সোমবার, এপ্রিল ৬, ২০২০
বেদনাদায়ক পরিস্থিতির জন্য প্রস্তুত থাকুন, জীবন-মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে যুক্তরাষ্ট্র
0১এপ্রিল,বুধবার,আন্তর্জাতিক ডেস্ক,নিউজ একাত্তর ডট কম: জীবন-মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে যুক্তরাষ্ট্র। তাই সব মার্কিনীকে সরকারের নির্দেশনা অনুসরণ করতে উদাত্ত আহ্বান জানিয়েছেন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প। কর্মকর্তারা সতর্কতা দিয়েছেন আগামী কয়েক সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্রে এক লাখ থেকে প্রায় আড়াই লাখ মানুষ করোনা ভাইরাসে মারা যেতে পারেন। নিউ ইয়র্কের হাসপাতালগুলোর মর্গ উপচে পড়ছে মৃতদেহ। এখন আর মৃতদেহ রাখার জায়গা নেই। হাসপাতালের বাইরে রেফ্রিজারেটর ট্রাকের ভিতর সারিবদ্ধ রাখা হয়েছে মৃতদেহ। টাইমস অব ইসরাইল, অনলাইন বিবিসিসহ বিভিন্ন মিডিয়ায় এ খবর গুরুত্ব দিয়ে প্রকাশিত হয়েছে। করোনা ভাইরাস মহামারি সামাল দিতে বিশ^জুড়ে জাহাজ, স্টেডিয়াম, পার্ককে অস্থায়ী হাসপাতালে রূপান্তরিত করা হয়েছে। মানবজমিন । মঙ্গলবার েেস্পন ও ফ্রান্সে মারা গেছেন কমপক্ষে ৮০০ মানুষ। বৃটিশ সরকার তার দেশে করোনায় মৃতের সংখ্যা দ্রুত বৃদ্ধি পাওয়ায় গভীর হতাশা প্রকাশ করেছে। বিশ^জুড়ে এখন কমপক্ষে ৮ লাখ মানুষ এই ভাইরাসে আক্রান্ত। এমন অবস্থায় যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, সামনে আরো অত্যন্ত কঠিন বেদনাদায়ক সময় অপেক্ষা করছে। এ জন্য মানসিকভাবে প্রস্তুত থাকতে তিনি তার নাগরিকদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন। বলেছেন, পীড়াময় ওই সময়কে আলিঙ্গন করতে প্রস্তুত থাকা উচিত। সবচেয়ে খারাপ কথা হলো সামনের কয়েক সপ্তাহ বা মাসে শুধু যুক্তরাষ্ট্রে আড়াই লাখ মানুষ মারা যেতে পারেন বলে প্রক্ষেপন বা প্রজেকশনে বলা হচ্ছে। তাই এই মহামারিকে একটি প্লেগ-এর মতো আখ্যায়িত করে হোয়াইট হাউজ থেকে বক্তব্য রাখছিলেন প্রসিডেন্ট ট্রাম্প। তার ভাষায়, সামনের দুটি সপ্তাহ হবে অত্যন্ত কঠিন বেদনাদায়। কঠিন এক বেদনাদায়ক অবস্থার দিকে এগিয়ে যাচ্ছে পরিস্থিতি। সামনের এই কঠিন দিনগুলোর জন্য প্রস্তাত থাকার জন্য প্রতিটি মার্কিনীর প্রতি আমি আহ্বান জানাচ্ছি।
বৃটেনে হু হু করে বাড়ছে মৃতের সংখ্যা
১এপ্রিল,বুধবার,আন্তর্জাতিক ডেস্ক,নিউজ একাত্তর ডট কম:লকডাউনের পর এক সপ্তাহ কেটে গেছে বৃটেনে। থমকে গেছে জীবনযাত্রা। প্রগতির দেশ যুক্তরাজ্য এখন কার্যত স্থবির। অফিস, আদালত, শপিং মল, সিটি সেন্টার থেকে সাধারণ দোকানপাট সবই। কয়দিন আগেও যেখানে লোকজনের আনাগোনায় মুখরিত থাকতো সেখানে এখন সুনসান নীরবতা। রাস্তাঘাটে যানবাহন খুবই কম। লোকজন ঘরবন্দি।কিন্তু এখনো হু হু করে বাড়ছে করোনা আক্রান্তের সংখ্যা ও মৃত্যুর ঘটনা। সবচেয়ে বেশী মৃত্যু ঘটেছে লন্ডনে, তারপরই বার্মিংহামের অবস্থান। তবে পরিস্থিতি তুলনামূলক নিয়ন্ত্রনে আছে স্কটল্যান্ড, ওয়েলস ও নর্দান আয়ারলযান্ডে। লকডাউনের আগে যারা সংক্রমিত হয়েছেন তাদের শরীরে ভাইরাসের লক্ষণ প্রকাশ পাচ্ছে ফলে আক্রান্তের সংখ্যা বাড়ছে। যাদের আগে থেকেই বয়সজনিত বা অন্যান্য শারীরিক জটিলতা রয়েছে তারা দ্রুতই কাবু হচ্ছে করোনায়। মৃতের সংখ্যা বাড়ছে তাই। সংক্রমন বিস্তাররোধে লকডাউনের ঘোষনা দেয়ার পর দেখা যাচ্ছে তার কঠোর বাস্তবায়ন। পাশাপাশি চিকিৎসাসহ সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নানা উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। নাগরিকদের মোবাইল বার্তার মাধ্যমে ঘরে থাকার নির্দেশনা দেয়া হচ্ছে। প্রতিদিন পরীক্ষা করা হচ্ছে হাজার হাজার রোগির। আক্রান্তদের মধ্যে যারা প্রাথমিক স্তরে রয়েছেন তাদের পাঠানো হচ্ছে আইসোলেশনে।গুরুতর আক্রান্তদের ভর্তি করা হচ্ছে হাসপাতালে। সরকারের তরফে লন্ডন, বার্মিংহাম ও মানচেস্টারে চালু করা হচ্ছে তিনটি অস্থায়ী বিশেষ হাসপাতাল। এই তিন হাসপাতাল মিলিয়ে শয্যা থাকবে ১০ হাজার। পাশাপাশি বার্মিংহাম বিমানবন্দরের একটি অংশে ১৫০০ মৃতদেহ রাখার জন্য প্রস্তুত করা হচ্ছে মর্গ। জাতীয় স্বাস্হ্য সংস্থা এনএইচএস তাদের অবসরে যাওয়া স্বাস্থ্যকর্মীদের তলব করেছে। স্বেচ্ছাসেবি হিসেবে কাজ করার জন্য আবেদন আহ্বানের পর বিপুল সাড়া পড়েছে সে আহ্বানে। চিকিৎসা বিশেষজ্ঞরা আশংকা করছেন ইতালীর মতো বড় ধরনের বিপর্যয়ের শিকার হতে পারে বৃটেন। ২৮ মার্চ এক জরুরি সংবাদ সম্মেলনে যুক্তরাজ্যের কমিউনিটি সেক্রেটারি রবার্ট জেরনিক বলেছেন, ‘দেশের সব জায়গা এখন জরুরি অবস্থার মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। এটি শান্তির সময়ের এক অভূতপূর্ব পদক্ষেপ, দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর থেকে আমরা এ জাতীয় কিছু করিনি।এর অর্থ এই যে আমরা পুরো দেশ জুড়ে কৌশলগত সমন্বয় কেন্দ্র স্থাপন করছি।’ ২০২০ সালের জানুয়ারীর শেষে যুক্তরাজ্যে প্রথম করোনা আক্রান্ত রোগি সনাক্ত হয়। ফেব্রুয়ারি জুড়ে বেশ কয়েকজন লোকের করোনা টেস্ট পজেটিভ আসে। মার্চের শুরুতে যুক্তরাজ্যের পরিসংখ্যান বাড়তে শুরু করে। মার্চের তৃতীয় সপ্তাহে এসে এই সংখ্যা এখন অত্যন্ত দ্রুত বৃদ্ধি পায়। মার্চের শেষ সপ্তাহ থেকে আক্রান্তের সংখ্যা বাড়ছে হু হু করে। শনিবারে প্রতিদিনের নিশ্চিত হওয়া মামলার আগের দিনের তুলনায় ২,৫০০-রও বেশি লাফিয়ে উঠেছে। সবচেয়ে আতংকের বিষয় হচ্ছে আক্রান্তের মতোই ইংল্যান্ডে অপ্রতিরোধ্য গতিতে বাড়ছে করোনা ভাইরাসে মৃতের সংখ্যা। মৃত ব্যক্তিদের মধ্যে ষাটোর্ধ বয়সি মানুষের সংখ্যাই বেশি। তবেত্রিশের কোটার বয়সিও রয়েছে মৃতের তালিকায়। যুক্তরাজ্যের বেশিরভাগ মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে ইংল্যান্ডে। মূলত লন্ডনে। লন্ডনে এপর্যন্ত সাড়ে তিনশ জনেরও বেশি মানুষ মারা গেছে। ৩০ মার্চের সরকারী পরিসংখ্যানে দেখা গেছে, লন্ডনে এখন আক্রান্তের সংখ্যা প্রায় ৬ হাজার। লন্ডনের সাউথওয়ার্ক, ল্যাম্বেথ, ব্রেন্ট, ক্রয়েডন, ওয়ান্ডসওয়ার্থ সবখানেই প্রতিদিন সনাক্ত হচ্ছে উল্লেখ যোগ্য সংখ্যক আক্রান্ত। লন্ডনের বাইরে বার্মিংহাম, শেফিল্ড এবং হ্যাম্পশায়ারই বেশি। বার্মিংহাম সিটিসহ আশপাশের টাউনগুলোতে প্রতিদিনই বাড়ছে মৃতের সংখ্যা। তবে বৃটেনের অপর তিন অংশ স্কটল্যান্ড, ওয়েলস ও উত্তর আয়ারল্যান্ডেপরিস্থিতি এখন নিয়ন্ত্রনে রয়েছে। এই তিন দেশে মৃতের সংখ্যা ১০০ পেরোয়নি। প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসন ২৩ শে মার্চ এই রোগের অপ্রয়োজনীয় সংক্রমণ এড়াতে লোকজনকে ঘরেই থাকার আহ্বান জানিয়েলকডাউন ঘোষণা করেছেন। তারপর তিনি নিজেই ভাইরাস পরীক্ষায় পজেটিভ হয়েছেন। ব্রিটিশ রাজপরিবারের সিনিয়র সদস্যপ্রিন্স চালর্স করোনা আক্রান্ত হয়েছেন। দুটো ঘটনাই সবার জন্য আলার্মিং। এনএইচএস ইংল্যান্ডের চিকিত্সক পরিচালক স্টিফেন পাওস সতর্ক করে বলেছেন, যুক্তরাজ্য যদি মৃতের সংখ্যা নিয়ন্ত্রণে রাখতে হলে আমাদের প্রত্যেকেরই ভূমিকা রাখতে হবে।বৃটেনের আশংকার কারণ হচ্ছে, দেশে শ্বাস-প্রশ্বাসের সংক্রমণে আক্রান্তদের প্রকৃত সংখ্যা অনেক বেশি। ফলে করোনা ঝুঁকিরমাত্রাও অত্যাধিক। ইংল্যান্ডের হাসপাতাল কর্মীরা ডাক্তার-নার্স থেকে শুরু করে প্রতিদিন হাজার হাজার লোকের করোনা টেস্ট করছেন। পেশাগত কারণে ঝুঁকির শীর্ষে রয়েছেন চিকিৎসক ও নার্স। ইংল্যান্ডের পাশাপাশি ওয়েলস, স্কটল্যান্ড এবং উত্তর আয়ারল্যান্ডে স্বাস্থ্য কর্মীদের ইতিমধ্যে পরীক্ষা করা হচ্ছে। হাসপাতালের প্রতিনিধিত্বকারী এনএইচএস সরবরাহকারী ক্রিস হপসনের মতে লন্ডনের হাসপাতালগুলো করোনা ভাইরাসরোগের শুনানীর মুখামুখি হচ্ছে এবং নিবিড় পরিচর্যা শয্যা শেষ হতে শুরু করেছে। পূর্ব লন্ডনের এক্সকেল প্রদর্শনী কেন্দ্রটি রূপান্তর করা হচ্ছে একটি ফিল্ড হাসপাতালে। যেখানে সর্বমোট চার হাজার রোগী ভর্তি রাখা যাবে। এছাড়া ইংল্যান্ডে আরও দুটি অস্থায়ী হাসপাতাল প্রতিষ্ঠার পরিকল্পনার কথা প্রকাশ করেছে সরকার। যার একটি বার্মিংহামের এনইসি কেন্দ্রে পাঁচ হাজার শয্যা এবং অন্যটি ম্যানচেস্টারের কনভেনশন কমপ্লেক্সে এক হাজার শয্যা বিশিষ্ট। অন্যদিকে বার্মিংহাম বিমানবন্দরের কিছু অংশে একটি মর্গে পরিনত করার কাজ শুরু হয়েছে। যেখানে কমপক্ষে ১,৫০০ মৃতদেহ রাখা যাবে। যদি মৃতের সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পায় এটি ব্যবহ্নত হবে। করোনা ভাইরাস পরিস্থিতি মোকাবিলায় অবসরপ্রাপ্ত এনএইচএস কর্মীদের কাজে ফিরে যেতে বলা হয়েছে। দুর্বলদের জন্য খাবার ও ওষুধ সরবরাহে সহায়তার জন্য এনএইচএস যে স্বেচ্ছাসেবী নিয়োগের ঘোষনা দেয় তাতে বিপুল পরিমান (প্রত্যাশার চেয়ে বেশী) আবেদন জমা পড়েছে। জন হপকিন্স ইউভার্সিটির ২৬ মার্চ প্রকাশিত এক গবেষনার গ্রাফ করে ইউরোপের দেশগুলোর পরিস্থিতি তুলে ধরা হয়েছে। সে গ্রাফ অনুযায়ী ইউরোপের দেশগুলোর মধ্যে সবচেয়ে আক্রান্ত ও মৃতের সংখ্যায় বিপর্যস্ত দেশ ইতালি। ইতালিতে মৃত্যুর সংখ্যা গড়ে প্রতি তিন দিনে দ্বিগুণ হয়েছে। তবে লকডাউন পরবর্তি এই বর্ধনের ধীর গতিতে এটি ইঙ্গিত দেয় যে মহামারীটির ক্রমটি পরিবর্তিত হচ্ছে। অন্যান্য ইউরোপীয় দেশগুলোর তুলনায় ব্যতিক্রম কেবল স্পেন। এখানে মৃত্যুর হার অত্যন্ত বেশী। সে গ্রাফমতে প্রশ্ন তোলা হয়েছে, যুক্তরাজ্য কি ইতালির মতো সংক্রমন ও মৃতের সংখ্যায় শিখরের পৌঁছানোতে কয়েক সপ্তাহ পিছনে রয়েছে? তবে তারা কোনো সরাসরি উপসংহারে আসেনি। তারা বলেছে, প্রতিটি দেশে আলাদা আলাদা স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থা রয়েছে এবং ভাইরাসের বিস্তার নিয়ন্ত্রণে বিভিন্ন ব্যবস্থা নিচ্ছে। মৃত্যুর সংখ্যা ভাইরাসের সংক্রমণ এবং লোকেরা যখন তাদের কাছে নিয়ে যেতে পারে তখন যে চিকিত্সা ব্যবহার করতে পারে তার উপর নির্ভর করে। প্রতিটি দেশের ভবিষ্যত সরকার এবং নাগরিকরা যেপদক্ষেপ নেয় তার উপর নির্ভর করে।
করোনায় আক্রান্ত ছাড়ালো ৫ লাখ, শীর্ষে যুক্তরাষ্ট্র
২৭মার্চ,শুক্রবার,আন্তর্জাতিক ডেস্ক,নিউজ একাত্তর ডট কম:প্রাণঘাতি করোনা ভাইরাসের ছোবল যেন দিন দিন বাড়ছেই। বিশ্বব্যাপি কাঁপন ধরিয়ে দিয়েছে এই ভাইরাস। এরই মধ্যে এ রোগে আক্রান্ত হয়েছেন ৫ লাখেরও বেশি মানুষ। অন্যদিকে মারা গেছেন ২৪ হাজার ৭৩ জন। করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হলেও লড়াই করে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছে ১ লাখ ২৩ হাজার ৯৪২ জন। এখন পর্যন্ত করোনায় সবচেয়ে বেশি আক্রান্তের সংখ্যা যুক্তরাষ্ট্রে। সেখানে এখন পর্যন্ত ৮৩,৫০০ জনেরও বেশি মানুষের দেহে করোনাভাইরাস শনাক্ত হয়েছে। জন্স হপকিন্স বিশ্ববিদ্যালয়ের সবশেষ তথ্য অনুযায়ী আক্রান্তের সংখ্যার হিসেবে চীন (৮১,৭২৮ জন) এবং ইতালিকে (৮০,৫৮৯) ছাড়িয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। তবে ভাইরাসের প্রকোপে যুক্তরাষ্ট্রে মৃত্যুর সংখ্যা এই দুই দেশের তুলনায় কম। যুক্তরাষ্ট্রে ভাইরাসের কারণে এ পর্যন্ত মারা গেছেন প্রায় ১২০০ জন। যেখানে চীনে করোনাভাইরাসে মোট মৃত্যু হয়েছে ৩,২৯১ জনের এবং ও ইতালিতে মারা গেছেন ৮,২১৫ জন। এদিকে বৃহস্পতিবার বিকালে হোয়াইট হাউজে সংবাদ সম্মেলনের সময় যুক্তরাষ্ট্রের করোনাভাইরাস আক্রান্তের সংখ্যা নিয়ে প্রশ্ন করা হলে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ব্যাপক হারে পরীক্ষা করার সিদ্ধান্তের প্রশংসা করেন। ভাইস প্রেসিডেন্ট মাইক পেন্স জানান যে দেশটির ৫০টি রাজ্যেই এখন করোনাভাইরাস পরীক্ষা করার ব্যবস্থা রয়েছে এবং সারাদেশে ৫ লাখ ৫২ হাজারের বেশি পরীক্ষা করা হয়েছে। চীনে করোনাভাইরাস আক্রান্তের সংখ্যা নিয়ে বেইজিংয়ের প্রকাশিত তথ্য সম্পর্কে সন্দেহও প্রকাশ করেন ট্রাম্প। তিনি বলেন, ‘আপনি সঠিকভাবে জানেন না চীনে আসল সংখ্যাটা কত।
করোনায় স্পেনের মৃত্যু ৪ হাজার ছাড়ালো
২৬মার্চ,বৃহস্পতিবার,আন্তর্জাতিক ডেস্ক,নিউজ একাত্তর ডট কম:স্পেনে করোনাভাইরাস সংক্রমিত কোভিড-১৯ রোগে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুর সংখ্যা চার হাজার ছাড়াল। বিশ্বে ইতালির পর যা সর্বোচ্চ। ওয়ার্ল্ড ওমিটার এই তথ্য অনুযায়ী গত ২৪ ঘণ্টায় দেশটিতে নতুন করে আরও ৬৫৫ জনের মৃত্যু হয়েছে এই ভাইরাসে। বৃহস্পতিবার পর্যন্ত দেশটিতে করোনায় মৃত্যু হলো ৪ হাজার ৮৯ জনের। দেশটির স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের দেওয়া হিসাব অনুযায়ী, প্রাণঘাতী এই ভাইরাসে আক্রান্তের সংখ্যাও বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৫৬ হাজার ১৮৮ জনে। গত ২৪ ঘণ্টায় স্পেনে ৬৫৫ জনের মৃত্যু হলেও আগের দিনের তুলনায় তা কম। কেননা বুধবার দেশটিতে রেকর্ড সর্বোচ্চ ৭৩৮ জন করোনায় আক্রান্ত হয়ে প্রাণ হারান। চীনে উৎপত্তি হলেও ইউরোপ এখন করোনার ছোবলে বিপর্যস্ত। সর্বোচ্চ মৃত্যুর ঘটনা ঘটছে ইতালি, স্পেন ও ফ্রান্সে। চলতি মাসের ১৪ মার্চ থেকে লকডাউন করা হয়েছে দেশটি। জারি রয়েছে জরুরি অবস্থা। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার বরাত দিয়ে আল জাজিরার এক প্রতিবেদনে জানা যায়, প্রতিদিন স্পেনে যে হারে করোনায় আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুবরণ করছে তা নিয়ন্ত্রণ করা না গেলে আগামী এক সপ্তাহে ইতালিকে পেছনে ফেলবে স্পেন। দেশের এমন পরিস্থিতিতে দেশজুড়ে লকডাউনের মেয়াদ আরও ১৫ দিন বাড়ানোর ব্যপারে সায় দিয়েছে প্রধানমন্ত্রী পেদ্রো শানচেজের নেতৃত্বাধীন স্পেনের মন্ত্রিসভা। প্রধানমন্ত্রী জানিয়েছেন, এমন পরিস্থিতিতে পার্লামেন্ট তার পাশে থাকবে বলে আশাবাদী । দেমটির বিভিন্ন গণমাধ্যমের খবর থেকে জানা যায় জরুরি অবস্থার মেয়াদও আরও দুই সপ্তাহ বাড়ানো হতে পারে। এদিকে গতকাল দেশটির উপ-প্রধানমন্ত্রী কারমেন ক্যালভো করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন। এর আগে প্রধানমন্ত্রীর পেদ্রো শানচেজের স্ত্রীও করোনায় আক্রান্ত হন।
লকডাউন অমান্য করে কুমিরের পেটে রুয়ান্ডার নাগরিক
২৬মার্চ,বৃহস্পতিবার,আন্তর্জাতিক ডেস্ক,নিউজ একাত্তর ডট কম:মহামারী করোনাভাইরাস প্রতিরোধে আফ্রিকার সবচেয়ে ছোট দেশ রুয়ান্ডাকে লকডাউন ঘোষণা করেছে দেশটির সরকার। সেখানে লকডাউন অমান্য করে কুমিরের পেটে গিয়েছেন এক নাগরিক। খবর নিউইয়র্ক পোস্টের। খবরে বলা হয়, বুধবার (২৫ মার্চ) নায়বারোঙ্গো নদীতে অজ্ঞাত এক ব্যক্তি আদেশ অমান্য করে মাছ ধরতে যান। তখন কুমিরের হামলার মুখোমুখি হন তিনি। এরপর তাকে খেয়েও ফেলে। দক্ষিণাঞ্চলীয় কামোনী জেলার মেয়র আলিস কেইটসি বলেন, ঘরে থাকতে দেয়া সরকারের নির্দেশ লঙ্ঘন করেছেন ওই ব্যক্তি। ভাইরাস সংক্রমণ রোধে সহযোগিতা না করা খুবই কম সংখ্যক লোকদের মধ্যে তিনি একজন। এক কোটি ১০ লাখ লোকের দেশটিতে এখন পর্যন্ত ৪০ জনের শরীরে করোনা ভাইরাস শনাক্ত হয়েছে। অঞ্চলটিতে এটিই সবচেয়ে বেশি সংক্রমণের ঘটনা। কোভিড-১০ রোগের প্রাদুর্ভাব বাড়তে থাকায় দেশটিতে অচলাবস্থা জারি করা হয়েছে। আর লকডাউন নিয়ে বিতর্কে জড়িয়ে পড়ায় দক্ষিণাঞ্চলীয় জেলা নায়াঞ্জাতে সোমবার গুলি করে দুই ব্যক্তিকে হত্যা করে পুলিশ।
চীনে হান্তা ভাইরাস সংক্রমণে মৃত ১,হান্তা ভাইরাস কী ও এর উপসর্গ
২৫মার্চ,বুধবার,আন্তর্জাতিক ডেস্ক,নিউজ একাত্তর ডট কম:পুরো বিশ্ব যখন করোনা ভাইরাস মোকাবিলায় হিমশিম খাচ্ছে, চীনে তখন ভাইরাসটির প্রকোপ কমে এসেছে। তবে নিস্তার মিলছে না দেশটির কর্তৃপক্ষের। সোমবার দেশটিতে হান্তা ভাইরাস নামে এক ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে একজনের মৃত্যু হয়েছে। চীনা গণমাধ্যম গ্লোবাল টাইমস এক টুইটে জানিয়েছে, ইউনান প্রদেশে ওই ব্যক্তির মৃত্যু হয়। তিনি একটি চার্টার্ড বাসে করে শানদং প্রদেশে যাচ্ছিলেন। যাত্রাপথে বাসের মধ্যেই তার মৃত্যুই হয়। পরীক্ষা করে তার মধ্যে ভাইরাসটি সনাক্ত করা হয়। গ্লোবাল টাইমস আরো জানায়, ওই বাসটিতে আরো ৩২ জন যাত্রী ছিল।তাদের সবাইকে পরীক্ষা করা হয়েছে। তবে তাদের মধ্যে কেউ আক্রান্ত হয়েছেন কিনা তা জানা যায়নি। #/হান্তা ভাইরাস কী ও এর উপসর্গ: যুক্তরাষ্ট্রের রোগ নিয়ন্ত্রণ ও প্রতিরোধ কেন্দ্রের (সিডিসি) বরাত দিয়ে নিউজ ১৮ জানিয়েছে, হান্তা ভাইরাস মূলত ইঁদুরজাতীয় প্রাণির মাধ্যমের ছড়ানো একগুচ্ছ ভাইরাস। এতে হরেক রকমের রোগের উপসর্গ দেখা দিতে পারে। হান্তা ভাইরাস অঞ্চলের উপর ভিত্তি করে একেক জায়গায় একেক নামে পরিচিত। যেমন, ইউরোপ ও এশিয়ায় এটি ওল্ড ওয়ার্ল্ড হান্তা ভাইরাস নামে পরিচিত। অন্যদিকে, আমেরিকার এটি নিউ ওয়ার্ল্ড হান্তা ভাইরাস নামে পরিচিত। নিউ ওয়ার্ল্ড হান্তা ভাইরাসে সংক্রমিত হলে, ফুসফুসজনিত সমস্যা দেখা দেয় (এইচপিএস)। এক্ষেত্রে রোগীর মধ্যে অবসাদ, জ্বর ও পেশিতে ব্যথা, বিশেষ করে উরু, মাজা, পিঠ ও কখনো বাহুতে ব্যথা দেখা দিতে পারে। এছাড়া, কেউ কেউ মাথাব্যথা, মাথাঘোরা ও পেটের নিম্নভাগে সমস্যায় ভুগতে পারেন। তবে কিছু ক্ষেত্রে ভাইরাসটিতে আক্রান্ত হওয়ার চার থেকে ১০ দিন পর কাশি ও শ্বাকষ্ট হতে পারে। এতে অনেকের মৃত্যুর ঝুঁকি রয়েছে। অন্যদিকে, ওল্ড ওয়ার্ল্ড হান্তা ভাইরাসে আক্রান্ত হলে হেমোরেজিক জ্বর ও বৃক্কজনিত সমস্যা (এইচএফআরএস) দেখা দেয়। এক্ষেত্রে রোগীরা আক্রান্ত হওয়ার প্রথম এক বা দুই সপ্তাহের মধ্যে লক্ষণ প্রকাশ পায়। তবে আট সপ্তাহ পরে লক্ষণ প্রকাশ পাওয়ার ঘটনাও রয়েছে। প্রাথমিক পর্যায়ে তীব্র মাথাব্যথা, পিঠ ও পেটের নিম্নভাগে ব্যথা, জ্বর, শীত শীত ভাব, বমিভাব ও চোখের দৃষ্টিশক্তি কমে যাওয়ার মতো লক্ষণ দেখা যায়। পরবর্তীতে, নিম্ন রক্তচাপ, ভাস্কুলার লিকেজ ও কিডনি ফেইলারের মতো সমস্যাও দেখা দিতে পারে। #/ভাইরাসটি কি নতুন? না। এর আগে ২০১২ সালে আমেরিকার ক্যালিফোর্নিয়ায় এই ভাইরাসে আক্রান্ত হওয়ার ঘটনা ঘটেছে। গ্লোবাল টাইমস অনুসারে, এই বছর ভাইরাসটিতে সেখানে অন্তত চার জনের মৃত্যু হয়েছিল। সিডিসি অনুসারে, যুক্তরাষ্ট্রে ভাইরাসটির অস্তিত্ব প্রথম ধরা পড়ে ১৯৯৩ সালের নভেম্বরে। দেশটির চারটি রাজ্য- নিউ মেক্সিকো, আরিজোনা, কলোরাডো ও উটাহ অঙ্গরাজ্যের মধ্যে ভাগ করা একটি অঞ্চলে এক ব্যক্তি এতে আক্রান্ত হয়েছিলেন। #/এটি কি মানুষ থেকে মানুষে ছড়ায়? না। হান্তা ভাইরাস মূলত ইঁদুরজাতীয় প্রাণীর মাধ্যমে ছড়িয়ে থাকে। এখন পর্যন্ত এতে আক্রান্ত হওয়ার ঘটনা তুলনামূলক কম ও বিচ্ছিন্ন। এটির মহামারী পর্যায়ে বিস্তার লাভের ঘটনা জানা যায়নি। সিডিসি অনুসারে, সাধারণত প্রত্যন্ত অঞ্চলগুলোতে যেখানে এই ভাইরাসের বাহক ইঁদুরগুলোর বাস করে, সেসব এলাকায় এতে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি বেশি। #/এই ভাইরাসে মানুষ যেভাবে আক্রান্ত হয় : সিডিসি অনুসারে, ভাইরাসে আক্রান্ত ইঁদুরের মূত্র, লালা ও বিষ্ঠার মাধ্যমে ভাইরাসটি (এইচপিএস) ছড়িয়ে থাকে। মূলত এসবের ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র কণা বাতাসে মিশে গেলে ও সে বাতাস নিঃশ্বাসে নিলে মানুষ ভাইরাসটি মানুষের দেহে বিস্তার করে। এছাড়া, ভাইরাসে আক্রান্ত কোনো ইঁদুরের কামড় খেলেও এতে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি রয়েছে। ভাইরাসে আক্রান্ত কোনোকিছু হাত দিয়ে ধরে সে হাত মুখে স্পর্শ করলেও আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি রয়েছে। তবে মানুষ থেকে মানুষের মধ্যে এটি বিস্তার লাভের কোনো প্রমাণ নেই। এখন পর্যন্ত আমেরিকা, ইউরোপ, এশিয়ায় এর অস্থিত্ব পাওয়া গেছে। #/চিকিৎসা : ভাইরাসটির কোনো নির্দিষ্ট চিকিৎসাপদ্ধতি আবিষ্কার হয়নি। এর কোনো টিকা নেই। তবে আক্রান্ত হওয়ার পরপরই হাসপাতালে ভর্তি হওয়া উচিৎ। এতে ভাইরাসটির প্রভাবে সৃষ্ট নানা সমস্যার চিকিৎসা সম্ভব। যেমন, শ্বাসকষ্ট, জ্বর, কিডনী ফেইলার ইত্যাদি জটিল সমস্যার জন্য হাসপাতালে চিকিৎসা গ্রহণ জরুরি।
তিন সপ্তাহের জন্য লকডাউন বৃটেন
২৫মার্চ,বুধবার,আন্তর্জাতিক ডেস্ক,নিউজ একাত্তর ডট কম:তিন সপ্তাহের জন্য পুরো বৃটেনে লকডাউনের ঘোষণা দিয়েছে প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসনের সরকার। করোনা ভাইরাসের প্রাদুর্ভাব পর্যালোচনা করে তিন সপ্তাহ পর লকডাউনের সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনা করা হবে। বৃটেনে এমন ঘটনা অভূতপূর্ব। তবে বর্তমানে সবচেয়ে ভয়াবহ বৈশ্বিক সংকটে পরিণত হওয়া করোনা মোকাবিলায় বিশ্বের অন্য আক্রান্ত দেশের মতো বৃটিশ সরকারও বাধ্য হয়েছে লকডাউনে। গত সোমবার রাতে জাতির উদ্দেশ্যে দেয়া এক ভাষণে, প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসন করোনা ভাইরাস মহামারিটির প্রসারণকে কমিয়ে দেয়ার জন্য দেশবাসীকে ঘরে অবস্থানের নির্দেশ দিয়েছেন। তিনি বলেছেন, আমাকে অবশ্যই বৃটিশ জনগণকে একটি খুব সাধারণ নির্দেশনা দিতে হবে- সেটা হচ্ছে, আপনাকে অবশ্যই বাড়িতে থাকতে হবে। কারণ মারাত্মক এই ভাইরাসটি ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়া রোধ করতে আমাদের ঘরে অবস্থান করতে হবে। আপনারা ঘরে অবস্থান করুন, করোনা ভাইরাস ছড়িয়ে পড়া রোধ করুন। তিনি বলেন, এই সময়ের মধ্যে লোকজন কেবল জরুরি কেনাকাটার জন্য, দিনে একবার শরীরচর্চার জন্য (একা বা পরিবারের সঙ্গে দৌড়ানো বা হাঁটা), কোনো চিকিৎসার জন্য, শারীরিকভাবে দুর্বলদের সহায়তা করতে এবং কর্মক্ষেত্রে যাতায়াত করতে পারবে। লকডাউন চলাকালে দুইজনের বেশি লোকের বৈঠক নিষিদ্ধ করা হয়েছে। এই সময় নিজের বাসা-বাড়িতে কোনো বন্ধু বা আত্মীয়স্বজন গ্রহণ না করতে এবং কোনো বন্ধু বা আত্মীয়স্বজনের বাড়িতে বেড়াতে না যেতে নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। বরিস জনসন দেশের নাগরিকদের বলেছেন, আপনারা অবশ্যই নিজ নিজ বাসা-বাড়িতে অবস্থান করুন। বন্ধুদের সঙ্গে বৈঠক করবেন না। কোনো বন্ধু দেখা করতে চাইলে না বলুন। এমন কি আপনার পরিবারের সদস্য যারা আপনার বাড়িতে থাকেন না, তাদের সঙ্গে দেখা করা উচিত নয়। প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসন বলেছেন, লকডাউনের সময় খাবার এবং ওষুধের প্রয়োজন ছাড়া কেনাকাটা করতে বের হবেন না। কোনো পণ্য বেশি পরিমাণে কেনাকাটা করা উচিত নয়। প্রয়োজনে ফুড ডেলিভারি সার্ভিস ব্যবহার করুন। এছাড়া বিবাহ, ব্যাপটিজম এবং অন্যান্য অনুষ্ঠান বন্ধ রাখার নির্দেশ দিয়েছেন তিনি। বরিস জনসন বলেছেন, লকডাউনের সময় ঘরের বাইরে দুজনের বেশি লোকের জমায়েত হওয়া নিষিদ্ধ এবং পুলিশ প্রয়োজনে নতুন বিধি প্রয়োগ করতে পারবে। আপনি যদি নিয়ম না মানেন তবে পুলিশ জমায়েত ভেঙে দিতে ও আপনাকে জরিমানা করতে এবং আইন মানতে বাধ্য করতে পারবে। অপ্রতিরোধ্য গতিতে ছড়িয়ে পড়া এই ভাইরাস আতঙ্কিত করে তুলেছে মানুষের মন। সারাবিশ্বের ক্রমবর্ধমান বিপজ্জনক পরিস্থিতি বিবেচনা করে দেশের উল্লেখযোগ্য সংখ্যক মানুষ স্ব-বিচ্ছিন্নতা (সেল্ফ কোয়ারেন্টিন) মেনে চলতে শুরু করেছেন। নিতান্ত প্রয়োজন ছাড়া কেউ বাইরে বেরুচ্ছেন না। যারা বাইরে বেরুচ্ছেন তাদের হাতে গ্লাভস, মুখে মাস্ক; চলছেন অন্যের থেকে দূরত্ব বজায় রেখে। মানুষ এতটাই আতঙ্কগ্রস্ত হয়ে পড়েছে যে, নিজের ছায়াকেও ভয় পাচ্ছে। জনসম্মুখে হাঁচি-কাশি দেয়া এখন হয়ে উঠেছে আতঙ্কের কারণ। সর্দি-কাশির লক্ষণ দেখা দিলেই মানুষ চলে যাচ্ছে সেল্ফ কোয়ারেন্টিনে। চিকিৎসকরাও পরামর্শ দিচ্ছেন হোম কোয়ারেন্টিনে থেকে চিকিৎসা গ্রহণের। ইতিমধ্যে অনির্দিষ্ট সময়ের জন্য বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে সকল শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। লকডাউনের ফলে বৃটেনজুড়ে বিপুলসংখ্যক দোকানপাট বন্ধ হয়ে যাবে। ইতিমধ্যে ভূতুড়ে হয়ে পড়েছে শপিংমলগুলো। করোনা ভাইরাস প্রাদুর্ভাবের কারণে ইতিমধ্যে বৃটেনে নিজেদের সমস্ত আউটলেট বন্ধের ঘোষণা দিয়েছে ন্যানডোজ, কস্তা কফি ও সাবওয়ে। করোনা ভাইরাস মহামারির কারণে সৃষ্ট ক্রমবর্ধমান উদ্বেগের প্রেক্ষিতে সামাজিক দূরত্ব রক্ষায় অত্যাধিক জনসমাগম হওয়া জায়ান্ট প্রতিষ্ঠান ম্যাকডোনাল্ডস, প্রাইমার্ক তাদের সকল শাখা বন্ধ ঘোষণা করেছে। সীমিত করা হচ্ছে গণপরিবহন সার্ভিস। এদিকে, কভিড -১৯ এর বিস্তার বন্ধে চলমান প্রচেষ্টার অংশ হিসাবে ইংল্যান্ড এবং ওয়েলসের সমস্ত জুরি ট্রায়ালগুলো স্থগিত রাখা হবে। করোনা ভাইরাস দুনিয়ার সামনে এনে দাঁড় করিয়েছে জীবন-মৃত্যুর সমীকরণ। যুক্তরাজ্যে গত সোমবার পর্যন্ত করোনা ভাইরাস মৃত্যুর সংখ্যা তিনশ ছাড়িয়েছে। সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী সংখ্যাটি ৩৩৫। ইংল্যান্ডে ৪৬ ও স্কটল্যান্ডে ৪ জন মিলিয়ে সোমবার একদিনেই মৃত্যুবরণ করেছেন ৫০ জন। এনএইচএস-ইংল্যান্ড এক বিবৃতিতে বলেছে- করোনা ভাইরাস (কভিড-১৯) পরীক্ষায় পজেটিভ শনাক্ত হওয়া ৪৬ জন মারা গেছেন। কেবল ইংল্যান্ডেই মোট মৃত্যুর নিশ্চিত সংখ্যা ৩০৩ এ পৌঁছেছে। এমন পরিস্থতিতেও নিজের জীবন বাজি রেখে চিকিৎসক ও নার্সরা সেবা দিয়ে যাচ্ছেন করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত রোগীদের। তাদেরই একজন তিন সন্তানের জননী ছত্রিশ বছর বয়স্কা নার্স আরিমা নাসরিন। করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে তিনি এখন ওয়ালসাল মেনর হসপিটালে নিবিড় পরিচর্যায়। করোনা ভাইরাস কেবল মানুষের জীবনকে ঝুঁকিপূর্ণ করে তোলেনি। কেড়ে নিয়েছে মানুষের রুটিরুজির ব্যবস্থা। চলমান পরিস্থিতিতে ব্যবসা-বাণিজ্য সীমিত বা বন্ধ রাখায় রাতারাতি বেকার হয়ে পড়েছে সব ধরনের বিপুলসংখ্যক শ্রমজীবী মানুষ। সারাবিশ্ব যখন করোনা ভাইরাসে টালমাটাল তখন বাতিল বা স্থগিত হচ্ছে ব্যবসায়িক অর্ডার। ফলে বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছেন ব্যবসায়ীরা। প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসনের বক্তব্যের পর বন্ধ হয়ে পড়েছে বেশিরভাগ রেস্টুরেন্ট, বার ও পাব। জনসমাগম সীমিত হয়ে পড়ায় বিপর্যয়ের মুখে পড়েছে রেস্টুরেন্ট ব্যবসা। তারপরও জরুরি খাদ্য সরবরাহের প্রয়োজনে অব্যাহত রাখতে হচ্ছে কিছু সেবামূলক সার্ভিস। রেস্টুরেন্টগুলো সীমিত পরিসরে চালু রেখেছে তাদের টেকওয়ে সার্ভিস।

আন্তর্জাতিক পাতার আরো খবর