ভারতের প্রধানমন্ত্রী পদেও কী ক্রিকেটার আসছেন?
অনলাইন ডেস্ক: আর কয়েকমাস পরেই বিশ্বের সবথেকে বড় গণতন্ত্রের দেশ ভারতে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। দেশ পরিচালনার জন্য নেতাকে বেছে নেবেন দেশের মানুষ। ১২৫ কোটি মানুষের এই দেশে প্রধানমন্ত্রী পদ ঘিরে চলছে নানা আলোচনা। অর্থাৎ ২০১৯-এ, কারা ওই চেয়ারের দাবিদার হতে চাইছেন, তা পরিষ্কার। বর্তমান প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সাথে দৌড়ে রয়েছেন কংগ্রেসের যুবরাজ রাহুল গান্ধী। পিছিয়ে নেই পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ও। কিন্তু দেশটিতে আলোচনার মোর কিছুটা ঘুড়িয়ে দিয়েছে পাকিস্তানের নির্বাচন। দেশটির প্রধানমন্ত্রীর চেয়ারে বসেছেন সাবেক ক্রিকেটার ইমরান খান। তবে কী ভারতেও আসছেন সাবেক কোন ক্রিকেটার? এমন প্রশ্নে নাম উঠে এসেছে সৌরভ গাঙ্গুলীর। না কোনও সিনেমার স্ক্রিপ্ট নয়। হয়ত এরকম একটা দিনের দিকেও তাকিয়ে আছে ভারতবাসীর একাংশ। যাদের সঙ্গে রাজনীতির দূর অবধি কোনও সম্পর্ক নেই, যাঁরা মঞ্চে দাঁড়িয়ে বক্তৃতা দেন না, তবু যাদেরকে একবার দেখার জন্য উপচে পড়ে সাধারণ মানুষ, তাঁরাই যদি নেতা হন, মন্দ কি! দেশটিতে I-PAC নামে একটি সংস্থা ‘ন্যাশনাল পলিটিক্যাল অ্যাকশন কমিটি’ নামে এক বিশেষ সমীক্ষা চালু করেছিল সম্প্রতি। আর সেখানেই স্পষ্ট হয়েছে ভারতবাসীর সেই অলীক আশার কথা। প্রতিবেদনটি লেখার সময় পর্যন্ত সমীক্ষায় অংশ নিয়েছেন ৫৮ লক্ষের কিছু বেশি মানুষ। কাকে তাঁরা প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দেখতে চান, তাতে ভোট দিয়েছেন অংশগ্রহণকারীরা। কিন্তু সেই সমীক্ষায় ছিল একটি মজার অপশন-ADD NEW LEADER। নরেন্দ্র মোদী, রাহুল গান্ধী, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, অখিলেশ, মায়াবতী, কেজরিওয়াল, ইয়েচুরি, দেবগৌড়া, নীতিশ কুমার ও শরদ পাওয়ার বাদে যদি অন্য কাউকে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে বেছে নিতে চান কেউ, তাহলে তিনি ওই অপশনে যোগ করতে পারবেন সেই ব্যক্তির নাম। সেখানেই উঠে এসেছে একাধিক অরাজনৈতিক ব্যক্তিত্বের নাম। সেই তালিকায় রয়েছেন প্রাক্তন ভারত অধিনায়ক সৌরভ গাঙ্গুলী। ক’দিন আগেই পাশের দেশ পাকিস্তানে প্রধানমন্ত্রীর আসনে বসেছেন ইমরান খান। বিদেশ থেকে বাহবা দিয়েছেন অনেক ক্রিকেটার বন্ধু। তবে তফাৎ একটাই ইমরান খান বহুদিন ধরে রাজনীতির সঙ্গে সক্রিয়ভাবে যুক্ত ছিলেন। তবে সৌরভের সঙ্গে রাজনীতির কোনও সম্পর্ক এখনও তৈরি হয়নি। বাম আমলে অশোক ভট্টাচার্য মন্ত্রী থাকাকালীন, তাঁর সঙ্গে সৌরভের সুসম্পর্কের কথা সবাই জানতেন। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ক্ষমতার আসার পর তাঁর সঙ্গেও এক ফ্রেমে সৌরভকে দেখা গিয়েছে একাধিকবার। আবার আইপিএলের সময় নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে হাত মেলাতে দেখা গিয়েছিল তাঁকে। ২০১৫-তে একবার সৌরভের বিজেপিতে যোগ দেওয়ার সম্ভাবনার কথা সামনে এলেও সেই আশা ধোপে টেকেনি। নিছক সংবাদমাধ্যমের প্রচার হয়েই রয়ে গিয়েছিল সেটা। যদিও, সব জল্পনা উড়িয়ে সৌরভ স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, তাঁর সঙ্গে রাজনীতির কোনও সম্পর্ক নেই। শুধু সৌরভ নয়, অরাজনৈতিক অনেকেই দেখতে চাইছেন ভারতের মানুষ। তালিকায় ১ নম্বরে রয়েছেন আমির খান। দ্বিতীয়তে, অক্ষয় কুমার। স্ক্রিনের দেশভক্তিই বোধহয় আগে রেখেছে এই দুই অভিনেতাকে। রয়েছেন আন্না হাজারেও। রামদেবের সঙ্গে রাজনীতির হালকা যোগাযোগ থাকলেও, তিনিও স্থান নিয়েছেন এই তালিকায়। সৌরভ ছাড়াও আরও এক অধিনায়ককে মোদির সঙ্গে লড়াইতে দেখতে চান ভারতবাসী, তিনি ‘ক্যাপ্টেন কুল’ ধোনি। আর ভারতে যখন পেট্রোল আর টাকার দাম বাড়ছে, তখন বোধহয় অর্থনীতির বিপ্লব দেখতেই তালিকায় জায়গা দেওয়া হয়েছে রঘুরাম রাজন কিংবা রতন টাটার মত ব্যক্তিত্বকে। সূত্র: কলকাতা টোয়েন্টিফোর সেভেন
মিয়ানমারে দণ্ডিত সাংবাদিকদের মুক্তির আহ্বান জাতিসংঘের
অনলাইন ডেস্ক: জাতিসংঘের নবনিযুক্ত মানবাধিকার বিষয়ক হাইকমিশনার মিশেল ব্যাচেলেট মিয়ানমারে দণ্ডপ্রাপ্ত রয়টার্সের দুই সাংবাদিককে মুক্তি দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। স্থানীয় সময় গতকাল সোমবার এক বিবৃতিতে তিনি এ আহ্বান জানান। চিলির সাবেক প্রেসিডেন্ট মিশেল বলেন,যে আইনি প্রক্রিয়ায় তাঁদের দণ্ড হয়েছে তাতে স্পষ্টভাবেই আন্তর্জাতিক মান লঙ্ঘন করা হয়েছে। তিনি আরো বলেন, এর মাধ্যমে যে বার্তাটি দেওয়া হলো তা হচ্ছে মিয়ানমারের অন্য সাংবাদিকরা ভয়হীনভাবে কাজ করতে পারবে না। তাদের বরং নিজে থেকে সংবাদ প্রকাশ বন্ধ করতে হবে অথবা বিচারের মুখোমুখি হতে হবে।’ রাখাইন রাজ্য থেকে সেনাবাহিনীর খুন, ধর্ষণ, নির্যাতনের মুখে বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গাদের নিয়ে তথ্য সংগ্রহকারী বার্তা সংস্থা থমসন রয়টার্সের সাংবাদিক ওয়া লোন (৩২) ও কিয়াও সো ওকে (২৮) কারাদণ্ড দেন মিয়ানমারের একটি আদালত। গতকাল রাজধানীর ইয়াঙ্গুনের দক্ষিণ জেলা জজ ইয়ে লইন এ ঘোষণা করেন। বিচারক বলেন, সরকারি গোপনীয়তা আইন ভঙ্গ করেছেন আসামিরা। গত বছরের ২৫ আগস্ট নির্যাতনের মুখে রাখাইন রাজ্য থেকে সাত লক্ষাধিক রোহিঙ্গা বাস্তুচ্যুত হয়ে বাংলাদেশে পালিয়ে আসে। একে জাতিসংঘ ‘জাতিগত নিধন বলে আখ্যায়িত করেছে। সারা বিশ্ব যখন মিয়ানমারের এই ‘হত্যাযজ্ঞের’ বিরুদ্ধে সরব, তখনই সাংবাদিক ওয়া লোন ও কিয়াও সো ও গ্রেপ্তার হন। তাঁদের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রের গোপনীয়তা ভঙ্গের অভিযোগে মামলা হয়। তার পর থেকে তাঁরা কারাগারেই ছিলেন। যদিও দুই সাংবাদিক তাঁদের বিরুদ্ধে আনা সব ধরনের অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।
রয়টার্সের দুই সাংবাদিককে ৭ বছরের কারাদণ্ড
অনলাইন ডেস্ক: মিয়ানমারে রোহিঙ্গা নিপীড়নের তথ্য সংগ্রহের সময় গ্রেফতার রয়টার্সের দুই সাংবাদিককে রাষ্ট্রীয় গোপনীয়তা আইন লঙ্ঘনের অভিযোগে দোষী সাব্যস্ত করে তাদের সাত বছরের কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। সোমবার ইয়াঙ্গুনের জেলা জজ আদালত এ রায় ঘোষণা করেন। খবর রয়টার্সের। এ সময় দণ্ডপ্রাপ্ত সাংবাদিক কো ওয়া লোন (৩২) ও কায়াও সোয়ে ও (২৮) আদালতে উপস্থিত ছিলেন। রায় ঘোষণার সময় বিচারক ইয়ে লউইন বলেন, ওই দুই সাংবাদিক গোপনীয় নথি সংগ্রহ ও প্রাপ্তি উপনিবেশিক যুগের অফিসিয়াল সিক্রেটস আইন ভঙ্গ করেছিল। এ জন্য তাদের দোষী সাব্যস্ত করে দণ্ডিত করা হয়েছে। রয়টার্সের প্রধান সম্পাদক স্টিফেন জে অ্যাডলার রায়ের পর তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় বলেন, মিয়ানমারের জন্য, রয়টার্সের সাংবাদিক ওয়া লোন ও কিয়াও সো ওর জন্য এবং বিশ্বের সব সংবাদমাধ্যমের জন্য আজ একটি দুঃখের দিন। উল্লেখ্য, কো ওয়া লোন এবং কায়াও সোয়ে ও নামে এ দুই সাংবাদিককে গত ১২ ডিসেম্বর সন্ধ্যায় ইয়াঙ্গনের উপকণ্ঠে গ্রেফতার করা হয়। এরপর তাদেরকে ১৫ দিনের রিমান্ডে নেয় পুলিশ। রাখাইন রাজ্যে রোহিঙ্গাদের ওপর সেনাবাহিনীর নির্যাতন নিয়ে তারা কিছু দলিল জোগাড় করেছিলেন। সে জন্য তাদের অফিসিয়াল সিক্রেটস আইনে গ্রেফতার করা হয়। দুজনই মিয়ানমারের নাগরিক। দুই সাংবাদিক বলেছেন, তারা কোনো ভুল করেননি। রয়টার্স জানায়, তাদের দুই রিপোর্টারকে ১২ ডিসেম্বর সন্ধ্যায় ডিনারের কথা বলে ডেকে নিয়ে পুলিশ গ্রেফতার করেছিল। এর পর তাদের বিরুদ্ধে ‘অফিসিয়াল সিক্রেটস অ্যাক্টয়ের আওতায় অভিযোগ করা হয়। ১৯২৩ সালে প্রণীত ওই আইনের আওতায় আটক ব্যক্তি দোষি সাব্যস্ত হলে তার ১৪ বছরের কারাদণ্ডের বিধান রয়েছে দেশটিতে।
ব্রাজিলের ২শ বছরের পুরনো জাদুঘর ভয়াবহ আগুনে ধসে পড়েছে
অনলাইন ডেস্ক: ভয়াবহ আগুনে ধসে পড়েছে ব্রাজিলের ২০০ বছরের পুরনো ও ঐতিহ্যবাহী জাদুঘর। এটা দেশটির প্রাচীনতম একটি বৈজ্ঞানিক প্রতিষ্ঠানও বটে। প্রাচীন এই জাদুঘরের সংগ্রহে ২০ মিলিয়ন উপকরণ রয়েছে। রোববার এ ভয়াবহ অগ্নিকা-ের ঘটনা ঘটে। ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা ভবনটির আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ করছে। তবে, আগুনে কতজন আহত হয়েছে সেটা এখন পর্যন্ত জানাতে পারেনি কর্তৃপক্ষ। ব্রাজিলের এই ঐতিহ্যবাহী জাতীয় জাদুঘরটি পর্তুগীজদের রাজপরিবারের একটি ভবনে গড়ে উঠে। চলতি বছরের শুরুতে জাদুঘরটির ২০০তম বার্ষিকী উদযাপন করেছে দেশটি। জাদুঘরটির পরিচালক ব্রাজিলের টিভি চ্যানেল গ্লোবকে বলেন, এটা একটি সাংস্কৃতিক দুর্ঘটনা।
নেপালের কাঠমান্ডুর ত্রিভুবনে আবারও ছিটকে পড়লো বিমান
অনলাইন ডেস্ক: নেপালের রাজধানী কাঠমান্ডুর ত্রিভূবন আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণের সময় রানওয়ে থেকে ছিটকে পড়েছে একটি বিমান। দেশটির বেসরকারি একটি বিমান সংস্থার অভ্যন্তরীণ রুটে চলাচলকারী এ বিমানের দুর্ঘটনায় আহত হয়েছে অন্তত পাঁচ যাত্রী। ভারতীয় বার্তাসংস্থা এএনআইকে ত্রিভুবন আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের জেনারেল ম্যানেজার রাজ কুমার ছেত্রী বলেন, ‘কাঠমান্ডু থেকে ২১ আরোহী নিয়ে নেপালগুঞ্জের উদ্দেশে যাত্রা শুরু করেছিল ফ্লাইট ৯এনঅ্যাএইচডব্লিউ। শনিবার স্থানীয় সময় সকাল সাড়ে ৮টার দিকে ত্রিভুবনের রানওয়ে থেকে বিমানটি ছিটকে পড়ে। ছেত্রী বলেন, বিমানের পাঁচজন আরোহী সামান্য আহত হয়েছেন। কেউই তেমন গুরুতর অঅহত হয়নি। তবে বিমানের অন্যান্য যাত্রী এবং ক্রু সদস্যরা নিরাপদ ছিলেন। এই দুর্ঘটনার পর মেরামতের জন্য কিছু সময় ধরে ত্রিভুবনের বিমান উড্ডয়ন-অবতরণ বন্ধ রাখা হয়। এর আগে, গত ১২ মার্চ ত্রিভুবনের এই বিমানবন্দরে বাংলাদেশের বেসরকারি বিমানসংস্থা ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্সের ফ্লাইট বিজি-২১১ বিধ্বস্ত হয়। বিশ্বের ঝুঁকিপূর্ণ বিমানবন্দরের শীর্ষে থাকা নেপালের এই বিমানবন্দরের ওই দুর্ঘটনায় অন্তত ৫১ আরোহীর প্রাণহানি ঘটে।
রহস্যময় জাহাজ-মিয়ানমার উপকূলে
অনলাইন ডেস্ক: মানুষ নেই, জন নেই। নেই কোনো চালক। মিয়ানমার উপকূলে এসে ভিড়েছে এমন একটি রহস্যময় জাহাজ। জাহাজটি মিয়ানমারের জলসীমায় প্রথম আবিষ্কার করে দেশটির জেলেরা। লোকজনহীন পরিত্যক্ত জাহাজ দেখে তারা ভয় পেয়ে যায়। পরে তারা স্থানীয় পুলিশকে খবর দেয়। মিয়ানমারের বাণিজ্যিক রাজধানী ইয়াঙ্গনের উপকূলে একটি চরে আটকা পড়েছে জাহাজটি। এখন দেশটির কর্তৃপক্ষ জাহাজটি তদন্ত করে দেখছে। বৃহস্পতিবার মিয়ানমারের নৌ বাহিনী জাহাজটিতে অনুসন্ধান চালায়। ইয়াঙ্গুন পুলিশ জানায়, ৫৮০ ফুট দৈর্ঘ্যের বিশাল এই জাহাজের নাম ‘স্যাম রাতুলাঙ্গি পিবি ১৬০০’। ইন্দোনেশিয়ার পতাকাবাহী জাহাজটি যে অনেক পুরনো তা এর গায়ে মরিচা পড়া দেখে বোঝা যায়। কীভাবে জাহাজটি ইয়াঙ্গুন উপকূলে ভেসে এলে, এর পিছনে কোনো কারণ আছে কিনা তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। ইন্ডিপেনডেন্ট ফেডারেশন অব মিয়ানমার সিফারার্সের জেনারেল সেক্রেটারি আং কিউ লিন বলেন, জাহাজটি এখনও ব্যবহার উপযোগী। সম্প্রতি এটি পরিত্যক্ত ঘোষণা করা হয়েছে। এর পিছনে কোনো কারণ থাকতে পারে। মেরিন ট্র্যাফিক ওয়েবসাইটের তথ্যমতে, ২০১১ সালে জাহাজটি নির্মিত হয়েছিল।
সৌদিকে সতর্ক করলো যুক্তরাষ্ট্র
অনলাইন ডেস্ক: ইয়েমেনের কথিত বিদ্রোহীদের নির্মূলে পশ্চিমা শক্তির আশীর্বাদ নিয়ে সৌদি আরব সামরিক অভিযানে নামলেও শিশুসহ বেসামরিক নাগরিকদের হতাহত হওয়ার প্রেক্ষিতে তাদের ‘সতর্ক’ করে দিলো যুক্তরাষ্ট্র। ওয়াশিংটনের তরফ থেকে বলা হয়েছে, রিয়াদ যদি বেসামরিক নাগরিকদের ক্ষয়ক্ষতি কমাতে কোনো তৎপরতা দেখাতে ব্যর্থ হয়, তবে ইয়েমেনে অভিযানে তারা আমেরিকার যে সামরিক ও গোয়েন্দা সহায়তা পাচ্ছে, তা কমিয়ে ফেলা হবে। ক্রাউন প্রিন্স মোহাম্মদ বিন সালমানের নেতৃত্বে সৌদি বাহিনী ইয়েমেনের সুন্নিপন্থি সরকারের গদি রক্ষায় ‘ইরানের আশীর্বাদপুষ্ট’ শিয়াপন্থি হুথি বিদ্রোহীদের দমনের কথা বললেও প্রথম থেকেই সেখানে বিপুলসংখ্যক বেসামরিক মানুষের প্রাণহানির খবর মিলছে। এর সর্বশেষ নজির দেখা যায় গত ৯ আগস্ট। সেদিন সৌদির নেতৃত্বে আরব জোটের বোমা হামলায় একটি স্কুলবাসে থাকা ৪০টি শিশু নিহত হয়, যাদের বেশিরভাগেরই বয়স ১৫ বছরের নিচে। আমেরিকায় বানানো ওই বোমা স্কুলবাসে আঘাত করার পর থেকেই বিশ্বজুড়ে সমালোচনার ঝড় বইছে। সেই সমালোচনার বাইরে থাকলো না খোদ সৌদির মদতদাতা যুক্তরাষ্ট্রও। মার্কিন প্রতিরক্ষা বিভাগের সদর দফতর পেন্টাগনের দুই শীর্ষ কর্মকর্তা সংবাদমাধ্যমকে বলেন, ইয়েমেন যুদ্ধে সৌদির কর্মকাণ্ডে ওয়াশিংটন প্রশাসনে অসন্তোষ বাড়ছে। প্রতিরক্ষামন্ত্রী জ্যামস ম্যাটিস ও মার্কিন সামরিক বাহিনীর মধ্যপ্রাচ্য অপারেশন উইংয়ের প্রধান জেনারেল জোসেফ ভোটেল আলাদাভাবে তাদের উদ্বেগ জানিয়েছেন। সৌদির নেতৃত্বে বিমান হামলায় বিপুলসংখ্যক বেসামরিক মানুষের দায় নিয়েও মাথা ঘামাচ্ছেন তারা। ওই দুই কর্মকর্তা বলেন, যুক্তরাষ্ট্র অনেক আগে থেকেই সৌদিকে বেসামরিক লোকজনের ক্ষয়ক্ষতি কমানোর জন্য কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার পরামর্শ দিয়ে আসছে। কিন্তু এখন স্পষ্টতই মার্কিন কর্মকর্তাদের বিশ্বাস করতে হচ্ছে, তাদের পরামর্শ কাজে আসছে না। ওই হামলার পর মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী ম্যাটিস সাংবাদিকদের জানান, স্কুলবাসে হামলার ঘটনাটির বিষয়ে জানতে তিনি শীর্ষ একজন জেনারেলকে সৌদি পাঠাচ্ছেন। তাতেই রিয়াদের বিরুদ্ধে মার্কিন প্রশাসনের ‘ছাড় না দেওয়ার অবস্থান’ স্পষ্ট হয়ে যায়। এরপর মার্কিন প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র লেফটেন্যান্ট কমোডর রেবেকা রেবারিচ বলেন, সাম্প্রতিক ঘটনা মার্কিন সামরিক নেতাদের এটাই নির্দেশ করেছে যে- বর্তমান পরিস্থিতিতে বিশেষ নজর দরকার এবং সফরকারী কর্মকর্তা (ম্যাটিসের পাঠানো জেনারেল) এ বিষয়ের ওপরই জোর দিয়েছেন। তিনি বেসামরিক নাগরিকদের ক্ষয়ক্ষতির বিষয়ে উদ্বেগ জানিয়ে বার্তা দিয়েছেন, পাশাপাশি এ ধরনের ঘটনার দায় নিরূপণপূর্বক প্রতিরোধকল্পে ব্যবস্থা নিতে আহ্বান জানিয়েছেন। পেন্টাগনের ওই কর্মকর্তাদ্বয় বলেন, ম্যাটিসের পাঠানো ওই জেনারেলের বার্তাটিই ছিল মার্কিন প্রশাসনের সামরিক ও গোয়েন্দা সহায়তা হ্রাস করার ইঙ্গিতমূলক। যদিও এমন কিছু যুক্তরাষ্ট্র শেষ পর্যন্ত করলে কী ফল দেবে, তা এখনই স্পষ্ট নয়। তবে এতে যে সৌদি রাজত্বের নেতৃত্ব আত্মবিশ্বাসের ঘাটতিতে পড়ে যেতে পারে, অন্তত তাদের আস্ফালন কমতে পারে, তা অনুমান করাই যায়। তবু যদি নির্বিচারে শিশু হত্যা বন্ধ হয়!
মিশরে সেনা অভিযানে নিহত ৮ 0
অনলাইন ডেস্ক: মিশরের উত্তর সিনাই উপত্যকায় সেনা অভিযানে ৪ পুলিশসহ ৮ জন নিহত হয়েছেন। খবর আল জাজিরার। মিশরের নিরাপত্তাবাহিনীর সূত্র জানায় শনিবারের ওই অভিযানে বেশ কয়েকজন পুলিশ আহতও হয়েছেন। সূত্র জানায়, আক্রমণকারীরা ভারী অস্ত্র সহ আত্মঘাতী পোশাক পড়া ছিল। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক সূত্র জানায়, অভিযানের সময় নিহত ছাড়া বাকি হামলাকারীরা পালিয়ে যেতে সক্ষম হয়। তবে এই অভিযানে কারা নিহত হয়েছে অথবা ওই বন্দুকধারী কারা ছিল সে ব্যাপারে এখনও নিশ্চিত হতে পারেনি কর্তৃপক্ষ। যদিও সিনাই উপত্যকার ওই এলাকায় আইএস জঙ্গিরা বেশ সক্রিয়। গতমাসে সিনাই উপত্যকায় আরেকটি অভিযানে ৫২ জন নিহত হয় এবং গত কয়েকদিন ধরে ওই জনবহুল মরুভূমি থেকে সন্ত্রাস দমনের চেষ্টা চালাচ্ছে মিশরের আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। সিনাই উপতক্যায় সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে অভিযান শুরু করার পর গত ফেব্রুয়ারী থেকে এ পর্যন্ত সেখানে ৩০০এর অধিক নিহত হয়েছেন। সন্ত্রাসীদের হারানো এবং নিরাপত্তা নিশ্চিত করা প্রেসিডেন্ট আব্দেল ফাত্তাহ আল সিসির নির্বাচনী ইশতেহারে ছিল। সিসির সমালোচকরা বলছেন, তিনি ক্ষমতায় আসার পর অনেক নিরপরাধ মানুষকে আটক করেছে কিন্তু তার সমর্থকরা মিশরকে স্থিতিশিল করার জন্য এ ধরণের পদক্ষেপকে স্বাগত জানিয়েছেন।
ক্লোন এটিএম কার্ড দিয়ে ৭৮ কোটি রুপি হ্যাকিং!
অনলাইন ডেস্ক: মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, রাশিয়া ও সংযুক্ত আরব আমিরাতসহ ২৮ দেশের বিভিন্ন শহরে অবস্থিত ভারতের কসমস ব্যাংকের শাখা থেকে ক্লোন এটিএম কার্ড ব্যবহার করে প্রায় ৭৮ কোটি রুপি হাতিয়ে নিয়েছে একদল হ্যাকার। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলো জানায়, ১১ থেকে ১৩ আগস্টের মধ্যে একদল অজ্ঞাত পরিচয় হ্যাকার ব্যাংকের এটিএম সুইচ সার্ভারে প্রবেশ করে বিভিন্ন তথ্য হাতিয়ে নেয়। তারা আন্তব্যাংক সুইফট সিস্টেমও আক্রমণ করে এবং সবমিলিয়ে ৯৪ কোটি রুপি পাচার করতে সক্ষম হয়। পুনে পুলিশের সাইবার ও অর্থ অপরাধ শাখার ডেপুটি পুলিশ কমিশনার জয়তি প্রিয়া সিং জানান, হ্যাকাররা ২৮টি দেশের ব্যাংক শাখায় স্বশরীরে গিয়ে ক্লোন কার্ডের মাধ্যমে টাকাগুলো উত্তোলন করে। অপরাধীদের সনাক্ত করতে এসব দেশের আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলোর সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়েছে।

আন্তর্জাতিক পাতার আরো খবর