শনিবার, ফেব্রুয়ারী ২৭, ২০২১
কঙ্গোতে নৌকাডুবে নিহত ৬০, নিখোঁজ কয়েকশ
১৬,ফেব্রুয়ারী,মঙ্গলবার,আন্তর্জাতিক ডেস্ক,নিউজ একাত্তর ডট কম: গণপ্রজাতন্ত্রী কঙ্গোর পশ্চিমাঞ্চলীয় কঙ্গো নদীতে একটি নৌকাডুবে যাওয়ার ঘটনায় এখন পর্যন্ত কমপক্ষে ৬০ জনের মৃত্যু হয়েছে। সরকারি কর্মকর্তাদের দেয়া তথ্য অনুযায়ী, এখন পর্যন্ত আরও কয়েকশ মানুষ নিখোঁজ রয়েছে। খবর প্রেস নিউজ এজেন্সির। মানবিক সহায়তা বিষয়ক মন্ত্রী স্টিভ বিকায়ি বলেন, দুর্ঘটনার সময় ওই নৌকাতে ৭শ জন যাত্রী ছিল। নৌকাটি মাই নমবি প্রদেশের লংগোলা ইকোতি গ্রামের কাছে ডুবে গেছে। এখন পর্যন্ত উদ্ধারকারী দল ৬০ জনের মরদেহ উদ্ধার করেছে। এছাড়া ৩শ জনকে জীবিত উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে। দুর্ঘটনার পর থেকে এখনও বহু মানুষ নিখোঁজ রয়েছে। রাজধানী কিনশাসা থেকে ইকুয়াটর প্রদেশের উদ্দেশে ওই নৌকাটি যাত্রা করেছিল। স্টিভ বিকায়ি বলেন, অতিরিক্ত মালামাল এবং ধারণক্ষমতার বেশি যাত্রী নেয়ার কারণেই ওই নৌকাটি দুর্ঘটনা কবলিত হয়েছে। খনিজ সমৃদ্ধ কঙ্গোতে প্রায়ই নৌকাডুবির ঘটনা ঘটে থাকে। অতিরিক্ত যাত্রী এবং মালপত্র বোঝাইয়ের কারণেই এসব দুর্ঘটনা ঘটছে। এছাড়া নৌকায় করে যাতায়াত করা অধিকাংশ যাত্রীই লাইফ জ্যাকেট পরেন না। ফলে নৌকাডুবে গেলে অনেককেই বাঁচানো সম্ভব হয় না। গত মাসে কিভু লেকে একটি যাত্রীবাহী নৌকাডুবির ঘটনায় কমপক্ষে তিনজনের মৃত্যু হয়। এদের মধ্যে একজন নারী এবং বাকি দু'জন শিশু। এর আগে গত বছরের মে মাসে কিভু লেকে অপর এক নৌকাডুবির ঘটনায় আট বছর বয়সী এক মেয়ে শিশুসহ ১০ জনের মৃত্যু হয়। ২০১০ সালের জুলাই মাসে পশ্চিমাঞ্চলীয় বানদুন্দু প্রদেশে একটি নৌকাডুবির ঘটনায় ১৩৫ জনের বেশি মানুষের মৃত্যু হয়।
আফগান বন্দরের আগুন নিয়ন্ত্রণে, ভস্মীভূত ৫০০ ট্যাংকার
১৫,ফেব্রুয়ারী,সোমবার,আন্তর্জাতিক ডেস্ক,নিউজ একাত্তর ডট কম: ইরান সীমান্তবর্তী আফগানিস্তানের হেরাত প্রদেশের ইসলাম কাল্লা স্থলবন্দরে ভয়াবহ বিস্ফোরণের ফলে সৃষ্ট অগ্নিকাণ্ড প্রায় ৩০ ঘণ্টা পর নিয়ন্ত্রণে এসেছে। তবে হেরাতের প্রাদেশিক কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, আগুন নিয়ন্ত্রণে এলেও এখনো পুরোপুরি নেভানো সম্ভব হয়নি। হেরাতের বণিক সমিতির চেয়ারম্যান ইউনুস কাজিজাদে বলেছেন, ইসলাম কাল্লা স্থলবন্দরের পার্কিংয়ে প্রায় ৫০০ তেল ট্যাংকার ছিল যার সবই আগুনে ভস্মীভূত হয়েছে। এর ফলে এসব ট্যাংকারের মালিক ব্যবসায়ীদের ৪ থেকে ৫ কোটি ডলারের ক্ষতি হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। তিনি এই ভয়াবহ ক্ষতির জন্য আফগানিস্তানের পরিবহন মন্ত্রণালয়ের নয়া নীতিমালাকে দায়ী করেছেন। সম্প্রতি জারি করা এই নীতিমালায় লরি ও ট্যাংকারগুলোকে স্থলবন্দরের কাস্টমস চেকিংয়ের জন্য দুই সপ্তাহ পর্যন্ত পার্কিংয়ে অবস্থান করতে বাধ্য করা হয়েছে। শনিবার দুপুরে ইরানের সীমান্তবর্তী আফগানিস্তানের ইসলাম কাল্লা স্থলবন্দরে একটি গ্যাস ট্যাংকারে শক্তিশালী বিস্ফোরণের ফলে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। আফগান অর্থ মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, অগ্নিকাণ্ডের কারণে তাৎক্ষণিকভাবে দুই দেশের মধ্যে পণ্য আমদানি রপ্তানি যাতে পুরোপুরি বন্ধ হয়ে না যায় সেজন্য এ ব্যাপারে বিকল্প ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
জাপানে ৭ দশমিক ৩ মাত্রার শক্তিশালী ভূমিকম্পের আঘাত
১৪,ফেব্রুয়ারী,রবিবার,আন্তর্জাতিক ডেস্ক,নিউজ একাত্তর ডট কম: ভারতের ভূমিকম্প অনুভুত হওয়ার পরদিনই শক্তিশালী ভূমিকম্পে কেঁপে উঠেছে জাপান। রিখটার স্কেলে এর মাত্রা ছিল ৭ দশমিক ৩। জাপানের পূর্বাঞ্চলীয় উপকূলে শনিবার স্থানীয় সময় রাত ১১টা ৮ মিনিটে (বাংলাদেশ সময় রাত ১০টা ৮ মিনিট) ভূমিকম্পটি আঘাত হানে। ভূমিকম্পটির উৎপত্তিস্থল ছিল উপকূলীয় শহর নামি থেকে ৭৩ দশমিক ৯ কিলোমিটার উত্তর-পূর্বে ভূপৃষ্ঠ থেকে প্রায় ৫৭ কিলোমিটার গভীরে বলে জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা (ইউএসজিএস)। ভূমিকম্পের পর বেশ কয়েক দফায় পরাঘাত অনুভূত হয়েছে। আন্তর্জাতিক সংবাদ মাধ্যমগুলো জানিয়েছে, ভূমিকম্পে অন্তত ৩০ জন আহত হয়েছে ও বিভিন্ন সড়কে ভূমিধস হয়েছে। এএফপি জানায়, ফুকুশিমার স্থানীয় সরকারের এক কর্মকর্তা মিকিহিরো মেগুরো এএফপিকে বলেন, ‘আমরা তথ্য সংগ্রহে দ্রুত কাজ করছি। তারপরও বিস্তারিত জানানোর মতো তথ্য এখন পর্যন্ত আমাদের কাছে নেই। ’ জাপানের সরকারি সম্প্রচারমাধ্যম এনএইচকে জানিয়েছে, ভূমিকম্পটি শক্তিশালী হলেও এতে কোনো সুনামি সতর্কতা জারি করা হয়নি। ক্ষতিগ্রস্তদের সুরক্ষা দিতে উদ্ধার অভিযান শুরু হয়েছে।
তাজিকিস্তানে শক্তিশালী ভূমিকম্প
১৩,ফেব্রুয়ারী,শনিবার,আন্তর্জাতিক ডেস্ক,নিউজ একাত্তর ডট কম: তাজিকিস্তানে শক্তিশালী ভূমিকম্প অনুভূত হয়েছে। শুক্রবার রাত ১০টা ৩৪ মিনিটে ভূমিকম্প আঘাত হানে। টাইস অব ইন্ডিয়া ও এনডিটিভির প্রতিবেদনে এই তথ্য পাওয়া গেছে। রিখটার স্কেলে এর মাত্রা ছিলো ৬ দশমিক ৩। ভূমিকম্পে কেঁপেছে পাঞ্জাব, দিল্লি, জম্মু-কাশ্মীরসহ গোটা উত্তর ভারত। পাকিস্তানের ইসলামাবাদ, লাহোর, পেশোয়ারেও কম্পন অনুভূত হয়েছে। মাটি থেকে এর গভীরতা ছিলো ৯১ দশমিক ৬ কিলোমিটার। উৎপত্তিস্থল তাজিকিস্তান মুরগাব শহর থেকে ৩৫ কিলোমিটার পশ্চিমে। এর আগে প্রাথমিকভাবে এনডিটিভি জানায়, ৬ দশমিক ১ মাত্রার ভূমিকম্পে কেঁপেছে পাঞ্জাবের অমৃতসর। কম্পন অনুভূত হয়েছে রাজধানী দিল্লি থেকেও। ভারতের জাতীয় ভূতাত্ত্বিক কেন্দ্রের তথ্য, অনুযায়ী ভূমিকম্পের কেন্দ্র ছিল পাঞ্জাবের অমৃতসর থেকে ২১ কিলোমিটার দূরে। ভূমিকম্পের পরপরই লোকজন ঘর থেকে বাইরে বেরিয়ে আসে। দিল্লিসহ এর আশপাশের বিভিন্ন এলাকা থেকেও কয়েক সেকেন্ড ধরে কম্পন অনুভূত হয়। একই চিত্র দেখা যায় পঞ্জাব, হরিয়ানা, হিমাচল প্রদেশ, উত্তরাখণ্ড, জম্মু ও কাশ্মীরসহ উত্তর ভারতের বহু রাজ্যে। তবে এখন পর্যন্ত কোনো ক্ষয়ক্ষতি বা হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি। ভূমিকম্প অনুভূত হওয়ার পরপরই দিল্লির মুখ্যমন্ত্রী অরবিন্দ কেজরিওয়াল এক টুইটে বলেন, দিল্লিতে ভূকম্পন অনুভূত হয়েছে। সবার নিরাপত্তা প্রার্থনা করছি।
যুক্তরাষ্ট্রে একসঙ্গে ১৩০টি গাড়ির ভয়াবহ সংঘর্ষ, নিহত অন্তত ৬
১২,ফেব্রুয়ারী,শুক্রবার,আন্তর্জাতিক ডেস্ক,নিউজ একাত্তর ডট কম: যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে একই সঙ্গে ১৩০টি গাড়ি দুর্ঘটনার শিকার হয়েছে। এতে নিহত হয়েছেন অন্তত ৬ জন। ভয়াবহ এ দুর্ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও অনেকে। স্থানীয় সময় বৃহস্পতিবার টেক্সাস অঙ্গরাজ্যের ফোর্টওর্থ এলাকার একটি মহাসড়কে প্রথমে ফেডএক্স-এর দুটি লরি উল্টে যায়। এরপর পেছন থেকে দুমড়ে মুচড়ে যায় একের পর এক গাড়ি। পরে রাস্তার পাশে বহু গাড়ি উল্টে থাকতে দেখা যায়। খবর পেয়ে হতাহতের উদ্ধারে অভিযান শুরু করে উদ্ধারকারী দল। বৈরি আবহাওয়ার কারণে এ দুর্ঘটনা ঘটে বলে ধারণা স্থানীয় কর্তৃপক্ষের। ফোর্ট ওয়ার্থের অগ্নি নির্বাপন দলের মুখপাত্র মাইক ড্রাইভডাহল একে তুষারপাতজনিত দুর্ঘটনা হিসেবে উল্লেখ করেছেন। তিনি বলেন, এটি আমাদের শহরে একটি বড় বিপর্যয়। কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ৩৬ জনকে প্রাথমিকভাবে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছিল। পরে আরও অনেকে চিকিৎসা নিয়েছেন। অনেক মানুষ গাড়িতে আটকা পড়েছিল এবং দমকল কর্মীরা তাদের উদ্ধার করতে হাইড্রোলিক রেসকিউ যন্ত্রপাতি ব্যবহার করেছে।
লাদাখ সীমান্ত থেকে সেনা সরাচ্ছে ভারত-চীন
১১,ফেব্রুয়ারী,বৃহস্পতিবার,আন্তর্জাতিক ডেস্ক,নিউজ একাত্তর ডট কম: পূর্ব লাদাখ সীমান্তের বিভিন্ন এলাকা থেকে ভারত ও চীন তাদের সৈন্য সরিয়ে নিতে শুরু করেছে। এক আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে বৃহস্পতিবার (১১ ফেব্রুয়ারি) থেকে সেনা প্রত্যাহার শুরুর কথা জানিয়েছে চীন। তবে দিল্লি বিষয়টি নিয়ে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক বিবৃতি দেয়নি। খবর হিন্দুস্তান টাইমস। বুধবার (১০ ফেব্রুয়ারি) রাতে ভারতের পক্ষ থেকে জানানো হয়, প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিংহ আজ সকাল সাড়ে ১০টায় রাজ্যসভায় এবং বিকেল সাড়ে পাঁচটায় লোকসভায় পূর্ব লাদাখ নিয়ে স্বতঃপ্রণোদিত বিবৃতি দেবেন। গত বছরের এপ্রিল-মে মাস থেকে পূর্ব লাদাখ সীমান্তে এই দুই দেশের একাধিক সংঘর্ষ হয়। এর ফলে উভয় দেশের কয়েকজনের প্রাণহানিও ঘটে। সেই পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে গত ২৪ জানুয়ারি চীন সীমান্তের মলডোতে নবম দ্বিপাক্ষিক বৈঠকে বসেছিলেন দুই দেশের সেনাকর্মকর্তারা। তার পরে নয়াদিল্লি বিবৃতি দিয়ে জানিয়েছিল, দুইপক্ষই দ্রুত সেনা প্রত্যাহার করার ব্যাপারে সম্মত হয়েছে। ওই বৈঠকের প্রায় আড়াই সপ্তাহের মাথায় চীনের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র কর্নেল উ চিয়াং বুধবার বিবৃতি দিয়ে জানান, লাদাখের প্যাংগং লেকের দক্ষিণ ও উত্তর তীরে চীন-ভারতের যে সেনা মোতায়েন রয়েছে, তারা আজ থেকে সুশৃঙ্খলভাবে ও সমতা বজায় রেখে পিছিয়ে যেতে শুরু করেছে। ভারত ও চীনের মধ্যে নবম পর্যায়ের যে সেনা বৈঠক হয় তার ভিত্তিতেই ওই পদক্ষেপ নিয়েছে উভয়পক্ষ। অন্যদিকে, বিষয়টি নিয়ে সরাসরি কোনো কথা বলেননি ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। বুধবার লোকসভায় চীন ভারতের জমি দখল করেছে কি না? করলে কোন এলাকায় কতটা জমি দখল করেছে? সেনা প্রত্যাহার হলে কবে থেকে হবে- বিরোধীদের এমন সব প্রশ্ন এড়িয়ে প্রধানমন্ত্রী নিজের বক্তব্যের শেষে ভারতীয় সেনাদের গুণগান করে বলেন, ‘আমাদের দেশের সেনারা দেশকে খাটো হতে দেবেন না। দেশের সেনার বীরত্ব দেখে গর্ব করা উচিত। বিরোধীদের অভিযোগ, এভাবে লাদাখের প্রকৃত পরিস্থিতি সম্পর্কে সংসদে জানানোর বিষয়টি এড়িয়ে গেলেন প্রধানমন্ত্রী।
চীনের গবেষণাগার থেকে করোনা ছড়ায়নি : বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা
১০,ফেব্রুয়ারী,বুধবার,আন্তর্জাতিক ডেস্ক,নিউজ একাত্তর ডট কম: করোনাভাইরাসের উৎস সন্ধানে চীনের উহানে অবস্থানকারী বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) বিশেষজ্ঞ দল গবেষণাগার থেকে ভাইরাস ছড়িয়ে পড়ার সম্ভাবনা নাকচ করে দিয়েছে। এ প্রসঙ্গে বিশেষজ্ঞ দলের প্রধান পিটার বেন এমবারেক বলেন, উহানের কোনো গবেষণাগার থেকে ভাইরাস ছড়িয়েছে এটা খুবই অসম্ভব। ভাইরাসের উৎস চিহ্নিত করতে আরও অনুসন্ধানের প্রয়োজন রয়েছে বলে জানান তিনি। আরেক বিশেষজ্ঞ জানান, অনুসন্ধানের নজর এখন দক্ষিণ পূর্ব এশিয়ার দিকে যেতে পারে। ডব্লিউএইচওর বিশেষজ্ঞ দলটি এখন তাদের মিশনের শেষের দিকে রয়েছে। এক সংবাদ সম্মেলনে ড. এমবারেক বলেন, অনুসন্ধানে নতুন তথ্য বের হয়েছে কিন্তু প্রাদুর্ভাবের চিত্রে কোনো নাটকীয় পরিবর্তন আসেনি। তিনি বলেন, করোনাভাইরাসের উৎস চিহ্নিত করতে অনুসন্ধানের নজর ছিল বাদুড়ের প্রাকৃতিক আবাসস্থলের দিকে। কিন্তু এটা (উৎস) উহানেই হয়েছে এমন সম্ভাবনা কম। এমবারেক বলেন, প্রাণির সূত্র বের করার কাজ এখনো চলছে কিন্তু একটি মধ্যবর্তী প্রজাতি থেকে তা মানুষের শরীরে এসেছে এমন সম্ভাবনাই সবচেয়ে বেশি। বিশেষজ্ঞরা আরও জানান, ডিসেম্বরে প্রথম করোনা শনাক্ত হওয়ার আগে থেকেই উহানে ভাইরাস ছড়াচ্ছিল এমন কোনো প্রমাণ তারা পাননি। চীনের স্বাস্থ্য কমিশনের বিশেষজ্ঞ লিয়াং ওয়ানিয়ান বলেন, উহানে শনাক্ত হওয়ার আগেই হয়তো করোনাভাইরাস অন্য অঞ্চলে ছিল। কোল্ড চেইন- সংক্রমণ বা হিমায়িত খাদ্য পরিবহণ ও বিক্রির মাধ্যমে ভাইরাস ছড়িয়েছে কিনা তা জানতে আরও তদন্তের আহ্বান জানিয়েছে বিশেষজ্ঞ দলটি। বিশেষজ্ঞ দলের আরেক সদস্য পিটার ড্যাসজ্যাক বলেন, ভাইরাসের উৎস খুঁজতে অনুসন্ধান এখন পূর্ব এশিয়ার দিকে স্থানান্তরিত হতে পারে। তিনি বলেন, আমরা চীনে অনেক কাজ করেছি এবং আপনি যদি তা চিহ্নিত করেন তবে তা সীমান্তের দিকে ইঙ্গিত করতে শুরু করে। এবং আমরা জানি যে দক্ষিণ পূর্ব এশিয়ার পুরো অঞ্চলের মধ্যে সীমান্তের অপর দিকটিতে খুব কম নজরদারি রয়েছে। চীন অনেক বড় একটি জায়গা এবং দক্ষিণ পূর্ব এশিয়াও অনেক বড়। হুয়ানানের সামুদ্রিক খাদ্যের সাপ্লাই চেইন অনেক বড় ছিল, এগুলো অন্য দেশ থেকে আসতো, এগুলো চীনের অনেক অংশ থেকেও আসতো। তাই এর সূত্র অনুসরণ করতে কিছু কাজ করতে হবে, বলেন পিটার। এখন মূল নজর এই সাপ্লাই চেইনগুলোর ওপরেই থাকবে বলে জানান তিনি। উল্লেখ্য, বেইজিং এর সঙ্গে বেশ কয়েক মাসের আলোচনার পর গত জানুয়ারিতে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মিশন শুরু হয়। মিশনে বিশেষজ্ঞদের পরিদর্শন চীনা কর্তৃপক্ষের ঘনিষ্ঠ পর্যবেক্ষণের আওতায় ছিল।
অঝোরে কাঁদলেন নরেন্দ্র মোদি
৯,ফেব্রুয়ারী,মঙ্গলবার,আন্তর্জাতিক ডেস্ক,নিউজ একাত্তর ডট কম: ভারতীয় সংসদে দাঁড়িয়ে প্রবীণ কংগ্রেস নেতা গোলাম নবী আজাদের বিদায় উপলক্ষে বক্তব্য রাখতে গিয়ে অঝোরে কাঁদলেন দেশটির প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। খবর এনডিটিভির। মঙ্গলবার রাজ্যসভায় সামনাসামনি বসা বিরোধী নেতা আজাদকে প্রশংসার বন্যায় ভাসিয়ে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন নরেন্দ্র মোদি। দুজনে গুজরাট এবং জম্মু-কাশ্মীরের মুখ্যমন্ত্রী থাকাকালীন কিছু ঘটনার স্মৃতিচারণও করেন তিনি। ভারতীয় প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমি গোলাম নবী আজাদকে বহু বছর ধরে চিনি। আমরা একসঙ্গে মুখ্যমন্ত্রী ছিলাম। আমি মুখ্যমন্ত্রী হওয়ার আগে থেকেই আমরা মতবিনিময় করেছি, তখন আজাদ সাহেব রাজনীতিতে খুব বেশি সক্রিয় ছিলেন। তার একটা আসক্তি রয়েছে, যা অনেকেই জানেন না- বাগান করা। বক্তব্যে ২০০৭ সালে জম্মু-কাশ্মীরে গুজরাটের একদল পর্যটকের ওপর সন্ত্রাসী হামলার ঘটনাও উল্লেখ করেন নরেন্দ্র মোদি। তিনি জানান, ওই ঘটনা জানাতে প্রথমেই তার কাছে ফোন করেছিলেন আজাদ। সেসময় কাশ্মীরি মুখ্যমন্ত্রীর চোখের পানি থামছিল না বলেও জানান এ বিজেপি নেতা। মোদি বলেন, কাশ্মীরে সন্ত্রাসী হামলার কারণে গুজরাটের মানুষজন আটকে গেলে জনাব আজাদ এবং প্রণব মুখার্জির প্রচেষ্টার কথা আমি কখনো ভুলব না। ভারতীয় প্রধানমন্ত্রী বলেন, ওই রাতে গোলাম নবী আমাকে ফোন করেছিলেন। তাকে এমন চিন্তিত মনে হচ্ছিল, যেমনটা মানুষ নিজের পরিবারের জন্য হয়। তিনি ওই ধরনের অনুভূতি দেখিয়েছিলেন। এটা বলতে গিয়েই অঝোরে কেঁদে ফেলেন নরেন্দ্র মোদি। কান্না থামাতে কিছুক্ষণের জন্য থামতে হয় তাকে। এসময় ডেস্ক চাপড়ে মোদিকে সাধুবাদ জানান সংসদের অন্য নেতারা। তিনি বলেন, ক্ষমতা আসে আর যায়। তবে সেটি কীভাবে সামলাতে হয়.. এটুকু বলে আবারো থামেন মোদি এবং গোলাম নবী আজাদকে স্যালুট করে সম্মান জানান। আগামী ১৫ ফেব্রুয়ারি রাজ্যসভায় মেয়াদ শেষ হচ্ছে বর্ষীয়ান নেতা আজাদের। তার উদ্দেশে ভারতীয় প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমি আপনাকে অবসর নিতে দেব না। আমি আপনার উপদেশ নেওয়া চালিয়ে যাব। আপনার জন্য আমার দরজা সবসময় খোলা।
মিয়ানমার সেনাপ্রধানের প্রতিশ্রুতি
৯,ফেব্রুয়ারী,মঙ্গলবার,আন্তর্জাতিক ডেস্ক,নিউজ একাত্তর ডট কম: মিয়ানমারে বিক্ষোভ বন্ধের আহ্বান জানিয়ে হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেছে দেশটির সেনাবাহিনী। সোমবার বিক্ষোভকারীদের সতর্ক করে সেনাবাহিনী বলেছে, যারা আইন ভঙ্গ করে বিক্ষোভ করছে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তবে শিগগিরই নতুন নির্বাচনের আয়োজন করে বিজয়ী দলের কাছে ক্ষমতা হস্তান্তর করার প্রতিশ্রুতিও দিয়েছেন দেশটির বর্তমান শাসক ও সেনাপ্রধান মিন অং হ্লাইং। সোমবার (০৮ ফেব্রুয়ারি) প্রথমবারের মতো জাতির উদ্দেশে ভাষণে তিনি এ প্রতিশ্রুতি দেন। একই সাথে গত বছরের নভেম্বরের অনুষ্ঠিত জাতীয় নির্বাচন নিয়ে জালিয়াতির অভিযোগ তোলেন তিনি। প্রসঙ্গত, সামরিক শাসনের বিরুদ্ধে দেশটির সাধারণ মানুষ যখন ক্রমেই কঠোর আন্দোলনের দিকে যাচ্ছে, তখনই এমন ঘোষণা দিলেন মিন অং। ভাষণে মিন অং হ্লাইং বলেন, আগের সময়ের চেয়ে এবারের সামরিক সরকার একেবারেই আলাদা। পূর্বের সামরিক শাসনের তুলনায় এই সামরিক সরকার সত্য ও শৃঙ্খলাবদ্ধ গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করবে। উল্লেখ্য, গত ১ ফেব্রুয়ারি ভোরে মিয়ানমারে সেনা অভ্যুত্থান হয়। সেনাপ্রধান মিন অং হ্লাইংয়ের নেতৃত্বাধীন সেনাবাহিনী দেশটির নির্বাচিত স্টেট কাউন্সিলর অং সান সু চির সরকারকে উৎখাত করে ক্ষমতা দখল করে। সামরিক বাহিনী দেশটিতে এক বছরের জন্য জরুরি অবস্থা জারি করেছে। একই সঙ্গে তারা দেশটির সু চি, প্রেসিডেন্ট উইন মিন্টসহ রাজনীতিক নেতাদের আটক করেছে। সেনা অভ্যুত্থানের পর থেকেই মিয়ানমারে বিক্ষোভ দানা বাধে। বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়া ঠেকাতে দেশটির সেনাবাহিনী ফেসবুক ও টুইটারের পর ইন্টারনেট পরিষেবাও বন্ধ করে দেয়। কিন্তু তা সত্ত্বেও দেশটির মানুষ সেনাশাসনের বিরুদ্ধে রাজপথে নেমে আসেন। এরই ধারাবাহিকতায় দেশটির সবচেয়ে বড় শহর ইয়াঙ্গুনে সোমবার ১০ হাজারের বেশি মানুষ জান্তা সরকারবিরোধী বিক্ষোভ বের করেন। গণআন্দোলনের তৃতীয় দিনে নিরাপত্তা বাহিনীর সঙ্গে আন্দোলনকারীদের সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। পরিস্থিতি ধীরে ধীরে জটিলের দিকে মোড় নিচ্ছে। সু চির মুক্তি এবং সামরিক সরকার ক্ষমতা না ছাড়লে সামনে বড় ধরনের কর্মসূচির দিকে যাচ্ছে মিয়ানমারের নানা শ্রেণি পেশার মানুষ। পরিস্থিতিতে নিয়ন্ত্রণে সামরিক সরকারের অধীনে নতুন করে নির্বাচনের প্রতিশ্রুতি এলো।