সমাজে শান্তি বজায় রাখতে যেসব স্বভাব ত্যাগ করতে বলে ইসলাম
৩১জানুয়ারী,শুক্রবার,মো.ইরফান চৌধুরী,চট্টগ্রাম,নিউজ একাত্তর ডট কম: অন্যকে উপহাস, তিরস্কার, মন্দ নামে ডাকা, তুচ্ছ-তাচ্ছিল্য করা অত্যন্ত গর্হিত কাজ। এ ধরনের মন্দ স্বভাব-আচরণে মানুষ মানসিকভাবে খুব কষ্ট পায়। তাই এ ধরনের বদ-অভ্যাস অবশ্যই পরিহার করতে হবে। আল্লাহ বলেন, হে মুমিনরা, তোমাদের পুরুষরা যেন পরস্পরকে উপহাস না করে, কেননা উপহাসকারীর চেয়ে সে ভালো হতে পারে, তোমাদের নারীরা যেন পরস্পরকে উপহাস না করে, কেননা উপহাসকারীর চেয়ে সে ভালো হতে পারে, তোমরা পরস্পরকে দোষারোপ করবে না, মন্দ নামে ডাকবে না, মুমিন হওয়ার পর মন্দ নামে ডাকা অত্যন্ত গর্হিত কাজ, আর যারা এ কাজ থেকে বিরত হবে না তারাই অবিচারকারী। (সুরা : হুজরাত, আয়াত : ১১)। উপরোক্ত আয়াতে কাউকে উপহাস করা, কারো দোষত্রুটি বর্ণনা করা কিংবা মন্দ নামে ডাকতে নিষেধ করা হয়েছে। উপহাস বলতে কাউকে হেয়প্রতিপন্ন করা, তুচ্ছ-তাচ্ছিল্য করা, অপমান করা ইত্যাদি। যাতে ব্যক্তির মনে আঘাত লাগে। সমাজে তৈরি হয় দ্বন্দ্ব ও হানাহানি। তেমনি মানুষকে মন্দ নামে ডাকতে বারণ করা হয়েছে। কাউকে লাঞ্ছিত করতে, অপমান করতে বা অতীতের কোনো অপরাধ, দোষত্রুটির জের ধরে কাউকে ডাকা উচিত নয়। এতে মানুষ অন্তরে আঘাত পায়। তা ছাড়া অন্যরা অবজ্ঞাবশত মন্দ নামে ডাকতে শুরু করে। কেউ কোনো অপরাধ করে তা থেকে তওবা করে ফিরে এলে, তাকে অতীত অপরাধের সঙ্গে সম্পৃক্ত করে তাকে সম্বোধন করা উচিত নয়; বরং একজন মুমিনের কাছে অপর মুমিনের এ অধিকারটুকু প্রাপ্য, তাকে সুন্দর নামে ডাকা হবে। মুমিন হিসেবে অপর মুমিনের প্রতি অহেতুক কু ধারণা পোষণ করা যাবে না। প্রমাণ ছাড়া কারো প্রতি মন্দ ধারণা পোষণ করা ইসলামের শিষ্টাচারের বহির্ভূত কাজ। বরং অন্যের প্রতি অবান্তর কু ধারণা পোষণ করা গুনাহ বা পাপ। মহান আল্লাহ বলেন,হে মুমিনরা, তোমরা বেশি বেশি অহেতুক ধারণা পোষণ থেকে বেঁচে থাকো, কেননা কিছু কিছু ধারণা পাপতুল্য। (সুরা : হুজরাত, আয়াত : ১২)। ইসলামের দৃষ্টিতে গিবত একটি সামাজিক অপরাধ। গিবত হলো, কারো অনুপস্থিতিতে এমন কিছু বলা, যা শুনলে সে মনে কষ্ট পাবে। রাসুল (সা.) ইরশাদ করেন, তোমরা জানো, গিবত কী? সাহাবারা বলল, আল্লাহ ও তাঁর রাসুলই ভালো জানেন। গিবত হলো তোমার ভাই সম্পর্কে এমন কথা বলা, যা সে অপছন্দ করে। জিজ্ঞেস করা হলো, আমি যা বলি তা আমার ভাইয়ের মধ্যে থাকলে? রাসুল (সা.) বলেন, তোমার কথা তার মধ্যে বিদ্যমান থাকলেই তা গিবত। আর তোমার কথা তার মধ্যে বিদ্যমান না থাকলে তা তো অপবাদ। (সহিহ মুসলিম)। অন্যের গিবত বা পরনিন্দা করা জঘন্যতম গুনাহ। কোরআনে গিবত বা পরনিন্দাকে মৃত ভাইয়ের গোশত খাওয়ার মতো ঘৃণ্য বলা হয়েছে। ইরশাদ হয়েছে, তোমরা পরস্পরের গোপন বিষয় জানতে ওত পেতে থেকো না, একে অপরের গিবত কোরো না, তোমাদের কেউ কি নিজের মৃত ভাইয়ের গোশত খেতে চাইবে? অথচ তা তোমরা ঘৃণা কোরো, তাই আল্লাহকে ভয় করো, আল্লাহ তওবা কবুলকারী ও দয়ালু। (সুরা : হুজরাত, আয়াত : ১২)। কারো অনুপস্থিতিতে তার দোষত্রুটি নিয়ে আলোচনা করা একটি ব্যাধি। এতে পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও মমতাবোধ নষ্ট হয়। এই মন্দ স্বভাবের কারণে দুনিয়া ও আখেরাতে সে অপদস্থ হয়। আল্লাহ তাআলা বলেন, ওই সব লোকের দুর্ভোগ! যারা পশ্চাতে ও সম্মুখে মানুষের নিন্দা করে। (সুরা : হুমাজা, আয়াত : ১)। তবে ইসলামী শরিয়ত কিছু ক্ষেত্রে সমালোচনার অনুমতি দিয়েছে। অত্যাচারী মন্দ স্বভাবের কথা বলে নিপীড়িত মানুষের বিচার চাইলে। পাপাচারে লিপ্ত ব্যক্তির পাপকর্ম সম্পর্কে সমাজের লোকদের সতর্ক করার জন্য বা শক্তি প্রয়োগ করে তাকে প্রতিরোধের জন্য তার অবস্থার বর্ণনা করা, মুফতির কাছে ফতোয়ার অবস্থার পুরো বিবরণ প্রদান করা, কেউ পঙ্গু, কানা বা অন্ধ বা এ ধরনের কোনো নামে পরিচিত হলে তাকে এ নাম দিয়ে পরিচয় দেওয়া যাবে। এ ক্ষেত্রে তা গিবত বলে ধরা হবে না। কাউকে মিথ্যা অভিযোগে অভিযুক্ত করার অর্থ হলো অপবাদ দেওয়া। এটি গিবতের চেয়ে মারাত্মক গুনাহ। বিশেষত কোনো সতী নারীর বিরুদ্ধে অপবাদ রটানো অনেক বড় গুনাহ। আল্লাহ বলেন,যারা সতী-সাধ্বী সরল ও ঈমানদার নারীদের ব্যাপারে অপবাদ রটায় তারা দুনিয়া ও আখেরাতে অভিশপ্ত, তাদের জন্য আছে কঠিন শাস্তি। (সুরা : নূর, আয়াত : ২৩)। দুনিয়ায় তাদের কঠিন শাস্তির একটি হলো, অপবাদের বিষয়টি প্রমাণিত হলে তাদের ৮০টি বেত্রাঘাত করা হবে। এরপর কখনো তার কোনো সাক্ষ্য গ্রহণ করা হবে না। আর আখেরাতে শাস্তি তো আছেই।
যৌতুকমুক্ত বাংলা চান? তবে লাখো কোটি দেনমোহর দাবি বন্ধ করুন--
২৯জানুয়ারী,বুধবার,অনলাইন ডেস্ক,নিউজ একাত্তর ডট কম: দেনমোহর ও যৌতুক বর্তমান আধুনিক যুগে যেন একে অপরের প্রতিদ্বন্দ্বী বা একে অপরের পরিপূরক। এখন বিবাহ বন্ধনটা যেন প্রতিযোগিতা আসর। কে, কার চেয়ে বেশি দেনমোহর দাবি করবে বা কে বেশি দিবে? আবার, কার বাবা কার মেয়ের জন্য শ্বশুর বাড়িতে যৌতুক কত দিচ্ছে বা ফার্ণিচার কয় পদের? বর্তমান এমন সমাজ ব্যবস্হায় নিজেদের মাঝে এমন আদিপত্য বজায় রাখতে গিয়ে সংসার আগুন, খুন পর্যন্ত সম্মুখীন হচ্ছে স্বামী স্ত্রী। ভাঙ্গণ হচ্ছে শত শত পরিবার সুখ সংসার। যদি এই দু-সমস্যা হতে আমরা মুক্তি চাই তবে উভয়দিকে নমনীয় ও ধর্মীয় নিয়মকানুন অনুসরণ হবে একমাত্র মুক্তিদিশারী। আপনি যদি মেয়েকে যৌতুকমুক্ত বিবাহ দিতে চান তবে পাত্র আয়ের উপর নির্ভর করে দেনমোহর দাবি করুন। কেননা, মুসলিম বিয়েতে স্বামীর পক্ষ থেকে স্ত্রী যে অর্থ সম্পদ পেয়ে থাকে তাকেই দেনমোহর বলে। বিয়ের সময় স্ত্রীকে দেনমোহর প্রদান করা স্বামীর উপর ফরজ। পবিত্র কুরআনুল কারীমে এই বিষয়ে সরাসরি আল্লাহর হুকুম রয়েছে- ইরশাদ হচ্ছে- وَاَتُوْا النِّسَاءَ صَدُقَتِهِنَّ نِحْلَةً فَاِنْ طِبْنَ لَكُمْ عَنْ شَىْءٍ مِنْهُ نَفْسًا فَكُلُوْهُ هَنِيْئًا مَّرِيْئًا . অর্থাৎ- আর তোমাদের স্ত্রীদের তাদের দেনমোহর দিয়ে দাও খুশি মনে। অবশ্য স্ত্রী চাইলে দেনমোহর কিছু অংশ কিংবা সম্পূর্ণ অংশ ছেড়ে দিতে পারে । এছাড়াও পবিত্র কুরআনের আরো বিভিন্ন জায়গায় স্ত্রীকে মোহর প্রদান করার কথা বলা হয়েছে। কেউ মোহর দিতে অস্বীকৃতি জানালে তার জন্য হাদিস শরীফে কঠিন হুশিয়ারী উচ্চারণ করা হয়েছে। রাসুলে করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন- যে ব্যক্তি কোন মেয়েকে মোহরানা দেওয়ার ওয়াদায় বিয়ে করেছে, কিন্তু মোহরানা দেওয়ার ইচ্ছা নেই, সে কিয়ামতের দিন আল্লাহর নিকট ব্যভিচারী হিসেবে দাঁড়াতে বাধ্য হবে। বর্তমানে আমাদের সমাজে মোহর নির্ধারণ নিয়ে অনেক বাড়াবাড়ি হয়। অনেক ক্ষেত্রে কন্যা পক্ষের পছন্দ মোতাবেক মোহর নির্ধারিত না হওয়ায় বিবাহ ভেঙ্গে যায়। পাত্রের সামর্থ্যরে বাইরে তার উপর মোহরের বোঝা চাপিয়ে দেওয়া উচিত নয়। অথচ ইসলামে মোহর নির্ধারণের ক্ষেত্রে বাড়াবাড়ি করা থেকে বিরত থাকার কথা বলা হয়েছে। হাদিস শরীফে এসেছে- قَالَ عُمَرُ بْنُ الْخَطَّابِ: لَا تُغَالُوا صَدَاقَ النِّسَاءِ، فَإِنَّهَا لَوْ كَانَتْ مَكْرُمَةً فِي الدُّنْيَا، أَوْ تَقْوًى عِنْدَ اللَّهِ، كَانَ أَوْلَاكُمْ وَأَحَقَّكُمْ بِهَا مُحَمَّدٌ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، ;مَا أَصْدَقَ امْرَأَةً مِنْ نِسَائِهِ، وَلَا أُصْدِقَتِ امْرَأَةٌ مِنْ بَنَاتِهِ أَكْثَرَ مِنِ اثْنَتَيْ عَشْرَةَ أُوقِيَّةً، وَإِنَّ الرَّجُلَ لَيُثَقِّلُ صَدَقَةَ امْرَأَتِهِ حَتَّى يَكُونَ لَهَا عَدَاوَةٌ فِي نَفْسِهِ .অর্থাৎ- হযরত উমর ইবনুল খাত্তাব রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেছেন, মহিলাদের মোহরের ব্যাপারে তোমরা বাড়াবাড়ি করো না। কেননা তা যদি পার্থিব জীবনে সম্মান অথবা আল্লাহর কাছে তাক্বওয়ার প্রতীক হতো, তাহলে তোমাদের মধ্যে মুহাম্মদ রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এ ব্যাপারে অধিক যোগ্য ও অগ্রগণ্য ছিলেন। তিনি তার স্ত্রী ও কন্যাদের মোহর বারো উকিয়ার বেশি ধার্য করেননি। কখনও অধিক মোহর স্বামীর উপর বোঝা হয়ে দাঁড়ায়। মোহরের পরিমান বেশি নির্ধারণ করার কারণে আমাদের সমাজে অধিকাংশ স্বামীর ক্ষেত্রেই মোহর পরিশোধ না করার প্রবণতা দেখা যাচ্ছে। এটা সম্পূর্ণরুপে ইসলাম পরিপন্থী কাজ। তাই আমাদের এই ব্যাপারে অধিক সতর্কতা অবলম্বন করা উচিত। আর পাত্র সামর্থ্য বিবেচনায় যদি আয়ের উপর দেনমোহর ধার্য হয় তবে কখনও কোনো পুরুষ বিবাহের সময় যৌতুক হিসেবে একটা সুতাও নিবে না। তাই পরিশেষে বলতেই হয়- যৌতুকমুক্ত বাংলা চান, তবে লাখো কোটি দেনমোহর দাবি বন্ধ করুন।- মুহাম্মদ আরিফুল ইসলাম আলফি, ব্লগার ও সোশ্যাল এওয়ারন্যাস ওয়ার্কার, শিক্ষার্থী, স্নাতক ৪র্থ বর্ষ, হিসাববিজ্ঞান, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়।
প্রযুক্তিগত পরকীয়া, ইসলাম যা বলে
২৪জানুয়ারী,শুক্রবার,অনলাইন ডেস্ক,নিউজ একাত্তর ডট কম: বর্তমান সমাজে পরকীয়া ক্যান্সারের আকার ধারণ করছে। যুবক থেকে বৃদ্ধ সব মহলেই এর আগ্রাসন দিন দিন বেড়ে যাচ্ছে। বেলজিয়ামের মনস্তাত্ত্বিক এস্থার পেরেল তাঁর দ্য স্টেট অব অ্যাফেয়ার বইয়ে পরকীয়াকে ক্যান্সারের সঙ্গে তুলনা করেছেন। তিনি বলেছেন, জীবনযন্ত্রণার অন্যতম কারণ দ্বিতীয় কোনো নারী বা পুরুষের সঙ্গে অনৈতিক সম্পর্কে জড়িয়ে পড়া। পরকীয়া বিশ্বব্যাপী অশান্তি নামিয়ে আনছে। এর জেরে কখনো কখনো খুনখারাবির মতো জঘন্য ঘটনাও ঘটে যাচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্রের ইউনিভার্সিটি অব নেভাদার অধ্যাপক ড্যানিয়েল উয়েগেল ও গবেষক রোজি শ্রাউটের মতে, পরকীয়া সম্পর্ক ভুক্তভোগীর মনে ক্রোধ, অশান্তি, দুঃখ, অবিশ্বাস ও অশেষ মনোযন্ত্রণার সৃষ্টি করে। এর প্রধান কারণ আল্লাহর আইনের অমান্য করা। পবিত্র কোরআনে ইরশাদ হয়েছে, যে ব্যক্তি আল্লাহর জিকির থেকে বিমুখ হয়, তার জীবনযাত্রা সংকীর্ণ ও দুঃখে ভরপুর হয়ে ওঠে। (সুরা : ত্বহা, আয়াত : ১২৪) বর্তমান প্রযুক্তির যুগে পরকীয়া অনেক সহজ। বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম, ফ্রি কলিং অ্যাপ ও মোবাইল ফোন এই কাজটি ভীষণ সহজ করে দিয়েছে। এখন আর কারো সঙ্গে দেখা করার জন্য গোপনে তার ঘরের পেছনে গিয়ে মশার কামড় খেতে হয় না। মুঠোফোনে ভিডিও কলের মাধ্যমে এক মুহূর্তেই প্রেমিকার দেখা পাওয়া যায়। এতে কোনো সন্দেহ নেই যে মোবাইল ফোনের অনেক ইতিবাচক দিক আছে। মানুষের মধ্যে সহজ যোগাযোগ ও দূরত্ব ঘুচিয়ে আনতে মোবাইল ফোনের জুড়ি নেই। লেনদেন, ব্যবসা-বাণিজ্য থেকে শুরু করে বিশ্বকে জানা ও বিশ্বের সঙ্গে যোগাযোগ রাখার অন্যতম হাতিয়ার হিসেবে মোবাইলের জনপ্রিয়তা দিন দিন বাড়ছে। কিন্তু তা সত্ত্বেও মানুষের জীবনে বহুমাত্রিক অকল্যাণ বয়ে আনছে এই যন্ত্রটি। কিন্তু ক্ষেত্রবিশেষে এর অপকারিতাও কম নয়। শুধু পরকীয়াই নয়, বরং শিক্ষার্থীদের পড়াশোনায়ও ব্যাপক প্রভাব ফেলে এই প্রযুক্তি। সিএনএনের গবেষণা মতে, ৫০ শতাংশ কিশোর ও ২৭ শতাংশ মা-বাবা মনে করেন, তাদের মধ্যে মোবাইল ফোন আসক্তির রূপ নিয়েছে। প্রায় ৮০ শতাংশ ছাত্র-ছাত্রী প্রতি ঘণ্টায় তাদের মোবাইল চেক করে। ৭২ শতাংশ অনুভব করে যে অন্যের মেসেজের রিপ্লাই দেওয়া তাদের জন্য জরুরি। পরকীয়া মানুষকে ব্যভিচারের দিকে টেনে নেয়। অথচ এটি ইসলামে কঠোরভাবে নিষিদ্ধ। পবিত্র কোরআনে ইরশাদ হয়েছে,তোমরা ব্য ভিচারের কাছেও যেয়ো না। নিশ্চয় তা অশ্লীল কাজ ও মন্দ পথ।(সুরা : ইসরা, আয়াত : ৩২) অনেকের ধারণা হতে পারে, প্রযুক্তির ব্যবহার করে দূর থেকে কথোপকথন আর ব্যভিচার নয়। কথাটি ঠিক নয়। দূর থেকে যেমন ভার্চুয়াল প্রেম সম্ভব, তেমনি বর্তমান যুগে দূর থেকে ভার্চুয়াল সেক্সও সম্ভব। বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে কিছু অসামাজিক মানুষকে এ রকম বিজ্ঞাপন দিতেও দেখা যায় যে মোবাইল সেক্স প্রতি ঘণ্টা এত টাকা। (নাউজুবিল্লাহ!)। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, চোখের ব্যভিচার হলো (বেগানা নারীকে) দেখা, জিহ্বার ব্যভিচার হলো (তার সঙ্গে) কথা বলা (যৌন উদ্দীপ্ত কথা বলা)। (বুখারি, হাদিস : ৬২৪৩) অন্য হাদিসে ইরশাদ হয়েছে, দুই চোখের জিনা (বেগানা নারীর দিকে) তাকানো, কানের জিনা যৌন উদ্দীপ্ত কথা শোনা, মুখের জিনা আবেগ উদ্দীপ্ত কথা বলা, হাতের জিনা (বেগানা নারীকে খারাপ উদ্দেশ্যে) স্পর্শ করা আর পায়ের জিনা ব্যভিচারের উদ্দেশ্যে অগ্রসর হওয়া এবং মনের জিনা হলো চাওয়া ও প্রত্যাশা করা। (মেশকাত, হাদিস : ৮৬) বোঝা গেল, যারা প্রযুক্তি ব্যবহার করে ভিডিও কল, অডিও কল কিংবা মেসেজিংয়ের মাধ্যমে পরকীয়ায় লিপ্ত রয়েছে, তারা ব্যভিচারেই লিপ্ত রয়েছে, যার শাস্তি ভয়াবহ।- কালের কন্ঠ
৪৪৪ কেজি ওজনের পাত্রের মোটা পাত্রী খুঁজছেন
২৩জানুয়ারী,বৃহস্পতিবার,অনলাইন ডেস্ক,নিউজ একাত্তর ডট কম: বিশালাকার পাকিস্তানি যুবক আরবাব খাইজার হায়াত। প্রায় সাড়ে চারশো কেজি ওজন তার। শারীরিকভাবে সম্পূর্ণ সুস্থ এ ভারত্তোলোক বিয়ের জন খুঁজছেন মোটাসোটা কনে! বাবা-মাও তাকে বিয়ে দিতে চান। ডেইলি মেইল যুক্তরাজ পত্রিকা ডেইলি মেইলের বরাত দিয়ে রাশিয়ান গণমাধম আরটি জানিয়েছে, আরবাব খাইজার হায়াতের বাড়ি পাকিস্তানের উত্তরের মার্দান অঞ্চলে। লম্বায় সাড়ে ছয় ফুট আর ওজন ৪৪৪ কেজি। নিজের বৃহদাকার শরীর ঠিক রাখতে হায়াত দিনে চারটি মুরগি, ৩৬টি ডিম, তিন কেজি মাংস খান এবং পান করেন পাঁচ লিটার দুধ । হায়াত বলেন, আমার এমন একজন স্ত্রীর প্রয়োজন যে হবে হেভিওয়েট। আমার সুবিশাল শরীরের কারণে যাতে সে কখনো আঘাতপ্রাপ্ত না হয়। যারাই আমাকে এখন পর্যন্ত বিয়ে করতে আগ্রহ প্রকাশ করেছেন, তাদের সবাই হালকা পাতলা। হায়াত বলেন, আমি এমন একজন নারীকে চাই, যে কমপক্ষে ১০০ কেজি ওজনের হবে। লম্বায় হবে ছয় ফুট চার ইঞ্চি। যাতে আমাদের একসঙ্গে ভাল দেখায়। তিনি জানান, কাঙ্ক্ষিত পরিমাপে খাপ খায় না বলে এরই মধ্যে দুই-তিনশ মেয়েকে নাকচ করে দিয়েছেন। হায়াত তার শক্তিমত্তা প্রদর্শনে প্রায়ই নিজের শহরে নানা ধরনের কসরৎ দেখিয়ে থাকেন। তার একহাতে প্রাইভেটকার উঁচিয়ে তোলা, রশি দিয়ে ট্রাক্টর-বাস টেনে তোলার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধমে জনপ্রিয়তা পেয়েছে।
যে দেশে নারীর বয়স বাড়ে না,প্রাকৃতিকভাবেই সুন্দরী
১৭জানুয়ারী,শুক্রবার,অনলাইন ডেস্ক,নিউজ একাত্তর ডট কম: নিজেকে অন্যদের তুলনায় সুন্দর দেখাতে কে না চায়? নারী-পুরুষ সবাই চায় যৌবনে পাওয়া সৌন্দর্য জীবনভর অটুট থাকুক। এই চাওয়াকে পাওয়ায় রূপ দিতে তাদের চেষ্টারও অন্ত নেই। যে কারণে দেশে-বিদেশে রূপচর্চা কেন্দ্রগুলোতে ভিড় ক্রমেই বাড়ছে। এ ক্ষেত্রে পুরুষের তুলনায় নারী একটু এগিয়ে। আপন সৌন্দর্য ধরে রাখতে তারা যুগ যুগ ধরেই বিভিন্ন পন্থা ব্যবহার করছে। অনেকে কাড়ি কাড়ি টাকা খরচ করতেও দ্বিধা করছে না। কিন্তু পৃথিবীর এমন একটি দেশ আছে যেখানে নারীর রূপ-সৌন্দর্য ধরে রাখতে খুব বেশি কসরত করতে হয় না। প্রাকৃতিকভাবেই সেই দেশের নারীরা সুন্দরী। জন্ম থেকেই তারা অপরূপ! তাদের সৌন্দর্য বয়স বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে লোপ পায় না। অর্থাৎ বয়স বাড়লেও তাদের ষোড়শী তন্বী তরুণীর মতোই দেখায়। দেশটির নাম তাইওয়ান। দেশটির জনসংখ্যা প্রায় ২ কোটি ৩৮ লাখ। পার্শ্ববর্তী দেশ চীনে পুরুষের তুলনায় নারীর সংখ্যা অপ্রতুল হলেও তাইওয়ানে পুরুষের তুলনায় নারীর সংখ্যা বেশি। এখানকার নারীদের সৌন্দর্য বয়সের কারণে হেরফের হয় না। এজন্য তাদের মেকআপ বা কৃত্রিম ব্যবস্থার সাহায্য নিতে হয় না। তারা প্রাকৃতিকভাবেই ষোড়শী। তবে প্রাকৃতিকভাবে পাওয়া এই সৌন্দর্য ধরে রাখতে তাইওয়ানের নারীরা বেশ কিছু রীতি পালন করে। নেহায়েত বিশ্বাস থেকে উদ্বুদ্ধ হলেও রীতিগুলো নারীদের জীবনাচারকে প্রভাবিত করে। প্রথমত তারা রোদ এড়িয়ে চলে। ভর দুপুরে কিংবা প্রখর রোদে যত গুরুত্বপূর্ণ কাজ থাকুক না কেন তারা ঘরের বাইরে যায় না। সামাজিক বিশ্বাস তারা রোদে গেলে কালো হয়ে যাবে। সৌন্দর্য ধরে রাখতে তাদের অদ্ভুত আরও একটি বিশ্বাস হচ্ছে বৃষ্টিতে না ভেজা। তাইওয়ানের অধিকাংশ নারী বিশ্বাস করে বৃষ্টিতে ভিজলে তাদের সৌন্দর্য নষ্ট হয়ে যাবে। এ কারণে তাদের বৃষ্টিতে ভিজতে তীব্র আপত্তি।বিজনেস বাংলাদেশ । নিজেদের সুস্থ-সতেজ রাখতে নারী-পুরুষ নির্বিশেষে তারা প্রচুর পরিশ্রম করে। সবাই দিনে কমপক্ষে ১০ ঘণ্টা কাজ করে। নিয়মিত বিভিন্ন ধরনের খেলাধুলায় অংশগ্রহণ করে। তাছাড়া তাইওয়ানে যোগাযোগের সব রকম আধুনিক ব্যবস্থা থাকলেও তারা দ্রুত গতির যান এড়িয়ে সাইকেল ও স্কুটার ব্যবহার করে। ফলে তারা অন্য দেশের মানুষের তুলনায় অনেক বেশি সুস্থ থাকে। শরীর সুস্থ থাকলে মনও ভালো থাকে। মন ভালো থাকলে শারীরিক সৌন্দর্যে তার ছাপ পড়ে।
ঠাণ্ডা নাকি গরম দুধ উপকারী
নকশা ডেস্ক,নিউজ একাত্তর ডট কম: দুধে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে প্রোটিন, ভিটামিন-১২, ক্যালসিয়াম, পটাশিয়াম, ফসফরাস। যা হাড়-দাঁত মজবুত করে। শক্ত করে পেশি। শরীরে পুষ্টি জুগিয়ে সুস্থ রাখে ওষুধ ছাড়াই। তাই প্রত্যেকের নিয়মিত খাদ্য তালিকায় দুধ রাখা উচিত। কিন্তু দুধ গরম খাবেন না ঠাণ্ডা? কোনটা বেশি উপকারী শরীরের জন্য? ঠাণ্ডা দুধ অম্বল ও ওজন কমায় সহজে। আবার ভালো ঘুম বা হজমশক্তি বাড়াতে গরম দুধের প্রয়োজন। বিশেষজ্ঞদের মতে একেক জনের জন্য একেক রকম দুধ উপকারী। জেনে নিন ঠাণ্ডা নাকি গরম কোন দুধ আপনার জন্য উপকারী। হজমশক্তি বাড়ায় গরম দুধ। দুধ বা দুধ থেকে তৈরি খাবার যাদের হজম হয় না তাদের খেতে হবে ঈষদুষ্ণ দুধ। ঠাণ্ডা দুধ তুলনায় ভারী। হজম করা কষ্ট। আর গরম দুধে ল্যাক্টোজের পরিমাণ কম থাকে। তাই এই দুধ সহজে হজম হয়। ঘুম আনবে দুধ। রাতে ঘুমানোর আগে এক গ্লাস গরম দুধ মানেই এর মধ্যে থাকা সেরেটোনিন, মেলাটোনিনের গুণে মাথা থাকবে ঠাণ্ডা। যারা ঘুমের সমস্যায় ভোগেন তারা অবশ্যই ঘুমানোর আগে গরম দুধ খাবেন। অম্বল কমায় ঠাণ্ডা দুধ। যারা সবসময় গ্যাস-অম্বলে ভোগেন তাদের জন্য ঠাণ্ডা দুধ ভীষণ উপকারী। এতে বুক-পেট জ্বালাও কমে। তাই খাবার পর রোজ আধা গ্লাস ঠাণ্ডা দুধ খান। ওষুধ ছাড়াই এই সমস্যার সমাধান পাবেন। শরীরে পানির ঘাটতি মেটে ঠাণ্ডা দুধে। ঠাণ্ডা লাগার সমস্যা না থাকলে সকালে ঘুম থেকে উঠে খালি পেটে ঠাণ্ডা দুধ খাওয়ার অভ্যাস করুন। এতে শরীরে পানির ঘাটতি মিটবে। তবে রাতে ভুলেও ঠাণ্ডা দুধ খাবেন না। এতে পেটের সমস্যা দেখা দিতে পারে। সূত্র : এনডিটিভি
শিব যে ৫টি গোপন সত্য পার্বতীকে জানিয়েছিলেন
২৫ ডিসেম্বর,বুধবার,অনলাইন ডেস্ক,নিউজ একাত্তর ডট কম: একদা পার্বতী শিবকে মানব চরিত্র সম্পর্কে কিছু প্রশ্ন করেন। এবং শিব সেগুলির যথাযথ উত্তর দেন। এই প্রশ্নোত্তরগুলিকে মানব জীবনের গোপন সত্য বলে অভিহিত করে বিবিধ শৈবাগম। সনাতন ধর্মে শিব পরাশক্তির প্রতীক এবং পার্বতী বা দেবীশক্তি বৈখরী শক্তির। সহজ করে বললে, শিব এমনই এক সত্য যাঁর প্রকাশ নেই। বৈখরী শক্তি সেই সত্যের প্রকাশ ঘটান। সত্য, শিব ও সুন্দর প্রকাশিত হয় বাক্যে, যার অধিষ্ঠাত্রী স্বয়ং জগন্মাতা। শিবপুরাণ ও বিবিধ তন্ত্রগ্রন্থে হরপার্বতীর কথোপকথনকে বিপুল গুরুত্ব দেওয়া হয়। এই সংলাপই জগৎ-রহস্যকে উন্মোচন করে বলে বিশ্বাস করে সনাতন হিন্দু ধর্ম। এমনই এক সংলাপ থেকে জানা যাচ্ছে, একদা পার্বতী শিবকে মানব চরিত্র সম্পর্কে কিছু প্রশ্ন করেন। এবং শিব সেগুলির যথাযথ উত্তর দেন। এই প্রশ্নোত্তরগুলিকে মানব জীবনের গোপন সত্য বলে অভিহিত করে বিবিধ শৈবাগম। এখানে রইল সেই প্রশ্নোত্তর থেকে প্রাপ্ত ৫টি সত্যের কথা। পার্বতীর প্রশ্ন ছিল, মানব জীবনে সব থেকে বড় পুণ্য আর সবথেকে ঘৃণ্য পাপ কী। উত্তরে শিব জানান, সত্যনিষ্ঠ থাকাই মানব জীবনে সব থেকে বড় পুণ্য। এর সত্যভ্রষ্ট হওয়াই সব থেকে বড় পাপ। নিজেকে কীভাবে সত্যনিষ্ঠ রাখা যায় পার্বতীর পরবর্তী প্রশ্ন। শিবের উত্তর ছিল আত্মপর্যবেক্ষণই সত্যের পথে অবিচল থাকার একমাত্র পথ। নিজের উপলব্ধিই মানুষের অন্তরে ঔচিত্য-অনৌচিত্য বোধ জাগায়। প্রসঙ্গক্রমে শিব জানান, যে সব বাক্য, কর্ম ও চিন্তা মনে পাপচিন্তার উন্মেষ ঘটায়, তা থেকে দূরে থাকাই সত্যনিষ্ঠার জন্ম দেয়। আসক্তি থেকেই যাবতীয় সমস্যার উদ্ভব বলে জানান মহাদেব। আসক্তিই মানুষকে পিছনের দিকে টানে। তার সাফল্যে বাধা দেয়। মানব জীবনের ক্ষণস্থায়িত্বের কথা ভেবে আসক্তিকে পরিহার করাই উচিত। এর পরে শিব পার্বতীকে মৃগতৃষ্ণা-র কথা বলেন। মৃগতৃষ্ণা বা বাসনার তীব্র বোধ যাবতীয় দুঃখ-দুর্দশার জন্ম দেয়। এক মাত্র ধ্যান ও মোক্ষচিন্তাই মৃগতৃষ্ণা থেকে মানুষকে উদ্ধার করতে পারে।
স্বামীর শ্রেষ্ঠ সম্পদ ঈমানদার স্ত্রী
৩০অক্টোবর,বুধবার,মো:ইরফান চৌধুরী,চট্টগ্রাম,নিউজ একাত্তর ডট কম: যে কারণে স্বামীর জন্য ঈমানদার স্ত্রী শ্রেষ্ঠ সম্পদ: হাদিসে সে বিষয়গুলো রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সুস্পষ্ট ভাষায় বর্ণনা করেছেন। তিনি পুরুষের জন্য চারটি বিষয়কে শুভলক্ষণ বলেছেন। আর তা হলো- নেককার নারী, প্রশস্ত ঘর, সৎ প্রতিবেশী এবং সহজ প্রকৃতির আনুগত্যশীল-পোষ্য বাহন। পক্ষান্তরে চারটি জিনিসকে কুলক্ষণা বলেছেন। তার মধ্যে একটি হলো বদকার নারী। (হাকেম, সহিহ আল জামে) অন্য হাদিসে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম একজন ঈমানদার স্ত্রীকে তার স্বামীর জন্য শ্রেষ্ঠ সম্পদ হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন। হাদিসটি তুলে ধরা হলো- হজরত ছাওবান রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন,যখন এ আয়াত নাজিল হলো- আর যারা সোনা-রূপা সঞ্চয় করে (আয়াতের শেষ পর্যন্ত); তখন আমরা নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের সঙ্গে কোনো এক সফরে ছিলাম। তখন তাঁর এক সাহাবি বললেন, এটাতো (আয়াত) সোনা-রূপা সর্ম্পকে নাজিল হলো। আমরা যদি জানতে পারতাম কোন সম্পদ উত্তম, তবে তা সঞ্চয় করতাম। তখন রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন, তোমাদের কারো শ্রেষ্ঠ সম্পদ হলো- আল্লাহর জিকিরকারী রসনা (জিহ্বা); কৃতজ্ঞ অন্তর; এবং ঈমানদার স্ত্রী, যে তার ঈমানের (দ্বীনের) ব্যাপারে তাকে (স্বামীকে) সহযোগিতা করে। (মুসনাদে আহমদ, তিরমিজি, ইবনে মাজাহ, মিশকাত) হাদিসের ব্যাখ্যাগ্রন্থ মাজাহেরে হক এ হাদিসের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ব্যাখ্যা বর্ণনা করেছেন। এ হাদিসে প্রিয়নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ঈমানদার স্ত্রীর ব্যাপারে গুরুত্ব দিয়েছেন। একজন ঈমানদার স্ত্রী তার স্বামীর জন্য সর্বোত্তম সম্পদও বটে। দ্বীনের ব্যাপারে স্বামীকে সহযোগিতার মর্মার্থ হলো- ঈমানদার স্ত্রী ধর্মীয় কার্যক্রম ও দ্বীনি দায়িত্বসমূহ পালনের ক্ষেত্রে তার স্বামীকে সহযোগিতা করবে। যেমন- নামাজের সময় হলে তার স্বামীকে নামাজের কথা স্মরণ করিয়ে দেবে; রমজান মাসের রোজা রাখার ব্যাপারে স্বামীকে সহযোগিতা করবে। অনুরূপভাবে একজন ঈমানদার স্ত্রী তার স্বামীকে ব্যবসা-বাণিজ্য, চাকরি-বাকরি, পরিবারের আনুসাঙ্গিক কাজকর্মসহ অন্যান্য সব ইবাদত-বন্দেগিতেও স্বামীকে বুদ্ধি পরামর্শ ও উপদেশ দিয়ে যথাসাধ্য সহযোগিতা করবে। ঈমানদার স্ত্রী বাড়িতে এমন পরিবেশ এবং আবহ সৃষ্টি করবে, যাতে স্বামী সারাক্ষণ পূণ্যকর্মে লিপ্ত থাকেন। অপকর্ম, অবৈধ উপার্জন এবং হারাম পেশা থেকে বিরত থাকেন। এমনকি স্বামী যদি কোনো মন্দ কাজে লিপ্ত হন তবে ঈমানদার স্ত্রী তাকে সেই মন্দ কাজ থেকে ফিরিয়ে আনবে। অবাধ্য স্বামীকে মন্দ কাজ থেকে ফিরিয়ে আনতে তার চেষ্টা অব্যাহত থাকবে। এ কারণেই রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ঈমানদার নেক্কার স্ত্রীকে স্বামীর জন্য সর্বোত্তম সম্পদ হিসেবে ঘোষণা করেছেন। আল্লাহ তাআলা মুসলিম উম্মাহ সব নারীকে দ্বীনদার ও ঈমানদার হিসেবে কবুল করুন। পৃথিবীর সব মুমিন নারীকে নেককার সন্তান, নেককার স্ত্রী ও নেককার মা হওয়ার তাওফিক দান করুন। আমিন।
মিষ্টি খেয়েও নিয়ন্ত্রণে থাকবে ডায়াবেটিস
ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে না থাকলে শরীরে বিভিন্ন ধরনের রোগ বাসা বাধে। তাই সুস্থ থাকতে হলে অবশ্যই ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে রাখতে হবে। অনেকে মনে করেন ডায়াবেটিস রোগীরা মিষ্টি খেতে পারবেন না। আপনি জানেন কি? নিয়ম মেনে ডায়াবেটিস রোগীরা মিষ্টি খেতে পারবেন। আসুন জেনে নিই যেসব নিয়ম মেনে ডায়াবেটিস রোগীরা মিষ্টি খেতে পারবেন? ১. ডায়াবেটিস রোগীদের সব থেকে বড় শত্রু হলো দুধ। মিষ্টি তৈরির জন্য প্রয়োজন হয় দুধের। তাই দুধ ছাড়া যদি অন্য কিছু দিয়ে মিষ্টি তৈরি করা যায়, তবে তা ডায়েটের প্রথম ধাপেই আমরা ব্লাড সুগার অনেকটাই নিয়ন্ত্রণ করতে পারব। ২: দুধ ছাড়াও আরও অনেক উপাদান আছে, যা দিয়ে বাড়িতে বসে মিষ্টি বানানো যায়। দুধের বিকল্প হিসাবে আপনি বেছে নিতে পারেন, প্রাকৃতিক মধু, নারিকেলের মাখন, গুড়, নারিকেলের চিনি প্রভৃতি। ৩. দুধের বিকল্প হিসাবে মিষ্টি তৈরিতে অ্যালমণ্ড, সয়াদুধ বা নারিকেলের দুধ অথবা বাদাম দুধও ব্যবহার করে দেখতে পারেন। ৪. এসব খাওয়ার আগে আপনাকে সুগারের লেভেল চেক করে নিতে হবে। কারণ না হলে আপনি বুঝতে পারবেন না যে খাবারগুলো আপনি রোজ গ্রহণ করছেন, সেগুলো আপনার শরীরের ব্লাড সুগারে কতটা প্রভাব ফেলছে। এ নিয়মগুলো মেনে চললে উৎসবের দিনে পরিবার-পরিজনের সঙ্গে হয়ে উঠুন আরও চনমনে প্রাণবন্ত।

নকশা পাতার আরো খবর