বৃহস্পতিবার, ফেব্রুয়ারী ২১, ২০১৯
রাজনৈতিকভাবে মোকাবেলা করা হবে,বিএনপির আন্দোলন: ওবায়দুল কাদের
অনলাইন ডেস্ক: বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সড়ক পরিবহন, সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেছেন, বিরোধী দলের কর্মসূচি, আচরণ- এগুলো তাদের নিজস্ব ব্যাপার। নির্বাচন নিয়ে তারা লিগ্যালভাবে যেকোন ধরণের কর্মসূচি দিতে পারে। সে ক্ষেত্রে বলার কিছু নেই, তবে আন্দোলন যদি সংহিসতায় পথে যায় তাহলে জনগণকে সাথে নিয়ে সমুচিত জবাব দেয়া হবে। বুধবার সকাল সাড়ে ৯টার দিকে শেখ হাসিনার সরকারের মন্ত্রী পরিষদের নতুন সদস্যরা টুঙ্গিপাড়ায় জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের কবরে শ্রদ্ধা নিবেদনের উদ্দেশে মুন্সীগঞ্জের শিমুলিয়ার ৩নং ফেরিঘাটে ক্যামেলিয়া নামক ফেরিতে ওঠার আগে তিনি উপস্থিত সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন। সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বিএনপি নেতাদের উদ্দেশ করে বলেন, যারা আন্দোলনে পরাজিত, নির্বাচনেও পরাজিত হয়েছে তাদের নতুন করে বিশ্বাস করার কিছু আছে বলে মনে হয় না। যা বাংলাদেশের জনগণ করে না আমরাও করি না। তারা আন্দোলনে পুরোপুরি ব্যর্থ হয়েছে, তারা ১০ বছরে ১০ মিনিটেও আন্দোলন করেনি। তারা আবার এখন কী করবে। এখন তারা নির্বাচনেও পরাজিত, আন্দোলনে ব্যর্থ দলে পরিণত হয়েছে। নির্বাচনে ব্যর্থ দলের ভবিষ্যৎ সফল হবে না। তারা যদি নির্বাচন নিয়ে আইনি পথে যায় তাহলে আমরা লিগ্যাল ব্যাটল করব, যদি রাজনৈতিক আন্দোলনে যায় তাহলে রাজনৈতিকভাবে মোকাবেলা করা হবে। তারা যদি সহিংসতা ও নাশকতার পথে যায় তাহলে পরিস্থিতি মোকাবেলায় জনগণকে সংঙ্গে নিয়ে সমুচিত জবাব দেয়া হবে। এদিকে এর আগে সড়কপথে মুন্সীগঞ্জের শিমুলিয়া ঘাট হয়ে টুঙ্গিপাড়ায় আগমন উপলক্ষে ভোর থেকেই ঘেরিঘাট এলাকায় মুন্সীগঞ্জ পুলিশ প্রশাসনের পক্ষ থেকে ব্যাপক নিরাপত্তামূলক ব্যবস্থা নেয়া হয়। ঘাট এলাকায় আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের উপস্থিতি ছিল চোখে পড়ার মত। মন্ত্রী পরিষদের নতুন সদস্যদের দেখতে ফেরিঘাট এলাকায় স্থানীয় আওয়ামী নেতাকর্মীদের ভিড় ছিল। সকাল সাড়ে ৯টার দিকে ৩টি এনা পরিবহনের করে মন্ত্রী পরিষদের নতুন সদস্যরা ফেরিতে ওঠেন। এছাড়াও কয়েকটি জিপ, পাজারো ও প্রাডো গাড়ি ছিল। এ সময় মুন্সীগঞ্জ জেলা প্রশাসক সায়লা ফারজানা ও মুন্সীগঞ্জ পুলিশ সুপার মোহাম্মদ জায়েদুল আলম পিপিএমসহ মুন্সীগঞ্জ জেলা প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ মন্ত্রী পরিষদের নতুন সদস্যদের ফুলেল শুভেচ্ছা জানান।
ইসি ভোটারদের সঙ্গে প্রতারণা করেছে: মির্জা ফখরুল
অনলাইন ডেস্ক: সদ্য অনুষ্ঠিত হওয়া একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন নিয়ে নির্বাচন কমিশন (ইসি) জনগণের সঙ্গে প্রতারণা করেছে বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের মুখপাত্র, বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। মঙ্গলবার (৮ জানুয়ারি) বিকেলে রাজধানীর বেইলি রোডে ড. কামাল হোসেনের বাসভবনে জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের বৈঠক শেষে সাংবাদিক ব্রিফিংয়ে তিনি এ কথা বলেন। মির্জা ফখরুল বলেন, ইসি ভোটারদের সঙ্গে প্রতারণা করে প্রহসনের নির্বাচন করেছে। নির্বাচনে ভোট ডাকাতি হয়েছে, কেন্দ্র দখল হয়েছে, আগেই ব্যালট পেপারে সিল মারা হয়েছে। ঐক্যফ্রন্টের মুখপাত্র বলেন, সেনাবাহিনীকে নিষ্ক্রিয় করে একাদশ নির্বাচনকে প্রহসনে পরিণত করেছে সরকার। এই নির্বাচন গোটা জাতি প্রত্যাখ্যান করেছে। আমরা পুনর্নির্বাচন দাবি করছি। ব্রিফিংয়ে মির্জা ফখরুল ঐক্যফ্রন্টের পক্ষ থেকে কর্মসূচি ঘোষণা করেন। কর্মসূচির মধ্যে রয়েছে জাতীয় সংলাপ, নির্বাচনী ট্রাইব্যুনালে মামলা ও জনমত তৈরিতে ঐক্যফ্রন্ট নেতাদের বিভিন্ন জেলা সফর। এর আগে বিকেল ৪টায় ড. কামাল হোসেনের বেইলি রোড়ের বাসবভনে এ বৈঠক শুরু হয়। দেড় ঘন্টারও বেশি সময় ধরে চলা বৈঠকে নির্বাচন-পরবর্তী কর্মসূচি ও ভোটের ফল নিয়ে মামলা ও ভোট কারচুপির অভিযোগ কূটনীতিকদের অবহিত করার বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন ঐক্যফ্রন্টের শীর্ষ নেতা ড. কামাল হোসেন, বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, কৃষক শ্রমিক জনতা লীগের সভাপতি বঙ্গবীর আবদুল কাদের সিদ্দিকী বীরউত্তম, গণফোরামের কার্যকরী সভাপতি অ্যাডভোকেট সুব্রত চৌধুরী, সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য জগলুল হায়দার আফ্রিক, নাগরিক ঐক্যের সমন্বয়ক শহীদুল্লাহ কায়সার।
জোট করা হয়নি মন্ত্রী বানানোর শর্তে: ওবায়দুল কাদের
অনলাইন ডেস্ক: আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন ১৪ দলীয় জোটের মধ্যে কোনো টানাপোড়েন নেই দাবি করেছেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের। তিনি বলেছেন, জোট করার অর্থ এই নয় যে আমরা শর্ত দিয়েছি যে, মন্ত্রী করতেই হবে। ১৪ দল আমাদের দুঃসময়ের শরিক। তারা অতীতে ছিলেন ভবিষ্যতে থাকবেন না সে কথা তো আমরা বলতে পারছি না। মঙ্গলবার (৮ জানুয়ারি) ধানমন্ডিতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে শ্রদ্ধা নিবেদনের পর সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা জানান। নতুন মন্ত্রিসভায় পুরনো অনেকে বাদ পড়া প্রসঙ্গে তিনি বলেন, দায়িত্বের পরিবর্তন ঘটেছে, রূপান্তর ঘটেছে, বাদ পড়েছে এ কথা ঠিক না। দল এবং মন্ত্রিত্বের আলাদা আলাদা সত্ত্বা আছে। আমি মনে করি না বাদের কোনো ব্যাপার আছে এখানে, বাদের কোনো ব্যাপার নেই, কাজের রূপান্তর হয়েছে মাত্র। আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সঠিক লোকই নির্বাচিত করেছেন। ঠিক মানুষকে ঠিক জায়গায় দায়িত্ব দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। জনস্বার্থকে প্রাধান্য দিয়ে আমরা সিদ্ধান্ত নেবো এবং জনস্বার্থকে প্রাধান্য দিয়ে আমরা কাজ করবো।
আবার পেছাল খালেদা জিয়ার জামিন শুনানি
অনলাইন ডেস্ক: কুমিল্লার চৌদ্দগ্রামের জগমোহনপুরে নৈশকোচে পেট্রলবোমা মেরে আটজন পুড়িয়ে হত্যা মামলায় বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার জামিন শুনানি আবারও পিছিয়েছেন আদালত। সোমবার কুমিল্লার অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বিচারক মো. হাবিবুর রহমান খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে হত্যা মামলার চার্জ গঠন ও পরবর্তী শুনানি ১৬ জানুয়ারি দিন ধার্য করেন। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন মামলার রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী এবং কুমিল্লা আদালতের পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) মোস্তাফিজুর রহমান লিটন। বার্তা সংস্থা ইউএনবি এ তথ্য দিয়েছে। লিটন বলেন,আটজন হত্যা মামলায় আজ ৭ জানুয়ারি আদালতে রাষ্ট্রপক্ষের চার্জগঠন করা এবং আসামিপক্ষের একটি জামিন শুনানির আবেদন ছিল। আদালত তা পিছিয়ে ১৬ জানুয়ারি দিন ঠিক করেছেন। মামলার বিবরণে জানা যায়, ২০১৫ সালের ৩ ফেব্রুয়ারি ভোরে ২০ দলীয় জোটের অবরোধের সময় চৌদ্দগ্রামের জগমোহনপুরে একটি বাসে পেট্র্লবোমা ছুড়ে মারে দুর্বৃত্তরা। এতে আটজন যাত্রী দগ্ধ হয়ে মারা যান, আহত হন ২০ জন। এ ঘটনায় চৌদ্দগ্রাম থানার এসআই নুরুজ্জামান বাদী হয়ে ৭৭ জনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেন। মামলায় খালেদা জিয়াসহ বিএনপির শীর্ষস্থানীয় ছয় নেতাকে হুকুমের আসামি করা হয়। ৭৭ আসামির মধ্যে তিনজন মারা যান, পাঁচজনকে অভিযোগপত্র থেকে বাদ দেওয়া হয়। খালেদা জিয়াসহ অপর ৬৯ জনের বিরুদ্ধে কুমিল্লা আদালতে তদন্তকারী কর্মকর্তা ডিবির পরিদর্শক ফিরোজ হোসেন অভিযোগপত্র দাখিল করেন।
দলে কোনো অসন্তোষ নেই: ওবায়দুল কাদের
অনলাইন ডেস্ক: সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেছেন, ইশতেহারের প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের উপযোগী করে মন্ত্রিসভা গঠন করা হয়েছে। সময়ে সময়ে মন্ত্রিসভা সম্প্রসারণ ও পরিবর্তনও হতে পারে। সোমবার (৭ জানুয়ারি) সকালে সচিবালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে তিনি এ কথা বলেন। ওবায়দুল কাদের বলেন, ইশতেহারের প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের উপযোগী করে প্রধানমন্ত্রী নতুন মন্ত্রিসভা গঠন করেছেন। মন্ত্রিসভার আকার চাহিদা অনুযায়ী বর্ধিত করা হতে পারে। তিনি আরো বলেন, এই মন্ত্রিসভা নিয়ে দলের মধ্যে কোনো অসন্তোষ নেই। এটি নিয়ে দলের ভেতর ফাটল ধরবে না।
বিরোধীদলীয় নেতার পদে পুরুষ দীর্ঘ ২৭ বছর পর
অনলাইন ডেস্ক: দীর্ঘ ২৭ বছর পর জাতীয় সংসদে বিরোধীদলীয় নেতার আসনে বসলেন একজন পুরুষ রাজনীতিবিদ। একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দ্বিতীয় সংখ্যাগরিষ্ঠতায় বিরোধীদল এখন জাতীয় পার্টি। তাই এবারের বিরোধীদলীয় নেতা জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ। আজ রোববার দুপুর ১২টায় সংসদের স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরীর কাছে শপথ গ্রহণ করেন এরশাদ। এরপর বিরোধীদলের নেতার কক্ষে কথা বলেন তিনি। তখনই বিষয়টি উল্লেখ করে জাতীয় পার্টির মহাসচিব মসিউর রহমান রাঙ্গা দলের চেয়ারম্যান এরশাদকে উদ্দেশ করে বলেন, স্যার, দীর্ঘ ২৭ বছর পর আপনিই কোনো পুরুষ বিরোধীদলের নেতা হলেন। ১৯৯০ সালে স্বৈরশাসক হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের পতনের পর এ পর্যন্ত সাতটি জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। এর মধ্যে ছয়টিতেই ধারাবাহিকভাবে কখনো আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনা, আবার কখনো বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া বিরোধীদলীয় নেতা হিসেবে দায়িত্বে ছিলেন। সবশেষ দশম জাতীয় সংসদে বিরোধীদলীয় নেতা হিসেবে ছিলেন জাপার জ্যেষ্ঠ কো-চেয়ারম্যান রওশন এরশাদ। ১৯৯১ সালে পঞ্চম জাতীয় সংসদে বিরোধীদলীয় নেতা ছিলেন আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনা, ১৯৯৬ সালের ১৬ ফেব্রুয়ারি ষষ্ঠ জাতীয় সংসদ নির্বাচন হয়। সে নির্বাচনে আওয়ামী লীগ অংশ নেয়নি। সেই সংসদে বিএনপি ২৭৮টি আসনে জয়লাভ করেছিল, একটি আসনে জিতেছিল ফ্রিডম পার্টি। আর ১০টি আসনে জিতেছিল স্বতন্ত্র প্রার্থীরা। তত্ত্বাবধায়ক সরকারের বিল আনার পর পরই সেই সংসদ বিলুপ্ত ঘোষণা করা হয়েছিল। (জাতীয় সংসদের সরকারি ওয়েবসাইটে ষষ্ঠ জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতার কোনো নাম নেই। সেখানে পঞ্চম সংসদে শেখ হাসিনা ও সপ্তম সংসদে খালেদা জিয়ার নাম বিরোধীদলের নেতা হিসেবে লেখা হয়েছে। মাঝখানে ষষ্ঠ জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা হিসেবে কারো নাম লেখা নেই। তবে বিরোধী দলের নেতাদের নামের টেবিলের নিচে নোট দিয়ে বলা হয়েছে, প্রথম ও ষষ্ঠ জাতীয় সংসদে কোনো বিরোধী দলনেতা নেই।) পরে ১৯৯৬ সালেরই জুনে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে সপ্তম জাতীয় সংসদ নির্বাচন হলে তাতে বিজয়ী হয় আওয়ামী লীগ। সেই সংসদে বিরোধীদলীয় নেতা হন বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া। এরপর ২০০১ সালে অষ্টম জাতীয় সংসদে বিএনপি ফের ক্ষমতায় ফেরে আর আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা বিরোধীদলের নেতা হন। নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচন হয় ২০০৮ সালে। তখন খালেদা জিয়া বিরোধীদলীয় নেতা হন। এরপর ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারির দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচন বর্জন করে বিএনপি। সেই সংসদে আওয়ামী লীগ টানা দ্বিতীয়বারের মতো ক্ষমতায় ফেরে। সংসদে বিরোধীদলীয় নেতা হন জাতীয় পার্টির নেতা রওশন এরশাদ। যদিও জাতীয় পার্টির তিনজন সংসদ সদস্য সরকারের মন্ত্রিপরিষদেও ছিলেন। ২০১৮ সালে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের নিরঙ্কুশ বিজয় হয়। আর এবারের সংসদে বিরোধীদলীয় নেতা এলেন এরশাদ। এর বাইরে চতুর্থ জাতীয় সংসদের বিরোধীদলের নেতা ছিলেন জাসদ নেতা আ স ম আবদুর রব, তৃতীয় জাতীয় সংসদের ছিলেন শেখ হাসিনা, দ্বিতীয় সংসদের ছিলেন আসাদুজ্জামান মিয়া। গত ৩০ ডিসেম্বরের একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন জোট বিশাল বিজয় অর্জন করেছে। জাতীয় সংসদের ঘোষিত ফলাফলে ২৯৮ আসনের মধ্যে আওয়ামী লীগ একাই পেয়েছে ২৫৭টি আসন। মহাজোটভুক্ত জাতীয় পার্টি জিতেছে ২২টি সংসদীয় আসনে। আগামীকাল সোমবার মন্ত্রিপরিষদ গঠিত হবে।
শপথ নেবেন না ঐক্যফ্রন্টের কেউ
অনলাইন ডেস্ক: জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের কেউ শপথ নিচ্ছেন না, ফ্রন্ট ভাঙবেও না বলে জানিয়েছেন গণফোরামের সাধারণ সম্পাদক মোস্তফা মহসিন মন্টু। তিনি বলেছেন, ড. কামালের বক্তব্য কতিপয় মিডিয়ায় ভুলভাবে এসেছে। তার সংশোধনীর জন্য ইতোমধ্যে গণমাধ্যমে প্রেস রিলিজ দেয়া হয়েছে। ড. কামালের চেম্বারে রোববার (৬ ডিসেম্বর) ঐক্যফ্রন্টের শীর্ষ নেতাদের বৈঠক শেষ সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে মন্টু এসব কথা বলেন। তিনি জানান, ড. কামাল কখনো বলেননি গণফোরামের দুই জন শপথ নেবেন। এসময় কামালের ইতিবাচক মন্তব্য নিয়ে প্রশ্ন তুললে মন্টু বলেন, ইতিবাচকতা মানে এই নয় যে শপথ নেবেন। ঐক্যফ্রন্টের পক্ষ থেকে আগামী পরশু নতুন কর্মসূচি দেয়ার কথাও জানান মন্টু। তিনি বলেন, আগামী পরশু আমরা আবার বসবো। এবং সেদিন সিদ্ধান্ত হবে নতুন কর্মসূচি সম্পর্কে। সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তখন মন্টুর পাশে থাকা আ স ম আব্দুর রব বলেন, জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট ভাঙার কোনো প্রশ্ন আসে না। জণগণের স্বার্থে গণতন্ত্র রক্ষায় যে ঐক্যফ্রন্ট গঠন করা হয়েছে তা স্থায়ী থাকবে। ঐক্যফ্রন্ট ভাঙছে না বলে বারবার জোর দিয়ে বলেন রব। তাকে পাশে থেকে সমর্থন দেন মন্টু।
বিরল রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব সৈয়দ আশরাফ: ওবায়দুল কাদের
অনলাইন ডেস্ক: দ্য প্রয়াত আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম বিরল রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব বলে মন্তব্য করে দলটির সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের। তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা পর পর দুই বার তাকে দলীয় সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব দিয়েছিলেন। তার চলে যাওয়া দলের অপূরণীয় ক্ষতি। রাজনীতি অনেকেই করেন এদের মধ্যে ভালো মানুষের সংখ্যা খুবই কম। সৈয়দ আশরাফ তাদের মধ্যে বিরল রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব। শনিবার সন্ধ্যায় বিমানবন্দর থেকে বেরিয়ে যাওয়ার পথে সাংবাদিকদের তিনি এসব কথা বলেন। শনিবার সন্ধ্যা ৬টায় সৈয়দ আশরাফের মরদেহ বহনকারী বাংলাদেশ বিমানের একটি ফ্লাইটে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করে। দলের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরের নেতৃত্বে আওয়ামী লীগের নেতারা বিমানবন্দরে সৈয়দ আশরাফের কফিন গ্রহণ করেন। উল্লেখ্য, বৃহস্পতিবার (৩ জানুয়ারি) থাইল্যান্ডের রাজধানী ব্যাংককের বামরুনগ্রাদ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি। তার বয়স হয়েছিল ৬৭ বছর। ২০১৭ সালের ২৪ অক্টোবর সৈয়দ আশরাফুলের স্ত্রী শীলা ইসলাম মারা যাওয়ার পর থেকেই তিনি প্রায় অসুস্থ হয়ে পড়েন। এক কন্যার জনক আশরাফুল ইসলাম ফুসফুসের ক্যান্সারে ভুগছিলেন। অসুস্থতার কারণে তিনি গত বছরের ১৮ সেপ্টেম্বর সংসদ থেকে ছুটি নেন। এ অবস্থাতেই একাদশ সংসদ নির্বাচনে কিশোরগঞ্জ-১ আসনে নৌকা প্রতীকে জয়ী হন সৈয়দ আশরাফ। একাদশ জাতীয় সংসদের নবনির্বাচিত এমপিদের মধ্যে ২৮৯ জন শপথ নিয়েছেন বৃহস্পতিবার। অসুস্থতার কারণে সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম এদিন শপথ নিতে পারেননি। তিনি সুস্থ হয়ে দেশে ফেরার পর তার শপথ নেয়ার কথা ছিল। ১৯৫২ সালের ১ জানুয়ারি ময়মনসিংহে জন্মগ্রহণ করেন সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম। দশম সংসদের জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত মন্ত্রী ছিলেন তিনি। এর আগে তিনি স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী ছিলেন। তার বাবা ছিলেন বাংলাদেশের মুজিবনগর অস্থায়ী সরকারের ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি সৈয়দ নজরুল ইসলাম। আশরাফুল ইসলাম ৭১ সালে বাংলাদেশের স্বাধীনতার যুদ্ধে মুক্তি বাহিনীর একজন সদস্য ছিলেন। তিনি ছাত্র জীবন থেকেই রাজনীতির সঙ্গে জড়িত ছিলেন। তিনি বৃহত্তর ময়মনসিংহের ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক এবং কেন্দ্রীয় সহ-প্রচার সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। যখন আব্দুল জলিল গ্রেফতার হন, তখন সৈয়দ আশরাফুল আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছিলেন এবং পরবর্তীতে ২০০৯ থেকে ২০১৬ সাল পর্যন্ত সাধারণ সম্পাদক ছিলেন। ১৯৭৫ সালের ৩ নভেম্বর ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে অন্য তিন জাতীয় নেতার সঙ্গে আশরাফুলের বাবা সৈয়দ নজরুল ইসলামকে হত্যা করা হয়েছিল। বাবার মৃত্যুর পর সৈয়দ আশরাফুল যুক্তরাজ্যে চলে যান। লন্ডনের হ্যামলেট টাওয়ারে বসবাস শুরু করেন। লন্ডনে বসবাসকালে তিনি বাংলা কমিউনিটির বিভিন্ন কার্যক্রমে জড়িত ছিলেন। সে সময় তিনি লন্ডনে বাংলাদেশ যুব লীগের সদস্য ছিলেন। আশরাফুল ইসলাম ফেডারেশন অব বাংলাদেশি ইয়ুথ অর্গানাইজেশনের (এফবিওয়াইইউ) শিক্ষা সম্পাদক নির্বাচিত হয়েছিলেন। ১৯৯৬ সালে দেশে ফিরে আসেন তিনি। ১৯৯৬ সালের জুনে ৭ম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে কিশোরগঞ্জ সদর উপজেলা নিয়ে গঠিত কিশোরগঞ্জ-১ আসন থেকে আওয়ামী লীগের মনোনয়নে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। সে সময় বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছিলেন তিনি। ২০০১ সালে পুনরায় সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন তিনি। ২০০১ থেকে ২০০৫ পর্যন্ত তিনি পররাষ্ট্রবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য ছিলেন। ২০০৮ সালের সাধারণ নির্বাচনে তিনি পুনরায় সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন এবং ২০০৯ সালের জানুয়ারিতে মন্ত্রিসভা গঠিত হলে তিনি স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পান। ২০১৪ সালের দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে পুনরায় সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন এবং পুনরায় স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পান। ২০১৫ সালের ৯ জুলাই প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তাকে সমবায় মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রিত্ব থেকে অব্যাহতি দিয়ে দফতরবিহীন মন্ত্রী করেন। এক মাস এক সপ্তাহ দফতরবিহীন মন্ত্রী থাকার পর ১৬ জুলাই প্রধানমন্ত্রী নিজের অধীনে রাখা জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব দেন তাকে।
আজ শপথ নেবেন এইচ এম এরশাদ
অনলাইন ডেস্ক: জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান এইচ এম এরশাদ সংসদ সদস্য হিসেবে আজ শপথ নেবেন। জাতীয় সংসদে স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী তাঁকে শপথ পড়াবেন। সাবেক এই রাষ্ট্রপতির সহকারী একান্ত সচিব মনজুরুল ইসলাম গণমাধ্যমকে বিষয়টি জানিয়েছেন। গত ৩০ ডিসেম্বরের একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন জোট বিশাল বিজয় অর্জন করেছে। জাতীয় সংসদের ঘোষিত ফলাফলে ২৯৮ আসনের মধ্যে আওয়ামী লীগ একাই পেয়েছে ২৫৭টি আসন। মহাজোটভুক্ত জাতীয় পার্টি জিতেছে ২২টি সংসদীয় আসনে। আগামীকাল সোমবার মন্ত্রিপরিষদ গঠিত হবে। অন্যদিকে বিএনপি নেতৃত্বাধীন জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট সাতটি আসনে জয় পেয়েছে। বিএনপির ইতিহাসে এমন কম আসন আর কখনই পায়নি। যদিও ঐক্যফ্রন্টের পক্ষ থেকে নির্বাচনে ব্যাপক অনিয়ম ও কারচুপির অভিযোগ আনা হয়েছে। এর প্রতিবাদে ঐক্যফ্রন্টের নির্বাচিতরা শপথ গ্রহণ না করে এই নির্বাচন বাতিল করে নতুন করে নির্বাচনের দাবিতে নির্বাচন কমিশনে (ইসি) স্মারকলিপিও দিয়েছেন। জাতীয় পার্টি দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সরকারের মন্ত্রিপরিষদের অংশ নিয়েছিল; পাশাপাশি দলের জ্যেষ্ঠ কো-চেয়ারম্যান রওশন এরশাদ বিরোধীদলের নেতা হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। এইচ এম এরশাদ ছিলেন প্রধানমন্ত্রী বিশেষ দূত। এবার জাতীয় পার্টির ভূমিকা কী হবে—এ নিয়ে রাজনৈতিক মহলে ব্যাপক আলোচনার মধ্যে গত শুক্রবার সাবেক রাষ্ট্রপতি এরশাদ মীমাংসা দিয়ে জানান, তিনি দলের চেয়ারম্যান হিসেবে বিরোধীদলীয় নেতা এবং দলের কো-চেয়ারম্যান গোলাম মোহাম্মদ (জি এম) কাদের বিরোধীদলের উপনেতার দায়িত্ব পালন করবেন। এরপর শনিবার তিনি আরেক চিঠিতে জানান, বিরোধীদলের চিফ হুইপের দায়িত্ব পালন করবেন দলের মহাসচিব মসিউর রহমান রাঙ্গা।

রাজনীতি পাতার আরো খবর