বাংলাদেশের অর্থনৈতিক মডেল অনুসরণ করার পরামর্শ ইমরানকে
অনলাইন ডেস্ক: পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফের (পিটিআই) প্রধান ইমরান খানের নেতৃত্বে পাকিস্তানের নতুন সরকার সুইডেনের আর্থিক মডেল অনুসরণের পরিকল্পনার খবর প্রকাশের পর পাকিস্তানি এক সাংবাদিক পাকিস্তানকে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক মডেল অনুসরণ করার পরামর্শ দেন। ক্যাপিটাল টেলিভিশনের টক শো আওয়াম-এ পাকিস্তানের প্রবীণ সাংবাদিক জায়গাম খান এ মন্তব্য করেন। এর সপক্ষে যুক্তি হিসেবে তিনি তুলে ধরেছেন কয়েক বছর ধরে বাংলাদেশ বিভিন্ন ক্ষেত্রে অভাবনীয় উন্নতি করে চলেছে। এ ছাড়া ঢাকা ও ইসলামাবাদের স্টক এক্সচেঞ্জের তুলনা করেও তিনি বিষয়টি পরিষ্কার করেছেন। বক্তব্যে তিনি পাকিস্তানের দুর্বল দিকগুলো তুলে ধরেন। জায়গাম খানের বক্তব্যের পর টক শোতে অংশ নেওয়া অপর সাংবাদিক, আর্থিক পরামর্শদাতা ও বিশেষজ্ঞরা বাংলাদেশের অনন্য অর্জন ও সাফল্যর প্রশংসা করেন। ওই টক শোতে জায়গাম খান বলেন, ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়া দুর্নীতিসহ সব সমস্যার সমাধান করে বাংলাদেশের মতো হতে চাইলেও অনেক সময় লাগবে পাকিস্তানের। আর উন্নয়নের নিরিখে বাংলাদেশকে ছুঁতে চাইলে পাকিস্তানকে ১০ বছর ধরে চেষ্টা করে যেতে হবে। তিনি উদাহরণ টেনে বলেন, বাংলাদেশ এখন ৪ হাজার কোটি ডলারের পণ্য বিশ্বে রপ্তানি করে। সেখানে পাকিস্তানের পরিমাণ হলো ২ হাজার ২০০ কোটি ডলার। ১৯৭১ সালে ৯ মাসের রক্তক্ষয়ী যুদ্ধের পর বিজয় ছিনিয়ে নিয়ে বিশ্ব মানচিত্রে নতুন দেশ বাংলাদেশের অভ্যুদয় হয়। সদ্য জন্ম নেওয়া বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ নিয়ে পাকিস্তানের বিশেষজ্ঞরা নানা তির্যক মন্তব্যও সে সময় করেছিলেন। ৪৭ বছর পর দেশটির সাংবাদিকের মুখে উল্টো সুর শোনা গেল। পাকিস্তানের বিভিন্ন জাতীয় দৈনিকের কলামিস্ট জায়গাম খান বলেন, আমরা সুইডেনের মতো হতে চাই না। আল্লাহর দোহাই, অনুগ্রহ করে আমাদের বাংলাদেশের মতো করে দেন।’ তিনি আরও বলেন, আমরা ইমরান খানের প্রতি কৃতজ্ঞ থাকব, যদি তিনি আগামী ১০ বছরে পাকিস্তানকে বাংলাদেশের কাতারে নিতে পারেন। তবে এটা অনেক কঠিন বলেও মন্তব্য করেন সাংবাদিক জায়গাম খান। সুইডেনের আন্তর্জাতিক ঋণ এবং মূল্যবৃদ্ধির হার বেশ কম। ইউরোপীয় ইউনিয়নভুক্ত দেশগুলোর মধ্যে এটিই বেশ ভালো অবস্থানে রয়েছে।
আবারও শক্তিশালী ভূমিকম্পের আঘাত ইন্দোনেশিয়ায়- নিহত ৩০
অনলাইন ডেস্ক: ইন্দোনেশিয়ার সুলাওয়েসি দ্বীপে ৭ দশমিক ৫ মাত্রার শক্তিশালী ভূমিকম্পে অন্তত ৩০ জন নিহত হয়েছে। মার্কিন ভূতাত্বিক জরিপ সংস্থা ইউএসজিএস জানিয়েছে, শুক্রবার স্থানীয় সময় সন্ধ্যা ৬টার একটু আগে সুলাওয়েসি দ্বীপে ভূমিকম্পটি আঘাত হানে। ভূমিকম্পের পরপর সমুদ্র উপকূলীয় ওই শহরটিতে সুনামিও আঘাত হেনেছে। সুলাওয়েসি প্রদেশের রাজধানী পালু, ডোঙ্গালা ও অন্যান্য কয়েকটি উপকূলীয় এলাকায় ৫ ফুট উচ্চতার ঢেউ আছড়ে পড়েছে। ইন্দোনেশিয়ার দুর্যোগ প্রশমন সংস্থার মুখপাত্র সুতপো পারু নাগরোহো জানান, ভূমিকম্পে ৩০ জন মারা গেছে। অনেকেই এখনো নিখোঁজ রয়েছেন। ভূমিকম্পে অনেক ভবন ধসে গেছে বলে খবর এসেছে।
বিজ্ঞানীদের দ্বন্দ্বের অবসান সবচেয়ে বড় পাখি- টাইটান
অনলাইন ডেস্ক: বিশ্বের সবচেয়ে বড় পাখি কোনটি? সেটি নিয়ে প্রায় একশ বছর ধরে লড়াই চালিয়ে আসছেন ফরাসী ও ব্রিটিশ বিজ্ঞানীরা। অবশেষে তারা যেগুলোকে বিশ্বের সবচেয়ে বড় পাখি বলে অভিহিত করে আসছেন তার চেয়েও বড় পাখির সন্ধান পেয়েছেন তারা। রয়্যাল সোসাইটি ওপেন সায়েন্স জার্নালে প্রকাশিত গবেষণাপত্রে বিশ্বের সবচেয়ে বড় পাখি হিসেবে ‘ভোরোম্বে টাইটান উল্লেখ করা হয়েছে। জুলজিক্যাল সোসাইটি অব লন্ডন এর প্রধান বিজ্ঞানী জেমস হ্যান্সফোর্ডের নেতৃত্বে গবেষণাটি পরিচালিত হয়েছে। এর আগে ফরাসী বিজ্ঞানীরা দাবি করেছিলেন, হাজার বছর আগে সাভানা ও মাদাগাস্কারে চরে বেড়ানো এলিফ্যান্ড বার্ড বা অ্যাপিওরনিস ম্যাক্সিমাসই বিশ্বের সবচেয়ে বড় পাখি। প্রায় ছয় কোটি বছর ধরে তারা পৃথিবীতে বাস করেছিলো। কিন্তু মানুষের শিকারের কবলে পড়ে তারা বিলুপ্ত হয়ে যায়। আর ব্রিটিশ বিজ্ঞানীরা দাবি করে আসছিলেন, অ্যাপিওরনিস ম্যাক্সিমাস এর থেকে বড় ছিল অ্যাপিওরনিস টাইটান। বিজ্ঞানী সি ডব্লিউ অ্যান্ড্রুর দাবি ছিল, সেটিই সব চেয়ে বড় পাখি। কিন্তু ফরাসি প্রতিপক্ষরা বলতে থাকেন, একটু বড়সড় চেহারার ম্যাক্সিমাস কেই নতুন নাম দিয়ে টাইটান বলা হচ্ছে। দীর্ঘদিন ধরে এই নিয়ে বিতর্ক চলতে থাকে। গত বুধবার ব্রিটিশ বিজ্ঞানীরা দাবি করলেন, এলিফ্যান্ট বার্ড এর অন্য একটি প্রজাতি আকারে আরও বড় ছিল। সেটির ওজন ছিল প্রায় ৮৬০ কেজি। প্রায় একটা জিরাফের সমান। গবেষণার নেতৃত্বে থাকা জেমস হ্যান্সফোর্ড জানান, এটি সম্পূর্ণ একটি আলাদা প্রজাতি। নাম রাখা হয়েছে ভোরোম্বে টাইটান। অন্তত তিন মিটার অর্থাৎ ১০ ফুট উচ্চতা। ওজন গড়ে সাড়ে ছয় শ কেজি। তবে যে হাড়গুলি মিলেছে, তা থেকে অনুমান, কিছু পাখির ওজন ৮৬০ কেজিও ছিল। এখনও পর্যন্ত এটি সব চেয়ে বড় পাখি।
সৌদি আরব স্পোর্টসপ্রেমীদের জন্য অনলাইন ভিসা চালু করছে
অনলাইন ডেস্ক: লাইভ স্পোর্টস এবং সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণে ইচ্ছুকদের জন্য অনলাইন ভিসা চালুর পরিকল্পনা করছে সৌদি আরব। দেশটির পর্যটন বিকাশে আগামী ডিসেম্বর থেকে এ সুবিধা চালুর কথা জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ। সৌদি আরবের জেনারেল স্পোর্টস অথরিটি জানিয়েছে, লাইভ খেলা, সঙ্গীত এবং সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানপ্রেমীদের জন্য দেশটি তার সীমান্ত উন্মুক্ত করবে। প্রথমবারের মতো এমন উদ্যোগের মাধ্যমে আন্তর্জাতিক পর্যটকদের স্বাগত জানানো হবে। আগামী ডিসেম্বরে রাজধানী রিয়াদের কাছাকাছি এলাকায় অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া ফর্মুলা ই মোটর রেসিং প্রতিযোগিতাকে সামনে রেখে এমন উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। গত বছর দেশটির পর্যটন প্রধান প্রিন্স সুলতান বিন সালমান বিন আবদুল আজিজ একটি আন্তর্জাতিক সংবাদ মাধ্যমকে বলেন, ২০১৮ সালের প্রথম প্রান্তিকে ইলেকট্রনিক ভিসা প্রক্রিয়া চালুর পরিকল্পনা রয়েছে। বর্তমানে সৌদি আরবে ভিসার ক্ষেত্রে বিভিন্ন বাধ্যবাধকতা রয়েছে। আলোকিত বাংলাদেশ
যুক্তরাষ্ট্রে চাকরি হারানোর শঙ্কায় ভারতীয়রা
অনলাইন ডেস্ক: আগামী তিন মাসের মধ্যেই যুক্তরাষ্ট্রে চাকরির করার অধিকার হারাতে পারেন এইচ১বি ভিসাধারীদের স্বামী বা স্ত্রীরা। একটি মার্কিন আদালতে আজ ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসন জানিয়েছে, এইচ৪ ভিসা যাদের রয়েছে, তাদের ‘ওয়ার্ক পারমিট’ বা আমেরিকায় চাকরি করা বন্ধ করতে মাস তিনেকের মধ্যেই আইন তৈরি হবে। তা জমা পড়বে হোয়াইট হাউসের অফিস অব ম্যানেজমেন্ট অব বাজেট (ওএমবি)-এ। এই সিদ্ধান্ত কার্যকর হলে বড়সড় বিপাকে পড়বেন আমেরিকায় কর্মরত ভারতীয়রা। কারণ পরিসংখ্যান বলছে, এইচ১বি ভিসাধারীদের ৯০ শতাংশই ভারতীয় এবং এদের একটা বড় অংশই তথ্যপ্রযুক্তি কর্মী, যারা কর্মসূত্রে সপরিবার আমেরিকায় গিয়েছেন। এইচ১বি ভিসাধারীদের জীবনসঙ্গী এবং ২১ বছরের কমবয়সি সন্তানদের এইচ৪ ভিসা দেয় আমেরিকা। এই এইচ৪ ভিসাধারীদেরও ওয়ার্ক পারমিট দিয়েছিল বারাক ওবামা প্রশাসন। এর ফলে মার্কিন শহরে বাড়ি নেওয়ার চড়া খরচের ধাক্কা সামলাতে স্বামী-স্ত্রীর দু’জনের রোজগার কিছুটা সুরাহা দিয়েছিল অনেককেই। কিন্তু ট্রাম্প গোড়া থেকেই বলে এসেছেন, মার্কিনদের চাকরিকেই অগ্রাধিকার দেবেন তিনি। তাই এইচ১বি এবং এইচ৪ ভিসা নীতি আগাগোড়া পর্যালোচনা করবে তার সরকার। ‘সেভ জবস ইউএসএ নামে মার্কিন কর্মীদের একটি সংস্থাও আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছিল মার্কিনদের চাকরি সুরক্ষিত রাখার দাবিতে। আদালতে গিয়েছিল তারা। কলম্বিয়ার ডিস্ট্রিক্ট কোর্টে নিজেদের সিদ্ধান্ত জানিয়ে মার্কিন সরকারের হোমল্যান্ড সিকিয়োরিটি বিভাগ বলেছে, মামলাটি এবার স্থগিত রাখা হোক। সরকারের কথায়, এইচ১বি অভিবাসীদের স্বামী বা স্ত্রী, যারা এইচ৪ ভিসা নিয়ে রয়েছেন, তাদের কাজের অধিকার নিষিদ্ধ করার লক্ষ্যে আমরা দৃঢ় ভাবে ও দ্রুত এগোচ্ছি। সূত্র: শীর্ষ নিউজ
একজন নারী দেহরক্ষীর গোপন জীবন
অনলাইন ডেস্ক: যুক্তরাজ্যের প্রথম নারী দেহরক্ষী হিসাবে কাজ শুরু করেন জ্যাকুইন ডেভিস, যিনি রাজপরিবারের সদস্য এবং অনেক বিখ্যাত ব্যক্তিদের জন্য কাজ করেছেন। তার ৩০ বছরের পেশাজীবনে অনেক জিম্মি মুক্ত করেছেন এবং গোপন নজরদারি করেছেন। কিন্তু কেমন ছিল তার সেই জীবন? জ্যাকুইন বলছেন, যখন আমি প্রথম এই পেশায় আসি, তখন এটা ছিল পুরোপুরি পুরুষ কেন্দ্রিক একটি জায়গা। তারা সবসময়ে চাইতো আমি যেন শুধু নারী বা শিশুদের বিষয়গুলো দেখভাল করি-যা ছিল খুবই অদ্ভুত। যেন তারা সবাই আমার বাবা। ১৯৮০ সালে পুলিশ বিভাগে চাকরিতে ঢোকার কিছুদিন পরেই জ্যাকুইন বেসরকারি নিরাপত্তা খাতে চলে যাবার সিদ্ধান্ত নেন, কারণ এটা তাকে নানা ধরণের কাজের সুযোগ দেবে। পেশার কারণে তিনি বিশ্বের নামীদামী পাঁচ বা ছয় তারকা হোটেলে থেকেছেন। তিনি বলছেন, কিন্তু প্রতিদিনই ১২ থেকে ১৬ ঘণ্টা কাজ করার পর সেসব উপভোগের সময় থাকেনা। এর বাইরে একজন দেহরক্ষীকে সবচেয়ে বড় মূল্য দিতে হয় তার ব্যক্তিগত জীবনের। আপনি হয়তো আট-দশ সপ্তাহ বাড়িতেই যেতে পারবেন না। যখন আগেভাগে পরিকল্পনা করে ক্লায়েন্টদের জীবনের ঝুঁকি দূর করতে হয়, তখন সেটি সিনেমা বা নাটকের চেয়েও নাটকীয় হয়ে ওঠে। অপহরণের শিকার কয়েকজন তেল কর্মীকে উদ্ধার করতে গিয়ে নজরদারির অংশ হিসাবে জ্যাকুইনকে ইরাকের রাস্তায় বোরকা পড়ে ঘুরতে হয়েছে। একটি উদ্ধার অভিযানের কাহিনী একবার আমাদের পাকিস্তানি সেনাবাহিনী ধাওয়া করেছিল এবং আমরা কাশ্মীরে ঢুকে পড়ি। কাশ্মীরের বিদ্রোহীরা পাকিস্তানি সেনাদের দিকে গুলি ছুড়তে শুরু করলে আমরাও তার মধ্যে পড়ে যাই। বিবিসি ওয়ার্ল্ড সার্ভিসের বিজনেস ডেইলির কাছে একটি ঘটনা বর্ণনা করছিলেন জ্যাকুইন। সদ্য বিবাহিত স্বামীর সঙ্গে পাকিস্তানে যাওয়া ২৩ বছর বয়সী একজন ব্রিটিশ নারীকে উদ্ধার করতে নিজের দল নিয়ে পাকিস্তানে গিয়েছিলেন জ্যাকুইন। ব্রিটেনে থাকা তার মা জানতে পারে, যে পাকিস্তানে তাকে আটকে রাখা হয়েছে। তখন তিনি মেয়েকে উদ্ধারের জন্য জ্যাকুইনের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। যে ভিলায় তাকে আটকে রাখা হয়েছিল, একরাতে জ্যাকুইন সেখানে প্রবেশ করে তাকে বিছানার সঙ্গে হাতকড়া লাগানো অবস্থায় দেখতে পান। সে আমাদের জানায়, সে তিনমাসের অন্তঃসত্ত্বা। তাকে ধর্ষণ করা হচ্ছে, খেতে দেয়া হয়না এবং মারধর করা হচ্ছে। আমি তখন তাকে বললাম, আমি আবার আসবো এবং তোমাকে নিয়ে যাবো। কিন্তু হঠাৎ একটি ফোন কলে তারা জানতে পারেন যে, তাদের পরিচয় ফাঁস হয়ে গেছে। বেনজির ভুট্টোর জন্য আমি একসময় কাজ করেছি। তিনি আমাকে চিনতে পারেন এবং ধারণা করেন, নিশ্চয়ই আমি কাউকে উদ্ধার করার জন্য এখানে এসেছি। এর মানে, তাদের খুব দ্রুত কাজ করতে হবে। একজন ট্যাক্সি ড্রাইভারকে ঘুষ দিয়ে আমরা বাড়িটির গেট ভেঙ্গে প্রবেশ করি'' তিনি বলছেন। এরপর সেই মেয়েটিকে উদ্ধার করে পাহাড়ি পথ ধরে একটি গাড়িতে করে ভারতের উদ্দেশ্যে রওনা হন। কিন্তু পাকিস্তানি আর্মি তাদের ধাওয়া করে। তারপর তারা ভারত হয়ে সেই মেয়েকে ব্রিটেনে ফিরিয়ে নিয়ে আসেন। জ্যাকুইন বলছেন, গত ৩০ বছরে অনেক পরিবর্তন এসেছে। এখন অনেক নারী এই পেশায় আগ্রহী হয়ে উঠেছে, যদিও পুরো যুক্তরাজ্য জুড়ে নারী দেহরক্ষীর সংখ্যা এখনো মাত্র ১০জন। জ্যাকুইন বলছেন, দেহরক্ষী হিসাবে যারা কাজ করবেন, তাদের অবশ্যই মনে রাখতে হবে যে, তারা ক্লায়েন্টের বন্ধু নন। ''তাহলেই আপনার দৃষ্টি পরিষ্কার থাকবে আর যখন দরকার হবে, তখন আপনি ঠিক পদক্ষেপ নিতে পারবেন। দেহরক্ষী বলতে যেরকম কালো চশমা পড়া একজন কাউকে মানুষ বুঝে থাকে, বাস্তবে সেটা নাও হতে পারে, বলছেন জ্যাকুইন। বরং তার পোশাকের চেয়ে মস্তিষ্ক অনেক বেশি খাটাতে হয়। হয়তো তাকে নামী রেস্তোরায় ক্লায়েন্টের সঙ্গে বসে খেতে হয়, বিখ্যাত ক্লাবে বিকেলের নাস্তায় ঠিক পোশাকে এবং আদবকায়দার সঙ্গে চা খেতে হয়। বিশ্বের চলমান নানা বিষয়ে কথা বলার জন্য খোঁজখবর রাখতে হয়। এই পেশার ঝুঁকির বিষয়টি উড়িয়ে দিচ্ছেন না জ্যাকুইন। কিন্তু তিনি বলছেন, কোন চাকরি নিয়েই তো আর উদ্বেগে থাকা যায় না। জ্যাকুইন ডেভিসের এই জীবন নিয়ে একটি চলচ্চিত্র বানানোর পরিকল্পনা করছে নেটফ্লিক্স। সূত্র: বিবিসি
যুক্তরাষ্ট্রের কৌশল চীনের ক্ষেত্রে কাজ করবে না
অনলাইন ডেস্ক: যুক্তরাষ্ট্র আবার নতুন করে ২০০ বিলিয়ন ডলার চীনা পণ্যের ওপর শুল্ক আরোপ করছে। এতে করে বেইজিং-ওয়াশিংটনের মধ্যে বাণিজ্য যুদ্ধ আরও সম্প্রসারিত হলো। তবে যুক্তরাষ্ট্রের এ কৌশল চীনের ক্ষেত্রে কাজ করবে না বলে জানিয়েছেন একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা৷ নতুন করে চীনা পণ্যের ওপর শুল্ক বসানোয় দুই দেশের মধ্যে যে আলোচনা চলছিল তার পরিবেশ বিষাক্ত হয়ে উঠবে বলে মন্তব্য করে চীনের সিকিউরিটিজ রেগুলেটর সংস্থার ভাইস চেয়ারম্যান ফাঙ চিঙ্ঘাই বলেছেন, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প একজন হার্ড-হিটিং ব্যবসায়ী৷ তিনি চীনের ওপর চাপ প্রয়োগ করতে চান, যেন আলোচনার সময় তিনি সুবিধা পান৷ কিন্তু আমার মনে হয়, চীনের সঙ্গে এই ধরনের কৌশল কাজ করবে না’৷ খবর ডয়চে ভেলের। সোমবার প্রায় ২০০ বিলিয়ন ডলার সমমূল্যের চীনা পণ্য আমদানির ওপর শুল্ক আরোপের ঘোষণা দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র৷ চীনও প্রতিশোধমূলক ব্যবস্থা নেবে বলে জানিয়েছে৷ মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ক্ষমতায় আসার পর চীনের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য ঘাটতির সমালোচনা করেন৷ এরপর ৫০ বিলিয়ন ডলারের সমপরিমাণ চীনা পণ্যের উপর শুল্ক আরোপ করে যুক্তরাষ্ট্র৷ তার প্রতিক্রিয়ায় চীনও ৫০ বিলিয়ন ডলার সমমূল্যের মার্কিন পণ্যের উপর শুল্ক ধার্য করেছিল৷ এরপর সম্পর্ক উন্নত করতে যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের প্রতিনিধি দলের মধ্যে কয়েক দফা আলোচনা হয়৷ কিন্তু তাতে কাজ হয়নি৷ ফলে সোমবার আবারও নতুন করে শুল্ক আরোপের ঘোষণা দেয় যুক্তরাষ্ট্র৷ সঙ্গে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প একটি হুমকিও জুড়ে দেন৷ চীন যদি এবারও পালটা ব্যবস্থা গ্রহণ করে, তাহলে তৃতীয় দফা শুল্ক ধার্যের হুমকি দেন তিনি এবং তার পরিমাণ ২৬৭ বিলিয়ন ডলার হবে বলেও জানান৷ নতুন ঘোষণা অনুযায়ী, ২৪ সেপ্টেম্বর থেকে চীনা পণ্যের ওপর ১০ শতাংশ শুল্ক কার্যকর হবে৷ এরপর জানুয়ারির ১ তারিখ থেকে সেটা বেড়ে হবে ২৫ শতাংশ৷ এর আগে শুল্ক আরোপের জন্য ৬০ বিলিয়ন ডলার সমমূল্যের মার্কিন পণ্যের একটি তালিকা তৈরি করেছিল চীন৷ পাল্টা জবাব হিসেবে সেই পণ্যগুলোর ওপরই চীন শুল্ক বসাতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে৷
৮ চিত্রকর নিয়ে চন্দ্র ভ্রমণে যাচ্ছেন জাপানি কোটিপতি
অনলাইন ডেস্ক: জাপানের অনলাইন ফ্যাশন জগতের কোটিপতি ইউসাকু মেসাওয়া ২০২৩ সাল নাগাদ চন্দ্রাভিযানে যেতে চান। মার্কিন বেসরকারি রকেট নির্মাতা প্রতিষ্ঠান স্পেসএক্সের রকেটে করে তিনি চন্দ্রাভিযানে যাবেন। স্পেসএক্সের রকেটে করে চন্দ্রাভিযানে যাওয়া প্রথম ব্যক্তি হবেন তিনি। এ উপলক্ষে অর্থ পরিশোধ করেছেন তিনি। তবে টাকার পরিমাণ প্রকাশ করা হয়নি। এএফপির এক প্রতিবেদনে বলা হয়, ১৯৭২ সালে যুক্তরাষ্ট্রের অ্যাপোলো অভিযানের পর ইউসাকু মেসাওয়া (৪২) হবেন প্রথম চন্দ্র অভিযানে যাওয়া ব্যক্তি। মেসাওয়ার ব্যাপক অর্থ খরচ করে চন্দ্রাভিযানে যাওয়ার বিশেষ উদ্দেশ্য আছে। তিনি তাঁর সঙ্গে ছয় থেকে আটজন প্রিয় চিত্রকর নিতে চান। তাঁরা পৃথিবীতে ফেরার পর বিশেষ চিত্রকর্ম তৈরি করবেন। এই চিত্র মানুষকে স্বপ্ন দেখার অনুপ্রেরণা দেবে বলে মনে করেন মেসাওয়া। আধুনিক চিত্রকর্মের অনুরাগী মেসাওয়া জাপানের বৃহত্তম অনলাইন শপিং মলের প্রধান নির্বাহী। ফোর্বসের তথ্য অনুযায়ী, তাঁর সম্পদের পরিমাণ প্রায় ৩০০ কোটি মার্কিন ডলার। জাপানের ১৮তম শীর্ষ ধনী তিনি। সোমবার যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় স্পেসএক্সের কার্যালয়ে মেসাওয়া বলেন, ছোটবেলা থেকেই চাঁদের প্রতি আমার আকর্ষণ রয়েছে। আমার সারা জীবনের স্বপ্ন চাঁদে পাড়ি দেওয়া।’ ষাট থেকে সত্তরের দশকে অ্যাপোলো অভিযানে এখন পর্যন্ত চাঁদের কক্ষপথে যাঁরা গেছেন, তাঁদের সবাই মার্কিন নাগরিক। এখন পর্যন্ত ২৪ জন নাসার নভোচারী চাঁদে গেছেন। তাঁদের মধ্যে ১২ জন চন্দ্রপৃষ্ঠে হেঁটেছেন। নিজের অর্থ খরচ করে মহাকাশ ভ্রমণে যাওয়া প্রথম পর্যটক হলেন ডেনিশ টিটো। ২০০১ সালে মার্কিন এ ব্যবসায়ী দুই কোটি ডলার খরচ করে রাশিয়ার একটি মহাকাশযানে চড়ে আন্তর্জাতিক মহাকাশ স্টেশনে গিয়েছিলেন। স্পেসএক্সের নভোযানে চড়ে চাঁদে যাওয়ার আগ্রহ দেখানো মেসওয়া সম্পর্কে স্পেসএক্সের প্রধান নির্বাহী এলন মাস্ক বলেছেন, মেসাওয়া একজন সাহসী ও সেরা অভিযাত্রী। তিনি সামনে এগিয়ে এসেছেন এবং আমাদের বেছে নিয়ে সম্মান দিয়েছেন।’ চাঁদে যাওয়ার জন্য মেসাওয়া কত টাকা দিয়েছেন, সে তথ্য জানাতে তিনি নারাজ। তবে তিনি বলেছেন, যে চিত্রকরেরা চাঁদে যাবেন, তাঁদের ভ্রমণ খরচ লাগবে না। তবে এটা পরিষ্কার করে বলা যায়, এটা বিপজ্জনক। এটা পার্কে হাঁটার মতো কোনো বিষয় নয়। মাস্ক নিজেও চাঁদে যাবেন কি না, এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, সম্ভাবনা আছে। তবে তা নিশ্চিত নয়। স্পেসএক্সের তৈরি বিগ ফ্যালকন রকেটে (বিএফআর) করে মহাকাশে পাড়ি দেবেন তাঁরা। অবশ্য আগামী পাঁচ বছরের আগে মনুষ্যবাহী ওই রকেট তৈরি হচ্ছে না। ২০১৬ সালে এ রকেটের ঘোষণা দিয়ে বলা হয়, রকেটের ইতিহাসে এটাই হবে সবচেয়ে শক্তিশালী। গত বছর মাস্ক বলেছিলেন, ২০২২ সালে বিএফআরের লক্ষ্য হচ্ছে মঙ্গল গ্রহে পরীক্ষামূলকভাবে ফ্লাইট পরিচালনা করা। ২০২৪ সালে মঙ্গল গ্রহে মানুষ পাঠানোর পরিকল্পনা রয়েছে তাঁর। এর আগেও চাঁদে মানুষ পাঠানোর পরিকল্পনার কথা বলেছিলেন মাস্ক। গত বছর তিনি ঘোষণা দেন, ২০১৮ সালে চাঁদের কক্ষপথে পর্যটক পাঠাবেন। কিন্তু তাঁর পরিকল্পনা বাস্তবে সফল হয়নি। মাস্ক ১১৮ মিটার দৈর্ঘ্যের একটি রকেটের নকশা দেখিয়েছেন। এটি তৈরিতে ৫০০ কোটি ডলার খরচ হবে। বাসের মতো ওই নভোযানে ১০০ মানুষ ধরবে। স্পেসএক্স ছাড়াও মহাকাশ পর্যটন নিয়ে কাজ করছে যুক্তরাজ্যের ব্যবসায়ী রিচার্ড ব্র্যানসনের ভার্জিন গ্যালাক্টিক ও আমাজনের জেফ বেজোসের ব্লু অরিজিন। নির্দিষ্ট পরিমাণ অর্থের বিনিময়ে মহাকাশে ১০ মিনিট বা তার কাছাকাছি সময়ে ভরশূন্য থাকার অনুভূতি দেয় প্রতিষ্ঠান দুটি। একটি ট্রিপের জন্য ভার্জিন খরচ নেয় আড়াই লাখ ডলার। তবে ব্লু অরিজিনের খরচের বিষয়টি প্রকাশ্যে বলে না। রাশিয়া ও চীনের কয়েকটি প্রতিষ্ঠান মহাকাশ পর্যটন নিয়ে কাজ শুরু করেছে।