শুক্রবার, সেপ্টেম্বর ২৫, ২০২০
বিশ্বব্যাপী অভিবাসীদের প্রতি সহিষ্ণুতা কমছে
২৪সেপ্টেম্বর,বৃহস্পতিবার,আন্তর্জাতিক ডেস্ক,নিউজ একাত্তর ডট কম: সম্প্রতি গ্রিক দ্বীপ লেসবসের মোরিয়া আশ্রয় শিবিরে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে আশ্রয়হীন হয়ে পড়ে কয়েক হাজার অভিবাসী। এ অবস্থায় ইউরোপ তাদের জন্য নতুন একটি আশ্রয় পরিকল্পনা নিয়ে কাজ করছে। আর ঠিক এমন সময়ই গতকাল গ্যালাপের প্রকাশিত এক জরিপে দেখা গেছে, বিশ্বব্যাপী অভিবাসীদের প্রতি সহিষ্ণুতা কমছে। খবর রয়টার্স। গ্যালাপের জরিপ অনুসারে, অভিবাসী গ্রহণে বিশ্বের মধ্যে সব থেকে কম আগ্রহী দেশের তালিকায় শীর্ষে রয়েছে সাত ইউরোপীয় দেশ। এর মধ্যে সবার প্রথমে রয়েছে উত্তর মেসিডোনিয়া, হাঙ্গেরি, সার্বিয়া ও ক্রোয়েশিয়ার অবস্থান। তবে অভিবাসীদের প্রতি নেতিবাচক মনোভাব সব থেকে তীব্রভাবে বেড়েছে পেরু, একুয়েডর ও কলম্বিয়ায়। এসব দেশে সম্প্রতি প্রচুর ভেনিজুয়েলার অভিবাসী এসেছে। জরিপে অভিবাসী গ্রহণের ক্ষেত্রে সব থেকে বেশি ইতিবাচক মনোভাব দেখা গেছে অস্ট্রেলিয়ার। এর পরই রয়েছে আইসল্যান্ড ও নিউজিল্যান্ডের অবস্থান। মোট ১৪৫টি দেশ ও অঞ্চলে ১ লাখ ৪০ হাজার মানুষের সাক্ষাত্কারের মাধ্যমে এ জরিপ সম্পন্ন করেছে গ্যালাপ। জরিপে সাক্ষাত্কার প্রদানকারীদের কাছে জানতে চাওয়া হয়, তাদের দেশে অভিবাসীদের আশ্রয় দেয়ার বিষয়ে তাদের মনোভঙ্গি কেমন। এছাড়া অভিবাসীরা যদি প্রতিবেশী হওয়া কিংবা তাদের পরিবারের সঙ্গে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হওয়ার বিষয়টি তারা কীভাবে দেখছেন। এক্ষেত্রে গ্যালাপের সূচকে উত্তর ম্যাসিডোনিয়ার স্কোর সর্বোচ্চ ৯-এর মধ্যে মাত্র ১ দশমিক ৪৯। অন্যদিকে কানাডার স্কোর ৮ দশমিক ৪৬। গ্যালাপের অভিবাসন বিশেষজ্ঞ জুলি রে বলেন, বৈশ্বিকভাবে অভিবাসী গ্রহণের ক্ষেত্রে ২০১৬ সালের সূচকের স্কোর ছিল ৫ দশমিক ৩৪। কিন্তু ২০১৯ সালে তা ৫ দশমিক ২১-এ নেমে গেছে। মূলত লাতিন আমেরিকার দেশগুলোয় অভিবাসীবিরোধী মনোভাব এ পতনের জন্য প্রধানত দায়ী। কারণ ২০১৬ সালেও পেরুর স্কোর ছিল ৬ দশমিক ৩৩। কিন্তু এ স্কোর আশ্চর্যজনকভাবে ৩ দশমিক ৬১-এ নেমে গেছে। অন্যদিকে অভিবাসীদের আশ্রয় দেয়া একটি ভালো কাজ এমন মনোভাবের মানুষের সংখ্যা ৬১ শতাংশ থেকে ২৯ শতাংশে দাঁড়িয়েছে। উল্লেখ্য, গ্যালাপের প্রথম অভিবাসী গ্রহণযোগ্যতা সূচক পরিচালিত হয় ২০১৫ সালে ইউরোপে অভিভাসন সংকটের পর। ওই সময় যুদ্ধবিধ্বস্ত ও দারিদ্র্যপীড়িত মধ্যপ্রাচ্যসহ বিভিন্ন থেকে লাখ লাখ অভিবাসী ইউরোপে আশ্রয়ের উদ্দেশ্যে যাত্রা করে। এরপর থেকেই ইউরোপীয় দেশগুলো অভিবাসীদের এ ঢল সামাল দিতে মরিয়া চেষ্টা চালাচ্ছে। একই সঙ্গে নৌকায় করে ভূমধ্যসাগর পাড়ি দিতে গিয়ে প্রায় প্রতিনিয়ত মারা যাচ্ছে অসংখ্য অভিবাসন প্রার্থী। এ অবস্থায় স্থানীয় সময় বুধবার ব্লকটির নির্বাহীদের একটি পরিকল্পনা প্রকাশের কথা রয়েছে। পরিকল্পনা অনুযায়ী, সব সদস্য দেশকে অভিবাসী গ্রহণের জন্য আইনগতভাবে বাধ্য করা হতে পারে। কিন্তু এক্ষেত্রে এরই মধ্যে দ্বিমত প্রকাশ করেছে পোল্যান্ড ও হাঙ্গেরিসহ আরো বেশ কয়েকটি ইউরোপীয় দেশ। মূলত লেসবস দ্বীপের মোরিয়া আশ্রয় শিবিরের অগ্নিকাণ্ডের পরই এ প্রস্তাব সামনে আনা হচ্ছে। ওই আশ্রয় শিবিরে প্রায় ১২ হাজারের বেশি অভিবাসী অবস্থান করছিলেন। অথচ শিবিরটির ধারণক্ষমতা ছিল মাত্র তিন হাজারের মতো। এদিকে গ্যালাপের জরিপে অভিবাসী গ্রহণের বিষয়ে ইতিবাচক মনোভাবের ক্ষেত্রে শীর্ষ ১০ দেশের মধ্যে মাত্র দুটি ইউরোপীয় দেশ রয়েছে। দেশ দুটি হলো সুইডেন ও আয়ারল্যান্ড। তবে আশ্চর্যের বিষয় হলো, যুক্তরাষ্ট্রের মানুষের মধ্যে অভিবাসীদের প্রতি দারুণ ইতিবাচক মনোভাব রয়েছে।
প্রেসিডেন্টকে অতিরিক্ত ক্ষমতা প্রদানে শ্রীলংকার সংসদে বিতর্কিত বিল
২৩সেপ্টেম্বর,বুধবার,আন্তর্জাতিক ডেস্ক,নিউজ একাত্তর ডট কম: প্রেসিডেন্টকে অভূতপূর্ব ক্ষমতা প্রদানে সংবিধানে একটি সংশোধনী আনার বিল এনেছে শ্রীলংকার ক্ষমতাসীন দল। মঙ্গলবার তারা শ্রীলংকার সংসদে এ সংশোধনী বিলটি এনেছে। ক্ষমতা আঁকড়ে ধরার লক্ষ্যে এ সংশোধনী আনা হয়েছে এ অভিযোগে সংসদেই বিক্ষোভ করেছে বিরোধী আইনপ্রণেতারা। খবর এএফপি। শ্রীলংকার সংসদে উত্থাপিত বিলটিতে মানবাধিকার ও সরকারি ব্যয়সংক্রান্ত ইস্যুতে আইনি ও সংসদীয় জবাবদিহিতার আওতা থেকে প্রেসিডেন্ট গোতাবায়া রাজাপাকশেকে অব্যাহতি দেয়ার প্রস্তাব দেয়া হয়। এমনকি রাষ্ট্রপ্রধানকে সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতিদের নিয়োগ দেয়ারও এখতিয়ার দেয়ার প্রস্তাব রাখা হয়। পাঁচ বছর মেয়াদি সংসদ এক বছর পূরণ করার পরই তা বাতিল করার ক্ষমতা দেয়া হচ্ছে রাজাপাকশেকে। একই সঙ্গে বিচার বিভাগ, পুলিশ, সিভিল সার্ভিস ও নির্বাচন কমিশনকে স্বাধীন ও স্বতন্ত্র রাখার বিধানেও পরিবর্তন আনা হচ্ছে। বড় ভাই মাহিন্দা রাজাপাকশের প্রেসিডেন্ট হিসেবে এক দশকের মেয়াদে প্রতিরক্ষা বাহিনীতে কর্মরত ছিলেন গোতাবায়া। গত নভেম্বরের নির্বাচনে প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে বড় ভাইকে প্রধানমন্ত্রী নিয়োগ দেন। ২০০৯ সালে তামিল বিচ্ছিন্নতাবাদীদের কঠোর হস্তে দমন ও কয়েক দশক ধরে চলা রক্তাক্ত গৃহযুদ্ধের অবসান করার জন্য শ্রীলংকার সংখ্যাগরিষ্ঠ সিংহলী জনগোষ্ঠীর কাছে দুই ভাইয়ের জনপ্রিয়তা আকাশচুম্বী। একই সঙ্গে তাদের বিরুদ্ধে কড়া সমালোচনা জানিয়েছে আন্তর্জাতিক মহল। গৃহযুদ্ধের শেষের দিকে তারা যুদ্ধাপরাধ সংগঠিত করেছেন বলে অভিযোগ তুলেছে বিভিন্ন মানবাধিকার সংগঠন। ২০০৯ সালে তামিলদের বিরুদ্ধে পরিচালিত ওই অভিযানে ৪০ হাজার বেসামরিক তামিল নিহত হয়েছে। সেখানে শত শত যুদ্ধাপরাধ সংগঠিত হয়েছে বলে দাবি বিভিন্ন সংগঠনের। মঙ্গলবার প্রেসিডেন্টকে অভূতপূর্ব ক্ষমতার প্রস্তাব নিয়ে আনা বিলটি নিয়ে কোনো মন্তব্য করেননি গোতাবায়া কিংবা মাহিন্দা রাজাপাকশে। তবে দুই সপ্তাহ আগে প্রেসিডেন্ট জানিয়েছিলেন, পূর্ববর্তী প্রশাসনের আনা সংস্কারগুলো সরিয়ে দেবেন। সংসদে দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা রয়েছে রাজাপাকশে ভাইদের দলের। এজন্য বিলটি পাস করা সহজ হবে বলেই মনে করছেন পর্যবেক্ষকরা। বিরোধীদলীয় নেতা সাজিথ প্রেমাদাসা বলেন, এমনটা হলে শ্রীলংকা একটি নির্বাচিত স্বৈরশাসনামলে প্রবেশ করবে। সংসদে তিনি আরো বলেন, এ বিলটি পাস হলে সংসদ প্রেসিডেন্টের হাতের পুতুল হয়ে পড়বে। আজকের দিনটি আমাদের দেশের গণতন্ত্রের ইতিহাসে সবচেয়ে কালো দিন। সংসদের বিরোধী এমপিরা এ সময় কালো আর্মব্যান্ড পরা ছিলেন। ২০০৫ সালের পর থেকে শ্রীলংকার রাজনীতিতে সবচেয়ে ক্ষমতাবান পরিবার হয়ে দাঁড়িয়েছে রাজাপাকশে পরিবার। জাতীয় উড়োজাহাজ সংস্থা, বিভিন্ন করপোরেশনসহ গুরুত্বপূর্ণ রাষ্ট্রনিয়ন্ত্রিত প্রতিষ্ঠানে বড় প্রভাবক হয়ে দাঁড়িয়েছে তারা। দেশটির মানবাধিকার লঙ্ঘনের ইতিহাস নিয়ে সবসময়ই সোচ্চার বিভিন্ন আন্তর্জাতিক মহল। গত সপ্তাহে জাতিসংঘের মানবাধিকারবিষয়ক প্রধান মিশেল বাখলেট বলেন, শ্রীলংকার সাংবাদিক, আইনজীবী ও মানবাধিকার কর্মীদের ওপর ভয়ভীতি প্রদর্শনের ঘটনায় আমাদের নতুন করে মনোযোগ দিতে হবে। এদিকে প্রেসিডেন্ট গোতাবায়া বলছেন, কলম্বোর বিরুদ্ধে বারবার যুদ্ধাপরাধের অভিযোগ আনা হলে জাতিসংঘ মানবাধিকার পরিষদ থেকে বেরিয়ে আসবে শ্রীলংকা।
অস্ট্রেলিয়ার তাসমানিয়া উপকূলে আটকা পড়ে ৯০ তিমির মৃত্যু
২২সেপ্টেম্বর,মঙ্গলবার,আন্তর্জাতিক ডেস্ক,নিউজ একাত্তর ডট কম: অস্ট্রেলিয়ার তাসমানিয়া উপকূলে আটকা পড়ে ২৭০টি তিমির মধ্যে অন্তত ৯০টি মারা গেছে। আরও তিমির মৃত্যুর আশঙ্কা করছেন উদ্ধারকর্মীরা। বিবিসি জানায়, সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) তাসমানিয়া দ্বীপের পশ্চিম উপকূলে বহু সংখ্যক পাইলট তিমি আটকে পড়ার ঘটনা প্রকাশ পায়। যে তিমিগুলো এখনো বেঁচে আছে, সেগুলো রক্ষার চেষ্টা করছেন সমুদ্র বিষয়ক জীববিজ্ঞানীরা। তবে সেটি করতে কয়েকদিন সময় লাগতে পারে। এদিকে, কী কারণে তিমিগুলো তীরে চলে এসেছে, তা জানা যায়নি। সৈকতে তিমি চলে আসা ওই অঞ্চলের সাধারণ ঘটনা হলেও গত এক দশকে এত সংখ্যক তিমিকে সাগর থেকে উঠে আসতে দেখা যায়নি। তাসমানিয়ায় শেষবার ২০০৯ সালে প্রায় ২০০ তিমি তীরে আটকা পড়েছিল। তাসমানিয়ান মেরিটাইম কনসারভেশন প্রোগ্রামের উদ্ধারকর্মীরা সোমবার ম্যাকোয়ারি হেডস নামে একটি এলাকায় তিনটি দলে তিমিগুলোকে দেখতে পান। দ্বীপের প্রত্যন্ত ওই অঞ্চলটিতে যাওয়ার তেমন কোনো রাস্তা এবং জলযানও নেই। প্রায় ২০০ তিমিকে বালুচরে আটকে পড়া অবস্থায় দেখা যায় এবং এর কয়েকশ মিটার দূরে আরও ৩০টি তিমি দেখা গেছে। ওশান বিচ নামে একটি জায়গায় আরও ৩০টি তিমি চোখে পড়ে। অধিকাংশ তিমি অপেক্ষাকৃত দুর্গম স্থানে রয়েছে, ফলে উদ্ধারকর্মীদের জন্য বিষয়টি চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠেছে। স্তন্যপায়ী এ প্রাণীগুলোকে যন্ত্রের মাধ্যমে ঠেলে বালুচর থেকে গভীর পানিতে নেওয়ার চেষ্টা করছেন উদ্ধারকর্মীরা। প্রায় ৪০ জন দক্ষ উদ্ধারকর্মীর একটি দল এ কাজ করছেন। প্রাণীগুলো ভাসতে সক্ষম হলে, তাদের আরও গভীর পানিতে নেওয়ার চেষ্টা করা হবে। পাইলট তিমি প্রায় ৭ মিটার (২৩ ফুট) পর্যন্ত লম্বা হতে পারে এবং এদের ওজন প্রায় ৩ টন (৩০০০ কেজি) পর্যন্ত হতে পারে।
মুম্বাইয়ের কাছে ভবন ধসে নিহত ১০
২১সেপ্টেম্বর,সোমবার,আন্তর্জাতিক ডেস্ক,নিউজ একাত্তর ডট কম: ভারতের মহারাষ্ট্র রাজ্যের বাণিজ্যিক মুম্বাই শহরের কাছাকাছি ভিয়ান্ডি এলাকার একটি ভবন ধসে অন্তত ১০ জনের মৃত্যু হয়েছে। আজ সোমবার ভোর ৪টার দিকে তিনতলা বিশিষ্ট ভবনটি ধসে পড়ে। খবর পেয়ে জাতীয় বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনীর (এনডিআরএফ) একটি দল ভোর থেকেই উদ্ধারকাজ শুরু করেছে। এতে তাদের সঙ্গে যুক্ত হয়েছে দমকল বাহিনী ও পুলিশ। ভবন ধসে নিহতের ঘটনাকে দুঃখজনক বলেছেন ভারতের রাষ্ট্রপতি রাম নাথ কভিন্দ। তিনি আহতদের দ্রুত আরোগ্য কামনা করে স্থানীয় কর্তৃপক্ষকে উদ্ধার কাজে সহায়তা ও ত্রাণ কার্যক্রম চালনার আহ্বান জানিয়েছেন। এ ঘটনায় শোক জানিয়েছেন, দেশটির প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিও। ভারতীয় সংবাদ সংস্থা এএনআই জানিয়েছে, ইতিমধ্যেই ভেঙে পড়া বাড়িটি থেকে ১০ জনকে উদ্ধার করা হয়েছে। এখনও আরো ২০-২৫ জন ভেতরে আটকে থাকার আশঙ্কা করছেন উদ্ধারকারী দলের কর্মকর্তারা। স্থানীয় করপোরেশনের মুখপাত্র গণমাধ্যমে ১০ জনের মৃত্যুর তথ্য নিশ্চিত করেছেন। এএনআইর খবরে বলা হয়েছে, বহুলতটি ওই ভবনটি প্রায় ৪০ বছরের পুরনো। সেখানে প্রায় ২০টি পরিবার থাকতো। শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত, উদ্ধার কার্যক্রম এখনো চলছে।
সরকারবিরোধী বিক্ষোভে থাইল্যান্ডে জড়ো হচ্ছে হাজারো মানুষ
২০সেপ্টেম্বর,রবিবার,আন্তর্জাতিক ডেস্ক,নিউজ একাত্তর ডট কম: সরকারবিরোধী বিক্ষোভে থাইল্যান্ডের ব্যাংককে জড়ো হচ্ছে হাজার হাজার মানুষ। শনিবার তারা বিক্ষোভে প্রধানমন্ত্রী প্রায়ুথ চান-ওচার পদত্যাগ দাবি করে। খবর রয়টার্স ও বিবিসি। ২০১৪ সালে এক অভ্যুত্থানের মাধ্যমে ক্ষমতায় এসেছেন প্রায়ুথ চান-ওচা। পরবর্তী সময়ে বিতর্কিত নির্বাচনের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত হন তিনি। এমনকি নিজেকে এবং দলকে জয়ী করার জন্য দেশটির সংবিধানে বিতর্কিত সংশোধনীও আনেন ওচা। বিক্ষোভকারীদের অনেকেই থাইল্যান্ডের শক্তিশালী রাজতন্ত্রের পুনর্গঠনও দাবি করছেন। গত জুলাইয়ের মাঝামাঝি থেকেই থাই সরকারের অপসারণের দাবিতে বিক্ষোভ শুরু হয়েছে। নতুন সংবিধান এবং নির্বাচনের দাবি জানিয়েছে মূলত ছাত্র নেতৃত্বাধীন আন্দোলনকারীরা। থাইল্যান্ডে সাধারণত রাজপরিবারের সমালোচনা করা নিষিদ্ধ। কিন্তু সাম্প্রতিক সময়ে থাইল্যান্ডের রাজা মাহা ভাজিরালংকর্নের সমালোচনা করে দীর্ঘদিনের এ প্রথা ভাঙল বিক্ষোভকারীরা। পুলিশ জানিয়েছে, থামাসাত বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাসে কমপক্ষে পাঁচ হাজার বিক্ষোভকারী জড়ো হয়েছে। গ্র্যান্ড প্যালেসের বিপরীত পাশে অবস্থিত সানাম লঞ্জে জড়ো হয় বিক্ষোভকারীরা। ওই এলাকা জনসাধারণের জন্য উন্মুক্ত এবং সেখানে রাষ্ট্রীয় বিভিন্ন অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। থাইল্যান্ডের মানবাধিকার আইনজীবী আর্নন নামপা এক টুইট বার্তায় বলেন, আজ লোকজন তাদের অধিকার আদায়ের জন্য রাজপথে নেমেছে। তিনি এ বিক্ষোভে নেতৃত্ব দিচ্ছেন। ২০০৬ সালের ১৯ সেপ্টেম্বর থাইল্যান্ডের সাবেক প্রধানমন্ত্রী থাকসিন সিনাওয়াত্রাকে অভ্যুত্থানের মাধ্যমে ক্ষমতা থেকে সরিয়ে দেয়া হয়। তিনি জনগণের কাছে বেশ জনপ্রিয় ছিলেন। বিক্ষোভে অংশ নেয়া ৬৮ বছর বয়সী তাসাওয়ান সুয়েবথাই বলেন, আমি আমাদের সন্তানদের ভবিষ্যতের জন্য লড়াই করতে এখানে এসেছি। আমি আশা করছি, আমি যখন থাকব না তখন তারা স্বাধীন হয়ে যাবে। সরকারের পতন চেয়ে বিক্ষোভ হলেও তা ছিল বেশ শান্তিপূর্ণ। গত মাসের একটি বিক্ষোভে ১০ হাজারের বেশি মানুষ জড়ো হয়েছিল। এবার তার চেয়েও আরো বেশি মানুষ বিক্ষোভে অংশ নেবে বলে আশা প্রকাশ করে বিক্ষোভের আয়োজন করে সংগঠনগুলো। পানুপং নামে বিক্ষোভের নেতৃত্ব দেয়া এক নেতা বলেন, আমরা রাজতন্ত্রকে সঠিক স্থানে বসাতে লড়াই করে যাচ্ছি, আমরা এর বিলুপ্তি চাই না। এদিকে ওয়ান নামে ২০ বছর বয়সী এক শিক্ষার্থী বলেন, রাজতন্ত্র পুনর্গঠনের এটাই সময়। আধুনিক থাইল্যান্ডের ১৯টি সংবিধানেই রাজাকে শীর্ষস্থান প্রদান করে বলা হয়, রাজাকে অবশ্যই পূজনীয় জায়গায় রাখতে হবে। কোনো ব্যক্তিই রাজার বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগ বা পদক্ষেপ নিতে পারবে না। এটাকে সমর্থন দিয়েছে সংবিধানটির ১১২ অনুচ্ছেদ যেখানে বলা হয়, রাজপরিবারের সমালোচনাকারী ব্যক্তি গোপন বিচারের সম্মুখীন হবেন এবং তাকে দীর্ঘমেয়াদি সাজা দেয়া হবে। ২০১৪ সালের সেনা অভ্যুত্থানের পর থেকে এ আইনটি হরহামেশাই ব্যবহূত হয়ে আসছে। ২০১৫ সালে এক ব্যক্তি থাই রাজার প্রিয় কুকুরের ছবি শেয়ার করে বিদ্রূপাত্মক মন্তব্য করায় তাকে ১৫ বছরের কারাদণ্ড দেয়া হয়েছিল। বিক্ষোভকারীরা এজন্য রাজতন্ত্রের সংশোধন ও প্রধানমন্ত্রী ওচার পদত্যাগের দাবিতে জোরালো অবস্থান নিচ্ছে। এ মহামারী পরিস্থিতিতে এভাবে বিক্ষোভ করায় করোনার বিস্তার বেড়ে যেতে পারে বলে বিক্ষোভকারীদের সতর্ক করেন প্রধানমন্ত্রী প্রায়ুথ।
যুক্তরাষ্ট্রের দাবানলে শেষ ২০ লাখ একর বনভূমি
১৯সেপ্টেম্বর,শনিবার,আন্তর্জাতিক ডেস্ক,নিউজ একাত্তর ডট কম: যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়া অঙ্গরাজ্যে ভয়াবহ দাবানলে পুড়ে গেছে ২০ লাখ একর এলাকা। এছাড়া এখন পর্যন্ত দাবানলে মারা গেছেন ৩৬ জনেরও বেশি মানুষ। সান ফ্রানসিসকো বে এলাকায় ক্যালিফোর্নিয়ার ইতিহাসের সবচেয়ে ভয়াবহ দুটি দাবানল জ্বলছে। খবর ভয়েস অব আমেরিকা, সিএনএন ও ওয়াশিংটন পোস্টর। আগস্টে শুরু হওয়া দাবানল নিয়ন্ত্রণে আনার জন্য দেশটির দমকল বিভাগ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। তবে আগুন এখনও নিয়ন্ত্রণে আনা যায়নি। বিভিন্ন এলাকায় এসব দাবানল নেভাতে কাজ করছেন ১৪ হাজার ফায়ার সার্ভিস কর্মী। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি ক্ষতির শিকার হয়েছে সান ফ্রানসিসকো। শুষ্ক বাতাসের কারণে সামনের দিনে দাবানল আরও ভয়াবহ হতে পারে। দাবানল থেকে দুর্ঘটনা এড়াতে ২১টি এলাকার দেড় লাখের বেশি বাড়িতে বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। এল ডোরাডোতে একটি পার্টি থেকে শুরু হওয়া এই দাবানলে ৭ হাজারের বেশি এলাকা পুড়েছে। এই দাবানলের সূত্রপাত ঘটেছিলো ক্যালিফর্নিয়া রাজ্যে তবে এখন এর ভয়াবহ গ্রাসে বিধস্ত হচ্ছে ওরেগন রাজ্য। রাজ্যের গভর্নর কেইট ব্রাউন বলেছেন, এই ঐতিহাসিক দাবানল আমাদেরকে সামর্থের বাইরে নিতে চলেছে। লাখ লাখ হেক্টর জমি ভস্মিভুত হয়েছে এবং বহু জনপদ নিশ্চিহ্ন হয়েছে।
নিউইর্য়কে নাইট পার্টিতে গুলি, হতাহত ১৪
১৯সেপ্টেম্বর,শনিবার,আন্তর্জাতিক ডেস্ক,নিউজ একাত্তর ডট কম: যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কের রসস্টারে একটি পার্টিতে অতর্কিত গুলিবর্ষণে অন্তত ১৪ জন হতাহত হয়েছেন। যাদের মধ্যে দু'জনের মৃত্যু হয়েছে। বন্দুকধারী কজন ছিল তা নিশ্চিত করতে পারেনি পুলিশ। কাউকে গ্রেপ্তার করাও সম্ভব হয়নি। শনিবার স্থানীয় সময় রাত বারটায় রসস্টারের পেনিসিনভেনিয়া অ্যাভিনিউর গুডম্যান স্ট্রিটে এই সন্ত্রাসী হামলার ঘটনা ঘটে। হামলার সময় পার্টিতে শতাধিক লোকের জমায়েত ছিল বলে জানিয়েছে বিএনইউ নিউজ। নিউইর্য়ক শহরের অভ্যন্তরীণ পুলিশ প্রধান মার্ক সিমনস বলেন, এই অনুষ্ঠান আয়োজনের ব্যাপারে আমরা আগে থেকে কিছুই জানতাম না। তবে ৯১১ এ কল পাওয়ার পর আমরা ঘটনাস্থলে দ্রুত ছুটে যাই। সিমিনস বলেন, প্রায় ১৬ জনকে গুলি করা হয়েছে। ঠিক কতজন স্যুটার ছিল তা জানা যায়নি। এরই মধ্যে দু'জন মারা গেছেন। তাদের বয়স ১৮ থেকে ২২ এর মধ্যে। তবে তাদের নাম তাৎক্ষণিক জানা যায়নি।
লন্ডনে মসজিদ পরিদর্শনে ব্রিটিশ রাজপুত্র ও পুত্রবধূ
১৬সেপ্টেম্বর,বুধবার,আন্তর্জাতিক ডেস্ক,নিউজ একাত্তর ডট কম: যুক্তরাজ্যের বৃহৎ মসজিদ ইস্ট লন্ডন মসজিদ এবং লন্ডন মুসলিম সেন্টার পরিদর্শন করেছেন ব্রিটিশ রাজ পরিবারের সদস্য দ্যা ডিউক প্রিন্স উইলিয়াম এবং তার স্ত্রী ডাচেস অব ক্যামব্রিজ কেট মিডলটন। স্থানীয় সময় মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) এ পরিদর্শনকালে তারা মসজিদে কর্মরতদের সাথে কথা বলেন। এ সময় করোনাকালীন সময়ে অসহায়দের সেবা দেওয়া মসজিদের স্বেচ্ছাসেবীদের ধন্যবাদ জানান ডিউক এবং ডাচেস। প্রিন্স উইলিয়াম এবং প্রিন্সেস কেট মিডলটনকে মসজিদে স্বাগত জানান ইস্ট লন্ডন মসজিদ এবং লন্ডন মুসলিম সেন্টারের চেয়ারম্যান হাবিবুর রহমান, নির্বাহী পরিচালক দিলওয়ার খান এবং মসজিদের সিনিয়র ঈমাম মোহাম্মেদ মাহমুদ। এছাড়াও ডিউক এবং ডাচেসের সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দেওয়া হয় মসজিদের হেড অব এসেটস এবং ফ্যাসিলিটিজ আসাদ জামান এবং মরিয়ম সেন্টারের ম্যানেজার সুফিয়া আলমকে। প্রিন্স উইলিয়াম এবং প্রিন্সসহ কেটকে মসজিদের বিভিন্ন সেবা ও প্রজেক্ট সম্পর্কে অবহিত করা হয়। একইসঙ্গে করোনায় লকডাউন চলার সময় জীবনের ঝুঁকি নিয়ে যারা অসহায়দের সেবা দিয়েছেন তাদের সঙ্গেও কথা বলেন তারা। লকডাউনের সময় অসহায়দের সেবা দিতে গিয়ে যেসব ব্যবসা প্রতিষ্ঠান নিয়মিত মসজিদের পাশে ছিল সেই সব ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের মধ্যে বো ক্যাশ এন্ড কারী এবং সাফর্ন কিচেনের প্রতিনিধিদের সঙ্গেও কথা বলেন এবং সবাইকে ধন্যবাদ জানান তারা। উল্লেখ্য, করোনা মোকাবিলায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালনকারী ন্যাশনাল ইমার্জেন্সি ট্রাস্টের অন্যতম পৃষ্টপোষক হলেন দ্যা ডিউক। মসজিদ পরিদর্শন শেষে ডিউক এবং ডাচেসকে মসজিদে উৎপাদিত মধু উপহার দেওয়া হয়।
দ্বিপক্ষীয় উত্তেজনায় চীনে মার্কিন রাষ্ট্রদূতের পদত্যাগ
১৫সেপ্টেম্বর,মঙ্গলবার,আন্তর্জাতিক ডেস্ক,নিউজ একাত্তর ডট কম: বেইজিংয়ে তিন বছরেরও বেশি সময় ধরে দায়িত্ব পালনের পর পদত্যাগ করতে যাচ্ছেন চীনের মার্কিন রাষ্ট্রদূত টেরি ব্র্যানস্ট্যাড। একটি সূত্রের বরাতে গতকাল এ তথ্য নিশ্চিত হয়েছে। খবর সিএনএন। আগামী নভেম্বরে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের আগে বেইজিং ছাড়বেন ব্র্যানস্ট্যাড। এখনো তার পদত্যাগের খবর আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত হয়নি। চীনের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম সিজিটিএন জানিয়েছে, গতকাল মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মাইক পম্পেওর এক টুইটে ব্র্যানস্ট্যাডের পদত্যাগের ইঙ্গিত পাওয়া গেছে। ব্র্যানস্ট্যাডকে ধন্যবাদ জানিয়ে এক টুইটে পম্পেও লেখেন, চীনের মার্কিন রাষ্ট্রদূত হিসেবে আমেরিকানদের কাছে তিন বছরেরও বেশি সময় ধরে সেবা পৌঁছে দেয়ায় আমি রাষ্ট্রদূত টেরি ব্র্যানস্ট্যাডকে ধন্যবাদ জানাই। কী কারণে রাষ্ট্রদূত চলে যাচ্ছেন বা গুরুত্বপূর্ণ এ দেশটিতে তার উত্তরসূরি কে হচ্ছেন এ বিষয়ে কোনো ইঙ্গিত দেননি পম্পেও। চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ও তার কাছ থেকে পদত্যাগের কোনো নোটিস পায়নি বলে জানিয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের আইওয়া প্রদেশের সাবেক গভর্নর ২০১৭ সালের মে মাস থেকে এ পদে ছিলেন। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হওয়ার পর রাষ্ট্রদূত হিসেবে ব্র্যানস্ট্যাডকে প্রথম বাছাই করেছিলেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। কিন্তু গত দুই বছরে বেশ উত্তপ্ত পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যাচ্ছে চীন-মার্কিন সম্পর্ক। সম্প্রতি হংকংয়ে নতুন নিরাপত্তা আইন, দক্ষিণ চীন সাগরে বেইজিংয়ের আধিপত্য, নভেল করোনাভাইরাস মহামারী নিয়ে ওয়াশিংটন ও বেইজিংয়ের মধ্যে উত্তেজনা বেড়েছে। কদিন আগে নিরাপত্তা শঙ্কায় চীনের হাজারের বেশি ভিসা বাতিল করে যুক্তরাষ্ট্র। এরপর গত শুক্রবার চীন জানায়, মার্কিন কূটনীতিকদের ওপর তারাও নিষেধাজ্ঞা জারি করতে যাচ্ছে।

আন্তর্জাতিক পাতার আরো খবর