কোটা সংস্কার আন্দোলনের পেছনে অশুভ শক্তির হাত আছে :নানক
কোটা সংস্কার আন্দোলনের পেছনে অশুভ শক্তির হাত আছে বলে মনে করেন আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সংসদ সদস্য জাহাঙ্গীর কবির নানক। তাঁর মতে, এর মাধ্যমে দেশকে অস্থিতিশীল করার চেষ্টা করা হচ্ছে। সোমবার সচিবালয়ে আন্দোলনকারীদের সঙ্গে বৈঠকে যোগ দিতে এসে নিজের প্রতিক্রিয়ায় সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন আওয়ামী লীগের এই নেতা। নানক বলেন, ‘আমরাও ছাত্র আন্দোলন করেছি। যৌক্তিক দাবিতে, নিয়মতান্ত্রিক পদ্ধতিতে। কিন্তু গতকাল কোটা সংস্কারের দাবিতে যে আন্দোলন হলো সেটা কোন ধরনের?’ গতকাল রোববার ব্যাপক তাণ্ডব চালানো হয়েছে উল্লেখ করে জাহাঙ্গীর কবির নানক বলেন, ‘গান পাউডার দিয়ে বিভিন্ন জিনিস পুড়িয়ে দেওয়া হয়েছে, ভিসির বাসভবনে হামলা হয়েছে। এগুলো আন্দোলনের আওতায় পড়ে না। এগুলো ধ্বংসাত্মক কর্মসূচি।’ এর পেছনে যারা আছে তাদের তদন্তের মাধ্যমে খুঁজে বের করা হবে বলে জানান নানক। তিনি বলেন, ‘দেশ বর্তমানে স্থিতিশীল। এই স্থিতিশীল পরিবেশকে অস্থিতিশীল করার জন্য এই ঘটনা ঘটানো হয়েছে। এখানে কোমলমতি ছাত্রছাত্রীদেরকে ভুল বোঝানো হয়েছে।’ সরকার মেধাবীদের অবহেলার পক্ষে নয় বলেও মন্তব্য করেন এই নেতা।
আওয়ামী লীগের সকল ষড়যন্ত্র ব্যর্থ হয়েছে :ড. খন্দকার মোশাররফ
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নামে বিভিন্ন ইস্যুতে অ্যাকাউন্ট খোলা হয়েছে উল্লেখ করে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন বলেছেন, জনগণ এসব অ্যাকাউন্টের খবর একদিন নেবে এবং তার বিচারও করবে। সোমবার দুপুরে জাতীয় প্রেস ক্লাবে ‘শফিউল বারী বাবু, ইয়াসীন আলী মুক্তি পরিষদ’ আয়োজিত প্রতিবাদী সভায় তিনি এ কথা বলেন। খন্দকার মোশাররফ বলেন, শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে অ্যাকাউন্ট খোলা হয়ে গেছে। তিনি (প্রধানমন্ত্রী) ক্ষমতায় আসার পর পরই পিলখানায় ঘটনা ঘটেছে। এটার কিন্তু সম্পূর্ণ রিপোর্ট বের হয়নি। এটা অ্যাকাউন্টে জমা হচ্ছে। শেয়ার বাজার লুট করে লাখ লাখ মানুষকে পথে বসানো হয়েছে সেটারও একটি রিপোর্ট করা হয়েছিল। আপনার (প্রধানমন্ত্রী) অর্থমন্ত্রী বলেছিলেন, রিপোর্ট যাদের নাম আছে, তাদের হাত অর্থমন্ত্রীর চেয়ে লম্বা। তারা অর্থমন্ত্রীর চেয়ে প্রভাবশালী। তাহলে তারা কারা হবেন? এই অ্যাকাউন্টও প্রধানমন্ত্রী বিরুদ্ধে খোলা হয়ে গেছে। বর্তমান প্রধানমন্ত্রী বিদ্যুতের দাম ১০ থেকে ১২ টাকা বৃদ্ধি করেছেন। এ দাম বৃদ্ধি করে প্রত্যেকের (জনগণের) পকেট কেটেছেন। এটাও কিন্তু অ্যাকাউন্ট খোলা হয়েছে? ব্যাংক ও রিজার্ভ লুট করা হয়েছে। এগুলোরও অ্যাকাউন্ট খোলা হচ্ছে। গুম, খুন এবং মিথ্যা মামলায় বেগম জিয়াকে যেভাবে নির্যাতন করা হচ্ছে সেটারও অ্যাকাউন্ট খোলা হয়েছে। আওয়ামী লীগের সকল ষড়যন্ত্র ব্যর্থ হয়েছ মন্তব্য করে তিনি বলেন, তারা আবোল-তাবোল বকছেন। বলছেন, বিএনপির জন সমর্থন নেই। জন সমর্থন যদি না থাকে তাহলে সোহরাওয়ার্দীতে বিএনপিকে জনসভা করার অনুমতি দিতে ভয় পান কেন? আওয়ামী লীগ যতই ষড়যন্ত্র করুক না কেনো, দেশের মানুষ ৫ জানুয়ারির মত প্রহসনের নির্বাচন আর হতে দেবে না। এ বছর নির্বাচনের বছর উল্লেখ করে খন্দকার মোশাররফ বলেন, গণতান্ত্রিক দেশে নির্বাচনকে সুষ্ঠু, গ্রহণযোগ্য ও নিরপেক্ষ করতে গণতান্ত্রিক স্পেস প্রয়োজন। কিন্তু নির্বাচনের বছরে সে সুযোগ সরকার দিচ্ছে না। এছাড়া গণতান্ত্রিক স্পেসকে আওয়ামী লীগ তাদের বাক্সবন্দী করে ৫ জানুয়ারির মত আরেকটি প্রহসনের নির্বাচন করার ষড়যন্ত্র করছে সরকার। নেতা-কর্মীদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, খালেদা জিয়াকে কারাগারে নিয়ে বিএনপিকে বেকায়দায় ফেলার গভীর ষড়যন্ত্র ছিল। তবে বিএনপির নেতা-কর্মীরা সরকারের পাতা ফাঁদে পা দেয়নি। গত ৮ ফেব্রুয়ারি থেকে এখন পর্যন্ত শান্তিপূর্ণ ও নিয়মতান্ত্রিক আন্দোলন চলছে। এতেই সরকার ভীত! সভায় বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান, ভাইস চেয়ারম্যান আব্দুল্লাহ আল নোমান, বরকতউল্লাহ বুলু, স্বেচ্ছাসেবক বিষয়ক সম্পাদক মীর সরাফত আলী সপু প্রমুখ বক্তব্যে রাখেন।
বিএনপি ২৫০-এর বেশি অধিক আসন পাবে :জয়নুল আবদিন ফারুক
বিএনপি ২৫০-এর বেশি আসন পাবে মন্তব্য করে বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা জয়নুল আবদিন ফারুক বলেছেন, সরকার নেতাকর্মীদের নামে রাজনৈতিক মামলা দিয়ে বিএনপিকে চিরতরে রাজনীতি থেকে বিদায় করার পরিকল্পনা নিয়েছে। সরকার যদি জনপ্রিয় হয়ে থাকে, যদি দেশের উন্নয়ন করে থাকে তাহলে নিরপেক্ষ নির্বাচন দিতে সরকারের ভয় পায় কিসের? সোমবার দুপুরে জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে তারেক একাডেমি আয়োজিত মানববন্ধনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন জয়নুল আবদিন ফারুক। তিনি আরও বলেন, ভয় একটাই দেশে যদি সুষ্ঠু নির্বাচন হয়, সেই নির্বাচনে বিএনপি যদি অংশগ্রহণ করে আর জনগণ যদি ভোট দিতে পারে তাহলে বিএনপি ২৫০-এর বেশি অধিক আসন পাবে। এখন প্রশ্ন একটাই ২০১৮ সালে কি সংসদ নির্বাচন হবে? জনগণ কি ভোট দিতে পারবে? এ সময় মানববন্ধনে অন্যান্যের মধ্যে বিএনপির নির্বাহী কমিটির সদস্য দেবাশীষ রায় মধু, আলমগীর হোসেন প্রমুখ বক্তব্য রাখেন।
বিদ্যমান কোটাপদ্ধতি সম্পর্কে আমরা উৎকণ্ঠিত : ফখরুল
কোটা সংস্কারের দাবিতে ছাত্রদের শান্তিপূর্ণ যৌক্তিক আন্দোলনে ছাত্রলীগ সশস্ত্র হামলা করেছে বলে অভিযোগ করেছেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি বলেন, বিএনপি ক্ষমতায় এসে সরকার গঠন করলে মুক্তিযোদ্ধা, নারী ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর কোটা রেখে বাকি কোটা তুলে দেবে। সোমবার দুপুরে নয়াপল্টনে দলীয় কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে বিএনপি মহাসচিব এ কথা বলেন। আন্দোলনকারীদের ওপর হামলার নিন্দা জানিয়ে তিনি বলেন, গতকাল শিক্ষার্থীদের শান্তিপূর্ণ আন্দোলনের প্রতিবাদ বিক্ষোভে মুখরিত হয়ে ওঠে। আন্দোলনকারীদের দমাতে পুলিশ সহিংস হয়ে ওঠে। তাদের ওপর বেপরোয়া লাঠিচার্জ, টিয়ারশেল, রবার বুলেট নিক্ষেপ করেছে। ফখরুল বলেন, কোটা সংস্কারের দাবিতে ছাত্রদের যৌক্তিক আন্দোলন সম্পর্কে আমরা অবহিত। বিদ্যমান কোটাপদ্ধতি সম্পর্কে আমরা উৎকণ্ঠিত। বিনা উসকানিতে পুলিশ আন্দোলনকারীদের ওপর যে হামলা চালিয়েছে আমরা তার নিন্দা জানাই। পাশাপাশি পুলিশের হামলায় আহতদের আশু সুস্থতা কামনা করছি। যারা পুলিশের হাতে আটক হয়েছেন আমরা তাদের অবিলম্বে মুক্তির দাবি জানাচ্ছি। বিএনপি ‘ভিশন-২০৩০’-এ কোটার বিষয়টি স্পষ্ট করেছে, মন্তব্য করে মির্জা ফখরুল বলেন, এই আন্দোলনে দেশের প্রায় চার কোটি শিক্ষিত যুবসমাজের জীবন-জীবিকার প্রশ্নটি জড়িত। এ ব্যাপারে বিএনপির স্থায়ী কমিটি উৎকণ্ঠিত। সংবাদ সম্মেলনে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, মির্জা আব্বাস, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, ড. আব্দুল মঈন খান, নজরুল ইসলাম খান, আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভীসহ আরও অনেকে উপস্থিত ছিলেন।
বৈঠকে বিএনপি-মনোনয়ন প্রত্যাশীদের নিয়ে
আসন্ন গাজীপুর ও খুলনা সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে মেয়র পদে যারা দলীয় মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেছেন তাদের নিয়ে বৈঠকে বসেছে বিএনপির মনোনয়ন বোর্ড। রোববার বিকেল সাড়ে ৫টায় গুলশানে বিএনপি চেয়ারপারসনের রাজনৈতিক কার্যালয়ে এই বৈঠক শুরু হয়। বৈঠকের শুরুতেই খুলনা সিটিতে মনোনয়ন প্রত্যাশীরা বোর্ডের কাছে সাক্ষাৎকার দিচ্ছেন। এরপর সন্ধ্যা ৭টার দিকে গাজীপুরের মনোনয়ন প্রত্যাশীদের সাক্ষাৎকার নেয়া হবে। গুলশান কার্যালয়ে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ, লে. জেনারেল ( অব) মাহবুবুর রহমান, ব্যারিস্টার রফিকুল ইসলাম মিয়া, মির্জা আব্বাস, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, ড. আবদুল মঈন খান, আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী প্রার্থীদের সাক্ষাৎকার নিচ্ছেন। খুলনা সিটিতে বিএনপির টিকিটে লড়তে আগ্রহীরা হলেন, বর্তমান মেয়র মোহাম্মদ মনিরুজ্জামান, কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক নজরুল ইসলাম, জেলা বিএনপির সভাপতি শফিকুল আলম। গাজীপুর সিটি কর্পোরেশনে মেয়র পদে লড়তে দলের মনোনন পেতে চান বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান ও গাজীপুর সিটির বর্তমান মেয়র এম এ মান্নান, দলটির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য হাসানউদ্দিন সরকার, শ্রমিক দলের কার্যকরী সভাপতি সালাউদ্দিন সরকার, মেয়র মান্নানের ছেলে এম মনজুরুল করীম, গাজীপুর জেলা বিএনপি নেতা শওকত হোসেন সরকার, আবদুস সালাম ও জেলা ছাত্রদলের সভাপতি শরাফত হোসেন।
বিএনপিকে আস্থা রাখার আহ্বান নাসিমের-খালেদা জিয়ার চিকিৎসায়
দলের চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার চিকিৎসায় বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বিএসএমএমইউ) ওপর আস্থা রাখতে বিএনপির প্রতি আহবান জানিয়েছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম। তিনি বলেন, খালেদা জিয়ার সুচিকিৎসায় কোনো ঘাটতি হবে না। আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী সব ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে। শনিবার রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে বিশ্ব স্বাস্থ্য দিবস উপলক্ষে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে তিনি এ আহ্বান জানান। স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, খালেদা জিয়া বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় (বিএসএমএমইউ) হাসপাতালে চিকিৎসা সেবা নিতে গেছেন। আমরা হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে তার চিকিৎসা সেবার সব ধরনের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থার নির্দেশ দিয়েছি। তিনি একজন সাবেক প্রধানমন্ত্রী ছিলেন, একজন রাজনীতিবিদ, তিনি অবশ্যই সুচিকিৎসা পাবেন। বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের উদ্দেশে নাসিম বলেন, তারা খালেদা জিয়াকে একটি বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসা সেবার দেয়ার জন্য দাবি করেছিলেন। বিএসএমএমইউ হাসপাতালটি বাংলাদেশের প্রসিদ্ধ হাসপাতাল। এখানে সুচিকিৎসার ব্যবস্থা আছে। আমাদের ওপর আস্থা রাখুন, তিনি সুচিকিৎসা পাবেন। উল্লেখ্য, বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার স্বাস্থ্য পরীক্ষার জন্য আজ কারাগার থেকে বিএসএমএমইউতে নেয়া হয়। স্বাস্থ্য পরীক্ষা শেষে ফের তাকে নাজিমউদ্দিন রোডের পুরাতন কারাগারে ফিরিয়ে নেয়া হয়।
ফের কারাগারে স্বাস্থ্য পরীক্ষা শেষে খালেদা জিয়া
স্বাস্থ্য পরীক্ষা শেষে বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে নাজিমউদ্দিন রোডের পুরাতন কারাগারে ফিরিয়ে নেয়া হয়েছে। শনিবার দুপুর দেড়টায় শাহবাগের বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় (বিএসএমএমইউ) থেকে তাকে নিয়ে কারাগারের উদ্দেশে রওনা করে কারা কর্তৃপক্ষের গাড়ি বহর। দুপুর ২টায় খালেদা জিয়াকে বহনকারী গাড়ি পুরাতন কেন্দ্রীয় কারাগারের প্রধান ফটকে পৌঁছায়। এর আগে তাকে বিএসএমএমইউর রেডিওলজি ও ইমেজিং বিভাগের ১/এ নম্বর কক্ষে নিয়ে এক্সরে করানো হয়। এরপর সাবেক প্রধানমন্ত্রী হেটে গাড়িতে ওঠেন। কড়া নিরাপত্তায় তাকে নিয়ে কারাগারের পথে রওনা দেন কারারক্ষী ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা। এ সময় গাড়িবহরে একটি অ্যাম্বুলেন্স, দুটি গাড়ি ছিল। এর সামনে পেছনে র‌্যাবের পাহারা ছিল। বেলা ১১টা ২০ মিনিটের দিকে খালেদা জিয়াকে কারাগার থেকে বিএসএমএমইউতে আনা হয়। সেখানে পৌঁছানোর পর তাকে প্রথমে নেয়া হয় হাসপাতালের কেবিন ব্লকে। ৫১২ নম্বর কেবিনে কিছুক্ষণ রাখার পর কেবিন ব্লকের প্যাথলজি বিভাগে রক্ত পরীক্ষা করা হয়। রক্ত পরীক্ষা শেষে বিএনপি নেত্রীকে এক্সরে করতে নেয়া হয়। জানা গেছে, চিকিৎসার জন্য গঠিত চার সদস্যের মেডিকেল বোর্ডের পরামর্শে রক্ত পরীক্ষা ও এক্সরের জন্য খালেদা জিয়ারকে কারাগার থেকে বিএসএমএমইউতে আনা হয়। জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় ৮ ফেব্রুয়ারি খালেদা জিয়াকে পাঁচ বছরের কারাদণ্ড দেয়া হয়। এরপর থেকে গত দুই মাসে ধরে তিনি পুরনো কারাগারে রয়েছেন। কারাগারে ৭৩ বছরের বিএনপি নেত্রীর শারীরিক সমস্যা দেখা দিলে ঢাকা মেডিকেল কলেজের অর্থোপেডিক বিভাগের প্রধান অধ্যাপক ড. মো. শামসুজ্জামান শাহীনের নেতৃত্বে চার সদস্যের মেডিকেল বোর্ড গঠন করা হয়। বোর্ডের অন্য সদস্যরা হলেন ডা. মনসুর হাবীব (নিউরোলজি), টিটু মিয়া (মেডিসিন) ও সোহেলী রহমান (ফিজিক্যাল মেডিসিন)। গত ৪ এপ্রিল মেডিকেল বোর্ডের প্রধান অধ্যাপক ড. শামসুজ্জামান শাহীন জানান, আগের সমস্যাগুলোর পাশাপাশি খালেদা জিয়ার নতুন কিছু সমস্যা দেখা দিয়েছে। আপাতত তার রক্ত পরীক্ষার পাশপাশি দুই হাঁটুতে এক্সরে করাতে হবে। পরীক্ষার পরই বোঝা যাবে তার অসুস্থতা গুরুতর কিনা। এরপরও পরীক্ষা-নিরীক্ষার প্রয়োজন হতে পারে। ডা. শাহীন বলেন, খালেদা জিয়ার দুই হাঁটু প্রতিস্থাপন করা। তার হাঁটুতে এখন যে ব্যথা তা বয়স থেকে হতে পারে। আগের অপারেশনের জেরে হতে পারে, আবার নতুন হতে পারে। তার কোমর ও ঘাড়ে বড় ধরনের কোনো সমস্যা আছে কিনা তা জানতে সিটিস্ক্যান বা এমআরআই করানো লাগতে পারে। তার ব্যথা কেবল শিনশিন-ঝিনঝিনের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নাকি হাড় পর্যন্ত পৌঁছেছে তা জানতে আরও পরীক্ষা-নিরীক্ষা প্রয়োজন। জানা গেছে, শনিবার খালেদা জিয়ার রক্ত পরীক্ষা ও এক্সরের প্রতিবেদন পাওয়ার পর মেডিকেল বোর্ড তার পরবর্তী চিকিৎসার বিষয়ে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করবে।
নতুন মুখের কাফেলা আওয়ামী লীগে
আগামী নির্বাচনে বিতর্কিত নেতাদের বাদ দেয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে আওয়ামী লীগ। জনসম্পৃক্ত ও ভাবমূর্তি ভালো এমন নেতাদের সামনে আনতে চায় দলটি। এজন্য সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দেয়া হচ্ছে রাজনীতিতে আসা নতুন মুখকে। দলের এ মনোভাবের কথা এরই মধ্যে ছড়িয়ে পড়েছে। তাই আগামী নির্বাচনে আওয়ামী লীগের টিকেটে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে আগ্রহী অনেকে। নির্বাচনের সময় যতই ঘনিয়ে আসছে তাদের প্রচারনা ততই বাড়ছে। মিটিং, মিছিল, সমাবেশসহ দলীয় কর্মসূচিতে তারা থাকছেন সক্রিয়ভাবে। এভাবে নির্বাচনকেন্দ্রিক আওয়ামী লীগের নতুন মুখের কাফেলা দীর্ঘ হচ্ছে। আওয়ামী লীগের বেশ ক জন নীতি-নির্ধারকের সঙ্গে কথা বলে এসব তথ্য জানা গেছে। তারা জানান, আগামী নির্বাচনে অন্তত ৪২ জেলার ৮৫ আসনে নতুন মুখ দেখা যেতে পারে। যদিও শেষ মুহূর্তে দলীয় প্রার্থিতা অনেকাংশে নির্ভর করে প্রতিপক্ষের প্রার্থী মনোনয়নের উপর। নেতাকর্মীদের কাছে স্বচ্ছ ভাবমূর্তি ও জনগণের কাছে গ্রহণযোগ্যতা রয়েছে, এলাকায় সুপরিচিত, মানুষের কল্যাণে কাজ করেন, দক্ষ সংগঠক, সৎ, নিষ্ঠাবান ও শিক্ষিত, এমন ব্যক্তিরাই দলীয় প্রতীক পাবেন। সাংগঠনিক কাজে সংশ্লিষ্ট না থাকলেও দলীয় আদর্শকে ধারণ করেন এমন ব্যক্তিদের মধ্য থেকে কাউকে কাউকে মনোনয়ন দেয়ার সম্ভাবনাও আছে। দলের হাইকমান্ড এসব যোগ্যতাসম্পন্ন নেতাদের সারা দেশ থেকে বাছাই করছে। এবার প্রায় দুইশ আসনে এমন প্রার্থী দেয়া হবে যারা লড়াই করে বিজয় নিশ্চিত করতে পারবেন। আবার ক্ষেত্রবিশেষে বিএনপির প্রার্থীর প্রভাব, গ্রহণযোগ্যতার বিপরীতে আওয়ামী লীগের প্রার্থী মনোনয়ন নির্ভর করবে। আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় এক নেতা শুধু ঢাকার আসনগুলো নিয়ে বলেন, ঢাকার ২০টি আসনের মধ্যে ১৬টি আওয়ামী লীগের। এর মধ্যে জাতীয় পার্টির একটি, ওয়ার্কার্স পার্টির একটি, স্বতন্ত্র একটি ও বিএনএফর একটি। সূত্র মতে, আওয়ামী লীগের ১৬টির মধ্যে চারটিতে নতুন মুখ দেখা যেতে পারে। গাজীপুরে বদল হতে পারে দুটি আসনের প্রার্থী। নরসিংদীতে বদল হতে পারে দুটিতে। সম্প্রতি দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে দলের সাংগঠনিক সফর শেষ করে আসা কেন্দ্রীয় এক নেতা জানান, মেহেরপুর ও কুষ্টিয়ায় দুটি আসনে পরিবর্তন হতে পারে। চুয়াডাঙ্গায় বদল হচ্ছে একটি আসন। ঝিনাইদহ জেলায় নতুন প্রার্থী আসছেন তিনটি আসনে। যশোরে চরমভাবে এলাকায় বিতর্কিত হয়ে পড়েছেন তিন এমপি। মাগুরায় পরিবর্তন হচ্ছে একটি আসনে। খুলনায় নতুন মুখ আসছেন তিনটি আসনে। নতুনদের গুরুত্ব দেয়া প্রসঙ্গে দলের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক আবদুর রহমান বলেন, আওয়ামী লীগের রাজনীতি যেমন দেশ গঠনের তেমনি নেতৃত্ব গঠনেরও। নতুনদের বিষয়ে আওয়ামী লীগ সবসময় উদার। নতুনদের অগ্রাধিকার দেয়া হলে প্রজন্ম রাজনীতির বিকাশ ঘটে। পাশাপাশি সিনিয়রদের গুরুত্বও কম না। কারণ তাদের ঝুলিতে রয়েছে অনেক অভিজ্ঞতা ও অর্জন। আসন্ন একাদশ সংসদ নির্বাচনে দলের প্রার্থী তালিকার বেশ বড় একটা অংশ থাকবে তরুণদের দখলে। নতুন মুখগুলোর বেশির ভাগই সাবেক ছাত্রলীগ, যুবলীগ, স্বেচ্ছাসেবক লীগ ও আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় নেতা। এ ছাড়া আওয়ামী লীগ-সমর্থিত বিভিন্ন পেশাজীবী সংগঠনের নেতারাও রয়েছেন মনোনয়ন দৌড়ে। একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে ঘিরে এলাকায় মাঠপর্যায়ে তোড়জোড় শুরু করে দিয়েছেন ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগের মনোনয়ন প্রত্যাশীরা। নতুনদের এ তালিকায় রয়েছেন, শরীয়তপুর-২ আসনে দলের সাংগঠনিক সম্পাদক এনামুল হক শামীম, রাজবাড়ী-২ আসনে ছাত্রলীগের সাবেক কেন্দ্রীয় নেতা শেখ সোহেল রানা টিপু, ঢাকা-১৫ আসনে স্বেচ্ছাসেবকলীগের কেন্দ্রীয় যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক গাজী মেজবাউল হোসেন সাচ্চু, ব্যারিস্টার বিপ্লব বড়ুয়া, মাগুরা-১ আসনে মনোনয়ন প্রত্যাশা করছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সহকারী একান্ত সচিব এডভোকেট সাইফুজ্জামান শিখর, ফেনী-৩ আসন (সোনাগাজী-দাগনভূঞা) অভিনেত্রী রোকেয়া প্রাচী, দলের কেন্দ্রীয় কমিটির সাংস্কৃতিক সম্পাদক অসীম কুমার উকিল (নেত্রকোনা-৩), আওয়ামী লীগের তথ্য ও গবেষণা সম্পাদক আফজাল হোসেন, সচিব আবদুল মালেক (পটুয়াখালী-১), কৃষি ও সমবায়বিষয়ক সম্পাদক ফরিদুন্নাহার লাইলী (লক্ষ্মীপুর-৪) ত্রাণ ও সমাজকল্যাণ সম্পাদক সুজিত রায় নন্দী (চাঁদপুর-৩), উপ-প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক আমিনুল ইসলাম (চট্টগ্রাম-১৫), চট্টগ্রাম-৯ (কোতোয়ালি), কেন্দ্রীয় নেতা মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল, সাংবাদিক ও পেশাজীবী নেতা রিয়াজ হায়দার চৌধুরী, কক্সবাজার ৩ আসনে জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি ইশতিয়াক আহমেদ জয়, কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী সদস্য এবিএম রিয়াজুল কবীর কাওছার (নরসিংদী-৫), নেত্রকোনা-৫ আসন থেকে আাওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক আহমেদ হোসেন, সিলেট-১ আসনে আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক মিসবাহউদ্দিন সিরাজ, মুন্সীগঞ্জ-২ আসনে প্রচারণায় নেমেছেন অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম, ফরিদপুর-১ আসনে সাবেক ছাত্রনেতা এবং ঢাকাটাইমস ও সাপ্তাহিক এই সময় সম্পাদক আরিফুর রহমান দোলন, ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি লিয়াকত শিকদার, বাগেরহাট-৪ আসনে সাবেক ছাত্রলীগ সভাপতি এইচএম. বদিউজ্জামান সোহাগ, চট্টগ্রাম-৬ (রাউজান) আসনে ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক মাহফুজুল হায়দার চৌধুরী রোটন, আলোচিত অন্যদের মধ্যে রয়েছেন কেন্দ্রীয় সদস্য মারুফা আক্তার পপি (জামালপুর-৫), নুরুল ইসলাম ঠাণ্ডু, হাসান আলী (সিরাজগঞ্জ-১), হাবিবুর রহমান স্বপন, চয়ন ইসলাম (সিরাজগঞ্জ-৫), গাইবান্ধার-৫ সাঘাটা ফুলছড়িতে ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি মাহমুদ হাসান রিপন। নতুন মুখ হিসেবে মনোনয়ন প্রত্যাশা প্রসঙ্গে আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক এনামুল হক শামীম বলেন, আমার নির্বাচনী এলাকায় পারিবারিকভাবে আমাদের রাজনৈতিক ঐতিহ্য রয়েছে। বলা যায়, জন্মগতভাবে আমরা মানুষের সঙ্গেই আছি। দলের দুঃসময় থেকে শুরু করে সব সময় ওতপ্রোতভাবে জড়িত। আওয়ামী লীগের একজন পরীক্ষিত নেতা হিসেবে আগামী নির্বাচনে দলের মনোনয়ন প্রত্যাশা করছি। একই প্রসঙ্গে অপর মনোনয়ন প্রত্যাশী ও আওয়ামী লীগের উপ-প্রচার সম্পাদক আমিনুল ইসলাম বলেন, স্বাভাবিকভাবে এলাকার মানুষ রাজনীতিবিদদের কাছে অনেক কিছু প্রত্যাশা করে। বিশেষ করে বিপদে-আপদে নেতাদের পাশে পেতে চায়। রাজনীতিবিদদের মাধ্যমে উন্নত জীবন পাওয়ায় তাদের প্রত্যাশা। আমি নির্বাচনী এলাকার মানুষদের এ ধরনের প্রত্যাশা উপলব্ধি করে তাদের পাশে থেকে কাজ করছি। আরও কাজ করতে চাই। এদিকে প্রতিটি নির্বাচনী এলাকায় দফায় দফায় সাংগঠনিক ও প্রশাসনিক জরিপ পরিচালনা করা হচ্ছে। এসব জরিপ প্রতিবেদনে বর্তমান এমপিদের ভালো ও মন্দ কাজের পর্যালোচনা করেই আগামী নির্বাচনে প্রার্থী মনোনয়ন চূড়ান্ত করা হবে। ইতিমধ্যে পরিচালিত একাধিক জরিপ রিপোর্ট দলের হাইকমান্ডের হাতে রয়েছে। প্রতিটি রিপোর্ট পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে পর্যালোচনা করা হচ্ছে। তবে এলাকায় জনপ্রিয় এমপিরা যাতে কোনো ধরনের ষড়যন্ত্রের শিকার হয়ে বাদ না পড়েন সেটিও হাইকমান্ডের বিবেচনায় রয়েছে। পাশাপাশি ওই এলাকার অবস্থা, অন্য মনোনয়নপ্রত্যাশীদের সংক্ষিপ্ত পরিচিতি, এলাকায় তাদের ইতিবাচক এবং নেতিবাচক দিকগুলো খতিয়ে দেখা হচ্ছে। বিতর্কিত এমপিদের স্থলে এবার নতুন মুখ দেখা যেতে পারে বলে জানা গেছে। ইতিমধ্যে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের বিভিন্ন সভা-সমাবেশে আগামী নির্বাচনে কোন ধরনের প্রার্থী দলের পছন্দ সেটা বারবার বলে আসছেন। কোনো ধরনের বিতর্কিত ভাবমূর্তির কোনো জনপ্রতিনিধিকে এবার মনোনয়ন দেয়া হবে না সেটাও প্রকাশ্যে ঘোষণা দিয়েছেন। আওয়ামী লীগের হাইকমান্ড গত এক বছর ধরে প্রার্থী বাছাই নিয়ে কাজ শুরু করেছেন। তারই অংশ হিসেবে বিতর্কিত অনেককে ডেকে এনে সংশোধন হওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন হাইকমান্ড। এরপরেও যারা সংশোধন হননি তাদের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নেয়া হবে বলে দলীয় সূত্র জানায়। সূত্র: মানবজমিন
সিটি নির্বাচনে ইসির কমিটি-লেভেল প্লেইং ফিল্ড তৈরিতে
আসন্ন গাজীপুর ও খুলনা সিটি করপোরেশন নির্বাচনে পরিবেশ সুষ্ঠু রাখা ও সবার জন্য সমান সুযোগ ( লেভেল প্লেইং ফিল্ড) তৈরির লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে আলাদা দুটি সমন্বয় কমিটি গঠন করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। গাজীপুর সিটির জন্য ঢাকার বিভাগীয় কমিশনার ও খুলনা সিটির জন্য খুলনা বিভাগীয় কমিশনারের নেতৃত্বে ১২ সদস্যের কমিটিতে বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থার পদস্থ কর্মকর্তাদেরও রাখা হয়েছে। গত মঙ্গলবার পৃথক দুই চিঠিতে এসব কমিটি গঠনের বিষয়টি সংশ্লিষ্টদের পাঠিয়ে দেয়া হয়েছে। ইসির পাঠানো চিঠিতে আচরণবিধি প্রতিপালনের জন্য গাজীপুরে ১০ জন ও খুলনায় পাঁচজন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মোতায়েনের নির্দেশনা দিয়েছে। ঢাকা ও খুলনার বিভাগীয় কমিশনারদের এ সংক্রান্ত পদক্ষেপ নিতে বলা হয়েছে। ইসি সচিবালয়ে সূত্রে জানা গেছে, দুই সিটি নির্বাচনের সামগ্রিক পরিবেশ সুষ্ঠু রাখার স্বার্থেই সমন্বয় কমিটি গঠন করা হয়েছে। এসব কমিটিকে প্রতি সপ্তাহে অন্তত একটি সভা করতে বলা হয়েছে। ওই সভার কার্যবিবরণী নির্বাচন কমিশনকে জানাতে বলা হয়েছে যা থেকে কমিশন নির্বাচনী এলাকার বাস্তব পরিস্থিতি সম্পর্কে ধারণা নিতে পারবেন। গাজীপুর সিটি করপোরেশনের জন্য গঠিত সমন্বয় কমিটিতে আহ্বায়ক করা হয়েছে ঢাকার বিভাগীয় কমিশনারকে। আর সদস্য সচিব করা হয়েছে গাজীপুর জেলা নির্বাচন কর্মকর্তাকে। এ কমিটির সদস্যরা হলেন- ঢাকা রেঞ্জের উপমহাপুলিশ পরিদর্শক, বিজিবির সেক্টর কমান্ডার, গাজীপুরের ডিসি ও এসপি, গাজীপুর সিটি করপোরেশন নির্বাচনের রিটার্নিং অফিসার, র‌্যাবের সংশ্লিষ্ট অধিনায়ক, আনসার ও ভিডিপির সংশ্লিষ্ট পরিচালক, জাতীয় গোয়েন্দা সংস্থার (এনএসআই) যুগ্ম-পরিচালক, ডিজিএফআই কর্মকর্তা ও ঢাকার সিনিয়র জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা। এ কমিটির কার্যক্রম সম্পর্কে চিঠিতে বলা হয়েছে- নির্বাচনের সুষ্ঠু পরিবেশ নিশ্চিত এবং লেভেল প্লেইং ফিল্ড তৈরিতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেয়া। মোবাইল কোর্টের কার্যক্রম মনিটর করা। বিরূপ পরিস্থিতির উদ্ভব হলে বা আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটলে তাৎক্ষণিকভাবে তা সমাধানের ব্যবস্থা নেয়া এবং ইসিকে তা জানানো। নির্বাচন পরিচালনার ক্ষেত্রে রিটার্নিং কর্মকর্তাকে সার্বিক সহায়তা করা। একই পদমর্যাদার কর্মকর্তাদের দিয়ে খুলনা সিটি করপোরেশনের সমন্বয় কমিটি গঠন করা হয়েছে।ওই কমিটির কার্যপরিধিও গাজীপুরের মতোই একই ধরনের নির্ধারণ করা হয়েছে। এদিকে দুই সিটিতে আচরণবিধি তদারকি ও আইন-শৃঙ্খলা রক্ষায় ম্যাজিস্ট্রেট মোতায়েন করতে ঢাকা ও খুলনার বিভাগীয় কমিশনারকে চিঠি দিয়েছে ইসি। চিঠিতে গাজীপুর সিটি করপোরেশনের জন্য ১০ জন ও খুলনা সিটি করপারেশনের জন্য পাঁচজন ম্যাজিস্ট্রেট মোতায়েন করতে বলা হয়েছে। এসব ম্যাজিস্ট্রেট মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারের শেষ দিন অর্থাৎ পহেলা এপ্রিল পর্যন্ত ২৪ দিন মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করবেন। প্রার্থিতা প্রত্যাহারের পর নির্বাচনী এলাকাগুলোতে ম্যাজিস্ট্রেটের সংখ্যা আরও বাড়ানো হবে। এছাড়াও এরই মধ্যে রাজনৈতিক দলগুলোকে তাদের ক্ষমতাপ্রাপ্ত ব্যক্তির নামের তালিকা ইসিতে পাঠাতেও চিঠি দিয়েছে ইসি।

রাজনীতি পাতার আরো খবর