ভয়াবহ শীত-তুষারপাতে যুক্তরাষ্ট্রে ৭ জনের মৃত্যু
৩১, জানুয়ারি,আন্তর্জাতিক ডেস্ক,নিউজ একাত্তর ডট কম: মৌসুমের সবচেয়ে ভয়াবহ শীত ও তুষারপাতে একেবারেই বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে যুক্তরাষ্ট্রের মধ্য পশ্চিমাঞ্চল। বিভিন্ন নগরীতে অচল হয়ে পড়ছে জীবনযাত্রা। কয়েকটি রাজ্যে নতুন করে অন্তত ৭ জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। অসুস্থ হয়ে পড়েছেন বহু মানুষ। তবে যোগাযোগ ব্যবস্থা ভেঙে পড়ার কারণে চিকিৎসা সেবাও মিলছে না তাদের। শিকাগোতে তাপমাত্রা নেমে গেছে মাইনাস ৩০ ডিগ্রি সেলসিয়াসে, নর্থ ডেকোটায় তাপমাত্রা কমে দাঁড়িয়েছে মাইনাস ৩৭ ডিগ্রি সেলসিয়াসে। মধ্যপশ্চিমাঞ্চলের বিভিন্ন রাজ্যে সপ্তাহজুড়েই তীব্র শীত ও ঠাণ্ডা বাতাসের ঝাপটা থাকার পূর্বাভাস দিয়েছে আবহাওয়া বিভাগ। বরফজমা আবহাওয়া বিরাজ করছে দেশটির অন্যান্য অঞ্চলেও। এতে দুর্ভোগে পড়েছেন কোটি কোটি মানুষ। অবস্থা ততটা খারাপ না হলেও কানাডা, ইউরোপের দেশ বেলজিয়াম, সুইজারল্যান্ড, যুক্তরাজ্যসহ আশপাশের দেশগুলোতে তুষারপাত গত কয়েকদিনের মতোই অব্যাহত রয়েছে। পাহাড়ি এলাকাগুলোতে জারি করা আছে সতর্কতা।
ফিলিপিন্সের দক্ষিণাঞ্চলে মসজিদে গ্রেনেড হামলা, নিহত ২
৩০ জানুয়ারি,আন্তর্জাতিক ডেস্ক,নিউজ একাত্তর ডট কম: ফিলিপিন্সের দক্ষিণাঞ্চলে একটি মসজিদে গ্রেনেড হামলায় দুই জন নিহত হয়েছেন। দেশটির কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, আজ বুধবার সকালের দিকে জামবোয়ানগা শহরে ওই হামলার ঘটনা ঘটেছে। এর মাত্র দুদিন আগেই দেশটিতে একটি ক্যাথলিক ক্যাথেড্রালে বোমা হামলায় ২১ জন নিহত হয়েছিল। সেনবাহিনীর আঞ্চলিক মুখপাত্র লে. কর্নেল গ্যারি বেসানা বলেছেন, মসজিদের ভেতর দুটি গ্রেনেড ছোঁড়ে দুবৃত্তরা। এ ঘটনায় দুই জন নিহত এবং আরও চারজন আহত হয়। হামলার সময় ওই ব্যক্তিরা মসজিদের ভেতর ঘুমিয়ে ছিলেন বলে জানান এই সেনা কর্মকর্তা। জামবোয়ানগা শহরটি ফিলিপিন্সের সংঘাত কবলিত মিন্দানাও দ্বীপে অবস্থিত। এই শহরটিতে মুসলিমরা সংখ্যালঘু। এর আগে গত ২৭ জানুয়ারি মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ জোলো দ্বীপে সানডে মাসের সময় একটি ক্যাথেড্রালে বোমার বিস্ফোরণে ২১ জন নিহত হয়েছিল। ইসলামিক স্টেটের জঙ্গিরা ওই হামলার দায় স্বীকার করেছিল। ফিলিপিন্সের কর্তৃপক্ষ প্রাথমিকভাবে বলেছিল, এটা আত্মঘাতী হামলা ছিল না। কিন্তু মঙ্গলবার দেশটির প্রেসিডেন্ট রদ্রিগো দুতের্তে জানান, একজন আত্মঘাতী হামলাকারী ক্যাথেড্রালের ভেতর বোমার বিস্ফোরণ ঘটায়। লে. কর্নেল বেসানা বলেন, ক্যাথেড্রালে হামলার জবাবে মসজিদে হামলা করা হয়েছে কিনা তা এখনই বলা সম্ভব নয়। তবে পুলিশ জড়িতদের ধরতে অভিযান চালাচ্ছে বলে জানিয়েছেন তিনি। এমন এক সময় এই হামলার ঘটনা ঘটলো যখন এক গণভোটের মাধ্যমে ফিলিপিন্সের দক্ষিণাঞ্চলীয় মুসলিম অধ্যুষিত এলাকায় নিজেদের সিদ্ধান্ত নেয়ার ব্যাপারে আরও ক্ষমতা দেয়া হয়েছে মুসলমানদের।
সৌদি অভিবাসীদের পাসপোর্ট-ইকামা রাখতে পারবেন না নিয়োগকর্তা
২৯ জানুয়ারি,আন্তর্জাতিক ডেস্ক,নিউজ একাত্তর ডট কম: সৌদি আরবে বসবাসরত প্রবাসী শ্রমিকদের এখন থেকে কাজের অনুমতিপত্র (ইকামা), আবাসন কার্ড, পাসপোর্ট অথবা মেডিকেল ইন্স্যুরেন্স কার্ড রাখতে পারবেন না দেশটির নিয়োগকর্তারা। দেশটির সংশোধিত নতুন শ্রম আইনে শ্রমিক নিয়োগের ব্যাপারে আগের নিয়ম শিথিল করে নতুন এই বিধান যুক্ত করা হয়েছে। সৌদি আরবের শ্রম ও সামাজিক উন্নয়নবিষয়ক মন্ত্রী আহমেদ সুলেইমান আল-রাজি এ তথ্য জানিয়েছেন। গালফ বিজনেসের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, কোনো কোম্পানি অথবা নিয়োগকর্তা সংশোধিত আইন লঙ্ঘন করলে ৩০ দিনের পরিবর্তে ১০ দিনের মধ্যে সমস্যার সমাধান করতে হবে। এ ছাড়া কোনো ধরনের জরিমানা করা হলে ১৫ দিনের মধ্যে তা পরিশোধ করতে হবে। আগে এই জরিমানা দুই মাসের মধ্যে পরিশোধের বিধান ছিল। আইন লঙ্ঘনকারীরা জরিমানা পরিশোধ না করলে তাদের সব ধরনের কর্মকাণ্ড বন্ধ করে দেওয়া হবে বলেও সতর্ক করে দিয়েছে সৌদির শ্রম ও সামাজিক উন্নয়নবিষয়ক মন্ত্রণালয়। নতুন এ আইনে কখন একজন কর্মীকে কোনো ধরনের সুবিধা দেওয়া ছাড়াই চাকরিচ্যুত করা যাবে, সে বিষয়টিও পরিষ্কার করা হয়েছে। এতে বলা হয়েছে, বার্ষিক চুক্তি অনুযায়ী একজন শ্রমিক টানা ১৫ দিন অথবা বিরতি দিয়ে এক মাসের ছুটি কাটাতে পারবেন। এ ছাড়া কর্মচারী যদি কর্মস্থলে কোনো সহকর্মী অথবা উচ্চপদস্থ কোনো কর্মকর্তাকে শারীরিক কিংবা মৌখিক আক্রমণ করেন, তাহলেও চাকরি শেষের কোনো প্রণোদনা পাবেন না ওই কর্মচারী। শ্রমবান্ধব পরিবেশ তৈরির লক্ষ্যে সৌদি আরব বেশ কিছু পদক্ষেপ নিয়েছে। গত বছর দেশটিতে বিনিয়োগ আকর্ষণ ও শ্রমিকদের সুরক্ষায় সাতটি নতুন শ্রম আদালত চালু করা হয়। সম্পূর্ণ ডিজিটাল এসব শ্রম আদালত দেশটির বৃহৎ সাতটি শহর রিয়াদ, জেদ্দা, দাম্মাম, মক্কা, মদিনা, আভা ও বুরাইদাহতে অবস্থিত। গত বছরের জুলাইয়ের এক পরিসংখ্যান বলছে, সৌদি আরবে বর্তমানে এক কোটি ৩০ লাখ শ্রমিক রয়েছেন। এর মধ্যে এক কোটি বিদেশি এবং বাকি ৩০ লাখ সৌদির নাগরিক।
কমপক্ষে ১৫ জনের মৃত্যু, পেরুতে পাহাড় ধসে চাপা পড়ে
২৮ জানুয়ারি,অনলাইন ডেক্স,নিউজ একাত্তর ডট কম: পেরুর দক্ষিণপূর্বাঞ্চলে পাহাড় ধসে চাপা পড়ে কমপক্ষে ১৫ জনের মৃত্যু হয়েছে। পাহাড়টির পাশের একটি হোটেলে বিবাহ অনুষ্ঠান চলাকালে এ ধসের ঘটনা ঘটে। রোববার কর্তৃপক্ষ একথা জানায়। খবর এএফপির। আবাসেই নগরীর মেয়র আরপিপি রেডিও কে বলেন, পাহাড় ধসে হোটেলটি মাটিতে চাপা পড়ায় এ মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে। মেয়র ইভারিস্তো রামোস বলেন, হোটেলটিতে শনিবারের ওই বিবাহ অনুষ্ঠানে প্রায় ১শ অতিথিকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। পাহাড় ধসে এটি চাপা পড়ায় ১৫ জনের মৃত্যু ও ৩৪ জন আহত হয়। দমকল কর্মী, পুলিশ ও স্থানীয় বাসিন্দারা ধ্বংসস্তুপের ভিতর আটকা পড়া লোকদের উদ্ধারে রাতভর কাজ করে। কর্তৃপক্ষ জানায়, আলহামব্রা নামের এ হোটেলের অবস্থান ছিল একেবারে পাহাড়ের কাছে। পাহাড় ধসে হোটেলটির পাশের দেয়াল ভেঙ্গে যাওয়ায় এটি মাটিতে চাপা পড়ে। পরিবারের সদস্য ও বন্ধুবান্ধবকে খুঁজতে আসা লোকজনকে পার্শ্ববর্তী বিভিন্ন স্বাস্থ্য কেন্দ্রে গিয়ে তাদের প্রিয়জনকে চিহিৃত করার অনুরোধ জানানো হয়েছে।
নিহতের সংখ্যা বেড়ে ৫৮ ব্রাজিলে খনির বাঁধ ধসে
২৮ জানুয়ারি,আন্তর্জাতিক ডেস্ক,নিউজ একাত্তর ডট কম: ব্রাজিলের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলে মিনাস জেরাইস প্রদেশে লৌহ-আকরিক খনির বাঁধ ভেঙে নিহতের সংখ্যা ৫৮ জনে দাঁড়িয়েছে। এখন পর্যন্ত প্রায় ৩০০ জন নিখোঁজ রয়েছেন। ব্রাজিলের ফায়ারফাইটার কর্তৃপক্ষ এসব তথ্য জানিয়ে বলেছে, গতকাল রোববার উদ্ধার অভিযান সমাপ্ত ঘোষণা করা হয়েছে। ওই এলাকায় বি-৬ নামে পরিচিত আরেকটি বাঁধের পানিও বেড়ে আতঙ্ক তৈরি হয় বলে আলজাজিরার এক প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। গতকাল বিকেলে বিশেষজ্ঞরা বাঁধটি পরিদর্শন করেছেন। পরে ব্রাজিলের সিভিল ডিফেন্স এজেন্সির মুখপাত্র লেফটেন্যান্ট কর্নেল ফ্লাভিও গডিনহো বলেন, এখন আর ভয়ের কিছু নেই। বাঁধ থেকে পানি নিষ্কাশন করা হচ্ছে। গত শুক্রবার প্রদেশের ব্রুমাদিনহো শহরে ওই বাঁধ ধসের ঘটনা ঘটে। দুর্ঘটনাকবলিত খনিটির স্বত্বাধিকারী ব্রাজিলের সর্ববৃহৎ খনি কোম্পানি ভেল। ব্রিটিশ গণমাধ্যম বিবিসি জানায়, নিখোঁজ ব্যক্তিদের মধ্যে অনেকেই শ্রমিক। তাঁরা সে সময় বাঁধ-সংশ্লিষ্ট ক্যাফেটেরিয়ায় দুপুরের খাবার গ্রহণ করছিলেন। দুর্ঘটনার ফলে বিপুল কাদা নদীর মতো সংশ্লিষ্ট এলাকার ছড়িয়ে পড়ে। ডুবিয়ে দেয় ভবন, রাস্তাঘাট, যানবাহন সবকিছু। জরুরি বাহিনী অনেককে হেলিকপ্টারের মাধ্যমে উদ্ধার করে। পরিস্থিতি সামাল দিতে এরই মধ্যে নিম্নাঞ্চলে বসবাসরত অধিবাসীদের অন্যত্র সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। তিন বছর আগে মিনা জেরাইস প্রদেশে আরো একটি বাঁধ ধসের ঘটনা ঘটে। সে সময় ১৯ ব্যক্তি নিহত হন।
ফিলিপাইনে গির্জায় বোমা হামলায় নিহত ২১
২৭ জানুয়ারি,অনলাইন ডেক্স,নিউজ একাত্তর ডট কম: ফিলিপাইনের দক্ষিণে জোলো দ্বীপে একটি রোমান ক্যাথলিক গির্জা লক্ষ্য করে বোমা হামলায় অন্তত ২১ জন নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন ৭১ জন। নিহতদের মধ্যে বেসামরিক ও নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্য রয়েছেন বলে জানিয়েছেন নিরাপত্তা কর্মকর্তারা। স্থানীয় সময় রবিবার প্রার্থনা সমাবেশের সময় এ হামলা চালানো হয়। দেশটির নিরাপত্তা কর্মকর্তারা জানান, প্রার্থনা সভা চলাকালে ওই গির্জার কাছাকাছি প্রথম বোমা হামলার ঘটনা ঘটে। নিরাপত্তাকর্মীরা তাৎক্ষণিকভাবে ব্যবস্থা গ্রহণ শুরু করলে কিছুক্ষণ পরেই গির্জা প্রাঙ্গণের বাইরে আরেকটি বোমা বিস্ফোরিত হয়। ফিলিপাইনের পুলিশ প্রধান জানান, হামলায় সেনা সদস্য ও বেসামরিক নাগরিকসহ অন্তত ১৯ জন নিহত হয়েছেন। এছাড়া আরও ৪৮ জন আহত হয়েছেন। নিরাপত্তা বাহিনী জানায়, জোলো দ্বীপে মুসলিম জঙ্গিরা সক্রিয় রয়েছে। আবু সায়াফ জঙ্গিদের বোমা হামলা, অপহরণ, শিরশ্ছেদসহ বিভিন্ন অপকর্মে দ্বীপটি দীর্ঘদিন ধরে অস্থির অবস্থায় রয়েছে। সন্ত্রাসী সংগঠন হিসেবে এটি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং ফিলিপাইনের কালো তালিকাভুক্ত। এদিকে এ হামলার দায় স্বীকার করেনি কোনো সংগঠন।-এপি/ইউএনবি
তালেবানের সঙ্গে আলোচনায় অগ্রগতি, আফগান ছাড়বে মার্কিন সেনা
২৭ জানুয়ারি,আন্তর্জাতিক ডেস্ক,নিউজ একাত্তর ডট কম : টানা ছয় দিন আফগানিস্তানের তালেবান কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনায় উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়েছে বলে জানিয়েছেন শান্তি প্রক্রিয়া এগিয়ে নেওয়ার দায়িত্বে থাকা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বিশেষ দূত জালমে খলিলজাদ। কাতারের রাজধানী দোহায় এ বৈঠক শেষে তালেবান কর্তৃপক্ষের একটি সূত্র দাবি করেছে, একটি নির্দিষ্ট সময়সীমার মধ্যে বিদেশি সৈন্যরা আফগানিস্তানের মাটি ছেড়ে যাবে এমন একটি শর্ত মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র মানতে রাজি হয়েছে। যদিও বৈঠক শেষে উভয় পক্ষের মধ্য থেকে কোনো যৌথ বিবৃতি আসেনি, তবে মার্কিন বার্তা সংস্থা থমসন রয়টার্স এক প্রতিবেদনে দাবি করেছে, তারা আলোচনার একটি খসড়া তালেবানের সূত্রের মাধ্যমে পেয়েছে। সেখানে আগামী ১৮ মাসের মধ্যে মার্কিন সেনাদের আফগানিস্তান ছাড়ার শর্তের কথা বলা হয়েছে। অন্যদিকে তালেবান কর্তৃপক্ষ আশ্বাস দিয়েছে, কোনো অবস্থাতেই আল-কায়েদা বা ইসলামিক স্টেটের (আইএস) উগ্রপন্থী জঙ্গি সংগঠনগুলোকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রের জন্য আফগানিস্তানের মাটি ব্যবহার করতে দেবে না। ২০০১ সালে টুইন টাওয়ারে হামলার পর মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বাধীন যৌথ বাহিনী আফগানিস্তানে আগ্রাসন চালায়। সে সময় দেশটি তালেবান সরকার ক্ষমতায় ছিল। তারপর তাদের পতন হয়। টানা ১৭ বছর আফগানিস্তানে যুদ্ধের মধ্যে আছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। এখন এই আলোচনার মধ্য দিয়ে দেশটিতে শান্তি ফিরবে কি না, সেই প্রশ্নটিই বেশি আলোচিত হচ্ছে। মধ্যপ্রাচ্যভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আলজাজিরা এক প্রতিবেদনে বলেছে, দোহায় তালেবানের রাজনৈতিক কার্যালয় আছে। সেখানেই মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বিশেষ দূতের সঙ্গে আলোচনায় বসে তালেবান কর্তৃপক্ষ। এর আগেও বেশ কয়েকবার আলোচনা হয়েছে আফগানিস্তানে শান্তি ফেরাতে। এর সূত্র ধরে আফগান সরকার ও তালেবানের মধ্যে যুদ্ধবিরতি ও হয়েছে। তবে তালেবান কর্তৃপক্ষ আফগান সরকারের সঙ্গে সরাসরি আলোচনার বিষয়টি নাকচ করে দিয়ে আসছে। কারণ তাদের যুক্তি, আফগান সরকার মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের পাপেট বা পুতুল সরকার। বৈঠক শেষে মার্কিন বিশেষ দূত জালমে খলিলজাদ এক টুইটে বলেছেন, অতীতের যেকোনো সময়ের তুলনায় এখনকার আলোচনা অনেক বেশি ফলপ্রসূ হয়েছে। গুরুত্বপূর্ণ ইস্যুতে আমাদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়েছে। এখন আফগান সরকারের সঙ্গে আলোচনার জন্য কাবুলে যাবেন বলেও জানান। অন্যদিকে তালেবান মুখপাত্র জাবিউল্লাহ মুজাহিদ আলজাজিরাকে বলেছেন, আলোচনার ক্ষেত্রে আমাদের ইসলামিক আমিরের (তালেবানের সর্বোচ্চ নেতা) অবস্থান খুবই স্পষ্ট। আফগানিস্তান থেকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বাধীন সৈন্যদের সরিয়ে না নেওয়া ছাড়া যেকোনো ধরনের উদ্যোগেরই বাস্তবায়ন অসম্ভব। একই সঙ্গে তালেবান মুখপাত্র বিভিন্ন গণমাধ্যমে আসা যুদ্ধবিরতি বা আফগান কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনার বিষয়টি নাকচ করে দিয়েছেন। এ ব্যাপারে তাঁর বক্তব্য, বিভিন্ন গণমাধ্যমে যুদ্ধবিরতি এবং আফগান কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনার বিষয় উল্লেখ করা হয়েছে। বাস্তবে এটি সত্য নয়, এর কোনো ভিত্তি নেই।
আংশিক অচলাবস্থা বন্ধের ঘোষণা ট্রাম্পের
২৬ জানুয়ারি,আন্তর্জাতিক ডেস্ক,নিউজ একাত্তর ডট কম : মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে দীর্ঘ সময়ব্যাপী চলা আংশিক অচলাবস্থা বা শাটডাউন বন্ধে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এমন একটি চুক্তিতে পৌঁছানোর ঘোষণা দিয়েছেন, যেখানে তাঁর দাবি করা মেক্সিকো সীমান্তে দেয়াল নির্মাণে জন্য অর্থ বরাদ্দের কথা উল্লেখ নেই। অচলাবস্থা চলার ৩৫তম দিনে শুক্রবার হোয়াইট হাউজের গোলাপ বাগানে এক বক্তব্যে ডোনাল্ড ট্রাম্প আগামী ১৫ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত সরকারি কর্মচারীদের জন্য অর্থ ছাড়ের ঘোষণা দিয়েছেন। তবে মার্কিন প্রেসিডেন্ট এ কথাও বলেছেন, এই সময়ের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্র ও মেক্সিকোর মধ্যে দেয়াল নির্মাণের জন্য কাঙ্ক্ষিত অর্থ বরাদ্দের জন্য একটি যথাযথ চুক্তি না হলে তিনি ফের শাটডাউনে যাবেন। ডোনাল্ড ট্রাম্প তাঁর ঘোষণায় বলেন, আমি খুবই গর্বের সঙ্গে আজ ঘোষণা করছি যে, শাটডাউন বন্ধে আমরা চুক্তিতে পৌঁছেছি এবং পুনরায় ফেডারেল সরকার খুলতে যাচ্ছি। তিন সপ্তাহের জন্য, ফেব্রুয়ারির ১৫ তারিখ পর্যন্ত সরকারের অর্থ বরাদ্দের জন্য আমি বিলে স্বাক্ষর করব। আমি এটাও নিশ্চিত করছি যে, কর্মচারীরা খুব দ্রুত বা যত দ্রুত সম্ভব তাদের বকেয়া পাওনাদি পেয়ে যাবেন।শাটডাউনের ফলে যারা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন, তাদের খাঁটি দেশপ্রেমিক বলে উল্লেখ করেন। দীর্ঘদিনের প্রতিশ্রুতিবদ্ধ সীমান্ত দেয়ালের অর্থ বরাদ্দ নিয়ে ট্রাম্প ও সিনেটরদের মধ্যে সমঝোতা না হওয়ার ফলে ডিসেম্বরের তৃতীয় সপ্তাহ থেকে মার্কিন কেন্দ্রীয় সরকারের বিভিন্ন বিভাগে অচলাবস্থা সৃষ্টি হয়। এতে আট লাখ কর্মচারী বেতনহীন হয়ে পড়েন। যুক্তরাষ্ট্রের রাজনৈতিক নিয়মানুযায়ী, কোনো বিষয়ে সিনেটররা একমত হতে না পারলে অথবা স্বয়ং প্রেসিডেন্ট যখন কোনো বিলে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সই করতে না পারেন তখনই শাটডাউন হয়। ২০১৬ সালে মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের প্রচারের সময় যেকোনো মূল্যে যুক্তরাষ্ট্র-মেক্সিকো সীমান্তে দেয়াল নির্মাণ করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হওয়ার দুই বছর পরেও সেই দেয়াল নির্মিত হয়নি।
যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডায় ব্যাংকে বন্দুকধারীর গুলিতে নিহত ৫
আন্তর্জাতিক ডেস্ক: যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডা অঙ্গরাজ্যে একটি ব্যাংকে বন্দুকধারীর গুলিতে পাঁচ ব্যক্তি নিহত হয়েছেন বলে পুলিশের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে। আজ বিবিসির এক প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, স্থানীয় সময় দুপুরে অঙ্গরাজ্যের দক্ষিণের শহর সেবিংয়ে সান ট্রাস্ট ব্যাংকের শাখায় এই হামলার ঘটনায় বন্দুকধারীকে আটক করা হয়েছে। ২১ বছরের ওই যুবকের নাম জেফিন জাভার। সেবিং পুলিশের প্রধান কার্ল হোগল্যান্ড পরে এক সংবাদ সম্মেলনে বলেন, বন্দুকধারী ব্যাংকে ঢুকে সবাইকে মেঝেতে শুয়ে পড়তে বাধ্য করে। পরে তাদের গুলি করে হত্যা করে। আজকের এই দিনটি আমাদের কমিউনিটির জন্য খুবই বেদনাদায়ক একটি দিন। একজন কাণ্ডজ্ঞানহীন অপরাধীর কাণ্ডজ্ঞানহীন অপরাধের কারণে আমাদেরকে অমূল্য ক্ষতির শিকার হতে হয়েছে। কার্ল হোগল্যান্ড আরো বলেন, পুলিশের অভিযানের মুখে বন্দুকধারী আত্মসমর্পনে বাধ্য হয়। তবে কী কারণে ওই ব্যক্তি গুলি চালালেন তা এখনো পরিষ্কার না। হাইল্যান্ডস কাউন্টি শেরিফ কার্যালয়ের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, খবর পেয়ে যখন পুলিশ কর্মকর্তারা ঘটনাস্থলে আসেন, তখন তাঁরা ব্যাংকের বাইরে থেকে ভেতরে থাকা বন্দুকধারীর সঙ্গে সমঝোতার চেষ্টা করেন। একপর্যায়ে এইচসিএসও সোয়াত দলের সদস্যরা ভেতরে ঢুকতে সক্ষম হন। ভেতরে প্রবেশ করেই পুলিশ পাঁচজনকে মৃত অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখে বলে ওয়াশিংটন পোস্টের এক প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।