গুয়াতেমালায় আগ্নেয়গিরিতে মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৬৫
গুয়াতেমালার ফুয়েগো আগ্নেয়গিরি বিস্ফোরণে উৎক্ষিপ্ত উত্তপ্ত ধূলি ও ধ্বংসস্তূপের নিচ থেকে উদ্ধারকর্মীরা আরো লাশ উদ্ধার করেছে। এই নিয়ে প্রাকৃতিক এই ভয়াবহ দুর্যোগে মৃতের সংখ্যা বেড়ে অন্তত ৬৫ জনে দাঁড়িয়েছে। ডিজাস্টার রিলিফ এজেন্সির মুখপাত্র ডেভিড ডি লিওন ব্রিফিংকালে বলেন, এই ঘটনায় অন্তত ৬৫ জন মারা গেছে। রবিবারের এই প্রাকৃতিক দুর্যোগে ৪৬ জন আহত হয়েছে। এদের অধিকাংশের অবস্থাই গুরুতর। এছাড়াও এতে এস্কুউনটলা, সাকাটেপেকুয়েজ ও চিমাল্টেনাঙ্গো বিভাগে ১৭ লাখের বেশি লোক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এদের মধ্যে ৩ হাজার ২৭১ জনকে অন্যত্র চলে যাবার নির্দেশ দেয়া হয়েছে এবং ১ হাজার ৭৮৭ জন আশ্রয় শিবিরে অবস্থান নিয়েছে। রবিবার ভোরে অগ্ন্যুৎপাতের ফলে আকাশের ৩ হাজার ৭৬৩ মিটার উঁচুতে ছাইমেঘ, উত্তপ্ত কাদামাটি ও পাথরকণা ছড়িয়ে পড়ে। পার্বত্য দক্ষিণাঞ্চলে উদ্ধারকার্যক্রম শুরুর পর মৃতের সংখ্যা আরো বাড়তে পারে বলে কর্তৃপক্ষ সতর্ক করেছে। প্রাথমিকভাবে ২৫ জন মারা যাবার পর কয়েক ঘণ্টার মধ্যে মৃতের সংখ্যা দ্রুত বাড়তে থাকে। উত্তপ্ত কাদামাটির নিচ থেকে লাশগুলো উদ্ধার করা হয়। গুয়াতেমালার দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা সংস্থার কর্মকর্তা সার্গিও কাবানাস বলেন, ‘এখনও বহু লোক নিখোঁজ রয়েছেন। তবে আমরা তাদের সঠিক সংখ্যা জানি না।’ উত্তপ্ত লাভা এতো দ্রুত ওই পার্বত্য পাদদেশের বাসিন্দাদের কাছে চলে আসে যে ঘটনার আকস্মিকতায় তারা স্তম্ভিত হয়ে পড়ে। অনেককে তাদের বাড়ি ও এর আশপাশে মৃত পাওয়া গেছে। কাবানাস বলেন, রোববার দ্রুতগতিতে আসা উত্তপ্ত গলিত লাভা থেকে যারা পালিয়ে যেতে পারেননি তারা মারা গেছেন। দ্রুতগতিতে ধেয়ে আসা লাভা তাদের গ্রাস করে। উত্তরাঞ্চলে সবচেয়ে বেশি ক্ষতি হয়েছে। নিহতদের মধ্যে বেশ কয়েকজন শিশু রয়েছে। সান মিগুয়েল লস লোটেস গ্রামের ধ্বংসস্তূপের ভেতর থেকে অন্তত তিনটি দগ্ধ লাশ পাওয়া গেছে। গ্রামটিতে উদ্ধারকর্মী, সেনা ও পুলিশ সদস্যরা জীবিতদের খোঁজে তল্লাশি চালাচ্ছে। উত্তপ্ত কাদা ও ছাইয়ের মধ্যে বহু মৃত কুকুর, মুরগি ও হাঁস রয়েছে। এগুলো থেকে এখনো ধোঁয়া উড়ছে। প্রেসিডেন্ট জিমি মোরালেস এই ঘটনায় তিন দিনের জাতীয় শোক ঘোষণা করছেন। তিনি দুর্গত এলাকা পরিদর্শন করেছেন।-এএফপি।
আগ্নেয়গিরির অগ্ন্যুৎপাতে নিহত ২৫ গুয়াতেমালায়
গুয়াতেমালার কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, দেশটির ফুয়েগো আগ্নেয়গিরির অগ্ন্যুৎপাতে অন্তত ২৫ জন নিহত ও প্রায় ৩০০ জন আহত হয়েছেন। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম বিবিসি জানায়, দেশটির রাজধানী গুয়াতেমালা সিটির প্রায় ৪০ কিলোমিটার দক্ষিণ-পশ্চিমের ওই আগ্নেয়গিরিটি থেকে কালো ধোঁয়া ও ছাই উদগীরণ হচ্ছে। গুয়াতেমালার জাতীয় দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা সংস্থা (কনরেড) জানিয়েছে, লাভার একটি স্রোত এল রোদেও গ্রামের ঘরবাড়ি ধ্বংস করে ভিতরে থাকা লোকজনকে দগ্ধ করেছে। এদিকে, আগ্নেয়গিরির ছাইয়ের কারণে গুয়াতেমালা সিটির লা অরোরা বিমানবন্দর বন্ধ করে রাখা হয়েছে। গুয়াতেমালার প্রেসিডেন্ট জিমি মোরালেস জানিয়েছেন, সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনায় জরুরি পদক্ষেপ নেওয়া শুরু করা হয়েছে। স্থানীয় বিশেষজ্ঞদের বক্তব্য অনুযায়ী ১৯৭৪ সালের পর দেশটিতে এটিই সবচেয়ে বড় অগ্ন্যুৎপাতের ঘটনা। কনরেডের প্রধান সের্হিও কাবানিয়াস স্থানীয় রেডিও স্টেশনকে জানিয়েছেন, লাভার একটি নদী এল রোদেওর দিকে দিক পরিবর্তন করে। “এটি লাভার একটি নদী, এটি উপচে পড়ে এল রোদেও গ্রামকে আক্রান্ত করেছে। এখানে অনেকে আহত হয়েছেন, দগ্ধ হয়েছেন এবং মারা গেছেন। “দুর্ভাগ্যজনকভাবে এল রোদেও গ্রামটি লাভার নিচে চাপা পড়েছে আর লাভার কারণে আমরা লা লিবার্তাদ গ্রামেও পৌঁছতে পারছি না, সম্ভবত ওখানেও লোকজন মারা পড়েছে।” কাবানিয়াস পরে জানিয়েছেন, মৃতদের মধ্যে তার সংস্থার এক কর্মীও রয়েছেন।
রোহিঙ্গাদের নিতে রাজি মিয়ানমার
মিয়ানমারের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা থাউং তুন বলেছেন, স্বেচ্ছায় ফিরে যেতে চাইলে বাংলাদেশে পালিয়ে আসা ৭ লাখ রোহিঙ্গাদের সবাইকে ফিরিয়ে নিতে রাজি মিয়ানমার। শনিবার সিঙ্গাপুরে আঞ্চলিক নিরাপত্তা সম্মেলন শাংরি-লা সংলাপে একথা বলেন তিনি। নিরাপত্তা সম্মেলনে মিয়ানমারের নিরাপত্তা উপদেষ্টাকে প্রশ্ন করা হয়— রাখাইন রাজ্যের পরিস্থিতি কি মিয়ানমারকে জাতিসংঘের আরটুপি (রেসপন্সসিভিলিটি টু প্রটেক্ট) ফ্রেমওয়ার্ক চালুর দিকে নিয়ে যাবে? কথিত এই আরটুপি ফ্রেমওয়ার্কটি ২০০৫ সালে জাতিসংঘের বিশ্ব সম্মেলনে গ্রহণ করা হয়। এর মধ্য দিয়ে গণহত্যা, যুদ্ধাপরাধ, জাতিগত নিধনযজ্ঞ ও মানবতাবিরোধী অপরাধ থেকে নিজ দেশের জনগণকে রক্ষা এবং এই প্রতিশ্রুতিকে ঊর্ধ্বে তুলে ধরতে এক দেশ অন্য দেশকে সহযোগিতা করবে। জবাবে নিরাপত্তা উপদেষ্টা বলেন, স্বেচ্ছায় যদি ৭ লাখকে ফেরত পাঠানো যায় তাহলে আমরা তাদের গ্রহণে আগ্রহী। এটাকে কি জাতিগত নিধনযজ্ঞ বলা যায়? থাউং তুন বলেন, সেখানে কোনও যুদ্ধ চলছে না, তাই এটা যুদ্ধাপরাধ নয়। মানবতাবিরোধী অপরাধের বিষয়টি কিছুটা বিবেচনা করা যেতে পারে। কিন্তু আমাদের অকাট্য প্রমাণ লাগবে। এই গুরুতর অপরাধ প্রমাণিত হতে হবে এবং তা নিয়ে হালকাভাবে আলোচনা করা উচিত নয়। থাউং তুন আরো জানান, রাখাইনের যে আখ্যান প্রকাশিত হচ্ছে তা ‘অসম্পূর্ণ ও বিভ্রান্তিকর’। তিনি বলেন, রাখাইনের উত্তরাঞ্চলে যে মানবিক সংকট সৃষ্টি হয়েছে মিয়ানমার সেটাকে অস্বীকার করছে না। রাখাইনের মুসলিম জনগোষ্ঠী যে ভুক্তভোগী তা অস্বীকার করা হচ্ছে না। বৌদ্ধ ধর্মালম্বী রাখাইন, হিন্দু ও অন্যান্য সংখ্যালঘুরাও কম নিপীড়িত হচ্ছে না। স্বদেশকে রক্ষার অধিকার রয়েছে সেনাবাহিনীর। তদন্তে যদি প্রমাণিত হয় তারা আইন লঙ্ঘন করেছে তাহলে পদক্ষেপ নেওয়া হবে। এদিকে জাতিসংঘ ও বিভিন্ন দাতা সংস্থা রোহিঙ্গাদের বিরুদ্ধে এই নিপীড়নকে জাতিগত নিধনযজ্ঞের পাঠ্যপুস্তকীয় উদাহরণ হিসেবে উল্লেখ করেছে। যুক্তরাষ্ট্র এই ঘটনাকে জাতিগত নিধনযজ্ঞ হিসেবে আখ্যায়িত করেছে। তবে বরাবরই নিজের বিরুদ্ধে আনা এই অভিযোগ অস্বীকার করে আসছে মিয়ানমার। এছাড়া রোহিঙ্গাদের নিজ দেশে ফেরত পাঠাতে গত বছরের নভেম্বরে বাংলাদেশ-মিয়ানমারের মধ্যে চুক্তি হলেও মিয়ানমারের অসহযোগিতার কারণে তা কার্যকরে তেমন কোনো অগ্রগতি নেই।
সৌদি মন্ত্রীসভায় রদবদল
শনিবার ভোরে বেশ কিছু সৌদি রয়াল ডিক্রি জারি হয়েছে। মন্ত্রীসভায় রদবদল সহ বেশকিছু গুরুত্বপূর্ণ পদে ব্যাপক পরিবর্তন এসেছে। এর মধ্যে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন হল লেবার মিনিস্টারের পরিবর্তন। ড. আলী বিন নাসের আল গুফাইসের পরিবর্তে নতুন মন্ত্রী হিসেবে ঐতিহ্যবাহী ব্যবসায়ী পরিবার আল রাজেহী পরিবারের ইঞ্জিনিয়ার আহমাদ বিন সুলাইমান আল রাজেহী নিয়োগ পেয়েছেন। সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের নাম পরিবর্তন করে নতুন নাম করণ করা হয়েছে তথ্য মন্ত্রণালয়। আর এই মন্ত্রণালয়ের নতুন মন্ত্রী করা হয়েছে আল উলা প্রদেশের গভর্নর প্রিন্স বাদর বিন আব্দুল্লাহ বিন মোহাম্মদ বিন ফারহান আল সৌদকে। ধর্মীয় পুলিশের সাবেক প্রধান শেইখ আব্দুল লতিফ আল শেইখকে ইসলামিক অ্যাফেয়ার্স বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের নিযুক্ত করা হয়েছ।
রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে জাতিসংঘের সঙ্গে চুক্তি
বাংলাদেশ থেকে কয়েক লাখ রোহিঙ্গাকে রাখাইনে প্রত্যাবাসনের বিষয়ে সহযোগিতায় মিয়ানমারের সঙ্গে চুক্তি করতে যাচ্ছে বলে জানিয়েছে জাতিসংঘের ‍দুটি সংস্থা। রয়টার্স জানিয়েছে, জাতিসংঘের শরণার্থী বিষয়ক সংস্থা ইউএনএইচসিআর ও উন্নয়ন সংস্থা ইউএনডিপি এ চুক্তি করতে যাচ্ছে। ইউএনএইচসিআর এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, পরিস্থিতি এখনও রোহিঙ্গাদের স্বেচ্ছায় ফেরার জন্য সহায়ক না হওয়ায় ওই অবস্থার পরিবর্তনের জন্য সরকারের উদ্যোগে সহযোগিতা করতে এই সমঝোতা স্মারক প্রথম ও প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ। এক বিবৃতিতে মিয়ানমার সরকার জানিয়েছে, শিগগিরই এই সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হবে এবং জাতিসংঘের সংস্থাগুলো কমিউনিটিভিত্তিক কর্মকাণ্ড ডিজাইন ও বাস্তবায়নের মাধ্যমে রাখাইনে রোহিঙ্গাদের বসবাসে সহযোগিতা করবে। গত বছরের ২৫ আগস্ট রাখাইনে সেনাবাহিনী রোহিঙ্গাদের বিরুদ্ধে দমন অভিযান শুরু করে। প্রাণে বাঁচতে এ পর্যন্ত প্রায় সাত লাখ রোহিঙ্গা বাংলাদেশে আশ্রয় নিয়েছে। জাতিসংঘ ও অন্যান্য মানবাধিকার সংস্থাগুলো রোহিঙ্গা নির্যাতনের এই চিত্রকে ‘জাতিগত নিধন’ বলে উল্লেখ করেছে। দুই বছরের মধ্যে রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবাসনে গত জানুয়ারিতে ঐক্যমতে পৌঁছায় বাংলাদেশ ও মিয়ানমার। তবে পরিকল্পনা বাস্তবায়নে দুই দেশের মধ্যে কিছুটা মতবিরোধ রয়ে গেছে। পৃথক বিবৃতিতে বৃহস্পতিবার মিয়ানমার সরকার জানিয়েছে, রাখাইনে ‘মানবাধিকার লঙ্ঘন ও সংশ্লিষ্ট বিষয়ে’ তদন্তের জন্য তারা পৃথক একটি কমিটি করবে। কমিটিকে সহায়তা করবে আন্তর্জাতিক বিশেষজ্ঞরা।
যৌন নিপীড়নের বিরুদ্ধে আইন প্রণয়ন করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সৌদি
যৌন নিপীড়নের বিরুদ্ধে আইন প্রণয়ন করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সৌদি আরব। যে কোনও ধরনের যৌন নিপীড়নের ঘটনায় সর্বোচ্চ ৫ বছরের কারাদণ্ডের বিধান রেখে নতুন ওই আইন প্রণীত হতে যাচ্ছে। মঙ্গলবার দেশটির মন্ত্রিসভায় (শূরা কাউন্সিল) অনুমোদন পাওয়া ওই খসড়া আইনে যৌন নিপীড়নের সর্বোচ্চ সাজা পাঁচ বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড ও ৮০ হাজার ডলার পর্যন্ত জরিমানার বিধান রাখা হয়েছে। এখন সৌদি বাদশা এ নিয়ে ডিক্রি জারি করলে খসড়া আইনটি চূড়ান্ত অনুমোদন পাবে। কট্টর রক্ষণশীল ধারার দেশটিতে যুবরাজ মোহাম্মাদ বিন সালমানের চলমান কথিত সংস্কার প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হলো। উল্লেখ্য, বিপুল নারী অধিকারকর্মীকে আটকের ঘটনা চলমান থাকায় যুবরাজের সেই সংস্কার প্রক্রিয়া ইতোমধ্যেই প্রশ্নের মুখে পড়েছে। মধ্যপ্রাচ্যবিষয়ক সংবাদমাধ্যম মিডল ইস্ট আই জানিয়েছে, যৌন হয়রানি বন্ধে আইন প্রণয়নে সৌদি আরবের সুরা কাউন্সিলের উপদেষ্টা পরিষদের বৈঠকে খসড়াটির অনুমোদন দেওয়া হয়। মন্ত্রিসভায় অনুমোদন পাওয়া এই খসড়া আইনে যৌন হয়রানির জন্য পাঁচ বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড ও ৮০ হাজার ডলার পর্যন্ত জরিমানার বিধান রাখা হয়েছে। এর আইনে সেখানে যৌন নিপীড়নের বিরুদ্ধে কোনও আইনি পদক্ষেপের সুযোগ ছিল না। সুরা কাউন্সিলের সদস্য লতিফা আল সালানকে উদ্ধৃত করে দেশটির তথ্য মন্ত্রণালয়ের বিবৃতিতে বলা হয়, খসড়া বিলটি সৌদি আরবের আইনের ইতিহাসে খুবই গুরুত্বপূর্ণ সংযোজন। তিনি আরও বলেন, এটার মাধ্যমে একটি বড় আইনি শূন্যতা পূরণ হলো। যৌন হয়রানি রোধে এটা একটা বড় উদ্যোগ। ২০৩০ সাল নাগাদ তেল নির্ভরতা কমিয়ে দেশের অর্থনীতি বহুমুখী করতে সৌদি আরবে পরিচালিত হচ্ছে সংস্কার উদ্যোগ। সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান সেই উদ্যোগের অংশ হিসেবে আধুনিকীকরণ প্রক্রিয়া শুরু করেন। সেই প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে গতবছর নারীদের গাড়ি চালানোর ওপর নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয় সৌদি আরব যা আগামী ২৪ জুন থেকে কার্যকর হবে। তবে সম্প্রতি ১১ জন মানবাধিকার কর্মীকে গ্রেফতারের ঘটনায় সৌদি যুবরাজের কর্মকাণ্ড নিয়ে সমালোচনা শুরু হয়েছে। গ্রেফতারকৃতদের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে নারীদের অধিকার আদায়ের আন্দোলন করে যাওয়া সুপরিচিত কর্মীরাও রয়েছেন। সৌদি সরকারের দাবি, বিদেশি শক্তির সঙ্গে সন্দেহমূলক যোগাযোগ চালানোর জন্য এসব আন্দোলনকর্মীকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে শত্রুদের আর্থিক সহায়তা দেওয়া ও দেশের নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতা বিঘ্নিত করার চেষ্টার অভিযোগ আনা হয়। কর্মক্ষেত্রে নারীদের অংশগ্রহণ বাড়াতে সৌদি সরকার উচ্চাকাঙ্ক্ষী পরিকল্পনা ঘোষণা করলেও এখনও দেশটিতে নারীদের জন্য অন্যতম বড় বড় কয়েকটি নিষেধাজ্ঞা রয়েছে। এখনও সৌদি আরবে নারীদের পুরুষ অভিভাবকত্ব ব্যবস্থা প্রচলিত। আইন অনুযায়ী নারীদের পড়াশুনা, ভ্রমণ বা অন্য কোনও কাজের জন্য বাবা, স্বামী বা ভাইয়ের অনুমতির দরকার পড়ে। সৌদি অ্যাকটিভিস্টদের দাবি নারী অধিকারের লড়াইয়ের জন্য এই অভিভাবকত্ব একটি বড় ইস্যু। ২০১১ সাল থেকে প্রায় ৩০ জন অ্যাকটিভিস্ট ও বিদ্রোহীর বিরুদ্ধে রায় দিয়েছে সৌদি আদালত। এইচআরডব্লিউ এর মতে এদের অনেককেই ১৫ বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
ডোনাল্ড ট্রাম্প ও উত্তর কোরিয়ার নেতা কিম জং উনের মধ্যকার বৈঠকে যোগ দিতে পারেন প্রেসিডেন্ট মুন
আন্তর্জাতিক মহলে উত্তেজনার অবসান ঘটিয়ে অবশেষে বৈঠকে বসতে যাচ্ছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও উত্তর কোরিয়ার সর্বোচ্চ নেতা কিম জং উন। আর তারই জের ধরে দক্ষিণ কোরিয়ার কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও উত্তর কোরিয়ার নেতা কিম জং উনের মধ্যকার বৈঠকে যোগ দিতে পারেন প্রেসিডেন্ট মুন জায়ে-ইন।তবে ব্লু হাউজের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, প্রেসিডেন্ট মুনের ওই বৈঠকে যোগ দেয়া না দেয়া নির্ভর করছে যুক্তরাষ্ট্র ও উত্তর কোরিয়ার কর্মকর্তাদের মধ্যকার বৈঠকের ওপর।এর আগে রবিবার ওই বৈঠকের ব্যাপারে আলোচনা করতে যুক্তরাষ্ট্রের কয়েকজন কর্মকর্তা উত্তর কোরিয়া এসেছেন।আগামী ১২ জুন সিঙ্গাপুরে ট্রাম্প-কিমের ঐতিহাসিক সেই বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে
স্টুপিড বললেন উত্তর কোরিয়া মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্টকে
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট মাইক পেন্সকে ‘স্টুপিড’ বলে অভিহিত করেছেন উত্তর কোরিয়ার এক কর্মকর্তা। সেই সঙ্গে সতর্ক করে দিয়ে বলেছেন, কূটনীতি ব্যর্থ হলে উত্তর কোরিয়া ‘পরমাণু শোডাউন’ শুরু করতে পারে। বৃহস্পতিবার উত্তর কোরিয়ার ওই কর্মকর্তা জানান, পিয়ংইয়ং আলোচনার জন্য যুক্তরাষ্ট্রের কাছে করজোড় করবে না অথবা তাদেরকে আলোচনায় বসতে প্ররোচিতও করবে না। আগামী ১২ জুন সিঙ্গাপুরে সম্মেলন হওয়ার কথা ছিল যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও উত্তর কোরিয়ার নেতা কিম জং উনের মধ্যে। তবে সাম্প্রতিককালে উভয়পক্ষই একে অপরকে সতর্ক করে দিয়ে বলেছে, আগামী ১২ জনের সম্মেলন বিলম্বিত কিংবা প্রত্যাহার হতে পারে। ফলে কার্যত সম্মেলনের ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে। পিয়ংইয়ং জানায়, যুক্তরাষ্ট্র যদি একতরফাভাবে উত্তর কোরিয়াকে পরমাণু অস্ত্র বর্জনের কথা বলে তবে তারা দেশটির সঙ্গে আলোচনায় যাওয়ার সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনা করবে। আগে মঙ্গলবার ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেন, উত্তর কোরিয়াকে আলোচনায় বসতে হলে আগে শর্ত পূরণ করতে হবে। গত কয়েক দশকে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে উত্তর কোরিয়ার কূটনৈতিক আলোচনায় জড়িত ছিলেন চো সান-হি নামের উত্তর কোরিয়ার ওই কর্মকর্তা। দেশটির রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা কেসিএনএ’র এক প্রতিবেদনে এই নারী কূটনীতিক বলেন, সাম্প্রতিককালে মাইক পেন্স মিডিয়ায় লাগামহীন ও ধৃষ্টতাপূর্ণ মন্তব্য করেছেন। তার মন্তব্যে এটিও ছিল যে, উত্তর কোরিয়া লিবিয়ার মতো শেষ হয়ে যাবে। উত্তর কোরিয়াকে লিবিয়ার সাথে তুলনা করায় মাইক পেন্সকে ‘রাজনৈতিক সাক্ষী-গোপাল’ উল্লেখ করে চো সান-হি বলেন, লিবিয়া কেবল কয়েকটি যন্ত্রপাতি ছিল এবং তাই ঢোল পিটিয়ে বেড়াত। উত্তর কোরিয়া এমনটি নয়। যুক্তরাষ্ট্রের রাজনীতিতে সংশ্লিষ্ট একজন ব্যক্তি হিসেবে ভাইস প্রেসিডেন্টের এমন অজ্ঞ ও স্টুপিড বক্তব্য মুখ থেকে নিঃসৃত হওয়া দেখে আমি আমার বিস্ময় প্রকাশের ভাষা হারিয়ে ফেলেছি বলেও উল্লেখ করেন উত্তর কোরিয়ার ওই কর্মকর্তা।

আন্তর্জাতিক পাতার আরো খবর