৮ ফেব্রুয়ারি সতর্ক অবস্থানে থাকবে আওয়ামী লীগ
বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার দুর্নীতি মামলার রায় ঘিরে ৮ ফেব্রুয়ারি সতর্ক অবস্থানে থাকবে সরকারি দল আওয়ামী লীগ। রায়কে কেন্দ্র করে বিএনপির যে কোনো ধরনের সহিংসতাকে প্রশাসনিক ও রাজনৈতিকভাবে মোকাবিলার প্রস্তুতি রয়েছে শাসক দলের। ওইদিন জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলার রায় ঘিরে রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন জেলায় ভাঙচুর, অগ্নিসংযোগসহ আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতির আশঙ্কা করছেন গোয়েন্দারা। সে অনুযায়ী রায়ের আগে ও পরে সারা দেশে বিশেষ নিরাপত্তামূলক ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সরকারকে ইতোমধ্যে পরামর্শ দিয়েছে গোয়েন্দারা। গোয়েন্দা পরামর্শ অনুযায়ী পুলিশ যে কোনো ধরনের নৈরাজ্য ঠেকাতে আগাম প্রস্তুতি নিচ্ছে। এরই অংশ হিসেবে বিএনপি-জামায়াত অধ্যুষিত জেলাগুলোয় গোয়েন্দা নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। ওইসব জেলায় বিশেষ অভিযান পরিচালনারও প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে। বিশেষ করে বিএনপি-জামায়াতের যেসব নেতাকর্মী বিশৃঙ্খল পরিস্থিতি সৃষ্টি করতে পারে, তাদের গোপন তালিকা ধরে গ্রেপ্তার অভিযান চালানোর প্রস্তুতি নিচ্ছে পুলিশ। আওয়ামী লীগের নীতিনির্ধারণী পর্যায়ের একাধিক নেতা জানিয়েছেন, জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলার রায়কে কেন্দ্র করে বিএনপির নেতাকর্মী ঢাকায় সহিংসতা চালাতে পারে- এমন বার্তা সরকারের কাছে রয়েছে। তবে বিএনপির সহিংসতাকে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী দিয়ে মোকাবিলার পক্ষে আওয়ামী লীগের শীর্ষনেতারা। তাদের মতে, বিএনপি নেতাকর্মীদের সঙ্গে আগ বাড়িয়ে কোনো ধরনের সংঘর্ষে জড়িয়ে বদনাম কুড়াবে না আওয়ামী লীগ। বিএনপির নৈরাজ্য ঠেকানোর জন্য র্যাব-পুলিশই যথেষ্ট। তার পরও আওয়ামী লীগের প্রস্তুতি থাকবে, প্রয়োজনে যে কোনো পরিস্থিতি মোকাবিলা করবে দলটির নেতাকর্মীরা। এ বিষয়ে জানতে চাইলে আওয়ামী লীগের সভাপতিমন্ডলীর সদস্য কাজী জাফরউল্লাহ সোমবার বিকালে বলেন, ৮ ফেব্রুয়ারি খালেদা জিয়ার রায়কে ঘিরে আমাদের কোনো কর্মসূচি নেই। রায় কেন্দ্র করে বিএনপির নেতাকর্মীরা দেশে কোনো অস্থিতিশীল পরিবেশ সৃষ্টি করতে চাইলে বিষয়টি প্রশাসন দেখবে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কাজ দেশে আইনের শাসন সুরক্ষিত করা। দলটির সাংগঠনিক সম্পাদক খালিদ মাহমুদ চৌধুরী বলেন, বিএনপির পরিকল্পনা নিয়ে চিন্তিত নই আমরা। আওয়ামী লীগ চায় দেশে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠায় নেতৃত্ব দিতে। যারা অপরাধী তাদের শাস্তি পেতেই হবে। অপরাধীদের কোনো ছাড় নেই আওয়ামী লীগ সরকারের শাসনামলে। দেশের প্রচলিত আইনের প্রতি যারা অবজ্ঞা প্রদর্শন করবে, তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও জানান তিনি। আওয়ামী লীগের প্রচার সম্পাদক হাছান মাহমুদ বলেন, খালেদা জিয়ার রায়কে কেন্দ্র করে বিএনপির নেতাকর্মীরা কোনো অস্থিতিশীল পরিস্থিতি সৃষ্টি করতে চাইলে তাদের প্রশাসনিক ও রাজনৈতিকভাবে প্রতিহত করা হবে। পুলিশ সূত্র জানিয়েছে, অতীতে যারা ভাঙচুর-অগ্নিসংযোগের ঘটনায় প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে জড়িত ছিলেন, তাদের ধরতে শুরু হচ্ছে বিশেষ অভিযান। এরই অংশ হিসেবে তাদের গতিবিধি নজরে রাখা হচ্ছে। উদ্ভূত পরিস্থিতি নিয়ে পুলিশের নতুন আইজি ড. মোহাম্মদ জাবেদ পাটোয়ারী শিগগিরই বৈঠক করবেন অধীনস্থ কর্মকর্তাদের নিয়ে। কাল তিনি আইজিপি হিসেবে দায়িত্ব নেবেন। ৮ ফেব্রুয়ারি জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলার রায়। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান বলেছেন, রায় ঘিরে কেউ নৈরাজ্যের চেষ্টা করলে আইন অনুযায়ী কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। যে কোনো ধরনের বিশৃঙ্খল পরিস্থিতি ঠেকাতে তাদের প্রস্তুতি রয়েছে বলেও জানান তিনি। খালেদা জিয়ার মামলার রায় ঘিরে ইতোমধ্যে ক্ষমতাসীন দল ও বিএনপির নেতারা পাল্টাপাল্টি বক্তব্য ও হুশিয়ারি উচ্চারণ করছেন। এ নিয়ে ইতোমধ্যে রাজধানীর মাঠ উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে। বিএনপি নেতারা বলেছেন, খালেদা জিয়ার সাজা দেওয়া হলে তারা স্বেচ্ছায় কারাবরণ করবেন। অন্যদিকে আওয়ামী লীগ নেতারা বলছেন, খালেদা জিয়ার রায় ঘিরে বিএনপি দেশজুড়ে নৈরাজ্য সৃষ্টির পাঁয়তারা করছে। পুলিশ সূত্র জানিয়েছে, রায় ঘিরে যে কোনো ধরনের নৈরাজ্যকর পরিস্থিতি মোকাবিলায় ৮ ফেব্রুয়ারি সকাল থেকেই রাজধানীতে থাকবে সর্বোচ্চ সতর্কাবস্থা। রাজধানীর সব থানায় মোতায়েন করা হবে বাড়তি পুলিশ। নিরাপত্তাব্যবস্থায় থাকবে জলকামান, এপিসিসহ অন্যান্য ব্যবস্থাও। ওইদিন সকাল থেকেই পুরান ঢাকার বিশেষ আদালত ঘিরে নেওয়া হবে কঠোর নিরাপত্তাব্যবস্থা। জাতীয় প্রেসক্লাব, হাইকোর্ট, শাহবাগ, বাংলামোটর, ফার্মগেট, পল্টন, জিরোপয়েন্ট, মগবাজার, মালিবাগ, আজিমপুর মোড়সহ রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ সব পয়েন্টে ইউনিফর্মে পুলিশ মোতায়েন করা হবে। পাশাপাশি সাদা পোশাকে গোয়েন্দা পুলিশের একাধিক টিম সর্বোচ্চ সতর্কতায় থাকবে। রাস্তায় সতর্ক পাহারায় থাকবে র্যাব। সূত্র জানিয়েছে, ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারির নির্বাচনের আগে-পরে যেসব বিএনপি নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে, তাদের খোঁজখবর এখনই শুরু হয়েছে। তাদের প্রত্যেকের ওপর এখন গোয়েন্দা নজরদারি চলছে। এ ছাড়া বিএনপির সিনিয়র নেতাদের গতিবিধিও নজরে রাখছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও গোয়েন্দারা। আওয়ামী লীগের নেতারা আরও জানান, ৮ ফেব্রুয়ারি খালেদা জিয়ার রায়কে কেন্দ্র করে বিএনপি নেতাকর্মীরা যাতে ঢাকায় এসে জড়ো হতে না পারেন, সে জন্য সতর্ক দৃষ্টি রাখা হবে ঢাকার পার্শ্ববর্তী জেলাগুলোয়। এ ছাড়া ঢাকার বিভিন্ন পাড়া-মহল্লা থেকে যেন মিছিল নিয়ে কেউ রাজপথে নামতে না পারে, সেদিকেও খেয়াল রাখা হবে। এ বিষয়ে জানতে চাইলে ঢাকা মহানগর আওয়ামী লীগ দক্ষিণের সাধারণ সম্পাদক শাহে আলম মুরাদ বলেন, রাজধানীর পাড়া-মহল্লা থেকে বেরিয়ে বিএনপির নেতাকর্মীরা যেন নৈরাজ্য চালাতে না পারে, সে জন্য আমাদের লক্ষ রাখতে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। দলীয় সূত্রে আরও জানা গেছে, খালেদা জিয়ার রায়কে কেন্দ্র করে দেশব্যাপী সতর্ক অবস্থানে থাকবে শাসক দল আওয়ামী লীগ। ইতোমধ্যে দেশব্যাপী আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক জেলা সফর চলমান রয়েছে। এসব সফরে দলটির কেন্দ্রীয় নেতারা খালেদা জিয়ার মামলার রায় ঘিরে যে কোনো বিশৃঙ্খল পরিস্থিতি মোকাবিলায় সতর্ক অবস্থানে থাকতে দলীয় নেতাকর্মীদের নির্দেশনা দিচ্ছেন। পাশাপাশি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ও ক্ষমতাসীন ছাত্র সংগঠনকেও শক্ত অবস্থানে থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে দলের হাইকমান্ডের পক্ষ থেকে। আওয়ামী লীগ সূত্রগুলো আরও জানায়, খালেদা জিয়ার মামলার রায় ঘিরে বিএনপিকে মাঠে নামার সুযোগ দিতে চায় না আওয়ামী লীগ। তাই পুরো পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করা হবে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে দিয়ে। পাশাপাশি আওয়ামী লীগ বিভিন্ন রাজনৈতিক কর্মসূচি দিয়ে মাঠ দখলে রাখবে। ইতোমধ্যে সারা দেশে সাংগঠনিক সফর শুরু করেছে আওয়ামী লীগ। খালেদা জিয়ার রায় ঘিরে এ কর্মসূচি আরও জোরদার করা হবে। শুধু ঢাকায় নয়, ঢাকার বাইরেও ফেব্রুয়ারি মাসজুড়ে রাজনৈতিক কর্মসূচি অব্যাহত রাখবে আওয়ামী লীগ, যাতে বিএনপি রায়কে ইস্যু করে মাঠে নামতে না পারে।
বিএনপিকে ভাঙ্গার জন্য আওয়ামী লীগের প্রয়োজন নেই
আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেছেন, বিএনপি যেভাবে নেতিবাচক ও অগণতান্ত্রিক রাজনীতি আঁকড়ে ধরেছে তাতে ওই দলটির ভাঙ্গার জন্য আওয়ামী লীগের প্রয়োজন নেই, তারা নিজেরাই যথেষ্ট। খালেদা জিয়ার দলীয় পদ রক্ষার জন্যই বিএনপি তাদের গঠনতন্ত্র পরিবর্তন করেছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘বিএনপির গঠনতন্ত্র অনুযায়ী কোন দুর্নীতিবাজ ব্যক্তি দলটির সদস্য হতে পারে না। আর জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় খালেদা জিয়া সাজাপ্রাপ্ত হলে দলের ভাঙ্গন দেখা দিতে পারে।। আর এ আশংকা থেকেই তারা তাদের গঠনতন্ত্র পরিবর্তন করেছে।’ তিনি সোমবার বিকেলে রাজধানীর ধানমন্ডিস্থ বঙ্গবন্ধু ভবনের সামনে ঢাকা-১০ আসনের আওয়ামী লীগের প্রাথমিক সদস্য সংগ্রহ ও সদস্য নবায়ন কর্মসূচির উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এ কথা বলেন। স্থানীয় সংসদ সদস্য ব্যরিস্টার শেখ ফজলে নূর তাপসের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন আওয়ামী লীগের দপ্তর সম্পাদক ড. আবদুস সোবহান গোলাপ, ঢাকা মহানগর দক্ষিণ আওয়ামী লীগের সভাপতি আবুল হাসনাত, সাধারণ সম্পাদক শাহে আলম মুরাদ ও সাংগঠনিক সম্পাদক কাজী মোর্শেদ কামাল। ওবায়দুল কাদের বলেন, বিএনপি রাতের অন্ধকারে কলমের এক খোচায় তাদের গঠনতন্ত্রের ৭ ধারা নির্বাসনে পাঠিয়েছে। কি অদ্ভূত রাজনৈতিক দল দল বিএনপি, আর কি অদ্ভূত তাদের গঠনতন্ত্র। বিএনপিকে উদ্দেশ্য করে তিনি বলেন, যাদের ঘরেই গণতন্ত্র নেই, তারা দেশে কিভাবে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করবে। এক বছর দশ মাসেও তাদের কেন্দ্রীয় কার্য নির্বাহী কমিটির কোন সভা অনুষ্ঠিত হয়নি। তিনি বলেন, আদালতের রায়ের আগেই দন্ডিত হওয়ার ও দল ভেঙ্গে যাওয়ার ভয়ে বিএনপি তাদের গঠনতন্ত্র পরিবর্তন করেছে। তিনি বলেন, মামলা হামলা সহ্য করে আওয়ামী লীগ দেশ স্বাধীন করেছে এবং আন্দোলনের মাধ্যমে বিএনপিকে পরাজিত করেছে। আর এখনও আওয়ামী লীগের মামলা হামলার ভয় নেই। সেতুমন্ত্রী বলেন, মামলার ভয়ে বিএনপি গঠনতন্ত্র পরিবর্তন করেছে। দন্ডিত হওয়ার ভয়ে তাদের গঠনতন্ত্র থেকে ৭ ধারা বিদায়। এটাই হচ্ছে বিএনপি। দেশের মানুষের সামনে তাদের মুখোশ উন্মোচন করা উচিত। ওবায়দুল বলেন, দেশের বিচার বিভাগ স্বাধীনভাবে বিচার কার্যক্রম পরিচালনা করছে। সরকার আদালতের কোন কাজে কখনো হস্তক্ষেপ করে নি। আর সরকার হস্তক্ষেপ করলে সংবিধানের ষোড়শ সংশোধনীকে বাতিল করে রায় দিতে পারত না। তিনি বলেন, বেগম খালেদা জিয়ার দুর্নীতি মামলার রায় আদালতের বিষয়। তারপরও তারা আদালতের রায়ের বিরুদ্ধে আন্দোলন করার হুমকি দিচ্ছে। তারা সরকারের বিরুদ্ধে আন্দোলনে ব্যর্থ হয়ে আদালতের বিরুদ্ধে আন্দোলনে যাচ্ছে। নতুন সদস্য সংগ্রহের বিষয়ে ওবায়দুল কাদের বলেন, নতুন ভোটার ও নারী ভোটারদের নতুন সদস্য করার বিষয়ে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে। কারণ তারাই আগামী নির্বাচনে যে কোন রাজনৈতিক দলের জয়-পরাজয়ে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।
তারেকের পরামর্শে চলবে দল
জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলার রায় ঘোষণা হবে আগামী ৮ ফেব্রুয়ারি। এই মামলার আসামি বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার সাজা হবে কি না, তা নিয়ে বিএনপির রয়েছে নানা আলোচনা, হিসাব-নিকাশ। রায়ে খালেদা জিয়ার সাজা হলে দলের প্রতিক্রিয়া বা কর্মসূচি কী হবে, তা নিয়ে যেমন আলোচনা আছে, তেমনি দলীয় চেয়ারপারসন জেলে গেলে সেই সময় দল কীভাবে চলবে, তা নিয়ে আলোচনা হচ্ছে। তবে বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতারা বলছেন, দল পরিচালনায় কোনো সমস্যা হবে না। অবশ্য এই নেতারা মনে করেন, যে মামলায় খালেদা জিয়াকে অভিযুক্ত করা হয়েছে, তার কোনো ভিত্তি নেই। তবু ছেন, মূলত লন্ডনে অবস্থানরত দলের সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান ও খালেদা জিয়ার বড় ছেলে তারেক রহমানের পরামর্শে দল পরিচালিত হবে। বিএনপির সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী ফোরাম স্থায়ী কমিটি ও মহাসচিব তারেক রহমানের সঙ্গে পরামর্শ করে করণীয় নির্ধারণ করবেন। এরপর মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর সেসব সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন করবেন। বিএনপি নেতারা বলছেন, খালেদা জিয়া বিদেশে অবস্থানের সময় স্থায়ী কমিটি ও মহাসচিব তাঁর সঙ্গে পরামর্শ করে দল পরিচালনা করেন। এখন চেয়ারপারসন অনুপস্থিত থাকলে দলের দ্বিতীয় গুরুত্বপূর্ণ নেতা তারেকের পরামর্শে চলবে, এটাই স্বাভাবিক। বিএনপির গঠনতন্ত্রের ৫(গ) ধারায় সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যানকে দ্বিতীয় ক্ষমতাবান ব্যক্তির মর্যাদা দিয়েছে। চেয়ারপারসনের অনুপস্থিতিতে সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান স্থায়ী কমিটি, নির্বাহী কমিটির সভা ডাকাসহ চেয়ারপারসনের অন্য সব ক্ষমতা প্রয়োগ করতে পারেন। গঠনতন্ত্র অনুযায়ী দল পরিচালানায় এই দুজন ছাড়া অন্যদের কোনো ক্ষমতা দেওয়া হয়নি। কেননা, এ দুজনের বাইরে কেউই দলের নীতিনির্ধারণী ফোরামের বৈঠক ডাকতে পারেন না। আর এই বৈঠক না হলে কোনো সিদ্ধান্ত অনুমোদন পায় না। জানতে চাইলে বিএনপির জাতীয় স্থায়ী কমিটির জ্যেষ্ঠ সদস্য খন্দকার মোশাররফ হোসেন বলেন, তিন মাস যে খালেদা জিয়া ছিলেন না (চিকিৎসার জন্য লন্ডনে ছিলেন), আমরা বিএনপি পরিচালনা করেছি না? স্থায়ী কমিটির মেম্বাররাই আমরা সময়-সময় বসে যেটা ভালো মনে করেছি, সেটা মহাসচিব বাস্তবায়ন করেছেন। এই ধরনের কোনো পরিস্থিতি হবে না বলে আমাদের বিশ্বাস। আর যদি হয়, তাহলে আমরা স্থায়ী কমিটির সদস্যরা সমষ্টিগতভাবে আলোচনা করে আমাদের দল পরিচালনার সিদ্ধান্ত নেব। প্রশ্নের জবাবে সাবেক মন্ত্রী খন্দকার মোশাররফ হোসেন বলেন, আমাদের সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান লন্ডনে আছেন, তাঁর সঙ্গে আমাদের যোগাযোগ করার সুযোগ থাকবে। তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ করে যৌথ নেতৃত্বে আমরা দল পরিচালনা করব। আমি মনে করি যে এই মামলা সাজানো, বানোয়াট এবং ভিত্তিহীন। কোনো সাক্ষী, কোনো দলিল প্রমাণাদি কোর্টে দিতে পারেনি সরকার বা দুদক, যেটাতে খালেদা জিয়ার কোনো সম্পৃক্ততা আছে। অতএব কোনো শাস্তিই হবে না। আমরা মনে করি যে তিনি সম্মানজনকভাবে খালাস পাবেন। তিনি বলেন, ওই পরিস্থিতি আমরা চিন্তাই করছি না। আর ওই পরিস্থিতি যখন হবে, তখন আমাদের দ্বিতীয় নেতা তারেক রহমানের সঙ্গে পরামর্শ করে দলের মহাসচিব আমাদের সঙ্গে পরামর্শ করে দল চালাবেন। দল চালানোর ব্যাপারে কোনো রকমের কোনো সমস্যা হবে না। আমি মনে করি, খালেদা জিয়ার জন্য এমন পরিস্থিতি আসবেই না। বিএনপির নেতারা মনে করছেন, খালেদা জিয়াকে হয়রানি করার জন্য জাল নথিও ভুয়া তথ্য দিয়ে জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলা সাজানো হয়েছে। এই মামলায় সাক্ষী ও বিচারপ্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা নিয়েও তাঁরা আশ্বস্ত নন। যে কারণে তাঁরা মনে করেন, খালেদা জিয়াকে সম্মানজনকভাবে এই মামলায় খালাস দেওয়া হবে। এ ছাড়া কোনো কারণে যদি খালেদা জিয়াকে সাজা দেওয়ার চেষ্টা করা হয়, তাহলে বিএনপি এর প্রতিবাদ করবে। সরকার পতনের আন্দোলনই হবে বিএনপির সেই প্রতিবাদ। দায়িত্বশীল নেতারা বলছেন, দলের সিনিয়র ভাইস চেয়ারপারসন তারেক রহমান দেশের বাইরে থাকলেও দেশে থাকা বিএনপি নেতাদের সঙ্গে তাঁর নিয়মিত যোগাযোগ আছে। সে ক্ষেত্রে খালেদা জিয়ার অনুপস্থিতিতে দল পরিচালনায় কোনো সমস্যা হবে না। সিনিয়র ভাইস চেয়ারপারসনের নির্দেশনায় দল পরিচালিত হবে। গুলশানে গত শনিবার রাতে বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার রাজনৈতিক কার্যালয়ে দলের স্থায়ী কমিটির বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠক সূত্রে জানা গেছে, বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলার রায়ের বিষয়ে স্থায়ী কমিটির সদস্যরা গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। রায়ে যদি খালেদা জিয়ার সাজা হয়, সে ক্ষেত্রে দলের রাজনৈতিক ও আইনগত প্রক্রিয়া কী হবে, সেসব বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। রায়ের পর বিএনপির প্রতিক্রিয়া কেমন হওয়া উচিত, সেটিও আলোচনায় এসেছে। এ ছাড়া রায়ের পর বিএনপি নেতা-কর্মীদের প্রতিক্রিয়ার কারণে সরকার তাদের ওপর নির্যাতন-নিপীড়ন বাড়িয়ে দেবে কি না, সেটি আলোচনা করেছেন বিএনপি নেতারা। বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর গত শনিবার দলের স্থায়ী কমিটির বৈঠকের পর সাংবাদিকদের বলেন, তড়িঘড়ি করে খালেদা জিয়ার মামলার রায়ের তারিখ ঘোষণা সরকারের ষড়যন্ত্র বলে মনে করে স্থায়ী কমিটি। তিনি বলেন,এ রায়ের তারিখ ঘোষণাকে কেন্দ্র করে গোটা জাতি আজ ক্ষুব্ধ। আমরা মনে করি, বাংলাদেশের গণতন্ত্রকে ধ্বংস করার জন্য এবং সবার অংশগ্রহণে নির্বাচনকে নষ্ট করার জন্য এটা একটা গভীর ষড়যন্ত্র। স্থায়ী কমিটি এর নিন্দা জানাচ্ছে। এর বিরুদ্ধে দেশবাসীকে সোচ্চার হওয়ার আহ্বান জানাচ্ছে। মামলার রায়ের বিষয়ে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, ৮ ফেব্রুয়ারি এখনো অনেক দেরি। এর আগে দলের স্থায়ী কমিটি, নির্বাহী কমিটির সভা হবে। এসব জায়গায় রায়ের বিষয়ে কথা হবে এবং সিদ্ধান্ত নেওয়ার মতো অনেক বিষয় আছে। তিনি বলেন, দেখুন, রায়টি যদি বিচারিক হতো, তাহলে প্রত্যাশার জায়গা ছিল। এটি বিচারিক রায় হচ্ছে না। দেশের সাধারণ মানুষ মনে করে এই রায় হবে রাজনৈতিক। এই রায়ে শুধু বিএনপি না, জনগণের আশার কোনো প্রতিফলন থাকবে না।
ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছেন বিএনপি নেতারা
জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট মামলায় খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে শাস্তির রায় ঘোষণা হলে সঙ্গে সঙ্গে আন্দোলন কর্মসূচী পালন শুরু করবে বিএনপি। হরতাল-অবরোধসহ লাগাতার আন্দোলন শুরুর সিদ্ধান্ত নিয়ে রাখলেও কৌশলগত কারণে আগাম ঘোষণা দেয়া হচ্ছে না। তবে রায় ঘোষণার সঙ্গে সঙ্গেই এ রায়ের প্রতি অনাস্থা প্রকাশের পাশাপাশি এ কর্মসূচী ঘোষণার প্রস্তুতি নিয়ে রাখা হয়েছে। জোরদার আন্দোলন কর্মসূচী পালনের মধ্য দিয়ে সরকার পতনের চেষ্টা করবে দলটি। ইতোমধ্যেই বিএনপি চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়া দলের সিনিয়র নেতাদের এমন নির্দেশনা দিয়ে রেখেছেন। জানা যায়, সর্বশেষ বিএনপির নীতিনির্ধারণী ফোরাম স্থায়ী কমিটির বৈঠকেও খালেদা জিয়ার মামলা ও পরবর্তী করণীয় নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। এ সময় খালেদা জিয়াকে জেলে পাঠানো হলে কঠোর আন্দোলনে নামার পাশাপাশি তাকে (খালেদা জিয়াকে) ছাড়া একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে না যাওয়ার পক্ষে সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। আর আন্দোলনে সারাদেশের সর্বস্তরের নেতাকর্মীকে সম্পৃক্ত করার লক্ষ্যে রায় ঘোষণার আগেই খালেদা জিয়া জোটের শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে ম বিনিময়ের পাশাপাশি বিএনপি ও এর বিভিন্ন অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করার সিদ্ধান্ত নেন। আন্দোলনের পূর্বপ্রস্তুতির অংশ হিসেবে ইতোমধ্যেই ২০ দলীয় জোটের শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করেছেন বিএনপি চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়া। এর পর তিনি দলের ভাইস চেয়ারম্যান, উপদেষ্টা পরিষদ, যুগ্ম মহাসচিব, সাংগঠনিক সম্পাদক ও ঢাকা মহানগর, আশপাশের জেলা নেতা ও অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাদের সঙ্গে পৃথক পৃথক বৈঠক করবেন। এ ছাড়া তিনি জাতীয় নির্বাহী কমিটির নেতাদের সঙ্গেও বৈঠক করবেন এবং আন্দোলন কর্মসূচীর কৌশল নিয়ে তাদের সঙ্গে মতবিনিময় করবেন। শনিবার রাতে বিএনপির স্থায়ী কমিটির বৈঠক শেষে দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে বলেন, আন্দোলন কর্মসূচী নিয়ে আলোচনা হলেও এখনই তা বলা যাবে না। আমরা আশঙ্কা করছি, খালেদা জিয়াকে নির্বাচনের বাইরে রাখতে তাকে জেলে পাঠানো হতে পারে। তবে মামলার রায় কি হয় আমরা আগে তা দেখতে চাই। তাই খালেদা জিয়ার মামলার রায় ঘোষণার পর আন্দোলন কর্মসূচী ঘোষণা করা হবে। আর কর্মসূচী ঘোষণার সঙ্গে সঙ্গে এবার সারাদেশের সর্বস্তরের নেতাকর্মীরা রাজপথে নেমে আসবে। জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট মামলার রায়ে খালেদা জিয়ার জেল হলে দল কিভাবে চলবে এ নিয়ে বিএনপির স্থায়ী কমিটির বৈঠকে আলোচনা হয়েছে। তবে স্থায়ী কমিটির সদস্যদের পক্ষ থেকে কেউ কেউ তারেক রহমান অথবা তার স্ত্রী ডাঃ জোবাইদা রহমানকে খালেদা জিয়ার অনুপস্থিতিতে বিএনপির চেয়ারম্যানের দায়িত্ব দেয়া যায় কিনা প্রস্তাব করলেও খালেদা জিয়া এতে সায় দেননি বলে জানা যায়। খালেদা জিয়া এ প্রসঙ্গে বৈঠকে বলেছেন, যদি আদালতে আমার বিরুদ্ধে মামলায় কোন নেতিবাচক রায় আসে এবং শেষ পর্যন্ত আমাকে জেলে যেতে হয় তাহলে ড. মোশাররফ ও ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদসহ দলে যারা সিনিয়র আছেন তাদের সহযোগিতা নিয়ে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে। কোন অবস্থায় যেন দলে বিশৃঙ্খলা না হয়। দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে দলের সর্বস্তরের নেতাকর্মীর সঙ্গে সমন্বয় করার কথাও বলেন খালেদা জিয়া। স্থায়ী কমিটির বৈঠকে সম্প্রতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর সম্পর্কে সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভীর নেতিবাচক সমালোচনা প্রসঙ্গে স্থায়ী কমিটির এক সদস্য খালেদা জিয়ার দৃষ্টি আকর্ষণ করলে তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেছেন, কেন রিজভী দলের মহাসচিব সম্পর্কে নেতিবাচক কথা বলবে। ভবিষ্যতে এমনটি যেন আর না হয়। দলের মধ্যে সবাইকে শৃঙ্খলা মেনে চলতে হবে। কেউ শৃঙ্খলা ভাঙ্গার চেষ্টা করলে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেয়া হবে। মামলার রায়ের কারণে জেলে যেতে হলে বিভিন্ন মহল থেকে দল ভাঙ্গার চেষ্টা হতে পারে আশঙ্কা করে খালেদা জিয়া সবাইকে সতর্ক থাকারও নির্দেশ দেন। এদিকে বিএনপি চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়াকে মামলার শাস্তি থেকে রক্ষা এবং একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন যেন সুষ্ঠু হয় সে লক্ষ্য সামনে রেখে আবারও কূটনীতিক তৎপরতা জোরদার করছে বিএনপি। এরই অংশ হিসেবে মঙ্গলবার বিকেলে বিএনপি চেয়ারপার্সনের রাজনৈতিক কার্যালয়ে ঢাকায় কর্মরত বিভিন্ন দেশের কূটনীতিকদের সঙ্গে বৈঠকের কথা রয়েছে বিএনপির। বৈঠকে প্রায় ১০০ দেশের কূটনীতিক এবং ২০টি বিদেশী সংস্থা ও প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। এ বৈঠকে খালেদা জিয়াসহ দলের নেতাকর্মীদের মামলা, একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনসহ সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা হবে বলে জানা গেছে। বৈঠকে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরসহ দলের সিনিয়র নেতারা উপস্থিত থেকে বিদেশী কূটনীতিকদের কাছে সার্বিক পরিস্থিতি তুলে ধরবেন। একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে ইতোমধ্যেই বিএনপির কূটনৈতিক সেল গঠন করা হয়েছে। এ সেলে কাজ করছেন দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, ড. আব্দুল মঈন খান, দলের ভাইস চেয়ারম্যান ইনাম আহমেদ চৌধুরী, চেয়ারপার্সনের উপদেষ্টা রিয়াজ রহমান, সাবিহ উদ্দিন আহমেদ, বিশেষ সম্পাদক ড. আসাদুজ্জামান রিপন, আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাাদক মাসুদ আহমেদ তালুকদার, সাংগঠনিক সম্পাদক শামা ওবায়েদ, সহআন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক এ্যাডভোকেট ফাহিমা নাসরীন মুন্নী, ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানাসহ অনেকে। উল্লেখ্য, ৮ ফেব্রুয়ারি জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট মামলায় খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে রায় হওয়ার তারিখ নির্ধারিত। বিশেষ কোন কারণ না থাকলে ওইদিনই রায় হবে। ইতোমধ্যেই বিভিন্ন মহল থেকে আশঙ্কা করা হচ্ছে, এ মামলায় খালেদা জিয়ার শাস্তি হলে জেলে পাঠানো হতে পারে। আর এ আশঙ্কার কারণে বিএনপিও নড়েচড়ে বসেছে। খালেদা জিয়া জেলে গেলে কি করতে হবে এমন প্রস্তুতি নিয়েও দলের সর্বস্তরের নেতারা এখন ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছে। শনিবার রাত ৯টা থেকে ১২ টা পর্যন্ত গুলশান কার্যালয়ে স্থায়ী কমিটির সদস্যদের নিয়ে বৈঠক করেন খালেদা জিয়া। জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট মামলার রায় খালেদা জিয়ার বিপক্ষে যাবে এমনটা ধরে নিয়েও বৈঠকে আলোচনা হয়। একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে খালেদা জিয়া জেলে গেলে পরবর্তী করণীয় কি হবে এ নিয়েই আলোচনা হয়। এ সময় খালেদা জিয়া নিজেও সিনিয়র নেতাদের কিছু গুরুত্বপূর্ণ পরামর্শ দেন। বিএনপির স্থায়ী কমিটির বৈঠকে অধিকাংশ নেতা খালেদা জিয়াকে জেলে পাঠানো হলে হরতাল ও অবরোধসহ কঠোর আন্দোলনের পক্ষে অবস্থান নেন। আর খালেদা জিয়াও আন্দোলনের পক্ষে সায় দেন। তবে তিনি এও বলেন, ২০১৩ ও ২০১৪ সালের আন্দোলন কেন ব্যর্থ হলো সেখান থেকে শিক্ষা না নিলে আন্দোলন সফল করা যাবে না। তাই তিনি আন্দোলন কর্মসূচীর আগে ২০ দলীয় জোটের শীর্ষ নেতা ও বিএনপির সর্বস্তরের নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করার কথা জানান। সর্বস্তরের নেতাকর্মীদের উদ্বুদ্ধ করে আন্দোলনের মাঠে নামলে তা সফল হবে বলেও তিনি জানান। খোঁজ নিয়ে জানা যায়, খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট মামলার রায়ের তারিখ ঘোষণার পর থেকেই বিএনপি নেতাকর্মীর মধ্যে এক ধরনের চাপা ক্ষোভ বিরাজ করছে। দলের বিভিন্ন স্তর থেকে রাজপথে আন্দোলনে নামার দাবিও উঠছে। তবে আন্দোলন শুরু হলে সরকার কঠোর হস্তে তা দমনের চেষ্টা করবে এমন ভাবনা থেকেই দলীয় হাইকমান্ড আন্দোলনে নামার আগে নানামুখী কৌশল ঠিক করে নিচ্ছেন। তবে রায়ের তারিখ ঘোষণার পর বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতারা সতর্ক অবস্থানে রয়েছেন। রায় ও আন্দোলনের আগে গ্রেফতার হতে পারেন এমন আশঙ্কা থেকে কেউ কেউ আবাসস্থলও পরিবর্তন করেছেন। দলের বিভিন্ন স্তরের নেতারা দফায় দফায় বিভিন্ন জায়গায় নিজেদের মধ্যে বৈঠকও করছেন। এ ছাড়া কেন্দ্র থেকে জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের নেতাদের কাছে আন্দোলনের প্রস্তুতি নেয়ার নির্দেশনা পাঠানো হয়েছে বলেও সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে। অপরদিকে খালেদা জিয়ার মামলার রায়কে কেন্দ্র করে বিএনপি রাজপথে আন্দোলনে নামলে সরকারী দল আওয়ামী লীগও পাল্টা কর্মসূচী নিয়ে মাঠে নামবে। এ ছাড়া সরকার আইনশৃঙ্খলা বাহিনী দিয়ে কঠোর হস্তে তা দমনের চেষ্টা করবে এসব কিছু মাথায় রেখেই বিএনপিকে আন্দোলনের ছক সাজাতে হচ্ছে। এ নিয়ে দলের এক কেন্দ্রীয় নেতা জানান, আগের আন্দোলনের ব্যর্থতা ও এবার কি হতে পারে সব সম্ভাবনা সামনে রেখেই কর্মসূচী ঠিক করা হচ্ছে। বিএনপিকে আর চুপ থাকলে হবে না। আন্দোলন করেই অধিকার আদায় করে নিতে হবে। সরকারই বিএনপিকে আন্দোলনে যেতে বাধ্য করছে। এ বিষয়ে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন বলেন, খালেদা জিয়াকে জেলে পাঠানোর রায় দেয়া হলে সঙ্গে সঙ্গে কঠোর আন্দোলন শুরু হবে। এবার আন্দোলন শুরু হলে সরকারের পতন না ঘটিয়ে আমরা ঘরে ফিরব না। আর এবার আমরা খালেদা জিয়ার মুক্তি দাবি করব না। কারণ, এ সরকারের কাছে মুক্তি দাবি করে লাভ হবে না। সরকারের পতন ঘটিয়ে আমরা নিরপেক্ষ সরকারের দাবি আদায় করে খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে নির্বাচনে যাব। জনগণের রায় নিয়ে আবারও আমরা ক্ষমতায় যাব। বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায় বলেন, জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট মামলায় খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে শাস্তির রায় হলে দুর্বার আন্দোলন শুরু হবে। আর এ আন্দোলনে সরকার পতনের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করা হবে। দলের সর্বস্তরের নেতাকর্মী আন্দোলনের প্রস্তুতি নিচ্ছে। রায় ঘোষণার সঙ্গে সঙ্গেই সারাদেশে আন্দোলন শুরু হবে। বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, এত তাড়াতাড়ি খালেদা জিয়ার মামলার রায় ঘোষণার তারিখ নির্ধারণ নিয়ে জনমনে আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। অন্যায়ভাবে খালেদা জিয়াকে শাস্তি দেয়া হলে বা জেলে নেয়া হলে বিএনপি নেতাকর্মীরা ঘরে বসে থাকবে না। রাজপথে কঠোর আন্দোলন শুরু করা হবে। আর এ আন্দোলনেই বর্তমান সরকারের পতন ঘটবে। বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান আবদুল্লাহ আল নোমান বলেন, খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে নেতিবাচক রায় দিলে সারাদেশে গণআন্দোলন শুরু হবে। আর এর দায় বর্তমান সরকারকেই নিতে হবে। দেশে এমন আন্দোলন শুরু হবে যে স্বৈরাচারী এরশাদ সরকারের মতো বর্তমান সরকারকেও ক্ষমতা থেকে বিদায় নিতে হবে। এর পর সরকারী দলের লোকেরা পালানোর পথও পাবে না।
বিএনপির সিনিয়র নেতাদের স্বেচ্ছায় কারাবরণ
জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট মামলায় বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে জেলে পাঠালে দলের সিনিয়র নেতারা স্বেচ্ছায় কারাবরণ করবেন। রোববার বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন এ ঘোষণা দিয়েছেন। এ ছাড়া খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে অন্যায়ভাবে রায় হলে সরকার পতনের আন্দোলন শুরু হবে বলেও হুমকি দেন তিনি। উল্লেখ্য, আগামী ৮ ফেব্রুয়ারি জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট মামলার রায় ঘোষণা করবে ঢাকার পঞ্চম জজ আদালত। দুই কোটি ১০ লাখ টাকা আত্মসাতের এ মামলার প্রধান আসামি খালেদা জিয়া ছাড়া এ মামলার অন্য আসামিরা হলেন- বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমান, মাগুরার সাবেক সংসদ সদস্য (এমপি) কাজী সালিমুল হক কামাল, ব্যবসায়ী শরফুদ্দিন আহমেদ, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সাবেক সচিব কামাল উদ্দিন সিদ্দিকী ও সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ভাগনে মমিনুর রহমান। অভিযোগ প্রমাণিত হলে এ মামলায় খালেদা জিয়ার সর্বোচ্চ যাবজ্জীবন কারাদণ্ড হতে পারে। সেক্ষেত্রে আগামী নির্বাচনে অংশ নেয়ার অযোগ্য হয়ে পড়বেন সাবেক এ প্রধানমন্ত্রী।
১৫ ফেব্রুয়ারি ৫ লাখ মানুষ জড়ো করার টার্গেট জাপার
আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে শক্তি পরীক্ষায় মাঠে নামছে বিরোধী দল জাতীয় পার্টি। এরি ধারাবাহিকতায় জাকজমকপূর্ণ মহাসমাবেশের জোর প্রস্তুতি নিচ্ছে দলটি। যদিও বলা হচ্ছে পার্টির ৩২তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে এই আয়োজন। আগামী ১৫ ফেব্রুয়ারি রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে এই মহাসমাবেশ অনুষ্ঠিত হবে। এতে ব্যয় ধরা হয়েছে পাঁচ কোটি টাকারও বেশি। দলের শীর্ষ নেতারা জানিয়েছেন, মহাসমাবেশে আগামী নির্বাচনে জাপার অবস্থান পরিষ্কার করবেন দলটির চেয়ারম্যান হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ। পাশাপাশি দলের সম্ভাব্য এমপি প্রার্থীদের নামও ঘোষণা করা হতে পারে। সব মিলিয়ে নির্বাচনের আগ মুহূর্তে বিরোধী দলের মহাসমাবেশকে কেন্দ্র করে চলছে রাজনৈতিক নানা হিসাব-নিকাশ। দলীয় সূত্রগুলো বলছে, আওয়ামী লীগসহ বিভিন্ন দলের নেতাদেরও সমাবেশে আমন্ত্রণ জানানো হবে। তবে এই তালিকায় বিএনপি-জামায়াতের নাম নেই। জাতীয় পার্টির একাধিক প্রেসিডিয়াম সদস্য ও সাংগঠনিক সম্পাদকদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, মহাসমাবেশে সফল করতে ইতোমধ্যে জেলা উপজেলায় আনুষ্ঠানিক চিঠি পাঠানো হয়েছে। এছাড়া কেন্দ্রীয়ভাবে সমন্বয় করতে আলাদা কমিটিও গঠন করা হয়েছে। রাজনৈতিক শক্তি জানান দেয়ার এই আয়োজনে যে কোন মূল্যে সফল হতে চায় জাপা। এর মধ্য দিয়ে রাজনৈতিক উদ্দেশ্য হাসিল করতে চায় দলটি। সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, মহাসমাবেশে কমপক্ষে পাঁচ লক্ষাধিক নেতাকর্মী সমর্থক ও সাধারণ মানুষের উপস্থিতি নিশ্চিত করতে চান এরশাদ। দলের চেয়ারম্যান নিজেই জানিয়েছেন এই খরচের কথা। সোমবার বনানী কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত এক যৌথ সভায় খরচের কথা জানান তিনি। তিনি বলেন, ১৫ ফেব্রুয়ারি সবচেয়ে বড় সমাবেশের আয়োজন হবে। বাজেট পাঁচ কোটি টাকা। এ বাজেট সংগ্রহ করতে হবে। দেখাতে হবে জনগণ আমাদের প্রতি আকৃষ্ট। দূর-দূরান্ত থেকে মানুষ আসবে। লঞ্চ, বাস ট্রেন ভাড়া করতে হবে। এজন্য দলের এমপি, প্রেসিডিয়ামের সদস্য, কেন্দ্রীয় ও জেলা নেতাদের পৃথক পৃথক চাঁদা নির্ধারণ করা হয়েছে। বিশেষ করে এমপিদের থেকে সমাবেশের বেশিরভাগ অর্থ সংগ্রহ করতে চায় দলটি। একাদশ জাতীয় নির্বাচনের আগে দলের অন্যান্য রাজনৈতিক দল, দেশের মানুষ ও বিদেশী বন্ধুদের কাছে নিজের শক্তি জানান দিতে এই মহাসমাবেশে জনতার ঢল নামাতে চান এরশাদ। এজন্য তিনি দলের সকল স্তরের কেন্দ্রীয় নেতাদের নির্দেশ দিয়েছেন সর্বশক্তি নিয়োগ করে সমাবেশ সফল করার জন্য। দলের বর্তমান এমপিদের পাশাপাশি আগামী নির্বাচনে যারা জাপার মনোনয়ন প্রত্যাশী তাদের সকলকেই নিজ নিজ নির্বাচনী আসন থেকে কমপক্ষে তিন হাজার নেতাকর্মী সমর্থক নিয়ে মহাসমাবেশে উপস্থিতি নিশ্চিত করার নির্দেশ দেয়া হয়েছে। আর দলের চেয়ারম্যানের এই নির্দেশ ইতোমধ্যে পার্টির মহাসচিব এবিএম রুহুল আমিন হাওলাদার এমপি মনোনয়ন প্রত্যাশী নেতাসহ সংশ্লিষ্টদের জানিয়ে দিয়েছেন। মহাসমাবেশ সফল করার জন্য ইতোমধ্যে দেশের সকল জেলা উপজেলার জাতীয় পার্টির নেতাকর্মীরা ব্যাপক প্রস্তুতি নিয়েছেন। পার্টির বিভিন্ন অঙ্গ সহযোগী সংগঠনের নেতাদের মধ্যে চলছে প্রস্তুতি। জাতীয় যুব সংহতি, জাতীয় ছাত্র সমাজ, জাতীয় কৃষক পার্টি ও জাতীয় স্বেচ্ছাসেবক পার্টি, জাতীয় শ্রমিক পার্টির কেন্দ্রীয় টিম মহাসমাবেশের প্রচার করার কাজে সারাদেশ সফর করছেন। জাতীয় পার্টির সিনিয়র নেতারাও বিভিন্ন জেলা উপজেলা সফর করে কর্মীসভা, বর্ধিত সভা ও সমাবেশ করছেন। দলীয় সূত্রে জানা গেছে, আগামী নির্বাচনের জন্য এরশাদ তিন রকম প্রস্তুতি নিয়েছেন। এরমধ্যে প্রথম হলো একক নির্বাচন। এরপর আওয়ামী লীগের সঙ্গে আবারও মহাজোট করে নির্বাচনে অংশ নেয়া ও তৃতীয় রাজনৈতিক শক্তির সঙ্গে নিজেদের যুক্ত করে ক্ষমতায় আসা। একক নির্বাচনের প্রয়োজনে ইতোমধ্যে দলের প্রার্থী বাছাই শেষ হয়েছে। আসন প্রতি প্রার্থী ঠিক করা হয়েছে তিনজন। এছাড়া মহাজোট করে নির্বাচন করলে ১০০ আসনের তালিকা দেয়া হয়েছে আওয়ামী লীগের হাতে। বিএনপি নির্বাচনে এলে আওয়ামী লীগকে সরাসরি সমর্থন দেবে জাপা। না এলে একক নির্বাচন করবে দলটি। তবে আসন ভাগাভাগি হবে আপোসের ভিত্তিতে। কোন কারণে আওয়ামী লীগের সঙ্গে বনাবনি না হলে তৃতীয় সারির রাজনৈতিক দল নিয়ে বৃহৎ রাজনৈতিক শক্তির উত্থান ঘটাতে চায় জাতীয় পার্টি। এই প্রক্রিয়া অব্যাহত রয়েছে। এর মধ্যে গণফোরাম, বিকল্পধারা, নাগরিক ঐক্য, কৃষক শ্রমিক জনতা লীগ, বাসদসহ আরও বেশ কয়েকটি রাজনৈতিক দল রয়েছে। এছাড়া এরশাদের নাম সর্বস্ব ৫৯ দলের জোট তো আছেই। সব মিলিয়ে রাজনৈতিক পরিস্থিতি সর্বশেষ সিদ্ধান্ত যাওয়ার পথ দেখাবে। তবে মহাসমাবেশে আওয়ামী লীগের কাছে নির্বাচনে নিজেদের চাওয়া পাওয়ার কথা তুলে ধরবেন এরশাদ। পাশাপাশি বিকল্প চিন্তা গুলোও খোলাসা করবেন তিনি। রাজনৈতিক সুবিধা নিশ্চিত করতেই এই কৌশলে আগাচ্ছেন সাবেক এই সেনা প্রধান। দলের মহাসচিব এবিএম রুহুল আমিন হাওলাদার বলেন, আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে এই মহাসমাবেশ দলের জন্য টার্নিং পয়েন্ট। সবাই দেখবে জাপার কর্মী আছে। সমর্থক আছে। তাই কোন দলই আমাদের ছোট করে দেখার সুযোগ পাবে না। সবাইকে গুরুত্বের সঙ্গে জাপাকে দেখতে হবে। আমরা নিজেদের প্রয়োজনে রাজনীতিতে গুরুত্ব বাড়াতে চাই। এর কোন বিকল্প নেই বলেও মনে করেন তিনি। দলের কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক মনিরুল ইসলাম মিলন বলেন, মহাসমাবেশকে কেন্দ্র করে দলের নেতাকর্মীদের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ উদ্দীপনার সৃষ্টি হয়েছে। আশা করি, আগামী নির্বাচন নিয়ে সমাবেশে গুরুত্বপূর্ণ দিক নির্দেশনা দেবেন দলের চেয়ারম্যান। সে অনুযায়ী নেতা-কর্মীরা সারাদেশে একযোগে কাজ করতে পারবেন। তাছাড়া রংপুর সিটি নির্বাচনের পর জাতীয় পার্টি এখন আগের চেয়ে অনেক বেশি শক্তিশালী। সমাবেশের প্রস্তুতি সম্পর্কে ঢাকা মহানগর দক্ষিণ জাতীয় পার্টির সাধারণ সম্পাদক জহিরুল আলম রুবেল বলেন, শ্যামপুর- কদমতলি থেকে পনের হাজার ও ঢাকা দক্ষিণের অন্যান্য থানা থেকে পনের হাজার নেতাকর্মী অংশ নেবে। আগামী ১ ফেব্রুয়ারি থেকে ১৪ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত বিরামহীনভাবে ঢাকা মহানগর দক্ষিণে সকল থানা ও ওয়ার্ডে ওয়ার্ডে পথ সভা, প্রচার মিছিল ও চারটি জনসভা হবে।
৩০০ আসনে পার্থী দিবেন বল্লেন এরশাদ
জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ বলেছেন, জাপার ৯ বছরে দেশের মানুষ শান্তিতে ছিল। সে সময় নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্রের দাম ছিল মানুষের নাগালের মধ্যে। আমার আমলে দেশের মানুষ খেয়ে-পরে স্বাচ্ছন্দে ছিল। নিরাপদে ছিল। তাই এবার আমরা ৩০০ আসনে প্রার্থী দেব এবং আগের চেয়ে অনেক ভালো করব। আর সে লক্ষ্য নিয়ে আমরা মাঠে কাজ করে যাচ্ছি। দলীয় নেতাকর্মীরাও মাঠে রয়েছেন। মঙ্গলবার তিন দিনের সফরে এসে রংপুর সার্কিট হাউসে এরশাদ সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন। এরশাদ বলেন, বিএনপি নির্বাচনে যাক বা না যাক আমরা নির্বাচনে যাব। বিএনপির আমলে আমাকে জেলে দিয়ে ধুকে ধুকে মারতে চেয়েছিল। কিন্তু রংপুরের মানুষের ভালোবাসায় আমি আবার নতুন জীবন পেয়েছি। আমাদের অবস্থান অনেক ভালো। দেশের মানুষ আবার জাতীয় পার্টিকে ক্ষমতায় দেখতে চায়। এ সময় উপস্থিত ছিলেন জাপার কেন্দ্রীয় সদস্য ও স্থানীয় সরকার পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মসিউর রহমান রাঙ্গা, রংপুর সিটি করপোরেশনের নবনির্বাচিত মেয়র মোস্তাফিজার রহমান মোস্তফা, মহানগর জাতীয় পার্টির সাধারণ সম্পাদক এস এম ইয়াছির এবং আবদুর রাজ্জাক প্রমুখ।
বিরোধী রাজনৈতিক দলের নেতাদের কারাগারে রেখে দেশে কোনো নির্বাচন হবে না - ফখরুল
বিরোধী রাজনৈতিক দলের নেতাদের কারাগারে রেখে দেশে কোনো নির্বাচন হবে না বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। আজ সোমবার দুপুর ১২টায় নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের নিচে বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমানের ৮২ তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে দুস্থদের মাঝে ত্রাণ বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে মির্জা ফখরুল এসব কথা বলেন। মির্জা ফখরুল বলেন, মিথ্যা মামলা দিয়ে বিরোধী রাজনৈতিক দলের নেতা-কর্মীদের কারাগারে রেখে দেশে কোনো নির্বাচন হবে না। মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার করতে হবে। নির্বাচনে সবার জন্য সমান সুযোগ লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড তৈরি করতে হবে। ফখরুল ইসলাম বলেন, বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে সপ্তাহে তিন থেকে চার দিন আদালতে যেতে হয়, আর প্রধানমন্ত্রী হেলিকপ্টারে চড়ে ভোট চেয়ে বেড়াচ্ছেন। এভাবে সুষ্ঠু নির্বাচন হতে পারে না। মির্জা ফখরুল বলেন, 'আমাদের কথা পরিষ্কার। বর্তমান রাজনৈতিক সংকট নিরসনে নির্বাচন চাই। তবে সেই নির্বাচন হতে হবে অতি দ্রুত ও নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে। যে নির্বাচনে দেশের মানুষ তার ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারে।' তিনি বলেন, 'আমাদের যে ভোটাধিকার কেড়ে নেওয়া হয়েছে তা ফিরিয়ে আনতে সবাইকে জেগে উঠতে হবে। সজাগ হতে হবে।' সরকারের উন্নয়ন কর্মসূচির সমালোচনা করে বিএনপির মহাসচিব ফখরুল বলেন, এই সরকার সবক্ষেত্রে ব্যর্থ। তাদের উন্নয়ন শুধু একটি গোষ্ঠীর জন্য। সে গোষ্ঠীর যারা ধনী, তারাই ধনী হচ্ছে। তাদের উন্নয়ন এমন যে, আজ ঢাকায় গাড়ি চলে না। ঘণ্টার পর ঘণ্টা পথেই বসে থাকতে হয়। নিজ দলের সহযোগী সংগঠনের প্রশংসা করে ফখরুল ইসলাম বলেন, প্রতিটি ক্ষেত্রে মহিলা দল এগিয়ে চলছে। মহিলা দলই একমাত্র সংগঠন, যারা শত প্রতিকূলতার মাঝেও প্রতিটি সাংগঠনিক জেলা সফর করে কাউন্সিল করতে পারছে। এমনকি ঢাকায় যে সমস্ত কর্মসূচি পালিত হয় তাতেও পিছিয়ে নেই মহিলা দল। মহিলা দলের সভাপতি আফরোজা আব্বাস, সাধারণ সম্পাদক সুলতানা আহমেদ, জ্যেষ্ঠ সহসভাপতি নুরজাহান ইয়াসমিন, জ্যেষ্ঠ যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হেলেন জেরিন খানসহ সংগঠনের নেতা কর্মীরা এ সময় উপস্থিত ছিলেন।

রাজনীতি পাতার আরো খবর