মিশ্র প্রতিক্রিয়া বিকল্প প্রার্থী নিয়ে বিএনপিতে
অনলাইন ডেস্ক: এবারের নির্বাচনে দলীয় প্রার্থী বাছাইয়ে অনেকটা কৌশলী অবস্থান নিয়েছে বিএনপি। দলটি বেশির ভাগ আসনে একাধিক প্রার্থীকে প্রাথমিক মনোনয়নের চিঠি দিয়েছে। এতে প্রায় আড়াইশ আসনে ধানের শীষের প্রার্থীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৮০০। এর মধ্যে চূড়ান্ত মনোনয়ন কে পাবেন, এটা নিয়ে দেখা দিয়েছে বিভ্রান্তি। এই কৌশল নিয়ে দলীয় নেতাকর্মীদের মধ্যেই আছে মিশ্র প্রতিক্রিয়া। কেউ কেউ বলছেন, এতে বিশৃঙ্খলা দেখা দেবে। বাড়তে পারে অন্তঃকোন্দলও। তবে কেন্দ্রীয় নেতারা বলছেন, কোনো আসন যেন ধানের শীষের প্রার্থীশূন্য না হয়, সে জন্যই একাধিক প্রার্থী ঘোষণা করা হয়েছে। দলের সংকটের এই মুহূর্তে সবাইকে ত্যাগ স্বীকারে প্রস্তুত থাকতে হবে। দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান ব্যক্তিগত চাওয়া-পাওয়ার ঊর্ধ্বে দলীয় স্বার্থকে প্রাধান্য দিতে আহ্বান জানিয়েছেন। বিএনপির একজন ভাইস চেয়ারম্যান মনোনয়ন পেয়েছেন ঢাকা বিভাগের একটি আসন থেকে। একাধিকবারের এই সংসদ সদস্যের আসনে আরও দুজনকে মনোনয়নের চিঠি দেওয়া হয়েছে। গতকাল বিকেলে তিনি ঢাকা টাইমসকে বলেন, এটা ঠিক হয়নি। কেন দুজনকে দেওয়া হলো জানি না। আমি তো দুই দিনের জন্য রাজনীতিতে আসিনি। আমাকে বলা হয়েছে বাকিরা শেষ মুহূর্তে সরে যাবেন। আর না গেলে নাই আমি তো আছি। তবে ঢাকা-১৩ আসনে বিএনপির প্রার্থী খালেদা জিয়ার উপদেষ্টা আব্দুস সালাম ঢাকা টাইমসকে বললেন ভিন্ন কথা। তার সঙ্গেও একজনকে দলীয় মনোনয়নের চিঠি দেওয়া হয়েছে। তিনি ঢাকা টাইমসকে বলেন, যাদের বিকল্প হিসেবে রাখা হয়েছে তারা জানে কে মূল প্রার্থী। তাই এখানে অসুবিধার কিছু নেই বরং দল এবং প্রার্থীর সুবিধার কথা চিন্তা করে এমনটা করা হয়েছে। এ নিয়ে শেষ পর্যন্ত কোনো সমস্যা হবে, এমন আশা করি না। মূল কথা হলো কোনো আসন যেন খালি না যায়, এ জন্যই এটা করা হয়েছে। দুই দিনের বিতরণ কার্যক্রম শেষ করে মঙ্গলবার আড়াই শতাধিক আসনে দলের প্রায় ৮০০ নেতাকে মনোনয়নের চিঠি দেয় বিএনপি। এর মধ্যে অল্প কিছু আসনে একক প্রার্থী দিয়েছে দলটি। আবার কিছু কিছু নেতা নিজে থেকে পরিবারের সদস্যদের বিকল্প প্রার্থী রেখেছেন। যেমন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য খন্দকার মোশাররফ হোসেন তার ছেলে খন্দকার মারুফ হোসেনকে দুই আসনের একটিতে বিকল্প প্রার্থী হিসেবে দাঁড় করিয়েছেন। আবার আমানউল্লাহ আমান আগে থেকেই তার আসনে ছেলেকে বিকল্প প্রার্থী রেখেছেন। আবার কোথাও কোথাও জোটের শরিকদের জন্য ছাড় দিতে হচ্ছে বিএনপিকে, যা নিয়ে কিছুটা চাপা ক্ষোভ আছে বিএনপির সম্ভাব্য প্রার্থীদের মধ্যে। হঠাৎ করে আওয়ামী লীগ থেকে বিএনপিতে আসা গোলাম মাওলা রনির মনোনয়ন পাওয়া নিয়ে ক্ষোভ রয়েছে পটুয়াখালী-৩ আসনের বিএনপির নেতাকর্মীদের মধ্যে। সেখানে আরও দুজনকে মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে একজন নিজেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এ নিয়ে ক্ষোভ জানিয়েছেন। শেষ পর্যন্ত তিনিই এই আসনে প্রার্থী হবেন বলে আশা প্রকাশ করেছেন। তবে শেষ পর্যন্ত এসব কোনো সমস্যা হিসেবে দাঁড়াবে না বলে মনে করেন বিএনপির খুলনা বিভাগের সাংগঠনিক সম্পাদক নজরুল ইসলাম মঞ্জু। তিনি ঢাকা টাইমসকে বলেন, চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার মুখের দিকে তাকিয়ে এবার বিএনপি বা জোটের নেতাকর্মীরা বিশৃঙ্খলা করবে না। বরং তারা সর্বোচ্চ ত্যাগ করবে। কারণ সবাই জানে এবার আমাদের অস্তিত্বের লড়াই। মঞ্জু বলেন,আশা করছি চূড়ান্ত মনোনয়নের পরও ঝামেলা হবে না। বিভক্তি ঠেকাতে খুলনায় দলীয় বৈঠক করে আমরা সিদ্ধান্ত নিয়েছি, একসঙ্গে সবাই মনোনয়নপত্র জমা দিতে যাব। বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী ঢাকা টাইমসকে বলেন, অনেক চিন্তাভাবনা করে প্রার্থীদের মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে। সে ক্ষেত্রে একজনকে দল শেষ পর্যন্ত প্রার্থী রাখবে, এটা সবাই জানেন। আশা করি, সবাই দলের জন্য এ বিষয়ে সেক্রিফাইস করবে। আর শুরুতে একটু সমস্যা মনে হলেও প্রার্থী চূড়ান্ত করার পর সব ঠিক হয়ে যাবে। দলীয় সূত্রে জানা গেছে, মনোনয়ন দেওয়ার সময় প্রার্থীদের বলা হয়েছে, চিঠি পাওয়ার অর্থ আপনি ধানের শীষ পাবেন এমনটা নয়। ৯ ডিসেম্বর যাদের নামে চিঠি যাবে, তারাই ধানের শীষ পাবেন।
স্বতন্ত্রপ্রার্থী হিসেবে ঢাকা-১ আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন সালমা
অনলাইন ডেস্ক: মহাজোট থেকে মনোনয়ন না পেয়ে স্বতন্ত্রপ্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন ঢাকা-১ আসনের জাতীয় পার্টির বর্তমান সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট সালমা ইসলাম। গতবার এ আসনে আওয়ামী লীগ তাকে ছাড় দিলেও এবার ব্যবসায়ী সালমান এফ রহমানকে মনোনয়ন দিয়েছে। বুধবার দুপুরে স্বতন্ত্রপ্রার্থী হিসাবে রিটার্নিং কর্মকর্তার কাছে মনোনয়নপত্র জমা দেন তিনি। সালমা ইসলামের পক্ষে মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন যমুনা গ্রুপের পরিচালক (হিসাব) শেখ মোহাম্মদ আব্দুল ওয়াদুদ। দোহার-নবাবগঞ্জ মিলে গঠিত ঢাকা-১ আসন। দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে এই আসন থেকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে বিপুল ভোটে জয়ী হন সালমা ইসলাম। সেবার আওয়ামী লীগ দলের শরিক জাতীয় পার্টিকে এ আসনটি ছেড়ে দেয়। তবে এবার বিশিষ্ট্য ব্যবসায়ী বেক্সিমকো গ্রুপের মালিক ও প্রধানমন্ত্রীর বেসরকারি খাত উন্নয়ন উপদেষ্টা সালমান এফ রহমানকে এ আসনে মনোনয়ন দেয়া হয়। সূত্রে জানা গেছে, এতে জাতীয় পার্টির নেতাদের ওপর ক্ষুব্ধ হন সালমা ইসলাম। পরে স্বতন্ত্রভাবে নির্বাচনে লড়ার সিদ্ধান্ত নেন। সালমা ইসলাম মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্বও পালন করেন।
নির্বাচনে অংশ নিতে জাতীয় ঐক্যফ্রন্টে বিএনপির চার শরিকের ১৫৫ প্রার্থী
অনলাইন ডেস্ক: আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ নিতে জাতীয় ঐক্যফ্রন্টে বিএনপির চার শরিক মোট ১৫৫টি আসনে তাদের প্রার্থী চূড়ান্ত করে মনোনয়নের চিঠি দিয়েছে। বিএনপির প্রার্থীদের পাশাপাশি তারাও মনোনয়নপত্র জমা দেবেন রিটার্নিং ও সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয়ে। বিএনপির সঙ্গে আসন বণ্টনের আলোচনা এখনো চূড়ান্ত না হওয়ায় সিদ্ধান্ত হয়েছে দলগুলোর প্রার্থীরা মনোনয়নপত্র জমা দিয়ে দেবেন। আর মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারের সময় শেষ হওয়ার দিন তারা তা তুলে নেবেন। ঘোষিত তফসিল অনুযায়ী আজকের মধ্যে মনোনয়নপত্র জমা দিতে হবে। তবে প্রত্যাহার করা যাবে ৯ ডিসেম্বর পর্যন্ত। আর সেদিনই নিজের দল ও জোটের আসন চূড়ান্ত করা সম্ভব হবে। ঐক্যফ্রন্টে বিএনপির শরিকদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি প্রার্থী দিয়েছে গণফোরাম। তারা মোট ১১১ জনকে দিয়েছে মনোনয়নের চিঠি। এরপর আছে জেএসডি। তারা চিঠি দিয়েছে ২০ জনকে। কৃষক শ্রমিক জনতা লীগ ১৫ জন এবং নাগরিক ঐক্য নয়জনকে মনোনয়ন দিয়েছে। তবে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর জানিয়েছেন তারা দুই জোট ২০ দল এবং ঐক্যফ্রন্টকে ৬০টির বেশি আসন দেবেন না। এর মধ্যেই ২০ দলের শরিক এলডিপিকে চারটি, জাতীয় পার্টি (কাজী জাফর)-কে দুটি, বিজেপি, কল্যাণ পার্টি, জাগপা, লেবার পার্টি, এনপিপি ও মাইনরিটি জনতা পার্টিকে একটি করে আসনে ছাড় দিয়েছে। জমিয়তে ওলামায়ে ইসলামের দুই অংশ এবং খেলাফত মজলিসকেও একাধিক আসন দেওয়া হতে পারে। জামায়াতে ইসলামীকে ছাড় দেওয়া হচ্ছে ২৫টির মতো আসনে। এই হিসাব করলে ঐক্যফ্রন্টের জন্য থাকছে সর্বোচ্চ ২০ থেকে ২১টি আসন। তবে গণফোরামের সভাপতি ড. কামাল হোসেন আশা করছেন, তার দল ৩০ থেকে ৪০টি আসন পাবে। আসন বণ্টনের এই আলোচনা কোন পর্যায়ে, সে বিষয়ে স্পষ্ট করে বললেন না বিএনপি বা ঐক্যফ্রন্টের কোনো শরিক। ব্যক্তি ভাবমূর্তি, দলের ভোটব্যাংক ও জনপ্রিয়তার দিক বিচার করেই প্রার্থী চূড়ান্ত করার কথা বলছেন তারা। ঐক্যফ্রন্টের নেতা বলেন, সময়স্বল্পতার কারণে এখন জোটগতভাবে মনোনয়ন দেওয়া হচ্ছে না। আপাতত দলীয়ভাবে মনোনয়ন দেওয়া হচ্ছে। পরে বসে এগুলোকে সমন্বয় করা যাবে। প্রার্থিতা প্রত্যাহারের আগেই সব ঠিক হয়ে যাবে। বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, আপাতত জোটগতভাবে নয়, দলীয়ভাবে মনোনয়নপত্র জমা দেবেন ঐক্যফ্রন্টের বিভিন্ন দলের প্রার্থীরা। পরে আলোচনা সাপেক্ষে জোটের প্রার্থী চূড়ান্ত করে বাকিদের প্রার্থিতা প্রত্যাহার করা হবে। গণফোরামের কার্যনির্বাহী কমিটির সভাপতি সুব্রত চৌধুরী ঢাকা টাইমসকে বলেন, আমাদের হাতে এখনো সময় রয়েছে এর মধ্যে আসন বিন্যাস ঠিক হয়ে যাবে। আমরা প্রতীক বরাদ্দের আগেই কতটা আসনে জোটগতভাবে করব, সেটা নির্ধারণ হবে। তবে আমরা কোনো আসন নিয়ে অনড় অবস্থানে নেই। একই দলের সাধারণ সম্পাদক মোস্তফা মহসিন মন্টু বলেন,আমাদের পক্ষে একশর ওপরে মনোনয়নপত্র জমা দেওয়া হয়েছে। কাল (আজ) মনোনয়ন জমা দেওয়ার শেষ সময়, এরপর আমরা সকলেই বসে আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নেব। নাগরিক ঐক্যের আহ্বায়ক মাহমুদুর রহমান মান্না বলেন, আজ আমাদের নয়টি আসনের জন্য বিএনপির পক্ষ থেকে চিঠি দেওয়া হয়েছে। এগুলো চূড়ান্ত নয়, আবার আলোচনা হবে। আমরা সকলেই বসে আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। জেএসডির সাধারণ সম্পাদক আব্দুল মালেক রতন ঢাকা টাইমসকে বলেন,আমরা ২০টি আসনে মনোনয়ন জমা দেব। আমাদের সভাপতি ইতিমধ্যে লক্ষ্মীপুর-৪ আসনে মনোনয়ন জমা দিয়েছেন। আর বাকিগুলো কালকের (আজ) মধ্যেই জমা দেওয়া হবে।
সংসদ নির্বাচন: ২৫ আসনে জামায়াতের প্রার্থী
অনলাইন ডেস্ক: আসন্ন একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নিজস্ব প্রতীকে নির্বাচন করতে না পারলেও ২৫ আসনে নির্বাচন করতে যাচ্ছে জামায়াতের প্রার্থীরা। তবে তারা ধানের শীষ প্রতীকে নাকি স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচন করবেন তা এখনো জানা যায়নি। নির্বাচনে অংশ নিতে ২০ দলীয় জোটের শরিক জামায়াতে ইসলামীকে ২৫টি আসন দেওয়া হয়েছে। ২০ দলীয় জোটের নেতারা এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন। মনোনয়নপ্রাপ্ত ২৫ প্রার্থী হলেন: শফিকুর রহমান (ঢাকা-১৫), আব্দুল হাকিম (ঠাকুরগাঁও-২), মোহাম্মদ হানিফ (দিনাজপুর-১), আনোয়ারুল ইসলাম (দিনাজপুর-৬), মতিউর রহমান (ঝিনাইদহ-৩), সৈয়দ আবদুল্লাহ মো. তাহের (কুমিল্লা-১১), হামিদুর রহমান আজাদ (কক্সবাজার-২), শামসুল ইসলাম ( চট্টগ্রাম-১৫)। মনিরুজ্জামান মন্টু (নীলফামারী-২), আজিজুল ইসলাম (নীলফামারী-৩), গোলাম রব্বানী (রংপুর-৫), মাজেদুর রহমান সরকার (গাইবান্ধা-১), রফিকুল ইসলাম খান (সিরাজগঞ্জ-৪), ইকবাল হুসেইন (পাবনা-৫), আবু সাঈদ মুহাম্মদ শাহাদত হোসাইন (যশোর-২), আব্দুল ওয়াদুদ (বাগেরহাট-৩), আবদুল আলিম (বাগেরহাট-৪), মিয়া গোলাম পরওয়ার (খুলনা-৫), আবুল কালাম আযাদ (খুলনা-৬), রবিউল বাশার (সাতক্ষীরা-৩), আব্দুল খালেক (সাতক্ষীরা-২), গাজী নজরুল ইসলাম (সাতক্ষীরা-৪), শামীম সাঈদী (পিরোজপুর-১), ফরিদ উদ্দিন চৌধুরী (সিলেট-৫) ও হাবিবুর রহমান (সিলেট-৬) । হাইকোর্টে দল হিসেবে জামায়াতে ইসলামীর নিবন্ধন বাতিল ও অবৈধ ঘোষণার পর জামায়াতের নিবন্ধন বাতিল করে প্রজ্ঞাপন জারি করে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। তাই দল হিসেবে নির্বাচন করার সুযোগ নেই জামায়াতের। তবে জামায়াত নেতারা স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে কিংবা নিবন্ধিত অন্য কোনো দলের প্রার্থী হয়ে সেই দলের প্রতীক নিয়ে নির্বাচন করতে পারবেন। ইসি সচিব হেলালুদ্দীন আহমদ এরই মধ্যে জানিয়েছেন, অনিবন্ধিত কোনো দল নিবন্ধিত কোনো দলের সঙ্গে জোটগতভাবে নির্বাচন করতে চাইলে ইসির কিছু করার থাকবে না। এই বিষয়ে আইনে কোনো ব্যাখ্যা নেই।
নির্বাচনে শরিক দলগুলোকে ৬০টির বেশি আসন দিচ্ছে বিএনপি: ফখরুল
অনলাইন ডেস্ক: একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে শরিক দলগুলোকে বিএনপি ৬০টির বেশি আসন ছেড়ে দিচ্ছে বলে জানিয়েছেন দলটির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। মঙ্গলবার বিকেলে গুলশানে বিএনপি চেয়ারপাসনের রাজনৈতিক কার্যালয়ের সামনে সাংবাদিকদের এ কথা জানান তিনি। মির্জা ফখরুল জানান, জামায়াত ছাড়া ২০ দলকে ১৫টি আসন ছাড়া হয়েছে এখন পর্যন্ত। তবে ঐক্যফ্রন্টকে কতটি ছাড়া হয়েছে তা জানাননি তিনি। সব মিলে কতটি আসন বিএনপি ছাড়বে এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, মোর দেন সিক্সটি হবে। এটা এদিক-সেদিক হতে পারে এছাড়া এখন পর্যন্ত বিএনপি ৮০০ মনোনয়ন চিঠি বিতরণ করছে বলে জানান ফখরুল।
উচ্চ আদালতের রায় সরকারের হস্তক্ষেপে এসেছে: মির্জা ফখরুল ইসলাম
অনলাইন ডেস্ক: দণ্ড স্থগিত না হলে ভোটে দাঁড়ানোর যোগ্যতা থাকবে না বলে উচ্চ আদালতের রায় সরকারের হস্তক্ষেপে এসেছে বলে অভিযোগ করছে বিএনপি। দলটির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, সরকার আদালতকে ব্যবহার করে বিএনপি ও ঐক্যফ্রন্টকে ঠেকাতে চাইছে। বিএনপির পাঁচ নেতার আবেদনের পর মঙ্গলবার এক রায়ে হাইকোর্ট বলেছে, দুর্নীতির মামলায় দণ্ডের বিরুদ্ধে আপিল করেই ভোটে দাঁড়ানো যাবে না। দণ্ড বাতিল অথবা স্থগিত হতে হবে এবং জামিন পেতে হবে। সাজাপ্রাপ্ত বিএনপি নেতা আমান উল্লাহ আমান, এ জেড এম জাহিদ হোসেন, আবদুল ওয়াদুদ ভূইয়া, আবদুল ওহাব ও মশিউর রহমান সাজা স্থগিত চেয়ে আবেদন করেছিলেন হাইকোর্ট। কিন্তু সেই আবেদন নাকচ হয়। আর এই রায়ের ফলে বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার পক্ষে ভোটে দাঁড়ানো সম্ভব নয় বলে জানিয়েছেন আইনজীবীরা। এই আদেশের প্রতিক্রিয়ায় মির্জা ফখরুল বলেন, রায়ে সরকারের ইচ্ছার প্রতিফল ঘটেছে। ঐক্যফ্রন্টকে নির্বাচন থেকে প্রতিহত করার জন্যই দলের নেতাদের বিরুদ্ধে নির্বাচনের আগে হাইকোর্ট রায় দিয়েছে। গুলশানে দলের প্রার্থীদের মনোনয়নের চিঠি দেওয়ার ফাঁকে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন ফখরুল। বলেন, যড়যন্ত্রের নির্বাচনের মাধ্যমে ক্ষমতা আঁকড়ে ধরার এ চক্রান্ত জনগণ মানবে না। শরিকদের মধ্যে কে কতগুলো আসনে পাচ্ছে এমন প্রশ্নে বিএনপি নেতা বলেন, বিষয়টি এখনও চূড়ান্ত হয়নি। তবে ২০ দল এবং ঐক্যফ্রন্টকে মিলিয়ে ৬০টির বেশি আসন দেওয়া হবে না। আলোচনা করে এ বিষয়ে দ্রুত সিদ্ধান্ত নেয়া হবে।
অভিযোগ গঠনের শুনানি ৩১ জানুয়ারি
অনলাইন ডেস্ক :দিনাজপুরের বড়পুকুরিয়া কয়লাখনি দুর্নীতি মামলায় বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াসহ ১১ আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনের শুনানি ৩১ জানুয়ারি দিন ঠিক করেছে আদালত।মঙ্গলবার রাজধানীর বকশিবাজার আলিয়া মাদ্রাসা মাঠে অবস্থিত ঢাকা-২ বিশেষ জজ আদালতের বিচারক এএইচএম রুহুল ইমরান আসামি পক্ষের সময়ের আবেদন মঞ্জুর করে এ আদেশ দেন।বিএনপি চেয়াপারসনের আইনজীবী সানাউল্লাহ মিয়া ও জিয়া উদ্দিন তার পক্ষে হাজিরা দাখিল করেন।মামলার অভিযোগ:দিনাজপুরের বড়পুকুরিয়া কয়লাখনিতে উত্তোলন, ব্যবস্থাপনা ও রক্ষণাবেক্ষণে ঠিকাদার নিয়োগে অনিয়ম এবং রাষ্ট্রের ১৫৮ কোটি ৭১ লাখ টাকা ক্ষতি ও আত্মসাতের অভিযোগে ২০০৮ সালের ২৬ ফেব্রুয়ারি শাহবাগ থানায় মামলাটি করা হয়। ওই বছরই ৫ অক্টোবর ১৬ আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দাখিল করে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।মামলায় খালেদা জিয়া ছাড়া অন্য আসামিরা হলেন- সাবেক অর্থমন্ত্রী এম সাইফুর রহমান (মৃত), সাবেক স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী আবদুল মান্নান ভূঁইয়া (মৃত), সাবেক শিল্পমন্ত্রী মতিউর রহমান নিজামী (মৃত), সাবেক সমাজকল্যাণমন্ত্রী আলী আহসান মো. মুজাহিদ (মৃত), ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, এমকে আনোয়ার (মৃত), এম শামসুল ইসলাম (মৃত), আলতাফ হোসেন চৌধুরী, ব্যারিস্টার আমিনুল হক, একেএম মোশাররফ হোসেন, জ্বালানি মন্ত্রণালয়ের সাবেক ভারপ্রাপ্ত সচিব নজরুল ইসলাম, পেট্রোবাংলার সাবেক চেয়ারম্যান এসআর ওসমানী, সাবেক পরিচালক মঈনুল আহসান, বড়পুকুরিয়া কোল মাইনিং কোম্পানির সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. সিরাজুল ইসলাম ও খনির কাজ পাওয়া কোম্পানির স্থানীয় এজেন্ট হোসাফ গ্রুপের চেয়ারম্যান মোয়াজ্জেম হোসেন।এরই মধ্যে দুদকের দায়ের করা দুই মামলায় বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে ১০ ও ৭ বছরের কারাদণ্ড দেয় আদালত। আপিলে জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় ৫ বছরের কারাদণ্ড বেড়ে ১০ বছর এবং জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় বিশেষ আদালতে ৭ বছরের কারাদণ্ডে দণ্ডিত হন তিনি। গত ৮ ফেব্রুয়ারিতে রায়র ঘোষণা হওয়ার পর থেকে পুরান ঢাকার কেন্দ্রীয় কারাগারে রয়েছেন তিনি।
আমাকে ধ্বংস করবে, করুক লড়াই চালিয়ে যাব: কামাল
অনলাইন ডেস্ক: জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের শীর্ষ নেতা ও গণফোরাম সভাপতি ড. কামাল হোসেন বলেছেন, ওরা আমাকে ধ্বংস করবে, করুক। আমি লড়াইয়ে নেমেছি, এ লড়াই চালিয়ে যাব। আজ মঙ্গলবার বেলা সোয়া ১১ টার দিকে ঐক্যফ্রন্টের শীর্ষ নেতা ও গণফোরাম সভাপতি ড. কামাল হোসেনের বেইলি রোডের নিজ বাসায় বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের একথা জানান। মনোনয়ন প্রসঙ্গে ড. কামাল হোসেন বলেন, আসন বণ্টন নিয়ে বিএনপির সঙ্গে ইতিবাচক আলোচনা হয়েছে। ড. কামাল হোসেন আর বলেন, আমরা এখন সবাই মনোনয়নপত্র জমা দেব। মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারের সময় ফাইনাল করা হবে কারা মনোনিত হচ্ছেন। তিনি বলেন, আমরা গণফোরাম ৩০-৪০টি আসন চেয়েছি। তার মধ্যে ঢাকাতে দুটি আসন থাকতে হবে। তবে কোন দুটি আসন এখনো নিশ্চিত করেনি। নির্বাচনে ইভিএম ব্যবহার হচ্ছে এটা চূড়ান্ত। এ বিষয়ে প্রতিক্রিয়া জানতে চাইলে গণফোরামের সভাপতি বলেন, না মেনে নিলে কি করা যাবে। আপনি যদি আমাদের জায়গায় হতেন তাহলে কি করতেন। নির্বাচন তো এ কারণে আমরা বাদ দেব না, সোজা কথা। দলীয়ভাবে মনোনয়ন জমা দেওয়া হচ্ছে, পরবর্তীতে আলোচনা সাপেক্ষে জোটগত প্রার্থী চূড়ান্ত করা হবে বলেও জানান ড. কামাল। ওই বৈঠকে ইশতেহার বিষয়ে আলোচনা হয়। আগামীকাল বুধবার ইশতেহার করা হতে পারে। আজ গণফোরামের মনোনয়ন তালিকা প্রকাশ হতে পারে।
বিএনপির টিকিট পেলেন বেবী নাজনীন ও কনকচাঁপা
অনলাইন ডেস্ক :আওয়ামী লীগ ও বিএনপিসহ বেশকিছু দল থেকে এবার একাধিক তারকা মনোনয়নপত্র কিনেছেন। আসন্ন একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে লড়াই করবেন তারা। এরই মধ্যে আওয়ামী লীগ থেকে চিত্রনায়ক ফারুক, কণ্ঠশিল্পী মমতাজ, অভিনেতা আসাদুজ্জামান নূর, ক্রিকেটার নাঈমুর রহমান দুর্জয় ও মাশরাফি বিন মর্তুজা মনোনয়ন পেয়েছেন। রোববার এই তারকাদের নাম ঘোষণা করে সরকারদলীয় আওয়ামী লীগ। এদিকে সোমবার (২৬ নভেম্বর) বিএনপির মনোনয়নপ্রাপ্তদের নাম ঘোষিত হয়েছে। এদিন দুপুর থেকেই রংপুর বিভাগ দিয়ে শুরু হয়েছে নাম ঘোষণার কার্যক্রম। মনোনয়ন পাওয়াদের তালিকায় নিজেদের নাম শোনার অপেক্ষায় ছিলেন চার তারকা। তারা হলেন- চিত্রনায়ক হেলাল খান ও তিন কণ্ঠশিল্পী কনকচাঁপা, মনির খান এবং বেবী নাজনীন। এর মধ্যে মনোনয়ন পেয়েছেন কণ্ঠশিল্পী কনকচাঁপা। তিনি বলেন, মনোনয়নপত্র কেনার পর থেকে এলাকার মানুষ আমাকে শুভেচ্ছা পেয়েছি। আমি সিরাজগঞ্জ-১ আসনের উন্নয়নে নিজেকে নিয়োজিত রাখতে চাই। আমার প্ল্যাটফর্ম হিসেবে বিএনপিকেই চেয়েছি এবং পেয়েছি। মনোনয়ন পেলাম এবার বিজয়ের পালা। আরেক তারকা বেবী নাজনীনও বিএনপি থেকে মনোনয়ন পেয়েছেন। নীলফামারী-৪ (সৈয়দপুর-কিশোরগঞ্জ) আসন থেকে ধানের শীষের প্রতিনিধিত্ব করবেন তিনি।। এই গায়িকা বলেন, আমি নীলফামারী-৪ আসনের এলাকার মানুষের জন্য আগে থেকে কাজ করে যাচ্ছি। মনোনয়ন পেয়েছি। জয়িও হবো ইনশাআল্লাহ। আমার জন্মস্থান সৈয়দপুরে, আমি এলাকার মানুষের পাশে থাকতে এই নির্বাচনে অংশ নেব। ঝিনাইদহ-৩ আসনে মনোনয়নপ্রার্থী কণ্ঠশিল্পী মনির খান। এখনো ঝিনাইদাহ-৩ আসনের কারো নাম ঘোষণা করা হয়নি। মনোনয়নের অপেক্ষায় প্রহর গুনছেন চিত্রনায়ক হেলাল খান। তিনি সিলেট-৬ বিয়ানীবাজার আসনে বিএনপির মনোনয়নপ্রত্যাশী। তিনি বলেন, মনোনয়ন যারা পেয়েছে তাদের নাম ঘোষণা কেবল শুরু হয়েছে। আমার নাম জানতে জানতে পারিনি এখনো। তবে আমি মনোনয়ন পাবো বলেই আশা করছি। আগামীকাল দুপুরের আগেই জানাতে পারবো।