গণঅভ্যুত্থানের ভয় দেখিয়ে লাভ নেই : ওবায়দুল কাদের
আওয়ামী লীগের মতো বটবৃক্ষ দলকে ধাক্কা দিয়ে ফেলানো যাবে না বলে মন্তব্য করেছেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের। বিএনপিকে ইঙ্গিত করে তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার উন্নয়নের জোয়ারে গণঅভ্যুত্থান এখন জাদুঘরে। শব্দটি এখন নামান্তর মাত্র। গণঅভ্যুত্থানের ভয় দেখিয়ে লাভ নেই। মঙ্গলবার দুপুরে নগর ভবনে মেয়র মোহাম্মদ হানিফের স্মরণসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এ কথা বলেন সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী। ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশন আয়োজিত এ স্মরণসভায় সভাপতিত্ব করেন আওয়ামী লীগের প্রয়াত নেতা মোহাম্মদ হানিফের ছেলে মেয়র সাঈদ খোকন। আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের উদ্দেশ্যে ওবায়দুল কাদের বলেন, কোনো বিতর্কিত ব্যক্তিকে দলের সদস্য করবেন না। নিজেদের মধ্যকার দ্বন্দ্ব মিটিয়ে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করুন। নিজেদের মধ্যকার দ্বন্দ্ব নিজেরা মেটাতে না পারলে আমাদের ডাকুন আমরা সুরাহা করে দেব। নেতাকর্মীদের নির্বাচনের প্রস্তুতি নেওয়ার আহ্বান জানিয়ে সেতুমন্ত্রী আরও বলেন, তৃণমূল পর্যায়ে ঘরে ঘরে জনসংযোগ করুন। আমাদের ফোকাস পয়েন্ট নারী ও তরুণ ভোটার।
গুম হওয়া আর জোর করে গুম করার মধ্যে পার্থক্য আছে :মির্জা ফখরুল
আমাদেরকে ঐক্য সৃষ্টি করে সংগঠিত হয়ে আন্দোলনের মুখেই নির্বাচনে যেতে হবে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। সোমবার সন্ধ্যায় রাজধানীর ইঞ্জিনিয়ার ইনস্টিটিউশন মিলনায়তনে তারেক রহমানের ৫৩তম জন্মদিন উপলক্ষে ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপি আয়োজিত এক আলোচনা সভায় তিনি এ কথা বলেন। বিশ্বের অন্যান্য দেশেও গুম হয় প্রধানমন্ত্রীর এমন বক্তব্যের সমালোচনা করে বিএনপি মহাসচিব বলেন, ‘গুম হওয়া আর জোর করে গুম করার মধ্যে পার্থক্য আছে। যত মানুষ গুম হয়েছে জিজ্ঞাসা করেন, তারা বলবে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী তুলে নিয়ে গেছে।’ উন্নয়নের রোল মডেলে ঢাকা থেকে উত্তরা যেতে লাগে আড়াই থেকে তিন ঘণ্টা-যোগ করেন মির্জা ফখরুল।
মানুষের জীবন এখন দুর্বিষহ :খালেদা জিয়া
বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া বলেছেন, গণতন্ত্র আবারও গভীর খাদের কিনারে গিয়ে পড়েছে। ৫ জানুয়ারির ভোটারবিহীন নির্বাচনের মধ্য দিয়ে আবারও গণতন্ত্রকে হত্যা করে একদলীয় দুঃশাসনের করাল গ্রাস গিলে ফেলেছে বহুদলীয় গণতন্ত্রের পথচলা। গণতন্ত্রের শত্রুরা গণতন্ত্রের সকল প্রতিষ্ঠানকে ধ্বংস করে ফেলেছে। আগামীকাল সোমবার শহীদ ডাঃ মিলন দিবস উপলক্ষে রোববার দেয়া এক বাণীতে সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপরসন এ কথা বলেন। বাণীতে খালেদা জিয়া বলেন, মানুষের নাগরিক স্বাধীনতা অপহরণ করা হয়েছে। মানুষের জীবন এখন দুর্বিষহ। মানুষের কথা বলা ও ভোটের অধিকার হরণ করে অতীতের বাকশাল এখন নবসংস্করণে ভয়াল রূপ ধারণ করেছে। গণতন্ত্র ধ্বংসকারী অপশক্তিগুলোর চক্রান্ত ও ষড়যন্ত্র নস্যাৎ করে দিতে আমাদেরকে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে। গণতন্ত্রকে মজবুত ভীতের ওপর দাঁড় করাতে হবে। তাহলেই ডাঃ মিলনের আত্মত্যাগ সার্থক হবে। খালেদা জিয়া বলেন, শহীদ ডাঃ শামসুল আলম খান মিলন সামরিক শাসনবিরোধী গণতান্ত্রিক আন্দোলনের ইতিহাসে একটি অবিস্মরণীয় নাম। স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলন চলাকালে ১৯৯০ সালের ২৭ নভেম্বর তৎকালীন স্বৈরাচারী সরকারের লেলিয়ে দেয়া পেটোয়া বাহিনীর গুলিতে শহীদ হন তিনি। গণতন্ত্রের জন্য তার এই সর্বোচ্চ আত্মদান এদেশের ইতিহাসে স্বর্ণাক্ষরে লেখা থাকবে। সকল কর্তৃত্ববাদী, স্বৈরাচারী গণতন্ত্রবিরোধী শক্তির বিরুদ্ধে আন্দোলন সংগ্রামে ডা: মিলন আমাদের অবিরাম প্রেরণার উৎস। শহীদ ডাঃ মিলন দিবস উপলক্ষে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর অনুরুপ বাণী দিয়েছেন। এদিকে দিবসটি উপলক্ষে সোমবার সকাল সাড়ে ৭টায় বাংলাদেশ বিএনপি এবং ৯০’র ডাকসু ও সর্বদলীয় ছাত্রঐক্যের উদ্যোগে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল চত্তরে শহীদ ডা: শামসুল আলম মিলনের কবর এবং টিএসসি মোড়ে মিলন চত্তরে সকাল ৮টায় পুষ্পার্ঘ্য অর্পণ করা হবে। পুষ্পার্ঘ্য অর্পণ অনুষ্ঠানে বিএনপি এবং ৯০’র ডাকসু ও সর্বদলীয় ছাত্রঐক্যের কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ উপস্থিত থাকবেন।
সরকারের নির্দেশে রাষ্ট্রীয় বাহিনী দ্বারা গুমের ঘটনা ঘটেছে :খন্দকার মোশাররফ
বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন বলেছেন, সরকারের নির্দেশে রাষ্ট্রীয় বাহিনী দ্বারা গুমের ঘটনা ঘটেছে। এটা আমাদের দুর্ভাগ্য। গত নয় বছরে ৪০০ গুমের ঘটনা ঘটেছে। তিনি বলেন, রাষ্ট্রযন্ত্র ব্যবহার করে পৃথিবীব কোনও দেশে গুমের ঘটনা ঘটছে কেউ দেখাতে পারবে না।গুমের ঘটনায় প্রধানমন্ত্রী জনগণের সঙ্গে প্রতারণা করেছেন। রোববার সকালে ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে বাংলাদেশ নাগরিক অধিকার ফোরামের উদ্যোগে গুম, খুন ও নির্যাতন বন্ধের দাবিতে করণীয় শীর্ষক সেমিনারে তিনি একথা বলেন। খন্দকার মোশাররফ বলেন, ভোটের মাধ্যমে নির্বাচিত নয় বলে আওয়ামী লীগ জনগণকে ভয় পায়। ক্ষমতা টিকিয়ে রাখার জন্য দেশের প্রধান স্তম্ভগুলো ধ্বংস করে দিয়েছে সরকার। প্রধান বিচারপতিকে পদত্যাগের মাধ্যমে নিম্ন আদালতও করায়ত্ত্বে নিতে চায় সরকার। রংপুর সিটি কর্পোরেশনের নির্বাচন কমিশন এবং সরকারের জন্য পরীক্ষা মূলকভাবে দেখছি বলেও মন্তব্য করেন ড. খন্দকার মোশাররফ। সেমিনারে আরও উপস্থিত ছিলেন, বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান আহম্মেদ আযম খান, বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা আবদুস সালামসহ আয়োজক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ।
উপদেষ্টামণ্ডলীর সদস্যদের সঙ্গে বৈঠক করেছেন খালেদা জিয়া
উপদেষ্টামণ্ডলীর সদস্যদের সঙ্গে বৈঠক করেছেন বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া। মঙ্গলবার রাতে নিজের গুলশানের কার্যালয়ে এই বৈঠক হয়। বেগম খালেদা জিয়ার সভাপতিত্ব অনুষ্ঠিত বৈঠকে, দেশের চলমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি ও আগামী সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়। এ ছাড়া রোহিঙ্গা সংকট, রংপুর সিটি করপোরেশন নির্বাচন প্রসঙ্গসহ বেশ কিছু চলমান ইস্যু উঠে আসে আলোচনায়। বৈঠকে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ও বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টামণ্ডলীর ৫৩ জন সদস্য অংশ নেন। সম্প্রতি বেগম খা‌লেদা জিয়া দ‌লের স্থায়ী কমিটির সদস্য ও ভাইস চেয়ারম্যান‌দের সঙ্গেও বৈঠক ক‌রে‌ছেন বেগম খালেদা জিয়া।
সশস্ত্র বাহিনী জাতির এক গর্বিত প্রতিষ্ঠান :খালেদা জিয়া
সশস্ত্র বাহিনীকে জাতির এক গর্বিত প্রতিষ্ঠান বলে আখ্যায়িত করেছেন বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া। সশস্ত্র বাহিনী দিবসে দেয়া এক বাণীতে তিনি বলেন, সশস্ত্র বাহিনী সাহস, শৌর্য এবং শৃঙ্খলা দিয়ে তৈরী জাতির এক গর্বিত প্রতিষ্ঠান। আমাদের মহান মুক্তিযুদ্ধে এই বাহিনীর গৌরবোজ্জল ভূমিকা ইতিহাসে স্বর্ণাক্ষরে লেখা থাকবে। আমাদের স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব ও ভৌগলিক অখন্ডত্ব রক্ষায় সশস্ত্র বাহিনীর দেশপ্রেমিক সদস্যরা অতন্দ্র প্রহরীর ভূমিকা পালন করে চলেছে। খালেদা জিয়া বলেন, বিশ্বশান্তি রক্ষায়ও তারা পালন করে চলেছে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা। জাতিসংঘ শান্তি রক্ষা বাহিনীতে কর্মরত আমাদের সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যরা কর্মদক্ষতা ও উঁচুমানের পেশাদারিত্বের পরিচয় দিয়ে দেশের সুনাম বয়ে আনছে। দেশের সকল প্রাকৃতিক দূর্যোগেও সশস্ত্র বাহিনী অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়িয়ে দ্বিধাহীনভাবে সংকট মোকাবেলায় ঝাঁপিয়ে পড়েছে। বিএনপি চেয়ারপারসন বলেন, স্বাধীনতার ঘোষক শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান বাংলাদেশ সশস্ত্র বাহিনীকে একটি আধুনিক, গতিশীল ও দক্ষ পেশাদার বাহিনী হিসেবে গড়ে তোলার লক্ষ্যে ব্যাপক কর্মসূচি গ্রহণ ও বাস্তবায়ন করেছিলেন। সেই থেকে বাংলাদেশের সশস্ত্র বাহিনী সুশৃঙ্খল, ক্ষিপ্র ও সদা তৎপর এক আধুনিক বাহিনীতে পরিণত হয়। যা বিশ্বের যেকোন আধুনিক রাষ্ট্রের সেনাবাহিনীর সমকক্ষ। আমরা সরকারে থাকতেও সশস্ত্র বাহিনীকে শহীদ জিয়ার গৃহিত কর্মসূচির ধারাবাহিক বাস্তবায়নের অগ্রগতি সাধিত করে এই বাহিনীকে আরো আধুনিকায়ন ও একে শক্তিশালী করে গড়ে তুলতে সচেষ্ট থেকেছি। ভবিষ্যতেও আমাদের এ প্রয়াস অব্যাহত থাকবে। সশস্ত্র বাহিনী দিবস উপলক্ষে বাংলাদেশ সেনা, নৌ ও বিমান বাহিনীর সকল সদস্যকে শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানান খালেদা জিয়া। সেই সঙ্গে তাদের ও তাদের পরিবারের অব্যাহত সুখ, শান্তি ও সমৃদ্ধি কামনা করেন।