২১ আগস্টের গ্রেনেড হামলায় ফরমায়েশি রায় হতে যাচ্ছে: রিজভী
অনলাইন ডেস্ক: বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেছেন, সরকারি দলের নেতাদের বক্তব্য শুনে মনে হয় একুশে আগস্টের গ্রেনেড হামলার মামলায় একটি ফরমায়েশি রায় হতে যাচ্ছে। শনিবার (২৫ আগস্ট) বেলা সাড়ে ১১টায় নয়াপল্টনের দলীয় কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে তিনি একথা বলেন। রিজভী বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদেরের বক্তব্য শুনে মনে হয় একুশে আগস্টের রায়কে প্রভাবিত করার জন্য তারা উঠে পড়ে লেগেছেন। একুশে আগস্টের বোমা হামলার রায় নিজেরা লিখে তা আদালতকে দিয়ে বাস্তবায়ন করাবেন কি না মানুষের মনে এখন সেই সংশয় দেখা দিয়েছে। বিএনপির এই নেতা আরো বলেন, ওবায়দুল কাদের বলেছেন, ‘একুশে আগস্টের মামলার রায় হলে বিএনপি সংকটে পড়বে। আগামী সেপ্টেম্বরে এ রায় হবে।’ কাদের সাহেব আদালতের এ বিষয়টি কিভাবে জানলেন প্রশ্ন করে রিজভী বলেন, তার বক্তব্যে পরিষ্কার যে, তারা নীল-নকশা অনুযায়ী একুশে আগস্টের বোমা হামলার রায় নিয়ে আগাম কাজ করছেন। সেজন্য একের পর এক কূটচাল চালছেন। সামনে হয়তো আরও নতুন নতুন ষড়যন্ত্র করবে সরকার এমন দাবি করে রিজভী বলেন, যতই ষড়ষন্ত্র আর মহাপরিকল্পনা করেন, আপনাদের পতন ঠেকানো যাবে না। আপনাদের পতনের ভূমিকম্প শুরু হয়েছে। সংবাদ সম্মেলনে অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন- বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা জয়নুল আবদিন ফারুক, আতাউর রহমান ঢালী, যুগ্ম মহাসচিব খায়রুল কবির খোকন, সাংগঠনিক সম্পাদক রুহুল কুদ্দুস তালুকদার দুলু, স্বেচ্ছাসেবক বিষয়ক সম্পাদক মীর সরফত আলী শপু, সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক আবদুস সালাম আজাদ প্রমুখ। আলোকিত বাংলাদেশ
আ.লীগের চিন্তা মহাজোটে ফেরার
অনলাইন ডেস্ক: ২০০৭ সালের ২২ জানুয়ারির বাতিল হওয়া নির্বাচন আর ২০০৮ সালের ২৯ ডিসেম্বরের মতোই বৃহত্তর নির্বাচনী জোট করেই আগামী নির্বাচনে যাওয়ার চিন্তা আছে আওয়ামী লীগে। তবে বিএনপি ভোটে এলেই কেবল এই জোটটি হবে। এর আগের বৃহত্তর জোটটি ‘মহাজোট’ নামে পরিচিতি পেয়েছিল। এবারও একই নাম হবে আর এতে আগের মতোই জাতীয় পার্টি থাকবে। থাকতে পারে মুক্তিযুদ্ধের সপক্ষের আরও বেশ কিছু দল। তবে ২০১৪ সালের মতোই বিএনপি ভোট বর্জন করলে ১৪ দলই হবে ক্ষমতাসীন দলের জোট। কারণ, তখন ভোটে জেতা কোনো চ্যালেঞ্জ হবে না বলেই মনে করছেন নেতারা। আওয়ামী লীগের সম্পাদকদমণ্ডলীর একাধিক সদস্য বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। একজন বলেন, ‘বিএনপি নির্বাচনে এলে আমরা জাতীয় পার্টির সঙ্গে জোটগতভাবেই অংশ নেব। আর বিএনপি না এলে জাতীয় পার্টি আলাদা নির্বাচন করবে।’ অবশ্য আওয়ামী লীগের ধারণা বিএনপি এবার ভোটে আসবেই, আর এ কারণেই নির্বাচনী জোট করার বিষয়টি নিয়েও তলে তলে আলোচনা এগিয়ে গেছে, এখন কেবল ঘোষণা বাকি। ২০০৬ সালে কে এম হাসানকে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রধান উপদেষ্টা হিসেবে মেনে না নেয়ার ঘোষণা দিয়ে আন্দোলনের মুখে যখন বিএনপির রাষ্ট্রপতি ইয়াজউদ্দিন আহমেদের নেতৃত্বে তত্ত্বাবধায়ক সরকার শপথ নেয়, তখন ভোট হওয়ার কথা ছিল ২০০৭ সালের ২২ জানুয়ারি। কিন্তু ইয়াজউদ্দিনের বিরুদ্ধে পক্ষপাতদুষ্টতার অভিযোগ তুলে আন্দোলন চালিয়ে যায় আওয়ামী লীগ আর বিরোধী প্রধান প্রায় সব কটি দল মিলে গঠন হয় মহাজোট। মহাজোটের নির্বাচন বর্জনের ঘোষণার মধ্যেও বিএনপি-জামায়াত জোট যখন একতরফা নির্বাচন করতে যাচ্ছিল তখন ১১ জানুয়ারি জারি হয় জরুরি অবস্থা, প্রায় দুই বছর বন্ধ থাকে রাজনীতি। আর ২০০৮ সালের জাতীয় নির্বাচনের আগে মহাজোট থেকে একিউএম বদরুদ্দোজা চৌধুরীর বিকল্পধারা আর অলি আহমেদের এলডিপির সঙ্গে আওয়ামী লীগ সমঝোতা আর করেনি। কিন্তু জাতীয় পার্টি এবং ১৪ দলের সঙ্গে জোটও তখন মহাজোট হিসেবেই থেকে যায়। ২০১৪ সালের জাতীয় নির্বাচনের আগে হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের জাতীয় পার্টি আলাদা হয়ে গেলে মহাজোট ভেঙে যায়। ভোট বর্জনের ঘোষণাও দেন এরশাদ। কিন্তু তার স্ত্রী রওশন এরশাদের নেতৃত্বে একটি অংশ ভোটে যায় এবং অনিচ্ছা সত্ত্বেও এরশাদ রংপুর সদর আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। এরই মধ্যে আগামী জাতীয় নির্বাচনের সময় ঘোষিত হয়েছে। সুনির্দিষ্ট তারিখ না এলেও নির্বাচন কমিশন জানিয়েছেন ডিসেম্বর অথবা জানুয়ারিতে হবে নির্বাচন আর তফসিল হবে অক্টোবরে। নির্বাচনকালীন নির্দলীয় সরকারের দাবিতে আন্দোলনে থাকা বিএনপি-জামায়াতের নেতৃত্বে ২০ দলীয় জোট আবার ভোট বর্জনের হুমকির পাশাপাশি প্রতিদ্বন্দ্বিতার চিন্তাও নিয়ে রেখেছে বলে জানাচ্ছেন নেতারা। তারা সরকারের বিরুদ্ধে বৃহত্তর জাতীয় ঐক্য গঠনের চেষ্টা করছে। আওয়ামী লীগের ধারণা, রাজনৈতিক দল হিসেবে নিবন্ধন বাতিলের ঝুঁকি নিয়ে বিএনপি টানা দ্বিতীয়বার ভোট বর্জন করবে না। এ কারণে তাদের মোকাবেলায় নিজেদের শক্তিবৃদ্ধির জন্য জাতীয় পার্টির সঙ্গে আলোচনা সেরে রেখেছে তারা। পাশাপাশি কৃষক শ্রমিক জনতা লীগের আবদুল কাদের সিদ্দিকী, সাবেক বিএনপি নেতা নাজমুল হুদার তৃণমূল বিএনপিসহ বেশ কিছু বাম দলের সঙ্গে জোট করার বিষয়ে আলোচনা চলছে। আরও কিছু দলকে আলোচনার প্রস্তাবও দেয়া হবে। আওয়ামী লীগ নেতারা জানাচ্ছেন, বিএনপি যেমন ডানপন্থী ও প্রতিক্রিয়াশীল সব দলকে একত্রিত করেছে, তেমনি তারাও মুক্তিযুদ্ধের সপক্ষের শক্তি এবং প্রগতিশীল রাজনৈতিক দলগুলোকে এক করতে চান। এক্ষেত্রে আওয়ামী লীগের সমালোচক বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দল (বাসদ), বাম জোটভুক্ত বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টি, গণতান্ত্রিক বিপ্লবী পার্টি, ইউনাইটেড কমিউনিস্ট লীগ, সমাজতান্ত্রিক আন্দোলন, গণসংহতি আন্দোলন ও বাসদকেও (মার্ক্সবাদী) এক ছাতার নিচে আনার চেষ্টা করবে তারা। এ বিষয়ে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘কেউ যদি আমাদের সঙ্গে আসতে চায় তাহলে আমরা আমাদের পরিসরে আলোচনা করব। আমাদের জোটের শরিকদের সাথে কথা বলে সেটা আমরা বিবেচনা করব।’ আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক খালিদ মাহমুদ চৌধুরী বলেন, ‘বিএনপি-জামায়াতের সন্ত্রাস, নৈরাজ্য বিরোধী মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় বিশ্বাসী সকল দলের সঙ্গেই আমরা জোট করতে পারি।’ ‘আমরা রাজনীতি করি দেশের মানুষের জন্য, ক্ষমতায় যাওয়ার জন্য নয়। তবে আমরা ক্ষমতায় আসতে পেরেছি বলেই দেশে যুদ্ধাপরাধীদের বিচার হয়েছে, জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের হত্যাকারীদের শাস্তি হয়েছে। দেশ থেকে হত্যা, সন্ত্রাস, দুর্নীতি দূর করতে পেরেছি ‘ ‘অন্যদিকে বিএনপি যদি ক্ষমতায় থাকত তাহলে দেশের আজকের পরিস্থিতি কী হতো, সেটা ২০০১ থেকে ২০০৬ সালের তাদের ক্ষমতায় থাকাকালীন সময়ের চিত্র দেখলেই বোঝা যাবে। তাই বলতে পারি মুক্তিযুদ্ধের সপক্ষের সব শক্তির সঙ্গেই আমাদের আদর্শিক জোট হতে পারে।’ দলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক দীপু মনি বলেন, ‘২০০৮ সালের নির্বাচনের আগে আমরা নির্বাচনের কৌশলগত কারণে মহাজোট করেছিলাম। এখন আগামী নির্বাচনে সেই মহাজোট হবে কি না, সেটা সময়েই বলে দেবে।’ ‘নির্বাচনের প্রয়োজন হলে আমরা আবারও মহাজোট করব। তবে যারা স্বাধীনতায় বিশ্বাস করে না, এমন কারো সঙ্গে আমরা অতীতেও নির্বাচনী জোট করি নাই, আর ভবিষ্যতেও করবো না।’ আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য ও কেন্দ্রীয় ১৪ দলীয় জোটের মুখপাত্র মোহাম্মদ নাসিম বলেন, ‘জোট সম্প্রসারণের চিন্তাভাবনা আমাদের রয়েছে। কিন্তু প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে আমরা আনুষ্ঠানিকভাবে আলোচনা করতে পারি নাই। আলোচনা করেই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেব। নির্বাচন এখনও দেরি আছে, নির্বাচনী পরিবেশ দেখেই সিদ্ধান্ত নেয়া হবে।
ওয়ান-ইলেভেনের ষড়যন্ত্রের গন্ধ পাচ্ছি দেশে: সেতুমন্ত্রী
অনলাইন ডেস্ক: আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেছেন, দেশে এখন ওয়ান-ইলেভেনের ষড়যন্ত্রের গন্ধ পাচ্ছি। ওয়ান-ইলেভেনে যারা দেশকে ডিপলিটিসাইজ (বিরাজনীতিকরণ) করতে চেয়েছিল, তাদের সহযোগী ছিল মিডিয়ার একটি অংশ। যারা (মিডিয়ার ওই অংশ) উসকানি দিয়ে (প্রধানমন্ত্রী) শেখ হাসিনার সরকারকে হটানোর চক্রান্ত করছে। বৃহস্পতিবার (১৬ অাগস্ট) দুপুরে ইডেন মহিলা কলেজ মিলনায়তনে এক অালোচনা সভায় তিনি এ মন্তব্য করেন। বঙ্গবন্ধুর শাহাদতবার্ষিকী ও জাতীয় শোক দিবস উপলক্ষে ইডেন মহিলা কলেজ শাখা ছাত্রলীগ আয়োজিত এ অালোচনা সভায় মন্ত্রী বলেন, সারা বাংলা যখন শোকে, তখন ভুয়া জন্মদিবস পালনের মাধ্যমে পাপের নোংরা দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে বিএনপি। তারাই অগণতান্ত্রিকভাবে ষড়যন্ত্রমূলকভাবে একটি বৈধ সরকারকে হটানোর চক্রান্ত করছে। এদেরকে চিনে রাখতে হবে। তাদের সম্পর্কে জানতে হবে। বঙ্গবন্ধু হত্যাকে ইতিহাসের বর্বরতম রাজনৈতিক হত্যাকাণ্ড উল্লেখ করে কাদের বলেন, যে হত্যাকাণ্ডে বেগম মুজিব, শিশু রাসেল থেকে শুরু করে অন্তঃস্বত্তা নারী- কেউ রেহায় পায়নি। ইডেন মহিলা কলেজ শাখা ছাত্রলীগের আহ্বায়ক তাসলিমা অাক্তারের সভাপতিত্বে সভায় বক্তব্য রাখেন কলেজের অধ্যক্ষ শামসুন নাহার, আওয়ামী লীগের শিক্ষা ও মানবসম্পদ বিষয়ক সম্পাদক শামসুন নাহার চাঁপা, আওয়ামী লীগের সদস্য মেরিনা জাহান, পারভীন জামান কল্পনা, মারুফা অাক্তার পপি প্রমুখ।
ন্যায়বিচার থেকে বঞ্চিত খালেদা জিয়া: রিজভী
অনলাইন ডেস্ক: অবৈধ সরকারের অন্যায় আর জুলুমের শিকার হয়ে খালেদা জিয়া ন্যায়বিচার থেকে বঞ্চিত অভিযোগ করে বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম-মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেছেন, তাকে সব অধিকার থেকে দূরে সরিয়ে রাখা হয়েছে। এমনকি তাকে সুচিকিৎসাও দেওয়া হচ্ছে না। বাংলাদেশ এখন জুলুমের গ্যাসচেম্বারে পরিণত করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার (১৬ আগস্ট) বেলা সাড়ে ১১টায় নয়াপল্টনের দলীয় কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি একথা বলেন। রুহুল কবির রিজভী বলেন, খালেদা জিয়া ও তারেক রহমানের বিরুদ্ধে সাজানো মামলাগুলো রাজনৈতিক হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে। বিএনপির এই নেতা আরও বলেন, নিরাপদ সড়কের দাবিতে চলমান আন্দোলনে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে উস্কানি ও সহিংসতার মিথ্যা অভিযোগে বিভিন্ন থানায় ৫১টি মামলায় প্রায় শ’খানেক শিক্ষার্থীকে আটক করা হয়েছে। হাজার হাজার শিক্ষার্থীকে ওই মামলাগুলোতে আসামি করা হয়েছে। তাদের তুলে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে, রিমান্ডে নিয়ে নির্যাতন করা হচ্ছে। এরপর তাদের পাঠানো হচ্ছে জেলখানায়। ওই সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, বিএনপি চেয়ারপারসনের বিশেষ সহকারী শামসুর রহমান শিমুল বিশ্বাসের বিনা চিকিৎসায় মরণাপন্ন অবস্থা। কিন্তু বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় (বিএসএমএমইউ) হাসপাতালের পরিচালক কোনক্রমেই শিমুল বিশ্বাসকে চিকিৎসার জন্য ভর্তি করছেন না। নিম্ন আদালত ও উচ্চ আদালতের নির্দেশ থাকা সত্ত্বেও বিএসএমএমইউ-এর কর্তৃপক্ষ নির্বিকার। সংবাদ সম্মেলনে অন্যদের মধ্যে যুগ্ম-মহাসচিব সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল, খায়রুল কবির খোকন, বিএনপি নেতা মোস্তাফিজুর রহমান বাবুল, এবিএম মোশারফ হোসেন, আব্দুস সালাম আজাদ, মুনির হোসেন প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।
শোক দিবসের শপথ হচ্ছে সাম্প্রদায়িত অপশক্তিকে প্রতিহত করা: কাদের
অনলাইন ডেস্ক: ১৫ আগস্ট জাতীয় শোক দিবসের শপথ হচ্ছে সাম্প্রদায়িত অপশক্তিকে প্রতিহত করা। বলেছেন ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের। আজ সকালে স্বাধীনতার স্থপতি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৪৩তম শাহাদতবার্ষিকী উপলক্ষে ধানমণ্ডি ৩২ নম্বরে তাঁর প্রতিকৃতিতে শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে তিনি এসব কথা বলেন। সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী বলেন, দলনেত্রীর নেতৃত্বে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা ঐক্যবদ্ধ। আজকের এই দিনে আমাদের শপথ হবে, শেখ হাসিনার নেতৃত্বে যেকোনো অপশক্তি বিশেষ করে সাম্প্রদায়িক অপশক্তিকে আমরা জনগণকে সঙ্গে নিয়ে পরাজিত করব, প্রতিহত করব। সকাল সাড়ে ৬ টায় বঙ্গবন্ধু স্মৃতি জাদুঘরে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতিকৃতিতে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। ১৯৭৫ সালের শোকাবহ এ কালোদিবসে সেনাবাহিনীর কিছুসংখ্যক বিপথগামী সদস্য ধানমণ্ডির বাসভবনে বঙ্গবন্ধুকে সপরিবারে হত্যা করে।
ছাত্রদের সঙ্গে নেই ছাত্রলীগ :নসরুল হামিদ বিপু
অনলাইন ডেস্ক: ছাত্রলীগ এখন ছাত্রদের সঙ্গে নেই বলে মন্তব্য করেছেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ বিপু। মঙ্গলবার (১৪ আগস্ট) দুপুর ১২ টায় জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের উদ্যোগে আয়োজিত ১৫ আগস্ট জাতীয় শোক দিবস উপলক্ষে এক আলোচনা সভায় একথা বলেন তিনি। প্রতিমন্ত্রী বলেন, আমরা যখন ছাত্রলীগ করতাম তখন রাজধানীর ছাত্রলীগ ও আওয়ামী লীগের সকল নেতাকর্মীদের সঙ্গে আমাদের পরিচয় ছিল এবং তাদের নাম পর্যন্ত আমরা জানতাম। কিন্তু বর্তমানের ছাত্রলীগ নেতাকর্মীরা আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের চেনা তো দূরের কথা ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদেরকেও চিনতে পারে না নসরুল হামিদ ছাত্রলীগকে উদ্দেশ্য করে বলেন,পূর্বে বাংলাদেশের মানুষ ছাত্রলীগের কথা শুনার জন্য বিভিন্ন স্থান থেকে প্রোগ্রামে আসতেন। কিন্তু এখন মানুষের মধ্যে সেই প্রবণতা নেই। মানুষের মাঝে আবার সেই প্রবণতা ফিরিয়ে আনার দায়িত্ব ছাত্রলীগকেই নিতে হবে। নিজেদের থেকেই প্রথমে পরিবর্তন শুরু করতে হবে, তারপর মানুষের মাঝে পরিবর্তন আনতে হবে। আলোচনা সভায় বিশেষ অতিথির বক্তব্যে উপাচার্য অধ্যাপক ড. মীজানুর রহমান বলেন,প্রতিটি অভ্যুত্থানের পেছনে ক্ষমতার পরিবর্তন লুকিয়ে থাকে। ১৫ আগস্ট কোনো সাধারণ অভ্যুত্থান ছিলনা, এটা রাষ্ট্রীয় ক্ষমতা বদলের অভ্যুত্থান ছিল। এই দিনে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে স্বরণ করার সাথে সাথে স্বাধীনতার পক্ষে যারা কথা বলেছেন তাদেরকেও স্বরণ করা প্রয়োজন। জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি তরিকুল ইসলামের সভাপতিত্বে ও শাখা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক শেখ জয়নুল আবেদীন রাসেলের সঞ্চালনায় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, বাংলাদেশ ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক নজরুল ইসলাম বাবু এমপি, বাংলাদেশ ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় সভাপতি রেজওয়ানুল হক চৌধুরী শোভন ও সাধারণ সম্পাদক গোলাম রাব্বানী। এসময় জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষক, শিক্ষার্থী কর্মকর্তা-কর্মচারী ও শাখা ছাত্রলীগের সাবেক ও বর্তমান কমিটির নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
বিএনপির দাবি ঈদের আগে খালেদা জিয়ার মুক্তি
অনলাইন ডেস্ক: কোরবানির ঈদের আগেই বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবি জানিয়েছেন দলটির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী। একই সঙ্গে নিরাপদ সড়কের দাবিতে আন্দোলনকারী কারাবন্দি ২২ শিক্ষার্থীর মুক্তিরও দাবি জানান তিনি। মঙ্গলবার (১৪ আগস্ট) সকালে নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে রিজভী বলেন, ‘আরেকটি একতরফা নির্বাচন আয়োজনের জন্য শেখ হাসিনার একমাত্র প্রতিপক্ষ হিসেবে খালেদা জিয়াকে বন্দি করে রাখা হয়েছে।’ তিনি বলেন, ‘আইনি প্রক্রিয়ার নামে আওয়ামী সরকারি প্রক্রিয়ায় খালেদা জিয়ার ওপর নামিয়ে আনা হয়েছে জুলুম ও অত্যাচার। অবৈধ সরকার নিজেদের নিরাপদ রাখতেই এ জুলুম ও অত্যাচার। তারা বহুদলীয় গণতন্ত্র ও সুষ্ঠু নির্বাচনকে বিপদ মনে করে।’ রিজভী বলেন, ‘খালেদা জিয়াকে কারাগারে আটকে রেখে একতরফা নির্বাচন হবে না। শূন্য কেন্দ্রে ভোটারবিহীন ইলেকশনের নামে সিলেকশন হতে দেয়া হবে না। অবিলম্বে বানোয়াট মামলা প্রত্যাহার করে ঈদের আগেই খালেদা জিয়াকে মুক্তি দিতে হবে। সংবাদ সম্মেলনে নিরাপদ সড়কের দাবিতে আন্দোলনকারী ২২ শিক্ষার্থীর মুক্তির দাবি জানিয়ে রিজভী বলেন, ‘আন্দোলন দমাতে নির্বিচারে শিক্ষার্থীদের গ্রেফতার করা হয়েছে; রিমান্ডে নিয়ে অকথ্য নির্যাতন করা হচ্ছে। তাদের জামিন দেয়া হচ্ছে না।’ তিনি বলেন, ‘অথচ প্রধানমন্ত্রী দুদিন আগে বলেছেন- শিক্ষার্থীদের আন্দোলন তাদের পথ দেখিয়েছে। একদিকে প্রশংসা আরেক দিকে বর্বোরচিত দমন-পীড়ন এক অদ্ভুত দ্বিচারি সরকার। শিশু-কিশোরদের সঙ্গে প্রতারণা করতেও এরা বেপরোয়া। ন্যায্য আন্দোলন সরকারের কাছে অপরাধ।’ বিএনপির এ নেতা বলেন, গ্রেফতারকৃত শিক্ষার্থীরা পরীক্ষা থেকে বঞ্চিত, ঈদের উৎসব থেকে বঞ্চিত হতে হচ্ছে। অবিলম্বে তাদের মুক্তি দাবি জানাচ্ছি।
বিরোধীদলীয় চীফ হুইপ তাজুল ইসলাম আর নেই
অনলাইন ডেস্ক: জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় চীফ হুইপ তাজুল ইসলাম চৌধুরী আর নেই। (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাহি রাজিউন)। সোমবার রাত ১১টা ৫০ মিনিটে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রাজধানীর ইউনাইটেড হাসপাতালে তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিলো ৭৩ বছর। তাজুল ইসলামকে রোববার (১২ আগস্ট) দুপুরে ইউনাইটেড হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। তিনি দীর্ঘদিন ধরে ডায়াবেটিস ও কিডনি জটিলতায় ভুগছিলেন। মৃত্যুকালে তিনি স্ত্রী, ২ ছেলে ও ১ মেয়ে রেখে গেছেন। মঙ্গলবার বাদ আসর জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় তার প্রথম জানাজা অনুষ্ঠিত হবে। তাজুল ইসলাম চৌধুরীর মৃত্যুতে গভীর শোক ও দুঃখ প্রকাশ করেছেন সাবেক রাষ্ট্রপতি ও জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ ও জাতীয় পার্টির মহাসচিব এবিএম রুহুল আমিন হাওলাদার। তারা এক শোকবার্তায় বলেন, তাজুল ইসলাম চৌধুরীর মৃত্যুতে দেশ একজন দেশপ্রেমিক রাজনীতিবীদকে হারালো। তাজুল ইসলাম চৌধুরীর অভাব দীর্ঘদিন অনুভব করবে দেশ। রাজনীতি ও মানবসেবায় তার অবদান স্মরণীয় হয়ে থাকবে।
শুধু দেশীয় নয় আন্তর্জাতিক ষড়যন্ত্র চলছে দেশীয় ঘাতকদের নিয়েই: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
অনলাইন ডেস্ক: বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে হত্যার মধ্য দিয়ে যে আন্তর্জাতিক ষড়যন্ত্র শুরু হয়েছিল, এখনো সেই ষড়যন্ত্র চলছে বলে মন্তব্য করে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামাল বলেছেন, একের পর এক দেশীয় ঘাতকদের নিয়ে ষড়য়ন্ত্র চলছে। চট্টগ্রামের জিইসির একটি মিলনায়তনে রোববার দুপুরে জাতীয় শোক দিবস উপলক্ষে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি। চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা আওয়ামী লীগ আয়োজিত সভায় বিশেষ অতিথি ছিলেন ভূমি প্রতিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরী জাবেদ, চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দীন, আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় নেতা আমিনুল ইসলাম, বিপ্লব বড়ুয়া প্রমুখ। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, দেশ উন্নয়নের মহাসড়কে আছে। আমরা যে স্বপ্ন দেখেছি, তাতে আগামী ২০২০ সালের মধ্যে মানুষের আয় হবে তিন হাজার ডলার। প্রধানমন্ত্রীর জনপ্রিয়তা আকাশচুম্বী উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, ‘উন্নয়নের কারণেই এটা হয়েছে। পায়রা বন্দরে গেলে দেখবেন সেখানে কী কর্মযজ্ঞ চলছে। মিরসরাই গেলে দেখবেন সেখানে একের পর এক ইন্ডাস্ট্রি হওয়ার প্রস্তুতি চলছে। ঢাকা থেকে পদ্মা নদী পার হয়ে যাবেন, দেখবেন কী উন্নয়নকাজ চলছে। বুলেট ট্রেন আসতেছে বাংলাদেশে। বঙ্গবন্ধুর অবর্তমানে তার কন্যা শেখ হাসিনার বিকল্প কেউ নেই উল্লেখ করে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘পনের আগস্ট সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ট বাঙালি শেখ মুজিবুর রহমানকে হারানোর পর বঙ্গমাতাসহ সেদিন বঙ্গবন্ধুর পরিবারের যারা সেখানে উপস্থিত ছিলেন তাদের সবাইকে আমরা হারিয়েছি।’ ‘এই যে ১৫ আগস্ট, কেন হলো, কিভাবো হলো, কারা করলো? সবই আপনাদের জানা। শুধু দেশীয় নয় এটি আন্তর্জাতিক চক্রান্ত। এই আন্তর্জাতিক চক্রান্ত কিন্তু এখনো থেমে নেই। এখনো একের পর এক দেশীয় ঘাতকদের নিয়ে তারা ষড়যন্দ্রের পর ষড়যন্ত্র করছে।’ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘দুর্নীতির দেশ, খাদ্যঘাটতির দেশ, বিদ্যুৎঘাটতির দেশ, জঙ্গিবাদের দেশে পরিণত হয়েছিল এই বাংলাদেশ। একমাত্র বঙ্গবন্ধু কন্যার কারণেই এই দেশ আজ সফল। এই দেশ আজ খাদ্য উদ্বৃত্তের দেশ, বিদ্যুতে স্বয়ংসম্পূর্ণ দেশ। এই উন্নতির ধারা ধরে রাখতে হলে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বিকল্প নেই, এটা আমাদের মনের কথা।

রাজনীতি পাতার আরো খবর