মতিয়া চৌধুরীকে নিয়ে পাল্টাপাল্টি
কৃষিমন্ত্রী মতিয়া চৌধুরীকে নিয়ে শেরপুরে চলছে পাল্টাপাল্টি কর্মসূচি। তাকে জেলা কমিটি ও সংসদীয় এলাকা থেকে প্রত্যাহার করতে কেন্দ্রে জেলা কমিটির সুপারিশের প্রেক্ষিতে দুই পক্ষ মুখোমুখি। সেখানে বিরাজ করছে উত্তেজনা। শনিবার বিকালে জেলা আওয়ামী লীগের কার্যনির্বাহী কমিটির সভায় মতিয়া চৌধুরী, শেরপুর-৩ আসনের এমপি একেএম ফজলুল হকসহ ৫ জনকে জেলা কমিটি থেকে বহিষ্কার ও নালিতাবাড়ী উপজেলা কমিটি বিলুপ্তির সুপারিশ করা হয়। জেলা আওয়ামী লীগের দপ্তর সম্পাদক আবদুল্লাহ আল মামুন স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এসব সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়। জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও হুইপ মো. আতিকুর রহমান আতিকের সভাপতিত্বে সভায় জেলা কার্যনির্বাহী পরিষদের ৭১ সদস্যের মধ্যে ৫২ জন উপস্থিত ছিলেন বলে সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়। এদিকে সভার সিদ্ধান্ত জানার পর মতিয়া চৌধুরীর অনুসারীরা বিক্ষুব্ধ হয়ে বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করছেন। কর্মসূচির মধ্যে গতকাল জেলা ও উপজেলা সদরে বিক্ষোভ মিছিল ও হুইপ আতিকের কুশ পুত্তলিকা দাহ করা হয়েছে। আওয়ামী লীগের একটি বৃহৎ অংশ মতিয়া চৌধুরীর পক্ষ নিয়ে মাঠে নেমেছে। প্রতিবাদে তারা গতকাল সংবাদ সম্মেলনসহ জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি হুইপ আতিউর রহমান আতিকের অপসারণের দাবিতে ঝাড়ু মিছিল ও তার কুশ পুত্তলিকা দাহ করেছে। শহরের খরমপুরস্থ দলীয় কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে জেলা আওয়ামী লীগের ওই সিদ্ধান্তকে তথাকথিত, অগণতান্ত্রিক ও অবৈধ বলে উল্লেখ করে বলা হয়, কৃষিমন্ত্রী বেগম মতিয়া চৌধুরীকে শেরপুর থেকে প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত জেলা আওয়ামী লীগের এখতিয়ার বহির্ভূত। এছাড়া সম্প্রতি দলের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক, সড়ক ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের এমপি সাক্ষরিত এক পত্রের নির্দেশনা অনুযায়ী, কোন কমিটি বা কোন নেতার বিরুদ্ধে শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগ উঠলেও সেই কমিটি বাতিল বা সেই নেতাকে কোনক্রমেই বহিষ্কারের সুযোগ নেই কেন্দ্রীয় কমিটির অনুমোদন ব্যতীত। অর্থাৎ ওই নির্দেশনা অনুযায়ী দলের কাউকে বহিষ্কার করার এখতিয়ার একমাত্র কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী সংসদেরই রয়েছে। কাজেই জেলা আওয়ামী লীগের ওই সিদ্ধান্তই কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী সংসদের সিদ্ধান্তের পরিপন্থি। সংবাদ সম্মেলনে অবিলম্বে জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আতিউর রহমান আতিককে দুর্নীতিবাজ, অযোগ্য ও রাজাকারের সন্তানদের আশ্রয়-প্রশ্রয়দাতা হিসেবে উল্লেখ করে তাকে দলীয় দায়িত্বসহ জাতীয় সংসদের হুইপ পদ থেকে অপসারণের দাবি জানানো হয়। জেলা আওয়ামী লীগের কমিটি বাতিল, মেয়াদোত্তীর্ণ হওয়ার পরও পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠিত না হওয়ায় শেরপুর সদর, শহর, ঝিনাইগাতী ও শ্রীবরদী উপজেলা আওয়ামী লীগের কমিটি বাতিল এবং জেলার দলীয় প্রবীণ আওয়ামী লীগ নেতাদের দিয়ে হুইপ আতিকের দুর্নীতি-অপকর্মের তদন্তের জন্য কেন্দ্রীয় নেতাদের সমন্বয়ে একটি তদন্ত কমিটি গঠনসহ জেলা আওয়ামী লীগের তথাকথিত সভার সিদ্ধান্ত বাতিলের দাবি জানান নেতারা। অন্যথায় সর্বস্তরের দলীয় নেতা-কর্মীদের নিয়ে দুর্নীতিবাজ হুইপ আতিককে অবাঞ্চিত ঘোষণাসহ বৃহত্তর আন্দোলনের হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করা হয়। সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান ও জেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক হুমায়ুন কবীর রুমান। ওইসময় সদর উপজেলা চেয়ারম্যান ছানুয়ার হোসেন ছানু, জেলা আওয়ামী লীগের সাবেক ভারপ্রাপ্ত সভাপতি এডভোকেট মুহাম্মদ আখতারুজ্জামান, জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি, জেলা আওয়ামী লীগের তথ্য ও গবেষণা সম্পাদক এডভোকেট রফিকুল ইসলাম আধার, জেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সমাজকল্যাণ সম্পাদক তাপস সাহা, জেলা মহিলা আওয়ামী লীগের সভাপতি শামছুন্নাহার কামাল, জেলা যুবলীগের সভাপতি হাবিবুর রহমান হাবিব, জেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি ইফতেখার হোসেন কাফি জুবেরী, জেলা কৃষক লীগের সভাপতি আব্দুল কাদির, সদর উপজেলা ভাইস-চেয়ারম্যান বায়েযীদ হাছান, জেলা যুব মহিলা আওয়ামী লীগের আহবায়ক এডভোকেট ফারহানা পারভীন মুন্নী, জেলা পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান সাব্বির আহমেদ খোকন, সদস্য আব্দুল হান্নান ও আয়েশা সিদ্দিকা রূপালী, পৌর প্যানেল মেয়র তৌহিদুর রহমান বিদ্যুৎ, নেপোলীস্থ আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি জয়নাল আবেদীন হাজারী, জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক নাজমুল ইসলাম সম্রাটসহ বিপুল সংখ্যক দলীয় নেতা-কর্মী উপস্থিত ছিলেন। সংবাদ সম্মেলনের পর বিক্ষুব্ধ দলীয় নেতা-কমীরা রাস্তায় হুইপ আতিকের কুশপুত্তলিকা দাহ করে। পরে ঝাড়ুসহ এক বিক্ষোভ মিছিল শহরের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে। এদিকে নকলা ও নালিতাবাড়িতেও বিক্ষোভ মিছিল করেছেন নেতা-কর্মীরা।
খালেদার জামিন চেয়ে হাইকোর্টে আবেদন
বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া তিন মামলায় জামিন চেয়ে হাইকোর্টে আবেদন করেছেন। রবিবার সকালে হাইকোর্টের সংশ্লিষ্ট বিভাগে এ জামিন আবেদন দাখিল করা হয়েছে।বিএনপির আইন সম্পাদক ব্যারিষ্টার কায়সার কামাল জানান, নিম্ন আদালতে এসব মামলায় বেগম খালেদা জিয়ার জামিন চেয়েছিলাম। কিন্তু জামিন আবদনের শুনানি গ্রহণ করলেও অধিকতর শুনানির জন্য রাখা হয়েছে। যা সচরাচর অন্য মামলার ক্ষেত্রে দেখা যায় না। এ কারণে হাইকোর্টে আমরা জামিন চেয়েছি। তিনি আরও জানান, কুমিল্লার ২টি নাশকতার এবং নড়াইলের একটি মানহানির মামলায় হাইকোর্টে জামিন চেয়ছেন খালেদা জিয়া। বিচারপতি এম আসাদুজ্জামান ও বিচারপতি জেবিএম হাসানের ডিভিশন বেঞ্চে জামিন আবেদন শুনানির জন্য অনুমতি চান খালেদা জিয়ার আইনজীবী খন্দকার মাহবুব হোসেন। পরে আদালত আবেদন দাখিলের অনুমতি দেন। উল্লেখ্য, গত ৮ ফেব্রুয়ারি জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট মামলায় বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে পাঁচ বছরের কারাদণ্ড দেন নিম্ন আদালত। এ মামলার অপর আসামি খালেদা জিয়ার বড় ছেলে ও বিএনপির সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমানসহ বাকি পাঁচজনকে ১০ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে তাদের ২ কোটি ১০ লাখ ৭১ হাজার ৬৪৩ টাকা জরিমানাও করা হয়। বর্তমানে পুরান ঢাকার নাজিমুদ্দিন রোডের কারাগারে রয়েছেন খালেদা জিয়া।
খালেদা জিয়া মানেই গণতন্ত্র :রিজভী
বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেছেন খালেদা জিয়ার সঙ্গে নির্বাচনের বিশাল সম্পর্ক আছে। কাদেরের বক্তব্য, খালেদা জিয়াকে নির্বাচন থেকে দূরে রাখার গভীর ষড়যন্ত্র। এটা জবরদস্তিমূলক, একতরফা নির্বাচনেরই ইঙ্গিত দিচ্ছে। আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরের বক্তব্যের জবাবে রবিবার বেলা সাড়ে ১১টায় নয়াপল্টনের দলীয় কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে একথা বলেন তিনি। এ সময় রিজভী বলেন, আমি ওবায়দুল কাদের সাহেবের উদ্দেশে বলতে চাই-বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া মানেই জাতীয়তাবাদী শক্তির প্রতীক, খালেদা জিয়া মানেই বিএনপি, খালেদা জিয়া মানেই গণতন্ত্র। তিনি আরও বলেন, খালেদা জিয়ার নেতৃত্বেই বিএনপি নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে আগামী জাতীয় নির্বাচনে অংশ নেবে। খালেদা জিয়াবিহীন কোনো জাতীয় নির্বাচনে বিএনপি যাবে না, যাওয়ার প্রশ্নই আসে না। সংবাদ সম্মেলনে অন্যদের মধ্যে আরও উপস্থিত ছিলেন বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা হাবিবুর রহমান হাবিব, যুগ্ম-মহাসচিব সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল, বিএনপি নেতা হাবিবুল ইসলাম হাবিব, আসাদুল করীম শাহীন, মুনির হোসেন, আমিনুল ইসলাম প্রমুখ।
সরকার গ্রহণযোগ্য নির্বাচন দিতে বাধ্য হবে :ড. খন্দকার মোশাররফ
গণআন্দোলনের স্রোতের মুখে পড়ে সরকার সুষ্ঠু নির্বাচন দিতে বাধ্য হবে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন। তিনি বলেন, আন্দোলন ঘোষণা দিয়ে হয় না। কোটা আন্দোলন দেখুন। কোনো নেতাও ছিল না। সময় আসছে। শনিবার (১৯ মে) দুপুরে জাতীয় প্রেসক্লাবে গ্রহণযোগ্য নির্বাচন ও বর্তমান নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা শীর্ষক গোলটেবিল আলোচনায় বিএনপি নেতা এসব কথা বলেন। নাগরিক অধিকার আন্দোলন ফোরাম নামে একটি সংগঠন এ গোলটেবিল আলোচনার আয়োজন করে। খন্দকার মোশাররফ হোসেন বলেন, জনগণ আর আমাদের দিকে তাকিয়ে থাকবে না। নিজেরাই রাস্তায় নেমে নিজেদের অধিকার আদায় করে নেবে। সরকার তখন গ্রহণযোগ্য নির্বাচন দিতে বাধ্য হবে। আর খালেদা জিয়া, বিএনপি এবং ২০ দল ছাড়া দেশে কোনো গ্রহণযোগ্য নির্বাচন হবে না। খালোদা জিয়াকে মাইনাস করে যে নির্বাচনের পরিকল্পনা করা হয়েছে জনগণ তা মেনে নেবে না বলে মন্তব্য করে বিএনপির এই নীতি-নির্ধারক বলেন, জনগণের সঙ্গে বারবার প্রতারণা করা যায় না। দেশের জনগণ অত্যন্ত সচেতন। বারবার প্রতারিত হবে না। যদি ২০১৪ সালের পথে আওয়ামী লীগ হাঁটে জনগণ তা রোধ করবে। যারা মনে করছেন জনগণের সঙ্গে প্রতারণা করে ক্ষমতায় টিকে থাকবেন তা ভুলে যান। জনগণ রাস্তায় নামলে টিকতে পারবেন না। গ্রহণযোগ্য নির্বাচন, গণতন্ত্রের মুক্তি, খালেদা জিয়ার মুক্তির জন্য গণআন্দোলনে কোনো বিকল্প নেই বলেও মন্তব্য করেন খন্দকার মোশাররফ। বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদের সমালোচনা করে খন্দকার মোশাররফ বলেন, তিনি বলেছিলেন, রমজানে নিত্যপণ্যের মূল্য বাড়বে না। অথচ রমজানের দুদিনের মধ্যে সব বেড়ে গেছে। তারা বাজার নিয়ন্ত্রণ করতে পারে না। কারণ তাদের কোনো চেইন অব কমান্ড নেই। সা্বেক এই মন্ত্রী বলেন, আন্তর্জাতিক স্বীকৃত স্বৈরাচার সরকারের কবল থেকে মুক্তি পেতে হলে গ্রহণযোগ্য নির্বাচন হতে হবে। আমাদের বন্ধু রাষ্ট্রগুলো বলছে অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন হতে হবে। আর খালেদা জিয়া এবং বিএনপি যদি অংশ না নেয় সেটা কখনো গ্রহণযোগ্য নির্বাচন হবে না। খন্দকার মোশাররফ হোসেন আরো বলেন, হাইকোর্ট জামিন দিল, আপিল বিভাগও জামিন দিল। কিন্তু অন্য মামলাগুলো নিয়ে যেভাবে পরিকল্পনা করছে সরকার সেটিই বাস্তবায়ন করছে। যদি খালেদা জিয়াকে বন্দি রেখে নির্বাচন করতে চায় সে নির্বাচন গ্রহণযোগ্য হবে না। জনগণ তা মেনে নেবে না। আয়োজক সংগঠনের উপদেষ্টা মোশাররফ হোসেনের সভাপতিত্বে এবং সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক এম জাহাঙ্গীর আলমের সঞ্চালনায় আলোচনা সভায় আরো বক্তব্য দেন বিএনপির চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা আমান উল্লাহ আমান, নির্বাহী কমিটির সদস্য নাজিম উদ্দীন আলম, আবু নাসের মোহাম্মাদ রহমতুল্লাহ, জিনাফের সভাপতি মিয়া মো. আনোয়ার প্রমুখ।
কারাগারে খালেদা জিয়া গুরুতর অসুস্থ
সর্বোচ্চ আদালত জামিন দেয়ার পরও বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে কারাগারে আটকে রেখে কষ্ট দেয়া হচ্ছে বলে মন্তব্য করেছেন দলটির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহল কবির রিজভী। শনিবার (১৯ মে) সকালে রাজধানীর নয়াপল্টনে দলীয় কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন তিনি। রুহল কবির রিজভী বলেন, কারাগারে খালেদা জিয়া গুরুতর অসুস্থ। হাত ও পায়ের ব্যথায় হাঁটতে পারছেন না, ঠিকমত ঘুমাতে পারছেন না। পবিত্র মাহে রমজানেও তার ওপর সর্বোচ্চ জুলুম চলছে। বিএনপি চেয়ারপারসনকে তিলে তিলে শেষ করে দিতেই শেখ হাসিনার নির্দেশে জামিনযোগ্য মামলায় তাকে জামিন দেয়া হচ্ছে না বলে অভিযোগ করেন তিনি। রিজভী বলেন, উচ্চ আদালত থেকে জামিন পাওয়ার পর এখনও খালেদা জিয়াকে মুক্তি দিচ্ছে না সরকার। বরং নতুন নতুন জামিনযোগ্য মামলায় তাকে আটকানো হচ্ছে। যা সম্পূর্ণ অন্যায় ও ন্যায় বিচারের পরিপন্থী। বিএনপি নেতা বলেন, তিনি (খালেদা) যেসব মামলায় জামিনে ছিলেন সেসব মামলায়ও গ্রেফতার দেখাতে নির্দেশ দেয়া হচ্ছে। আওয়ামী সরকারই নানা ফন্দি-ফিকির করছে কীভাবে বিএনপিকে নির্বাচন থেকে দূরে রেখে আবারও ২০১৪ এর ৫ জানুয়ারির মতো প্রহসনের নির্বাচন করা যায়। তিনি আরও বলেন, খুলনার কারচুপির নতুন মডেলের নির্বাচনে দেশে-বিদেশে সমালোচনার ঝড় বইলেও আওয়ামী লীগ প্রধান শেখ হাসিনা ও তার দলের নেতারা খুলনার নির্বাচন নিয়ে তৃপ্তির ঢেকুর তুলছেন। রিজভী বলেন, পবিত্র রমজানে দেশব্যাপী নিত্য প্রয়োজনীয় খাদ্যপণ্যের সীমাহীন মূল্য বৃদ্ধিতে মানুষ দিশেহারা। বাজার নিয়ন্ত্রণে ১২টি সংস্থাকে নাকি সরকার নিয়োগ দিয়েছে। কিন্তু ক্ষমতাসীন সিন্ডিকেটের দৌরাত্মে বাজার নিয়ন্ত্রণে তারা ব্যর্থ হয়েছে।
খালেদা জিয়ার মুক্তি দাবি ও নির্বাচন প্রস্তুতি বিএনপির
একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে এটাই শেষ রমজান। তাই কেন্দ্রীয়ভাবে ঢাকা ছাড়াও এবার তৃণমূলেও ইফতার পার্টি দেবেন বিএনপির সম্ভাব্য এমপি প্রার্থীরা। দলের চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তি আন্দোলনের বার্তা তৃণমূলে ছড়িয়ে দেওয়া এবং দলীয় প্রার্থী হিসেবে জানান দেওয়াই তাদের উদ্দেশ্য। জানা যায়, রমজানের প্রথম ইফতার গতকাল যথারীতি এতিম ও ওলামা-মাশায়েখদের সঙ্গে করে বিএনপি। রাজধানীর লেডিস ক্লাবে এই ইফতার পার্টি অনুষ্ঠিত হয়। এরপর একই স্থানে আজ রাজনৈতিক দলগুলোর সম্মানে ইফতার আয়োজন করেছে দলটি। এ ছাড়া রবিবার রাজধানীর ওয়েস্টিন হোটেলে কূটনীতিকদের সম্মানে ইফতারের আয়োজন করেছে বিএনপি। বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর জানান, আমরা বরাবরের মতো এবারও রমজানে কয়েকটি ইফতার মাহফিল করব। তবে দুঃখজনক হলো এবার ইফতার মাহফিলে দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া উপস্থিত থাকতে পারছেন না। তাকে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ অন্যায়ভাবে কারাগারে পাঠিয়েছে। তার পরও দলের পক্ষ থেকে ইফতার পার্টি সফল করতে আমরা সর্বাত্মক চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি। বিএনপির একাধিক সিনিয়র নেতা জানান, রমজানে ইফতার পার্টি হলেও এবার আড়ালে থাকবে জাতীয় নির্বাচনের বার্তা। বিশেষ করে সরকারবিরোধী অন্য রাজনৈতিক দলগুলোকে ইফতারে চায় বিএনপি। আওয়ামী লীগ, জাতীয় পার্টি ও জাসদ (ইনু) বাদে বাকি ৩৭টি রাজনৈতিক দলকে ইফতারের দাওয়াত দেওয়া হয়েছে। অবশ্য এর আগের বছরও আওয়ামী লীগকে ইফতার পার্টির দাওয়াত দেওয়া হয়। দাওয়াত না দেওয়ার কারণ হিসেবে বিএনপি নেতারা জানান, তাদের দাওয়াত দিলেও আসবে না। তা ছাড়া আওয়ামী লীগ জোটের বিরুদ্ধে সব দলকে এক প্লাটফরমে আনতে হবে। সরকারের বাইরে থাকা দলগুলোর সমন্বয়ে একটি রাজনৈতিক ঐক্যও গড়ে তুলতে চেষ্টা করা হবে। জোটের বাইরে গণফোরাম, বিকল্পধারা, জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল জেএসডি, নাগরিক ঐক্য, কৃষক শ্রমিক জনতা লীগসহ অন্যান্য দলকেও দাওয়াত দেওয়া হয়েছে। তাদের দাওয়াতপত্র পৌঁছে দেন বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান বরকত উল্লা বুলু, শামসুজ্জামান দুদু ও চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা আমানউল্লাহ আমান। বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান বরকত উল্লা বুলু বলেন, জোট-মহাজোটের বাইরে কয়েকটি রাজনৈতিক দলকে আমরা আমন্ত্রণ জানিয়েছি। তারা আমাদের আমন্ত্রণপত্র গ্রহণ করেছেন। সূত্রমতে, ৩০০ আসনে সম্ভাব্য এমপি প্রার্থীরা আটঘাট বেঁধে এবার ইফতার পার্টি করার প্রস্তুতি নিচ্ছেন। তবে প্রার্থীদের মধ্যে অজানা শঙ্কাও কাজ করছে। সদ্যসমাপ্ত খুলনা সিটির মতো নির্বাচন হলে ফলাফল শূন্য হতে পারে এমন দুশ্চিন্তাও অনেকের মধ্যে। তা ছাড়া মাঠের নেতারা মনে করেন, বেগম খালেদা জিয়াবিহীন নির্বাচনের পথে হাঁটছে সরকার। সে ক্ষেত্রে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার অধীনে নির্বাচন হলে ভরাডুবিও হতে পারে। সব দিক মাথায় রেখেই নির্বাচনের প্রস্তুতি নিচ্ছে বিএনপি। সম্ভাব্য প্রার্থীরা জেলা-উপজেলার পাশাপাশি অনেকেই ইউনিয়ন পর্যায়েও ইফতার পার্টি দেওয়ার চিন্তাভাবনা করছেন। জানা যায়, কেন্দ্র থেকে তৃণমূলে ইফতারের পাশাপাশি একাদশ জাতীয় নির্বাচনে যেতে বেশকিছু দাবি নিয়ে এগোচ্ছে বিএনপি। এর মধ্যে প্রধান দাবি হলো, শিগগিরই দলের চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তি। সেই সঙ্গে বিএনপির দাবির সঙ্গে যুক্ত হয়েছে বেগম খালেদা জিয়াসহ সর্বস্তরের নেতা-কর্মীর মামলা প্রত্যাহার। তৃণমূলে নেতাদের বক্তৃতা-বিবৃতিতে এসব নিয়ে কথা বলতে বলা হয়েছে। বিএনপির অন্য দাবির মধ্যে রয়েছে সংসদ নির্বাচনের অন্তত এক সপ্তাহ আগে সেনা মোতায়েন করতে হবে। তৈরি করতে হবে লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড। তফসিলের আগেই সংসদ ভেঙে দিয়ে প্রধানমন্ত্রীর পদত্যাগ দাবিও তাদের। ২০০৮ সালের আগে নির্ধারিত সীমানায়ও নির্বাচন চায় দলটি। এর ব্যত্যয় ঘটলে আন্দোলনের মাধ্যমেই দাবি আদায়ের পরিকল্পনা রয়েছে দলটির। এ প্রসঙ্গে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, এ মুহূর্তে বেগম জিয়ার মুক্তিই আমাদের মূল লক্ষ্য। বিএনপি চেয়ারপারসন ও ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানকে তারা নির্বাচনে অযোগ্য ঘোষণা করে রাজনীতি থেকে দূরে রাখতে চায়। কিন্তু সরকারের এ ষড়যন্ত্র টিকবে না। দলের স্থায়ী কমিটির একাধিক সদস্যের সঙ্গে আলাপকালে জানা গেছে, সরকার যদি নির্বাচন নিয়ে ইতিবাচক মনোভাব পোষণ করে তাহলে বিএনপিও সর্বোচ্চ ছাড় দেওয়ার কথা চিন্তাভাবনা করবে। কিন্তু সরকার যদি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বর্তমান ক্যাবিনেট রেখেই নির্বাচন করতে চায়, তাতে অংশ নেওয়া বিএনপির জন্য কঠিন হয়ে পড়বে। এজন্য নির্বাচনকালীন সরকার নিয়ে সব দলের সঙ্গেই সংলাপ করা জরুরি। কিন্তু সরকার যদি একতরফা নির্বাচনের পথেই হাঁটে তাহলে বিএনপি ইতিবাচক চিন্তাভাবনা থেকে সরেও আসতে পারে। জানা যায়, একাদশ নির্বাচনের তফসিলের আগ মুহূর্তে সরকারকে বড় ধাক্কা দিতে চায় বিএনপি। আগস্ট-সেপ্টেম্বর থেকেই গণতান্ত্রিক শক্ত কর্মসূচিতে যাওয়ার চিন্তাভাবনা রয়েছে। এর মধ্যে আইনি প্রক্রিয়ায় বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তি না মিললে আন্দোলনের পথেই থাকবে দলটি। বিএনপি মনে করছে, সরকারকে চাপে রাখতে পারলে খালেদা জিয়ার মুক্তিসহ সব দাবি আদায়ই সম্ভব। একই সঙ্গে নির্বাচনী প্রস্তুতিও থাকবে দলটির। তিন ধাপে সম্ভাব্য প্রার্থীদের প্রস্তুতি নেওয়ার দিকনির্দেশনা দেওয়া হচ্ছে। বিএনপির যুগ্মমহাসচিব সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল বলেন, ধাপে ধাপে আন্দোলনে পরিবর্তন আসবে। এখন নরম হলেই যে সারা বছর এমনটাই থাকবে, তাও নয়। পর্যায়ক্রমে আন্দোলনের গতি পরিবর্তন হতে পারে, সেটাও খুব একটি বেশি দূরে নয়।
ইফতার রাজনীতিতে ভোটের বার্তা, তৃণমূলে দল ও জোট চাঙ্গা করবে আ-লীগ
একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে থাকায় এবার রমজান মাসে চলবে রাজনীতির ইফতার। এতে তৃণমূল, জোট ও ভোট গোছানোর কাজ করবে আওয়ামী লীগ। ইফতার পার্টির মাধ্যমে সাংগঠনিক কর্মকাণ্ড চাঙ্গার পাশাপাশি সরকারের প্রতি বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের সমর্থন আদায়ের জোর চেষ্টা চালাবে দলটি। আওয়ামী লীগ সভানেত্রী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পক্ষ থেকে তার সরকারি বাসভবন গণভবনে থাকবে ইফতার আয়োজন। ঈদের পর গাজীপুর সিটি করপোরেশন নির্বাচন। এরপর রয়েছে সিলেট, রাজশাহী ও বরিশাল সিটি করপোরেশনের ভোট। আগামী ডিসেম্বরে হবে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন। ফলে তৃণমূলকে আরও সুসংগঠিত করতে রমজান মাসে আওয়ামী লীগ ইফতারকেন্দ্রিক সাংগঠনিক কর্মসূচিকে গুরুত্ব দিচ্ছে। কেন্দ্রীয় নেতা, এমপি-মন্ত্রীদের স্ব স্ব এলাকায় গিয়ে দলকে ঐক্যবদ্ধ করার তাগিদ দিয়েছেন শেখ হাসিনা। এ ছাড়া দলের মনোনয়নপ্রত্যাশীরাও ইফতার রাজনীতিকে বেছে নিচ্ছেন জনগণের কাছাকাছি যাওয়ার। আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে রমজান মাস জুড়ে উপজেলা, ইউনিয়ন ও ওয়ার্ড পর্যায়ে ইফতার মাহফিল ও আলোচনা সভার আয়োজন থাকবে। এর মাধ্যমে দল ও জোটকে শক্তিশালী করা হবে। দলীয় সূত্রমতে, কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগ ইফতারের আয়োজন না করলেও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা গণভবনে এ বছর আগামী ছয় দিন ইফতার কর্মসূচি রেখেছেন। এর মধ্যে ২১ মে যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধা, এতিম, প্রতিবন্ধী শিশু ও আলেমদের সঙ্গে; ২৩ মে বিচারপতি, কূটনীতিক ও সরকারি কর্মকর্তা (সামরিক/বেসমারিক); ২৮ মে পেশাজীবী; ২ জুন আত্মীয়-পরিজন, ৪ জুন রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ ও ৬ জুন আইনজীবীদের সঙ্গে ইফতার করবেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। আওয়ামী লীগের নীতিনির্ধারক সূত্রে জানা গেছে, প্রধানমন্ত্রীর মাসব্যাপী ইফতার অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে কার্যত দল ও দলের সহযোগী সব সংগঠনের নেতা-কর্মীকে চাঙা করা হবে। শুধু ঢাকাতেই নয়, ইফতার রাজনীতি তৃণমূলে প্রভাব পড়বে সবচেয়ে বেশি। ইফতার রাজনীতিকে কেন্দ্র করেই জমে উঠবে সংসদ নির্বাচনের প্রচারণা। রমজানে গরিব-দুঃখীদের মধ্যে ইফতারিসামগ্রী, জামাকাপড় ও জাকাত বিতরণের মাধ্যমে মানুষের ভালোবাসা আদায়ের চেষ্টায় থাকবেন মনোনয়নপ্রত্যাশীরা। এ ছাড়া তৃণমূলে যেসব নেতা-কর্মীর সঙ্গে এমপি-মন্ত্রীদের দূরত্ব রয়েছে, তা নিরসনের চেষ্টা করবেন এবারের রমজানে। জানা গেছে, কেন্দ্রের পক্ষ থেকে সিদ্ধান্ত না এলেও ঢাকা মহানগরী আওয়ামী লীগ ইফতারকেন্দ্রিক রাজনীতি করবে রমজান মাস জুড়েই। প্রতিদিন বঙ্গবন্ধু এভিনিউতে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে ইফতারের আয়োজন রাখা হচ্ছে। মহানগরী আওয়ামী লীগের প্রতিটি থানা ও ওয়ার্ডে ইফতার অনুষ্ঠানে যোগ দেবেন দলের কেন্দ্রীয় ও মহানগরী নেতারা। আওয়ামী লীগ মনে করছে, ইফতারকেন্দ্রিক সাংগঠনিক কর্মসূচিতে দল চাঙা হবে। এসব কর্মসূচিতে মন্ত্রীরাও অংশ নেবেন। এ প্রসঙ্গে আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য পীযূষকান্তি ভট্টাচার্য বলেন,রমজানে নেতা-কর্মী ও এমপি-মন্ত্রীদের নিজ নিজ এলাকায় যেতে দলীয় সভানেত্রী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বিশেষ নির্দেশনা দিয়েছেন। আসা করি পবিত্র রমজান মাসে তারা স্থানীয় নেতা-কর্মী, ১৪ দলের শরিক নেতা-কর্মী ও সাধারণ মানুষের সঙ্গে সুসম্পর্ক তৈরি করতে সক্ষম হবেন। এতে দল ও ১৪ দলীয় জোটের নেতা-কর্মীরা সুসংগঠিত ও ঐক্যবদ্ধ হবেন বলে মনে করি। দলীয় সূত্রমতে, একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে মুখ দেখে নয়, জরিপ দেখে দলীয় মনোনয়ন দেওয়া হবে শেখ হাসিনার এমন ঘোষণায় এমপি-মন্ত্রীরা এখন অনেকটাই এলাকামুখী। তাদের পাশাপাশি মনোনয়নপ্রত্যাশীরাও নির্বাচনী এলাকার গ্রাম-ওয়ার্ড, পাড়া-মহল্লা চষে বেড়াচ্ছেন। আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক এ কে এম এনামুল হক শামীম বলেন,রমজান মাসে রাজনৈতিক কর্মসূচি না থাকলেও দলের নেতা-কর্মীদের আয়োজনে বিভাগীয়, জেলা-উপজেলা, ইউনিয়ন ও ওয়ার্ড পর্যায়ে ইফতারের আয়োজন করা হয়। এর মাধ্যমে নেতা-কর্মীদের সঙ্গে সাক্ষাতের পাশাপাশি অনির্ধারিত আলোচনায় দলের বর্তমান অবস্থার চিত্র পাওয়া যায়। রমজানে রাজনৈতিক কর্মসূচি না থাকলেও ইফতারে অংশ নিয়ে আমরা দলকে সুসংগঠিত করার চেষ্টা করব। আরেক সাংগঠনিক সম্পাদক আবু সাঈদ আল মাহমুদ স্বপন বলেন,একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে আমার নির্বাচনী এলাকার প্রতিটি ওয়ার্ডে দলের পক্ষ থেকে ইফতারের আয়োজন করা হচ্ছে। এ ছাড়া দায়িত্বপ্রাপ্ত সাংগঠনিক সম্পাদক হিসেবে বেশ কয়েকটি জেলায় ইফতারে অংশ নেব। রাজনৈতিক কর্মসূচি না থাকলেও সারা দেশ সফরে যাবেন কেন্দ্রীয় নেতারা।
গণতন্ত্রের বিজয় হয়েছে খুলনা সিটি নির্বাচনে
খুলনা সিটি করপোরেশন নির্বাচনে আওয়ামী লীগের বিজয়, গণতন্ত্রের বিজয় হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী ও ১৪ দলের মুখপাত্র মোহাম্মদ নাসিম। বুধবার ধানমন্ডি ৩২ নম্বরে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতিকৃতিতে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানানোর পর আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য মোহাম্মদ নাসিম এ মন্তব্য করেন। বঙ্গবন্ধু-১ স্যাটেলাইট সফলভাবে উৎক্ষেপণ উপলক্ষে কেন্দ্রীয় ১৪ দলের পক্ষ থেকে বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে শ্রদ্ধা জানানো হয়। জনগণের ভোটের অধিকার প্রয়োগের বিজয় হয়েছে বলে মন্তব্য করে স্বাস্থ্যমন্ত্রী নাসিম বলেন,নির্বাচন সুষ্ঠু হয়েছে। বিএনপির প্রার্থীর একটি কেন্দ্র নিয়ে অভিযোগ ছিল, যা নির্বাচন কমিশন বন্ধ করে দিয়েছে। নির্বাচন হলে জয়-পরাজয় থাকবে। কিন্তু যেকোনো জয়-পরাজয়কে শান্ত মনে গ্রহণ করাটাই হচ্ছে গণতন্ত্রের আচরণ। এই নির্বাচনের মধ্য দিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার উন্নয়নের যাত্রা এবং শান্তির পথে বাংলাদেশএটা প্রমাণ হয়ে গেছে। তিনি আরও বলেন,খুলনা সিটি করপোরেশন নির্বাচনে সুষ্ঠু নির্বাচন হবে কি না, তা নিয়ে অনেক আশঙ্কা ছিল। সুষ্ঠু, অবাধ ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের মধ্য দিয়ে মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের শক্তির বিজয় হয়েছে। আওয়ামী লীগের প্রার্থী তালুকদার আবদুল খালেদ একজন পরিচ্ছন্ন ও সফল মেয়র ছিলেন। খুলনার জনগণ তাদের ভুল বুঝতে পেরে তাঁকে বিজয়ী করেছে। বর্তমান নির্বাচন কমিশনের মাধ্যমে সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন হয়েছে এবং জনগণ ভোট দিয়েছে। এ সময় এক প্রশ্নের জবাবে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন,আদালতের রায়ে সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া কারাগারে আছেন। তাঁর চিকিৎসা নিয়ে আওয়ামী লীগ কেন রাজনীতি করবে? রাজনীতি করার প্রশ্নই ওঠে না। সার্বিকভাবে মর্যাদার সঙ্গে তাঁর চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে, বরং বিএনপিই খালেদা জিয়ার চিকিৎসা নিয়ে রাজনীতি করছে। মোহাম্মদ নাসিম বলেন,বঙ্গবন্ধু-১ স্যাটেলাইট উৎক্ষেপণের মধ্য দিয়ে মহাকাশ বিজয় করেছি। আমরা মহাকাশে বঙ্গবন্ধুর জয় বাংলা স্লোগান পৌঁছে দিয়েছি। বাংলার সার্বিক উন্নয়ন ও ভবিষ্যৎ প্রজন্মের স্বার্থে আজকে এই মহাকাশ বিজয়। এ সময় কেন্দ্রীয় ১৪ দলের শরিক দল বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি ও সমাজকল্যাণমন্ত্রী রাশেদ খান মেনন, তরিকত ফেডারেশনের চেয়ারম্যান সৈয়দ নজিবুল বশর মাইজভান্ডারি, সাম্যবাদী দলের সাধারণ সম্পাদক দিলীপ বড়ুয়া, জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দলের (জাসদ) সভাপতি শরীফ নুরুল আম্বিয়া, জাসদের সাধারণ সম্পাদক শিরীন আখতার প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।
সিটি নির্বাচনের ফলাফল প্রত্যাখ্যান,সিইসির পদত্যাগ দাবি রিজভীর
বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম-মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী খুলনা সিটি করপোরেশন (কেসিসি) নির্বাচনের ফলাফল প্রত্যাখ্যান করে প্রধান নির্বাচন কমিশনারের পদত্যাগ দাবি করেছেন। নয়াপল্টনে দলীয় অফিসে বুধবার (১৬ মে) দুপুরে সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, মঙ্গলবারের ভোট নিরস্ত্র ভোটারদের ওপর অবৈধ সরকারের অবৈধ ক্ষমতা প্রদর্শন ছাড়া আর কিছুই নয়। বিএনপির এই নেতা আরও বলেন, ভোট শেষে প্রধান নির্বাচন কমিশনার লজ্জায় গণমাধ্যমের সামনে আসেননি। তবে ইসি সচিব গণমাধ্যমকে বলেছেন- খুলনায় চমৎকার ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচন হয়েছে। উনি ঠিকই বলেছেন। ওইখানকার ভোটের পরিবেশই হচ্ছে শেখ হাসিনা মার্কা নির্বাচন- যে নির্বাচনে দ্বিতীয় শ্রেণী পড়ুয়া ছেলে একই সঙ্গে বাবার সঙ্গে ভোট দিতে পারে। কেন্দ্রে যাবার আগেই ভোটারদের ভোট দেয়া হয়ে যায়। পুলিশের সহায়তায় কেন্দ্র দখল করে ভোট ডাকাতির উৎসব চলে। ভোটাররা লাইনে দাঁড়িয়ে থাকলেও ব্যালট পেপার আগেই শেষ হয়ে যায়। কেন্দ্র দখল করে আধা ঘণ্টায় ১২০০ ভোট দেয়া হয়। তিনি বলেন, অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন করতে নির্বাচন কমিশনের সদিচ্ছা নেই। তাদের সে সামর্থও নেই, যোগ্যতাও নেই। ভোট ডাকাতি, ভোট সন্ত্রাস, জাল ভোট, ভোট কেন্দ্র দখল, অবৈধ অস্ত্রের আস্ফালন ছাড়া আওয়ামী লীগের বিজয় নিশানে হাওয়া লাগে না। রুহুল কবির রিজভী বলেন, বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার সঙ্গে তার আত্মীয়স্বজন ২দিন আগে দেখা করেছেন। তারা তার অসুস্থতা দেখে বেদনাহত হয়েছেন। তার শারীরিক অসুস্থতা ক্রমাগত অবনতিশীল। সরকারের নিয়োগকৃত চিকিৎসকদের পরামর্শ অনুযায়ী কোনো ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়নি। তাকে দেয়া হয়নি অর্থোপেডিক বেড, করা হয়নি নিয়মিত ফিজিওথেরাপির ব্যবস্থা এবং উন্নত মানের এমআরআই দিয়ে পরীক্ষা করা। প্রতিরাতে জ্বরে ভুগছেন তিনি। বারবার দাবি জানানোর পরেও ব্যক্তিগত চিকিৎসকদের দিয়ে খালেদার চিকিৎসা অগ্রাহ্য করা হয়েছে। চিকিৎসা নিয়ে সরকারের উদ্দেশ্যপ্রণোদিত উদাসীনতা ও উপেক্ষায় তার কোনরুপ ক্ষতি হলে সরকার কোনভাবেই রেহাই পাবে না। বিএনপি চেয়ারপারসনের ব্যক্তিগত সহকারী শামসুর রহমান শিমুল বিশ্বাস নারায়ণগঞ্জ কারাগারে বন্দি আছেন। তিনি বর্তমানে গুরুতর অসুস্থ হলেও জেল কর্তৃপক্ষ তার চিকিৎসার ব্যবস্থা না নেয়ায় রিজভী উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তিনি অবিলম্বে শিমুল বিশ্বাসের সুচিকিৎসা ও নিঃশর্ত মুক্তির দাবি জানান। সংবাদ সম্মেলনে অন্যান্যের মধ্যে বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান ডা. এজেড এম জাহিদ হোসেন, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা আব্দুস সালাম, যুগ্ম-মহাসচিব খায়রুল কবির খোকন, বিএনপি নেতা হাবিবুল ইসলাম হাবিব, তাইফুল ইসলাম টিপু প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।