বিএনপির ৪০তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর জনসভা আজ
অনলাইন ডেস্ক: বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপির ৪০তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালিত হচ্ছে আজ শনিবার। এ উপলক্ষে বিকালে নয়াপল্টনে দলীয় কার্যালয়ের সামনে জনসভা করবে বিএনপি। ইতোমধ্যে ডিএমপির লিখিত অনুমতি পেয়েছে দলটি। প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে বিএনপির পক্ষ থেকে নয়াপল্টনে অথবা ঢাকার সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে জনসভা করার অনুমতি চেয়ে পুলিশসহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ বরাবর আবেদন জানিয়েছিল। এ বিষয়ে ২৯ আগস্ট বিএনপির তিন সদস্যের প্রতিনিধি দল ঢাকা মহানগর পুলিশ কমিশনারের সঙ্গে দেখা করেন। তখন পুলিশ কমিশনার প্রতিনিধি দলকে মৌখিকভাবে নয়াপল্টনে জনসভা করার অনুমতি দেন বলে রুহুল কবির রিজভী সংবাদ সম্মেলনে জানান। পরে শুক্রবার বিকালে বিএনপিকে শর্তসাপেক্ষে লিখিত অনুমতি দেয় বিএনপি। ডিএমপি সূত্রে জানা গেছে, ২৩ শর্তে পুলিশ জনসভার অনুমতি দিয়েছে। শর্তের মধ্যে আছে- জনসভা শুরুর নির্ধারিত সময়ের আগে নেতাকর্মীদের সমবেত না হওয়া, বিকাল সাড়ে ৫টার মধ্যে জনসভা শেষ করা, জনসভাস্থলে লাঠি-সোটা নিয়ে না আসা, জনসভার জন্য নির্ধারিত সীমানার বাইরে নেতাকর্মীদের সমবেত না হওয়া ইত্যাদি। দলের ৪০তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে বিএনপি দুই দিনের কর্মসূচি হাতে নিয়েছে। গত মঙ্গলবার নয়াপল্টনের কার্যালয়ে দলের অঙ্গসংগঠনের যৌথসভায় প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর কর্মসূচি চূড়ান্ত করা হয়। প্রথমদিনের অন্য কর্মসূচি হচ্ছে ভোরে নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয় ও গুলশানে চেয়ারপারসনের কার্যালয়ে দলীয় পতাকা উত্তোলন এবং দলের প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমানের কবরে শ্রদ্ধা নিবেদন। পরদিন বিকাল ৩টায় রমনা ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন মিলনায়তনে রাখা হয়েছে আলোচনা সভা। এছাড়া প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের পক্ষ থেকে পোস্টার প্রকাশ করা হয়েছে। দেশের অন্যতম বৃহৎ এই রাজনৈতিক দলটি কঠিন সময়ে ৪০তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালন করছে। প্রায় ১২ বছর ধরে ক্ষমতার বাইরে থাকা দলটি অনেকটা বিপর্যস্ত। এর আগে এতটা দুর্দিনে কখনও পড়েনি কয়েকবার ক্ষমতায় আসা দলটি। ৪০ প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালনকালে দলের চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া দুর্নীতি মামলায় দণ্ডিত হয়ে কারাগারে আছেন। আর ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানও প্রায় ১০ বছর ধরে লন্ডনে নির্বাসিত। ২০১৪ সালের নির্বাচন বর্জন করা দলটি এখন অনেকটা অস্তিত্ব সংকটে। দলটির নেতাকর্মীরা জাতীয় নির্বাচনকে সামনে রেখে ঘুরে দাঁড়ানোর স্বপ্ন দেখলেও বিএনপি এখনও নির্বাচনে যাবে কি না তা ঘোষণা করতে পারেনি।
প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে আনন্দ নেই মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের
অনলাইন ডেস্ক: দলের চার দশক পূর্তি। পঞ্চম দশকের প্রথম বার্ষিকী নিঃসন্দেহে একটি মাইলফলক। কিন্তু আনন্দ নেই দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের। দুঃখ ভরা মন নিয়ে তিনি শ্রদ্ধা জানিয়েছেন দলের প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমানকে। শনিবার দলের ৪১ তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে শেরে বাংলা নগর দলের প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমানের সমাধিতে শ্রদ্ধা জানান ফখরুল। এরপর সাংবাদিকদেরকে রাষ্ট্রীয় ক্ষমতা কাঠামোর বাইরে থাকা দলটির নেতা বলেন,আজ আমাদের প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী। এই দিনটি আমাদের জন্য আজ কোন উৎসবের দিন নয়। দুঃখ ভারাক্রান্ত হৃদয় নিয়ে দলের প্রতিষ্ঠাতার মাজারে শ্রদ্ধা জানাতে এসেছি। মনে দুঃখ কেন, সেটাও জানান ফখরুল। বলেন,আমাদের দলের চেয়ারপারসন আপসহীন নেত্রী খালেদা জিয়া কারাগারে। ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানও মিথ্যা মামলায় নির্বাসিত। তাদেরকে ছাড়াই আমরা আজ এখানে শ্রদ্ধা নিবেদন করতে এসেছি। মনের এই দুঃখকে ক্ষোভে রূপান্তর করতে চান বিএনপি নেতা। অবসান ঘটাতে চান দলের দুঃসময়ের। আজকের এই দিনে আমরা শপথ করব- এই ফ্যাসিস্ট সরকার, গণতন্ত্রবিরোধী সরকার, সমাজ বিরোধী সরকার যারা বাংলাদেশের মানুষের গণতান্ত্রিক অধিকার ও সমস্ত অধিকার কেড়ে নিয়েছে; রাষ্ট্রের সকল সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান ধ্বংস করে দিয়েছে; জবরদস্তিমূলকভাবে ক্ষমতায় বসে মানুষের সকল অধিকার হরণ করেছে; আজকের প্রতিষ্ঠা বার্ষিকীতে আমাদের শপথ এই দানবকে অপসারণ করে, দুঃশাসনকে অপসারণ করে গণতন্ত্র ও দেশনেত্রীকে মুক্ত করার জন্য এবং ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানকে দেশে ফিরিয়ে আনার জন্য আমাদের সংগ্রাম অব্যাহত থাকবে। ইনশাআল্লাহ অচিরেই আমাদের অভিষ্ঠ লক্ষ্যে পৌঁছাতে পারব- আন্দোলনে বিজয়ের ঘোষণা দিয়ে বলেন ফখরুল। ৪০ বছর আগে আজকের দিনটিতেই যাত্রা শুরু বিএনপি। ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে হত্যার পর সেনাবাহিনীতে অভ্যুত্থান পাল্টা-অভ্যুত্থানের এক পটভূমিতে ওই বছরের ৭ নভেম্বর ক্ষমতার কেন্দ্রে চলে আসেন জিয়াউর রহমান। আর সেনাপ্রধান থাকা অবস্থায় রাষ্ট্রীয় ক্ষমতা নেয়া এই সেনা শাসক প্রথমে তিনি ১৯ দফা কর্মসূচির ভিত্তিতে জাতীয়তাবাদী গণতান্ত্রিক দল (জাগদল) নামে বিভিন্ন দল ও গোষ্ঠীর একটি সমন্বিত প্ল্যাটফর্ম প্রতিষ্ঠা করেন। পরে ১৯৭৮ সালের ১ সেপ্টেম্বর প্রতিষ্ঠা হয় বিএনপি। দলের প্রতিষ্ঠাতার প্রতি শ্রদ্ধা জানানোর এই আয়োজনে উপস্থিত ছিলেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য খন্দকার মোশাররফ, মওদুদ আহমদ, আবদুল মঈন খান, আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, ভাইস-চেয়ারম্যান রুহুল আলম চৌধুরী, আলতাফ হোসেন চৌধুরী, শামসুজ্জামান দুদু, এ জেড এম জাহিদ হোসেন, আহমেদ আযম খান, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা আমান উল্লাহ আমান, আব্দুস সালাম, হাবিবুর রহমান হাবিব, তৈমুর আলম খন্দকার প্রমুখ। যুগ্ম-মহাসচিব ব্যারিস্টার মাহবুব উদ্দীন খোকন, খায়রুল কবির খোকন, প্রচার সম্পাদক শহীদ উদ্দীন চৌধুরী এ্যানী, সমাজকল্যাণ বিষয়ক সম্পাদক কামরুজ্জামান রতন, আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক মাসুদ আহমেদ তালুকদার, প্রশিক্ষণ বিষয়ক সম্পাদক এবি এম মোশাররফ হোসেন, ক্রীড়া সম্পাদক আমিনুল ইসলামও এ সময় উপস্থিত ছিলেন। আরও ছিলেন ঢাকা জেলা বিএনপির সভাপতি দেওয়ান সালাউদ্দীন, ঢাকা মহানগর দক্ষিণ বিএনপির সাধারণ সম্পাদক কাজী আবুল বাশার, সহ-সভাপতি নবী উল্লাহ নবী, মহিলা দলের সভাপতি আফরোজা আব্বাস, সাধারণ সম্পাদক সুলতানা আহমেদ, সিনিয়র যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক হেলেন জেরীন খান, যুবদলের সিনিয়র সহ-সভাপতি মোর্তাজুল করিম বাদরু, স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি শফিউল বারী বাবু, সাধারণ সম্পাদক আব্দুল কাদের ভূইয়া জুয়েল, সহ-সভাপতি গোলাম সরোয়ার, মুক্তিযোদ্ধা দলের সভাপতি ইশতিয়াক আজিজ উলফাত, শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন, ঢাকা মহানগর উত্তর যুবদলের সভাপতি এস এম জাহাঙ্গীর, ছাত্রদলের মেহবুব মাসুম শান্ত প্রমুখ।
ঘুরে দাঁড়ানোর আশায় বিএনপি
অনলাইন ডেস্ক: রাজনীতিতে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী। জনসমর্থনও বিপুল। অথচ ছোট ছোট এবং ভোটের রাজনীতিতে পাত্তা না পাওয়া দলগুলোর সঙ্গে সমঝোতার চেষ্টা করতে গিয়ে রীতিমতো বিব্রতকর অবস্থায় পড়তে হচ্ছে বিএনপিকে। ছোট ছোট কয়েকটি দলের সমন্বয়ে গঠিত যুক্তফ্রন্ট নেতারা বিএনপির কাছ থেকে সমঝোতার জন্য তিনশ আসনের মধ্যে ১৫০টিতে ছাড় চেয়ে বসে আছেন। সাধারণ নির্বাচনে ভোটে কখনও না জেতা গণফোরাম নেতা কামাল হোসেনও বিএনপিকে এমন শর্ত দিয়ে বসে আছেন যেটা বিএনপি অগ্রাহ্য করে আসছে বহু বছর ধরে। তিনি বিএনপির সঙ্গে জোটে যেতে রাজি যদি বিএনপি তার পরীক্ষিত বন্ধু জামায়াতকে ত্যাগ করে। স্পষ্টতই বিএনপি চাপে এবং এ কারণে ছোট দলগুলোর নেতারা বড় বড় দাবি করে বসছেন। তবে বিএনপি নেতারা প্রকাশ্যে এসব নিয়ে কিছু বলতেও পারছেন না। কারণ, তারা কাউকে বিরাগভাজন করতে চান না। বিএনপির এই পরিস্থিতি এক দিনে হয়নি। দুর্নীতির মামলায় দণ্ডিত হয়ে দলের চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া কারাগারে। ভারপ্রাপ্ত চেয়ারপারসন তারেক রহমান বিদেশে এক দশক ধরে। দুই মামলায় দণ্ডিত তিনিও। ২১ আগস্টের গ্রেনেড হামলা মামলার রায় এখন সময়ের ব্যাপার, যেটা নিয়েও বিএনপিকে উদ্বেগ স্পষ্ট। কারণ এই মামলার শুনানিতে তারেক রহমানের মৃত্যুদণ্ড চেয়েছে রাষ্ট্রপক্ষ। এর আগে ক্ষমতায় থেকে বিএনপি সবচেয়ে বেশি সমালোচিত হয়েছে ২০০১ থেকে ২০০৬ পর্যন্ত। দেশে তীব্র বিদ্যুৎ সংকট, জঙ্গি উত্থান, স্বাধীনতাবিরোধী জামায়াতের প্রভাবশালী হয়ে উঠা, তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রধান হিসেবে নিজেদের পছন্দের লোককে বসাতে বিচারপতির অবসরের বয়স সীমা বাড়ানোসহ নানা বিষয়ে এখনও বিএনপিকে আক্রমণ করে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ। দলের নেতৃত্বে সংকট, তার ওপর আগামী জাতীয় নির্বাচন সন্নিকটে, কিন্তু দলের অবস্থান স্পষ্ট নয়- এমন পরিস্থিতিতেই বিএনপি আজ পালন করছে তার ৪০ বছর পূর্তি ও ৪১ তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী। আর দলের প্রতিষ্ঠার মাস থেকেই ঘুরে চেষ্টার ঘোষণা আছে বিএনপিতে। দলের সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী আহমেদ ঢাকাটাইমসকে বলেন,এইটুকু বলি মাটির গভীরে যার শিকড় তাকে ধ্বংস করা যাবে না। বিএনপি অতীতের মতই ঘুরে দাঁড়াবে। বিএনপি যুগ্ম মহাসচিব সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল ঢাকাটাইমসকে বলেন,চার দশকের রাজনীতিতে বিএনপির সবচেয়ে বড় অবদান বাকশাল নামক একদলীয় শাসন ব্যবস্থা থেকে দেশকে বহুদলীয় গণতন্ত্র ফেরত আনা। সেই দল এক যুগের মত ক্ষমতার বাইরে। সরকারের দমন পীড়ন উপেক্ষা করে সামনের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে। সাময়িক অসুবিধা হলেও আশা করি আবারো গণতন্ত্র ফিরে আসবে। সুষ্ঠু নির্বাচনের মধ্য দিয়ে বিএনপি ক্ষমতায় আসবে। বিএনপি নয়, দেশই এখন সংকটে বলে মনে করেন বিনেপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মাহবুবুর রহমান। ঢাকাটাইমসকে তিনি বলেন,আমরা একটা ক্রান্তিকাল অতিক্রম করছি এটা সত্যি। এটা দেশের জন্য ক্রান্তিকাল। গণতন্ত্রের ওপর হুমকি আসছে, ব্যাংক লুট হচ্ছে, নৈতিকতার চরম অবক্ষয় হয়েছে। এরকম বাংলাদেশে আমি আগে কখনও দেখিনি। বিএপির জন্মকে রাজনৈতিক মধুচন্দ্রিমা বলা যেতে পারে। সেনাপ্রধান হয়েও রাষ্ট্রীয় ক্ষমতা নিয়ে প্রধানত দলছুট নেতাদেরকে নিয়ে বিএনপির জন্ম দেন জিয়াউর রহমান। ফলে বাংলাদেশ তথা এই অঞ্চলে একটি দলের শুরুতে যে ধরনের আন্দোলন-সংগ্রাম আর চ্যালেঞ্জের মধ্য দিয়ে যেতে হয়েছে, বিএনপিকে সেটা করতে হয়নি। তবে এরশাদের নয় বছরে আন্দোলন সংগ্রামের মধ্য দিয়ে বিএনপিতে অবশ্য এক ধরনের পরিবর্তন লক্ষ্যণীয়। আবার ১৯৯৬ থেকে ২০০১ সাল পর্যন্ত ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ বিরোধী নানা কর্মসূচি পালন করতে হয়েছে রাজপথে। তবে প্রতিষ্ঠার পর সবচেয়ে বেশি বিরূপ পরিস্থিতি নিঃসন্দেহে বর্তমানে কাটাতে হচ্ছে বিএনপিকে। ২০০৭ সালের ১১ জানুয়ারি জরুরি অবস্থা জারির পর থেকেই শুরু হয় বিএনপির এই বিপাকে পড়া। ২০০৮ সালের ২৯ ডিসেম্বরের জাতীয় নির্বাচনে দেশের প্রায় ৯০ শতাংশ আসনে হেরে যাওয়া বিএনপি ঘুরে দাঁড়ানোর নানা চেষ্টা করেছ। কিন্তু সফল হয়নি। এর মধ্যে ২০১৪ সালের নির্বাচন বর্জনের পাশাপাশি ভোট ঠেকানো, সহিংস আন্দোলন, ২০১৫ সালের সরকার পতনের আন্দোলন-দুই বারই বিপুল বিক্রমে বিজয়ী হওয়ার ঘোষণা দিয়ে খালি হাতে ঘরে ফিরেছে বিএনপি। এই দুই দফায় দলের সাংগঠনিক শক্তি এবং মনোবলে কতটা টান পড়েছে তা গত ৮ ফেব্রুয়ারি স্পষ্ট হয়ে যায়। দলীয় চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার দুর্নীতির মামলায় সাজা হলে আগুন জ্বালানোর ঘোষণা দিলেও রায়ের পর নমনীয় কর্মসূচিতে যায় বিএনপি। এর মধ্যে আগামী জাতীয় নির্বাচনের আলোচনা শুরু হয় গেছে। দুই মাসের মধ্যেই ঘোষণা হবে তফসিল। কিন্তু বিএনপির নির্বাচনকালীন নির্দরীয় সরকারের দাবিতে পাত্তাই দিচ্ছে না আওয়ামী লীগ। ২০১৩ সালের এই সময়ে বিএনপি যখন এই দাবিতে আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছিল তখন সমঝোতার চেষ্টায় দেশি-বিদেশি নানা উদ্যোগ ছিল। জাতিসংঘও হাত বাড়িয়ে দিয়েছিল, কিন্তু এবার এমন কোনো উদ্যোগও নেই। বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মাহবুবুর রহমান ঢাকাটাইমসকে বলেন,বিএনপির অনেক উত্থান-পতন হয়েছে। দেশের এখন যে অবস্থা আমি মনে করি সব দলকে এসে গণতন্ত্রকে রক্ষা করতে হবে। রাজনৈতিক দল হিসেবে বাংলাদেশ বিনির্মাণে বিএনপির ভূমিকা অনেক। দেশের অত্যন্ত নাজুক পরিস্থিতিতে এই দলের সৃষ্টি হয়েছে এবং জিয়াউর রহমান সেই সময় এই দলের নেতৃত্ব দেন। তখন বাংলাদেশের একটা কঠিন সময় ছিল। আমি মনে করি উনি (জিয়া) অত্যন্ত সাহসী বিরল ব্যক্তিত্ব। সেই দলের আদর্শ নীতি উনি রেখে গেছেন। তিনি গত হয়ে গেছেন। আমরাও হয়তো তার আদর্শ ধরে রাখতে পারিনি। বিএনপি ঘনিষ্ঠ বুদ্ধিজীবী ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য এমাজউদ্দীন আহমদ ঢাকাটাইমসকে বলেন,সংকট বিএনপির জন্য নতুন কিছু নয়। এর আগেও তারা সংকটে পড়েছে আবার ঘুরে দাঁড়িয়েছে। তবে এবার অনেক কিছুর ভেতরে সবশেষ চেয়ারপারসন কারাগারে যাওয়ায় বড় ধরনের সংকটে পড়েছে দলটি। এ অবস্থায় দলীয় প্রধানের মুক্তি, সংগঠন গুছিয়ে নির্বাচনে অংশ নেয়ার প্রস্তুতি নেয়াটা সব থেকে বড় চ্যালেঞ্জ বলে মনে হয়। বিএনপির সাধারণ মানুষের কথা বিবেচনা করে কর্মসূচি দেয়া, জনসম্পৃক্ততা বাড়ানোর বিকল্প নেই বলেও মনে করেন এই রাষ্ট্রবিজ্ঞানী। বিএনপি অবশ্য প্রতিষ্ঠার চার বছরের মধ্যেই নেতৃত্বের সংকটে পড়েছে, আবার ঘুরেও দাঁড়িয়েছে। ১৯৮১ সালের ৩০ মে চট্টগ্রামে এক ব্যর্থ সামরিক অভ্যুত্থানে সে সময়ের রাষ্ট্রপ্রধান ও বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমান নিহত হলে বিএনপি প্রথমবারের মতো নেতৃত্বের সংকটে পড়ে। তৎকালীন উপরাষ্ট্রপতি বিচারপতি আবদুস সাত্তার সাময়িক সময়ের জন্য সরকার ও দলের হাল ধরেন। জিয়াউর রহমানের পথ ধরেই ১৯৮২ সালের ২৪ মার্চ সেনাপ্রধান হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ সামরিক শাসন জারি করে দখল করেন রাষ্ট্রীয় ক্ষমতা। আর দলের সংকটকালে ১৯৮৩ সালের ২১ ফেব্রুয়ারি বিএনপির হাল ধরেন খালেদা জিয়া। আর এরশাদের নয় বছরের শাসনের অবসানের পর ১৯৯১ সালের জাতীয় নির্বাচনে ভোটাররা বেছে নেয় বিএনপিকেই। দলটির আশা, ভোটাররা স্বাধীনভাবে ভোট দেয়ার সুযোগ পেলে আবারও তাদেরকেই বেছে নেবে।
আগামী অক্টোবরে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার গঠন হতে পারে
অনলাইন ডেস্ক: আগামী অক্টোবরে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার গঠন হতে পারে বলে জানিয়েছেন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত। বুধবার (২৯ আগস্ট) সচিবালয়ে সরকারি ক্রয়-সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির বৈঠক শেষে তিনি এ কথা জানান। অন্তর্বর্তীকালীন সরকার কবে হবে এবং সে সরকারে আপনি থাকছেন কি-না সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে অর্থমন্ত্রী বলেন, জানি না, তবে ধারণা অক্টোবরে হতে পারে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার। ডিসেম্বরে তো নির্বাচন। তার তিন মাস আগে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার হতেই হয়। কতজন সদস্য থাকতে পারে জানতে চাইলে তিনি বলেন, নো আইডিয়া। আপনি সরকারে আর কতদিন আছেন এ বিষয়ে মুহিত বলেন, আমি আছি, মনে হয় অন্তর্বর্তীকালীন সরকার পর্যন্ত আছি। সম্ভবত অন্তর্বর্তীকালীন সরকারেও আমি থাকব।
এদেশ থেকে চিরতরে বঙ্গবন্ধুর আদর্শ ও মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে মুছে ফেলতে চেয়েছিল: দীপু মনি
অনলাইন ডেস্ক: সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি ডা. দীপু মনি এমপি বলেছেন, ১৫ আগস্ট রাতে খুনিরা বঙ্গবন্ধু ও তার পরিবারের সদস্যদের হত্যা করে এদেশ থেকে চিরতরে বঙ্গবন্ধুর আদর্শ ও মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে মুছে ফেলতে চেয়েছিল। কিন্তু তারা তা পারেনি। তবে তারা আজও ষড়যন্ত্র করে যাচ্ছে। কাজেই এ ব্যাপারে সবাইকে সজাগ দৃষ্টি রাখতে হবে। বুধবার (২৯ আগস্ট) দুপুরে চাঁদপুর জেলা শিল্পকলা একাডেমি মিলনায়তনে চাঁদপুর সদর উপজেলা ছাত্রলীগের আয়োজনে জাতীয় শোক দিবস ও বঙ্গবন্ধুর ৪৩তম শাহাদত বার্ষিকী উপলক্ষে আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন। সদর উপজেলা ছাত্রলীগ সভাপতি এবিএম রেজওয়ানের সভাপতিত্বে সভায় বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন চাঁদপুর-৪ আসনের সংসদ সদস্য ড. মোহাম্মদ শামছুর হক ভুঁইয়া, জেলা আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক আবু নঈম পাটওয়ারী দুলাল, জেলা ছাত্রলীগ সভাপতি আতাউর রহমান পারভেজ। সভা শেষে সদর উপজেলার প্রতিটি ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সভাপতি ও সম্পাদকের হাতে বঙ্গবন্ধুর অসমাপ্ত আত্মজীবনী ও ভাষাবিদ এম এ ওয়াদুদের জীবনীর বই দুটি তুলে দেন প্রধান অতিথিসহ অন্যান্য অতিথি।
৪০তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে জনসভার অনুমতি পেল বিএনপি
অনলাইন ডেস্ক: ১ সেপ্টেম্বর ৪০তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে জনসভার অনুমতি পেয়েছে বিএনপি। ওই দিন বিকাল ৩টায় রাজধানীর নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে এ জনসভা অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। বিএনপির সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক অ্যাডভোকেট আব্দুস সালাম আজাদ সংবাদমাধ্যমকে এ তথ্য জানিয়েছেন। তিনি বলেন, ‘সমাবেশের জন্য আমরা নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে অনুমতি পেয়েছি।’ ডিএমপি কার্যালয় থেকে ফিরে তিনি বলেন, জনসভা সফল করার জন্য আমাদের সব প্রস্তুতি নেয়া হয়েছে। আশা করছি, এবারের সমাবেশ ইতিহাসের সবচেয়ে বড় সমাবেশ হবে। দলটির চেয়ারপারসনের প্রেস উইং সদস্য শামসুদ্দিন দিদার জানান, এর আগে দুপুরে ডিএমপি কার্যালয়ে বিএনপির তিনজন নেতা লিখিত আবেদন নিয়ে যান। এই তিন নেতার মধ্যে ছিলেন- বিএনপি চেয়াপাসরসনের উপদেষ্টা আবুল খায়ের ভূইয়া, প্রচার সম্পাদক শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানি এবং সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক আব্দুস সালাম আজাদ।
৮ সেপ্টেম্বর জাতীয় পার্টির যৌথ সভা
অনলাইন ডেস্ক: জাতীয় নির্বাচনকে সামনে রেখে আগামী ৮ সেপ্টেম্বর (শনিবার) যৌথ সভা করবে জাতীয় পার্টি। পার্টির চেয়ারম্যান হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের সভাপতিত্বে সকাল ১০টায় ঢাকার ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশনে হবে এ যৌথ সভা। পার্টির সিনিয়র কো-চেয়ারম্যান বেগম রওশন এরশাদ এমপি, কো-চেয়ারম্যান জি এম কাদের, মহাসচিব এ বি এম রুহুল আমিন হাওলাদার এমপিসহ শীর্ষ নেতারা যৌথ সভায় অংশ নেবেন। এই সভায় আগামী নির্বাচনে দলের কৌশল নির্ধারণ করবেন এবং দিকনির্দেশনামূলক বক্তব্য রাখবেন হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ। যৌথ সভায় কেন্দ্রীয় কমিটি, জেলা, উপজেলা, পৌর ও ইউনিয়ন পর্যায়ের নেতারা অংশ নেবেন। জাতীয় পার্টির মহাসচিব এ বি এম রুহুল আমিন হাওলাদার যথাসময়ে সংশ্লিষ্ট সবাইকে যৌথ সভায় উপস্থিত থাকার আহ্বান জানিয়েছেন।
রাজধানীতে বিএনপির বিক্ষোভ খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবিতে
অনলাইন ডেস্ক: বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার নিঃশর্ত মুক্তির দাবিতে ও ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রের প্রতিবাদে রাজধানীতে বিক্ষোভ মিছিল করেছে বিএনপি। এতে নেতৃত্ব দেন দলটির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী। সোমবার সকাল ৮টায় ঢাকা মেডিকেল কলেজ অ্যান্ড হাসপাতালের নতুন গেট থেকে মিছিলটি শুরু হয়ে চানখাঁরপুল মোড়ের কাছে গিয়ে শেষ হয়। মিছিল শুরুর সময় উপস্থিত নেতাকর্মীদের সামনে পথসভায় সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রিজভী বক্তব্য রাখেন। মিছিলে বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার নিঃশর্ত মুক্তির দাবিতে ও ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রের প্রতিবাদে নেতাকর্মীরা স্লোগান দেন। বিএনপি সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভীর নেতৃত্বে মিছিলে অংশ নেন বিএনপি ও অঙ্গ সংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা।
মেয়াদ শেষে দুই বছরেও সম্মেলনের উদ্যোগ নেই ছাত্রদলে
অনলাইন ডেস্ক: কমিটির কোনো খবর আছে, কবে হতে পারে কিছু জানেন?- ছাত্রদলের কর্মী থেকে শুরু করে কেন্দ্রীয় কমিটিতে পদ প্রত্যাশী নেতাদের মুখে এমন প্রশ্ন ঘুরে ফিরে। জ্যেষ্ঠ নেতাদের কাছে ‘ছোটরা’ এমন প্রশ্ন করলেও কোনো সদুত্তর দিতে পারছে না কেউ। কারণ কারোরই জানা নেই কবে হতে পারে দুই বছর আগে মেয়াদ ফুরানো ছাত্রদলের নতুন কমিটি। ২০১৪ সালের ১৪ অক্টোবর রাজীব আহসানকে সভাপতি আর মামুনুর রশিদ মামুনকে সিনিয়র সহ-সভাপতি এবং আকরামুল হাসানকে সাধারণ সম্পাদক করে ছাত্রদলের ১৫৩ সদস্যের আংশিক কমিটি ঘোষণা করা হয়। কমিটির মেয়াদ আট মাস বাকি থাকতে ২০১৬ সালের ৬ ফেব্রুয়ারি ৭৩৬ সদস্যের ‘ঢাউস’ পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠন করা হয়। এই কমিটির মেয়াদ শেষ হয়েছে ২০১৬ সালের অক্টোবরে। কিন্তু দুই বছরেও নতুন কমিটি দিতে সম্মেলনের কথাই হয়নি। কেন্দ্রীয় শীর্ষ পদ প্রত্যাশী নোয়াখালী অঞ্চলের একজন ছাত্রদল নেতা ঢাকাটাইমসকে বলেন, ‘কমিটি কবে হবে ছোট ভাইদের এমন প্রশ্নের উত্তর দিতে দিতে ক্লান্ত। অথচ আমাদের কাছেও এখনও কোনো নিশ্চিত তথ্য নেই। তবে শুনেছি দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান (তারেক রহমান) বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখছেন।’ তবে বিএনপি অন্যান্য অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের কমিটি হওয়ায় আশাবাদী হয়ে উঠছেন ছাত্রদলের কমিটিতে স্থান পেতে আগ্রহী সদস্যরা। পদপ্রত্যাশীদের প্রত্যাশা, কমিটি আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচন এবং আন্দোলন সংগ্রামে অনেক চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হতে হবে। তাই বিগত আন্দোলনে যারা মাঠে ছিল, চাপের মুখেও মাঠ ছাড়েনি, নতুন নেতৃত্ব যেন তাদের হাতেই দেয়া হয়। ঠিক সময়ে কমিটি না হওয়ায় ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের মধ্যে ক্ষোভ আছে এটা বিএনপির নেতারাও জানেন। তবে চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার কারাগারে যাওয়াসহ নানা কারণে কমিটি দেয়ায় বিলম্ব হয়েছে। দীর্ঘদিনেও কমিটি না হওয়ায় চাপা ক্ষোভ বিরাজ করছে ছাত্রদলের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীদের মধ্যে। আগের মতো তেমন কোনো কর্মসূচি না থাকায় নিষ্ক্রিয়ও হয়ে পড়েছেন কেউ কেউ। ছাত্রদলের একজন কেন্দ্রীয় সহ-সাধারণ সম্পাদক নাম প্রকাশ না করার শর্তে ঢাকাইমসকে বলেন, ‘আসলে আমরা গার্ডিয়ান ছাড়া হয়ে পড়েছি। ১০টা বছর প্রতিকূল অবস্থায় কাটাতে হয়েছে। দুই বছর হলো মেয়াদ শেষ কিন্তু কমিটি হলো না। কেউ বলতেও পারছেন না কবে কমিটি হবে। পুরোপুরি অনিশ্চিত অবস্থা। আমরা এর অবসান চাই।’ ছাত্রদলের সহ-সাধারণ সম্পাদক দবির উদ্দীন তুষার কমিটির বিষয়ে জানতে চাইলে ঢাকাটাইমসকে বলেন, ‘মেয়াদ শেষ হওয়া ওষুধ খেলে মানুষ বেশি অসুস্থ হয়ে পড়বে, এমনকি মৃত্যুও হতে পারে। ঠিক মেয়াদ শেষ হওয়া ছাত্রদলের কমিটি দিয়ে বিএনপি আন্দোলনে গেলে সফলতা না আসার সম্ভাবনাই বেশি। বর্তমান অবস্থায় ছাত্রদলে কোনো চেইন অব কমান্ড নেই।’ তবে এমনটা মানতে রাজি নন বিএনপির সাবেক ছাত্রবিষয়ক সম্পাদক ও বর্তমান প্রচার সম্পাদক সম্পাদক শহীদ উদ্দীন চৌধুরী এ্যানী। ঢাকাটাইমসকে তিনি বলেন, ‘ছয় মাসেরও বেশি সময় ধরে কারাগারে আমাদের চেয়ারপারসন। এই সময় নির্যাতনের মধ্যেও ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা কর্মসূচিতে অংশ নিচ্ছেন। চেয়ারপারসনের অনুপস্থিতিতে ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান ছাত্রদলের দেখভাল করছেন। কমিটির বিষয়টিও তিনি ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন।’ নতুন কমিটির বিষয়ে ছাত্রদলের সাবেক এই সভাপতি বলেন, ‘কমিটি এটি সংগঠনের চলমান প্রক্রিয়া। দায়িত্বশীলরা পরিবেশ-পরিস্থিতি দেখে যখন উপযোগী মনে করবেন তখন অবশ্যই যোগ্যদের দিয়ে কমিটি করবেন।’ বিএনপির সাবেক ছাত্রবিষয়ক সম্পাদক ও বর্তমান সাংগঠনিক সম্পাদক ফজলুল হক মিলন বলেন, ‘আগামী নির্বাচনকে সামনে রেখে দ্রুত কমিটি হওয়ার দাবি রাখে।’ বিএনপির নেতারা বলছেন, তারা সেপ্টেম্বর-অক্টোবরে আন্দোলনে যাবেন। আর এর আগে ছাত্রদলের কমিটি করার ব্যাপারে ইতিবাচক সিদ্ধান্ত আছে। ইতিমধ্যে মূল দলের ইউনিয়ন পর্যায়ের মেয়াদোত্তীর্ণ কমিটি করার নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। সহযোগী সংগঠনের সব ইউনিটের কেন্দ্রীয় কমিটি পুনর্গঠন, আংশিক কমিটিগুলোও পূর্ণাঙ্গ করার বিষয়ে দলের সিদ্ধান্ত রয়েছে। বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য খন্দকার মোশাররফ হোসেন এ বিষয়ে বলেন, ‘কমিটি গঠন একটা চলমান প্রক্রিয়া। আর দলে গতি আনতে হলে অবশ্যই মূল দলের পাশাপাশি অঙ্গ সংগঠনকে গোছাতে হবে। ছাত্রদল আমাদের ভ্যানগার্ড। এদের কমিটির মেয়াদ শেষ হওয়ার খবর দলের হাইকমান্ড অবগত। আশা করি সহসাই এ ব্যাপারে ইতিবাচক পদক্ষেপ নেয়া হবে।’ ছাত্রদলের বর্তমান সভাপতি রাজীব আহসান ঢাকাটাইমসকে বলেন, ‘মেয়াদ শেষ হলে নতুন কমিটি করার দায়িত্ব বিএনপির দায়িত্বশীল নেতাদের। তারা সার্বিক বিষয় খোঁজখবর রাখছেন। আশা করি দ্রুত সময়ে নতুন কমিটি পাবে ছাত্রদলের লাখ লাখ কর্মী সমর্থক। তবে নির্দিষ্ট করে বলা মুশকিল।’ নতুন কমিটির দাবি নিয়ে দেন দরবার ছাত্রদলের নতুন কমিটি কবে হবে, সেটা জানা না থাকলেও পদপ্রত্যাশালীরা বিএনপির শীর্ষ নেতাদের সঙ্গেও এসব নেতারা নিয়মিত যোগাযোগ রাখছেন। নতুন কমিটিতে সংগঠনটির শীর্ষ পদ পেতে আগ্রহী এজমল হোসেন পাইলট ঢাকাটাইমসকে বলেন, ‘বর্তমান কমিটি অনেক দিন আগেই মেয়াদ শেষ হয়েছে। নতুন কমিটি হলে সংগঠনে গতি আসবে, আগামী দিনের আন্দোলন-সংগ্রামে আরও অংশগ্রহণ বাড়বে। এমন প্রত্যাশা থেকেই কমিটি চাইছি আমরা।’ ছাত্রদলের আরেক সহ-সভাপতি নাজমুল হাসান ঢাকাটাইমসকে বলেন, ‘চার বছর হতে চলল ছাত্রদলের কমিটি। স্বভাবতই নতুন কমিটির দাবিটা যৌক্তিক। মাঠ পর্যায়ও চাচ্ছে নতুন কমিটির মাধ্যমে নব উদ্দীপনা সৃষ্টি হোক। তবে সবকিছু নির্ভর করছে আমাদের আদর্শিক নেতা তারেক রহমানের সিদ্ধান্তের ওপর।’ ছাত্রদলের সমাজসেবা বিষয়ক সম্পাদক আবদুর রহিম ঢাকাটাইমসকে বলেন, ১/১১ থেকে শুরু করে ৫ জানুয়ারির নির্বাচনের আগে ও পরে সব গণতান্ত্রিক আন্দোলনেই রাজপথে সক্রিয় আছি। মেধা ও ত্যাগের মূল্যায়ন করলে আশা করি আগামী কমিটিতে উপযুক্ত পদ পাব। পদ পেতে আগ্রহী যারা নতুন কমিটিতে শীর্ষ পদের জন্য আলোচিতদের মধ্যে রয়েছেন বর্তমান সহ-সভাপতি এজমল হোসেন পাইলট, আলমগীর হাসান সোহান, নাজমুল হাসান ও আবু আতিক আল হাসান মিন্টু। যুগ্ম সম্পাদকদের মধ্যে আছেন আসাদুজ্জামান আসাদ, নুরুল হুদা বাবু, মিয়া মো. রাসেল, বায়েজিদ আরেফিন, শামছুল আলম রানা, করিম সরকার, মেহবুব মাসুম শান্ত, আব্দুর রহিম হাওলাদার সেতু, মিজানুর রহমান সোহাগ, করিম সরকার, মির্জা ইয়াসিন আলী, নাজিম মাহমুদ। সিনিয়র যুগ্ম সম্পাদক আসাদু্জ্জামান আসাদ, ইখতিয়ার কবির, কাজী মোখতার হোসাইন, মিয়া রাসেল, মেহবুব মাসুম শান্ত, সাহিত্য ও প্রকাশনা সম্পাদক মিনহাজুল ইসলাম ভূঁইয়া, ক্রীড়া সম্পাদক সৈয়দ মাহমুদ, সমাজসেবা সম্পাদক আবদুর রহিম, পাঠাগার সম্পাদক মেহেদী হাসান ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বর্তমান সভাপতি মেহেদী তালুকদারসহ আরও কেউ কেউ চাচ্ছেন ছাত্রদলের নতুন কমিটির সামনের সাড়িতে জায়গা করে নিতে।ঢাকাটাইমস