শ্রীলঙ্কায় বোমা হামলায় নিহত বেড়ে ৩৫৯
২৪এপ্রিল,বুধবার,আন্তর্জাতিক ডেস্ক,নিউজ একাত্তর ডট কম: শ্রীলঙ্কায় ইস্টার সানডে উদযাপনের সময় একাধিক গির্জা ও হোটেলকে লক্ষ্য করে চালানো ভয়াবহ সিরিজ বোমা হামলায় নিহতের সংখ্যা ক্রমশঃ বেড়েই চলেছে। এ সংক্রান্ত শেষ খবরে ওই হামলায় ৩৫৯ জন নিহত হয়েছে বলে জানা গেছে। ভয়াবহ ওই হামলায় আহত হয়েছেন আরও অন্তত পাঁচ শতাধিক মানুষ। এর আগে শ্রীলঙ্কান প্রতিরক্ষামন্ত্রী ওই হামলায় মোট ৩২১ জন নিহত হয়েছে বলে জানিয়েছিলেন। ভয়াবহ এই হামলার ঘটনায় মঙ্গলবার দেশ জুড়ে জাতীয় শোক দিবস পালন করা হয়েছে। দুই মিনিট শোকে স্তব্ধ ছিল গোটা দেশ। ওই একই দিনে নিহতদের গণ অন্ত্যোষ্টিক্রিয়া অনুষ্ঠিত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। এদিকে শ্রীলঙ্কার গীর্জা ও হোটেলে এই সিরিজ বোমা হামলার দায় স্বীকার করেছে মধ্যপ্রাচ্যভিত্তিক জঙ্গিগোষ্ঠী ইসলামিক স্টেট (আইএস)। মঙ্গলবার আইএস পরিচালিত সংবাদমাধ্যম আমাক নিউজ এজেন্সিতে শ্রীলঙ্কায় হামলার দায় স্বীকার করে আরবিতে একটি বিবৃতি দেয়া হয়েছে। তবে তারা ওই দাবির সপক্ষে কোনো প্রমাণ হাজির করেনি বলে জানিয়েছে সংবাদ সংস্থা রয়টার্স। এর আগে দেশটির চরমপন্থী ইসলামিক গোষ্ঠী ন্যাশনাল তাওহীদ জামায়াতকে হামলার মূল সন্দেহভাজন হিসেবে দায়ী করে সরকার। একই সঙ্গে তারা এটিও জানিয়েছিলো যে, কোনো আন্তর্জাতিক নেটওয়ার্কের সাহায্য ছাড়া সে দেশের কোনো ব্যক্তি বা সংগঠনের পক্ষে এ ধরনের হামলা চালানো সম্ভব নয়। শ্রীলঙ্কার এই হামলার ঘটনার তদন্তে সহায়তার ঘোষণা দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। তারা দেশটির কেন্দ্রীয় তদন্ত সংস্থাকে (এফবিআই) এ বিষয়ে দায়িত্ব দিয়েছে।
শ্রীলঙ্কায় হামলার দায় স্বীকার করলো আইএস
২৩এপ্রিল,মঙ্গলবার,আন্তর্জাতিক ডেস্ক,নিউজ একাত্তর ডট কম: শ্রীলঙ্কায় সিরিজ বোমা হামলার ঘটনায় দায় স্বীকার করেছে জঙ্গিগোষ্ঠী আইএস। তবে এই দাবির স্বপক্ষে কোনো ভিডিও বা তথ্যপ্রমাণ দেখায়নি তারা। মঙ্গলবার (২৩ এপ্রিল) আইএসের নিজস্ব বার্তা সংস্থা আমাকে উদ্ধৃত করে এই তথ্য নিশ্চিত করেছে ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম রয়টার্স। এর আগে, শ্রীলঙ্কার চরমপন্থী ইসলামিক গোষ্ঠী ন্যাশনাল তাওহীদ জামাতকে হামলার মূল সন্দেহভাজন হিসেবে দায়ী করে দেশটির সরকার। এর আগে, গত রোববার (২১ এপ্রিল) ইস্টার সানডের সকালে শ্রীলঙ্কার তিনটি গির্জা, তিনটি বিলাসবহুল হোটেল ও আরো দুটি স্থাপনায় সিরিজ বোমা হামলায় ৩২১ জনের প্রাণহানি ও ৫ শতাধিক মানুষ আহত হয়। নিহতদের মধ্যে অন্তত ৩৮ জন বিদেশি নাগরিক। এর মধ্যে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ফুফাতো ভাই শেখ সেলিমের নাতিও রয়েছেন। জানা যায়, শ্রীলঙ্কায় এক দশকের গৃহযুদ্ধ অব্সানের পর গত রোববারের সিরিজ বোমা হামলাটি ছিল সবচেয়ে বড় প্রাণঘাতী নৃশংসতা। এ হামলার পরপরই গতকাল সোমবার অনলাইনে এর প্রশংসা করে আইএস সমর্থকরা। এদিকে আইএসের বার্তা সংস্থা আমাক-এ মঙ্গলবার হামলার দায় স্বীকার করে আরবিতে লেখা একটি বার্তা আসে। তবে এতে তাদের দাবির পক্ষে কোনো প্রমাণ দেখানো হয়নি বলে এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে রয়টার্স। এর আগে, শোনা গিয়েছিল, ন্যাশনাল তৌহিদ জামাত নামে একটি সংগঠন এই বিস্ফোরণের পেছনে আছে। ২০১৪ সালে ওই সংগঠন তৈরি হয়। এমনিতে তাদের নাম বিশেষ শোনা যেত না। ছোট একটি সংগঠনের পক্ষে অত বড় হামলা চালানো কীভাবে সম্ভব হল, তা ভেবে পাচ্ছিলেন না অনেকে। তদন্তকারীদের মনে হয়েছিল ন্যাশনাল তৌহিফ জামাত সংগঠনটি আইসিসের দ্বারা প্রভাবিত। কিন্তু আইসিসের সঙ্গে তাদের সরাসরি যোগাযোগ আছে কিনা জানা যাচ্ছিল না। কিন্তু আইসিস দায়িত্ব স্বীকার করার পরে অনেকেই মনে করেন, বিদেশ থেকে তৌহিদ সাহায্য পেয়েছিল। এদিকে অনলাইনে জঙ্গি কার্যক্রম পর্যবেক্ষণকারী মার্কিন সাইট ইনটেলিজেন্স গ্রুপ জানায়, ক্রাইস্টচার্চ মসজিদে গোলাগুলির প্রতিশোধ হিসেবে শ্রীলঙ্কার হামলাকে দেখছে আইএস। একই সঙ্গে তারা এই হামলার ঘটনায় উল্লাস প্রকাশ করেছে। এ ঘটনার একদিন পর চরমপন্থী ইসলামি জঙ্গিগোষ্ঠী আইএস শ্রীলঙ্কায় হামলার দায় স্বীকার করে বিবৃতি দিলো। সাইট ইনটেলিজেন্স গ্রুপের পরিচালক রিটা কাটজ বলেছিলেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আইএসের সমর্থকরা শ্রীলঙ্কায় হামলার প্রশংসা করে হতাহতের ঘটনায় উল্লাস প্রকাশ করেছে। আইএস পরিচালিত চ্যানেলে শ্রীলঙ্কায় বিস্ফোরণের বুনো উল্লাস করা হয়েছে। এতে আত্মঘাতী বোমা হামলাকারীদের যেন আল্লাহ কবুল করে নেন সেই প্রার্থনাও করা হয়।
মধ্যরাত থেকে শ্রীলঙ্কায় জরুরি অবস্থা জারি
২২এপ্রিল,সোমবার,আন্তর্জাতিক ডেস্ক,নিউজ একাত্তর ডট কম: আজ সোমবার মধ্যরাত থেকে শ্রীলঙ্কায় জরুরি অবস্থা জারি করা হচ্ছে। বিবিসি অনলাইনের এক প্রতিবেদনে বলা হয়, মধ্যরাত থেকে জরুরি অবস্থা জারির এই পরিকল্পনা ঘোষণা করেছে দেশটির জাতীয় নিরাপত্তা কাউন্সিল। দেশটির প্রেসিডেন্টের মিডিয়া ইউনিট এ বিষয়ে একটি সংবাদ বিজ্ঞপ্তি দিয়েছে। এর আগে গতকাল রোববার সকালে পরপর এ বোমা হামলায় ২৯০ নিহত ও ৫০০ জন আহত হয়েছেন। পরে দেশটিতে ১২ ঘণ্টার জন্য কারফিউ জারি করা হয়। আজ সোমবার সকাল ৬টায় তা তুলে নেয়া হয়। এদিকে শ্রীলঙ্কায় ভয়াবহ বোমা হামলায় হতাহতের ঘটনায় দেশটি আগামীকাল মঙ্গলবার জাতীয় শোক পালন করবে।
শ্রীলংকায় বোমা হামলায় নিহত ২৯০, গ্রেপ্তার ২৪
২২এপ্রিল,সোমবার,আন্তর্জাতিক ডেস্ক,নিউজ একাত্তর ডট কম: শ্রীলংকায় তিনটি গির্জা ও চারটি হোটেলে ভয়াবহ সিরিজ বোমা হামলায় নিহতের সংখ্যা বেড়ে ২৯০ জনে দাঁড়িয়েছে। বোমা হামলায় কারা জড়িত তা এখনো চিহ্নিত করতে না পারলেও এ পর্যন্ত ২৪ জনকে আটক করেছে দেশটির আইন-শঙ্খলা বাহিনী। পুলিশ ও স্থানীয় গণমাধ্যমের বরাত দিয়ে বিবিসি এ খবর জানিয়েছে। গতকাল রোববারের ওই হামলায় পাঁচ শতাধিক মানুষ আহত হয়েছে। বিবিসির ওই খবরে বলা হয়েছে, হামলায় নিহত ব্যক্তিদের মধ্যে অন্তত ৩৬ জন বিদেশি রয়েছেন। নিহতদের মধ্যে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ শীর্ষ নেতা শেখ ফজলুল করিম সেলিমের আট বছর বয়সী নাতি জায়ান চৌধুরীও হয়েছে। আর আহত হয়েছেন তার জামাতা মশিউল হক চৌধুরী প্রিন্স। পুলিশের মুখপাত্র রুয়ান গুনাসেকেরা জানান, রোববারের আট দফা বোমা হামলায় নিহতের সংখ্যা বেড়ে ২৯০ জনে দাঁড়িয়েছে। এছাড়া প্রায় পাঁচ শতাধিক আহত হয়েছে। এ হামলার ঘটনায় এখন পর্যন্ত ২৪ জনকে আটক করা হয়েছে বলেও জানান শ্রীলংকান পুলিশের এই কর্মকর্তা। ইস্টার সানডে উপলক্ষে খ্রিষ্টান ধর্মাবলম্বীরা রোববার সকালে গির্জায় প্রার্থনা করার সময় শ্রীলংকার রাজধানী কলম্বোর একটিসহ দেশটির তিনটি গির্জায় একযোগে বোমার বিস্ফোরণ ঘটে। প্রায় একই সময় কলম্বোর তিনটি পাঁচ তারকা হোটেল– শাংরি লা, সিনামন গ্র্যান্ড ও কিংসবুরিতেও বোমার বিস্ফোরণ হয়। রোববার সকালে ছয়টি স্থাপনায় হামলার কয়েক ঘণ্টা পর দুপুরে কলম্বোর দক্ষিণাঞ্চলের দেহিওয়ালা এলাকায় একটি হোটেলে সপ্তম বিস্ফোরণটি ঘটে। এরপর কলম্বোর উত্তরে ওরুগোদাওয়াত্তা এলাকায় আরেকটি বিস্ফোরণের খবর পাওয়া যায়। শ্রীলংকায় গৃহযুদ্ধ অবসানের প্রায় এক দশক পর দেশটিতে এমন ভয়াবহ হামলার পেছনে কারা জড়িত তা সোমবার সকাল পর্যন্ত নিশ্চিত করতে পারেনি কর্তৃপক্ষ। এছাড়া কোনো গোষ্ঠী এখনও এই হামলার দায় স্বীকার করেনি। এদিকে শ্রীলংকার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কাছ থেকে পাওয়া তথ্যের বরাত দিয়ে বিবিসি জানিয়েছে, নিহতদের মধ্যে ৩৬ জন বিদেশি রয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে মর্গে থাকা মরদেহগুলোর পরিচয় শনাক্ত না হওয়ায় তারা নিহত বিদেশির সংখ্যা পুরোপুরি নিশ্চিত করতে পারেনি। তবে এরই মধ্যে নিহত কয়েকজন বিদেশির পরিচয় মিলেছে। এদের মধ্যে পাঁচজন যুক্তরাজ্যের নাগরিক, যাদের মধ্যে দু'জনের যুক্তরাষ্ট্রের যৌথ নাগরিকত্বও রয়েছে। এছাড়া ডেনমার্কের তিনজন, পর্তুগালের একজন, তুরস্কের দুজন, নেদারল্যান্ডসের একজন ও জাপানের একজন নাগরিক রয়েছে।
শ্রীলঙ্কায় ৩টি গির্জা ও ৩টি হোটেলে সিরিজ বোমা হামলা, নিহত ৩০
২১এপ্রিল,রবিবার,আন্তর্জাতিক ডেস্ক,নিউজ একাত্তর ডট কম: শ্রীলঙ্কায় ইস্টার সানডেতে তিনটি গির্জা ও তিনটি হোটেলকে লক্ষ্যবস্তু করে সিরিজ বোমা হামলা চালানো হয়েছে। এতে অন্তত ৩০ জন নিহত ও বিদেশি পর্যটকসহ তিন শতাধিক আহত হয়েছেন। নিরাপত্তা কর্মকর্তারা জানান, হামলার সময় খ্রিস্টান সম্প্রদায়ের অন্যতম প্রধান ধর্মীয় উৎসব ইস্টার সানডে উপলক্ষে গির্জায় প্রার্থনা চলছিল। কলম্বোর সেন্ট এন্থনি গির্জা, ক্যাথলিক সংখ্যাগরিষ্ঠ শহর নেগম্বোর সেন্ট সেবাস্তিয়ান্স গির্জা, বাত্তিসালোয়া শহরের পূর্বে জিয়ন গির্জাসহ তিনটি হোটেলকে লক্ষ্যবস্তু করে সন্ত্রাসী হামলা চালানো হয়েছে, যেখানে অনেক বিদেশি পর্যটক অবস্থান করছিলেন। হামলায় দুটি আত্মঘাতী বোমা বিস্ফোরণ ঘটানো হয়েছে বলে সন্দেহ করা হচ্ছে। স্থানীয় গণমাধ্যম জানায়, সিরিজ বোমা হামলায় ৪৮ জন মারা গেছেন এবং ২৮৩ জনকে চিকিৎসার জন্য আশপাশের হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। ন্যাশনাল হাসপাতালের মুখপাত্র ডা. সামিন্দি সামারাকুন এপিকে জানান, ৩০ জন মারা গেছেন এবং আহতদের কলম্বোর প্রধান হাসপাতালে চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, বোমার প্রচণ্ড শব্দে আশেপাশের এলাকার কয়েকটি ভবন কেঁপে ওঠে। অনেক মানুষ আহত হয়েছেন। তাদের অ্যাম্বুলেন্স যোগে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। সেন্ট সেবাস্তিয়ান্স গির্জা তাদের নিজস্ব ফেসবুক পেজ থেকে সাহায্যের জন্য আবেদন জানিয়েছে। শ্রীলঙ্কার নিরাপত্তা কর্মকর্তারা জানান, তারা হামলার বিস্তারিত জানতে তদন্ত করছেন। পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে এলাকাগুলোর সকল গির্জা বন্ধ করে দিয়েছে।
ভারতে ট্রেন লাইনচ্যুত, গুরুতর আহত ৫
২০এপ্রিল,শনিবার,আন্তর্জাতিক ডেস্ক,নিউজ একাত্তর ডট কম: ভারতের উত্তরপ্রদেশের কানপুরে রুমা রেল স্টেশনের কাছে একটি ট্রেন লাইনচ্যুত হওয়ার ঘটনায় ১৩ জন আহত হয়েছে। এর মধ্যে পাঁচজনের অবস্থা গুরুতর। এখনও পর্যন্ত এই ঘটনায় কোনও নিহতের খবর পাওয়া যায়নি। ভারতীয় গণমাধ্যম আনন্দবাজার জানিয়েছে, শুক্রবার মধ্যরাতে দুর্ঘটনায় পড়ে ট্রেনটি। এরপরই উদ্ধার কাজ শুরু হয়। লাইনচ্যুত হওয়া ট্রেনের নাম পূর্বা এক্সপ্রেস। ট্রেনটি শুক্রবার রাতে হাওড়া থেকে ছেড়ে যায়। কানপুরে পৌঁছালে রাত ১টার দিকে ট্রেনের ১০টি কামরা লাইনচ্যুত হয়ে যায়। এর মধ্যে ৪টি কামরা পুরোপুরি উল্টে গেছে। ভারতীয় রেলওয়ের এডিজি (পিআর) স্মিতা শর্মা জানিয়েছেন, সব যাত্রীদের বের করে আনা হয়েছে। আহতদের প্রাথমিক চিকিৎসা দিতে চিকিৎসকদের একটি দল দুর্ঘটনাস্থলে আছেন। গুরুতর আহতদের স্থানীয় হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, রেলের পক্ষ থেকে আটকে যাওয়া যাত্রীদের জন্য বেশ কয়েকটি বাসের ব্যবস্থা করা হয়। এগুলোতে করেই যাত্রীদের কানপুর স্টেশনে আনা হয়েছে। কানপুর থেকে বিশেষ ট্রেনে করে তাদের দিল্লি পৌঁছে দেয়া হবে।
কানাডায় চারজনের গুলিবিদ্ধ মরদেহ উদ্ধার
১৬এপ্রিল,মঙ্গলবার,আন্তর্জাতিক ডেস্ক,নিউজ একাত্তর ডট কম: রয়েল কানাডিয়ান মাউন্টেড পুলিশ (আরসিএমপি) এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, ব্রিটিশ কলম্বিয়ার পেন্টিকটন শহরে সোমবার চারজনকে গুলি করে হত্যা করা হয়। বিবৃতিতে বলা হয়, পুলিশ পাঁচ কিলোমিটার এলাকার মধ্যে তিনটি স্থানে এই চারজনের মৃতদেহ খুঁজে পেয়েছেন। পুলিশের বিবৃতিতে জানানো হয়, সন্দেহভাজন ব্যক্তির বর্ণনার সঙ্গে মিলে যায় এমন একজন ব্যক্তি পেন্টিকটনে রয়েল কানাডিয়ান মাউন্টেড পুলিশের কাছে আত্মসমর্পণ করেছে। তদন্ত শুরু হওয়ায় ওই ব্যক্তি এখন পুলিশি হেফাজতে রয়েছে। প্রাথমিক তদন্তে মনে হয়েছে এটি একটি টার্গেটেড ঘটনা। স্থানীয় সময় সকাল ১০টা ৩০ মিনিটে প্রথম গুলিবর্ষণের ঘটনা ঘটে। পুলিশ ঘটনাস্থলে যাওয়ার সময় দ্বিতীয় গুলিবর্ষণের ঘটনা ঘটে। পুলিশ জানিয়েছে, ওই দুই জায়গায় গুলি চালানো সন্দেহভাজন ব্যক্তি প্রথম হামলার এক ঘণ্টা পর আত্মসমর্পণ করে। তবে কী কারণে এই গুলিবর্ষণের ঘটনা ঘটেছে সেটি এখনও জানা যায়নি। আরসিএমপি আঞ্চলিক কমান্ডার টেড ডি জাগর বলেন, কেন এই হামলা ঘটেছে তা আমাদের চলমান তদন্তের অংশ। আমি বুঝতে পারছি যে, আমাদের কমিউনিটিতে একটি গুরুতর উদ্বেগজনক ঘটনা ঘটেছে। এই মর্মান্তিক ঘটনায় আক্রান্ত সবার প্রতি আমরা সমবেদনা জানাই।
রক্তাক্ত বিক্ষোভের মাঝে সুদান সেনাবাহিনীর হাতে প্রেসিডেন্টের পতন
১২এপ্রিল,শুক্রবার,আন্তর্জাতিক ডেস্ক,নিউজ একাত্তর ডট কম: দীর্ঘ ৩০ বছর ধরে চালানো দমনমূলক শাসনের বিরুদ্ধে কয়েক মাসের রক্তাক্ত বিক্ষোভের পর বৃহস্পতিবার প্রেসিডেন্ট ওমর আল-বশিরের পতন ঘটিয়েছে সুদানের সেনাবাহিনী। কিন্তু সেনাবাহিনী আগামী দুই বছর দেশ পরিচালনার ঘোষণা দেয়ায় গণতন্ত্রপন্থী বিক্ষোভকারীরা রাস্তায় তাদের অবস্থান জারি রাখার অঙ্গীকার করেছেন। সুদানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী আওয়াদ মোহাম্মেদ ইবনে আউফ এক ঘোষণায় ৭৫ বছর বয়সী বশিরের গ্রেপ্তার ও অপসারণের বিষয়টি জানিয়েছেন। ইবনে আউফ বলেন, সেনাবাহিনী এবং গোয়েন্দা ও নিরাপত্তা সংস্থাগুলোর সমন্বয়ে গঠিত একটি সামরিক পরিষদ দুই বছর দেশ শাসন করবে। পরে ‘অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন’ আয়োজন করা হবে। সুদানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম পরে জানায়, ইবনে আউফ নতুন পরিষদের প্রধান হিসেবে শপথ নিচ্ছেন। প্রতিরক্ষামন্ত্রী তার ঘোষণায় আরও জানান, সেনাবাহিনী সংবিধান স্থগিত, সরকার বাতিল, তিন মাসের জন্য জরুরি অবস্থা ঘোষণা, দেশের সীমান্ত ও আকাশপথ বন্ধ এবং সান্ধ্য আইন (কারফিউ) জারি করেছে। সামরিক অভ্যুত্থানের খবর পেয়ে শুরুতে আনন্দিত বিক্ষোভকারীরা বলছেন, বেসামরিক অন্তর্বর্তী সরকার গঠন না করা পর্যন্ত তারা কেন্দ্রীয় খার্তুমে সেনা সদরদপ্তরের বাইরে প্রায় সপ্তাহব্যাপী চলমান তাদের অবস্থান কর্মসূচি ত্যাগ করবেন না। বৃহস্পতিবার রাতে হাজার হাজার মানুষ রাস্তায় ড্রাম বাজান, গান করেন এবং সশস্ত্র বাহিনী ও ইবনে আউফের বিরুদ্ধে স্লোগান দেন। বিক্ষোভে নেতৃত্ব দেয়া একটি সংগঠন জানিয়েছে, রাত ১০টা থেকে জারি করা কারফিউ উপেক্ষা করে মানুষ রাস্তায় অবস্থান করছেন। বিক্ষোভকারীরা চিৎকার করে বলতে থাকেন- ‘প্রথমটার পতন হয়েছে, দ্বিতীয়টাও যাবে!’ এবং ‘তারা এক চোর সরিয়ে আরেক চোর এনেছে!’ বশিরের অবস্থান সম্পর্কে তাৎক্ষণিকভাবে কিছু জানা যায়নি। ইবনে আউফ শুধু জানিয়েছেন যে তাকে ‘নিরাপদ জায়গায়’ রাখা হয়েছে। মানবাধিকার সংস্থাগুলো বশিরকে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের কাছে হস্তান্তর করতে সুদানের সামরিক কর্তৃপক্ষের কাছে আহ্বান জানিয়েছে। দারফুরে বিদ্রোহীদের বিরুদ্ধে মারাত্মক অভিযানের জন্য বশিরের বিরুদ্ধে যুদ্ধাপরাধ, মানবতাবিরোধী অপরাধ ও গণহত্যার অভিযোগ রয়েছে। সেনাবাহিনী ও ইসলামি রক্ষণশীলদের সমর্থন নিয়ে ১৯৮৯ সালে অভ্যুত্থান ঘটিয়ে ক্ষমতায় আসেন বশির। তিনি শক্ত হাতে দেশ শাসন এবং বিরোধীদের নৃশংসভাবে দমন করেন। সেই সাথে সঙ্গী ব্যবসায়ীদের মাধ্যমে অর্থনীতিকে একচেটিয়া করে ফেলেন।
ভারতে লোকসভা নির্বাচনে প্রথম দফায় ভোটগ্রহণ চলছে
১১এপ্রিল,বৃহস্পতিবার,আন্তর্জাতিক ডেস্ক,নিউজ একাত্তর ডট কম: ভারতে আজ বৃহস্পতিবার লোকসভা নির্বাচনের প্রথম দফায় ১৮ রাজ্য ও দুটি কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলের ৯১টি আসনে ভোটগ্রহণ শুরু হয়েছে। এসব রাজ্যের মধ্যে অন্ধ্রপ্রদেশ ও তেলাঙ্গানার সবগুলো আসনে ভোট অনুষ্ঠিত হচ্ছে। প্রথম দফার এই নির্বাচনে নীতিন গাড়করি, কিরেন রিজিজু ও ভিকে সিংয়ের মতো কেন্দ্রীয় মন্ত্রীদের ভাগ্য নির্ধারিত হবে। ভারতের প্রেস ইনফরমেশন ব্যুরো জানিয়েছে, সকাল ৭টা থেকে ভোটগ্রহণ শুরু হয়েছে এবং চলবে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত। তবে উত্তরপূর্বাঞ্চলীয় রাজ্যগুলোতে বামপন্থী চরমপন্থীদের কারণে কোথাও কোথাও সকাল ৭টা থেকে বিকেল ৫টা, সকাল ৭টা থেকে বিকেল ৪টা বা সকাল ৭টা থেকে বিকেল ৩টা পর্যন্ত ভোটগ্রহণ চলতে পারে। একইসঙ্গে অন্ধ্রপ্রদেশ, সিকিম, উড়িষ্যা ও অরুণাচলে বিধানসভা নির্বাচনে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। এর মধ্যে এই তিন রাজ্যে এক দফায় বিধানসভা নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে আর উড়িষ্যায় চার দফায়। অন্ধ্রপ্রদেশে ক্ষমতাসীন বিরোধী মনোভাব, বর্ণ এবং দুর্নীতির মতো বিষয়গুলো গুরুত্বপূর্ণ ফ্যাক্টর হয়ে উঠেছে। রাজ্যের তিন কোটি ৯৩ লাখ ভোটার আজ বিধানসভার ১৭৫টি আসন ও লোকসভার ২৫টি আসনে ভোটাভুটিতে তাদের রায় দেবেন। ২০১৪ সালে রাজ্য ভাগ হওয়ার পর এটাই সেখানে প্রথম সাধারণ নির্বাচন। ভোটের ময়দানে আছেন অন্ধ্রপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী চন্দ্রবাবু নাইডু থেকে শুরু করে জগনমোহন রেড্ডিরা। দেশের সবচেয়ে বড় রাজ্য উত্তরপ্রদেশের ১০টি আসনে আজ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হচ্ছে। মুজফফরনগর থেকে লড়ছেন আরএলডি-র প্রধান অজিত সিং। বাঘপত কেন্দ্রে কেন্দ্রীয় মন্ত্রী সত্যপাল সিংয়ের বিরুদ্ধে লড়ছেন তার ছেলে। মহারাষ্ট্রে সাতটি আসনে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হচ্ছে। বিহারে চারটি ও পশ্চিমবঙ্গে দুটি আসনে ভোটগ্রহণ চলছে। এরইমধ্যে সকাল থেকেই পশ্চিমবঙ্গের কোচবিহার ও আলিপুরদুয়ারে ভোটগ্রহণ শুরু হয়েছে। এদিকে অরুণাচল প্রদেশে দুটি এবং আসামে পাঁচটি আসনে লোকসভা নির্বাচন হচ্ছে। আসামে কেন্দ্রীয় মন্ত্রী কিরেন রিজিজুর পাশাপাশি সাবেক মুখ্যমন্ত্রী তরুণ গগৈয়ের ছেলে গৌরব গগৈয়ের কেন্দ্রেও আজ নির্বাচন হবে। ছত্তিশড়ের বস্তার কেন্দ্রেও আজ নির্বাচন হচ্ছে। মাত্র দুদিন আগে মাওবাদীদের হামলায় এখানকার বিজেপি বিধায়কসহ কয়েকজনের মৃত্যু হয়েছে। এবারের লোকসভা নির্বাচনে প্রায় ৯০ কোটি ভোটার ভোট দেবেন। ভারতের নির্বাচন কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, এবার ভোটারের সংখ্যা গতবারের চেয়ে প্রায় ৯ শতাংশ বেড়েছে। এবার ১৩ কোটি নতুন ভোটার নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় অন্তর্ভুক্ত হয়েছেন। তবে ২০১৪ সালে নতুন ভোটারের সংখ্যা অনেক বেশি ছিল। ভোটারদের দুই-তৃতীয়াংশের বয়স ৩৫ বা তার থেকে কম। এবারের নির্বাচনে ডিজিটাল মিডিয়ার প্রভাব খুবই বেশি। ২০১৪ সালে দেশের ৫৪৩ টি আসনের মধ্যে ২৮২ টি তে জিতে সরকার গঠন করে বিজেপি। ওই নির্বাচনে পরাজিত হয় কংগ্রেস। জনসংখ্যার দিক থেকে দ্বিতীয় এবং আয়তনের দিক থেকে বিশ্বে সপ্তম ভারতের নির্বাচনে দুই হাজার দলের প্রায় আট হাজার প্রার্থী অংশ নিচ্ছেন। লোকসভা নির্বাচনের ভোট গণনা কেন্দ্রের সংখ্যা এবার সারাদেশে প্রায় দশ লাখেরও বেশি গণনা কেন্দ্রে ভোট নেয়া হবে। শুধু ভারতে নয় পুরো বিশ্বের হিসেবে এটা একটি রেকর্ড। মোট ১১ লাখ ইভিএমে নিজেদের মত জানাবেন ভোটাররা। এবারের নির্বাচনে ভি ভি প্যাটও থাকছে। উল্লেখ্য, লোকসভার ৫৪৩টি আসনের বিপরীতে সাত দফায় ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। প্রথম দফায় ১১ এপ্রিল, দ্বিতীয় দফায় ১৮ এপ্রিল, তৃতীয় দফায় ২৩ এপ্রিল, চতুর্থ দফায় ২৯ এপ্রিল, পঞ্চম দফায় ৬ মে, ষষ্ঠ দফায় ১২ ও সপ্তম দফায় ১৯ মে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। পরে ২৩ মে ফলাফল ঘোষণা করা হবে।

আন্তর্জাতিক পাতার আরো খবর