খালেদাকে মুক্ত করা সম্ভব নয় আদালতের মাধ্যমে: ড. মোশাররফ
আদালতের মাধ্যমে বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে মুক্ত করা সম্ভব নয় বলে মন্তব্য করেছেন দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন। মঙ্গলবার রাজধানীর ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন মিলনায়তনে এক আলোচনা সভায় তিনি এমন মন্তব্য করেন। বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৩৭তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে এই আলোচনা সভার আয়োজন করে বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটি। ড. মোশাররফ বলেন, আওয়ামী স্বৈরাচার সরকারের পতনের মাধ্যমে খালেদা জিয়াকে মুক্ত করতে হবে। কারণ খালেদা জিয়ার মুক্তি নিয়ে আদালতের মাধ্যমে সরকার সময়ক্ষেপণ করছে। তিনি বলেন, এ সরকারের আমলে আইন-আদালতের মাধ্যমে খালেদা জিয়াকে মুক্ত করা সম্ভব নয়। আর এজন্য আমরা যে ধরনের আন্দোলন করছি, আগামীতে এ ধরনের কর্মসূচিতে সীমাবদ্ধ থাকব না। বিএনপির জ্যেষ্ঠ এ নেতা বলেন, ‘যে ধরনের কর্মসূচিতে একটি স্বৈরাচার সরকারের পতন হয়, আগামীতে সেই ধরনের কর্মসূচি নিয়ে জনগণের দল হিসেবে বিএনপি মাঠে থাকবে। সামনের দিনে আন্দোলন কর্মসূচির ধরন পরিবর্তন হবে।’ বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের সভাপতিত্বে আলোচনা সভায় আরও বক্তব্য দেন- দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, ড. আবদুল মঈন খান, নজরুল ইসলাম খান, ভাইস চেয়ারম্যান সেলিনা রহমান, মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমেদ প্রমুখ। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন বিএনপির প্রচার সম্পাদক শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানি।
আন্দোলনের মাধ্যমে খালেদার মুক্তির ঘোষণা বিএনপির
আন্দোলনের মাধ্যমে দলের চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে মুক্ত করার ঘোষণা দিয়েছে বিএনপি। দলটির নেতারা বলেছেন, আইন ও আদালতের মাধ্যমে খালেদা জিয়ার মুক্তি সম্ভব নয়। দুর্বার গণআন্দোলনের মাধ্যমে বিএনপি চেয়ারপারসনকে মুক্ত করতে হবে। এই আন্দোলনে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ারও আহ্বান জানান নেতারা। মঙ্গলবার রাজধানীর ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিইশন মিলনায়তনে এ আলোচনা সভায় বিএনপির নেতারা এ আহ্বান জানান। দলের প্রতিষ্ঠাতা প্রয়াত প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৩৭তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষ্যে এ আলোচনা সভার আয়োজন করে বিএনপি। সভাপতির বক্তব্যে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, আমাদের মনে রাখতে হবে, গণতন্ত্রের নেত্রী, যিনি বাংলাদেশের স্বাধীনতা সার্বভৌমত্বকে সমুন্নত রেখেছেন, দীর্ঘ ৯ বছর স্বৈরাচারের বিরুদ্ধে সংগ্রাম করেছেন; সেই নেত্রীকে আজকে কারারুদ্ধ করে রেখেছে। যারা জিয়াউর রহমানকে হত্যা করেছিল তারাই আজকে আবার দেশনেত্রী খালেদা জিয়াকে কারাগারে রেখেছে। তিনি বলেন, খালেদা জিয়াকে কারাগারে রেখে দেশের মানুষের সমস্ত অধিকারগুলোকে হরণ করে নিয়েছে সরকার। সেই জন্য সবাইকে জেগে উঠতে হবে। নতুন করে শপথ নিতে হবে, গণতন্ত্র ও মানুষের অধিকারগুলো ফিরিয়ে আনার জন্য সকলকে ঐক্যববদ্ধ হতে হবে। দুর্বার গণআন্দোলনের মধ্য দিয়ে দেশনেত্রীকে মুক্ত করে আনতে হবে। সেই আন্দোলনে অবশ্যই সবাই সম্পৃক্ত করতে হবে। তিনি বলেন, খালেদা জিয়াকে ছাড়া বিএনপি নির্বাচনে যাবে না, দেশে কোনো নির্বাচন হবে না। অবশ্যই তাকে মুক্তি দিতে হবে। বিএনপির মহাসচিব বলেন, আজকে পরিষ্কার ভাষায় বলতে চাই, একদলীয় নির্বাচনে মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠা হবে না। সেই জন্যই বলছি, সবার আগে দেশনেত্রী খালদা জিয়াকে মুক্তি দিতে হবে। সরকারকে পদত্যাগ ও নির্বাচনে সেনাবাহিনী মোতায়েন করতে হবে। একই সঙ্গে নির্বাচন কমিশনকে পুনর্গঠন করাও দাবি জানান মির্জা ফখরুল। আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন বলেন, আওয়ামী স্বৈরাচার সরকারের পতনের মাধ্যমে খালেদা জিয়াকে মুক্ত করতে হবে। কারণ খালেদা জিয়ার মুক্তি নিয়ে আদালতের মাধ্যমে সরকার সময়ক্ষেপন করছেন। তাই এ সরকারের আমলে আইন আদালতের মাধ্যমে খালেদা জিয়াকে মুক্ত করা সম্ভব নয়। আর এ জন্য আমরা যে ধরনের আন্দোলন করছি। আগামীতে এ ধরনের কর্মসূচিতে সীমাবদ্ধ থাকবে না। তিনি বলেন, আগামীতে যে ধরনের কর্মসূচিতে একজন স্বৈরচার সরকারের পতন হয়, সেই ধরনের কর্মসূচি নিয়ে জনগণের দল হিসেবে বিএনপি মাঠে থাকবে। সামনের দিনে আন্দোলনের কর্মসূচির ধরণ পরিবর্তন হবে। দলের স্থায়ী কমিটির আরেক সদস্য ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ বলেন, আগামী নির্বাচনের আগে খালেদা জিয়ার মুক্তি নিশ্চিত করতে হবে। তার মুক্তি ছাড়া কোনো নির্বাচন এদেশে হতে দেয়া হবে না। তিনি বলেন, সব রাজনৈতিক দল ও সংগঠনকে ঐক্যবদ্ধ করা ছাড়া আন্দোলনের জন্য রাস্তা নেমে কোনো লাভ হবে না। জাতীয় ঐক্য সৃষ্টি হলে গণআন্দোলন হবে দেশে। আর গণআন্দোলনের মুখে এ সরকার বাধ্য হবে সহায়ক সরকারের দাবি মানতে। তিনি বলেন, সহায়ক সরকারে কথা বলে লাভ নেই। সংবিধান অনুযায়ী তত্ত্বাবধায়ক সরকারেই ফিরতে হবে। অন্য কোনো সরকারে কথা বলে লাভ নেই। তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে আগামী নির্বাচন দিতে বাধ্য হবে সরকার। সভায় আরও বক্তব্য দেন, বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস, গয়েশ্বর চন্দ্র, ড. আবদুল মঈন খান, নজরুল ইসলাম খান, ভাইস চেয়ারম্যান সেলিনা রহমান, মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমেদ প্রমুখ। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন বিএনপির প্রচার সম্পাদক শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানী।
সরকার চাইলেই খালেদার মুক্তি
কুমিল্লার দুটি নাশকতার মামলায় বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া ছয় মাসের জামিন পেয়েছেন। তবে একই দিন আদেশের জন্য রাখা নড়াইলের মানহানির মামলাটির জামিন আবেদন খারিজ করে দিয়েছেন হাইকোর্ট। আজ সোমবার সকালে বিচারপতি মো. আসাদুজ্জামান ও জে বি এম হাসানের নেতৃত্বাধীন হাইকোর্ট বেঞ্চ এ আদেশ দেন। রায়ের পর খালেদা জিয়ার আইনজীবী খন্দকার মাহবুব হোসেন বলেন, কুমিল্লার দুটি নাশকতার মামলায় জামিন হওয়ার পর অন্য মামলাগুলো সবই জামিনযোগ্য। এগুলো বিচারিক আদালত ও হাইকোর্টে উত্থাপন করলেই জামিন পাওয়া যাবে। মূলত সরকারের সদিচ্ছাই এখানেই যথেষ্ট। সরকার যদি মনে করে, তাহলে খালেদা জিয়া মুক্তি পাবেন। কুমিল্লার দুটি মামলায় জামিন পেলে সরকার খালেদা জিয়াকে নতুন কোনো মামলায় গ্রেফতার দেখাবে না বলে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর দেয়া বক্তব্যের উল্লেখ করেন খন্দকার মাহবুব। তিনি বলেন, ‘এখন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর কথা কতটুকু গ্রহণযোগ্য, সেটাই দেখার বিষয়।’ খালেদা জিয়া আর কয়টি মামলায় গ্রেফতার রয়েছেন জানতে চাইলে তিনি বলেন, নড়াইলেরটিসহ আর চারটি মামলায় গ্রেফতার রয়েছেন। তবে এখানে সঠিক তথ্য বলা যাবে না। কেননা সরকারই ভালো বলতে পারবে। আমরা দৃশ্যমান মামলাগুলোর জামিন করিয়েছি। সরকার আবার নতুন মামলায় গ্রেফতার দেখায়।
আন্দোলন করেই খালেদা জিয়াকে মুক্ত করতে হবে
স্বৈরাচারী সরকারকে সরানোর জন্য আন্দোলনের বিকল্প নেই। আর জনগণের সম্পৃক্ত ছাড়া কোনো আন্দোলন সফল হয় না বলে জানিয়েছেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। সোমবার দুপুরে জাতীয় প্রেসক্লাবে বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া ও স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি শফিউল বারী বাবুসহ গ্রেফতার হওয়া সকল রাজবন্দির নিঃশর্ত মুক্তির দাবিতে আয়োজিত সমাবেশ তিনি এই মন্তব্য করেন। এসময় তিনি আরও বলেন, আন্দোলন করেই খালেদা জিয়াকে মুক্ত করতে হবে। এটা সত্য কথা, আন্দোলনের কোনো বিকল্প নেই। এই আন্দোলনে জনগণকে সম্পৃক্ত করতে হবে। বিএনপির এই নেতা বলেন, প্রতিদিন মানুষ হত্যা করা হচ্ছে! একটি সভ্য দেশে এভাবে বিনা বিচারে মানুষ হত্যা করা হবে, তা কল্পনা করা যায় না। কে মাদকদ্রব্য সেবন করে, কে ব্যবসা করে সেটা কথা নয়। যাদের হত্যা করা হচ্ছে, তারা বিচার পাচ্ছে না কেন? টেকনাফের কাউন্সিলরকে ক্রসফায়ারে দেয়ার সমালোচনা করে ফখরুল বলেন, কক্সবাজারের একজন কমিশনারকে হত্যা করা হয়েছে। তিনবার তিনি কমিশনার নির্বাচিত হয়েছেন। হাজারো মানুষ সেখানে জানাজায় অংশ নিয়েছে। সবাই বলছে, নিরপরাধ একজনকে হত্যা করা হয়েছে। তারা প্রধানমন্ত্রীর কাছে স্মারকলিপিও দেবে। ফখরুল আরও বলেন, এর দ্বারা বোঝা যায় এটা শুধু মাদকবিরোধী অভিযান নয়। এতে কোনো ষড়যন্ত্র আছে। একটির পর একটি ষড়যন্ত্র করেই আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় টিকে আছে। সমাবেশে আরও উপস্থিত ছিলেন, বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান আবদুল আউয়াল মিন্টু, বিএনপির চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা মশিউর রহমান, যুগ্ম মহাসচিব খায়রুল কবীর খোকন। স্বেচ্ছাসেবক ফোরাম-ঢাকা মহানগর উত্তর এই সমাবেশের আয়োজন করে।
মামলার জালেই আটকে আছে খালেদা জিয়ার কারামুক্তি
বিএনপি নেতারাও খালেদার সহসা মুক্তির সম্ভাবনা দেখছেন না। দলটির নেতারা প্রথম দিকে মনে করেছিলেন, খালেদার জেল জীবন অল্প কিছুদিনের হবে। তবে তাদের ভুল ভাঙতে বেশি সময় লাগেনি। নেতারা মনে করছেন, তীব্র আন্দোলন ছাড়া খালেদা জিয়াকে মুক্ত করে আনার আর কোনো পথ খোলা নেই। মুখে মুখে নেত্রীর মুক্তির বিষয়ে আশার কথা শোনালেও বাস্তবতা ভিন্ন সেটি সহজেই বুঝতে পারছেন তারা। সরকার খালেদা জিয়াকে জেলে রেখেই আগামী নির্বাচন সেরে নিতে চায়। চেয়ারপারসনকে দীর্ঘদিন জেলে থাকতে হবে এমনটা নেতাদের ধারণাতেও ছিল না। কিন্তু ভিন্ন ভিন্ন প্রেক্ষাপটে জেল দীর্ঘায়িত হওয়ায় নতুন করে ভাবিয়ে তুলেছে বিএনপি নেতৃত্বকে। আর এমন উপলব্ধি সামনে রেখে আগামী নির্বাচনের আগে বেশ অগোছালোই থাকছে দল।যদিও দলটির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন বলেন, চেয়ারপারসনের জেল জীবন দীর্ঘ হওয়ার কোনো প্রশ্নই ছিল না। কিন্তু সরকার আইন ও বিচার প্রশাসনকে প্রভাবিত করছে বলেই আমাদের নেত্রী বের হতে পারছেন না। আসলে সরকার মুক্ত খালেদাকে দেখতে ভয় পায় বলেই নতুন নতুন ঠুনকো মামলাগুলো ব্যবহার করছে। আমি মনে করি শুধু আইন আদালতের ওপর নির্ভর করলে চলবে না। রাজনৈতিক জেলকে রাজনৈতিকভাবেই মোকাবিলা করতে হবে। তবে বিএনপির স্থায়ী কমিটির অপর সদস্য নজরুল ইসলাম খান গতকাল জাতীয় প্রেস ক্লাবের এক আলোচনায় বলেন, বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তির জন্য আমরা আন্দোলন করছি, তবে এভাবে আন্দোলন করে তাকে মুক্ত করা যাবে না। তাকে মুক্ত করতে হলে কঠোর আন্দোলনের প্রয়োজন। তাই প্রস্তুতি নিন, ঐক্যবদ্ধ হয়ে কার্যকর আন্দোলনের জন্য। আমাদের বক্তৃতায় খুব বেশি সাহসী হওয়ার চেয়ে কাজে বেশি সাহসী হতে হবে। এদিকে জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় পাঁচ বছর সশ্রম কারাদ- মাথায় নিয়ে বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া কারাগারে আছেন তিন মাসেরও বেশি সময় ধরে। এই মামলায় সর্বোচ্চ আদালত থেকে চার মাসের জামিন পেলেও তার কারামুক্তিতে অন্তত আরো ছয় মামলায় জামিন নিতে হবে। এরই মধ্যে পাঁচ মামলায় হাইকোর্টে জামিনের আবেদন করেছেন খালেদা জিয়ার আইনজীবীরা। তবে সুপ্রিম কোর্টের অবকাশ শুরু হওয়ার আগে এসব আবেদন নিষ্পত্তি করে বিএনপি চেয়ারপারসনের কারামুক্তি অনিশ্চিত বলেই মনে করেন সংশ্লিষ্ট আইনজীবীরা। তারা বলেন, এসব মামলায় হাইকোর্টে আদেশ যাই আসুক, চূড়ান্ত সুরাহার জন্য আপিল বিভাগ পর্যন্ত গড়াতে পারে। বলা চলে মামলার জালেই আটকে আছে খালেদা জিয়ার কারামুক্তির বিষয়টি। বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে কুমিল্লায় হত্যা ও নাশকতার দুই মামলায় হাইকোর্টের দেয়া ছয় মাসের জামিন স্থগিত চেয়ে চেম্বার আদালতে আপিল করেছে রাষ্ট্রপক্ষ। সোমবার দুপুরে এ আপিল আবেদন করা হয় বলে নিশ্চিত করেছে অ্যাটর্নি জেনারেলের কার্যালয়। এর আগে বিচারপতি একেএম আসাদুজ্জামান ও বিচারপতি জেবিএম হাসানের হাইকোর্ট বেঞ্চ খালেদা জিয়ার জামিন আদেশ দিয়েছিলেন। তবে একই বেঞ্চ নড়াইলের মানহানির একটি মামলায় তার আবেদন খারিজ করেন। এ আদেশের পর অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম সাংবাদিকদের বলেছিলেন, আমি আজকের এই আদেশের বিরুদ্ধে আপিলে যাওয়ার চেষ্টা চালাচ্ছি। পিটিশন রেডি হয়ে গেছে। অন্য ফরমালিটিজ শেষ হলে আজকেই চেম্বারে যাব। উল্লেখ্য, জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতির মামলায় খালেদা জিয়াকে ৮ ফেব্রুয়ারি পাঁচ বছরের কারাদণ্ড দেন বিচারিক আদালত। সেই দিন থেকে পুরান ঢাকার নাজিমউদ্দিন রোডের পুরনো কেন্দ্রীয় কারাগারে রয়েছেন তিনি। ওই মামলায় আপিলের পর খালেদা জিয়াকে চার মাসের জামিন দেন হাইকোর্ট। এ আদেশের বিরুদ্ধে দুদক ও রাষ্ট্রপক্ষের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে খালেদা জিয়ার জামিন স্থগিত হয়ে যায়। তবে গত ১৭ মে জামিন বহাল রাখেন আপিল বিভাগ। সর্বোচ্চ আদালতের এ রায়ের ফলে কারাবন্দি খালেদা জিয়া মুক্তি পাবেন বলে ধারণা করা হচ্ছিল। কিন্তু দেশের বিভিন্ন আদালতে নাশকতা ও মানহানির মামলায় তাকে শোন অ্যারেস্ট দেখানো হয়েছে। ফলে মুক্তি পেতে হলে তাকে এসব মামলায় জামিন পেতে হবে।
খালেদা জিয়ার জামিন আদেশ কাল
কুমিল্লায় হত্যা ও নাশকতার অভিযোগে করা দুইটি এবং নড়াইলে করা মানহানির মামলাসহ তিন মামলায় বিএনপি চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার জামিন আবেদনের শুনানি শেষ হয়েছে। এ বিষয়ে আদেশের জন্য আগামীকাল সোমবার সময় নির্ধারণ করেছেন আদালত। বিচারপতি এ কে এম আসাদুজ্জামান ও বিচারপতি জে বি এম হাসানের হাইকোর্ট ডিভিশন বেঞ্চে এ মামলাগুলোর শুনানি হয়। এর আগে হাইকোর্টের আজকের কার্যতালিকার এ শুনানি শীর্ষে রাখা হলেও আজ আদালতের কার্যক্রম শুরু হলে রাষ্ট্রপক্ষ সময় আবেদন করলে আদালত দুপুর ২টায় শুনানির জন্য সময় নির্ধারণ করেন। খালেদা জিয়ার পক্ষে শুনানি করেন খন্দকার মাহবুব হোসেন, এজে মোহাম্মদ আলী ও মাহবুব উদ্দিন খোকন। আর রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম। কুমিল্লায় বাসে অগ্নিসংযোগ করে হত্যার অভিযোগে করা মামলায় বিএনপি চেয়ারপারসনের জামিন আবেদনের ওপর শুনানি গত বৃহস্পতিবার শেষ হয়। আজ রোববার এ মামলায় জামিন আবেদনের ওপর আদেশ দেয়ার দিন ধার্য করেন আদালত। কুমিল্লায় নাশকতার অপর মামলা এবং নড়াইলে মানহানির মামলার শুনানি হয় আজ। কুমিল্লায় বাসে অগ্নিসংযোগ ও হত্যার অভিযোগের মামলায় বেগম খালেদা জিয়ার জামিন আবেদনের ওপর গত বৃহস্পতিবার উভয় পক্ষের শুনানি শেষে নড়াইলের মানহানির মামলায় করা জামিন আবেদনের শুনানির উদ্যোগ নেন বেগম জিয়ার আইনজীবী খন্দকার মাহবুব হোসেন। এ সময় আদালত বলেন, আমরা আগামী রোববার (আজ) তিনটি মামলাতেই একসাথে শুনানি শেষে আদেশ দেবো। গত ২০ মে কুমিল্লা ও নড়াইলের তিন মামলায় জামিন চেয়ে খালেদা জিয়ার আইনজীবীরা আবেদন করেন। গত ২২ মে আদালতের অনুমতি নিয়ে জামিন আবেদন দায়ের করার পর বিচারপতি এম ইনায়েতুর রহিম ও বিচারপতি সহিদুল করিমের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট ডিভিশন বেঞ্চ কুমিল্লার নাশকতার মামলা ও নড়াইলে মানহানির মামলায় শুনানির জন্য আজকের দিন ধার্য করেন। এর আগে গত ১৬ মে জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় খালেদা জিয়াকে দেয়া হাইকোর্টের জামিন বহাল রাখেন আপিল বিভাগ। কুমিল্লার মামলা : ২০১৫ সালের ২৫ জানুয়ারি ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের হায়দার পুলের চৌদ্দগ্রামে একটি কাভার্ড ভ্যানে অগ্নিসংযোগ ও আশপাশের বেশ কিছু গাড়ি ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে। পরে এ ঘটনায় ২০১৫ সালের ২৫ জানুয়ারি চৌদ্দগ্রাম থানায় বিশেষ ক্ষমতা আইনে নাশকতার অভিযোগে মামলা হয়। মামলাটি বর্তমানে কুমিল্লার বিশেষ ট্রাইব্যুনাল-১এ চলমান। ২০১৭ সালের ৯ অক্টোবর এ মামলায় অভিযোগ আমলে নেন আদালত। গত ২৩ এপ্রিল এ মামলায় জামিন চেয়ে আবেদন করা হয়। কিন্তু আদালত আবেদনটির পরবর্তী শুনানির জন্য আগামী ৭ জুন দিন ধার্য রাখেন। এ অবস্থায় শুনানি না করে এ মামলায় জামিন চেয়ে হাইকোর্টে আপিল আবেদন করা হয়েছে। নড়াইলে মানহানি মামলা : ২০১৫ সালের ২১ ডিসেম্বর মুক্তিযোদ্ধাদের সংখ্যা নিয়ে বিরূপ মন্তব্য করার অভিযোগ ওঠে বেগম খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় একই বছরের ২৪ ডিসেম্বর খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে নড়াইলে মানহানির মামলা করা হয়। স্থানীয় এক মুক্তিযোদ্ধার সন্তান রায়হান ফারুকি ইমাম বাদি হয়ে মামলাটি করেন। মামলায় খালেদা জিয়ার পক্ষে যুক্তিতে বলা হয়েছে দণ্ডবিধির ৫০০, ৫০১ ও ৫০২-এর অধীনে খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে মামলাটি করা হয়। এ মামলাটি জামিনযোগ্য। উল্লেখ্য, জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় গত ৮ ফেব্রুয়ারি খালেদা জিয়াকে পাঁচ বছর কারাদণ্ডের আদেশ দেন ঢাকার বিশেষ জজ আদালত-৫। এরপর থেকে খালেদা জিয়া ঢাকার নাজিমুদ্দিন রোডের পুরনো কেন্দ্রীয় কারাগারে আছেন। ওই রায়ের পর জামিন চেয়ে হাইকোর্টে আবেদন করেন বেগম খালেদা জিয়া। শুনানি শেষে গত ১২ মার্চ হাইকোর্ট খালেদা জিয়াকে চার মাসের জামিন দেন। পরে অর্থাৎ গত ১৬ মে প্রধান বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেনের নেতৃত্বাধীন চার সদস্যের আপিল বেঞ্চ খালেদা জিয়াকে হাইকোর্টের দেয়া জামিন আদেশ বহাল রাখেন। কিন্তু আরো কয়েকটি মামলায় গ্রেফতার দেখানোয় তিনি কারাগার থেকে বের হতে পারছেন না।
ক্ষমতায় টিকে থাকার জন্য ভারত সফর প্রধানমন্ত্রীর : রিজভী
বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেছেন, কলকাতার গণমাধ্যমের খবরে এটা পরিষ্কার শেখ হাসিনা দেশের স্বার্থে ভারত যাননি, তিস্তার পানির জন্য যাননি, সীমান্তে বাংলাদেশিদের হত্যার রক্তক্ষরণ বন্ধ করতে যাননি। তিনি গেলেন ক্ষমতায় টিকে থাকার দেনদরবার করতে। আজ রোববার সকালে দলের নয়াপল্টনের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে রিজভী এ সব কথা বলেন। রিজভী বলেন, সরকারি অর্থ ব্যয় করে ক্ষমতায় টিকে থাকতে ভারতের কাছে আকুতি জানাতে সেখানে সফর করেছেন প্রধানমন্ত্রী। দেশের স্বার্থ বিকিয়ে দিয়ে স্বার্বভৌমত্বকে দুর্বল করে ট্রানজিটসহ ভারতকে সব কিছু উজাড় করে দিয়েছে তাঁর সরকার। কিন্তু বিনিময়ে কিছুই পায়নি বাংলাদেশ। তবে প্রতিদান হিসেবে ক্ষমতা ধরে রাখতে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ভারতের প্রধানমন্ত্রীর কাছে সহযোগিতা চেয়েছেন। এসব আমাদের কথা নয় সেদেশের প্রভাবশালী গণমাধ্যমের খবরে এসেছে। বিএনপি নেতা বলেন, শুক্রবার শান্তিনিকেতনে বাংলাদেশ ভবনে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে একান্ত বৈঠক করেন শেখ হাসিনা। সেখানেই তিনি জানিয়েছেন ট্রানজিটসহ সব দিয়েছে তাঁর সরকার, আন্তর্জাতিক মঞ্চে বরাবর দিল্লির পাশে থেকেছে। বাংলাদেশের নির্বাচনের বছরে এবার তাই ভারতের সহযোগিতা চাই। বিএনপির এ নেতা বলেন, আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত স্বৈরাচার শেখ হাসিনা এখন ক্ষমতা হারানোর ভয়ে বিদেশিদের কাছে দৌড়ঝাঁপ শুরু করেছেন। নিজ দেশের জনগণকে বাদ দিয়ে ক্ষমতায় টিকে থাকার জন্য এখন মুরুব্বিদের কাছে দেনদরবার শুরু করেছেন। কারণ শেখ হাসিনা বুঝতে পেরেছেন তাঁদের দুঃশাসনের জবাব দিতে মানুষ প্রস্তুত হয়ে আছে। তাঁর বিদায় ঘণ্টা বেজে গেছে। গণতন্ত্র হত্যা করে, দেশের বিচার বিভাগকে ধ্বংস করে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে দলীয় বাহিনীতে পরিণত করে বন্দুকের জোরে আর ক্ষমতায় টিকে থাকা যাবে না।’ বিএনপি নেতা আরো বলেন, ‘বাংলাদেশে আগামী নির্বাচন হতে হবে অবাধ, সুষ্ঠু এবং সব দলের অংশগ্রহণে। অবশ্যই সেটি হতে হবে নির্দলীয় নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে। বেগম খালেদা জিয়াকে ছাড়া আগামী জাতীয় নির্বাচন হবে না। তাঁর নেতৃত্বেই বিএনপি আগামী জাতীয় নির্বাচনে অংশগ্রহণ করবে। নির্বাচন কমিশন নিয়ে বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব বলেন, আমরা আগেও বলেছিলাম, সরকারের ইচ্ছে পূরণে কাজ করছে নির্বাচন কমিশন। প্রধান নির্বাচন কমিশনার আওয়ামী সরকারের ভোট জালিয়াতির বৈধতার রাবার স্ট্যাম্প হিসেবে কাজ করছেন। দেশের ভোটাররা প্রধান নির্বাচন কমিশনারকে (সিইসি) সুষ্ঠু ভোটের শত্রুপক্ষ বলে মনে করে। তিনি বলেন, এরই আগে কমিশনের কাছে বিরোধী দল, সুশীল সমাজ, নির্বাচন বিশ্লেষক, গণমাধ্যমের প্রতিনিধিরা যেসব সুপারিশ করেছিলেন সেগুলোর একটিকেও আমলে নেওয়া হয়নি। রিজভী বলেন, সরকারের হুকুমে সিটি নির্বাচনে এমপিদের প্রচারণায় সুযোগ করে দিতে আইন করা হয়েছে সংবিধান লঙ্ঘন করে। এইচ টি ইমামের আহ্বানে তড়িঘড়ি করে এই বিধি সংশোধন করা হয়েছে। বর্তমান ইসির পুরো আচরণ এখন প্রশ্নবিদ্ধ।
খালেদা জিয়ার মুক্তির জন্য কঠোর আন্দোলনের প্রয়োজন
বিএনপিসহ অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনগুলোর নেতাকর্মীদের কার্যকর ও কঠোর আন্দোলনের জন্য প্রস্তুতি নেয়ার আহ্বান জানিয়েছেন দলটির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান। আজ শনিবার জাতীয় প্রেসক্লাবে শফিউল বারী মুক্তি পরিষদের আয়োজনে বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবিতে এক প্রতিবাদ সমাবেশে তিনি একথা বলেন। নজরুল ইসলাম খান বলেন, আমরা দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তির জন্য আন্দোলন করছি। তবে এভাবে আন্দোলন করে তাকে মুক্ত করা যাবেনা। তাকে মুক্ত করতে হলে কঠোর আন্দোলনের প্রয়োজন। তাই প্রস্তুতি নিন ঐক্যবদ্ধ হওয়ার জন্য। কার্যকর আন্দোলনের জন্য। আমাদের বক্তৃতায় খুব বেশি সাহসী হওয়ার চেয়ে কাজে বেশি সাহসী হতে হবে। জনগণ বর্তমান সরকারের পক্ষে নেই। তারা সুযোগ পেলে বিএনপিকেই ভোট দিতে চায়। তিনি বলেন, আজকে দেশে অস্বাভাবিক সব ঘটনা ঘটছে। মিথ্যা অভিযোগে সাজা পেয়ে খালেদা জিয়া কারাগারে গেলেন। জামিন নিয়ে টালবাহানা শুরু হল। জামিন পেলেন। কিন্তু সরকার পক্ষ চেম্বার জজের কাছে চলে গেলেন। সময় নেয়া হল অনেক। এক শুনানি থেকে আরেক শুনানির দূরত্ব অনেক। অবশেষে জামিন হল। তবে এর আগেই আরেকটি মামলায় শ্যোন অ্যারেস্ট দেখানো হল। আমরা আইনি লড়াইয়ের মাধ্যমে বেগম জিয়াকে মুক্ত করতে চেয়েছিলাম। কিন্তু না। এভাবে তাকে মুক্ত করা সম্ভব নয়। আমাদের কঠোর আন্দোলনের মাধ্যমে দেশনেত্রীকে মুক্ত করতে হবে। জনতা পারেনা এমন কোন কাজ নেই। আমরা ৯০ এর স্বৈরাচার বিরোধী আন্দোলন করেছি। আইয়ুব খানের বিরুদ্ধে আন্দোলন করেছি। আমরা তখন পেরেছি কারণ তখন আমাদের আন্দোলনের বয়স ছিল। তবে এখন যদি করতে বলেন তাহলে পারব না। এখন আন্দোলন করতে হবে স্বেচ্ছাসেবক দল ও ছাত্রদলকে। তিনি আরো বলেন, সবারই ধৈর্যের সীমা থাকে। এই দেশ এখন আন্তর্জাতিকভাবে স্বৈরতান্ত্রিক দেশে পরিণত হয়ে গেছে। ৭৩ বছর বয়সী খালেদা জিয়া আজ কারাগারে যথেষ্ট অসুস্থ। ডাক্তাররা বলেছেন- এমন অবস্থায় থাকলে তিনি পঙ্গু হয়ে যেতে পারেন। অন্ধ হয়ে যেতে পারেন। সরকারি চিকিৎসকরা তার উন্নত চিকিৎসার সুপারিশ করার পরও সরকার সেটা আমলে নেয়নি। এই স্বৈরশাসনের বিরুদ্ধে আমাদের রুখে দাড়াতে হবে। আন্দোলনের মাধ্যমে খালেদা জিয়াকে মুক্ত করতে হবে। সংগঠনের আহ্বায়ক ফয়েজ উল্লাহ ফয়েজের সভাপতিত্বে আরো বক্তব্য রাখেন- বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান শামসুজ্জামান, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা আবুল খায়ের ভুঁইয়া, সাংগঠনিক সম্পাদক ফজলুল হক মিলন, স্বেচ্ছাসেবক লের সহ সভাপতি গোলাম সরোয়ার, সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সাইফুল ইসলাম ফিরোজ প্রমুখ।