বিধানসভা নির্বাচনে বড় ব্যবধানে বিজেপিকে হটিয়ে ক্ষমতায় কংগ্রেস
আন্তর্জাতিক ডেস্ক: ভারতে বিধানসভা নির্বাচনে বড় ব্যবধানে জয় পেয়েছে কংগ্রেস। গতকাল রাতে টুইটারে হার মেনে কংগ্রেসকে ইতোমধ্যে অভিনন্দন জানিয়েছেন নরেন্দ্র মোদী। কংগ্রেস সভাপতি পদে নাম ঘোষণার ঠিক এক বছর পূর্ণ হওয়ার দিনেই জয় পেলে রাহুল। ভারতে লোকসভা ভোটের বাকি এখনও কয়েক মাস। লোকসভার আগে এই পাঁচ রাজ্যের বিধানসভা ভোটকে ধরা হয় সেমিফাইনাল। কিন্তু তার আগেই থেমে গেল নরেন্দ্র মোদীর বিজয়রথ। গোটা দেশের হিন্দি-বলয়ের রাজস্থান এবং ছত্তীসগঢ়ে বিজেপিকে হারিয়ে ক্ষমতায় ফিরল কংগ্রেস। মোদী-জমানায় প্রথম বার হিন্দি-বলয়ের তিনটি গুরুত্বপূর্ণ রাজ্যে বিজেপিকে হারালেন রাহুল। ঘোষিত ফলে পাঁচ রাজ্যের বিধানসভা ভোটে কোনটাতেই কংগ্রেসের চেয়ে বেশি আসন পায়নি বিজেপি। মধ্যপ্রদেশ, রাজস্থান, ছত্রিশগঢ়, তেলঙ্গানা, মিজোরাম সব কটি রাজ্যে বিজেপির চেয়ে অনেক বেশি আসন পেয়েছে কংগ্রেস। মধ্যপ্রদেশের ২৩০ আসনের মধ্যে কংগ্রেস পেয়েছে ১১৪টি আসন। সেখানে বিজেপি পেয়েছে ১০৯টি। রাজস্থানেও বিজেপির চেয়ে বেশ এগিয়ে কংগ্রেস। এখানকার ২০০ আসনের ১০১টি আসন পেয়েছে কংগ্রেস। সেখানে বিজেপি পেয়েছে মাত্র ৭৩টি আসন। ছত্রিশগড়ে মাত্র কয়েকটি আসনে জয় পেয়েছে বিজেপি। এখানকার ৯০ আসনের মধ্যে কংগ্রেস পেয়েছে ৬৮টি আসন। আর তেলাঙ্গানাতে সবচেয়ে বেশি আসন পেয়েছে টিআরেএস। এখানে বিজেপি পেয়েছে মাত্র একটি আসন। সেখানে কংগ্রেস ও টিডিপি জোট পেয়েছে ২১ আসন। মিজোরামেও বিজেপির চেয়ে এগিয়ে কংগ্রেস। এ রাজ্যে মোট আসন সংখ্যা ৪০টি। এখানে অবশ্য সবচেয়ে বেশি পেয়েছে এমএনএফ ২৬ আসন। কংগ্রেস পেয়েছে ৫টি। আর বিজেপির্ পেয়েছে মাত্র একটি আসন। যদিও মাত্র দুইটি আসনের জন্য রাজস্থানে কংগ্রেস একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা পায়নি। আর হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ে মধ্যপ্রদেশে রাত পর্যন্ত ম্যাজিক সংখ্যার নীচেই থেকে গিয়েছে দুইদল। সেখানেও সরকার গড়া নিয়ে নিশ্চিত কংগ্রেস। কারণ, অখিলেশ, মায়াবতীর দল সেখানে আসন পেয়েছে, যা সরকার গড়ার অন্যতম চাবি হয়ে উঠেছে। মোদীর প্রধান সেনাপতি অমিত শাহ গতকালই বলেছিলেন, সব রাজ্যেই জিতবে বিজেপি। সকালে সংসদে গেলেও ভোটের ফল স্পষ্ট হওয়ার পরে তাঁকে আর দেখা যায়নি। পাঁচ বছর আগে এ রকমই এক ডিসেম্বর মাসে রাজস্থান, মধ্যপ্রদেশ আর ছত্তীসগঢ়ে বিধানসভা নির্বাচনে মোদী-ঝড়ে বিপুল ভোট বিজেপি ক্ষমতাসীন হয়েছিল। নির্বাচনের ফলে স্বাভাবিক ভাবেই উজ্জীবিত কংগ্রেস। দলের নেতাদের মতে, ২০১৮-র এই ভোটই ২০১৯-এর ভোটের ক্ষেত্র প্রস্তুত করে দিল। ঠিক যেমন হয়েছিল ২০১৩ সালে।
ফ্রান্সে পুলিশের সঙ্গে বিক্ষোভকারীদের ব্যাপক সংঘর্ষ,আহত ১২৬
আন্তর্জাতিক ডেস্ক: কড়া নিরাপত্তার মাঝেও ফ্রান্সে চলমান সরকারবিরোধী আন্দোলনে পুলিশের সঙ্গে বিক্ষোভকারীদের ব্যাপক সংঘর্ষ হয়েছে। শনিবার রাজধানী প্যারিসের বিভিন্ন রাস্তায় জড়ো হয়ে পুলিশি বেস্টনিতে প্রতিবাদ করেন ইয়েলো ভেস্ট পরিধান করা হাজারো বিক্ষোভকারী। আন্দোলনের একপর্যায়ে তাঁরা পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়েন। এ সময় আন্দোলনকারীদের অনেকেই গাড়িতে আগুন ধরিয়ে দেয়। পরে প্রতিবাদকারীদের ছত্রভঙ্গ করতে কাঁদানে গ্যাস, পেপার স্প্রে ও রাবার বুলেট ছুড়ে পুলিশ। সংঘর্ষে অন্তত ১২৬ জন আহত হয়। পরিস্থিতি সামাল দিতে সারা দেশে আটক করা হয় এক হাজার বিক্ষোভকারীকে। চার সপ্তাহ ধরে চলে আসা এই সহিংস বিক্ষোভের কারণে আইফেল টাওয়ার এবং পর্যটক-প্রিয় অন্যান্য জায়গায় প্রবেশ বন্ধ রাখা হয়েছে। নিরাপত্তা বাহিনীর হাজার হাজার লোক মোতায়েন রয়েছে। এদিকে, ফ্রান্সের পর ইয়েলো ভেস্ট আন্দোলন ছড়িয়ে পড়েছে নেদারল্যান্ড এবং বেলজিয়ামেও।
তালেবান হামলায় আফগানিস্তানে ১৪ সেনা নিহত
আন্তর্জাতিক ডেস্ক: আফগানিস্তানের পশ্চিমাঞ্চলীয় হেরাত প্রদেশে দুটি সেনা ফাঁড়িতে তালেবান হামলায় অন্তত ১৪ সেনা নিহত হয়েছেন। শুক্রবার এক প্রাদেশিক কর্মকর্তা জানান, হামলার পর ২১ সেনাকে বন্দি করে নিয়ে গেছে তালেবানরা। হেরাত প্রাদেশিক কাউন্সিলের সদস্য নাজিবুল্লাহ মোহেবি জানান, বৃহস্পতিবার শেষ রাতের দিকে শিনধান্দ জেলায় হামলা শুরু হয়। ছয় ঘণ্টা সংঘর্ষ চলায় আরও সেনা সদস্য সেখানে হাজির হয়। কিন্তু তার আগেই তালেবানরা ২১ সেনাকে বন্দী করে নিয়ে যায়। তবে আফগান প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র গফুর আহমেদ জাওয়িদ নিহত ও আহত সেনার সংখ্যা ১০ বলে দাবি করেছেন। হতাহতের সংখ্যা নিশ্চিত হওয়া যায়নি। শিনধান্দ জেলার প্রধান হেকমতুল্লাহ হেকমাত জানান, হামলায় অন্তত ২০০ তালেবান যোদ্ধা অংশ নেয়। তারা রকেটচালিত গ্রেনেড ও স্বয়ংক্রিয় আগ্নেয়াস্ত্র নিয়ে হামলা চালায়। সংঘর্ষে অন্তত ৩০ তালেবান যোদ্ধা নিহত হয়েছে। শুক্রবার সংঘর্ষ ১২ কিলোমিটার এলাকায় ছড়িয়ে পড়ে। এদিকে তালেবানের মুখপাত্র জাবিউল্লাহ মুজাহিদ টুইটারে একটি ভিডিও পোস্ট করেছেন যেখানে দেখা যাচ্ছে একটি কক্ষে সৈন্যদের বন্দী করে রাখা হয়েছে। সূত্র: আল জাজিরা
দৈনিক তেল উত্তোলন কমানোর সিদ্ধান্ত: ওপেক
আন্তর্জাতিক ডেস্ক: দৈনিক তেল উত্তোলন কমানোর সিদ্ধান্ত নিতে যাচ্ছে বিশ্বের বৃহৎ তেল উৎপাদনকারী দেশগুলোর জোট ওপেক। বুধবার (৫ ডিসেম্বর) এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন ওমানের তেল ও গ্যাস মন্ত্রী মোহাম্মদ বিন হামাদ। তবে তেল উৎপাদন কতটুকু কমানো হবে সে বিষয়ে সুনির্দিষ্ট তো তথ্য জানাননি তিনি। অস্ট্রিয়ার রাজধানী ভিয়েনায় বৃহস্পতিবার ওপেকের শীর্ষ সম্মেলনে এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। বুধবার (৫ ডিসেম্বর) দিনভর সদস্য রাষ্ট্রগুলো নিজেদের মধ্যে একাধিক বৈঠক করে এ তথ্য জানায়। তবে ওইসব বৈঠকের ফলাফলের বিষয়ে কোন মন্তব্য করতে রাজি হননি অংশগ্রহণকারী দেশগুলোর প্রতিনিধিরা। যদিও ধারণা করা হচ্ছে ওপেক থেকে কাতারের বেরিয়ে যাওয়া নিয়ে কথা হয়েছে। আজ বৈঠকের পরই এসব বিষয়ে সিদ্ধান্ত আসবে।
১৯৪৫ সাল থেকে এখন পর্যন্ত ৩ কোটি মানুষ হত্যা করেছে যুক্তরাষ্ট্র
আন্তর্জাতিক ডেস্ক: টার্গেট করে একটার পর একটা দেশে যুদ্ধ চাপিয়ে দেয়া। পছন্দের সরকার বসাতে গোয়েন্দা বাহিনী দিয়ে দেশে দেশে সামরিক অভ্যুত্থান ঘটানো। বিশেষ বাহিনীর মাধ্যমে গোপন অভিযান। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর থেকে সারাবিশ্বে এভাবেই আধিপত্য কায়েম রেখেছে যুক্তরাষ্ট্র। আধিপত্য লড়াইয়ের এ মিশনে ১৯৪৫ সাল থেকে এখন পর্যন্ত অর্থনৈতিক ও সামরিক পরাশক্তি দেশটির হাতে নিহত হয়েছে ২ থেকে ৩ কোটি বেশি নিরীহ বেসামরিক মানুষ। এটা প্রথম বিশ্বযুদ্ধে নিহত মানুষের প্রায় দ্বিগুণ। ১০০ বছর আগের ভয়াবহ ওই যুদ্ধে নিহত হয় প্রায় দেড় কোটি মানুষ। সম্প্রতি গ্লোবাল রিসার্চ : সেন্টার ফর রিসার্চ অন গ্লোবালাইজেশন প্রকাশিত এক গবেষণা রিপোর্টে গত ৭৩ বছরে বিশ্বব্যাপী যুক্তরাষ্ট্রের মানবাধিকার লঙ্ঘন ও হত্যাযজ্ঞের এ চিত্র উঠে এসেছে। কয়েক বছর ধরে গবেষণা করে রিপোর্টটি প্রস্তুত করেছেন মার্কিন ইতিহাসবিদ জেমস এ লুকাস। রিপোর্ট বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের চাপিয়ে দেয়া অবৈধ যুদ্ধ, সামরিক অভ্যুত্থান ও গোপন সামরিক অভিযান শিকার হয়েছে বিশ্বের অন্তত ৩৭টি দেশ বা জাতি। এর মধ্যে ২০০১ সাল থেকে এখন পর্যন্ত অব্যাহত রয়েছে আফগানিস্তানে সন্ত্রাসবিরোধী যুদ্ধ। মার্কিন সেনাবাহিনী এখনও যুদ্ধ করছে সিরিয়া, ইয়েমেন, লিবিয়ায়। আর এসব যুদ্ধ ও সংঘাতে বিশাল সংখ্যক মানুষের প্রাণহানি ঘটেছে। মৃত্যুর পাশাপাশি ঘটেছে অগণিত আহত হওয়ার ঘটনা। বিমান হামলা আর অত্যাধুনিক সব অস্ত্রের আঘাতে সারাজীবনের জন্য পঙ্গু হয়েছে এসব মানুষ। কোনো কোনো বিশেষজ্ঞের মতে, যুদ্ধে প্রত্যেক নিহত ব্যক্তির বিপরীতে অন্তত ১০ জন আহত হয়েছে। এর মানে মার্কিন বাহিনীর হাতে আহত হয়েছে আরও অন্তত ২০ থেকে ৩০ কোটি মানুষ। জেমস লুকাসের গবেষণার বরাত দিয়ে অ্যাটাক দ্য সিস্টেম ডটকমর প্রধান সম্পাদক ও রাজনৈতিক বিশ্লেষক কেইথ প্রেস্টন সম্প্রতি প্রেটিভিকে এক সাক্ষাৎকারে বলেছেন, মার্কিন সরকার ওইসব অঞ্চলে দারিদ্র্য, অপরাধ, বর্ণবাদ ও সহিংসতা সৃষ্টির মাধ্যমে মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনা ঘটিয়েছে। তিনি বলেন, মানবাধিকার রক্ষার ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্র কখনই শীর্ষ পর্যায়ে ছিল না, বরং দেশ ও বিদেশে ব্যাপক হারে অপরাধ ও কুকর্ম করেছে। তিনি আরও বলেন,যুক্তরাষ্ট্র একটা আধুনিক সাম্রাজ্যবাদী, যা আগে ছিল ব্রিটেন। এদিকে সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট জিমি কার্টার মঙ্গলবার বলেছেন, মানবাধিকারের ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্র যে বিশ্বে শীর্ষস্থানে ছিল ট্রাম্প সরকারের আমলে এসে তা হারিয়ে গেছে। আমেরিকার ৩৯তম প্রেসিডেন্ট ৯৩ বছর বয়সী কার্টার বলেন, মানবাধিকারের ক্ষেত্রে আমাদের চ্যাম্পিয়ন হওয়া উচিত ছিল। কারণ আমরা শুধু সামরিক শক্তির কারণে সুপার পাওয়ার নই, বরং সেখানে মানবাধিকার রক্ষার অঙ্গীকারও রয়েছে।
ওয়াশিংটনে প্রয়াত প্রেসিডেন্ট বুশের প্রতি শ্রদ্ধা জানালেন ট্রাম্প
আন্তর্জাতিক ডেস্ক: যুক্তরাষ্ট্রের রাজধানী ওয়াশিংটনে সোমবার রাতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও ফার্স্টলেডি মেলানিয়া ট্রাম্প প্রয়াত প্রেসিডেন্ট জর্জ এইচ. ডব্লিউ. বুশের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়েছেন। খবর এএফপির। ট্রাম্প বুশের লাশের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে ওয়াশিংটনের সমাধিস্থলে সংক্ষিপ্ত সফরে যান। যুক্তরাষ্ট্রের ৪১তম প্রেসিডেন্টকে বিভিন্ন শ্রেণী পেশার মানুষের সম্মান জানানোর জন্য তার লাশবাহী কফিনকে রাষ্ট্্রীয় মর্যাদায় জাতীয় পতাকায় মুড়ে রাখা হয়েছে। বুধবার ওয়াশিংটন ন্যাশনাল ক্যাথেড্রালে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় শেষকৃত্য অনুষ্ঠান হবে। ২০০৬ সালের পর এই প্রথম কোন মার্কিন প্রেসিডেন্টের শেষকৃত্য অনুষ্ঠিত হচ্ছে। ওই বছর জেরাল্ড ফোর্ড মারা যান। ট্রাম্প বুধবার জাতীয় শোক দিবস ঘোষণা করেছন। তিনি শেষকৃত্যে যোগ দেয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। ট্রাম্পের সঙ্গে বুশ পরিবারের প্রায়ই মতবিরোধী দেখা দিত। সোমবার ট্রাম্প টুইটারে বলেন, আমি প্রেসিডেন্ট জর্জ এইচ ডব্লিউ বুশের প্রতি সম্মান জানাতে বুশের পরিবারের পাশে থাকতে চাই। বাসস
ইসরায়েলের হয়ে গুপ্তচরবৃত্তির অভিযোগে ৬ ফিলিস্তিনির মৃত্যুদণ্ড
আন্তর্জাতিক ডেস্ক: ইসরায়েলের হয়ে গুপ্তচরবৃত্তির অভিযোগে ৬ ফিলিস্তিকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন গাজার একটি সামরিক আদালত।এ ঘটনায় আরও ৮ জনকে সশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছে আদালত। এর আগে ইসরায়েলি বিশেষ বাহিনীর একটি দল একটি বেসামরিক গাড়িতে করে গাজা উপত্যকায় অনুপ্রবেশ করে চলন্ত গাড়ি থেকে গুলি চালায়। এতে হামাসের সামরিক শাখা ইজ্জাদ্দিন আল-কাসসাম ব্রিগেডের ঊর্ধ্বতন কমান্ডার শেখ নূর বারাকাসহ আরও ৬ জন ফিলিস্তিনি নিহত হন। এ ঘটনার ঠিক তিন সপ্তাহ পরে ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষ এ রায় দিল। গাজার স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র আইয়াদ আল-বাজমের উদ্ধৃতি দিয়ে আলজাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সশ্রম কারাদণ্ডপ্রাপ্ত আটজনের মধ্যে একজন নারীসহ চারজনের ৬ থেকে ১০ বছরের কারাদণ্ড দেয়া হয়েছে। বাকি চারজনের প্রত্যেককে ১৫ বছরের কারাদণ্ড দেয়া হয়েছে। আল-বাজম বলেছেন, যারাই ইসরায়েলের হয়ে গুপ্তচরবৃত্তির চেষ্টা করতে চাইবে, এ রায় তাদের জন্য সুস্পষ্ট একটি বার্তা হিসেবে কাজ করবে। ১১ নভেম্বর ইসরায়েলি বিশেষ বাহিনীর একটি দল একটি বেসামরিক গাড়িতে করে গাজা উপত্যকায় অনুপ্রবেশ করে চলন্ত গাড়ি থেকে গুলি চালায়। এতে হামাসের সামরিক শাখা ইজ্জাদ্দিন আল-কাসসাম ব্রিগেডের ঊর্ধ্বতন কমান্ডার শেখ নূর বারাকা নিহত হন। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে গাজা নিয়ন্ত্রণকারী সশস্ত্র গ্রুপ হামাস ২০১৪ সালের যুদ্ধের পর ইসরায়েলের সঙ্গে সবচেয়ে ভয়াবহ সহিংসতায় জড়িয়ে পড়ে। বিমান হামলার পাশাপাশি ইসরায়েলি বাহিনী কামান দিয়েও হামলা চালায়। বিমান হামলায় গুড়িয়ে দেয় হামাসের টিভি স্টেশন। এর পাল্টা হিসেবে হামাসও ইসরায়েলে কয়েকশো মিসাইল নিক্ষেপ করে। দু পক্ষের সংঘর্ষে এক ইসরায়েলি বেসামরিক নাগরিকসহ সাত ফিলিস্তিনি নিহত হন। ১৩ নভেম্বর উভয়পক্ষ যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হয়।
মার্কিন বাহিনীর ড্রোন হামলায় হেলমান্দের তালেবান কমান্ডার নিহত
আন্তর্জাতিক ডেস্ক: আফগানিস্তানে মার্কিন বাহিনীর ড্রোন হামলায় তালেবানের জ্যেষ্ঠ কমান্ডারদের অন্যতম মোল্লা আব্দুল মান্নান আখুন্দ নিহত হয়েছেন বলে খবর দিয়েছে বিবিসি। দক্ষিণাঞ্চলীয় হেলমান্দ প্রদেশে তালেবানের প্রাদেশিক গভর্নর এবং সামরিক প্রধানের দায়িত্বে ছিলেন তিনি। শনিবার রাতে হেলমান্দের নওজাদ জেলায় আব্দুল মান্নান আখুন্দকে হত্যা করা হয় বলে আফগান সরকারের প্রাদেশিক কর্মকর্তারা জানিয়েছেন। তালেবান একে বড় ধরনের ক্ষতি হিসাবে উল্লেখ করে বলেছে, এতে আফগানিস্তানের নিয়ন্ত্রণ কব্জায় নিতে তাদের চেষ্টা থামাতে পারবে না। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র নাজিব দানিশ এএফপিকে বলেছেন, এমন বড় নেতার মৃত্যু তালেবানের জন্য শক্ত আঘাত এবং এতে দক্ষিণ আফগানিস্তানের তালেবান যোদ্ধাদের মনোবল কমবে। ২০১৪ সালে সেনা প্রত্যাহারের আগ পর্যন্ত টানা আট বছর ব্রিটিশ সেনারা হেলমান্দে নিয়োজিত ছিল। বর্তমানে প্রদেশটির অধিকাংশ তালেবানের নিয়ন্ত্রণে চলে গেছে। বিবিসির এক গবেষণা প্রতিবেদনে দেখা গেছে, দেশটির অর্ধেকের মতো প্রায় দেড় কোটি মানুষের বসবাসরত এলাকা হয় তালেবান নিয়ন্ত্রণ করছে অথবা সেখানে তারা প্রকাশ্যে রয়েছে। তবে সম্প্রতি তাদেরকে যুদ্ধ থেকে শান্তির পথে ফেরাতে আলোচনা প্রক্রিয়া জোরদার হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র এবং রাশিয়া উভয় দেশে কিছুদিন আগে শান্তি আলোচনায় অংশ নিতে প্রতিনিধিদলও পাঠায় তালেবান। তবে তারা আফগান সরকারের সঙ্গে আলোচনায় বসতে রাজি নয়।
খাসোগি হত্যায় ১১ বার্তা পাঠান সৌদি যুবরাজ
আন্তর্জাতিক ডেস্ক: সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান বর্তমানে জি-২০ সম্মেলনে অংশ নিতে আর্জেন্টিনায় আছেন। তুরস্কে সৌদি কনস্যুলেটে সাংবাদিক জামাল খাসোগিকে হত্যার ঘটনা নিয়ে বিশ্ব জনমত যুবরাজ সালমানের বিরুদ্ধে। দেশের ভেতরেও যুবরাজের বিরুদ্ধে প্রবল জনমত গঠিত হয়েছে। সেই সময়ে জানা গেল, খাসোগি হত্যায় সালমান নিজের ঘনিষ্ঠ উপদেষ্টাকে ১১টি বার্তা পাঠিয়েছিলেন। গত ২ অক্টোবর হত্যার কয়েক ঘণ্টা আগে ও পরে উপদেষ্টা সৌদ আল-কাহতানিকে বার্তাগুলো পাঠান। সালমানের ওই উপদেষ্টা হত্যা মিশনের কার্যক্রম পর্যবেক্ষণকারীর দায়িত্বে ছিলেন। মার্কিন গণমাধ্যম ওয়াল স্ট্রিট জার্নালে শনিবার প্রকাশিত এক প্রতিবেদন উদ্ধৃত করে এসব তথ্য জানিয়েছে চীনের সাউথ চায়না মর্নিং পোষ্ট ও আল জাজিরা। মার্কিন কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থা সিআইএর ক্লাসিফায়েড মূল্যায়নের বরাত দিয়ে ওই প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সংস্থাটি গোয়েন্দা কর্মকর্তাদের নানান মূল্যায়ন পর্যবেক্ষণ করেছে। তথ্যগুলোকে তারা অতিমাত্রার গোপনীয় বলে বর্ণনা করছে। ওইসব গোপনীয় উদ্ধৃতি বিশ্লেষণ দেখা গেছে, যুবরাজ সালমান ও তাঁর উপদেষ্টা সৌদ আল-কাহতানির মধ্যে বার্তা আদান-প্রদান হয়। মোট ১১টি বার্তা আদান প্রদান হয়। তবে বার্তাগুলোতে কি লেখা ছিল তা প্রকাশ না করে সিআইএ বলছে, যুবরাজ সালমান সরাসরি জামাল খাসোগিকে হত্যার নির্দেশ দিয়েছিলেন কি না সে তথ্য তাদের কাছে নেই। অতি গোপনীয় গোয়েন্দা নথির বরাত দিয়ে প্রতিবেদনটি প্রকাশ করা হয়েছে বলে যুক্তরাষ্ট্রের গণমাধ্যমটি জানিয়েছে। তবে বার্তাগুলোর বিষয়বস্তু সম্পর্কে প্রতিবেদনে কিছু বলা হয়নি। মোহাম্মদ বিন সালমান সরাসরি খাসোগিকে হত্যার নির্দেশ দিয়েছিলেন এমন কথাও বলা হয়নি। ওই প্রতিবেদনে বলা হয়, তুরস্কের ইস্তাম্বুলে সৌদি কনস্যুলেটে খাসোগিকে হত্যা মিশনে ১৫ সদস্যের দলটির প্রধানের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ ছিল আল কাহতানির। তবে সৌদি যুবরাজের অনুমতি ছাড়া এই হত্যাকাণ্ড পরিচালনা করা কোনোভাবেই সম্ভব ছিল না। ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের প্রতিবেদন অনুযায়ী, মূল্যায়ন করা ওই বার্তাগুলোয় লেখা আছে, এটা খুব স্পষ্ট, যুবরাজ সালমান সরাসরি এ হত্যার নির্দেশ দিয়েছিলেন কি না এ রকম কোনো তথ্য আমাদের হাতে এখনও আসেনি। মূল্যায়ন প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, খাসোগি হত্যায় জড়িত ১৫ সদস্যের ওই নেতৃত্বদানকারী যুবরাজের উপদেষ্টা কাহতানির সঙ্গে ইস্তাম্বুলে অবস্থানকারী হত্যা মিশনের প্রধানের সরাসরি যোগাযোগ ছিল। তারা বলছে, আমরা সব কিছু মূল্যায়ন করে এটা ভালোভাবে বুঝতে পারছি যুবরাজ সালমানের অনুমোদন ছাড়া এ হত্যার এ রকম একটি অভিযান চালানোর সাহস রাখেন না তারা। সিআইএর মূল্যায়নে বলা হয়েছে, ২০১৭ সালের আগস্টে যুবরাজ সালমান তার সহযোগীদের নির্দেশনা দিয়েছিলেন, খাসোগিকে যদি সৌদি আরবে ফিরিয়ে আনা না যায়, তাহলে অন্য কোনো দেশে প্রলোভন দেখিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করতে হবে। খাসোগি হত্যাকাণ্ডটি ওই পরিকল্পনার বাস্তবায়ন বলে মনে করে সিআইএ। খাসোগি হত্যার পর ঘটনার তদন্ত শেষে সিআইএ বলেছিল, এ হত্যার পেছনে রয়েছে সৌদি রাজতন্ত্রের ওপর মহলের শীর্ষ কর্তাব্যক্তিরা। তাদের ধারণা রাজতন্ত্রের ওই বড়কর্তা হলেন যুবরাজ সালমান। এদিকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সিআইএর এই তদন্তের ওপর সন্দেহ প্রকাশ করেন। ঘটনার ১৭ দিন পর হাতাহাতির একপর্যায়ে খাসোগির মৃত্যু হয়েছে বলে বিবৃতি দিয়েছে সৌদি কর্তৃপক্ষ। এর আগপর্যন্ত ঘটনার ব্যাপারে টানা অস্বীকৃতি জানিয়ে আসছিল দেশটি। এটা নিয়ে বিশ্বে নানান সমালোচনার মুখে পড়েন সৌদি রাজপরিবার। ক্ষোভ বাড়তে থাকে বিশ্বে। ২ অক্টোবর তুরস্কের ইস্তাম্বুলে সৌদি কনস্যুলেট ভবনে ব্যক্তিগত কাগজপত্র আনার প্রয়োজনে ঢোকার পর থেকে নিখোঁজ ছিলেন সৌদির খ্যাতনামা সাংবাদিক খাসোগি। শুরু থেকে তুরস্ক দাবি করে আসছে, খাসোগিকে কনস্যুলেট ভবনের ভেতর সৌদি চরেরা হত্যা করেছে। গত বছর সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান ক্ষমতা গ্রহণের পর রোষানলে পড়েন খাসোগি। তিনি দেশ ছেড়ে স্বেচ্ছা নির্বাসনে চলে যান যুক্তরাষ্ট্রে। ওয়াশিংটন পোস্ট-এ যুবরাজ মোহাম্মদের কর্মকাণ্ডের সমালোচনা করে একের পর এক কলাম লেখেন। অভিযোগ উঠেছে, যুবরাজের নির্দেশে রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতায় এ হত্যা সংঘটিত হয়েছে। খাসোগির পোশাক পরে অন্য কর্মকর্তা বের হন জামাল খাসোগি হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় নতুন তথ্য দিয়েছিলেন সৌদি আরবের এক শীর্ষ কর্মকর্তা। ১৫ জন সৌদি কর্মকর্তার ইস্তাম্বুল যাওয়া, খাসোগিকে কনস্যুলেটের ভেতরে ভয়ভীতি দেখানো এবং প্রতিরোধের মুখে টুকরো টুকরো করার বিষয়ে নাম প্রকাশ না করার শর্তে রয়টার্সকে তথ্য দিয়েছেন ওই কর্মকর্তা। সৌদি ওই কর্মকর্তা বলেন, কনস্যুলেটের ভেতরে জামাল খাসোগিকে হত্যা করা হয় এবং হত্যার পর খাসোগির পোশাক পরে এক কর্মকর্তা কনস্যুলেট থেকে বের হয়ে যান। জামাল খাসোগি কনস্যুলেট থেকে বেরিয়ে গেছেন এটা প্রমাণ করতেই এমন কৌশলের আশ্রয় নেওয়া হয়। সৌদি কর্মকর্তা বলেন, সৌদি আরবের গোয়েন্দা সংস্থার উপপ্রধান মেজর জেনারেল আহমেদ আল-আসিরি ১৫ জনের দল গঠন করেন। জামাল খাসোগির সঙ্গে সাক্ষাৎ করে তাঁকে বুঝিয়ে দেশে ফিরিয়ে আনতে চেয়েছিল সরকার। এ জন্য ১৫ সদস্যের এ দলকে ইস্তাম্বুলে পাঠানো হয়। তাঁকে ফিরিয়ে আনতে শান্তিপূর্ণ উপায় অবলম্বনের স্থায়ী আদেশ জারি ছিল ১৫ সদস্যের দলের প্রত্যেক সদস্যর প্রতি। তবে অনুমতি ছাড়া যেকোনো সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতাও ছিল ১৫ জনের। দলটির পরিকল্পনা ছিল, ইস্তাম্বুলের বাইরে নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত খাসোগিকে আটকে রাখার হবে। শেষ পর্যন্ত যদি রিয়াদে ফিরতে না চান তবে তাঁকে ছেড়ে দেওয়া হবে। সৌদি কর্মকর্তারা বলেন, ১৫ জনের দলে অনেক নির্দেশনা ছিল। কিন্তু শুরুতেই সবকিছু ভুল পথে পরিচালিত হতে থাকে। একপর্যায়ে কর্মকর্তারা আদেশ লঙ্ঘন করে দ্রুত সহিংস হয়ে ওঠেন। তারা খাসোগিকে কনসাল জেনারেলের কার্যালয়ে নেয়। যেখানে মাহের মুতরেব নামের এক কর্মকর্তার সঙ্গে তিনি তর্কে জড়িয়ে পড়েন। খাসোগি মুতরেবকে বলেন, যদি তিনি এক ঘণ্টার মধ্যে কনস্যুলেট ভবন থেকে বের না হন, তাহলে তুরস্ক কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করবেন বাইরে থাকা তার বান্ধবী। মুতরেব কূটনৈতিক নীতি-নৈতিকতা লঙ্ঘন করছেন উল্লেখ করে খাসোগি বলেন, আপনি আমার সঙ্গে কী করতে যাচ্ছেন। আপনি কী আমাকে অপহরণ করতে চান? মাহের মুতরেব বলেন, হ্যাঁ। আমরা তোমাকে ওষুধ দেব এবং এখান থেকে তুলে নিয়ে যাব। এরপর খাসোগি চিৎকার শুরু করলে তাকে শান্ত করতে মুখে কাপড় ঢুকিয়ে দেওয়া হয়। চিৎকার থামানোর চেষ্টা ব্যর্থ হয়ে শ্বাসরোধে মারা যান খাসোগি।

আন্তর্জাতিক পাতার আরো খবর