আলোচনার জন্য প্রস্তুত সব সময়ই বিএনপি: রিজভী
অনলাইন ডেস্ক: বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেছেন, বিএনপি সব সময় অংশগ্রহণমূলক ও সুষ্ঠু নির্বাচনের কথা বলে আসছে। শুধু অংশগ্রহণমূলক হলেই হবে না, নির্বাচন সুষ্ঠু হতে হবে। যে নির্বাচনে ভোটাররা নির্ভয়ে তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারবে। এসব বিষয়ে সমাধান না হলে সেই নির্বাচন জনগণের কাছে গ্রহণযোগ্য হবে না। আর এগুলো বাস্তবায়ন করতে হলে বিএনপির কিছু সুনির্দিষ্ট দাবি আছে সেই দাবিগুলোতো বিবেচনায় নিতেই হবে। আজ শনিবার সকালে নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে রিজভী এসব কথা বলেন। ‘শর্ত ছাড়া রাজি হলে বিএনপির সাথে আলোচনা হতে পারে’ আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরের এমন বক্তব্যের জবাবে রিজভী বলেন, একটা স্বচ্ছ মন নিয়ে আলোচনার জন্য আসুন। আমার মনে হয় একটা অবাধ, সুষ্ঠু, অংশগ্রহণমূলক এবং শান্তিপূর্ণ নির্বাচন হবে। তিনি বলেন, শূন্য টেবিলে তো আর আলোচনা হয় না। আলোচনার জন্য সুনির্দিষ্ট বিষয়বস্তু থাকতে হবে। অংশগ্রহণমূলক ও সুষ্ঠু নির্বাচনের জন্য ইতোমধ্যে বিরোধীদল গুলোর পক্ষ থেকে প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। সেসব বিষয়ে আলোচনা হতে পারে। তারা যদি এটা না চায় তাহলে বুঝতে হবে তাদের মন স্বচ্ছ না। তিনি বলেন, কোনো এজেন্ডা ছাড়া কোনো আলোচনা নয়, একটা গ্রহণযোগ্য নির্বাচন, সুষ্ঠু নির্বাচন ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন নিশ্চিত হওয়ার জন্য যে আলোচনা হওয়া দরকার সে আলোচনার জন্য তো আমাদের দল সব সময় প্রস্তুত। শহিদুল আলমকে নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা সজীব ওয়াজেদ জয়ের বক্তব্যের সমালোচনা করে রিজভী বলেন, প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা বললেন কী, কতটুকু আইনের ঊর্ধ্বে উঠলে একজন খ্যাতিমান মানুষ পুলিশি শারীরিক নির্যাতন থেকে রেহাই পান বা পান না। সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন বিএনপির চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য আব্দুস সালাম, যুগ্ম মহাসচিব মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল, কেন্দ্রীয় নেতা মুনির হোসেন, বেলাল আহমেদ, মিয়া মোহাম্মাদ আনোয়ার প্রমুখ।
শিক্ষার্থীদের আন্দোলনে ভর করে ব্যর্থ হয়েছে বিএনপি: ওবায়দুল কাদের
অনলাইন ডেস্ক: সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেছেন, বিএনপি নেতা ফখরুল সাহেবের কষ্ট আমি বুঝি, বেদনা আমি বুঝি। তারা গত ৯ বছরে নয়টা মিনিটও রাস্তায় দাঁড়াতে পারেনি, আন্দোলন করতে পারেনি। কোটা আন্দোলনের উপর ভর করে সেখানে তারা ব্যর্থ হয়েছে, ছাত্র-ছাত্রীদের আন্দোলনের উপর ভর করে ব্যর্থ হয়েছে, নিরাপদ সড়কের আন্দোলনের উপর ভর করেও ব্যর্থ হয়েছে। অবশেষে বিদেশীদের কাছে নালিশ করা শুরু করেছে। শুক্রবার বিকেলে গাজীপুরের কালিয়াকৈরের চন্দ্রা ত্রিমোড় এলাকায় ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কের সার্বিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ ও চালকদের গাড়ির কাগজপত্র পরীক্ষার অভিযান শেষে সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাবে এসব কথা বলেন। তিনি বলেন, ফখরুল সাহেব আজকে বেপরোয়া ড্রাইভারের মতো বেপরোয়া হয়ে গেছেন। কারণটা কিছুই না, ফখরুল সাহেব নয় বছরে আন্দোলনের ব্যর্থতার পর হতাশ বিএনপি নেতাকর্মীদের চাঙ্গা করার জন্য সরকারের বিরুদ্ধে বিষেদাগার করছেন। নয় বছরে নয় মিনিট যারা রাস্তায় একটা আন্দোলন করতে পারেনি, তাদের ভয়ে সরকার ভিত- হাসবো না কাঁদবো, ভেবে পাইনা। এ সময় মন্ত্রী আরো বলেন, বিআরটিএতে লাইসেন্স গ্রহণ ও লাইসেন্স নবায়নসহ বিভিন্ন সেবা গ্রহণের জন্য মানুষের ভিড় বেড়েছে। বিআরটিএ'র সেবা গ্রহণের সুবিধার্থে টাকা জমা দেয়ার দুর্ভোগ লাঘবের জন্য মোবাইল ব্যাংকিং চালু করার উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। এ সময় মন্ত্রীর সঙ্গে ঢাকা বিভাগীয় তত্বাবধায়ক প্রকৌশলী সবুজ উদ্দিন খান, সাসেক প্রকল্পের প্রকল্প পরিচালক মো. ইসহাক, গাজীপুর সড়ক ও জনপথ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী নাহিন রেজাসহ সড়ক বিভাগের উর্দ্ধতন কর্মকর্তা এবং স্থানীয় প্রশাসনের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
সিলেট সিটি নির্বাচনের স্থগিত দুই কেন্দ্রের ভোটগ্রহণ শুরু
অনলাইন ডেস্ক: সিলেট সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনের স্থগিত দুই কেন্দ্রের ভোটগ্রহণ শুরু হয়েছে। শনিবার সকাল আটটা থেকে কেন্দ্র দুটিতে ভোটগ্রহণ শুরু হয়। চলবে বিকাল চারটা পর্যন্ত। কেন্দ্র দুটির মধ্যে স্থগিত হওয়া গাজী বুরহান উদ্দিন গরম দেওয়ান সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে ভোটার সংখ্যা ২ হাজার ২২১ জন। আর হবিনন্দি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রের ভোটার ২ হাজার ৫৬৬ জন। সব মিলিয়ে এই দুই কেন্দ্রে ভোটের ৪ হাজার ৭৮৭ জন। গত ৩০ জুলাইয়ের নির্বাচনে ১৩৪ কেন্দ্রের মধ্যে ১৩২ কেন্দ্রের ভোট গণনায় বিএনপির মেয়র প্রার্থী আরিফুল হক চৌধুরী ৯০ হাজার ৪৯৬ ভোট পেয়ে এগিয়ে আছেন তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী আওয়ামী লীগের বদর উদ্দিন আহমদ কামরান পেয়েছেন ৮৫ হাজার ৮৭০ ভোট। এসব কেন্দ্রের ফলাফলে বিএনপির মেয়র প্রার্থী ৪ হাজার ৬২৬ ভোটে এগিয়ে আছেন। ভোট শুরু হওয়ার আধঘণ্টা পর থেকে বৃষ্টি শুরু হওয়ায় ভোটারের উপস্থিতি কিছুটা কম দেখা গেছে। সেদিনের নির্বাচনে গোলযোগের কারণে দুটি কেন্দ্রে ভোটগ্রহণ গ্রহণ স্থগিত রাখা হয়। মেয়র পদে দুই প্রার্থীর ভোটের ব্যবধান স্থগিত দুই কেন্দ্রের ভোটের চেয়ে কম হওয়ায় ওই দুই কেন্দ্রে পুনঃভোটের আয়োজন করা হচ্ছে। এদিকে, সংরক্ষিত ওয়ার্ড-৭ (সাধারণ ওয়ার্ড ১৯, ২০ ও ২১) এর নাজনীন আকতার কণা- (জিপগাড়ি) ও নার্গিস সুলতানা (চশমা) সমান সংখ্যক ভোট পাওয়ায় শুধু এ দুজনের মধ্যে ১৪টি ভোটকেন্দ্রে ভোটগ্রহণ হচ্ছে। শুধুমাত্র সংরক্ষিত ওয়ার্ডের কাউন্সিলর নির্বাচনের জন্য এই ১৪টি কেন্দ্রের ভোটাররা আজ পুনরায় ভোট দিচ্ছেন। নির্বাচন সুষ্ঠু করতে প্রতিটি কেন্দ্রে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট, বিপুল সংখ্যক পুলিশ এবং র‌্যাব সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে।
বেগম খালেদা জিয়ার অসুস্থতা নিত্যসঙ্গী: মাহবুবে আলম
অনলাইন ডেস্ক: বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার অসুস্থতা প্রসঙ্গে অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম বলেছেন, ‘এখন যে ধরনের অসুস্থতার কথা বলে তার (খালেদা জিয়ার) জামিন চাওয়া হচ্ছে, এমন অসুস্থতা তার নিত্যসঙ্গী। এই অসুস্থতা নিয়েই তিনি প্রধানমন্ত্রীত্ব করেছেন।’ অসুস্থতার কারণ দেখিয়ে কুমিল্লার এক মামলায় খালেদা জিয়া জামিন চাইলে এর বিরোধিতা করে আপিল বিভাগকে এসব কথা বলেন অ্যাটর্নি জেনারেল। প্রধান বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেনের নেতৃত্বাধীন চার বিচারপতির পূর্ণাঙ্গ আপিল বেঞ্চে বৃহস্পতিবার (৯ আগস্ট) এই শুনানি অনুষ্ঠিত হয়। শুনানির পর জামিন বিষয়ে আদেশের জন্য আগামী রোববার দিন ধার্য করেন সর্বোচ্চ আদালত। কুমিল্লার চৌদ্দগ্রামে বাসে পেট্রলবোমা মেরে নাশকতা করার অভিযোগের মামলায় খালেদা জিয়াকে হাইকোর্টের দেয়া জামিন আবেদন স্থগিত চেয়ে রাষ্ট্রপক্ষের করা আপিল আবেদনের শুনানিতে আদালতের কাছে এ যুক্তি তুলে ধরেন অ্যাটর্নি জেনারেল। আদালতে আজ রাষ্ট্রপক্ষে শুনানি করেন অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম। আর খালেদা জিয়ার পক্ষে ছিলেন মওদুদ আহমেদ, খন্দকার মাহবুব হোসেন, এজে মোহাম্মদ আলী, জয়নুল আবেদীন ও মাহবুব উদ্দিন। গত ৭ আগস্ট চেম্বার বিচারপতি হাসান ফয়েজ সিদ্দিকী আবেদনটি আজ বৃহস্পতিবার পূর্ণাঙ্গ বেঞ্চে শুনানির জন্য পাঠান। আগেরদিন গত সোমবার বিচারপতি এ কে এম আসাদুজ্জামান ও বিচারপতি এসএম মজিবুর রহমানের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ খালেদা জিয়াকে ছয় মাসের জামিন দেন। গত ১ জুলাই এ মামলায় খালেদা জিয়াকে গ্রেফতার দেখিয়ে জামিন আবেদনের শুনানির জন্য ৮ আগস্ট বহাল রাখেন কুমিল্লার আদালত। এরপর খালেদা হাইকোর্টে এ মামলায় জামিন আবেদন করেন। ওই আবেদনের পর কুমিল্লার আদালতে খালেদার জামিন আবেদন গত ২৬ জুলাইয়ের মধ্যে নিষ্পত্তি করতে নির্দেশ দেন হাইকোর্ট। এ আদেশ অনুসারে কুমিল্লার আদালত তা নিষ্পত্তি করে খালেদার জামিন আবেদন নামঞ্জুর করেন। এর বিরুদ্ধে তিনি হাইকোর্টে আবেদন করলে সোমবার আদালত তার ছয় মাসের জামিন মঞ্জুর করেন। জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট মামলায় পাঁচ বছরের দণ্ড নিয়ে গত ৮ ফেব্রুয়ারি থেকে রাজধানীর পুরান ঢাকার নাজিম উদ্দিন রোডে পুরোনো কেন্দ্রীয় কারাগারে আছেন সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া।
শিক্ষার্থীদের আন্দোলনে অর্থ যোগান দিয়েছে তারেক: নৌমন্ত্রী
অনলাইন ডেস্ক: বিমানবন্দর সড়কে বাসচাপায় দুই শিক্ষার্থীর মৃত্যুর পর কয়েকদিন ধরে রাজধানীতে শিক্ষার্থীরা যে আন্দোলন করেছিল, বিএনপি নেতা তারেক রহমান সেই আন্দোলনের টাকা যোগান দিয়েছিল বলে মন্তব্য করেছেন নৌমন্ত্রী শাজাহান খান। বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে মাদারীপুর জেলা পরিষদে আয়োজিত এসএসসি ও এইচএসসি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ মেধাবী শিক্ষার্থীদের মধ্যে বৃত্তি প্রদান অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন। গত ২৯ জুলাই দুপুরে বিমানবন্দর সড়কে জাবালে নূর পরিবহনের একটি বেপরোয়া বাসের চাপায় শহীদ রমিজউদ্দীন ক্যান্টনমেন্ট কলেজের দুই শিক্ষার্থী নিহত হয়। ঘটনার পর নৌমন্ত্রী শাজাহান খান সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে হাসতে হাসতে বিষয়টিকে নিয়ে বিদ্রুপাত্মক মন্তব্য করেন। এর প্রতিবাদে বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা প্রায় এক সপ্তাহের মতো রাজধানীতে টানা বিক্ষোভ দেখায়। এ অবস্থার মধ্যেই আওয়ামী লীগের ধানমন্ডি কার্যালয়ে চার ছাত্রকে হত্যা ও ধর্ষণের গুজব ছাড়ানো হলে শিক্ষার্থীরা আওয়ামী লীগের কার্যালয়ে হামলার চেষ্টা করে। এ নিয়ে দুই পক্ষে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া, সংঘর্ষে বেশ কজন আহত হয়। এছাড়া নিরাপদ আন্দোলনের দাবিতে বিক্ষোভে সংঘর্ষের জেরে ইস্ট ওয়েস্টসহ তিনটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় ছুটি ঘোষণা করা হয়। নৌমন্ত্রী বলেন, ঢাকায় গাড়ির নিচে পড়ে দুইজন কোমলমতি শিক্ষার্থী নিহতের পর যে পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছিল, সে আন্দোলনে বিএনপি নার্সিং করার চেষ্টা করছে। বিএনপি বিগত দিনে সকল আন্দোলনে ব্যর্থ হয়েছে দাবি করে নৌমন্ত্রী বলেন, ‘বিএনপি এখন আর রাজনৈতিক দল হিসেবে নেই, এটি এখন একটি পরগাছা দলে পরিণত হয়েছে। তারা নিজেরা কোনো আন্দোলন করতে পারে না। দেশে কোনো একটি ঘটনা ঘটলেই সেটিকে উস্কে দিতে চেষ্টা করে।’ শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে নৌমন্ত্রী বলেন, তোমাদের মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় মানুষ হতে হবে। এই চেতনায় মানুষ হয়ে ভবিষ্যতে দেশ পরিচালনা করতে হবে। মুক্তিযুদ্ধের চেতনা না থাকলে এই বাংলাদেশ আর বাংলাদেশ থাকবে না। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন মাদারীপুর জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান মিয়াজউদ্দিন খান। এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন মাদারীপুর জেলা প্রশাসক ওয়াহিদুল ইসলাম, পুলিশ সুপার সুব্রত কুমার হালদার, জেলা পরিষদের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা রাসেল সাবরিন, জেলা পরিষদের প্রধান প্রশাসনিক কর্মকর্তা সিদ্দিকুর রহমান, সদর উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি সৈয়দ সাখাওয়াত হোসেন সেলিম, জেলা পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান আব্দুল মান্নান লস্কর, সদস্য আমেনা খাতুন বেবী, ফারুক খান প্রমুখ।
ছাত্রলীগের সহিংসতা আড়াল করতে শিক্ষার্থীদের ওপর দমন-পীড়ন
অনলাইন ডেস্ক: ছাত্রলীগের সহিংসতা আড়াল করতে শিক্ষার্থীদের ওপর দমন-পীড়ন চালিয়েছে সরকার বলে দাবি করেছেন বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী আহমেদ। তিনি বলেন, দলীয় পাষণ্ডদের দিয়ে শিশু-কিশোরদের ওপর হামলা করেই ক্ষান্ত হয়নি, সরকার এখন র‌্যাব-পুলিশ দিয়ে ধরপাকড় চালাচ্ছে। বৃহস্পতিবার নয়াপল্টনে বিএনপির কার্যালয়ে এক প্রেস ব্রিফিংয়ে তিনি এসব কথা বলেন। রিজভী বলেন, নিরপরাধ শিক্ষার্থীদের আটক করার পর কোমরে দড়ি বেঁধে রিমান্ডে নিয়ে নির্যাতন করা হচ্ছে। বুধবারও দেশজুড়ে আইন প্রয়োগকারী সংস্থার অভিযানে নিন্দার ঝড় উঠেছে। এ অভিযান সরাসরি কোমলমতি শিক্ষার্থীদের ওপর এক নির্মম আগ্রাসন। তিনি বলেন, খ্যাতিমান আলোকচিত্রী শহিদুল আলমকে উচ্চ আদালত চিকিৎসার নির্দেশ দিলেও পিজি হাসপাতাল সরকারের নির্দেশে তাকে ভর্তি নেয়নি। এ ঘটনায় আবারও কি প্রমাণ করার দরকার আছে যে খালেদা জিয়া এ হাসপাতালে সঠিক চিকিৎসা পাবেন? হাসপাতালটিতে সরকারি নির্দেশের বাইরে কোনো চিকিৎসা নেয়া হয় না, বলে জানান রিজভী আহমেদ। তিনি বলেন, বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যরা শিক্ষার্থীদের মুক্তি দাবি করলেও শিক্ষামন্ত্রী তা নাকচ করে দিয়েছেন। রিজভীর প্রশ্ন- ক্ষমতাপিপাসা কত তীব্র হলে শিক্ষামন্ত্রী মাসুম শিশু-কিশোরদের বিরুদ্ধে অবস্থান নিতে পারেন? এ অবৈধ ক্ষমতার জন্য তারা ন্যায়নীতি, মানবিক মূল্যবোধ, মনুষত্য এবং শিশু-কিশোরদের দাবিকেও পদদলিত করছে। নিরাপদ সড়কের দাবিতে শিশু-কিশোরদের আন্দোলনকে তিনি ভিন্ন ধারার প্রতিবাদের স্বতন্ত্র রূপ বলে আখ্যায়িত করেন। দেশসংবাদ
সাংবাদিকদের ওপর হামলাকারীদের খুঁজছে সরকার
অনলাইন ডেস্ক :শিক্ষার্থীদের অান্দোলনে সাংবাদিকদের ওপর হামলাকারীদের খুঁজে বের করতে সরকার কাজ করছে ব‌লে জা‌নি‌য়েছেন আওয়ামী লীগের প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক এবং দলের অন্যতম মুখপাত্র ড. হাছান মাহমুদ। বুধবার (৮ অাগস্ট) জাতীয় প্রেসক্লাবের কনফারেন্স লাউঞ্জে বঙ্গবন্ধু সাংস্কৃতিক জোট আয়োজিত ‘বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিবের ৮৮তম জন্মদিন’ উপলক্ষে আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। হাছান বলেন, যারা শিক্ষার্থীদের এই আন্দোলনে উস্কানি দিয়ে রাজনৈতিক ফায়দা হাসিলের চেষ্টা করেছে এবং সাংবাদিকদের ওপর হামলা চালিয়েছে তাদের চিহ্নিত করে খুব শিগগির আইনের আওতায় আনা হবে। তিনি বলেন, শিক্ষার্থীদের এই অান্দোলনে ২৫-৩০ বছরের যুবকদের স্কুলের ড্রেস পরিয়ে কোমলমতি শিক্ষার্থী বানিয়ে রাজনৈতিক ফায়দা হাসিলের চেষ্টা করে ব্যর্থ হওয়ায় একটি মহল প্রচণ্ড হতাশ। এরা কারা? এরা বিএনপি-জামায়াত ও ১/১১-এর কুশীলব। সেই ১/১১-এর কুশীলবদের নেতা ছিলেন ড. কামাল হোসেন। তিনি ওয়ান-ইলেভেনের পরবর্তী সরকারের সময় বিবৃতি দিয়ে বলেছিলেন 'এ সরকার যতদিন ইচ্ছা ততদিন ক্ষমতায় থাকতে পারবে' অর্থাৎ তিনি ১/১১-এর কুশীলবদের নেতা ছিলেন। সাবেক বন ও পরিবেশ মন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ বলেন, অাগস্ট মাস বাঙালির জন্য শোকের মাস। এ বছরও অাগস্ট মাসকে ঘিরে কুচক্রী মহল বিএনপি-জামায়াত এবং ১/১১-এর কুশীলবরা দেশে একটি বিশেষ পরিস্থিতি সৃষ্টির চেষ্টা করেছিল। এমনকি সাম্প্রতিক শিক্ষার্থীদের আন্দোলনে ভর করেও দেশে একটি বিশেষ পরিস্থিতি তৈরি করতে চেয়েছিল। শিক্ষার্থীদের এই অান্দোলনে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীসহ আমরা সবাই তাদের সমর্থন দিয়েছিলাম। কিন্তু পরে দেখলাম এই অান্দোলনে বিভিন্ন বয়সের বিএনপি-জামায়াতের ক্যাডাররা কোমলমতি শিক্ষার্থীদের মধ্যে ঢুকে পড়েছে। তিনি বলেন, এখন ১৪ কোটি মানুষের হাতে ক্যামেরা এবং রাস্তায় সিসি ক্যামেরা, সুতরাং কোনো কিছুই লুকানোর সুযোগ নেই। ফলে অামীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, মাহমুদুর রহমান মান্না, ফজলুল হক মিলন, অাসিফ নজরুলসহ সবাই কোমলমতিদের উস্কানি দিয়ে রাজনৈতিক ফায়দা হাসিলের চেষ্টা করেছে। অাবার কিছু কিছু অভিনেত্রী এমন অভিনয় করলেন যেন সবকিছু নিজের চোখের সামনে দেখতে পাচ্ছেন। অাপনারা নাচ-গান নিয়েই থাকতেন। অাপনারা কেন শিশু-কিশোরদের উস্কানি দিতে গেলেন। গুজব রটনাকারী এসব অভিনেত্রীর পেছনেও কারা অাছে তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে বলেও জানান তিনি। সরকারের কাছে দাবি জানিয়ে তিনি বলেন, যারা এই ষড়যন্ত্র করেছে, যারা পিছন থেকে বাতাস দিয়েছে এবং দিচ্ছে তাদের সবাইকে আইনের আওতায় আনা হোক। যেন দেশে এ ধরনের বিশৃঙ্খলা আর কেউ সৃষ্টি করতে না পারে। আয়োজক সংগঠনের উপদেষ্টা লায়ন চিত্তরঞ্জন দাশের সভাপতিত্বে উপস্থিত ছিলেন, খাদ্যমন্ত্রী এ্যাড. কামরুল ইসলাম এমপি, বিচারপতি সামসুদ্দিন চৌধুরী মানিক, আওয়ামী লীগ নেতা বলরাম পোদ্দার, বেলজিয়াম আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর অালম চৌধুরী রতন, ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের সভাপতি অাবু জাফর সূর্য, অভিনেত্রী অরুণা বিশ্বাস, কণ্ঠশিল্পী এস.ডি রুবেল, সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক অরুণ সরকার রানা প্রমুখ।
সরকারের বিদায়ের সাইরেন বাজা শুরু করেছে :রিজভী
অনলাইন ডেস্ক :‘১/১১ এর কুশীলবরা আবার রাজনৈতিক অঙ্গনে নেমে ঘোলা পানিতে মাছ শিকারের অশুভ খেলায় মেতে উঠেছে’ আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরের এমন বক্তব্যের কড়া সমালোচনা করেছেন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম-মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী। তিনি বলেছেন, ‘ওবায়দুল কাদের সাহেবরা শাক দিয়ে মাছ ঢাকতে পারছেন না বলেই এখন প্রলাপ বকতে শুরু করেছেন, গুজবের আশ্রয় নিয়েছেন। ক্ষমতাসীন নেতারা তাদের নিজস্ব মিডিয়া দিয়ে বিএনপির বিরুদ্ধে নোংরা অপপ্রচারে মেতে উঠেছেন। সরকারের বিদায়ের সাইরেন বাজা শুরু করেছে।’ বুধবার (৮ আগস্ট) ঢাকার নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে রিজভী বলেন, ছাত্র আন্দোলনের সহিংসতায় বিএনপিকে জড়াতে তারা (আওয়ামী লীগ) কুৎসিত অপকৌশলের আশ্রয় নিয়েছে। ৬ আগস্ট দৈনিক জনকণ্ঠে একটি ছবি ছাপা হয়েছে, যে ছবিটি ৬ বছরের পুরোনো ২০১২ সালের ২৫ জানুয়ারি দৈনিক ভোরের কাগজে প্রকাশিত একটি ছবি। ছবিতে দেখানো হয়েছে ছাত্রদলের এক নেতার নাম, আসলে সে ছাত্রদলের নেতা নন এটা ছাত্রলীগের অভ্যন্তরীণ সংঘর্ষের ছবি।’ বিএনপির এ নেতা বলেন, ‘নীরব মানুষের ক্ষোভ যে ছাই চাপা আগুনের মতো ধিকি ধিকি জ্বলছে এবং সেটা যে কোনো সময় কুণ্ডলী পাকিয়ে বিরাট আকার ধারণ করতে পারে সেটির আঁচ পেরেই বেসামাল কথা বলছেন ওবায়দুল কাদের।’ ওবায়দুল কাদেরের উদ্দেশ্যে রিজভী বলেন, ‘গতকাল আপনাদেরই একজন সাবেক প্রতিমন্ত্রী পরোক্ষে আপনাদের উদ্দেশ্য করেই স্বৈরাচারী চেহারার কিছু বৈশিষ্ট্য তুলে ধরেছেন। মানুষের মতপ্রকাশর স্বাধীনতা নেই, গণমাধ্যমের স্বাধীনতা নেই উল্টো গণমাধ্যমের ওপর চলছে দলন নিপীড়ন, সশস্ত্র হামলা ও রক্তাক্ত আক্রমণের শিকার হচ্ছেন তারা। ধমক দেয়া হচ্ছে ইলকট্রনিকস মাধ্যমকে। প্রতিনিয়ত মানুষ গুম হচ্ছে, বিচারবহির্ভূত হত্যার শিকার হচ্ছে মানুষ, ন্যায় বিচারের বাণী গুমরে গুমরে কাঁদছে। দেশজুড়ে লুটের রাজত্ব চলছে সবই আছে সাবেক ওই প্রতিমন্ত্রীর বক্তব্যে। এই বিভৎস্য অনাচারমূলক অরাজক পরিস্থিতিকেই কি ওবায়দুল কাদের শান্তিময় পরিবেশ বলতে চাচ্ছেন।’ শিক্ষার্থীদের ওপর হামলার কড়া সমালোচনা করে তিনি বলেন, ‘বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের ২২ শিক্ষার্থীকে কোমরে দড়ি লাগিয়ে রিমান্ডে নেওয়া হচ্ছে। এ যেন গোটা ছাত্রসমাজের কোমরে দড়ি বেঁধে টেনে নেওয়া হচ্ছে। এটা জাতির জন্য শুধু লজ্জার নয় এ দৃশ্য দেখে মানুষ ধিক্কার জানাচ্ছে। অবৈধ সরকারকে টিকিয়ে রাখতে কতটা নির্মমতার পথ বেছে নিতে পারে, এটি তার একটি নিকৃষ্ট উদাহারণ।’ সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন বিএনপির চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা আব্দুস সালাম, যুগ্ম-মহাসচিব অ্যাডভোকেট সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল, প্রশিক্ষণ বিষয়ক সম্পাদক এবি এম মোশাররফ হোসেন, সহ-দপ্তর সম্পাদক মুনির হোসেন, বেলাল আহমেদ প্রমুখ।
চ্যারিটেবল ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলা-৫ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত খালেদার জামিন
অনলাইন ডেস্ক: জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার জামিন ৫ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত জামিন দিয়েছেন আদালত। মঙ্গলবার পুরান ঢাকার বকশিবাজারস্থ অস্থায়ী আদালতে ঢাকার ৫ নম্বর বিশেষ জজ ড. মো. আখতারুজ্জামান ছুটিতে থাকায় ভারপ্রাপ্ত বিচারক শেখ নাজমুল আলম এ আদেশ দেন। একই সঙ্গে যুক্তিতর্কের শুনানির জন্য নতুন করে ৫ সেপ্টেম্বর দিন ধার্য করা হয়। খালেদা জিয়ার আইনজীবী জিয়া উদ্দিন জিয়া জামিনের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। মঙ্গলবার মামলাটির যুক্তি উপস্থাপনের জন্য দিন ধার্য ছিল। তবে কারাগার থেকে খালেদা জিয়াকে হাজির না করে কাস্টডি ওয়ারেন্ট পাঠান কারা কর্তৃপক্ষ। কাস্টডিতে লেখা হয়, খালেদা আজ শারীরিকভাবে অসুস্থ। তাই তাকে আদালতে হাজির করা হয়নি। অপরদিকে খালেদা জিয়ার জামিনের মেয়াদ শেষ হওয়ায় আইনজীবীরা তার জামিন বৃদ্ধির আবেদন করেন। মামলার অভিযোগ থেকে জানা গেছে, জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্টের নামে অবৈধভাবে তিন কোটি ১৫ লাখ ৪৩ হাজার টাকা লেনদেনের অভিযোগে খালেদা জিয়াসহ চারজনের বিরুদ্ধে ২০১০ সালের ৮ আগস্ট তেজগাঁও থানায় একটি মামলা করে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। ২০১২ সালের ১৬ জানুয়ারি মামলার তদন্ত কর্মকর্তা দুদকের উপ-পরিচালক হারুন-অর-রশীদ বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াসহ চারজনের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন। ২০১৪ সালের ১৯ মার্চ আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করেন ঢাকার তৃতীয় বিশেষ জজ আদালতের বিচারক বাসুদেব রায়। উল্লেখ্য, দুদকের দায়ের করা জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় বিএনপি চেয়ারপারসানকে গত ৮ ফেব্রুয়ারি পাঁচ বছরের কারাদণ্ড দেন ঢাকার বিশেষ জজ আদালত-৫ এর বিচারক ড. আখতারুজ্জামান। একই মামলায় অন্য আসামি খালেদা জিয়ার বড় ছেলে তারেক রহমানকে ১০ বছরের কারাদণ্ড দেয়া হয়। রায়ের পর খালেদা জিয়াকে রাজধানীর নাজিমউদ্দিন রোডের পুরাতন কেন্দ্রীয় কারাগারে রাখা হয়েছে। এ মামলায় তার জামিন হলেও অন্য মামলায় গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি থাকায় তিনি জামিনে মুক্ত হতে পারছেন না।

রাজনীতি পাতার আরো খবর