দলের নেতাকর্মীদের ঐক্যবদ্ধ করতে কাজ করছেন নৌকা ও ধানের শীষের মেয়র প্রার্থীরা
বরিশাল সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে ঘর গোছানোর কাজে ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছেন নৌকা প্রতীকের প্রার্থী মহানগর আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সেরনিয়াবাত সাদিক আব্দুল্লাহ ও ধানের শীষের প্রার্থী দলের যুগ্ম মহাসচিব মজিবর রহমান সরোয়ার। তারা দিনরাত দলীয় নেতাকর্মীদের নিয়ে ঘরোয়া বৈঠকে নির্বাচনী প্রচারণার দিক-নির্দেশনা দিচ্ছেন। কিন্তু এখন পর্যন্ত এই দুই মেয়র প্রার্থীই দলীয় মনোনয়ন যুদ্ধে থাকা প্রার্থীদের কাছে টানতে পারেননি। মনোনয়নপত্র জমাদানের পর থেকেই দলের নেতাকর্মীদের ঐক্যবদ্ধ করতে কাজ করছেন নৌকা ও ধানের শীষের মেয়র প্রার্থী। এ জন্য প্রতিদিন দুই মেয়র প্রার্থীর বাসভবনে বসছে সভা। তবে এই সভায় দেখা মেলেনি আওয়ামী লীগ থেকে দলীয় মনোনয়ন যুদ্ধে থাকা জেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি কর্ণেল (অব.) জাহিদ ফারুক শামীম, কেন্দ্রীয় কৃষকলীগের সহ-সভাপতি খান আলতাফ হোসেন ভুলু ও মহানগর যুবলীগের যুগ্ম আহবায়ক মাহামুদুল হক খান মামুনকে। বিএনপি সমর্থিত বর্তমান মেয়র আহসান হাবিব কামাল, জেলা বিএনপি’র সভাপতি এবায়েদুল হক চান ও কেন্দ্রীয় বিএনপি’র সাংগঠনিক সম্পাদক বিলকিস জাহান শিরীনকেও এক সভায় দেখা যায়নি। বিশ দলীয় জোটের সঙ্গে সমঝোতা না হওয়ায় এই নির্বাচনে মেয়র প্রার্থী দিয়েছে খেলাফত মজলিস। মনোনয়ন যুদ্ধে থাকা বিএনপি নেতাদের সঙ্গে যোগাযোগ রয়েছে দাবি করে মেয়র প্রার্থী সরোয়ার বললেন তারাও প্রচারণায় অংশ নেবে। আর আওয়ামী লীগ মুখপাত্রের দাবি, মনোনয়ন প্রত্যাশীরাও সঙ্গে থাকলে প্রচারণা সমৃদ্ধ হবে। প্রথম সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে মজিবুর রহমান সরোয়ারের সঙ্গে বিদ্রোহী প্রার্থী হয়ে ২০ হাজারের অধিক ভোট পেয়েছিলেন আহসান হাবিব কামাল এবং ১৩ হাজার ভোট পান এবায়েদুল হক চান। এছাড়া তৃতীয় নির্বাচনে আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী হয়েছিলেন মাহামুদুল হক খান মামুন।
সরকারের সদিচ্ছার অভাবেই খালেদা জিয়াকে জামিন দেয়া হয়নি
বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী আহমেদ অভিযোগ করেছেন, সরকারের সদিচ্ছার অভাবেই বেগম খালেদা জিয়াকে কুমিল্লার মামলায় জামিন দেয়া হয়নি। মঙ্গলবার (০৩ জুলাই) সকালে রাজধানীর নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত প্রেস ব্রিফিং এ তিনি এ অভিযোগ করেন। এ সময় তিনি আরো অভিযোগ করেন, ক্ষমতাসীনদের ইন্ধনেই ছাত্রলীগ কোটা সংস্কারের দাবীতে আন্দোলনকারীদের উপর হামলা চালিয়েছে। রিজভী বলেন, সরকার নিম্ন আদালতকে সম্পূর্ণ কব্জায় নিয়ে এখন সর্বোচ্চ আদালতকেও হাতের মুঠোয় নিয়েছে কিনা সেটা নিয়েও জনগণ সন্দিহান প্রকাশ করছে। হাইকোর্ট জামিন দিলে সেই জামিন স্থগিত হয়, এরকম আগে ঘটেনি। বিচারিক প্রক্রিয়ায় ন্যায় বিচার বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। খালেদা জিয়ার জামিন স্থগিত করা শেখ হাসিনার হুকুমেরই বাস্তবায়ন।
খালেদা জিয়ার আপিল শুনানি রোববার পর্যন্ত মুলতবি
জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় সাজার বিরুদ্ধে হাইকোর্টে করা বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার আপিল শুনানি আগামী রোববার (৮ জুলাই) পর্যন্ত মুলতবি করা হয়েছে। আজ মঙ্গলবার বিচারপতি এম ইনায়েতুর রহিম ও বিচারপতি মো. মোস্তাফিজুর রহমানের হাইকোর্ট বেঞ্চ শুনানি শেষে এ মুলতবির আদেশ দেন। আদালতে সকালে খালেদা জিয়ার আপিল আবেদনের শুনানি শুরু হয়। পরে আদালতে রাষ্ট্র, দুদক ও খালেদার পক্ষের আইনজীবীরা শুনানিতে অংশ নেন। তবে আদালতে খালেদা জিয়া আইনজীবীরা সময়ের আবেদন করলে আদালত তা মঞ্জুর করে আমাগী ৮ জুলাই দিন ধার্য করেন। এর আগে গত ২৭ জুন খালেদা জিয়ার করা আপিল শুনানির জন্য ৩ জুলাই দিন ধার্য করেন হাইকোর্ট। ওই দিন আদালতে খালেদা জিয়ার পক্ষে ছিলেন ব্যারিস্টার মওদুদ আহমেদ, এ জে মোহাম্মদ আলী ও অ্যাডভোকেট জয়নুল আবেদীন। দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) পক্ষে ছিলেন আইনজীবী খুরশীদ আলম খান। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল ফরহাদ আহমেদ।
খালেদা জিয়ার আপিল শুনানি রোববার পর্যন্ত মুলতবি
জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় সাজার বিরুদ্ধে হাইকোর্টে করা বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার আপিল শুনানি আগামী রোববার (৮ জুলাই) পর্যন্ত মুলতবি করা হয়েছে। আজ মঙ্গলবার বিচারপতি এম ইনায়েতুর রহিম ও বিচারপতি মো. মোস্তাফিজুর রহমানের হাইকোর্ট বেঞ্চ শুনানি শেষে এ মুলতবির আদেশ দেন। আদালতে সকালে খালেদা জিয়ার আপিল আবেদনের শুনানি শুরু হয়। পরে আদালতে রাষ্ট্র, দুদক ও খালেদার পক্ষের আইনজীবীরা শুনানিতে অংশ নেন। তবে আদালতে খালেদা জিয়া আইনজীবীরা সময়ের আবেদন করলে আদালত তা মঞ্জুর করে আমাগী ৮ জুলাই দিন ধার্য করেন। এর আগে গত ২৭ জুন খালেদা জিয়ার করা আপিল শুনানির জন্য ৩ জুলাই দিন ধার্য করেন হাইকোর্ট। ওই দিন আদালতে খালেদা জিয়ার পক্ষে ছিলেন ব্যারিস্টার মওদুদ আহমেদ, এ জে মোহাম্মদ আলী ও অ্যাডভোকেট জয়নুল আবেদীন। দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) পক্ষে ছিলেন আইনজীবী খুরশীদ আলম খান। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল ফরহাদ আহমেদ। এ মামলায় খালেদা জিয়াকে হাইকোর্টের দেয়া চার মাসের জামিন বহাল রেখে ১৬ মে রায় দেন আপিল বিভাগ। রায়ে ৩১ জুলাইয়ের মধ্যে পাঁচ বছরের দণ্ডের বিরুদ্ধে হাইকোর্টে করা খালেদা জিয়ার আপিল নিষ্পত্তি করতে বলা হয়েছে। খালেদাকে হাইকোর্টের দেয়া জামিন বাতিলে রাষ্ট্রপক্ষ ও দুদকের করা আপিল খারিজ করে দিয়ে প্রধান বিচারপতির নেতৃত্বে চার বিচারপতির আপিল বেঞ্চ এ রায় দেন। এর আগে ৮ ফেব্রুয়ারি মামলাটিতে খালেদা জিয়ার পাঁচ বছর কারাদণ্ড হয়। একইসঙ্গে, খালেদা জিয়ার ছেলে ও বিএনপির সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমানসহ অপর পাঁচ আসামিকে ১০ বছর করে দণ্ড দেয়া হয়। রায় ঘোষণার ১১ দিন পর ১৯ ফেব্রুয়ারি বিকেলে রায়ের অনুলিপি হাতে পান খালেদা জিয়ার আইনজীবীরা। এরপর হাইকোর্টের সংশ্লিষ্ট শাখায় ২০ ফেব্রুয়ারি এ আবেদন দায়ের করা হয়। ১২ মার্চ খালেদা জিয়াকে চার মাসের জামিন দেন হাইকোর্ট। হাইকোর্টের দেয়া ওই জামিন স্থগিত চেয়ে পরদিন ১৩ মার্চ আপিল বিভাগে আবেদন করে রাষ্ট্রপক্ষ ও দুদক। পরে আপিল বিভাগের চেম্বার আদালত ওই দুই আবেদনের শুনানির জন্য ১৪ মার্চ দিন ধার্য করেন। এরপর ১৪ মার্চ আপিল বিভাগ রাষ্ট্রপক্ষ ও দুদককে জামিনের বিরুদ্ধে লিভ টু আপিল (আপিলের অনুমতি চেয়ে আবেদন) দায়ের করতে বলে চার মাসের জামিন ১৮ মার্চ পর্যন্ত স্থগিত করেন আদালত। এ আদেশ অনুসারে পরের দিন ১৫ মার্চ রাষ্ট্রপক্ষ ও দুদক লিভ টু আপিল দায়ের করে। ওই লিভ টু আপিলের ওপর শুনানি হয় ১৮ মার্চ। শুনানি শেষে আবেদনের ওপর আদেশের জন্য ১৯ মার্চ দিন ধার্য করেন আপিল বিভাগ। ১৯ মার্চ আদালত লিভ টু আপিল মঞ্জুর করেন। একইসঙ্গে, আপিল শুনানির জন্য ৮ মে দিন ধার্য করেন। আপিল শুনানি শেষে ১৬ মে রায় দেন উচ্চ আদালত। এর মধ্যে দুদক খালেদা জিয়ার সাজা বৃদ্ধিতে আবেদন করলে হাইকোর্ট রুল জারি করেন। এছাড়া ১০ বছরের দণ্ডপ্রাপ্ত মাগুরার সাবেক এমপি কাজী সালিমুল হক কামাল এবং ব্যবসায়ী শরফুদ্দিনও হাইকোর্টে আপিল করেন।
খালেদা জিয়ারটা বিলম্বিত করা হচ্ছে-অন্য আসামিরা জামিনে মুক্ত
একই মামলায় অন্য আসামিরা জামিনে থাকলেও বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার ক্ষেত্রে বৈষম্য করা হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ। স্থায়ী কমিটির বৈঠকের পর সোমবার সন্ধ্যায় বিএনপি চেয়ারপারসনের গুলশান কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ অভিযোগ করেন। ব্যারিস্টার মওদুদ বলেন, ‘খালেদা জিয়ার জামিন উচ্চ আদালতে বহাল রাখার পরও তিনি এখনো কেন মুক্তি পাচ্ছেন না দেশের মানুষের কাছে এটা বড় প্রশ্ন। এর প্রধান কারণ হলো নিম্ন আদালত।’ তিনি বলেন, ‘কুমিল্লায় তিনটি, নড়াইলে একটি ও ঢাকায় দুইটি মামলায় বিএনপি চেয়ারপারসনকে গ্রেফতার দেখানো হয়েছে। এগুলো একেবারে নিষ্ক্রিয় ও হয়রানিমূলক মামলা ছিল। এই ছয়টা মামলায় অন্য আসামিরাও কিন্তু জামিনে মুক্ত আছেন। এই যে বৈষম্যটা দেশনেত্রীর ক্ষেত্রে করা হচ্ছে, শুধু তার জামিন বিলম্বিত করার জন্য।’ জ্যেষ্ঠ এই আইনজীবী বলেন, ‘উনার (খালেদা জিয়া) বিরুদ্ধে করা ৩৬টা মামলায় জামিন হয়েছে। শুধু এই ছয়টি ছাড়া। এসব মামলায় হাইকোর্ট নিম্ন আদালতকে দ্রুত নিষ্পত্তির জন্য আদেশ দিয়েছেন। নড়াইল ও কুমিল্লার মামলায় শুনানি হলেও আদেশ দেবে যথাক্রমে ১৭ জুলাই ও ৮ আগস্ট। কত নিচু মনের সরকার!’ তিনি দাবি করে বলেন, ‘নিম্ন আদালতকে সম্পূর্ণভাবে নিয়ন্ত্রণ করে সরকার। এজন্য নিম্ন আদালতের বিচারকরা এমনটা করছেন। তা না হলে হাইকোর্টের আদেশের পরও নিম্ন আদালতের বিচারকরা মানছেন না। এটা ভয়ঙ্কর একটা বিষয়। এটা আদালত অবমাননার শামিল তো বটেই, এটা বড় অপরাধও।’ এদিকে খালেদা জিয়ার জামিন স্থগিতাদেশে বিস্ময় প্রকাশ করে এর প্রতিবাদে বৃহস্পতিবার ঢাকাসহ সারাদেশে প্রতিবাদ সমাবেশ কর্মসূচি ঘোষণা করেছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। একই সঙ্গে তার মুক্তি ও সুচিকিৎসার দাবিতে আগামী ৯ জুলাই ঢাকাসহ সারাদেশে প্রতীকী অনশন কর্মসূচিও পালন করা হবে। সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, ‘গণতন্ত্রের মাতা খালেদা জিয়ার একটি মামলায় একটি আদেশ দেয়া হয়েছে। যে আদেশটি আমাদের বিম্মিত ও বিক্ষুব্ধ করেছে। গোটা জাতি আজকে বিক্ষুব্ধ হয়েছে। আপিল বিভাগ থেকে এই আদেশটি হয়েছে।’ বিএনপি মহাসচিব অভিযোগ করে বলেন, বিচার বিভাগকে সম্পূর্ণভাবে নিয়ন্ত্রণ করার চেষ্টা করা হচ্ছে। দেশনেত্রীকে দীর্ঘস্থায়ীভাবে কারাগারে আটক রাখার চেষ্টা করছে সরকার। খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবিতে পরবর্তী কর্মসূচি ‘যথাসময়ে গণমাধ্যমকে’ জানানো হবে বলেও জানান তিনি। এছাড়া কোটা সংস্কার আন্দোলনে শিক্ষার্থীদের ওপর ‘সরকারের পেটোয়া বাহিনী’র হামলা এবং গ্রেফতারের ঘটনায় নিন্দা জানান বিএনপি মহাসচিব। সংবাদ সম্মেলনে অন্যদের মধ্যে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, জমির উদ্দিন সরকার, মির্জা আব্বাস, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, ড. আবদুল মঈন খান ও নজরুল ইসলাম খান, ভাইস চেয়ারম্যান খন্দকার মাহবুব হোসেন, জয়নাল আবেদীন ও নিতাই রায় চৌধুরী, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা এ জে মোহাম্মদ আলী, আবদুল কাইয়ুম, কোষাধ্যক্ষ মিজানুর রহমান সিনহা, যুগ্ম-মহাসচিব মাহবুবউদ্দিন খোকন, আইন বিষয়ক সম্পাদক কায়সার কামাল উপস্থিত ছিলেন।
বিএনপির মুখপাত্রে পরিণত হয়েছে মার্কিন দূতাবাস: জয়
বাংলাদেশে অবস্থিত মার্কিন দূতাবাস অনেকটা বিএনপির মুখপাত্রে পরিণত হয়েছে বলে এক ফেসবুক স্ট্যাটাসে অভিযোগ করেছেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি উপদেষ্টা সজীব ওয়াজেদ জয়। সোমবার রাতে নিজের ভেরিফাইড ফেসবুক অ্যাকাউন্ট থেকে দেয়া এক স্ট্যাটাসে তিনি এমন অভিযোগ করেন। জয় লিখেছেন, ‘বাংলাদেশে অবস্থিত মার্কিন দূতাবাস অনেকটা বিএনপির মুখপাত্রে পরিণত হয়েছে। সম্প্রতি গাজীপুরে অনুষ্ঠিত সিটি কর্পোরেশন নির্বাচন নিয়ে বিএনপির মন্তব্যগুলোই তারা পুনরাবৃত্তি করছে এবং অনিয়মের কথা বলছে অথচ নির্বাচনে বিএনপির সহিংসতা চালানোর চেষ্টা নিয়ে কিছুই বলছে না।’ ‘নির্বাচনে ৪২৫টি ভোট কেন্দ্রের মধ্যে মাত্র ৯টি অর্থাৎ ২.১ শতাংশ কেন্দ্রে অনিয়ম হয়েছিল। এক্ষেত্রে নির্বাচন কমিশন তার দায়িত্ব পালন করার মাধ্যমে কেন্দ্রগুলোর ভোটগ্রহণ বাতিল ঘোষণা করে। আমাদের নতুন মেয়র জাহাঙ্গীর আলম বিএনপির প্রার্থী হাসান থেকে ২ লক্ষের বেশি ভোট, অর্থাৎ দ্বিগুণ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন। সকল নির্বাচনী পর্যবেক্ষক একমত যে অনিয়মের অভিযোগ যা এসেছে তা কোনোভাবেই নির্বাচনের ফলে প্রভাব ফেলতে পারেনি।’ উল্লেখ করেন তিনি। জয় আরও লিখেছেন, ‘বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য মিজানুর রহমানের ফোনালাপ থেকে আমরা জানতে পারি যে তার দল সহিংসতা তৈরি করার মাধ্যমে নির্বাচনটিকে প্রশ্নবিদ্ধ করার ষড়যন্ত্র করেছিল।’ তিনি লিখেছেন, ‘যুক্তরাষ্ট্র দূতাবাস তাদের বক্তব্যে এই বিষয়টিকে কিন্তু এড়িয়ে গেছে। যুক্তরাষ্ট্রের বর্তমান সরকারের নীতি হচ্ছে অন্য কোনো দেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে নাক না গলানো। তাই বক্তব্যটি বাংলাদেশে অবস্থিত মার্কিন দূতাবাসেরই বলে ধরে নেয়া যায়। বুঝাই যা যাচ্ছে দূতাবাসের কর্মকর্তাবৃন্দ তাদের বিএনপির বন্ধুদের সাথে খুব বেশি সময় কাটাচ্ছেন আজকাল।
কোটা আন্দোলনের শান্তিপূর্ণ সমাধানের দাবি
সরকারী চাকরিতে কোটা সংস্কার বিষয়ে আন্দোলনরত ছাত্র-ছাত্রীদের সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে শান্তিপূর্ণ সমাধান এবং অবিলম্বে গ্রেফতারকৃতদের নিঃশর্ত মুক্তির দাবি জানিয়েছেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের ওপর হামলার ঘটনায় তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়ে সোমবার (০২ জুলাই) গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে তিনি জানান, বর্তমান আওয়ামী শাসকগোষ্ঠীর গণবিরোধী কার্যকলাপ এখন বীভৎস রূপে আত্মপ্রকাশ করেছে। সেজন্য সরকার জনগণের ভেতরের নানা শ্রেণিপেশার মানুষের পক্ষ থেকে কোনো দাবির আওয়াজকে নিষ্ঠুরভাবে দমন করতে দ্বিধা করে না। তাদের ন্যায়সঙ্গত ও যৌক্তিক দাবিকে অগ্রাহ্য করতেও পিছপা হয় না। বিএনপি মহাসচিব আরও বলেন, কোটা সংস্কার নিয়ে ইতোপূর্বে জাতীয় সংসদে প্রধানমন্ত্রীর দেয়া প্রতিশ্রুতি রক্ষা করা হয়নি। আন্দোলনকারীদের ওপর ঢাকা ও রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়সহ দেশের বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে হামলা করা হচ্ছে। ক্ষমতাসীন দলের ছাত্র সংগঠনকে লেলিয়ে দেওয়া হয়েছে। তিনি আরও বলেন, হামলা করে আন্দোলনকারীদের গুরুতর আহত করা ও পুলিশ দিয়ে গ্রেফতার করানো কখনোই সুস্থ মানসিকতার পরিচয় বহন করে না। দেশের বিবেকবান কোনও মানুষই সর্বোচ্চ পর্যায় থেকে প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ করে এ ধরনের বিবেক বর্জিত নিষ্ঠুরতা প্রদর্শন মেনে নিতে পারে না।
খালেদাসহ তিন আপিল শুনানি একসঙ্গে
জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতির মামলার দণ্ডের বিরুদ্ধে বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার আপিলের সঙ্গে অপর কারাবন্দি দুইজনের আপিল এবং খালেদার সাজা বৃদ্ধিতে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) রিভিশন আবেদনের শুনানি একইসঙ্গে হবে। রোববার (০১ জুলাই) বিচারপতি এম. ইনায়েতুর রহিম ও বিচারপতি মো. মোস্তাফিজুর রহমানের হাইকোর্ট বেঞ্চ দুই আপিলসহ দুদকের আবেদনের শুনানির জন্য ৩ জুলাই দিন ধার্য করেন। গত বুধবার খালেদা জিয়ার আপিলের শুনানির জন্যও ৩ জুলাই দিন ঠিক করেছিলেন। আদালতে ছিলেন- দুর্নীতি দমন কমিশনের পক্ষে আইনজীবী খুরশীদ আলম খান এবং খালেদা জিয়ার পক্ষে অ্যাডভোকেট জয়নুল আবেদীন, ব্যারিস্টার মাহবুব উদ্দিন খোকন, ব্যারিস্টার একেএম এহসানুর রহমান, অ্যাডভোকেট মাসুদ রানা প্রমুখ। মামলায় ছয় আসামির মধ্যে খালেদা জিয়াসহ তিনজন কারাবন্দি। বাকি তিন আসামি পলাতক রয়েছেন। খালেদা জিয়া ছাড়া বাকি দুইজন হলেন, মাগুরার সাবেক এমপি কাজী সালিমুল হক কামাল ওরফে ইকোনো কামাল ও ব্যবসায়ী শরফুদ্দিন আহমেদ। পলাতক তিনজন হলেন, বিএনপি’র ভারপ্রাপ্ত চেয়ারপারসন তারেক রহমান, সাবেক মুখ্য সচিব ড. কামাল উদ্দিন সিদ্দিকী, বিএনপি’র প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমানের ভাগ্নে মমিনুর রহমান। আইনজীবী খুরশীদ আলম বলেন, এই মামলায় দণ্ডিত ছয় আসামির মধ্যে তিনজন কারাবন্দি। বাকিরা পলাতক। ইতোমধ্যে কারাবন্দি তিনজনেরই আপিল শুনানির জন্য গ্রহণ করেছেন হাইকোর্ট। তাছাড়া দুদকের পক্ষ থেকে খালেদা জিয়ার সাজা বাড়াতে একটি রিভিশন আবেদন করা হয়েছিল। সে আবেদনের শুনানি নিয়ে আদালত রুল জারি করেছেন। এখন খালেদা জিয়ার আপিলের সঙ্গে বাকি দুই আসামির আপিল এবং দুদকের রিভিশনের প্রেক্ষিতে জারি করা রুলের শুনানি একসঙ্গে হবে বলে ‍জানান দুদকের এই কৌসুলি। উল্লেখ্য, গত ৮ ফেব্রুয়ারি বকশীবাজারে কারা অধিদফতরের প্যারেড গ্রাউন্ডে স্থাপিত ঢাকার বিশেষ জজ আদালত-৫ এর বিচারক ড. মো. আখতারুজ্জামান মামলাটিতে খালেদা জিয়ার পাঁচ বছরের কারাদণ্ড দেন। একইসঙ্গে খালেদার ছেলে ও বিএনপি’র ভারপ্রাপ্ত চেয়ারপারসন তারেক রহমান, মাগুরার সাবেক এমপি কাজী সালিমুল হক কামাল ওরফে ইকোনো কামাল, ব্যবসায়ী শরফুদ্দিন আহমেদ, ড. কামাল উদ্দিন সিদ্দিকী ও মমিনুর রহমানকে ১০ বছর করে কারাদণ্ড দেন আদালত।