ভারতের প্রতিরক্ষা তথ্য তছনছে চীনের গোপন ইউনিট
অনলাইন ডেস্ক: ভারতীয় সেনাবাহিনীর প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাগুলো সাইবার হামলার লক্ষ্যবস্তু করতে পারে চীন। সম্ভাব্য এ সাইবার হামলার ব্যাপারে সতর্ক করেছে ভারতের গোয়েন্দা সংস্থাগুলো। গোয়েন্দা রিপোর্ট মতে, চীনের লক্ষ্য মোটেও অস্ত্রে ঘায়েল করা নয়। প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার ওপর সাইবার হামলা চালিয়ে সব তথ্য তছনছ করে দিতে চায় দেশটি। এ লক্ষ্যে একটি গোপন সামরিক ইউনিট গড়ে তুলেছে চীনা সেনাবাহিনী পিপল’স লিবারেশন আর্মি (পিএলএ)। নাম দেয়া হয়েছে ‘ইউনিট ৬১৩৯৮’। সাইবার হামলার মাধ্যমে স্পর্শকাতর যেকোনো তথ্য হাতিয়ে নিতে পারে দলটি। শনিবার এ খবর দিয়েছে রয়টার্স। গোয়েন্দাদের দাবি, বিশ্বব্যাপী বৃহৎ পরিসরে সাইবার যুদ্ধ শুরু করেছে চীন। এ যুদ্ধের অন্যতম প্রতিপক্ষ ভারত। পিএলএর ইউনিট ৬১৩৯৮ বর্তমানে ভূ-অবস্থানগত গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহ, বিভিন্ন তথ্যসূত্র ট্র্যাকিং বা শনাক্তকরণ, উৎসগুলোতে ঢুকে পড়ে তথ্য চুরির সঙ্গে জড়িত রয়েছে। ইউনিটটির সদর দফতর সাংহাইয়ে। চীনের গোয়েন্দা কর্মকর্তাদের সঙ্গে এ ইউনিটে প্রস্তুত একদল হ্যাকারও। এর আগেও বিদেশি সংস্থায় হামলা চালানোর অভিযোগ উঠেছে এই ইউনিটের বিরুদ্ধে। তাই আশঙ্কা উড়িয়ে দিচ্ছে না ভারত। বিভিন্ন ম্যালওয়্যারের সাহায্যে মূলত তথ্য চুরি করে এই ইউনিট। এরা চীনা সেনার স্ট্র্যাটেজিক ফোর্সের অংশ। গেল অক্টোবরেই যুক্তরাষ্ট্র অভিযোগ আনে, জেট ইঞ্জিন ডেটা হ্যাক করেছেন চীনা গোয়েন্দা কর্মকর্তরা। ভারত সম্প্রতি দেশের মাটিতে বেশ কয়েকটি এয়ারক্রাফট তৈরি করেছে। সদ্য জলে নেমেছে নিউক্লিয়ার সাবমেরিন। তাই ভারতের সামরিক শক্তিতে চীনের নজর বাড়ছে বলে মনে করছেন ভারতীয় গোয়েন্দারা। সম্প্রতি চীনা সেনাবাহিনীর এই বিশেষ ইউনিট বিশ্বজুড়ে সাইবার-গুপ্তচরবৃত্তি চালাচ্ছে বলে অভিযোগ উঠলে তা অস্বীকার করে চীনা প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়। এর আগে আমেরিকাভিত্তিক একটি কম্পিউটার নিরাপত্তা সংস্থা দাবি করেছিল তারা আন্তর্জাতিক একটি হ্যাকিং সিস্টেমের সঙ্গে সাংহাইয়ের একটি সামরিক ইউনিটের যোগসূত্র খুঁজে পেয়েছে। কিন্তু চীন বলছে, এ অভিযোগের স্বপক্ষে কোনো প্রমাণ নেই। আর তা ছাড়া হ্যাকিং কাকে বলে, আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সেরকম কোনো সংজ্ঞাও নেই। চীনের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে যে জবাব দেয়া হয়, তার প্রধান যুক্তি- সাইবার জগতে যারা হামলা চালায় তারা প্রায়শই তাদের নাম-পরিচয় গোপন রাখে। তারা বলছে, যে ইন্টারনেট ঠিকানা থেকে এসব হামলা চালানো হয়েছে তার সঙ্গে চীনের যোগাযোগটি মার্কিন কম্পিউটার কোম্পানি ম্যানডিয়েন্ট প্রমাণ করতে পারেনি। শীর্ষ নিউজ
ক্যালিফোর্নিয়ায় ভয়াবহ দাবানলে নিহত ৫, এলাকা ছেড়েছে দেড় লাখ মানুষ
অনলাইন ডেস্ক: যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়া রাজ্যে ভয়াবহ দাবানলে অন্তত পাঁচজনের মৃত্যু হয়েছে। তাদের মৃতদেহগুলো একটি আগুনে পোড়া গাড়ি থেকে উদ্ধার করা হয়। প্রাণে বাঁচাতে এলাকা ছেড়েছে অন্তত দেড় লাখ মানুষ। লস এঞ্জেলেসের দুটি বড় বনাঞ্চলের ১৪ হাজার একর অঞ্চল জুড়ে আগুন ছড়িয়ে পড়েছে। রাজ্যটির পশ্চিমাঞ্চলে মহাসড়ক পর্যন্ত দাবানলের আগুন ছড়িয়ে পড়েছে। খবর বিবিসির। স্থানীয় কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, স্থানীয় সময় শুক্রবার দুপুরে (বাংলাদেশ সময় শুক্রবার দিবাগত রাত আনুমানিক ২টা) দাবানল ভয়াবহ রূপ ধারণ করে। আগুন নিয়ন্ত্রণে দমকল বাহিনী চেষ্টা চালিয়ে গেলেও শুষ্ক আবহাওয়া ও তীব্র বাতাসের কারণে আগুন দ্রুত গতিতে ছড়িয়ে পড়ছে। দাবানলে উত্তর ক্যালিফোর্নিয়ার একটি শহর পুরোপুরি পুড়ে গেছে। পুড়ে ছাই হয়ে গেছে প্রায় বিশ হাজার একর বনাঞ্চল। এরমধ্যে প্যারাডাইস শহরটি সবচে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আশপাশের এলাকাগুলো থেকে বাসিন্দাদের নিরাপদ স্থানে সরে যাওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন স্থানীয় গভর্নর।
ভারতকে অগ্রাহ্য করে চীন-কাশ্মীর বাস চালু
অনলাইন ডেস্ক: ভারতের তীব্র আপত্তি অগ্রাহ্য করেই পাকিস্তান অধিকৃত কাশ্মীরের (পিওকে) মধ্যে দিয়ে লাহোর-কাশগড় বাস পরিষেবা চালু করল পাকিস্তান। পিওকের গিলগিট, বাল্টিস্তান হয়ে গন্তব্যে পৌঁছতে সময় লাগবে সময় লাগবে ৩০ ঘণ্টা। মঙ্গলবার বাস চালু হওয়ার পর কোনো প্রতিক্রিয়া না জানালেও আগেই এ নিয়ে তীব্র আপত্তি করেছিল নয়াদিল্লি। ইসলামাদ ও বেইজিংয়ের তরফ থেকে জানানো হয়েছে, চিন-পাকিস্তান অর্থনৈতিক করিডোরের অঙ্গ হিসেবেই এই বাস পরিষেবা চালু হল। চিন-পাকিস্তান অর্থনৈতিক করিডোর নিয়ে আপত্তি রয়েছে ভারতের। আন্তর্জাতিক স্তরে তার প্রতিবাদও জানিয়েছে নয়া দিল্লি। বাস চালুর বিষয়ে ভারতীয় পররাষ্ট্রমন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রবীশ কুমার বলেন, পিওকের মধ্যে দিয়ে যে কোনও বাস পরিষেবা চালুর অর্থ ভারতের অখণ্ডতা ও সার্বভৌমত্ব লঙ্ঘন করা। এটা কিছুতেই মেনে নেওয়া যায় না। জানা গেছে, পাকিস্তান ট্যুরিজম ডেভলপমেন্ট কর্পোরেশনের সঙ্গে একটি বেসরকারি পরিবহণ সংস্থার চুক্তি অনুযায়ী সপ্তাহে চার দিন এই বাস চলবে। এক দিকের ভাড়া ১৩০০০ পাকিস্তানি রুপি। রিটার্ন টিকিট একসঙ্গে কিনলে লাগবে ২৩০০০। সঙ্গে নিতে হবে পাসপোর্ট-ভিসা।
যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচন আজ
অনলাইন ডেস্ক: আর কয়েক ঘণ্টা পরই যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচন। এই নির্বাচনকে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের জনপ্রিয়তা যাচাইয়ের গণভোট হিসেবে দেখা হচ্ছে। এরইমধ্যে ইন্ডিয়ানা রাজ্যে আগাম ভোট হয়ে গেছে। এদিকে, শেষ মুহূর্তের নির্বাচনী প্রচারণায় ভোটারদের মন জয়ের চেষ্টা করেছেন দুই দলের শীর্ষ নেতারা। এবারো অভিবাসী ইস্যুকেই প্রচারণার অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করছে ট্রাম্প। ডেমেক্রেটরা বিজয়ী হলে যুক্তরাষ্ট্রমুখী অভিবাসীদের ঢল বাড়তেই থাকবে বলে মন্তব্য করেন তিনি। সোমবার এভাবেই মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগাম বা আর্লি ভোট দিতে দীর্ঘ লাইন ধরে দাঁড়িয়ে থাকে যুক্তরাষ্ট্রের ইন্ডিয়ানা অঙ্গরাজ্যের রাজধানী ইন্ডিয়ানা পলিশের ভোটাররা। স্থানীয় গণমাধ্যম অনুসারে, অন্তত দুই ঘণ্টা অপেক্ষার পর পছন্দের প্রার্থীদের ভোট দেন তারা। আগাম ভোটের ব্যবস্থা থাকলেও দেশটিতে হতে যাওয়া মধ্যবর্তী নির্বাচনের মূল পর্ব শুরু হচ্ছে মঙ্গলবার। আর তাই নির্বাচনকে ঘিরে মার্কিন মুল্লুকে তৈরি হয়েছে উৎসব মুখোর পরিবেশ। ভোটারদের মধ্যেও নির্বাচনকে ঘিরে চলছে নানা জল্পনা কল্পনা। এদিকে, মধ্যবর্তী নির্বাচনের শেষ মুহূর্তের প্রচারণায় ব্যস্ত সময় পার করছেন ডেমোক্রেট দলের শীর্ষ নেতারা। ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে এক সমাবেশে অংশ নিয়ে সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা দেশের বর্তমান পরিস্থিতিতে উদ্বেগ জানিয়ে ব্যালটের মাধ্যমে রায় দিতে জনগণের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন। একইদিন তিনটি অঙ্গরাজ্যে নির্বাচনী সমাবেশে যোগ দেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। জনগণকে সতর্ক করে তিনি বলেন ডেমেক্রেটরা বিজয়ী হলে যুক্তরাষ্ট্রমুখী অভিবাসীদের ঢল বাড়তেই থাকবে। তারা অভিবাসীদের আমন্ত্রণ জানাচ্ছে এদেশে আসতে। তবে চিন্তার কোনো কারণ নেই আমরা সীমান্তে দেয়াল তৈরি করছি। অবৈধভাবে কাউকে প্রবেশ করতে দেয়া হবে না। কেননা রিপাবলিকানরা তা কখনো হতে দেবে না। এবারের মধ্যবর্তী নির্বাচনে সিনেটের ১শ টি আসনের মধ্যে ভোট হবে ৩৫টিতে। আর হাউস অব রিপ্রেজেন্টটিভস এ ভোট হবে ৪৩৫টি আসনেই। পাশাপাশি গভর্ণর আসনে ৫০টি অঙ্গরাজ্যের মধ্যে ৩৬টিতে ভোট হবে। যার ফলাফলেই প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের ভবিষ্যতের পূর্বাভাস পাওয়া যাবে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
শীত না আসতেই শ্বেতশুভ্র বরফের চাদরে ঢেকে গেছে ভারতের উত্তরাঞ্চল কাশ্মীর ও হিমাচল
অনলাইন ডেস্ক: শীত না আসতেই শ্বেতশুভ্র বরফের চাদরে ঢেকে গেছে ভারতের উত্তরাঞ্চল। বিগত দশ বছরের মধ্যে এবারই নভেম্বরের শুরুতে জম্মু-কাশ্মীর ও হিমাচল প্রদেশের বিভিন্ন এলাকায় দেখা দিয়েছে তুষারপাত। যা ক্রমেই তীব্র হচ্ছে। যা দেখতে প্রতিদিনই ভিড় জমাচ্ছেন পর্যটকরা। বৃষ্টির মতো পড়ছে বরফ। গাড়ি, মোটরসাইকেল, রাস্তাঘাটে জমেছে বরফের স্তূপ। ভারতের দক্ষিণে যখন হেমন্তের হাওয়া বইছে, ঠিক তখন উত্তরের রাজ্য কাশ্মীরে নভেম্বরের শুরু থেকে পুরো দমে চলছে তুষারপাত। স্থায়ীদের কাছে যা কাশ্মীরের সৌন্দর্যের প্রতীকই বটে। এক পর্যটক বলেন, ১০ বছর পর নভেম্বরে এমন তুষারপাত দেখা যাচ্ছে। এই বিরল মুহূর্ত দেখে খুবই ভালো লাগছে। যা দেখতে পর্যটকরা আসবেন চাঙ্গা হবে অর্থনীতি। প্রতি বছর এই তুষারপাত দেখতে ভূস্বর্গ খ্যাত কাশ্মীরে ভিড় জমান পর্যটকরা। বরফের গদিতে পা ডুবিয়ে, ঝুরঝুরে তুষারের বল নিয়ে খেলার মজাই আলাদা। চলতি সপ্তাহ থেকে সাদা বরফের চাদরে মুখ লুকিয়েছে হিমাচল প্রদেশেও। হিমাচলের প্রাণকেন্দ্র মানালির তুষারপাত নজর কাড়ছে ভ্রমণপিপাসুদের। মাইনাস তাপমাত্রার স্বাদ নিতে তাই ক্রমেই বাড়ছে দেশি-বিদেশি পর্যটক। আরেক পর্যটক বলেন, সবাই বলে কাশ্মীর হলো স্বর্গ। আমি বলবো, শুধু কাশ্মীর নয়, মানালিতেও স্বর্গের সৌন্দর্য রয়েছে। একবার ঘুরে গেছে আপনিও তাই বলবেন। কাশ্মীর, হিমাচল প্রদেশের এই তুষারপাত তাপমাত্রা কমাতে শুরু করেছে প্রতিবেশী পাঞ্জাব, হরিয়ানা, উত্তর প্রদেশ ও রাজধানী নয়া দিল্লিতে। আবহাওয়াবিদরা বলছেন, উত্তর ও মধ্য ভারতের বাড়ন্ত শীত প্রবাহ এবার দক্ষিণ ও পূর্বাঞ্চলেও আগেভাগেই বয়ে আনবে শীতলতা।
ফাদার অব দ্য তালেবান- বলে পরিচিত সামিউল হক নিহত
অনলাইন ডেস্ক: ফাদার অব দ্য তালেবান- বলে পরিচিত ৮০ বছর বয়স্ক সামিউল হক পাকিস্তানের রাওয়ালপিন্ডি শহরে নিহত হয়েছেন। তার এক আত্মীয় দাবি করছেন, অজ্ঞাতনামা হত্যাকারীরা এসে তার রাওয়ালপিন্ডির বাড়িতে তাকে ছুরি মেরে হত্যা করে। সামিউল হক উত্তর পশ্চিম পাকিস্তানে একটি মাদ্রাসা পরিচালনা করতেন। বিবিসির এক প্রতিবেদনে বলা হয়, তাকে তালেবান আন্দোলনের প্রধান নেপথ্য পুরুষ হিসেবে গণ্য করা হয়। কারণ এই আন্দোলনের প্রথম সারির নেতাদের শিক্ষক ছিলেন তিনি। পরে তিনি একটি দল থেকে পাকিস্তানে সিনেটর হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন। সামিউল হক পাকিস্তানের খাইবার-পাখতুনতোয়া প্রদেশের আফগানিস্তান সীমান্তের কাছে দারুল উলুম হাক্কানিয়া মাদ্রাসা পরিচালনা করতেন। তার ছাত্রদের একজন ছিলেন তালেবান নেতা মোল্লা ওমর। মোল্লা ওমর আশির দশকে তার সহপাঠীদের নিয়ে আফগানিস্তানে যান সোভিয়েত সেনাদের বিরুদ্ধে লড়াই করতে। পরে এই মোল্লা ওমরই তালেবান প্রতিষ্ঠা করেন। আফগানিস্তান থেকে সোভিয়েত ইউনিয়ন চলে যাওয়ার পর গৃহযুদ্ধ এবং চরম বিশৃঙ্খলার মধ্যে ১৯৯৬ সালে তালেবান ক্ষমতা দখল করে। তালেবান আন্দোলনের সঙ্গে সম্পর্ক সত্ত্বেও সামিউল হক যে মাদ্রাসা চালাতেন, পাকিস্তানে সেটির কোন অসুবিধা হয়নি। এটি পাকিস্তানের আঞ্চলিক সরকারগুলোর কাছ থেকে অর্থ বরাদ্দ পেত। পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান সামিউল হকের মৃত্যুতে শোক প্রকাশ করে বলেছেন, পাকিস্তান এক গুরুত্বপূর্ণ ইসলামী নেতাকে হারিয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রে নদীতে সৌদি ২ বোনের লাশ
অনলাইন ডেস্ক: সাংবাদিক জামাল খাসোগি হত্যাকাণ্ড নিয়ে শোরগোলের মধ্যেই এবার যুক্তরাষ্ট্রে রাজনৈতিক আশ্রয় চাওয়া সৌদি বংশোদ্ভূত দুই বোনের লাশ নিউইয়র্ক থেকে উদ্ধার করা হয়েছে। আগের দিন তাঁদের মাকে যুক্তরাষ্ট্র ছেড়ে যাওয়ার জন্য চিঠি দিয়েছিল সৌদি দূতাবাস। তার পরদিনই তাঁদের লাশ পাওয়া যায় বলে পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে। এ নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। নিউইয়র্কের হাডসন নদীর তীরে গত ২৪ অক্টোবর মরদেহ দুটি পাওয়া যায়। নিহতদের একজন ১৬ বছর বয়সী টালা ফারিয়া, অপরজন ২২ বছর বয়সী রোটানা ফারিয়া। এ ঘটনায় তদন্ত শুরু করেছে নিউইয়র্ক পুলিশ। তবে লাশ উদ্ধারের এক সপ্তাহ পেরিয়ে গেলেও এ দুই বোনের মৃত্যুর কারণ সম্পর্কে এখনো নিশ্চিত কোনো তথ্য উদ্ধার করতে পারেনি নিউইয়র্কের পুলিশ। দুই বোনের মৃতদেহ টেপ দিয়ে একসঙ্গে বাঁধা অবস্থায় পাওয়া যায়। মায়ের সঙ্গে ২০১৫ সালে যুক্তরাষ্ট্রে আসেন ওই দুই তরুণী। তবে পুলিশের পক্ষ থেকে তাঁরা আত্মহত্যা করে থাকতে পারেন বলে বলা হলেও দুই তরুণীর পরিবার তা অস্বীকার করেছে। যুক্তরাজ্যের ডেইলি মেইল নিউইয়র্ক পুলিশের বরাতে এমনটি জানিয়েছে। গত ২৪ আগস্ট থেকে তাঁদের খুঁজে পাওয়া যাচ্ছিল না। তবে তরুণীদের মা পুলিশকে জানিয়েছেন, তাঁদের খুঁজে পাওয়ার একদিন আগে গত ২৩ অক্টোবর তাঁকে যুক্তরাষ্ট্র ছাড়তে চিঠি দিয়েছিল সৌদি দূতাবাস। এর আগে পরিবারটি যুক্তরাষ্ট্রে রাজনৈতিক আশ্রয় প্রার্থনা করে আবেদন করে। যে কারণে সৌদি দূতাবাস তাঁদের যুক্তরাষ্ট্র ছাড়তে নির্দেশ দিয়ে থাকতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
এরদোগানকে সৌদি যুবরাজের ফোন
অনলাইন ডেস্ক: সাংবাদিক জামাল খাশোগির নৃশংস হত্যার তদন্তের বিষয়ে বুধবার সন্ধ্যায় তুর্কি প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়্যিপ এরদোগানের সঙ্গে টেলিফোনে কথা বলেছেন সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান। প্রেসিডেন্ট এরদোগানের দফতরের একটি সূত্রের বরাত দিয়ে তুরস্কের রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা অনাদলু এ খবর জানিয়েছে। খবরে বলা হয় টেলিফোনালাপে খাশোগির হত্যার মূল রহস্য উদঘটনের জন্য দু-দেশ যৌথভাবে কাজ করার অঙ্গীকার ব্যক্ত করা হয়। ২ সেপ্টেম্বর সৌদি কনস্যুলেট ভবনের মধ্যে খাশোগিকে হত্যার পর এই প্রথম ফোনালাপ করলেন তুর্কি প্রেসিডেন্ট ও সৌদি যুবরাজ। এর আগে বাদশা সালমান বিন আব্দুল আজিজের সঙ্গে বিষয়টি নিয়ে কয়েকবার ফোনালাপ করেন এরদোগান যেখানে দু-দেশের যৌথ ওয়ার্কিং কমিটি গঠনে সম্মত হওয়ায় তুরস্ককে ধন্যবাদ জানান সৌদি বাদশা। যদিও ঘটনার শুরু থেকেই তুরস্কের গণমাধ্যম এবং রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের সন্দেহের তীর ছিল প্রিন্স বিন সালমানের দিকেই। এমন কি প্রেসিডেন্ট এরদোগান এবং তুরস্কের অন্য সরকারি ঊর্ধ্বতন ব্যক্তিদের বিবৃতিতেও এ আভাসই পাওয়া যাচ্ছিল যে শেষ পর্যন্ত খাশোগি হত্যার মূল পরিকল্পনাকারী হিসেবে সৌদি প্রিন্সকেই দোষারোপ করা হবে। কিন্তু আজকের ফোনালাপ এবং দু'পক্ষের বিবৃতির দিকে লক্ষ্য করলে বোঝা যায় যে তুরস্ক হয়তো এই অবস্থান থেকে সরে আসছে। প্রিন্স সালমান এক বিবৃতিতে জানান যে তিনি তুর্কি প্রেসিডেন্টের সঙ্গে খাশোগি বিষয়ে একত্রে কাজ করতে বদ্ধপরিকর। প্রিন্স সালমান বলেন যে খাশোগির হত্যা একটি জঘন্য অপরাধ যা কোনোভাবেই সমর্থনযোগ্য নয়। তিনি আরও বলেন এই ঘটনার সঙ্গে জড়িত সব অপরাধীদের শাস্তি দেয়া হবে এবং তদন্তের ফলাফল পৌঁছাতে সৌদি আরব ও তুরস্ক একসঙ্গে কাজ করবে। তিনি এই হত্যাকাণ্ডকে বেদনাদায়ক হিসেবে আখ্যায়িত করে বলেন যে বিষয়টির ব্যাপারে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা করা হবে। ফোনালাপটি এমন এক সময়ে ঘটলো যখন সৌদি সরকার তুরস্কের একটি গোয়েন্দা টিমকে সৌদির ইস্তাম্বুল কনসুলেটের ভেতরের বাগানের একটি গর্ত অনুসন্ধানের অনুমতি দিল। তুরস্কের পত্রপত্রিকা কয়েকদিন ধরেই দাবি করে আসছিল যে সৌদি সরকার ওই গর্তে এবং বাগানে অনুসন্ধানের অনুমতি দিচ্ছে না। ধারণা করা হয় ওই গর্তে খাশোগির লাশ পুঁতে রাখা হতে পারে। তুরস্কের পুলিশ এবং গোয়েন্দা বিভাগের বরাত দিয়ে স্থানীয় সংবাদ মাধ্যমের খবরে বলা হয় তুরস্কের গোয়েন্দারা খাশোগির হত্যার সঙ্গে সম্পৃক্ত অডিও, ভিডিও এবং অন্য সব ডকুমেন্টসহ সব তথ্যপ্রমাণ সিআইএ প্রধান গিনা হাসপেলের কাছে তুলে ধরেন। হাসপেল এই বিষয়ে কথা বলার জন্য মঙ্গলবার তুর্কি সফর করেন। বিশ্লেষকদের মতে আজকের ফোনালাপ খাশোগির হত্যা ঘটনার মোড় ঘুরিয়ে দিতে পারে। হয়তো সৌদি প্রিন্স বিন সালমান এবারের মতো দোষী সাব্যস্ত হওয়া থেকে রেহাই পেতে পারেন। তবে দেখার বিষয় হচ্ছে আসলেই সৌদি আরব এবং তুরস্কের মধ্যে কোনো সমঝোতা হবে কি না আর যদি হয় তবে সেটা আঞ্চলিক অর্থনীতি-রাজনৈতিক এবং ভূ-কৌশলগত দিক থেকে কতটা প্রভাব পড়বে?
খাশোগি হত্যাকাণ্ড: ছেলেকে সান্ত্বনা দিলেন সৌদি বাদশা-যুবরাজ সালমান
অনলাইন ডেস্ক: ইস্তাম্বুলে সৌদি কনস্যুলেটে হত্যাকাণ্ডের শিকার সৌদি সাংবাদিক জামাল খাশোগির পরিবারের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন দেশটির বাদশাহ সালমান বিন আবদুল আজিজ ও যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান। মঙ্গলবার (২৩ অক্টোবর) সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদে একটি প্রাসাদে খাশোগির পরিবারের সঙ্গে তারা সাক্ষাৎ করেন। এ সময় বাদশাহ ও যুবরাজ তাদের সান্ত্বনা দেন। ওয়াশিংটন পোস্টের খবরে বলা হয়, রিয়াদে ইমামা প্রাসাদে খাশোগির ছেলে সালাহ ও তার ভাই সাহেলের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন সৌদি বাদশাহ সালমান ও যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান । এ সময় বাদশাহ ও যুবরাজ তাদের সান্ত্বনা দেন। এর আগে জামাল খাশোগির ছেলেকে ফোন করে কথা বলেছেন যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান। এ সময় নিহত খাশোগির ছেলে সালাহকে সান্ত্বনা দিয়েছেন তিনি। সৌদি আরবের সাংবাদিক জামাল খাশোগির লাশের টুকরো অংশ পাওয়া গেছে বলে দাবি করেছে একটি ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম। বিশ্বস্ত সূত্রের বরাত দিয়ে স্কাই নিউজ বলছে, ইস্তাম্বুলে সৌদি কনসাল জেনারেলের বাসভবনের বাগান থেকে খাশোগির লাশের অংশবিশেষ উদ্ধার করা হয়। স্কাই নিউজের খবরে বলা হয়েছে, হত্যার পর খাশোগির লাশ টুকরো টুকরো করা হয়। আরেক সূত্রের বরাত দিয়ে সংবাদমাধ্যমটির দাবি, খাশোগির মুখমণ্ডল বিকৃত করে ফেলা হয়। খাশোগির লাশ পাওয়া যায়নি জানিয়ে তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ান বক্তব্য দেওয়ার পর এমন খবর প্রকাশিত হলো। তবে সূত্র কে বা কোথায়, কখন, কীভাবে খাসোগির দেহাবশেষ উদ্ধার করা হয়েছে-তার বিস্তারিত তথ্য জানায়নি স্কাই নিউজ।