খালেদা জিয়ার জামিন বিষয়ে আদেশ ১২ মার্চ
পাঁচ বছরের দণ্ডপ্রাপ্ত কারান্তরীণ বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদার জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলার জামিন আবেদনের বিষয়ে আদেশের জন্য সোমবার (১২ মার্চ) দিন ধার্য করেছেন হাইকোর্ট। বিচারপতি এম ইনায়েতুর রহিম ও বিচারপতি সহিদুল করিমের হাইকোর্ট বেঞ্চ আদালতের আদেশ মতে নথি না আসায় রোববার (১১ মার্চ) আদেশের দিন পিছিয়ে সোমবার দুপুর দুইটায় ধার্য করেন। খালেদার পক্ষে আদালতে শুনানি করেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী এ জে মোহাম্মদ আলী। দুদকের পক্ষে ছিলেন খুরশীদ আলম খান। গত ২২ ফেব্রুয়ারি বিচারিক আদালতের রায়ের বিরুদ্ধে খালেদার আইনজীবীদের আপিল শুনানির জন্য গ্রহণ করেন হাইকোর্ট। সেদিন খালেদার জরিমানা স্থগিত করে বিচারিক আদালতের নথি ১৫ দিনের মধ্যে হাইকোর্টে পাঠানোর আদেশ দেন। এরপর জামিন আবেদনের শুনানি শেষে ২৫ ফেব্রুয়ারি এক আদেশে হাইকোর্ট নিম্ন আদালতের যে নথি ১৫ দিনের মধ্যে চাওয়া হয়েছে, সে নথি আসার পর বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার জামিন আবেদনের ওপর আদেশের সময় নির্ধারণ করেছিলেন। এর মধ্যে বৃহস্পতিবার (৮ মার্চ) বিচারপতি এম ইনায়েতুর রহিম ও বিচারপতি সহিদুল করিমের হাইকোর্ট বেঞ্চে নথি নিয়ে আদালতের আদেশের সময় শেষ হয়ে যাচ্ছে বলে খালেদার আইনজীবীরা একটি মেনশন স্লিপসহ আবেদন উপস্থাপন করেন। এরপর আদালত এ বিষয়ে আদেশের জন্য রোববার (১১ মার্চ) দিন ধার্য করেন। এর আগে, ৮ ফেব্রুয়ারি বকশীবাজারে কারা অধিদফতরের প্যারেড গ্রাউন্ডে স্থাপিত ঢাকার বিশেষ জজআদালত-৫ এর বিচারক ড. মো. আখতারুজ্জামান মামলাটিতে খালেদা জিয়ার ৫ বছর কারাদণ্ড দেন। একইসঙ্গে বিএনপির সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান ও খালেদাপুত্র তারেক রহমানসহ অপর পাঁচ আসামির ১০ বছর করে কারাদণ্ড দেন। রায় ঘোষণার ১১দিন পর ১৯ ফেব্রুয়ারি বিকেলে খালেদা জিয়ার আইনজীবীরা রায়ের সার্টিফায়েড কপি বা অনুলিপি হাতে পান। ২০ ফেব্রুয়ারি খালেদা জিয়ার আইনজীবীরা হাইকোর্টের সংশ্লিষ্ট শাখায় এ আবেদন দায়ের করেন। সাজা ঘোষণার পর থেকে সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়াকে পুরান ঢাকার নাজিমউদ্দিন রোডের পুরাতন কেন্দ্রীয় কারাগারে রাখা হয়েছে।
ছাত্রলীগের ২৯তম কাউন্সিল স্থগিত
ছাত্রলীগের ২৯তম কাউন্সিল স্থগিত করা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশে আগামী ৩১ মার্চের কাউন্সিল স্থগিত করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার বিকেলে ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি সাইফুর রহমান সোহাগ ও সাধারণ সম্পাদক এস এম জাকির হোসাইন প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করলে তিনি এ নির্দেশনা দেন। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন সংগঠনটির কেন্দ্রীয় সভাপতি সাইফুর রহমান সোহাগ। তিনি বলেন, ৩১ মার্চের কাউন্সিল আপাতত হচ্ছে না। পরবর্তীতে সময় মতো হবে। তা সবাইকে জানিয়ে দেয়া হবে। এর আগে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ছাত্রলীগকে ৩১ মার্চ কাউন্সিল করার নির্দেশনা দিয়েছিলেন। সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়ে আজ এমন নির্দেশনা দেন প্রধানমন্ত্রী। যদিও গতকাল ৭ মার্চের সভায় প্রধানমন্ত্রী ছাত্রলীগ নেতাদের সম্মেলন করার পুনঃনির্দেশনা দেন।
১০ মার্চ শনিবার বিএনপির প্রতিবাদ কর্মসূচি
দুর্নীতির দায়ে কারান্তরীণ বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার মুক্তি দাবিতে বিএনপির পূর্বঘোষিত অবস্থান কর্মসূচিতে পুলিশি হামলার অভিযোগ তুলে রাজধানীতে প্রতিবাদ কর্মসূচির ঘোষণা দিয়েছে দলটি। বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর জানিয়েছেন, আগামী ১০ মার্চ শনিবার ঢাকা মহানগরের থানায় থানায় এই কর্মসূচি পালিত হবে। রাজধানীর নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে বৃহস্পতিবার দুপুরে এই কর্মসূচির কথা জানান তিনি। আজ সকালে জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে বিএনপির পূর্বঘোষিত শান্তিপূর্ণ অবস্থান কর্মসূচি শুরু হওয়ার পর হট্টগোলের মাধ‌্যমে নির্ধারিত সময়ের আগেই তা শেষ হয়ে যায়। বেলা পৌনে ১২টার দিকে ওই কর্মসূচি শেষ হওয়ার প্রায় ২০ মিনিট আগে পুলিশ সার্ক ফোয়ারার কাছে একজনকে আটক করলে নেতা-কর্মীদের সঙ্গে হট্টগোলের সৃষ্টি হয়। পরে বাধ‌্য হয়েই কর্মসূচিতে ইতি টানে বিএনপি। নেতারা জানান, কর্মসূচি ১২টা পর্যন্ত চলার কথা ছিল। কিন্তু কর্মসূচি চলাকালে ছাত্রদল উত্তরের সভাপতি দিদারুল রাজকে আটক করে পুলিশ। এ নিয়ে নেতা-কর্মীদের মধ‌্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। তবে পরিস্থিতি খারাপ হওয়ার আগে তারা কর্মসূচি শেষ করতে বাধ‌্য হয়েছেন। ‘শান্তিপূর্ণ কর্মসূচি’ থেকে নেতা-কর্মী আটকের ঘটনায় নিন্দা জানান তারা। উল্লেখ্য, গত ৮ ফেব্রুয়ারি দুর্নীতি মামলায় খালেদা জিয়ার সাজা হওয়ার পর তাকে কারাগারে নিলে এর প্রতিবাদে বিক্ষোভ সমাবেশ, মানববন্ধন, অবস্থান, প্রতীকী অনশন, গণস্বাক্ষর সংগ্রহ, জেলা প্রশাসকের কাছে স্মারকলিপি পেশসহ বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করে আসছে দলটির নেতা-কর্মীরা।
বিএনপির অবস্থান কর্মসূচি পণ্ড
নির্ধারিত সময়ের আগেই পুলিশি তৎপরতার মধ্যে পড়ে বিএনপির অবস্থান কর্মসূচি পণ্ড হয়ে গেছে।বৃহস্পতিবার দুপুরে জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে এ ঘটনা ঘটে বলে প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন। এ ঘটনার প্রতিবাদে শনিবার ঢাকা মহানগরে প্রতিটি থানায় বিক্ষোভের কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়েছে।বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এ কর্মসূচি ঘোষণা করেন। জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতির মামলার সাজাপ্রাপ্ত কারাবন্দি বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া মুক্তি দাবিতে প্রেসক্লাবের সামনে বিএনপির এক ঘণ্টার অবস্থান কর্মসূচি ছিল পূর্ব নির্ধারিত। বেলা ১১টার দিকে জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে বিএনপির এ কর্মসূচি শুরু হয়। এসময় দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, স্থায়ী কমিটির সদস্য মওদুদ আহমদ, আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, ভাইস চেয়ারম্যান আবদুল আউয়াল মিন্টুসহ কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। এক পর্যায়ে পৌনে ১২টার দিকে কর্মসূচির ভিতর থেকে ছাত্রদলের ঢাকা মহানগরের উত্তরের সভাপতি মিজানুর রহমান রাজসহ তিনজনকে আটক করে পুলিশ। এসময় বিএনপির পক্ষ থেকে পুলিশের উদ্দেশ্যে বলা হয়, আমাদের কর্মসূচি কেনো বাধা দিচ্ছেন, আপনারা বাধা দিবেন না। পরে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, পুলিশ বাধার ধিক্কার জানাই, প্রতিবাদ ও নিন্দা জানাই। একই সাথে সরকারের পদত্যাগ দাবি করেন ফখরুল। এক পর্যায়ে কর্মসূচি শেষ করার ঘোষণা দেন তিনি। এতে নির্ধারিত সময়ের আগেই কর্মসূচি বন্ধ হয়ে যায়। বিএনপির অবস্থান কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে সকাল ১০ টা থেকেই দলের নেতাকর্মীরা জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে জমায়েত হতে থাকেন। এরই মধ্যে প্রেসক্লাবের সামনে কঠোর নিরাপত্তা বলয় গড়ে তোলেন আইনশঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা। পাশাপাশি সাদা পোশাকধারী আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর বিভিন্ন সংস্থার সদস্যদের মোতায়েন করা হয়। এছাড়া কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে সিডাপ মিলনায়তনের সামনে প্রিজন ভ্যান এবং সচিবালয়ের পাশে জল কামান ও সাঁজোয়া গাড়ি রাখা হয়। পুলিশি তৎপরতার মধ্যে অবস্থান কর্মসূচি পণ্ড হওয়ার পর সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন মির্জা ফখরুল। এসময় তিনি শনিবারের বিক্ষোভ কর্মসূচির ঘোষণা দেন।
উস্কানিতে পা না দিতে খালেদা জিয়া নির্দেশ:ফখরুল
সরকারের কোনো ধরনের উস্কানিতে পা না দিতে বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া নির্দেশ দিয়েছেন বলে জানিয়েছে দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। বুধবার কারাগারে খালেদা জিয়ার সঙ্গে সাক্ষাৎ শেষে জেলগেটে সাংবাদিকদের ব্রিফিংকালে তিনি এ কথা জানান। শান্তিপূর্ণ কর্মসূচি চলাকালে নেতাদের গ্রেফতারের বিষয়ে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে মির্জা ফখরুল বলেন, নেত্রী সব কর্মসূচি শান্তিপূর্ণভাবে পালনের নির্দেশ দিয়েছেন। সরকারে কোনো উস্কানিতে পা না দিতে বলেছেন। এর আগে দুপুর ২টা ৫০ মিনিটে তারা কারাগারে যান। সাক্ষাৎ শেষে বিকেল ৪টা ৩৫ মিনিটে তারা বেরিয়ে আসেন। মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের নেতৃত্বে কারাগারে দেখা করতে যাওয়া নেতাদের মধ্যে ছিলেন-দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, ব্যারিস্টার মওদুদ আহমেদ, ড. আবদুল মঈন খান, মির্জা আব্বাস, আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, ব্যারিস্টার জমির উদ্দিন এবং চেয়ারপার্সনের একান্ত সচিব এ বি এম আব্দুস সাত্তার। ব্যারিস্টার মওদুদ বলেন, ১২ মার্চের জনসভা নিয়ে খালেদা জিয়া নির্দেশনা দিয়েছেন। তিনি সব কর্মসূচি শান্তিপূর্ণভাবে পালনের নির্দেশ দিয়েছেন।
খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে দেশে আবারো ষড়যন্ত্র হচ্ছে :স্বাস্থ্যমন্ত্রী
বিএনপি চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে দেশে আবারো ষড়যন্ত্র হচ্ছে মন্তব্য করেছে স্বাস্থ্যমন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম বলেছেন, কোনো ফর্মুলায় কাজ হবে না। ঐতিহাসিক ৭ মার্চ উদযাপন উপলক্ষে বুধবার বিকালে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে আওয়ামী লীগ আয়োজিত সমাবেশে তিনি একথা বলেন। মোহাম্মদ নাসিম বলেন, বঙ্গবন্ধুর ভাষণে কোটি বাঙালির মধ্যে অনুপ্রেরণা সৃষ্টি করেছিল। ৭১ সালে তার দেখানো পথ ধরেই আমরা স্বাধীন হয়েছিলাম। কিন্তু আজও পাকিস্তানি প্রেতাত্মারা সক্রিয়। তাই আগামী নির্বাচন হবে পাকিস্তানি প্রেতাত্মাদের পরাজিত করার নির্বাচন। অশুভ শক্তিকে পরাজিত করার নির্বাচন। স্বাস্থ্যমন্ত্রী আরও বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বাংলাদেশ যখন এগিয়ে যাচ্ছে তখন খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে দেশে আবারো ষড়যন্ত্র হচ্ছে। কিন্তু কোনো ফর্মুলায় কাজ হবে না। সংবিধান মোতাবেক আগামী নির্বাচন হবে। আর সেই নির্বাচনে দেশের স্বার্থে আবারো শেখ হাসিনাকেই প্রয়োজন।
কারাগারে গেছেন বিএনপির সিনিয়র দশ নেতা
বিএনপি চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়ার সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে কারাগারে গেছেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের নেতৃত্বে দলটির সিনিয়র দশ নেতা। বুধবার বেলা ৩টার দিকে পুরান ঢাকার নাজিম উদ্দিন রোডের কারাগারের সামনে পৌঁছান তারা। প্রসঙ্গত, গত ৮ ফেব্রুয়ারি জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলা খালেদা জিয়ার ৫ বছরের কারাদণ্ড হওয়ার পর থেকেই সেখানে রয়েছেন সাবেক এই প্রধানমন্ত্রী। ফখরুল ছাড়া বাকি বিএনপির ৯ নেতা হলেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, ব্যারিস্টার মওদুদ আহমেদ, ব্যারিস্টার জমির উদ্দিন সরকার, লে.জে.(অব.) মাহবুবুর রহমান, ড. আবদুল মঈন খান, মির্জা আব্বাস, নজরুল ইসলাম খান, আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী এবং বিএনপি চেয়ারপার্সনের একান্ত সচিব এ বি এম আব্দুস সাত্তার।
সরকার আমাদের গণতান্ত্রিক অধিকার থেকে বঞ্চিত করছে :খসরু
বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেছেন, ‘সরকার আমাদের গণতান্ত্রিক অধিকার থেকে বঞ্চিত করছে। তারা সভা-সমাবেশ করছে আর আমাদেরকে অনুমতি পর্যন্ত দেয়া হচ্ছে না।’ বুধবার দুপুরে জাতীয় প্রেসক্লাবের তৃতীয় তলার কনফারেন্স লাউঞ্জে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন। ‘বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের ১২তম কারাবন্দি দিবস উপলক্ষে এবং দলটির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার নিঃশর্ত মুক্তির দাবিতে এই যুব সমাবেশের আয়োজন করে স্বাধীনতা ফোরাম। আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেছেন, ‘স্কুল-কলেজের ছাত্র-ছাত্রী, সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী যারা সরকারের সঙ্গে সম্পৃক্ত তারাও জনসভায় আসছেন। এতে আমাদের কোনো সমস্যা নেই। কারণ আমরা স্বাধীন ও গণতান্ত্রিক দেশ চাই। সুতরাং আজকে যারা ক্ষমতাসীন দল তারা জনসভা করবে, এখানে কোনো ভিন্ন মত থাকার কারণ নেই।’ তিনি বলেন, ‘৭ মার্চ বাংলাদেশের স্বাধীনতার জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ দিন। এরই পরিপ্রেক্ষিতে ৭ মার্চের আজকের জনসভা। আমরা জনসভাকে স্বাগত জানাই। কারণ প্রত্যেক দল তাদের আদর্শ ও চিন্তা-চেতনা নিয়ে অনুষ্ঠান করবে। আর সেখানে কারো দ্বিমত থাকার কারণ নেই। কিন্তু প্রধানমন্ত্রী সারাদেশে জনসভা করে ভোট চেয়ে বেড়াচ্ছেন এবং জনগণকে জনসভায় ডেকে শপথ গ্রহণ করাচ্ছেন।’ বিভিন্ন জনসভায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নৌকা প্রতীকে ভোট চেয়ে জনগণকে ওয়াদা করাচ্ছেন মন্তব্য করে আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, ‘এটা সম্পূর্ণ সংবিধান পরিপন্থী এবং অনৈতিক কাজ ও ব্যক্তি স্বাধীনতার পরিপন্থী। আমরা কিন্তু কাউকে শপথ পড়াব না। কারণ আমার ভোট আমি কাকে দিব এটা একটি গোপনীয় বিষয় এবং আমানত। এমনকি আমার স্ত্রীও জানতে পারে না।’ বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য বলেন, ‘আমরা ১২ মার্চ সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে জনসভার জন্য আবেদন করেছি। কিন্তু আজ অবধি সেই অনুমতির কথা জানানো হয়নি। অথচ আমরা দেখছি, আজকে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে ক্ষমতাসীনরা জনসভার আয়োজন করেছে। গত ১০ দিন ধরে ঢাকা শহরে মাইকিং করা হচ্ছে। কত কিলোমিটারের মধ্যে সভার মাইক লাগানো হয়েছে। রাস্তা-ঘাট বন্ধ করে দেয়া হয়েছে। ঢাকা শহরের চার দিকে ব্যানার আর ফেস্টুন। কিন্তু আমরা তো এসব কিছুই চাই না। কেবল একটি সভার অনুমতি চাচ্ছি। যা আমার সাংবিধানিক ও গণতান্ত্রিক, নাগরিক এবং রাজনৈতিক অধিকার। সেই অধিকার থেকে বিএনপি আজকে বঞ্চিত হচ্ছে।’ কেনো একটি দলকে রাজনৈতিক অধিকার থেকে বঞ্চিত করা হচ্ছে এমন প্রশ্ন রেখে আমীর খসরু বলেন, আমরা খুলনাতে সার্কিট হাউস মাঠে ১০ মার্চ একটি সভার জন্য অনুমতি চেয়েছিলাম তা দেয়া হয়নি। সেখানকার হাদিস পার্ক মাঠেও অনুমতি চেয়েছি। কিন্তু এখনো কিছুই জানানো হয়নি। আগামী ২৭ মার্চ চট্টগ্রামের লালদিঘী ময়দানে জনসভার জন্য বিএনপি আবেদন করেছে বলেও তিনি জানান। আজ ঐতিহাসিক ৭ মার্চ উপলক্ষে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে আওয়ামী লীগের জনসভায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বক্তব্যে কিছু বিষয়ে প্রত্যাশা করে বিএনপির এই নেতা বলেন, ৭ মার্চের জনসভা থেকে আমি আশা করি, দেশের মানুষের যে প্রত্যাশা তা পূরণকল্পে প্রধানমন্ত্রী কয়েকটি কথা বলবেন। এগুলো হলো, আমরা আশা করি, উনি বলবেন- জনগণের ভোটাধিকার ফিরিয়ে দেয়ার ব্যবস্থা উনি করছেন, উনি নিরপেক্ষ নির্বাচনের ব্যবস্থা করছেন, মানবাধিকার যে লঙ্ঘিত হচ্ছে সেদিকে উনি মনোযোগী হবেন, দেশে আইনের শাসন ফিরিয়ে দেয়ার ব্যাপারে উনারা মনোযোগী হবেন, গণমাধ্যমের স্বাধীনতার প্রতি মনোযোগী হবেন, খালেদা জিয়াকে মুক্তি দিয়ে দেশে একটি গ্রহণযোগ্য ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের মাধ্যমে একটি নিরপেক্ষ সংসদ ও সরকার গঠনের জন্য তার বক্তব্যে প্রতিশ্রুতি থাকবে বলে আমি আশা করব। সংগঠনের সভাপতি আবু নাসের মুহাম্মদ রহমাতুল্লাহর সভাপতিত্বে সভায় আরো বক্তব্য দেন, বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা জয়নুল আবদিন ফারুক, সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক অ্যাডভোকেট আবদুস সালাম আজাদ, নির্বাহী কমিটির সদস্য নিপুন রায়, কৃষকদলের শাহজাহান মিয়া সম্রাট প্রমুখ।