রবিবার, জুলাই ১৫, ২০১৮
নওয়াজ শরীফ ও মেয়ে মরিয়ম কারাগারে
অনলাইন ডেস্ক: বিমানবন্দর থেকেই গ্রেফতার করা হয়েছে পাকিস্তানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী নওয়াজ শরীফ ও তার মেয়ে মরিয়ম নওয়াজকে। স্থানীয় সময় রাত ৮টা ৪৫ মিনিটে তাদের বহনকারী বিমানটি আবুধাবি থেকে লাহোরের আল্লামা ইকবাল ইন্টারন্যাশনাল এয়ারপোর্টে অবতরণ করে। সেখান থেকেই তাদেরকে গ্রেফতার করা হয়। খবর: দ্য ডন। গত শুক্রবার এভেনফিল্ডের দুর্নীতি সাথে জড়িত থাকার অভিযোগে নওয়াজ ও তার মরিয়মকে দোষী সাব্যস্ত করেন আদালত। নওয়াজকে ১০ বছর এবং মরিয়মকে ৭ বছরের কারাদণ্ড দেয়া হয়। জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদের জন্য বাবা নওয়াজ শরীফের বিরুদ্ধে অভিযোগ আনা হলেও তাকে বাঁচাতে এটিকে ‘ষড়যন্ত্র’ বলে অবহিত করায় দোষী সাব্যস্ত করা হয় মেয়ে মরিয়মকেও। আদালতের দণ্ডাদেশ থাকা সত্বেও নওয়াজ ও মরিয়ম ঘোষণা দেন যে, তারা দেশে ফিরবেন এবং আদালতের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আপিল করবেন। কিন্তু দেশে নামার আগেই ন্যাশনাল অ্যাকাউন্ট্যাবিলিটি ব্যুরো (এনএবি) এবং পাঞ্জাব প্রদেশ সরকার বাবা-মেয়েকে কারাগারে নেয়ার সকল ব্যবস্থা করে রাখে। এজন্য হেলিকপ্টারও প্রস্তুত করে রাখা হয়। স্থানীয় সংবাদ মাধ্যম জানাচ্ছে, নওয়াজ ও তার মেয়েকে নিয়ে বিমানটি অবতরণ করার সাথে পুরা বিমানবন্দর আইনশৃংখলা বাহিনীর সদস্যরা নিয়ন্ত্রণে নেয় এবং সেখানে অবস্থানরত অন্য যাত্রীদের সরিয়ে দেয়। স্থানীয় সময় বিকাল ৫টায় আবুধাবি থেকে একটি বিমানে করে তারা রওনা দেন। রাত ৮.৪৫টার দিকে পাকিস্তানে নামার পরপরই তাদেরকে গ্রেফতার করা হয়। নিরাপত্তা বাহিনী সূত্রে জানা গেছে, ফেডারেল ইনভেস্টিগেশন এজেন্সির (এফআইএ) তিনজন সদস্য তাদের দুইজনেরই পাসপোর্ট জব্দ করেছে। এর আগে তাদেরকে বহন করা ইত্তিহাদ এয়ারওয়েজের ফ্লাইটটি ৩ ঘণ্টা বিলম্ব করলে বিমানবন্দরে নেমেই ক্ষোভ প্রকাশ করেন নওয়াজ শরীফ। এ ঘটনায় ফোনে বিস্ময় প্রকাশ করে সংবাদকর্মীদের তিনি বলেন, ‘যে ফ্লাইট কখনো দেরি করে না, সেটি কেন আজকে দেরি করল। বুঝে নেন, কেন কাদের নির্দেশে বিমান বিলম্ব করল।’ তিনি বলেন, ‘আমরা তো জানিই যে, আমাকে ১০ বছর কারাদণ্ড দেয়া হয়েছে এবং আমার মেয়েকে ৭ বছর কারাদণ্ড দেয়া হয়েছে। এরপরেও আমরা দেশে ফিরেছি, দেশের গণতন্ত্রের প্রয়োজনে, আমাদের পরিবর্তন দরকার। তারা জানে, মানুষ জাগছে, গণমাধ্যম জাগছে; এতেই তারা ভীত।’ তাদের গ্রেফতার করা হচ্ছে এটা নিশ্চিত হওয়ার পর নওয়াজ শরীফ এর বিরুদ্ধে ভূমিকা রাখতে সংবাদকর্মীদের অনুরোধ করেন। সেইসাথে তারা যাতে কারও ভয়ে পিছপা না হন সে আহ্বান জানান। এদিকে নওয়াজ ও তার মেয়েকে গ্রেফতারের প্রতিবাদে লাহোরের বিভিন্ন এলাকা থেকে জড়ো হওয়া বিপুল সংখ্যক নেতাকর্মী বিক্ষোভ প্রদর্শন করে বিমানবন্দরের সামনে। একইভাবে ভাই ও ভাতিজিকে বিমানবন্দরে স্বাগত জানাতে গাড়িবহর নিয়ে উপস্থিত ছিলেন পিএমএল-এনের প্রেসিডেন্ট শাহবাজ শরীফ।
পাকিস্তানে নির্বাচনী সমাবেশে বোমা হামলা
অনলাইন ডেস্ক :পাকিস্তানের উত্তরপশ্চিমাঞ্চলের শহর বান্নুতে আসন্ন নির্বাচন উপলক্ষে আয়োজিত এক জনসভায় বোমা হামলা হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, এ ঘটনায় নিহত হয়েছেন ৪ জন ও আহত হয়েছেন ১৯ জন। ২৫শে জুলাই পাকিস্তানের জাতীয় নির্বাচনের পূর্বে এ নিয়ে এক সপ্তাহে দ্বিতীয়বারের মত এ ধরণের হামলার ঘটনা ঘটল। এ খবর দিয়েছে আল-জাজিরা। শুক্রবার, পাকিস্তানের ধর্মভিত্তিক দল জেইউআই-এফ আয়োজিত এক জনসভা শেষে এ হামলা চালানো হয়। নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক পুলিশ কর্মকর্তা জানিয়েছেন, জনসভাটি করা হয়েছিল হুয়াইদ অঞ্চলে। প্রচন্ড বিস্ফোরণে সমাবেশের লোকজন আতঙ্কিত হয়ে এদিক সেদিক ছোটাছুটি করছিল। তিনি জানান, সমাবেশস্থলে একটি মোটরসাইকেলে স্বয়ংক্রিয় বিস্ফোরক ডিভাইসের মাধ্যমে দূর থেকে বিস্ফোরণটি ঘটানো হয়। সমাবেশটি আয়োজন করেছিলেন খাইবার পাখতুনখোয়া প্রদেশের সাবেক মুখ্যমন্ত্রী আকরাম খান দুরানি। তিনি জেইউআই-এফ পার্টির হয়ে পাকিস্তানের আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে অংশগ্রহণ করবেন। পুলিশ জানিয়েছে, তিনি অক্ষত রয়েছেন। এক সপ্তাহের মধ্যে রাজনৈতিক সমাবেশকে লক্ষ্য করে এটি দ্বিতীয় ভয়াবহ হামলা। এর আগে মঙ্গলবার, পেশওয়ারে এক জনসভায় আত্মঘাতি বোমা হামলার ঘটনায় বিখ্যাত রাজনীতিবিদ হারুন বিলৌর নিহত হন। এতে আরো ২০ জন নিহত ও ৬৯ জন আহত হয়। ওই ঘটনার দায় স্বীকার করেছে জঙ্গি সংগঠন তেহরিক-ই-তালিবানের পাকিস্তান শাখা। ২০১২ সালে জঙ্গিবাদবিরোধী মনোভাবের কারণে বিলৌরের বাবাকেও হত্যা করেছিল তালেবান জঙ্গিরা। তবে এখন পর্যন্ত শুক্রবারের বোমা হামলার দায় কেউ স্বীকার করেনি। ২০১৩ সালে পাকিস্তানের জাতীয় নির্বাচনপূর্ব সময়ে বিভিন্ন সহিংসতায় প্রায় ১৫৮ জন নিহত হয়েছিল। পাকিস্তান ইসলামপন্থী সন্ত্রাসীগোষ্ঠি তেহরিক-ই-তালিবান ও তাদের মিত্রদের বিরুদ্ধে দীর্ঘ সময় ধরে যুদ্ধ করে আসছে। ২০০৭ সাল থেকে সংগঠনগুলো পাকিস্তানে শরিয়া আইন প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে হামলা চালিয়ে আসছে। ২০১৪ সালে পাকিস্তান সেনাবাহিনী জঙ্গিগোষ্ঠিগুলোকে তাদের ঘাটি উত্তর ওয়াজিরিস্তান থেকে উতখাতের লক্ষ্যে অভিযান পরিচালনা করে। এর ফলে এ অঞ্চলে সহিংসতার পরিমাণ কমে আসে। তবে, এখনো সাধারণ মানুষ ও নিরাপত্তা বাহিনীর উপরে বিক্ষিপ্তভাবে আক্রমণ চালিয়ে যাচ্ছে সংগঠনটি।
লন্ডনে ট্রাম্প-মে দ্বিপক্ষীয় বৈঠক
অনলাইন ডেস্ক :যুক্তরাজ্যের বাকিংহামশায়ারে অবস্থিত বৃটেনের প্রধানমন্ত্রীর সরকারী বাসভবন চেকার্স-এ দ্বিপাক্ষিক বৈঠকে বসেছেন যুক্তরাজ্যে সফররত যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও বৃটেনের প্রধানমন্ত্রী থেরেসা মে। শুক্রবার স্থানীয় সময় সকাল ১১টা ৩০ মিনিটে বৈঠকটি শুরু হয়। বৈঠক শুরুর প্রাক্কালে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প বলেন, ‘যুক্তরাজ্যের সাথে আমাদের সম্পর্ক অত্যন্ত শক্তিশালী। এ সফরের মধ্যে দিয়ে সম্পর্ক আগামী দিনে আরো জোরদার হবে। তিনি বলেন, দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক ছাড়াও আমরা আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক নানা বিষয় নিয়ে আলোচনা করবো। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প বলেন, বৈঠক শেষ হলে সংবাদ সম্মেলনে তিনি বিস্তারিত অবহিত করবেন। বৃটেনের প্রধানমন্ত্রী থেরেসা মে বলেন, এ সফরটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। আমরা সম্পর্কের সব দিক নিয়ে আলোচনা করবো। ব্রেক্সিট ছাড়াও মধ্যপ্রাচ্য বিষয়ে আলোচনা করবেন বলে জানান প্রধানমন্ত্রী মে।
ক্রমাগত বৃদ্ধি পাচ্ছে চীনের সামরিক প্রভাব
অনলাইন ডেস্ক :দক্ষিণ এশিয় দেশগুলোতে ক্রমাগত বৃদ্ধি পাচ্ছে চীনের সামরিক প্রভাব। এরই ধারাবাহিকতায় এবার নেপালের সাথে সামরিক সহযোগিতা বৃদ্ধির সিদ্ধান্ত নিয়েছে চীন।চীনের স্টেট কাউন্সিলর ও প্রতিরক্ষামন্ত্রী ওয়েই ফেঙঘি বুধবার বেইজিংয়ে সফররত নেপালের সেনাপ্রধান রাজেন্দ্র ছেত্রির সঙ্গে সাক্ষাত করেছেন। এসময় ওয়েই বলেন, ঐতিহ্যগতভাবে চীন ও নেপাল বন্ধুপ্রতীম দুই প্রতিবেশী। চীন তার কোর স্বার্থগুলোর ব্যপারে নেপালের কাছ থেকে দৃঢ় সমর্থন আশা করে।তিনি জোর দিয়ে বলেন যে চীন ও নেপালের রাষ্ট্রীয় নেতৃবৃন্দ একমত হয়ে যেসব সিদ্ধান্ত নেবেন সেগুলো বাস্তবায়ন করবে দুই দেশের সেনাবাহিনী। তারা বাস্তব সহযোগিতাকে এগিয়ে নেবে, ঐতিহ্যগত বন্ধুত্ব সুদৃঢ় করবে এবং মানবতা ও বেল্ট এন্ড রোড ইনিশিয়েটিভের জন্য অভিন্ন ভবিষ্যতসম্পন্ন একটি জাতি গড়ে তুলতে অবদান রাখবে।নেপাল সেনাবহিনীকে সমর্থন দেয়ার জন্য ছেত্রি চীনকে ধন্যবাদ জানান এবং বলেন যে তার দেশ বিভিন্ন ক্ষেত্রে চীনের সঙ্গে সহযোগিতা ও লেনদেন জোরদার করতে আগ্রহী। ছেত্রি বলেন, নেপাল দৃঢ়ভাবে এক চীন নীতি অনুসরণ করে এবং কখনো কোন শক্তিকে তার ভূখ- চীন বিরোধী কাজে ব্যবহৃত হতে দেবে না। সাউথ এশিয়ান মনিটর
দাঙ্গা পরিস্থিতি ফুটবল নিয়ে ফ্রান্সে
অনলাইন ডেস্ক: ফ্রান্স আবারো বিশ্বকাপ ফুটবলের ফাইনালে। এই আনন্দে যখন ভাসছে পুরো ফ্রান্স, ঠিক তখনই এর উল্টো চিত্র ফুটে উঠেছে রাজধানী প্যারিসে। সেখানে এক দাঙ্গা পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়। উচ্ছৃঙ্খল ফুটবল ভক্তরা পুলিশের সঙ্গে কুৎসিত এক সহিংসতায় মেতে ওঠে। পুলিশের দিকে তারা ‘মিসাইল’ ছুড়তে থাকে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে কাঁদানে গ্যাস ছুড়তে হয় পুলিশকে। অন্যদিকে উপকূলীয় শহর নাইচ এলাকায় পদদলিত হয়ে আহত হয়েছেন কমপক্ষে ৩০ জন। সেখানে জায়ান্ট স্ক্রিনে খেলা দেখতে সমবেত হয়েছিল বিপুল সংখ্যক মানুষ। অকস্মাৎ তার পাশে আতশবাজি ফোটানো হয়। একে বন্দুকের গুলি ও সন্ত্রাসী হামলা মনে করে হুড়োহুড়িতে ওই ঘটনা ঘটে। লন্ডনের অনলাইন মিরর লিখেছে, বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে বেলজিয়ামের বিরুদ্ধে ফ্রান্সের বিজয়কে সেলিব্রেট করতে গিয়ে বিপুল সংখ্যক ভক্ত দাঙ্গায় জড়িয়ে পড়ে। পরিস্থিতি নাজুক পর্যায়ে চলে যায়। এক পর্যায়ে উত্তেজিত জনতা প্যারিসে অবস্থিত বিখ্যাত চ্যাম্পস এলিজি এভিনিউর দিকে জিনিসপত্র ছুড়ে মারতে থাকে। এ সময় পুলিশ বাধ্য হয়ে তাদের ওপর কাঁদানে গ্যাস ছোড়ে। উত্তেজিত জনতাকে কোথাও কোথাও ব্যারিকেড ভেঙে ফেলতে দেখা যায়। ঘটনাস্থলে পড়ে থাকতে দেখা যায় প্লাস্টিকে তৈরি ব্যারিকেড, ধাতব রেলিং এমনকি সোফা পর্যন্ত ছুড়ে ফেলা হয়েছে রাস্তার ওপর। ফরাসিদের বিজয়কে উদযাপন করতে গিয়ে কয়েক হাজার মানুষ এগিয়ে যেতে থাকে স্মৃতিসৌধ আর্ক ডি ট্রিওমেফর দিকে। এ সময় রাস্তায় তারা যা পেয়েছে তাই ছুড়ে মেরেছে পথের ওপর। তাদেরকে নিয়ন্ত্রণ করতে মোতায়েন করা হয় দাঙ্গা পুলিশ ও সশস্ত্র সাঁজোয়া যান। কাঁদানে গ্যাস ছোড়ার পর উচ্ছৃঙ্খল এসব মানুষ ধাতব বেষ্টনী ভেঙে ফেলে। সেইন নদীর তীরে সিটি হলের বাইরে সমবেত হয়েছিল একদল সমর্থক। তারা সেখানে ধোঁয়ার কুণ্ডলী জ্বালিয়ে তাদের বিজয়কে উদযাপন করে।
পাকিস্তানে আত্মঘাতী হামলায় প্রার্থীসহ নিহত ১৫
অনলাইন ডেস্ক :পাকিস্তানে নির্বাচনী সমাবেশে আত্মঘাতী বোমা হামলায় এক প্রার্থীসহ ১৫ জন নিহত হয়েছে। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন অন্তত ৬৫ জন। তবে এখনও কেউ এ হামলার দায় স্বীকার করেনি। দেশটির উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলীয় শহর পেশোয়ারের একটি নির্বাচনী সমাবেশে এই আত্মঘাতী বোমা হামলার ঘটনা ঘটে। নিহতের মধ্যে উল্লেখযোগ্য স্থানীয় রাজনীতিবিদ হারুন বিলোউরও রয়েছেন। পুলিশ প্রধানের মতে, আওয়ামী ন্যাশনাল পার্টির (এএনপি) আয়োজিত একটি প্রচারণা সমাবেশে এ হামলা চালানো হয়। এতে কমপক্ষে ৬৫ জন আহত হয়েছেন। প্রাদেশিক পরিষদ নির্বাচনের প্রার্থী ছিলেন বিলোউর। ২৫ জুলাই এখানে সাধারণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। বিলোউরের বাবা বশির বিলোউরও একজন বিশিষ্ট এএনপি রাজনীতিবিদ ছিলেন। ২০১২ সালে আত্মঘাতী বোমা হামলায় তাকে হত্যা করা হয়। বিস্ফোরণের সময় ২০০ সমর্থককে অন্যদের সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দিচ্ছিলেন বিলোউর। পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা সাফকাত মালিক বলেন, আমাদের প্রাথমিক তদন্তে মনে হচ্ছে এটা একটা আত্মঘাতী হামলা, এ হামলার প্রধান টার্গেট ছিলেন হারুন বিলোউর।
অসম্ভব সাহসী ও দৃঢ় মনোবলসম্পন্ন গুহায় আটক থাই শিশুরা
অনলাইন ডেস্ক: থাইল্যান্ডের গুহায় আটকে পড়া ১২ জন কিশোরকে অসম্ভব সাহসী ও দৃঢ় মনোবলসম্পন্ন বলে ভূয়সী প্রশংসা করেছেন উদ্ধার কাজে অংশ নেয়া এক বিশেষজ্ঞ ডুবুরি। গুহায় আটকে পড়া শিশুদের বের করে আনার কাজে স্বতঃপ্রণোদিত হয়ে যেসব বিদেশি বিশেষজ্ঞ ডুবুরিরা অংশ নিচ্ছেন, তাদেরই একজন হলেন ডেনমার্কের ইভান কারাজিচ। ইভান কারাজিচ থাইল্যান্ডেরই কো-তাও নামে ছোট একটি দ্বীপে একটি গুহার ভেতরে ডাইভিং বা ডুবসাঁতার দেওয়ার একটি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র চালান। চ্যাং রাইয়ের পাহাড়ের গুহায় কিশোর ফুটবল দলটির আটকে পড়ার খবর প্রচার হওয়ার পর অন্য নানা দেশের অনেক স্বেচ্ছাসেবী ডুবুরির মতো তিনিও যোগ দেন উদ্ধারকারী দলে। বিবিসির সাথে তার গত কয়েক দিনের অভিজ্ঞতার কথা বলতে গিয়ে ইভান কারাজিচ আটকে পড়া থাই শিশু-কিশোরদের, যাদের অধিকাংশ সাঁতারই জানত না, তাদের সাহস আর মনোবলের ভূয়সী প্রশংসা করেছেন। তিনি বলেন, ‘এই বাচ্চাগুলোকে এমন কাজ করতে বাধ্য করা হচ্ছে, যা আগে কখনো এই বয়সের কোনো শিশুই হয়তো করেনি; ১১ বছর বয়সে কেভ ডাইভিং (গুহার ভেতরে ডুবসাঁতার) চিন্তারও বাইরে।’ কারাজিচ বলেন, ‘সরু গুহায় ভারি অক্সিজেনের পাত্র পিঠে নিয়ে মাস্ক পরে ডুবসাঁতার দেয়া যেকোনো বয়সের মানুষের জন্য বিপজ্জনক। যখন-তখন বিপদ আসতে পারে, নিজের টর্চের আলো ছাড়া সবকিছু অন্ধকার।’ ইভান কারাজিচ আরো বলেন, উদ্ধারের পরিকল্পনার সময় তাদের সবচেয়ে ভয় ছিল বাচ্চাগুলো যদি মাঝপথে আতঙ্কিত হয়ে পড়ে, তখন কীভাবে তা সামাল দেওয়া যাবে। কিন্তু এখন পর্যন্ত যে আটজনকে বের করে নেয়া হয়েছে তাদের তেমন কোনো বিপদের কথা উদ্ধারকারীদের কাছ থেকে শোনা যায়নি। ‘আমি বিশ্বাসই করতে পারি না যে, এই বাচ্চাগুলো কতটা সাহসী এবং ঠাণ্ডা মাথার হতে পারে, ভাবতেই পারছি না... দু’সপ্তাহ ধরে ঠাণ্ডা, অন্ধকার গুহায় আটকে ছিল তারা, মাকেও দেখেনি...’ ইভান কারাজিচের দায়িত্ব ছিল গুহার মাঝামাঝি পথে অবস্থান নিয়ে অক্সিজেন ভর্তি পাত্র পরীক্ষা করে বদলে দেওয়া। রোববার প্রথম বাচ্চাটিকে যখন আসতে দেখেন, তখন অনুভূতি কী ছিল? জবাবে ইভান কারাজিচ বলেন, ‘মনে মনে অনেক আশঙ্কা ছিল আমার। ৫০ মিটারের মতো দূরে প্রথম যখন একজন ডুবুরি এবং তার পেছনে বাচ্চাটি নজরে এলো, আমি তখনও নিশ্চিত ছিলাম না যে বাচ্চাটি বেঁচে আছে কিনা। যখন দেখলাম সে শ্বাস নিচ্ছে, বেঁচে আছে, দারুণ স্বস্তি পেয়েছিলাম।
যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নিষেধাজ্ঞা মিয়ানমারের ওপর
অনলাইন ডেস্ক: অবৈধভাবে বসবাসকারী নাগরিকদের ফিরিয়ে নিতে অনীহা দেখানোয় মিয়ানমার ও লাওসের ওপর ভিসা নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে যুক্তরাষ্ট্র। বারবার দেশ দুটির অবৈধ অভিবাসীদের নিজ দেশে ফিরিয়ে নেয়ার বিষয়ে আহ্বান জানিয়ে আসলেও তা বাস্তবায়নে গড়িমসি করায় এ পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে বলে দেশটির হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগ জানিয়েছে। মঙ্গলবার এক বিবৃতিতে এ তথ্য জানানো হয়। এতে বলা হয়, যুক্তরাষ্ট্র থেকে নিজেদের দেশের নাগরিকদের ফেরত নিতে বলা হলেও তা বাস্তবায়নে অযথা বিলম্ব করেছে মিয়ানমার ও লাওস। ফলে দেশ দুটির ওপর ভিসা নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হলো। মিয়ানমার ও লাওসে সুনির্দিষ্ট কিছু ক্যাটাগরিতে ভিসার আবেদনের ওপর কড়াকড়ি আরোপের নির্দেশ দিয়েছে ট্রাম্প প্রশাসন। যুক্তরাষ্ট্রের দূতাবাস ইয়াঙ্গুনে বি-১ (কর্ম) ও বি-২ (ভ্রমণ) ক্যাটাগরির সব নন-ইমিগ্রান্ট ভিসা দেয়া বন্ধ করেছে। নিষেধাজ্ঞার তালিকায় রয়েছে মিয়ানমারের শ্রম, অভিবাসন ও জনসংখ্যা (এমওএলআইপি) এবং স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মহাপরিচালক পর্যায় এবং এর উচ্চ পর্যায়ের কর্মকর্তা ও তাদের পরিবারের সদস্যরা। এ নিষেধাজ্ঞার আওতা আরও বাড়ানো হতে পারে বলে জানানো হয়েছে। একইসঙ্গে দেশটি লাওসের জন্য এ-৩ ও জি-৫ (কূটনীতিক ও আন্তর্জাতিক সংগঠনের কর্মী) বি-১ ও বি-২ এবং বি-১, বি-২ (নন-ইমিগ্র্যান্ট) ক্যাটাগরির ভিসার উপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে।
থাই গুহায় শেষ ৫ জনকে উদ্ধারে চলছে অভিযান
অনলাইন ডেস্ক: থাইল্যান্ডের থাম লিয়াং গুহায় আটকে পড়া ১২ খুদে ফুটবলারসহ ১৩ জনের মধ্যে সোমবার পর্যন্ত আটজনকে উদ্ধার করা হয়েছে। মঙ্গলবার (১০ জুলাই) বাকি চার খুদে ফুটবলার ও তাদের কোচকে উদ্ধারে অভিযান ফের শুরু হয়েছে। থাই নৌবাহিনীর একজন উদ্ধারকারী কর্মকর্তার বরাত দিয়ে এমন খবর জানিয়েছে মার্কিন বার্তা সংস্থা সিএনএন। এর আগে গত দুইদিনের অভিযানে আটকে পড়া কিশোরদের মধ্য থেকে আটজনকে উদ্ধার করা হয়। চার কিলোমিটার গুহার ভেতরে এখনও আটকে থাকা বাকিদের উদ্ধারে চূড়ান্ত অভিযান চলছে। উদ্ধারকাজের তৃতীয় দিনে আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় দ্রুততার সঙ্গে কাজ শেষ করার চেষ্টা চলছে। সোমবার স্থানীয় সময় রাতে দ্বিতীয় দিনের মতো উদ্ধারকাজের সমাপ্তির পর এই উদ্ধারাভিযানের কমান্ডার নারঙ্গসাক ওসোত্থানাকর্ন জানিয়েছিলেন, তৃতীয় দিনের কাজ শুরু হতে আনুমানিক বিশ ঘণ্টা লাগতে পারে। তবে এর পুরোটাই নির্ভর করে আবহাওয়া এবং পানির হ্রাস-বৃদ্ধির ওপর। চূড়ান্ত এই উদ্ধারাভিযানে সর্বোচ্চ ঝুঁকি নিতে হতে পারে উদ্ধারকর্মী এবং ডুবুরিদের। এদিকে, গুহা থেকে উদ্ধার পাওয়া আট কিশোরকে চিয়াং রাই হাসপাতালে চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে। আটক অবস্থায় তারা কোনো সংক্রমণের শিকার হয়েছে কি না সে বিষয়টি পরীক্ষা করে দেখছেন চিকিৎসকরা। তবে তাদের অবস্থা এখন উন্নতির দিকে বলে জানা গেছে।