ক্ষমা চাইবেন ট্রাম্প
মুসলিমবিরোধী একটি টুইটের জন্য ক্ষমা চাইবেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। আইটিভি নামের একটি টেলিভিশনকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প বলেন, আপনারা যদি বলেন যে তারা খুবই ভয়ংকর, ভয়ংকর বর্ণবাদী হন তাহলে তাদের ভিডিও শেয়ার করার জন্য আমি ক্ষমা চাইবো। আর আমার টুইটে যদি কেউ দু:খ পেয়ে থাকেন তাদের কাছেও আমি ক্ষমা চাইবো। উল্লেখ্য, গত নভেম্বরে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প যুক্তরাজ্যের কট্টরপন্থীদের একটি ভিডিও শেয়ার করেন। এ নিয়ে ব্যাপক সমালোচনা হয়। এমনকি ব্রিটিশ সরকারও এই ধরনের কর্মকান্ডের নিন্দা জানায়। তবে এই প্রথম কোনো টুইটে মন্তব্যের জন্য ক্ষমা চাওয়ার কথা জানালেন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প।
মাত্র ৯ ঘন্টায় রেল স্টেশন নির্মান করে বিশ্ব রেকর্ড গড়লো চীন
দ্রুততম সময়ে রেল স্টেশন নির্মান করে বিশ্ব রেকর্ড গড়লো চীন। মাত্র ৯ ঘণ্টায় একটা রেলস্টেশন সম্পূর্ণ তৈরি করে ফেললেন চীনের নির্মাণকর্মীরা। চীনের ফুজিয়ান প্রদেশের লঙ্গিয়ান শহরে দেড় হাজার নির্মাণকর্মী ১৯ তারিখ ওই স্টেশনটি তৈরি শুরু করেন। ২০ তারিখ ভোররাতের মধ্যেই কাজ সম্পূর্ণ হয়ে যায়। মালপত্র বয়ে দিয়ে কর্মীদের সাহায্য করেছিল ৭টি ট্রেন এবং ২৩টি খননযন্ত্র বা ডিগার। এই স্টেশনের মাধ্যমে গানলং শাখা, গানরুইলং শাখা এবং ঝ্যাংলং শাখার সঙ্গে জুড়ল রেলের নতুন শাখা নানলং। শুধু স্টেশন তৈরিই নয়, সিগন্যাল বসানো, রেল ট্র্যাফিক মনিটারিং সিস্টেম তৈরিও করেছেন ওই দেড় হাজার কর্মী। চীনের প্রধান রেল নির্মাণকারী সংস্থার ডেপুটি ম্যানেজার ঝ্যান ডাওসং-এর মতে, ৭টি শাখায় পুরো দলটিকে বিভাজিত করা হয়েছিল। প্রতিটি শাখা নিজস্ব ভূমিকা ঠিকভাবে পালন করার ফলেই এত দ্রুত কাজ হয়েছে। তবে এখনও নানলং শাখা সম্পূর্ণ হতে আরও বাকি আছে। এবছরের শেষের মধ্যেই ২৪৬ কিলোমিটার লম্বা এই রেলরুট তৈরি হবে। এর ফলে দক্ষিণ-পূর্ব চীনের সঙ্গে জুড়ে যাবে মধ্য চীন।
কুয়েতে অবৈধ অভিবাসীদের জন্য সাধারণ ক্ষমা ঘোষণা
কুয়েতের অবৈধ ২৫ হাজার বাংলাদেশির বৈধ হওয়ার সুযোগ পাচ্ছেন। কারণ অবৈধ অভিবাসীদের জন্য সাধারণ ক্ষমা ঘোষণা করেছে দেশটির সরকার। চলতি বছরের ২৯ জানুয়ারি থেকে ২২ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত দেশটিতে অবৈধভাবে বসবাসরত বিভিন্ন দেশের প্রবাসীরা সাধারণ ক্ষমার আওতায় পড়বেন। এবারের সাধারণ ক্ষমায় বিভিন্ন দেশের এক লাখ ৩০ হাজার অবৈধ অভিবাসীর বৈধ হওয়া ও দেশত্যাগের সুযোগ পাবেন। দেশটিতে আনুমানিক ২৫ হাজারের মতো বাংলাদেশি বিভিন্ন কারণে অবৈধ হয়ে বসবাস করছেন। কুয়েতে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত এস এম আবুল কালাম ও বাংলাদেশ দূতাবাসের কাউন্সিলর (শ্রম) আবদুল লতিফ খান এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। বিভিন্ন কারণে অবৈধ হয়ে যারা কুয়েতে বসবাস করছেন, তাদের সাধারণ ক্ষমার সুযোগ গ্রহণ করতে অনুরোধও জানিয়েছেন তারা। এ কাজে কুয়েতে নিযুক্ত বাংলাদেশ দূতাবাস সর্বাত্মক সহযোগিতা করবে বলেও জানান এ দুই কর্মকর্তা। কুয়েত সরকারের ঘোষণা অনুযায়ী, সংশ্লিষ্ট আইনি কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে ভ্রমণে নিষেধাজ্ঞা যাঁদের নেই, সেসব প্রবাসী কারো অনুমতি ছাড়াই কুয়েত ত্যাগ করতে পারবেন। আর যেসব অবৈধ প্রবাসী কুয়েতে বৈধভাবে অবস্থান করতে ইচ্ছুক, তারা অনুমতি প্রদানের শর্ত পূরণ করে জরিমানা আদায় করে কুয়েতে বৈধভাবে থাকতে পারবেন। আগে যারা রেসিডেন্সি আইন লঙ্ঘনের দায়ে গ্রেফতার হয়েছিলেন বা এ সময়ের মধ্যে গ্রেফতার হবেন, তাদের অবিলম্বে নির্বাসনে পাঠানো হবে। এ সুযোগে যারা কুয়েত ত্যাগ করবেন, তাদের বিরুদ্ধে যদি কুয়েতে প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা না থাকে, তাহলে আবার বৈধভাবে কুয়েত আসতে পারবেন তারা। তবে রেসিডেন্সি আইন লঙ্ঘন করেছেন এমন প্রবাসীরা এ সময়ের মধ্যে কুয়েত না ছাড়লে তাদের বিরুদ্ধে নেয়া হবে আইন অনুযায়ী কঠোর ব্যবস্থা। ভবিষ্যতে তাদের আর কোনো সময় কুয়েতে প্রবেশের অনুমতি দেয়া হবে না। সরকারের এই সাধারণ ক্ষমার ঘোষণার খুশি প্রবাসী বাংলাদেশিরা। অনেক দিন ধরেই এ ধরনের সুযোগের অপেক্ষায় ছিলেন বলে জানালেন তারা। ৬০০ দিনার পরিশোধ করে আকামা বা কুয়েতে কাজ করার অনুমতি পাওয়ার এই সুযোগ কাজে লাগিয়ে সেখানে বৈধভাবে বাস করার আগ্রহের কথা সাংবাদিকদের জানান প্রবাসীরা।
সৌদিতে সড়ক দুর্ঘটনায় তিন বাংলাদেশী নিহত
সৌদি আরবের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলীয় আল বাহা প্রদেশে এক সড়ক দুর্ঘটনায় তিন বাংলাদেশীসহ নয় জন নিহত হয়েছে। আহত হয়েছে আরও ছয় জন। রিয়াদে বাংলাদেশ দূতাবাসের দ্বিতীয় সচিব (প্রেস) মোহাম্মদ ফখরুল ইসলাম জানান, গত শনিবার সন্ধ্যায় পাহাড়ী সড়কে একটি গাড়ি দুর্ঘটনায় হতাহতের এ ঘটনা ঘটে। নিহত সবাই বিভিন্ন দেশের শ্রমিক। তাদের মধ্যে বাংলাদেশী তিন জনের নাম মালাম মিয়া, আলম শাহ ও সাইফুল ইসলাম। অন্যদের মধ্যে চার মিসরীয় ও দুই ভারতীয় নাগরিক। দূতাবাসের কর্মকর্তারা জানান, হতাহত সবাই বালজুরাশি হাসপাতালে রোগীর খাবার সরবরাহকারী একটি ক্যাটারিং কোম্পানির কর্মী। ছুটির দিন তারা ওই গাড়িতে করে কুনফুডা কুরি এলাকায় বেড়াতে গিয়েছিলেন। ফেরার পথে গাড়িটি দুর্ঘটনায় পড়ে। দুর্ঘটনার পর সৌদি রেড ক্রিসেন্ট কর্তৃপক্ষ এবং সিভিল ডিফেন্স কর্মীরা আহতদের উদ্ধার করে বালজুরাশির প্রিন্স মাশারি হাসপাতালে পাঠায়। তাদের মধ্যে গুরুতর আহত এক বাংলাদেশী ও দুই ভারতীয়কে পরে আল বাহা কিং ফাহাদ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়েছে।
মার্কিন সিনেট চালু হচ্ছে যুক্তরাষ্ট্রের সরকারি কার্যক্রম, ঐকমত্যে পৌঁছেছে মার্কিন সিনেট
টানা তিনদিন সরকারি কার্যক্রম বন্ধ থাকার পর পুনরায় চালু হচ্ছে যুক্তরাষ্ট্রের সরকারি কার্যক্রম। স্থানীয় সময় সোমবার বিকালে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের অভিবাসন বিষয়ক একটি বাজেটের বিলে স্বাক্ষর করার মাঝ দিয়ে শাটডাউন তুলে নেওয়া হয়েছে। মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএন এ খবর জানিয়েছে। এর আগে, ১৬ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত বাজেট বাড়ানো সংক্রান্ত একটি বিলে সিনেটররা একমত হতে না পারায় শনিবার যুক্তরাষ্ট্রের সরকারি কার্যক্রম স্থগিত হয়ে শাটডাউন বা অচলাবস্থা তৈরি হয়। বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের বিশ্লেষণ থেকে দেখা গেছে, বাজেট নিয়ে সিনেটরদের বিভক্ত হয়ে যাওয়ার মূলে রয়েছে অভিবাসন নীতিতে প্রস্তাবিত পরিবর্তন। যুক্তরাষ্ট্রে অবৈধ তরুণ অভিবাসীদের সামাজিক সুরক্ষায় সাবেক ওবামা প্রশাসন ঘোষিত ড্রিমার কর্মসূচি পরিচালনায় বরাদ্দ অর্থ নিয়ে দুই ভাগে ভাগ হয় সিনেট। ডেমোক্র্যাট দলের চারটি সূত্র জানিয়েছে, দ্বিপাক্ষিক বৈঠকে ম্যাককনেল ও অন্যান্য রিপাবলিকান নেতাদের প্রতিশ্রুতির অংশ হিসেবে এবারে অচলাবস্থা নিরসনে একমত হওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। আগে না ভোট দেওয়া অন্তত তিন জন জ্যেষ্ঠ ডেমোক্র্যাটিক সিনেটর অস্থায়ী বাজেট বিলে এখন হ্যাঁ ভোট দেবেন বলে নিশ্চিত করেছে সূত্রগুলো। শাটডাউনের পর প্রথম কর্মদিবসের কয়েক ঘণ্টা পর এই ভোটাভুটি অনুষ্ঠিত হচ্ছে। মার্কিন অর্থবছর শুরু হয় ১ অক্টোবর। তার আগেই বাজেট অনুমোদন করিয়ে নেওয়ার বাধ্যবাধকতা থাকলেও প্রায়ই কংগ্রেস তা পাস করতে ব্যর্থ হয়। সে কারণে গত বছরের অর্থ বরাদ্দ চালু রাখতে ফেডারেল এজেন্সিগুলোকে অস্থায়ীভাবে তহবিল জোগান দিতে হচ্ছে। এবার সে বিষয়ে সম্মত হতে না পারায় শনিবার থেকে বন্ধ হয়ে যায় মার্কিন সরকারের বিভিন্ন দফতর। রিপাবলিকার সিনেটর লিন্ডসি গ্রাহাম বলেন, নীতি নির্ধারণের জন্য সরকার বন্ধ করে দেওয়া সঠিক পথ বলে আমি মনে করি না। যখন আমরা এটার চেষ্টা করি, তা আমাদের জন্য ভালো কিছু নিয়ে আসেনি। তিনি আরও বলেন, আমার অনুমান, অভিবাসন বিষয়ে আলোচনা ও ভোটাভুটি করলে আমরা ডিএসিএ (ড্রিমার প্রকল্প) পক্ষে ৬০ ভোট পাব। মার্চের ৫ তারিখে তাদের জীবন ধ্বংস হবে না।
অর্ধেক মার্কিনি ডোনাল্ড ট্রাম্পকে মানসিকভাবে অসুস্থ মনে করে
যুক্তরাষ্ট্রের প্রায় অর্ধেক নাগরিক মনে করেন, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প মানসিকভাবে অসুস্থ। তিনি প্রেসিডেন্ট পদে দায়িত্ব পালন করার মতো অবস্থায় নেই। ল্যাঙ্গার রিসার্চ অ্যাসোসিয়েটস পরিচালিত নতুন এক জনমত জরিপে এসব তথ্য উঠে এসেছে। জরিপে প্রশ্ন রাখা হয়েছিল- প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প মানসিকভাবে সুস্থ কিনা? জরিপে অংশ নেয়া লোকজনের ৪৮ শতাংশই ইতিবাচক বলেছেন; আর ৪৭ শতাংশ বলেছেন না। তবে ৫৮ শতাংশ মানুষ ট্রাম্পের দায়িত্ব পালনের বিষয়ে সন্তোষ প্রকাশ করেননি। মাত্র ৩৬ শতাংশ নাগরিক জানিয়েছেন তারা ট্রাম্পের কাজে সন্তুষ্ট। জরিপের ফলে দেখা যাচ্ছে- বেশিরভাগ নারীই প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের সমালোচনায় মুখর। মাত্র ২৯ শতাংশ নারী ট্রাম্পের কর্মকাণ্ডে সন্তুষ্ট, আর ৫৫ শতাংশ নারী ট্রাম্পের মানসিক সুস্থতা নিয়ে সন্দিহান। প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব নেয়ার পর মাইকেল উলফের লেখা বই ফায়ার অ্যান্ড ফিউরি : ইনসাইড দ্যা ট্রাম্প হোয়াইট হাউস' প্রকাশের পর যখন ট্রাম্পের মানসিক সুস্থতা নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে, তখন এই জনমত জরিপের ফল প্রকাশ করা হল। এ বইয়ে অন্যান্য বিষয়ের মধ্যে যেটি বিশেষ গুরুত্ব পেয়েছে তা হচ্ছে- মার্কিন শীর্ষ কর্মকর্তাদের অনেকেই মনে করেন জাতিকে নেতৃত্ব দেয়ার মতো সুস্থতা ট্রাম্পের নেই।
সিরিয়ার তুর্কি অভিযান দ্রুত শেষ হবে বলে আশা করে তেহরান
সিরিয়ার উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলীয় আফরিন প্রদেশে তুরস্কের সামরিক অভিযান দ্রুত শেষ করতে বলেছে ইরান। ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র বাহরাম কাসেমি রোববার জানিয়েছেন, আফরিনে তুরস্কের সামরিক অভিযান গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করছে তেহরান। সিরিয়ায় এ তুর্কি অভিযান দ্রুত শেষ হবে বলে আশা করে তেহরান। এতে তুরস্ক-সিরিয়া সীমান্তে উত্তেজনা ঠেকানো সম্ভব হবে। তিনি বলেন, সিরিয়ায় যদি নতুন করে সহিংসতার আগুনে ঘি ঢালা হয়, তা হলে উগ্র সন্ত্রাসবাদী গোষ্ঠীগুলো শক্তিশালী হয়ে উঠতে পারে। সিরিয়ার কুর্দি গেরিলা পিপলস প্রোটেকশন ইউনিট বা ওয়াইপিজিকে নির্মূলের জন্য সীমান্তবর্তী আফরিন প্রদেশে শুক্রবার থেকে সামরিক অভিযান শুরু করেছে তুরস্ক। তবে সিরিয়ার প্রেসিডেন্ট বাশার আল আসাদ তুর্কি সামরিক অভিযানের নিন্দা করে বলেছেন, সিরিয়ার ভেতরে তৎপর সন্ত্রাসীদের সমর্থন দেয়ার জন্য আংকারা এ অভিযান চালাচ্ছে।
রাশিয়ার এস-৪০০ মিসাইল সিস্টেম এখন চীনে
আন্তর্জাতিক মহলকে উত্তপ্ত করে নিজেদের সামরিক বাহিনীকে আরও শক্তিশালী করছে বিশ্বের উন্নত দেশগুলো। আর তারই জের ধরে ২০১৪ সালের চুক্তি অনুযায়ী চীন বাহিনীকে এস-৪০০ মিসাইল সিস্টেম পাঠাতে শুরু করেছে রাশিয়া। প্রথম সিস্টেম ইতিমধ্যেই পৌঁছেছে চীনে। এই সিস্টেমের মধ্যেই রয়েছে কন্ট্রোল স্টেশন, রাডার স্টেশন, এনার্জি ইকুইপমেন্ট, সাপোর্ট সিস্টেম সহ একাধিক জিনিস। রাশিয়া একদল চীন সেনাকে এই সিস্টেমের ব্যবহারও শিখিয়েছে। তবে এই প্রসঙ্গে রাশিয়ার পক্ষ থেকে কোনো মন্তব্য করা হয়নি। ২০১৪ সালের নভেম্বরে রাশিয়া ও চীনের মধ্যে এই চুক্তির কথা ঘোষণা করা হয়। ২০১৫ সালের নভেম্বরে এই চুক্তিতে শিলমোহর পড়ে। ২০১৬ সালের জুন মাসে রাশিয়ার পক্ষ থেকে জানানো হয়, ২০১৮ সালেই এই মিসাইল সিস্টেম পেতে শুরু করবে চীন।
প্রেসিডেন্ট হিসেবে ট্রাম্পের বর্ষপূর্তির দিনেই আমেরিকাজুড়ে নজিরবিহীন অচলাবস্থা
প্রেসিডেন্ট হিসেবে ডোনাল্ড ট্রাম্পের বর্ষপূর্তির দিনেই আমেরিকাজুড়ে নজিরবিহীন অচলাবস্থা শুরু হয়েছে। শুক্রবার স্থানীয় সময় রাতে মার্কিন সিনেটে সরকারী ব্যয় সংক্রান্ত বিল পাস না হওয়ায় শনিবার থেকে হোয়াইট হাউসসহ সকল সরকারী অফিস বন্ধ হয়ে গেছে। ট্রাম্পের রিপাবলিকান শিবির এ ঘটনার পেছনে ডেমোক্র্যাটদের কলকাঠি নাড়ার অভিযোগ তুলেছে। তারা বলেছে, ডেমোক্র্যাটরা আমেরিকানদের জিম্মি করছে। দলটির নেতারা সহজেই একটা সমঝোতায় আসতে পারত। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প আক্ষেপ করে বলেছেন, ডেমোক্র্যাটরা মার্কিন নাগরিকদের স্বার্থ নিয়ে রাজনীতি করছে। শনিবার সকালে এক টুইটার বার্তায় ট্রাম্প বলেন, ডেমোক্র্যাটরা সমঝোতায় না এসে দেশকে অচল করার রাজনীতি বেছে নিল। ডেমোক্র্যাটরাও ট্রাম্পের সমালোচনায় মুখর। দলটির সিনেট প্রধান চাক শুমার বলেছেন, ডোনাল্ড ট্রাম্প সিনেটে উভয়দলকে প্রভাবিত করতে স্রেফ ব্যর্থ হয়েছেন। ডেমোক্র্যাটরা সরকারী ব্যয় বৃদ্ধির কারণ দেখিয়ে এর বিরোধিতা করেছে। আগামী ১৬ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত সরকারের ব্যয় প্রস্তাবিত বিলে অন্তর্ভুক্ত ছিল। খবর বিবিসি, এএফপি, আলজাজিরা ও ওয়াশিংটন পোস্ট অনলাইনের। টেম্পোরারি স্পেন্ডিং নামের এ বিল পাসের শেষ সময়সীমা ছিল স্থানীয় সময় শুক্রবার রাত পর্যন্ত। বিলটি পাস না হওয়ায় এরই মধ্যে লাখ লাখ সরকারী কর্মচারীর জীবনে প্রভাব পড়তে শুরু করেছে। সিনেটে বিলটি পাসের জন্য ৬০ ভোটের প্রয়োজন ছিল। কিন্তু বিলের পক্ষে ৫০ ভোট পড়ে। বৃহস্পতিবার রাতে বিলটি হাউস অব রিপ্রেজেন্টেটিভ বা প্রতিনিধি পরিষদে পাস হলেও শুক্রবার সিনেটে আটকে যায়। প্রতিনিধি পরিষদে এ বিলের পক্ষে ২৩০ ও বিপক্ষে ১৯৭ ভোট পড়ে। তবে আগামী সোমবারের মধ্যে অচলাবস্থা কেটে যাওয়ার ইঙ্গিত পাওয়া গেছে। ক্ষমতাসীন রিপাবলিকান ও ডেমোক্র্যাট শিবির মনে করছে, আগামী সোমবার অফিস খোলার আগেই আলাপ-আলোচনার মাধ্যমে সমস্যার সমাধান হবে। মার্কিন ব্যবস্থাপনা ও বাজেট বিষয়ক প্রধান মিক মুলভ্যানে বলেন, চলতি সপ্তাহান্তে আমরা এ সমস্যা সমাধানের আশা করছি। যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে এই প্রথম হোয়াইট হাউস ও কংগ্রেস একই দলের নিয়ন্ত্রণে থাকার পরও সরকারের বাজেট বাড়ানোর বিল অনুমোদন পেতে ব্যর্থ হলো। এজন্য ডেমোক্র্যাটদের দায়ী করে হোয়াইট হাউসের পক্ষ থেকে বলা হয়, তারা তাদের বেপরোয়া দাবি আদায় করতে বৈধ নাগরিকদের জিম্মি করে রেখেছে। দলটির মুখপাত্র সারাহ স্যান্ডার্স বলেন, তারা রাজনীতিকে সব কিছুর ওপরে রাখছে। তারা জাতীয় নিরাপত্তা, সামরিক ব্যবস্থা, অরক্ষিত শিশু এবং দেশকে, তার সব নাগরিকের সেবা করতে সক্ষম রাখার বিষয়গুলো অবহেলা করেছে। বিভিন্ন আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের খবরে বলা হয়েছে, এ বাজেট পাস না হওয়ায় শনিবার স্থানীয় সময় ১২টা ১ মিনিট পর্যন্ত অনেক সরকারী অফিস-আদালত বন্ধ ছিল। তবে অনেক প্রতিষ্ঠানের জরুরী সেবাকার্যক্রম অব্যাহত ছিল। গৃহায়ণ, আবহাওয়া, শিক্ষা ও বাণিজ্য বিভাগের অনেক কর্মী শনিবার ঘরের মধ্যে অলস সময় কাটায়। আগামী সোমবার পর্যন্ত মার্কিন কোষাগার, স্বাস্থ্য, প্রতিরক্ষা ও পরিবহন দফতরের প্রায় অর্ধেক কর্মী কাজ থেকে বিরত থাকবে। এ ঘটনায় ভিসা ও পাসপোর্ট প্রসেসিংয়েও বিলম্ব ঘটবে। তহবিল বন্ধ হয়ে যাওয়ায় যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় সরকারের অধীন অনেক দফতর বন্ধ হয়ে যাবে বলে খবরে বলা হয়েছে। তবে জরুরী সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠানের কাজ চলবে। যার মধ্যে জাতীয় নিরাপত্তা, ডাক, বিমান ওঠা-নামার, হাসপাতালে ভর্তি রোগীর সেবা, হাসপাতালে জরুরী বিভাগের সেবা, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা, কারাগার, কর বিভাগ এবং বিদ্যুত উৎপাদন অন্যতম। তবে জাতীয় উদ্যান এবং স্মৃতিস্তম্ভগুলোর রক্ষণাবেক্ষণ বন্ধ হয়ে যাবে। ওবামার আমলে এ ঘটনা নিয়ে জনরোষ দেখা দেয়। শুক্রবার রাতে সিনেটে ভোট শুরুর ঘণ্টাখানেক আগে উদ্ভূত পরিস্থিতিতে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প এক টুইটে নিজের হতাশা প্রকাশ করে বলেছিলেন, এটা আমাদের দক্ষিণের বিপজ্জনক সীমান্তের সামরিক, সুরক্ষা ও নিরাপত্তা ব্যবস্থার জন্য একদমই ভাল কিছু মনে হচ্ছে না। এর আগে ২০১৩ সালে সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার আমলে সিনেটরদের মতবিরোধে সরকারের তহবিল বন্ধ হয়ে গিয়েছিল। ১৬ দিন পর্যন্ত ওই অচলাবস্থা চলে। ওই সময় কেন্দ্রীয় সরকারের অনেক কর্মী ছুটি নিতে বাধ্য হয়। বিল ক্লিনটন প্রেসিডেন্ট থাকার সময় ১৯৯৫ ও ৯৬ সালে দুইবার এমন হয়েছিল। সরকারী কর্মচারীরা এ সময়টাকে বিনাবেতনে ছুটি হিসেবে ভোগ করেন। এই সমস্যার কারণ ॥ বিলটি আটকে দেয়ার পেছনে ডেমোক্র্যাটদের যুক্তি হচ্ছে, ৭ লাখের বেশি অনিবন্ধিত অভিবাসী শিশু বয়সে আমেরিকায় ঢুকেছে তাদের বহিষ্কার করা যাবে না। সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট ওবামা এক কর্মসূচীর মাধ্যমে তাদের সাময়িক আইনী বৈধতা দেন। কিন্তু গত সেপ্টেম্বর মাসে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ঘোষণা করেন -তিনি এ কর্মসূচী বন্ধ করে দেবেন এবং কংগ্রেসকে একটা নতুন পদক্ষেপ চূড়ান্ত করতে মার্চ পর্যন্ত সময় বেঁধে দেন। এরপর উভয় দলের মধ্যে দর কষাকষি শুরু হয়। ট্রাম্প এবং রিপাবলিকানরা চাইছিলেন ডেমোক্র্যাটদের এ প্রস্তাব মেনে নেয়ার বিনিময়ে তাদের আবার রিপাবলিকানদের দুটি প্রকল্প মেনে নিতে হবে। এগুলো হচ্ছে- মেক্সিকো সীমান্তের দেয়াল নির্মাণ এবং নিম্ন আয়ের পরিবারের শিশুদের স্বাস্থ্যবীমা কর্মসূচীর মেয়াদ বৃদ্ধি, যা ডেমোক্র্যাটরা বন্ধ করে দেয়ার পক্ষে। কিন্তু উভয়দলের সম্মতি আছে এমন দুটি আপোসরফার প্রস্তাবকে ট্রাম্প প্রত্যাখ্যান করেন। কিছু অভিবাসীর দেশকে নিয়ে বাজে মন্তব্যে সারা দুনিয়ায় আলোচনার বিষয় হন ট্রাম্প।

আন্তর্জাতিক পাতার আরো খবর