বিজয় দিবস উপলক্ষে ১০ দিনের কর্মসূচি ঘোষণা করেছে বিএনপি
বুদ্ধিজীবী দিবস ও মহান বিজয় দিবস উপলক্ষে ১০ দিনের কর্মসূচি ঘোষণা করেছে বিএনপি। কর্মসূচির মধ্যে রয়েছে- ১৪ ডিসেম্বর সকালে মিরপুর বুদ্ধিজীবী স্মৃতিসৌধে পুষ্পার্ঘ অর্পণ। দলের চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়া এ পুষ্পার্ঘ অর্পণ করবেন। এছাড়াও এ উপলক্ষে আলোচনা সভা করা হবে। বুধবার নয়াপল্টনে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এসব কর্মসূচি ঘোষণা করেন। একইভাবে সারাদেশে বিএনপি ও এর অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনগুলো বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করবে। বিজয় দিবসে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়সহ সারা দেশে দলীয় কার্যালয়ে জাতীয় পতাকা ও দলীয় পতাকা উত্তোলন করা হবে। বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া নেতাকর্মীদের নিয়ে সাভার স্মৃতিসৌধে ফুল দিয়ে শহীদদের শ্রদ্ধা জানাবেন। এরপর তিনি নেতাকর্মীদের নিয়ে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের মাজারে শ্রদ্ধা জানাবেন। সেখানে তিনি ফাতেহা পাঠ, দোয়া ও মোনাজাতে অংশ নেবেন। বিজয় দিবসে বিএনপির উদ্যোগে একটি আলোচনা সভা ও র‌্যালি বের করা হবে। এছাড়া দিবসটি উপলক্ষে মুক্তিযোদ্ধা দলের উদ্যোগে রাজধানীর ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউটে ২৪ ডিসেম্বর মুক্তিযোদ্ধা সমাবেশ করা হবে। সমাবেশে প্রধান অতিথি থাকবেন বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া।
আগাম নির্বাচনের কোনো সম্ভাবনা ও পরিকল্পনা নেই :সেতুমন্ত্রী
আগাম জাতীয় সংসদ নির্বাচনের কোনো সম্ভাবনা ও পরিকল্পনা নেই বলে জানিয়েছেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের। বুধবার সচিবালয়ে সমসাময়িক রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে প্রেস ব্রিফিংয়ে তিনি এ কথা জানান। দেশে আগাম নির্বাচনের কোনো সম্ভাবনা আছে কিনা জানতে চাইলে মন্ত্রী বলেন, আগাম নির্বাচনের কোনো সম্ভাবনাও নেই, পরিকল্পনাও নেই। আমি বলেছি, নির্বাচন যদি একমাস পরেও হয় আমরা প্রস্তুত। আমি বলেছি, নির্বাচন যদি তিন মাস পরেও হয় আমরা প্রস্তুত। তিনি বলেন, তবে যথাযথ সময়ের আগে নির্বাচন হবে এমন কোন পরিকল্পনা এখনও সরকারের নেই। আমরা দলীয়ভাবেও সেই চিন্তা-ভাবনা করছি না। তবে সবসময় জাতীয় নির্বাচনের জন্য প্রস্তুতি আমাদের আছে। ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনে মেয়র নির্বাচনের জন্য আওয়ামী লীগের মধ্য থেকে ও এমনকি দলের বাইরে থেকে প্রার্থী মনোনয়নের চিন্তা-ভাবনা করা হচ্ছে বলে জানান ওবায়দুল কাদের। গতাকল মঙ্গলবার সাধারণ মানুষের গাড়ি ভাঙচুরের মাধ্যমে বিএনপি ফের সহিংসতার দিকে যাচ্ছে বলেও মনে করছেন আওয়ামী লীগের এই নেতা।
নির্বাচন হতে হবে অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ,ডিএনসিসি নিয়ে এখনও সিদ্ধান্ত নেইনি :মির্জা ফখরুল
ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের (ডিএনসিসি) মেয়র আনিসুল হকের অকাল মৃত্যৃতে গভীর শোক ও দুঃখ প্রকাশ করে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, ডিএনসিসি নির্বাচনে অংশ গ্রহণ নিয়ে বিএনপিতে এখনও কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি। বুধবার নয়াপল্টন দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে বিএনপি মহাসচিব একথা জানান। মির্জা ফখরুল বলেন, আনিসুল হকের সঙ্গে আমার ব্যক্তিগত সম্পর্ক ছিল। তাকে ক্রিটিকাল রাজনীতিবিদ বলে মনে হয়নি। তিনি ব্যতিক্রমী রাজনীতি করার চেষ্টা করতেন। আমরা এখনও ডিএনসিসি নির্বাচনে অংশ নেয়ার বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেইনি। তবে স্থানীয় সব নির্বাচনেই আমরা অংশ নিয়েছি। বিএনপি মহাসচিব বলেন, বর্তমান সরকারের অধীনে যে সুষ্ঠু নির্বাচন হয়নি তা প্রমাণ হয়েছে। আপনারা দেখেছেন সকাল ১০টায় তারা ভোট কেন্দ্র দখল করেছিল। আগাম নির্বাচন প্রসঙ্গে মির্জা ফখরুল বলেন, আমরা নির্বাচন চাই। তবে আওয়ামী লীগ সরকারে থাকবে না। শেখ হাসিনা প্রধানমন্ত্রীর পদে থাকবেন না। নির্বাচন হতে হবে অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ। সেই নির্বাচন কালকে হলে কালকেই চাই।
খালেদা জিয়ার বিবৃতি
সরকার পরিকল্পিতভাবে দেশের তরুণ সমাজকে ধ্বংস করার জন্য নানামুখী নীলনকশা প্রনয়ণ করে চলেছে বলে অভিযোগ করেছেন বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া। রোববার বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী স্বাক্ষরিত গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিজ্ঞপ্তিতে দলের চেয়ারপারসন এ অভিযোগ করেন। ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক আকরামুল হাসানকে গ্রেফতার করে কারান্তরীণ এবং বারবার মিথ্যা মামলায় পুলিশি রিমান্ডের নামে হয়রানী ও নির্যাতনের ঘটনায় তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়ে এই বিবৃতি দেয়া হয়। দেশের আদর্শবাদী তরুণ সমাজকে বর্তমান সরকার তাদের দুঃশাসনের প্রতিপক্ষ ভাবছে মন্তব্য করে খালেদা জিয়া বলেন, এ জন্যই আকরামুল হাসানসহ সারাদেশের হাজার হাজার ছাত্রদল নেতাকর্মীদের গ্রেফতার করে আটকে রাখা হচ্ছে। যাতে উদীপ্ত তারুণ্য বর্তমান দুঃশাসনের বিরুদ্ধে সাহসী সংগ্রামে এগিয়ে যেতে না পারে। তিনি বলেন, দেশের তরুণ সমাজকে ভয়াবহ দুঃশাসনের যাঁতাকলে পিষ্ট করে নিজেদের টিকিয়ে রাখতে অবৈধ ক্ষমতা কন্টকমুক্ত করাই সরকারের উদ্দেশ্য। গ্রেফতার করে রিমান্ডের নামে নজীরবিহীন জুলুম-নির্যাতনের মূল উদ্দেশ্যই হচ্ছে, তরুণ সমাজকে ভয় পাইয়ে দেওয়া। কিন্তু বর্তমান ভোটারবিহীন সরকার জানেনা যে, অনাচার, অবিচার ও লুটপাটকারী সরকারকে পরাজিত করতে তারুণ্যকে কোনভাবেই দমন করে রাখা যায় না। অন্যায়ের বিরুদ্ধে চিরন্তন দ্রোহ হচ্ছে তরুণ সমাজ উল্লেখ করে বিএনপি চেয়ারপারসন বলেন, জাতীয়তাবাদী শক্তিকে ধ্বংস করতে সরকারের নীলনকশা বাস্তবায়ন করার গভীর ষড়যন্ত্র প্রতিহতের জন্য জনগণ এখন আরো বেশী ঐক্যবদ্ধ। গুম, খুন, অপহরণ, বিচার বহির্ভূত হত্যাকান্ড এবং চাল-ডাল-তেল-পিঁয়াজ-লবনসহ নিত্য প্রয়োজনীয় দ্রব্যমূল্যের উর্দ্ধগতির পাশাপাশি দফায় দফায় গ্যাস-বিদ্যুতের মূল্যবৃদ্ধিতে জনরোষকে চাপা দেয়ার জন্যই দেশব্যাপী বিএনপি ও অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীদেরকে পাইকারী হারে গ্রেফতার করে নির্যাতন করা হচ্ছে। সাবেক এই প্রধানমন্ত্রী বলেন, আকরামুল হাসান সরকারের অত্যাচার-নির্যাতনের বিরুদ্ধে প্রতিবাদমূখর বলেই সেও সরকারী আক্রোশের শিকার হয়েছে। তাকে গ্রেফতার করে বারবার রিমান্ডে নিয়ে নি:শেষ করা যাবে না। আকরামুল হাসানকে গ্রেফতার করে নির্যাতনের বিরুদ্ধে আমি তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি। তিনি অবিলম্বে আকরামুল হাসানের বিরুদ্ধে দায়েরকৃত মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার ও নিঃশর্ত মুক্তির জোর দাবি জানান।
দেশব্যাপী বিএনপির বিক্ষোভ মিছিল
বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারির প্রতিবাদে দেশব্যাপী বিএনপির বিক্ষোভ মিছিলে বিভিন্ন জেলায় পুলিশ বাধা দিয়েছে। পুলিশ ও সরকার দলীয় নেতাকর্মীদের সঙ্গে বিএনপি কর্মীদের সংঘর্ষ এবং ধাওয়া পাল্টাধাওয়ার ঘটনাও ঘটেছে। এতে গুলিবিদ্ধসহ বিএনপি কর্মীদের আহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। রোববার সকাল থেকেই পুলিশ ভোলা, মুন্সীগঞ্জ, নেত্রকোনা জেলায় বিএনপির দলীয় কার্যালয় ঘেরাও করে রাখে। এর ফলে নেতাকর্মীরা জেলা শহরে কোনো বিক্ষোভ করতে পারেননি। তবে কোথাও কোথাও শান্তিপূর্ণভাবে বিক্ষোভ করার খবর পাওয়া গেছে। বিভিন্ন জেলা থেকে শীর্ষনিউজ প্রতিনিধিদের পাঠানো প্রতিবেদন নিম্নে তুলে ধরা হলো- লন্ডন থেকে চিকিৎসা শেষে দেশে ফেরার পর জিয়া চ্যারিটেবল ও অরফানেজ ট্রাস্ট দুই মামলায় বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া নিয়মিত আদালতে হাজিরা দিয়ে আত্মপক্ষ সমর্থন করে বক্তব্য দিচ্ছিলেন। খালেদা জিয়ার আইনজীবীরা বারবার তাঁর স্থায়ী জামিনের আবেদন জানালেও আদালত তা নাকচ করে দেন। গত বৃহস্পতিবারও ওই মামলায় রাজধানীর বকশীবাজারে আলিয়া মাদ্রাসা মাঠে স্থাপিত ঢাকার ৫ নম্বর বিশেষ জজ ড. আখতারুজ্জামানের আদালতে খালেদা জিয়ার আত্মপক্ষ সমর্থন করে বক্তব্য দেয়ার কথা ছিল। কিন্তু হরতাল চলাকালে নিরাপত্তার কারণে তিনি সকালে আদালতে যেতে পারেননি। পরে তাঁর আইনজীবীরা দুপুরের পর আদালতে হাজির হওয়ার আবেদন জানান। কিন্তু বিচারক সময়মতো আদালতে হাজির না হওয়ায় সাবেক এই প্রধানমন্ত্রীর বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেন। চিকিৎসার জন্য লন্ডনে থাকাবস্থায়ও একই আদালত দুই মামলায় তাঁর বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছিলেন। দেশে ফেরার পরপরই তিনি আদালতে আত্মসমর্পণ করে জামিন নেন এবং নিয়মিত হাজিরা দিয়ে আসছিলেন। এর মধ্যেই আদালত তাঁর বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেন। তাঁর আইনজীবীরা জানিয়েছেন, ৬ ডিসেম্বর খালেদা জিয়া আদালতে আত্মসমর্পণ করে জামিন চাইবেন। খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে এই গ্রেপ্তারি পরোয়ানাকে ‘বিস্ময়কর’ বলে মন্তব্য করেন বিএনপির নেতারা। পরোয়ানার বিরুদ্ধেই সারাদেশে বিক্ষোভের ডাক দেয় বিএনপি। নেত্রকোনা প্রতিনিধি জানিয়েছেন, সেখানে পুলিশি বাধার করণে বিএনপির নেতাকর্মীরা বিক্ষোভ সমাবেশ করতে পারেননি। জেলা বিএনপির সভাপতি সাবেক সংসদ সদস্য আশরাফ উদ্দিন খান সাংবাদিকদের কাছে অভিযোগ করে বলেন, দেশব্যাপী প্রতিবাদ কর্মসূচির কারণে আজ সকালে ছোট বাজারের দলীয় কার্যালয়ে বিক্ষোভ সমাবেশের আয়োজন করা হয়। সকাল থেকেই বিপুলসংখ্যক পুলিশ দলীয় কার্যালয়ের সামনে অবস্থান নেয়। বিএনপির নেতাকর্মীরা দলীয় কার্যালয়ের কলাপসিবল গেট খুলে কার্যালয়ে বসতে চাইলে পুলিশ তাদের বাধা দেয়। এ সময় বিএনপির নেতাকর্মীরা ব্যানার নিয়ে দলীয় কার্যালয়ের সামনে বিক্ষোভ করতে চাইলে পুলিশ তাদের সেখান থেকে চলে যাওয়ার নির্দেশ দেয়। পুলিশি বাধায় বিক্ষোভ সমাবেশ পণ্ড হয়ে যাওয়ায় বিপুলসংখ্যক নেতাকর্মী সেখান থেকে চলে যেতে বাধ্য হন বলে অভিযোগ করেন জেলা বিএনপির সভাপতি। জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ড্যাব নেতা অধ্যাপক ডা. আনোয়ারুল হক বলেন, ‘আমরা শান্তিপূর্ণভাবে বিক্ষোভ সমাবেশ করতে চাইছিলাম, কিন্তু পুলিশি বাধার কারণে তা করা সম্ভব হয়নি।’ দলের জেলা সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক শান্তিপূর্ণ কর্মসূচি পালনে পুলিশি বাধার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানান। এ ব্যাপারে নেত্রকোনা মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আমীর তৈমুর ইলী বলেন, অস্থিতিশীল পরিবেশ ও শান্তি-শৃঙ্খলা ভঙ্গের আশঙ্কায় তাদের বিক্ষোভ সমাবেশ করতে দেয়া হয়নি। মুন্সীগঞ্জ প্রতিনিধি জানিয়েছেন, খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারির প্রতিবাদে মুন্সীগঞ্জ জেলা বিএনপির বিক্ষোভ মিছিল পুলিশ পণ্ড করে দিয়েছে। পরে জেলা কার্যালয়ের সামনে সমাবেশ করেন দলের নেতাকর্মীরা। রোববার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে জেলা বিএনপির আয়োজনে মুন্সীগঞ্জের সুপারমার্কেটের ‘অঙ্কুরিত যুদ্ধ-৭১’ ভাস্কর্যের সামনে এ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে। জেলা বিএনপির সভাপতি ও সাবেক মন্ত্রী আবদুল হাইয়ের সভাপতিত্বে সভায় উপস্থিত ছিলেন জেলা বিএনপির সহ-সভাপতি আতোয়ার হোসেন বাবুল, সাংগঠনিক সম্পাদক আবদুল কুদ্দুস ধীরন, জেলা যুবদলের সভাপতি তারিক কাশেম খান মুকুল, শহর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক শহিদুল ইসলাম, জেলা কৃষক দলের সভাপতি আবদুল আজিম স্বপন, জেলা যুবদলের যুগ্ম সম্পাদক নিজাম উদ্দিন মেম্বার, জেলা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক মাসুদ রানা, টঙ্গিবাড়ী থানা বিএনপির সভাপতি মুনরুল মনি পল্টন প্রসুখ। ভোলা প্রতিনিধি জানিয়েছেন, পুলিশি বাধার মুখে বিএনপি শহরে বিক্ষোভ মিছিল করতে পারেনি। তবে কার্যালয়ের সামনে বিক্ষোভ এবং ভেতরে সমাবেশ হয়েছে। বেলা ১১টায় বিএনপি ভোলা শহরের মহাজনপট্টির দলীয় কার্যালয়ের সামনে থেকে বিক্ষোভ মিছিল বের করতে চাইলে পুলিশ তাতে বাধা দেয়। বিএনপি কার্যালয়ের সামনে একটি গাড়ি রেখে ব্যারিকেড সৃষ্টি করে রাখে। ফলে নেতাকর্মীরা আর বের হতে পারেননি। ব্যানার বের করলে পুলিশ তা নিয়ে যায়। একপর্যায়ে নেতাকর্মীরা সেখানে বিক্ষোভ করেন। এ সময় তাঁরা সরকারবিরোধী স্লোগান দিতে থাকেন। এদিকে সকাল থেকেই দুজন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার, সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি), গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশের ওসির নেতৃত্বে বিপুলসংখ্যক পুলিশ বিএনপির কার্যালয়ের সামনে অবস্থান নেয়। কার্যালয়ের আশপাশ ছাড়াও শহরের গুরুত্বপূর্ণ স্থানে পুলিশকে অবস্থান নিতে দেখা গেছে। পরে বিএনপির কার্যালয়ে জেলা বিএনপির সহসভাপতি মো. আমিনুল ইসলামের সভাপতিত্বে সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। সদর উপজেলা যুবদলের সাধারণ সম্পাদক মো. কবির হোসেনের উপস্থাপনায় জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক হারুন-অর-রশিদ ট্রুম্যান, উপজেলা বিএনপির সভাপতি আসিফ আলতাফ প্রমুখ বক্তব্য দেন। বক্তারা পুলিশি বাধার নিন্দা জানিয়ে বলেন, এভাবে পুলিশ দিয়ে বেশি দিন আন্দোলন-সংগ্রাম দাবিয়ে রাখা যাবে না। খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে সব মিথ্যা মামলা, ওয়ারেন্ট বাতিলের দাবি জানানো হয় সমাবেশ থেকে। সুনামগঞ্জ প্রতিনিধি জানিয়েছেন, সুনামগঞ্জে বিএনপির বিক্ষোভ মিছিলে পুলিশ বাধা দিয়েছে। আজ দুপুরে শহরের অস্থায়ী দলীয় কর্যালয় পুরাতন বাসস্টেশন এলাকা থেকে বিক্ষোভ মিছিলটি বের হয়ে শহরের আলফাত উদ্দিন স্কয়ারে যেতে চাইলে কালীবাড়ী পয়েন্ট মোড়ে পুলিশ মিছিলটি আটকে দেয়। পরে সেখানে বিক্ষোভ সমাবেশ করতে চাইলে তাতেও বাধা দেয় পুলিশ। বিক্ষোভ মিছিলে উপস্থিত ছিলেন বিএনপির চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা অ্যাডভোকেট ফজলুল হক আছপিয়া, জেলা বিএনপির সভাপতি কলিম উদ্দিন আহমদ মিলন, সাধারণ সম্পাদক নুরুল ইসলাম নুরুল, জেলা বিএনপি নেতা অ্যাডভোকেট জিয়াউর রহমান শাহীন প্রমুখ। ফরিদপুর প্রতিনিধি জানিয়েছেন, জেলা বিএনপি বিক্ষোভ মিছিল বের করলে পুলিশের বাধায় তা পণ্ড হয়ে যায়। বেলা সাড়ে ১১টায় জেলা বিএনপির আয়োজনে শহরের অম্বিকা ময়দানের সামনে থেকে একটি বিক্ষোভ মিছিল বের করা হয়। মিছিলটি মুজিব সড়কের স্বর্ণকারপট্টিতে এলে পুলিশ তাতে বাধা দেয়। এ সময় উভয়পক্ষ উত্তেজিত হলে একপর্যায়ে বিক্ষোভ মিছিলটি পণ্ড হয়ে যায়। পরে সেখানে সংক্ষিপ্ত সমাবেশে বক্তব্য দেন জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ মোদাররেস আলী ইছা, জ্যেষ্ঠ যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ জুলফিকার হোসেন জুয়েল প্রমুখ। এ সময় আরো উপস্থিত ছিলেন জেলা বিএনপির জ্যেষ্ঠ সহসভাপতি শহিদ পারভেজ, জেলা যুবদলের সভাপতি আফজাল হোসেন খান পলাশ, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ফজলুল হক টুলু, প্রচার সম্পাদক দেলোয়ার হোসেন দিলা, মুক্তিযোদ্ধাবিষয়ক সম্পাদক আমিনুর রহমান মুছা, সাংস্কৃতিক সম্পাদক আশরাফ হোসেন, আইন সম্পাদক অ্যাডভোকেট জসিম উদ্দিন মৃধা, জেলা যুবদলের সভাপতি আফজাল হোসেন খান পলাশ, স্বেচ্ছাসেবক দলের জ্যেষ্ঠ যুগ্ম আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট হাফিজ, বিএনপি নেতা রউফ উন নবী, আবদুল্লাহ সরদার বাবু, কাজী কামরুল ইসলাম, হাসানুর রহমান মৃধা প্রমুখ।
সৌদি আরবে বেগম খালেদা জিয়ার অর্থপাচারের অভিযোগ :হাছান মাহমুদ
প্রধানমন্ত্রী থাকাকালে সৌদি আরবে বেগম খালেদা জিয়ার অর্থপাচারের অভিযোগ নিয়ে সে দেশের সরকার তদন্ত করছে বলে দাবি করেছেন আওয়ামী লীগ নেতা হাছান মাহমুদ। তার দাবি আরবের এই দেশটিতে খালেদা জিয়ার শপিং মল, বহুতল ভবনসহ নানা সম্পত্তি রয়েছে। রবিবার দুপুর জাতীয় প্রেসক্লাবের এক মানববন্ধনে আওয়ামী লীগের প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক এ কথা বলেন। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে একটি বিদেশি টেলিভিশনের সংবাদ হিসেবে ছড়ানো একটি ভিডিওর কথা তুলে ধরেন হাছান মাহমুদ। ওই ভিডিওতে বলা হয়েছে, সৌদি আরব, কাতারসহ বিশ্বের ১২টি দেশে খালেদা জিয়া, তার ছেলে তারেক রহমান এবং আরফাত রহমান কোকোর নামে ১২ বিলিয়ন ডলারের সম্পদ রয়েছে। ক্ষমতায় থাকাকালে দুর্নীতি, ক্ষমতার অপব্যবহার, চাঁদাবাজির মাধ্যমে এই টাকা অর্জন করা হয়েছে। প্রতি ডলার ৮৩ টাকা ধরে এই টাকার অংক দাঁড়ায় প্রায় এক লাখ কোটি টাকা। এর আগে গত ১৩ সেপ্টেম্বর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সংসদকে জানিয়েছিলেন, সৌদি আরব খালেদা জিয়ার অবৈধ সম্পদের বিষয়ে তদন্ত চালাচ্ছে। হাছান মাহমুদ বলেন, এই যে সম্পত্তি এই সম্পত্তি লুটপাটের সম্পত্তি, বাংলাদেশ থেকে লুটপাট করে গিয়ে এই সম্পত্তি তারা অর্জন করেছে। এটা আজকে তদন্তে বেরিয়ে আসছে। সৌদি সরকারের কথিত তদন্তে যেসব তথ্য জানা গেছে, সেগুলোর আলোকে সৌদি আরবসহ পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে খালেদা জিয়া এবং তার পরিবারের অন্যান্য সদস্যদের নামে যেসব অবৈধ সম্পত্তি আছে সেগুলো খুঁজে বের করা এবং সংশ্লিষ্ট রাষ্ট্রগুলোর সঙ্গে কথা বলে সেগুলো বাজেয়াপ্ত করে বাংলাদেশে ফেরত আনার দাবিও জানান হাছান মাহমুদ। সামাজিক মাধ্যমে ছড়ানো এই ভিডিওর বিষয়ে বিএনপির বক্তব্যও দাবি করেন হাছান। বিএনপি মহাসচিব মির্জা মির্জা ফখরুল আলমগীরকে উদ্দেশ্য করে তিনি বলেন, এই যে বাংলাদেশের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এত কথা, বিদেশি টেলিভিশনে এত কথা মির্জা ফখরুল সাহেব আপনার মুখে কোন কথা নাই কেন? আজকে এই যখন তদন্ত বেরিয়ে আসছে বিএনপি নেতাদের মুখে দিয়ে কোন কথা বের হয় না কেন। বড় ছেলে তারেক রহমানের প্রশংসা করে খালেদা জিয়ার বক্তব্যেরও সমালোচনা করেন হাছান মাহমুদ। তিনি বলেন, খালেদা জিয়ার বক্তব্যে বাংলা বাগধারা চোরের মার বড় গলা এর মতো। শনিবার রাতে গুলশানে নিজের কার্যালয়ে তারেক রহমানকে নিয়ে লেখা তিনটি বইয়ের মোড়ক উন্মোচন অনুষ্ঠানে খালেদা জিয়া বলেন, জিয়াউর রহমানের সেই রক্তই তারেক রহমানের গায়ে, সেই রক্তই ছিল আরাফাত রহমানের গায়ে। তারা নিজেরা কিছু পাওয়ার জন্য নয়, দেশের মানুষকে কিছু দেওয়ার জন্য, দেশের সম্মান বৃদ্ধির জন্য কাজ করেছে, করছে। হাছান মাহমুদ বলেন, আসলে শুধু তারেক রহমান নয়, তিনি (খালেদা জিয়া) নিজেও চোর। কারণ চুরিতে তিনি নিজেও ধরা পরেছেন তার (তারেক রহমান) বিরুদ্ধে বাংলাদেশে এসে এফবিআই দুর্নীতির সাক্ষ্য দিয়ে গেছে। বেগম খালেদা জিয়ার লজ্জা লাগে কি না জানি না, আমার কিন্তু এই কথাগুলো শুনতে এবং বলতে লজ্জা লাগে। আওয়ামী লীগের ত্রাণ ও সমাজ কল্যাণ সম্পাদক সুজিত রায় নন্দী, সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক অভিনেত্রী ফালগুনি হামিদ প্রমুখ মানববন্ধনে বক্তব্য রাখেন
শেখ হাসিনার নেতৃত্বে অসাম্প্রদায়িক চেতনায় বাংলাদেশ এগিয়ে যাবে :স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
দেশে জঙ্গিবাদ শূন্যের কোঠায় নামিয়ে আনা হয়েছে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামাল। বৃহস্পতিবার দুপুরে লালমনিরহাটে নবনির্মিত হাতীবান্ধা থানা ভবন উদ্বোধন শেষে স্থানীয় আওয়ামী লীগ আয়োজিত এক জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, দেশে জঙ্গিবাদ শূন্যের কোঠায় নামিয়ে আনা হয়েছে। পুলিশ বাহিনী জঙ্গি-সন্ত্রাস নির্মূলে কাজ করে যাচ্ছে। বাংলাদেশে কোনো সন্ত্রাস, জঙ্গিবাদ ও বিচ্ছিন্নতাবাদীদের ঠাঁই হবে না। শেখ হাসিনার নেতৃত্বে অসাম্প্রদায়িক চেতনায় বাংলাদেশ এগিয়ে যাবে। তিনি জনগণের উদ্দেশ্যে বলেন, শেখ হাসিনা ছাড়া দেশ এগিয়ে যেতে পারে না। নৌকার বিকল্প নেই। তাই আপনারা আগামী নির্বাচনে নৌকায় ভোট না দিলে ভুল করবেন। আবারও নৌকায় ভোট দিয়ে শেখ হাসিনা সরকারকে জয়যুক্ত করুন। জনসভায় বিশেষ অতিথির বক্তব্যে বলেন, হাতীবান্ধা ও পাটগ্রাম উপজেলার উন্নয়ন ধরে রাখতে আপনাদের প্রিয় নেতা মোতাহার হোসেনকে নৌকা মার্কায় ভোট দিয়ে আবারও জয় যুক্ত করুন। প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি মোতাহার হোসেন এমপির সভাপতিত্বে জনসভায় বিশেষ অতিথি ছিলেন সমাজ কল্যাণ প্রতিমন্ত্রী নুরুজ্জামান আহম্মেদ। এ সময় লামনিরহাট জেলার মহিলা সংরক্ষিত আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট সফুরা বেগম রুমি, লালমনিরহাট জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট মতিয়ার রহমান, আওয়ামী লীগের জেলা যুগ্ম সম্পাদক অধ্যক্ষ সরওযার হায়াত খান, উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি বদিউজ্জামান ভেলু, সাধারণ সম্পাদক মাহামুদুল হাসান সোহাগ, হাতীবান্ধা উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান লিয়াকত হোসেন বাচ্চু, পাটগ্রাম উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান রুহুল আমিন বাবুল প্রমু উপস্থিত ছিলেন। হাতীবান্ধার নবনির্মিত থানা ভবনের উদ্ধোধনী অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন রংপুর বিভাগের ডিআইজি গোলাম ফারুক, লালমনিরহাটের পুলিশ সুপার শহিদুল ইসলাম, লালমনিরহাট জেলা প্রশাসক শফিউল আরিফ প্রমুখ।
খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারির প্রতিবাদে বিক্ষোভ কর্মসূচি ঘোষণা করেছে বিএনপি
দুর্নীতির দুই মামলায় বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারির প্রতিবাদে বিক্ষোভ কর্মসূচি ঘোষণা করেছে বিএনপি। কর্মসূচি অনুযায়ী আগামী রবিবার দেশের মহানগর, জেলা ও থানায় থানায় বিক্ষোভ করবে দলটি। বৃহস্পতিবার বিকালে নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলন করে এই কর্মসূচির কথা জানান বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী। এর আগে দুপরে জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট ও জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় আদালতে হাজির না হওয়ায় খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেন ঢাকার পঞ্চম বিশেষ আদালতের বিচারক ড. মো. আখতারুজ্জামান। খালেদার বিরুদ্ধে পরোয়ানা জারির পরই রাজধানীতে তাৎক্ষণিক বিক্ষোভ করে যুবদল। যুবদল সভাপতি সাইফুল আলম নীরব ও সাধারণ সম্পাদক সুলতান সালাউদ্দিন টুকুর নেতৃত্বে বিক্ষোভ মিছিলটি মৎস্যভবনের সামনে থেকে বের হয়। কাকরাইল মোড়ে গিয়ে বিক্ষোভ শেষ হয়। পরে নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে সংবাদ ব্রিফিংয়ে আগামী রবিবার দেশব্যাপী বিক্ষোভ কর্মসূচি পালনের ঘোষণা করে বিএনপি।
সরকারের বিরুদ্ধে গণঅভ্যুত্থান ঘটনোর হুঁশিয়ারি দিয়েছেন বাম নেতারা
বিদ্যুতের দাম বাড়ানোর প্রতিবাদে ডাকা হরতালকে সফল দাবি করে সরকারের বিরুদ্ধে গণঅভ্যুত্থান ঘটনোর হুঁশিয়ারি দিয়েছেন বাম নেতারা। বৃহস্পতিবার রাজধানীতে ডাকা আধাবেলা হরতাল পালন শেষে প্রেসক্লাবের সামনে সংক্ষিপ্ত সমাবেশে এই হুঁশিয়ারি দেয়া হয়। ভোর ছয়টা থেকে থেকে বেলা দুইটা পর্যন্ত হরতাল পালন শেষে দাবি আদায়ে নতুন কর্মসূচিরও ডাক দেন সিপিবি, বাসদ ও গণতান্ত্রিক বাম মোর্চার নেতারা। শুক্রবার সারা দেশে মিছিলের ডাক নিয়ে নেতারা বলেছেন, ২৪ ঘণ্টার মধ্যে বিদ্যুতের দাবি কমানোর ঘোষণা না এলে শুক্রবার বৃহত্তর কর্মসূচির ঘোষণা দেয়া হবে। গত ২৩ নভেম্বর বিদ্যুতের দাম ইউনিটপ্রতি ৩৫ পয়সা করে বাড়ানোর ঘোষণা দেয় এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন। একে গণবিরোধী সিদ্ধান্ত আখ্যা দিয়ে এর প্রতিবাদে বৃহস্পতিবার ভোর ছয়টা থেকে বেলা দুইটা পর্যন্ত হরতালের ডাক দেয় সিবিপি-বাসদ এবং গণতান্ত্রিক বাম মোর্চা। সকালে রাজধানীর পুরানা পল্টন, প্রেসক্লাব এবং শাহবাগ এলাকায় হরতালের সমর্থনে মিছিল করে বামপন্থীরা। তবে কর্মসূচিতে তেমন সাড়া পাওয়া যায়নি। গুটি কয়েক কর্মী যান চলাচলে তেমন বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারেননি। পুলিশ সকাল থেকে ব্যাপক প্রস্তুতি নিয়ে থাকলেও অনাকাঙ্ক্ষিত কোনো ঘটনা ঘটেনি রাজধানীতে। হরতাল শেষে সমাবেশে বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দল-বাসদের সাধারণ সম্পাদক খালেকুজ্জামান বলেন, হরতালের এখানেই শেষ নয়, এভাবে চললে গণঅভ্যুত্থানের পথ রচিত হতে পারে। যত দিন মুক্তি না আসবে তত দিন কর্মসূচি দেয়া হবে। সরকারি দলের নেতারা উস্কানিমূলক বক্তব্য দেয়ার পরও জনগণ শান্তিপূর্ণভাবে হরতাল সফল করেছে দাবি খালেকুজ্জামান দাবি করেন, বিদ্যুতের দাম বাড়ানোর সিদ্ধান্ত পুরোপুরি অযৌক্তিক। তিনি বলেন, বিইআরসিতে (এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন) গণশুনানি ছিল দাম কমানোর, কিন্তু লুটেরা গোষ্ঠীর স্বার্থ রক্ষার জন্য দাম বাড়ানো হলো। সমাবেশে বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পাটির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল ইসলাম বলেন, আমাদের শান্তিপূর্ণ হরতালে কিশোরগঞ্জ, খুলনা, গাইবান্ধা, জামালপুর, কুমিল্লাসহ দেশের বিভিন্নস্থানে হামলা করা হয়েছে। এই হামলার ঘটনা নজিরবিহীন। শাহবাগে হরতাল সমর্থকদের ভয় পাইয়ে দিতে সাউন্ড গ্রেনেড ব্যবহারেরও সমালোচনা হয় সমাবেশ থেকে। সাইফুল ইসলাম বলেন, এটা মগের মুল্লুক নাকি? এভাবে দেশ চলতে পারে না। সিপিবি অফিসেও হামলা হয়েছে অভিযোগ করে সাইফুল ইসলাম বলেন, সরকারের এমন অবস্থা হয়েছে যে এখন তারা গাছের পাতা দেখেও ভয় পাচ্ছে। সিপিবি নেতা রুহিন হোসেন প্রিন্স, গণ সংহতি আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়কারী জোনায়েদ সাকি, রাজেকুজ্জামান রতন, জলি তালুকদার প্রমুখ সমাবেশে উপস্থিত ছিলেন।

রাজনীতি পাতার আরো খবর