বাংলাদেশের সঙ্গে সুসম্পর্ক আরও সুদৃঢ় করতে চায় ভারত: জাপা
অনলাইন ডেস্ক: চার দিনের ভারত সফরে দেশটির শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে আলাপের বিষয়ে জাতীয় পার্টির (জাপা) পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, সফর ফলপ্রসূ হয়েছে। ভারতের নেতারা বলেছেন, তারা বাংলাদেশে সবসময়ই সব দলের অংশগ্রহণে একটি সুষ্ঠু, অবাধ ও নিরপেক্ষ নির্বাচন প্রত্যাশা করেন। বৃহস্পতিবার (২৬ জুলাই) সকালে রাজধানীর বনানীতে জাপার কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলন করে এ বিষয়টি তুলে ধরেন পার্টির মহাসচিব এবিএম রুহুল আমিন হাওলাদার। সংবাদ সম্মেলনটি ডেকেছিলেন পার্টির চেয়ারম্যান ও সাবেক রাষ্ট্রপতি হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ। তিনি উপস্থিত না থাকতে পারলেও এতে ছিলেন দলের কো-চেয়ারম্যান জিএম কাদের, প্রেসিডিয়াম সদস্য জিয়াউদ্দিন আহমেদ বাবলু প্রমুখ। গত ২২ জুলাই হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের নেতৃত্বে দিল্লি সফরে যান জাপা নেতারা। সফরকালে তারা দেখা করেন ভারতের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী রাজনাথ সিং, পররাষ্ট্রমন্ত্রী সুষমা স্বরাজ ও জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা অজিত দোভালের সঙ্গে। এ বিষয়ে রুহুল আমিন হাওলাদার বলেন, গত ১৭ জুলাই বাংলাদেশে নিযুক্ত ভারতের হাইকমিশনার হর্ষ বর্ধন শ্রিংলা দিল্লি সফরের আমন্ত্রণ জানান পার্টির চেয়ারম্যান হুসেইন মুহম্মদ এরশাদকে। তারই প্রেক্ষিতে ওই সফর। সফরটি অত্যন্ত ফলপ্রসূ। ভারতের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী, পররাষ্ট্রমন্ত্রী, জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টার সঙ্গে বৈঠকের বিষয়টি তুলে ধরে জাপা মহাসচিব বলেন, ভারতের নেতারা বলেছেন- তাদের সরকার ও জনগণ বাংলাদেশের সঙ্গে বিরাজমান সুসম্পর্ক আরও সুদৃঢ় দেখতে চান। তারা একান্তভাবে প্রত্যাশা করেছেন যেন বাংলাদেশে গণতান্ত্রিক পরিবেশ বজায় থাকে। ভারত সবসময়ই বাংলাদেশে সব দলের অংশগ্রহণে একটি সুষ্ঠু, অবাধ ও নিরপেক্ষ নির্বাচন প্রত্যাশা করে বলেও জানান দেশটির নেতারা। সংসদে জাপার ভূমিকা নিয়ে ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর বক্তব্য তুলে ধরে রুহুল আমিন হাওলাদার বলেন, জাতীয় পার্টি বিরোধী দলে থেকেও সরকারে দায়িত্ব পালন করে বিরল দৃষ্টান্ত গড়েছে বলে উল্লেখ করেছেন সুষমা স্বরাজ। তিনি জানিয়েছেন- বাংলাদেশে গণতান্ত্রিক ও সাংবিধানিক ধারা অব্যাহত রাখতে তাদের নৈতিক সমর্থন সবসময় অব্যাহত থাকবে। অালোকিত বাংলাদেশ
চারদলীয় জোট সরকার দেশের নৌপথ ধ্বংস করে দিয়েছিল: নৌপরিবহন মন্ত্রী
অনলাইন ডেস্ক: সরকারের চেয়ে প্রভাবশালী কেউ নেই। তাই নদী রক্ষা ও দখল-দূষণ রক্ষায় জেলা প্রশাসকদের কঠোর নির্দেশনা দিয়েছে সরকার। জেলা প্রশাসক সম্মেলনে নৌপরিবহন মন্ত্রণালয় বৃহস্পতিবার (২৬ জুলাই) সকালে এই নির্দেশনা দিয়েছে বলে সচিবালয়ে জানিয়েছেন নৌপরিবহন মন্ত্রী শাজাহান খান। মন্ত্রী বলেন, চারদলীয় জোট সরকার দেশের নৌপথ ধ্বংস করে দিয়েছিল। আমরা নদী খননের মাধ্যমে তা উদ্ধারের চেষ্টা করছি। এরমধ্যে প্রায় দেড় হাজার কিলোমিটার নৌপথ খননের মাধ্যমে পুনরুদ্ধার করা হয়েছে। তারপরও দেখা যাচ্ছে অবৈধ বালু উত্তোলনের মাধ্যমে নৌপথ ধ্বংস করা হচ্ছে। নদীর পাড় ভেঙে যাচ্ছে। নদী তার গতিপথ হারাচ্ছে, পাল্টাচ্ছে। এভাবে নদীকে ধ্বংস করা হচ্ছে। আমরা এসব রোধে জেলা প্রশাসকদের দায়িত্ব ও কঠোর হতে নির্দেশ দিয়েছি। নৌপরিবহন মন্ত্রী বলেন, নদীর দখল ও দূষণ রোধে ব্যবস্থা নেওয়ার দায়িত্বও জেলা প্রশাসকদের দেওয়া হয়েছে। একইসঙ্গে নদী রক্ষায় নদীপাড়ের মানুষকে সচেতন করতে নদীর পাড় সংরক্ষণ, সীমানা নির্ধারণ, নদী পাড়ে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান আয়োজন, মানববন্ধন আয়োজন ও সংশ্লিষ্ট জনগণকে সম্পৃক্ত করার নির্দেশনা দিয়েছি। তাদের বলেছি মানুষের মধ্যে মৌলিক সচেতনতা বাড়ানোর মাধ্যমে এটা বোঝানো যে, নদীই বাংলাদেশের প্রাণ, অর্থনীতির মূল শক্তি, ও প্রবাহপথ। তাই যতো প্রভাবশালীই হোক না কেনো নদী রক্ষায় সবার বিরুদ্ধেই ব্যবস্থা নিতে হবে।
কামরানের ৩৩ দফা নির্বাচনি ইশতেহার
অনলাইন ডেস্ক: আওয়ামী লীগের মেয়র প্রার্থী বদর উদ্দিন আহমদ কামরান ৩৩ দফা নির্বাচনি ইশতেহার ঘোষণা করেছেন। বুধবার (২৫ জুলা) দুপুর ১টার দিকে তিনি সিলেট নগরের একটি হোটেলে এ ইশতেহার ঘোষণা করেন। এসময় কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় আওয়ামী লীগের নেতারা উপস্থিত ছিলেন। এসময় কামরান বলেন,‘প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার তত্ত্বাবধানে দেশে উন্নয়নের গণজোয়ার বইছে। সিলেটেও এই সরকারের আমলে ব্যাপক উন্নয়ন হয়েছে। যা অতীতে কোনও সরকার করেনি। এই সিলেটকে বাংলাদেশে মডেল নগরী হিসেবে গড়ে তুলতে চাইলে আপনারা নৌকা প্রতিকে ভোট দিয়ে আমাকে নির্বাচিত করুন। কারণ নৌকা উন্নয়নের প্রতিক। ইশতেহারগুলো হলো, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ ব্যবস্থা, যানজট নিরসন, হকারমুক্ত ফুটপাত, জলাবদ্ধতা নিরসন, গ্যাস সংযোগ চালুর উদ্যোগ, বিশুদ্ধ পানি, উন্নত যাতায়াত ব্যবস্থা, পর্যটন, নদীর তীর সংরক্ষণ ও সৌন্দর্য বর্ধন, খেলার মাঠ, সংস্কৃতি, তরুণ প্রজন্মের সুরক্ষা, দক্ষ জনশক্তি ও কর্মসংস্থান, শিশু নির্যাতন রোধ, নারীর সুরক্ষা ‘সিলেট উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ’ গঠন, প্রবাসীদের বিনিয়োগে আগ্রহী করা, বৃক্ষরোপণ, নগরের পরিচ্ছন্নতা, আইন-শৃঙ্খলা ব্যবস্থার উন্নয়ন, ডিজিটাল নগর, ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের সহযোগিতা, নগরের অবকাঠামোগত উন্নয়ন, বীর মুক্তিযোদ্ধাদের সুযোগ-সুবিধা প্রদান, সিটি করপোরেশনের সাধারণ ও সংরক্ষিত কাউন্সিলরদের উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে সরাসরি সম্পৃক্ত করা, মাদক নির্মূল, ভেজালমুক্ত খাদ্য, বিশেষ অর্থনৈতিক জোন ও প্রতিবন্ধী অধিকার।
ভারত সরকারের আমন্ত্রণে দিল্লিতে এরশাদ
অনলাইন ডেস্ক: বাংলাদেশের সাবেক রাষ্ট্রপতি ও জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান এইচ এম এরশাদ ভারত সরকারের আমন্ত্রণে দিল্লি সফরে গুরুত্বপূর্ণ নেতা-মন্ত্রীদের সঙ্গে দেখা করছেন। দিল্লি সফররত জাতীয় পার্টির নেতারা বিবিসিকে জানিয়েছেন, বাংলাদেশে সাংবিধানিক ধারাবাহিকতা ও গণতন্ত্র বজায় রাখার ক্ষেত্রে তাদের দলের যে ভূমিকা এই সফরে ভারত কার্যত তারই স্বীকৃতি দিচ্ছে। দিল্লিতে পর্যবেক্ষকরাও মনে করছেন, বাংলাদেশের রাজনীতিতে একটা তৃতীয় শক্তি হিসেবে জাতীয় পার্টির যে জায়গাটা আছে সেটাকে আরও ভালভাবে বুঝতেই জেনারেল এরশাদকে ভারত আমন্ত্রণ জানিয়েছে। কিন্তু বাংলাদেশে ভোটের বছরে এরশাদের এই দিল্লি সফরের তাৎপর্য কী? আসলে গত দু-তিনমাসে আওয়ামী লীগ ও বিএনপি- বাংলাদেশের এই প্রধান দুই দলের নেতারাই ভারতের রাজধানীতে সফর করে গেছেন। এখন এরশাদের নেতৃত্বে জাতীয় পার্টির যে দলটি দিল্লিতে রয়েছে, ভারত সরকারের হয়ে নিজে গিয়ে তাদের আমন্ত্রণ জানিয়ে এসেছিলেন ঢাকায় ভারতের রাষ্ট্রদূত হর্ষবর্ধন শ্রিংলা। জাতীয় পার্টির প্রেসিডিয়াম সদস্য জিয়াউদ্দিন আহমেদ বাবলু জানাচ্ছেন, “অন্য দলের কথা বলতে পারব না, তবে আমরা এসেছি খোদ ভারত সরকারের আমন্ত্রণে আর দিল্লিতেও এখন অবস্থান করছি তাদের আতিথ্যেই।” “আসার পর প্রথম দিনেই আমাদের বৈঠক হয়েছে ভারতের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও বিজেপির সাবেক সভাপতি রাজনাথ সিংয়ের সঙ্গে। পরদিন আমরা বৈঠকে বসি ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী সুষমা স্বরাজের সঙ্গে।” তিনি বিবিসিকে আরও বলেছেন, দিল্লিতে তাদের বৈঠক হয়েছে ভারতের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা অজিত ডোভালের সঙ্গেও। কিন্তু ভারতের এই নীতি-নির্ধারকদের সঙ্গে এরশাদ ও তার সঙ্গীরা ঠিক কী নিয়ে কথাবার্তা বললেন? “দেখুন ভারত হল বিশ্বের বৃহত্তম গণতন্ত্র। আর ওদিকে বাংলাদেশেও সংবিধানকে সমুন্নত রাখতে ও গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়াকে অব্যাহত রাখতে জাতীয় পার্টি লাগাতার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। গত নির্বাচনে আমরা শুধু এই কারণে অংশ নিয়েছিলাম যাতে বাংলাদেশে সাংবিধানিক ধারাবাহিকতা অক্ষুণ্ন থাকে।” “বাংলাদেশের গণতন্ত্র এখনও বিকাশশীল – আমাদের হয়তো অনেক সীমাবদ্ধতাও আছে। কিন্তু যে কোনও অবস্থাতেই আমরা গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে আরও শক্তিশালী করতে চাই, আর এ ব্যাপারে ভারতও আমাদের সাথে পুরোপুরি একমত। মূলত এই বিষয়েই দু’পক্ষের মধ্যে কথাবার্তা হয়েছে”, বলছিলেন জিয়াউদ্দিন আহমেদ বাবলু। দিল্লির থিঙ্কট্যাঙ্ক অবজারভার রিসার্চ ফাউন্ডেশনের সিনিয়র ফেলো জয়িতা ভট্টাচার্য আবার বলছেন, ভারত এখন জামায়াত ছাড়া বাংলাদেশের সব রাজনৈতিক শক্তির সঙ্গেই একটা সম্পর্ক রাখতে আগ্রহী – জাতীয় পার্টিকে আমন্ত্রণ সেই প্রক্রিয়ারই অংশ। তার কথায়, “তা ছাড়া সে দেশে তারা গুরুত্বপূর্ণ একটি তৃতীয় শক্তি, এবং আপনি চান বা না-চান তারা পার্লামেন্টে প্রধান বিরোধী দলও বটে। এর ওপরে এরশাদ নিজে একজন সাবেক রাষ্ট্রপ্রধান, কাজেই কেন নয়?” ২০১৪ সালের বিতর্কিত নির্বাচনের মতো না-হলেও এবারের নির্বাচনেও জাতীয় পার্টির ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে, ভারত এই ফ্যাক্টরটাও মাথায় রাখছে বলে বলছিলেন মিস ভট্টাচার্য। “প্রথমত বিএনপি এখনও পরিষ্কার করে বলেনি তারা নির্বাচনে যাবে কি না। তবে তারপরও গণতন্ত্রে একটা তৃতীয় শক্তির সব সময়ই কিন্তু বড় ভূমিকা থাকে।” “আসলে আমরা এখনও পর্যন্ত জানি না নির্বাচনী চিত্রটা শেষ পর্যন্ত কী দাঁড়াবে। কিন্তু কে বলতে পারে, জাতীয় পার্টি বাংলাদেশের নির্বাচনী রাজনীতিতে একটা বড় ভূমিকা নেবে না?”, বলছিলেন জয়িতা ভট্টাচার্য। কিন্তু এই দিল্লি সফরে ভারতীয় নেতৃত্বর কাছ থেকেই বা জাতীয় পার্টি ঠিক কী প্রত্যাশা করছে? জিয়াউদ্দিন আহমেদ বাবলুর কথায়, “আমাদের সাংবিধানিক ধারাবাহিকতা রক্ষার ক্ষেত্রে ভারত কিন্তু বরাবরই আমাদের সমর্থন জুগিয়ে এসেছে। গতবারও তারা ঠিক সেটাই করেছে।” “আসলে ভারতের সাহায্য বলতে কি, ভারতে গণতন্ত্র কিন্তু একটা প্রাতিষ্ঠানিক রূপ পেয়ে গেছে এবং তাদের থেকে আমরা অনেক অভিজ্ঞতা অর্জন করতে পারি, অনেক কিছু শিখতে পারি। কোনও দিনই ভারতে সামরিক শাসন আসেনি, তাদের গণতন্ত্র অনেক দৃঢ় ভিত্তির ওপর প্রতিষ্ঠিত – এগুলো নিয়ে আমাদের অনেক কথাবার্তা হল!”, জানাচ্ছেন তিনি। চারদিনের সফর শেষে কাল বুধবারই ঢাকায় ফিরছেন জেনারেল এরশাদ ও তার সঙ্গীরা। আর তারা এই বার্তা নিয়েই ফিরছেন, যে বাংলাদেশে গণতন্ত্রের কোনও সঙ্কটে জাতীয় পার্টি ইতিবাচক ভূমিকা নিলে ভারতও তাদের পাশেই থাকবে। সূত্র: বিবিসি
মাহমুদুর রহমানের ওপর হামলা: বিচার বিভাগীয় তদন্ত দাবি বিএনপির
অনলাইন ডেস্ক: আমার দেশ পত্রিকার ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক ও কলামিস্ট মাহমুদুর রহমানের ওপর হামলার ঘটনায় বিচার বিভাগীয় তদন্ত দাবি করেছে বিএনপি। এ দাবি জানিয়ে দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, দেশের রাষ্ট্রযন্ত্র আওয়ামী লীগের ক্রীড়ানকে পরিণত হয়েছে। কুষ্টিয়ায় আদালত প্রাঙ্গণে মাহমুদুর রহমানের ওপর ছাত্রলীগ-যুবলীগের হামলার পর এক জরুরি সংবাদ সম্মেলনে তিনি এই অভিযোগ করে বলেন, এই রাষ্ট্রযন্ত্র সম্পূর্ণভাবে ভেঙে পড়েছে। বাংলাদেশ রাষ্ট্র এখন রাষ্ট্র নেই, এটা অকার্যকর রাষ্ট্রে পরিণত হয়েছে। এখানে রাষ্ট্রের কোনো প্রতিষ্ঠান কাজ করছে না। আজকে পুলিশ চলছে আওয়ামী লীগের নির্দেশে এবং দুঃখজনকভাবে বিচারাঙ্গনকেও তারা প্রায় দখল করে ফেলেছে। আমরা দেশের জনগণের কাছে এই কথাটা পৌঁছাতে চাই, এ দেশে গণতন্ত্রের সব প্রতিষ্ঠান আওয়ামী লীগের ক্রীড়ানকে পরিণত হয়েছে। নয়া পল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এই সংবাদ সম্মেলন হয়। কুষ্টিয়ায় মাহমুদুর রহমানের ওপর হামলার ঘটনার বিবরণ তুলে ধরে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, মাহমুদুর রহমান যখন আদালতের কাছে প্রোটেকশন চান, কোর্ট থানায় ফোন করে এবং ওসিকে ব্যবস্থা নিতে বলেন। কিন্তু ওসি সেখানে উপস্থিত হননি। এরপর আরো উচ্চ মহল পর্যন্ত যোগাযোগ করা হয়েছে কিন্তু দুর্ভাগ্যজনকভাবে এই সরকারের পুলিশ কোনো ব্যবস্থা গ্রহণ করেনি। উপরন্তু আদালতে যে ওসি থাকেন তিনি মাহমুদুর রহমান ও অন্যদের বলেছেন, আপনারা বাইরে আসেন, বের হন। যাকে বলা যায় যে, জোর করে বের করে ওই সন্ত্রাসীদের হাতে তুলে দেয়া হয়েছে। যার ফলে সাথে সাথে তাদের আক্রমণ করা হয়েছে বিশেষ করে মাহমুদুর রহমানকে মাথায় আঘাত করে রক্তাক্ত করে দিয়েছে। সেখানে অন্য যারা ছিলেন তারাও আহত হয়েছেন। তিনি বলেন, আমরা অবিলম্বে যারা কুষ্টিয়ায় এ ঘটনা ঘটিয়েছে তাদের চিহ্নিত করে গ্রেফতার করে তাদের বিরুদ্ধে বিচার বিভাগীয় ব্যবস্থা নেয়ার জন্য আমরা দাবি জানাচ্ছি। এই সরকারের পতন না ঘটানো গেলে এসব অন্যায়ের বিচার হবে না বলে মন্তব্য করেন মির্জা ফখরুল। শীর্ষ নিউজ
প্রয়োজনে ইসলাম-দেশের জন্য জীবন দেবো: মাহমুদুর রহমান
অনলাইন ডেস্ক: কুষ্টিয়ার আদালত চত্বরে দৈনিক আমার দেশ পত্রিকার ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক মাহমুদুর রহমানের ওপর বেপরোয়া হামলা চালিয়েছে ছাত্রলীগ। এতে তিনি মারাত্মক আঘাত পান। আঘাত পেয়েও সাহসের মতো কথা বলতে দেখা গেছে তাকে। গতকাল রোববার বিকেলে এই হামলার সময় রক্তাক্ত মাহমুদুর রহমান বলছিলেন,প্রয়োজনে আমার দেশের জন্য আমি জীবন দেবো। যারা এমন করেছে তারা কুকুর। একা জীবন দিব দেশের জন্য। আমার দেশের জন্য জীবন দিব। ইসলামের জন্য জীবন দিব। জানা যায়, কুষ্টিয়া জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি ইয়াসির আরাফাত তুষারের করা একটি মানহানি মামলায় মাহমুদুর রহমান জামিন নিতে কুষ্টিয়া আদালতে যান। বেলা ১২টায় কুষ্টিয়ার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের বিচারক এমএম মোর্শেদ ১০ হাজার টাকা জামানতে মাহমুদুর রহমানের স্থায়ীভাবে জামিন মঞ্জুর করেন। তার জামিন মঞ্জুর করায় অসন্তোষ প্রকাশ করে ছাত্রলীগ নেতারা আদালত চত্বরে মাহমুদুর রহমানের বিচার চেয়ে বিক্ষোভ মিছিল করেন এবং এজলাসের ভেতর তাকে অবরুদ্ধ করে রাখেন। চার ঘন্টা অবরুদ্ধ থাকার পর পুলিশ প্রহরায় বাইরে বের হলে এই হামলা চালায় ছাত্রলীগ নেতাকর্মীরা। এ সময় কয়েকশ ছাত্রলীগ নেতাকর্মী হকিষ্টিক ও লাঠি দিয়ে মাহমুদুর রহমানকে পেটাতে থাকে। হামলায় মাহমুদুর রহমানের মাথা ফেটে যায় এবং তিনি গুরুতর আহত হন। শীর্ষনিউজ
প্রধানমন্ত্রী ছাত্রলীগকে সতর্ক করেছেন: কাদের
অনলাইন ডেস্ক: আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী বলেছেন, কোটা সংস্কার ইস্যুতে ছাত্রলীগের নামে কিছু বাড়াবাড়ির অভিযোগ এসেছে। প্রধানমন্ত্রী তাদের সতর্ক করে দিয়েছেন। রোববার সচিবালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে তিনি একথা বলেন। ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘আমরা কিছু অভিযোগ পেয়েছি, কোটা সংস্কারের যে আন্দোলন, এ আন্দোলনে ছাত্রলীগের নামে আমরা কিছু বাড়াবাড়ির অভিযোগ পেয়েছিলাম। গতকাল (শনিবার) সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে আমাদের সভা শেষে আমাদের নেত্রী শেখ হাসিনা পরিষ্কারভাবে আমার সামনে ছাত্রলীগের নেতাদের বলেছেন— ছাত্রলীগের নামে যেন কোনো বাড়াবাড়ির অভিযোগ আর তিনি না পান। পরিষ্কারভাবে তাদের সতর্ক করে দেয়া হয়েছে, যাতে ছাত্রলীগের নামে বাড়াবাড়ির কোনো অভিযোগ আমাদের কাছে না আসে।’ তিন সিটি করপোশন নির্বাচন বিষয়ে তিনি বলেন, ‘নেতাকর্মীদের নির্বাচন কমিশনের আচরণবিধি লঙ্ঘল না করার নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। আমরা চাই একটি শান্তিপূর্ণ নির্বাচন, ফ্রি অ্যান্ড ফেয়ার ইলেকশন। শান্তিপূর্ণভাবে যাতে ইলেকশন সম্পন হয়, সে বিষয়ে আমাদের নেতাকর্মীরা যাতে সহযোগিতা করেন, আমরা তা বলে দিয়েছি। সরকারিভাবেও প্রধানমন্ত্রী প্রশাসনকে এ বার্তা পাঠিয়েছেন যে, কোনো প্রকারের বাড়াবাড়ি যেন না হয়। নির্বাচনে হস্তক্ষেপ হয় এমন কোনো অভিযোগ যাতে না আসে।’ ‘বিএনপির দেয়া কোনো শর্ত মেনে দেশে নির্বাচন হবে না। সংবিধানের বিধান অনুসারে নির্বাচন হবে। এখানে সরকারের ধরণ কোনো বিষয় নয়’, যোগ করেন সেতুমন্ত্রী। ড. কামাল হোসেন ও বঙ্গবীর কাদের সিদ্দিকী সংলাপের যে প্রস্তাব দিয়েছেন, সে প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘সংলাপ তো হয়েছে। সংলাপ করেছে ইলেকশন কমিশন। সেখানে বিএনপি অংশ নিয়েছে। এখন এটাতো আমাদের কোনো বিষয় নয়।’ ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘ইলেকশন কমিশন আরেকটি সংলাপ করবে কিনা সেটা জানি না। তা কি বিএনপির সঙ্গেই করবে নাকি সবার সঙ্গে, তা ইলেকশন কমিশনই ঠিক করবে। সরকারের পক্ষ থেকে আমরা কোনো সংলাপের প্রয়োজন অনুভব করছি না। দেশে এমন কোনো পরিস্থিতি নেই যেটার জন্য সংলাপ করতে হবে।’ বর্তমান মন্ত্রিসভা কতটা ছোট হচ্ছে— সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি আরও বলেন, ‘এটা প্রধানমন্ত্রীই ভালো জানেন। তিনি ছাড়া এটা কেউ বলতে পারবে না। তবে এর সাইজ ছোট হবে, এটা বলতে পারি।
রাজশাহী জেলা বিএনপি নেতা মন্টু গ্রেফতার
অনলাইন ডেস্ক: রাজশাহীর সাগরপাড়া বটতলা এলাকায় বিএনপির মনোনীত মেয়র প্রার্থীর গণসংযোগে ককটেল বিস্ফোরণের মামলায় জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মতিউর রহমান মন্টুকে গ্রেফতার করা হয়েছে। মহানগর গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) ও বোয়ালিয়া থানা পুলিশ যৌথ অভিযান চালিয়ে শনিবার (২১ জুলাই) দিনগত রাত আড়াইটার দিকে তাকে গ্রেফতার করে। সকালে রাজশাহী মহানগর পুলিশের মুখপাত্র সিনিয়র সহকারী কমিশনার (সদর) ইফতে খায়ের আলম বলেন, এ ঘটনায় তার বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট তথ্য প্রমাণের ভিত্তিতেই গ্রেফতার করা হয়েছে। এ ঘটনায় একটি অডিও টেপও ফাঁস হয়েছে তবে তা এখনও পুলিশের হাতে পৌঁছায়নি। গ্রেফতারের সময় মন্টুর লাইসেন্সকৃত পিস্তলটিও জব্দ করা হয়েছে। তাকে জিজ্ঞাসাবাদের পর এ ব্যাপারে পরে আরও বিস্তারিত জানানো হবে বলেও জানান পুলিশের এ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা। অন্যদিকে বিএনপির মনোনীত মেয়র প্রার্থী মোসাদ্দেক হোসেন বুলবুল দাবি করেন, তার প্রচারণায় অংশ নেওয়ায় জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মন্টুকে পুলিশ গ্রেফতার করেছে। তার বিরুদ্ধে নতুন কোনো মামলা নেই। এটি নির্বাচনে বিএনপি নেতাকর্মীদের আটকেরই একটি অংশ। গত ১৭ জুলাই বেলা পৌনে ১১টার দিকে রাজশাহী মহানগরীর সাগরপাড়া বটতলার মোড় এলাকায় বুলবুলের গণসংযোগস্থলে ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। ওই ঘটনায় ওইদিন রাতেই মহানগরীর বোয়ালিয়া থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) শামীম হোসেন বাদী হয়ে অজ্ঞাতপরিচয় আট জনের নামে বিস্ফোরকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা দায়ের করেন। এ ঘটনায় আরও এক সন্দেহভাজন আসামিকে গ্রেফতারের পর রিমান্ডে নিয়েছে পুলিশ। আলোকিত বাংলাদেশ
সোহরাওয়ার্দী অভিমুখে জনস্রোত
অনলাইন ডেস্ক: প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার গণসংবর্ধনা ঘিরে ঐতিহাসিক সোহরাওয়ার্দী উদ্যান অভিমুখে জনস্রোত নেমেছে।শনিবার সকাল থেকে ঢাকা ও এর আশপাশের এলাকা থেকে ক্ষমতাসীন দলের বিপুলসংখ্যক নেতাকর্মী মিছিল নিয়ে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে জড়ো হচ্ছেন। এখানেই জনতার ভালোবাসায় সিক্ত হবেন শেখ হাসিনা। ভারতের কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ডি-লিট ডিগ্রি অর্জন, মহাকাশে সফলভাবে বঙ্গবন্ধু-১ স্যাটেলাইট পাঠানো, অস্ট্রেলিয়ার সিডনি থেকে গ্লোবাল উইমেন্স লিডারশিপ অ্যাওয়ার্ড অর্জন এবং বাংলাদেশকে স্বল্পোন্নত দেশ থেকে উন্নয়নশীল দেশে উন্নীত করায় তাকে এই গণসংবর্ধনা দেয়া হচ্ছে। বিকেল তিনটা থেকে গণসংবর্ধনা অনুষ্ঠান আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হবে। শুরুতে বাঙালির ইতিহাস ও ঐতিহ্য সম্বলিত ৩০ মিনিটের একটি পরিবেশনা থাকবে। মঞ্চে উপস্থিত থাকবেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ছেলে এবং তার তথ্য ও প্রযুক্তি বিষয়ক উপদেষ্টা সজীব ওয়াজেদ জয়। এই সংবর্ধনা অনুষ্ঠান ঘিরে ঢাকা মহানগর দক্ষিণ যুবলীগের নেতাকর্মীদের হলুদ ক্যাপ ও টি-শার্টে সুসজ্জিত হয়ে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে আসতে দেখা গেছে। স্বেচ্ছাসেবক লীগের নেতাকর্মীরা পরেছেন লাল ক্যাপ ও টি-শার্ট। ঢাকার বাইরে থেকেও আসা আওয়ামী লীগের মিছিল চোখে পড়েছে। নারায়ণগঞ্জ-৩ আসনের সাবেক এমপি কায়সার হাসনাত সকাল নয়টায় বিশাল বহর নিয়ে সোনারগাঁও থেকে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে প্রধানমন্ত্রীর গণসংবর্ধনা অনুষ্ঠানে যোগ দেন। আগতরা ঢাক-ঢোলের তালে তালে জয়বাংলা, বাংলার জয়; ভোট দিন ভোট দিন, দেশের উন্নয়নের স্বার্থে আবারো নৌকায় ভোট দিন স্লোগানে গোটা এলাকা মুখরিত করে তুলেছেন। গণসংবর্ধনা অনুষ্ঠান সফল করতে আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে ব্যাপক প্রস্তুতি গ্রহণ করা হয়েছে। এ অনুষ্ঠানে ৩ লক্ষাধিক লোকের সমাগম হবে বলে ধারণা করছেন আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় নেতারা। ইতোমধ্যে সংবর্ধনাস্থলকে সাজানো হয়েছে নান্দনিকভাবে। ইংরেজী বর্ণ এল (L) আকৃতিতে বিশাল প্যান্ডেল নির্মাণ করা হয়েছে। অনুষ্ঠানস্থলে ৩০ হাজার চেয়ার বসানো হয়েছে। ওয়ান নিউজ

রাজনীতি পাতার আরো খবর