পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রীর হঠাৎ যুক্তরাষ্ট্র সফর
উত্তেজনার মধ্যেই হঠাৎ ছয় দিনের ব্যক্তিগত সফরে যুক্তরাষ্ট্র সফরে গেছেন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহিদ খাকান আব্বাসি। তার এ সফরের উদ্দেশ্য নিয়ে পাকিস্তানে নানা জল্পনার সৃষ্টি হয়েছে। সফর উদ্দেশ্যে মঙ্গলবার পাকিস্তান ত্যাগ করেন আব্বাসি। পাকিস্তানের ক্ষমতাসীন দল মুসলিম লিগ বিশেষ করে শরিফ পরিবার বর্তমানে নানামুখী রাজনৈতিক সংকট মোকাবেলা করছে। এজন্য এ সফরে ট্রাম্প প্রশাসনের শক্তিশালী ব্যক্তিদের সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে আলোচনা হতে পারে। খবর রেডিও তেহরানের। তবে পাক প্রধানমন্ত্রীর এ সফর নিয়ে তার দফতর থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য জানানো হয়নি। আব্বাসির ঘনিষ্ঠ সূত্র থেকে অনানুষ্ঠানিক জানানো হয় যে, ফিলাডেলফিয়ায় পাক প্রধানমন্ত্রীর এক বোনের অপারেশন হওয়ার কথা রয়েছে। বৃহস্পতিবার এ অপারেশন হবে এবং তাকে দেখতে এ সফরে গেছেন তিনি। এদিকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে আগে কূটনৈতিক দায়িত্বপালন করেছেন এমন এক পাক কর্মকর্তা ভিন্ন মন্তব্য করেন। তিনি বলেন, কূটনৈতিক লক্ষ্য অর্জনকে সামনে রেখে অনেক সময়ই রাষ্ট্র বা সরকারপ্রধানরা খানিকটা চুপিসারে সফর করেন।
শুধু মৃত্যুই পারবে আমাকে রাজ্য শাসন থেকে সরাতে
আন্তর্জাতিক অঙ্গনে এখন বেশ পরিচিত মুখ সউদী আরবের যুবরাজ মোহাম্মাদ বিন-সালমান। ধর্মীয় রীতি-নীতির দিক থেকে কঠোর এ দেশটিতে সংস্কারের ছোঁয়া এনেছেন তিনিই। এতে অনেকেরই প্রশাংসা কুড়িয়েছেন সালমান। আবার অনেকেই করেছে সমালোচনা। তবে সমালোচকদের জবাবে সউদী যুবরাজ বলেছেন, শুধু মৃত্যুই পারবে তাকে রাজ্য শাসন থেকে সরাতে। গত রোববার যুক্তরাষ্ট্রে রাষ্ট্রীয় ভ্রমণকালে এক ঘণ্টার প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ কথা বলেন মোহাম্মাদ বিন-সালমান। সংবাদমাধ্যম আল-জাজিরার খবরে যুবরাজের বক্তব্যগুলো তুলে ধরা হয়। মোহাম্মদ বিন সালমান বলেন, একমাত্র মৃত্যুই পারবে আমাকে রাজ্য শাসন থেকে সরাতে। একমাত্র আল্লাহ বলতে পারেন মানুষ কতদিন জীবিত থাকবেন। সবকিছু যদি স্বাভাবিক থাকে তবে ক্ষমতা থেকে আমাকে কেউ সরাতে পারবেন না আশা করি। সালমান আরও বলেন,গত বছরে শুরু হওয়া দুর্নীতি দমন অভিযানে এখন পর্যন্ত ১০০ বিলিয়ন ডলার পুনরুদ্ধার হয়েছে। এখন পর্যন্ত যা করেছি তা সবই প্রয়োজন ছিলো। আইন অনুযায়ী প্রতিটি পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে বলে জানান মোহাম্মাদ। সূত্র : ওয়েবসাইট।
আবারও রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত পুতিন
আবারও রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হয়েছেন ভ্লাদিমির পুতিন। ভোট গণনা শেষে রাশিয়ার কেন্দ্রীয় নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে, পুতিন ৭৬ শতাংশেরও বেশি ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছেন। এ জয়ের ফলে আরো ছয় বছর রাশিয়াকে নেতৃত্ব দেওয়ার সুযোগ পেলেন পুতিন। প্রেসিডেন্ট কিংবা প্রধানমন্ত্রী হিসেবে আনুষ্ঠানিকভাবে ২০০০ সাল থেকে রাষ্ট্র পরিচালনা করে আসছেন তিনি। আন্তর্জাতিক সংবাদ মাধ্যম বিবিসি জানিয়েছে, নির্বাচনের আনুষ্ঠানিক ফলাফলে দেখা যায়, পুতিন ৭৬ শতাংশেরও বেশি ভোট পেয়েছেন। তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বামপন্থী দলের নেতা পাভেল গ্রুদিনিন পেয়েছেন ১২ শতাংশ ভোট। কিন্তু রোববার অনুষ্ঠিত এই নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে পারেননি পুতিনের প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী রাশিয়ার প্রধান বিরোধীদলীয় নেতা অ্যালেক্সি নাভালনি। জালিয়াতির মামলায় দোষী সাব্যস্ত হওয়ায় নির্বাচনে অংশ নিতে পারেননি তিনি। ইউক্রেন থেকে বিচ্ছিন্ন করে রাশিয়ার অংশ হওয়ার পর প্রথমবারের মতো রাশিয়ার এই নির্বাচনে অংশ নিয়েছে ক্রিমিয়াবাসী। নির্বাচনের ফলাফলে দেখা যায়, পুতিনের জনপ্রিয়তা আরো বেড়ে গেছে। এর আগে ২০১২ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে তিনি ৬৪ শতাংশ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছিলেন। এবার তার থেকে ১২ শতাংশ বেশি ভোট পেয়েছেন তিনি। উল্লেখ্য, ২০০০ সালে প্রথম প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হওয়ার পর থেকে পুতিন টানা দুই মেয়াদে প্রেসিডেন্ট, এরপর এক মেয়াদে প্রধানমন্ত্রী থাকার পর ফের টানা দুই মেয়াদ প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হলেন। নির্বাচনের প্রাথমিক ফল ঘোষিত হওয়ার পর রাজধানী মস্কোয় এক সমাবেশে ভাষণ দিয়েছেন পুতিন। এতে তিনি বলেন, গত কয়েক বছরের অর্জনকে স্বীকৃতি দিয়েছেন ভোটাররা। ভোটের ফল ঘোষনার পর সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় ছয় বছর পর আবারো প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে তিনি দাঁড়াবেন কিনা এমন প্রশ্নে তিনি হেসে ফেলেন। তিনি বলেন, আপনারা যা বলছেন তা কিছুটা মজার। আপনার কি মনে করেন ১০০ বছর না হওয়া পর্যন্ত আমি এখানে থাকবো? মোটেই না!
ভোটগ্রহণ শুরু হয়েছে রাশিয়ায় প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে
রাশিয়ায় আজ রোববার প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের ভোটগ্রহণ শুরু হয়েছে। স্থানীয় সময় সকাল আটটায় সেখানে ভোটগ্রহণ শুরু হয় এবং তা রাত আটটা পর্যন্ত একটানা চলবে। এই নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন আটজন প্রার্থী। তাঁরা হলেন ভ্লাদিমির পুতিন, পাভেল গ্রুদিনিইন, গ্রিগোরি ইয়াভিলিনস্কি, কেসেনিইয়া সাবচাক, বরিস তিতোভ, সেরগেই বাবুরিন, ভ্লাদিমির ঝিরিনোভস্কি ও মাক্সিম সুরাইকিন। নির্বাচনের আগে রাশিয়ান পাবলিক ওপিনিয়ন রিসার্চ সেন্টারের (ভিছেইওএম) প্রকাশিত সর্বশেষ এক জরিপে দেখা যায়, প্রায় ৭০ শতাংশ রুশ ভোটার বর্তমান প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনকে আবার প্রেসিডেন্ট হিসেবে চান। মস্কোতে যখন শনিবার দিবাগত রাত ১১টা, তখন কামচাতকা ও চুকোত অঞ্চলে সকাল আটটা। তাই সেখানেই সবার আগে ভোটগ্রহণ শুরু হয়। রাশিয়ার কেন্দ্রীয় নির্বাচন কমিশনের টুইটে বলা হয়, এই অঞ্চলের মোট ভোটারের ৭৭ ভাগই কামচাতকার তিনটি শহরে বাস করেন এবং বাকিরা উপদ্বীপের বিভিন্ন এলাকায় ছড়িয়ে–ছিটিয়ে বাস করেন।
প্রথম নারী পুরোহিত কন্যাদান ছাড়াই বিয়ে পড়ালেন
পিতৃতান্ত্রিক সমাজের চিরায়ত কন্যাদান প্রথা পালন ছাড়াই পশ্চিমবঙ্গের প্রথম হিন্দু নারী পুরোহিত হিসেবে এক তরুণীর বিয়ে পড়িয়ে ব্যাপক আলোচনায় এসে নন্দিনী ভৌমিক নামের এক নারী। নন্দিনীর বিয়ে পড়ানোর এ ঘটনা রীতিমতো পশ্চিমবঙ্গের টক অব দ্য টাউনে পরিণত হয়েছে। নন্দিনী ভৌমিক বলেন,আমি পিতৃতান্তিক মানসিকতা দূর করতে চাই; যেখানে কন্যাদের প্রতি পিতা-মাতার দায়িত্ব অস্বীকার করে। এই প্রথায় কন্যাকে পণ্যের মতো মনে করা হয়; তাকে দান হিসেবে তুলে দেয়া হয়। দ্য লজিক্যাল ইন্ডিয়ানের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২৪ ফেব্রুয়ারি কলকাতার অন্বিতা জনার্ধনান ও অর্ক ভট্টাচার্যের বিয়ে পড়ান নন্দিনী ভৌমিক। তার এই কাজ নারীর ক্ষমতায়নের অনন্য উদাহরণ। নন্দিনী ভৌমিকের পেশা জাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের সংস্কৃতের শিক্ষক পশ্চিমবঙ্গের প্রথম এই নারী পুরোহিত। গত ৪০ বছরে প্রায় ৪০টি বিয়ে পড়িয়েছেন তিনি; সবগুলোতেই কন্যাদান প্রথাকে বুড়ো আঙ্গুল দেখিয়েছেন তিনি। ক্লাসে শিক্ষার্থীদের পাঠদান ছাড়াও ১০ নাট্য গ্রুপের সঙ্গে জড়িত নন্দিনী ভৌমিক। ব্যস্ত জীবনের ফাঁকে বিয়ে পড়ানোর জন্য অধিকাংশ সময়ই ধর্মীয় উৎসবকে বেছে নেন তিনি। কলকাতা ও এর আশপাশে ভিন্ন ভিন্ন ধর্মের, বর্ণের ও জাতিগত গোষ্ঠীর জুটিদের বিয়ে পড়ান তিনি। ভৌমিক এ কাজের উৎসাহ পেয়েছেন তার শিক্ষাগুরু গৌরি ধর্মপালের কাছে। এমনকি বিয়ে পড়িয়ে তিনি যে অর্থ পান; তার অধিকাংশই দান করে দেন উড়িষ্যার পুড়ির কাছের বালিঘাই এতিমখানায়। ২৪ ফেব্রুয়ারি বিয়ে পড়ানোর সময় নন্দিনীর সঙ্গে ছিলেন তার দলের সদস্য, সহকর্মী, বন্ধু ও ধর্মীয় অন্য পুরোহিতরা। বিয়ের অনুষ্ঠানে নন্দিনী যখন সংস্কৃত মন্ত্র পড়েন তখন তা ইংরেজি এবং বাংলায় অনুবাদও করা হয়। ব্যাকগ্রাউন্ড বেজে উঠে রবীন্দ্র সংগীত। অর্ক বলেন,আমি শুনেছি অনেক পুরুষ পুরোহিত ভুল মন্ত্র পাঠ করেন। কিন্তু গত বছর আমার এক বন্ধুর বিয়েতে নন্দিনী ভৌমিককে বিয়ে পড়াতে দেখেছি। তিনি সংস্কৃত মন্ত্র হুবহু বাংলা এবং ইংরেজিতে অনুবাদ করে পাঠ করছিলেন। হিন্দু ধর্মীয় গ্রন্থ বিশেষ করে ঋগবেদে কন্যাদান ছাড়াই নারী পুরোহিতদের বিয়ে পড়ানোর ব্যাপারে উল্লেখ অাছে। নন্দিনী নিজেকে সামাজিক পরিবর্তনের একজন কর্মী মনে করেন; যিনি সমাজে চিন্তার প্রসার ঘটাতে চান। যা বলছেন পণ্ডিতরা সংস্কৃত ভাষার পণ্ডিত ও ভারতীয় তাত্ত্বিক নৃসিংহ প্রসাদ ভাদুরি বলেন,হিন্দু ধর্মে নারীদের পুরোহিত হওয়ার পথে কোনো ধরনের প্রতিবন্ধকতা নেই। এমনকি, বহু নারী পুরোহিতের উদাহরণ আছে; যারা বেদগুলোতে আধ্যাত্মিক ও দার্শনিক বিতর্কে অংশ নিয়েছেন। নারী পুরোহিতের বিয়ে পড়ানো আজকের তরুণদের কাছে ট্রেন্ডে পরিণত হয়েছে। তারা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নন্দিনীর সঙ্গে যোগাযোগ করতে শুরু করেছে। নন্দিনী ভৌমিক এ বিয়ে পড়ানোর আগে নিজের মেয়েরও বিয়ে পড়িয়েছেন কন্যাদান ছাড়াই। তার দলসহ শিগগিরই আরো একটি বিয়ে পড়াবেন তিনি।
কাঠমান্ডুতে বিধ্বস্ত উড়োজাহাজের ব্ল্যাকবক্স নেয়া হচ্ছে কানাডায়
কাঠমান্ডুতে বিধ্বস্ত উড়োজাহাজের ব্ল্যাকবক্স (বিমানে সংরক্ষিত ফ্লাইট ডাটা রেকর্ডার) নেপাল কানাডায় পাঠাবে বলে জানিয়েছেন বেসরকারি বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ (বেবিচক) চেয়ারম্যান এয়ার ভাইস মার্শাল এম নাইম হাসান। তিনি জানান, তাদের এটা পরীক্ষা করার সরঞ্জামাদি নেই। ব্ল্যাকবক্সের তদন্তের রিপোর্ট পেতে সময় বেশি লাগতে পারে। বৃহস্পতিবার দুপুর ২টায় বেবিচকের কনফারেন্স রুমে এক সংবাদ সম্মেলনে একথা বলেন তিনি। তদন্ত প্রক্রিয়া দীর্ঘ হওয়ার কারণ হিসেবে এম নাইম হাসান বলেন, ব্ল্যাকবক্স, ককপিটের ভয়েস রেকর্ডার, ইকুইপমেন্ট টেস্টসহ বিভিন্ন জায়গা থেকে বিভিন্ন উপাদান আসতে পারে। সেগুলো একত্রিত করতে দীর্ঘ সময় লাগবে। নেপাল তদন্ত করবে বলে জানিয়ে তিনি আরও বলেন, আমরা হয়তো তাদের কাজের সহযোগিতা করবো। এখন থেকে নিয়মিত তাদের এভিয়েশন অথরিটির সাথে যাতায়াত থাকবে, কাজ চলবে। এটা চলমান প্রক্রিয়া। তদন্ত কি হবে না হবে এব্যাপারে বলার মতো কিছু নেই এই মুহূর্তে। এম নাইম হাসান বলেন, ময়নাতদন্ত শেষ করার পরে নিহতদের শনাক্তকরণ প্রক্রিয়াটা শুরু হবে। এটা জটিল একটা প্রক্রিয়া। কেননা উড়োজাহাজ বিধ্বস্তের কারণে নিহতদের অধিকাংশকে চেনার উপায় নেই। তাই তাদের আত্মীয়দের কাছ থেকে জিজ্ঞাসা করে জানা হচ্ছে, শরীরের কোথায় কোনো চিহ্ন বা দাগ আছে কি না। এটা জেনে নিহতদের লাশ চিহ্নিত করে হস্তান্তর করবে। তাই তারা তিন-চার দিন সময় নিয়েছেন। তবে আমরা আশা করছি, তার আগেই নিহতদের লাশগুলো ফেরত পাবো। উল্লেখ্য, নামে ব্ল্যাক বক্স হলেও ফ্লাইট রেকর্ডার কিন্তু আসলে কালো কোনো বাক্স নয়। বরং এর রং অনেকটা কমলা ধরণের। এটি অত্যন্ত শক্ত ধাতব পদার্থ দিয়ে তৈরি একটি বাক্স, যা পানি, আগুন, চাপ ও উচ্চ তাপমাত্রাতেও টিকে থাকে। এটি মূলত দুইটি অংশের সমন্বয়ে তৈরি একটি ভয়েস রেকর্ডার। বিমান চলাচলের সময় সব ধরণের তথ্য এটি সংরক্ষণ করে রাখে। এর মধ্যে দুই ধরণের তথ্য সংরক্ষিত থাকে। একটি হলো ফ্লাইট ডাটা রেকর্ডার (এফডিআর) যেটি বিমানের ওড়া, ওঠানামা, বিমানের মধ্যে তাপমাত্রা, পরিবেশ, চাপ বা তাপের পরিবর্তন, সময়, শব্দ ইত্যাদি নানা বিষয় নিজের সিস্টেমের মধ্যে রেকর্ড করে রাখে। ককপিট ভয়েস রেকর্ডার (সিভিআর) নামের আরেকটি অংশে ককপিটের ভিতর পাইলদের নিজেদের মধ্যেকার কথোপকথন, পাইলটদের সঙ্গে বিমানের অন্য ক্রুদের কথাবার্তা, ককপিট এর সঙ্গে এয়ার কন্ট্রোল ট্রাফিক বা বিভিন্ন বিমান বন্দরের সঙ্গে রেডিওতে হওয়ায় কথোপকথন রেকর্ড হতে থাকে। ফলে, কোনো বিমান দুর্ঘটনায় পড়লে এই ব্ল্যাক বক্সটি খুঁজে বের করাই হয়ে পড়ে উদ্ধারকারীদের প্রধান লক্ষ্য। কারণ এটি পাওয়া গেলে সহজেই ওই দুর্ঘটনার কারণ বের করা সম্ভব হয়। বাক্সটির রং উজ্জ্বল কমলা হওয়ায় সেটি খুঁজে পাওয়া সহজ হয়। সমুদ্রের তলদেশেও ৩০ দিন পর্যন্ত ব্ল্যাক বক্স অক্ষত থাকতে পারে।
রামি হামদাল্লাহর গাড়িবহরে বোমা হামলা
গাজা উপত্যকায় বিরল সফরে যাওয়ার সময় ফিলিস্তিনের প্রধানমন্ত্রী রামি হামদাল্লাহর গাড়িবহরে বোমা হামলার ঘটনা ঘটেছে। স্থানীয় সময় মঙ্গলবার রাস্তার পাশে পুঁতে রাখা বোমা বিস্ফোরিত হয়ে এ ঘটনা ঘটে। তবে এ ঘটনায় নিহত হওয়ার খবর পাওয়া না গেলেও সাতজন আহত হয়েছেন বলে জানা গেছে। খবর দ্য গার্ডিয়ান, আল জাজিরার। খবরে বলা হয়, ইসরায়েল পেরিয়ে উপকূলীয় ছিটমহলে পৌঁছানোর কিছুক্ষণ পরই ওই হামলার ঘটনা ঘটে। রাস্তার পাশে পুঁতে রাখার বোমা বিস্ফোরতি হয়ে এ ঘটনা ঘটে। এসময় তিনটি গাড়ির দরজা উড়ে যায়। আর একটি গাড়ির দরজায় রক্তের দাগ দেখা যায়। তবে অক্ষত আছেন প্রধানমন্ত্রী রামি হামদাল্লাহ। পরে তিনি বহুপ্রতীক্ষিত পয়নিষ্কাশন প্লান্ট প্রজেক্টের উদ্বোধন করেন। ওই গাড়িবহরে ফিলিস্তিনের গোয়েন্দা কর্তৃপক্ষের প্রধান মাজেদ ফারাজও ছিলেন। তিনিও অক্ষত আছেন। তবে কেউই তাৎক্ষণিকভাবে ওই হামলায় দায় স্বীকার করেনি। কিন্তু ফিলিস্তিনের কর্তৃপক্ষ এ হামলার জন্য হামাসকে দায়ী করেছে।
নেপালে গিয়ে বিড়ম্বনায় স্বজনরা
ইউএস বাংলার বিমান দুর্ঘটনায় হতাহতদের খোঁজ নিতে গিয়ে নেপালে বিড়ম্বনায় পড়েছেন স্বজনরা। লাশ শনাক্ত তো দূরে কথা দেখতে দেয়া হচ্ছে না আহতদেরও। এতে শোকের সঙ্গে যুক্ত হয়েছে বাড়তি যন্ত্রণা। তবে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত আশ্বাস দিয়েছেন যত দ্রুত সম্ভব লাশ শনাক্ত এবং আহতদের সঙ্গে স্বজনদের দেখা করার ব্যবস্থা করবেন তারা। ইউএস বাংলা, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় কিংবা সিভিল এভিয়েশন, কোন সংস্থার তথ্যই যখন স্বজনহারা মানুষগুলোকে নির্ভার করতে পারেনি ঠিক তখনই নিজ চোখে স্বজনের অবস্থা দেখতে হাজার মাইল পাড়ি দিয়ে দুর্ঘটনাস্থল নেপালে পৌঁছান ৪৬ জন হতভাগা মানুষ। মঙ্গলবার সকাল সাড়ে দশটায় নেপালে পৌঁছালেও শেষ হয়নি অপেক্ষার। নেপাল কর্তৃপক্ষের দীর্ঘসূত্রতার বেড়াজালে এখনো অনিশ্চয়তায় তারা। জানেন না কেমন আছে প্রিয় মানুষগুলো। আদৌ কি বেঁচে আছেন। বিমানে থাকা এক যাত্রীর স্বজন বলেন, 'জানি না কি অবস্থা। সবাই বলছে, মিসিং মিসিং। এখানে আসার পরে শুনলাম যে, বাই পুড়ে গেছে। খুব মর্মান্তিক অবস্থা। কাউকে দেখতে দিচ্ছে না। ওরা আরও চার-পাঁচ দিন সময় নিবে। এতো দিন এখানে থাকা তো আমাদের জন্য কঠিন। বাংলাদেশে মানুষ অপেক্ষা করছে। তারা জানতে চাচ্ছে, দেখেছি কিনা বা জীবিত আছে কিনা। আমরা তো কোন কিছুই বলতে পারছি না।' অপর একজন বলেন, 'হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ লাশ দেখতে দিচ্ছে না। এটাই আমাদের জন্য খুবই দুঃখজনক। ওরা অনেক লম্বা প্রক্রিয়ার কথা বলছে। আমাদের দূতাবাস চেষ্টা করছে যাতে দেখানো যায়।' দীর্ঘসূত্রিতার বিষয়টি স্বীকার করে বাংলাদেশী অ্যাম্বাসেডর মাশফি বিনতে শামস বলছেন, তারা চেষ্টা করছেন জটিলতা কমিয়ে এনে স্বজনদের কে আহতদের সঙ্গে দেখা করানোর ব্যবস্থা করতে। আর যারা মারা গেছেন তাদেরও লাশ দেখানোরও চেষ্টা করছেন তারা। তিনি বলেন, 'এই মাত্রই জানতে পারলাম এই সমস্যাটার কথা। কারণ, সকাল থেকেই তো আমাদের অফিসার ছিলেন সেখানে। ওরা তখন বলে নাই। আমরা যখন স্বজনদের নিয়ে গেছি তখন বলছে। আমরা অবশ্যই মরদেহ দেখার ব্যবস্থা করবো। আমরা অবশ্যই চেষ্টা করবো সবাই যেনো তাদের স্বজনদের খুঁজে পান।' সব প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে দ্রুততম সময়ের মধ্যে মৃতদেহ বাংলাদেশে পাঠানো হবে বলেও আশ্বস্ত করেছেন নেপালে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত।
ইসরাইলি আইনের নিন্দা জানিয়েছে কাতার
ফিলিস্তিনিদের আবাসন অধিকার কেড়ে নেওয়ার ইসরাইলি আইনের নিন্দা জানিয়েছে কাতার। কাতারের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে বলেছে, ইসরাইলের সংসদ এ আইন পাসের মাধ্যমে সব আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘন করেছে। নিঃসন্দেহে ইসরাইলের ওই আইন নীতি-নৈতিকতা ও মানবিকতাবিরোধী। ফিলিস্তিনিদের অধিকার হরণের ইসরাইলি পদক্ষেপ বন্ধে আন্তর্জাতিক সমাজের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে কাতার। দেশটির বিবৃতিতে আরও বলা হয়েছে, ইসরাইল অব্যাহতভাবে ফিলিস্তিনিদের অধিকার হরণ করছে। এ বিষয়ে আন্তর্জাতিক সমাজকে অবশ্যই দায়িত্ব পালন করতে হবে। গত বুধবার ইহুদিবাদী ইসরাইলের সংসদ নেসেটে একটি আইন পাস করা হয়েছে, যা বলবৎ করা হলে ফিলিস্তিনি জনগণের বসবাসের অধিকার কেড়ে নেওয়া যাবে। আইনে বলা হয়েছে, পবিত্র বায়তুল মুকাদ্দাস শহরে বসবাসকারী ফিলিস্তিনিরা ইসরাইলের প্রতি অনুগত না হলে তাদের আবাসন সুবিধা বাতিল করা হবে। বুধবার ইসরাইলি সংসদে এ আইন পাস হয়েছে এবং এতে আরও বলা হয়েছে, যেসব ব্যক্তি মিথ্যা তথ্যের ভিত্তিতে নাগরিকত্ব নিয়েছে তাদের ক্ষেত্রেও এ আইন প্রযোজ্য হবে। এছাড়া, ইসরাইলি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দৃষ্টিতে যারা অপরাধমূলক কর্মকা- করছে তাদেরও এ আইনের আওতায় আনা হবে। এ আইনের আওতায় যেসব ফিলিস্তিনিকে ইসরাইলের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আরিয়েহ দেরি হুমকি বলে মনে করবেন, তিনি সেসব ফিলিস্তিনিকে বায়তুল মুকাদ্দাস থেকে উচ্ছেদ করতে পারবেন। ইসরাইলের এ আইনকে চরম বর্ণবাদী বলে মন্তব্য করেছেন ফিলিস্তিনি মুক্তি সংস্থা বা পিএলওর সিনিয়র সদস্য হানান আশরাভি।

আন্তর্জাতিক পাতার আরো খবর