মিয়ানমারের ৫ জেনারেলের ওপর অস্ট্রেলিয়ার নিষেধাজ্ঞা
অনলাইন ডেস্ক: রাখাইনে সংখ্যালঘু মুসলিম রোহিঙ্গাদের বিরুদ্ধে মিয়ানমার সেনাবাহিনীর জাতিগত নিধনের অভিযোগে দেশটির পাঁচ জেনারেলের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে অস্ট্রেলিয়া। যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের পদক্ষেপ অনুসরণ করে মঙ্গলবার অস্ট্রেলিয়া এক ঘোষণায় জানায়, এই নৃশংসতা পরিচালনায় একটি বিশেষ অভিযানের নির্দেশ দেয়া একজন লেফটেন্যান্ট জেনারেলসহ এসব সেনা কর্মকর্তাদের সম্পদ জব্দ করা হবে। দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী মারেইস পেইন বলেন, অং কেইউ জো, মোং মোং সোয়ে, অং অং, থান ও এবং কিং মোং সোয়ে রাখাইনে মানবাধিকার লঙ্ঘনের জন্য দায়ী। তাদের নেতৃত্বে একটি সেনা ইউনিট রোহিঙ্গা নিপীড়ন চালিয়েছে। ইতিমধ্যে এ পাঁচ কর্মকর্তার মধ্যে কয়েকজন পদত্যাগ করেছেন বলে জানা গেছে। অস্ট্রেলিয়া তাদের ওপর ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞাও আরোপ করেছে। গত বছরের আগস্টের শেষ দিকে মিয়ানমার সেনাবাহিনীর বর্বর অভিযানের মুখেই দেশটির উত্তরাঞ্চলীয় রাখাইন রাজ্য থেকে প্রায় সাত লাখ রোহিঙ্গা অধিবাসী প্রতিবেশী বাংলাদেশে পালিয়ে আসেন। এর আগে মিয়ানমার সেনাবাহিনীর ৩৩ ও ৯৯ পদাতিক ডিভিশন রোহিঙ্গা বিরোধী ওই অভিযানটি চালায় বলে রয়টার্সের এক অনুসন্ধানে বেরিয়ে এসেছে। পালিয়ে আসা রোহিঙ্গা শরণার্থী, রাখাইনের বৌদ্ধ জনগোষ্ঠী, নিরাপত্তা রক্ষী ও সেনাসদস্যদের নেয়া বিরল সাক্ষাৎকারের ভেতর দিয়ে পদাতিক এ দুই ডিভিশনের হত্যাযজ্ঞ ও অগ্নিসংযোগের পাশাপাশি সেনাপ্রধান মিন অং হ্লাইংয়ে সঙ্গে তাদের ঘনিষ্ঠ সম্পর্কের বিষয়ও তুলে এনেছে রয়টার্স।
খাশোগি হত্যায় নগ্নসত্য বের করেই ছাড়ব: এরদোগান
অনলাইন ডেস্ক: তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোগান গতকাল রোববার জোর দিয়ে বলেছেন, যেভাবেই হোক, তিনি সৌদি কনস্যুলেটে নিহত সাংবাদিক জামাল খাসোগির ব্যাপারে নগ্নসত্য প্রকাশ করবেন। ইস্তাম্বুলে এক সমাবেশে এরদোয়ান বলেন, আমরা সুবিচার খুঁজছি। খাসোগি হত্যায় যেনতেন পদক্ষেপ নয়, নগ্নসত্য প্রকাশে সর্বাত্মক পদক্ষেপ নেওয়া হবে। সৌদি সরকার এর মধ্যে স্বীকার করেছে, ইস্তাম্বুলে তাদের কনস্যুলেটের ভেতরে খাশোগিকে হত্যা করা হয়। এর এক দিন পরই তুর্কি নেতা এই বিবৃতি দিলেন। সৌদি পররাষ্ট্রমন্ত্রী আবদেল আল জুবায়ের গতকাল রোববার খাসোগি হত্যার ঘটনাকে সাংঘাতিক ভুল বলে অভিহিত করেন। তিনি বলেন, দুর্বৃত্তরা এই অভিযান চালিয়েছে। জুবায়ের ফক্স নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে বলেন, সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানের নির্দেশে খাশোগিকে হত্যা করা হয়নি। আমরা জানি না খাশোগির মৃতদেহ কোথায়। এএফপির খবরে জানা যায়, তুরস্কের প্রেসিডেন্টের একটি সূত্র জানায়, গতকাল যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে ফোনে কথা বলেছেন এরদোগান। দুই নেতা একমত পোষণ করেছেন যে সবদিক থেকে খাশোগি হত্যার বিষয়টি ব্যাখ্যা করতে হবে। কাল মঙ্গলবার এ নিয়ে পার্লামেন্টে এরদোগানের বিবৃতি দেওয়ার কথা। তুর্কি কর্মকর্তারা বলছেন, তাঁরা বিশ্বাস করেন, ২ অক্টোবর দুটি উড়োজাহাজে করে সৌদি আরব থেকে ১৫ জন ইস্তাম্বুলে আসেন। তাঁরা খাসোগি হত্যায় জড়িত। তবে রিয়াদ বলছে, ১৫ জনের মধ্যে একজন কয়েক বছর আগে গাড়ি দুর্ঘটনায় নিহত হন। সৌদি আরব বলছে, কনস্যুলেটের ভেতরে খাসোগির সঙ্গে তাঁদের বাদানুবাদ হয়। হাতাহাতিতে খাসোগি খুন হন। ২ অক্টোবর তুরস্কের ইস্তাম্বুলে সৌদি কনস্যুলেট ভবনে ব্যক্তিগত কাগজপত্র আনার প্রয়োজনে ঢোকার পর থেকে নিখোঁজ ছিলেন সৌদির খ্যাতনামা সাংবাদিক খাশোগি। শুরু থেকে তুরস্ক দাবি করে আসছে, খাসোগিকে কনস্যুলেট ভবনের ভেতর সৌদি চরেরা হত্যা করেছে। গত বছর সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান ক্ষমতা গ্রহণের পর রোষানলে পড়েন খাসোগি। তিনি দেশ ছেড়ে স্বেচ্ছা নির্বাসনে চলে যান যুক্তরাষ্ট্রে। ওয়াশিংটন পোস্ট-এ যুবরাজ মোহাম্মদের কর্মকাণ্ডের সমালোচনা করে একের পর এক কলাম লেখেন। অভিযোগ উঠেছে, যুবরাজের নির্দেশে রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতায় এ হত্যা সংঘটিত হয়েছে।
হতাহতের দায় নিচ্ছে না কেউই, ক্ষোভে ফুঁসছে অমৃতসর
অনলাইন ডেস্ক: এখনও রক্ত মেখে রয়েছে এক নম্বর লাইনের ইস্পাত। ফিসপ্লেট। দেহাংশ ও রক্ত লেগে আছে পাথরের খাঁজে। গত রাতে রাবণ দহনের ভিড় চিরে ট্রেন ছুটে যাওয়ার ভয়াবহ স্মৃতি দগদগে হয়ে রয়েছে গোটা এলাকা জুড়ে। কিন্তু তার দায় নিচ্ছে না কেউই। অমৃতসরে জোড়া ফটকের কাছে ধোবিঘাট মাঠে রাবণ দহনের আয়োজন করেছিলেন স্থানীয় কংগ্রেস কাউন্সিলর সৌরভ মিঠ্ঠু। যা দেখতে মানুষ ভিড় জমান ছোট্ট মাঠটিতে। ভি়ড় ক্রমশ মাঠ ছাপিয়ে উঠে পড়ে পাশের রেললাইনে। রেলের জমি উঁচু। দেখতে সুবিধে। তাই ভিড় বাড়ছিল তিনটে লাইন জুড়ে। সন্ধ্যা ৬টা ৪৫ নাগাদ দু-নম্বর লাইন দিয়ে ধীরে ধীরে চলে যায় হাওড়ামুখী অমৃতসর এক্সপ্রেস। কোনও অঘটন ছাড়াই। মিনিট দেড়েক পর আগুন লাগে রাবণে। বাজির প্রবল আওয়াজ। আলোয় ধাঁধিয়ে যাচ্ছিল নজর। ৬টা ৪৮-এ এক নম্বর লাইন দিয়ে ধেয়ে আসে একটি ডেমু ট্রেন। গতি ঘণ্টায় ৯১ কিলোমিটারের কাছাকাছি। ভিড় চিরে ছুটে চলে যায় সেটি। কয়েক মুহূর্তে ছিন্নভিন্ন হয়ে যান বহু মানুষ। রাবণ তখনও জ্বলছে। সশব্দে। কিন্তু মানুষের আর্তনাদ, হাহাকার ছাপিয়ে যায় সেই শব্দ। রামকিষেণ ছিলেন দুই লাইনের মাঝখানে। তাঁর কথায়,দু-নম্বর দিয়ে অমৃতসর এক্সপ্রেস চলে যেতেই সকলে ভেবেছিলাম ওই লাইন চালু আছে। এতে অনেকে এক নম্বর লাইনের দিকে আরও এগিয়ে যান। এরই মধ্যে আগুন লাগে রাবণে। বাজির শব্দ আর আলোর ঝলকানির মধ্যে ছুটে আসে ডেমু। দুই লাইনের মাঝে থাকায় হাওয়ার ঝাপটায় পড়ে যাই। চোখ খুলে দেখি ১ নম্বরে যাঁরা বসে বা দাঁড়িয়ে ছিলেন তাঁরা কচুকাটা হয়ে পড়ে রয়েছেন। শরীর এক দিকে তো মাথা আর এক দিকে। প্রত্যক্ষদর্শী বলজিৎ সিংহ বলেন,;বড়দের মুখে শুনেছি, ৭১ বছর আগে লাহৌর থেকে আসা ব্লাড ট্রেনে এ ভাবে ছিন্নভিন্ন শরীর পড়ে ছিল। কাল রাতে যেন সেই ছবিটা দেখলাম লাইন জুড়ে। গুরু নানক হাসপাতালে স্বেচ্ছাশ্রম দিতে আসা সরকারি কর্মী জানালেন, এক বাবা ছেলের মাথা খুঁজে পেয়েছেন। বাকি শরীর কোথায় তা খুঁজে চলেছেন হন্যে হয়ে। ঘটনার এক দিন পরেও সরকারি হিসেবে মৃতের সংখ্যা ৬১। যদিও প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, মারা গিয়েছেন ১০০ জনের বেশি। মুখ্যমন্ত্রী অমরেন্দ্র সিংহ আজ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে ম্যাজিস্ট্রেট পর্যায়ের তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন। যদিও গত কালের এই ঘটনায় তাঁর পুলিশ-প্রশাসনের বিরুদ্ধেই আঙুল তুলছেন অনেকে। সেই ক্ষোভ সামাল দিতে আজ গোটা এলাকায় প্রচুর পুলিশ নামালেও গত কালের অব্যবস্থার কোনও দায় নিচ্ছে না রাজ্য প্রশাসন। রেল নিজেদের মতো তদন্ত শুরু করেছে। তবে তা রেল নিরাপত্তা কমিশনের তদন্ত নয়। ডেমু চালকের কোনও দোষ দেখছে না তারা। রেল প্রতিমন্ত্রী মনোজ সিনহার বক্তব্য, রেললাইনের ধারে এমন অনুষ্ঠানের আয়োজন করাই উচিত নয়। রেলের তরফে একটি এফআইআরও করা হয়েছে ভিড়ের বিরুদ্ধে। অভিযোগ, রেলের জমিতে অনধিকার প্রবেশ করেছিলেন তাঁরা। আর এই দশানন দহনের আয়োজক কংগ্রেস নেতা মিঠ্ঠু তো কাল থেকেই বেপাত্তা। এ সব দেখে স্থানীয়দের ক্ষোভ, ;দায় এড়ানোর প্রতিযোগিতা চলছে যেন! মূলত পাঁচটি প্রশ্ন তুলছেন তাঁরা। প্রশ্ন এক, রেললাইন ঘেঁষা ওই জমিতে রাবণ পোড়ানোর অনুমতি কে দিয়েছিল? পুলিশই অনুমতি দিয়েছিল। কিন্তু ছাড়পত্র ছিল না পুরসভা বা দূষণ নিয়ন্ত্রণ পর্ষদের। আর জেলা প্রশাসন পরোক্ষে মেনে নিয়েছে মিঠ্ঠু কোনও অনুমতির তোয়াক্কা করেননি। প্রশ্ন দুই, উদ্যোক্তাদের দায় কতটা? ভিড় যে মাঠ ছাপিয়ে লাইনে পৌঁছবে তা খুব ভাল করেই জানতেন উদ্যোক্তারা। লাইনে বসে যাতে দেখতে অসুবিধা না হয়, তার জন্য রাবণ পোড়ানোর লাইভ কভারেজ হচ্ছিল পেল্লায় দু-টি এলইডি স্ক্রিনে। যার অর্থ লাইনে বসে দেখার জন্য মানুষকে কার্যত প্ররোচনা দেওয়া হয়েছিল। কয়েক হাজার লোক উপস্থিত ছিলেন দশানন দহনে। স্থানীয় কৃষ্ণনগর এলাকার ভিড় ঝেঁটিয়ে এসেছিলেন ওই বাজি পোড়ানো দেখতে। প্রশ্ন তিন, রেল কি জানত না ভিড়ের বিষয়ে? স্থানীয় রেল প্রশাসনকে কোনও ভাবেই সতর্ক করা হয়নি বলে দাবি করেছে রেল। রেল বোর্ডের চেয়ারম্যান অশ্বিনী লোহানির কথায়, অন্ধকার হয়ে গিয়েছিল। উপরন্তু ওই এলাকায় বাঁক থাকায় সম্ভবত শেষ মুহূর্তে লাইনে থাকা ভিড়কে দেখতে পান চালক। হর্নও দেন শেষ মুহূর্তে। তত ক্ষণে দেরি হয়ে গিয়েছে।; ফিরোজপুরের ডিআরএম বিবেক কুমারেরও বক্তব্য, ;বাঁক পেরিয়ে শেষ মুহর্তে ভিড় দেখে চালক ৯১ কিলোমিটার থেকে গতি ৬৮-তে নামিয়ে আনেন। কিন্তু ট্রেন থামাতে সময় লাগে। প্রশ্ন চার, কিন্তু জোড়া ফটক লেভেল ক্রসিং-র দায়িত্বে থাকা গেটম্যান কী করছিলেন? ঘটনাস্থল থেকে ১৫০ মিটার দূরে দাঁড়িয়ে তিনি যখন দেখছেন লাইনে এত ভিড় জমেছে, তখন কেন তিনি তড়িঘড়ি কোনও উপযুক্ত ব্যবস্থা নেননি। রেলের কর্তাদের একাংশ স্বীকার করে নিচ্ছে, গেটম্যান একটু সক্রিয় হলেই ওই দুর্ঘটনা এড়ানো যেত। অন্তত এক্সপ্রেস ট্রেনের মতো ডেমু ট্রেনের গতি কম থাকলে এই মাপের দুর্ঘটনা এড়ানো যেত। প্রশ্ন পাঁচ, কতটা দায়ী ভিআইপি অতিথি? দেশের সব জায়গায় ৬টা ১৫ মিনিটে রাবণ দহন শুরু হলেও এখানে তা শুরু হয়েছিল পৌনে সাতটার পরে। কারও কারও ক্ষোভ, স্থানীয় বিধায়ক নভজ্যোৎ সিধুর স্ত্রী নভজ্যোৎ কৌর পৌঁছতে দেরি করাতেই দশানন দহনে দেরি হয়েছে। তিনি সময়ে এলে এই দুর্ঘটনা হয়তো ঘটতই না। অনেকে অবশ্য এমন অভিযোগের মধ্যে রাজনীতির গন্ধ পাচ্ছেন। এর মধ্যে ক্ষোভের আঁচ বাড়িয়েছে আজ ভাইরাল হওয়া একটি ভিডিয়ো। তাতে দেখা যাচ্ছে অনুষ্ঠানের অতিথি নভজ্যোৎ কৌরের গলায় প্রচুর মালা। আয়োজকদের কেউ তাঁকে বলছেন, দেখুন ম্যাডাম আপনার জন্য ৫ হাজারের বেশি লোক লাইনের উপরে দাঁড়িয়ে আছে। ৫০০ ট্রেন চলে গেলেও ওরা সরবে না। কিন্তু একটু পরেই দুরন্ত গতিতে ছুটে আসা ট্রেন যে তাঁদের সরার সময় দেবে না, সেটা কেন কেউ ভাবলেন না? স্বজন-পরিজনহারাদের ক্ষোভ সেটাই। সূত্র: আনন্দবাজার
টানা ৭ ঘণ্টা দাঁড়িয়ে অবশেষে গাঁজার দেখা পেয়েছি
অনলাইন ডেস্ক: কানাডায় বুধবার থেকে গাঁজা বৈধভাবে দোকানে বিক্রি শুরু হওয়ার প্রথমদিনেই গাঁজার টান। দোকান খোলার আগে থেকেই লাইন ধরছেন ক্রেতারা। আর যে কারণে একদিনেই জোগান ঘাটতি, মজুদ শেষ। ঘণ্টার পর ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়েও গাঁজা পাচ্ছেন না ভোক্তারা। গাজা সংকটে পড়েছেন ব্যবসায়ীরা। আর গাঁজা কিনতে এসেছেন উঠতি বয়সী থেকে শুরু করে বয়োবৃদ্ধরাও। অনেক ক্রেতা লাইনে দাঁড়িয়ে থাকার পর যখন দেখেন দোকানে গাজাঁ আর নেই পরদিন আবারো লাইনে দাঁড়ান। ব্রিটিশ গণমাধ্যম বিবিসি জানায়, প্রতি আউন্স বিক্রি হচ্ছে ৮০৭ ডলারে। তারপরও ঠেলে ফেলা যাচ্ছে না ভিড়। বিবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে গাঁজা কিনতে আসা মন্ট্রিলার ৩০ বছর বয়সী এক গ্রাহক আলেক্সজান্ডার বলেন, 'আমি টানা ৭ ঘণ্টা দাঁড়িয়ে থেকে অবশেষে গাঁজার দেখা পেয়েছি। এতক্ষণ দাঁড়িয়ে থাকা সত্যিই বিরক্তিকর। কিন্তু আমাদের কাছে তা মনে হয়নি। লাইনে আমরা খুব মজা করেছি।' ৪১ বছর বয়সী গেনিভিভ ডেসপার তার শুকনো মুখটা বাড়িয়ে বলেন, প্রায় একবেলা দাঁড়িয়ে থেকেও আমি পেলাম না। কিন্তু এতে আমার কোনো দুঃখ নেই। কারণ আমি আসলে এটা খাই না। এতদিনের নিষিদ্ধ একটা জিনিসের প্রথম এমন খোলামেলা বিক্রি! সেটা উপভোগ করতেই আমি লাইন ধরেছিলাম। নতুন আইনটি চালু হওয়ার পর অনলাইনে অর্ডার দিয়েও সময়মতো গাঁজা পাননি অনেক ক্রেতা। বিভিন্ন ওয়েবসাইটে বিশাল পরিমাণে অর্ডার থাকায় এ সংকট সৃষ্টি হয়েছে। কিন্তু বাজারে গাঁজার চাহিদার পরিমাণও লক্ষণীয়। কানাডার সবচেয়ে ছোট প্রদেশগুলোর একটি নোভা স্কোশিয়াতেই প্রথমদিনে ৫ লাখ ছয় হাজার ডলার বা প্রায় সাড়ে ৪ কোটি টাকা মূল্যের গাঁজা বিক্রি হয়েছে। সবচেয়ে জনবহুল প্রদেশ অন্তেরিওর চিত্র আরও ভয়াবহ। প্রথমদিন শুধু অনলাইনেই অর্ডার পড়েছে সাড়ে সাত লাখ ডলার মূল্যের গাঁজার। এ মাত্র ৩৮ হাজার ভোক্তার চাহিদা। পাশের কিউবি প্রদেশেও অপেক্ষায় আছেন ৪২ হাজার গ্রাহক।
তুরস্কের কাছে খাশোগি হত্যার প্রমাণ চাইলো যুক্তরাষ্ট্র
অনলাইন ডেস্ক: সৌদি আরবের ইস্তানবুল কনস্যুলেট ভবনে সাংবাদিক জামাল খাশোগিকে হত্যার রেকর্ডকৃত শক্তিশালী প্রমাণ চেয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। হোয়াইট হাউসে সাংবাদিকদের মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেন, 'যদি এমন প্রমাণ থাকে তাহলে আমরা তাদেরকে সেটা দিতে বলেছি।' ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি এখবর জানিয়েছে। সৌদি আরব ও দেশটির যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানের কঠোর সমালোচক জামাল খাশোগি গত ২ অক্টোবর প্রয়োজনীয় কাগজপত্র নিতে তুরস্কের ইস্তানবুল শহরের সৌদি কনস্যুলেটে প্রবেশের পর আর বের হননি। সৌদি আরব অবশ্য বলছে, খাশোগি কনস্যুলেট ভবন থেকে বের হয়ে গেছেন। তবে তুরস্কের পক্ষ থেকে এর প্রমাণ চাওয়া হলে তা সরবরাহে ব্যর্থ হয়েছে রিয়াদ। তুরস্কের দাবি, তাদের তদন্তকারীদের হাতে নিশ্চিত প্রমাণ রয়েছে কনস্যুলেট ভবনের ভেতরে খাশোগিকে হত্যা করা হয়েছে। ২ অক্টোবর তুরস্কে আসা ১৫ সদস্যের একটি সৌদি দল এই হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছে বলে অভিযোগ আঙ্কারার। খাশোগির নিখোঁজের ঘটনায় বিপাকে পড়েছে সৌদি আরবের ঘনিষ্ঠ মিত্র যুক্তরাষ্ট্র। হত্যার রেকর্ডকৃত কথোপকথনের প্রমাণ চাওয়া হয়েছে জানিয়ে ট্রাম্প বলেন, আমি নিশ্চিত নই এমন কিছু রয়েছে। হয়ত আছে, সম্ভবত আছে। ট্রাম্প জানান, সৌদি আরব ও তুরস্ক সফরে থাকা মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মাইক পম্পেও’র কাছ থেকে তিনি বিস্তারিত জানার আশা করছেন। এই সপ্তাহের শেষ দিকেই সত্য বেরিয়ে আসবে। তবে সৌদি আরবকে রক্ষার চেষ্টার কথা অস্বীকার করেছেন ট্রাম্প। তিনি বলেন, না, কোনওভাবেই না। আমি শুধু জানতে চাই সত্যিকার অর্থে কী ঘটেছে। এর আগে খাশোগির নিখোঁজের ঘটনায় দুর্ব‍ৃত্তরা জড়িত থাকতে পারে বলে দাবি করেছিলেন ট্রাম্প। সৌদি নেতাদের দিকে অভিযোগ তোলার বিষয়ে তিনি সতর্কতা অবলম্বন করেছেন। তিনি বলেছেন, নির্দোষ প্রমাণিত হওয়ার আগ পর্যন্ত তাদেরকে অপরাধী বিবেচনা করা হচ্ছে। তদন্তের শুরু থেকেই খাশোগিকে হত্যার একটি অডিও প্রমাণ হাতে থাকার দাবি করে আসছে তুরস্ক। ওই অডিও রেকর্ডিং পুরোপুরি শুনেছেন এমন এক তুর্কি সূত্র মধ্যপ্রাচ্যভিত্তিক সংবাদমাধ্যম মিডলইস্ট আইয়ের কাছে দাবি করেন, ২ অক্টোবর মাত্র সাত মিনিটে পুরো হত্যাকাণ্ড সম্পাদিত হয়েছে। ওই সূত্র দাবি করেছে, খাশোগিকে হত্যার উদ্দেশ্যে সৌদি আরবের জেনারেল সিকিউরিটি বিভাগের ফরেনসিক প্রমাণ সংক্রান্ত প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করা সালাহ মোহাম্মদ আল তুবাইগিসহ ১৫ জনের একটি দল প্রাইভেট জেটে করে ওইদিন সকালে আঙ্কারা পৌঁছান। দূতাবাসের কনসাল জেনারেলের অফিস থেকে খাশোগিকে টেনেহিঁচড়ে কনসাল জেনারেলের পড়ার ঘরে নিয়ে যাওয়া হয়। সে সময় উপরে প্রচণ্ড চিৎকারের আওয়াজ শুনতে পেয়েছিলেন বলে জানিয়েছেন সেখানে নিচতলায় উপস্থিত থাকা এক ব্যক্তি। কিছুক্ষণ পর তার চিৎকার বন্ধ হয়ে যায়। কারণ, তাকে চেতনানাশক কিছু দেওয়া হয়েছিল। এর মধ্যে মঙ্গলবার সৌদি কনসাল মোহাম্মদ আল-ওতাইবি তুরস্ক ছেড়ে রিয়াদ চলে গেছেন।
বউকে বৃষ্টিতে ফেলে ছাতা মাথায় ট্রাম্প
অনলাইন ডেস্ক: আবারও ঘরের খবর পরকে জানিয়ে দিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ট্রাম্প-মেলানিয়া সম্পর্ক কেমন, তা তাঁদের আচরণ দেখেই বুঝে নিল সমালোচকেরা। গত সোমবার ঘূর্ণিঝড়ে বিধ্বস্ত ফ্লোরিডা অঙ্গরাজ্য পরিদর্শনে যান মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। এর আগে সেখানে যাওয়ার উদ্দেশে হোয়াইট হাউস থেকে যখন বের হন, বেশ বৃষ্টি হচ্ছিল। বৃষ্টি দেখে একটা ঢাউস আকারের ছাতা নিয়ে বের হন ট্রাম্প। মূলত হোয়াইট হাউসের বাইরে অপেক্ষায় থাকা টিভি সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলতে চাচ্ছিলেন তিনি। এ সময় স্ত্রী মেলানিয়া এসে তাঁর সঙ্গে যোগ দেন। কিন্তু ট্রাম্পের সেদিকে কোনো ভ্রুক্ষেপই নেই। নিজের মাথার ওপর ছাতা ধরে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলতে শুরু করেন তিনি। মেলানিয়া ভিজতে থাকেন বৃষ্টিতে। ইয়াহু নিউজের এক প্রতিবেদনে বলা হয়, ট্রাম্পের এই আচরণে ব্যাপক সমালোচনা হচ্ছে টুইটারে। একজন টুইট করেন, বৃষ্টিতে কেবল নিজের মাথার ওপর বিশাল আকারের ছাতা ধরে থাকলেন ট্রাম্প। পাশে থাকা স্ত্রী ভিজছিলেন, এ দৃশ্য অনেক কিছুই বলে দেয়। আরেক ব্যক্তি টুইট করেন, কেন কেউ এটা বলছে না যে, টিভিতে সাক্ষাৎকার দেওয়ার জন্য ট্রাম্প বৃষ্টির মধ্যে তাঁর স্ত্রীকে ফেলে একা ছাতা মাথায় দিয়ে হাঁটছিলেন। তবে মেলানিয়াকে এর আগেও বৃষ্টির মাঝে ফেলে গিয়েছিলেন ট্রাম্প। গত জানুয়ারিতে ওয়াশিংটন ডিসির ওয়েস্ট পাম বিচ বিমানবন্দরে এয়ারফোর্স ওয়ানে ওঠার সময় ঝড়বৃষ্টির মধ্যে স্ত্রী–সন্তানকে ফেলে ছাতা হাতে একাই এগিয়ে যান ট্রাম্প। ওই সময়ও ব্যাপক সমালোচনার মুখে পড়েন ট্রাম্প। এ ছাড়া বিভিন্ন সময় ট্রাম্প-মেলানিয়া সম্পর্ক যে সুবিধের নয় তা বোঝা গেছে দুজনের আচরণেই। বেশ কিছুদিন ধরেই প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প বিবাহবহির্ভূত সম্পর্ক থাকার কথা অস্বীকার করে এলেও পর্নো তারকা স্টর্মি ড্যানিয়েল ও সাবেক প্লেবয় মডেল কারেন ম্যাকডোগাল ট্রাম্পের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক থাকার অভিযোগ করে আসছেন। এসব অভিযোগ সামনে আসার পর মেলানিয়ার সঙ্গে ট্রাম্পের সম্পর্ক নিয়ে গণমাধ্যমে নেতিবাচক খবর প্রকাশিত হতে শুরু করে। গুঞ্জন ওঠে, তাঁদের সম্পর্ক অবনতির দিকে যাচ্ছে, আলাদা থাকছেন ট্রাম্প ও মেলানিয়া। তবে সম্প্রতি নিজের বৈবাহিক জটিলতার গুঞ্জনকে গুজব বলে উড়িয়ে দিয়েছেন মার্কিন ফার্স্ট লেডি মেলানিয়া ট্রাম্প। মার্কিন সংবাদমাধ্যম এবিসি নিউজকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি দাবি করেছেন, স্বামী ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে ভালো আছেন। মেলানিয়া স্পষ্ট করে বলেছেন, ট্রাম্পের বিবাহবহির্ভূত সম্পর্ক তাঁর উদ্বেগ বা মনোযোগের বিষয় নয়। মেলানিয়া ট্রাম্প বলেন, তিনি স্বামী ডোনাল্ড ট্রাম্পকে ভালোবাসেন। তাঁদের সম্পর্ক নিয়ে গণমাধ্যমের কাভারেজ সব সময় সঠিক নয়। মেলানিয়া বলেন, আমি জানি, কোনটা সত্যি আর কোনটা সত্যি নয়। আমি একজন মা ও একজন ফার্স্ট লেডি। এগুলো ছাড়াও আমার অনেক গুরুত্বপূর্ণ কাজ রয়েছে।
রাশিয়া-ভারতের উষ্ণ সম্পর্কে উদ্বিগ্ন ইসরায়েল!
অনলাইন ডেস্ক: বিশ্বের ক্ষমতাধর দেশগুলো নিজেদের সামরিক শক্তি বৃদ্ধিতে মুখিয়ে আছে। তারই জের ধরে রাশিয়ার কাছ থেকে এস-৪০০ বিমান বিধ্বংসী প্রতিরক্ষাব্যবস্থা কিনেছে ভারত। আর রাশিয়া-ভারতের মধ্যকার উষ্ণ সম্পর্কে উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছে ইসরায়েল। এ ব্যাপারে ইসরায়েলের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার এক সিনিয়র কর্মকর্তা বলেছেন, ভারতের অস্ত্র বাজারে রাশিয়া আক্রমণ চালাচ্ছে। তারা বিমান প্রতিরক্ষাব্যবস্থা সরবরাহ করছে। তবে এখানেই এটি সমাপ্ত হবে না। এর আগে ভারত যখন ইঙ্গিত দিয়েছিল যে তারা রাশিয়া থেকে আরও অস্ত্র কিনবে, তখন তেল আবিব আশঙ্কা করেছিল যে এর ফলে ইসরাইলের ভারতে অস্ত্র বিক্রিতে প্রভাব ফেলবে। পরে ইসরায়েল অনেক ধরনের আধুনিক অস্ত্র বিক্রি করেছিল ভারতের কাছে। এসব অস্ত্রের মধ্যে ছিল ইসরায়েলের আইএআই ও ভারত সরকারের যৌথ উদ্যোগে তৈরি বারাক ৬ ক্ষেপণাস্ত্র। উল্লেখ্য, মার্কিন অবরোধের হুমকি সত্ত্বেও সম্প্রতি ভারত ও রাশিয়া আনুষ্ঠানিকভাবে পাঁচটি এস-৪০০ ট্রায়াম্ফ ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা কেনার জন্য ৫.৪৩ বিলিয়ন ডলারের প্রতিরক্ষা চুক্তি করেছে।
৪ নির্বাচনী কর্মকর্তা মালদ্বীপ ছেড়ে পালালেন
অনলাইন ডেস্ক: দ্বীপদেশ মালদ্বীপের রাজনীতি ফের সরগরম হয়ে উঠেছে। দেশটির সাবেক প্রধানমন্ত্রী আব্দুল্লাহ ইয়ামিন ভোটের ফল চ্যালেঞ্জ করে আদালতে গেছেন। এরই মধ্যে জানা গেছে, মালদ্বীপের নির্বাচন কমিশনের চার কর্মকর্তা দেশ ছেড়ে পালিয়েছেন। তাদের মধ্যে তিনজন শ্রীলংকায় গিয়ে আশ্রয় নিয়েছেন। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক কর্মকর্তা বলেন, হুমকির কারণে আমি দেশ ছেড়েছি। এসব কর্মকর্তার আশঙ্কা, মালদ্বীপে থাকলে যে কোনো মুহূর্তে খুন হয়ে যেতে পারেন। গত ফেব্র“য়ারি থেকেই টালমাটাল এই দ্বীপরাষ্ট্রের রাজনীতি। -খবর আনন্দবাজারপত্রিকা অনলাইনের। তৎকালীন প্রেসিডেন্ট ইয়ামিন হঠাৎ করেই দেশে জরুরি অবস্থা জারি করেন। বিরোধীদের কারাগারে ঢোকান। সুপ্রিমকোর্টের বিচারপতিরাও বাদ পড়েননি সেই সময়। কিন্তু গত সেপ্টেম্বরের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে হেরে যায় ইয়ামিনের দল প্রোগ্রেসিভ পার্টি অব মালডিভস। ইয়ামিন পুনর্র্নিবাচনের দাবি তুললেও আগামী নভেম্বরেই নতুন জোটের সরকার গঠন করার কথা। জোট সরকারের নেতৃত্বে রয়েছেন মালডিভিয়ান ডেমোক্র্যাটিক পার্টির নেতা ইব্রাহিম মহম্মদ সোলিহ। এ পরিস্থিতিতে ভোটের ফল চ্যালেঞ্জ করে সুপ্রিমকোর্টের দ্বারস্থ হন ইয়ামিন। নির্বাচন কমিশনের যে চার কর্মী শ্রীলংকায় চলে গেছেন, তাদের মধ্যে তিনজন এখন কলম্বোয়। বাকি একজন কোথায়, তা জানা যায়নি। দেশে এখনও রয়েছেন দুই নির্বাচনী কর্মকর্তা। তবে ওই চারজন যে দেশ ছেড়ে পালিয়েছেন, সে সম্পর্কে ওয়াকিফহাল ইয়ামিনের দল। তাদের দাবি, সরকারের তরফে প্রাণ সংশয়ের অভিযোগ একেবারে ভিত্তিহীন।
ওয়াশিংটনে বাতিল হচ্ছে মৃত্যুদণ্ড
অনলাইন ডেস্ক: মৃত্যুদণ্ডের বদলে যাবজ্জীবনের বিধান করছে যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াশিংটন অঙ্গরাজ্য। ওয়াশিংটন হবে যুক্তরাষ্ট্রের ২০তম অঙ্গরাজ্য যেখানে মৃত্যুদণ্ডের বিধান বাতিল করা হচ্ছে। স্থানীয় সময় গত বৃহস্পতিবার সেখানকার সুপ্রিম কোর্ট মৃত্যুদণ্ডের বিধানকে বৈষম্যমূলক আচরণ ব্যাখ্যা করে এই বিধান নিষিদ্ধ করার সিদ্ধান্ত নেয়। জানা যায়, সেখানে মৃত্যুদণ্ডের অপেক্ষায় থাকা আট আসামির সাজা কমিয়ে যাবজ্জীবন করা হয়েছে।এই রায়ের প্রশংসা করেছেন মানবাধিকার কর্মীরা। গত বছর যুক্তরাষ্ট্রে ২৩ জনের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়েছিল। তবে ২০১০ সাল থেকে ওয়াশিংটনে কারও মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়নি। বৃহস্পতিবার ওয়াশিংটন সুপ্রিম কোর্টের বিচারকরা মৃত্যুদণ্ডের আইন বাতিলে সম্মত হয়েছেন। ১৯৯৬ সালে ধর্ষণ ও হত্যার অভিযোগে মৃত্যুদণ্ড পাওয়া অ্যালেন ইউজিন গ্রেগরি শাস্তির বিরুদ্ধে আপিল করেন। আপিল আবেদনে একটি গবেষণা প্রতিবেদন তুলে ধরা হয়। যেখানে বলা হয়েছে, যে কোনও শ্বেতাঙ্গের চেয়ে কৃষ্ণাঙ্গের মৃত্যুদণ্ড পাওয়ার সম্ভাবনা সাড়ে চার গুণ বেশি। বিচারকরা বলেন, ওয়াশিংটনে মৃত্যুদণ্ড কাঙ্খিত লক্ষ্য পূরণে ব্যর্থ হচ্ছে। একে বৈষম্যমূলকভাবে ব্যবহার করা হচ্ছে। অঙ্গরাজ্য গভর্নর জে ইনস্লি এক টুইটে বলেন, অনেকদিন ধরেই অভিযোগ ছিলো যে ওয়াশিংটনে মৃত্যুদণ্ড সমঅধিকার নিশ্চিত করতে ব্যর্থ। এখানে কোনও কিছুই স্বচ্ছ কিংবা সমতা ছিলো না। যুক্তরাজ্যভিত্তিক মানবাধিকার সংগঠন অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালের যুক্তরাষ্ট্র শাখার মুখপাত্র ক্রিস্টিনা রোথ বলেন, যারা ওয়াশিংটনে এই বিধান বিলুপ্তের জন্য লড়াই করেছেন এটা সবার জন্য দারুণ খবর। অমানবিক এই বিধান থেকে এ নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের ২০টি অঙ্গরাজ্য বেরিয়ে আসলো। সব জায়গাতেই এই আইন নিষিদ্ধ করা উচিত। শীর্ষ নিউজ

আন্তর্জাতিক পাতার আরো খবর