মঙ্গলবার, আগস্ট ৪, ২০২০
লাব্বাইক ধ্বনিতে মুখরিত আরাফাত ময়দান
৩০জুলাই,বৃহস্পতিবার,নিজস্ব প্রতিবেদক,নিউজ একাত্তর ডট কম: করোনা পরিস্থিতিতে স্বাস্থ্যবিধি মেনে সৌদি আরবে সীমিত পরিসরে পালিত হচ্ছে পবিত্র হজ। পবিত্র মক্কা-মদিনায় হাজির হওয়া বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তের ধর্মপ্রাণ মুসলমান বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) আরাফাতের ময়দানে সমবেত হয়েছেন। লাব্বাইক, আল্লাহুম্মা লাব্বাইক, লাব্বাইক লা শারিকা লাকা লাব্বাইক, ইন্নাল হামদা ওয়াননি মাতা লাকা ওয়ালমুলক লা শারিকা লাকা ধ্বনিতে তারা জানান দিচ্ছেন তাদের উপস্থিতির কথা। সঙ্গে পাপমুক্তির বাসনায় মহান আল্লাহর স্তুতি গাইছেন, হে আল্লাহ তোমার কোনো শরিক নেই। ইসলামের পাঁচ স্তম্ভের অন্যতম হজ পালনের এ দিনে হাজিরা সূর্যোদয় থেকে সূর্যাস্ত পর্যন্ত আরাফাতের ময়দানে থাকবেন। দিনভর চলবে তাদের ইবাদত বসে ইবাদত করবেন। মসজিদে নামিরা থেকে হজের খুতবা দেন শেখ আবদুল্লাহ বিন সুলাইমান আল-মানিয়া। প্রতিবছর ৯ জিলহজ আরাফাতের ময়দানে হজের খুতবা অনুষ্ঠিত হয়। সাধারণত আরবি ভাষাতেই এ খুতবা অনুষ্ঠিত হয়ে থাকে। তবে গত বছর পাঁচটি ভাষায় এ খুতবার অনুবাদ প্রচারিত হয়েছিলো। কিন্তু এবার আরবি ছাড়াও ১০টি ভাষায় খুতবা প্রচার হচ্ছে। যার মধ্যে বাংলাও রয়েছে। অন্য ভাষাগুলো হচ্ছে- ইংরেজি, মালে, উর্দু, ফার্সি, ফ্রেঞ্চ, মান্দারিন, তুর্কি, রাশিয়ান এবং হাওসাবি। এদিন দুনিয়া ও আখিরাতের কল্যাণ, রহমত প্রাপ্তি ও নিজেদের গোনাহ মাফের জন্য আল্লাহতাআলার দরবারে অশ্রুসিক্ত নয়নে ফরিয়াদ জানান সমবেত ধর্মপ্রাণ মুসলিমরা।
জুমার দিনের জানা-অজানা আমল
২৪,জুলাই,শুক্রবার,নিজস্ব প্রতিবেদক,নিউজ একাত্তর ডট কম: শুক্রবার মুসলমানদের জন্য বরকতময় একটি দিন। দিনটিকে মহান আল্লাহ তাআলা ইহুদি ও নাছারাদের ওপর ফরজ করেছিলেন। কিন্তু তারা মতবিরোধ করে দিনটিকে প্রত্যাখ্যান করে। পরে ইহুদিরা শনিবার এবং খ্রিস্টানরা রোববারকে তাদের ইবাদতের দিন বানায়। অবশেষে আল্লাহ তাআলা উম্মতে মুহাম্মদির জন্য এক মহান ও ফজিলতের দিন হিসেবে শুক্রবার দিনটিকে দান করেন। যা উম্মতে মুহাম্মদি সাদরে গ্রহণ করে (বুখারী, হাদিস নং: ৮৭৬, মুসলিম, হাদিস নং: ৮৫৫)। অথচ কিছু অজ্ঞতা এবং অতি ধর্মীয় কিছু অনুভূতি থেকে আমরা এ দিনে এমন কিছু আমল করি বা দিনটিকে নিয়ে আমরা এমন কিছু ভাবি যার সমর্থনে পবিত্র কোরআন এবং হাদিসে কোনো দলিল খুঁজে পাওয়া যায় না। এমন কিছু বিষয় নিয়ে নিচে আলোচনা করা হলো। ক. শুক্রবারে কবর জিয়ারত করা: কবর জিয়ারত করা সুন্নত। রাসূল (সা.) এ ব্যাপারে আমাদের উৎসাহ দিয়েছেন। হাদিসে এসেছে, বুরাইদা আসলামী মহানবী (সা.) হতে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন, আমি তোমাদের কবর জিয়ারত করতে নিষেধ করেছিলাম। কিন্তু আমাকে আমার মাতার কবর জিয়ারতের অনুমতি দেওয়া হয়েছে। সুতরাং তোমরা তোমাদের মৃতদের কবর জিয়ারত কর। কেননা, তা তোমাদের আখেরাতের কথা স্মরণ করিয়ে দেয় (সহিহ মুসলিম, হাদিস নং: ১০৭)। সাধারণত শুক্রবার জুমার নামাজের পর মুসল্লিরা গোরস্থানে কবর জিয়ারত করতে যান এবং সেখানে যথেষ্ট ভিড় সৃষ্টি করেন দেখা যায়। এ থেকে প্রশ্ন এসে যায়, শুক্রবারে কবর জিয়ারত করা কি আবশ্যক এবং অধিক সোওয়াবের কাজ। এ সম্পর্কে শায়খ আহমাদুল্লাহ বলেন, শুক্রবার জুমার সালাতের পর অবসর রয়েছে। সুতরাং এ সময় কোনো ব্যক্তি কখনও কখনও কবর জিয়ারত করতে পারেন। কিন্তু এটাকে শুক্রবারের অবশ্য করণীয় কাজ বা এটাকে সুন্নত বানিয়ে ফেলার কোনো সুযোগ নেই। কেননা কোরআন এবং হাদিসে কবর জিয়ারতের জন্য শুক্রবারকে নির্ধারণ করা বা শুক্রবারের নির্দেশিত আমলগুলোর মধ্যে এ কথা কোথাও উল্লেখ নেই। এছাড়া শুধু শুক্রবার কবর জিয়ারত করা সম্পর্কে যে হাদীস বর্ণিত হয়েছে, তা সঠিক নয় বলে উল্লেখ করা হয়েছে। বলা হয়েছে, উক্ত হাদিসের সনদে মুহাম্মদ ইবনু নু মান নামের যে রাবী রয়েছেন, তিনি অপরিচিত এবং ইয়াহইয়া নামের রাবী মিথ্যুক (সিলসিলা যঈফাহ, হাদিস নং: ৫৬০৫, মিশকাত, হাদিস নং: ১৬৭৬)। খ. শুক্রবারে নফল রোজা রাখা: শুক্রবার হলো সাপ্তাহিক ঈদের দিন (ইবনে মাজাহ, হাদিস নং: ১০৯৮)। নফল রোজা রাখার জন্য শুক্রবারকে নির্ধারণ বা নিদিষ্ট করে নেওয়া নিষেধ। তবে কেউ যদি বৃহস্পতি এবং শুক্রবার অথবা শুক্র ও শনিবার রোজা রাখেন অথবা আইয়ামুল বিজের অর্থাৎ প্রত্যেক আরবি মাসের ১৩, ১৪ ও ১৫ তারিখে যদি রোজা পালন করেন, আর সেটা করতে গিয়ে যদি শুক্রবারে পড়ে যায়, তবে তা জায়েজ। এ সম্পর্কে হাদিসে এসেছে, হযরত আবু হুরায়রা (রা.) কর্তৃক বর্ণিত রাসূল (সা.) ইরশাদ করেন, তোমাদের কেউ জুমার আগে বা পরে একদিন মেলানো ব্যতিত শুধু জুমার দিন রোজা রেখো না (সহীহ বুখারী, হাদিস নং: ১৮৮৪, মুসলিম, হাদিস নং: ২৫৪৫)। গ. শুক্রবারে মৃত্যু হলে জান্নাত: অনেকেই এ কথা বলে থাকেন যে, শুক্রবারে জান্নাতের দরজা খুলে দেওয়া হয় সুতরাং এ দিন কেউ মৃত্যুবরণ করলেই বিনা হিসেবে জান্নাতে চলে যাবেন। কিন্তু এ মর্মে কোনো দলিল কোরআন বা হাদিস কোথাও খুঁজে পাওয়া যায় না। বরং হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে ওমর (রা.) বর্ণনা করেন, রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, যেকোনো মুসলমান জুমার দিনে কিংবা জুমার রাতে মৃত্যুবরণ করবে। নিশ্চয় আল্লাহ তাআলা তাকে কবরের ফেতনা থেকে বাঁচিয়ে রাখবেন (তিরমিজী, হাদিস নং: ১০৯৫, মিশকাত, হাদিস নং:১৩৬৭)। উপর্যুক্ত হাদিসের আলোকে ইসলামি স্কলারগণ বলে থাকেন যে, শুক্রবারে মৃত্যুবরণ করলে বিনা হিসেবে জান্নাত বা কিয়ামত পর্যন্ত কবরের আজাব মাফ এ কথা বলার কোনো সুযোগ নেই। এ সম্পর্কে মুল্লা আলী কারী (রহ.) তার মিনাহুর রওদিল আযহার ফি শরহে ফিকহুল আকবার (পৃষ্ঠা: ২৯৫-২৯৬) এ বলেন, জুমার দিনে বা রাতে যে মারা যাবে, তার থেকে কবরের আজাব উঠিয়ে নেওয়া হবে এটা মোটামুটি প্রমাণিত। তবে কিয়ামত পর্যন্ত আজাব আর ফিরে আসবে না এ কথার কোনো ভিত্তি আমার জানা নেই। ঘ. জুমার পরে জোহরের সালাত: অনেকেই এ কথা বলে থাকেন যে, বাড়িতে মহিলাদের জোহরের সালাত জুমার পরে পড়তে হবে। কিন্তু এনটিভিতে প্রচারিত আপনার জিজ্ঞাসা প্রশ্নোত্তর পর্বে ড. মুহাম্মদ সাইফুল্লাহ বলেন, যেহেতু মহিলাদের জন্য জুমার সালাত ওয়াজিব নয় সুতরাং ওয়াক্ত হলেই তারা বাড়িতে জোহরের সালাত আদায় করতে পারবেন। এর জন্য তাদের জুমার খুতবা বা সালাত শেষ হওয়া পর্যন্ত অপেক্ষা করার কোনো প্রয়োজন নেই। একইসঙ্গে মহিলাদের জোহরের সালাত জুমার পর পড়তে হবে মর্মে কোনো দলিল কোরআন বা হাদিসে কোথাও খুঁজে পাওয়া যায় না। মহান আল্লাহ তাআলা আমাদের প্রত্যেকটি আমল জেনে-বুঝে করার তৌফিক দান করুন। আমিন।
জিহ্বা সংযত রাখুন, নিরাপদ থাকুন
১৬,জুলাই,বৃহস্পতিবার,নিজস্ব প্রতিবেদক,নিউজ একাত্তর ডট কম: শেষ জমানায় মানুষের জবান বেশি দারাজ হয়ে যাবে। অসংলগ্ন ও অনুচিত কথা অধিক হারে বলতে থাকবে। আর এ কারণে বিভেদ ও বিদ্বেষের আগুনে মানুষ জ্বলতে থাকবে। বিপদের মুহূর্তে অপ্রয়োজনীয় বিষয় নিয়ে মাতামাতি করা, প্রজ্জ্বলিত আগুনে ঘি ঢালা এবং দূর থেকে বসে তা উপভোগ করা- এ সবই বর্জনীয় ও নিন্দিত। এগুলো থেকে যে বেঁচে থাকতে পারবে, সেই মুক্তি পাবে, ইনশাআল্লাহ। কথা বেশি বলার মধ্যে উপকারিতা কম, নীরব থাকায় লাভ বেশি। সময়ে সময়ে চর্বিতচর্বণ নানা বিষয়ে যেসব বিতর্ক-বিবাদ হয়ে থাকে, তার বেশিরভাগের সূচনা হয় জিহ্বা থেকে। তাই জিহ্বাকে যে যত বেশি সংযত রাখতে পারবে, তার ওপর যার যতো বেশি নিয়ন্ত্রণ থাকবে, সে ততো বেশি নিরাপদ থাকবে। অনেক সময় সক্ষমতা থাকলেও বিভিন্ন বিষয় এড়িয়ে যাওয়া উচিত; এটাকে বলে দূরদর্শিতা। কখনো সখনো সুযোগ থাকা সত্ত্বেও সুযোগ গ্রহণ না করাই উচিত; এটাকে বলে উদারতা। আর কখনোবা যোগ্যতা থাকা সত্ত্বেও বৃহৎ স্বার্থে নীরব থাকা উচিত; এটাকে বলে বিনয় ও নম্রতা। বর্তমানে যেমন- ইলম ও প্রজ্ঞার দেখা পাওয়া ভার, তার চেয়েও অনেক বেশি বিরল দূরদর্শিতা, উদারতা ও নম্রতার দেখা পাওয়া। বস্তুত জীবনের প্রতিটি যুদ্ধে, প্রতিটি লড়াইয়ে জয়ী হওয়ার দরকার নেই। কখনো বাহ্যত পরাজিত হয়েও আখেরে জয়ী হওয়া যায়। কথাটি যদিও একটু সূক্ষ্ম, তবে ইতিহাসপড়ুয়া ও বিবেকবানদের জন্য এতটুকুই যথেষ্ট। ধৈর্যধারণ, রাগ নিয়ন্ত্রণ, ভাষার মিষ্টতা ও উদারতা প্রতিটি সত্য প্রচারকের জন্য আবশ্যকীয় বৈশিষ্ট্য। এসব গুণ ভালোভাবে অর্জন না হলে পদে পদে অনেক ধাক্কা খেতে হয়; এমনকি পদস্খলনের আশঙ্কাও থেকে যায়। আক্রমণ-প্রতিআক্রমণের দ্বারা বেশিরভাগেরই হিদায়াত নসিব হয় না; উল্টো এতে মানুষের মধ্যে জিদ, গোঁড়ামি ও দলান্ধতা শিকড় গেড়ে বসে। তাই আমাদের প্রতিটি আচরণ, প্রতিটি কথা ও প্রতিটি পদক্ষেপ যেন সঠিক হয়, সে ব্যাপারে সতর্ক দৃষ্টি রাখা কাম্য। একটি বিশুদ্ধ হাদিস স্মরণ করিয়ে দিতে চাই। আশা করি, এতে সবার চিন্তার খোরাক হবে। ইমাম তিরমিজি রহ. বর্ননা করেন: عَنْ مُعَاذِ بْنِ جَبَلٍ، قَالَ: كُنْتُ مَعَ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فِي سَفَرٍ... ثُمَّ قَالَ: أَلاَ أُخْبِرُكَ بِرَأْسِ الأَمْرِ كُلِّهِ وَعَمُودِهِ، وَذِرْوَةِ سَنَامِهِ؟ قُلْتُ: بَلَى يَا رَسُولَ اللهِ، قَالَ: رَأْسُ الأَمْرِ الإِسْلاَمُ، وَعَمُودُهُ الصَّلاَةُ، وَذِرْوَةُ سَنَامِهِ الجِهَادُ, ثُمَّ قَالَ: أَلاَ أُخْبِرُكَ بِمَلاَكِ ذَلِكَ كُلِّهِ؟ قُلْتُ: بَلَى يَا نَبِيَّ اللهِ، فَأَخَذَ بِلِسَانِهِ قَالَ: كُفَّ عَلَيْكَ هَذَا، فَقُلْتُ: يَا نَبِيَّ اللهِ، وَإِنَّا لَمُؤَاخَذُونَ بِمَا نَتَكَلَّمُ بِهِ؟ فَقَالَ: ثَكِلَتْكَ أُمُّكَ يَا مُعَاذُ، وَهَلْ يَكُبُّ النَّاسَ فِي النَّارِ عَلَى وُجُوهِهِمْ أَوْ عَلَى مَنَاخِرِهِمْ إِلاَّ حَصَائِدُ أَلْسِنَتِهِمْ. মুআজ বিন জাবাল রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি একবার রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর সাথে সফরে ছিলাম। তিনি বললেন, আমি কি সমস্ত কাজের মূল, স্তম্ভ ও সর্বোচ্চ শিখর সম্পর্কে তোমাকে অবহিত করব না? আমি বললাম, হ্যাঁ, হে আল্লাহর রাসুল সা.। তিনি বললেন, সকল কাজের মূল হলো ইসলাম, তার স্তম্ভ হলো সলাত, আর তার সর্বোচ্চ শিখর হলো জিহাদ। তিনি আরও বললেন, আমি কি তোমাকে এসব কিছুর সার সম্পর্কে বলব না? আমি বললাম, হ্যাঁ, হে আল্লাহর নবি সা.। তিনি তার জিহ্বা ধরে বললেন, এটা সংযত রাখো। আমি প্রশ্ন করলাম, হে আল্লাহর নবি সা., আমরা যে কথাবার্তা বলি, এগুলো সম্পর্কেও কি আমাদের পাকড়াও (জবাবদিহি করা) হবে? তিনি বললেন,হে মুআজ, তোমার মা তোমাকে হারিয়ে ফেলুক! মানুষকে তো কেবল জিহ্বার উপার্জনের কারণেই অধঃমুখে জাহান্নামে নিক্ষেপ করা হবে। (সুনানুত তিরমিজি : ৪/৩০৮, হা. নং ২৬১৬, প্রকাশনী : দারুল গারবিল ইসলামি, বৈরুত) হাদিসটি নিয়ে একটু চিন্তা করুন। বেশি না, সামান্য। মানুষকে তো কেবল জিহ্বার উপার্জনের কারণেই অধঃমুখে জাহান্নামে নিক্ষেপ করা হবে -এ অংশটি আবারও পড়ুন, আবারও, আবারও। একটু চোখ বন্ধ করে ভেবে দেখুন, আমাদের জবানের হিফজত হচ্ছে তো? আমরা সত্যিই জিহ্বার সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত করছি তো? ঠাণ্ডা মাথায় এ হাদিসটি নিয়ে চিন্তা করলে অনেক প্রশ্নের জবাব পেয়ে যাবেন, অনেক সমস্যার সমাধান পেয়ে যাবেন। কী করতে হবে, আর কী করা উচিত বা অনুচিত, তা নতুন করে আর বলে দিতে হবে না। সবার প্রতি একটাই অনুরোধ থাকবে, নীরব থাকুন আর সত্যটা সঠিক উপায়ে খুঁজতে থাকুন। অসংলগ্ন কথা বলে নিজেও বিপদে পড়বেন না, অন্য ভাইদেরও বিপদে ফেলবেন না। সততা, ইখলাস, হিম্মত, বিনয় ও সত্য পাওয়ার তীব্র আকাঙ্খা আপনাকে হতাশ করবে না। আল্লাহ নিশ্চয়ই সব দেখছেন; তিনিই আপনাকে সঠিক পথ দেখাবেন। আল্লাহ আমাদের পক্ষপাতিত্ব, খিয়ানত, অহংকার, অপবাদ ও হিংসা থেকে রক্ষা করে সত্যানুসন্ধান, সততা, বিনয়, উদারতা ও ধৈর্যসহ সকল উত্তম বৈশিষ্ট্য দান করুন। পবিত্র কুরআনের সূরা মুমিনুনের প্রথম তিনটি আয়াতে মহান আল্লাহ বলেন, নিঃসন্দেহে (সে সব) ঈমানদার ব্যক্তিরা সফলকাম। যারা নিজেদের নামাজে একান্ত বিনয়ানত থাকে। যারা অর্থহিন, বেহুদা কথা ও কাজ থেকে নিজেদেরকে বিরত রাখে। এই সূরার প্রথম এগারটি আয়াতে যে বিষয়টি উপস্থাপন করা হয়েছে তা হচ্ছে- একজন বিশ্বাসীর মধ্যে যে সকল গুণাবলী থাকা আবশ্যক। যেমন- একজন বিশ্বাসীর প্রথম কাজ হলো- সে নামাজে মনযোগি হবেন এবং একান্ত বিনয় এবং মনোযোগের সাথে নামাজ আদায় করবেন। তিনি অপ্রয়োজনীয় কথা ও কাজ থেকে বিরত থাকবেন। এই আয়াতে দেখা যাচ্ছে- প্রকৃত বিশ্বাসীর অন্যতম গুণাবলী হবে- অপ্রয়োজনীয় কথা ও কাজ থেকে বিরত থাকা। কারণ এই অপ্রয়োজনীয় কথা ও কাজ মানুষকে বিভ্রান্ত করে এবং ভুল চিন্তার দিকে নিয়ে যায়। পরিণতিতে জাহান্নাম। অন্যদিকে, আল্লাহ তায়লা এই গুণাবলীর অধিকারীদের জাহান্নাম থেকে মুক্তিপ্রাপ্ত বলে ঘোষণা দিয়েছেন। হায়! মানুষ যদি জানত, জিহ্বার মধ্যে কী পরিমাণ ফিতনা ও ফাসাদ নিহিত রয়েছে, তাহলে অধিকাংশ মানুষ কথাই বলত না! মানুষ কথা বলে নিজের ভালোর জন্য, কিন্তু কথার মধ্যে যদি নিজের চিরমুক্তির পথটাই রুদ্ধ হয়ে যায়, তাহলে বুদ্ধিমান এমন কে আছে, যে স্বেচ্ছায় সে পথ মাড়াবে? বুদ্ধিমানরা কথা বলে মেপে মেপে। যতটুকু বললে লাভ নিশ্চিত, ততটুকুই বলে। ক্ষতি বা আশঙ্কার পথগুলো এড়িয়ে চলে। কোথাও ক্ষতির সামান্য সংশয় থাকলেও তার থেকে দূরে থাকে। তাই মন চাইলেই যখন তখন যাকে তাকে ইচ্ছেমতো কিছু বলে দেওয়াটা বাহাদুরি নয়; বরং নির্বুদ্ধিতা। আর এ নির্বুদ্ধিতাটাই তাকে জাহান্নামের দিকে নিয়ে যাবে; যেমনটি হাদিসে বলা হয়েছে। আল্লাহ আমাদের জবানকে যথাযথভাবে ব্যবহার করার তাওফিক দিন এবং এটাকে ভুল পথে ভুল জায়গায় ব্যবহার করা থেকে রক্ষা করুন।সূত্র: একুশে টেলিভিশন
জুম আর খুতবা- ইসলামে পরনিন্দা হারাম
০৩,জুলাই,শুক্রবার,নিজস্ব প্রতিবেদক,নিউজ একাত্তর ডট কম: সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য, যিনি মুমীনদেরকে পরস্পর কল্যাণধর্মী ও তাকাওয়াভিত্তিক কাজে সহযোগী হওয়ার নির্দেশ করেছেন। একে অপরের মান সম্মান ও সম্পদের মর্যাদা রক্ষায় বিশেষভাবে গুরুত্বারোপ করেছেন। আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ছাড়া কোন মাবুদ নেই, তিনি একক, অদ্বিতীয়। তাঁর কোন অংশীদার নেই, তিনি আসমান ও জমীনের অধিপতি। আরো সাক্ষ্য দিচ্ছি যে আমাদের মহান নবী অভিভাবক হযরত মুহাম্মদ মুস্তফা সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর প্রিয় বান্দা ও মনোনীত রাসূল। তাঁর উপর দরুদ সালাম বর্ষিত হোক, তাঁর পবিত্র বংশধরগণ সম্মানিত সাহাবাগণ এবং নিষ্ঠার সাথে তাঁর পদাঙ্ক অনুসারীদের উপর অসংখ্য করুণাধারা বর্ষিত হোক। হে মানব মন্ডলী! আল্লাহ তায়ালাকে ভয় করুন। মুসলিম ভাতৃত্বের সম্মান ও মর্যাদা রক্ষায় সচেষ্ট থাকুন। মুসলমান হিসেবে অন্য মুসলমানের গীবত করার মতো জগন্যতম মারাত্মক ব্যাধি থেকে নিজকে রক্ষা করুন। আলকুরআনের আলোকে পরনিন্দা: মহান আল্লাহ তায়ালা গীবতের ভয়াবহ পরিণতি ও কঠিন শাস্তির কথা ঘোষণা করেছেন, গীবতকারী ও পরনিন্দাকারীকে মৃত-ভ্রাতার মাংস ভক্ষণ করার সাথে তুলনা করা হয়েছে। এরশাদ হয়েছে হে মুমীনগণ তোমরা অনেক ধারণা বর্জন করো, নিশ্চয় কোন কোন ধারণা পাপ আর তোমরা পরস্পর দোষ অনুসন্ধান করোনা এবং একে অপরের গীবত করোনা। তোমাদের মধ্যে কেউ কি তার মৃত ভাইয়ের মাংস ভক্ষণ করতে পছন্দ করবে? তোমরা তো অবশ্যই তা ঘৃণা করো। তোমরা আল্লাহকে ভয় করো, নিশ্চয় আল্লাহ তাওবা কবুলকারী, পরম দয়ালু। (সুরা, আহযাব, আয়াত নং ১২)। গীবত অর্থ ও প্রাসঙ্গিক কথা: গীবত একটি আরবি শব্দ। কোন মানুষের অনুপস্থিতিতে তার সম্পর্কে তার এমন কোন দোষ অন্যজনের কাছে বলা বা প্রচার করা যা সে অপছন্দ করে বা শুনলে মনে কষ্ট পাবে তাই গীবত। বা পরনিন্দা। শরিয়তে গীবতকে হারাম ঘোষণা করা হয়েছে। এটা এমন এক মারাত্মক ব্যাধি যে ব্যাধিতে আজ গোটা সমাজ আক্রান্ত। পরিবার সমাজ ও দেশের সর্বত্র কোন না কোনভাবে প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ কমবেশী সকলেই আজ এ অপকর্ম তথা গুনাহের সাথে জড়িত। তবে আল্লাহ যার প্রতি বিশেষ দয়াপরবশ হন তিনি ব্যতীত। গীবত শব্দের বাংলারূপ পরনিন্দা, পরচর্চা, নিন্দা করা বা কুৎসা রটনা করা অর্থাৎ কারো অনুপস্থিতিতে তার সম্বন্ধে খারাপ মন্তব্য করা, মন্দ কিছু বলা, যা কিছু বলা হয় তা যদি সত্যিই তার মধ্যে থাকে তা অবশ্যই গীবত হবে। আর যদি তা তার মধ্যে না থাকে তা অপবাদ হিসেবে গণ্য হবে। প্রখ্যাত তাবেঈ হযরত হাসান বসরী রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুর বর্ণনামতে অন্যের কুৎসা রটনায় তিন ধরনের গুনাহ হতে পারে। ১. অন্যের মধ্যে যে দোষ রয়েছে তা আলোচনা করা গীবত। ২. যে দোষ তার মধ্যে নেই তা আলোচনা করা অপবাদ। ৩. যাচাই বাছাই করা ব্যতীত তার সম্পর্কে কেবল শুনা কথা আলোচনা করা মিথ্যাচার করার শামিল। (সূত্র. ইমাম গাযযালী: ইয়াহ্ইয়াউ উলুমুদ্দীন, খন্ড ৩৩, পৃ. ১৪৪)। গীবত ব্যবিচারের চেয়েও মারাত্মক: হযরত আবূ সাঈদ রাদ্বিয়াল্লাহু তা আলা আনহু হতে বর্ণিত, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এরশাদ করেছেন, গীবত হলো ব্যভিচারের চেয়েও মারাত্মক। সাহাবাগণ বললেন, ইয়া রাসূলাল্লাহ গীবত কি করে ব্যভিচারের চেয়ে মারাত্মক? রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, কোন ব্যক্তি যদি ব্যভিচার করার পর তাওবা করে আল্লাহ তার তাওবা কবুল করেন, কিন্তু যার গীবিত করা হয়েছে সে যদি গীবতকারীকে ক্ষমা না করে তাহলে আল্লাহ তাকে ক্ষমা করবেন না। (বায়হাক্বী শরীফ)। হযরত আবূ হুরায়রা রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এরশাদ করলেন, তোমরা কি জান? গীবত কাকে বলে? সাহাবাগণ বললেন, আল্লাহ ও তাঁর রসূলই সবচেয়ে ভাল জানেন। রসূলুল্লাহ্ এরশাদ করেন, তুমি তোমার মুসলমান ভাইয়ের আলোচনা (তার অনুপস্থিতিতে) এমনভাবে করবে যে সে তা শুনলে অসন্তুষ্ট হবে। অতঃপর রসূলুল্লাহ্কে প্রশ্ন করা হলো যদি আমার ভাইয়ের মধ্যে তা বিদ্যমান থাকে তাহলেও কি গীবত? রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম উত্তর দিলেন তুমি যা বলছ তা যদি তার মধ্যে বিদ্যমান থাকে তা হবে গীবত। আর তা যদি তার মধ্যে বিদ্যমান না থাকে তা হবে অপবাদ। (মুসলিম শরীফ)। গীবতের তথা পরনিন্দার ধরণ: পরনিন্দা ও পরচর্চায় লিপ্ত এক শ্রেণির লোক অন্যজনের দোষত্রুটি কুৎসা রটনা ও সমালোচনামূলক গর্হিত কাজে সর্বদা ব্যস্ত থাকে। ব্যক্তির চলাফেরা, দেহাকৃতি, চোখ, নাক, কান, হাত, পা, উঠাবসা, কাজ-কর্ম, বংশ, চরিত্র, ধর্মকর্ম পোশাক পরিচ্ছদ ইত্যাদি বিষয়ে ব্যাঙ্গাত্মক মন্তব্য করা তার অনুপস্থিতিতেও অরুচিকর অশোভন, অপ্রিয় কথা বলা, এসবই গীবতের পর্যায়ভুক্ত। গীবতের কারণ: ক. পরনিন্দা বা গীবতের অন্যতম প্রধান কারণ হলো ক্রোধ, হাদীস শরীফে এসেছে, বলবান সেই নয় যে কুস্তিতে অন্যজনকে পরাজিত করেছে বরং সেই বলবান যে ক্রোধের সময় নিজেকে নিয়ন্ত্রণ করতে পেরেছে। আমাদের সমাজে কেউ কারো প্রতিক্ষুদ্ধ হলে অবলীলায় তার দোষত্রুটি বর্ণনা করতে থাকে, সত্য মিথ্যা, ভাল-মন্দ, ন্যায়-অন্যায়, হালাল-হারাম, তোয়াক্কা না করে স্বাধীনভাবে ব্যক্তির বিরুদ্ধে যা ইচ্ছা তাই ব্যক্ত করতে থাকে। গীবতের মাধ্যমেই ক্রোধ নিবারণ করতে থাকে। তবে আদর্শবান মুত্তাকী পরহেযগার দীনদার চরিত্রবান শান্তিপ্রিয় ও মুক্তিকামী সত্যান্বেষী মানুষেরা গীবতের পরিণাম ও ভয়াবহতা সম্পর্কে অবগত। তারা ক্রোধের বশবর্তী হয়ে গীবতের আশ্রয় নেয় না। তারা গীবত পরিহার করেন। খ. সহযোগীদের সঙ্গে একাত্মতা প্রকাশের জন্য গীবত করা: অনেকে আছেন যারা বন্ধু-বান্ধব ও ঘনিষ্টজনদের সন্তুষ্টি অর্জনের স্বার্থে অন্যজনের গীবত চর্চায় লিপ্ত হয়। তারা মনে করে এ কাজে বন্ধুবান্ধবদের সাথে দ্বিমত প্রকাশ করলে সম্পর্কের অবনতি ঘটবে, দূরত্ব সৃষ্টি হবে, মনোমালিন্য হবে, বন্ধু-বান্ধবদের অন্তরে ক্ষোভ বা অসন্তেষ সৃষ্টি হতে পারে তাই সঙ্গী সাথীদের সাথে তাল মিলিয়ে আল্লাহ ও তাঁর রসূলের সন্তুষ্টিকে অগ্রাহ্য করে গুনাহের বোঝা মাথায় নিয়ে অন্যজনের গীবত করা হয়, এ অনৈতিক আচরণ ও গর্হিত বিবেকবর্জিত বদ আমল তাকে জাহান্নামে নিয়ে যাবে। মুমিনের জীবনের লক্ষ্য উদ্দেশ্য হবে একমাত্র প্রতিটি কাজে আল্লাহ ও তাঁর রসূলের সন্তুষ্টি অর্জন। গ. অন্যকে তুচ্ছ করার জন্য গীবত করা: অন্যকে তুচ্ছ করা ও নিজকে বড় মনে করার মনোভাব পোষণ করে অন্যজনের গীবত করা হয়। যেমন অনেক জ্ঞানী লোককে দেখা যায় অপর জ্ঞানী লোককে নিজের প্রতিপক্ষ ভেবে তার উপর নিজের কর্তৃত্ব ও শ্রেষ্ঠত্ব জাহির করার জন্য তাকে হেয় ও তুচ্ছভাবে উপস্থাপন করা হয়। সংকীর্ণ মানসিকতা, স্বার্থপরতা, হীনমন্যতা ও অহংকারবোধে অন্যকে কলংকিত করার জন্য গীবত করা হয়। এ ধরনের গর্হিত চরিত্রের লোকেরা সমাজের জন্য ক্ষতিকর। মাযহাব, মিল্লাত, ইসলামী আদর্শ প্রতিষ্ঠার পবিত্র অঙ্গনে এ ধরনের লোকদের ভূমিকা নিতান্তই নিন্দনীয়, সমাজে এরা ঘৃণিত। ঘ. ঈর্ষাপরায়ণতা: এক শ্রেণির লোক অন্যজনের উন্নতি অগ্রগতি সুনাম, খ্যাতি মোটেই সহ্য করতে পারেনা, সর্বজনশ্রদ্ধেয় গুণিজন ও শ্রদ্ধার পাত্র সম্মানিত ব্যক্তিদের সর্বত্র গ্রহণযোগ্যতার প্রতি ঈর্ষান্বিত হয়ে অনেক সময় ব্যক্তির গীবত করা হয়, এতে গীবতকারীই ক্ষতিগ্রস্ত হয় ও নিন্দিত হয়। ঙ. কর্ম বিমুখতা: অলস মস্তিষ্ক শয়তানের কারখানা। বেকারত্ব দেশ ও জাতির জন্য অভিশাপ। কর্মবিমুখ অলস ব্যক্তির সময় কাটেনা, শয়তানের প্ররোচনায় তারা অন্য জনের দোষত্রুটি, কুৎসা ও সমালোচনায় লিপ্ত হয়ে সময় অতিবাহিত করে। নিজের স্বার্থের বিপরীতে অপছন্দের লোকের গীবত চর্চা করে আত্মতুষ্টি লাভ করে। চ. পরনিন্দা করা অযোগ্য ও হিংসুক লোকের চরিত্র: অনেক সময় কম যোগ্যতাসম্পন্ন লোকেরা যোগ্যতাসম্পন্ন দায়িত্বশীল লোকদের সামনে নিজদের কর্মদক্ষতা, যোগ্যতা প্রমাণে ব্যর্থ হয়ে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে গীবত, সমালোচনা করে নিজের অযোগ্যতা অদক্ষতা, কর্মবিমুখতা, ধামাচাপা দেয়ার চেষ্টা চালায়। মানুষের বিরুদ্ধে নিন্দুক সমালোচক শ্রেণির লোকদের স্মরণ করিয়ে দেয়া দরকার যে, ইসলামী আদর্শ ও কুরআন সুন্নাহর বিধি বিধানে অনর্থক কথা ও কাজের কোন মূল্য নেই। অনর্থক কথা ও কাজে সময় ও শ্রম দুটোই বিনষ্ট হয়, আমল বরবাদ হয়ে যায়, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এরশাদ করেছেন- হযরত আবু হুরায়রা রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এরশাদ করেছেন, অনর্থক কথা ও কাজ ছেড়ে দেয়া ইসলামের অন্যতম শোভাবর্ধক স্বভাব। (তিরমিযী শরীফ)। মাগফিরাত কামনা গীবতের কাফ্ফরা: হাদীস শরীফে এরশাদ হয়েছে- হযরত আনাস রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত, তিনি বলেন রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এরশাদ করেছেন, গীবতের কাফ্ফারা হলো, এ যে, তুমি যার গীবত করেছ তার মাগফিরাত কামনা করে দুআ করো। তুমি দুআ এভাবে করবে যে, হে আল্লাহ তুমি আমার এবং তার গুনাহ ক্ষমা কর। (বায়হাকী শরীফ) আল্লাহ আমাদের আপনাদের সকলকে কুরআনের বরকত দান করুন। কুরআনের আয়াত ও প্রজ্ঞাপূর্ণ উপদেশ দ্বারা আমাদের নাজাত দান করুন। নিশ্চয় তিনি মহান দানশীল, সৃষ্টি জগতের মালিক পূণ্যময় অনুগ্রহশীল ও দয়ালু। আল্লাহ তাআলা গীবত করা থেকে সকলকে হিফাজত করুন- আমীন। লেখক : অধ্যক্ষ, মাদরাসা-এ তৈয়্যবিয়া ইসলামিয়া সুন্নিয়া ফাযিল (ডিগ্রী), বন্দর, চট্টগ্রাম; খতীব, কদম মোবারক শাহী জামে মসজিদ।
দেখা মিলল পৃথিবীর সবচেয়ে পরিচ্ছন্ন আকাশের
৩জুন,বুধবার,নিজস্ব প্রতিবেদক,নিউজ একাত্তর ডট কম: পৃথিবীর সবচেয়ে পরিচ্ছন্ন আকাশের সন্ধান পাওয়ার দাবি করেছেন বিজ্ঞানীরা। যার বায়ুমণ্ডল মানুষের কর্মকাণ্ড দ্বারা তৈরি ক্ষতিকর কণা থেকে মুক্ত। অ্যান্টার্কটিকা ঘিরে থাকা দক্ষিণ মহাসাগরে পাওয়া গেল সেই স্থান। সিএনএনের এক প্রতিবেদনে উঠে এসেছে, কলোরোডা স্টেট ইউনিভার্সিটির একদল গবেষক দক্ষিণ সাগরে বায়োঅ্যারোসল কম্পোজিশনের ওপর গবেষণা করে বিরল এ বায়ুমণ্ডলের দেখা যান। এ ধরনের গবেষণা এবারই প্রথম। আবহাওয়া ও জলবায়ু ঘনিষ্ঠভাবে সম্পর্কিত। যা আবার বিশ্বের এক প্রান্তের সঙ্গে অন্য প্রান্তকে সংযুক্তও করে। এ কারণ এক অঞ্চলের পরিবর্তন অন্য অঞ্চলেও প্রভাব ফেলে। এরই মাঝে বিজ্ঞানী ও গবেষকরা মানুষের কর্মকাণ্ড দ্বারা প্রভাবিত হয়নি এমন অঞ্চল খুঁজে চলছিলেন। অধ্যাপক সনিয়া ক্রেইডেনউইজ ও তার দল আগেই সন্দেহ করেছিলেন পৃথিবীর অন্যান্য অঞ্চলের চেয়ে দক্ষিণ মহাসাগরের বায়ুমণ্ডল মানুষ ও ধূলিকণা দ্বারা কম ক্ষতিগ্রস্ত। তারা দেখেন বায়ু মণ্ডলের একদম নিচের স্তর জীবাশ্ম জ্বালানির ব্যবহার, নির্দিষ্ট ফসল বপন, সার উৎপাদন বা বর্জ্য পানি নিষ্কাশন বা এ ধরনের দূষণ দ্বারা প্রভাবিত নয়। বিজ্ঞানীরা বলছেন, এই ফলাফল উত্তর গোলার্ধের চেয়ে একদম ভিন্ন। ন্যাশনাল একাডেমি অব সায়েন্সেস জার্নালে সোমবার এ গবেষণা ফলাফল প্রকাশ হয়। সেখানে অ্যান্টার্কটিকার ওই অঞ্চলকে- সত্যিই আদিম বলে উল্লেখ করা হয়। বায়ু দূষণ ইতিমধ্যেই বৈশ্বিক স্বাস্থ্য সংকট হিসেবে বিবেচিত। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) মতে, বছরে এ কারণে ৭০ লাখ মানুষ মারা যায়। একাধিক গবেষণায় দেখা গেছে, বায়ু দূষণ ভৌগলিক সীমানা পার হতে পারে সহজে। দূষণের উৎসের শত শত মাইল দূরের মানুষকেও আক্রান্ত করে।
করোনা: ইন্টারনেট মানুষের সবচেয়ে কাছের বন্ধু হয়ে উঠেছে
২৫এপ্রিল,শনিবার,নিজস্ব প্রতিবেদক,নিউজ একাত্তর ডট কম: নভেল করোনাভাইরাসের প্রকোপে যখন সবকিছু বন্ধ তখন ইন্টারনেট হয়ে উঠেছে মানুষের সবচেয়ে কাছের বন্ধু। আমরা আমাদের দাপ্তরিক কাজ ও পড়াশোনার জন্য এখন ইন্টারনেটের ওপর নির্ভরশীল। এমনকি কাউকে দেখতে চাইলেও আমাদের এ প্রযুক্তির শরণাপন্ন হতে হচ্ছে। আমাদের বিনোদনের প্রাথমিক উৎসও এখন ইন্টারনেট। এ সময়ে ইন্টারনেটে আমরা প্রচুর সময় ব্যয় করছি। জানুয়ারি থেকে মার্চের শেষ ভাগ পর্যন্ত বড় শহরগুলোতে ইন্টারনেট ট্রাফিক প্রায় এক-চতুর্থাংশ বেড়েছে। নির্দিষ্ট কিছু অনলাইন সেবাদান প্রতিষ্ঠানের চাহিদা আকাশ ছুঁয়েছে। সহকর্মী, পরিবার ও বন্ধুদের সরাসরি মুখোমুখি হওয়ার জায়গা নিয়েছে ভিডিও কল। পুরো ২০১৯ সালের চেয়ে ২০২০ সালের প্রথম দুই মাসে অনেক বেশি মানুষ ভিডিও কনফারেন্সিং সফটওয়্যার জুম ব্যবহার করছে। ঘরে অবস্থানকালে বিনোদনের চাহিদাও অনেক বেড়েছে। রেকর্ডসংখ্যক মানুষ এখন জনপ্রিয় অনলাইন পিসি গেম স্টোর স্টিম ব্যবহার করছে। ফেব্রুয়ারি থেকে এর ব্যবহার বেড়েছে ২৫ শতাংশ পর্যন্ত। এমনকি অনলাইন মুদি দোকানগুলো তাদের ব্যবসা সামলাতে হিমশিম খাচ্ছে। ঘণ্টার পর ঘণ্টা গ্রাহককে ভার্চুয়াল লাইনে অপেক্ষা করতে হচ্ছে। ইন্টারনেট কি তবে তার ইতিহাসের সবচেয়ে আকস্মিক উল্লম্ফন দেখছে? এখানে কিছু প্রতিবন্ধকতাও তৈরি হয়েছে। ওয়াইফাইয়ের গতি কমে গেছে, ওয়েবসাইটগুলো চাপ নিতে পারছে না এবং ভিডিও কল কেটে যাচ্ছে। তবে এসব ছোটখাটো দুর্ঘটনা ছাড়া ইন্টারনেট দারুণভাবে তার কাজ করছে। অবশ্য ইন্টারনেট এ পরিবর্তনের সঙ্গে নিজেকে মানিয়ে নিতে সংগ্রাম করছে বলে মনে করেন ইউনিভার্সিটি অব অ্যাডিলেডের বিশেষজ্ঞ ম্যাথিউ রোগান। পাশাপাশি যত বেশি আমরা ইন্টারনেট ব্যবহার করব, তত বেশি বিভ্রান্তি আমাদের চোখে পড়বে। যদিও আপনি কেবল সংক্ষিপ্ত ও স্থানীয় প্রভাবগুলো দেখতে পাবেন, বিস্তৃত প্রভাবগুলো না। সামগ্রিক ব্যবহারের পাশাপাশি, আমরা বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন জায়গায় ইন্টারনেট ব্যবহার করছি। অফিসের কাজ শেষ করে ইন্টারনেট ব্যবহারের যে সূচি তা এখন দুনিয়াজুড়ে বদলে গেছে। এখন দুপুরের খাবারের আগে থেকেই ইন্টারনেটের সর্বোচ্চ ব্যবহার দেখা যাচ্ছে, বলেছেন ক্লাউডফ্লেয়ারের সিইও ম্যাথিউ প্রিন্স। যদিও এটা কেন হচ্ছে, তা পরিষ্কার নয়। হতে পারে ভার্চুয়াল মিটিং অথবা ক্লাসরুমে অনেক সময় দিতে হচ্ছে। ক্লাউডফ্লেয়ার বলছে, ইতালিতে ইন্টারনেটের ব্যবহার ৪০ শতাংশ বেড়েছে। তবে দক্ষিণ কোরিয়ার মতো দেশে, যেখানে আগে থেকেই ইন্টারনেটের বহুল ব্যবহার সেখানে এই পরিবর্তনটি কম। অবশ্য উল্লেখ করা প্রয়োজন দক্ষিণ কোরিয়া করোনাভাইরাস নিয়ন্ত্রণে ইতালির চেয়ে বহুগুণ সফল। তাই হয়তো দেশটিতে মহামারীজনিত এই ইন্টারনেট ব্যবহার বৃদ্ধি পায়নি। ক্লাউডফ্লেয়ারের দেয়া উপাত্তগুলো দেখাচ্ছে কীভাবে মানবিক কার্যকলাপ সিটি সেন্টারকে পেছনে ফেলেছে এবং শহরতলিতে ছড়িয়ে পড়েছে। এ উপাত্ত বলছে, ফেব্রুয়ারি ১৯ থেকে মার্চের ১৮ তারিখের মাঝে দিনের বেলা ইন্টারনেটের ব্যবহার কীভাবে বদলেছে। এর আগে-পরে অনেক মানুষ ঘরে বসে কাজ শুরু করেছে। আরবান হাবগুলো লাল হয়ে গেছে, যার অর্থ ইন্টারনেটের ব্যবহার কমেছে। অন্যদিকে চারপাশে তৈরি হয়েছে সবুজ রঙের বলয়, যা ব্যবহার বৃদ্ধির ইঙ্গিত দিচ্ছে। আকস্মিকভাবে চাহিদা বাড়ার বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে নেয়া হচ্ছে। ইন্টারনেট মার্কেটের জন্য ইউরোপিয়ান ইউনিয়নের কমিশনার থিয়েরি ব্রেটন তদবির করার পর চাপ এড়াতে নেটফ্লিক্স, ইউটিউব, ফেসবুকসহ ভিডিও স্ট্রিমিং কোম্পানিগুলো ভিডিও চিত্রের মান কমিয়ে দিতে সম্মত হয়। মূলত ভিডিও অ্যাকাউন্টগুলো ইন্টারনেট ট্রাফিকের জন্য অর্ধেকের বেশি দায়ী। ট্রাফিকের কারণে সৃষ্ট চাপের বাইরে আরো দুটি কারণে ইন্টারনেটের ওপর চাপ তৈরি হয়। একটি হচ্ছে স্থানীয় যে ডাটা সেন্টার থেকে আপনি বাসায় সংযোগ নিচ্ছেন তারা সাধারণত দুর্বল হয়ে থাকে। যাদের অনেকেই পুরনো কেবল ব্যবহার করে। অনেক ক্ষেত্রে টিভির জন্য তৈরি করা কেবলগুলো এখানে ব্যবহার করা হয়। যে কারণে ভিডিওগুলো দুর্বল দেখা যায়। পাশাপাশি এর ব্যান্ডউইডথও থাকে অনেক কম। যা কিনা কাজের গতিকে অনেক কমিয়ে দেয়। এছাড়া আশপাশের অনেকেই যখন একসঙ্গে ইন্টারনেট ব্যবহার করে তখন এর ওপর বেশ চাপও তৈরি হয়। দ্বিতীয় বিষয়টি হচ্ছে কোম্পানিগুলোকে এখন একাধিক অবস্থান থেকে ট্রাফিক পরিচালনা করতে হচ্ছে। উদাহরণস্বরূপ ড্রপবক্স দিয়ে হাজারো ব্যবহারকারীকে সহজেই সংযুক্ত করা যায়, যখন কিনা তারা একই বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস অথবা অফিস বিল্ডিংয়ে থাকে। তখন সব কার্যক্রম একটিমাত্র উচ্চগতির সংযোগ দ্বারা পরিচালনা করা যায়। কিন্তু এখন সেই সব হাজারো ব্যবহারকারী সারা দেশে ছড়িয়ে পড়েছে এবং তারা কয়েকশ ভিন্ন নেটওয়ার্ক ব্যবহার করছে।বণিক বার্তা। এসব ছোটখাটো সমস্যার পরও ইন্টারনেট দুনিয়াজুড়ে ভালোভাবেই তার কাজ করছে। এজন্য আমরা শিল্প বিপ্লবকে ধন্যবাদ দিতে পারি। দুই দশক আগেও ইন্টারনেটে মানুষের বাণিজ্যিক আগ্রহ ছিল সামান্য। যার অর্থ হচ্ছে এর অবকাঠামো প্রয়োজন অনুযায়ী বদলে গেছে। একটি বড় সংবাদ সবকিছুকে বদলে দিতে পারে। ইন্টারনেটে এখন অনেক ইন্ডাস্ট্রি একসঙ্গে দাঁড়িয়ে গেছে। কমকাস্টের মতো টেলিকম কোম্পানি, কন্টেট তৈরির জন্য নেটফ্লিক্স, রিটেইল জায়ান্ট অ্যামাজন, ভার্চুয়াল স্টোরেজ সরবরাহকারী ড্রপবক্স শক্তিশালী সার্ভার ব্যবহারের মাধ্যমে সবকিছু নিয়ন্ত্রণ করছে। যার ফলে সক্ষমতা, গতি ও পারফরম্যান্স সবকিছুই বেড়েছে। ইন্টারনেটের এ বাণিজ্যিকীকরণ নেটওয়ার্কের একটি শক্তিশালী জাল তৈরি করেছে, যা দারুণভাবে কাজ করছে। ক্লাউড পরিষেবা দ্বারা পরিচালিত নেটফ্লিক্স ও ড্রপবক্সের মতো কোম্পানিগুলো তাদের কার্যক্রম অনেক দ্রুতগতির করেছে। যখন চাহিদা বাড়ছে তখন বাড়তি সার্ভার ব্যবহার করা হচ্ছে। কভিড-১৯-এর কারণে এটি বিস্তৃত হয়েছে। তবে এর বাইরে কিছু সমস্যাও আছে। ইন্টারনেটের এখনো গুরুত্বপূর্ণ কিছু কাজে মানুষের স্পর্শের প্রয়োজন হচ্ছে। যেখানে সার্ভার বদলে দেয়া বা ঠিক করার প্রয়োজন হচ্ছে। যা কিনা কেবল ইঞ্জিনিয়ারদের পক্ষে সম্ভব। কিন্তু লকডাউন অবস্থায় এ কাজগুলো করা এখন বেশ কঠিন। এছাড়া সাপ্লাই চেইন ভেঙে পড়লে প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র ও হার্ডওয়্যার পাওয়া কঠিন হয়ে যাবে। চীন হচ্ছে অপটিক্যাল ফাইবার ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় হার্ডওয়্যারের সবচেয়ে বড় উৎপাদক। এখন সাপ্লাই বন্ধ হয়ে গেলে, তা বিশ্বের অনেক জায়গায় ইন্টারনেট সেবাকে বাধাগ্রস্ত করবে। বিশেষ করে দরিদ্র দেশগুলোর জনসাধারণকে সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগে পড়তে হতে পারে। কিন্তু সবকিছু মিলিয়ে চিন্তা করলে ইন্টারনেট বর্তমানে অতীতের যেকোনো সময়ের চেয়ে শক্তিশালী ও তাত্পর্যময় রূপ নিয়ে আবির্ভূত হয়েছে।
টাকাতেও এক দিন পর্যন্ত বেঁচে থাকতে পারে করোনাভাইরাস
0৮এপ্রিল,বুধবার,অনলাইন ডেস্ক,নিউজ একাত্তর ডট কম:করোনাভাইরাস থেকে দূরে থাকতে সাধারণ মানুষ একের পর এক উপায় খুঁজে বের করছেন। কখনো মাস্ক কখনো আবার গ্লাভসের সহায়তা নিচ্ছেন। এদিকে করোনা থেকে মানবজাতিকে রক্ষা করতে একের পর এক সিদ্ধান্ত নিচ্ছে বিভিন্ন দেশের প্রশাসনগুলো। এমন পরিস্থিতিতে হংকংয়ের বিজ্ঞানীদের একটি গবেষণা উঠে এলো। টাকার নোটে এক দিন পর্যন্ত বেঁচে থাকতে পারে করোনাভাইরাস। এমনকি ব্যাংক থেকে আসা নতুন টাকাতেও একদিন পর্যন্ত করোনাভাইরাসের বেঁচে থাকার সম্ভবনা বেশি। অন্যদিকে, মাস্কে সাতদিন পর্যন্ত করোনাভাইরাস বেঁচে থাকতে পারে। এমনই তথ্য দিচ্ছে হংকংয়ের বিজ্ঞানীদের গবেষণা। হংকংয়ের বিজ্ঞানীদের নতুন গবেষণা বলছে, করোনাভাইরাস কাপড়ে সেভাবে বাঁচে না। তবে, কাপড় পরিষ্কার রাখা ও ধুয়ে রাখা জরুরি। গবেষকদের দাবি, সিজনড কাঠের ত্বকেও সেভাবে বাঁচে না করোনা। তবে সবকিছুই নির্দিষ্ট সময় পর ধুয়ে মুছে রাখা ভালো বলে মত তাদের।সূত্র,দেশে বিদেশে। এদিকে, হংকংয়ের বিজ্ঞানীদের দাবি, টাকায় একদিন করোনাভাইরাস বাঁচলেও টিস্যু পেপারে তিন ঘণ্টার বেশি বাঁচতে পারে না কোভিড-১৯ রোগের ভাইরাস। এমনকি প্রিন্টেড কোনো কাগজেও ৩ ঘণ্টার বেশি করোনা বাঁচবে না বলে মত বিজ্ঞানীদের।