বুধবার, নভেম্বর ২১, ২০১৮
জামায়াত-শিবিরের উপস্থিতি না থাকায় বিএনপির স্বস্তি
অনলাইন ডেস্ক: বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার মুক্তি এবং নির্বাচনকালীন নিরপেক্ষ সরকার গঠনসহ বিভিন্ন দাবিতে রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে বিএনপির জনসভা শুরু হয়েছে। রোববার (৩০ সেপ্টেম্বর) দুপুর ১২টার দিকে দলীয় সংগীত বাজিয়ে জনসভার কার্যক্রম শুরু করা হয়। তবে মূল কার্যক্রম শুরু হবে দুপুর ২টায়। এ সমাবেশকে ঘিরে সকাল থেকে বিএনপির নেতাকর্মীরা উপস্থিত হতে শুরু করলেও তাদের জোটের শরিক ও দীর্ঘদিনের মিত্র স্বাধীনতাবিরোধী দল জামায়াত ও এর ছাত্রসংগঠন শিবিরের কোনো পর্যায়ের নেতাকর্মীকে দেখা যায়নি। এ নিয়ে স্বস্তি প্রকাশ করেছেন বিএনপির এক কেন্দ্রীয় নেতা। বিএনপির ওই নেতা বলেন, জামায়াত-শিবির না অাসায় বিএনপির জন্য ভালো হয়েছে। বহির্বিশ্বের সমর্থন পেতে সুবিধা হবে। নজরুল ইসলাম নামের এক কর্মী বলেন, তারা সরকারের সঙ্গে আঁতাত করেছে। তাই জোটনেত্রী খালেদা জিয়ার মুক্তির এই সমাবেশে অাসেনি। অাসলে জামায়াত একটি সুবিধাবাদী দল। তাদের বিশ্বাস করা কঠিন। এদিকে সকাল ৯টা থেকেই সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে মিছিল নিয়ে ঢুকছেন বিএনপি ও এর অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা। জনসভায় দলের চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার মুক্তি ও ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নামে মামলা প্রত্যাহার দাবির প্ল্যাকার্ড-ব্যানার-ফেস্টুন বেশি শোভা পাচ্ছেে। পরপর দুই দফা পেছানোর পর রোববার (৩০ সেপ্টেম্বর) সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে জনসভা করছে বিএনপি। এতে প্রধান অতিথির বক্তব্য দেবেন দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন। সভাপতিত্ব করবেন মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। দলের কেন্দ্রীয় নেতাসহ অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতারা এতে বক্তব্য দেবেন। এদিকে এই জনসভায় বিএনপি বিপুল সংখ্যক নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষের উপস্থিতি ঘটিয়ে নিজেদের সাংগঠনিক শক্তি প্রদর্শন করতে চায় বলে দলীয় সূত্রে জানা গেছে। ওই সূত্র বলছে, সোহরাওয়ার্দীর জনসভা থেকে সরকার, দেশবাসী ও দলের নেতাকর্মীদের কিছু বার্তা দেবে বিএনপি। ‘নিরপেক্ষ সরকারের’ অধীনে আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠানে সরকারের প্রতি কয়েক দফা দাবি ও দেশবাসীর প্রতি ১২টি লক্ষ্য (অঙ্গীকার) ঘোষণা করা হবে। পাশাপাশি আগামীদিনের পথচলা ও দাবি আদায়ের সম্ভাব্য আন্দোলন নিয়ে দলের নেতাকর্মীদের দেওয়া হবে সুনির্দিষ্ট নির্দেশনাও। জনসভা থেকে ‘বৃহত্তর জাতীয় ঐক্য’র ব্যাপারে দেশবাসীর উদ্দেশ্যে বিএনপি নিজেদের অবস্থানও তুলে ধরবে। রোববারের জনসভা হবে বিএনপির এ মাসের দ্বিতীয় আয়োজন। এর আগে গত ১ সেপ্টেম্বর দলের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর দিনে নয়াপল্টনে জনসভা করেছিল দলটি। আলোকিত বাংলাদেশ
জাতীয় ঐক্য নির্বাচন বানচাল করতে চায় : ইনু
অনলাইন ডেস্ক: তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু এমপি বলেছেন, জাতীয় ঐক্য’র নামে যে ঐক্য গঠিত হয়েছে তাদের দাবি বিশ্লেষণ করলে দেখা যায় তারা নির্বাচনের জন্য নয়, বরং নির্বাচনকে কিভাবে বানচাল করা যায় তার প্রস্তাব উত্থাপন করেছে। তারা বাংলাদেশকে সংবিধানের বাইরে ঠেলে দেয়ার একটা পাঁয়তারা শুরু করেছে। বৃহস্পতিবার বেলা ১১টায় কুষ্টিয়া সার্কিট হাউসে দলীয় নেতা-কর্মীদের সাথে মতবিনিময় শেষে সাংবাদিকদের তিনি এসব কথা বলেন। ফখরুলকে মধ্যখানে রেখে ড. কামাল ও বি. চৌধুরীর উল্লাস কার্যত রাজাকারের উল্লাস আখ্যায়িত করে ইনু বলেন, যারা সামরিক শাসন ও রাজাকারের দালালি করেছে এবং জঙ্গির পক্ষে সমর্থন নিয়েছে তাদের সঙ্গে হঠাৎ করে কামাল হোসেন ও বি.চৌধুরীরা হাত মেলালো কি করে তা আমার বোধগম্য নয়। তিনি বলেন, জামায়াতের নিবন্ধন থাকলো কী থাকলো না সেটা বড় কথা নয়, জায়ামাত আনুষ্ঠানিকভাবে ২০ দলীয় জোটের শরীক। হঠাৎ কী এমন পরিস্থিতির পরিবর্তন ঘটলো যে জামাত ২০ দলীয় জোটে বহাল থাকা অবস্থায় কামাল হোসেন ও বি. চৌধুরী ফখরুল ইসলামকে মাঝখানে রেখে হাত নেড়ে উল্লাস প্রকাশ করেন। তিনি আরও বলেন, আমি মনে করি এই উল্লাস বাংলাদেশের বিরুদ্ধে রাজাকারের হাসি। সুতরাং এই ঐক্যটা অপরাধীদের রক্ষার ঐক্য এবং সকল রাজাকার ও অপরাধীদের একত্রে করার ঐক্য। এ সময় সেখানে জেলা জাসদের সভাপতি গোলাম মহসিন, জাসদ কেন্দ্রীয় নেতা মুহাম্মদ আব্দুল্লাহ, মিরপুর উপজেলা জাসদের সাধারণ সম্পাদক আহম্মদ আলীসহ দলীয় নেতা-কর্মীরা উপস্থিত ছিলেন। পরে তিনি কুষ্টিয়া মিরপুর উপজেলার চিথলিয়া ইউনিয়নের আশ্রয়ন প্রকল্পের নিজ জমিতে গৃহ নির্মান এবং ফুলবাড়িয়া মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে মা ও অভিভাবকদের সাথে মতবিনিময়ে প্রধান অতিথি হিসেবে যোগ দেন। আলোকিত বাংলাদেশ
জাতীয় ঐক্যের ভবিষ্যৎ অন্ধকার: নৌমন্ত্রী
অনলাইন ডেস্ক: জাতীয় ঐক্যের ভবিষ্যৎ অন্ধকার বলে মন্ত্রব্য করেছেন নৌপরিবহন মন্ত্রী শাজাহান খান। বৃহস্পতিবার দুপুরে মাদারীপুর সাংবাদিক কল্যাণ সমিতির নবগঠিত কমিটির সাথে শুভেচ্ছা বিনিময় শেষে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী একথা বলেন। নৌমন্ত্রী বলেন, ঐক্যের একটি আদর্শিক ভিত্তি থাকতে হয়। কিন্তু জাতীয় ঐক্যের নেতাদের কোনো আদর্শিক ভিত্তি নেই। এই ঐক্য হলো জগাখিচুড়ি ধরনের ঐক্য। এই ঐক্যের ভবিষ্যৎ অন্ধকার। কত দিন এই ঐক্য থাকবে, সেই প্রশ্ন সবার মনে। এক সময় তাদের নিজেদের মধ্যে সুসম্পর্ক টিকবে না। শাজাহান খান আরো জানান, রাজনৈতিক অঙ্গনে জাতীয় ঐক্যের নেতারা মৌসুমি পাখির মতো ক্ষণে ক্ষণে উদিত হয়। এটা একটি খারাপ লক্ষণ। কারণ আগামীতে জাতীয় নির্বাচন, এ সময়ে তারা যে কাজটি করতে চাচ্ছেন, তাতে নির্বাচনী বৈতরণী পার হতে পারবে না। কারণ তারা মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় বিশ্বাস করে না। মন্ত্রী এ সময় বিএনপি জাতীয় ঐক্যের নামে খালেজা জিয়ার মুক্তির ইস্যু খুঁজছে বলে দাবি করেন। মাদারীপুর জেলা সাংবাদিক কল্যাণ সমিতির নবগঠিত সমিতির সদস্যদের সাথে শুভেচ্ছা বিনিময়ের সময় উপস্থিত ছিলেন জেলা প্রশাসক ওয়াহিদুল ইসলাম, পুলিশ সুপার সুব্রত কুমার হালদার, মাদারীপুর জেলা সাংবাদিক কল্যাণ সমিতির সভাপতি গোলাম মাওলা আকন্দ, সাধারণ সম্পাদক এম.আর মুর্তজাসহ সংগঠনের নেতৃবৃন্দ। পরে মন্ত্রী মাদারীপুর জেলার বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ড পরিদর্শন করেন। আলোকিত বাংলাদেশ
জামায়াত ছেড়ে ঐক্যে কী লাভ, হিসাব কষছে বিএনপি
অনলাইন ডেস্ক: গণফোরাম আর যুক্তফ্রন্টকে পাশে পেতে বিএনপি কি প্রায় দুই দশকের মিত্র জামায়াতকে ছেড়ে দেবে? এই প্রশ্ন এখন রাজনৈতিক অঙ্গনে বড় হয়ে উঠেছে। তবে অপেক্ষার খেলায় বিএনপি। আগামী জাতীয় নির্বাচনকে সামনে রেখে কামাল হোসেনের গণফোরাম এবং তৃতীয় শক্তি হওয়ার ঘোষণা দেয়া তিন দলের জোট যুক্তফ্রন্টের সঙ্গে ঐক্য গড়তে মরিয়া বিএনপি। একে তারা বলছে ‘জাতীয় ঐক্য’। এই ঐক্য গড়তে কামাল হোসেন এবং বিএনপির আশাবাদী। তবে যুক্তফ্রন্টের চেয়ারম্যান বদরুদ্দোজা চৌধুরী এবং তার ছেলে মাহী বি চৌধুরী শর্ত দিয়েছেন, জামায়াত ছাড়তে হবে বিএনপিকে। কিন্তু হিসাব কষে বিএনপি নেতারা বলছেন, এই জোটের চেয়ে জামায়াতের সঙ্গে বেশি ‍গুরুত্বপূর্ণ। কারণ, তাদের ভোট আছে উল্লেখযোগ্যসংখ্যক, যেটি নেই গণফোরাম আর যুক্তফ্রন্টের। তবে বিএনপির শীর্ষ নেতৃত্ব দোটানায়। না পারছে তারা জামায়াত ত্যাগ করতে, না পারছে আলোচনা বন্ধ করতে। বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল ঢাকাটাইমসকে বলেন, ‘যে জাতীয় ঐক্যের প্রক্রিয়া চলছে তার মাধ্যমে নির্বাচনের মাধ্যমে ক্ষমতায় আসতে হলে ভোটের হিসাবটা খুব জরুরি। তাই যে যাই মন্তব্য করুন তা বুঝেশুনে করা উচিত। কেউ যদি মনে করে বিএনপিকে ঘাড় নীচু করে কারও সঙ্গে ঐক্য করতে হবে তারা এমন কথা বলতে পারে। কিন্ত জাতীয় স্বার্থ রক্ষা করতে হলে ব্যক্তিগত রাগ অনুরাগের বাইরে এসে কথা বলতে হবে।’ যুক্তফ্রন্টের পক্ষ থেকে জামায়াত নিয়ে যেসব বক্তব্য দেয়া হয়েছে সেসব বিষয়ে বুধবার রাতে বৈঠক করেছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির নেতারা। সেখানে এসব বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়েছে। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় শরিক দলগুলোর সঙ্গে তারা বসছেন। তবে এর মধ্যে জামায়াত সম্প্রতি বিএনপির অনশন কর্মসূচিতে অংশ নিয়ে আগামী দিনে আন্দোলন সংগ্রামে বিএনপির পাশে থাকার ঘোষণা দিয়ে রেখেছে। গত ২৯ আগস্টের সেই অনুষ্ঠানে জামায়াত ইসলামীর কেন্দ্রীয় নায়েবে আমির মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, ‘অতীতের মতো আগামী দিনের সকল আন্দোলনেও জামায়াত ২০ দলীয় জোটের পাশে থাকবে।’ বিএনপির সঙ্গে জোটবদ্ধ একটি দলের মহাসচিব নাম প্রকাশ না করার শর্তে ঢাকাটাইমসকে বলেন, ‘জোটের মধ্যেও এমন কোনো আলোচনা হয়নি যে জামায়াত ছেড়ে দেবে বিএনপি। অন্যদিকে জামায়াতও বলে দিয়েছে তারা আগামী দিনে বিএনপি তথা জোটের সঙ্গে থাকবে। আর বিএনপিও এমন সিদ্ধান্ত নেবে বলে মনে হয় না।’ বিএনপির একজন নীতিনির্ধারক নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, ‘আমরা ঐক্য চাই। যাদের সঙ্গে কথা হচ্ছে তারাও ঐক্য চায়। সেখানে এমন কড়া শর্ত আরোপ করা কতটা যৌক্তিক তা ভেবে দেখা উচিত। কারণ শান্তি চাই, সুন্দর গ্রহণযোগ্য নির্বাচন চাই।’ জামায়াতের সঙ্গ ছাড়ার বিষয়ে জানতে চাইলে ওই নেতা বলেন, ‘তাদের তো নিবন্ধন নেই। তারা তাদের কৃতকর্মের জন্য শাস্তিও পেয়েছে। তারা আমাদের সঙ্গে জোটে আছে। তাদের বাদ দেয়ার কোনো সিদ্ধান্ত তো হয়নি।’ ১৯৯৯ সালে আওয়ামী লীগবিরোধী আন্দোলনের সময় জামায়াত, হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের জাতীয় পার্টি এবং কওমি মাদ্রাসাকেন্দ্রিক দল ইসলামী ঐক্যজোটের সঙ্গে জোট করে বিএনপি। পরে এরশাদ জোট ছেড়ে দিলে তার দলের একাংশ বিজেপি নামে জোটে থেকে যায়। বিএনপির সঙ্গে জামায়াতের ভোট যোগ হওয়ায় ২০০১ সালের নির্বাচনে বিএনপি অভাবনীয় জয় পায়। তবে ২০০৮ সালে সবচেয়ে খারাপ ফলাফল করে বিএনপি। আবার ১৯৯১ সালের জাতীয় নির্বাচনের পর আওয়ামী লীগ থেকে বের হয়ে গণফোরাম গঠন করেন কামাল হোসেন। কিন্তু তিনি নির্বাচনে সুবিধা করতে পারেননি। এর মধ্যে ১৯৯৬ সালে ধানমন্ডি-মোহাম্মদপুর আসনে দাঁড়িয়ে হারান জামানত। আর ভোটমুখো হননি তিনি। অন্যদিকে যুক্তফ্রন্টের চেয়ারম্যান সাবেক রাষ্ট্রপতি এ কিউ এম বদরুদ্দোজা চৌধুরী ছিলেন বিএনপির প্রতিষ্ঠাকালীন সদস্য। ২০০১ সালে বিএনপি জিতে আসার পর তাকে বানায় রাষ্ট্রপতি। কিন্তু এক বছর যেতে না যেতেই অসম্মানজনকভাবে পদ ছাড়তে বাধ্য করে তাকে। ২০০৪ সালে গঠন করেন নিজের দল বিকল্পধারা। ২০০৮ সালের নির্বাচনে বি. চৌধুরী ঢাকা-৬ আসনে দাঁড়িয়ে হারান জামানত। তিনি বিএনপির হয়ে মুন্সীগঞ্জের যে আসনে জিতে আসতেন, সেই আসনে তার ছেলে মাহী বি. চৌধুরী হন তৃতীয়। যুক্তফ্রন্টের অন্য দুই শরিক নাগরিক ঐক্য এবং জেএসডিও ভোটের ময়দানে লিলিপুট, সন্দেহ নেই এতটুকু। অন্যদিকে প্রধান নেতারা মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে ফাঁসিতে ঝুললেও জামায়াতের শক্তি এখনও ফেলনা নয়। বিশাল কর্মিবাহিনীর পাশাপাশি তাদের পাঁচ শতাংশের বেশি ভোটের হিসাবটা বিএনপিকে কষতেই হচ্ছে। দেশের অন্তত ৬০টির মতো আসনে বিএনপিকে ভালো করতে হলে জামায়াতের ভোট লাগবে। জামায়াত ছাড়ার প্রসঙ্গ বারবারই এসেছে বিএনপিতে। বরাবরই তারা পাশ কাটিয়েছে বিষয়টি। ভোটের হিসাবই এর কারণ। ঢাকাটাইমস
দ্বিধা-দ্বন্দ্ব ঘোচাতে রাতে শরিকদের সঙ্গে বসছে বিএনপি
অনলাইন ডেস্ক: ড. কামাল হোসেনের নেতৃত্বে জাতীয় ঐক্য গড়ার যে প্রক্রিয়া চলছে এ নিয়ে ২০ দলীয় জোটের শরিক দলগুলোর সঙ্গে বিএনপির একটি টানাপোড়েন চলছে শুরু থেকেই। বিশেষ করে জামায়াতে ইসলামীর সঙ্গে থাকা না থাকা প্রশ্নে আছে দ্বিধা-দ্বন্দ্ব। সেই দ্বিধা-দ্বন্দ্ব দূর করতে বৃহস্পতিবার রাতে ২০ দলীয় জোটের শরিকদের সঙ্গে বৈঠকে বসছেন বিএনপির শীর্ষ নেতারা। বুধবার রাতে গুলশানে বিএনপি চেয়ারপারসনের রাজনৈতিক কার্যালয়ে স্থায়ী কমিটির সদস্যদের অনানুষ্ঠানিক বৈঠকে এই সিদ্ধান্ত হয় বলে জানা গেছে। বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের সভাপতিত্বে বৈঠকে স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ, ব্যারিস্টার জমির উদ্দিন সরকার, মির্জা আব্বাস, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, ড. আব্দুল মঈন খান এবং নজরুল ইসলাম খান উপস্থিত ছিলেন। বৈঠক সূত্র জানায়, বিএনপির সর্বোচ্চ ফোরামের এই বৈঠকে আগামী শনিবারের জনসভা, চেয়ারপারসন কারাবন্দি বেগম খালেদা জিয়ার স্বাস্থ্য এবং বৃহত্তর জাতীয় ঐক্য আলোচনায় প্রাধান্য পেয়েছে। নেতারা মনে করেন, নির্বাচনকে সামনে রেখে বহুল প্রতীক্ষিত বৃহত্তর ঐক্য গঠনে দল এবং ২০ দলীয় জোটের মধ্যে যে দ্বিধাদ্বন্দ্ব সৃষ্টি হয়েছে তা সরকারের মদদেই হচ্ছে। সরকারের এই প্রচেষ্টা প্রতিহত করে ঐক্য প্রক্রিয়া ত্বরান্বিত করতে হবে। যে কারণে এ নিয়ে ২০ দলের শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে আলোচনা করা হবে। সন্ধ্যা সাতটায় গুলশানে বৈঠকটি অনুষ্ঠিত হবে। পাশাপাশি আগামী শনিবার রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে যে জনসভার ঘোষণা দেয়া হয়েছে সে বিষয়ে পুলিশের অনুমতি না মেলায় পরবর্তী করণীয় হিসেবে বৃহস্পতিবার সকালে আবারও দলের পক্ষ থেকে একটি প্রতিনিধি দল ঢাকা মহানগর পুলিশ কমিশনারের সঙ্গে সাক্ষাৎ করার সিদ্ধান্ত হয়েছে। এছাড়াও জনসভায় যুক্তফ্রন্ট এবং জামায়াত নেতাদের ইস্যুতেও আলোচনা হয়। তবে এ বিষয়ে ২০ দলের সঙ্গে বৈঠকের পর চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেয়া হবে। বেগম খালেদা জিয়ার সুচিকিৎসায় তাকে বিশেষায়িত হাসপাতালে নেয়ার জন্য সরকারের ওপর কীভাবে আরও চাপ প্রয়োগ করা যায় এসব বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। বৈঠকের বিষয়ে জানতে চাইলে চাইলে ব্যারিস্টার জমির উদ্দিন সরকার বলেন, ২৯ তারিখের জনসভার বিষয়ে আমরা আলোচনা করেছি। এখনও জনসভার অনুমতি পাননি উল্লেখ করলে তিনি বলেন, ওইদিন তো আওয়ামী লীগ তাদের সভা প্রত্যাহার করেছে। ২৯ তারিখে আমাদের জনসভা হবে। বৃহত্তর ঐক্য প্রক্রিয়া নিয়ে যে দ্বিধা-দ্বন্দ্ব তৈরি হয়েছে সে বিষয়ে কোনো আলোচনা হয়েছে কি না জানতে চাইলে তিনি বলেন, 'ঐক্য নিয়ে কোনো দ্বিধা নেই। গত শনিবার রাজধানীতে জাতীয় ঐক্য প্রক্রিয়ার নাগরিক সমাবেশে বিএনপিসহ বেশ কয়েকটি শরিক দলের নেতারা অংশ নেন। বাকিরা ঐক্য প্রক্রিয়া নিয়ে ধোঁয়াশায় আছেন দাবি করে অনুষ্ঠানে অংশ নেয়নি। যা নিয়ে জোটের ভেতরে বাইরে নানা কথাবার্তা চলছে। ঢাকাটাইমস
বিবিসিকে যা বলেছিলেন ড. কামাল
অনলাইন ডেস্ক: গত রবিবার নবগঠিত জাতীয় ঐক্যের উদ্যোক্তা ড. কামাল হোসেনের একটি সাক্ষাৎকার প্রকাশিত হয় বিবিসি বাংলায়। সেখানে তিনি জানান, ক্ষমতাসীন সরকারের অধীনে নির্বাচনে যেতে তার নীতিগত কোনো আপত্তি নেই। তার এই বক্তব্যে তোলপাড় সৃষ্টি হয়। বিএনপিসহ জোটের অন্য শরিকরা এই বক্তব্যের কড়া সমালোচনা করেন। পরে ড. কামাল হোসেন দাবি করেন, বিবিসি বাংলা তার বক্তব্য বিকৃত করেছে। আসলে তিনি বিষয়টি এভাবে বলেননি। এবার বিবিসি বাংলা ড. কামাল হোসেনের সেই সাক্ষাৎকারটি হুবহু ছাপিয়েছে অডিওসহ। নিচে তা হুবহু তুলে ধরা হলো। ড. কামাল হোসেনের কাছে বিবিসি বাংলার মোয়াজ্জেম হোসেন প্রথমেই জানতে চেয়েছিলেন, জাতীয় ঐক্য প্রক্রিয়া কি নির্বাচনী জোট, না-কি সরকার বিরোধী আন্দোলনের মঞ্চ? ড. কামাল হোসেন: পুরো সুষ্ঠু নির্বাচন করার জোট, যে কারণে এটা সম্ভব হয়েছে ইমিডিয়েটলি করে নেয়া। বিবিসি বাংলা: তাহলে আপনি বলছেন এটি ক্ষমতায় যাওয়ার লক্ষ্যে ক্ষমতাসীন দলের বিরুদ্ধে বিরোধীদের কোনো জোট নয়? ড. কামাল হোসেন: না না, মোটেই না। সরকার আসতে পারে তো এখানে। বিবিসি বাংলা: কিন্তু আমরা তো এরকম একটা সমালোচনা শুনছি যে আপনারা আসলে সরকারকে বিপদে ফেলার জন্য এবং বিরোধী দল বিএনপিকে মাঠে নামার সুযোগ করে দেয়ার জন্য এই জোটটা করেছেন। ড. কামাল হোসেন: ওনাদেরকে একটু আশ্বাস দিতে পারেন যে এরকম কোনো সিদ্ধান্ত আমাদের মাথায় ছিলই না যখন আমরা এটা করি।। শুরু ছিল যে সুষ্ঠু নির্বাচনের লক্ষ্যে যারাই নির্বাচনে, ইনক্লুডিং সরকারও, এই জোটে আসতে পারে। বিবিসি বাংলা: তো এই যে আপনারা বলছেন যে একটা সুষ্ঠু নির্বাচনের লক্ষ্যে আপনারা এই জোটটা করেছেন তো সেই সুষ্ঠু নির্বাচনের জন্য কী কী পূর্বশর্ত আপনারা সরকারকে দিচ্ছেন যে কোন কোন ব্যবস্থা গ্রহণ করলে একটা সুষ্ঠু নির্বাচন আসলে করা সম্ভব হবে? ড. কামাল হোসেন: এই যেমন সুষ্ঠু নির্বাচন হল যে, ভোটার লিস্টগুলো নিরপেক্ষভাবে, সঠিকভাবে তৈরি করা হবে। সকলকে সেই সুষ্ঠু ভোটার লিস্টের ভিত্তিতে ভোট দেয়ার সুযোগ নিশ্চিত করা হবে। বিবিসি বাংলা: কিন্তু নির্বাচনটা যে সরকার পরিচালনা করবে সেই সরকার কেমন হবে, কোন কাঠামোতে সেই সরকার পরিচালিত হবে, সে ব্যাপারে আপনাদের বক্তব্যটা কী? ড. কামাল হোসেন: সেটা তো আইনেই আছে। বুচ্ছেন না। সেখানে ইলেকশনের সময় যারা পরিচালনা করবেন তারা নিরপেক্ষ থাকবেন, তারা কোন দলীয় প্রভাবে নিয়ন্ত্রণে থাকবেন না। ইলেকশন হবে। মানে যেটা শুড বি, নট অনলি ফেয়ার, বাট বি সিন টুবি ফেয়ার, বুচ্ছেন না, এটা মানে ... বিবিসি বাংলা: কিন্তু এখন বাংলাদেশের যে সংবিধান, সেই সংবিধানে কি আসলে এমন নিরপেক্ষ লোক দিয়ে সরকার গঠনের কোনো সুযোগ আদৌ আছে? ড. কামাল হোসেন: না, সেটাতো মানে, সংবিধানে এটা তো মানুষের চরিত্রের ব্যাপার। আমরা বলছি যে বিভিন্ন দলের যারা নেতৃবৃন্দ আছেন তারা যখন একটা স্বাক্ষর করবেন যে, আমরা কেউ এখানে হস্তক্ষেপ করবো না, আমরা এই প্রক্রিয়াকে একটা নিরপেক্ষ প্রক্রিয়া হিসেবে হতে দেব। তখন আমরা ধরে নিতে পারি যে সরকারের পক্ষে যারা ওথ নিয়ে কথাগুলো বলবেন, আমাদের পক্ষে যারা ওথ নিয়ে বলবেন, তাদের তো একটা ন্যূনতম দায়িত্ববোধ থাকবে আর কি, যেটা বলবেন সেটা রক্ষা করবেন। বিবিসি বাংলা: কিন্তু এখন যে বাংলাদেশের সংবিধান, এই সাংবিধানিক কাঠামোর মধ্যে কীভাবে আসলে এই সরকারটা গঠন করা হবে। আপনাদের কি কোনো সুনির্দিষ্ট প্রস্তাব আছে? ড. কামাল হোসেন: না, সেগুলো তো আইন এবং সংবিধান দেখলে তো ওখানে বলা আছে, নির্বাচন হবে, নির্বাচন প্রতিযোগিতামূলক নির্বাচন হবে, সকলেই যারা এখানে, মানে প্রতিযোগিতা করতে চান, এসে করতে পারবেন। এবং সেটা নির্বাচন কমিশন এটার রেফারি হিসাবে পরিচালনা করবে। কোনো রকমের যদি নিরপেক্ষতা থেকে কেউ সরে যায় তো সেটাকে তারা চিহ্নিত করবে এবং এটাকে অবৈধ বলবে। এবং যদি সে, এরকম অবৈধ কোনো জিনিস না হয়, যেটা নিয়ে ইলেকশন কমিশন কে বলতে না হয় যে এ নির্বাচন অবাধ নিরপেক্ষ হল না, তখন তারা এটার রায় দেবে না আর কি। তো এগুলো তো ইলেকশন আইনের মধ্যেই আছে। বিবিসি বাংলা: তার মানে আপনি কি, আপনারা কি এটা বলতে চাইছেন যে এখন বাংলাদেশের যে সংবিধান এবং এই সংবিধানের অধীনে এখন বাংলাদেশে যে সরকার ক্ষমতায়, এই সরকারের অধীনে আপনারা নির্বাচনে যেতে রাজি? ড. কামাল হোসেন: ইন প্রিন্সিপাল, ইন প্রিন্সিপাল। এটা বলা হচ্ছে যে তারা যেগুলো, মানে আইনে আছে, এগুলো মেনেই করবেন। যদি এখান থেকে কোন দেখা যায় যে না তারা এখান থেকে সরে যাচ্ছে, অথবা কোনো রকমের প্রভাব ফেলার চেষ্টা করছে, তখন যদি এটা দৃষ্টিতে আসে, তখন তো প্রচণ্ড আপত্তি করা হবে যে এটা থেকে আপনারা বিরত থাকেন। যদি এটা থেকে বিরত ... যদি করতে থাকেন, আমি বলবো না যে করবেন, যদি আইদার সাইড দেখে যে না, এটা কোন কেউ এটা রীতিনীতি না মেনে করা হচ্ছে, তখন তো নির্বাচনকে বাতিল করার জন্য কোর্টে যেতে হবে। কোর্টকে বলতে হবে যে, এসব কারণে এটা অবাধ নিরপেক্ষ হল না, যেটা আইনের বিধান আছে যে এটা হতে হবে, সো আপনারা কোর্ট এটাকে বিবেচনা করে ডিক্লেয়ার করেন যে এটা হল না। এটা ইলেকশন এখানে সংবিধান অনুযায়ী হয়নি, তো যার কারণে এখন নতুন করে ইলেকশন আবার করতে হয়। বিবিসি বাংলা: এই যে আপনি বলছেন ইন প্রিন্সিপাল বা নীতিগতভাবে বর্তমান সরকারের অধীনে, নির্বাচনে যেতে আপনারা রাজী, এটি কি শুধু আপনাদের কথা বলছেন, নাকি আপনাদের প্ল্যাটফর্মে যতো দল এসেছে বিএনপিসহ সবার কথা বলছেন - সবাই যেতে রাজি? ড. কামাল হোসেন: না, আসলে তো আমরা এভাবে বসে এই ব্যাপারে কোনো সিদ্ধান্ত হয় নাই। আমি আমাদের দলের কথা বলছি আর কি। আর, এটা তো একটা সিম্পল প্রভিশনের আমি মনে করি যে সবাই এটা, মানে, বলতে দ্বিধাবোধ করবেন না। তবে কোনো সিদ্ধান্ত এরকম বসে আমরা নিই নাই। ঢাকাটাইমস
জাতীয় ঐক্য-কে কতটা গুরুত্ব দিচ্ছে আ.লীগ?
অনলাইন ডেস্ক: দেশে সরকারবিরোধী বৃহত্তর রাজনৈতিক জোট গঠনের লক্ষ্যে শনিবার ড. কামাল হেসেনের নেতৃত্বে ঢাকায় প্রথম প্রকাশ্য সমাবেশে বিএনপির সিনিয়র নেতারা যোগ দিয়েছিলেন। জাতীয় ঐক্য প্রক্রিয়া' নামে একটি সংগঠনের ব্যানারে এই নতুন রাজনৈতিক জোটে ড. কামাল হোসেনের সঙ্গে আছেন সাবেক রাষ্ট্রপতি বদরুদ্দোজা চৌধুরী, জাসদের একটি অংশের আ স ম আব্দুর রব এবং নাগরিক ঐক্যের মাহমুদুর রহমান মান্না। এই জোটের সাথে বৃহত্তর ঐক্য করার ব্যাপারে বিএনপিরও চেষ্টা রয়েছে। কিন্তু ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ তাদের সরকারের বিরুদ্ধে এই ঐক্য প্রক্রিয়াকে আসলে কতটা চ্যালেঞ্জ হিসেবে নিচ্ছে তা নিয়ে কৌতূহল রয়েছে। দলটির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুবুল আলম হানিফ নতুন এই জোট তাদের জন্য চ্যালেঞ্জ হবে বলে মনে করেন না তারা। বিএনপি জনবিচ্ছিন্ন হওয়ায় এবং দুর্নীতির দায়ে আদালত দ্বারা তাদের শীর্ষ নেতৃত্বের কারাদণ্ড হওয়ায় বা বিদেশে পলাতক থাকায় রাজনৈতিকভাবে তারা হতাশাগ্রস্ত ও জনবিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। তিনি বলেন, বিএনপি বহু চেষ্টা করেও জনসমর্থন না থাকায় দাবি উত্থাপন বা আন্দোলনও করতে পারেনি, এমনকি বিদেশিদের কাছে ধর্না দিয়েও সফল হয়নি। সবশেষে তারা একটি জোট করেছে। কিন্তু এই দল কারা? জনবিচ্ছিন্ন এবং জনগণ থেকে প্রত্যাখ্যাতদের সাথে জোট করে কোনো ফায়দা হবে না। কিন্তু আওয়ামী লীগে বা আওয়ামী লীগের জোটের বাইরের সব দল যদি একটি মঞ্চে আসে সেটা আওয়ামী লীগের জন্য চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়ায় কি-না? জবাবে মাহবুবুল আলম হানিফ বলেন এরশাদ আমলেও বায়াত্তর দলের জোট হয়েছিলো এবং সে দলের নেতা এখনো আছেন। এসব নামসর্বস্ব দলের নেতাদের নিয়ে জোট করলে তা নিয়ে আওয়ামী লীগের চিন্তিত হওয়ার কিছু নেই। কিন্তু এ কিউ এম বদরুদ্দোজা চৌধুরী কিংবা ড. কামাল হোসেনের ব্যক্তিগত ভাবমূর্তি কাজে লাগানোর চেষ্টার কথা বলছে নতুন জোট- এটি কি বিবেচনায় নেয়ার মতো নয়? জবাবে মাহবুবুল আলম হানিফ বলেন, আমরা মনে করি এসব জনবিচ্ছিন্ন নেতাদের নিয়ে ভাবনার কিছু নেই। কিন্তু আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদকসহ নেতারা তো এসব জোট নিয়ে রাজনৈতিক বক্তব্য দিতে দেখা যাচ্ছে, সেটি কেন তাহলে? জবাবে আওয়ামী লীগের এই নেতা বলেন, আগামী সংসদ নির্বাচনে সব দল অংশ নিক এবং নির্বাচনকে কেন্দ্র করে জোট গঠন বা সম্প্রসারণ তা হয়ে থাকে। কিন্তু এসব দলের অতীত ইতিহাস বলে তারা ষড়যন্ত্রের পথ খুঁজে বেড়ায়। ষড়যন্ত্রের জন্য কোনো জোট হলে সেটা জনগণ বরদাশত করবে না। সেটাই আওয়ামী লীগের নেতারা হয়তো বলছেন। কিন্তু শেষ পর্যন্ত এটি বৃহত্তর জোট হলে আওয়ামী লীগ কি একা হয়ে পড়বে কি-না এমন প্রশ্নের জবাবে হানিফ বলেন,আওয়ামী লীগ একা হবে কেন? নামসর্বস্ব এখন একশ ব্যক্তি নিয়ে একশ দল হলে তাদের ঐক্যের কী গুরুত্ব আছে? বিবিসি বাংলা
শেষমেশ -জাতীয় ঐক্যে- স্বাধীনতাবিরোধীর দল
অনলাইন ডেস্ক: স্বাধীনতাবিরোধী দল সঙ্গে থাকলে বিএনপির সঙ্গে কোনো ঐক্য নয়- গণফোরাম সভাপতি কামাল হোসেন এবং যুক্তফ্রন্টের এ কিউ এম বদরুদ্দোজা চৌধুরী প্রকাশ্যে একাধিকবার ঘোষণা দিলেও শেষ পর্যন্ত কথা রাখলেন না তারা। মুক্তিযুদ্ধের পর দালাল আইনে দণ্ডিত নেতার দলকে সঙ্গে নিয়েই হয়েছে ঐক্য প্রক্রিয়ার সমাবেশ। আর এই সমাবেশ থেকেই একসঙ্গে কর্মসূচির ঘোষণা এসেছে। আবার স্বাধীনতাবিরোধী জামায়াতে ইসলামীর সঙ্গে বিএনপি সম্পর্ক ত্যাগেরও ঘোষণা দেয়নি। ফলে জাতীয় ঐক্যে ১৯৭১ সালে পাকিস্তানের পক্ষে অস্ত্র ধরা দলটিও পরোক্ষভাবে থাকছে না, এটি বলারও সুযোগ নেই। শনিবার কামাল হোসেনের নেতৃত্বে জাতীয় ঐক্য প্রক্রিয়ার সমাবেশে স্বাধীনতাবিরোধী জামায়াতে ইসলামী ও মুসলিম লীগ ছিল না, এটা সত্য। তবে ১৯৭১ সালে পূর্ব পাকিস্তানে গভর্নর আবদুল মোতালেব মালেকের নেতৃত্বে মন্ত্রিসভার সদস্য মাওলানা মোহাম্মদ ইসহাকের নেতৃত্বে খেলাফত মজলিসের মহাসচিব আহমদ আবদুল কাদের উপস্থিত ছিলেন মঞ্চে। মুক্তিযুদ্ধের পর দালাল আইনে গ্রেপ্তারের পর ইসহাকের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড হয়। ১৯৭৩ সালের ১১ ফেব্রুয়ারি বাংলার বাণী পত্রিকার একটি খবরের শিরোনাম দালাল মন্ত্রী ইসহাকের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড। ৭৫ এর পট পরিবর্তনের পর ইসহাক আবার রাজনীতিতে সক্রিয় হন আর কওমি মাদ্রাসাকেন্দ্রিক দলে যোগ দেন। ২০০৫ সালে বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস ভেঙে গেলে তিনি একটি অংশের প্রধান নেতা হন। খেলাফত মজলিস নামে তার দল নির্বাচন কমিশনের নিবন্ধন পায়। এখনও তিনি বিএনপির সঙ্গে ২০ দলীয় জোটে আছেন। ইসহাকের নেতৃত্বে দলের মহাসচিব আহমদ আবদুল কাদের তার রাজনৈতিক জীবনের শুরুতে স্বাধীনতাবিরোধী জামায়াতে ইসলামীর ছাত্র সংগঠন ইসলামী ছাত্রশিবিরেই সম্পৃক্ত ছিলেন। ১৯৮২ সালে সংগঠনের সভাপতিও হন। পরে দ্বন্দ্বের জেরে শিবির ত্যাগ করেন। আগামী জাতীয় নির্বাচনকে সামনে রেখে আওয়ামী লীগবিরোধী যে বৃহৎ ঐক্য গড়ার চেষ্টা হচ্ছে তাতে বিএনপি ছাড়া আছে কামাল হোসেনের গণফোরাম এবং দুই প্রধান দলের বাইরে তৃতীয় শক্তি হওয়ার ঘোষণা দেয়া যুক্তফ্রন্ট। এর মধ্যে কামাল হোসেন একাধিকবার এমনকি বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের উপস্থিতিতে জানিয়েছেন, জামায়াত থাকলে তিনি ঐক্যের আলোচনায় নেই। একই কথা একাধিকবার জানিয়েছেন যুক্তফ্রন্টের চেয়ারম্যান এ কিউ এম বদরুদ্দোজা চৌধুরী এবং তার ছেলে মাহী বি চৌধুরী। এমনকি শনিবার ঐক্য প্রক্রিয়ার সমাবেশের আগের দিন বিএনপির তিন নেতা মির্জা ফখরুল, খন্দকার মোশাররফ হোসেন এবং মওদুদ আহমদ যখন বি. চৌধুরীর বাড়িতে যান, তখনও সে কথাই উল্লেখ করেন তিনি ও তার সন্তান মাহী। মাহী ঢাকাটাইমসকে নিজে বলেছেন, বিএনপিকে তারা বলেছেন, প্রত্যক্ষ এবং পরোক্ষ স্বাধীনতাবিরোধী দল থাকলে ঐক্য হবে না। এমনকি ঐক্য প্রক্রিয়ার সমাবেশে বি. চৌধুরী বলেন, স্বাধীনতাবিরোধী কোনো দলের সঙ্গে তারা ঐক্য করবেন না। তবে বিএনপির সঙ্গে ঐক্য হতে পারে। এর মধ্যে জামায়াতকে বাদ না দিলেও বিএনপি এবং দালাল আইনে দণ্ডিত নেতার দলের সঙ্গে ঐক্য গড়ার ঘোষণা নিয়ে কোনো ব্যাখ্যা আসেনি গণফোরাম বা যুক্তফ্রন্টের পক্ষ থেকে। এ বিষয়ে জানতে একাধিক নেতার সঙ্গে যোগাযোগ করলে তারা কেউই কথা বলতে রাজি হননি। ব্যস্ত আছেন বলে ফোন রেখে দেন। বি. চৌধুরীর দলের মহাসচিবই স্বাধীনতাবিরোধী রাজনৈতিক দলের মুক্তিযুদ্ধকালীন ভূমিকা নিয়ে বি. চৌধুরীর বক্তব্যের সঙ্গে আবার তার কর্মকাণ্ডের মিল নেই। তিনি তার দল বিকল্পধারার মহাসচিব হিসেবে এমন একজনকে নিয়েছেন যিনি ১৯৭১ সালে যুদ্ধ করেছেন বাংলাদেশের স্বাধীনতার বিরুদ্ধে। সূত্র: ঢাকাটাইমস বি. চৌধুরীর দলের দ্বিতীয় প্রধান নেতা আবদুল মান্নান পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর কর্মকর্তা ছিলেন। বাঙালি যে ৮০ জন সেনা কর্মকর্তা পাকিস্তানের পক্ষে যুদ্ধ করেছিল, তিনি তাদেরই একজন। ১৯৭১ সালের ১৬ ডিসেম্বর পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর সঙ্গে তিনিও আত্মসমর্পণ করেন আর এরপর যুদ্ধবন্দি হিসেবে ভারতে নেয়া হয়। পরে সেখান থেকে পাকিস্তানে যান। ১৯৭৩ সালে পাকিস্তান সেনাবাহিনী থেকেই অবসরে যান মান্নান। ১৯৭৫ সালে বঙ্গবন্ধুকে হত্যার পর বাংলাদেশে পুনর্বাসিত হয়ে টিসিবির চেয়ারম্যান হন মান্নান আর ১৯৯১ সালের নির্বাচনে বিএনপি থেকে মনোনয়ন পেয়ে হন সংসদ সদস্য। স্বাধীনতাবরোধীর সঙ্গে ঐক্য নয়- এমন ঘোষণা দিয়েও পাকিস্তানের পক্ষে অস্ত্রধারী নেতাকে পাশে রাখার বিষয়ে জানতে চাইলে নেতারা কেউ কথা বলতে রাজি হননি। আছেন ফখরুদ্দিনের উপদেষ্টাও ২০০৭ সালের ১১ জানুয়ারি জরুরি অবস্থা জারির পর দুই বছর দেশ চালানো তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সমালোচনায় মুখর বিএনপি। ছদ্ম সেনাশাসন হিসেবে বিবেচিত এই আমলেই গ্রেপ্তার হন দুই প্রধান নেত্রী শেখ হাসিনা ও খালেদা জিয়া। এই আমলেই দুর্নীতি দমন কমিশনের করা মামলায় পাঁচ বছরের কারাদণ্ড নিয়ে বন্দী বিএনপি নেত্রী। অথচ জাতীয় ঐক্যের ঘোষণার সময় উপস্থিত ছিলেন এই সরকারের উপদেষ্টা মইনুল হোসেনও। ঐক্যের সমাবেশে বিএনপি নেতা মওদুদের হাত ধরে ছবি তোলেন মইনুল। মইনুলের হাত ধরেন কামান হোসেন আর কামাল হোসেনের হাত উঁচিয়ে ধরে ছবি তোলেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। ২০১৬ সালের ৫ আগস্ট দেশে অবাধ, সুষ্ঠু ও কার্য্কর গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে গণফোরাম সভাপতি কামাল হোসেন জাতীয় ঐক্য প্রক্রিয়ার ঘোষণা দেন। আর এক যুগ ধরে রাষ্ট্রীয় ক্ষমতা কাঠামোর বাইরে থাকা বিএনপি জাতীয় ঐক্যের জন্য মরিয়া হয়ে চেষ্টা করছে খালেদা জিয়ার দণ্ডের পর থেকে। এই আলোচনার সময় তিনশ আসনের মধ্যে ১৫০ আসনে ছাড় দেয়া, দুই বছর প্রধানমন্ত্রিত্ব ছেড়ে দেয়ার মতো দাবিও শুনতে হয়েছে দলটিকে। আর ঐক্যের স্বার্থে ছাড় দেয়ার ঘোষণাও দিয়েছে তারা। জাতীয় ঐক্যের যে ঘোষণা এসেছে তাতে বিএনপির অবস্থান কোথায় সেটি স্পষ্ট নয়। অথচ নিঃসন্দেহে এখানে সবচেয়ে বড় দল তারাই। অন্যদের মধ্যে কামাল হোসেনের গণফোরাম, যুক্তফ্রন্টের বিকল্প ধারা ও জেএসডির প্রার্থীরা ভোটে জামানত রক্ষা করতে পারবেন কি না, এই নিয়েই আলোচনা তুঙ্গে। আরেক শরিক নাগরিক ঐক্যের মাহমুদুর রহমান মান্না যতবার জাতীয় নির্বাচনে অংশ নিয়েছেন তার কোনোটিতেই তিনি প্রতিদ্বন্দ্বিতায় আসতে পারেননি। এর মধ্যে দুইবার তিনি জামানত রক্ষা করতে পারেন আওয়ামী লীগের নৌকা পেয়ে আর একবার অন্য দলের হয়ে প্রার্থী হয়ে নগন্য সংখ্যক ভোট পান। ঢাকাটাইমস
উন্নয়নবার্তা জনে জনে পৌঁছে দিতে তৃতীয় দফার যাত্রা শুরু
অনলাইন ডেস্ক: বর্তমান সরকারের উন্নয়নের বার্তা জনে জনে পৌঁছে দিতে তৃতীয় দফা নির্বাচনী যাত্রা শুরু করেছে আওয়ামী লীগ। শনিবার (২২ সেপ্টেম্বর) সকালে ধানমন্ডির দলীয় কার্যালয় থেকে এই যাত্রা শুরু হয়। নির্বাচনী সড়ক যাত্রায় এবার ৯টি স্পটে পথসভা হবে। যাত্রা শুরুর প্রাক্কালে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেন, যাত্রায় আওয়ামী লীগের উন্নয়নের বার্তা মানুষের কাছে পৌঁছে দেবো। আমাদের নেতাকর্মীদের মধ্যে কোথাও বিবাদ-কলহ থাকলে তা মিটিয়ে এক সঙ্গে কাজ করার অনুপ্রেরণা দেওয়া হবে। তিনি বলেন, আমাদের সরকারের উন্নয়নেই নৌকা ভাসতে ভাসতে আগামী ডিসেম্বরে বিজয়ের বন্দরে পৌঁছাবে। ঐক্য প্রক্রিয়ার সমাবেশের উদ্দেশে ওবায়দুল কাদের বলেন, শান্তিপূর্ণ সমাবেশ করলে স্বাগতম। কিন্তু অশান্তি সৃষ্টি করলে উদ্ধুদ্ধ পরিস্থিতিতে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী ব্যবস্থা নেবে। আসন্ন একাদশ সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে নির্বাচনী এ পথসভা শুরু করেছে আওয়ামী লীগ। গত ৩০ আগস্ট আকাশ পথে ঢাকা থেকে সিলেটে যাত্রার মধ্য দিয়ে শুরু হয় নির্বাচনী যাত্রা। এরপর ৮ সেপ্টেম্বর ট্রেনযোগে নীলফামারীর পথে দ্বিতীয় দফায় আওয়ামী লীগের নির্বাচনী যাত্রা হয়। এবারের যাত্রা শেষ হবে ২৪ সেপ্টেম্বর। তৃতীয় দফা যাত্রার প্রথম দিন শনিবার কুমিল্লার ইলিয়টগঞ্জ স্কুল মাঠ, কুমিল্লা টাউন হল মাঠ, এইচ জে পাইলট হাইস্কুল মাঠ, চৌদ্দগ্রাম, ফেনী ট্রাংক রোড জিরো পয়েন্ট, সীতাকুণ্ডু হাই স্কুল মাঠ এলাকায় পথসভা নির্ধারিত রয়েছে। দ্বিতীয় দিন রোববার (২৩ সেপ্টেম্বর) চট্টগ্রামের শিকলবাহা ক্রসিং, এস আর স্কয়ার কর্ণফুলী, মেহেরুন্নেসা স্কুল মাঠ চুনতি লোহাগাড়া চট্টগ্রাম, চকরিয়া বাসস্ট্যান্ড চট্টগ্রাম, কক্সবাজার ঈদগাহ মাঠের সমাবেশ দিয়ে শেষ হবে এবারের নির্বাচনী যাত্রা। এ যাত্রায় ওবায়দুল কাদেরের সঙ্গে রয়েছেন আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য আব্দুল মতিন খসরু, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুব-উল আলম হানিফ, আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক এ কে এম এনামুল হক শামীম, ব্যারিস্টার মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল প্রমুখ।

রাজনীতি পাতার আরো খবর