বেসামরিক লোকদের রক্ষায় জাতিসংঘের আহ্বান মিয়ানমারের কাচিনে
মিয়ানমারে রোহিঙ্গাদের ওপর নির্যাতনের পর দেশটির উত্তর-পূর্বাঞ্চলের কাচিন রাজ্যে সহিংসতার ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছে জাতিসংঘের মানবাধিকারবিষয়ক বিশেষজ্ঞ। সম্প্রতি ওই প্রদেশে নতুন করে সহিংসতা ছড়িয়ে পড়ায় অন্তত ১০ বেসামরিক মানুষকে হত্যা, বহু হতাহত এবং হাজার হাজার মানুষ ঘরবাড়ি ছেড়ে পালিয়েছে। মিয়ানমারে নিযুক্ত জাতিসংঘের মানবাধিকারবিষয়ক বিশেষ দূত ইয়াংহি লি জানান, তিনি রিপোর্ট পেয়েছেন যে, কাচিন প্রদেশের চীন সীমান্তে বেসামরিক লোকজনের ওপর মিয়ানমারের সেনাবাহিনী বোমাবর্ষণের পাশাপাশি ভারী অস্ত্রশস্ত্র দিয়ে গুলিবর্ষণও করেছে। তিনি বলেন, গত কয়েক সপ্তাহ ধরে কাচীন প্রদেশে যা হচ্ছে তা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়, এখনই তা বন্ধ হওয়া উচিত। লি আরও বলেন, নিরপরাধ বেসামরিক মানুষকে হত্যা করা হচ্ছে, অনেকে আহত হয়েছেন এবং অসংখ্য পরিবার জীবন বাঁচাতে পালিয়ে যাচ্ছে। তিনি বলেন, দ্বন্দ্বের সময় বেসামরিক নাগরিকরা অবশ্যই সহিংসতার সম্মুখীন হবে না। তাদের নিরাপত্তা এবং সুরক্ষার জন্য সব পক্ষকে সঠিকভাবে দায়িত্ব পালন করতে হবে। মঙ্গলবার জেনেভা থেকে ইউএনবির হাতে আসা বার্তানুসারে, গত মার্চে জেনেভার জাতিসংঘের মানবাধিকার পরিষদকে লি জানান যে, রাখাইন রাজ্যের সহিংসতা নিয়ে সারা বিশ্বের মনোযোগের মধ্যেই কাচিনসহ অন্যান্য অঞ্চলে সহিংসতা বাড়ছিল। জাতিসংঘের প্রতিবেদন অনুসারে, গত তিন সপ্তাহে পাঁচ হাজারেরও বেশি বেসামরিক মানুষ চীন সীমান্তের কাছের গ্রামগুলো থেকে বাস্তুচ্যুত হয়েছে। লি জানান, তিনি এও রিপোর্ট পেয়েছেন যে কাচিনের ম্যানও নামক গ্রামে প্রায় তিন সপ্তাহ কোনো খাদ্যদ্রব্য নিয়ে প্রবেশ করতে পারেনি মিয়ানমারের রেডক্রস। কোনো প্রকার খাদ্য, ওষুধসহ অন্যান্য নিত্যপ্রয়োজনীয় জরুরি দ্রব্যাদি সরবরাহে বাধা প্রদান করে ১০০ জনেরও অধিক বেসামরিক ব্যক্তিকে বন্দি করা হয়েছিল।
ভারত-পাকিস্তান কেন পারবে না-কোরিয়া পারলে
দুই কোরিয়ার অবিশ্বাস্য পদক্ষেপ ছাপ ফেলল উপমহাদেশেও। দশকের পর দশক ধরে পরস্পরকে যুদ্ধের হুঙ্কার শোনাতে থাকা উত্তর ও দক্ষিণ কোরিয়া অত্যন্ত দ্রুত বদলে ফেলছে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের গতিপ্রকৃতি। কিম জং-উন এবং মুন জায়ে-ইনের বৈঠকের পরে বেনজির সম্প্রীতির বাতাবরণ তৈরি হয়েছে কোরীয় উপদ্বীপে। তার প্রেক্ষিতেই পাকিস্তানি সংবাদমাধ্যমের প্রশ্ন, ভারত-পাকিস্তান কেন এই ভাবে এগোতে পারবে না পরস্পরের দিকে? কেন হাত মেলাতে পারবেন না মোদি-আব্বাসি? উত্তর ও দক্ষিণ কোরিয়ার সীমান্তে সমঝোতা গ্রাম পানমুনজমে কয়েকদিন আগে যে ছবি তৈরি হয়েছে, নির্ধারিত কর্মসূচিতে তার কোনও সংস্থানই ছিল না। দক্ষিণ কোরীয় প্রেসিডেন্ট মুন জায়ে-ইন সীমান্তের নিচু কংক্রিট বাউন্ডারির ধারে পৌঁছতেই, হাত বাড়িয়ে দেন উত্তর কোরিয়ার শাসক কিম জং-উন। প্রথমে করমর্দন করেন, তার পরে হাত ধরে টেনে নিজের দেশে ঢুকিয়ে নেন মুনকে, ঘুরিয়ে আনেন উত্তর কোরিয়ার কিছুটা ভিতরের দিক থেকে। পানমুনজমে কিম এবং মুনের মধ্যে বৈঠক হওয়ার কথা ছিল ঠিকই। কিন্তু কিমের হাত ধরে উত্তর কোরিয়ার ভিতর দিকে ঢুকে যাবেন মুন, অভূতপূর্ব সম্প্রীতির ছবি তৈরি হবে, এমনটা বেশ অপ্রত্যাশিত ছিল। দুই শাসকের বৈঠকেই কিন্তু শেষ হয়নি দ্বিপাক্ষিক প্রক্রিয়া। বৈঠকের পর থেকে দুই কোরিয়া পরস্পরের প্রতি একের পর এক সৌজন্যমূলক বার্তা দিতে শুরু করেছে। উত্তর কোরিয়া নিজেদের ঘড়ির কাঁটা ঘুরিয়ে দিচ্ছেন। দক্ষিণ কোরিয়ার টাইম জোনের সাথে মিলিয়ে দেওয়া হচ্ছে উত্তর কোরিয়ার সময়কে। আর সীমান্তে লাউড স্পিকার লাগিয়ে উত্তরের কমিউনিস্ট রাজত্বের বিরুদ্ধে অবিরত যে প্রচার চালাত দক্ষিণ, সেই প্রচার বন্ধ করে দেওয়া হচ্ছে। সীমান্ত থেকে সরিয়ে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে লাউডস্পিকার। কোরীয় উপদ্বীপের এই ছবি তুলে ধরে পাকিস্তানের ডন নিউজ লিখেছে, ভারত এবং পাকিস্তানেরও উচিত এই পথই ধরা। দীর্ঘ দিনের সাংস্কৃতিক এবং অন্যান্য মিল ভারত ও পাকিস্তানে বসবাসকারী জনগোষ্ঠীকে যে অভিন্ন ইতিহাস এবং অভিন্ন স্বপ্ন ও আকাঙ্খা দিয়েছে, তাতে সম্পর্কে স্বাভাবিকতা এবং শান্তি ফেরানো এই অঞ্চলের সবচেয়ে মহান লক্ষ্য। যে সম্পাদকীয় প্রতিবেদনে ভারত-পাকিস্তান শান্তি প্রক্রিয়ার পক্ষে সওয়াল করেছে ডন তাতে অটলবিহারী বাজপেয়ীর লাহৌর সফরের স্মৃতিচারণও করা হয়েছে। কিম জং-উন এবং মুন জায়ে-ইনের বৈঠক অবধারিত ভাবে ১৯৯৯ সালের সেই অভূতপূর্ব আশা-আকাঙ্খার দিনগুলোর কথা মনে করিয়ে দিচ্ছে, যখন ভারতের তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী অটলবিহারী বাজপেয়ীর ঐতিহাসিক সফরে পাকিস্তানের লাহৌরে পা রেখেছিলেন এমনই লেখা হয়েছে পাক সংবাদমাধ্যমে। দুই কোরিয়াকে দেখে ভারত এবং পাকিস্তানের শিক্ষা নেওয়া উচিত বলে মত ডন-এর। সেখানে লেখা হয়েছে, আরও এক বার শান্তি ও মৈত্রীর পথে হাঁটুক ভারত এবং পাকিস্তানের নেতৃত্ব, সেই সময় এসে গেছে।
পদত্যাগ ব্রিটিশ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর
অভিবাসন বিতর্কে বৃটেনের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অ্যাম্বার রুড পদত্যাগ করেছেন। যুক্তরাজ্যের স্থানীয় সময় রোরবার রাতে তিনি পদত্যাগ করতে বাধ্য হন। খবর বিবিসির। প্রধানমন্ত্রী থেরেসা মে তার পদত্যাগ পত্র গ্রহণ করেছেন। থেরেসা মে বলেন,দুঃখিত, আমাকে এই পদত্যাগপত্র গ্রহণ করতে হচ্ছে। কী কারণে রুড পদ্যতাগপত্র দিয়েছে সেটাও বুঝতে পেরেছি। অবৈধ অভিবাসীদের বৈধতার বিষয়ে পার্লামেন্টকে ভুল তথ্য দেওয়ার অভিযোগে তিনি পদত্যাগে বাধ্য হয়েছেন বলে বিবিসির খবরে বলা হয়েছে। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর যুক্তরাজ্যে আসা অভিবাসীদের (উইন্ডরাশ জেনারেশন) বৃটেন থেকে তাড়ানোর বিষয়ে রুডকে জিজ্ঞাসা করেছিলেন পার্লামেন্টের এমপিরা। সে সময় রুড বলেছিলেন, তিনি এ বিষয়ে কিছু জানেন না। কিন্তু গার্ডিয়ানের ফাঁস করা এক ইমেইলে দেখা যায় যে, তিনি বিষয়টি সম্পর্কে অবগত।
উত্তর কোরিয়ার পরমাণু কেন্দ্রগুলো বন্ধ হচ্ছে
দক্ষিণ কোরিয়ার প্রেসিডেন্ট কার্যালয়ের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, উত্তর কোরিয়ার পরমাণু পরীক্ষা কেন্দ্রগুলো আগামী মে মাসে বন্ধ হচ্ছে। আগে কোরিয়া উপদ্বীপকে পরমাণু অস্ত্রমুক্ত রাখতে যৌথভাবে কাজ করতে শুক্রবার সম্মত হন উত্তর কোরিয়ার প্রেসিডেন্ট কিম জং উন ও দক্ষিণ কোরিয়ার প্রেসিডেন্ট মুন জায়ে-ইন। অথচ এর আগে মাত্র কয়েক মাস আগেই দক্ষিণ কোরিয়ার সঙ্গে যুদ্ধাবস্থা ছিল উত্তর কোরিয়ার। রোববার দক্ষিণ কোরিয়ার কমকর্তারা জানান, তাদের সঙ্গে সময় মিল করতে উত্তর কোরিয়া তাদের সময় পরিবর্তন করতে। বর্তমানে দুই কোরিয়ার মধ্যে আধা ঘণ্টার সময়ের পার্থক্য রয়েছে। এএফপি জানায়, মুন জায়ে-ইনের মুখপাত্র বলেন, সম্মেলনকালে কিম জানিয়েছেন... পরমাণু পরীক্ষা কেন্দ্রগুলো আগামী মে মাসে বন্ধ করে দেবেন তিনি।
আসারাম বাপু ধর্ষণকে পাপ বলে মনে করতেন না
ধর্ষণ বা যৌন নির্যাতনকে পাপ বলে মনে করতেন না স্বঘোষিত ধর্মগুরু আসারাম বাপু। তার মতো মহাজ্ঞানী পুরুষ কোনও নারীকে যৌন নির্যাতন করলে তা পাপ বলে গণ্য হবে না বলে মনে করতেন তিনি। রাহুল কে সাচার নামে আসারামের আশ্রমের এক ভক্ত আদালতে সাক্ষ্য দিতে গিয়ে এ কথা সরকারি আইনজীবীকে জানিয়েছিলেন। সম্প্রতি জোধপুরের আদালত এক নাবিলকাকে ধর্ষণে দোষী সাব্যস্ত করে আসারামকে। যাবজ্জীবন কারাবাসের সাজাও শোনানো হয়েছে তাকে। এ খবর দিয়েছে আনন্দবাজার পত্রিকা ও টাইমস অফ ইন্ডিয়া। রাহুলকে উদ্ধৃত করে খবরে বলা হয়, আসারামের কুঠিতে এক সময় ঢোকার অধিকার ছিল তার। ২০০৩ সালে পুষ্কর, ভিওয়ানি আর অমদাবাদের তিনটি আশ্রমে মেয়েদের যৌন নির্যাতন হতে দেখেন তিনি। এ সব কাজে আসারামকে আশ্রমেরই তিন মহিলা ভক্ত সাহায্য করত। ধর্ষণের ফলে কোনও মহিলা অন্তঃসত্ত্বা হয়ে পড়লে আসারাম ঘনিষ্ঠ ওই তিন মহিলা গর্ভপাতের ব্যবস্থাও করত। আশ্রমের ঘরে মেয়েদের ডাকতে ওই তিন মহিলা সহযোগীকে টর্চের মাধ্যমে সঙ্কেতও পাঠাত আসারাম। রাহুলের দাবি, আসারামের মতো এক জন ধর্মগুরু এভাবে নারী নির্যাতন করছে দেখে তাকে চিঠি দিয়েছিলেন রাহুল। পরিণামে তাকে আশ্রম থেকে বের করে দেয়া হয়। পুলিশের সাহায্য নিতে গেলে রাহুলের উপর হামলাও চালানো হয়। আসারামের দশ হাজার কোটির সম্পত্তির দেখাশোনার ভার নিয়েছেন মেয়ে ভারতীশ্রী। আসারামের একমাত্র ছেলে নারায়ণ সাই-ও ধর্ষণের অভিযোগে জেলে। কয়েক বছর আগে থেকেই পারিবারিক ব্যবসার দেখভাল করে আসছেন আসারাম-কন্যা। ২০১৩ সালে আসারামের বিরুদ্ধে ধর্ষণের অভিযোগ ওঠার পরে ভারতীশ্রী আর তাঁর মা-কেও গ্রেফতার করা হয়েছিল। পরে তারা জামিন পান। অলৌকিক ও অতিপ্রাকৃতর বাইরে ২০১৩ সালে জেলে গিয়েছিলেন আসারাম। কিন্তু তাতেও তার সমর্থকদের মধ্যে তার প্রতি শ্রদ্ধার কমতি দেখা যায়নি। এর পেছনে কাজ করেছে বেশকিছু গুজব। সমর্থকদের অনেকের বিশ্বাস আসারাম অলৌকিক ক্ষমতার অধিকারী। আসারামের দাবি, তিনি অসাধারন অলৌকিক কাজ করতে পারেন। এমন দাবির মধ্যে, ভারী বর্ষণ থামিয়ে দেয়া থেকে শুরু করে কারো চিন্তা ভাবনা পড়া, এমনকি মৃত্যুপথযাত্রী অসুস্থ রোগী সুস্থ করে তোলাও রয়েছে। এসব গল্পই এতদিন ধরে তার জনপ্রিয়তা ধরে রাখতে সক্ষম হয়েছে। তার আশ্রমে আনাগোনা অব্যাহত রেখেছেন হাজার হাজার সমর্থক। উদাহরণস্বরূপ, তার আশ্রমের আভ্যন্তরীণ ম্যাগাজিন, রিশি প্রসাদের অনলাইন সংস্করণের ২৯৭ নম্বর ইস্যুতে একটি নিবন্ধের শিরোণাম ছিল এমন এমনকি মেঘেরাও তার আদেশ মানে। ম্যাগাজিনটির ২৯৯ নম্বর ইস্যুতে প্রকাশিত অপর এক নিবন্ধে আসারামের এক ভক্ত এমন এক ঘটনার বর্ণনা দেয়া হয়, যেটায় আসারাম, মাখনের বল ব্যবহার করে তার অল্প বয়স্ক ছেলের বাকরোধ রোগ সারিয়ে দেন। জোধপুর পুলিশ কর্মকর্তারাও জানিয়েছেন, আসারামের অতিপ্রাকৃত ক্ষমতা থাকার দাবিই তার সমর্থকদের একজোট রাখতে সক্ষম হয়েছে। তারা বলেন, আমরা যখন তাকে একটি ভাজরায়(দাঙ্গা বিরোধী যান) করে আদালতে নিয়ে যাচ্ছিলাম তখন তার ভক্তরা গাড়ির সামনে গড়িয়ে পড়ত, শুধুমাত্র তাকে এক পলক দেখার জন্য। তাদেরকে এমন শিক্ষা দেয়া হয়েছে যে, গুরুর নৈকট্য তাদের জীবন পাল্টে দিতে পারে।
গভীর উদ্বেগ চীনের যুক্তরাষ্ট্র-উ. কোরিয়ার সংলাপ নিয়ে
দক্ষিণ কোরিয়া ও যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে উত্তর কোরিয়ার সমঝোতা সংলাপ অত্যাসন্ন। এ অবস্থায় উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছে চীন। তারা মনে করছে এর মাধ্যমে উত্তর কোরিয়াকে চীনের বলয় থেকে বের করে নিচ্ছে নেতা কিম জং উন। উত্তর কোরিয়ার সঙ্গে চীনের সম্পর্ক রক্তের। কোরিয়ান যুদ্ধের সময় উত্তর কোরিয়াকে রক্ষা করতে গিয়ে মাও সেতুংয়ের ছেলে সহ কমপক্ষে এক লাখ ৩০ হাজার চীনা সেনা নিহত হয়েছেন। তারপরও দেশ দুটির মধ্যে সম্পর্ক অতোটা স্বাভাবিক নয়। ব্যবসা বাণিজ্য ও কূটনৈতিক সমর্থনের জন্য বেইজিংয়ের ওপর নির্ভর করে পিয়ংইয়ং। তা হলেও বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, অনেক বেশি বড় দেশ চীনের ওপর লিটল ব্রাদারসুলব মনোভাব পোষণ করে থাকে উত্তর কোরিয়া। সেই উত্তর কোরিয়ার নেতা কিম জং উন এখন বিশ্ব রাজনীতির মঞ্চে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছেন। তাকে নিয়ে বৈঠক করবেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প ও দক্ষিণ কোরিয়ার প্রেসিডেন্ট মুন জায়ে ইন। ফলে এতদিনের রকেট ম্যান এখন বড় মাপের একজন রাজনীতিকের তকমা পেতে চলেছেন। প্রেসিডেন্ট মুন জায়ে ইন ও ডনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে সম্মেলনে যোগ দেয়ার জন্য এখন প্রস্তুতি নিচ্ছেন তিনি। এতেই চীনের উদ্বেগ বেড়েছে। তারা মনে করছে এর মাধ্যমে উত্তর কোরিয়া তাদের বলয় থেকে বেরিয়ে যাচ্ছে। কিম জং উনকে আলোচনার টেবিলে ফেরত আনতে চীনের অর্থনৈতিক চাপ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তবে এক্ষেত্রে বেইজিং এটা ভেবে উদ্বিগ্ন যে, কিম জং উন হয়তো এমন চুক্তি করতে যাচ্ছেন, যাতে তাদের পুরনো শত্রুরা ঘনিষ্ঠ হবে। বেইজিংয়ে টিঙ্গহুয়া কারনেজ সেন্টার ফর গ্লোবাল পলিসির পারমাণবিক নীতি বিষয়ক বিশেষজ্ঞ তোং ঝাও বলেছেন, চীনা সম্প্রদায়ের মধ্যে চরম একটি উৎকণ্ঠা রয়েছে। তা হলো, হয়তো পারমাণবিক সক্ষমতা অর্জনকারী উত্তর কোরিয়াকে নিজেদের মিত্র বলে মেনে নেবে যুক্তরাষ্ট্র। না হয় তাদেরকে একটি বন্ধুপ্রতীম দেশ হিসেবে স্বীকৃতি দেবে। এমন যদি হয় তাহলে তাতে যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের মধ্যকার টান টান কূটনৈতিক সম্পর্কে আরো টান ধরতে পারে। কারণ, বাণিজ্যে করআরোপ নিয়ে এরই মধ্যে চীনের প্রেসিডেন্ট সি জিনপিং ও যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের মধ্যে পাল্টাপাল্টি হয়ে গেছে।
কিউবার নতুন প্রেসিডেন্ট কানেল,ক্যাস্ট্রো যুগের অবসান
কিউবার নতুন প্রেসিডেন্ট হিসেবে নির্বাচিত হয়েছেন মিগুয়েল দিয়াজ কানেল। এর মাধ্যমে দেশটিতে দীর্ঘ ক্যাস্ট্রো যুগের অবসান হলো। বুধবার কিউবার পার্লামেন্টের সদস্যরা ভোটদানের মাধ্যমে ৫৭ বছর বয়সী ফার্স্ট ভাইস প্রেসিডেন্ট কানেলকে ক্যাস্ট্রোর উত্তরাধিকার হিসেবে নির্বাচন করেন। এর আগে শারীরিক অসুস্থতার কারণে প্রেসিডেন্টের পদ থেকে সরে দাঁড়ানোর ঘোষণা দেন রাউল ক্যাস্ট্রো। পদত্যাগ করলেও, কিউবার গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষমতা রাউল ক্যাস্ট্রোর হাতেই থাকছে। ২০০৬ সালে ফিদেল ক্যাস্ট্রো ক্ষমতা ছাড়লে সমাজতান্ত্রিক কিউবার দায়িত্ব গ্রহণ করেন তার ভাই রাউল ক্যাস্ট্রো। কিউবায় দীর্ঘ ৬০ বছর ধরে শাসন করেন ফিদেল ক্যাস্ট্রো ও তার ভাই রাউল ক্যাস্ট্রো।
বাংলাদেশিসহ ছয়দিনে গ্রেফতার ২২৫ অভিবাসী যুক্তরাষ্ট্রে !
যুক্তরাষ্ট্রে গত ছয়দিনে বাংলাদেশিসহ ৫২টি দেশের ২'শ ২৫ জন অবৈধ অভিবাসীসহ বিভিন্ন অপরাধীকে গ্রেফতার করেছেন দেশটির ইমিগ্রেশন এন্ড কাস্টমস এন্সফোর্সমেন্ট আ.ই.স। মঙ্গলবার নিউইয়র্ক, লংআইল্যান্ড, এবং হাডসন ভ্যালি এলাকায় অভিযান চালিয়ে এসব অভিবাসীদের গ্রেফতার করা হয় বলে জানান কাস্টমস কর্মকর্তারা। আটকৃতরা অবৈধ অস্ত্র বহন, যৌন নির্যাতন ও পাসপোর্ট জালিয়াতির মতো একাধিক অপরাধে অভিযুক্ত। নিউইয়র্ক আই.সি.এ'র এক কর্মকর্তা সংবাদ সম্মেলনে জানান, স্থানীয় প্রশাসনের নীতিমালার কারণে বহিষ্কারাভিযানে নানা বাধা সত্ত্বেও কর্মকর্তাদের কঠোর পরিশ্রমে এ অভিযান সফলভাবে পরিচালনা করা হচ্ছে বলে জানান তিনি।
গাল্ফ শিল্ড-১ এর যৌথ সামরিক মহড়া পরিদর্শন করেছেন সৌদিতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
সৌদি আরবের দাম্মামে ২৪ দেশের অংশগ্রহণে অনুষ্ঠিত গাল্ফ শিল্ড-১ এর যৌথ সামরিক মহড়া পরিদর্শন করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। সোমবার স্থানীয় সময় দুপুরে সৌদি আরবের পূর্বাঞ্চলীয় প্রদেশ আল-জুবাইলে সামরিক মহড়ার সমাপনী পর্বে বিশ্বনেতাদের সঙ্গে যোগ দেন তিনি। এই মহড়ায় ২৪টি দেশের সামরিক বাহিনীর পাশাপাশি যোগ দেয় বাংলাদেশের সশস্ত্র বাহিনীও। এই যৌথ সামরিক মহড়ার সমাপনী কুচকাওয়াজ উপলক্ষে সৌদি বাদশাহ সালমান বিন আবদুল আজিজ আল সৌদ এর আমন্ত্রণে সৌদি আরবে যান প্রধানমন্ত্রী। অনুষ্ঠানস্থলে পৌঁছালে শেখ হাসিনাকে স্বাগত জানান সৌদি বাদশাহ। কর্মসূচি অনুযায়ী স্থানীয় সময় সোমবার দুপুর ১টা থেকে বিকেল পর্যন্ত এই মহড়া পরিদর্শন করেন প্রধানমন্ত্রী। এদিকে, সৌদি আরবের কর্মসূচি শেষে ইংল্যান্ডে অনুষ্ঠেয় কমনওয়েলথ এর সরকার প্রধানদের সম্মেলনে যোগ দিতে স্থানীয় সময় সন্ধ্যা সাড়ে ছয়টার পর প্রধানমন্ত্রী সৌদি এয়ারলাইন্সের একটি বিশেষ ফ্লাইটে লন্ডনের উদ্দেশে রওয়ানা হয়েছেন বলে জানা গেছে।

আন্তর্জাতিক পাতার আরো খবর