সোমবার, এপ্রিল ১২, ২০২১
নতুন ধরনের করোনার উৎস দক্ষিণ আফ্রিকায়
২৪ডিসেম্বর,বৃহস্পতিবার,আন্তর্জাতিক ডেস্ক,নিউজ একাত্তর ডট কম: যুক্তরাজ্যে শনাক্ত হওয়া নতুন ধরনের করোনাভাইরাসের উৎপত্তিস্থল দক্ষিণ আফ্রিকায়। দেশটির স্বাস্থ্যমন্ত্রী ম্যাট হ্যানকক এ তথ্য জানিয়েছেন। তিনি বলেছেন, যুক্তরাজ্যে নতুন বৈশিষ্ট্যের করোনাভাইরাসের দুজন আক্রান্ত হয়েছেন। বিবিসি বাংলার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, লন্ডন ও উত্তর-পশ্চিম ইংল্যান্ডে আক্রান্ত ওই দুই ব্যক্তি সম্প্রতি দক্ষিণ আফ্রিকা সফর করে এসেছেন, এমন ব্যক্তিদের সংস্পর্শে এসেছিলেন। এ ঘটনার পর দক্ষিণ আফ্রিকার সাথে ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে যুক্তরাজ্য। এছাড়া গত ১৪ দিনে যারা দক্ষিণ আফ্রিকায় ভ্রমণ করেছেন, কিংবা তাদের সংস্পর্শে এসেছেন, তাদেরকে দ্রুত কোয়ারেন্টাইনে যাওয়ার নির্দেশ দেয়া হয়েছে। এরইমধ্যে ভাইরাসটি নিয়ে ব্যাপক উদ্বেগ তৈরি হয়েছে দক্ষিণ আফ্রিকায়। দেশটির স্বাস্থ্যমন্ত্রী জোয়াইলি ম্যাখিজে সতর্ক করে বলেছেন, ‘আগে যেসব তরুণ সুস্বাস্থ্যের অধিকারী ছিলেন, তারাও এখন ভীষণ অসুস্থ হয়ে পড়ছেন। তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করে বলেন, এইডস মহামারির শুরুর দিকে যে অবস্থা পার করেছি, সেই একই অবস্থা আবার পার করতে পারবো না। দক্ষিণ আফ্রিকার বিজ্ঞানীরা বলছেন, করোনাভাইরাসের এই বৈশিষ্ট্য বা ভ্যারিয়ান্টটি দ্রুত ছড়ায় এবং দেশটির অনেক এলাকায় এর সংক্রমণও বেশি দেখা যাচ্ছে। এটা নিয়ে বিশ্লেষণ চলছে। তবে এখন পর্যন্ত যে তথ্য পাওয়া গেছে তাতে দেখা যাচ্ছে, এটি অতি দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। করোনাভাইরাসের নতুন এই ধরনটির সাথে এর আগে যুক্তরাজ্যে শনাক্ত হওয়া নতুন বৈশিষ্ট্যের আরেকটি ভাইরাসের কিছুটা মিল রয়েছে। যদিও এ ভাইরাস দুটি আলাদাভাবে বিবর্তিত হয়েছে। দুটি ভাইরাসেরই একটি নির্দিষ্ট অংশে এন ফাইভ জিরো ওয়ান ওয়াই (N501Y) নামে একটি পরিবর্তন হয়েছে। ওই অংশটি দিয়ে ভাইরাসগুলো মানবদেহের কোষকে আক্রান্ত করে। লন্ডনের ইম্পেরিয়াল কলেজের অধ্যাপক নিল ফার্গুসন বলেন, আমার মনে হয় এই মুহূর্তে আমাদের সবচেয়ে বেশি যে ভাইরাসটি নিয়ে উদ্বেগ থাকা উচিত সেটি হচ্ছে, দক্ষিণ আফ্রিকার ভাইরাসটি। এই ভাইরাসটি বিস্ফোরকের মতো সংক্রমণের বিস্ময়কর রিপোর্ট রয়েছে। আর এর সংক্রমণের সংখ্যাও অধিক হারে বাড়তে পারে। ডাউনিং স্ট্রিটে এক সংবাদ সম্মেলনে যুক্তরাজ্যের স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, করোনাভাইরাসের নতুন ধরনটি খুবই উদ্বেগজনক। যাদের কোয়ারেন্টােইনে যাওয়ার নির্দেশ দেয়া হয়েছে, তাদের অন্য যেকোনো ব্যক্তির সাথে সংস্পর্শ সম্পূর্ণ এড়িয়ে চলা উচিত। ওই সংবাদ সম্মেলনে তিনি ঘোষণা করেন, ভাইরাসটি নিয়ন্ত্রণে আনার পদক্ষেপ হিসেবে লাখ লাখ মানুষকে ক্রিসমাসের (বড় দিন) পরের দিন বা বক্সিং ডে থেকেই চতুর্থ পর্যায় বা সর্বোচ্চ পর্যায়ের বিধি-নিষেধের আওতায় আনা হবে। ইংল্যান্ডের জনস্বাস্থ্য বিভাগের ডা. সুসান হপকিন্স বলেন, মনে হচ্ছে দুটি ভাইরাসই তারা অত্যন্ত সংক্রমণশীল। তারা এখনো দক্ষিণ আফ্রিকার থেকে আসা ভাইরাসটির ধরন সম্পর্কে জানার চেষ্টা করছেন। ভ্রমণে বিধি-নিষেধ আরোপের মাধ্যমে করোনার নতুন ধরন ছড়িয়ে পড়া প্রতিরোধ সম্ভব বলে জানান তিনি। ওয়ারউইক মেডিকেল স্কুলের অধ্যাপক লরেন্স ইয়াং বলেন, সংক্রমণ ছড়ানো ঠেকাতে যে বিধি-নিষেধ (হাত, মুখ, অন্যান্য স্থান বিষয়ক) রয়েছে, তা করেনার নতুন ধরন ছড়িয়ে পড়াও রোধ করবে। তাই দেশজুড়ে বিধি-নিষেধ আরও কঠোর করা অনিবার্য হয়ে পড়েছে। করোনার নতুন ধরন নিয়ে দক্ষিণ আফ্রিকা কী ব্যবস্থা নিয়েছে সে ব্যাপারে বিবিসি নিউজের ফারুক চোথিয়া ব্যাখ্যা করে বলেন, উৎসবের মৌসুমেও সরকার বিধি-নিষেধ কঠোর করেছে। এর মধ্যে ওয়েস্টার্ন কেপ প্রদেশের বিখ্যাত গার্ডেন রুট সৈকত বন্ধ করে দেয়া হয়েছে। তবে এই সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করেছে দেশটির ডেমোক্রেটিক অ্যালায়েন্স নামে একটি বিরোধীদল এবং কয়েকটি লবি গ্রুপ। তারা আদালতে এই সিদ্ধান্তকে চ্যালেঞ্জ করে দাবি করেছেন। তারা বলেছেন, সৈকত বন্ধ করে দেয়া হলে স্থানীয় ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের ওপর এর মারাত্মক প্রভাব পড়বে। কিন্তু বিচারকরা সরকারি সিদ্ধান্তই বহাল রেখেছেন এবং বলেছেন, সরকারের জনস্বাস্থ্য রক্ষার দায়িত্ব রয়েছে। দক্ষিণ আফ্রিকার ওয়েস্টার্ন কেপের প্রিমিয়ার অ্যালান উইন্ডি বলেন, প্রদেশের হাসপাতালগুলো এরই মধ্যে মুশকিলে পড়েছে। করোনাভাইরাসের প্রথম ঢেউয়ের তুলনায় প্রদেশটিতে বর্তমানে বেশি কোভিড-১৯ রোগী রয়েছে। এখন পর্যন্ত দক্ষিণ আফ্রিকায় মোট ৯৫ লাখ মানুষ করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছে। দেশটিতে এ ভাইরাসে ২৫ হাজারের বেশি মানুষ মারা গেছে। এর আগে যুক্তরাজ্যে করোনাভাইরাসের নতুন ধরন (রূপান্তরিত রূপ) শনাক্তের জেরে বিশ্বের অনেক দেশের সঙ্গে দেশটির যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন করা হয়েছে। তবে এই আতঙ্কের মধ্যেই সীমান্ত খুলে দেয়ার ঘোষণা দিয়েছে ফ্রান্স। ফলে দুই দেশের মধ্যে আবারও শুরু হচ্ছে রেল, আকাশ ও সমুদ্রপথে চলাচল।
ঝলকেই নজর কাড়ল অযোধ্যা মসজিদ
২০ডিসেম্বর,রবিবার,আন্তর্জাতিক ডেস্ক,নিউজ একাত্তর ডট কম: সম্প্রতি সুপ্রিম কোর্টের রায় নিয়ে বিতর্কের মধ্যেই নবরূপে সেজে উঠছে ভারতের রাম জন্মভূমি খ্যাত অযোধ্যা। করোনা মাথায় নিয়ে ধুমধাম করে রামমন্দিরের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন হয়ে গেছে আগেই। এবার প্রস্তাবিত মসজিদের ব্লু-প্রিন্ট ও সামনে এলো। তাতে মসজিদের পাশাপাশি প্রস্তাবিত মাল্টি স্পেশ্যালিটি হাসপাতালের নকশাও তুলে ধরা হয়েছে। আর এক ঝলকেই তা নজর কেড়েছে সকলের। গত বছর অযোধ্যা মামলার রায় শোনায় সুপ্রিম কোর্ট। তাতে অযোধ্যার ওই বিতর্কিত জায়গায় রামমন্দির নির্মাণে সায় দেওয়ার পাশাপাশি মসজিদ নির্মাণের জন্য অন্যত্র পাঁচ একর জমির বন্দোবস্ত করতে নির্দেশ দেওয়া হয়। নির্দেশ মতো কাজও এগোতে শুরু করে। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর হাতে মহাসমারোহে মন্দিরের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন হয়ে গেলেও, মসজিদ নির্মাণ নিয়ে তেমন সাড়াশব্দ শোনা যায়নি এত দিন। তবে শনিবার সেই নীরবতা ভাঙে সুন্নি ওয়াকফ বোর্ড দ্বারা গঠিত ইন্দো-ইসলামিক কালচারাল ফাউন্ডেশন (আইআইসিএফ)। অযোধ্যায় মসজিদ তৈরির দায়িত্বে থাকা ওই সংগঠনই এ দিন মসজিদ চত্বরের নকশা প্রকাশ করে। তাতে দেখা যায়- ঐতিহ্য মেনে মসজিদের মাথায় বিশালাকার গম্বুজ থাকলেও, তা আদ্যোপান্ত পাশ্চাত্য স্থাপত্যের আদলে তৈরি করা হচ্ছে। মসজিদের মূল ভবনটিও আধুনিক স্থাপত্যেরই নিদর্শন। মসজিদ চত্বরে থাকছে পার্কিংয়ের ব্যবস্থাও। আর মসজিদ লাগোয়া প্রস্তাবিত হাসপাতালটির যে নকশা তুলে ধরা হয়েছে- শহরের ঝাঁ-চকচকে বিল্ডিংগুলো তার কাছে হার মানতে বাধ্য। মসজিদ প্রকল্পের দায়িত্বে থাকা মুখ্য আর্কিটেক্ট এসএম আখতার বলেন, হাসপাতালে ৩০০ বেডের ব্যবস্থা থাকবে। বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের আনা হবে। মসজিদে একসঙ্গে কয়েকশ মানুষ নমাজ পড়তে পারবেন। গোটা মসজিদটি হবে সৌরশক্তিচালিত। মসজিদের ভিতরের তাপমাত্রা বাড়ানো-কমানোর ব্যবস্থা থাকবে। এ ছাড়াও মসজিদের জন্য বরাদ্দকৃত পাঁচ একর জমিতে কমিউনিটি কিচেন এবং গ্রন্থাগার নির্মাণ করা হবে বলে জানান তিনি। দুঃস্থ মানুষদের সেখানে দু’বেলা খাওয়ার ব্যবস্থাও থাকবে। আগামী বছরের ২৬ জানুয়ারি প্রস্তাবিত মসজিদের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন হবে বলে জানিয়েছেন আখতার। তিনি জানান, সাত দশক আগে ওই দিন দেশের সংবিধান কার্যকর হয়েছিল। তাই ওই দিনটিকেই মসজিদের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপনের জন্য বেছে নেওয়া হয়েছে। হাসপাতাল তৈরির কাজ শুরু হবে দ্বিতীয় পর্যায়ে। সূত্র- আনন্দবাজার।
যুক্তরাষ্ট্রে ফাইজারের পর মডার্নার টিকা অনুমোদন
১৯ডিসেম্বর,শনিবার,আন্তর্জাতিক ডেস্ক,নিউজ একাত্তর ডট কম: ফাইজারের পর কোভিড-এর দ্বিতীয় ভ্যাকসিন মডার্নার অনুমোদন মিলেছে যুক্তরাষ্ট্রে। স্থানীয় সময় শুক্রবার (১৮ ডিসেম্বর) মার্কিন খাদ্য ও ওষুধ প্রশাসন- এফডিএ যুক্তরাষ্ট্রে জরুরি ভিত্তিতে এ ভ্যাকসিন ব্যবহারের অনুমোদন দেয়। বিষয়টি নিশ্চিত করে এক টুইট বার্তায় স্বাগত জানিয়েছে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে দ্রুত মডার্নার টিকা বিতরণ শুরুর হওয়ার কথাও জানান তিনি। এর আগে বৃহস্পতিবার মডার্নার টিকা আমেরিকায় বিশেষভাবে ছাড়পত্র পেতে মার্কিন বিশেষজ্ঞ প্যানেল সুপারিশ করে। বিশেষজ্ঞদের সুপারিশের ভিত্তিতেই খাদ্য ও ওষুধ প্রশাসন একদিনের ব্যবধানেই টিকাটি জরুরি ব্যবহারের জন্য অনুমোদন দিল। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দাবি,মডার্নার টিকা ১৮ বছরের উপরের বয়সীদের জন্য ঝুঁকি নেই। কোভিড প্রতিরোধে এই টিকাটি এখন পর্যন্ত ৯৪ শতাংশ কার্যকরের প্রমাণ পাওয়া গেছে। মার্কিন প্রশাসন বলছে, মডার্নার প্রায় ৬ কোটি ডোজ চলতি সপ্তাহের মধ্যেই যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন রাজ্যগুলোতে পাঠানোর প্রস্তুতি চলছে। মডার্না এবং এনআইএডি যৌথভাবে এ ভ্যাকসিন উৎপাদনের জন্য মার্কিন সরকারের আড়াই বিলিয়ন ডলারের তহবিল সহযোগিতা পায়। মার্কিন প্রশাসন মডার্না ভ্যাকসিনের ২০০ মিলিয়ন ডোজ আগাম কিনে ফেলেছে। আরও ৩ কোটি ডোজ কেনার কথা রয়েছে মার্কিন ফেডারেল সরকারের। যুক্তরাষ্ট্র এ পর্যন্ত ৩ লাখ ১১ হাজারের বেশি মানুষ করোনায় মারা গেছেন। আক্রান্তের সংখ্যা ছাড়িয়েছে ১ কোটি ৭২ লাখ। সম্প্রতি শীত জেঁকে বসায় করোনা আক্রান্তের সংখ্যাও পাল্লা দিয়ে বাড়ছে। দেশটিতে গড়ে দৈনিক তিন হাজারের বেশি মানুষের মৃত্যুর খবর পাওয়া যাচ্ছে। এমন পরিস্থিতি সামলাতেই ফাইজারের পর মডার্নার টিকা অনুমোদন জরুরিভিত্তিতে ছাড়পত্র দেয়া হয়েছে। গুরুতর রোগী, স্বাস্থ্যকর্মী এবং প্রবীণ নাগরিকরা টিকা নেয়ার ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার পাবেন।
যুক্তরাষ্ট্রে দ্রুত অনুমোদনের জন্য মডার্না ভ্যাকসিন প্রস্তুত
১৮ডিসেম্বর,শুক্রবার,আন্তর্জাতিক ডেস্ক,নিউজ একাত্তর ডট কম: যুক্তরাষ্ট্রে দ্রুত অনুমোদনের জন্য বৃহস্পতিবার মডার্নার ভ্যাকসিন প্রস্তুত করা হয়েছে। এদিকে বিশ্বব্যাপী কোভিড-১৯ রোগে মৃত্যু সংখ্যা বেড়েই চলেছে। ইউরোপ হচ্ছে প্রথম অঞ্চল, যেখানে করোনাভাইরাসে মৃতের সংখ্যা ৫ লাখ ছাড়িয়ে গেছে এবং ব্রাজিলে ভাইরাসের ছোবলে গত ২৪ ঘণ্টায় ১ হাজারের বেশি মানুষ প্রাণ হারিয়েছে। খবর - এএফপির। মার্কিন বিশেষজ্ঞ প্যানেলের জরুরি ভিত্তিতে ব্যবহারের অনুমোদন দেয়ার পর পশ্চিমা কোন দেশে মডার্না অনুমোদন পাওয়া দ্বিতীয় ভ্যাকসিন হতে যাচ্ছে বলে এখন আশা করা হচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্রের ফুড অ্যান্ড ড্রাগ অ্যাডমিনিস্ট্রেশন দ্রুত এ ভ্যাকসিন ব্যবহারের অনুমোদন দিতে যাচ্ছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এদিকে ফরাসি প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল মাক্রোন হলেন করোনাভাইরাসে আক্রান্ত সর্বশেষ জাতীয় নেতা। এছাড়া ইউরোপের আরো অনেক রাজনীতিবিদ বাধ্যতামূলক কোয়ারেন্টাইনে রয়েছেন। শীতকালে করোনাভাইরাসের সংক্রমণ অনেক বেড়ে যাওয়ায় ইউরোপ তা মোকাবেলায় লড়াই করছে। অঞ্চলটি ফের এ মহামারি সংক্রমণের কেন্দ্রে পরিণত হয়েছে। এ অঞ্চলে জার্মানির মতো আরো অনেক দেশে বর্তমানে মার্চ ও এপ্রিলে ছড়িয়ে পড়া করোনাভাইরাসের প্রথম ঢেউয়ের তুলনায় আরো অনেক তীব্রভাবে এ ভাইরাসের সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়তে দেখা যাচ্ছে। এদিকে ব্রিটেন ও যুক্তরাষ্ট্র ফাইজার ও বায়োএনটেকের তৈরি করা ভ্যাকসিন ব্যবহারে জোরালো পদক্ষেপ গ্রহণ শুরু করার পর কার্যকর ভ্যাকসিন অনেুমোদনের ব্যাপারে ইউরোপীয় ইউনিয়ন ব্যাপক চাপের মুখে রয়েছে। ইউরোপীয় ব্লক এ বছর শেষ হওয়ার আগেই ফাইজারের ভ্যাকসিন দেয়া শুরু করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। ব্রাজিলে গত ২৪ ঘণ্টায় করোনাভাইরাসে নতুন করে আরো ১ হাজার ৯২ জন প্রাণ হারিয়েছে। এনিয়ে দেশটিতে মৃতের সংখ্যা বেড়ে প্রায় ১ লাখ ৮৫ হাজারে দাঁড়ালো। এদিক থেকে কেবলমাত্র যুক্তরাষ্ট্র ব্রাজিলের আগে রয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রে করোনায় মৃত্যুর নতুন রেকর্ড
১৭ডিসেম্বর,বৃহস্পতিবার,আন্তর্জাতিক ডেস্ক,নিউজ একাত্তর ডট কম: বৈশ্বিক মহামারি করোনা পরিস্থিতির ভয়াবহ অবনতি হয়েছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে। গত একদিনে প্রাণহানিতে অতীতের সব রেকর্ড ছাড়িয়ে গেছে দেশটিতে। এতে করে মৃতের সংখ্যা ৩ লাখ ১৪ হাজার ছাড়িয়ে গেছে। নতুন করে করোনার শিকার হয়েছেন প্রায় আড়াই লাখ মার্কিনি। যুক্তরাষ্ট্রের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের বরাত দিয়ে জরিপ সংস্থা ওয়ার্ল্ডোমিটার নিয়মিত পরিসংখ্যানে বলা হয়েছে, গত ২৪ ঘণ্টায় ২ লাখ ৪৬ হাজার ৯৯৬ জন মানুষ করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন। এতে করে সংক্রমিতের সংখ্যা বেড়ে ১ কোটি ৭২ লাখ ৯২ হাজার ৬১৮ জনে দাঁড়িয়েছে। নতুন করে প্রাণ হারিয়েছেন ৩ হাজার ৪৮৬ জন। এ নিয়ে প্রাণহানি বেড়ে ৩ লাখ ১৪ হাজার ৫৭৭ জনে ঠেকেছে। অপরদিকে, সংক্রমণের তুলনায় কম হলেও গত ২৪ ঘণ্টায় করোনামুক্ত হয়েছেন ১ লাখ ৬২ হাজার ভুক্তভোগী। এতে করে সুস্থতার সংখ্যা ১ কোটি ১ লাখ ৭০ হাজার ৭৩৫ জনে পৌঁছেছে। চলতি বছরের ২১ জানুয়ারি শিকাগোর এক বাসিন্দার মধ্যে প্রথম করোনার সংক্রমণ শনাক্ত হয়। এরপর থেকে ক্রমান্বয়ে ভয়ানক হতে থাকে পরিস্থিতি। যুক্তরাষ্ট্রের স্বাস্থ্য কর্মকর্তাদের ধারণা ইতোমধ্যে তাদের দেশের অন্তত ২০ মিলিয়ন (দুই কোটি) মানুষ করোনার শিকার হয়েছেন। দ্য সেন্টার ফর ডিজিজ কন্ট্রোল (সিডিসি) বলছে, প্রকৃত তথ্য হলো, প্রকাশিত সংখ্যার অন্তত ১০ গুণ বেশি মানুষ করোনার ভয়াবহতার শিকার। এর মধ্যে সংক্রমণ আশঙ্কাজনক হার দীর্ঘ হচ্ছে ক্যালিফোর্নিয়ায়। যেখানে সংক্রমিতের সংখ্যা ১৭ লাখ ১৫ হাজার। এর মধ্যে মৃত্যু হয়েছে ২১ হাজার ৮৮৩ জনের। টেক্সাসে আক্রান্তের সংখ্যা ১৫ লাখ ৪১ হাজার। যেখানে প্রাণহানি ঘটেছে ২৫ হাজার ১৪৬ জনের। ফ্লোরিডায় করোনার শিকার ১১ লাখ ৫৫ হাজার মানুষ। ইতোমধ্যে সেখানে ২০ হাজার ২০৪ জনের প্রাণহানি ঘটেছে। ইলিনয়েসে এখন পর্যন্ত করোনার ভুক্তভোগী ৮ লাখ ৭০ হাজার অতিক্রম করেছে। এর মধ্যে প্রাণ হারিয়েছেন ১৫ হাজার ৭৭৭ জন। প্রাণহানিতে শীর্ষ শহর নিউইয়র্কে আক্রান্ত ৮ লাখ ৪৪ হাজার। এর মধ্যে না ফেরার দেশে ৩৫ হাজার ৯৪৫ জন ভুক্তভোগী। জর্জিজায় করোনা রোগীর সংখ্যা ৫ লাখ ৬০ হাজারের বেশি। এর মধ্যে প্রাণ ঝরেছে ১০ হাজার ২২৮ জনের। পেনসিলভেনিয়ায় আক্রান্তের সংখ্যা ৫ লাখ ২৬ হাজার ছুঁই ছুঁই। এর মধ্যে মৃত্যু হয়েছে ১৩ হাজার ২৩০ জন মানুষ। নিউ জার্সিতে করোনার শিকার ৪ লাখ ২৫ হাজারের বেশি মানুষ। এর মধ্যে প্রাণহানি ঘটেছে ১৮ হাজার ১৩০ জনের। এছাড়া উত্তর ক্যারোলিনা, টেনেসিস, উইসকনসিন, অ্যারিজোন, ওহিও, মিশিগানের মতো শহরগুলোতে আক্রান্তের সংখ্যা তিন লাখ ছাড়িয়েছে।
আমেরিকা বিরাট ভুল করছে: তুরস্ক
১৬,ডিসেম্বর,বুধবার,আন্তর্জাতিক ডেস্ক,নিউজ একাত্তর ডট কম: রাশিয়া থেকে এস-৪০০ ক্ষেপণাস্ত্র কেনায় তুরস্কের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে আমেরিকা। এর জবাব দেওয়ার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেছে তুর্কি সরকার। মার্কিন নিষেধাজ্ঞাকে আংকারা বিরাট ভুল বলেও অভিহিত করেছে। মার্কিন সরকার সোমবার তুরস্কের প্রতিরক্ষা শিল্পের চেয়ারম্যান ইসমাইল দামির এবং এই শিল্পের আরো তিন কর্মকর্তার বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে। মার্কিন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বলেছে, নিষেধাজ্ঞার আওতায় আসা তুরস্কের খাতগুলোর জন্য আমেরিকা থেকে কোনোকিছু আমদানি করা যাবে না এবং আমেরিকায় থাকা এসব খাতের সম্পদ জব্দ করা হবে। মার্কিন পররাষ্ট্র মন্ত্রী মাইক পম্পেও বলেন, বহুবার আমেরিকার সর্বোচ্চ পর্যায় থেকে তুরস্ককে বলা হয়েছে, রাশিয়া থেকে এস-৪০০ কেনা হলে তাতে আমেরিকার সামরিক প্রযুক্তি ও সেনাদের নিরাপত্তা বিপদের মুখে পড়বে। পাশাপাশি এস-৪০০ কিনে রাশিয়ার প্রতিরক্ষা খাতকে তহবিল যোগান দেয়া হলো। নিষেধাজ্ঞা আরোপের পর আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা ও নিরস্ত্রীকরণ বিষয়ক মার্কিন সহকারী পররাষ্ট্রমন্ত্রী ক্রিস্টোফার ফোর্ড সাংবাদিকদের ব্রিফ করার সময় বলেন, ওয়াশিংটন সমস্যার সমাধান চেয়েছিল কিন্তু তুরস্ক তার সবই প্রত্যাখ্যান করেছে। তিনি দাবি করেন, ওয়াশিংটন হঠাৎ করে কিংবা হাল্কা কোনো সিদ্ধান্ত নেয় নি। এসব বক্তব্যের জবাবে তুর্কি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বলেছে, মার্কিন সরকারের সিদ্ধান্তের কোনো ব্যাখ্যা নেই। আংকারা বহুবার সমস্যা সমাধানের জন্য জয়েন্ট ওয়ার্কিং গ্রুপ প্রতিষ্ঠার কথা বলেছে কিন্তু সে প্রস্তাবকে পরিপূর্ণভাবে ব্যবহার করা হয় নি। তুর্কি মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে বলেছে, এ বিরাট ভুল থেকে আমরা ওয়াশিংটনকে যত তাড়াতাড়ি সম্ভব ফিরে আসার আহ্বান জানাই। বিবৃতিতে স্পষ্ট করে বলা হয়েছে, মার্কিন নিষেধাজ্ঞা নিশ্চিতভাবে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে। আমরা আমাদের দেশের সুরক্ষার জন্য প্রয়োজনীয় সব ধরনের পদক্ষেপ নেয়া অব্যাহত রাখব।
এবার তুরস্কের বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা আরোপ আমেরিকার
১৫,ডিসেম্বর,মঙ্গলবার,আন্তর্জাতিক ডেস্ক,নিউজ একাত্তর ডট কম: রাশিয়ার কাছ থেকে অত্যাধুনিক আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা এস-৪০০ কেনার কারণে তুরস্কের বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন। এর মাধ্যমে নবনির্বাচিত প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের ক্ষমতা গ্রহণের আগে তুরস্ক ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার সম্পর্ক আরও সংঘাতময় হয়ে উঠল। মার্কিন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বলেছে, রাশিয়ার কাছ থেকে তুরস্কের এস-৪০০ সংগ্রহ করার ঘটনা ন্যাটো জোটের নীতির পরিপন্থি এবং এই জোটের সদস্যদেশগুলোর জন্য হুমকি হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। দুই বছরেরও বেশি সময় আগে তুরস্ক রাশিয়ার কাছ থেকে এই ব্যবস্থা কেনার সিদ্ধান্ত নেওয়ার সময় থেকেই আমেরিকা এর বিরোধিতা করে আসছে। তবে তুরস্কের রিসেপ তাইয়্যেব এরদোয়ান সরকার প্রথম থেকেই মার্কিন বিরোধিতাকে উপেক্ষা করে এসেছে। মার্কিন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সোমবার ঘোষণা করেছে, তুরস্কের প্রতিরক্ষা শিল্পের লজিস্টিক ও সমরাস্ত্র খাতকে টার্গেট করে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে। এর আগে গত বছর ট্রাম্প প্রশাসন তুরস্ককে এফ-৩৫ জঙ্গিবিমান সরবরাহ করার সিদ্ধান্ত স্থগিত করেছিল। মার্কিন সরকার সোমবার তুরস্কের প্রতিরক্ষা শিল্পের চেয়ারম্যান ইসমাইল দামির এবং এই শিল্পের আরও তিন কর্মকর্তার বিরুদ্ধেও নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে। মার্কিন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বলেছে, নিষেধাজ্ঞার আওতায় আসা তুরস্কের খাতগুলোর জন্য আমেরিকা থেকে কোনওকিছু আমদানি করা যাবে না এবং এসব খাতের সম্পদ জব্দ করা হবে।
ওয়াশিংটনে ট্রাম্পপন্থি ও বিরোধীদের সংঘর্ষ
১৩,ডিসেম্বর,রবিবার,আন্তর্জাতিক ডেস্ক,নিউজ একাত্তর ডট কম: আমেরিকার ওয়াশিংটন ডিসিতে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সমর্থকদের সঙ্গে ব্যাপক সংঘর্ষ হয়েছে বিরোধী গ্রুপের। উভয় পক্ষের মধ্যে হাতাহাতি শুরু হলে পুলিশ পিপার-স্প্রে বা মরিচের গুঁড়ো প্রয়োগ করে তাদের ছত্রভঙ্গ করে। এই ঘটনায় একজন গুলিবিদ্ধ হয়েছেন বলে জানা গেছে। বার্তা সংস্থা রয়টার্সের খবরে বলা হয়েছে, ৩ নভেম্বরের নির্বাচনে কোনো প্রমাণ ছাড়াই প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পসহ তার সমর্থকরা দাবি করে আসছেন যে ভোটে ব্যাপক কারচুপি হয়েছে, ভোট চুরি করা হয়েছে। এ নিয়ে করা মামলা যখন সুপ্রিম কোর্টে খারিজ হয়ে যাচ্ছে, তখন ট্রাম্পন্থিরা শনিবার রাতে রাস্তায় নামে। স্টপ দ্য স্টিল কর্মসূচির আয়োজকরা এবং চার্চ গ্রুপগুলো সমর্থকদের প্রতি আহ্বান জানায় এসব Raillyতে অংশ নিতে। ফলে যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন শহরে বা রাজ্যে বিক্ষোভ হয়েছে। কিন্তু ট্রাম্পপন্থি প্রাউড-বয়েজ বিক্ষোভকারী এবং প্রতিপক্ষ এন্টিফার মধ্যে ওয়াশিংটন ডিসিতে হাতাহাতি শুরু হয়। ট্রাম্প হোটেলের কাছে এর আগে বিক্ষোভে অংশ নেয় অধিক উগ্রপন্থি প্রাইড-বয়েজের প্রায় ২শ সদস্য। এ সময় তাদের বেশির ভাগই ছিলেন রণ সাজে। তাদের গায়ে ছিল কালো ও হলুদ শার্ট। বুকে ছিল ব্যালেস্টিক ভেস্ট পরা। মাথায় ছিল হেলমেট। ব্যবহার করেছে হ্যান্ড-সিগন্যাল। তারও আগে সড়কে অবরোধ সৃষ্টি করে দাঙ্গা পুলিশ। তারা ছিল রায়ট গিয়ারে এবং বাইসাইকেলে। রাত নামার পর বিক্ষোভকারীরা ছোট ছোট দলে বিভক্ত হয়ে যায়। তারা সড়কের বিভিন্ন স্থানে প্রতিপক্ষকে খুঁজতে থাকে। তবে পুলিশ সেখানে দ্রুততার সঙ্গে হস্তক্ষেপ করে। উভয়পক্ষের ওপর পিপার-স্প্রে প্রয়োগ করে তাদের ছত্রভঙ্গ করে দেয়। এ সময় ছয়জনকে গ্রেফতার করে পুলিশ।
নিউইয়র্কে বর্ণবাদবিরোধী বিক্ষোভ, আন্দোলনকারীদের ওপর গাড়ি হামলা
১২,ডিসেম্বর,শনিবার,আন্তর্জাতিক ডেস্ক,নিউজ একাত্তর ডট কম: আমেরিকার নিউইয়র্কে বর্ণবাদবিরোধী আন্দোলনকারীদের ওপর গাড়ি নিয়ে হামলার ঘটনা ঘটেছে। এতে অন্তত ছয় বিক্ষোভকারী আহত হয়েছেন। স্থানীয় সময় শুক্রবার বিকালে ম্যানহাটানে এ ঘটনা ঘটে। পুলিশ জানায়, বর্ণবাদবিরোধী আন্দোলনে অন্তত অর্ধশত মানুষ অংশ নিয়েছিল। কয়েকজন আন্দোলনকারী একটি থেমে থাকা গাড়ির চারপাশে ভিড় করেছিল, তখনই হঠাৎ করে বিএমডব্লিউ সেডান গাড়ি নিয়ে তাদের ওপর তা তুলে দেয়। এ ঘটনায় নারী চালককে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করেছে পুলিশ। আহতদের স্থানীয় হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে। তবে কারও অবস্থাই গুরুতর নয় বলে জানিয়েছে পুলিশ।

আন্তর্জাতিক পাতার আরো খবর