়ন্ত্রণে ভারসাম্য ও মানবাধিকার রক্ষার প্রতিশ্রুতি মেনে চলার আহ্বান জানিয়েছে। এ বিষয়ে কারো চাপে মাথা নত না করার শক্ত অবস্থান তুলে ধরে স্পষ্টভাবে আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেন,জাতিসংঘের পর্যবেক্ষণের অধিকার রয়েছে, তা তারা করুক। আমাদের বিদেশি কোনো বন্ধু পর্যবেক্ষণ করতে চাইলে করুক। কারও চাপের কাছে আমরা নতি স্বীকার করব না, নতি স্বীকার করব বাংলাদেশের জনগণের চাপে। এ বিষয়ে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক দলের একজন সভাপতিমন্ডলীর সদস্য বলেন, রাজনীতির মাঠে বারবার বিএনপি ব্যর্থ হয়ে ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হয়েছে। দেশের বাইরে থেকে লবিস্ট নিয়োগ করে বিভিন্ন প্রভাবশালী দেশকে তারা বিভ্রান্ত করা চেষ্টায় লিপ্ত। ক্ষমতায় যাওয়ার জন্য দলটি বৈদেশিক শক্তির উপর ভরসা করছে। তাই কোন ভাবেই বিএনপিকে এ ধরণের সুযোগ দেয়া হবে না। তিনি আরো বলেন, দেশের অনেক বুদ্ধিজীবি সরকারবিরোধী কর্মকান্ডে জড়িত। তারা বিভিন্ন দূতাবাসের সঙ্গে যোগাযোগ করে তাদেরকে দেশের অভ্যন্তরীন বিষয়ে হস্তক্ষেপ করতে প্ররোচনা দিচ্ছে। তাদের বিষয়ে তীক্ষ নজর রাখা হচ্ছে। এ বিষয়ে দলের আরেক সভাপতিমন্ডলীর সদস্য কর্ণেল (অব.) ফারুক খান বলেন, আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় জাতীয় নির্বাচন পর্যবেক্ষণ করবে, তবে তাদের কোনো চাপ বা প্রভাব থাকার কোনো সুযোগ নেই। খালেদা জিয়া জেলে থাকলে এবং প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নির্বাচনকালীন সরকারের প্রধান থাকলে বিএনপি নির্বাচনে আসবে না- এমন পরিস্থিতিতে আন্তর্জাতিক মহলের কোনো চাপ রয়েছে কিনা জানতে চাইলে সাবেক বাণিজ্যমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগের এই নীতিনির্ধারক বলেন, নির্বাচন হবে আইন ও সংবিধান অনুযায়ী। এক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক মহলের কার মনেও প্রশ্ন থাকার সুযোগ নেই কারণ এ দেশে যে আইনে নির্বাচন হয়; তাদের দেশেও এই আইনোই নির্বাচন হয়। তিনি বলেন, যদি তাদের কোনো চাপ থাকে তাহলে তা বিএনপির ওপর রয়েছে, সরকারের ওপর নয়।
এই সরকারের প্রতি আমরা ধিক্কার জানাই
গণতন্ত্র এখন ক্রসফয়ারতন্ত্রের বেড়াজালে আবদ্ধ উল্লেখ করে বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেছেন, অগ্রগতির দিকে নয়, অন্ধকারের অতলে তলিয়ে যাচ্ছে দেশ। তিনি বলেন, অবৈধ সরকারের প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্য বাংলাদেশের জনগণের সঙ্গে একেবারেই তামাশা এবং মস্করা। এটা যে একেবারে পেছন দিকের অন্ধকারের অতলে এগিয়ে যাচ্ছে সেটা জনগণ জানে। নিশ্চয় অবৈধ সরকারের প্রধানমন্ত্রী সেটা বলবেন না। আর গণতন্ত্র এখন ক্রসফয়ারতন্ত্রের বেড়াজালে আবদ্ধ। নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে মঙ্গলবার (০৫ জুন) দুপুরে সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন। রিজভী বলেন, সারাদেশের সড়ক-মহাসড়ক এখন ছোট ছোট খালে পরিণত হয়েছে। বর্তমান সরকারের উন্নয়ন শুধু সাইনবোর্ড ও বিলবোর্ডে শোভা পায়। দেশের সড়ক-মহাসড়ক ও গ্রামীণ সড়ক মিলে ৮৫ হাজার কিলোমিটার সড়কের বেহাল দশা বিরাজ করছে। বিএনপির এই নেতা আরও বলেন, সড়কের খানাখন্দ আর দুর্ভোগের আশঙ্কায় লাখ লাখ মানুষ ঈদে বাড়ি যেতে পারবে কিনা তারা চিন্তিত হয়ে পড়েছে। তারা বিকল্পভাবে বাড়ি যেতে ট্রেনের টিকিটের পেছনে ছুটছে, সেখানেও পাচ্ছে না কাঙ্খিত টিকেট। সরকারের বেপরোয়া লুটপাটের নীতির কারণেই সড়ক-মহাসড়কের দুদর্শা কাটছে না, ঈদের প্রাক্কালে ঘরে ফিরতে চরম দুর্গতির জন্য এই সরকারের প্রতি আমরা ধিক্কার জানাই যে, মানুষকে নূনতম কোনো সেবা প্রদান তারা (সরকার) দিতে পারে না। ওই সংবাদ সম্মেলনে দলের ভাইস চেয়ারম্যান আহমেদ আজম খান, শওকত মাহমুদ, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা কাউন্সিলের সদস্য আবুল খায়ের ভুঁইয়া, কেন্দ্রীয় নেতা মীর সরাফত আলী সপু, বেলাল আহমেদ, সামসুজ্জামান সুরুজ, আমিনুল ইসলাম, উলামা দলের এম এ মালেক, শাহ নেসারুল হক প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।