বুধবার, ডিসেম্বর ১৩, ২০১৭
জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের জরুরি বৈঠকে তীব্র সমালোচনা
ইসরায়েলের রাজধানী হিসাবে জেরুসালেমকে ঘোষণা দেওয়ার পর জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের জরুরি বৈঠকে তীব্র সমালোচনার মুখে পড়েছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। এমনকি ব্রিটেন, ফ্রান্স, জার্মানি আর ইউরোপীয় ইউনিয়নও এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের এই স্বীকৃতি অসহযোগিতামূলক। তবে নিরাপত্তা পরিষদের প্রতি পাল্টা অভিযোগ তুলে যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত নিকি হ্যালে বলেছেন, জাতিসংঘ মধ্যপ্রাচ্যে শান্তি রক্ষা করার বদলে শান্তি নষ্টের চেষ্টা চালাচ্ছে। নিকি হ্যালে বলেন, বহুবছর ধরেই জাতিসংঘ ইসরায়েলের প্রতি অসংযতভাবে বৈষম্যমূলক আচরণ করে আসছে। মধ্যপ্রাচ্যে শান্তি প্রতিষ্ঠার পরিবর্তে যা কিনা ক্ষতি এনেছে। সুতরাং যুক্তরাষ্ট্র এর পক্ষে থাকতে পারে না। পুরো বৈঠকে যুক্তরাষ্ট্র অনেকটা কোণঠাসা হয়ে পড়ে। নিরাপত্তা পরিষদের বৈঠকে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ঘোষণার তীব্র বিরোধিতা ও নিন্দা জানানোর দিনে যুক্তরাষ্ট্র এমন অবস্থান নিলো। ব্রিটেনের রাষ্ট্রদূত তার বক্তব্যে আবারো বিষয়টির মীমাংসায় দুই দেশের আলোচনার প্রতি জোর দেন। আর ফ্রান্সের প্রতিনিধি বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের এমন অবস্থান পুরো মধ্যপ্রাচ্যের জন্যেই আরো ভয়ানক পরিণতি ডেকে আনবে। জরুরি বৈঠকে কার্যত যুক্তরাষ্ট্র সবার প্রতিপক্ষে পরিণত হয়। ইসরায়েলের আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘনে মদদ দেবার জন্যে যুক্তরাষ্ট্রকে অভিযুক্ত করেন জাতিসংঘে ফিলিস্তিনি রাষ্ট্রদূত রিয়াদ মনসুর। তিনি বলেন, এখানে খারাপ কাজের সহযোগিতাকে স্বীকার করতে হবে। অঞ্চলটিতে ইসরায়েলের দমন পীড়ন আর বিচারহীনতার সংস্কৃতিকে যুক্তরাষ্ট্রের এই সিদ্ধান্ত আরো উস্কে দিয়েছে। এই স্বীকৃতির মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্র তার শান্তির মধ্যস্থতাকারীর অবস্থান হারিয়েছে।
বিশ্বব্যাপি বিক্ষোভ
প্যালেস্টাইন কর্তৃপক্ষের প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আব্বাস জেরুজালেমকে ইসরায়েলের রাজধানী হিসেবে স্বীকৃতি দানের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছেন। খবর মান নিউজ,এএফপি,বিবিসি,সিনহুয়ার। বুধবার ওয়াশিংটন সময় দুপুরে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জেরুজালেমকে ইসরায়েলের রাজধানী হিসেবে স্বীকৃতি দেন আনুষ্ঠানিকভাবে। ট্রাম্পের এ পদক্ষেপকে ইসরায়েল স্বাগত জানালেও তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে ফিলিস্তিন, জর্ডান, তুরস্ক, ইরান, পাকিস্তানসহ মুসলিম বিশ্বে। হুঁশিয়ারি দিয়েছে ওআইসি, যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স, জার্মানি। ট্রাম্পের এ পদক্ষপকে দায়িত্বজ্ঞানহীন বলে মন্তব্য করেছে তুরস্ক। ট্রাম্পের এই ভুল সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনার জন্য যুক্তরাষ্ট্র প্রশাসনের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে দেশটির সরকার। যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী তেরেসা মে মার্কিন প্রেসিডেন্টের এই সিদ্ধান্তকে সমর্থন না করে বলেছেন, সে অঞ্চলে শান্তি আনয়নের পথে এটি কোনো উপকারী পদক্ষেপ হবে না। ফিলিস্তিনের প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আব্বাস কড়া ভাষায় বলেছেন, শান্তি প্রক্রিয়ায় যুক্তরাষ্ট্র এতদিন মধ্যস্থতাকারী হিসেবে ছিল। এ ঘোষণার মধ্য দিয়ে তাদের সেই ভূমিকা বিতর্কিত হয়ে পড়েছে ফিলিস্তিনের ধর্মনিরপেক্ষ ও মুসলমানরা সবাই আজ বৃহস্পতিবার প্রতিবাদে দেশব্যাপি ধর্মঘট আহ্বান করেছে। জেরুজালেমের পুরো শহরের ওপর ইসরাইলের সার্বভৌমত্বকে স্বীকৃতি দেয় না বিশ্ব সম্প্রদায়। তারা মনে করেন, জেরুজালেমের মর্যাদা কি হবে তা আলোচনার মাধ্যমে সমাধান করতে হবে। তাই জেরুজালেমে এখন পর্যন্ত অন্য কোনো দেশ তাদের দূতাবাস স্থাপন করে নি। আন্তর্জাতিক মহল ফিলিস্তিন-ইসরাইলের মধ্যে শান্তি প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে এমন অবস্থান নিয়েছে।ফিলিস্তিন কর্তৃপক্ষ বহু আগে থেকেই পূর্ব জেরুজালেমকে রাজধানী হিসেবে দাবি করে আসছে। ঠিক সেই সময় ট্রাম্প তার নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি রাখতে এমন একটি আন্তর্জাতিক বিরোধপূর্ণ এলাকাকে ইসরাইলের রাজধানী হিসেবে স্বীকৃতি দিলেন।
জেরুসালেমকে ইসরায়েলের রাজধানী হিসাবে স্বীকৃতি
ডোনাল্ড ট্রাম্প তার ভাষণে জেরুসালেমকে ইসরায়েলের রাজধানী হিসাবে স্বীকৃতি দিয়েছেন। হোয়াইট হাউসে এক ভাষণে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প বিরোধপূর্ণ জেরুসালেম শহরকে এই স্বীকৃতি দিয়েছেন। জেরুজালেম শহর মুসলিম, খ্রিষ্টান ও ইহুদি তিন ধর্মের কাছেই গুরুত্বপূর্ণ স্থান। এখানে মুসলিমদের তিনটি প্রধান মসজিদের একটি আল-আকসা অবস্থিত। কাবাঘরের আগে এই আল-আকসা মসজিদের দিকে মুখ করেই মুসলমানরা নামাজ আদায় করতেন। এই সিদ্ধান্ত কয়েক দশকের আমেরিকান নীতিকে বদলে দিয়েছে। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প আরও ঘোষণা করেছেন, যে আমেরিকান দূতাবাস তেলআবিব থেকে জেরুসালেমে সরিয়ে নিয়ে যাওয়া হবে। তিনি বলেছেন, এই সিদ্ধান্তের মানে এই নয় যে আমেরিকা মধ্যপ্রাচ্যে স্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠার দৃঢ় অঙ্গীকার থেকে সরে আসছে। দীর্ঘ দিনের ইসরায়েল ফিলিস্তিনি সংঘাতের অবসান ঘটাতে আমেরিকা দুই রাষ্ট্র সমাধানকে সমর্থন জানাতে প্রস্তুত, যদি উভয় পক্ষ সেটাই চায়। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের ভাষণের আগে আমেরিকান কর্মকর্তারা বলেছিলেন, তিনি শুধু এই বাস্তবতাকে মেনে নিয়েছেন যে, জেরুসালেম ইসরায়েলের রাজধানী হিসাবে বেশি কার্যকর। যদিও ফিলিস্তিনিরা জেরুসালেমকে তাদেরও রাজধানী হিসাবে দাবি করে। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প বলেছেন, মধ্যপ্রাচ্য শান্তি প্রক্রিয়াকে এগিয়ে নিয়ে যাবার লক্ষ্যে এই পদক্ষেপ ছিল দীর্ঘ প্রতীক্ষিত। এই সিদ্ধান্ত ঘোষণার আগে ফিলিস্তিনি প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আব্বাসের একজন মুখপাত্র সাবধান করে দেন যে, এই সিদ্ধান্ত এলাকার জন্য বিপজ্জনক পরিণতি ডেকে আনবে। অন্যদিকে ট্রাম্পের এই ঘোষণাকে স্বাগত জানিয়ে তাকে ধন্যবাদ জানিয়েছে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। কিন্তু এই ঘোষণার প্রতিক্রিয়ায় নিন্দা জানিয়ে প্যালেস্টাইনের নেতা মাহমুদ আব্বাস এটিকে দুঃখজনক হিসেবে উল্লেখ করেছেন। আর হামাস ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়ায় বলেছে, এই সিদ্ধান্ত এতদ অঞ্চলে নরকের দ্বার খুলে দেবে। সৌদি আরবের বাদশাহ সালমান বলেছেন, এই ঘোষণা সারা পৃথিবীর মুসলিমদের ঘোরতরভাবে প্ররোচিত করবে। এই ঘোষণার প্রতিবাদে ইতোমধ্যেই গাজায় এবং তুরস্কের ইস্তাম্বুলে মার্কিন কনসুলেটের সামনে মিছিল হয়েছে। মার্কিন প্রেসিডেন্টের এই বাঁকবদলকারী সিদ্ধান্তটিকে জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস ভীষণ উদ্বেগের মুহূর্ত বলে উল্লেখ করেছেন। যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী তেরেসা মে মার্কিন প্রেসিডেন্টের এই সিদ্ধান্তকে সমর্থন না করে বলেছেন, সে অঞ্চলে শান্তি আনয়নের পথে এটি কোনো উপকারী পদক্ষেপ হবে না। এছাড়া ফরাসী প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রো এবং ইউরোপীয় ইউনিয়নের প্রধান কূটনীতিক ফেদেরিকা মোগেরিনি-ও বিষয়টিকে উদ্বেগের বলে মনে করছেন। সূত্র : বিবিসি।
উত্তর কোরিয়ার ক্ষমতার সর্বোচ্চ প্রদর্শন
কোন ভাবেই ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণ থেকে বিরত রাখা যাচ্ছে না উত্তর কোরিয়াকে। সম্প্রতি অধিক শক্তিশালী ব্যালেস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণ করে দেশটি। বিজ্ঞানীরা বলছেন, উত্তর কোরিয়ার ক্ষমতার সর্বোচ্চ প্রদর্শন এটি। এই ক্ষেপণাস্ত্র অতি বিপজ্জনক! জাপানকে লক্ষ্য করে প্রথম থেকেই ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণ করেছে উত্তর কোরিয়া। এই উক্ষেপণেও জাপানের মূল ভূখণ্ড ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারত। জাপানের প্রতিরক্ষা দপ্তরের পক্ষ থেকে সে আশঙ্কার কথা সরাসরি জানানো হয়েছে। উত্তর কোরিয়াকে সন্ত্রাসে মদত ও যুদ্ধবাজ দেশ বলার পরই পাল্টা প্রতিক্রিয়া হিসেবে অধিক শক্তিশালী এই মিসাইল উৎক্ষেপণ করে দেশটি। কিম জং উনের ক্ষমতা যে ঠিক কতটা, তা বুঝতে অসুবিধা হয়নি মার্কিন প্রেসিডেন্টের। ইতিমধ্যেই বিবৃতি দিয়ে তিনি জানিয়েছেন, এই পরিস্থিতি কী করে সামলাতে হয় তা তার জানা আছে। মার্কিন প্রতিরক্ষা সচিব জিম ম্যাটিসও জানিয়েছেন, উত্তর কোরিয়া যা করছে, তাতে সারা বিশ্বে অমঙ্গলের ছায়া নেমে আসছে। এদিকে, চলতি বছরের সেপ্টেম্বরে ব্যালেস্টিক মিসাইল উৎক্ষেপণ করেছিল উত্তর কোরিয়া। কিম জং উনের সে আস্ফালন ভালো চোখে নেয়নি বিশ্ববাসী। বিশ্ব জুড়ে শান্তি প্রক্রিয়ার ক্ষেত্রে উত্তর কোরিয়ার এই কাজ যে রীতিমতো বিপজ্জনক, সে বিষয়ে একমত বিশ্ববাসী। সম্প্রতি পরীক্ষা চালানো উত্তর কোরিয়ার ক্ষেপণাস্ত্রটি প্রায় ৯৪০ কিলোমিটার দূরে জাপান সাগরে গিয়ে আঘাত হানে। ক্ষেপণাস্ত্রের সর্বোচ্চ উচ্চতা ছিল ৪ হাাজর ৫০০ কিলোমিটার। উত্তর কোরিয়ার দাবি, আগের ক্ষেপণাস্ত্রের উন্নত রূপ এটি। ১৩ হাজার ০০০ কিলোমিটার পাল্লার এই ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হানতে পারে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের রাজধানী ওয়াশিংটন ডিসিতেও। যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কথাযুদ্ধের মধ্যেই এ নিয়ে চলতি বছর ২০টি ব্যলেস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা চালিয়ে উত্তর কোরিয়া। বরাবরের মতো এবারও কড়া নিন্দা করেছে আন্তর্জাতিক মহল। নিন্দা করেছে জাপান ও দক্ষিণ কোরিয়া। এদিন উত্তর কোরিয়ার ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষার খবর প্রকাশ্যে আসতেই পর পর তিনটি ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা করে পাল্টা শক্তিপ্রদর্শন করে দক্ষিণ কোরিয়া।
পাকিস্তানে সংঘর্ষে আহত কমপক্ষে ২০০
পাকিস্তানে সংঘর্ষে কমপক্ষে ২০০ এর বেশি মানুষ আহত হয়েছে। আহত ব্যক্তিদের মধ্যে পুলিশসহ প্রতিরক্ষা বাহিনীর প্রায় ৯০ জনের মতো সদস্যও রয়েছেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে সেনাবাহিনীকে নির্দেশ দিয়েছে দেশটির স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। ইসলামাবাদ, করাচি, রাওলপিণ্ডি, পেশোয়ারের মতো বড় শহরগুলোতে সংঘর্ষ ছড়িয়ে পড়েছে। এ সংঘর্ষে নেতৃত্ব দিচ্ছে তেহরিক-ই-লাব্বাইক। তারা দেশটির সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী চৌধুরী নিসার আলীর বাড়িতেও আক্রমণ চালিয়েছে। মূল গেটে ভেঙে ফেলে ভেতরে ঢুকে তারা আগুন লাগিয়ে দেয়। এ সংঘর্ষের পেছনে পার্শ্ববর্তী দেশ ভারতের মদদ আছে বলে দাবি করেছেন পাকিস্তানের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এহসান ইকবাল।
সৌদি আরবে গ্রেফতার ২৪ হাজার অভিবাসী
সৌদি আরবে বৈধভাবে বসবাস নিয়ম ভাঙ্গা এবং শ্রম আইনের ব্যত্যয় ঘটানোর জন্য গত তিনদিন মোট ২৪ হাজার অভিবাসীকে গ্রেফতার করেছে দেশটির কর্তৃপক্ষ। দেশটির রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম সৌদি গেজেট জানিয়েছে, ভিসার শর্ত ভঙ্গ হয়েছে এমন ২৪ হাজার ব্যক্তিকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তবে, এদের মধ্যে কোন দেশের কত সংখ্যক অভিবাসী আটক হয়েছেন সে সম্পর্কে কিছু বলা হয়নি। সৌদি গেজেট জানাচ্ছে, তিন দিন ধরে অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেফতার করে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা। অভিযান এখনো চলছে। কর্তৃপক্ষ বলছে, গ্রেফতারকৃত ব্যক্তিদের মধ্যে ১৫ হাজার ৭০২ জন সৌদি আরবে বসবাসের আইন লঙ্ঘন করেছেন। বাকীদের সীমান্ত নিরাপত্তা আইন এবং শ্রম আইন লঙ্ঘনের অভিযোগে গ্রেফতার করা হয়েছে। গ্রেফতারকৃতদের ৪২ শতাংশকেই মক্কা নগরী থেকে আটক করা হয়। এছাড়া রাজধানী রিয়াদ, আসির প্রদেশ, জাযান এবং পূর্বাঞ্চলীয় প্রদেশগুলো থেকে আটক হয়েছে অনেকে। এর মধ্যে এই অভিবাসীদের সাহায্য করার অভিযোগে ২৫ জন সৌদি নাগরিককেও আটক করা হয়েছে। সৌদি আরবে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত গোলাম মসীহ বিবিসি বাংলাকে নিশ্চিত করেছেন, এমন একটি অভিযান শুরু হয়েছে। তবে তিনি দাবী করেন, এটি একটি নিয়মিত অভিযান। তিনি জানিয়েছেন এই অভিযানে বাংলাদেশী কতজন আটক হয়েছে, সে বিষয়ে এখনো পুরো তথ্য পায়নি দূতাবাস। তিনি বলছেন, প্রতি মাসে সৌদি সরকার দূতাবাসকে একটি রিপোর্ট দেয়, যাতে কোন অপরাধে আটক বাংলাদেশীদের তালিকা প্রদান করে। কিন্তু নতুন এই অভিযানে ঠিক কতজন বাংলাদেশী আছে সে রিপোর্ট এখনো দেয়নি। রাষ্ট্রদূত মি. মসীহ বলছেন, যখনই বাংলাদেশীদের সংখ্যাটি তারা জানবেন, তখন সেখানকার কর্মকর্তারা থানায় গিয়ে প্রয়োজন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেবেন। এ বছরের মার্চে সৌদি আরবে অবৈধভাবে বসবাস করা বিদেশিদের বৈধ কাগজপত্র সংগ্রহ করতে ৯০ দিনের সময় বেঁধে দেওয়া হয়েছিলো। সে সময়ে অবৈধ বিদেশি নাগরিক ও শ্রমিকদের ৯০ দিনের ‘সাধারণ ক্ষমা’ ঘোষণা করা হয়েছিলো। যাতে বলা হয়েছিল, দেশটিতে অনুমতি ছাড়া বসবাস, ইকামা বা সরকারি অনুমতি না নিয়ে কাজ করা এবং সৌদি আরবে অবৈধ অনুপ্রবেশের মতো অপরাধের ক্ষেত্রে সাধারণ ক্ষমা প্রযোজ্য হবে। এই সময়ের মধ্যে অবৈধ ব্যক্তিরা কোনও শাস্তি ছাড়াই নিজ দেশে ফিরে যাওয়ার সুযোগ পাবেন।
সাউথ জার্সি মেট্রো আ.লীগের সভায় চার নেতাকে স্মরণ
নিউজার্সি অঙ্গরাজ্যের আটলান্টিক সিটিতে আয়োজিত এক সভায় বক্তারা বলেছেন, বাঙালি জাতির জীবনে ৩ নভেম্বর এক বেদনা বিধুর দিন। ১৯৭৫ সালের এ দিন কুচক্রী মহল বাঙালি জাতিকে নেতৃত্ব শূন্য করতে জন্য জাতির শ্রেষ্ঠ চার সন্তান বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের বিশ্বস্ত সহচর ও মহান মুক্তিযুদ্ধে সফল নেতৃত্বদানকারী সৈয়দ নজরুল ইসলাম, তাজউদ্দীন আহমেদ, ক্যাপটেন মনসুর আলী ও এ এইচ এম কামরুজ্জামানকে কারা অভ্যন্তরে নির্মমভাবে হত্যা করে। জাতির এই শ্রেষ্ঠ সন্তানদের স্মরণে নিউজার্সি অঙ্গরাজ্যের আটলান্টিক সিটিতে সাউথ জার্সি মেট্রো আওয়ামী লীগ স্থানীয় মি. স্টিক রেস্টুরেন্টে ৮ নভেম্বর দোয়া ও আলোচনা সভার আয়োজন করে। সভার শুরুতে চার নেতার রুহের মাগফিরাত কামনা করে দোয়া করা হয়। পরে আলোচনায় অংশ নেন অতিথিরা। আলোচনা সভায় বক্তারা বলেন, পঁচাত্তরের পনেরই আগস্ট বঙ্গবন্ধুকে হত্যার পর বাঙালি জাতিকে নেতৃত্ব শূন্য করার অপচেষ্টার অংশ হিসেবে ১৯৭৫ সালের ৩ নভেম্বর খুনি মোশতাক চক্রের দোসরেরা জেলখানার অভ্যন্তরে জাতীয় চার নেতাকে নৃশংসভাবে হত্যা করে। খুনি চক্র তাঁদের হত্যা করলেও তাঁদের আদর্শকে হত্যা করতে পারেনি। তাইতো তাঁদের আদর্শ অন্তরে ধারণ করে জননেত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে সোনার বাংলা গড়ার পথে দেশ এগিয়ে চলেছে। সোনার বাংলা গড়ার মাধ্যমে তাঁদের হত্যার বদলা নেওয়া হবে। আলোচনা সভায় সংগঠনের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি আহসান হাবীবের সভাপতিত্বে ও ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক অভিজিৎ চৌধুরী লিটনের সঞ্চালনায় আলোচনায় অংশ নেন সংগঠনের প্রধান উপদেষ্টা জাহাঙ্গীর হোসেন ভূঁইয়া, আওয়ামী লীগ নেতা মো. শাহজাহান, আবুল হোসেন, শামসুল ইসলাম শাহজাহান, গোলাম হাফিজ, শহীদ খান, শেখ সেলিম, ফরহাদ সিদ্দিক, রওশনউদদীন, জয়ন্ত সিনহা প্রমুখ।
ফিলাডেলফিয়া ম্যারাথনে অংশ নিচ্ছে বেঙ্গল রানার্স ক্লাব
বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির নতুন নতুন আবিষ্কারের ফলে স্বাস্থ্যের প্রতি মানুষের সচেতনতা দিন দিন বাড়ছে। উন্নত দেশগুলোর প্রতিটি শহরে জিমনেসিয়ামে উপচে পড়া ভিড়। জিমে যাওয়ার পাশাপাশি নানা ধরনের শরীর চর্চা করে থাকে মানুষ। নিঃসন্দেহে এই তালিকায় দৌড় একটি গুরুত্বপূর্ণ স্থান দখল করে আছে। দৈহিক সুস্থতার পাশাপাশি বিষণ্নতা দূর করে মনো জগৎকে প্রফুল্ল রাখতে দৌড় বা শরীর চর্চার ভূমিকা অপরিসীম। তাই দৌড় নিয়ে আয়োজন করা হচ্ছে নানা ইভেন্টের। এ ক্ষেত্রে বাংলাদেশিরাও পিছিয়ে নেই। আমেরিকানদের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে নানা দৌড় প্রতিযোগিতায় নিয়মিত অংশ নিচ্ছে প্রবাসী বাংলাদেশিরা। দৌড়ের অভ্যাসকে সবার মধ্যে ছড়িয়ে দিতে এখানে অনেকেই কাজ করছে। এর মধ্যে সাউথ জার্সির বেঙ্গল রানার্স ক্লাব অন্যতম। স্বাস্থ্য সচেতনতার বিষয়টিকে মূল লক্ষ্য করে দৌড়কে বাংলাদেশিদের ম্যধে জনপ্রিয় করার লক্ষ্যে উত্তর আমেরিকার সাউথ জার্সির প্রবাসী বাংলাদেশিরা প্রতিষ্ঠা করেন বেঙ্গল রানার্স ক্লাব বা বিআরসি। পেশায় চিকিৎসক মশিউল চৌধুরী ও স্থানীয় বাংলাদেশিদের আগ্রহে ২০১৩ সালে প্রতিষ্ঠিত হয় বেঙ্গল রানার্স ক্লাব। মশিউল চৌধুরী বলেন, ‘প্রচলিত লাতিন প্রবাদ আছে, সুস্থ দেহে সুন্দর মনের বাস। বেঙ্গল রানার্স ক্লাব এই প্রবাদে বিশ্বাস করে। শরীর চর্চা, হাঁটা, দৌড়ের মাধ্যমে শারীরিক এবং মানসিক দুই ভাবেই ভালো থাকা যায়। আমাদের সেই ভালো থাকার চেষ্টা করাটা জরুরি।’ এই চিকিৎসক বলেন, মূলত ২০১৩ সালে বাংলাদেশে সাভারে তৈরি পোশাক কারখানায় মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত কর্মীদের সাহায্যার্থে অর্থ সংগ্রহের লক্ষ্যে সাউথ জার্সির কুপার নদীর পার্কে প্রবাসীদের নিয়ে আয়োজন করা হয় পাঁচ কিলোমিটার দৌড় প্রতিযোগিতার। এই আয়োজনের মধ্য দিয়ে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ পায় বিআরসি। সেই থেকে বিআরসি দৌড়ের পাশাপাশি জনকল্যাণমূলক কাজ করে যাচ্ছে। বিআরসি সদস্যরা প্রতি রোববার সকালে সাউথ জার্সির কুপার নদীর পার্কে মিলিত হয়। তাঁরা নির্মল প্রাকৃতিক পরিবেশে চার থেকে আট মাইল দৌড় বা হাঁটায় অংশ নেয়। এ ছাড়া বিআরসি প্রতি তিন মাস পর পর ফিলাডেলফিয়া শহরের দর্শনীয় স্থানগুলোতে আয়োজন করে ফ্রেন্ডস অ্যান্ড ফ্যামিলি রানিং ইভেন্টের যাতে শিশুরাও অংশ নেয়। নিয়মিত দৌড়ের পাশাপাশি এই সংগঠনের সদস্যরা প্রতি বছর আমেরিকার শীর্ষস্থানীয় ‘ফিলাডেলফিয়া ম্যারাথন’-এ অংশ নেন। এতে শুধু আমেরিকানরাই নয়, বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে হাজার হাজার প্রতিযোগী অংশ নেন। বিআরসি মনে করে, এই অংশগ্রহণের মাধ্যমে আমেরিকানদের সঙ্গে মিশে আমরা নিজেদের মূলধারার সংস্কৃতির সঙ্গে যুক্ত করতে পারি। মশিউল বলেন, এই ইভেন্টে অংশগ্রহণের প্রস্তুতি হিসেবে সারা বছর ধরে দৌড়বিদদের নিয়মিত কঠোর অনুশীলন তাঁদের মানসিক শক্তিকে দৃঢ় করে। দীর্ঘ ২৬ দশমিক ২, ১৩ দশমকি ১ বা ৮ মাইল ট্র্যাকে থেকে ফিনিশ লাইনে পৌঁছানোর লক্ষ্যে স্থির থাকার অভ্যাস যেমন আত্মবিশ্বাস বাড়িয়ে দেয়, তেমনি বাড়িয়ে দেয় সহিষ্ণুতা যা জীবনের অন্য ক্ষেত্রেও ইতিবাচক প্রভাব ফেলে। বেঙ্গল রানার্স ক্লাবের আরেকটি লক্ষ্য ম্যারাথনকে কেন্দ্র করে সেবামূলক কাজে সহায়তায় তহবিল সংগ্রহ করে বিভিন্ন দাতব্য প্রতিষ্ঠানকে দেওয়া।
স্মার্ট ছাতা!
রোদ-বৃষ্টিতে ছাতার মতো বন্ধু কি আর হয়? ছাতা নিয়ে কোথাও গিয়ে ভুল করে ফেলে আসার ঘটনাও কম নয়। কিন্তু প্রযুক্তির ছোঁয়ায় এখন ছাতাও হয়ে যাচ্ছে স্মার্ট। ওই ছাতা ভুলে ফেলে এলে অবস্থান জানাতে পারবে তা। এমনকি আবহাওয়ার পূর্বাভাসও দিতে পারবে। এ ছাতার নাম ‘দ্য ওয়েদারম্যান’। যুক্তরাষ্ট্রের কয়েকজন প্রযুক্তি উদ্যোক্তা ওয়েদারম্যান নামের কোম্পানি থেকে এ ছাতা তৈরিতে কাজ করেছেন। তাঁদের একজন আবহাওয়াবিদ রিক রিচমুথ। প্রতিষ্ঠানটির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা তিনি। গত বৃহস্পতিবার এই ছাতার উদ্বোধন করেছেন প্রতিষ্ঠানটির কর্মকর্তারা। ছাতাটিতে আছে বিশেষ ব্লুটুথ ট্র্যাকার, যা স্মার্টফোনের অ্যাপে আবহাওয়ার পূর্বাভাস দেখাতে পারে। রিয়েল টাইমে আবহাওয়ার সতর্কতা ও নোটিফিকেশন জানাতে পারে। ব্লটুথ ৪.১ প্রযুক্তির ট্র্যাকার চিপ থাকায় ছাতার অবস্থান জানার সুবিধা পাওয়া যাবে। এ ছাতা এমনভাবে তৈরি করা হয়েছে, যাতে ঘণ্টায় ৫৫ মাইল বেগের ঝড় সামলাতে পারে। ছাতাটি সম্পর্কে রিক রিচমুথ বলেন, আমি টেকসই ছাতার খোঁজ করছিলাম, কিন্তু সব সময় কোনো না কোনো সমস্যা পেয়েছি। একটা ভালো ছাতার প্রয়োজনীয়তা থেকেই ওয়েদারম্যান তৈরি শুরু করি। দুটি মডেলের ছাতার দাম ৫৯ ও ৬৫ মার্কিন ডলার। কয়েকটি রঙে বিক্রি হচ্ছে এ স্মার্ট ছাতা। তথ্যসূত্র: সিনেট।
উ. কোরিয়ার ওপর বাণিজ্যিক নিষেধাজ্ঞা সিঙ্গাপুরের
উত্তর কোরিয়ার সঙ্গে বাণিজ্যিক সম্পর্ক ছিন্ন করেছে সিঙ্গাপুর। গত ৭ নভেম্বর এ বিষয়ে একটি প্রজ্ঞাপন জারি করে দেশটির শুল্ক বিভাগ। গতকাল শুক্রবার বিবিসি অনলাইনের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়। গত সেপ্টেম্বরে উত্তর কোরিয়া ষষ্ঠবারের মতো পরমাণু অস্ত্রের পরীক্ষা চালালে দেশটির ওপর কঠোর বাণিজ্য নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে জাতিসংঘ ও যুক্তরাষ্ট্র। দেশ দুটি আশা করছে যে এ নিষেধাজ্ঞার কারণে বাধাগ্রস্ত হবে উত্তর কোরিয়ার পারমাণবিক আগ্রাসী কর্মসূচি। এবার বাণিজ্যিক নিষেধাজ্ঞা দিল সিঙ্গাপুর। অবশ্য দুই দেশের মধ্যে কূটনৈতিক সম্পর্ক অব্যাহত থাকবে। ২০১৬ সালের হিসাব অনুযায়ী উত্তর কোরিয়ার অষ্টম বৃহত্তম বাণিজ্য অংশীদার সিঙ্গাপুর। অবশ্য যা উত্তর কোরিয়ার মোট বাণিজ্যের মাত্র শূন্য দশমিক ২ শতাংশ। দেশটির বেশির ভাগ বাণিজ্য চীনের সঙ্গে। দেশটি পিয়ংইয়ংয়ের সবচেয়ে শক্তিশালী সমর্থকও। যদিও গত আগস্টে উত্তর কোরিয়া থেকে লৌহ, সিসা, কয়লা ও সামুদ্রিক খাবার আমদানি নিষিদ্ধ করে চীন। বাণিজ্যে নিষেধাজ্ঞার বিষয়টি ৮ নভেম্বর থেকে কার্যকর হয়েছে এবং নির্দেশ অমান্যকারীর জরিমানা ও শাস্তি স্বরূপ সর্বোচ্চ দুই বছরের কারাদণ্ড হতে পারে।