বৃহস্পতিবার, নভেম্বর ১৫, ২০১৮
বিশ্বের বিভিন্ন দেশে হরেক রকম বিয়ে
অনলাইন ডেস্ক : বলেন, কবুল। কাজী সাহেবের কথার উত্তর বের হয় না মেয়ের মুখ থেকে। কথার বদলে ঘোমটার আড়াল থেকে হাতের ওপরে টপটপ করে পানি ঝরতে দেখা যায়। বোঝা যায়, কনে কাঁদছে। কাজী সাহেব আবার বলেন, বলেন মা কবুল। সবাই কান খাঁড়া করে থাকে। মেয়ে কবুল বলছে কিনা। মা, ভাবী, ননদ, পাড়াপড়শি নারীকূল সবাই মিলে কনেকে বলতে থাকে,বল মা কবুল, বল। অবশেষে আরো খানিক চোখের পানি ঝরিয়ে লজ্জার মাথা খেয়ে মেয়েটি বলল কবুল। সবাই বলে ওঠেন আলহামদুলিল্লাহ। মুসলিম বিয়ের রীতিতে সবচেয়ে ক্লাইমেক্স বোধহয় এটাই। এত আয়োজন, আত্মীয়-স্বজনের আনন্দ, খাওয়া-দাওয়ার জৌলুস সবকিছুর কেন্দ্রে দুটি ছেলে-মেয়ের ধর্মীয়ভাবে সামাজিক বন্ধনে আবদ্ধ হওয়া। ছেলে-মেয়ের কাছে এরচেয়ে রোমান্টিক আনন্দের মুহূর্ত আর হয় না। একটি বিয়ের জন্য কত প্রস্তুতি; কত স্বপ্ন যে মিশে থাকে। মা-বাবার এক রকম আবেগ, ভাই-বোনদের আবেগ ভিন্ন আর বর কনের কথা না হয় বাদই দিলাম। তারাই এ আয়োজনের প্রধান দুই চরিত্র। বিয়ে ছেলে-মেয়ের মনে এমন এক রোমান্সের জন্ম দেয়; যা তাদের কল্পনার আবেশে ভাসিয়ে নিয়ে যায়। রবীন্দ্রনাথের গানের কথায় সমাজ সংসার মিছে সব, মিছে এ জীবনের কলরব, কেবল আঁখি দিয়ে আঁখির সুধা পিয়ে হূদয় দিয়ে হূদি অনুভব। বিয়ে আমাদের সমাজের সবচেয়ে আনন্দমুখর ঘটনা। দুটি ছেলে-মেয়ের সম্পর্ককে কেন্দ্র করে দুটি পরিবার তাদের আত্মীয়-স্বজন বন্ধুদের সম্মিলনের এমন সামাজিক উত্সব আর নেই। এ উপমহাদেশে দুটি ছেলে-মেয়ের বিয়ের পাকা কথার সময় থেকেই শুরু হয়ে যায় আনন্দ আয়োজন। প্রথমে এনগেজমেন্ট, এরপর গায়ে হলুদ তারপর বিয়ে। সবশেষে বউভাত দিয়ে শেষ হয় বিয়ের অনষ্ঠান। এ সবরে ফাঁকে আরো কত শত আচার যে রয়েছে তার শেষ নেই। যেমন বর যখন আসে তখন গেট ধরার রেওয়াজ রয়েছে। রয়েছে বিয়ের পরে মুখ দেখানোর রেওয়াজ। এত দিনের আনন্দের পর মেয়েকে বিদায় দেয়ার সময় মা-বাবা, আত্মীয়-স্বজনের কান্না দুঃখের আবহ তৈরি করে। এ যাত্রা আনন্দের যাত্রা, একইসঙ্গে অপরিচিত পরিবিশে একটি মেয়ের অনিশ্চিত ভবিষ্যত্ যাত্রাও। বিয়ে যখন উত্সব ছেলে-মেয়ের বিয়ের পাঞ্জাবি কেমন হবে, হলুদে মেয়ের সাজ, হলুদে আসা মেয়েদের অনুষ্ঠানের থিম রঙের সঙ্গে মিলিয়ে শাড়ি দেয়ার চল হয়েছে এখন। হলুদের স্টেজ, হলুদে গানের রিহার্সাল তো শুরু হয়ে যায় ১০ দিন আগে থেকেই। গায়ে হলুদের পরে ডিজে পার্টির চল হয়েছে এখন। হলুদের পরেই আসে বিয়ে। মেয়ের পোশাক, ছেলের পাঞ্জাবি, শেরওয়ানির ডিজাইন, মেয়ের শাড়ির রং কি হবে এ নিয়েই তো আলোচনা চলে দুই সপ্তাহ। এরপর মার্কেটে মার্কেটে ঘোরা। পছন্দের শাড়ি আর মেলে না। যদিও মেলে এরপর তার সঙ্গে ম্যাচিং গয়না খোঁজা চলে আরো কিছুদিন। এ সবের পাশাপাশি রয়েছে বিয়ের কার্ড। কার্ড যেন বিয়ের সমস্ত বিয়ের পরিবারের রুচির ছাপ নিয়ে আত্মীয়দের সামনে হাজির হয। তাই কার্ডটি হওয়া চাই স্পেশাল। এরপর রয়েছে বিয়ের দিন খাবারে মেন্যু আর ছেলে পক্ষের বউ ভাতের অনুষ্ঠানের খাবার নির্বাচন। আয়োজন কি আর কম। এ সব তো গেল কিন্তু বিয়ে তো হবে একদিন। কিন্তু সেই স্মৃতিকে ধরে রাখতে হবে জন্ম জন্মান্তরের জন্য। সেজন্য চাই বিয়ের এলবাম। ওয়েডিং ডায়েরি করবার জন্য এখন বিশেষ ফটোগ্রাফাররাও তৈরি হয়ে রয়েছে। শুধু আপনার ডাক দেবার অপেক্ষা। বিয়ের অনুষ্ঠানের জৌলুস দিন দিনে এমন বাড়ছে যারা দুই দশক আগে বিয়ে করেছেন তাদের তো রীতিমত হাপিত্যেশ করতে শোনা যায়। ইশ, আমাদের সময় যদি এ সব আয়োজন থাকত। কিন্তু হায় তা হবার কী আর উপায় আছে! সামাজিক বন্ধন বিয়ে শুধু আমাদের সমাজেই নয়; সব দেশে সব সমাজেই খুব গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা। বিয়েকে ঘিরে দুটি মানুষের মধ্যে যে সম্পর্কের সূচনা হয় তার সঙ্গে অন্য কোনো সামাজিক বন্ধনের তুলনায় হয় না। কিন্তু এ বিয়ের মূল উদ্দেশ্য কী? বিয়ে কেন হয়? বিয়ের প্রয়োজনীয়তাই বা কেন? ধর্ম মতে, যখন থেকে মানুষের সৃষ্টি তখন থেকেই বিয়ে প্রথার চালু। তবে, নৃবিজ্ঞানীদের মতে, অতি আদিমকালে বিয়ে বলতে কিছু ছিল না। কালক্রমে সামাজিক প্রয়োজনে ও শৃঙ্খলা বিধানে বিয়ে প্রথা চালু হয়। বিয়ে নিয়ে অনেক মজার মজার কৌতুক প্রচলিত রয়েছে। বিয়ের ক্ষণস্থায়িত্ব নিয়ে এমন এক কৌতুক রয়েছে। এক চিত্রতারকা ঘন ঘন স্বামী বদলাতেন। একবার নতুন স্বামী নিয়ে এসে তিনি আগের কোনো পক্ষের সন্তানের সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দিলেন। সন্তানটি ছুটে গিয়ে অটোগ্রাফ বই নিয়ে এসে নতুন বাবাকে বলল, জলদি একটা সই দিন। কবে আবার হুট করে বাতিল হয়ে যাবেন সই নেয়ার সময় পাব না। আরেকটি কৌতুক এমন- ঘন ঘন বিয়ে করা এক তারকা সদ্যবিবাহিত স্বামীর ঘরে এসে দেখলেন সবকিছু তার চেনা চেনা লাগছে। তিনি স্বামীকে জিগ্যেস করলেন, আচ্ছা, তোমার সঙ্গে কি আমার আগেও বিয়ে হয়েছিল? এই ক্ষণস্থায়ী ও বহু বিয়ে নিয়ে যেমন অনেক কথা রয়েছে এর বিপরীতে রয়েছে সম্পর্কের চিরস্থায়ী বন্ধনে বিশ্বাস। ইসলাম ধর্মে বিয়ে অত্যন্ত পবিত্র সম্পর্ক হিসেবে বলা হয়েছে। হিন্দু সমাজে বিয়ে হচ্ছে জন্ম জন্মান্তরের বন্ধন। সাধারণভাবে বললে, বিয়ে হচ্ছে সন্তান জন্ম দেয়ার মধ্যদিয়ে মানুষ সৃষ্টির ধারাকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়া। বিয়ে সমাজের প্রাচীনতম প্রতিষ্ঠান। এ প্রথাকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দিয়েছে প্রধানত ধর্ম। বিয়ে নিয়ে জারি করা হয়েছে রীতিনীতি ধর্মীয় অনুশাসন। বৈদিক যুগ থেকেই বিয়ে নারী-জীবনের প্রধান প্রাপ্তি ও পরম সার্থকতা বলে বিবেচিত। ইসলাম ধর্মে বিবাহ একটি আইনগত, সামাজিক এবং ধর্মীয় বিধান। ইসলামে বিবাহ বলতে স্বামী ও স্ত্রীর মধ্যে সামাজিকভাবে স্বীকৃত ও ধর্মীয়ভাবে নির্ধারিত একটি চুক্তি বোঝায়। এই চুক্তির মাধ্যমেই একজন পুরুষ ও একজন নারীর মধ্যে স্বামী-স্ত্রী সম্পর্ক স্থাপিত হয়ে তাদের দাম্পত্য জীবন শুরু হয়। মুসলিম বিবাহের চুক্তিপত্রে (যা কাবিননামা নামে পরিচিত) উল্লেখ করতে হয় বরের পক্ষ থেকে স্ত্রীকে দেয়া মোহরানার পরিমাণ। স্ত্রীকে দেয়া অর্থকে বলা হয় দেনমোহর। তাত্ক্ষণিকভাবে দেনমোহর পরিশোধ স্বামীর জন্য বাধ্যতামূলক যদিও স্ত্রী এ দায়িত্ব থেকে স্বামীকে স্বেচ্ছায় মওকুফ করে দিতে পারেন বা পরে দেয়ার অনুমতি দিতে পারেন। মুসলিম আইন অনুসারে দেনমোহর হচ্ছে স্ত্রীর একটি বিশেষ অধিকার। বিয়েতে পণপ্রথা হিন্দু ধর্মে একটি স্বীকৃত রীতি। বর্তমানে যৌতুক একটি বড় সামাজিক ব্যাধি। বাংলার হিন্দু পরিবারগুলোর মধ্যে প্রাচীনকাল থেকেই বাল্যবিবাহ প্রচলিত ছিল। ১৮৭২ সালে হিন্দু বিবাহ আইন পাস হলে বিবাহের সর্বনিম্ন বয়স মেয়েদের ১৪ এবং ছেলেদের ১৮ ধার্য করা হয়েছিল। বহুবিবাহ প্রাচীনকাল থেকে এ দেশে প্রচলিত ছিল। তবে, ১৯০১ সালের আদমশুমারিতে দেখা যায়, ধনী মুসলমান পরিবার ছাড়া সকল পরিবারে দ্বিতীয় স্ত্রী বিরল। ১৯৬১ সালের পারিবারিক আইন অধ্যাদেশ একটি মাইলফলক। এতে পুরুষের বহুবিবাহের প্রবণতাকে নিয়ন্ত্রণ করার চেষ্টা ছিল। পারিবারিক আইনে যখন দ্বিতীয় বিয়ের ক্ষেত্রে প্রথম স্ত্রীর অনুমতি প্রয়োজন হয় তখন থেকে দ্বিতীয় বিয়ের হার কমতে থাকে। হিন্দুবিবাহ একটি ধর্মীয় আচারিক বা আধ্যাত্মিক বিষয় এবং এ জন্য কোনো আনুষ্ঠানিক লিখিত দলিলের প্রয়োজন হয় না। হিন্দু পরিবারে বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা কয়েকদিন ধরে চলে। বিয়ের শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত মাঙ্গলিক আচার-অনুষ্ঠানগুলো ছিল: শুভদৃষ্টি, মাল্যদান, মন্ত্রপাঠ, যজ্ঞসম্পাদন, কন্যাদান, অগ্নিপ্রদক্ষিণ, সপ্তপদীগমন এবং স্বস্তিবচন। হিন্দু সমাজে পাত্র-পাত্রীর কোষ্ঠী বিচার করে দেখার রীতি আছে। যদিও আধুনিক ছেলে-মেয়েরা এগুলো এখন খুব একটা মানে না। বিয়ের খাবার বিয়ের খাবারের লোভ সামাল দেয়া মুশকিল। অসুস্থ মানুষও এই একদিন খাই; বলে পাত পাড়েন বিয়ের অনুষ্ঠানে। আগের দিনে হিন্দু বিয়ে বাড়িতে মেঝেতে বসিয়ে কলাপাতায় খেতে দেয়া হতো। একদিকে থাকত লবণ আর লেবু। কলাপাতার বাইরে পানির জন্য মাটির গ্লাস আর দই ও ক্ষীর দেয়ার বাটি। ভোজনপর্ব শুরু হতো গরম লুচি, বেগুন পটল ভাজা, এরপরে আসত কুমড়ার ছক্কা, শীতকালে বাঁধাকপির তরকারি, ডাল, ধোঁকা, আলুর দম, মাছের কালিয়া, চাটনি, পাঁপড় ভাজা, মিষ্টি। মিষ্টিরও ছিল নানা রকমফের। অবস্থাপন্ন বাড়িতে যুক্ত হতো পোলাও, মাংস। মেয়েদের খাওয়ানো হতো আলাদা স্থানে। সেখানে পরিবেশনও করত মেয়েরা। আর এ সময় বাড়ির কর্তা দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে দেখতেন সবার পাতে খাবার ঠিকমত পড়েছে কিনা। সবাই খেয়ে শান্তি পেয়েছেন কি না। আর মুসলিমদের বিয়েতে পোলাও, বিরিয়ানি, বোরহানি, চিকেন সবজি, চাটনি, দই মিষ্টি এসব খাওয়ানোর চল বেশ আগে থেকেই। দেশে দেশে বিয়ে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের বিভিন্ন সমাজে বিয়ের জন্য রয়েছে বিভিন্ন রীতি। কখনো এক সমাজের বিয়ের রীতি অন্য সমাজের বিপরীত। কোনো সমাজের বিয়ের রীতি আবার আরেক সমাজে হাসির কারণ। বাংলাদেশ: বাংলাদেশে ঘটক ছেলের পক্ষ থেকে মেয়ের বাড়িতে প্রস্তাব নিয়ে যাওয়ার চল রয়েছে তবে, মেয়ের বাড়ি থেকে প্রস্তাব যাওয়ার চল খুব কম। আগে থেকে ইতিবাচক ইশারা না পেলে সাধারণত মেয়ের বাড়ি থেকে প্রস্তাব যাওয়ার চল নেই। ছেলে পক্ষ মেয়ের বাড়িতে এসে নানাভাবে মেয়েকে প্রশ্ন করার চল রয়েছে বাংলাদেশসহ উপমহাদেশে। যেটা আধুনিক শিক্ষিত পরিবারে অনেকটা কমে এলেও সাধারণ পরিবারগুলোতে এভাবে মেয়ে দেখানো ও তাকে প্রশ্ন করার চল রয়েছে। তবে, যৌতুক প্রথা আইনিভাবে নিষিদ্ধ হলেও সামাজিকভাবে যৌতুক প্রথা দূর হয়নি। ফ্রান্স: সাদা রং ফ্রান্সের বিয়ের অনুষ্ঠানের প্রধান রং। সাজগোজের অলঙ্কার, ফুল, কনের কাপড় সবই সেখানে সাদা হয়ে থাকে। এ থেকে বোঝা যায়, ফরাসিদের চোখে বিয়ে হচ্ছে শান্তি ও পবিত্রতার প্রতীক। যুক্তরাজ্য: পবিত্রতার প্রতীক হিসেবে ঐতিহ্যবাহী ব্রিটিশ-রীতির বিয়ে অনুষ্ঠানে কনে পদ্মফুল হাতে রাখে। ব্রিটিশদের চোখে এই ফুল সৌভাগ্যের প্রতীক। ব্রিটিশদের বিয়ের অনুষ্ঠান সাধারণত দুপুরে আয়োজিত হয়। তাদের বিয়ের কেক তৈরিতে নানা রকম ফল ব্যবহার করা হয়। এ কেককে তাদের প্রথম সন্তানের জন্ম পর্যন্ত রেখে দেওয়া হয়। গ্রিস: এ দেশে কনেরা নিজের হাত মোজার ভেতরে কিছু মিষ্টি ক্যান্ডি রাখে। এ ব্যতিক্রমী ঘটনার কারণ, নিজের বিবাহিত জীবনকে আরো মধুর করে তোলা। এছাড়া গ্রিকরা ঐতিহ্যবাহী রাউন্ড ডান্সের গোলাকার নৃত্যের মাধ্যমে বিয়ের অনুষ্ঠানে অতিথিদের অভ্যর্থনা জানায়। কঙ্গো: বিয়ের দিন যখন চারিদিক আনন্দমুখর হয়ে থাকবে, তখন বর কিংবা কনের মোটেও হাসা চলবে না। নিজেদের আনন্দকে গোপন রেখে তাদের অবশ্যই গাম্ভীর্য ধরে রাখতে হবে। যদি পুরো অনুষ্ঠানের মধ্যে কোনো সময় বর কিংবা কনে হেসে দেয় তবে ধরে নেওয়া হয় তারা বিয়ের ব্যাপারে একনিষ্ঠ নয়। চীন: কনের পরিবার একজন সৌভাগ্যবতী মহিলাকে ভাড়া করবে কনেকে শ্বশুরবাড়ি নিয়ে যাওয়ার জন্য, এটি চীনে বিয়ের অন্যতম একটি বৈশিষ্ট্য। শুধু এটুকুই নয়, কনে যাবে সুসজ্জিত পালকিতে চড়ে এবং তার পরিচারিকারা একপ্রকার হালকা ছাতার সাহায্যে তাকে ঢেকে রাখবে এবং কিছু পরিচারিকা পালকিতে চাল ছিটাবে। ট্র্যাডিশনাল চীনা মানুষেরা এই রীতিকে সুস্বাস্থ্য ও সৌভাগ্যের প্রতীক মনে করে। জার্মানি: বর এবং কনের প্রথম গৃহস্থালী কাজ হবে ভাঙা চীনামাটির বাসনের স্তূপ পরিষ্কার করা, যা বিয়ের দিন উপস্থিত অতিথিরা মাটিতে ছুঁড়ে ফেলে। মনে করা হয় এটি নববিবাহিতদের খারাপ আত্মার হাত থেকে সুরক্ষিত রাখবে। এছাড়াও এটি নববিবাহিতদের একসাথে কাজ করা এবং যে কোনো সমস্যা একসাথে মোকাবেলা করা শেখায়। জাপান: জাপানে বিয়েতে কনেরা ঐতিহ্যবাহী শিনতো অনুষ্ঠানে পা থেকে মাথা পর্যন্ত সাদা পোশাক পরিধান করে থাকে। এমনকি তাদের মেকআপও হবে সাদা। ঐতিহ্যবাহী কিমোনো পোশাকের সাথে তারা মাথায় সাদা রঙের হুড পরিধান করে। সাদা রঙ কনের মনের শুভ্রতা প্রকাশ করে এবং মাথার হুড কনের কথিত হর্ন অফ জেলাসি অর্থাত্ হিংসের শিং ঢেকে রাখে যা তারা তার শাশুড়ির প্রতি অনুভব করে। রাশিয়া: নববিবাহিত রাশিয়ান দম্পতিদের একপ্রকার মিষ্টি জাতীয় রুটি খেতে দেওয়া হয় যা গম থেকে তৈরি। বর অথবা কনের মধ্যে যে সবচেয়ে বড় রুটির অংশটি খেতে পারবে তাকেই বাড়ির কর্তা হিসেবে ধরে নেওয়া হবে। এ দেশে বিয়ের অনুষ্ঠানে স্বামী ও স্ত্রীকে দাঁড়িয়ে গভীরভাবে চুমু খাবে। শুধু একবার নয় অনুষ্ঠান চলার সময় বহুবার। তাদের ধারণা বিয়ের সময় যত চুমু খাবে তাদের সম্পর্ক ততই মধুর হবে। পাকিস্তান: কনের বোন এবং মেয়ের বন্ধুরা বরের জুতো নিয়ে লুকিয়ে রাখে, যদি বর তার জুতো ফেরত চায় তবে তাকে একটি মোটা অংকের টাকা দিয়ে জুতো জোড়া ফেরত নিতে হবে, নয়ত খালি পায়েই তাকে পুরো বিয়ের অনুষ্ঠান পার করতে হবে। বলা বাহুল্য আমাদের দেশেও এই রীতিটি কম বেশি প্রচলিত আছে। ফিলিপাইন: বিয়ের অনুষ্ঠানে ফিলিপিনো নবদম্পতিরা একজোড়া কবুতর উড়িয়ে দেয়, যার একটি মেয়ে ও অন্যটি ছেলে। নবদম্পতির জন্য এই কবুতর জোড়া তাদের বিবাহিত জীবনের শান্তির প্রতীক হিসেবে গণ্য হয়। ভেনেজুয়েলা: বিয়ের অনুষ্ঠান শেষে বর ও কনের সাথে কথা বলার জন্য অপেক্ষা করা একদমই বৃথা, কারণ বিয়ের অনুষ্ঠান শেষ হওয়ার আগেই বর ও কনে সেখান থেকে পালিয়ে যাবে। বিয়ের অনুষ্ঠান শেষ হওয়ার আগে কারও কাছে ধরা না পড়ে এভাবে পালিয়ে যাওয়াকে সৌভাগ্য হিসেবে ধরা হয়। আর যে ব্যক্তি তাদের অনুপস্থিতি প্রথম ধরতে পারবে তার জন্যও এটি সৌভাগ্যের প্রতীক। পেরু: পেরুতে বিয়ের জন্য তৈরি বিশেষ কেকে একটি নকল বিয়ের আংটি দেয়া থাকে। কেক পরিবেশনের সময় যে আংটিসহ কেকের অংশটি পাবে তাকে সৌভাগ্যবান মনে করা হবে এবং ধারণা করা হয় পরবর্তী বিয়েটি তারই হতে যাচ্ছে।
কীভাবে তারুণ্য ধরে রাখবে নারীরা ? জেনে নেন
অনলাইন :সময়ের স্রোতে বাড়তে থাকে প্রত্যেকের বয়স। বয়স বাড়ার সঙ্গে পাল্লা দিয়ে কমতে থাকে আপনার চেহারার লাবণ্য।তবে নারীদের ক্ষেত্রে এটি বেশি ঘটে থাকে। তাই বেশির ভাগ নারীরা যেমন বয়স কমাতে চান আবার লুকাতেও চান। তবে আপনি চাইলেই চেহারায় ধরে রাখতে পারেন তারুণ্য। বয়স বাড়লেও তার ছাপ পড়বে না চেহারায়। আসুন জেনে নেই কীভাবে তারুণ্য ধরে রাখবে নারীরা ময়েশ্চারাইজার বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ত্বকের ওপরের স্তরে আর্দ্রতা রক্ষাকারী মলিকিউলের পরিমাণ ক্রমশ কমতে থাকে। তাই সারা দিনে অন্তত দুই থেকে তিনবার ময়েশ্চারাইজার লাগান। হাইড্রেটিং সিরাম ত্বকের আর্দ্রতা ধরে রাখার ব্যাপারে খুবই কাজের। পানিপান তারুণ্য ধরে রাখতে পানি খাওয়ার পরিমাণ বাড়িয়ে দিন। খাবারে রাখুন ফল, সালাদের মতো জিনিস। ত্বকের শুকনোভাব নিয়ে আর ভাবতে হবে না। চোখের কালো দাগ বয়স ত্রিশে পার হতে না হতেই চোখের নিচে কালো দাগ পড়তে থাকে। চোখের কোলে কালির সমস্যাও দেখা দেয় অন্যতম হাতিয়ার রেটিনল সমৃদ্ধ আই ক্রিম। রেটিনলে এ ভিটামিনের পরিমাণ অত্যন্ত বেশি হওয়ায় চোখের চারপাশের সংবেদনশীল ত্বকে বয়সের ছাপ পড়তে দেয় না। তবে দিনের বেলায় রোদের মধ্যে কখনও আই ক্রিম লাগাবেন না। সবসময় রাতে শুতে যাওয়ার আগে আই ক্রিম লাগান। দিনের বেলা ফাউন্ডেশন নয় দিনের বেলা ফাউন্ডেশনের বদলে এসপিএফ যুক্ত বিবি ক্রিম ব্যবহার করুন। পাউডার-বেসড মেকআপের বদলে নিয়ে আসুন লিকুইড মেকআপ। ত্বকে আর্দ্রতা ধরে রাখতে লিকুইড মেকআপ আদর্শ! ঠোঁট আর চোখের মেকআপ কেনার সময়ও লিকুইড প্রোডাক্ট ব্যবহার করতে পারলে ভালো হয়। ঘুমানোর আগে অবশ্যই মেকআপ তুলে নেবেন। সূর্যরশ্মি এড়িয়ে চলুন গরমের দিনে ফুলস্লিভ জামাকাপড় পরে বাইরে বের হওয়া উচিত। গাড়িতে বসে থাকাকালীন এমনভাবে স্কার্ফ জড়িয়ে নিন, যাতে গাল ও ত্বকের কোনো অংশ সূর্যের অতিবেগুনি রশ্মি দ্বারা ক্ষতিগ্রস্ত না হয়। প্রসাধনী পরিবর্তন নয় লোশন, ক্রিম, সিরাম এগুলো অতিদ্রুত পাল্টানো ত্বকের জন্য ভালো নয়। অ্যান্টি-এজিং ক্রিম ব্যবহার করলে অন্তত চার সপ্তাহ সময় দিতে হবে, যাতে ত্বক সেটার সঙ্গে মানিয়ে নেয়ার সুযোগ পায়। ভালো ব্র্যান্ডের প্রসাধনী ত্বকের জন্য ভালোমানের ও ব্র্যান্ডের প্রসাধনী ও উপকরণ ব্যবহারের কোনো বিকল্প নেই। ত্বকের কোনো সমস্যা দেখা দিলে অবশ্যই বিশষজ্ঞের পরামর্শ নিতে হবে ও সে অনুযায়ী ত্বকের জন্য পণ্য ব্যবহার করতে হবে। হাসিখুশি থাকুন অতিরিক্ত রাগ, দুশ্চিন্তা, ক্ষোভ, ভীতি ত্বকের ওপর ভয়াবহ প্রভাব ফেলে। এতে করে ত্বকে বলিরেখা পড়তে পারে। চোখের নিচে কালির ও ত্বক কুঁচকে যাওয়ার অন্যতম কারণ স্ট্রেস। সবসময় চেষ্টা করুন ফুরফুরে মেজাজে থাকতে।
কেমন ফ্রেমের চশমা আপনার জন্য মানানসই হবে
অনলাইন :ফ্যাশনের জন্য এবং প্রয়োজনে অনেককেই চশমা ব্যবহার করতে হয়। যাদের চোখে পাওয়ারের সমস্যা রয়েছে তাদের জন্য চশমা পড়া একটি বাধ্যগত কাজই ধরা হয়। আবার অনেকেই নিজের মধ্যে স্টাইলিশ লুক আনতেও ব্যবহার করেন চশমা। কিন্তু কোন মুখে কেমন ফ্রেমের চশমা মানায় তা যদি বুঝতে না পারেন তাহলে আপনার লুকে স্টাইলিশ ভাব একেবারেই আসবে না। বরং দেখতে বিশ্রীই লাগবে। তাই আপনার মুখের সাথে কেমন ধরণের ফেম মানাবে তা বুঝে নেয়া জরুরী। চলুন তবে দেখে নেয়া যাক কোন আকারের মুখে কেমন ফ্রেমের চশমা মানানসই হবে। চারকোণা মুখের জন্য চারকোণা আকৃতির মুখে সব চাইতে বেশি মানায় গোল, ক্যাট আই ও কার্ভড ধরণের ফ্রেমের চশমা। কারণ এই আকারের চশমাগুলো চয়ালের চারকোণা ভাবটা দূর করে মুখের ভারসাম্য বজায় রাখে। চারকোণা মুখে ওপরে সমান ফ্রেম, পুরু ফ্রেম ও চারকোণা আকারের ফ্রেম একেবারেই মানানসই নয়। গোলাকৃতি মুখের জন্য গোল মুখের জন্য এমন ধরণের ফ্রেমের চশমা ব্যবহার করা উচিৎ যা মুখটিকে আরও বেশি গোল না দেখায়। এর জন্য গোল ফ্রেমের চশমা ও ছোট ফ্রেমের চশমা থেকে দূরে থাকুন। আয়তাকার বা চারকোণা ফ্রেমের চশমা এবং পুরু ফ্রেমের চশমা গোল মুখের সাথে বেশ ভালো মানিয়ে যায়। ডিম্বাকৃতি মুখের জন্য ডিম্বাকৃতি মুখের সবচাইতে ভালো সুবিধা হচ্ছে যে কোনো আকারের ফ্রেম মানিয়ে যায়। গোল, চারকোণা যে কোন ফ্রেমের চশমা ব্যবহার করতে পারেন এই আকারের মুখের অধিকারী মানুষেরা। বেশ ভালো দেখাবে। তবে খুব ছোট ও অনেক বড় আকারের ফ্রেম এড়িয়ে যাওয়াই ভালো। হার্ট আকৃতির মুখের জন্য হার্ট আকৃতির মুখের সমস্যা হলো কপাল একটু বড় থাকে মুখের নিচের অংশের তুলনায়। তাই হার্ট আকৃতির মানুষের জন্য এমন ফ্রেমের চশমা দরকার যা কপাল থেকে দৃষ্টি সরিয়ে নিতে পারে। এর জন্য চারকোণা, আয়তাকার ও ক্যাট আই ফ্রেম একদম মানিয়ে যায়।ওপরে নিচে সমান আকারের ফ্রেম ব্যবহার করবেন। লম্বাটে মুখের জন্য লম্বাটে মুখের জন্য এমন ফ্রেমের প্রয়োজন যা মুখের লম্বাটে ভাব দূর করে। তাই একটু বড় আকারের চশমার ফ্রেম বেঁছে নিন। ছোট আকারের এবং চারকোণা ফ্রেমের চশমা থেকে দূরে থাকুন।
ভালোবাসা ও আত্মবিশ্বাস বাড়ানোর ৬টি উপায়
অনলাইন :আপনি নিজেকে ভালোবাসেন তো? নাকি নিজের আশেপাশের প্রিয় মানুষগুলোকে ভালোবাসতে গিয়ে নিজেকে ভালোবাসার কথা আর মনে নেই আপনার? সুখে থাকার জন্য, আত্মবিশ্বাসী হয়ে ওঠার জন্য সবচেয়ে জরুরী বিষয় হলো নিজেকে ভালোবাসা। নিজের প্রতি ভালোবাসা বাড়লে আত্মবিশ্বাস, মনোবল এবং মানসিক শান্তি বৃদ্ধি পায়। ফলে জীবনটাকে অনেক বেশি সহজ ও সুন্দর মনে হয়। অনেক সময় অনেক ছোট কোনো ভুলের জন্যও মানুষ নিজের উপর থেকে ভালোবাসা হারিয়ে ফেলে। আবার অন্যের কোনও বিপদের জন্য নিজেকে দোষারোপ করে পুরো জীবন পার করে দেয় কেউ কেউ। নিজের প্রতি ভালোবাসার সামান্য ঘাটতি হলেও জীবনের প্রতি বিতৃষ্ণা এসে পড়ে। আর তাই নিজের প্রতি ভালোবাসা বাড়িয়ে তোলা জরুরী। আসুন জেনে নেয়া যাক নিজের প্রতি ভালোবাসা ও আত্মবিশ্বাস বাড়ানোর ৬টি উপায় সম্পর্কে। নিজেকে ক্ষমা করে দিন মানুষের জীবনে ছোটখাটো ভুল হতেই পারে। কিন্তু এই ছোট খাটো ভুল এর কারণে সব সময় নিজেকে দোষারোপ করা থেকে বিরত থাকুন। কারণ মানুষ মাত্রই ভুল হয়। আর এই ভুল যে কারোই হতে পারে। তাই নিজের ভুলের জন্য সারাক্ষণ নিজেকে দোষারোপ না কওরে ক্ষমা করে দিন নিজেকে। নিজেকে বলুন আমি তোমাকে ভালোবাসি নাহ প্রিয়তম কিংবা প্রিয়তমাকে নয়, এবার নিজেকেই বলুন আমি তোমাকে ভালোবাসি প্রতিদিন আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে নিজের প্রেমে পড়ুন। নিজের প্রতি ভালোবাসা প্রকাশ করুন প্রতিদিন। তাহলে আত্মবিশ্বাস বাড়ে এবং নিজের প্রতি ভালোবাসা বৃদ্ধি পায়। নিজেকে অগ্রাধিকার দিন সব কাজেই নিজেকে অগ্রাধিকার দিন। কী করলে নিজের ক্ষতি হতে পারে কিংবা কী করলে নিজের ভালো হবে চিন্তা করুন। অন্যের ফাঁদে পা দিয়ে কখনোই নিজের ক্ষতি করবেন না। নিজের ইচ্ছা, অনিচ্ছা ও মতামতকে অগ্রাধিকার দেয়ার চেষ্টা করুন সবসময়। নিজের পছন্দের কাজ করুন প্রতিদিন প্রতিদিন একটি করে হলেও নিজের পছন্দের কাজ করুন। আপনার শখ যদি রান্না হয় তাহলে প্রতিদিন খুব সহজ কিছু হলেও রাঁধতে পারেন। ছবি আঁকার শখ থাকলে রঙ তুলি নিয়ে বসে পড়ুন যখন তখন। প্রতিদিন নিজের পছন্দের কাজ করলে মন ভালো থাকে এবং নিজের প্রতি ভালোবাসা বাড়ে। নেতিবাচক প্রভাবমুক্ত থাকুন কিছু মানুষ আছে যারা অন্যের দোষ নিয়ে খোঁচা দিতে ভালোবাসে। আপনার পাশে পাশের মানুষ যারা অহেতুক সারাক্ষণ আপনার দোষ ধরে এবং আপনাকে ছোট করে তাদেরকে এড়িয়ে চলুন। এধরণের মানুষ নিজের প্রতি ভালোবাসা কমিয়ে দিতে ভূমিকা রাখে। নিজের ইতিবাচক গুন গুলো খুঁজে নিন সব সময় নিজের ভালো দিক গুলো খুঁজে বের করুন। নিজের এই সমস্যা, ওই সমস্যা চিন্তা করা বাদ দিন। ভেবে দেখুন আপনার কী কী ইতিবাচক গুন আছে যা মানুষের কাছে প্রশংসিত। প্রতিনিয়ত নিজের ইতিবাচক গুন গুলো খুঁজলে নিজের প্রতি ভালো ভালোবাসা বৃদ্ধি পায়।
সকালের নাস্তায় স্বাস্থ্যকর খাবার সম্পর্কে জেনে নেন
অনলাইন ডেস্ক : সকালের নাস্তা আমাদের শরীরের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ। এটি সারা দিন আমাদেরকে প্রাণবন্ত ও সুস্থ রাখতে সাহায্য করে। সাম্প্রতিক এক গবেষণায় দেখা গেছে, সকালের নাস্তা বেশি পরিমাণে ক্যালরি পোড়াতে সাহায্য করে এবং সারাদিন ধরে রক্তে শর্করার পরিমাণ নিয়ন্ত্রণেও সাহায্য করে। তাই প্রতিদিন সকালে স্বাস্থ্যকর এবং ভারী নাস্তা খেলে মস্তিষ্ক পুরোদিনের জন্য তৈরি হয়ে যায় এবং সারাদিন শক্তি পাওয়া যায়। কিন্তু সব ভারী খাবারই স্বাস্থ্যকর নয়। তাই আমাদের জানতে হবে সকালের নাস্তায় কোন খাবারগুলো খাওয়া একেবারেই উচিত নয় এবং কোনগুলো খাওয়া উচিত। তবে আর দেরি না করে চলুন জেনে নেই সকালের নাস্তায় ৭টি স্বাস্থ্যকর খাবার সম্পর্কে। ১. ফল সকালের নাস্তার জন্য সব চাইতে ভালো খাবার হচ্ছে ফলমূল। কলা, আপেল, কমলা, আঙুর ইত্যাদি ধরণের ফলমূল অথবা মৌসুমি ফলমূল দিয়ে সকালের নাস্তা করা সব চাইতে ভালো। ২টি কলা, ১টি আপেল, ১টি কমলা, ২/৩টি স্ট্রবেরি এভাবে শুধুমাত্র ফল দিয়ে নাস্তা করা সকালের জন্য ভালো। চাইলে ফলমূল দিয়ে সালাদের মত তৈরি করেও খেতে পারেন। ২. ওটস ওটস জিনিসটা খেতে ভালো না লাগলেও এটি আমাদের দেহের জন্য অনেক ভালো একটি খাবার। এতে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে ফাইবার। ওজন কমাতে এবং কলেস্টোরল নিয়ন্ত্রণে রাখতে ওটসের জুড়ি নেই। সকালে হাবিজাবি খাবার বাদ দিয়ে একবাটি ওটস রাখুন। তবে কোন ফ্লেভারড বা চিনিযুক্ত ওটমিল খাবেন না। চিনির পরিবর্তে মধু এবং সাথে কিছু ফলমূল যোগ করে নিতে পারেন। ওটস খিচুড়িও নাস্তা হিসেবে চমৎকার। ৩. ডিম ডিমকে বলা হয় ‘সুপারফুড’। ডিমে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন এবং মিনারেলস। প্রোটিনের সব চাইতে ভালো উৎস হচ্ছে ডিম। এতে ক্যালোরিও থাকে বেশ কম। সকালের নাস্তায় অবশ্যই প্রত্যেকের ডিম খাওয়া উচিৎ। একজন পূর্ণবয়স্ক মানুষ হিসেবে সকালে ২ টি ডিম খেলেই যথেষ্ট। তবে যারা একটু বেশি স্বাস্থ্যবান তাদের ডিমের কুসুম এড়িয়ে যাওয়া উচিৎ। সকালে ডিম সেদ্ধ বা ডিমের অমলেট দিয়ে নাস্তা সারতে পারেন। ৪. আটার রুটি সকালের নাস্তার জন্য বেশ ভালো একটি খাবার হচ্ছে আটার রুটি। বিশেষ করে যারা ভারী খাবার পছন্দ করেন। সকালে পাউরুটি বা ভাত খাবার চাইতে আটার রুটি সবজি ভাজি বা ডিম অথবা ঝোলের তরকারি কিংবা কলা দিয়ে খাওয়া স্বাস্থ্যের জন্য অত্যন্ত ভালো। এছাড়া রুটি বেশ ভালো এনার্জি সরবরাহ করে আমাদের দেহে যা পুরো দিনই রাখবে সতেজ। তবে অবশ্যই তেলে ভাজা পরটা থেকে দূরে থাকবেন। ৫. খিচুড়ি অনেকেরই সকালে ভাত খাওয়ার অভ্যাস। তারা ভাতের বদলে সকালের নাস্তায় রাখতে পারেন খিচুড়ি। তবে অবশ্যই সবজি খিচুড়ি। চালের পরিমাণ কমিয়ে বেশি পরিমাণে সবজি দিয়ে রান্না করা সবজি খিচুড়ি দিয়ে সেরে নিতে পারেন সকালের নাস্তা। এতে করে ভারী নাস্তা করা হলেও দেহে পৌঁছাবে পর্যাপ্ত পুষ্টি। ৬. দই দিনের শুরুটা দই দিয়ে শুরু হোক অনেকেই তা চান না। কিন্তু দই দেহের জন্য অনেক বেশি কার্যকরী একটি খাবার। এতে রয়েছে ক্যালসিয়াম যা হাড়ের গঠনে কাজ করে। দিনের শুরু দই দিয়ে করলে পুরো দিন আপনার দেহে থাকবে অফুরন্ত এনার্জি। ক্লান্তি স্পর্শ করবে না দিনের শেষেও। সুতরাং সকালের নাস্তায় কিছু ফলমূলের পাশাপাশি রাখুন দই। ৭. সালাদ সালাদ মানেই যে শসা, টমেটো এবং গাজরের হতে হবে এমনটা মনে করার কোনো কারণ নেই। সুস্বাস্থ্যের জন্য এই সকল সবজির সাথে সালাদে ব্যবহার করতে পারেন সেদ্ধ ডিম বা সেদ্ধ মাংস অথবা সেদ্ধ ছোলাবুট। এছাড়া খেতে পারেন ফলমূলের সালাদ। এইসব ধরণের সালাদ স্বাস্থ্যের জন্য ভালো এবং দিনের শুরুটা চমৎকার করতে বেশ কার্যকরী।
শীতে আপনার ত্বকের যত্ন
অনলাইন ডেস্ক :শীতে শুষ্ক ত্বকের যত্ন নিতে অনেকেই হাবুডুবু খান। দেখা যায়, ত্বকের যত্ন নেওয়ার সঠিক পদ্ধতি জানলেও সময় পান না অনেকেই। অনেকে আবার একাধিক জিনিস ব্যবহার করে ত্বকের ক্ষতি করে ফেলেন। গ্লিসারিন, বডি ওয়েল, ফেস ক্রিম, লোশনের মতো প্রয়োজনীয় অনেক উপাদানই পাবেন বাজারে। এর মধ্যে মাত্র তিনটি জিনিস ব্যবহারে শীতে আপনার ত্বক রাখবে মসৃণ, বাড়াবে উজ্জ্বলতা। চলুন তাহলে দেখে নেওয়া যাক ঘরোয়া উপায়ে শীতের ত্বকের যত্ন নেওয়ার সহজ পদ্ধতি- যা যা লাগবে- গ্লিসারিন- ৫ ফোঁটা গোলাপ জল- ২০ মিলিলিটার লেবুর রস- একটা আস্ত লেবু ১. এই তিনটি উপাদান একসঙ্গে মিশিয়ে একটি কাচের শিশিতে রেখে দিন। ফ্রিজে রাখলে ভাল হয়। ২. ফলাফল বেশি ভালো পেতে চাইলে, এই মিশ্রণের সঙ্গে একটি ভিটামিন ই ক্যাপস্যুল মিশিয়ে নিন। ৩. প্রতিদিন অল্প অল্প করে এই মিশ্রণ মুখে মেখে নিন। এতে মুখের শুষ্ক ভাব কেটে ত্বক হবে ঝলমলে। প্রসঙ্গত, যারা মেক-আপ ব্যবহার করেন, মেক আপ তুলে ফেলার পরে এই মিশ্রণ মুখে স্প্রে বা তা দিয়ে মুখ মুছে নিন। উপকার পাবেন।
মহিলাদের প্রকৃত বয়স জেনে নিন
অনলাইন ডেস্ক :অনেকেই বয়স লুকোতে চান। এই প্রবণতা মহিলাদের মধ্যেই বেশি। তবে ঠিক কেন তাঁরা বয়স লুকোতে চান তা অজানা। কিন্তু কয়েকটি উপায় রয়েছে, যার মাধ্যমে মহিলাদের প্রকৃত বয়স জেনে নিতে পারেন। ১. গল্পের ছলে জেনে নিন সেই মহিলা কবে মাধ্যমিক পাশ করেছেন। সঙ্গে জেনে নিন স্কুলে পড়তে কখনও ফেল করছেন কিনা। তার পরেই হিসেব করে নিন। ২. মহিলার মা-বাবার কততম বিবাহবার্ষিকী আসছে জেনে নিন। তার পরে আন্দাজ করে নিন লুকিয়ে রাখা বয়স। ৩. জিজ্ঞাসা করুন, স্কুলে থাকাকালীন হলে গিয়ে কোন সিনেমা প্রথম দেখেছেন। আর তখন তিনি কোন ক্লাসে পড়তেন। ব্যস! ওই সিনেমা কত সালে বেরিয়েছিল জেনে নিলেই হিসেব মিলে যাবে। ৪. পছন্দের মহিলার বয়স জানতে একটু আধটু মিথ্যে চলে। তাই বলুন আপনি জ্যোতিষ শাস্ত্র একটু জানেন। এবারে কোষ্ঠী বিচার করতে তার জন্ম সালটা জেনে নিন। ৫. এমন কোনও কাজ নিয়ে কথা বলুন যাতে তাঁর ভোটার কার্ড নিয়ে আপনি কথা বলতে পারেন। উঁকি মেরে দেখে নিন ছাপানো জন্ম তারিখ। ৬. মহিলা যখন ডাক্তার দেখাতে যাবেন, তাঁর সঙ্গে যান। বয়স জানতে পারবেনই। ৭. মহিলাকে বলুন আপনার খোঁজে ভাল চাকরি আছে। এই বলে তাঁর বায়ো-ডেটা চান। বয়স জেনে যাবেন। ৮. মহিলাকে দেখে হয়তো মনে হয়, তাঁর বয়স ৩০-এর আশপাশে। তাঁকে দেখে আপনি বলুন, আপনাকে দেখে মনেই হয় না আপনার ৩৫ হয়ে গিয়েছে। এই শুনে উনি নিজেই সঠিক বয়স বলে দেবেন।
মাদক সভ্য ও সুন্দরের পথে বাধা
অনলাইন ডেস্ক :ইসলাম সুন্দরের ধর্ম। শাশত সৌন্দর্যের পবিত্র এক সামিয়ানার নাম ইসলাম। ইসলামের আরশের ছায়ায় অপবিত্রতা নেই। মাদকতা নেই। ধোঁকা নেই। মাদক সভ্য ও সুন্দরের পথে বাধা। আলোকিত জীবন চলাচলে বিঘ সৃষ্টি করে। মাদকের কারণে জীবন সংকটে পড়ে। ইসলামে মাদককে একদিনে নিষেধ করা হয়নি। ধীরে ধীরে নিষেধ করা হয়েছে। ইসলামী আইন খুব সূক্ষ্মভাবে প্রতিরোধ করেছে মাদককে। মদিনায় ইসলামের প্রথম যুগে মদ সম্পর্কে কোরআনুল কারিমে প্রথমে যে আয়াত নাজিল হয়েছিল, তাতে বৈধতার যৎসামান্য আভাস ছিল। প্রথমে হুট করে এক দফায় নিষেধ করে দিলে মানুষের জন্য পালন করা কষ্টকর ও অনেকে অবজ্ঞা করত। কারণ মাদক তাদের রক্ত, শিরায়, ধমনিতে মিশে গেছে। এ জন্য প্রথমে বৈধতার কিঞ্চিৎ আভাস দিয়ে বলে দেওয়া হয়েছে বোধ সম্পন্ন ব্যক্তির জন্য নিদর্শনের কথা। এখানে ইঙ্গিত করা হয়েছে যে, জ্ঞানীরা মাদক পরিত্যাগ করবে। শ্রেষ্ঠ গ্রন্থ কোরআনে পঠিত হয়েছে, খেজুর বৃক্ষের ফল ও আঙুর থেকে তোমরা মাদক ও উত্তম খাদ্য সংগ্রহ করে থাক, তবে অবশ্যই বোধশক্তিসম্পন্ন সম্প্রদায়ের জন্য রয়েছে নিদর্শন। (সূরা নাহল : ৬৭)। তখনও মদ অবৈধ করা হয়নি। যার ফলে অনেক মুসলমান সাহাবি আগের মতো মদ পানে অভ্যস্ত ছিল। সর্ব যুগেই মদ পান মানুষের জ্ঞান চিন্তা শক্তিকে গ্রাস করেছে। বুদ্ধি বিনষ্ট করেছে। আকল বিকল করেছে। তখনকার সময়ে হযরত ওমর, মুয়ায ইবনে জাবালসহ কিছু সাহাবি রাসুল (সা.) এর কাছে এই মর্মে আরজ করলেন যে, হে আল্লাহর রাসুল! মাদকের ব্যাপারে আমাদের ফতোয়া দিন। এতে আকল নষ্ট হয় এবং মাল ধ্বংস হয়। মুসলমানের চেতনার বারান্দায় যখন মদের মন্দ বিষয় উঁকি দিল, তারা যখন স্বেচ্ছায় স্বীকার করল মদের কারণে তাদের চিন্তাশক্তি লোপ পায়, তখনই মহান প্রভু নাজিল করেন মদ পানে উপকারের তুলনায় মদের মন্দ বিষয়। কোরআনে ঘোষণা হয়েছে, ‘লোকে আপনাকে মদ ও জুয়া সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করে। বলুন, উভয়ের মধ্যে মহাপাপ এবং মানুষের উপকার আছে। কিন্তু তাদের পাপ উপকার অপেক্ষা অধিক। (সূরা বাকারা : ২১৯)। এই আয়াত নাজিল হলে মানব মাঝে প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়। কেউ চিরতরে মদ পান ছেড়ে দেন। কেউ আগের অভ্যাসে চালিয়ে নেয় জীবনকে। এভাবে কিছুদিন চলতে থাকে। এ সময় আবদুর রহমান ইবনে আউফ (রা.) বাড়ির এক অনুষ্ঠানে সাহাবিদের দাওয়াত করেন। খাবার শেষে ব্যবস্থা করেন মদের। জমে যায় আরবীয় ঐতিহ্যের মদ আসর। ইচ্ছামতো পান করেন অনেকে। তৃপ্তির ঢেঁকুর গিলেন। সবার মধ্যে এক উন্মাদনা। মদের ঘোরে তারা নামাজে দাঁড়ায়। তখন তাদের কোনো একজন নামাজে পাঠ করে ফেলেন, কুল ইয়া আইয়ুহাল কাফিরুন, আবুদু মা তাবুদুন। অর্থাৎ লাঅক্ষরটি বাদ দিয়ে পড়েন। নেশার ঘোরে নামাজে মারাত্মক ভুল করে ফেলে। অর্থে ভুল বিরাট বড়। তখনই আল্লাহ নাজিল করেন, হে মোমিনরা! মদপানোত্তর মাতাল অবস্থায় তোমরা নামাজের নিকটবর্তী হবে না। যতক্ষণ তোমরা যা বল তা বুঝতে পার।(সূরা নিসা : ৪৩)। ওই আয়াত নাজিল হলে তুলনামূলক মদপায়ীর সংখ্যা হ্রাস পায়। বেশিরভাগ সাহাবি মদপান ছেড়ে দেন। একদিন ওসমান (রা.) তার বাসায় খাবারের দাওয়াতে আয়োজন করেন। খানা শেষে তাদের রীতি অনুযায়ী মদ পানে উন্মাদ হয়ে ওঠেন অনেকে। উন্মাদনায় সাদ ইবনে আবি ওয়াক্কাস (রা.) আনসারদের দোষারোপ করে কবিতা আবৃত্তি করেন। এতে আনসারী এক যুবক রাগ করে তার মাথায় ছুড়ে মারেন উটের গাদেশের একটি হাড়। এতে তিনি গুরুতরভাবে জখম হন। পরে নবীজির কাছে অভিযোগ দায়ের করলে নবীজি আল্লাহর কাছে মোনাজাতে আঁখি ভেজান। তখন আল্লাহ নাজিল করেন, হে মোমিনরা! মদ, জুয়া, মূর্তি পূজার বেদি ও ভাগ্য নির্ণয়ক সব ঘৃণ্য বস্তু, শয়তানের কাজ। সুতরাং তোমরা তা বর্জন করো। তাহলে তোমরা সফলকাম হতে পারবে। (সূরা মায়েদা : ৯০)। এই আয়াত নাজিল হলে রাসুল (সা.) এর সব সাহাবি মদ পান ছেড়ে দেয়। এমনকি মদের পাত্র পর্যন্ত ভেঙে আঁস্তাকুড়ে নিক্ষেপ করে। তাদের হৃদয়ের উঠান থেকে চিরতের মুছে যায় মদের নাম। নেশার জগৎ। আল্লাহর প্রতি বিশ^াস, রাসুল (সা.) এর প্রতি ভালোবাসর সঙ্গে কখনও মদ থাকতে পারে না। আল্লাহ ও নবীর প্রেম আর মদ; সম্পূর্ণ দুই মেরুর। মানব হৃদয় থেকে মদের প্রভাব ছিন্ন করার জন্য ইসলাম যে দিকদর্শন দিয়েছে, হৃদয়ের উর্বর জমিনে ঈমান নামক যে মধুর সজীব ফসল ফলন করেছে এমন ফসল ফলাতে পারলে মানব মাঝে মদের কোনো গন্ধ থাকবে না। মানব জনম হবে আলোকিত। আলোড়িত। সুন্দরের মিছিলে দেশ হবে তারাভরা আকাশ। মাদকসেবীর জন্য নির্ধারণ করা যেতে পারে শাস্তির বিধান। ইসলামী আইনে মাদকসেবন ফৌজদারি অপরাধরূপে গণ্য। মাদকসেবীকে ইসলামী আইন অনুযায়ী শাস্তি দেওয়া যেতে পারে। কোরআন মজিদে এর কোনো শাস্তির উল্লেখ নেই। কিন্তু ফকিহবিদরা এ ব্যাপারে একমত যে, মদ্যপায়ীর শাস্তি হচ্ছে দোররা। দোররা কতটা মারতে হবে বা কী পরিমাণ, এতে ইমামদের মধ্যে মতপার্থক্য রয়েছে। ইমাম আবু হানিফা ও ইমাম মালেক (রহ.) এর মতে, মদ্যপায়ীর শাস্তি হচ্ছে আশি দোররা। তারা তাদের মতের স্বপক্ষে ওমর ফারুক (রা.) সম্পর্কে বর্ণিত হাদিস দারা দলিল পেশ করেন। মদ্যপানের হালকাতম শাস্তি হচ্ছে আশি দোররা।(মুসলিম : ১৭০৬)। ইমাম শাফি (রহ.) এর মতে মদ্যপানের শাস্তি হচ্ছে চল্লিশ দোররা। তারা দলিল দেন আনাস বিন মালেক (রা.) থেকে বর্ণিত হাদিস দ্বারা। আনাস (রা.) বলেন, নবী করিম (সা.) মদ্যপানের শাস্তি হিসেবে জুতো বা বেত দিয়ে চল্লিশটি বেত্রাঘাত করতেন। (বোখারি : ৬৩৯১)। আমাদের উচিত, অনাগত প্রজন্মকে সুন্দর পৃথিবী উপহার দিয়ে যাওয়া। নিরাপদ শহর তাদের হাতে তুলে দিয়ে বিদায় নেওয়া। কিন্তু আমরা যদি মরে যাওয়ার সময় পরবর্তী প্রজন্মের কাছে নিরাপদ পৃথিবী উপহার দিতে না পারি, তাহলে পৃথিবী সভ্যতা হারিয়ে ইতিহাস স্বীকৃত এমন একটা অন্ধকার জগতে আবার চলে যাবে। আমাদের জীবন, আমাদের পৃথিবী সুস্থ নিরাপদ ও আলোকিত রাখতে হলে মাদককে না বলতে হবে। জীবন এবং পৃথিবীর ডায়েরি থেকে মুছে দিতে হবে ধ্বংসাত্মক মাদকের নাম। জীবনকে নিষিদ্ধ আঁধারে কলঙ্কিত করার আগেই জালাতে হবে আলোর মশাল। পবিত্রতার ঘ্রাণ ছড়াতে হবে পৃথিবীর পাড়া মহল্লায়। এ ঘ্রাণ গায়ে মেখে সবাইকে নিয়ে যেতে হবে আলোর মিছিলে। সুন্দরের এ মানুষেরা পৃথিবীর মাজারে ফেরি করে বেড়াবে মহাসত্যের গান। সভ্যতার প্রদীপ্ত আলো।
জেনে নিন কেন হিন্দু বিয়েতে সাত পাকে ঘোরা হয় ?
বিয়ে মানে দুটো মনের মিলন, দুটো পরিবারের মিলন। বিয়েতে অনেক নিয়ম কানুন মানা হয়। এক এক ধর্মের এক এক নিয়ম। হিন্দু মতে বিয়ে মানেই, শুভদৃষ্টি, সাত পাকে ঘোরা, খই পোড়ানো, সিঁদুর দান। তবে এই সমস্ত রীতি কিন্তু শুধুই ধর্মীয় কারণে নয়। এর পিছনে আরও অনেক কারণ রয়েছে। হিন্দু মতে বিয়েতে আমরা দেখতে পাই, আগুনের কুন্ডলীর চারপাশে বর-বউকে ঘুরতে। একে সাত পাকে বাঁধা পড়া বলা হয়। বলা হয়, এর মাধ্যমে অগ্নিদেবতাকে বিয়েতে সাক্ষী হিসেবে রাখা হয়। শুধু আগুনের চারপাশে ঘোরাই নয়, এই সময়ে বিভিন্ন প্রতিশ্রুতিও দিতে হয় একে অপরকে। প্রথম প্রতিশ্রুতি- প্রথমে বর তাঁর বউ এবং তাঁর ভাবী সন্তানদের যত্ন নেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেন।বিনিময়ে কনেও প্রতিশ্রুতি দেন যে তিনি তাঁর স্বামী এবং তাঁর পরিবারের যত্ন নেবেন। দ্বিতীয় প্রতিশ্রুতি- এবার বর প্রতিশ্রুতি দেন যে তিনি তাঁর স্ত্রীকে সবরকম পরিস্থিতি থেকে রক্ষা করবেন।বিনিময়ে কনেও প্রতিশ্রুতি দেন যে তিনি স্বামীর সবরকম যন্ত্রণায় পাশে থাকবেন। তৃতীয় প্রতিশ্রতি- এবার বর প্রতিশ্রুতি দেন যে তিনি তাঁর পরিবারের জন্য রোজগার করবেন এবং তাঁদের দেখভাল করবেন।একই প্রতিশ্রুতি এবার কনেও করেন। চতুর্থ প্রতিশ্রুতি- স্ত্রীর কাছে তাঁর পরিবারের সমস্ত দায়িত্ব তুলে দেওয়া এবং একইসঙ্গে স্ত্রীর সমস্ত মতামতকে গুরুত্ব দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেন বর।স্ত্রী তাঁর সমস্ত দায়িত্ব ঠিকভাবে পালন করার প্রতিশ্রুতু দেন। পঞ্চম প্রতিশ্রুতি- যে কোনও গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে স্ত্রীর সঙ্গে আলোচনা করার প্রতিশ্রুতি দেন বর।স্বামীকে সমর্থন করার প্রতিশ্রুতি দেন স্ত্রী। ষষ্ট প্রতিশ্রুতি- স্ত্রীর প্রতি সত্য থাকার প্রতিশ্রুতি দেন স্বামী।স্ত্রীও স্বামীর প্রতি সত্য থাকার প্রতিশ্রুতি দেন। সপ্তম প্রতিশ্রুতি- শুধু স্বামী হিসেবেই নয়, বন্ধু হিসেবেও সারাজীবন স্ত্রীর সঙ্গে থাকার প্রতিশ্রুতি দেন বর।বিনিময়ে স্ত্রীও স্বামীর সঙ্গে জীবনের শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত থাকার প্রতিশ্রুতি দেন।বাংলা রিপোর্ট