হংকংয়ের ৩০ লাখ বাসিন্দার ব্রিটেনে বসবাসের সুযোগ
০২,জুলাই,বৃহস্পতিবার,আন্তর্জাতিক ডেস্ক,নিউজ একাত্তর ডট কম: কঠোর সমালোচনাকে উপেক্ষা করে হংকংয়ের জন্য বিতর্কিত নিরাপত্তা আইন পাস করেছে চীনা সরকার। যাতে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে হংকংয়ের ৩০ লাখের বেশি মানুষ। যাদের স্থায়ী বসবাসের সুযোগ দিচ্ছে ব্রিটেন। স্থানীয় সময় বুধবার (১ জুলাই) দেশটির পার্লামেন্টে দাঁড়িয়ে বিট্রিশ প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসন বলেন, নতুন নিরাপত্তা আইন হংকংয়ের স্বাধীনতা ক্ষুন্ন করেছে। যারা এতে ক্ষতিগ্রস্ত হবেন তাদেরকে ব্রিটেনে আসার সুযোগ দেয়া হবে। তিনি বলেন, প্রায় সাড়ে ৩ লাখ ব্রিটিশ ন্যাশনাল পাসপোর্টধারীসহ বাকি ২ দশমিক ৬ মিলিয়ন হংকংয়ের নাগরিক পর্যায়ক্রমে ব্রিটেনে এসে ৫ বছরের জন্য বসবাস করতে পারবেন। স্থায়ী বসবাসের জন্য বা ব্রিটিশ নাগরিকত্ব লাভের জন্য পরবর্তীতে আবেদন করতে পারবেন। মূলত ১৯৮০ সাল থেকে হংকংয়ের নাগরিকদের জন্য ব্রিটিশ ন্যাশন্যাল ওভারসিজ পাসপোর্ট ইস্যু করেছিল সরকার। যাতে ভিসা ছাড়াই ৬ মাসের জন্য যুক্তরাজ্যে সফর করতে পারেন হংকংয়ের নাগরিকরা। যদিও তা পরবর্তীতে কিছু কাটছাঁট করা হয়। নতুন করে ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রীর ঘোষণা অনুযায়ী, ব্রিটিশ ন্যাশনাল ওভারসিজ পাসপোর্টধারী এবং তাদের ওপর নির্ভরশীলরা তাৎক্ষণিকভাবে কাজ এবং পড়ালেখার সুযোগসহ পাঁচ বছরের জন্যে ব্রিটেনে বসবাসের সুযোগ পাচ্ছেন। তবে, ব্রিটেনের এমন সিদ্ধান্তে নাখোশ চীন। দেশটির পক্ষ থেকে ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানানো হয়েছে। এর আগে মঙ্গলার বেইজিংয়ের সর্বোচ্চ আইন পরিষদ ন্যাশনাল পিপলস কংগ্রেস স্ট্যান্ডিং কমিটি (এনপিসিএসসি) সর্বসম্মতিক্রমে হংকংয়ের জন্য বিতর্কিত আইনটি পাস করে। পরে তাতে স্বাক্ষর করেন চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং। এই আইনের মধ্যদিয়ে স্বায়ত্তশাসিত হংকংয়ের ওপর চীনের কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠা এবং ওই নগরীর স্বাধীনতা হুমকির মুখে পড়তে পারে বলে আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। তবে, আইন পাস হওয়ার সঙ্গেই বিক্ষোভে উত্তাল হয়ে উঠে হংকং। যেখানে পুলিশের সঙ্গে কয়েক দফা ধরপাকড়ও হয়েছে। একজনকে গ্রেফতারেরও খবর দিয়েছে বিবিসি। এই অবস্থায় হংকং নাগরিকদের পাশে দাঁড়ানোর ঘোষণা দেন ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী। ফলে স্বাভাবিকভাবেই হংকং ইস্যুতে বেশ চাপে পড়ল চীন। জানা যায়, নতুন এ আইনে বিচ্ছিন্নতাবাদ, কর্তৃপক্ষকে অবমাননা, সন্ত্রাসবাদ এবং জাতীয় নিরাপত্তা বিপন্ন করতে বিদেশি বাহিনীর সঙ্গে আঁতাঁত নিষিদ্ধ করা হয়েছে। সেইসঙ্গে এসব অপরাধ কেউ করলে তার সর্বোচ্চ শাস্তি যাবজ্জীবন কারাদণ্ড হতে পারে। তবে, আইন পাসের আগে থেকেই সমালোচকরা বলে আসছিলেন, নতুন এই আইন হংকংয়ের পরিচয়কে আরও বড় হুমকির সম্মুখীন করলো। তবে চীন বলছে, হংকংয়ে অশান্তি ও অস্থিতিশীলতা মোকাবিলার জন্য এই আইন প্রয়োজন। সেইসঙ্গে এই বিষয়ে সমালোচকদের হস্তক্ষেপ প্রত্যাখ্যান করেছে দেশটি।
চীনে নতুন ফ্লু ভাইরাস শনাক্ত, বিশ্বজুড়ে মহামারির শঙ্কা
৩০জুন,মঙ্গলবার,আন্তর্জাতিক ডেস্ক,নিউজ একাত্তর ডট কম: গত বছরের ডিসেম্বরে চীনের উহান শহর থেকে করোনাভাইরাস বিশ্বজুড়ে ছড়িয়ে পড়ে। চীনে প্রথম দফার সংক্রমণ মোটামুটি নিয়ন্ত্রণের আসার পর ফের সংক্রমণ শুরু হয়েছে। দ্বিতীয় দফার সংক্রমণ এড়াতে কঠোর লকডাউন করা হয়েছে অনেক এলাকা। এমন পরিস্থিতির মধ্যেই চীনের বিজ্ঞানীরা নতুন এক ধরনের ফ্লু ভাইরাস চিহ্নিত করেছেন। এই ভাইরাসটির বিশ্বজুড়ে মহামারি হয়ে ওঠার আশঙ্কা রয়েছে বলে মনে করছেন তারা। চীনের বিজ্ঞানীরা বলছেন, নতুন ফ্লু ভাইরাসটি শূকরবাহিত। তবে এটির মানুষকে আক্রান্ত করার মতো সব ধরনের লক্ষণ রয়েছে। খবর বিবিসির গবেষকরা আশঙ্কা, ভাইরাসটি মানুষ থেকে মানুষে সহজে ছড়িয়ে পড়তে পারে। এতে করে বিশ্বজুড়ে নতুন মহামারি শুরু হতে পারে। নতুন ভাইরাস হওয়ায় এটি থেকে মানুষের সুস্থ হওয়ার সম্ভাবনা খুবই কম থাকবে বলেও মনে করেন তারা। তবে এখনই ভাইরাসটি নিয়ে উদ্বিগ্ন হওয়ার মতো কিছু না থাকলেও এটি নিবিড় পর্যবেক্ষণে রাখা দরকার বলে মনে করছেন বিজ্ঞানীরা। চীন থেকে ছড়িয়ে পড়া করোনাভাইরাস (কোভিড-১৯) মহামারিতে বিশ্বব্যাপী আক্রান্তের সংখ্যা প্রায় এক কোটি ৪ লাখ ৮ হাজার ছাড়িয়েছে। আর এ মহামারীতে আক্রান্ত হয়ে বিশ্বে মৃতের সংখ্যা ছাড়িয়েছে ৫ লাখ ৮ হাজার। সর্বশেষ ২০০৯ সালে মেক্সিকো থেকে ছড়িয়ে পড়া সোয়াইন ফ্লু বিশ্বে মহামারির রূপ নেয়। ভাইরাসটি যে রকম প্রাণঘাতী হবে বলে প্রথমে ধারণা করা হয়েছিল শেষ পর্যন্ত সেটি ততটা মারাত্মক হতে পারেনি। এর বড় কারণ বহু বয়স্ক মানুষ আগে থেকেই এটি প্রতিরোধ করার সক্ষমতা ধারণ করতে পেরেছিলেন। সম্ভবত এর কারণ ছিল বেশ কয়েক বছর আগে থেকে ছড়িয়ে পড়া অন্য ফ্লু ভাইরাসের সঙ্গে এটির অনেক মিল ছিল। চীনে নতুন যে ফ্লু ভাইরাস পাওয়া গেছে তার সঙ্গে ২০০৯ সালের সোয়াইন ফ্লুর মিল রয়েছে। তবে এর সঙ্গে নতুন কিছু পরিবর্তন যুক্ত হয়েছে। এখন পর্যন্ত নতুন ভাইরাসটি বড় কোনো হুমকি তৈরি করেনি। নতুন এই ফ্লু ভাইরাসটিকে গবেষকেরা জি৪ইএএইচ১এন১ নামে অভিহিত করছেন। এটি মানুষের শ্বাসযন্ত্রের মধ্যে বেড়ে উঠতে এবং বিস্তার ঘটাতে পারে। গবেষকেরা প্রমাণ পেয়েছেন, যারা চীনের শূকর এবং কসাইখানা ইন্ড্রাস্টিতে কাজ করছেন ভাইরাসটি সম্প্রতি সেসব মানুষকে আক্রান্ত করা শুরু করেছে। বর্তমানের ফ্লু ভ্যাকসিন ব্যবহার করে নতুন ভাইরাস থেকে সুরক্ষা পাওয়া যাচ্ছে না। ভাইরাসটির ওপর নজর রাখার প্রয়োজন বলে মনে করছেন যুক্তরাজ্যের নটিংহাম বিশ্ববিদ্যালয়ে কর্মরত প্রফেসর কিন-চো চ্যাং ও তার সহকর্মীরা। প্রফেসর কিন-চো চ্যাং বলেন, এই মুহূর্তে আমরা করোনাভাইরাস নিয়ে ব্যস্ত রয়েছি। কিন্তু আমাদের অবশ্যই নতুন ভাইরাসের সম্ভাব্য বিপদের ওপর থেকে চোখ সরানো চলবে না। যদিও তিনি বলেছেন, নতুন এই ভাইরাসটি এখনই সমস্যা তৈরি করছে না। তবে আমাদের এটি কোনোভাবেই অবহেলা করা উচিত হবে না। সূত্র: সমকাল
করোনায় মৃত্যু ৫ লাখ ছাড়িয়েছে
২৯জুন,সোমবার,আন্তর্জাতিক ডেস্ক,নিউজ একাত্তর ডট কম: সারা বিশ্বে করোনা ভাইরাসে মৃতের সংখ্যা ৫ লাখ ছাড়িয়েছে। আর আক্রান্তের সংখ্যা ১ কোটির বেশি। রোববার (২৮ জুন) রাতে যুক্তরাষ্ট্রের জনস হপকিন্স বিশ্ববিদ্যালয়ের বরাত দিয়ে এ তথ্য জানিয়েছে আন্তর্জাতিক সংবাদ মাধ্যম বিবিসি। চীনের হুবেই প্রদেশের উহান থেকে বিশ্বজুড়ে ছড়িয়ে যাওয়া কোভিড-১৯ রোগে আক্রান্ত এবং মৃত্যু, দুই দিকেই শীর্ষে রয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। দেশটিতে প্রায় ২৫ লাখ ৯৭ হাজার মানুষ করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন। মৃত্যু হয়েছে ১ লাখ ২৮ হাজার ১৫২ জনের। আক্রান্তর দিক দিয়ে দেশটির পরে রয়েছে ব্রাজিল, রাশিয়া, ভারত ও যুক্তরাজ্য। যে চীন থেকে রোগটি ছড়িয়েছে তাদের অবস্থান এখন ২২ নম্বরে (আক্রান্ত মানুষের সংখ্যার ওপর ভিত্তি করে তৈরি করা তালিকায় অবস্থান)।
৭শ কি.মি. দীর্ঘ, ১৭ সেকেন্ড স্থায়ী বিদ্যুচ্চমক!
২৭,জুন,শনিবার,আন্তর্জাতিক ডেস্ক,নিউজ একাত্তর ডট কম: সম্প্রতি এ যাবৎকালের সবচেয়ে বেশি দূরত্ব অতিক্রমকারী ও দীর্ঘস্থায়ী বিদ্যুচ্চমকের নতুন রেকর্ড ঘোষণা করেছে বিশ্ব আবহাওয়া সংস্থা (ডাব্লিউএমও)। সবচেয়ে বেশি দৈর্ঘ্যের ওই বিদ্যুচ্চমকের ঘটনা ঘটেছে ব্রাজিলে। এর দৈর্ঘ্য ছিল ৭০০ কিলোমিটারেরও বেশি। অন্যদিকে সবচেয়ে দীর্ঘস্থায়ী বিদ্যুচ্চমকের ঘটনাটি ঘটেছে আর্জেন্টিনায়। এটির স্থায়ীত্বকাল ছিল ১৭ সেকেন্ড। শুক্রবার (২৬ জুন) আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম এনডিটিভির এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়। ডাব্লিউএমওর বরাত দিয়ে খবরে বলা হয়, ব্রাজিলের দক্ষিণাঞ্চলে ৭শ কিলোমিটার দীর্ঘ ওই মেগাফ্ল্যাশ বিদ্যুচ্চমকের ঘটনাটি ঘটে ২০১৯ সালের ৩১ অক্টোবর। এটির ব্যাপ্তি যুক্তরাজ্যের রাজধানী লন্ডন থেকে সুইজারল্যান্ডের বাসেল শহরের দূরত্বের সমান। এটি আগের সর্বোচ্চ রেকর্ডের দ্বিগুণেরও বেশি দৈর্ঘ্যের। অন্যদিকে আর্জেন্টিনায় সবচেয়ে দীর্ঘস্থায়ী বিদ্যুচ্চমকের ঘটনাটিও গত বছরই ঘটে বলে জানিয়েছে ডাব্লিউএমও। ২০১৯ সালের ৪ মার্চ আর্জেন্টিনার উত্তরাঞ্চলে ওই বিদ্যুচ্চমক হয়। এটির প্রকৃত স্থায়ীত্বকাল ছিল ১৬.৭৩ সেকেন্ড। এর আগের সর্বোচ্চ দৈর্ঘ্যের বিদ্যুচ্চমকটি ছিল ৩২১ কিলোমিটারের। ২০০৭ সালের জুন মাসে যুক্তরাষ্ট্রের ওকলাহোমা অঙ্গরাজ্যে ওই বিদ্যুচ্চমক হয়। অন্যদিকে এর আগের সবচেয়ে বেশি দীর্ঘস্থায়ী বিদ্যুচ্চমকটি ছিল ৭.৭৪ সেকেন্ডের। এটি ২০১২ সালে দক্ষিণ ফ্রান্সে রেকর্ড করা হয়।
বৈশ্বিক বহুপাক্ষিক সহযোগিতা জোরদারের আহ্বান জাতিসংঘ মহাসচিবের
২৬,জুন,শুক্রবার,আন্তর্জাতিক ডেস্ক,নিউজ একাত্তর ডট কম: জাতিসংঘ মহাসচিব অ্যান্তোনিও গুতেরেস কোভিড-১৯ মহামারি মোকাবেলায় বৈশ্বিক অভিন্ন প্রধান নীতি হিসেবে বিশ্বে বহুপাক্ষিক সহযোগিতা জোরদারের আহ্বান জানিয়েছেন। জাতিসংঘ সনদের ৭৫তম বার্ষিকীর প্রক্কালে তিনি বলেন, বিশ্ব অশান্তিতে রয়েছে, করোনা ভাইরাস এবং জলবায়ু পরিবর্তনের সঙ্গে লড়াই করছে, পাশাপাশি ক্রমবর্ধমান বর্ণবৈষম্য এবং অসমতা মোকাবেলায় নতুন করে বহুপাক্ষিক সহযোগিতা জোরদার সবচেয়ে উত্তম উপায়। তিনি সাংবাদিকদের বলেন, আগে আমরা যে অবস্থায় ছিলাম সে অবস্থায় আবার ফিরে যেতে পারি না এবং আমরা পুনরায় এমন ব্যবস্থা ফিরিয়ে আনতে পারি না, যা পরিস্থিতিকে আরো খারাপের দিকে নিয়ে যাবে। আমাদের নতুন করে ভাবতে এবং অভিন্ন বিশ্বের উদ্ভাবনায় অবশ্যই আমাদের একত্রিত হতে হবে। আমাদের প্রয়োজন কার্যকর জোটবদ্ধতা যা বৈশ্বিক শাসন ব্যবস্থায় একটি কার্যকর উপাদান হিসেবে কাজ করবে, এটির এখন খুব প্রয়োজন। গুতেরেস বলেন, করোনা ভাইরাস মোকাবেলায় জাতিসংঘ কার্যকর পদক্ষেপ নিয়েছে, শিশুদের শিক্ষা এবং পরিবার ও শিশুদের পরিচর্চাকারীদের সহায়ক হিসেবে বিশ্বের ১৩০ টির বেশি দেশে ২৫ কোটি ব্যক্তিগত সুরক্ষা সরঞ্জাম পাঠানো হয়েছে। তিনি বলেন, কোভিড-১৯ ছড়িয়ে পড়া রোধে বিশ্বব্যাপী মেডিকেল সরঞ্জাম সরবরাহে জাতিসংঘের সরবরাহ ব্যবস্থা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তিনি বলেন, ৭৫ বছর আগে গৃহীত জাতিসংঘের বহুপাক্ষিক সম্পর্কের নীতি অনুসরণ করে করোনার ভ্যাকসিন আবিষ্কারের জন্য জাতিসংঘ সহযোগিতা দিচ্ছে, করোনা ছড়িয়ে পড়া রোধে গত মার্চে জাতিসংঘ নিজস্ব উদ্যোগে অনেক গোলযোগপূর্ণ এলাকায় যুদ্ধবিরতি কার্যকর করতে সক্ষম হয়েছে। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের শেষের দিকে ১৯৪৫ সালের ২৬ জুন সানফ্রানসিসকোতে জাতিসংঘ সনদ স্বাক্ষরিত হয়, যা এর চার মাস পর থেকে কার্যকর হয়।
রাশিয়ায় গিয়ে এস-৪০০সহ একাধিক ক্ষেপণাস্ত্রের তদবিরে রাজনাথ!
২৪,জুন,বুধবার,আন্তর্জাতিক ডেস্ক,নিউজ একাত্তর ডট কম: ভারতীয় গণমাধ্যমের বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে, রাশিয়ায় অবস্থানরত ভারতের প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিংহ এস-৪০০ সহ একাধিক গুরুত্বপূর্ণ প্রতিরক্ষা চুক্তির দ্রুত বাস্তবায়ণ ও ক্ষেপণাস্ত্র হস্তান্তর নিয়ে আলোচনা করতে পারেন। মঙ্গলবার (২৩ জুন) দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের ভিক্টরি ডে উৎসবে যোগ দিতে রাশিয়ায় যান রাজনাথ। দ্বিপাক্ষিক প্রতিরক্ষা চুক্তি নিয়ে দীর্ঘক্ষণ দুজনের মধ্যে কথা হয়। উভয় দেশই পারস্পরিক প্রতিরক্ষা সহযোগিতাকে আরও দৃঢ় ও বৃদ্ধি করতে অঙ্গীকারবদ্ধ হন বলে জানা গিয়েছে। ভারত ও রাশিয়া ১৬ বিলিয়ন মার্কিন ডলার মূল্যের প্রতিরক্ষা চুক্তি স্বাক্ষর করেছে। এস-৪০০ অ্যান্টি-এয়ারক্র্যাফট (বিমান-বিধ্বংসী) এই ক্ষেপণাস্ত্র যাতে যত দ্রুত সম্ভব ভারতে আসে, তার জন্য জোর তদ্বির করবেন রাজনাথ। ২০১৮ সালে ৫ বিলিয়ন মার্কিন ডলার মূল্যের এস-৪০০ ক্ষেপণাস্ত্র কেনার চুক্তি হয় ভারত ও রাশিয়ার মধ্যে। ২০২১ সালের ডিসেম্বর নাগাদ ওই মিসাইল সিস্টেম ভারতে আসার কথা। কিন্তু, পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে ভারত এখন চাইছে, সময়ের আগেই ওই ক্ষেপণাস্ত্র হাতে পেতে। পরে রুশ উপ-প্রধানমন্ত্রী ইয়ুরি বরিসভের সঙ্গে কথা বলেন রাজনাথ। বরিসভ হলেন ভারত-রাশিয়া দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য, অর্থনৈতিক ও বৈজ্ঞানিক সহযোগিতা বিষয়ক ইন্টার গভর্নমেন্টাল কমিশনের চেয়ারম্যান। আরও বেশি সংখ্যক রুশ সুখোই-৩০এমকেআই ও মিগ-২৯ যুদ্ধবিমান কেনার বিষয়েও কথা হবে বলে জানা গেছে। গত বছর, ভারত ও রাশিয়ার মধ্যে একটি পৃথক মউ স্বাক্ষরিত হয়েছিল। যার মাধ্যমে রাশিয়া থেকে ২০০টি কামোভ কেএ-২২৬ হেলিকপ্টার কেনার কথা ভারতের। এছাড়া, রাশিয়া থেকে আর-২৭ এয়ার-টু-এয়ার মিসাইল কেনার জন্য ১৫০০ কোটি টাকার চুক্তি করে ভারতীয় এয়ারফোর্স। ওই মিসাইলগুলি সুখোই-৩০এমকেআই যুদ্ধবিমানে অন্তর্ভুক্ত করা হবে।
মিজোরামে ১২ ঘণ্টা পর ফের ভূমিকম্প, আবারও কাঁপলো বাংলাদেশ
২২,জুন,সোমবার,আন্তর্জাতিক ডেস্ক,নিউজ একাত্তর ডট কম: ১২ ঘণ্টার ব্যবধানে পুনরায় ভারতের মিজোরাম রাজ্যে ভূমিকম্পের ঘটনা ঘটেছে। বাংলাদেশ ও মিয়ানমারেও অনুভূত হয়েছে এর প্রভাব। রিখটার স্কেলে ভূমিকম্পের মাত্রা ছিল ৫.৩। সোমবার (২২ জুন) ভারতের স্থানীয় সময় ভোর ৪টা ১০ মিনিটে (বাংলাদেশ সময় ৪টা ৪০ মিনিট) এ ভূমিকম্প হয় বলে জানিয়েছে দেশটির জাতীয় ভূমিকম্প কেন্দ্র। ভারতীয় সংবাদমাধ্যম ইন্ডিয়া টুডের প্রতিবেদন থেকে এ তথ্য জানা যায়। খবরে বলা হয়, ভূমিকম্পের উপকেন্দ্র ছিল মিজোরামের চম্পাই এলাকা থেকে ২৭ কিলোমিটার দক্ষিণ দক্ষিণ-পশ্চিমে। এর গভীরতা ছিল ভূ-পৃষ্ঠ থেকে ২০ কিলোমিটার। ভারতের মিজোরামে উৎপত্তি হওয়া মাঝারি মাত্রার ভূমিকম্প বাংলাদেশের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলেও অনুভূত হয়েছে। তিন পার্বত্য জেলা এবং চট্টগ্রাম মহানগরী ও এর আশপাশের উপজেলাগুলোতে এই ভূমিকম্প অনুভূত হয়েছে বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে। এদিকে মিজোরামের পার্শ্ববর্তী বাংলাদেশের চট্টগ্রাম ও ঢাকাসহ দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের বেশ কিছু জায়গায় এ ভূ-কম্পন অনুভূত হয়েছে। এর প্রভাব পড়েছে মিয়ানমারেও। সর্বশেষ এ ভূমিকম্পে এখন পর্যন্ত কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি। ইন্ডিয়া টুডে জানায়, এর ১২ ঘণ্টা আগে রোববার (২১ জুন) বিকেল সোয়া ৪টায়ও ৫.১ মাত্রা ভূমিকম্পে কেঁপে ওঠে মিজোরাম। আইজল অঞ্চলের ওই ভূমিকম্পের গভীরতা ছিল ভূ-পৃষ্ঠ থেকে ৩৫ কিলোমিটার। আসাম, মেঘালয়, মণিপুরেও তার প্রভাব পড়ে। এরও আগে গত ১৮ জুন ৫ মাত্রার আরেকটি ভূমিকম্প হয় মিজোরামে। চম্পাই এলাকার ওই ভূমিকম্পের গভীরতা ছিল ভূমি থেকে ৮০ কিলোমিটার।
চীনে মার্কিন কোম্পানির মুরগির মাংস নিষিদ্ধ
২২,জুন,সোমবার,আন্তর্জাতিক ডেস্ক,নিউজ একাত্তর ডট কম: চীনের রাজধানী শহর বেইজিংয়ে কিছুদিন ধরেই নতুন করে করোনাভাইরাসের সংক্রমণ বাড়ছে। প্রাণঘাতী এই ভাইরাসটির সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়া ঠেকাতে একটি মার্কিন প্রতিষ্ঠান থেকে মুরগির মাংস আমদানি নিষিদ্ধ করেছে বেইজিং কর্তৃপক্ষ। জানা যায়, টাইসন ফুডস নামের একটি মার্কিন কোম্পানির হিমায়িত মুরগির মাংস চীন আমদানি করতো। কিন্তু যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থিত তাদের একটি উৎপাদন কারখানায় সম্প্রতি কোভিড-১৯ সংক্রমণ দেখা দেবার পর আমদানি সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে। এ কোম্পানির যেসব পণ্য চীনে ইতিমধ্যেই পৌঁছে গেছে, তা বাজেয়াপ্ত করা হবে বলেও চীনা কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সেই সঙ্গে পেপসির একটি ফ্যাক্টরিও বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে বেইজিংয়ে। এদিকে টানা প্রায় দুই মাস পর বেইজিংয়ে নতুন করে সংক্রমণের পর ২২০ জনেরও বেশি আক্রান্ত শনাক্ত হয়েছে। এর মধ্যে বেইজিং শহরের ২০ লাখ বাসিন্দাকে টেস্ট করিয়েছে কর্তৃপক্ষ। ধারণা করা হচ্ছে, বেইজিংয়ের একটি পাইকারি বাজার থেকে নতুন করে এই সংক্রমণ শুরু হয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে নতুন করে লকডাউন আরোপ করা হয়েছে বেইজিংয়ের অনেক এলাকায়।
বোল্টনের বই আটকাতে পারলেন না ট্রাম্প
২১,জুন,রবিবার,আন্তর্জাতিক ডেস্ক,নিউজ একাত্তর ডট কম: সাবেক জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা জন বোল্টনের লেখা একটি বইয়ের প্রকাশ আটকে দিতে ব্যর্থ হয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। বইটি যাতে প্রকাশ না হয় সেজন্য তিনি আদালতকে অনুরোধ জানিয়েছিলেন। কিন্তু ট্রাম্পের সে অনুরোধ প্রত্যাখ্যান করেছেন একজন বিচারক। তবে আদালত বইটির সমালোচনা করেছেন। বোল্টনের বই - দ্য রুম হোয়্যার ইট হ্যাপেন্ড (যে ঘরে এসব ঘটেছে) প্রকাশ হতে যাচ্ছে ২৩ জুন। বলা হচ্ছে, এই বইয়ে ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিরুদদ্ধে মারাত্মক সব দাবি করেছেন বোল্টন। আমেরিকার বিচার বিভাগের যুক্তি ছিল বইটিতে যেসব বিষয় রয়েছে তা ছাপানোর আগে যথাযথভাবে যাচাই করে দেখা হয়নি। বোল্টন আমেরিকার জাতীয় নিরাপত্তা নিয়ে জুয়া খেলেছেন এবং দেশকে ক্ষতির মুখে ফেলেছেন বলে মন্তব্য করেছেন ওয়াশংটন ডিসিতে ডিস্ট্রিক্ট আদালতের বিচারক রয়েস ল্যামবার্থ। কিন্তু রায় দেওয়ার বেলায় তিনি বলেছেন, প্রকাশনাটিতে নিরাপত্তাজনিত যেসব উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে ইঞ্জাংশনই যে তার যথাযথ প্রতিকার যুক্তরাষ্ট্রের সরকার তা প্রতিষ্ঠা করতে পারেনি। বোল্টনের দাবিগুলোর বেশিরভাগেরই ভিত্তি ব্যক্তিগত কথাবার্তা। ফলে সেগুলো যাচাই করা অসম্ভব। ট্রাম্প প্রশাসন এরইমধ্যে বোল্টনের সেসব দাবি নাকচ করে দিয়েছে। ট্রাম্প বলেছেন, বোল্টনের বই মিথ্যা কাহিন আর আষাঢ়ে গল্পে ভরা। বইয়ে বোল্টন যেসব দাবি করেছেন তার মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো: প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ২০২০ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে যাতে জিততে পারেন তার জন্য চীনা প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সাহায্য চেয়েছিলেন। তিনি লিখেছেন, প্রেসিডেন্ট কৃষকদের ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন এবং নির্বাচনী ফলাফল প্রভাবিত করতে চীনে সয়াবিন এবং গমের বিক্রি বাড়িয়ে দিয়েছেন। ট্রাম্প সে সময় বলেন, শিনজিয়াং এলাকায় মুসলিম ও অন্যান্য সংখ্যালঘুদের বন্দী শিবিরে আটকে রাখার চীনা সিদ্ধান্ত সঠিক ছিল। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ফৌজদারি তদন্তকাজে নাক গলাতে আগ্রহ দেখিয়েছেন যেসব একনায়কদের তার পছন্দ, তাদের ট্রাম্প তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রেচেপ তাইপ এরদোয়ানকে বলেছিলেন, তিনি নিজে এই তদন্তের দেখভাল করবেন। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প জানতেন না ব্রিটেন পরমাণু শক্তিধর দেশ এবং একবার তার ঊর্ধ্বতন একজন সহযোগীকে জিজ্ঞেস করেছিলেন, ফিনল্যান্ড রাশিয়ার অংশ কিনা।

আন্তর্জাতিক পাতার আরো খবর