অবিলম্বে খালেদা জিয়াকে এই আইনি নোটিশ প্রত্যাহার করতে হবে সংবাদ সম্মেলনে আওয়ামী লীগ
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ৩০ দিনের মধ্যে ক্ষমা চাইতে বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার পাঠানো উকিল নোটিশ প্রত্যাহার না করা হলে এর বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছে আওয়ামী লীগ। বুধবার বিকাল ৫টায় দলের ধানমন্ডিস্থ নির্বাচন পরিচালনা কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানানো হয়। সংবাদ সম্মেলনে আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য ও কৃষিমন্ত্রী বেগম মতিয়া চৌধুরী এবং দলের প্রচার ও প্রকাশনা বিষয়ক সম্পাদক ও দলের অন্যতম মুখপাত্র ড. হাছান মাহমুদ বক্তব্য রাখেন। সংবাদ সম্মেলনে মতিয়া চৌধুরী বলেন, খালেদা জিয়া আইনি নোটিশ দিয়েছে। আমরা আইনিভাবেই বিষয়টি মোকাবিলা করব। হাছান মাহমুদ বলেন, যে সময় খালেদা জিয়া ও তার পরিবারের সদস্যদের দুর্নীতি দেশে-বিদেশে ফলাও করে প্রচার হচ্ছে, দুর্নীতির মামলায় তাদের শুনানি চলছে, ঠিক এই সময়ে জনগণের দৃষ্টি ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করতেই খালেদা জিয়া আইনি নোটিশ পাঠিয়েছেন। তিনি শাক দিয়ে মাছ ঢাকার চেষ্টা করছেন। খালেদা জিয়াকে আমরা বলতে চাই, অবিলম্বে এই আইনি নোটিশ প্রত্যাহার করতে হবে। তা না হলে, এর বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। সংবাদ সম্মেলনে হাছান মাহমুদ জানান, ১২টি দেশে খালেদা জিয়া ও তার পরিবারের এক হাজার দুইশ কোটি মার্কিন ডলার পাচারের অভিযোগ এসেছে। এসময় তিনি ২০০১ সাল পরবর্তী বিভিন্ন সময়ে খালেদা জিয়া ও তার পরিবারের দুর্নীতি ও অর্থ পাচারের বিভিন্ন তথ্য তুলে ধরেন। খালেদা জিয়া জরিমানা দিয়ে কালো টাকা সাদা করেছেন বলেও তিনি উল্লেখ করেন। এসময় দুর্নীতি ও অর্থপাচারের জন্য খালেদা জিয়াকে জনগণের ক্ষমা চাওয়ার আহ্বান জানানো হয়। সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকরা প্রশ্ন করেন, মধ্যপ্রাচ্যের কয়েকটি দেশে খালেদা জিয়া ও তার পরিবারের সদস্যদের অর্থ বিনিয়োগের যে অভিযোগ উঠেছে, এ বিষয়ে আওয়ামী লীগের কাছে কোনও তথ্যপ্রমাণ আছে কিনা। এ প্রশ্নের জবাবে হাছান মাহমুদ বলেন, আমাদের কাছে অবশ্যই তথ্যপ্রমাণ আছে। তাছাড়া বিভিন্ন অনলাইনে এই বিষয়টি প্রকাশিত হয়েছে। এসময় মতিয়া চৌধুরী বলেন, আওয়ামী লীগ তথ্যপ্রমাণ ছাড়া ভিত্তিহীন কোনও তথ্য প্রচার করে না। আওয়ামী লীগ কোনোদিন কোনও বানোয়াট কথা বলে না, ভিত্তিহীন তথ্য দেয় না। এক প্রশ্নের জবাবে হাছান মাহমুদ বলেন,উকিল নোটিশ এখনও আমাদের কাছে আসেনি। গণমাধ্যম থেকে আমরা নোটিশের বিষয়টি জেনেছি। নোটিশ পেলে এ বিষয়ে পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। সংবাদ সম্মেলনে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় নেতারা উপস্থিত ছিলেন। উল্লেখ্য, মঙ্গলবার (১৯ ডিসেম্বর) ৩০ দিনের মধ্যে নিঃশর্ত ক্ষমা চাওয়ার আহ্বান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া আইনি নোটিশ পাঠান। রেজিস্ট্রার্ড ডাকযোগে (উইথ এ/ডি) প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের ঠিকানায় নোটিশটি পাঠানো হয়। নোটিশে বলা হয়, গত ৭ ডিসেম্বর গণভবনে মিডিয়া ব্রিফিংকালে আপনি খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে কিছু মানহানিকর বিবৃতি দিয়েছেন, যা ইলেকট্রনিক মিডিয়ায় সম্প্রচারিত হয়েছে। এছাড়া, দৈনিক পত্রিকা, অনলাইন ও অনেক সামাজিক মিডিয়া আউটলেটে প্রচার হয়েছে। ব্রিফিংয়ে আপনি খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে কিছু মিথ্যা ও বিদ্বেষমূলক বিবৃতি দিয়েছেন। আপনি বলেছেন, যে সৌদি আরবে খালেদা জিয়া একটি শপিং মলের মালিক এবং সেখানে তার বিপুল সম্পদ রয়েছে। তিনি মানি লন্ডারিংয়ের সঙ্গে জড়িত। আপনি তার ছেলেদের সম্পর্কেও কিছু মিথ্যা কথা বলেছেন। আপনি খালেদা জিয়া এবং তার ছেলেদের সম্পর্কে যে অভিযোগ এনেছেন তা সাজানো,বানোয়াট, উদ্দেশ্যপ্রণোদিত এবং বিদ্বেষমূলক। নোটিশের বিষয়ে বুধবার (২০ ডিসেম্বর) সকালে সংবাদ সম্মেলন করে জানান বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি বলেন, ৩০ দিনের মধ্যে নিঃশর্ত ক্ষমা না চাইলে প্রধানমন্ত্রীর বিরুদ্ধে ক্ষতিপূরণ আদায়ে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার কথা বলা হয়েছে নোটিশে।
জিয়া পরিবারের বিরুদ্ধে প্রধানমন্ত্রী যেসব অভিযোগ এনেছেন তা সাজানো- বিএনপিমহাসচিব
জিয়া পরিবারের বিরুদ্ধে দুর্নীতি সংক্রান্ত মন্তব্য করার পরিপ্রেক্ষিতে প্রধানমন্ত্রীকে উকিল নোটিশ পাঠিয়েছেন বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া। বুধবার নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে এ কথা জানিয়েছেন দলটির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। সংবাদ সম্মেলনে উকিল নোটিশের উদ্ধৃতি দিয়ে তিনি বলেন, জিয়া পরিবারের বিরুদ্ধে প্রধানমন্ত্রী যেসব অভিযোগ এনেছেন- তা সাজানো বানোয়াট, উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ও বিদ্বেষমূলক। খালেদা জিয়ার সুনাম নষ্টে পরিকল্পিতভাবে এসব অভিযোগ আনা হয়েছে। এদিকে ব্যারিস্টার মাহবুব উদ্দিন খোকন স্বাক্ষরিত নোটিশে প্রধানমন্ত্রীকে ক্ষমা প্রার্থনার আহ্বান জানিয়ে, নোটিশ প্রাপ্তির ৩০ দিনের মধ্যে তা গণমাধ্যমে প্রচার করতে বলা হয়। অন্যথায় মানহানির অভিযোগে ক্ষতিপূরণ আদায়ের উদ্যোগ নেয়া হবে বলে নোটিশে উল্লেখ করা হয়।
রংপুর সিটি করর্পোরেশন নির্বাচনের মাধ্যমেই প্রমাণিত হবে জনগণ এই সরকারের সঙ্গে নেই
বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, আওয়ামীলীগ চোরের দল। ভোট চোরের দল। ভোটের দিন আপনারা ভোট কেন্দ্র পাহারা দিবেন। যাতে তারা ভোট চুরি করতে না পারে। আওয়ামী লীগের দুঃশাসনের বিরুদ্ধে ধানের শীষ প্রতীককে বিজয়ী করতে প্রস্তুত রংপুরবাসী। বাংলাদেশের রাজনীতিতে রংপুর সিটি করপোরেশন নির্বাচন গুরুত্বপূর্ণ নির্বাচন। এই নির্বাচন দিয়ে হয়তো সরকার পরিবর্তন হবে না। কিন্তু এই নির্বাচন ফ্যাসিস্ট আওয়ামীলীগ সরকারকে একটি বাণী দিতে পারবে যে জনগণ আওয়ামী দু:শাসনের বিরুদ্ধে। সোমবার দুপুরে রংপুর মহানগরীর সিও বাজারে বিএনপির মেয়র প্রার্থী কাওসার জামান বাবলার পক্ষে প্রচারণায় সভায় এসব কথা বলেন তিনি।ফখরুল ইসলাম বলেন, রংপুরের মানুষ সারা জীবন আন্দোলন করেছে। নুরুল দিন করেছে, কৃষক আন্দোলন হয়েছে। এবারের সিটি নির্বাচনের মাধ্যমে এবার রংপুরের মানুষ গণতন্ত্র পুণরুদ্ধারের আন্দোলনে বিজয়ী হবে। রংপুর সিটি করপোরেশন নির্বাচনের মাধ্যমেই প্রমাণিত হবে জনগণ এই সরকারের সঙ্গে নেই। তিনি আরও বলেন, আজকে এই সরকার দুর্নীতির চূড়ান্ত করেছে। মেগা প্রজেক্টের নামে মেগা লুট করছে। আজকের এই নির্বাচন শুধু বাবলা ভাইয়ের নির্বাচন নয়, আজকের এই নির্বাচন আমাদের অধিকার প্রতিষ্ঠার নির্বাচন।এ সময় তার সাথে ছিলেন, বিএনপি চেয়ারপারসেনর উপদেষ্টা জয়নাল আবদীন ফারুক, ভাইস চেয়ারম্যান ও নির্বাচন পরিচালনা কেন্দ্রীয় কমিটির আহ্ববায়ক ইকবাল মাহমুদ টুকু, সাংগঠনিক সম্পাদক ও সদস্য সচিব আসাদুল হাবিব দুলু, রংপুর মহানগরী সভাপতি মোজাফফর হোসেন, সাধারণ সম্পাদক শহীদুল ইসলাম মিজু, সাবেক সাধারণ সম্পাদক শামসুজ্জামান শামু, জেলা সভাপতি সাইফুল ইসলাম এবং সেক্রেটারি রইস আহমেদ। পথসভার পর মির্জা ফখরুল পায়ে হেঁটে মেডিকেল মোড় থেকে স্টেশন পর্যন্ত জনসংযোগ করেন। তিনি বলেন, মাঠে লড়াই করার জন্যই আমরা আছি। নির্বাচন কমিশন সঠিক আচরণ করছেন না। তবুও আমরা মাঠে আছি। মাঠে থেকেই আমরা বাবলাকে বিজয়ী করবো।জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ প্রসঙ্গে মির্জা ফখরুল বলেন, আপনাদের ছাওয়াল কিছুই করেন নাই। তিনি বিরোধী দলে থাকার কথা বলে আওয়ামীলীগের সাথে গাটছড়া বেঁধেছেন। জোট করেছে। তিনি আর আমি আজ একসাথে একই বিমানে এসেছি। তিনি এই সরকারের পতাকা নিয়ে এসেছেন। যারা গুম, খুনের নায়কদের সাথে আঁতাত করে তাদের সাথে আমাদের কোন সম্পর্ক নেই। দেশের মানুষ আর বাকশালে ফিরে যেতে চান না উল্লেখ করে মির্জা ফখরুল বলেন, রংপুর সিটি করপোরেশন নির্বাচন শুধু বাবলার নির্বাচন নয়, এটি হচ্ছে আমাদের অধিকার আদায়ের নির্বাচন। এই সরকার সব কিছু কেড়ে নিয়েছে। ঘুষ না দিলে এই দেশে আর কিছুই হয় না। রংপুর সিটি করপোরেশন নির্বাচনে মানুষ ধানের শীষ প্রতীকে ভোট দিয়ে বাবলাকে নির্বাচিত করে অধিকার প্রতিষ্ঠার আন্দোলনে আরও একধাপ এগিয়ে যাবে। সরকারের কঠোর সমালোচনা করে মির্জা ফখরুল বলেন, এই সরকার দেশের কোমড় ভেঙ্গে দিয়েছে। মানুষের জীবন দুর্বিসহ করে তুলেছে। যেখানেই যাবেন শুধু ঘুষ আর দুর্নীতি। ১০ টাকা কেজির প্রতিশ্রুতির চাল এখন ৬০ টাকা। পেয়াজের দাম ১০০ টাকার উপরে। বিদ্যুৎ তেল, ডিজেল, কেরোসিন সব কিছুর দাম বাড়িয়ে দিয়েছে। সারের দাম তিনগুন চারগুন হয়েছে। গ্যাসের দাম বেড়েছে। প্রতিদিন কলকারখানা বন্ধ হয়ে যাচ্ছে। কলকারখানায় বিদ্যুৎ গ্যাসের লাইন দেয়া হচ্ছে না। এই সরকার মানুষের ওপর অবৈধভাবে জগদ্দল পাথরের মতো চেপে বসে আছে।খুন খুন, গুম, হত্যা, ধর্ষন ছাড়া এই সরকার জাতীকে আর কিছুই দিতে পারে নাই দাবি করে মির্জা ফখরুল বলেন, রাষ্ট্রীয়ভাবে খুন করা হচ্ছে। গুম করা হচ্ছে। আজ দেশে অন্যায়ের প্রতিবাদ করলে গুম করা হয়। অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করায় ফরহাদ মজহারের মতো পন্ডিতকে গুম করা হয়েছিল। সাবেক রাষ্ট্রদুতকে গুম করা হয়েছে। আসিফ নজরুলের নামে ২৬ টি মামলা, ডেইলি স্টারের সম্পাদকের নামে ১২৫ টিরও বেশী মামলা দেয়া হয়েছে। মাহমুদুর রহমানের মতো একজন সম্পাদকে অন্যায়ভাবে ৫ বছর জেলে রাখা হয়েছে। এরা সবাই অন্যায়ের প্রতিবাদ করেছিল। এটাই হলো আওয়ামীলীগ।তিনি বলেন, পদ্মা সেতুর বাজেট বাড়িয়ে করা হয়েছে ৩০ হাজার কোটি টাকা। এখন বলা হচ্ছে পানির নিচে থৈ পাওয়া যাচ্ছে না। তাই কাজ করা যাচ্ছে না। সব কিছু করা হয়েছে লুটপাটের জন্য। এই সরকার শুধুই শোষন করছে। নির্যাতন করছে। প্রধান বিচারপতি ভিন্নমত অবলম্বন করায়, বিচার বিভাগের স্বাধীনতা রক্ষার কথা বলেছিলেন। সেকারণে তাকে জোর করে বিদেশে পাঠিয়ে দিয়ে তাকে কিভাবে অপসরাণ করা হয়েছে এটা আপনারা জানেন। আমরা এই বিচার বিভাগের স্বাধীনতার জন্য আন্দোলন করেছিলাম। কিন্তু তারা বিচার বিভাগের স্বাধীনতাকে খর্ব করেছে।মির্জা ফখরুল বলেন, এই সরকারের কাছে কোন ধর্মের লোক নিরাপদ নয়। আমাদের মুসলমানদের ইসলাম ধর্ম নিরাপদ নয়। ইমান আকিদা নষ্ট করে দেয়া হচ্ছে। হিন্দুদের ধর্ম নিরাপদ নয়। নিরাপদ নয় খৃষ্টানরা। আমরা সবাই নিরাপত্বাহীনতায়। এই অবস্থা থেকে উত্তরণের জন্যই রংপুরের মানুষ ধানের শীষকে বিজয়ী করবে।আগামী ২১ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত হবে রসিক নির্বাচন। এখানে মেয়র পদে ৭ জন, সংরক্ষিত কাউন্সিলর পদে ৬৫ জন এবং সাধারণ কাউন্সিলর পদে ২১১ জন প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। ১৯৩ টি ভোট কেন্দ্রের ১ হাজার ১২২ টি বুথে সকাল ৮ টা থেকে বিকেল ৪ টা পর্যন্ত বিরতীহিনভাবে চলবে ভোট গ্রহন।
সুষ্ঠু নির্বাচন নিয়ে দলের কোনো সংশয় নেই- হুসেইন মুহাম্মদ এরশাদ
জাতীয় পার্টি চেয়ারম্যান হুসেইন মুহাম্মদ এরশাদ রসিক নির্বাচন সম্পর্কে বলেছেন, এবারের ভোটে কারচুপির কোনো সুযোগ নেই। সুষ্ঠু নির্বাচন নিয়ে তার বা দলের কোনো সংশয় নেই। এখন পর্যন্ত নির্বাচনের সুষ্ঠু পরিবেশ রয়েছে। আজ সোমবার দুপুরে রংপুরের পল্লী নিবাসের বাসভবনে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন। এরশাদ নির্বাচন কমিশন সম্পর্কে বলেন, নির্বাচন কমিশনের ব্যাপার তবে আমি নির্বাচন কমিশনারের সঙ্গে কথা বলে বুঝতে পারছি তিনি ভালো মানুষ। তিনি সুষ্ঠু, অবাধ নির্বাচন আমাদের উপহার দিবেন। তার প্রার্থী মোস্তফা এবার বিপুল ভোটে রংপুর সিটি করপোরেশন নির্বাচনে মেয়র পদে নির্বাচিত হবেন বলে মন্তব্য করেন তিনি। এ সময় এরশাদের ছোট ভাই ও দলের কো-চেয়ারম্যান জি এম কাদেরসহ অন্যান্য নেতারা উপস্থিত ছিলেন।
বেগম জিয়াকে নির্বাচন থেকে সরিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে-মির্জা ফখরুল ইসলাম
বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, খালেদা জিয়াকে নির্বাচন থেকে সরিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে। এ ষড়যন্ত্র মোকাবিলা করার জন্য তিনি সবাইকে রুখে দাঁড়ানোর আহ্বান জানিয়েছেন। আজ রোববার বিকেলে বিজয় দিবসের র‍্যালি শুরুর আগে পিকআপ ভানের ওপর অস্থায়ী মঞ্চে এক সংক্ষিপ্ত সমাবেশে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এ মন্তব্য করেন। এরপর বেলা তিনটায় তিনি বিজয় র্যারলির উদ্বোধন করেন। মির্জা ফখরুল ইসলাম বলেন, আজ শান্তিপূর্ণভাবে বিজয় র‍্যালি করার মাধ্যমে গণতন্ত্রের যে দাবি, সেই দাবিকে সোচ্চার করতে হবে। ষড়যন্ত্র করে আজ খালেদা জিয়াকে নির্বাচন থেকে সরিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে। আসুন, আমরা রুখে দাঁড়াই। আমরা সব মানুষকে নিয়ে ঐক্যবদ্ধ হই। তিনি বলেন, বাংলাদেশের মানুষকে কখনোই পদদলিত করে রাখা যাবে না। বাংলাদেশের মানুষকে কখনো দাবিয়ে রাখা যাবে না। বাংলাদেশের মানুষ স্বাধীনতার জন্য অতীতে যেমন প্রাণ দিয়েছে, তেমনি আবারও তারা প্রাণ দিয়ে হলেও গণতন্ত্রকে পুনরুদ্ধার করবে। ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, আমরা একটি স্বাধীন, সমৃদ্ধ ও শান্তির বাংলাদেশ চাই। আমরা চাই আমাদের ভবিষ্যৎ প্রজন্ম একটি সুন্দর, শান্তিময় গণতান্ত্রিক পরিবেশে বসবাস করুক। আমরা চাই, আমাদের দেশের জনগণ কথা বলতে পারুক। সাংবাদিকেরা মুক্তভাবে লিখতে পারুক। একটি মুক্ত বাংলাদেশ আমরা চাই। তিনি বলেন, কিন্তু দুর্ভাগ্যের কথা, এই আওয়ামী লীগ সরকার-এই ফ্যাসিস্ট সরকার শুধু একদলীয় সরকারব্যবস্থা প্রবর্তন করার জন্য, ক্ষমতায় টিকে থাকার জন্য সব গণতান্ত্রিক অধিকার কেড়ে নিয়ে বিএনপিকে পদদলিত করতে চায়। স্বাধীনতার স্বপ্ন বাস্তবায়িত হয়নি দাবি করে ফখরুল ইসলাম বলেন, আমরা যে স্বপ্ন দেখে স্বাধীনতাযুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়েছিলাম, সেই স্বপ্ন বাস্তবায়িত হয়নি। আজকে ৪৭ বছর পরেও আমাদের দুর্ভাগ্যের সঙ্গে আমাদের মা-বোনদের হাহাকার শুনতে হয়। আমাদের ছেলেরা আজকে গণতন্ত্রের জন্য সংগ্রাম করতে গিয়ে প্রাণ বিসর্জন দেয়, গুম হয়ে যায় আত্মত্যাগ করে। তিনি বলেন, আজ বিএনপির হাজার হাজার নতা-কর্মী কারাগারে। এই কারাগার থেকে বেরিয়ে আসতে হবে। গণতন্ত্রকে মুক্ত করতে হবে। সেই কারাগার ভাঙতে হবে এবং কারাগার ভেঙে গণতন্ত্রকে মুক্ত করতে হবে। মির্জা ফখরুল আরও বলেন, আজকের এই দিনে আমরা জাতীয় ঐক্যের আহ্বান করছি। আজকের এই দিনে আমরা একটি সুষ্ঠু অবাধ নির্বাচনের জন্য নিরপেক্ষ নির্দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচন দিয়ে জনগণের সরকার প্রতিষ্ঠার আহ্বান জানাচ্ছি। সংক্ষিপ্ত সমাবেশে বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেন, স্বাধীনতা-উত্তর যারা ক্ষমতায় এসেছিল, তারা মনে করে এই দেশ স্বাধীন হয়েছে আওয়ামী লীগের জন্য। এই দেশ স্বাধীন হয়েছে শুধু একটি পরিবারের জন্য। তারা জনগণের অধিকার কেড়ে নিয়ে গণতন্ত্রকে হত্যা করেছে। এদেরই প্রেতাত্মা আবারও ক্ষমতায় এসেছে। তারা আবারও নতুনভাবে বাকশাল গঠন করেছে। বাকস্বাধীনতা হত্যা করে, সংবাদপত্রের স্বাধীনতাকে হত্যা করেছে। আর এসব করতে গিয়ে তারা বিচারবহির্ভূত হত্যা করছে, গুম-খুন করছে। সংক্ষিপ্ত সমাবেশের পর দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর র্যাকলিতে অংশগ্রহণ করেন। এ সময় পিকআপ ভ্যানে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য খন্দকার মোশাররফ হোসেন, আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, ভাইস চেয়ারম্যান শামসুজ্জামান দুদু ও প্রচার সম্পাদক শহীদউদ্দিন চৌধুরী অ্যানি মহাসচিবের সঙ্গে ছিলেন। জাতীয়তাবাদী মহিলা দল, ছাত্রদল ও স্বেচ্ছাসেবক দলসহ বিএনপির অন্যান্য সহযোগী সংগঠনের নেতা-কর্মীরা র্যা লিতে অংশগ্রহণ করেন। র্যাীলিতে রাজধানী ঢাকা ও এর আশপাশের নেতা-কর্মীরা অংশগ্রহণ করেন। র‍্যালিটি নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয় থেকে শুরু হলেও আগত নেতা-কর্মীদের মিছিল শান্তিনগর মোড় পেরিয়ে যায়। র‍্যালিটি মালিবাগ মোড়ে গিয়ে শেষ হয়। র‍্যালিতে অংশ নেওয়া বিএনপি নেতা-কর্মীদের মধ্যে ব্যাপক উদ্দীপনা লক্ষ করা গেছে। ব্যান্ড পার্টির বাজনার তালে তালে নেতা-কর্মীরা নাচছিলেন। এ ছাড়া বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী সামাজিক সাংস্কৃতিক সংস্থার (জাসাস) শিল্পীরা একটি পিকআপের ওপর গান গাইছিলেন। র‍্যালিতে দুজন কর্মীকে দেখা গেল দুটি বিশালাকৃতির ঘোড়া নিয়ে হাজির হতে। তাঁরা এক হাতে ঘোড়ার দড়ি ও অন্য হাতে একটি বড় আকৃতির জাতীয় পতাকা ধরে ছিলেন। বিজয় র‍্যালিতে অংশ নেওয়া নেতা-কর্মীদের মধ্যে নারীদের পরনে ছিল লাল-সবুজ রঙের শাড়ি। এ ছাড়া পুরুষ কর্মীদের মাথায় বিএনপির দলীয় পতাকার রঙের টুপি ও মাথায় জাতীয় পতাকা বেঁধে উল্লাস করতে দেখা গেছে। র‍্যালির সময় কাকরাইল, শান্তিনগর মোড় ও নয়াপল্টন এলাকায় গাড়ি চলাচল সম্পূর্ণভাবে বন্ধ ছিল। এ ছাড়া বিএনপির বিজয় র‍্যালিকে ঘিরে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সতর্ক অবস্থান লক্ষ করা গেছে। বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের উল্টো দিকে দাঙ্গা পুলিশের একটি বড় দল সতর্ক অবস্থানে ছিল। নয়াপল্টন মোড়ে পুলিশের একটি সাঁজোয়া যান (এপিসি) ও একটি জল কামানের গাড়ি জমা করে রাখা হয়েছিল। কাকরাইল মোড়ে দাঙ্গা পুলিশের অপর একটি দলের সতর্ক অবস্থান দেখা গেছে। র‍্যালিকে ঘিরে র‍্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়নের (র‍্যাব) সদস্যদেরও সতর্ক অবস্থান দেখা গেছে। র‍্যালিতে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, ভাইস চেয়ারম্যান আমানউল্লাহ আমান, যুগ্ম মহাসচিব মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল, খায়রুল কবির খোকন, হাবিব-উন নবী খান সোহেল প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।
শহীদ বুদ্ধিজীবী স্মৃতিসৌধে খালেদার শ্রদ্ধা,
রাজধানীর মিরপুরের শহীদ বুদ্ধিজীবী স্মৃতিসৌধে শ্রদ্ধা জানিয়েছেন বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া।আজ বৃহস্পতিবার সকাল ১০টা ৫০ মিনিটে দলের নেতা-কর্মীদের নিয়ে শহীদ বুদ্ধিজীবী স্মৃতিসৌধে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানান তিনি। এর আগে সকাল পৌনে ১০টায় গুলশানের বাসভবন ফিরোজা থেকে মিরপুর বুদ্ধিজীবী স্মৃতিসৌধের উদ্দেশ্যে রওনা করেছিলেন। বিএনপি চেয়ারপারসনের মিডিয়া উইং কর্মকর্তা শায়রুল কবির খান এসব তথ্য জানিয়েছেন।এ সময় বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, গত ৪৬ বছরে বাংলাদেশ অনেক এগিয়ে গেছে। কিন্তু যে স্বাধীনতা ও গণতন্ত্রের স্বপ্ন নিয়ে দেশ স্বাধীন হয়েছিল, সেই গণতন্ত্র আজ হারিয়ে গিয়েছে। গণতন্ত্র আজ অনুপস্থিত।মির্জা ফখরুল আরও বলেন, খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার করতে বিএনপি লড়াই করে যাচ্ছে, এ লড়াইয়ে আমাদের বিজয় হবেই ইনশাল্লাহ।তিনি বলেন, ১৯৭১ সালের এই দিনে পাকিস্তানিরা পরিকল্পিতভাবে বাঙালি জাতির মেধাবী সন্তানদের হত্যা করেছে। তাদের এই আত্মত্যাগ পূরণ হওয়ার নয়।শহীদ বুদ্ধিজীবী স্মৃতিসৌধে উপস্থিত ছিলেন- দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. আবদুল মঈন খান, ভাইস চেয়ারম্যান ব্যারিস্টার শাহজাহান ওমর, শামসুজ্জামান দুদু, এ জেড এম জাহিদ হোসেন, উপদেষ্টা আমান উল্লাহ আমান, ডা. সিরাজুল ইসলাম, আবদুস সালাম, হাবিবুর রহমান হাবিব, সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী, যুগ্ম মহাসচিব খায়রুল কবির খোকন, সাংগঠনিক সম্পাদক এমরান সালেহ প্রিন্স, শামা ওবায়েদ, সাহিত্য ও প্রকাশনা বিষয়ক সম্পাদক হাবিবুল ইসলাম হাবিব, স্বেচ্ছাসেবক বিষয়ক সম্পাদক সরাফত আলী সফু, সহ সাংগঠনিক সম্পাদক আবদুস সালাম আজাদ, সহ দফতর সম্পাদক মুনির হোসেন, নির্বাহী কমিটির সদস্য নাজিম উদ্দিন আলম, তাবিথ আউয়াল, সালাউদ্দিন ভুইয়া শিশির, মুক্তিযোদ্ধা দলের সাধারণ সম্পাদক সাদেক খান প্রমুখ।
এই লড়াইয়ে আমাদের বিজয় হবেই :মির্জা ফখরুল
গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার করতে আমরা লড়াই করছি, এই লড়াইয়ে আমাদের বিজয় হবেই বলে জানিয়েছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।আজ বৃহস্পতিবার রাজধানীর মিরপুরে শহীদ বুদ্ধিজীবী স্মৃতিসৌধে শ্রদ্ধা নিবেদন করতে গিয়ে সাংবাদিকদের তিনি এসব কথা বলেন। ফখরুল বলেন, গত ৪৬ বছরে বাংলাদেশ অনেক এগিয়ে গেছে। যে স্বাধীনতা ও গণতন্ত্রের জন্য আমরা স্বপ্ন দেখেছি, সেই গণতন্ত্র আজ হারিয়ে গিয়েছে। গণতন্ত্র আজ অনুপস্থিত। এজন্য বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে আমরা গণতান্ত্রিক আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছি।এ সময় বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. মঈন খান, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা আমান উল্লাহ আমান, আব্দুস সালাম, হাবিবুর রহমান হাবিব, ভাইস চেয়ারম্যান ব্যারিস্টার শাহজাহান ওমর বীর উত্তম, শামসুজ্জামান দুদু, ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন, সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী, যুগ্ম মহাসচিব খায়রুল কবির খোকন প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।
গণতন্ত্রের কী দোষ?ওবায়দুল কাদের
সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেছেন, কোনো দল নির্বাচন আসল কি আসল না এ দায় আওয়ামী লীগ সরকারের নেই। তিনি আরো বলেন, আপনারা আসেননি বলে গণতন্ত্র চলার পথে কোনো বাধা হবে না, পার্লামেন্টও চলবে, গণতন্ত্রও চলবে, গণতান্ত্রিক সরকারও থাকবে। তাঁরা না এলে গণতন্ত্রের কী দোষ? আজ বুধবার ঢাকা মহানগরীর রামকৃষ্ণ মিশনে বিবেকানন্দ ভবনের নির্মাণকাজের উদ্বোধন করেন ওবায়দুল কাদের। এরপর আয়োজিত অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন তিনি। প্রকল্পটি বাস্তবায়নে আর্থিক সহায়তাকারী ভারতের ঢাকায় নিযুক্ত হাইকমিশনার হর্ষবর্ধন শ্রিংলা এ সময় উপস্থিত ছিলেন। ওবায়দুল কাদের বলেন, ২০০১ সালের নির্বাচনের পর হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের ওপর কী অত্যাচার হয়েছিল তা ভুলে গেলে চলবে না। ওবায়দুল কাদের বলেন, এ বছর যা হবে মনে রাখবেন এটা রাজনীতি। ইলেকশন সামনে। তাদের একটা অপপ্রয়াস থাকবে যে এখানে হিন্দুদের বাড়ি, হিন্দুদের মন্দির এগুলো যদি আক্রমণ করা যায়, হামলা করা যায়, তাহলে এ হামলার ব্যর্থতার জন্য বর্তমান সরকারকে দায়ী করে ভারতের সঙ্গে সম্পর্ক বিনষ্ট করা। ওবায়দুল কাদের বলেন, সংখ্যালঘুদের ওপর যে কোনো ধরনের নির্যাতন-তাতে যদি আওয়ামী লীগেরও কেউ জড়িত থাকে, তা কোনোভাবেই সহ্য করা হবে না। ওবায়দুল কাদের বলেন, ৫ জানুয়ারির নির্বাচন যদি বিতর্কিত হয়ে থাকে তবে তার দায় আওয়ামী লীগের নয়, বিএনপির। তিনি বলেন, কোনো দল নির্বাচন আসল কি আসল না এ দায় আওয়ামী লীগ সরকারের নেই। আসলে আসুক, না আসলে না আসুক। তাতে কী আসে-যায়?

রাজনীতি পাতার আরো খবর