খালেদা জিয়ার এবারের ঈদ কাটবে ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে
বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার এবারের ঈদ কাটবে ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে। প্রতিবছর ঈদের দিন বাংলাদেশে নিযুক্ত বিদেশি কূটনীতিক ও আন্তর্জাতিক সংস্থার প্রতিনিধি, বিশিষ্ট নাগরিক, দলের নেতাকর্মীসহ মানুষের সঙ্গে ঈদ শুভেচ্ছা বিনিময় করলেও এবার সে সুযোগ পাচ্ছেন না। কারাবন্দি থাকায় যুক্তরাজ্যে অবস্থানকারী নিজের বড় ছেলে তারেক রহমান সহ দুই ছেলের বউ, তিন নাতনীর সঙ্গে মোবাইলে শুভেচ্ছা বিনিময়ের সুযোগও নেই। জিয়ারত করতে যেতে পারবেন না দলের প্রতিষ্ঠাতা শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের মাজারে। কারাগারে অসুস্থ হয়ে পড়া খালেদা জিয়ার ঈদের দিনটি কাটবে যথারীতি পুরান ঢাকার নাজিমউদ্দিন রোডের পরিত্যক্ত কারাগারের ডে কেয়ার সেন্টারে। কারাবিধি অনুযায়ী ঈদের দিন কারাবন্দিরা যেটুকু ভালো-মন্দ খাবার পান সেটুকুই বরাদ্দ পাবেন তিনি। নিঃসঙ্গ কারাপ্রকোষ্ঠে তাকে সঙ্গ দেবেন কেবল গৃহপরিচারিকা ফাতেমা। এর আগেও ওয়ান ইলেভেনের সময় কারাবন্দি অবস্থায় ঈদুল ফিতর ও ঈদুল আজহা কাটিয়েছেন সংসদ ভবনে স্থাপিত বিশেষ সাবজেলে। এদিকে ঈদের দিন কারাবিধি অনুযায়ী বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার সঙ্গে সাক্ষাৎ করবেন তার পরিবারের সদস্য ও স্বজনেরা। তারা সেখানে খালেদা জিয়ার জন্য বাসা থেকে কিছু খাবারও নিয়ে যেতে পারবেন বলে ইতিমধ্যে গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন ডিআইজি প্রিজন্স। অন্যদিকে ঈদের দিন খালেদা জিয়ার সঙ্গে সাক্ষাৎ করার চেষ্টা করবেন বিএনপি স্থায়ী কমিটির সদস্যরা। এ জন্য তারা ইতিমধ্যে কারাকর্তৃপক্ষ ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট শাখায় আবেদনও করেছেন। ওদিকে প্রতিবছর দলের শীর্ষ নেতা খালেদা জিয়ার ঈদ শুভেচ্ছা অনুষ্ঠানে অংশ নিতে রাজধানীতেই ঈদ করতেন দলের সিনিয়র নেতারা। কিন্তু এবার একদিকে খালেদা জিয়া কারাগারে অন্যদিকে জাতীয় নির্বাচনের বছর। ফলে নেতাদের বেশিরভাগই এবারের ঈদ করবেন নিজ নিজ এলাকায়। তারপরও দলের সিনিয়র কিছু নেতা রাজধানীতে ঈদ করবেন এবং ঈদের দিন সাক্ষাতের চেষ্টায় ছুটে যাবেন পুরান ঢাকার পরিত্যক্ত ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারের ফটকে।
খালেদা জিয়ার মুক্তি নিয়ে আইনজীবীদের ভিন্ন মত
রাজনীতির ঊর্ধ্বে উঠে মানবিক বিবেচনায় বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার প্যারোলে মুক্তির দাবি করে দলটির ভাইস চেয়ারম্যান খন্দকার মাহবুব হোসেনের বক্তব্যকে তাঁর ব্যক্তিগত মত বলে উল্লেখ করেছেন সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির সভাপতি অ্যাডভোকেট জয়নুল আবেদীন। সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির সভাপতি বলেন, ‘প্যারোলে মুক্তি নিয়ে খন্দকার মাহবুব হোসেন যে বক্তব্য দিয়েছেন এটা ওনার ব্যক্তিগত মতামত। আমাদের সঙ্গে তিনি আলোচনা করেননি।’ বৃহস্পতিবার দুপুর ১২টার দিকে সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির অডিটরিয়ামে মাদকমুক্ত অভিযানের নামে ‘বিনা বিচারে হত্যাকাণ্ডের’ প্রতিবাদে এক সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে সমিতির সভাপতি এ কথা বলেন। তবে সমিতির সম্পাদক ব্যারিস্টার মাহবুব উদ্দিন খোকন বলেন, খালেদা জিয়া খুবই অসুস্থ। তাঁর চিকিৎসার জন্য খন্দকার মাহবুব হোসেন সম্ভবত এ দাবি করেছেন। এর আগে গতকাল এক সংবাদ সম্মেলনে বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান ও জ্যেষ্ঠ আইনজীবী খন্দকার মাহবুব হোসেন বলেছেন, দীর্ঘ চার মাসের বেশি সময় ধরে কারাবন্দি থেকে খালেদা জিয়ার রোগ আরো জটিল আকার ধারণ করেছে, তৈরি করেছে জীবন শঙ্কা। এ অবস্থায় প্রচলিত আইনের ধারাবাহিকতায় দ্রুত মুক্তির সুযোগ না থাকায় প্যারোলই একমাত্র সমাধান। এ বক্তব্য প্রসঙ্গে জানতে চাইলে জয়নুল আবেদীন বলেন, ‘গতকালকে আমাদের একজন আইনজীবী (খন্দকার মাহবুব) যে বক্তব্য দিয়েছেন আমরা মনে করি, এটা তাঁর ব্যক্তিগত মতামত। তাঁর এই ব্যক্তিগত মতামতের ওপর আমরা কোনো বক্তব্য রাখতে চাই না।’ বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে ইউনাইটেড হাসপাতালে চিকিৎসাসেবা দেওয়ার দাবি জানিয়ে সমিতির সভাপতি জয়নুল আবেদীন বলেন, ‘দেশের একজন নাগরিক এবং সাবেক তিন তিনবারের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে তাঁর চিকিৎসা পাওয়ার অধিকার রয়েছে। সেই চিকিৎসা তিনি যেভাবে চাইবেন সেভাবেই সেই চিকিৎসাসেবা দেওয়া উচিত। আমরা আইনজীবী হিসেবে মনে করি আইনের দৃষ্টিতে তাঁর সে অধিকার রয়েছে।’ লিখিত বক্তব্যে জয়নুল আবেদীন বলেন, ‘আমরা চাই বাংলাদেশ মাদকমুক্ত হোক। কিন্তু তা অবশ্যই আইন মোতাবেক হতে হবে। বিচার বহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের মাধ্যমে নয়।’ তিনি বলেন, রাজনৈতিক উদ্দেশ্য প্রণোদিতভাবে নয়, প্রকৃত মাদক ব্যবসায়ী ও গডফাদার এবং এর সঙ্গে সম্পৃক্ত সব ব্যক্তিকে আইনের কাছে সোপর্দ করার জন্য জোর দাবি জানাচ্ছি। তবে বিচার বহির্ভূত হত্যাকাণ্ড থেকে সব মহলকে বিরত থাকার জন্য আহ্বান জানাচ্ছি।
দেশনেত্রী এখন কারাগারে, আমাদের আনন্দ নেই, খুশি নেই
ঈদের দিন কারাগারে বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার সঙ্গে দলের স্থায়ী কমিটির সদস্যরা দেখা করতে পারেন বলে জানিয়েছেন দলটির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী। আজ দুপুরে নয়াপল্টন বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক সংবাদ ব্রিফিংয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি একথা জানান। রিজভী আহমেদ বলেন, ঈদ একটি ধর্মীয় অনুষ্ঠান, এটি এবাদতও। তাই আমাদের নেতারা হয়তো সবাই সেটা পালন করবেন, নামাজও পড়বেন। তবে দেশনেত্রী এখন কারাগারে। আমাদের কারো মনে আনন্দ নেই, খুশি নেই। ঈদের দিন দলের স্থায়ী কমিটির সদস্যরা দলের প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমানের মাজারে যাবেন। এছাড়া, তারা কারাগারেও দেখা করতে যাবেন বলে শুনেছি। জানতে পেরেছি দেখা করার জন্য সরকারের কাছে আবেদনও করেছেন। তবে স্পেসিফিকভাবে কিছু বলাতে পারব না। তিনি বলেন, সরকার খালেদা জিয়ার চিকিৎসা নিয়ে নোংড়া রাজনীতি করছে। রাজনৈতিক ময়দানে শেখ হাসিনার একমাত্র প্রতিপক্ষ খালেদা জিয়া। এই জন্য তার সঙ্গে এটা করা হচ্ছে। তাদের মনে রাখা দরকার আওয়ামী লীগ প্রধান শেখ হাসিনা প্যারোলে মুক্তি পেয়ে বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছিল। তার দলের নেতারাও কারাভোগের সময় বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছেন। কিন্তু দেশনেত্রীকে সেই সুযোগ দেয়া হচ্ছে না। এর একমাত্র উদ্দেশ্য খালেদা জিয়াকে সরিয়ে দেয়া। কিন্তু এসব অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করার জন্য খুব শিগগিরই জনতা বাঁধ ভাঙা জোয়ারের মতো বেরিয়ে আসবে। আরো উপস্থিত ছিলেন- যুগ্ম মহাসচিব সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল, খায়রুল কবির খোকন, সাংগঠনিক সম্পাদক রুহুল ককুদ্দুস তালুকদার দুলু, সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক আব্দুস সালাম আজাদ, নির্বাহী কমিটির সদস্য অধ্যাপক আমিনুল ইসলাম, ওলামা দলের সভাপতি হাফেজ মাওলানা আব্দুল মালেক, সাধারণ সম্পাদক মাওলানা নেসারুল হক প্রমুখ।
দুই মামলায় খালেদার জামিন শুনানি ২১জুন
বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে পতাকা অবমাননা ও ভুয়া জন্মদিন পালনের অভিযোগে মামলায় জামিন শুনানির জন্য আগামী ২১ জুন দিন ধার্য করেছে আদালত। আজ বৃহস্পতিবার পতাকা অবমাননা মামলায় ঢাকা মহানগর হাকিম আহসান হাবীব জামিন শুনানির পরবর্তী ওই দিন ধার্য করেন। এ ছাড়া জন্মদিন পালনের অপর মামলায়ও জামিন শুনানির জন্য আগামী ২১ জুন দিন ধার্য করেন ঢাকা মহানগর হাকিম খুরশীদ আলম। খালেদা জিয়ার আইনজীবী মাসুদ আহমেদ তালুকদার আবেদনের শুনানি করেন। তিনি বলেন, আদালতে আবেদন দাখিল করে বলেছি হাইকোর্ট দ্রুত শুনানি করে জামিন আবেদন নিষ্পত্তি করতে বলেছেন। এই দুই মামলা জামিনযোগ্য ধারায়। দ্রুত শুনানি করে জামিন দিন। শুনানি শেষে আদালত উভয় মামলায় ২১ জুন তারিখ দেয়।
সাংবাদিককে ঐক্যবদ্ধ হয়ে কাজ করার আহবান
বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, বাংলাদেশের সংবাদপত্রের ইতিহাসে ১৯৭৫ সালের ১৬ জুন এক কালিমালিপ্ত দিন। এদিন তখনকার সরকার তাদের অনুগত ৪টি সংবাদপত্র রেখে অন্যসব পত্রিকা বন্ধ করে দিয়ে বিভিন্ন সংবাদপত্রে কর্মরত অসংখ্য সংবাদ কর্মীকে বেকার করে হতাশার অতল গহব্বরে ঠেলে দিয়েছিল। বিএনপির পক্ষ থেকে দেয়া এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এসব কথা জানানো হয়। সেখানে দাবি করা হয়, পরবর্তীতে রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান বহুদলীয় গণতন্ত্র ফিরিয়ে দিয়ে সংবাদপত্রের স্বাধীনতা নিশ্চিত করেন। বাতিল করেন কালো আইন। বর্তমান সরকার নতুন আঙ্গিকে সংবাদপত্র ও সাংবাদিকদের ওপর দল ও দমন-পীড়ণ অব্যাহত রেখেছে বলে বিএনপি মহাসচিব অভিযোগ করেন। সংবাদপত্রের স্বাধীনতা রক্ষার সংগ্রামে সকল সাংবাদিককে ঐক্যবদ্ধ হয়ে কাজ করার আহবান জানান তিনি।
বিএনপি বিভিন্ন দেশে গিয়ে ষড়যন্ত্রে লিপ্ত রয়েছে
ক্ষমতায় যাওয়ার জন্য বিএনপি বিদেশিদের কাছে ধরনা দিচ্ছে মন্তব্য করে খাদ্যমন্ত্রী অ্যাডভোকেট কামরুল ইসলাম বলেন, ‘আগামী নির্বাচন বানচালের ষড়যন্ত্র করছে দলটি।’ বুধবার (১৩ জুন) দুপুরে জাতীয় প্রেসক্লাবে আলোচনা সভায় এ কথা বলেন তিনি। এতে আরও বক্তব্য রাখেন আওয়ামী লীগের প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক ড. হাছান মাহমুদ। এ সময় কামরুল ইসলাম বলেন, ‘১/১১ কুশীলব এখনো সক্রিয়। সেনা সমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময় ১/১১ কুশীলবরা যেভাবে সক্রিয় ছিল। শেখ হাসিনাকে রাজনীতি থেকে মাইনাস করার চেষ্টা করা হয়েছে। ওইসব কুশীলব আবার ষড়যন্ত্রে সক্রিয় রয়েছে। এখন তারা ফর্মুলা দিচ্ছে পরপর দুইবারের বেশি প্রধানমন্ত্রী থাকা যাবে না। বিএনপি এবং ১/১১ এর কুশীলবরা আজকে একাট্টা হয়ে ষড়যন্ত্রে লিপ্ত রয়েছে। বিএনপি ভারতসহ বিভিন্ন দেশে গিয়ে ষড়যন্ত্রে লিপ্ত রয়েছে। দুই দিন আগে বিভিন্ন সংবাদপত্রে দেখবেন, বিএনপির নেতারা ভারত গিয়েছিল। সেখানে গিয়ে নাকে খত দিয়ে এসেছে।’ তিনি আরও বলেন, ‘বিএনপির সময় ভারতের বিচ্ছিন্নতাবাদীদের জন্যে যে ১০ ট্রাক অস্ত্রের ট্রানজিট দিয়েছিল তখনকার সরকার প্রধান। তারা এমন কাজ আর করবে না বলে নাকে খত দিয়ে এসেছে। বিএনপি ক্ষমতায় এলে ভারত বিরোধিতা করবে না, তারা সংখ্যালঘুদের ওপর নির্যাতন করবে না বলে নাকে খত দিয়ে এসেছে।
ভারত আমাদের প্রতিবেশী ও বন্ধু রাষ্ট্র
বিএনপি ভারত বিরোধী নয় বলে সাফ জানিয়ে দিয়েছেন দলটির ভাইস চেয়ারম্যান আব্দুল্লাহ আল নোমান। বিএনপির একটি প্রতিনিধি দলের ভারত সফর প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ভারত সফর নিয়ে আমাদের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে কথা হচ্ছে। কিন্তু সেখানে কোন নির্দিষ্ট এজেন্ডা ছিল না। আর আমরা সরকারেও নাই। তবে আমাদের সঙ্গে ভারতের নেতৃবৃন্দের বিভিন্ন বিষয়ে কথা হয়েছে। তারাও কথা বলেছে, আমারও কথা বলেছি। বুধবার দুপুরে জাতীয় প্রেসক্লাবে মো. গোলাপ মিয়া আয়োজিত এক আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিলে তিনি এ কথা বলেন। শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ৩৭তম শাহাদাৎ বার্ষিকী ও বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার কারা ও রোগ মুক্তি উপলক্ষে এ দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়। আব্দুল্লাহ আল নোমান বলেন, আমরা বলেছি, ভারত আমাদের প্রতিবেশী ও বন্ধু রাষ্ট্র। কিন্তু বন্ধুর সাথে আমাদের দ্বিপক্ষীয় অনেক সমস্যা রয়েছে। আর এই সমস্যাগুলো বলতে গেলেই যে, আমরা (বিএনপি) ভারত বিরোধী হলাম-সেটা নয়। দেশের বর্তমান পরিস্থিতি নাজুক অবস্থায় দাঁড়িয়েছে মন্তব্য করে তিনি বলেন, এই পরিস্থিতি ও অর্থনৈতিকভাবে দেশকে মুক্ত করার জন্য একটি সরকার প্রয়োজন। যে সরকার হবে গণতান্ত্রিক। যে সরকার একটি নির্বানের মাধ্যমে নির্বাচিত হবে। আর এজন্য সহায়ক সরকার দরকার। তাই অবিলম্বে যৌথভাবে কনফান্সের মাধ্যমে একটি নীতিমালা তৈরী করা হোক। যে নীতিমালার মাধ্যমে সহায়ক সরকার নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় নেতৃত্ব দেবে। ২০১৮-১৯ সালের প্রস্তাবিত বাজেট প্রসঙ্গে নোমান বলেন, যে ঘাটতি বাজেট দেয়া হয়েছে, এটা একটি উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। কারণ যারা দ্ররিদ ও মধ্যবিত্ত তাদের ট্যাক্স প্রদান করতে হবে। আর যারা ব্যাংক লুট করেছেন, তাদের কাছে যাবে এই টাকা। বেগম জিয়ার শারীরিক অসুস্থ্যতার বর্ণনা দিয়ে তিনি বলেন, সরকার খালেদা জিয়ার অসুস্থ্যতা ভিন্নখাতে প্রভাবিত করে রাজনৈতিক ইস্যুতে নিয়ে যেতে চায়। অবিলম্বে বেগম জিয়াকে ইউনাইটেড হসপিটালে নিয়ে উন্নত চিকিৎসা করার জন্য সরকারের প্রতি আবারও দাবি জানান তিনি। জাতীয়তাবাদী সমর্থক দলের যুগ্ম আহ্বায়ক সরকার জাহাঙ্গীর আলমের সভাপতিত্বে সভায় বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা ব্যারিস্টার হায়দার আলীসহ প্রমুখ বক্তব্য রাখেন।
পছন্দের হাসপাতালে পাঠাবে না সরকার,ইউনাইটেডেই অনড় খালেদা জিয়া
কারাবন্দি বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া ইউনাইটেড হাসপাতালেই চিকিৎসা নেওয়ার ব্যাপারে অনড় অবস্থানে রয়েছেন। অন্যদিকে, জেল কোড অনুযায়ী সরকারি হাসপাতাল বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ে (বিএসএমএমইউ)চিকিৎসা সেবা দেওয়ার প্রস্তাবের পর এবার সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে (সিএমএইচ)তাকে চিকিৎসা নেওয়ার প্রস্তাব দেবে সরকার। এর পরিপ্রেক্ষিতে সঙ্গে কথা হয়েছে বিএনপি ও আওয়ামী লীগ নেতাদের। তারা পরিষ্কার করেছেন তাদের অবস্থান: বিএনপির অবস্থান: কারাবন্দি খালেদা জিয়ার সুচিকিৎসা নিশ্চিত করতে দলীয় প্রধানের ইচ্ছাকেই প্রাধান্য দিচ্ছে বিএনপি। দলটির নেতারা বলছেন, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয় হাসপাতালে চিকিৎসা গ্রহণে বেগম জিয়ার আপত্তি আছে এবং সেখানকার পরিবেশ নিয়ে তিনি প্রশ্ন তুলেছেন। সর্বোপরি সরকারের তরফে বেসরকারি হাসপাতালে নেওয়ার বিষয়ে নিয়ম না থাকার কথা বলা হলেও এ ধরনের নজির বাংলাদেশে আছে বলেও জানান তারা। এছাড়া চিকিৎসার ক্ষেত্রে রোগীর মানসিক অবস্থাকে আমলে নেওয়াটাই প্রথমত জরুরি বলে মনে করেন বিএনপিপন্থী চিকিৎসকরা। খালেদা জিয়াকে চিকিৎসার জন্য সিএমএইচে নেওয়ার ব্যাপারে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আজ যে প্রস্তাব দেওয়ার কথা জানিয়েছেন সে প্রসঙ্গে বিএনপি চেয়ারপারসনের কার্যালয়ের প্রভাবশালী এক কর্মকর্তা বলেন, ‘বেগম জিয়ার চিকিৎসা বিষয়টি এখন পুরোপুরি সরকার ও তার (খালেদা জিয়া) নিজের ওপর নির্ভর করছে। বাইরে থেকে দল ও নেতারা কেবল বিষয়টি নিয়ে উদ্বিগ্ন হতে পারে। বেগম জিয়া যদি সিএমএইচে যেতে চান, তাহলে তো দলের কিছু করার নেই।’ তবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী যার চিঠির পরিপ্রেক্ষিতে এই প্রস্তাব দেওয়ার কথা বলেছেন সেই শামীম ইস্কান্দারের (খালেদা জিয়ার ছোট ভাই) মনোভাব জানতে তাকে ফোন করা হলে তিনি ফোন রিসিভ করেননি। প্রসঙ্গত: মঙ্গলবার (১২ জুন) খালেদা জিয়াকে উন্নত চিকিৎসার জন্য রাজধানীর ইউনাইটেড হাসপাতালে ভর্তির জন্য তার ছোট ভাই শামীম ইস্কান্দারের আবেদন নিয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁ কামালের সঙ্গে দেখা করেছিলেন খালেদা জিয়ার উপদেষ্টা বিজন কান্তি সরকারসহ দুই চিকিৎসক। তখন খালেদা জিয়াকে সিএমএইচে চিকিৎসা দেওয়ার প্রস্তাব জানাবেন বলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এমন প্রস্তাব দেওয়ার কথা বললেও বিএনপি নেতারা দলীয় চেয়ারপারসনের ইচ্ছানুযায়ী এখনও ইউনাইটেড হাসপাতালে তার চিকিৎসার ব্যাপারেই মনোভাব দেখাচ্ছেন। এ বিষয়ে বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান শামসুজ্জামান দুদু বলেন, ‘ম্যাডামকে হাসপাতালে না নিয়ে সরকার একগুঁয়েমি করছে। অতীতে শেখ হাসিনাও চিকিৎসার উদ্দেশ্যে প্যারোলে মুক্তি নিয়ে বিদেশে গেছেন। কিন্তু, সরকার এখন ম্যাডামের (খালেদা জিয়া) বিষয়টি অনুমোদন করছে না, এটা গোয়ার্তুমি। তাকে কৌশলে আরও অসুস্থ ও বিপদগ্রস্ত করা হচ্ছে আইনের নামে। অসৎ উদ্দেশ্যে এটা করছে সরকার। এ কারণে তার মৃত্যুও হতে পারে।’ দুদু মনে করেন, খালেদা জিয়াকে তার চাহিদামতো চিকিৎসা না করালে আন্দোলনের প্রশ্ন জোরালো হয়ে আসবে। তার মন্তব্য, ‘ আইন যখন কাজ করে না, তখন শিষ্টাচারের প্রশ্ন মিথ্যে।’ বিএনপি নেতারা বলছেন, ‘সম্প্রতি খালেদা জিয়ার স্বাস্থ্যের অবনতি ঘটেছে এবং তার সুচিকিৎসার জন্য ইউনাইটেড হাসপাতালই সর্বোত্তম। আর ব্যক্তিগতভাবে বিএনপির চেয়ারপারসন বেসরকারি হাসপাতালটিতে যাওয়ার পক্ষে মত প্রকাশ করেছেন। বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাও তার নিজের চাহিদামতো এক-এগারোর সময় স্কয়ার হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছেন। এখন খালেদা জিয়ার চাহিদামতো এর পক্ষে জোরদার তৎপরতা চালিয়ে যাচ্ছে বিএনপি ও তার পরিবারের সদস্যরা। ইতোমধ্যে বেসরকারি হাসপাতালের খরচ নির্বাহের প্রতিশ্রুতি দিয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে একটি আবেদনও করা হয়েছে।’ এ বিষয়ে স্থায়ী কমিটির অন্যতম সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ বলেন, ‘প্রয়োজনের খালেদা জিয়ার বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসায় যে ব্যয় হবে তা বিএনপি বহন করবে এবং আমরা তাকে অতি দ্রুত ইউনাইটেড হাসপাতালে চিকিৎসাসেবা দিতে হবে।’ তিনি জানান, খালেদা জিয়ার পরিবারের পক্ষ থেকে এই আবেদন নিয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে দেওয়া হয়েছে। বিএনপির ভাইস-চেয়ারম্যান আবদুল্লাহ আল নোমান বলছেন, ‘খালেদা জিয়াকে নিয়ে সরকার যা করছে তা অত্যন্ত নির্লজ্জভাবে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। এতে করে আওয়ামী লীগের রাজনীতি নষ্ট হচ্ছে এবং মানুষ খারাপভাবে নিচ্ছে। এক-এগারো সরকারের সময়ে শেখ হাসিনা ও আবদুল জলিলকেও তাদের চাহিদামতো চিকিৎসা দেওয়া হয়েছিল। সবচেয়ে বড় কথা খালেদা জিয়া বিএসএমএমইউ-তে চিকিৎসা গ্রহণে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করছেন না।’ চেয়ারপারসনের মিডিয়া উইং সদস্য শায়রুল কবির খান জানান, ‘ওয়ান-ইলেভেনের সময় বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তার চোখের সমস্যার জন্য স্কয়ার হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছেন।’ ওই সময় দায়িত্বে ছিলেন সাবেক উপ কারা মহাপরিদর্শক মেজর (অব.) শামসুল হায়দার সিদ্দিকী। তিনি বলেন, ‘এক-এগারোর সময় বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে স্কয়ার হাসপাতালে আনা হয়েছিল। কারাবিধিতে আছে, যদি জেলখানায় কেউ অসুস্থ হয়ে পড়েন, তখন কারাগারের যে চিকিৎসক আছেন, তিনি পরীক্ষা-নিরীক্ষা করবেন। যদি ওই চিকিৎসকরা তার ট্রিটমেন্ট ( চিকিৎসা) করতে পারেন, তাহলে সেটা করবেন। আর যদি চিকিৎসকরা মনে করেন কারাবন্দি’র অসুস্থতার গুরুত্ব এত বেশি যে তার চিকিৎসা জেলে সম্ভব না, তাহলে তাকে বাইরের হাসপাতালে পাঠাতে হবে; তখন সরকারি হাসপাতালে পাঠানো হয়। এক্ষেত্রে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয় হাসপাতালে প্রিজন সেল রয়েছে, ওইখানে পাঠানোর কথা।’ ‘এখন প্রিজন সেলে বা হাসপাতালে যদি সংশ্লিষ্ট কারাবন্দির চিকিৎসার সুযোগ-সুবিধা না থাকে, তাহলে কারা কর্তৃপক্ষ বা সরকার অন্য বেসরকারি হাসপাতালের কথা চিন্তা করেন। সর্বোপরি সবকিছুর পরেও যিনি বন্দি থাকেন, তিনি যদি বলেন বা ইচ্ছা করেন, অন্য বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসা করাতে চান, আর এটা যদি সরকার অনুমোদন করেন, তখন কিন্তু সেটা সম্ভব। আর এ কারণেই ওয়ান-ইলেভেনের সময় বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা স্কয়ার হাসপাতালে আসতে পেরেছেন এবং তখনকার আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আবদুল জলিল ল্যাবএইডে যেতে পেরেছেন।’ ‘কী কারণে? কারণ তারা বলছেন, তখনকার সরকার সেটা অনুমোদন করেছে। এ কারণেই তারা তাদের পছন্দমতো হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে পেরেছেন।’ বিএনপিপন্থী চিকিৎসকরাও খালেদা জিয়ার চিকিৎসা তার চাহিদামতো করতে আহ্বান জানিয়েছেন। মহাসচিব অধ্যাপক ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন বলেন, ‘বেগম জিয়া মনে করেন, যে বিএসএমএমইউ’তে তার চিকিৎসা হবে না। তাকে অনতিবিলম্বে ইউনাইটেডে নেওয়া হোক।’ বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক ডা. সাখাওয়াত হাসান জীবন বলেন, ‘বেগম জিয়াকে চিকিৎসার জন্য সরকার যা করছে, তা রাজনৈতিক ইতিহাসে ন্যাক্কারজনক হিসেবে চিহ্নিত থাকবে। শেখ হাসিনা নিজে চিকিৎসা নিতে পেরেছেন স্কয়ার হাসপাতাল থেকে, কিন্তু এখন প্রতিহিংসার বশবর্তী হয়ে বেগম জিয়াকে সুচিকিৎসাবঞ্চিত করা হচ্ছে।’ তিনি আরও বলেন, ‘কী অদ্ভূত, যিনি রোগী, তার মানসিক অবস্থাকে আমলে নেবে না সরকার ‘ প্রসঙ্গত, গত ৯ জুন সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়াকে দ্রুত ইউনাইটেড হাসপাতালে ভর্তির সুপারিশ করেন তার ব্যক্তিগত চিকিৎসকরা। ওই দিন তার চিকিৎসক ডা. এফএম সিদ্দিকী বলেন, ‘আমরা পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে চার পাতার একটি মেডিক্যাল প্রতিবেদন দিয়ে এসেছি কারা কর্তৃপক্ষকে। যেখানে উল্লেখ করা আছে, ৫ জুন কী ঘটেছে ও তার কেমন চিকিৎসা প্রয়োজন। কারা কর্তৃপক্ষ এগুলো আপনাদের সঙ্গে শেয়ার করলে জানতে পারবেন।’ খালেদা জিয়া গত ৮ ফেব্রুয়ারি থেকে কারাগারে রয়েছেন। আওয়ামী লীগের অবস্থান: বিএনপির চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার চিকিৎসা নিয়ে তিনি ও তার দল রাজনৈতিক ফায়দা হাসিলের চেষ্টা করছে বলে দাবি করছে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের নীতি-নির্ধারকরা। তারা জানিয়েছেন, খালেদার যেসব শারীরিক সমস্যার কথা বিএনপির পক্ষ থেকে দাবি করা হচ্ছে চিকিৎসার জন্যে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকরা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ে (বিএসএমএমইউ) রয়েছে। রাজনৈতিক ফায়দা হাসিল করার জন্যে মূলত বিএনপি ইউনাইটেড হাসপাতালে চিকিৎসাসেবা নেওয়ার জন্যে গোঁ ধরে বসে আছে। আওয়ামী লীগ নেতারা বলেন, খালেদা জিয়া একজন সাজাপ্রাপ্ত আসামি। ফলে জেলকোড মেনে তার ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নিতে হয় সরকারকে। বিএনপি অন্যায় দাবি করবে আর সরকার তাদের দাবি পূরণ করে ফেলবে সেটাও হয় না। ক্ষমতাসীন দলের নীতি-নির্ধারকরা দাবি করেন, খালেদা জিয়া অসুস্থ হলে নিশ্চয়ই চিকিৎসাসেবা পাবেন, তবে তা হতে হবে জেলকোড মেনে। এদিকে মঙ্গলবার খালেদা জিয়ার পরিবারের পক্ষ থেকে আবারও সরকারের সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ে খালেদার চিকিৎসা ইউনাইটেড হাসপাতালে করার জন্যে আবেদন করা হয়েছে। তবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান সাংবাদিকদের জানিয়েছেন, তারা চাইলে খালেদার চিকিৎসার ব্যবস্থা সরকার সিএমএইচে করতে পারে। এর মধ্য দিয়ে সরকারে অবস্থান খানিকটা নড়চড় হয়েছে। শেষ পর্যন্ত ইউনাইটেড হাসপাতালে খালেদার চিকিৎসার সুযোগ দেওয়া হবে কী না জানতে চাইলে সরকারের দুই জন মন্ত্রী বলেন, বিএনপি যেখানে চাইবে সরকার সুযোগ দিয়ে দেবে তা হবে না। ওই দুই মন্ত্রী বলেন, এটা বিএনপির রাজনৈতিক খেলা। খালেদার চিকিৎসাকে ইস্যু করে তারা ফায়দা লুটে নিতে চায়। এই খেলার পার্ট সরকার কেন হবে? এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য ড. আবদুর রাজ্জাক বলেন, খালেদা জিয়া ও তার দল চিকিৎসাকে কেন্দ্র করে গোঁ ধরে বসে থাকার একমাত্র কারণ রাজনৈতিক ফায়দা লুটে নেওয়া। রাজনৈতিক নেতাদের বিএসএমএমইউতেই চিকিৎসা সেবা দেওয়া হয়। এই হাসপাতালে বিশেষজ্ঞ ডাক্তাররাই সেবা দেন। আবদুর রাজ্জাক বলেন, এই হাসপাতালের ডাক্তাররাই নামিদামি প্রাইভেট হাসপাতালেও চিকিৎসা দেন। বঙ্গবন্ধু মেডিক্যাল দেশের প্রধান হাসপাতাল। এখানে চিকিৎসা না নেওয়ার মানে কী সেটাও ভালো করে খুঁজে বের করা উচিত। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সিএমএইচে খালেদাকে চিকিৎসা দেওয়ার প্রস্তাব বিএনপি নিশ্চয়ই আপত্তি করবে না বলে মনে করেন আবদুর রাজ্জাক। দলের অপর সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য ফারুক খান বলেন, খালেদা জিয়ার চিকিৎসা যেখানেই হোক তা হতে হবে জেলকোড অনুযায়ী, কারণ তিনি একজন সাজাপ্রাপ্ত আসামি। তিনি কীভাবে সুযোগ সুবিধা গ্রহণ করবেন তা নিশ্চয়ই জেলকোডে উল্লেখ রয়েছে। বিএনপি ও খালেদা জিয়া দাবি করলেন আর সরকার পূরণ করে ফেললেন বিষয়টি এমন নয়। তিনি বলেন, খালেদা জিয়ার যেসব শারীরিক সমস্যার কথা আমরা জেনেছি তার ভালো চিকিৎসা বিএসএমএমইউতে রয়েছে। ফারুক খান বলেন, বিএনপি কোনও কিছুতেই আইন কানুন, নিয়ম এসবের তোয়াক্কা করে না। তারা সব কিছুতেই রাজনৈতিক ফায়দা খোঁজে। অমুক হাসপাতালে নয়, তমুক হাসপাতালে চিকিৎসার সুযোগ দেওয়ার দাবি তুলে ফায়দা হাসিল করতে চায়। এ প্রসঙ্গে আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক খালিদ মাহমুদ বলেন, খালেদা জিয়া সাজাপ্রাপ্ত আসামি। তিনি জেল খাটছেন। তার জন্যে একটি আইন কানুন রয়েছে, তা হল জেলকোড। তাকে জেলকোডের বাইরে গিয়ে সুযোগ দেওয়ার অধিকার কারও নাই। তিনি বলেন, খালেদা জিয়া অসুস্থ হয়েছেন চিকিৎসাটাই জরুরি বলে মনে করি। কিন্তু, তাদের অমুক নয় তমুক হাসপাতালের দাবি তোলায় জনগণের ভেতরে সন্দেহ ঢুকেছে খালেদা জিয়া আসলেই অসুস্থ কী না।