খুনি তারেককে দেশে ফিরিয়ে এনে বিচার করা হবে : হানিফ
১১মে,শনিবার,অনলাইন ডেক্স,নিউজ একাত্তর ডট কম: খুনি, সন্ত্রাসী, দুর্নীতিবাজ তারেক রহমানকে দেশে ফিরিয়ে এনে বিচার করব বলে মন্তব্য করেছেন আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহাবুব-উল আলম হানিফ। আজ শনিবার চট্টগ্রাম নগরীর ইন্টারন্যাশনাল কনভেনশন সেন্টারে চট্টগ্রামের সাত জেলা কমিটির বিশেষ বর্ধিত সভায় তিনি এ মন্তব্য করেন। সভাপতির বক্তব্যে হানিফ বলেন, পরিষ্কার জানিয়ে দিতে চাই, লন্ডনে বসে ষড়যন্ত্র করে লাভ হবে না। খুনি, সন্ত্রাসী, দুর্নীতিবাজ তারেক রহমানকে দেশে ফিরিয়ে এনে বিচার করব ইনশাল্লাহ। বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর প্রসঙ্গে হানিফ বলেন, তিনি বলেছেন কর্ণফুলী টানেল ও পদ্মা সেতু দিয়ে জনগণের কোনো লাভ হবে না। এদের মানসিকতাই উন্নয়ন বিরোধী। যোগাযোগ ব্যবস্থা যত উন্নত হবে অর্থনীতি তত এগিয়ে যাবে। ক্ষমতায় থেকে এরা দেশকে পিছিয়ে দিয়েছে। এখন বাইরে থেকে আঘাত করছেন। তাদের সবসময় লক্ষ্য দেশকে কিভাবে ব্যর্থ রাষ্ট্রে পরিণত করা যায়। আওয়ামী লীগের চট্টগ্রাম বিভাগীয় সমন্বয়কারী এনামুল হক শামীমের সঞ্চালনায় সভায় উপস্থিত ছিলেন তথ্যমন্ত্রী হাছান মাহমুদ, শিক্ষা উপ-মন্ত্রী মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল, সংসদের হুইপ সামশুল হক চৌধুরী, নগর কমিটির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি মাহতাব উদ্দিন চৌধুরী, সাধারণ সম্পাদক আ জ ম নাছির উদ্দিন, উত্তরের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি ফজলে করিম চৌধুরী, দক্ষিণের সভাপতি মোসলেম উদ্দিন চৌধুরী। এছাড়া সাংসদ নজরুল ইসলাম, এম এ লতিফ, মাহফুজুর রহমান মিতা, সাইমুম সরওয়ার কমল, উত্তর জেলার সাধারণ সম্পাদক মফিজুর রহমান, নারী সাংসদ ওয়াসিকা আয়শা খানম ও খাদিজাতুল আনোয়ার সনি উপস্থিত ছিলেন। চট্টগ্রাম মহানগর, উত্তর, দক্ষিণ, কক্সবাজার, রাঙামাটি, খাগড়াছড়ি ও বান্দরবন জেলা আওয়ামী লীগের এই সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন দলের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য আবদুল মতিন খসরু।- আলোকিত বাংলাদেশ
সিঙ্গাপুর নেয়া হয়েছে মওদুদ আহমদকে
১০ মে,শুক্রবার ,অনলাইন ডেক্স,নিউজ একাত্তর ডট কম : উন্নত চিকিৎসার জন্য বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদকে সিঙ্গাপুর নেয়া হয়েছে। গতকাল সকাল ৮টায় বাংলাদেশ বিমানের একটি ফ্লাইটে তাকে সিঙ্গাপুর নেয়া হয়। মওদুদ আহমদের ব্যক্তিগত সহকারী মো. মমিনুর রহমান মানবজমিনকে এ তথ্য নিশ্চিত করেন। তিনি বলেন, ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদকে সিঙ্গাপুরের মাউন্ট এলিজাবেথ হাসপাতালে ভর্তি করা হবে। মওদুদ আহমদের স্ত্রী তার সঙ্গে গেছেন। এর আগে গত রোববার বুকে তীব্র ব্যথা অনুভব করায় তাকে এ্যাপোলো হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। তিনি হাসপাতালের সিসিইউতে চিকিৎসাধীন ছিলেন। ওইদিন আদালতে মামলার হাজিরা দিতে গেলে সেখানে তিনি অসুস্থ হয়ে পড়েন।
দেশের বিচার ব্যবস্থা ধ্বংস হয়ে গেছে :মির্জা ফখরুল
১০ মে,শুক্রবার ,অনলাইন ডেক্স,নিউজ একাত্তর ডট কম : বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, দেশের বিচার ব্যবস্থা ধ্বংস হয়ে গেছে, দেশের নির্বাচন ব্যবস্থাকে ধ্বংস করা হয়েছে। বর্তমান সরকার দেশকে একটি অকার্যকর রাষ্ট্রে পরিণত করেছে।আজ শুক্রবার জাতীয় প্রেসক্লাবে ন্যাশনালিস্ট রিসার্চ সেন্টার কর্তৃক আয়োজিত রাজনীতির জন্য খালেদা জিয়ার ত্যাগ বিষয়ক আলোকচিত্র প্রদর্শনী ও আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি একথা বলেন।মির্জা ফখরুল বলেন, দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া সাবেক সেনাপ্রধান ও রাষ্ট্রপতির স্ত্রী। তিনি রাজনীতি করে জেল খেটে এতো কষ্ট না করে সারাজীবন আরাম আয়েশের জীবনযাপন করতে পারতেন। কিন্তু তিনি বাংলাদেশের স্বাধীনতা সার্বভৌমত্ব রক্ষা করতে রাজনীতিতে এসেছেন। বেগম জিয়া দেশকে দেশকে সমৃদ্ধ করার লক্ষ্যে নারীশিক্ষাসহ প্রতিটি সেক্টরে কাজ করেছেন।বিএনপি মহাসচিব বলেন, এশিয়া মহাদেশে দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার মতো ত্যাগী নেত্রী খুঁজে পাওয়া যাবে না। তিনি গণতন্ত্রের জন্য যে ত্যাগ স্বীকার করেছেন তা আর কোনো রাজনীতিবিদ করেননি। তিনি সত্যিকারার্থে বাংলাদেশকে একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করতে চান। সংসদীয় গণতন্ত্র চালু করার মাধ্যমে বেগম জিয়া তার সে কাজ শুরু করেছিলেন।বিএনপিকে ভাঙার জন্য নানা প্রকার অপপ্রচার চালানো হচ্ছে উল্লেখ করে বিএনপি মহাসচিব বলেন, আপনারা কোনো ভুয়া খবরে কান দিবেন না। বিএনপি দেশনেতা তারেক রহমানের নির্দেশে ঐক্যবদ্ধ আছে। আমাদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান বিদেশ থেকে আমাদের পরিচালনা করছেন। তিনি আমাদের যেই নির্দেশনা দিবেন আমরা সেই নির্দেশনায় ঐক্যবদ্ধ থাকবো।ন্যাশনালিস্ট রিসার্চ সেন্টারের পরিচালক বাবুল তালুকদারের সভাপতিত্বে আলোচনা সভায় উপস্থিত ছিলেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ভিসি অধ্যাপক এমাজউদ্দীন আহমদ, বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান, বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান বরকত উল্লাহ বুলু, বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল, সাংগঠনিক সম্পাদক এমরান সালেহ প্রিন্স প্রমুখ
রাজধানীতে বিএনপির বিক্ষোভ মিছিল
১০ মে,শুক্রবার ,অনলাইন ডেক্স,নিউজ একাত্তর ডট কম :দলের চেয়ারপারসন কারাবন্দি খালেদা জিয়ার মুক্তি ও সুচিকিৎসার দাবিতে রাজধানীতে বিক্ষোভ মিছিল করেছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী মহিলা আইনজীবী।শুক্রবার বেলা ১১টার দিকে একটি মিছিল নয়াপল্টনস্থ বিএনপি কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে থেকে শুরু হয়ে নাইটিঙ্গেল মোড় ঘুরে আবারও কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এসে শেষ হয়।বিক্ষোভ মিছিলে নেতৃত্ব দেন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী।মিছিলে অংশগ্রগ্রহণ করেন বিএনপি জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য নিপুণ রায় চৌধুরী, শামীমা আক্তার শাম্মী, তাহমিনা আক্তার হাশেমী, সেতারা বেগম সেতু, রাফিজা আলম লাকী, নার্গিস পারভীন এলিজা, নাসরিন বেগম, নার্গিস পারভীন মুক্তি, নাদিরা বেগম হ্যাপি, আসমা খাতুন, মোস্তারী আক্তার নূপুর, জোহরা খাতুন জুঁই, কাজী রওশন দীল আফরোজ, ফারহানা আক্তার লুবনা, শাহীন সুলতানা খুকী, শামসুন্নাহার, তামান্না খানম, জেবুন্নেসা খানম, হাবিবা কাদের মিলি প্রমুখ।
জাপা একসঙ্গে ৮ নেতাকে প্রেসিডিয়াম সদস্য বানালেন
১০ মে,শুক্রবার ,অনলাইন ডেক্স,নিউজ একাত্তর ডট কম জাতীয় পার্টির (জাপা) চেয়ারম্যান হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ একসঙ্গে ৮ নেতাকে পার্টির প্রেসিডিয়াম সদস্য বানালেন। গতকাল বৃহস্পতিবার গণমাধ্যমে পাঠানো এরশাদ স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, পার্টির গঠনতন্ত্রে ২০/১/ক ধারা মোতাবেক এ সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়েছে, যা অবিলম্বে কার্যকর হবে।প্রেসিডিয়াম সদস্য হলেন-সাবেক মন্ত্রী সৈয়দ দিদার বখত্, সাবেক এমপি জাফর ইকবাল সিদ্দিকী, নাজমা আকতার এমপি, মেজর (অব) রানা মোহাম্মদ সোহেল এমপি, আব্দুস সাত্তার মিয়া, সাবেক ছাত্রনেতা আলমগীর সিকদার লোটন, ব্যবসায়ী কাজী মামুনুর রশিদ ও এমরান হোসেন মিয়া।লিয়াকত হোসেন খোকার পদত্যাগ : নারায়ণগঞ্জ-৩ (সোনারগাঁও) থেকে নির্বাচিত সংসদ সদস্য লিয়াকত হোসেন খোকা জাতীয় পার্টির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব পদ থেকে পদত্যাগ করেছেন। দলের শীর্ষ নেতৃত্বের অযোগ্যতার প্রতিবাদে পদত্যাগ করেছেন বলে জানিয়ে তিনি বলেন, এরশাদের অসুস্থতার সুযোগ নিয়ে সুযোগসন্ধানী অযোগ্য নেতৃত্ব জাতীয় পার্টির সাধারণ কর্মীদের আবেগ নিয়ে ছিনিমিনি খেলে চলছেন। তিনি আরও বলেন, পার্টির বর্তমান নেতৃত্বের ওপর আমার আস্থা নেই। এরশাদের অসুস্থ অবস্থায় একটি মহল পার্টির ভেতর যেভাবে প্রমোশন দিচ্ছে তা মেনে নেওয়া যায় না।
খালেদা জিয়ার বিশেষ সহকারী হাসপাতালে ভর্তি
৯মে,বৃহস্পতিবার,অনলাইন ডেক্স,নিউজ একাত্তর ডট কম: বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার বিশেষ সহকারী অ্যাডভোকেট শামসুর রহমান শিমুল বিশ্বাস অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। গতকাল বুধবার রাতে তাকে মগবাজার কমিউনিটি মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। বিষয়টি নিশ্চিত করে তার ব্যক্তিগত সহকারী এনাম আহমেদ জানান, জামিনে মুক্তি পাওয়ার পর গত মঙ্গলবার শিমুল বিশ্বাস বিএনপির উদ্যোগে আলেম ওলামা মাশায়েখ ও এতিমদের ইফতার পার্টিতে অংশ নেন। বুধবার দিনভর তিনি কমিউনিটি হাসপাতালে তার চেকআপ করান। পরীক্ষা-নিরীক্ষার প্রতিবেদন দেখে চিকিৎসকরা তাকে হাসপাতালে ভর্তি হতে বলেন। চিকিৎসকদের নির্দেশে তিনি হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। এদিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে এক স্ট্যাটাসে শিমুল বিশ্বাসের ভাতিজা ব্যারিস্টার সাইফুর রহমান লেখেন, দীর্ঘদিন কারাভোগের পর, বিএনপি চেয়ারপারসনের বিশেষ সহকারী ও আমার চাচা অ্যাডভোকেট শামসুর রহমান শিমুল বিশ্বাস জামিনে মুক্তি পেয়েছেন। ছাড়া পেয়েই তিনি দিনরাত পার্টির জন্য নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছিলেন। এরই মধ্যে হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়লে শামসুর রহমান শিমুল বিশ্বাসকে মগবাজার কমিউনিটি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। সাইফুর রহমান আরও লেখেন, শিমুল বিশ্বাস বর্তমানে অধ্যাপক ডাক্তার মাহমুদুর রহমানের অধীনে চিকিৎসাধীন আছেন। কারা নির্যাতিত নেতার রোগমুক্তি কামনায় তিনি সবার কাছে দোয়া প্রার্থনা করেছেন। উল্লেখ্য, গত বছরের ৮ ফেব্রুয়ারি পুরান ঢাকার বকশীবাজারের অস্থায়ী আদালতে জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলার রায় ঘোষণা করা হয়। খালেদাসহ ছয় আসামির বিরুদ্ধে এ রায় ঘোষণার সময় শিমুল বিশ্বাস আদালতে উপস্থিত ছিলেন। রায় ঘোষণা শেষে আদালত প্রাঙ্গণ থেকে শিমুল বিশ্বাসকে গ্রেপ্তার করে মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ। এরপর ২৬ ফেব্রুয়ারি রাজধানীর রমনা থানার নাশকতার মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে শিমুল বিশ্বাসকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন আদালত। এক বছর দুই মাস ২৬ দিন কারাভোগের পর শনিবার (০৪ মে) দুপুরে উচ্চ আদালত থেকে জামিন নিয়ে নরসিংদী জেলা কারাগার থেকে কারামুক্ত হন শিমুল বিশ্বাস।-আলোকিত বাংলাদেশ
মির্জা ফখরুলের শূন্য আসনে ভোট ২৪ জুন
৮মে,বুধবার,অনলাইন ডেক্স,নিউজ একাত্তর ডট কম: বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর শপথ না নেওয়ায় শূন্য হওয়া বগুড়া-৬ আসনের নির্বাচন আগামী ২৪ জুন অনুষ্ঠিত হবে। আজই তফসিল ঘোষণা সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করতে যাচ্ছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। বগুড়া-৬ আসনের উপ-নির্বাচন পুরোপুরি ইভিএমে অনুষ্ঠিত হবে। ভোট দেয়ার সময় পরিবর্তন করে সকাল ৯টা থেকে ৫টায় নির্ধারণ করা হয়েছে। একই সঙ্গে ২৪ জুন একটি সংরক্ষিত মহিলা আসনের (বিএনপি) ভোটও অনুষ্ঠিত হবে। প্রথম অধিবেশন শুরুর দিন থেকে ৯০ দিনের মধ্যে সংসদ সদস্যদের শপথ গ্রহণের বাধ্যবাধকতা রয়েছে। সে অনুযায়ী ৩০ ডিসেম্বর জাতীয় নির্বাচনে ভোটে বিজয়ীদের শপথ গ্রহণের শেষ দিন ছিল ৩০ এপ্রিল। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে বিএনপি থেকে নির্বাচিত ৬ জন সদস্যের ৫ জন শপথ গ্রহণ করেন। তবে শপথ থেকে বিরত থাকেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। নির্ধারিত সময়ে শপথ না নেওয়ায় ওই আসনটি শূন্য ঘোষণা করা হয়। উল্লেখ্য, একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপির নেতৃত্বাধীন জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট থেকে মোট ৮ জন সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। এর মধ্যে বিএনপির ৫ জন ও গণফোরামের দুজন শপথ গ্রহণ করেছেন।
বাজারে সরকারের কোনও নজরদারি নেই: রিজভী
৮মে,বুধবার,অনলাইন ডেক্স,নিউজ একাত্তর ডট কম: সরকার কোন কিছুই নিয়ন্ত্রণ করতে পারছে না দাবি করে বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম-মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী বলেছেন, সরকার বলেছিল রমজানে নিত্যপণ্যের মূল্য বাড়বে না। অথচ রমজানের শুরুতেই বাজার অস্থির। বাজারে সরকারের কোনও নজরদারি নেই। তাদের নজর লুটপাটে। বাজার দরের মতোই সরকারের ভেতর চলছে অস্থিরতা। সরকারের সীমাহীন লুটপাট ও দুর্নীতির কারণেই দারিদ্রের দুষ্টচক্রে নিষ্পিষ্ট জনগণ। গণতন্ত্রহীনতা ও দারিদ্রের কারণে প্রান্তিক মানুষগুলোর অধিকার বৃদ্ধির সুযোগ ক্রমাগত নিঃশেষিত হচ্ছে। বৃহস্পতিবার (৮ মে) বেলা পৌনে ১২টায় নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন। রিজভী বলেন, রহমত, বরকত, মাগফিরাত ও নাজাতের মাস এই রমজান আল্লাহর পক্ষ থেকে আমাদের জন্য এক বড় আশীর্বাদ। এই মাস শিক্ষা দেয় সংযম-সৌহার্দ্য-সহনশীলতা-সহমর্মিতা। কিন্তু বাস্তবে সরকারের লোকজনের মাঝে তার কোন প্রভাব লক্ষ্য করা যাচ্ছে না। সিয়াম সাধনার এই মাসে মানুষের চরম কষ্ট ও দুর্ভোগ লাঘবে মিডনাইট নির্বাচনের সরকারের যেন কোন দায়বদ্ধতা নেই।উদাসীন ভ্রূক্ষেপহীন তারা। রমজান মাসে দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণে সরকার পুরোপুরি ব্যর্থ হয়েছে। নিত্যপণ্য কিনতে গিয়ে হাড়ে হাড়ে টের পাচ্ছেন ক্রেতারা। মানুষের জীবনে নাভিশ্বাস উঠেছে। স্বল্প আয়ের মানুষ রমজানে দিশেহারা হয়ে পড়েছেন। বাণিজ্যমন্ত্রী বলেছিলেন রমজানে নিত্যপণ্যের মূল্য বাড়বে না। অথচ রমজানের শুরুতেই বাজার অস্থির। বিএনপির এই মুখপাত্র অভিযোগ করে বলেন,বাণিজ্যমন্ত্রীর সংবাদ সম্মেলনে নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যের দাম বাড়বে না ঘোষণার পরদিন থেকেই হু হু করে দাম বেড়েছে প্রায় সব পণ্যের। বিভিন্ন পণ্যের দাম বেড়েছে গড়ে তিন থেকে চারগুণ। অন্যদিকে বর্তমান সরকার দ্রব্যমূল্যের বাজারের ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা নিয়ন্ত্রণ না করে প্রমাণ করেছেন নাগরিক সেবায় তারা ব্যর্থ। নিত্যপণ্যের সাম্প্রতিক মূল্যবৃদ্ধির পেছনে যৌক্তিক কারণ না থাকার পরেও দ্রব্য মূল্য ঊর্ধ্বমুখী, যে কারণে সাধারণ মানুষের দুঃখ-কষ্ট আরও বেড়ে গেছে। তাদের আয়ের পুরোটাই চলে যাচ্ছে চাল, ডাল, শাক-সবজিসহ অন্যান্য নিত্যপণ্য কিনতে গিয়ে। তা নিয়ে কোন পদক্ষেপ না নিয়ে সরকারের মন্ত্রী ও নেতারা বাগাড়ম্বর করে চলেছেন। বাজারে সরকারের কোন নজরদারি নেই। তাদের নজর লুটপাটে। রিজভী বলেন, রোজার মাসের জন্য ঢাকা সিটি করপোরেশন গরু ও খাসির গোস্তের দাম কেজি প্রতি যথাক্রমে ৫২৫ ও ৭৫০ টাকায় বেঁধে দিয়েছে। তবে রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় গরুর গোস্ত প্রতি কেজি বিক্রি হচ্ছে ৬০০ এবং খাসির গোস্ত ৮০০ টাকায়। ব্যবসায়ীরা এর কারণ হিসেবে অতিরিক্ত খাজনা ও সরকারী লোকজনের চাঁদা আদায়কে দায়ী করছেন। তারা বলছেন, পশুর হাটে চাঁদাবাজি বন্ধ হলে প্রতি কেজি মাংস ৩০০ টাকায় বিক্রি করা সম্ভব। এই চাঁদাবাজির অর্থ যাচ্ছে সরকারের ওপর মহলে। আওয়ামী সিন্ডিকেট পবিত্র রমজান মাস এলেই দ্রব্যমূল্য বাড়িয়ে মানুষকে জিম্মি করে ফেলে। সরকারের কোন নিয়ন্ত্রণ থাকে না। লুটপাটতন্ত্র সর্বত্র জেঁকে বসেছে। সাধারণ মানুষের প্রতি সরকারের কোনো দায় নেই। সরকার জিম্মি অসাধু সিন্ডিকেটের কাছে। বাজারের দুষ্টচক্র সিন্ডিকেট এখন বাজার নিয়ন্ত্রণ করছে। কিন্তু সরকার তাদের নিয়ন্ত্রণ করতে পারে না। কারণ বাজারের নিয়ন্ত্রকরাই এখন সরকারকে নিয়ন্ত্রণ করছে। গণতন্ত্র ধরাছোঁয়ার বাইরে, জনগণের ভোটের অধিকার হরণ শেষে এখন ভাতের অধিকার এবং ন্যায় বিচারের অধিকার কেড়ে নিতে তৎপর সরকার। তিনি বলেন, বাজারে রোজার মাসে নিত্যপ্রয়োজনীয় খাদ্য পণ্যের দাম বৃদ্ধির গতির কোন স্পিডলিমিট নেই। রোজার প্রথম দিন কেজি প্রতি বেগুন বিক্রি হচ্ছে ৮০ থেকে ১০০ টাকায়। প্রতি কেজি কাঁচা মরিচ বিক্রি হচ্ছে ৬০ থেকে ৭০ টাকায়। যা আগের দিন ছিল ৪০ থেকে ৫০ টাকা। কাঁচা পেঁপে ৬০ টাকা, পটল ৫০ টাকা, ঢেঁড়স ৪৫ টাকা, শসা ৪০ থেকে ৫০ টাকা, টমেটো ৩০ টাকা, দেশি পেঁয়াজ ৩৫ টাকা, আদা ১১০ টাকা, রসুন ১১০ টাকাসহ আলু ১৯ থেকে ২২ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। ফলের বাজারও টালমাটাল। সবকিছুর সঙ্গে পাল্লা দিয়ে মাছের দাম বেড়েছে কয়েক গুণ। লাফিয়ে লাফিয়ে দাম বেড়েছে ছোলা, চিনি, তেল, আটা, ময়দা, বেসন, মুড়ি, চিড়া, গুড় ও আটার। রিজভী বলেন, দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি চরম অবনতিশীল। দেশে গুম, রহস্যময় অন্তর্ধান, খুন, ধর্ষণ, গণধর্ষণ, অপহরণ, বিচার বহির্ভূত হত্যা ও অনাচারের হিড়িক চলছে। প্রতিদিন নারী-শিশু নির্যাতন, ধর্ষণ ও গণধর্ষণের শিকার হচ্ছে গড়ে ২০ জনের অধিক। প্রতিদিন গড়ে খুনের ঘটনা ঘটছে ১৫ থেকে ২০ জনের অধিক। গার্মেন্টস শিল্পে প্রতিদিন গড়ে ৪ জনের মধ্যে ১ জন নারী ধর্ষণের শিকার হচ্ছে। চলন্ত গাড়ি, বাসাবাড়ি, স্কুল-কলেজ, বিভিন্ন অফিস কোথাও নারী নির্যাতন থেমে নেই। দিনের পর দিন বিচার বহির্ভূত হত্যার মাত্রা বৃদ্ধি পাচ্ছে। মানসিক রোগীর মতো মানুষ খুনের নেশায় পেয়ে বসেছে আইন শৃঙ্খলা বাহিনীকে। পত্রিকার পাতা খুললেই বিচার বহির্ভূত হত্যার হিড়িক দেখা যায়। এই সরকারের আমলে নারী-শিশু নির্যাতন অতীতের সকল রেকর্ড ছাড়িয়ে গেছে। সরকারের উন্নয়নের জয়োল্লাসের মধ্যে এত হিংসার ছবি কেন ? এটি আজ জনগণের প্রশ্ন। দেশের পরিবার-সমাজ-রাষ্ট্রে কেন এত আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে ? বাবা মা তাদের সন্তানদের নিয়ে দুঃস্বপ্নে দিন কাটাচ্ছে। কন্যা সন্তানের নিরাপত্তা নিয়ে অস্থির বাবা মা। সুশাসনের চাবিকাঠি বর্তমান নিষ্ঠুর দুঃশাসনের কাছে জিম্মি বলেই সারাদেশে অরাজকতা ছড়িয়ে পড়েছে। আইন শৃঙ্খলা বাহিনী সরকারের পক্ষভুক্ত হওয়ায় জনগণকে তারা প্রতিপক্ষ করে তুলেছে। প্রকৃত গণতন্ত্রের অনুপস্থিতির কারণে সমাজে কোনক্ষেত্রেই জবাবদিহিতা নেই। সামাজিক নিরাপত্তা ভেঙে পড়েছে, কারণ দুর্বৃত্ত অনাচারকারীরা ক্ষমতাসীনদের আনুকূল্য পাচ্ছে এবং সেইজন্য আইনের হাত থেকে রেহাই পেয়ে যাচ্ছে। বিএনপির এই নেতা আরও বলেন, সব ক্ষেত্রে চরমভাবে ব্যর্থ এই মিডনাইট নির্বাচনের অন্ধকারের সরকারকে বলবো-দ্রুত পদত্যাগ করে নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে নির্বাচন দিন। দেশের জনগণের ঘাড়ে জোর করে চেপে থেকে আর কষ্ট দিবেন না। দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে মুক্তি দিন। গুরুতর অসুস্থ দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া সুচিকিৎসা না পেয়ে দুঃসহ যাতনা ভোগ করছেন। তাঁকে মুক্তি দিলে তিনি তাঁর পছন্দমতো বিশেষায়িত হাসপাতালে উপযুক্ত চিকিৎসা নিতে পারবেন। ভালোভাবে রোজা পালন করতে পারবেন। আদালতকে কুক্ষিগত করে রেখে তাঁর জামিনে পদে পদে বাধা দেয়া বন্ধ করুন। জামিনে হস্তক্ষেপ বন্ধ করুন। মানুষের পিঠ দেয়ালে ঠেকে গেছে। মানুষ আর নির্বাক বসে থাকবে না। যেকোন মুহূর্তে ক্ষমতার গণেশ উল্টে যাবে। সংবাদ সম্মেলনে বিএনপির চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা আবুল খায়ের ভূঁইয়া, শাহিদা রফিক, সহ-দফতর সম্পাদক মো. মুনির হোসেন প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।
দুর্নীতি-দলীয়করণ-লুটপাট-অগ্রগতিকে বাধাগ্রস্থ করে :ড. কামাল
৭ মে,সোমবার,অনলাইন ডেক্স,নিউজ একাত্তর ডট কম :গণফোরাম সভাপতি ড. কামাল হোসেন বলেছেন, সুস্থ রাজনীতি বাদ দিয়ে দেশে সুশাসন প্রতিষ্ঠা করা অসম্ভব। জাতিকে এক ব্যক্তির শাসন থেকে মুক্ত করতে হবে। কারণ, স্বৈরতান্ত্রিক ব্যবস্থায় বাক-ব্যাক্তি-আইনের শাসন থাকে না।মঙ্গলবার গণফোরাম কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত পুর্নগঠিত স্থায়ী পরিষদের সভায় বক্তব্য রাখতে গিয়ে তিনি একথা বলেন। তিনি বলেন, জনগণই দেশের মালিক, তাই জনগণকে ঐক্যবদ্ধ করেই সুস্থ রাজনীতি প্রতিষ্ঠা করতে হবে।তিনি বলেন, দুর্নীতি-দলীয়করণ-লুটপাট-অগ্রগতিকে বাধাগ্রস্থ করে। অর্থনৈতিক ব্যবস্থাসহ সকল রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানকে গ্রাস করে থাকে। সমাজ-সভ্যতাকে ধ্বংস করে।গণফোরাম নেতা-কর্মীদের তৃণমুলে জনগণের সমস্যা সহ নানাবিধ সমস্যা চিহ্নিত করে, তৃণমুল সংগঠন গড়ে তুলে জনগণকে ঐক্যবদ্ধ করে, স্বৈরতন্ত্র বিরোধী জাতীয় ঐক্য গড়ে তুলতে হবে বলে তিনি অভিমত ব্যক্ত করেন।সভায় আরো বক্তব্য রাখেন দলের সাধারণ সম্পাদক ড. রেজা কিবরিয়াসহ অধ্যাপক ড. আবু সাইয়িদ, এডভোকেট সুব্রত চৌধুরী, মোকাব্বির খান এম.পি, আওম শফিক উল্লাহ, আব্দুল বাতেন খান, এডভোকেট হিরণ কুমার দাস মিঠু, লতিফুর বারী হামিম, অ্যাডভোকেট আনসার খান, খান সিদ্দিকুর রহমান খান, আব্দুর রহমান জাহাঙ্গীর, রবিউল ইসলাম তরফদার রবিন, হারুনুর রশীদ তালুকদার প্রমুখ।