বিবিসিকে যা বলেছিলেন ড. কামাল
অনলাইন ডেস্ক: গত রবিবার নবগঠিত জাতীয় ঐক্যের উদ্যোক্তা ড. কামাল হোসেনের একটি সাক্ষাৎকার প্রকাশিত হয় বিবিসি বাংলায়। সেখানে তিনি জানান, ক্ষমতাসীন সরকারের অধীনে নির্বাচনে যেতে তার নীতিগত কোনো আপত্তি নেই। তার এই বক্তব্যে তোলপাড় সৃষ্টি হয়। বিএনপিসহ জোটের অন্য শরিকরা এই বক্তব্যের কড়া সমালোচনা করেন। পরে ড. কামাল হোসেন দাবি করেন, বিবিসি বাংলা তার বক্তব্য বিকৃত করেছে। আসলে তিনি বিষয়টি এভাবে বলেননি। এবার বিবিসি বাংলা ড. কামাল হোসেনের সেই সাক্ষাৎকারটি হুবহু ছাপিয়েছে অডিওসহ। নিচে তা হুবহু তুলে ধরা হলো। ড. কামাল হোসেনের কাছে বিবিসি বাংলার মোয়াজ্জেম হোসেন প্রথমেই জানতে চেয়েছিলেন, জাতীয় ঐক্য প্রক্রিয়া কি নির্বাচনী জোট, না-কি সরকার বিরোধী আন্দোলনের মঞ্চ? ড. কামাল হোসেন: পুরো সুষ্ঠু নির্বাচন করার জোট, যে কারণে এটা সম্ভব হয়েছে ইমিডিয়েটলি করে নেয়া। বিবিসি বাংলা: তাহলে আপনি বলছেন এটি ক্ষমতায় যাওয়ার লক্ষ্যে ক্ষমতাসীন দলের বিরুদ্ধে বিরোধীদের কোনো জোট নয়? ড. কামাল হোসেন: না না, মোটেই না। সরকার আসতে পারে তো এখানে। বিবিসি বাংলা: কিন্তু আমরা তো এরকম একটা সমালোচনা শুনছি যে আপনারা আসলে সরকারকে বিপদে ফেলার জন্য এবং বিরোধী দল বিএনপিকে মাঠে নামার সুযোগ করে দেয়ার জন্য এই জোটটা করেছেন। ড. কামাল হোসেন: ওনাদেরকে একটু আশ্বাস দিতে পারেন যে এরকম কোনো সিদ্ধান্ত আমাদের মাথায় ছিলই না যখন আমরা এটা করি।। শুরু ছিল যে সুষ্ঠু নির্বাচনের লক্ষ্যে যারাই নির্বাচনে, ইনক্লুডিং সরকারও, এই জোটে আসতে পারে। বিবিসি বাংলা: তো এই যে আপনারা বলছেন যে একটা সুষ্ঠু নির্বাচনের লক্ষ্যে আপনারা এই জোটটা করেছেন তো সেই সুষ্ঠু নির্বাচনের জন্য কী কী পূর্বশর্ত আপনারা সরকারকে দিচ্ছেন যে কোন কোন ব্যবস্থা গ্রহণ করলে একটা সুষ্ঠু নির্বাচন আসলে করা সম্ভব হবে? ড. কামাল হোসেন: এই যেমন সুষ্ঠু নির্বাচন হল যে, ভোটার লিস্টগুলো নিরপেক্ষভাবে, সঠিকভাবে তৈরি করা হবে। সকলকে সেই সুষ্ঠু ভোটার লিস্টের ভিত্তিতে ভোট দেয়ার সুযোগ নিশ্চিত করা হবে। বিবিসি বাংলা: কিন্তু নির্বাচনটা যে সরকার পরিচালনা করবে সেই সরকার কেমন হবে, কোন কাঠামোতে সেই সরকার পরিচালিত হবে, সে ব্যাপারে আপনাদের বক্তব্যটা কী? ড. কামাল হোসেন: সেটা তো আইনেই আছে। বুচ্ছেন না। সেখানে ইলেকশনের সময় যারা পরিচালনা করবেন তারা নিরপেক্ষ থাকবেন, তারা কোন দলীয় প্রভাবে নিয়ন্ত্রণে থাকবেন না। ইলেকশন হবে। মানে যেটা শুড বি, নট অনলি ফেয়ার, বাট বি সিন টুবি ফেয়ার, বুচ্ছেন না, এটা মানে ... বিবিসি বাংলা: কিন্তু এখন বাংলাদেশের যে সংবিধান, সেই সংবিধানে কি আসলে এমন নিরপেক্ষ লোক দিয়ে সরকার গঠনের কোনো সুযোগ আদৌ আছে? ড. কামাল হোসেন: না, সেটাতো মানে, সংবিধানে এটা তো মানুষের চরিত্রের ব্যাপার। আমরা বলছি যে বিভিন্ন দলের যারা নেতৃবৃন্দ আছেন তারা যখন একটা স্বাক্ষর করবেন যে, আমরা কেউ এখানে হস্তক্ষেপ করবো না, আমরা এই প্রক্রিয়াকে একটা নিরপেক্ষ প্রক্রিয়া হিসেবে হতে দেব। তখন আমরা ধরে নিতে পারি যে সরকারের পক্ষে যারা ওথ নিয়ে কথাগুলো বলবেন, আমাদের পক্ষে যারা ওথ নিয়ে বলবেন, তাদের তো একটা ন্যূনতম দায়িত্ববোধ থাকবে আর কি, যেটা বলবেন সেটা রক্ষা করবেন। বিবিসি বাংলা: কিন্তু এখন যে বাংলাদেশের সংবিধান, এই সাংবিধানিক কাঠামোর মধ্যে কীভাবে আসলে এই সরকারটা গঠন করা হবে। আপনাদের কি কোনো সুনির্দিষ্ট প্রস্তাব আছে? ড. কামাল হোসেন: না, সেগুলো তো আইন এবং সংবিধান দেখলে তো ওখানে বলা আছে, নির্বাচন হবে, নির্বাচন প্রতিযোগিতামূলক নির্বাচন হবে, সকলেই যারা এখানে, মানে প্রতিযোগিতা করতে চান, এসে করতে পারবেন। এবং সেটা নির্বাচন কমিশন এটার রেফারি হিসাবে পরিচালনা করবে। কোনো রকমের যদি নিরপেক্ষতা থেকে কেউ সরে যায় তো সেটাকে তারা চিহ্নিত করবে এবং এটাকে অবৈধ বলবে। এবং যদি সে, এরকম অবৈধ কোনো জিনিস না হয়, যেটা নিয়ে ইলেকশন কমিশন কে বলতে না হয় যে এ নির্বাচন অবাধ নিরপেক্ষ হল না, তখন তারা এটার রায় দেবে না আর কি। তো এগুলো তো ইলেকশন আইনের মধ্যেই আছে। বিবিসি বাংলা: তার মানে আপনি কি, আপনারা কি এটা বলতে চাইছেন যে এখন বাংলাদেশের যে সংবিধান এবং এই সংবিধানের অধীনে এখন বাংলাদেশে যে সরকার ক্ষমতায়, এই সরকারের অধীনে আপনারা নির্বাচনে যেতে রাজি? ড. কামাল হোসেন: ইন প্রিন্সিপাল, ইন প্রিন্সিপাল। এটা বলা হচ্ছে যে তারা যেগুলো, মানে আইনে আছে, এগুলো মেনেই করবেন। যদি এখান থেকে কোন দেখা যায় যে না তারা এখান থেকে সরে যাচ্ছে, অথবা কোনো রকমের প্রভাব ফেলার চেষ্টা করছে, তখন যদি এটা দৃষ্টিতে আসে, তখন তো প্রচণ্ড আপত্তি করা হবে যে এটা থেকে আপনারা বিরত থাকেন। যদি এটা থেকে বিরত ... যদি করতে থাকেন, আমি বলবো না যে করবেন, যদি আইদার সাইড দেখে যে না, এটা কোন কেউ এটা রীতিনীতি না মেনে করা হচ্ছে, তখন তো নির্বাচনকে বাতিল করার জন্য কোর্টে যেতে হবে। কোর্টকে বলতে হবে যে, এসব কারণে এটা অবাধ নিরপেক্ষ হল না, যেটা আইনের বিধান আছে যে এটা হতে হবে, সো আপনারা কোর্ট এটাকে বিবেচনা করে ডিক্লেয়ার করেন যে এটা হল না। এটা ইলেকশন এখানে সংবিধান অনুযায়ী হয়নি, তো যার কারণে এখন নতুন করে ইলেকশন আবার করতে হয়। বিবিসি বাংলা: এই যে আপনি বলছেন ইন প্রিন্সিপাল বা নীতিগতভাবে বর্তমান সরকারের অধীনে, নির্বাচনে যেতে আপনারা রাজী, এটি কি শুধু আপনাদের কথা বলছেন, নাকি আপনাদের প্ল্যাটফর্মে যতো দল এসেছে বিএনপিসহ সবার কথা বলছেন - সবাই যেতে রাজি? ড. কামাল হোসেন: না, আসলে তো আমরা এভাবে বসে এই ব্যাপারে কোনো সিদ্ধান্ত হয় নাই। আমি আমাদের দলের কথা বলছি আর কি। আর, এটা তো একটা সিম্পল প্রভিশনের আমি মনে করি যে সবাই এটা, মানে, বলতে দ্বিধাবোধ করবেন না। তবে কোনো সিদ্ধান্ত এরকম বসে আমরা নিই নাই। ঢাকাটাইমস
জাতীয় ঐক্য-কে কতটা গুরুত্ব দিচ্ছে আ.লীগ?
অনলাইন ডেস্ক: দেশে সরকারবিরোধী বৃহত্তর রাজনৈতিক জোট গঠনের লক্ষ্যে শনিবার ড. কামাল হেসেনের নেতৃত্বে ঢাকায় প্রথম প্রকাশ্য সমাবেশে বিএনপির সিনিয়র নেতারা যোগ দিয়েছিলেন। জাতীয় ঐক্য প্রক্রিয়া' নামে একটি সংগঠনের ব্যানারে এই নতুন রাজনৈতিক জোটে ড. কামাল হোসেনের সঙ্গে আছেন সাবেক রাষ্ট্রপতি বদরুদ্দোজা চৌধুরী, জাসদের একটি অংশের আ স ম আব্দুর রব এবং নাগরিক ঐক্যের মাহমুদুর রহমান মান্না। এই জোটের সাথে বৃহত্তর ঐক্য করার ব্যাপারে বিএনপিরও চেষ্টা রয়েছে। কিন্তু ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ তাদের সরকারের বিরুদ্ধে এই ঐক্য প্রক্রিয়াকে আসলে কতটা চ্যালেঞ্জ হিসেবে নিচ্ছে তা নিয়ে কৌতূহল রয়েছে। দলটির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুবুল আলম হানিফ নতুন এই জোট তাদের জন্য চ্যালেঞ্জ হবে বলে মনে করেন না তারা। বিএনপি জনবিচ্ছিন্ন হওয়ায় এবং দুর্নীতির দায়ে আদালত দ্বারা তাদের শীর্ষ নেতৃত্বের কারাদণ্ড হওয়ায় বা বিদেশে পলাতক থাকায় রাজনৈতিকভাবে তারা হতাশাগ্রস্ত ও জনবিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। তিনি বলেন, বিএনপি বহু চেষ্টা করেও জনসমর্থন না থাকায় দাবি উত্থাপন বা আন্দোলনও করতে পারেনি, এমনকি বিদেশিদের কাছে ধর্না দিয়েও সফল হয়নি। সবশেষে তারা একটি জোট করেছে। কিন্তু এই দল কারা? জনবিচ্ছিন্ন এবং জনগণ থেকে প্রত্যাখ্যাতদের সাথে জোট করে কোনো ফায়দা হবে না। কিন্তু আওয়ামী লীগে বা আওয়ামী লীগের জোটের বাইরের সব দল যদি একটি মঞ্চে আসে সেটা আওয়ামী লীগের জন্য চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়ায় কি-না? জবাবে মাহবুবুল আলম হানিফ বলেন এরশাদ আমলেও বায়াত্তর দলের জোট হয়েছিলো এবং সে দলের নেতা এখনো আছেন। এসব নামসর্বস্ব দলের নেতাদের নিয়ে জোট করলে তা নিয়ে আওয়ামী লীগের চিন্তিত হওয়ার কিছু নেই। কিন্তু এ কিউ এম বদরুদ্দোজা চৌধুরী কিংবা ড. কামাল হোসেনের ব্যক্তিগত ভাবমূর্তি কাজে লাগানোর চেষ্টার কথা বলছে নতুন জোট- এটি কি বিবেচনায় নেয়ার মতো নয়? জবাবে মাহবুবুল আলম হানিফ বলেন, আমরা মনে করি এসব জনবিচ্ছিন্ন নেতাদের নিয়ে ভাবনার কিছু নেই। কিন্তু আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদকসহ নেতারা তো এসব জোট নিয়ে রাজনৈতিক বক্তব্য দিতে দেখা যাচ্ছে, সেটি কেন তাহলে? জবাবে আওয়ামী লীগের এই নেতা বলেন, আগামী সংসদ নির্বাচনে সব দল অংশ নিক এবং নির্বাচনকে কেন্দ্র করে জোট গঠন বা সম্প্রসারণ তা হয়ে থাকে। কিন্তু এসব দলের অতীত ইতিহাস বলে তারা ষড়যন্ত্রের পথ খুঁজে বেড়ায়। ষড়যন্ত্রের জন্য কোনো জোট হলে সেটা জনগণ বরদাশত করবে না। সেটাই আওয়ামী লীগের নেতারা হয়তো বলছেন। কিন্তু শেষ পর্যন্ত এটি বৃহত্তর জোট হলে আওয়ামী লীগ কি একা হয়ে পড়বে কি-না এমন প্রশ্নের জবাবে হানিফ বলেন,আওয়ামী লীগ একা হবে কেন? নামসর্বস্ব এখন একশ ব্যক্তি নিয়ে একশ দল হলে তাদের ঐক্যের কী গুরুত্ব আছে? বিবিসি বাংলা
শেষমেশ -জাতীয় ঐক্যে- স্বাধীনতাবিরোধীর দল
অনলাইন ডেস্ক: স্বাধীনতাবিরোধী দল সঙ্গে থাকলে বিএনপির সঙ্গে কোনো ঐক্য নয়- গণফোরাম সভাপতি কামাল হোসেন এবং যুক্তফ্রন্টের এ কিউ এম বদরুদ্দোজা চৌধুরী প্রকাশ্যে একাধিকবার ঘোষণা দিলেও শেষ পর্যন্ত কথা রাখলেন না তারা। মুক্তিযুদ্ধের পর দালাল আইনে দণ্ডিত নেতার দলকে সঙ্গে নিয়েই হয়েছে ঐক্য প্রক্রিয়ার সমাবেশ। আর এই সমাবেশ থেকেই একসঙ্গে কর্মসূচির ঘোষণা এসেছে। আবার স্বাধীনতাবিরোধী জামায়াতে ইসলামীর সঙ্গে বিএনপি সম্পর্ক ত্যাগেরও ঘোষণা দেয়নি। ফলে জাতীয় ঐক্যে ১৯৭১ সালে পাকিস্তানের পক্ষে অস্ত্র ধরা দলটিও পরোক্ষভাবে থাকছে না, এটি বলারও সুযোগ নেই। শনিবার কামাল হোসেনের নেতৃত্বে জাতীয় ঐক্য প্রক্রিয়ার সমাবেশে স্বাধীনতাবিরোধী জামায়াতে ইসলামী ও মুসলিম লীগ ছিল না, এটা সত্য। তবে ১৯৭১ সালে পূর্ব পাকিস্তানে গভর্নর আবদুল মোতালেব মালেকের নেতৃত্বে মন্ত্রিসভার সদস্য মাওলানা মোহাম্মদ ইসহাকের নেতৃত্বে খেলাফত মজলিসের মহাসচিব আহমদ আবদুল কাদের উপস্থিত ছিলেন মঞ্চে। মুক্তিযুদ্ধের পর দালাল আইনে গ্রেপ্তারের পর ইসহাকের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড হয়। ১৯৭৩ সালের ১১ ফেব্রুয়ারি বাংলার বাণী পত্রিকার একটি খবরের শিরোনাম দালাল মন্ত্রী ইসহাকের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড। ৭৫ এর পট পরিবর্তনের পর ইসহাক আবার রাজনীতিতে সক্রিয় হন আর কওমি মাদ্রাসাকেন্দ্রিক দলে যোগ দেন। ২০০৫ সালে বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস ভেঙে গেলে তিনি একটি অংশের প্রধান নেতা হন। খেলাফত মজলিস নামে তার দল নির্বাচন কমিশনের নিবন্ধন পায়। এখনও তিনি বিএনপির সঙ্গে ২০ দলীয় জোটে আছেন। ইসহাকের নেতৃত্বে দলের মহাসচিব আহমদ আবদুল কাদের তার রাজনৈতিক জীবনের শুরুতে স্বাধীনতাবিরোধী জামায়াতে ইসলামীর ছাত্র সংগঠন ইসলামী ছাত্রশিবিরেই সম্পৃক্ত ছিলেন। ১৯৮২ সালে সংগঠনের সভাপতিও হন। পরে দ্বন্দ্বের জেরে শিবির ত্যাগ করেন। আগামী জাতীয় নির্বাচনকে সামনে রেখে আওয়ামী লীগবিরোধী যে বৃহৎ ঐক্য গড়ার চেষ্টা হচ্ছে তাতে বিএনপি ছাড়া আছে কামাল হোসেনের গণফোরাম এবং দুই প্রধান দলের বাইরে তৃতীয় শক্তি হওয়ার ঘোষণা দেয়া যুক্তফ্রন্ট। এর মধ্যে কামাল হোসেন একাধিকবার এমনকি বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের উপস্থিতিতে জানিয়েছেন, জামায়াত থাকলে তিনি ঐক্যের আলোচনায় নেই। একই কথা একাধিকবার জানিয়েছেন যুক্তফ্রন্টের চেয়ারম্যান এ কিউ এম বদরুদ্দোজা চৌধুরী এবং তার ছেলে মাহী বি চৌধুরী। এমনকি শনিবার ঐক্য প্রক্রিয়ার সমাবেশের আগের দিন বিএনপির তিন নেতা মির্জা ফখরুল, খন্দকার মোশাররফ হোসেন এবং মওদুদ আহমদ যখন বি. চৌধুরীর বাড়িতে যান, তখনও সে কথাই উল্লেখ করেন তিনি ও তার সন্তান মাহী। মাহী ঢাকাটাইমসকে নিজে বলেছেন, বিএনপিকে তারা বলেছেন, প্রত্যক্ষ এবং পরোক্ষ স্বাধীনতাবিরোধী দল থাকলে ঐক্য হবে না। এমনকি ঐক্য প্রক্রিয়ার সমাবেশে বি. চৌধুরী বলেন, স্বাধীনতাবিরোধী কোনো দলের সঙ্গে তারা ঐক্য করবেন না। তবে বিএনপির সঙ্গে ঐক্য হতে পারে। এর মধ্যে জামায়াতকে বাদ না দিলেও বিএনপি এবং দালাল আইনে দণ্ডিত নেতার দলের সঙ্গে ঐক্য গড়ার ঘোষণা নিয়ে কোনো ব্যাখ্যা আসেনি গণফোরাম বা যুক্তফ্রন্টের পক্ষ থেকে। এ বিষয়ে জানতে একাধিক নেতার সঙ্গে যোগাযোগ করলে তারা কেউই কথা বলতে রাজি হননি। ব্যস্ত আছেন বলে ফোন রেখে দেন। বি. চৌধুরীর দলের মহাসচিবই স্বাধীনতাবিরোধী রাজনৈতিক দলের মুক্তিযুদ্ধকালীন ভূমিকা নিয়ে বি. চৌধুরীর বক্তব্যের সঙ্গে আবার তার কর্মকাণ্ডের মিল নেই। তিনি তার দল বিকল্পধারার মহাসচিব হিসেবে এমন একজনকে নিয়েছেন যিনি ১৯৭১ সালে যুদ্ধ করেছেন বাংলাদেশের স্বাধীনতার বিরুদ্ধে। সূত্র: ঢাকাটাইমস বি. চৌধুরীর দলের দ্বিতীয় প্রধান নেতা আবদুল মান্নান পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর কর্মকর্তা ছিলেন। বাঙালি যে ৮০ জন সেনা কর্মকর্তা পাকিস্তানের পক্ষে যুদ্ধ করেছিল, তিনি তাদেরই একজন। ১৯৭১ সালের ১৬ ডিসেম্বর পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর সঙ্গে তিনিও আত্মসমর্পণ করেন আর এরপর যুদ্ধবন্দি হিসেবে ভারতে নেয়া হয়। পরে সেখান থেকে পাকিস্তানে যান। ১৯৭৩ সালে পাকিস্তান সেনাবাহিনী থেকেই অবসরে যান মান্নান। ১৯৭৫ সালে বঙ্গবন্ধুকে হত্যার পর বাংলাদেশে পুনর্বাসিত হয়ে টিসিবির চেয়ারম্যান হন মান্নান আর ১৯৯১ সালের নির্বাচনে বিএনপি থেকে মনোনয়ন পেয়ে হন সংসদ সদস্য। স্বাধীনতাবরোধীর সঙ্গে ঐক্য নয়- এমন ঘোষণা দিয়েও পাকিস্তানের পক্ষে অস্ত্রধারী নেতাকে পাশে রাখার বিষয়ে জানতে চাইলে নেতারা কেউ কথা বলতে রাজি হননি। আছেন ফখরুদ্দিনের উপদেষ্টাও ২০০৭ সালের ১১ জানুয়ারি জরুরি অবস্থা জারির পর দুই বছর দেশ চালানো তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সমালোচনায় মুখর বিএনপি। ছদ্ম সেনাশাসন হিসেবে বিবেচিত এই আমলেই গ্রেপ্তার হন দুই প্রধান নেত্রী শেখ হাসিনা ও খালেদা জিয়া। এই আমলেই দুর্নীতি দমন কমিশনের করা মামলায় পাঁচ বছরের কারাদণ্ড নিয়ে বন্দী বিএনপি নেত্রী। অথচ জাতীয় ঐক্যের ঘোষণার সময় উপস্থিত ছিলেন এই সরকারের উপদেষ্টা মইনুল হোসেনও। ঐক্যের সমাবেশে বিএনপি নেতা মওদুদের হাত ধরে ছবি তোলেন মইনুল। মইনুলের হাত ধরেন কামান হোসেন আর কামাল হোসেনের হাত উঁচিয়ে ধরে ছবি তোলেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। ২০১৬ সালের ৫ আগস্ট দেশে অবাধ, সুষ্ঠু ও কার্য্কর গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে গণফোরাম সভাপতি কামাল হোসেন জাতীয় ঐক্য প্রক্রিয়ার ঘোষণা দেন। আর এক যুগ ধরে রাষ্ট্রীয় ক্ষমতা কাঠামোর বাইরে থাকা বিএনপি জাতীয় ঐক্যের জন্য মরিয়া হয়ে চেষ্টা করছে খালেদা জিয়ার দণ্ডের পর থেকে। এই আলোচনার সময় তিনশ আসনের মধ্যে ১৫০ আসনে ছাড় দেয়া, দুই বছর প্রধানমন্ত্রিত্ব ছেড়ে দেয়ার মতো দাবিও শুনতে হয়েছে দলটিকে। আর ঐক্যের স্বার্থে ছাড় দেয়ার ঘোষণাও দিয়েছে তারা। জাতীয় ঐক্যের যে ঘোষণা এসেছে তাতে বিএনপির অবস্থান কোথায় সেটি স্পষ্ট নয়। অথচ নিঃসন্দেহে এখানে সবচেয়ে বড় দল তারাই। অন্যদের মধ্যে কামাল হোসেনের গণফোরাম, যুক্তফ্রন্টের বিকল্প ধারা ও জেএসডির প্রার্থীরা ভোটে জামানত রক্ষা করতে পারবেন কি না, এই নিয়েই আলোচনা তুঙ্গে। আরেক শরিক নাগরিক ঐক্যের মাহমুদুর রহমান মান্না যতবার জাতীয় নির্বাচনে অংশ নিয়েছেন তার কোনোটিতেই তিনি প্রতিদ্বন্দ্বিতায় আসতে পারেননি। এর মধ্যে দুইবার তিনি জামানত রক্ষা করতে পারেন আওয়ামী লীগের নৌকা পেয়ে আর একবার অন্য দলের হয়ে প্রার্থী হয়ে নগন্য সংখ্যক ভোট পান। ঢাকাটাইমস
উন্নয়নবার্তা জনে জনে পৌঁছে দিতে তৃতীয় দফার যাত্রা শুরু
অনলাইন ডেস্ক: বর্তমান সরকারের উন্নয়নের বার্তা জনে জনে পৌঁছে দিতে তৃতীয় দফা নির্বাচনী যাত্রা শুরু করেছে আওয়ামী লীগ। শনিবার (২২ সেপ্টেম্বর) সকালে ধানমন্ডির দলীয় কার্যালয় থেকে এই যাত্রা শুরু হয়। নির্বাচনী সড়ক যাত্রায় এবার ৯টি স্পটে পথসভা হবে। যাত্রা শুরুর প্রাক্কালে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেন, যাত্রায় আওয়ামী লীগের উন্নয়নের বার্তা মানুষের কাছে পৌঁছে দেবো। আমাদের নেতাকর্মীদের মধ্যে কোথাও বিবাদ-কলহ থাকলে তা মিটিয়ে এক সঙ্গে কাজ করার অনুপ্রেরণা দেওয়া হবে। তিনি বলেন, আমাদের সরকারের উন্নয়নেই নৌকা ভাসতে ভাসতে আগামী ডিসেম্বরে বিজয়ের বন্দরে পৌঁছাবে। ঐক্য প্রক্রিয়ার সমাবেশের উদ্দেশে ওবায়দুল কাদের বলেন, শান্তিপূর্ণ সমাবেশ করলে স্বাগতম। কিন্তু অশান্তি সৃষ্টি করলে উদ্ধুদ্ধ পরিস্থিতিতে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী ব্যবস্থা নেবে। আসন্ন একাদশ সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে নির্বাচনী এ পথসভা শুরু করেছে আওয়ামী লীগ। গত ৩০ আগস্ট আকাশ পথে ঢাকা থেকে সিলেটে যাত্রার মধ্য দিয়ে শুরু হয় নির্বাচনী যাত্রা। এরপর ৮ সেপ্টেম্বর ট্রেনযোগে নীলফামারীর পথে দ্বিতীয় দফায় আওয়ামী লীগের নির্বাচনী যাত্রা হয়। এবারের যাত্রা শেষ হবে ২৪ সেপ্টেম্বর। তৃতীয় দফা যাত্রার প্রথম দিন শনিবার কুমিল্লার ইলিয়টগঞ্জ স্কুল মাঠ, কুমিল্লা টাউন হল মাঠ, এইচ জে পাইলট হাইস্কুল মাঠ, চৌদ্দগ্রাম, ফেনী ট্রাংক রোড জিরো পয়েন্ট, সীতাকুণ্ডু হাই স্কুল মাঠ এলাকায় পথসভা নির্ধারিত রয়েছে। দ্বিতীয় দিন রোববার (২৩ সেপ্টেম্বর) চট্টগ্রামের শিকলবাহা ক্রসিং, এস আর স্কয়ার কর্ণফুলী, মেহেরুন্নেসা স্কুল মাঠ চুনতি লোহাগাড়া চট্টগ্রাম, চকরিয়া বাসস্ট্যান্ড চট্টগ্রাম, কক্সবাজার ঈদগাহ মাঠের সমাবেশ দিয়ে শেষ হবে এবারের নির্বাচনী যাত্রা। এ যাত্রায় ওবায়দুল কাদেরের সঙ্গে রয়েছেন আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য আব্দুল মতিন খসরু, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুব-উল আলম হানিফ, আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক এ কে এম এনামুল হক শামীম, ব্যারিস্টার মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল প্রমুখ।
আ.লীগের মনোনয়ন চান রাবির সাবেক আট ছাত্রনেতা
অনলাইন ডেস্ক: আগামী নির্বাচনে নৌকা প্রতীক নিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার জন্য রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) সাবেক আট ছাত্রনেতা মনোনয়ন চাইবেন। আওয়ামী লীগের এই তরুণ নেতাদের মধ্যে একজন অবশ্য বর্তমানে সংসদ সদস্য। মাগুরা-১ আসনে এবার মনোনয়ন পাওয়ার জোরালো সম্ভাবনা রয়েছে ছাত্রলীগের সাবেক নেতা সাইফুজ্জামান শিখরের। তিনি রাবি ছাত্রলীগের সভাপতি ছিলেন। বেশ কিছুদিন ধরে তিনি এ আসনে নির্বাচনের প্রস্তুতি নিচ্ছেন। তার বাবাও এখানে জনপ্রিয় সংসদ সদস্য ছিলেন। শিখর ২০০৯ সালে আওয়ামী লীগ সরকার গঠনের পর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার একান্ত সচিব হন। রাবি ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি সাইফুজ্জামান শিখরের কমিটির সাধারণ সম্পাদক ছিলেন আয়েন উদ্দিন। বর্তমানে তিনি রাজশাহী-৩ আসনের সংসদ সদস্য। আওয়ামী লীগের দুর্দিনে রাবি ছাত্রলীগে নেতৃত্বদানের পুরস্কার হিসেবে গত নির্বাচনে দল তাকে মনোনয়ন দেয়। আসছে নির্বাচনেও তিনি মনোনয়ন চান। আয়েন উদ্দিন বলেন, ‘ছাত্রলীগের রাজনীতির মধ্য দিয়ে আমার রাজনৈতিক জীবন শুরু। দলীয় প্রধান শেখ হাসিনা আমার ওপর আস্থা রেখে মনোনয়ন দেন। নির্বাচিত হওয়ার পর এলাকায় ব্যাপক উন্নয়ন করেছি। তাই উন্নয়নের ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন বোর্ড আবার মনোনয়ন দেবে বলে আমার বিশ্বাস।’ শিখর-আয়েন কমিটির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ছিলেন রাজশাহীর বাগমারা উপজেলার তাহেরপুর পৌরসভার মেয়র আবুল কালাম আজাদ। তিনি এখন তাহেরপুর পৌরসভা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক। রাবি ছাত্রলীগের সাবেক এই নেতা এবার মনোনয়ন চাইছেন রাজশাহী-৪ আসনে। মনোনয়ন পেতে তিনি এলাকায় নানা কর্মসূচি চালিয়ে যাচ্ছেন। রাবি ছাত্রলীগের আরেক সাবেক সভাপতি আহম্মদ আলী মোল্লা নাটোর-৪ আসনে মনোনয়ন চাইবেন। চালিয়ে যাচ্ছেন প্রচার-প্রচারণা। তিনি বর্তমানে আওয়ামী লীগের উপকমিটির সহ-সম্পাদক। এ আসনের বর্তমান সংসদ সদস্য জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আব্দুল কুদ্দুস। রাজশাহী জেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোটেক লায়েব উদ্দিন লাভলু ছিলেন রাবি ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক। তিনি রাজশাহী-৬ আসন থেকে মনোনয়ন চাইছেন। এ আসনের বর্তমান সংসদ সদস্য পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলম। দিনাজপুর-১ আসনে মনোনয়ন চান সাবেক ছাত্রলীগ নেতা আবু হুসাইন বিপু। তিনি রাবি ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক। বর্তমানে বীরগঞ্জ পৌর আওয়ামী লীগের সদস্য বিপু স্থানীয় নেতাকর্মীদের মাঝে বেশ জনপ্রিয়। তার মনোনয়ন পাওয়ার সম্ভাবনা জোরালো। তাজমহল হীরক এখন আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় উপকমিটির সহ-সম্পাদক। আগামী সংসদ নির্বাচনে জয়পুরহাট-২ আসনের মনোনয়ন-প্রত্যাশী হিসেবে নিজের নাম ঘোষণা করেছেন। রাবি ছাত্রলীগের সাবেক এই সহ-সভাপতির আশা, দল তাকে মনোনয়ন দেবে। জয়পুরহাট-২ আসনের বর্তমান সংসদ সদস্য আওয়ামী লীগের রাজশাহী বিভাগের সাংগঠনিক সম্পাদক আবু সাঈদ আল মাহমুদ স্বপন। হীরক বলেন, ‘বর্তমান সরকারের দুই মেয়াদে দেশে যে উন্নয়ন হয়েছে তা অতীতে কখনোই হয়নি। এই উন্নয়নের কথা বিবেচনা করেই দেশের মানুষ আগামীতেও আওয়ামী লীগকে রাষ্ট্রক্ষমতায় বসাবে। তাই সরকারের উন্নয়ন কর্মকাণ্ডের অংশীদার হতে আগামী নির্বাচনে অংশ নিতে চান।’ ডোমার ও ডিমলা উপজেলা নিয়ে গঠিত নীলফামারী-১ আসন থেকে এবার নৌকা প্রতীক নিয়ে নির্বাচন করতে চান রাবি ছাত্রলীগের সাবেক সহ-সভাপতি সরকার ফারহানা আখতার সুমি। তিনি এখন মুক্তিযোদ্ধা সন্তান কমান্ডের কেন্দ্রীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক। তরুণ এ নেত্রী মনোনয়নপ্রত্যাশী হিসেবে এলাকায় প্রচার-প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছেন। নিজের মনোনয়ন নিয়ে শতভাগ আশাবাদী ফারহানা আখতার সুমি। তিনি নেতা নন সেবক সেবক হয়ে জনগণের পাশে দাঁড়াতে চান উল্লেখ করে সুমি বলেন, ‘আমি নির্বাচিত হলে এলাকাতেই কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করব, যাতে কাজের জন্য এলাকা ছাড়তে না হয়। এ জন্য এলাকায় নদীকেন্দ্রিক বিনোদন কেন্দ্র স্থাপনসহ বাঁশ ও বালুনির্ভর শিল্প-কারখানা গড়ে তুলব। ঢাকাটাইমস
যুক্তফ্রন্টের মাহীকে নিয়ে বিএনপিতে অসন্তোষ
অনলাইন ডেস্ক: আওয়ামী লীগবিরোধী জাতীয় ঐক্যের কাঠামো গঠন হওয়ার আগেই যুক্তফ্রন্টের মাহী বি চৌধুরীকে নিয়ে বিএনপিতে অসন্তোষ তৈরি হয়েছে। বিএনপি মনে করছে, যুক্তফ্রন্টের এই নেতা যে ভাষায় কথা বলছেন, তাতে মনে হয় বিএনপি তাদের চেয়ে ছোট দল। তবে এক যুগ ধরে রাষ্ট্রীয় ক্ষমতা কাঠামোর বাইরে থাকা বিএনপির শীর্ষ পর্যায় থেকে ঐক্যের স্বার্থে প্রকাশ্যে কোনো প্রতিক্রিয়া জানানো হচ্ছে না। এই পরিস্থিতির মধ্যে আজ শনিবার রাজধানীতে ঐক্য প্রক্রিয়ার সমাবেশ রয়েছে যেখানে বিএনপির উপস্থিতির আশা করছে আয়োজকরা। গণফোরাম সভাপতি কামাল হোসেনের নেয়া এই উদ্যোগে আগেই সমর্থন জানিয়েছে যুক্তফ্রন্ট। আর তারা এই আয়োজনে আসবে, সেটা আগেই জানানো হয়েছে। এই আয়োজনের আগের দিন বিকালে যুক্তফ্রন্টের চেয়ারম্যান সাবেক রাষ্ট্রপতি এ কিউ এম বদরুদ্দোজা চৌধুরীর বাসায় যান বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরসহ তিন নেতা। সেখানেও মাহী তাদেরকে ঐক্যের জন্য নানা শর্তের কথা জানিয়ে দেন। বি. চৌধুরী নামে পরিচিত বদরুদ্দোজা চৌধুরী বিএনপিরই প্রতিষ্ঠাকালীন সদস্য ছিলেন। আর ২০০১ সালের জাতীয় নির্বাচনের পর বিএনপি তাকে রাষ্ট্রপতি বানালে তার ছেড়ে দেয়া আসনে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন মাহী। পরে বি চৌধুরীকে বিএনপি অসম্মানজনকভাবে রাষ্ট্রপতির পদ ছাড়তে বাধ্য করলে সংসদ সদস্য পদ ছাড়েন মাহীও। আর বি চৌধুরী ২০০৪ সালে নিজের দল বিকল্পধারা গঠন করেন। এই বিকল্প ধারার সঙ্গে আ স ম আবদুর রবের নেতৃত্বে জেএসডি এবং আওয়ামী লীগ থেকে বের হয়ে গঠন করা মাহমুদুর রহমান মান্নার নাগরিক ঐক্য মিলে গঠন হয়েছে যুক্তফ্রন্ট। তৃতীয় শক্তি হওয়ার ঘোষণা দেয়া এই ফ্রন্ট আবার বিএনপিক সঙ্গে ঐক্যের আলোচনায়। এই ফ্রন্টের সঙ্গে ড. কামাল হোসেনের গণফোরাম আবার গঠন করেছে ঐক্য। এদের সঙ্গে বিএনপি জোট করতে চায় যার নাম দেয়া হয়েছে জাতীয় ঐক্য। কিন্তু যুক্তফ্রন্ট এই সুযোগে এমন সব শর্ত দিচ্ছে, এমন দাবি তুলছে যা বিএনপির পক্ষে মানা অস্বস্তিকর। তিনশ আসনের মধ্যে তাদেরকে ছেড়ে দিতে হবে ১৫০ আসন আবার দুই বছরের জন্য প্রধানমন্ত্রিত্বও চায় তারা। যুক্তফ্রন্টের নানা দাবির মধ্যে বিশেষ করে মাহী বি চৌধুরী সামাজিক মাধ্যম এবং বিভিন্ন গণমাধ্যমে যে ভাষায় কথা বলছেন, সেটি নিয়ে আপত্তি আছে বিএনপির নেতাদের মধ্যে। এতদিন এসব প্রকাশ না করলেও ইদানীং বিভিন্ন গণমাধ্যমে বিএনপির নেতারা আকার ইঙ্গিতে বিরক্তি প্রকাশ করছেন। ঐক্যের আলোচনায় ১৫০ আসনে ছাড় দেয়ার শর্ত প্রথম তুলেছিলেন মাহীই। আর এরপর জামায়াত থাকলে ঐক্য নয়- এমন গণফোরামের সভাপতি কামাল হোসেনের পর সবচেয়ে বেশি বলছেন মাহী। তবে মাহী জামায়াতের সঙ্গে এর আগে মিশেছেন, তার নির্বাচনের সময় জামায়াতের সহযোগিতা নিয়েছেন। যুদ্ধাপরাধী জামায়াত নেতা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর ছেলে শামীম সাঈদীর সঙ্গে তার ঘনিষ্ঠ মুহূর্তের ছবি ফেসবুকেই ঘুরে বেড়াচ্ছে। আবার ফেসবুকে ছড়ানো এক ভিডিওতে মাহী প্লান বির যে কথা বলেছেন তা নিয়েও বিএনপিতে আছে সমালোচনা। আবার তিনি বিএনপি ও ছাত্রদলসহ অঙ্গ সংগঠনের সমালোচনাও করেছেন। গত ৩১ আগস্ট তরুণদের জন্য প্লান বি তুলে ধরতে গিয়ে মাহী বলেন,সারাদেশের সবগুলো বাসস্ট্যান্ড,রাস্তার টোল,ঘাট, কখনও ছাত্রদল কখনও ছাত্রলীগ সেটা দখল করে। যেসব বাজার তা কখনও ছাত্রলীগ আবার কখনও ছাত্রদলের কাছে ইজারা দেয়া হয়। তবে এসব বিষয়ে দলটির শীর্ষ নেতারা কৌশলী হলেও তৃণমূল এবং অঙ্গ সংগঠনের নেতাকর্মীরা প্রকাশ্যেই ক্ষোভ প্রকাশ করছেন। নেতাকর্মীদের দাবি, মাহী বি চৌধুরীর কথাবার্তা বিএনপিকে অবমূল্যায়ন করার শামিল। ঐক্যের ক্ষেত্রে বিকল্প ধারার এমন বক্তব্যের পেছনে অন্য রহস্য আছে বলেও মনে করছেন কেউ কেউ। বিএনপি নেতাকর্মীরা বলছেন,বিকল্প ধারার মহাসচিব আব্দুল মান্নানসহ কয়েকজনের সরকারদলীয় লোকদের সঙ্গে ব্যবসা বাণিজ্য রয়েছে। সেগুলো টিকিয়ে রাখতে ঐক্যকে বাধাগ্রস্ত করতে এসব কথা বলা হচ্ছে। নেতাকর্মীরা জানান,বিএনপির নমনীয়তার সুযোগে অবাস্তব সব দাবি করেছে নামসর্বস্ব দলগুলো।যা বিএনপির জন্য বিব্রতকর। বিএনপির নির্বাহী কমিটিতে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে আছেন এমন একজন নেতা ঢাকাটাইমসকে বলেন, বিকল্প ধারা বলেন আর যুক্তফ্রন্ট বলেন এদের বাদ দিয়ে ঐক্য হলে ভালো হয়।কারণ রাজনীতিতে তাদের যে অবস্থান তাতে ঐক্যে না আসলে খুব ক্ষতি হবে এমনটা না। বিএনপির সহ তথ্য-গবেষণা সম্পাদক আমিরুজ্জামান খান শিমুল বলেন, মাহী বি চৌধুরী তার প্লান বিতে ছাত্রদল আর ছাত্রলীগকে এক করে দিয়েছেন। আমাদের সামনে এখন বড় চ্যালেঞ্জ নেত্রীর মুক্তি। সেখানে তিনি বলছেন, আসন ভাগাভাগির কথা এটা ঠিক না। আর ছেলের (মাহী) কারণে তার বাবাকেও (বি. চৌধুরী) জোটের বাইরে রাখলে ভালো হবে। বিএনপির সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক শহিদুল ইসলাম বাবুল বলেন,বিকল্প ধারার নেতারা যখন বিএনপিতে ছিলেও তখন তো জোটে জামায়াত ছিল। তখন তো তারা জামায়াত নিয়ে আপত্তি জানাননি। স্বার্থের ক্ষেত্রে আঘাত লাগলে এমন বাহানা অনেকেই শুরু করেন। রাজশাহীর সাবেক মেয়র ও মহানগর বিএনপির সভাপতি মোসাদ্দেক হোসেন বুলবুল ঢাকাটাইমসকে বলেন,তারা (যুক্তফ্রন্ট) যদি নিজেদের ওয়েট (ওজন) না বোঝে তাহলে কেমনে হবে? এখন হয়তো একজন বলবে আমি পতাকা উত্তোলন করছি আমি উপ-প্রধানমন্ত্রী হব তাহলে কী হবে? পলিটিক্সে ইগো থাকলে হবে না। বিএনপির নির্বাহী কমিটির সদস্য নিপুন রায় ঢাকাটাইমসকে বলেন, জাতীয় ঐক্য খুবই জরুরি। এই ঐক্যের মাহী যে বক্তব্য দিয়েছেন তা তার একক এবং স্ববিরোধী বক্তব্য। তিনি বলেছেন, জামায়াতের জোটে আসার সময় তাতে স্বাক্ষর করা তার বাবার বড় ভুল ছিল। তাহলে ২০০২ সালে উপনির্বাচনে যখন মাহী এমপি ছিলেন তখন তিনি দুধের শিশু ছিলেন? তার তো তখন ভালোমন্দ বোঝার বয়স হয়েছিল। তখন তিনি জামায়াত নিয়ে কোনো প্রতিবাদ করেননি কেন? বিএনপির পাশাপাশি ২০ দলের শরিকরাও যুক্তফ্রন্টের শর্ত নিয়ে নাখোশ। এলডিপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব শাহাদাত হোসেন সেলিম ঢাকাটাইমসকে বলেন, খালেদা জিয়া কারাগারে। তার মুক্তির দাবি করে একটি কথাও বলেননি ঐক্য প্রক্রিয়ার নেতারা। অথচ তারা বিএনপির সমর্থনে প্রধানমন্ত্রিত্ব চান। এটা অবান্তর। বিএনপির একটি দলের মহাসচিব নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, যে চার দল যুক্তফ্রন্ট গড়ে ১৫০ আসন ও দুই বছরের জন্য সরকার গঠনের সুযোগ দাবি করছে, তাদের একটি আসনেও নিজ দল থেকে ভোট করে জয়ী হওয়ার ক্ষমতা নেই। ঢাকাটাইমস
আজ খালেদার অনুপস্থিতিতে বিচার প্রশ্নে আদেশ
অনলাইন ডেস্ক: বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার অনুপস্থিতে বিচার চলবে কি না আর তিনি জামিনে থাকবেন কি না এ বিষয়ে আদেশ দেয়া হবে আজ বৃহস্পতিবার। ঢাকা বিশেষ জজ আদালতের বিচারক বিচারপতি ড. আখতারুজ্জামান শুনানি শেষে গত বৃহস্পতিবার আদেশের জন্য আজকের দিন ধার্য করেন। সেদিন সাবেক প্রধানমন্ত্রীর পক্ষে আদালতে শুনানি করেন সানাউল্লাহ মিয়া ও মাসুদ আহম্মেদ তালুকদার। অন্যদিকে দুদকের পক্ষে ছিলেন মোশাররফ হোসেন কাজল। আরেক আসামি জিয়াউল ইসলামের আইনজীবী আমিনুল হক এ বিচার কার্যক্রম আইনসম্মত নয় উল্লেখ করে মামলার কার্যক্রম এক মাসের জন্য স্থগিত চেয়ে আবেদন করেন। নাজিমউদ্দিন রোডে ঢাকার পুরনো কেন্দ্রীয় কারাগারে স্থাপিত আদালতে জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট মামলায় যুক্তি উপস্থাপনের দিন ধার্য ছিল গত ১২ সেপ্টেম্বর। তবে খালেদা জিয়া আদালতে উপস্থিত না হওয়ায় কাস্টডি প্রতিবেদন পাঠায় কারা কর্তৃপক্ষ। এছাড়া খালেদা জিয়ার আইনজীবী সানাউল্লাহ মিয়া তার জামিনের মেয়াদ বৃদ্ধির জন্য আবেদন করেন। অন্যদিকে জামিনের মেয়াদ বৃদ্ধির বিরোধিতা করে শুনানি করেন দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) আইনজীবী মোশারফ হোসেন কাজল। এমন অবস্থায় গত বৃহস্পতিবার পর্যন্ত আদালত মুলতবি করেছিলেন বিচারক। গত ১ ফেব্রুয়ারি এই মামলায় আসামি জিয়াউল হক মুন্নার পক্ষে যুক্তি উপস্থাপন শেষে ২৫ ও ২৬ ফেব্রুয়ারি শুনানির পরবর্তী দিন নির্ধারণ করা হয়। কিন্তু ৮ ফেব্রুয়ারি জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতির মামলায় দণ্ডের পর বিএনপি নেত্রী কারাগারে যাওয়ার সেই শুনানি আর হয়নি। এরপর শুনানির জন্য নির্দিষ্ট একাধিক দিন বিএনপি নেত্রী হাজিরা দেননি অসুস্থতার কারণ দেখিয়ে। এই মামলায় তার পক্ষে যুক্তি উপস্থাপন শেষেই আসার কথা ছিল রায়। কিন্তু শুনানি হতে না পারায় মামলাটি ঝুলে যায় আর বাদী দুর্নীতি দমন কমিশনের আবেদনে কারাগারেই আদালত নেয়ার সিদ্ধান্ত হয়। গত ৪ সেপ্টেম্বর আইন মন্ত্রণালয় থেকে প্রজ্ঞাপন জারি হলে ৫ সেপ্টেম্বর কারাগারে বসে সেই আদালত। হুইল চেয়ারে করে আসেন বিএনপি নেত্রী। কিন্তু সেদিন খালেদা জিয়া বিচারককে বলেন, ‘আপনার যা ইচ্ছা আমাকে সাজা দিন। আমি আর আসতে পারব না। আমার শরীর অনেক খারাপ। মেডিকেল রিপোর্ট দেখলে আপনারা বুঝতে পারতেন। এই আদালতে ন্যায়বিচারও হবে না।’সেদিনের শুনানি শেষে ১২ ও ১৩ সেপ্টেম্বর পরবর্তী শুনানির তারিখ নির্ধারিত হয়। গত ৫ সেপ্টেম্বরের শুনানিতে খালেদা জিয়া উপস্থিত থাকলেও যাননি তার আইনজীবীরা। তবে গতকাল বিএনপি নেত্রী না এলেও উপস্থিত হন তার আইনজীবীরা। জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতির মামলার মতোই চ্যারিটেবল ট্রাস্ট দুর্নীতির মামলা চলছে বিচারক আখতারুজ্জামানের আদালতে। এর মধ্যে অরফানেজ ট্রাস্ট মামলায় গত ৮ ফেব্রুয়ারি পাঁচ বছরের কারাদণ্ড এবং দুই কোটি ১০ লাখ টাকা জরিমানার আদেশ এসেছে খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে। জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট দুর্নীতির মামলাটিও অরফানেজ ট্রাস্ট মামলারই অনুরূপ। ট্রাস্টের নামে অবৈধভাবে তিন কোটি ১৫ লাখ ৪৩ হাজার টাকা লেনদেনের অভিযোগে ২০১১ সালের ৮ আগস্ট জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট মামলাটি করে দুদক। এতে ২০১২ সালের ১৬ জানুয়ারি আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল হয়। এরপর ২০১৩ সালের ১৯ মার্চ অভিযোগ গঠনের মধ্য দিয়ে ঢাকার বিশেষ জজ আদালতে তাদের বিচার শুরু হয়। মামলাটিতে খালেদা জিয়ার সঙ্গে তার সাবেক রাজনৈতিক সচিব হারিছ চৌধুরী এবং হারিছের তৎকালীন একান্ত সচিব (বর্তমানে বিআইডব্লিউটিএ এর নৌ নিরাপত্তা ও ট্রাফিক বিভাগের ভারপ্রাপ্ত পরিচালক) জিয়াউল ইসলাম মুন্না, ঢাকা সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র সাদেক হোসেন খোকার একান্ত সচিব মনিরুল ইসলাম খান আসামি।
আলোচনায় থাকলেও জনপ্রিয়তা নেই -তৃতীয় শক্তির
অনলাইন ডেস্ক: দুই প্রধান দল আওয়ামী লীগ ও বিএনপির বাইরে তৃতীয় শক্তির আলোচনা গণমাধ্যমে যত উঠে আসে, জনগণের মনে তা তত দাগ কাটে না। জাতীয় নির্বাচনগুলোর ফলাফল পর্যালোচনা করে এমন তথ্যই মিলেছে। ভোটের ফলগুলো বলছে, নতুন কোনো রাজনৈতিক শক্তি উঠেই আসতে পারেনি। আবার আওয়ামী লীগ সব সময় দুই প্রধান শক্তির একটি থেকেছে। আর তার প্রতিদ্বন্দ্বী ক্ষণে ক্ষণে পাল্টেছে। বর্তমানে বিএনপির সঙ্গে লড়াই হলেও এক সময় জাতীয় পার্টি ছিল সেই জায়গায়। ১৯৯০ সালে এরশাদের পতনের পর লড়াইটা আওয়ামী লীগ ও বিএনপির মধ্যেই স্থির থেকেছে। আর এদের বাইরে আলোচিত দুই দল জাতীয় পার্টি ও জামায়াতে ইসলামীর সমর্থনও কমার প্রমাণই মিলছে। আর বাম দলগুলো পুরোপুরি আবেদন হারিয়েছে। নিশ্চিহ্ন হয়ে গেছে এক সময়ের আলোচিত আরও বেশ কিছু দল। ২০০৮ সালে সবশেষ অংশগ্রহণমূলক নির্বাচনে আওয়ামী লীগ এবং বিএনপির নেতৃত্বাধীন জোটের বাইরে ভোট পড়েছে মাত্র ০.১ শতাংশ। এই ভোটের মধ্যে আবার ‘না’ ভোটও আছে। এই নির্বাচনে স্বতন্ত্র হিসেবে যেসব প্রার্থী কিছু ভোট পেয়েছেন, তারাও মূলত দুই প্রধান দলের মনোনয়নবঞ্চিত নেতা। এবারও জাতীয় নির্বাচনের আগে দুই প্রধান দল আওয়ামী লীগ ও বিএনপির বাইরে তৃতীয় শক্তি হওয়ার ঘোষণা দিয়ে রাজনীতিতে সক্রিয় হয়েছে যুক্তফ্রন্ট নামে তিন সংগঠনের জোট। তবে তারা বিএনপির সঙ্গে ঐক্যের আলোচনা করছে। এই আলোচনায় আবার ১৫০ আসন, দুই বছরের জন্য প্রধানমন্ত্রিত্বের মতো শর্ত দিচ্ছে। এর আগে বিশেষ করে সেনা সমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলে ২০০৭ এবং ২০০৮ সালে তৃতীয় শক্তির তুমুল আলোচনা ছিল। গ্রামীণ ব্যাংকের প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান ড. মুহম্মদ ইউনূস তার নাগরিক শক্তি নামে দল গঠনের চেষ্টা করেও ক্ষ্যান্ত দেন। তবে আরও কিছু দল তখন আলোচিত হয়ে উঠে যা কিংস পার্টি নামে পরিচিতি পায়। কিন্তু তারাও পরে হারিয়ে যায়। রাজনৈতিক পর্যবেক্ষক আফসান চৌধুরী ঢাকাটাইমসকে বলেন, যে যাই বলুক না কেন, আওয়ামী লীগ বিএনপির বাইরে মানুষ অন্য কাউকে পাত্তাই দেয় না। অন্য কারও কথা চিন্তাও করে না। তৃতীয় শক্তি হিসেবে যাদের কথা বলা হচ্ছে তাদের কোনো জনপ্রিয়তাই নেই। তারা সবাই প্রাক্তন। ‘আওয়ামী লীগ-বিএনপির বাইরে যারা তৃতীয় শক্তি হওয়ার উদ্যোগ নিচ্ছে তাদেরকে মানুষ কখনও সিরিয়াসভাবে নেয় না। কারণ, তাদের কোনো জনভিত্তি নেই। তাদের জনসম্পৃক্ত হওয়ার চেষ্টাও নেই।’ সম্প্রতি আলোচিত হয়ে উঠা কয়েকজনের বিষয়ে এই বিশ্লেষক বলেন, ‘বি. চৌধুরী, কামাল হোসেন, আ স ম আবদুর রব, জাফরুল্লাহ- এদের বয়স ৮০-৯০ হয়ে গেছে, সাম্প্রতিক নেতা হিসেবে তাদের আর কোনো প্রভাব নেই। তাদের কিছুটা জনইমেজ আছে কিন্তু কোনো জনসমর্থন নেই।’ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক শান্তনু মজুমদার বলেন, ‘দেশের দুই বড় দলের বাইরে উত্তম বিকল্প এখনো তৈরি হয়নি। যে কারণে তারা জনপ্রিয় হয়ে উঠছে না। আমরা যে যাহাই বলি না কেন-আমাদের দেশের প্রেক্ষাপটে বড় দুই দলের প্রতিই সাধারণ মানুষের আকর্ষণ বেশি। যতক্ষণ না উত্তম বিকল্প তৈরি না হবে সে সময় পর্যন্ত শুধু তত্ত্বগতভাবে বিকল্প শব্দটি বলা যাবে, বাস্তবতায় নয়।’ ভোটের ফল কী বলছে বাংলাদেশের প্রথম সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগ ৭৩.২ শতাংশ ভোট পেয়ে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা পায়। বিরোধী দল হিসেবে জাতীয় আওয়ামী পার্টি (মোজাফফর) ৮.৩ শতাংশ, জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল জাসদ ৬.৫ শতাংশ, জাতীয় আওয়ামী পার্টি (ভাসানী) ৫.৩ শতাংশ, বামপন্থীদের জোট ১.১ শতাংশ এবং স্বতন্ত্র প্রার্থীরা ৫.৩ শতাংশ ভোট পান। অর্থাৎ তখনও স্বাধীনতার নেতৃত্ব দেয়া দল আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে কার্যযত কোনো বিরোধী দল গড়ে উঠেনি। তবে ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে সপরিবারে হত্যার পর জিয়াউর রহমান সেনাপ্রধান থাকা অবস্থায় রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় এসে প্রতিষ্ঠা করেন তার দল বিএনপি। আর ১৯৭৯ সালের দ্বিতীয় সংসদ নির্বাচনে সেই দলটি ৪১.২ শতাংশ ভোট পায়। ২৪.৫ শতাংশ ভোট নিয়ে প্রধান বিরোধী দল হয় আওয়ামী লীগ। মিজানুর রহমানের নেতৃত্বে আওয়ামী লীগের আরেক অংশ পায় ২.৮ শতাংশ ভোট। এর বাইরে মুসলিম লীগ ১০.১ শতাংশ, জাসদ ৪.৮ শতাংশ, কমিউনিস্ট পার্টি ৪.৮ শতাংশ, জাতীয় আওয়ামী পার্টি ২.২ শতাংশ, স্বতন্ত্র প্রার্থীরা ১০.২ শতাংশ ভোট পায়। ১৯৮৬ সালে তৃতীয় সংসদ নির্বাচনেও সেনা শাসক হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের জাতীয় পার্টি ও আওয়ামী লীগের বাইরে জামায়াত ৪.৬ শতাংশ, জাসদের দুই অংশ ৩.৪, মুসলিম লীগ ১.৪, জাতীয় আওয়ামী পার্টির দুই অংশ ২ শতাংশ, এবং স্বতন্ত্র প্রার্থীরা ১৬.৩ শতাংশ ভোট পান। জিয়াউর রহমানের পথ ধরেই সেনাপ্রধান থাকাকালে হুসেইন এরশাদ ক্ষমতা দখল করে নিজের দল জাতীয় পার্টি গঠন করেন। আর ১৯৮৬ সালে প্রথমবার অংশ নিয়েই জিতে যায় দলটি। প্রশ্নবিদ্ধ এই নির্বাচনে দলটির বাক্সে ৪২.৩ শতাংশ ভোট পরে বলে নির্বাচন কমিশনে তথ্য রয়েছে। এই নির্বাচন বিএনপি বর্জন করে। আর আওয়ামী লীগ ২৬.২ শতাংশ ভোট পায়। মুক্তিযুদ্ধের সময় পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর পক্ষে অস্ত্র ধরা জামায়াতে ইসলামী জিয়াউর রহমানের আমলে রাজনীতি করার সুযোগ পেয়ে এই নির্বাচনেই প্রথম দাঁড়ায়। তারা ৪.৬ শতাংশ ভোট পায়, আসন পায় চারটি। ১৯৮৮ সালে আরও একটি জাতীয় নির্বাচন হয় যেটি আওয়ামী লীগ, বিএনপিসহ মূলধারার বেশিরভাগ দলই বর্জন করে। জামায়াতও যায়নি ওই নির্বাচনে। এরশাদ সরকারের পতনের পর ১৯৯১ সালের জাতীয় নির্বাচনে জাতীয় পার্টি আসনের দিক থেকে তৃতীয় হয়। তবে ভোট সংখ্যার দিক দিয়ে তাদের অবস্থান ছিল চতুর্থ। জাতীয় পার্টি ওই বছর আসন পায় ৩৫টি, আর ভোট পায় ১১.৯ শতাংশ। আরেক আলোচিত দল জামায়াতে ইসলামী আসন পায় ১৮টি, আর তাদের ভোট ছিল ১২.১ শতাংশ। বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি তখন নৌকা প্রতীক নিয়ে ১.২ শতাংশ ভোট পায়। স্বতন্ত্র প্রার্থীরা ভোট পান ৪.৪ শতাংশ। কোনো আসন পায়নি, এমন ৬৩টি অন্যান্য দল ভোট পাঢ ৪.৯ শতাংশ। ১৯৯৬ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারি বিএনপি একতরফা নির্বাচন করে দুই মাসের মধ্যে পদত্যাগ করে এবং ওই বছরের জুনে আরও একটি নির্বাচন হয়। আগের নির্বাচনের তুলনায় সে সময় আওয়ামী লীগ ও বিএনপি ভোট বেশি পেলেও কমেছে জামায়াতের। প্রায় চার শতাংশ কমে তাদের ভোট সংখ্যা দাঁড়ায় ৮.৬ শতাংশ। আর আসন ১৫টি কমে হয় তিন শতাংশ। এই নির্বাচনে জাতীয় পার্টি আগেরবারের চেয়ে বেশি ভোট পেলেও তাদের আসন সংখ্যা কমে অর্ধেক হয়ে যায়। ১৬.৪ শতাংশ ভোট পেয়ে তারা আসন পায় ৩২টি। এ নির্বাচনে কমিউনিস্ট পার্টি কোনো আসন পায়নি আর তাদের ভোটের সংখ্যা ছিল অনুল্লেখযোগ্য। আসন পায়নি এমন ৭৪টি দল মিলে ভোট পায় ১.৬ শতাংশ। স্বতন্ত্র প্রার্থীর ভোট সংখ্যাও কমে হয় ১.১ শতাংশ। ২০০১ সালে জাতীয় পার্টি এবং জামায়াতে ইসলামী-ভোট কমে দুই দলেররই। লাঙ্গল প্রতীকে তখন ভোট পড়ে ৭.২২ শতাংশ, আসন ১৮টি কমে হয় ১৪টি। আর জামায়াতের ভোট আরও প্রায় চার শতাংশ কমে হয় ৪.২৮ শতাংশ। তবে বিএনপির সঙ্গে জোটবদ্ধ হওয়ার সুফল পায় দলটি, তাদের আসন ১৪টি বেড়ে হয় ১৭টি। আসন পায়নি এমন দল এবং স্বতন্ত্র প্রার্থী মিলে ভোট পায় ৪.০৬ শতাংশ। পরের নবম সংসদ নির্বাচনে জাতীয় পার্টির ভোট আরও খানিকটা কমে ৭ শতাংশে দাঁড়ায়। তবে আওয়ামী লীগের সঙ্গে জোট করার সুফল পায় তারা। আসন সংখ্যা বেড়ে হয় ২৭টি। জামায়াতের ভোট এই নির্বাচনে সামান্য বেড়ে হয় ৪.৬ শতাংশ। তবে আসন সংখ্যা ১৫টি কমে হয় দুইটি। দুই দলের মনোনয়নবঞ্চিত ‘স্বতন্ত্র’ প্রার্থীরা এই নির্বাচনে ভোট পায় মোট ৪.৯ শতাংশ। ছোটছোট অন্যান্য দলগুলো এই নির্বাচনে কার্যত নিশ্চিহ্ন হয়ে যায়। ‘না’ ভোট এবং অন্যান্য দল মিলে ভোট পায় ০.১ শতাংশ। ২০১৪ সালের দশম সংসদ নির্বাচন বিএনপি-জামায়াতের নেতৃত্বে ২০ দলীয় জোট বর্জন করে এবং সেখানে সহজ জয় পায় আওয়ামী লীগ। তবে এই নির্বাচনে আওয়ামী লীগ ও জাতীয় পার্টির বাইরে মনোনয়নবঞ্চিত দুই দলের স্বতন্ত্র প্রার্থীরা বেশ কিছু আসনে উল্লেখ করার মতো ভোট পেয়েছেন।
উঠানামা করে বিএনপির ভোট
নলাইন ডেস্ক: বিভিন্ন জাতীয় নির্বাচনে ভোটের তথ্য বলছে, দেশের দুই প্রধান দলের মধ্যে বিএনপি ভোট উঠানামা করে। দুটি জাতীয় নির্বাচনে তাদের ভোট আগেরবারের চেয়ে বাড়লেও দুটি নির্বাচনে কমেছে উল্লেখযোগ্য হারে। এমনও দেখা গেছে, আগের চেয়ে বেশি ভোট পেয়েও বিএনপি জাতীয় নির্বাচনে হেরেছে আবার আগের চেয়ে কম ভোট পেয়েও জিতেছে। অন্যদিকে বিএনপির প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী আওয়ামী লীগের ভোট ১৯৭৯ সালের পর থেকে ক্রমাগত বাড়ছে। কেবল অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন ধরলে বঙ্গবন্ধুকে হত্যার পর প্রথম নির্বাচনে তারা যত শতাংশ ভোট পেয়েছে তার তুলনায় শেষ অংশগ্রহণমূলক নির্বাচনে তাদের ভোট বেড়ে হয়েছে দ্বিগুণ। ১৯৭৯ সালে আওয়ামী লীগ ২৪.৫ শতাংশ ভোট পেলেও ২০০৮ সালে সবশেষ অংশগ্রহণমূলক নির্বাচনে নৌকা প্রতীকে ৪৯.৯ শতাংশ ভোট পড়ে। অন্যদিকে প্রতিষ্ঠার পর বিএনপি যত শতাংশ ভোট পেয়েছে, পরের চারটি অংশগ্রহণমূলক নির্বাচনে অংশ নিয়ে একবারই কেবল তারা সেই হারে ভোট পেয়েছে। বাকি তিনটি নির্বাচনেই ভোটের হার ছিল তার চেয়ে অনেক কম। বিএনপি ১৯৭৯ সাল প্রথমবার অংশ নিয়েই ৪১.২ শতাংশ ভোট পেয়েছিল। আর ২০০৮ সালে সবশেষ অংশগ্রহণমূলক নির্বাচনে তার চেয়ে দলটি ভোট কম পেয়েছে আট শতাংশ, অর্থাৎ ৩৩.২ শতাংশ ভোটারের পছন্দ ছিল ধানের শীষ। বিএনপিপন্থী বুদ্ধিজীবী এমাজউদ্দিন আহমেদ অবশ্য দুটি নির্বাচনে বিএনপির ভোট কমার বিষয়টি স্বীকার করতে চান না। তার দাবি, ২০০৮ সালে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে জাতীয় নির্বাচন সুষ্ঠু হয়নি। ফলে ওই নির্বাচনে কী হলো না হলো, সেটি ধরলে হবে না। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক এই উপাচার্য ঢাকাটাইমসকে বলেন, ২০০৮ সালে যে নির্বাচন হয়েছিল সেটা কোন নির্বাচনই ছিল? ওটা তো ভোটের বাক্সে ব্যালট পেপার ঢুকানোর ব্যাপার ছিল। শেখ হাসিনা যখন বলল আপনারা যা কিছু করবেন (তত্ত্বাবধায়ক সরকার) আমরা তার সবকিছুই সমর্থন করি এবং সংসদে সব পাস করে নেব, তারপরে সামরিক কর্মকর্তারা তাদের ক্ষমতায় বসিয়ে চলে গেল। তাই ওইটাকে নির্বাচন হিসাবে গণ্যই করা হয় না। ওই নির্বাচনকে বাদ দিলে দেখা যাবে বিএনপির ভোট ওঠানামা করে নাই, এটা বাড়তির দিকেই রয়েছে। ১৯৭৯ সালের তুলনায় ১৯৯১ সালে বিএনপির ১১ শতাংশ ভোট কমার বিষয়টি নিয়ে অবশ্য কোনো ব্যাখ্যা দেননি এই বুদ্ধিজীবী। আর বিএনপির জেতা ওই নির্বাচনের নিরপেক্ষতা নিয়ে তার মনে কোনো প্রশ্নও নেই। বিএনপিপন্থী আরেক বুদ্ধিজীবী জাফরুল্লাহ চৌধুরীকে বিএনপির ভোট উঠানামার তথ্য জানিয়ে এর কারণ জানতে চাইলে তিনি বলেন, অতীতে কী হয়েছে না হয়েছে সেটা ধরলে হবে না। তবে বাংলাদেশে আওয়ামী লীগ ও বিএনপি সমান সমান। তবে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের একজন অধ্যাপক নাম প্রকাশ না করার অনুরোধ করে বলেছেন, বিএনপি তার রাজনৈতিক আদর্শের বিষয়টি কখনও স্পষ্ট করতে পারেনি। জন্ম থেকেই তারা মূলত আওয়ামী লীগবিরোধী একটি মোর্চা। এর একটি বড় অংশ স্বাধীনতাবিরোধী মুসলিম লীগ থেকে এসেছে, একটি অংশ এসেছে ন্যাপ ভাসানী থেকে এবং একটি অংশ চীনপন্থী বামরা। এ কারণে তাদের কোনো সুনির্দিষ্ট কর্মসূচি নেই, লক্ষ্য উদ্দেশ্য নেই। এই দলটি তিনবার রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় এলেও তারা উদাহরণ তৈরির মতো কাজ করতে পেরেছে কমই। সুশাসনের দিক থেকেও তাদের সুনাম ছিল না। ফলে তারা সুবিধাভোগী কোনো জনগোষ্ঠী তৈরি করতে পারেনি-এমন মত দিয়ে ওই অধ্যাপক আরও বলেন, এখনও বিএনপি আওয়ামী লীগবিরোধী মোর্চার বাইরে নিজের অবস্থান করতে পারেনি। কোন নির্বাচনে কত ভোট ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে হত্যার পর সেনাশাসক জিয়াউর রহমান ক্ষমতায় বসেই প্রতিষ্ঠা করেন তার দল বিএনপি। আর ১৯৭৯ সালের প্রথম নির্বাচনেও বাজিমাত করেন তিনি। দ্বিতীয় সংসদ নির্বাচনে ৪১.২ শতাংশ ভোট এবং ২০৭ আসন পেয়ে প্রথমবারের মতো সরকার গঠন করে বিএনপি। তবে ওই সরকার তার পাঁচ বছরের মেয়াদ পূরণ করতে পারেনি। ১৯৮১ সালে জিয়াউর রহমান এক ব্যর্থ অভ্যুত্থানে নিহত হওয়ার পর নির্বাচিত রাষ্ট্রপতি আবদুস সাত্তারকে হটিয়ে ১৯৮২ সালে ক্ষমতা দখল করেন আরেক সেনাপ্রধান হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ। সেনাশাসক এরশাদ ১৯৮৬ এবং ১৯৮৮ সালে নির্বাচন দিলে তাতে অংশ নেয়নি বিএনপি। ১৯৯০ সালে এরশাদের পতনের পরের বছরের নির্বাচনেও রায় আসে বিএনপির পক্ষেই। তবে আগের নির্বাচনের তুলনায় ওই নির্বাচনে দলটির ভোট কমে প্রায় ১১ শতাংশ। পঞ্চম সংসদ নির্বাচনে বিএনপির প্রতীক ধানের শীষের পক্ষে রায় দেয় ভোটারদের ৩০.৮১ শতাংশ। প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী আওয়ামী লীগের নৌকা যত ভোট পেয়েছে, তত ভোটও না পেয়েও ক্ষমতায় আসে বিএনপিই। ওই নির্বাচনে নৌকার পক্ষে ভোট পড়ে মোট ৩১.৩ শতাংশ ভোট। তবে ০.৫ শতাংশ ভোট কম পেয়েও বিএনপি যেখানে ১৪০টি আসন পায়, সেখানে নৌকা প্রতীকে জেতেন আওয়ামী লীগের ৮৮ এবং বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি-সিপিবির পাঁচ জন সংসদ সদস্য। ১৯৯৬ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারির ষষ্ঠ সংসদ নির্বাচন আওয়ামী লীগ, জাতীয় পার্টিসহ বিরোধী দলগুলো বর্জন করে। আর বিএনপি এককভাবে নির্বাচন করে। কিন্তু তখন সব কটি আসনে ভোট করা যায়নি। আর ২১ শতাংশ ভোট পড়েছে বলা হলেও বিএনপি বা অন্য কোন দল কত ভোট পেয়েছে, সেই পরিসংখ্যান নেই নির্বাচন কমিশনে। তবে ওই সরকার দুই মাসও টিকতে পারেনি। আর আন্দোলনের মুখে বিএনপি সরকার পদত্যাগ করে ওই বছরেরই জুনে আরেকটি নির্বাচন দেয়, যেখানে দলটি হেরে যায়। তবে ১৯৯১ সালের অংশগ্রহণমূলক নির্বাচনের তুলনায় ৯৬ এর জুনের নির্বাচনে বিএনপি ভোট বাড়ে। তখন ভোটারদের ৩৩.৬ শতাংশের পছন্দ ছিল ধানের শীষ। ১৯৯১ সালের তুলনায় ২.৮ শতাংশ ভোট বেশি পেলেও এই নির্বাচনে বিএনপির আসন কমে ২৪টি। ১১৬টি আসন পেয়ে দেশের ইতিহাসে সর্ববৃহৎ বিরোধী দল হয় বিএনপি। অবশ্য এই নির্বাচনে আগেরবারের তুলনায় ৬.১৪ শতাংশ ভোট বাড়ে আওয়ামী লীগের। ২০০১ সালে পরের নির্বাচনেও বিএনপির ভোট বৃদ্ধির ধারা অব্যাহত থাকে। এই নির্বাচনে ৪১.৪ শতাংশ ভোট পায় বিএনপি। আসন পায় ১৯৩টি। দলটির চেয়ে ১.৩৮ শতাংশ ভোট কম পেয়ে প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী আওয়ামী লীগ আসন কম পায় ১৩১টি। তারা জেতে ৬২টি আসনে। অর্থাৎ প্রতিষ্ঠার পর বিএনপি ২০০১ সালে সর্বোচ্চ হারে ভোট পেয়েছে। তবে সেটি তাদের প্রথম নির্বাচনের তুলনায় খুব বেশি নয়। এরপরের নির্বাচনেও আবার ছন্দপতন ঘটে বিএনপির। প্রথমবারের তুলনায় দ্বিতীয়বারের নির্বাচনে যেমন তাদের প্রায় ১১ শতাংশ ভোট কমে, তেমনি বিএনপির অংশ নেয়া চতুর্থবারের তুলনায় পঞ্চমবারেও তাদের ভোট কমে যায় আট শতাংশ। ২০০৮ সালের নবম সংসদ নির্বাচনে বিএনপির পছন্দ ছিল ভোটারদের ৩৩.২ শতাংশ। আর ভোট কমার পাশাপাশি তাদের আসনও কমে ১৬৩টি। মাত্র ৩০টি আসন নিয়ে ইতিহাসের সবচেয়ে বাজে ফল করে দলটি। পরের জাতীয় নির্বাচনে তারা আসেনি। চতুর্থ এবং পঞ্চম সংসদ নির্বাচনের মতোই ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারির দশম সংসদ নির্বাচনও বর্জন করে বিএনপি। ঢাকাটাইমস

রাজনীতি পাতার আরো খবর