কট্টর দেশভক্ত- পাত্রী চেয়ে ভারতীয় চিকিৎসকের বিজ্ঞাপন
১৯ফেব্রুয়ারী,বুধবার,নিজস্ব প্রতিবেদক,নিউজ একাত্তর ডট কম: পাত্র-পাত্রীর বিজ্ঞাপনে মাঝে মধ্যেই মজার উপাদান দেখা যায়। বিশেষত পাত্রপক্ষের এমন সব চাহিদা থাকে, যা এক কথায় অসাধারণ। এবার এমনই এক চমকদার বিজ্ঞাপনের সন্ধান মিলেছে, যা সোশ্যাল মিডিয়ায় যোগাচ্ছে মজার রসদ। ভারতীয় এক যুবকের দেয়া ওই বিজ্ঞাপন ইতোমধ্যেই ভাইরাল হয়ে গেছে। সেখানে এক হিন্দু ব্রাহ্মণ মেয়ের জন্য বিজ্ঞাপন দেয়া হয়েছে। জাত-ধর্ম উল্লেখ করে বিজ্ঞাপন দেয়া অবশ্য নতুন কিছু নয়। তবে তার সঙ্গে আর যা কিছু যোগ করা হয়েছে, তা খুঁজে বের করাটা মোটেই সহজ নয়। বিজ্ঞাপনটিতে পাত্রের যে বিবরণ রয়েছে, তাতে পাত্রের নাম ডা. অভিনব কুমার। পেশায় দন্ত্য চিকিৎসক, লম্বা ৫ ফুট ৮ ইঞ্চি। বিহারের ভাগলপুরের বাসিন্দা। ব্রাহ্মণ, গোত্র-ভরদ্বাজ। আর নিজের চাহিদার কথা জানিয়ে তিনি লিখেন, পাত্রী হতে হবে ফর্সা, সুন্দরী, বিশ্বাসযোগ্য, যত্নশীল, সাহসী, ধনী। কট্টর দেশভক্তি থাকতে হবে। ভারতীয় সেনার ক্ষমতা বাড়ানোয় বিশেষ আগ্রহী হতে হবে। সন্তানের প্রতি যত্নশীল হতে হবে। ভালো রাঁধতে জানতে হবে। বিহার কিংবা ঝাড়খণ্ডের ভারতীয়, হিন্দু, ব্রাহ্মণ, চাকরিরত মেয়ে চাই। ও হ্যাঁ, অবশ্য কুণ্ডলী আর ৩৬ গুণ মিলিয়ে নিতে হবে। তবে পাত্রের বিয়ে করার কোনও তাড়া নেই। সেকথাও জানিয়েছেন বিজ্ঞাপনের নিচে। ফোন নম্বর দিয়ে লেখা হয়েছে, আমি কোনও ফোন রিসিভ করবো না। শুধু এসএমএস-এ কথা বলবো।
বসন্ত রঙিন ভালোবাসার দিন,নারী পুরুষ সবাই রঙে রঙিন
১৪ফেব্রুয়ারী,শুক্রবার,নিজস্ব প্রতিবেদক,নিউজ একাত্তর ডট কম: দখিন হাওয়ার গুঞ্জরণে হৃদয়ে জেগেছে রেশমি পরশ। নিসর্গ জেগেছে নতুন রূপে। হাওয়ায়-হাওয়ায় দোল লেগেছে বাংলার প্রকৃতিতে। প্রকৃতি আজ জানান দিচ্ছে, আজি বসন্ত জাগ্রত দ্বারে। কবি সুভাষ মুখোপাধ্যায়ের ভাষায় ,ফুল ফুটুক না ফুটুক আজ বসন্ত। কবির শঙ্কা দূর করে ফুল ফুটেছে। গাছে গাছে ফুটেছে আমের মুকুল। শীতের খোলসে থাকা কৃষ্ণচূড়া, রাধাচূড়া, নাগলিঙ্কন এখন অলৌকিক স্পর্শে জেগে উঠেছে।প্রকৃতির সঙ্গে তাল মিলিয়ে আজ বাসন্তি রঙের শাড়ি পরবে নারীরা। রঙে রঙিন হবে নারী, পুরুষ সবাই। ১লা ফাল্গুনের সঙ্গে আজ যোগ হয়েছে ভ্যালেন্টাইন ডে বা ভালোবাসা দিবস। একই দিনে দুটি দিবসের আনন্দ ছুঁয়ে যাবে প্রাণে। বসন্তের এই দিনে হৃদয় উদার, উন্মুক্ত করতে হবে। বসন্তকে আজ বরণ করে নিতে হবে। কবিগুরু তাই বলেছেন, আজি বসন্ত জাগ্রত দ্বারে/তব অবগুণ্ঠিত কুণ্ঠিত জীবনে/কোরো না বিড়ম্বিত তারে/ আজি খুলিয়ো হৃদয়দল খুলিয়ো/ আজি ভুলিয়ো আপনপর ভুলিয়ো। বসন্তকে বরণ করে নিতে বেশ কিছু দিন ধরে ছিল নানা প্রস্তুতি। শপিং মল থেকে বিউটি পার্লার, ফুলের দোকানে ব্যস্ত তরুণ-তরুণীরা। ব্যস্ততা ছিলো, সংস্কৃতি কর্মীসহ বিভিন্ন পেশার মানুষের। শোভাযাত্রার বৈচিত্রময় আয়োজনের ব্যস্ততা শেষে আজ বরণ করা হচ্ছে বসন্তকে।
আগামীকাল বসন্তের প্রথম দিন এবং ভালবাসা দিবস
১৩ফেব্রুয়ারী,বৃহস্পতিবার,নিজস্ব প্রতিবেদক,নিউজ একাত্তর ডট কম: আগামীকাল শুক্রবার বসন্তের প্রথম দিন এবং ভালবাসা দিবস। বাসন্তি রঙের শাড়ি আর হলুদ পাঞ্জাবীতে নগর জুড়ে ছুটবে তরুণ-তরুণীর দল। হৃদয়জুড়ে থাকা ভালবাসা আর হাতে রঙ্গীণ ফুলে মানুষের মতো প্রকৃতিও সাঝবে নতুন রঙে। এই উপলক্ষেই রাজধানীতে জমে উঠেছে ফুলের বাজার। তারুণ্যের ভিড়ে ফুল কেঁনাবেচায় পড়েছে বাড়তি প্রভাব। উৎসব বরণ করতে শহরজুড়ে বাড়তি দামেও ফুল বিকিকিনি হচ্ছে।এবার ভালোবাসা দিবস ও বসন্ত উৎসব একই দিনে এবং ছুটির দিন পড়েছে, যেকারণে ফুলবিক্রি বেশি হবে। এবং ফুলের দাম বাড়তি থাকবে।
মায়ের নামে মসজিদ নির্মাণ করছেন নায়িকা রোজিনা
নকশা ডেস্ক,নিউজ একাত্তর ডট কম: ঢালিউডের আশির দশকের জনপ্রিয় নায়িকা রোজিনা। চলচ্চিত্রে আসার আগে তিনি ঢাকায় মঞ্চ নাটক করতেন। রোজিনার জন্ম রাজবাড়ী জেলার গোয়ালন্দের জুরান মোল্লা পাড়ায়। সেখানে মা খাদিজা বেগমের নামে খাদিজা জামে মসজিদ নির্মাণ করছেন এই অভিনেত্রী। সোমবার বিকালে মসজিদটির নির্মাণ কাজের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন সাবেক শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ও রাজবাড়ী-১ আসনের এমপি কাজী কেরামত আলী। জানা গেছে, প্রায় দেড় কোটি টাকা ব্যয়ে খাদিজা জামে মসজিদ নির্মাণ করা হবে। এছাড়া খুব শিগগিরই এই অভিনেত্রী মা খাদিজা বেগমের নামে একটি চক্ষু হাসপাতালের নির্মাণ কাজও শুরু করবেন। এ প্রসঙ্গে রোজিনা বলেন, জম্মভূমির কথা সব সময় মনে পড়ে। ব্যস্ততার কারণে গোয়ালন্দে তেমন আসা হয় না। এখানে যেন বারবার আসতে পারি সে জন্য বাড়ির সামনে মায়ের নামে মসজিদ নির্মাণ করছি। এখানে চক্ষু হাসপাতাল করার চিন্তা আছে। সকলের সহযোগিতা পেলে সেটি কাজ শুরু করবো। ১৯৭৭ সালে আয়না ছবিতে ছোট একটি চরিত্রে শায়লা নাম নিয়ে প্রথম দর্শকের সামনে আসেন রোজিনা। এরপর- রাজমহল ছবিতে নায়িকা হিসেবে তার অভিষেক হয়। ছবিটি ১৯৭৮ সালে মুক্তি পায়। ছবিটি সে সময় সুপার ডুপার হিট করায় রোজিনাকে আর ফিরে তাকাতে হয়নি। পুরো আশির দশকে রোজিনা ছিলেন ঢালিউডের চাহিদা সম্পন্ন নায়িকা ।
সমুদ্র সমান দূরত্ব আর পর্বত সমান বাধাকে জয় করে জন্ম দেয় আত্মার বন্ধন
নকশা ডেস্ক,নিউজ একাত্তর ডট কম: ভালোবাসা হচ্ছে এমনই এক শক্তি যা সব বাধা বিপত্তিকে উপড়ে ফেলে জয় করতে পারে সমগ্র পৃথিবী। বিশ্বাস, অনুভূতি আর একে অপরের প্রতি অগাধ শ্রদ্ধার ফলশ্রুতিতে দু টি মানুষ এক হয়ে ওঠে। না, তাদের মাঝে ছিলো না কোনো পারিবারিক বন্ধন, না কোনো রক্তের ঋণ। আগের জন্মে বা তারও আগে কোনো বন্ধন কি ছিলো! তবে কী এমন সুধা রয়েছে এ সম্পর্কটিতে যা একে অপরের মধ্যকার সমুদ্র সমান দূরত্ব আর পর্বত সমান বাধাকে জয় করে জন্ম দেয় আত্মার এক বন্ধনের। আত্মার এ মিলন জন্ম জন্মান্তরের। এর বিনাশ নেই। হতে পারে না! আর তাই যুগে যুগে পৃথিবীতে জন্ম হয় ভালোবাসার। ভালোবাসার মৃত্যু নেই। তার রয়েছে শুধু বিকাশ। ভালোবাসা সত্যিই অমর। সত্যিকারের ভালোবাসাই যে পৃথিবীতে সবচাইতে মূল্যবান, তা প্রমাণিত হয়েছে শতাব্দীর পর শতাব্দীতে। অতীত সূত্র মতেও রয়েছে অসংখ্য সূদুরপ্রসারী ইতিহাস।- মোঃ ইরফান চৌধুরী, প্রকাশক- ই-প্রিয়২৪, যুগ্ন আহ্বায়ক- ডাক দিয়ে যাই, চট্টগ্রাম পশ্চিম অঞ্চল, (ছাত্র সংগঠন), ব্লগার ও সোশ্যাল এওয়ারন্যাস ওয়ার্কার, প্রাবন্ধিক ও মানবাধিকার কর্মী, (ছাত্র)।
সমাজে শান্তি বজায় রাখতে যেসব স্বভাব ত্যাগ করতে বলে ইসলাম
৩১জানুয়ারী,শুক্রবার,মো.ইরফান চৌধুরী,চট্টগ্রাম,নিউজ একাত্তর ডট কম: অন্যকে উপহাস, তিরস্কার, মন্দ নামে ডাকা, তুচ্ছ-তাচ্ছিল্য করা অত্যন্ত গর্হিত কাজ। এ ধরনের মন্দ স্বভাব-আচরণে মানুষ মানসিকভাবে খুব কষ্ট পায়। তাই এ ধরনের বদ-অভ্যাস অবশ্যই পরিহার করতে হবে। আল্লাহ বলেন, হে মুমিনরা, তোমাদের পুরুষরা যেন পরস্পরকে উপহাস না করে, কেননা উপহাসকারীর চেয়ে সে ভালো হতে পারে, তোমাদের নারীরা যেন পরস্পরকে উপহাস না করে, কেননা উপহাসকারীর চেয়ে সে ভালো হতে পারে, তোমরা পরস্পরকে দোষারোপ করবে না, মন্দ নামে ডাকবে না, মুমিন হওয়ার পর মন্দ নামে ডাকা অত্যন্ত গর্হিত কাজ, আর যারা এ কাজ থেকে বিরত হবে না তারাই অবিচারকারী। (সুরা : হুজরাত, আয়াত : ১১)। উপরোক্ত আয়াতে কাউকে উপহাস করা, কারো দোষত্রুটি বর্ণনা করা কিংবা মন্দ নামে ডাকতে নিষেধ করা হয়েছে। উপহাস বলতে কাউকে হেয়প্রতিপন্ন করা, তুচ্ছ-তাচ্ছিল্য করা, অপমান করা ইত্যাদি। যাতে ব্যক্তির মনে আঘাত লাগে। সমাজে তৈরি হয় দ্বন্দ্ব ও হানাহানি। তেমনি মানুষকে মন্দ নামে ডাকতে বারণ করা হয়েছে। কাউকে লাঞ্ছিত করতে, অপমান করতে বা অতীতের কোনো অপরাধ, দোষত্রুটির জের ধরে কাউকে ডাকা উচিত নয়। এতে মানুষ অন্তরে আঘাত পায়। তা ছাড়া অন্যরা অবজ্ঞাবশত মন্দ নামে ডাকতে শুরু করে। কেউ কোনো অপরাধ করে তা থেকে তওবা করে ফিরে এলে, তাকে অতীত অপরাধের সঙ্গে সম্পৃক্ত করে তাকে সম্বোধন করা উচিত নয়; বরং একজন মুমিনের কাছে অপর মুমিনের এ অধিকারটুকু প্রাপ্য, তাকে সুন্দর নামে ডাকা হবে। মুমিন হিসেবে অপর মুমিনের প্রতি অহেতুক কু ধারণা পোষণ করা যাবে না। প্রমাণ ছাড়া কারো প্রতি মন্দ ধারণা পোষণ করা ইসলামের শিষ্টাচারের বহির্ভূত কাজ। বরং অন্যের প্রতি অবান্তর কু ধারণা পোষণ করা গুনাহ বা পাপ। মহান আল্লাহ বলেন,হে মুমিনরা, তোমরা বেশি বেশি অহেতুক ধারণা পোষণ থেকে বেঁচে থাকো, কেননা কিছু কিছু ধারণা পাপতুল্য। (সুরা : হুজরাত, আয়াত : ১২)। ইসলামের দৃষ্টিতে গিবত একটি সামাজিক অপরাধ। গিবত হলো, কারো অনুপস্থিতিতে এমন কিছু বলা, যা শুনলে সে মনে কষ্ট পাবে। রাসুল (সা.) ইরশাদ করেন, তোমরা জানো, গিবত কী? সাহাবারা বলল, আল্লাহ ও তাঁর রাসুলই ভালো জানেন। গিবত হলো তোমার ভাই সম্পর্কে এমন কথা বলা, যা সে অপছন্দ করে। জিজ্ঞেস করা হলো, আমি যা বলি তা আমার ভাইয়ের মধ্যে থাকলে? রাসুল (সা.) বলেন, তোমার কথা তার মধ্যে বিদ্যমান থাকলেই তা গিবত। আর তোমার কথা তার মধ্যে বিদ্যমান না থাকলে তা তো অপবাদ। (সহিহ মুসলিম)। অন্যের গিবত বা পরনিন্দা করা জঘন্যতম গুনাহ। কোরআনে গিবত বা পরনিন্দাকে মৃত ভাইয়ের গোশত খাওয়ার মতো ঘৃণ্য বলা হয়েছে। ইরশাদ হয়েছে, তোমরা পরস্পরের গোপন বিষয় জানতে ওত পেতে থেকো না, একে অপরের গিবত কোরো না, তোমাদের কেউ কি নিজের মৃত ভাইয়ের গোশত খেতে চাইবে? অথচ তা তোমরা ঘৃণা কোরো, তাই আল্লাহকে ভয় করো, আল্লাহ তওবা কবুলকারী ও দয়ালু। (সুরা : হুজরাত, আয়াত : ১২)। কারো অনুপস্থিতিতে তার দোষত্রুটি নিয়ে আলোচনা করা একটি ব্যাধি। এতে পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও মমতাবোধ নষ্ট হয়। এই মন্দ স্বভাবের কারণে দুনিয়া ও আখেরাতে সে অপদস্থ হয়। আল্লাহ তাআলা বলেন, ওই সব লোকের দুর্ভোগ! যারা পশ্চাতে ও সম্মুখে মানুষের নিন্দা করে। (সুরা : হুমাজা, আয়াত : ১)। তবে ইসলামী শরিয়ত কিছু ক্ষেত্রে সমালোচনার অনুমতি দিয়েছে। অত্যাচারী মন্দ স্বভাবের কথা বলে নিপীড়িত মানুষের বিচার চাইলে। পাপাচারে লিপ্ত ব্যক্তির পাপকর্ম সম্পর্কে সমাজের লোকদের সতর্ক করার জন্য বা শক্তি প্রয়োগ করে তাকে প্রতিরোধের জন্য তার অবস্থার বর্ণনা করা, মুফতির কাছে ফতোয়ার অবস্থার পুরো বিবরণ প্রদান করা, কেউ পঙ্গু, কানা বা অন্ধ বা এ ধরনের কোনো নামে পরিচিত হলে তাকে এ নাম দিয়ে পরিচয় দেওয়া যাবে। এ ক্ষেত্রে তা গিবত বলে ধরা হবে না। কাউকে মিথ্যা অভিযোগে অভিযুক্ত করার অর্থ হলো অপবাদ দেওয়া। এটি গিবতের চেয়ে মারাত্মক গুনাহ। বিশেষত কোনো সতী নারীর বিরুদ্ধে অপবাদ রটানো অনেক বড় গুনাহ। আল্লাহ বলেন,যারা সতী-সাধ্বী সরল ও ঈমানদার নারীদের ব্যাপারে অপবাদ রটায় তারা দুনিয়া ও আখেরাতে অভিশপ্ত, তাদের জন্য আছে কঠিন শাস্তি। (সুরা : নূর, আয়াত : ২৩)। দুনিয়ায় তাদের কঠিন শাস্তির একটি হলো, অপবাদের বিষয়টি প্রমাণিত হলে তাদের ৮০টি বেত্রাঘাত করা হবে। এরপর কখনো তার কোনো সাক্ষ্য গ্রহণ করা হবে না। আর আখেরাতে শাস্তি তো আছেই।
যৌতুকমুক্ত বাংলা চান? তবে লাখো কোটি দেনমোহর দাবি বন্ধ করুন--
২৯জানুয়ারী,বুধবার,অনলাইন ডেস্ক,নিউজ একাত্তর ডট কম: দেনমোহর ও যৌতুক বর্তমান আধুনিক যুগে যেন একে অপরের প্রতিদ্বন্দ্বী বা একে অপরের পরিপূরক। এখন বিবাহ বন্ধনটা যেন প্রতিযোগিতা আসর। কে, কার চেয়ে বেশি দেনমোহর দাবি করবে বা কে বেশি দিবে? আবার, কার বাবা কার মেয়ের জন্য শ্বশুর বাড়িতে যৌতুক কত দিচ্ছে বা ফার্ণিচার কয় পদের? বর্তমান এমন সমাজ ব্যবস্হায় নিজেদের মাঝে এমন আদিপত্য বজায় রাখতে গিয়ে সংসার আগুন, খুন পর্যন্ত সম্মুখীন হচ্ছে স্বামী স্ত্রী। ভাঙ্গণ হচ্ছে শত শত পরিবার সুখ সংসার। যদি এই দু-সমস্যা হতে আমরা মুক্তি চাই তবে উভয়দিকে নমনীয় ও ধর্মীয় নিয়মকানুন অনুসরণ হবে একমাত্র মুক্তিদিশারী। আপনি যদি মেয়েকে যৌতুকমুক্ত বিবাহ দিতে চান তবে পাত্র আয়ের উপর নির্ভর করে দেনমোহর দাবি করুন। কেননা, মুসলিম বিয়েতে স্বামীর পক্ষ থেকে স্ত্রী যে অর্থ সম্পদ পেয়ে থাকে তাকেই দেনমোহর বলে। বিয়ের সময় স্ত্রীকে দেনমোহর প্রদান করা স্বামীর উপর ফরজ। পবিত্র কুরআনুল কারীমে এই বিষয়ে সরাসরি আল্লাহর হুকুম রয়েছে- ইরশাদ হচ্ছে- وَاَتُوْا النِّسَاءَ صَدُقَتِهِنَّ نِحْلَةً فَاِنْ طِبْنَ لَكُمْ عَنْ شَىْءٍ مِنْهُ نَفْسًا فَكُلُوْهُ هَنِيْئًا مَّرِيْئًا . অর্থাৎ- আর তোমাদের স্ত্রীদের তাদের দেনমোহর দিয়ে দাও খুশি মনে। অবশ্য স্ত্রী চাইলে দেনমোহর কিছু অংশ কিংবা সম্পূর্ণ অংশ ছেড়ে দিতে পারে । এছাড়াও পবিত্র কুরআনের আরো বিভিন্ন জায়গায় স্ত্রীকে মোহর প্রদান করার কথা বলা হয়েছে। কেউ মোহর দিতে অস্বীকৃতি জানালে তার জন্য হাদিস শরীফে কঠিন হুশিয়ারী উচ্চারণ করা হয়েছে। রাসুলে করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন- যে ব্যক্তি কোন মেয়েকে মোহরানা দেওয়ার ওয়াদায় বিয়ে করেছে, কিন্তু মোহরানা দেওয়ার ইচ্ছা নেই, সে কিয়ামতের দিন আল্লাহর নিকট ব্যভিচারী হিসেবে দাঁড়াতে বাধ্য হবে। বর্তমানে আমাদের সমাজে মোহর নির্ধারণ নিয়ে অনেক বাড়াবাড়ি হয়। অনেক ক্ষেত্রে কন্যা পক্ষের পছন্দ মোতাবেক মোহর নির্ধারিত না হওয়ায় বিবাহ ভেঙ্গে যায়। পাত্রের সামর্থ্যরে বাইরে তার উপর মোহরের বোঝা চাপিয়ে দেওয়া উচিত নয়। অথচ ইসলামে মোহর নির্ধারণের ক্ষেত্রে বাড়াবাড়ি করা থেকে বিরত থাকার কথা বলা হয়েছে। হাদিস শরীফে এসেছে- قَالَ عُمَرُ بْنُ الْخَطَّابِ: لَا تُغَالُوا صَدَاقَ النِّسَاءِ، فَإِنَّهَا لَوْ كَانَتْ مَكْرُمَةً فِي الدُّنْيَا، أَوْ تَقْوًى عِنْدَ اللَّهِ، كَانَ أَوْلَاكُمْ وَأَحَقَّكُمْ بِهَا مُحَمَّدٌ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، ;مَا أَصْدَقَ امْرَأَةً مِنْ نِسَائِهِ، وَلَا أُصْدِقَتِ امْرَأَةٌ مِنْ بَنَاتِهِ أَكْثَرَ مِنِ اثْنَتَيْ عَشْرَةَ أُوقِيَّةً، وَإِنَّ الرَّجُلَ لَيُثَقِّلُ صَدَقَةَ امْرَأَتِهِ حَتَّى يَكُونَ لَهَا عَدَاوَةٌ فِي نَفْسِهِ .অর্থাৎ- হযরত উমর ইবনুল খাত্তাব রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেছেন, মহিলাদের মোহরের ব্যাপারে তোমরা বাড়াবাড়ি করো না। কেননা তা যদি পার্থিব জীবনে সম্মান অথবা আল্লাহর কাছে তাক্বওয়ার প্রতীক হতো, তাহলে তোমাদের মধ্যে মুহাম্মদ রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এ ব্যাপারে অধিক যোগ্য ও অগ্রগণ্য ছিলেন। তিনি তার স্ত্রী ও কন্যাদের মোহর বারো উকিয়ার বেশি ধার্য করেননি। কখনও অধিক মোহর স্বামীর উপর বোঝা হয়ে দাঁড়ায়। মোহরের পরিমান বেশি নির্ধারণ করার কারণে আমাদের সমাজে অধিকাংশ স্বামীর ক্ষেত্রেই মোহর পরিশোধ না করার প্রবণতা দেখা যাচ্ছে। এটা সম্পূর্ণরুপে ইসলাম পরিপন্থী কাজ। তাই আমাদের এই ব্যাপারে অধিক সতর্কতা অবলম্বন করা উচিত। আর পাত্র সামর্থ্য বিবেচনায় যদি আয়ের উপর দেনমোহর ধার্য হয় তবে কখনও কোনো পুরুষ বিবাহের সময় যৌতুক হিসেবে একটা সুতাও নিবে না। তাই পরিশেষে বলতেই হয়- যৌতুকমুক্ত বাংলা চান, তবে লাখো কোটি দেনমোহর দাবি বন্ধ করুন।- মুহাম্মদ আরিফুল ইসলাম আলফি, ব্লগার ও সোশ্যাল এওয়ারন্যাস ওয়ার্কার, শিক্ষার্থী, স্নাতক ৪র্থ বর্ষ, হিসাববিজ্ঞান, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়।
প্রযুক্তিগত পরকীয়া, ইসলাম যা বলে
২৪জানুয়ারী,শুক্রবার,অনলাইন ডেস্ক,নিউজ একাত্তর ডট কম: বর্তমান সমাজে পরকীয়া ক্যান্সারের আকার ধারণ করছে। যুবক থেকে বৃদ্ধ সব মহলেই এর আগ্রাসন দিন দিন বেড়ে যাচ্ছে। বেলজিয়ামের মনস্তাত্ত্বিক এস্থার পেরেল তাঁর দ্য স্টেট অব অ্যাফেয়ার বইয়ে পরকীয়াকে ক্যান্সারের সঙ্গে তুলনা করেছেন। তিনি বলেছেন, জীবনযন্ত্রণার অন্যতম কারণ দ্বিতীয় কোনো নারী বা পুরুষের সঙ্গে অনৈতিক সম্পর্কে জড়িয়ে পড়া। পরকীয়া বিশ্বব্যাপী অশান্তি নামিয়ে আনছে। এর জেরে কখনো কখনো খুনখারাবির মতো জঘন্য ঘটনাও ঘটে যাচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্রের ইউনিভার্সিটি অব নেভাদার অধ্যাপক ড্যানিয়েল উয়েগেল ও গবেষক রোজি শ্রাউটের মতে, পরকীয়া সম্পর্ক ভুক্তভোগীর মনে ক্রোধ, অশান্তি, দুঃখ, অবিশ্বাস ও অশেষ মনোযন্ত্রণার সৃষ্টি করে। এর প্রধান কারণ আল্লাহর আইনের অমান্য করা। পবিত্র কোরআনে ইরশাদ হয়েছে, যে ব্যক্তি আল্লাহর জিকির থেকে বিমুখ হয়, তার জীবনযাত্রা সংকীর্ণ ও দুঃখে ভরপুর হয়ে ওঠে। (সুরা : ত্বহা, আয়াত : ১২৪) বর্তমান প্রযুক্তির যুগে পরকীয়া অনেক সহজ। বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম, ফ্রি কলিং অ্যাপ ও মোবাইল ফোন এই কাজটি ভীষণ সহজ করে দিয়েছে। এখন আর কারো সঙ্গে দেখা করার জন্য গোপনে তার ঘরের পেছনে গিয়ে মশার কামড় খেতে হয় না। মুঠোফোনে ভিডিও কলের মাধ্যমে এক মুহূর্তেই প্রেমিকার দেখা পাওয়া যায়। এতে কোনো সন্দেহ নেই যে মোবাইল ফোনের অনেক ইতিবাচক দিক আছে। মানুষের মধ্যে সহজ যোগাযোগ ও দূরত্ব ঘুচিয়ে আনতে মোবাইল ফোনের জুড়ি নেই। লেনদেন, ব্যবসা-বাণিজ্য থেকে শুরু করে বিশ্বকে জানা ও বিশ্বের সঙ্গে যোগাযোগ রাখার অন্যতম হাতিয়ার হিসেবে মোবাইলের জনপ্রিয়তা দিন দিন বাড়ছে। কিন্তু তা সত্ত্বেও মানুষের জীবনে বহুমাত্রিক অকল্যাণ বয়ে আনছে এই যন্ত্রটি। কিন্তু ক্ষেত্রবিশেষে এর অপকারিতাও কম নয়। শুধু পরকীয়াই নয়, বরং শিক্ষার্থীদের পড়াশোনায়ও ব্যাপক প্রভাব ফেলে এই প্রযুক্তি। সিএনএনের গবেষণা মতে, ৫০ শতাংশ কিশোর ও ২৭ শতাংশ মা-বাবা মনে করেন, তাদের মধ্যে মোবাইল ফোন আসক্তির রূপ নিয়েছে। প্রায় ৮০ শতাংশ ছাত্র-ছাত্রী প্রতি ঘণ্টায় তাদের মোবাইল চেক করে। ৭২ শতাংশ অনুভব করে যে অন্যের মেসেজের রিপ্লাই দেওয়া তাদের জন্য জরুরি। পরকীয়া মানুষকে ব্যভিচারের দিকে টেনে নেয়। অথচ এটি ইসলামে কঠোরভাবে নিষিদ্ধ। পবিত্র কোরআনে ইরশাদ হয়েছে,তোমরা ব্য ভিচারের কাছেও যেয়ো না। নিশ্চয় তা অশ্লীল কাজ ও মন্দ পথ।(সুরা : ইসরা, আয়াত : ৩২) অনেকের ধারণা হতে পারে, প্রযুক্তির ব্যবহার করে দূর থেকে কথোপকথন আর ব্যভিচার নয়। কথাটি ঠিক নয়। দূর থেকে যেমন ভার্চুয়াল প্রেম সম্ভব, তেমনি বর্তমান যুগে দূর থেকে ভার্চুয়াল সেক্সও সম্ভব। বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে কিছু অসামাজিক মানুষকে এ রকম বিজ্ঞাপন দিতেও দেখা যায় যে মোবাইল সেক্স প্রতি ঘণ্টা এত টাকা। (নাউজুবিল্লাহ!)। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, চোখের ব্যভিচার হলো (বেগানা নারীকে) দেখা, জিহ্বার ব্যভিচার হলো (তার সঙ্গে) কথা বলা (যৌন উদ্দীপ্ত কথা বলা)। (বুখারি, হাদিস : ৬২৪৩) অন্য হাদিসে ইরশাদ হয়েছে, দুই চোখের জিনা (বেগানা নারীর দিকে) তাকানো, কানের জিনা যৌন উদ্দীপ্ত কথা শোনা, মুখের জিনা আবেগ উদ্দীপ্ত কথা বলা, হাতের জিনা (বেগানা নারীকে খারাপ উদ্দেশ্যে) স্পর্শ করা আর পায়ের জিনা ব্যভিচারের উদ্দেশ্যে অগ্রসর হওয়া এবং মনের জিনা হলো চাওয়া ও প্রত্যাশা করা। (মেশকাত, হাদিস : ৮৬) বোঝা গেল, যারা প্রযুক্তি ব্যবহার করে ভিডিও কল, অডিও কল কিংবা মেসেজিংয়ের মাধ্যমে পরকীয়ায় লিপ্ত রয়েছে, তারা ব্যভিচারেই লিপ্ত রয়েছে, যার শাস্তি ভয়াবহ।- কালের কন্ঠ
৪৪৪ কেজি ওজনের পাত্রের মোটা পাত্রী খুঁজছেন
২৩জানুয়ারী,বৃহস্পতিবার,অনলাইন ডেস্ক,নিউজ একাত্তর ডট কম: বিশালাকার পাকিস্তানি যুবক আরবাব খাইজার হায়াত। প্রায় সাড়ে চারশো কেজি ওজন তার। শারীরিকভাবে সম্পূর্ণ সুস্থ এ ভারত্তোলোক বিয়ের জন খুঁজছেন মোটাসোটা কনে! বাবা-মাও তাকে বিয়ে দিতে চান। ডেইলি মেইল যুক্তরাজ পত্রিকা ডেইলি মেইলের বরাত দিয়ে রাশিয়ান গণমাধম আরটি জানিয়েছে, আরবাব খাইজার হায়াতের বাড়ি পাকিস্তানের উত্তরের মার্দান অঞ্চলে। লম্বায় সাড়ে ছয় ফুট আর ওজন ৪৪৪ কেজি। নিজের বৃহদাকার শরীর ঠিক রাখতে হায়াত দিনে চারটি মুরগি, ৩৬টি ডিম, তিন কেজি মাংস খান এবং পান করেন পাঁচ লিটার দুধ । হায়াত বলেন, আমার এমন একজন স্ত্রীর প্রয়োজন যে হবে হেভিওয়েট। আমার সুবিশাল শরীরের কারণে যাতে সে কখনো আঘাতপ্রাপ্ত না হয়। যারাই আমাকে এখন পর্যন্ত বিয়ে করতে আগ্রহ প্রকাশ করেছেন, তাদের সবাই হালকা পাতলা। হায়াত বলেন, আমি এমন একজন নারীকে চাই, যে কমপক্ষে ১০০ কেজি ওজনের হবে। লম্বায় হবে ছয় ফুট চার ইঞ্চি। যাতে আমাদের একসঙ্গে ভাল দেখায়। তিনি জানান, কাঙ্ক্ষিত পরিমাপে খাপ খায় না বলে এরই মধ্যে দুই-তিনশ মেয়েকে নাকচ করে দিয়েছেন। হায়াত তার শক্তিমত্তা প্রদর্শনে প্রায়ই নিজের শহরে নানা ধরনের কসরৎ দেখিয়ে থাকেন। তার একহাতে প্রাইভেটকার উঁচিয়ে তোলা, রশি দিয়ে ট্রাক্টর-বাস টেনে তোলার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধমে জনপ্রিয়তা পেয়েছে।

নকশা পাতার আরো খবর