সোমবার, মার্চ ১৮, ২০১৯
উত্তরাঞ্চলে যাচ্ছেন এরশাদ পহেলা বৈশাখে
চারদিনের সফরে পহেলা বৈশাখ রংপুর যাচ্ছেন জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ। এই সফরে তিনি রংপুর, নীলফামারী ও লালমনিরহাট জেলায় দলীয় ও সামাজিক বিভিন্ন অনুষ্ঠানে যোগ দেবেন। বৃহস্পতিবার সাবেক রাষ্ট্রপতি হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের প্রেস অ্যান্ড পলিটিক্যাল সেক্রেটারি সুনীল শুভরায় স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। ওই দিন সকাল পৌনে ১০টায় ইউএস-বাংলার উড়োজাহাজে সৈয়দপুরের উদ্দেশ্যে ঢাকা ত্যাগ করবেন। দুপুর ১২টায় সাবেক রাষ্ট্রপতি রংপুর সার্কিট হাউসে উপস্থিত থাকবেন এবং দুপুর সাড়ে ১২টায় গুপ্তপাড়ায় রংপুর লায়ন্স স্কুল অ্যান্ড কলেজে বাংলা নববর্ষের অনুষ্ঠানে যোগ দেবেন। বিকেল ৫টায় রংপুর পল্লীনিবাসে জাতীয় পার্টির সর্বস্তরের নেতাকর্মীদের সঙ্গে নববর্ষের শুভেচ্ছা বিনিময় করবেন পার্টি চেয়ারম্যান হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ। ১৫ এপ্রিল বেলা ১১টায় রংপুর পাবলিক লাইব্রেরি মাঠে জেলা জাতীয় পার্টির কাউন্সিল অধিবেশনে যোগ দেবেন জাপা চেয়ারম্যান হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ। ১৬ এপ্রিল দুপুর ১২টায় নীলফামারী জেলার জলঢাকা ডাকবাংলো মাঠে এক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান। বিকেল ৪টায় লালমনিরহাটের আদিতমারীতে কুমড়ীরহাট এসসি স্কুল অ্যান্ড কলেজ মাঠে আয়োজিত জনসভায় ভাষণ দেবেন জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান। ১৭ এপ্রিল দুপুরে রংপুর থেকে সৈয়দপুর বিমানবন্দর হয়ে রাজধানীতে ফিরবেন জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ।
খালেদার বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন ২৪ জুন:গ্যাটকো মামলায়
গ্যাটকো দুর্নীতি মামলায় বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াসহ ২০ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনের শুনানির জন্য আগামী ২৪ জুন দিন ধার্য করেছেন আদালত। বৃহস্পতিবার মামলার অভিযোগ গঠন শুনানির দিন ধার্য ছিল। তবে আসামি পক্ষের আইনজীবী সানাউল্লাহ মিয়া শুনানি পেছানোর আবেদন করলে রাজধানীর বকশীবাজারের আলিয়া মাদরাসা মাঠে স্থাপিত ঢাকার বিশেষ জজ আদালত-৩ এর ভারপ্রাপ্ত বিচারক আতাউর রহমান আবেদন মঞ্জুর করেন এ দিন ধার্য করেন। ২০০৭ সালের ২ সেপ্টেম্বর দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) উপ-পরিচালক গোলাম শাহরিয়ার চৌধুরী সাবেক চারদলীয় জোট সরকারের তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া, তার ছোট ছেলে আরাফাত রহমান কোকোসহ ১৩ জনের বিরুদ্ধে তেজগাঁও থানায় এ মামলা করেন। মামলার পরদিন খালেদা জিয়া ও কোকোকে গ্রেফতার করা হয়। ওই বছরের ১৮ সেপ্টেম্বর মামলাটি অন্তর্ভুক্ত করা হয় জরুরি ক্ষমতা আইনে। পরের বছর ১৩ মে খালেদা জিয়াসহ ২৪ জনের বিরুদ্ধে এ মামলায় অভিযোগপত্র দেয়া হয়। মামলার অভিযোগপত্রে বলা হয়েছে, আসামিরা পরস্পর যোগসাজশে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান গ্যাটকোকে ঢাকার কমলাপুর আইসিডি ও চট্টগ্রাম বন্দরের কনটেইনার হ্যান্ডলিংয়ের কাজ পাইয়ে দিয়ে রাষ্ট্রের ১৪ কোটি ৫৬ লাখ ৩৭ হাজার ৬১৬ টাকার ক্ষতি করেছেন। পরে মামলাটি জরুরি ক্ষমতা আইনে অন্তর্ভুক্ত করার বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে এবং বিচারিক আদালতে মামলার কার্যক্রমের উপর স্থগিতাদেশ চেয়ে ২০০৭ সালের ২৭ সেপ্টেম্বর হাইকোর্টে আলাদা দুটি রিট আবেদন করেন খালেদা জিয়া ও আরাফাত রহমান কোকো। এর তিনদিন পর খালেদা ও কোকোর বিরুদ্ধে মামলার কার্যক্রম স্থগিত করে রুল দেন হাইকোর্ট। একই সঙ্গে মামলাটি জরুরি ক্ষমতা আইনের অন্তর্ভুক্ত করা কেন বেআইনি ও কর্তৃত্ব বহির্ভূত ঘোষণা করা হবে না- তা জানতে চাওয়া হয়। তবে হাইকোর্টের দেয়া স্থগিতাদেশ পরে আপিল বিভাগে বাতিল হয়ে যায়। দুদক আইনে গ্যাটকো মামলা দায়েরের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে ২০০৮ সালে আরেকটি রিট আবেদন করেন খালেদা জিয়া। তার আবেদনে হাইকোর্ট আবারও মামলার কার্যক্রমের উপর স্থগিতাদেশ দেন এবং মামলাটি কেন বাতিলের নির্দেশ দেয়া হবে না- এ মর্মে রুল জারি করেন। মামলার উল্লেখযোগ্য আসামিরা হলেন- বিগত চারদলীয় জোট সরকারের মন্ত্রী খন্দকার মোশাররফ হোসেন, এম শামসুল ইসলাম, এম কে আনোয়ার, আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী এবং জামায়াতের সাবেক আমির মতিউর রহমান নিজামী। তবে মামলার ২৪ আসামির মধ্যে খালেদা জিয়ার ছোট ছেলে আরাফাত রহমান কোকো, সাবেক অর্থমন্ত্রী সাইফুর রহমান, বিএনপির সাবেক মহাসচিব আব্দুল মান্নান ভূঁইয়া ও সাবেক মন্ত্রী মতিউর রহমান নিজামী মারা যাওয়ায় এখন আসামির সংখ্যা ২০।
মির্জা ফখরুলকে টেলিফোনে ওবায়দুল কাদেরের সমবেদনা
বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের মায়ের মৃত্যুতে সমবেদনা জানাতে টেলিফোন করেছেন আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের। বৃহস্পতিবার দুপুর মির্জা ফখরুলকে টেলিফোন করেন ওবায়দুল কাদের। আওয়ামী লীগের উপ-দফতর সম্পাদক ব্যারিস্টার বিপ্লব বড়ুয়া এ তথ্য নিশ্চিত করেন। মির্জা ফখরুলকে টেলিফোনে ওবায়দুল কাদের বলেন, মায়ের মৃত্যুর বেদনা আমি বুঝি। কিছু দিন আগে আমারও মাতৃ বিয়োগ ঘটেছে। আপনি অতিদ্রুত এই শোক কাটিয়ে ওঠেন এটাই প্রত্যাশা। আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে আপনাকে সমবেদনা জানাই। এ সময় মায়ের দাফন কোথায় হবে জানতে চান ওবায়দুল কাদের। মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর জানান, ঠাকুরগাঁও পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হবে।
খালেদার পক্ষে লড়বেন ৩শ - আইনজীবী
জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় সাজা বাড়ানোর জন্য জারি করা রুলের উপর শুনানি করতে বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার পক্ষে লড়তে ওকালত নামায় স্বাক্ষর করেছেন আইনজীবীরা। আইনজীবীদের স্বাক্ষরের পর তা গতকাল মঙ্গলবার হাইকোর্টের সংশ্লিষ্ট শাখায় দাখিল করা হয়েছে। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন খালেদা জিয়ার আইনজীবী প্যানেলের সদস্য ও বিএনপির আইন বিষয়ক সম্পাদক ব্যারিস্টার কায়সার কামাল। তিনি বলেন,সিনিয়র আইনজীবীসহ অসংখ্যা আইনজীবী রয়েছেন বেগম খালদা জিয়ার পক্ষে লড়াই করার জন্য। তাদের সংখ্যা তিন শতাধিক হবে। ব্যারিস্টার কায়সার কামাল বলেন, আইনজীবীদের তালিকা সম্বলিত ওকালতনামা আমি নিজে জমা দিয়েছি। এখন রুলের শুনানিতে খালেদা জিয়ার পক্ষে অংশ নেবেন ওকালত নামায় স্বাক্ষরকারী আইনজীবীরা। খালেদা জিয়ার সাজা বৃদ্ধির জন্য হাইকোর্ট ইতোপূর্বে যে রুল জারি করেছিলেন তা আইনগতভাবে মোকাবেলা করার জন্য আইনজীবীরা প্রস্তুত রয়েছেন। তিনি আরও বলেন, ওকালত নামা অনুযায়ী খালেদা জিয়ার পক্ষে আইনজীবী হিসেবে মামলায় লড়বেন অন্য আইনজীবীদের মধ্যে রয়েছেন সাবেক স্পিকার ও বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার জমির উদ্দিন সরকার, সাবেক আইনমন্ত্রী ও স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার মওদুদআহমদ, বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট খন্দকার মাহবুব হোসেন, সাবেক অ্যাটর্নি জেনারেল ও চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা এ জে মোহাম্মাদ আলী, সাবেক অতিরিক্ত অ্যাটর্নি জেনারেল আব্দুর রেজাক খান, সাবেক মন্ত্রী ও ভাইস চেয়ারম্যান ব্যারিস্টার আমিনুল হক, সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির বর্তমান সভাপতি ও দলের ভাইস চেয়ারম্যান জয়নুল আবেদীন, সাবেক মন্ত্রী ও ভাইস চেয়ারম্যান মীর মোহাম্মদ নাসির, সাবেক মন্ত্রী ও ভাইস চেয়ারম্যান নিতাই রায় চৌধরী। চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা অ্যাডভোকেট তৈয়মুর আলম খন্দকার, সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির সম্পাদক ও দলের যুগ্ম-মহাসিচব ব্যারিস্টার এএম মাহবুব উদ্দিন খোকন, বারের সাবেক সম্পাদক ও বিএনপি নেতা ব্যারিস্টার বদরোদ্দোজা বাদল, বিএনপির আইন বিষয়ক সম্পাদক অ্যাডভোকেট সানাউল্লাহ মিয়া, ব্যারিস্টার কায়সার কামাল, বিএনপির আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক মাসুদ আহমেদ তালুকদার, ব্যারিস্টার রুহুল কুদ্দুস কাজল, অ্যাডভোকেট কামরুল ইসলাম সজল, অ্যাডভোকেট আমিনুল ইসলাম, অ্যাডভোকেট আকতারুজ্জামান, অ্যাডভোকেট আসাদুজ্জামান, অ্যাডভোকেট সগীর হোসেন লিওন, ব্যারিস্টার এহসানুর রহমান, মির্জা আল মাহমুদ জাকির হোসেন ভুঁঞাসহ প্রায় তিন শতাধিক আইনজীবী। খালেদা জিয়ার দণ্ড থেকে খালাস পাওয়ার জন্য করা আপিল আবেদনের শুনানিতে ৫৩ জন আইনজীবী নিয়োগ দিয়েছেন বিএনপির চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া। তখন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদকে প্রধান করে করা আইনজীবী প্যানেলের ৫৩ সদস্যই ওকালতনামায় স্বাক্ষর করেছিলেন। এর আগে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) এক আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে গত ২৮ মার্চ জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট মামলায় খালেদা জিয়ার সাজা কেন বৃদ্ধি করা হবে না তা জানতে চেয়ে রুল জারি করে হাইকোর্ট। বিচারপতি এম ইনায়েতুর রহিম ও বিচারপতি সহিদুল করিমের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এ আদেশ দেন।
এবার ঢাবি থেকে বহিষ্কার ছাত্রলীগ নেত্রী এশা
কোটা সংস্কার আন্দোলনে অংশগ্রহণ করায় ছাত্রীদের ওপর নির্যাতন ও এক ছাত্রীর পায়ের রগ কেটে দেয়ার অভিযোগে ছাত্রলীগ নেত্রী ইফফাত আরা এশাকে বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। তিনি দর্শন বিভাগের মাস্টার্সের শিক্ষার্থী বলে জানা গেছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক গোলাম রব্বানী এশাকে বহিষ্কারের সিদ্ধান্তের বিষয়ে নিশ্চিত করেন। এর আগে তিনি এশাকে হল থেকে বহিষ্কারের আদেশ দেন। এদিকে একইসাথে তাকে সুফিয়া কামাল হলের সভাপতি পদ থেকে বহিষ্কার করে কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগ। মঙ্গলবার দিবাগত রাতে ছাত্রলীগ সভাপতি সাইফুর রহমান সোহাগ ও সাধারণ সম্পাদক এস এম জাকির হোসেন স্বাক্ষরিত বিবৃতিতে এ তথ্য জানানো হয়। জানা যায়, সন্ধ্যায় হলের ছাত্রীরা কোটা সংস্কার আন্দোলনে যোগ দিতে গেলে এশার নেতৃত্বে ছাত্রলীগ কর্মীরা তাদেরকে বাধা দেয়। পরে আন্দোলন থেকে ফিরে আসলে তাদেরকে গেস্টরুমে ডেকে নিয়ে মারধর করে রক্তাক্ত করে। এক পর্যায়ে এশা নিজ হাতে মোরশেদা বেগম নামের উদ্ভিদবিদ্যা বিভাগের চতুর্থ বর্ষের এক ছাত্রীর পায়ের রগ কেটে দেয় বলে অভিযোগ করে হলের ছাত্রীরা। হলের সিঁড়ি ও মেঝেতে রক্তের ফোঁটা দেখা গেছে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওচিত্রে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক ছাত্রী জানান, গতকালও আন্দোলন থেকে ফেরত ছাত্রীদেরকে গেস্টরুমে ডেকে নিয়ে নির্যাতন করেন এশা। গতকাল সেটি ভয়ে কেউ স্বীকার করতে চায়নি। আজকেও একইভাবে সে ছাত্রীদের ওপর নির্যাতন চালালে হলের ছাত্রীরা ক্ষোভে ফেটে ওঠে। এদিকে ছাত্রী নির্যাতনের প্রতিবাদে সুফিয়া কামাল হল সহ বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রী হলগুলোতে বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে। এক পর্যায়ে ছাত্রদের হল থেকে শিক্ষার্থীরা বিক্ষোভ মিছিল নিয়ে সুফিয়া কামাল হলের সামনে জড়ো হয়। এদিকে জিয়াউর রহমান হল সহ কয়েকটি হলে ছাত্রদের বের হতে বাধা দিলে এক পর্যায়ের গেইটের তালা ভেঙ্গে বেরিয়ে আসে ছাত্ররা। সর্বশেষ পরিস্থিতিতে জানা যায়, ঢাবির পুরো ক্যাম্পাসে উত্তেজনা পরিস্থিতি বিরাজ করছে। টিএসসি, শহিদ মিনার সহ কয়েকটি জায়গায় ছাত্ররা বিক্ষোভ ও মিছিল করছে। এদিকে ছাত্রী হলের নিরাপত্তায় পুলিশ নিয়োজিত রয়েছে বলে জানা গেছে।
বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল কারাগার থেকে মুক্তি
বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল কারাগার থেকে জামিনে মুক্তি পেয়েছেন। মঙ্গলবার সন্ধ্যা সোয়া ৬টার দিকে গাজীপুর কাশিমপুর কেন্দ্রীয় কারাগার-২ থেকে তিনি মুক্তি পান। আলালের মুক্তির বিষয়টি জানিয়েছেন তার ব্যক্তিগত কর্মকর্তা জাহাঙ্গীর হোসেন। কাশিমপুর কেন্দ্রীয় কারাগার-২ এর ডেপুটি জেলার মো. মাসুদ হোসেন জানান, বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল কাশিমপুর কেন্দ্রীয় কারাগার-২ এ বন্দি ছিলেন। মঙ্গলবার সকালে তার জামিনের কাগজপত্র কারাগারে এসে পৌঁছায়। পরে তা যাচাই-বাছাই শেষে সন্ধ্যায় তাকে কারাগার থেকে মুক্তি দেয়া হয়েছে। গত ২৫ ফেব্রুয়ারি তাকে এ কারাগারে পাঠানো হয়। এর আগে কিছু দিন তিনি কাশিমপুর হাইসিকিউরিটি কেন্দ্রীয় কারাগারেও বন্দি ছিলেন। গত ২৪ ফেব্রুয়ারি বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার কারামুক্তির দাবিতে নয়াপল্টন কালো পতাকা প্রদর্শন কর্মসূচি শেষে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে অংশ নেন আলাল। সংবাদ সম্মেলন শেষে বের হলে ডিবি পুলিশ তাকে আটক করে।
বিএনপির উস্কানি দেখছেন কোটা সংস্কার আন্দোলনে বললেন তথ্যমন্ত্রী
কোটা সংস্কারের শান্তিপূর্ণ আন্দোলনে বিএনপি প্রকাশ্যে বিবৃতি দিয়ে উস্কানি দিয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন তথ্যমন্ত্রী হাসানুল ইক ইনু। মঙ্গলবার দুপুরে সচিবালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ অভিযোগ করেন। তথ্যমন্ত্রী দাবি করেন, বিডিআর (বর্তমান বিজিবি) বিদ্রোহের সময় বেগম জিয়া প্রকাশ্যে বিদ্রোহীদের উস্কানি দিয়েছেন। হেফাজতের তাণ্ডবের সময়ও বেগম জিয়া প্রকাশ্যে তাণ্ডবের পক্ষে উস্কানি দিয়েছেন। কোটা সংস্কারের শান্তিপূর্ণ আন্দোলনের মধ্যে যখন সহিংসতা, নাশকতা ও অন্তর্ঘাত শুরু হয়, তখনো বিএনপি শান্তির আহ্বান না জানিয়ে প্রকাশ্যে বিবৃতি দিয়ে উস্কানি দিয়েছে। তাই কোটা সংস্কার আন্দোলনের মধ্যে যে নাশকতা-অন্তর্ঘাতের উস্কানি আছে তা বুঝতে অসুবিধা হয় না। তিনি বলেন, উস্কানিদাতারা লাশের গুজব ছড়িয়ে ছাত্র-ছাত্রীদের সহিংসতার দিকে ঠেলে দিতে চেয়েছিল। উস্কানিদাতারা লাশ চেয়েছিল। আল্লাহর কাছে হাজার শোকর তাদের ইচ্ছা পূরণ হয়নি। তারা লাশ পায়নি, লাশ ফেলতে পারেনি। এসময় ইনু বলেন, কোটা পদ্ধতি স্থায়ী বা চিরস্থায়ী কোনো বন্দোবস্ত নয়। কোটা পদ্ধতি অপরিবর্তনীয়ও নয়। সময়ের প্রয়োজনে কোটা পদ্ধতির প্রয়োগ পরিবর্তন হয়েছে। কোটা পদ্ধতি নিয়ে আলোচনা, পরীক্ষা-নিরীক্ষা, মূল্যায়ন, পুনঃমূল্যায়ন ও সংস্কার হয়েছে, ভবিষ্যতেও হতেই পারে। তিনি দাবি করেন, বর্তমান সরকার কোটা পদ্ধতি চালু করেনি। বরং শেখ হাসিনার সরকার কোটা পদ্ধতি প্রয়োগের বিষয়টি সুস্পষ্টকরণ ও যৌক্তিকিকরণের পদক্ষেপ নিয়েছে। তথ্যমন্ত্রী বলেন, মুক্তিযোদ্ধা কোটা নিয়েই কি মূল আপত্তি? কোটা পদ্ধতি সংস্কারের দাবিতে আন্দোলনকারী ছাত্র-ছাত্রীরা কোটা পদ্ধতি সংস্কারের সুনির্দিষ্ট কোনো প্রস্তাব না দিলেও বিভিন্ন ব্যক্তি, মহল, পত্র-পত্রিকা, গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে যে সকল বক্তব্য দিচ্ছেন তা দেখে মনে হয়, মুক্তিযোদ্ধা কোটা নিয়েই তাদের আপত্তি। মুক্তিযোদ্ধা কোটা তাদের গায়ে জ্বালা ধরিয়েছে। তিনি দাবি করেন, তারা কোটা পদ্ধতি নিয়ে কথা বলতে গিয়ে মুক্তিযোদ্ধাদের এমন ভাষায় অসম্মান ও হেয়প্রতিপন্ন করে চলেছেন যে, মুক্তিযোদ্ধারা মুক্তিযুদ্ধ করে অন্যায় করে ফেলেছেন। ওই সকল ব্যক্তি ও মহল শুধু মুক্তিযোদ্ধাদেরই নয়, মহান মুক্তিযুদ্ধ নিয়েও চরম অবমাননাকর কটূক্তি করে চলেছেন। তথ্যমন্ত্রী বলেন, আমরা মুক্তিযোদ্ধা কোটার বিরোধিতার নামে মুক্তিযোদ্ধাদের অসম্মান করা এবং মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে অসম্মানজনক কথাবার্তা বলা বন্ধ করার জন্য আহ্বান জানাচ্ছি। তিনি আরো বলেন, কোটা সংস্কার আন্দোলনের মধ্যে গভীর রাতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের বাসভবনে হামলা, ভাংচুর ও অগ্নিসংযোগ এবং সড়ক-মহাসড়ক অবরোধসহ যে সহিংসতা, নাশকতা ও অন্তর্ঘাত হয়েছে তা সাধারণ ছাত্র-ছাত্রীদের কাজ বলে আমরা বিশ্বাস করি না। যারা জল ঘোলা করে রাজনৈতিক স্বার্থ হাসিল করতে চায়, তারাই এসব করেছে। ইনু বলেন, আমাদের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা খালেদা জিয়ার মতো অন্ধ ও বধির না। বেগম জিয়া ক্ষমতায় থাকাকালে বা ক্ষমতার বাইরে থাকাকালেও জনগণের কথা শুনতে পেতেন না, জনগণের দুঃখ-আহাজারি দেখতে পেতেন না। তিনি চোখে ঠুলি, কানে তুলো দিয়ে চলেন। কিন্তু আমাদের প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনা সারাক্ষণই জনগণের দিকে তাকিয়ে থাকেন। তিনি জনগণের মনের কথাও শুনতে পান। জনগণের দুঃখে কাঁদেন, জনগণের সুখে হাসেন। তিনি বলেন, এজন্যই আমাদের প্রধানমন্ত্রী কোটা সংস্কার নিয়ে ছাত্র-ছাত্রীদের আন্দোলনের মধ্যে এতো সহিংসতা, নাশকতা ও অন্তর্ঘাত হওয়ার পরও তার পক্ষ থেকে সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রীকে আন্দোলনকারীদের সঙ্গে বসে তাদের বক্তব্য শোনার নির্দেশ দিয়েছেন। একইসঙ্গে কোটা পদ্ধতি পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে দেখারও নির্দেশ দিয়েছেন।
নির্বাচন ঠেকাতে চক্রান্ত করছে বিএনপি-জামায়াত:স্বাস্থ্যমন্ত্রী
স্বাস্থ্যমন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম বলেছেন, বিএনপি-জামায়াত নির্বাচন ঠেকাতে নানা চক্রান্ত করছে। তারা বিভিন্ন ফর্মুলা দিচ্ছে। কিন্তু কোনো ফর্মুলা দিয়ে লাভ নেই। সংবিধান অনুযায়ী শেখ হাসিনার অধীনে নির্বাচন হবে। এ নির্বাচন ঠেকানোর কেউ নেই। মঙ্গলবার দুপুরে কাজিপুর উপজেলা পরিষদ মাঠে উপজেলা আওয়ামী লীগ আয়োজিত এক বিশাল জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন। মন্ত্রী বলেন, অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনে জনগণ যাদের রায় দেবে তারাই সরকার গঠন করবে। আগামী ডিসেম্বরে জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। ওই নির্বাচনী মাঠে যারা ফাউল করবে, জনগণ তাদের লালকার্ড দেখিয়ে মাঠ থেকে বের করে দেবে। নাসিম আরও বলেন, খালেদা জিয়াকে আওয়ামী লীগ জেলে পাঠায় নাই। তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলে করা দুর্নীতি মামলায় আদালতের রায়ে সাজাপ্রাপ্ত হয়ে তিনি কারাবন্দি রয়েছেন। জনসভায় বিশেষ অতিথির বক্তব্যে মুক্তিযোদ্ধা বিষয়ক মন্ত্রী আ.ক.ম মোজাম্মেল হক এমপি বলেছেন, মুক্তিযোদ্ধারা জাতির শ্রেষ্ঠ সন্তান। এ কারণেই বর্তমান সরকার মুক্তিযোদ্ধাদের সর্বোচ্চ সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করতে কাজ করছে। মুক্তিযোদ্ধাদের আবাসন সংকটসহ সব সমস্যা সমাধান করবে এই সরকার। নৌপরিবহন মন্ত্রী শাহজাহান খান এমপি বলেন, বিএনপি-জামায়াত খুনির দল। তাদের হাতে দেশ নিরাপদ নয়। তারা আন্দোলনের নামে মানুষ পুড়িয়ে মেরেছে। ব্যর্থ হয়ে বর্তমানে কোটা সংস্কারের আন্দোলনকে উস্কে দিচ্ছে। কাজিপুরের সাবেক সংসদ সদস্য তানভীর শাকিল জয়ের সভাপতিত্বে সমাবেশে আরও বক্তব্য রাখেন, বগুড়া-৫ আসনের সংসদ সদস্য এসপি (অব.) হাবিবুর রহমান, সিরাজগঞ্জ জেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি আবু ইউসুফ সূর্য্য, কাজিপুর উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক খলিল সিরাজী ও উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান মোজাম্মেল হক বকুল বক্তব্য রাখেন। এর আগে তিন মন্ত্রী মুক্তিযুদ্ধে বরইতলী স্মৃতিস্তম্ভ, শহীদ এম মনসুর আলী অডিটোরিয়ার ও কুড়িপডাড়া মনসুর আলী জামে মসজিদ উদ্বোধন করেন। বিকেলে সদর উপজেলার বাগবাটিতে আওয়ামী লীগ আয়োজিত বিশাল জনসভায় বক্তব্য রাখবেন এই তিন মন্ত্রী।
ছাড় পাবে না উপাচার্যের বাসভবনে হামলার সঙ্গে জড়িতরা
আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেছেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের বাসভবনে চালানো নারকীয় বর্বরতার সঙ্গে জড়িতরা কোনো অবস্থাতেই ছাড় পাবে না। ভিডিও দেখে কয়েকজনকে চিহ্নিত করা হয়েছে বলেও জানান তিনি। মঙ্গলবার সকালে ঢাবি উপাচার্যের বাসভবন পরিদর্শনে গিয়ে তিনি এ কথা বলেন। ওবায়দুল কাদের বলেন, উপাচার্যের বাসভবনে হামলা পরিকল্পিতভাবে ঘটানো হয়েছে। এসব হামলাকারীদের খুঁজে বের করে আইনের আওতায় আনা হবে। মন্ত্রী বলেন, এই হামলা একাত্তরের বর্বরতাকেও হার মানায়। একাত্তরের ২৫ মার্চ কালো রাতেও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে এরকম হামলা হয়েছিল। কিন্তু ভিসির বাসভবন কখনও আক্রান্ত হয়নি। এমনকি স্বাধীনতার ৪৭ বছরেও এরকম ঘটনা ঘটেনি। বেডরুমসহ সবকিছু তছনছ করা হয়েছে। বাথরুমের কমোড, আসবাবপত্র ও ভিসির পরিবারের স্বর্ণালঙ্কার পর্যন্ত লুট করা হয়েছে। তিনি আরও বলেন, এটি যে পরিকল্পিত হামলা তা প্রমাণিত। কারণ ক্লোজড সার্কিট ক্যামেরা বিকল করে দেয়া হয়েছে। এই নারকীয় বর্বরতার সঙ্গে জড়িতদের কাউকে কোনো অবস্থাতেই ছাড় দেয়া হবে না। তদন্ত চলছে। কিছুটা চিহ্নিত হয়েছে। বাকিটাও চিহ্নিত হবে। এর বিচার করতেই হবে। এ ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি যেন না ঘটে। কোটা সংস্কারের দাবিতে আন্দোলনকারীরা সরকারের সঙ্গে সমঝোতা অনুয়ায়ী তাদের কর্মসূচি স্থগিত রাখবেন বলে আশা করেন ওবায়দুল কাদের। তিনি বলেন, সমঝোতা হওয়ার পরও যারা কোটা সংস্কারের দাবিতে কর্মসূচি পালন করছে তাদের রাজনৈতিক আদর্শ খতিয়ে দেখতে হবে।

রাজনীতি পাতার আরো খবর