রংপুরে বিজয়ের মধ্য দিয়ে প্রমাণ হয়েছে জাতীয় পার্টি শক্তিশালী একটি দল- হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ
জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ বলেছেন, রংপুরে বিজয়ের মধ্য দিয়ে প্রমাণ হয়েছে জাতীয় পার্টি শক্তিশালী একটি দল। একই অনুষ্ঠানে বেগম রওশন এরশাদ বলেন, জাতীয় পার্টি কারো দাবার গুটি নয়, বরং রাজা হতে চায়। সোমবার সকালে রাজধানীর ইঞ্জিনিয়ার্স ইন্সটিটিউটে জাতীয় পার্টির ৩২ তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আলোচনা সভায় তারা এ মন্তব্য করেন। এ সময় এরশাদ আরো বলেন, 'আমরা প্রমাণ করেছি জাতীয় পার্টি আছে। সবচেয়ে শক্তিশালী দল হিসেবে আছে। আমরা সব সময় নির্যাতিত হয়েছি। অনেকদিন পরে আমরা নিজের পায়ে দাঁড়িয়েছি। এবং এমন অবস্থায় দাঁড়িয়েছি যেখানে জাতীয় পার্টি রাজনীতিতে বড় ফ্যাক্টর। জাতীয় পার্টি ছাড়া আগামী নির্বাচন হবে না। ' এছাড়া রওশন এরশাদ বলেন, 'আমরা কারো দাবার গুটি হতে চায় না। আমরা রাজা হতে চাই'
এই বছরের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ গণতন্ত্রকে ফিরিয়ে আনা বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।
নির্দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচনের মাধ্যমে গণতন্ত্র ফিরিয়ে আনাই বিএনপির নতুন বছরের চ্যালেঞ্জ বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। সোমবার বিকেলে ছাত্রদলের প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী উপলক্ষে জিয়ার সমাধিতে ফুল দিতে গিয়ে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন। এ সময় তিনি বলেন, 'এই বছরের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ গণতন্ত্রকে ফিরিয়ে আনা। সরকার যে অবস্থানে আছে তাতে কোনো সমস্যার সমাধান হবে না। এ বিষয়ে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর আরো বলেন, 'তারা চায় একদলীয় শাসন। বর্তমান সরকার কোনো আলোচনা ছাড়ায় তাদের সেই তথাকথিত সংবিধান অনুযায়ী নির্বাচন করতে চায়। তারা যা করছে জনগণ মেনে নেবে না। জনগণ চায় নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে একটি সুষ্ঠু নির্বাচন।'
জ্বালাও-পোড়াও করে যারা মানুষ হত্যা করেছে এদেশের জনগণ তাদের কখনই ভোট দেবে না-নাসিম
আওয়ামী লীগের সভাপতিমন্ডলীর সদস্য এবং স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম বলেছেন, জ্বালাও-পোড়াও করে যারা মানুষ হত্যা করেছে এদেশের জনগণ আর কোন দিন তাদের ভোট দেবে না। গতকাল রোববার কাজীপুরের গান্ধাইলে পরিবার পরিকল্পনা বিভাগ আয়োজিত পরিবার কল্যাণ সেবা ও প্রচার সাপ্তাহের উদ্বোধন উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন। আগামী নির্বাচনে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে আবারও নৌকা মার্কায় ভোট দিয়ে বিজয়ী করার আহবান জানিয়ে মোহাম্মদ নাসিম বলেন, জ্বালাও-পোড়াও ও মানুষ হত্যাকারীদের দল বিএনপি ক্ষমতায় এলে দেশের উন্নয়ন স্থবির হয়ে যাবে, দেশ অন্ধকারে নিমজ্জিত হবে। নতুন করে হাওয়া ভবনের সৃষ্টি হবে। তাই জ্বালাও পোড়াও মানুষ হত্যাকারীদের এদেশের জনগণ আর কোন দিনই ভোট দেবে না। ইউপি চেয়ারম্যান শওকত হোসেনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক সৈয়দ ইরতিজা আহসান, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার শাহিনুর আলম খান, উপজেলা নির্বাহী অফিসার শফিকুল ইসলাম, উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক খলিলুর রহমান, উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান সাইফুল ইসলাম বেলাল প্রমুখ বক্তব্য রাখেন। দেশবাসীকে নতুন বছরের শুভেচ্ছা জানিয়ে মোহাম্মদ নাসিম বলেন, আগামী বছর বিজয়ের মাসে নির্বাচন অনুষ্ঠান হবে। সেই নির্বাচনে খালেদা জিয়ার দল বিএনপিসহ সকল দল অংশ গ্রহণ করবে। স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, দেশে শিশু ও মাতৃ মৃত্যুহার কমেছে। শেখ হাসিনার যোগ্য নেতৃত্বে দেশে এখন উন্নয়ন এবং শান্তির পথে এগিয়ে যাচ্ছে। পরে তিনি চালিতাডাঙ্গা ইউনিয়নের মাথাইলচাপর আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয়ের ভবন নির্মাণের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন। এছাড়াও বিকেলে স্বাস্থ্যমন্ত্রী ৬৫ কোটি টাকা ব্যয়ে সরকারের যমুনা নদীর ডানতীর রক্ষা প্রকল্পের ড্রেজিং কার্যত্রমের কাজের অগ্রগতি পরিদর্শন করেন।
বিএনপি চেয়ারপারসন মামলার রায় ও আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে ঘিরে বিএনপির ভিতরে চলছে নানা আলোচন
রায় ও ভাঙন আতঙ্কে বিএনপি, কর্মীদের চোখ খালেদা তারেকের দিকে বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার মামলার রায় ও আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে ঘিরে বিএনপির ভিতরে চলছে নানামুখী আলোচনা। শুধু তাই নয়, এক ধরনের আতঙ্কও তৈরি হয়েছে। যদিও দলীয় নেতারা বলছেন, আতঙ্কের কিছু নেই। যে কোনো মূল্যে দলীয় ঐক্য ধরে রাখা হবে। চেয়ারপারসনের সাজা হলে সরকারবিরোধী একক আন্দোলনে যাবে বিএনপি। কোথাও কোনো ছাড় দেওয়া হবে না। যারা দলের বিরুদ্ধে অবস্থান নেবে তারা চিরতরে হারিয়ে যাবে। অতীতেও অনেকেই এমন করেছিল। আজ তারা কোথাও নেই। সংকট মোকাবিলা করেই বিএনপি আগামীর রাজনীতি করবে। তারপরও ত্যাগী নেতারা মনে করেন, জাতীয় নির্বাচন সামনে রেখে বিএনপির ভিতরে অন্তর্কলহ সৃষ্টির চেষ্টা চলছে। বিশেষ করে দলীয় চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে দুদকের দুটি মামলার গতি বাড়ায় এ আশঙ্কা জোরালো হচ্ছে। বিএনপির নেতাদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, ২০১৩ সালের ১৯ ডিসেম্বর মার্চ ফর ডেমোক্রেসি কর্মসূচি যেসব নেতার জন্য সফল হয়নি বলে দলে আলোচনা আছে, তাদের দিকেই সন্দেহের দৃষ্টি। এরা সরকারের কাছ থেকে নানা সুবিধা নিয়ে বিএনপিকে আবারও ব্যর্থতার দিকে নিয়ে যেতে চাচ্ছে। বিএনপি ঘরানার বুদ্ধিজীবীরাও দল ভাঙার বিষয়টি উড়িয়ে দিচ্ছেন না। এ ব্যাপারে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক ড. এমাজউদ্দীন আহমদ বলেন, গণতন্ত্র যখন সমাজের ভিতরে শিকড় গাড়তে পারেনি, তখন অন্যভাবে হলেও দলটাকে (বিএনপিকে) ধ্বংস করে দেওয়ার চেষ্টা হতেই পারে। আর তা নিয়ে দলীয় নেতা-কর্মী, সমর্থক সবাই উদ্বেগ ও আতঙ্কে আছেন। গণস্বাস্থ্য হাসপাতালের প্রতিষ্ঠাতা বীর মুক্তিযোদ্ধা ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী বলেন, দল ভাঙার চেষ্টা হতেই পারে। অতীতেও হয়েছে। নেতা-কর্মীরাও উদ্বিগ্ন এবং আতঙ্কিত। তবে সঠিক সময়ে সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে পারলে কিছুই হবে না। আমার বিশ্বাস, শেষ পর্যন্ত বিএনপিকে কেউ ভাঙতে পারবে না। নাম প্রকাশ না করে বিএনপির কয়েকজন নেতা জানান, কেন্দ্রীয় অনেক নেতার মধ্যেই হঠাৎ আবার সরকার প্রীতি বেড়ে গেছে। তারা নানা কায়দায় চেষ্টা করছেন, দলীয় সিদ্ধান্তগুলো সরকারের অনুকূলে নিতে। এমনকি তারা আর্থিকসহ নানা সুযোগ-সুবিধার প্রস্তাবও দিচ্ছেন কিছু নেতাকে। যারা তাদের কথা শুনছেন না, তাদের নানারকম ভয়ভীতি দেখানো হচ্ছে। নতুন করে মামলা-মোকদ্দমা দেওয়া শুরু হয়েছে। এরাই ২০১৩ সালের ১৯ ডিসেম্বর কৌশলে বেগম খালেদা জিয়াকে দিয়ে মার্চ ফর ডেমোক্রেসি কর্মসূচি ডেকে জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের নেতাদের ঢাকায় এনে বিপদে ফেলেছিলেন। সেই ব্যক্তিরা এবারও মোটা অঙ্কের অর্থের বিনিময়ে দলকে বিপদে ফেলার জন্য তত্পর হয়ে ওঠেছেন। এ প্রক্রিয়ায় দলের স্থায়ী কমিটির দু-একজন সদস্যসহ কেন্দ্রীয় কমিটির ডজন খানেক নেতা জড়িত থাকার কথা দলে আলোচনা আছে। এ ছাড়া চেয়ারপারসনের গুলশান কার্যালয়ের দুজন বিতর্কিত কর্মকর্তাও এর সঙ্গে সম্পৃক্ত বলে দল ও অঙ্গসংগঠনের নেতা-কর্মীদের সূত্রে জানা গেছে। বেগম খালেদা জিয়াকে মামলার চাপ দিয়ে সরকারের প্রস্তাবগুলোতে রাজি করাতে না পারলে শেষ পর্যন্ত তাকে অন্তরীণ করে হলেও সরকারি এজেন্ডা বাস্তবায়ন করতে চান তারা। এদের কেউ কেউ আগামী সংসদের বিরোধী দলের নেতা হওয়ার স্বপ্ন দেখছেন বলে নেতা-কর্মীরা ধারণা করছেন। এ ব্যাপারে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন বলেন, কারা কী করছেন, জানি না। তবে জন্মের পর থেকেই বিএনপির বিরুদ্ধে বার বার ষড়যন্ত্র হয়েছে। তবে শেষ পর্যন্ত কেউই সফল হয়নি। এ সরকারও ক্ষমতাকে দীর্ঘস্থায়ী করার জন্য বিএনপিকে ভাঙার চেষ্টা করবে, এটাই স্বাভাবিক। কিন্তু সফল হবে না। বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, সরকারের পক্ষ থেকে পরোক্ষ বা প্রত্যক্ষভাবে দল ভাঙার যত চেষ্টাই করা হোক না কেন, তা কখনোই সফল হবে না। অতীতেও তারা অনেক চেষ্টা করেছে, ওয়ান-ইলেভেন এর সময়ও করেছে, পারেনি। মামলা-হামলা দিয়ে কখনো জনআন্দোলন ঠেকানো যায় না। কাজেই তারাও (সরকার) সফল হবে না। স্থায়ী কমিটির অপর সদস্য আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, বেগম খালেদা জিয়াকে মিথ্যা মামলায় সাজা দিয়ে আবারও একটি প্রতারণার নির্বাচন করতে চাচ্ছে সরকার। এর আগে দল ভাঙতে চায় তারা। কিন্তু এবার আর তা হবে না। সেই চেষ্টা করলে নতুন বছরে এই সরকারকে উচ্চ মাশুল দিয়ে বিদায় নিতে হবে। বিএনপি সমর্থক বুদ্ধিজীবী ও দলের ত্যাগী নেতারা মনে করেন, দলের বর্তমান পরিস্থিতির জন্য প্রধানত দায়ী বেগম খালেদা জিয়ার ঘরে বসে থাকা। দেশের মানুষ পরিবর্তন চায়। আর সে জন্য বিএনপিকেও বদলাতে হবে। বদলাতে হবে চেয়ারপারসনের অফিসের সময়সূচি। কোনোক্রমেই রাত ১০টার পর তার অফিসে থাকা ঠিক হবে না। আবার অফিসে আসতেও হবে তাঁকে বিকাল ৪টার মধ্যে। এ প্রসঙ্গে ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী বলেন, বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়াকে অঘোষিতভাবে অন্তরীণ করেই রাখা হয়েছে। এ জন্য অনেকটা তিনি নিজেই দায়ী। আর ঘরে বসে না থেকে তাঁর উচিত সিলেটসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে সফর করা। তা না হলে দল ভাঙার ষড়যন্ত্র মোকাবিলা সম্ভব হবে না। তৃণমূল সফর করলে দল যেমন চাঙ্গা হবে, সরকারও ষড়যন্ত্র থেকে পিছিয়ে যেতে বাধ্য হবে।
দেশের টাকা আত্মসাৎ,পাচার না হলে উন্নতি আরও অনেক বেশি হতো- ডৰ কামাল
ড. কামাল হোসেনসংবিধান প্রণেতা এবং গণফোরাম সভাপতি ড. কামাল হোসেন বলেছেন, বাংলাদেশের মালিক তার জনগণ, আওয়ামী লীগ নয়। কোনো সরকার নয়। সবাইকে নিজ দাবি আদায়ে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে। তাহলেই গণতন্ত্র আবার প্রতিষ্ঠিত হবে। শুক্রবার বিকেলে রাজধানীর ডিপেস্নামা ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশনে গণফোরাম আয়োজিত আলোচনা সভায় তিনি একথা বলেন। কামাল হোসেন বলেন, এখন আওয়ামী লীগ যে দাবি করে তারা নির্বাচনে জয়ী হয়ে ক্ষমতায় এসেছে, তিনি এ ব্যাপারে বলবেন, হ্যা তারা সংখ্যাগরিষ্ঠতার ভিত্তিতে ক্ষমতায় এসেছেন। কিন্তু এই সংখ্যাগরিষ্ঠতা হচ্ছে অনির্বাচিত প্রতিনিধিদের। কেননা আওয়ামী লীগের ১৫৩ জন জনপ্রতিনিধি অনির্বাচিতভাবে, বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় চেয়ারে বসেছেন। এই সরকার আওয়ামী লীগের অনির্বাচিত প্রতিনিধিদের, মানুষের কল্যাণের জন্য নয়। তিনি আরও বলেন, আজ বাংলাদেশে হাজার হাজার কোটি টাকা দুর্নীতির মাধ্যমে হাতিয়ে নেয়ার সংস্কৃতি চলছে। ব্যাংকিং খাতকে বাঁচিয়ে রাখার চেষ্টা করা হচ্ছে ঠিকই, কিন্তু সঠিক তদন্তের মাধ্যমে মূল অপরাধীদের আইনের আওতায় আনা হচ্ছে না। পরিস্থিতি দেখে মনে হচ্ছে অর্থ পাচারকারীদের, আত্মসাৎকারীদের স্বাধীনতা পদক দেয়া হবে। এদের ধরতে কোনো পদক্ষেপই নেই। সরকার উদাসীন এ বিষয়ে। কেননা তা না হলে থলের ভেতরের বিড়াল বের হয়ে আসবে। জনগণ এখন তা বোঝে। অর্থমন্ত্রীর উদ্দেশে তিনি বলেন, 'আপনি বলেছেন যারা টাকা আত্মসাৎ করেছে তারা অনেক হাই লেভেলের মানুষ। আমি আপনাকে বলছি, আপনি যদি আইন প্রয়োগ করতে না পারেন, তাহলে আমাদের জানান। আমরা সাধারণ জনগণ, বাংলাদেশের মালিকরা সেই হাই লেভেলের মানুষদের ধরে এনে নিজেদের সম্পদ ফিরিয়ে আনব। কেউ আর জনগণের টাকা আত্মসাৎ করতে পারবে না। জনগণ আজ জানতে চায় কারা এই টাকা আত্মসাৎ করেছে।' কামাল হোসেন বলেন, 'আজ বিদেশে বাংলাদেশের অনেকের কারি কারি সম্পদ আছে। প্রতাপ আছে। টাকা পাচার করে কানাডাসহ অনেক জায়গায় সম্পত্তির পাহাড় গড়েছেন। আমরা জানতে চাই এরা কারা? কীভাবে তারা এই টাকা আয় করল? আর কীভাবেই বা তারা এই টাকা পাচার করল? বাংলাদেশের টাকা আত্মসাৎ, পাচার না হলে উন্নতি আরও অনেক বেশি হতো। পদ্মা সেতু আরও অনেক সহজে হয়ে যেত। মেট্রোরেল আরও সহজে হয়ে যেত।' তিনি বলেন, 'আমরা সাধারণ মানুষ সবাই চাই দেশে 'গুম বাহিনী' সবসময়ের জন্য বিশ্রামে চলে যাক। গুম কালচার যাতে ইমেডিয়েটলি বন্ধ হয়ে যায়।' সভায় উপস্থিত সাবেক ডাকসু ভিপি সুলতান আহমেদ মনসুর বলেন, সংবিধানে মৌলিক অধিকারের কথা বলা থাকলেও, বাংলাদেশে তা আজ অনুপস্থিত। একটি সুষ্ঠু নির্বাচনের মাধ্যমে বাংলাদেশের মানুষের অধিকার ফিরিয়ে দেয়া হবে। গণফোরামের প্রেসিডিয়াম সদস্য অ্যাডভোকেট আব্দুল আজিজ, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আ হ ম শফিকউলস্নাহ, শিক্ষাবিষয়ক সদস্য বিলকিস আহমেদ প্রমুখ সভায় বক্তব্য রাখেন।
একতরফা নির্বাচনের দিন ৫ জানুয়ারি রাজধানীতে বড় শোডাউন করতে চায় বিএনপি
একতরফা নির্বাচনের দিন ৫ জানুয়ারি রাজধানীতে বড় শোডাউন করতে চায় বিএনপি। তবে অনুমতি না মিললে ঘরোয়া আলোচনা সভা এবং তাও সম্ভব না হলে দেশব্যাপী কালো পতাকা প্রদর্শনের কর্মসূচি দিবে দলটি। জানা গেছে, এর আগে ৫ জানুয়ারিকে ঘিরে কঠোর আন্দোলন করে দফায় দফায় ব্যর্থ হওয়া বিএনপি এবার একেবারে শান্তিপূর্ণভাবে কর্মসূচি পালনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। বিগত আন্দোলনের ব্যর্থতা থেকে শিক্ষা নিয়ে এবারে প্রথমেই অলআউট আন্দোলনে না গিয়ে ধীরে ধীরে আন্দোলনকে বেগবান করতে চায় তারা। বিএনপি সূত্রমতে, দলের বেশ কয়েকজন প্রভাবশালী নেতা ২০১৮ সালের ৫ জানুয়ারি থেকে আবারো কঠোর আন্দোলনে নামতে বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে পরামর্শ দিয়েছিলেন। তবে খালেদা জিয়া তাতে রাজি হননি। কারণ, ২০১৫ সালের মতো আন্দোলন ব্যর্থ হলে বিএনপিকে তার মূল্য দিতে হবে; যার পরিণতি ভোগ করতে হবে অনেক বছর ধরে। এজন্য এবার একেবারেই শান্ত্মিপূর্ণ উপায়ে কর্মসূচি পালনের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। সিদ্ধান্ত্ম অনুযায়ী দলটি ৫ জানুয়ারি রাজধানী ঢাকার সোহরাওয়ার্দী উদ্যান অথবা নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার উপস্থিতিতে সমাবেশ করতে চায়। ঢাকা মহানগর পুলিশ কমিশনারের কাছে কর্মসূচির অনুমতি চেয়ে শিগগির আবেদন করা হতে পারে। একইভাবে ঢাকার বাইরের জেলা সদর ও মহানগরে সমাবেশ করার পরিকল্পনা আছে। সমাবেশের অনুমতি না দিলেও হরতাল বা অবরোধের মতো কর্মসূচি দিয়ে কঠোর অবস্থানে যাবে না বিএনপি। সেক্ষেত্রে মহানগরের থানায় থানায় বিক্ষোভ অথবা ঘরোয়াভাবে আলোচনা সভা করবে। পাশাপাশি ৫ জানুয়ারিকে গণতন্ত্র হত্যা দিবস আখ্যা দিয়ে এই দিনটিতে কালো পতাকা হাতে যার যার অবস্থান থেকে প্রতিবাদ জানাবেন দলের নেতাকর্মীরা। বিএনপির সিনিয়র এক নেতা বলেন, আগামী ৫ জানুয়ারির কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে কোনো সংঘাতে যেতে চায় না বিএনপি। তবে ব্যাপক জমায়েত ঘটিয়ে দিনটিতে কালো পতাকা হাতে রাজপথে থেকে কর্মসূচি করার প্রস্তুতি চলছে। ৫ জানুয়ারির কর্মসূচির বিষয়ে দলের সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রম্নহুল কবির রিজভী যায়যায়দিনকে বলেন, গণতন্ত্র হত্যার এই দিনে বিএনপি অবশ্যই কর্মসূচি পালন করবে। তবে কী কর্মসূচি হবে তা এখনও চূড়ান্ত হয়নি। দ্রততম সময়ের মধ্যে এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত হবে। একই বিষযে দলের যুগ্ম মহাসচিব সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল বলেন, গণতন্ত্র হত্যা দিবসের এ দিনটির প্রতিবাদে কর্মসূচি করা গণতান্ত্রিক দল হিসেবে বিএনপির দায়িত্ব। সেক্ষেত্রে ঢাকায় সমাবেশসহ দিনটিতে কালো পতাকা হাতে নেতাকর্মীদের রাজপথে থাকার শান্তিপূর্ণ কর্মসূচি নেয়া হতে পারে। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ৫ জানুয়ারি শান্ত্মিপূর্ণ কর্মসূচি পালনের সিদ্ধান্ত থাকলেও পর্যায়ক্রমে কঠোর আন্দোলনের কর্মসূচি যাওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে বিএনপির। বিশেষ করে বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার মামলার রায়ের বিষয়টি দেখে কর্মসূচি দিনক্ষণ ঠিক করা হবে। জিয়া চ্যারিটেবল ও জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট মামলার রায় ঘোষণার আগ পর্যন্ত সংঘাতপূর্ণ কোনো কর্মসূচিতে না যাওয়ার সিদ্ধান্ত আছে তাদের। এই মামলাগুলোর রায় খালেদা জিয়ার বিপক্ষে গেলে কালবিলম্ব না করে বড় ধরনের আন্দোলনের যাবে বিএনপি। যার ধারাবাহিকতা থাকতে পারে আগামী জাতীয় নির্বাচন পর্যন্ত। আর মামলার রায় যদি খালেদা জিয়ার পক্ষে আসে সেক্ষেত্রে সমঝোতার মাধ্যমে নির্দলীয় সরকারের ইসু্যটি সমাধানের জন্য সরকারকে আরো সময় দিবে। আর তাতেও কাজ না হলে আগামী জুলাই-আগস্টে অলআউট আন্দোলনে যাবে বিএনপি। প্রসঙ্গত, দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচন বন্ধে ২০১৩ সালের শেষ দিকে ধারাবাহিক আন্দোলন শুরু করে বিএনপি। হরতালের পাশাপাশি লাগাতার অবরোধ কর্মসূচিও ঘোষণা করে দলটি। ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারি নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার পরও বেশ কিছু দিন আন্দোলন অব্যাহত রাখে দলটি। পরে আন্দোলন থেকে সরে এলেও নির্বাচনের এক বছর পূর্তি উপলক্ষে আবারও কর্মসূচিতে যায় তারা। দলের চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে সভা করতে না দেয়ায় ২০১৫ সালের ৬ জানুয়ারি আবারও অনির্দিষ্টকালের অবরোধ কর্মসূচি ঘোষণা করে বিএনপি। কর্মসূচি চলাকালে বিভিন্ন সহিংসতার ঘটনায় দায়ের করা মামলায় গ্রেফতার হন দলের অধিকাংশ শীর্ষ নেতা। ফলে সাংগঠনিকভাবে দুর্বল হয়ে পড়ে বিএনপি। এরপর থেকে আর কোনো আন্দোলন যেতে পারেনি দলটি।
বিএনপি গণতন্ত্র- নির্বাচনের মুখোশ পরে সহায়ক সরকারের ফাঁদপেতে নির্বাচন বানচাল করতে চায়-ইনু
তথ্যমন্ত্রী ও জাসদ সভাপতি হাসানুল হক ইনু বলেছেন, নির্বাচন ও গণতন্ত্রের মুখোশ পরে নির্বাচন বানচাল করতেই সহায়ক সরকারের প্রস্তাব দিয়েছেন খালেদা জিয়া। তিনি দুর্নীতি-সন্ত্রাসের বিচার থেকে নিজেকে রক্ষা করতে নির্বাচনকে দরকষাকষির হাতিয়ার বানাতে চান। ঢাকার রমনায় ইঞ্জিনিয়ারস ইন্সটিটিউশন প্রাঙ্গণে বুধবার বিকেলে জাসদের নির্বাচন বানচালের চক্রান্ত মোকাবিলা শীর্ষক সমাবেশ ও র্যালিতে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় এসব কথা বলেন জাসদ সভাপতি ইনু। হাসানুল হক ইনু বলেন, দেশ যখন সাংবিধানিক প্রক্রিয়ায় নির্বাচনের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে, তখন বিএনপি ও খালেদা জিয়া গণতন্ত্র- নির্বাচনের মুখোশ পরে সহায়ক সরকারের ফাঁদপেতে তা বানচাল করতে চায়। মনে রাখতে হবে, নির্বাচন কোনো দরকষাকষির হাতিয়ার নয়। এ অবস্থায় দেশের সামনে চারটি চ্যালেঞ্জ রয়েছে উল্লেখ করে তথ্যমন্ত্রী বলেন, নির্বাচন বানচালের চক্রান্ত মোকাবিলা, যথাসময়ে নির্বাচন অনুষ্ঠান, বিএনপি-খালেদা-জঙ্গি-রাজাকার চক্রকে ক্ষমতার বাইরে রাখা ও উন্নয়নের ধারা এগিয়ে নেয়াই এখনকার সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। তিনি বলেন, দেশবাসীকে ঐক্যবদ্ধভাবে এ চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করে যথাসময়ে নির্বাচন অনুষ্ঠান ও বিএনপি-খালেদা-জঙ্গি-রাজাকার চক্রকে ক্ষমতার বাইরে রাখতে হবে এবং একাজে জাসদ থাকবে সামনে। জাসদ সহসভাপতি ফজলুর রহমান বাবুলের সভাপতিত্বে দলীয় নেতাদের মধ্যে সাধারণ সম্পাদক শিরীন আখতার এমপি, শওকত রায়হান, নূরুল আখতার, এড হাবিবুর রহমান শওকত প্রমুখ সমাবেশে বক্তব্য রাখেন। সমাবেশ শেষে লাল পতাকাশোভিত স্লোগানমুখর র্যালি রমনা থেকে পল্টনে গিয়ে সমাপ্ত হয়।
দুর্নীতি মামলায় খালেদার পঞ্চম দিনের যুক্তিতর্ক উপস্থাপন আজ
জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় বেগম খালেদা জিয়ার উপস্থিতিতে আজ (বৃহস্পতিবার) পঞ্চম দিনের মতো যুক্তিতর্ক উপস্থাপন করবেন বেগম জিয়ার আইনজীবীরা। গতকাল (বুধবার) সকাল সোয়া ১১টার দিকে রাজধানীর বকশীবাজারে স্থাপিত অস্থায়ী জজ আদালতে পৌঁছান বেগম খালেদা জিয়া। তার পক্ষে আইনজীবী আবদুর রেজাক খান চতুর্থ দিনের মতো আদালতে যুক্তিতর্ক উপস্থাপন করে বক্তব্য শেষ করেন। যুক্তি উপস্থাপন শেষে তিনি আদালতের কাছে বেগম জিয়ার খালাসের আরজি জানিয়ে বলেন, এ মামলার সঙ্গে বেগম জিয়ার জড়িত থাকার প্রমাণ দিতে বাদী পক্ষ ব্যর্থ হয়েছে। তবে দুদকের আইনজীবীর দাবি, এ মামলায় ৩২ জন সাক্ষীর সাক্ষ্য ও দলিলে বেগম জিয়ার স্বাক্ষর প্রমাণ করে তার নির্দেশেই অর্থ আত্মসাৎ করা হয়েছে। ২০০৮ সালের ৩ জুলাই ২ কোটি ১০ লাখ একাত্তর হাজার টাকা আত্মসাতের অভিযোগে রাজধানীর রমনা থানায় বেগম খালেদা জিয়া ও তারেক রহমানসহ ৬ জনের বিরুদ্ধে মামলা করে দুদক।
কোনো সাক্ষ্য-প্রমাণ দিয়ে খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ প্রমাণ করতে পারেনি দুদক
জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার পক্ষে তার আইনজীবীরা তৃতীয় দিনের মতো যুক্তিতর্ক উপস্থাপন করেছেন। আইনজীবী আবদুর রেজ্জাক খান গতকাল তা আদালতে উপস্থাপন করেন। যুক্তিতর্ক শেষ না হওয়ায় আজ বুধবার পরবর্তী দিন ধার্য করেছে আদালত। গতকাল রাজধানীর বকশীবাজারের আলিয়া মাদ্রাসা মাঠে স্থাপিত ঢাকার ৫ নম্বর বিশেষ জজ ড. আখতারুজ্জামানের আদালত যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষে এ আদেশ দেন। যুক্তিতর্ক শুনানিতে আবদুর রেজ্জাক খান বলেন, এই মামলার সঙ্গে খালেদা জিয়ার মানসম্মান জড়িত। এ মামলায় কিছুই নেই। কোনো সাক্ষ্য-প্রমাণ দিয়ে খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ প্রমাণ করতে পারেনি দুদক। আইনজীবী রেজ্জাক খানের যুক্তিতর্ক উপস্থাপনের পর খালেদা জিয়ার পক্ষে তাঁর আরও তিন আইনজীবী খন্দকার মাহবুব হোসেন, এ জে মোহাম্মদ আলী ও ব্যারিস্টার জমিরউদ্দিন সরকারের যুক্তি উপস্থাপন করার কথা রয়েছে। এ সময় খালেদা জিয়ার পক্ষে আদালতের ভিতরে দেড় শতাধিক আইনজীবী উপস্থিত ছিলেন। তৃতীয় দিনের যুক্তিতর্ক শুনানি শেষে আদালত চত্বরে বিএনপি স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ উপস্থিত সাংবাদিকদের বলেন, এটি একটি রাজনৈতিক মামলা। বেগম খালেদা জিয়া প্রধানমন্ত্রী থাকাকালে ক্ষমতার অপব্যবহার করেছেন, এটা দুদকের ৩২ জন সাক্ষীর একজনও আদালতে বলেননি। তাঁকে হয়রানির জন্যই এ মামলা করা হয়েছে। অতএব আমরা আশা করছি, এ মামলায় খালাস পাবেন বেগম খালেদা জিয়া। শুনানিতে অ্যাডভোকেট আবদুর রেজ্জাক খান আরও বলেন, জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলার অভিযোগ গঠন আইন মেনে করা হয়নি। যেহেতু বেগম খালেদা জিয়া একজন সাবেক প্রধানমন্ত্রী, তাই সব আসামির সঙ্গে একত্রে তাঁর বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করার সুযোগ নেই। দুদক এর ১৩তম সাক্ষীর সাক্ষ্য খণ্ডানোর যুক্তি তুলে ধরে তিনি বলেন, সোনালী ব্যাংক কর্তৃপক্ষ অর্থ লেনদেনের অনিয়ম হয়েছে বলে কোনো তথ্য দেয়নি। এ সময় তিনি সোনালী ব্যাংকের কোনো ডকুমেন্ট আদালতে প্রদর্শিত হয়নি জানিয়ে কোনো সাক্ষী মূল ডকুমেন্টগুলো দেখেছেন এমন কোনো সাক্ষ্য কেউ দেননি মর্মে আদালতকে অবহিত করেন। রেজ্জাক খান আরও বলেন, খালেদা জিয়াকে এ মামলায় প্রধান আসামি করা হয়েছে। অথচ কোনো সাক্ষী তাঁদের সাক্ষ্যে বলেননি, এ ঘটনার সঙ্গে তাঁর সম্পৃক্ততা ছিল। এ ছাড়া জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট মামলায় তদন্তকারী কর্মকর্তা তদন্তকালে এই টাকার উৎস সম্পর্কে সঠিক কোনো তথ্য উদঘাটন করতে পারেননি। এ ছাড়া স্বচ্ছ ও পরিষ্কারভাবে তদন্তও করেননি। তদন্ত কর্মকর্তা জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট মামলার টাকা কোথা থেকে এসেছে তা খুঁজে বের করতেও ব্যর্থ হয়েছেন। অন্যদিকে, আদালতের কার্যক্রম শেষে দুদকের আইনজীবী মোশাররফ হোসেন কাজল সাংবাদিকদের বলেন, এই মামলায় দুদক সাক্ষ্য-প্রমাণ দিয়ে খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ প্রমাণ করতে সক্ষম হয়েছে। আমরা খালেদা জিয়ার সর্বোচ্চ সাজা চেয়েছি আদালতে। দুদকের পক্ষে গতকাল অ্যাডভোকেট মোশাররফ হোসেন কাজল ছাড়াও মহানগর পাবলিক প্রসিকিউটর আবদুল্লাহ আবু, অ্যাডভোকেট মীর আবদুস সালাম, অ্যাডভোকেট আমিন উদ্দিন মানিক আদালতে উপস্থিত ছিলেন। বেলা সাড়ে ১১টা থেকে বিকাল পৌনে ৪টা পর্যন্ত টানা সোয়া চার ঘণ্টা সময় ধরে এই যুক্তিতর্ক চলে। মাঝখানে শুধু ঘণ্টাখানেক সময় নামাজ ও মধ্যাহ্নভোজের বিরতি দেওয়া হয়। বিশেষ জজ আদালতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর বিপুল সদস্য মোতায়েন করা হয়। শুনানি চলাকালে আদালতের সামনের রাস্তায় যান চলাচল বন্ধ করে দেওয়া হয়। তাছাড়া আশপাশের রাস্তার দোকানপাটও বন্ধ রাখা হয়। এ ছাড়া ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল ও হাই কোর্ট এলাকাসহ বিভিন্ন স্থানের মোড়ে বেগম খালেদা জিয়ার আদালতে যাওয়া উপলক্ষে বিএনপি ও অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের হাজার হাজার নেতা-কর্মী তাঁকে যাওয়া ও আসার সময় মিছিলসহ অভ্যর্থনা জানান। সকালে আদালতে যাওয়ার সময় হাই কোর্ট এলাকা থেকে কমপক্ষে আটজন নেতা-কর্মীকে পুলিশ আটক করে নিয়ে যায় বলে উপস্থিত নেতারা জানান। এ ছাড়া আদালতে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস, ভাইস চেয়ারম্যান আবদুল্লাহ আল নোমান, আবদুল আউয়াল মিন্টু, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা আবদুস সালাম, দলের সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী আহমেদ, যুগ্ম মহাসচিব সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল, খায়রুল কবির খোকন, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা আমানউল্লাহ আমান, বিএনপি নেতা নাজীমউদ্দিন আলম, রুহুল কুদ্দুস তালুকদার দুলু, শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানী, মহিলা দল নেত্রী আফরোজা আব্বাস প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন। গত ২০ ও ২১ ডিসেম্বর বেগম খালেদা জিয়ার পক্ষে জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় যুক্তি উপস্থাপন করেন তার আইনজীবীরা। এর আগে ১৯ ডিসেম্বর রাষ্ট্রপক্ষে দুদকের আইনজীবী মোশাররফ হোসেন কাজল এ মামলায় যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষ করেন। গত ২১ ডিসেম্বর জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় খালেদা জিয়ার পক্ষে যুক্তি উপস্থাপন করেন তার আইনজীবী আবদুর রেজ্জাক খান। ওই দিন তার যুক্তি উপস্থাপন শেষ না হওয়ায় গতকাল ২৬, আজ ২৭ ও আগামীকাল ২৮ ডিসেম্বর পরবর্তী যুক্তি উপস্থাপনের দিন ধার্য করে আদালত। অন্যদিকে জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় আত্মপক্ষ সমর্থনে লিখিত বক্তব্য জমা দিয়েছেন খালেদা জিয়া এবং মামলায় কোনো সাফাই সাক্ষী দেবেন না বলেও আদালতকে জানান তিনি। জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় বেগম খালেদা জিয়া ও তারেক রহমান ছাড়া অন্য আসামিরা হলেন— মাগুরার সাবেক এমপি কাজী সালিমুল হক কামাল, ব্যবসায়ী শরফুদ্দিন আহমেদ, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সাবেক মুখ্যসচিব কামাল উদ্দিন সিদ্দিকী ও বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমানের ভাগ্নে মমিনুর রহমান। মামলার অন্য আসামিরা হলেন— খালেদা জিয়ার সাবেক রাজনৈতিক সচিব হারিছ চৌধুরী (পলাতক), হারিছের তখনকার এপিএস জিয়াউল ইসলাম মুন্না এবং ঢাকার সাবেক মেয়র সাদেক হোসেন খোকার একান্ত সচিব মনিরুল ইসলাম খান।

রাজনীতি পাতার আরো খবর