চরম বিশৃঙ্খল-বিদ্বেষপূর্ণ বিতর্কে ট্রাম্প-বাইডেন
০১অক্টোবর,বৃহস্পতিবার,আন্তর্জাতিক ডেস্ক,নিউজ একাত্তর ডট কম: আগামী ৩ নভেম্বর যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের আগে প্রথমবারের মতো বিতর্কে মুখোমুখি হয়েছেন রিপাবলিকান প্রার্থী মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং ডেমোক্র্যাট প্রার্থী জো বাইডেন। বিবিসি জানায়, মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) রাতে হোয়াইট হাউসের ইতিহাসে অন্যতম বিশৃঙ্খল ও বিদ্বেষপূর্ণ বিতর্কে জড়িয়ে পড়েন এ দুই প্রার্থী। ওহিও অঙ্গরাজ্যের ক্লিভল্যান্ডে অনুষ্ঠিত ৯০ মিনিটের ওই বিতর্কে মহামারি, শেতাঙ্গ আধিপত্যবাদ এবং অর্থনীতি নিয়ে তর্ক ক্রমেই চিৎকার-চেঁচামেচিতে রূপ নেয়। এক পর্যায়ে বাইডেন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পকে ক্লাউন বলে বিদ্রূপ করেন এবং তাকে চুপ করতে বলেন। অন্যদিকে, ট্রাম্পও কম যান না। তিনি বাইডেনের ছেলের মাদক সেবনের বিষয়টি তুলে আনেন। বর্ণবাদ এবং শেতাঙ্গ আধিপত্যবাদ নিয়ে তুমুল বিতর্কে জড়িয়ে পড়েন ট্রাম্প ও বাইডেন। বাইডেন বলেন, ইনি এমন একজন প্রেসিডেন্ট, যিনি সবকিছুকে বর্ণবাদী ঘৃণা ও বিভেদ তৈরিতে ব্যবহার করেছেন। বাইডেনের বক্তব্যের সময় বারবার বাধা দিচ্ছিলেন ট্রাম্প। করোনা ভাইরাস বিষয়ে বাইডেন বলেন, মহামারি নিয়ে আতঙ্কিত ছিলেন ট্রাম্প। তিনি বলেন, ট্রাম্প আরও স্মার্ট না হলে, আরও বেশি মানুষের মৃত্যু হতে যাচ্ছে। এদিকে, স্মার্ট শব্দের ব্যবহারে রেগে যান ট্রাম্প। মহামারির কারণে কেইস ওয়েস্টার্ন রিজার্ভ ইউনিভার্সিটিতে সামাজিক দূরত্ব মেনে স্বল্প দর্শক নিয়ে এ বিতর্ক অনুষ্ঠিত হয় এবং এর শুরুতে হাত মেলানোর সৌজন্য এড়িয়ে যাওয়া হয়। মতামত জরিপের ফলাফল অনুযায়ী, ট্রাম্পের চেয়ে কিছুটা এগিয়ে রয়েছেন বাইডেন। নির্বাচনের আর বাকি ৩৫ দিন। জরিপের তথ্য অনুযায়ী, প্রতি ১০ জন মার্কিন নাগরিকের মধ্যে একজন কোন প্রার্থীকে ভোট দেবেন, সে বিষয়ে এখনো মনস্থির করতে পারেননি। তবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, মঙ্গলবার রাতের বিতর্কে তেমন কোনো প্রভাব নাও পড়তে পারে।
কুয়েতের নতুন আমির শেখ নওয়াফ আল-আহমদ আল সাবাহ
৩০সেপ্টেম্বর,বুধবার,আন্তর্জাতিক ডেস্ক,নিউজ একাত্তর ডট কম: কুয়েতের ক্রাউন প্রিন্স শেখ নওয়াফ আল-আহমদ আল-জাবের আর-সাবাহ দেশটির নতুন আমির ঘোষিত হয়েছেন। বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) কুয়েতের ক্রাউন প্রিন্সের শপথপাঠ অনুষ্ঠিত হবে। এর আগে মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) শেখ সাবাহ আল-আহমদ আল-জাবের আল-সাবাহ ইন্তেকাল করেন। তার বয়স হয়েছিল ৯১ বছর। ওই দিন রাতে কুয়েতি মন্ত্রিসভায় নতুন আমিরের কথা ঘোষণা করা হয়। এ সভায় সভাপতিত্ব করেন দেশটির প্রধানমন্ত্রী শেখ সাবাহ খালিদ আল-হামাদ আল-সাবাহ। শেখ নওয়াফ হলেন আল-সাবাহ রাজবংশের ১০ম শাসক শেখ আহমদ আল-জাবের আল-সাবাহর ষষ্ট ছেলে। তিনি ১৯৩৭ সালের ২৫ জুন জন্মগ্রহণ করেন। আল-সাবাহ অসুস্থ হয়ে পড়লে শেখ নওয়াফকে (৮৩) গত ১৮ জুলাই কিছু সাংবিধানিক দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল। কুয়েতি আইনানুযায়ী, আমিরের অনুপস্থিতিতে ক্রাউন প্রিন্সই হন ভারপ্রাপ্ত শাসক। শেখ সাবাহ আমির নিযুক্ত হওয়ার পর ২০০৬ সালে শেখ নওয়াফকে ক্রাউন্স প্রিন্স করা হয়। এদিকে কুয়েতের আমিরের মৃত্যুতে দেশটির সরকার মঙ্গলবার থেকে ৪০ দিনের রাষ্ট্রীয় শোক ঘোষণা করে। এছাড়া তিন দিনের জন্য সব অফিস-আদালত কার্যক্রম বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। ২০০৬ সাল থেকে আরব উপসাগরের তেলসমৃদ্ধ দেশ কুয়েতের আমিরের দায়িত্বে ছিলেন শেখ সাবাহ। দীর্ঘদিন ধরে শারীরিক সমস্যায় ভুগছিলেন তিনি।
আর্মেনিয়া-আজারবাইজান দ্বিতীয় দিনের যুদ্ধে নিহতের সংখ্যা বেড়ে ৪০
২৯সেপ্টেম্বর,মঙ্গলবার,আন্তর্জাতিক ডেস্ক,নিউজ একাত্তর ডট কম: গতকাল দ্বিতীয় দিনে প্রবেশ করেছে আজারবাইজান ও আর্মেনিয়ার যুদ্ধ। এতে উভয় পক্ষের মোট ৪০ জনের মৃত্যু হয়েছে। এ অবস্থায় চিরবৈরী দেশ দুটির মধ্যে সর্বাত্মক যুদ্ধের আশঙ্কা করছে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়। খবর এএফপি। বহু দশক ধরেই নাগোর্নি কারাবাখ অঞ্চল নিয়ে আঞ্চলিক বিরোধে লিপ্ত রয়েছে আর্মেনিয়া ও আজারবাইজান। এর আগে ২০১৬ সালে অঞ্চলটির অধিকার নিয়ে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে জড়ায় উভয় দেশ। ১৯৯০ দশকের দিকে এক যুদ্ধের পর নাগোর্নি কারাবাখ আজারবাইজান থেকে তার স্বাধীনতা ঘোষণা করে। ওই যুদ্ধে প্রাণ হারায় ৩০ হাজারের মতো মানুষ। কিন্তু কোনো দেশই নাগোর্নি কারাবাখকে এখন পর্যন্ত স্বীকৃতি দেয়নি। এমনকি স্বীকৃতি দেয়নি আর্মেনিয়াও। তবে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় অঞ্চলটিকে আজারবাইজানের অংশ হিসেবেই মনে করে। এ অবস্থায় উভয় দেশের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে যে তাদের সেনারা তীব্র লড়াইয়ে লিপ্ত হয়েছে। আজারবাইজানের প্রেসিডেন্ট ইলহাম আলিয়েভ সোমবার আংশিক সামরিক অভিযানের নির্দেশ দেন। অন্যদিকে জেনারেল মাইস বারখুদারোভ শত্রুদের ধ্বংস করে দিয়ে বিজয়ের আগ পর্যন্ত শেষ রক্তবিন্দু দিয়ে লড়াই চালিয়ে যাওয়ার প্রতিজ্ঞা করেছেন। এদিকে আর্মেনিয়ার বিচ্ছিন্নতাবাদীরা ঘোষণা করেছে, তাদের ১৫ জন যোদ্ধা নিহত হয়েছে। এছাড়া আজারবাইজান জানিয়েছে বিদ্রোহীদের বোমাবর্ষণে তার্তারে নিহত বেসামরিক মানুষের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ছয়জনে। এ নিয়ে উভয় পক্ষের নিহতের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৪০ জনে। চলমান এ যুদ্ধের জন্য একে অপরকে দোষারোপ করছে উভয় পক্ষ। এ অবস্থায় বিশ্ব নেতারা তাদের শান্ত থাকার আহ্বান জানিয়েছেন। কারণ কোনোভাবে সর্বাত্মক যুদ্ধ শুরু হলে এতে আঞ্চলিক শক্তি রাশিয়া ও তুরস্কও জড়িয়ে পড়তে পারে। ক্রেমলিনের মুখপাত্র দিমিত্রি পেসকোভ সোমবার সাংবাদিকদের বলেন, রাশিয়া নিবিড়ভাবে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে। তাদের জন্য বর্তমানে সব থেকে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো সংঘাত থামানো। এ মুহূর্তে কে ঠিক কিংবা কে ভুল তা নির্ধারণের সময় নেই। কারাবাখের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, সর্বশেষ এ সংঘাতে তাদের ৩২ জন যোদ্ধা নিহত হয়েছে। বেসামরিক মানুষ মারা গেছে আটজন। নিহতদের মধ্যে আজারবাইজানের এক পরিবারের ছয় সদস্য রয়েছে। অন্যদিকে আর্মেনিয়ার এক নারী ও এক শিশু নিহত হয়েছে। আজারবাইজান এখন পর্যন্ত কোনো সামরিক ক্ষয়ক্ষতি কিংবা হতাহতের খবর জানায়নি। কিন্তু আর্মেনিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র সুসান স্তেপানিয়ান দাবি করেছেন, যুদ্ধে আজারবাইজানের কয়েক ডজন সেনাসদস্য নিহত হয়েছে। তিনি বলেন, সোমবার সকালেও উভয় পক্ষের মধ্যে তীব্র সংঘর্ষ হয়। এছাড়া আর্মেনীয় সেনারা আজারবাইজানের সেনাদের দখল করে নেয়া এলাকা পুনরুদ্ধার করেছে। তবে বাকু কর্তৃপক্ষ দাবি করেছে, তাদের সেনারা আরো সামনে অগ্রসর হয়েছে। দেশটির প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, তাদের সেনাসদস্যরা শত্রুর ঘাঁটিতে আক্রমণ অব্যাহত রেখেছে। একই সঙ্গে তালিশ গ্রামের কাছে কৌশলগত বেশ কয়েকটি অবস্থান দখলে নিয়েছে। প্রকৃতপক্ষে শত্রুরা এখন পিছু হঠছে। আর্মেনীয় সামরিক কর্মকর্তারা বলেছেন, আজারবাইজানের সেনারা বিদ্রোহীদের ঘাঁটিতে ভারী অস্ত্র নিয়ে হামলা করছিল। অন্যদিকে আজারবাইজানের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় তার্তারে বিদ্রোহীরা বেসামরিক মানুষের ওপর হামলা করেছে বলে অভিযোগ করে।
এবার নৌ-উত্তেজনার বিষয়ে সতর্কবার্তা উত্তর কোরিয়ার
২৮সেপ্টেম্বর,সোমবার,আন্তর্জাতিক ডেস্ক,নিউজ একাত্তর ডট কম: উত্তর কোরিয়ার সেনাসদস্যদের গুলিতে নিহত দক্ষিণ কোরিয়ার মৎস্য বিভাগের এক কর্মকর্তার মরদেহ উদ্ধারে খোঁজ জারি রেখেছে পিয়ংইয়ং। কিন্তু একই সঙ্গে উত্তর কোরিয়া সতর্ক করেছে, বিতর্কিত জলসীমায় দক্ষিণ কোরিয়ার নৌবাহিনীর অভিযান অঞ্চলটিতে উত্তেজনা বৃদ্ধি করবে। এর আগে উত্তর কোরিয়ার নেতা কিম জং-উন তার সেনাবাহিনীর সদস্যদের গুলিতে দক্ষিণ কোরিয়ার কর্মকর্তার মৃত্যুতে ক্ষমা প্রার্থনা করেন। কিমের জন্য এ ধরনের ক্ষমা প্রার্থনা একেবারেই বিরল ঘটনা। খবর রয়টার্স ও এএফপি। উত্তর কোরিয়ার সেনারা গত মঙ্গলবার দক্ষিণ কোরিয়ার ওই কর্মকর্তাকে গুলি করে হত্যা করে। দক্ষিণ কোরিয়ার সেনাবাহিনী দাবি করেছে, নিহত ব্যক্তির মরদেহে সমুদ্রসীমার কাছে আগুন ধরিয়ে দেয়া হয়। এরপর রোববার উত্তর কোরিয়ার বিষয়ে আলোচনার জন্য দক্ষিণ কোরিয়ার প্রেসিডেন্ট মুন জা-ইন তাম মন্ত্রীদের বৈঠক ডাকেন। একই সঙ্গে দ্য প্রেসিডেন্সিয়াল ব্লু হাউজ পিয়ংইয়ংয়ের কাছে এ হত্যাকাণ্ডের যৌথ অনুসন্ধানের আহ্বান জানায়। এছাড়া চলতি বছর উভয় দেশের মধ্যে সম্পর্কের অবনতির প্রেক্ষাপটে উত্তর কোরিয়ার ছিন্ন করে দেয়া সামরিক যোগাযোগের হটলাইন পুনঃপ্রতিষ্ঠার অনুরোধ করা হয়। এদিকে উত্তর কোরিয়ার রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা কেসিএনএ জানিয়েছে, মঙ্গলবারের ওই হত্যাকাণ্ড একটি ঘৃণিত কাজ। এ ধরনের ঘটনা মোটেই ঘটনা উচিত ছিল না। কিন্তু একই সঙ্গে কেসিএনএ অভিযোগ করা হয়, উত্তর কোরিয়ার জলসীমার কাছে দক্ষিণ কোরিয়ার নৌ-অভিযান পরিচালিত হচ্ছে। আর এ সীমানা নিয়ে বিতর্ক রয়েছে। কেসিএনএ বলে, পশ্চিম সমুদ্রে সামরিক সীমানা অতিক্রম না করার জন্য দক্ষিণ কোরিয়াকে অনুরোধ করা হচ্ছে। তারা যেন অবিলম্বে ওই অঞ্চলে তাদের অবৈধ অনুপ্রবেশ বন্ধ করে। না হলে এখানে নৌ-উত্তেজনা বৃদ্ধি পাবে। তবে উত্তর কোরিয়ার এ অভিযোগ বিষয়ে জানতে চাওয়া হলে, দক্ষিণ কোরিয়ার জাতীয় প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র তাত্ক্ষণিকভাবে কোনো মন্তব্য করেননি। তবে দক্ষিণ কোরিয়ার সংবাদ সংস্থা ইয়োনহাপ জানিয়েছে, দক্ষিণ কোরিয়া শুধু দক্ষিণে উত্তর সীমারেখার জলসীমায় অনুসন্ধান পরিচালনা করছে। তবে এ সীমানা নিয়ে উভয় কোরিয়ার মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলে আসছে। এ বিরোধ চলে আসছে ১৯৫০-১৯৫৩ সালের কোরীয় যুদ্ধের পর থেকেই। আর দক্ষিণ কোরিয়ার ইয়োনহাপ অনুসন্ধান বিষয়ে এ তথ্য দিয়েছে দেশটির কোস্টগার্ডের এক সদস্যের বরাতে। দক্ষিণ কোরিয়া এ অনুসন্ধান কাজে ৩৯টি নৌযান ব্যবহার করছে। এর মধ্যে নৌবাহিনীর জাহাজ রয়েছে ১৬টি। এছাড়া অনুসন্ধান কাজে ছয়টি উড়োজাহাজও ব্যবহার করা হচ্ছে। এদিকে কেসিএনএ জানিয়েছে, উত্তর কোরিয়া মরদেহ উদ্ধারের জন্য নিজের মতো করেই অভিযান শুরু করেছিল। ওই প্রতিবেদনে বলা হয়, ভবিষ্যতে যাতে এ ধরনের ঘটনা না ঘটে, সেজন্য পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে। আমরা উত্তর ও দক্ষিণ কোরিয়ার মধ্যে যাতে সম্পর্কের আরো অবনতি না হয় সে বিষয়ে সচেষ্ট। অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা এড়ানোর জন্য আরো নিরাপত্তা পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে। আশা করা হচ্ছে এর মধ্য দিয়ে সামনের দিনে শান্তি বজায় থাকবে।
বিশ্বব্যাপী অভিবাসীদের প্রতি সহিষ্ণুতা কমছে
২৪সেপ্টেম্বর,বৃহস্পতিবার,আন্তর্জাতিক ডেস্ক,নিউজ একাত্তর ডট কম: সম্প্রতি গ্রিক দ্বীপ লেসবসের মোরিয়া আশ্রয় শিবিরে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে আশ্রয়হীন হয়ে পড়ে কয়েক হাজার অভিবাসী। এ অবস্থায় ইউরোপ তাদের জন্য নতুন একটি আশ্রয় পরিকল্পনা নিয়ে কাজ করছে। আর ঠিক এমন সময়ই গতকাল গ্যালাপের প্রকাশিত এক জরিপে দেখা গেছে, বিশ্বব্যাপী অভিবাসীদের প্রতি সহিষ্ণুতা কমছে। খবর রয়টার্স। গ্যালাপের জরিপ অনুসারে, অভিবাসী গ্রহণে বিশ্বের মধ্যে সব থেকে কম আগ্রহী দেশের তালিকায় শীর্ষে রয়েছে সাত ইউরোপীয় দেশ। এর মধ্যে সবার প্রথমে রয়েছে উত্তর মেসিডোনিয়া, হাঙ্গেরি, সার্বিয়া ও ক্রোয়েশিয়ার অবস্থান। তবে অভিবাসীদের প্রতি নেতিবাচক মনোভাব সব থেকে তীব্রভাবে বেড়েছে পেরু, একুয়েডর ও কলম্বিয়ায়। এসব দেশে সম্প্রতি প্রচুর ভেনিজুয়েলার অভিবাসী এসেছে। জরিপে অভিবাসী গ্রহণের ক্ষেত্রে সব থেকে বেশি ইতিবাচক মনোভাব দেখা গেছে অস্ট্রেলিয়ার। এর পরই রয়েছে আইসল্যান্ড ও নিউজিল্যান্ডের অবস্থান। মোট ১৪৫টি দেশ ও অঞ্চলে ১ লাখ ৪০ হাজার মানুষের সাক্ষাত্কারের মাধ্যমে এ জরিপ সম্পন্ন করেছে গ্যালাপ। জরিপে সাক্ষাত্কার প্রদানকারীদের কাছে জানতে চাওয়া হয়, তাদের দেশে অভিবাসীদের আশ্রয় দেয়ার বিষয়ে তাদের মনোভঙ্গি কেমন। এছাড়া অভিবাসীরা যদি প্রতিবেশী হওয়া কিংবা তাদের পরিবারের সঙ্গে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হওয়ার বিষয়টি তারা কীভাবে দেখছেন। এক্ষেত্রে গ্যালাপের সূচকে উত্তর ম্যাসিডোনিয়ার স্কোর সর্বোচ্চ ৯-এর মধ্যে মাত্র ১ দশমিক ৪৯। অন্যদিকে কানাডার স্কোর ৮ দশমিক ৪৬। গ্যালাপের অভিবাসন বিশেষজ্ঞ জুলি রে বলেন, বৈশ্বিকভাবে অভিবাসী গ্রহণের ক্ষেত্রে ২০১৬ সালের সূচকের স্কোর ছিল ৫ দশমিক ৩৪। কিন্তু ২০১৯ সালে তা ৫ দশমিক ২১-এ নেমে গেছে। মূলত লাতিন আমেরিকার দেশগুলোয় অভিবাসীবিরোধী মনোভাব এ পতনের জন্য প্রধানত দায়ী। কারণ ২০১৬ সালেও পেরুর স্কোর ছিল ৬ দশমিক ৩৩। কিন্তু এ স্কোর আশ্চর্যজনকভাবে ৩ দশমিক ৬১-এ নেমে গেছে। অন্যদিকে অভিবাসীদের আশ্রয় দেয়া একটি ভালো কাজ এমন মনোভাবের মানুষের সংখ্যা ৬১ শতাংশ থেকে ২৯ শতাংশে দাঁড়িয়েছে। উল্লেখ্য, গ্যালাপের প্রথম অভিবাসী গ্রহণযোগ্যতা সূচক পরিচালিত হয় ২০১৫ সালে ইউরোপে অভিভাসন সংকটের পর। ওই সময় যুদ্ধবিধ্বস্ত ও দারিদ্র্যপীড়িত মধ্যপ্রাচ্যসহ বিভিন্ন থেকে লাখ লাখ অভিবাসী ইউরোপে আশ্রয়ের উদ্দেশ্যে যাত্রা করে। এরপর থেকেই ইউরোপীয় দেশগুলো অভিবাসীদের এ ঢল সামাল দিতে মরিয়া চেষ্টা চালাচ্ছে। একই সঙ্গে নৌকায় করে ভূমধ্যসাগর পাড়ি দিতে গিয়ে প্রায় প্রতিনিয়ত মারা যাচ্ছে অসংখ্য অভিবাসন প্রার্থী। এ অবস্থায় স্থানীয় সময় বুধবার ব্লকটির নির্বাহীদের একটি পরিকল্পনা প্রকাশের কথা রয়েছে। পরিকল্পনা অনুযায়ী, সব সদস্য দেশকে অভিবাসী গ্রহণের জন্য আইনগতভাবে বাধ্য করা হতে পারে। কিন্তু এক্ষেত্রে এরই মধ্যে দ্বিমত প্রকাশ করেছে পোল্যান্ড ও হাঙ্গেরিসহ আরো বেশ কয়েকটি ইউরোপীয় দেশ। মূলত লেসবস দ্বীপের মোরিয়া আশ্রয় শিবিরের অগ্নিকাণ্ডের পরই এ প্রস্তাব সামনে আনা হচ্ছে। ওই আশ্রয় শিবিরে প্রায় ১২ হাজারের বেশি অভিবাসী অবস্থান করছিলেন। অথচ শিবিরটির ধারণক্ষমতা ছিল মাত্র তিন হাজারের মতো। এদিকে গ্যালাপের জরিপে অভিবাসী গ্রহণের বিষয়ে ইতিবাচক মনোভাবের ক্ষেত্রে শীর্ষ ১০ দেশের মধ্যে মাত্র দুটি ইউরোপীয় দেশ রয়েছে। দেশ দুটি হলো সুইডেন ও আয়ারল্যান্ড। তবে আশ্চর্যের বিষয় হলো, যুক্তরাষ্ট্রের মানুষের মধ্যে অভিবাসীদের প্রতি দারুণ ইতিবাচক মনোভাব রয়েছে।
প্রেসিডেন্টকে অতিরিক্ত ক্ষমতা প্রদানে শ্রীলংকার সংসদে বিতর্কিত বিল
২৩সেপ্টেম্বর,বুধবার,আন্তর্জাতিক ডেস্ক,নিউজ একাত্তর ডট কম: প্রেসিডেন্টকে অভূতপূর্ব ক্ষমতা প্রদানে সংবিধানে একটি সংশোধনী আনার বিল এনেছে শ্রীলংকার ক্ষমতাসীন দল। মঙ্গলবার তারা শ্রীলংকার সংসদে এ সংশোধনী বিলটি এনেছে। ক্ষমতা আঁকড়ে ধরার লক্ষ্যে এ সংশোধনী আনা হয়েছে এ অভিযোগে সংসদেই বিক্ষোভ করেছে বিরোধী আইনপ্রণেতারা। খবর এএফপি। শ্রীলংকার সংসদে উত্থাপিত বিলটিতে মানবাধিকার ও সরকারি ব্যয়সংক্রান্ত ইস্যুতে আইনি ও সংসদীয় জবাবদিহিতার আওতা থেকে প্রেসিডেন্ট গোতাবায়া রাজাপাকশেকে অব্যাহতি দেয়ার প্রস্তাব দেয়া হয়। এমনকি রাষ্ট্রপ্রধানকে সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতিদের নিয়োগ দেয়ারও এখতিয়ার দেয়ার প্রস্তাব রাখা হয়। পাঁচ বছর মেয়াদি সংসদ এক বছর পূরণ করার পরই তা বাতিল করার ক্ষমতা দেয়া হচ্ছে রাজাপাকশেকে। একই সঙ্গে বিচার বিভাগ, পুলিশ, সিভিল সার্ভিস ও নির্বাচন কমিশনকে স্বাধীন ও স্বতন্ত্র রাখার বিধানেও পরিবর্তন আনা হচ্ছে। বড় ভাই মাহিন্দা রাজাপাকশের প্রেসিডেন্ট হিসেবে এক দশকের মেয়াদে প্রতিরক্ষা বাহিনীতে কর্মরত ছিলেন গোতাবায়া। গত নভেম্বরের নির্বাচনে প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে বড় ভাইকে প্রধানমন্ত্রী নিয়োগ দেন। ২০০৯ সালে তামিল বিচ্ছিন্নতাবাদীদের কঠোর হস্তে দমন ও কয়েক দশক ধরে চলা রক্তাক্ত গৃহযুদ্ধের অবসান করার জন্য শ্রীলংকার সংখ্যাগরিষ্ঠ সিংহলী জনগোষ্ঠীর কাছে দুই ভাইয়ের জনপ্রিয়তা আকাশচুম্বী। একই সঙ্গে তাদের বিরুদ্ধে কড়া সমালোচনা জানিয়েছে আন্তর্জাতিক মহল। গৃহযুদ্ধের শেষের দিকে তারা যুদ্ধাপরাধ সংগঠিত করেছেন বলে অভিযোগ তুলেছে বিভিন্ন মানবাধিকার সংগঠন। ২০০৯ সালে তামিলদের বিরুদ্ধে পরিচালিত ওই অভিযানে ৪০ হাজার বেসামরিক তামিল নিহত হয়েছে। সেখানে শত শত যুদ্ধাপরাধ সংগঠিত হয়েছে বলে দাবি বিভিন্ন সংগঠনের। মঙ্গলবার প্রেসিডেন্টকে অভূতপূর্ব ক্ষমতার প্রস্তাব নিয়ে আনা বিলটি নিয়ে কোনো মন্তব্য করেননি গোতাবায়া কিংবা মাহিন্দা রাজাপাকশে। তবে দুই সপ্তাহ আগে প্রেসিডেন্ট জানিয়েছিলেন, পূর্ববর্তী প্রশাসনের আনা সংস্কারগুলো সরিয়ে দেবেন। সংসদে দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা রয়েছে রাজাপাকশে ভাইদের দলের। এজন্য বিলটি পাস করা সহজ হবে বলেই মনে করছেন পর্যবেক্ষকরা। বিরোধীদলীয় নেতা সাজিথ প্রেমাদাসা বলেন, এমনটা হলে শ্রীলংকা একটি নির্বাচিত স্বৈরশাসনামলে প্রবেশ করবে। সংসদে তিনি আরো বলেন, এ বিলটি পাস হলে সংসদ প্রেসিডেন্টের হাতের পুতুল হয়ে পড়বে। আজকের দিনটি আমাদের দেশের গণতন্ত্রের ইতিহাসে সবচেয়ে কালো দিন। সংসদের বিরোধী এমপিরা এ সময় কালো আর্মব্যান্ড পরা ছিলেন। ২০০৫ সালের পর থেকে শ্রীলংকার রাজনীতিতে সবচেয়ে ক্ষমতাবান পরিবার হয়ে দাঁড়িয়েছে রাজাপাকশে পরিবার। জাতীয় উড়োজাহাজ সংস্থা, বিভিন্ন করপোরেশনসহ গুরুত্বপূর্ণ রাষ্ট্রনিয়ন্ত্রিত প্রতিষ্ঠানে বড় প্রভাবক হয়ে দাঁড়িয়েছে তারা। দেশটির মানবাধিকার লঙ্ঘনের ইতিহাস নিয়ে সবসময়ই সোচ্চার বিভিন্ন আন্তর্জাতিক মহল। গত সপ্তাহে জাতিসংঘের মানবাধিকারবিষয়ক প্রধান মিশেল বাখলেট বলেন, শ্রীলংকার সাংবাদিক, আইনজীবী ও মানবাধিকার কর্মীদের ওপর ভয়ভীতি প্রদর্শনের ঘটনায় আমাদের নতুন করে মনোযোগ দিতে হবে। এদিকে প্রেসিডেন্ট গোতাবায়া বলছেন, কলম্বোর বিরুদ্ধে বারবার যুদ্ধাপরাধের অভিযোগ আনা হলে জাতিসংঘ মানবাধিকার পরিষদ থেকে বেরিয়ে আসবে শ্রীলংকা।
অস্ট্রেলিয়ার তাসমানিয়া উপকূলে আটকা পড়ে ৯০ তিমির মৃত্যু
২২সেপ্টেম্বর,মঙ্গলবার,আন্তর্জাতিক ডেস্ক,নিউজ একাত্তর ডট কম: অস্ট্রেলিয়ার তাসমানিয়া উপকূলে আটকা পড়ে ২৭০টি তিমির মধ্যে অন্তত ৯০টি মারা গেছে। আরও তিমির মৃত্যুর আশঙ্কা করছেন উদ্ধারকর্মীরা। বিবিসি জানায়, সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) তাসমানিয়া দ্বীপের পশ্চিম উপকূলে বহু সংখ্যক পাইলট তিমি আটকে পড়ার ঘটনা প্রকাশ পায়। যে তিমিগুলো এখনো বেঁচে আছে, সেগুলো রক্ষার চেষ্টা করছেন সমুদ্র বিষয়ক জীববিজ্ঞানীরা। তবে সেটি করতে কয়েকদিন সময় লাগতে পারে। এদিকে, কী কারণে তিমিগুলো তীরে চলে এসেছে, তা জানা যায়নি। সৈকতে তিমি চলে আসা ওই অঞ্চলের সাধারণ ঘটনা হলেও গত এক দশকে এত সংখ্যক তিমিকে সাগর থেকে উঠে আসতে দেখা যায়নি। তাসমানিয়ায় শেষবার ২০০৯ সালে প্রায় ২০০ তিমি তীরে আটকা পড়েছিল। তাসমানিয়ান মেরিটাইম কনসারভেশন প্রোগ্রামের উদ্ধারকর্মীরা সোমবার ম্যাকোয়ারি হেডস নামে একটি এলাকায় তিনটি দলে তিমিগুলোকে দেখতে পান। দ্বীপের প্রত্যন্ত ওই অঞ্চলটিতে যাওয়ার তেমন কোনো রাস্তা এবং জলযানও নেই। প্রায় ২০০ তিমিকে বালুচরে আটকে পড়া অবস্থায় দেখা যায় এবং এর কয়েকশ মিটার দূরে আরও ৩০টি তিমি দেখা গেছে। ওশান বিচ নামে একটি জায়গায় আরও ৩০টি তিমি চোখে পড়ে। অধিকাংশ তিমি অপেক্ষাকৃত দুর্গম স্থানে রয়েছে, ফলে উদ্ধারকর্মীদের জন্য বিষয়টি চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠেছে। স্তন্যপায়ী এ প্রাণীগুলোকে যন্ত্রের মাধ্যমে ঠেলে বালুচর থেকে গভীর পানিতে নেওয়ার চেষ্টা করছেন উদ্ধারকর্মীরা। প্রায় ৪০ জন দক্ষ উদ্ধারকর্মীর একটি দল এ কাজ করছেন। প্রাণীগুলো ভাসতে সক্ষম হলে, তাদের আরও গভীর পানিতে নেওয়ার চেষ্টা করা হবে। পাইলট তিমি প্রায় ৭ মিটার (২৩ ফুট) পর্যন্ত লম্বা হতে পারে এবং এদের ওজন প্রায় ৩ টন (৩০০০ কেজি) পর্যন্ত হতে পারে।
মুম্বাইয়ের কাছে ভবন ধসে নিহত ১০
২১সেপ্টেম্বর,সোমবার,আন্তর্জাতিক ডেস্ক,নিউজ একাত্তর ডট কম: ভারতের মহারাষ্ট্র রাজ্যের বাণিজ্যিক মুম্বাই শহরের কাছাকাছি ভিয়ান্ডি এলাকার একটি ভবন ধসে অন্তত ১০ জনের মৃত্যু হয়েছে। আজ সোমবার ভোর ৪টার দিকে তিনতলা বিশিষ্ট ভবনটি ধসে পড়ে। খবর পেয়ে জাতীয় বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনীর (এনডিআরএফ) একটি দল ভোর থেকেই উদ্ধারকাজ শুরু করেছে। এতে তাদের সঙ্গে যুক্ত হয়েছে দমকল বাহিনী ও পুলিশ। ভবন ধসে নিহতের ঘটনাকে দুঃখজনক বলেছেন ভারতের রাষ্ট্রপতি রাম নাথ কভিন্দ। তিনি আহতদের দ্রুত আরোগ্য কামনা করে স্থানীয় কর্তৃপক্ষকে উদ্ধার কাজে সহায়তা ও ত্রাণ কার্যক্রম চালনার আহ্বান জানিয়েছেন। এ ঘটনায় শোক জানিয়েছেন, দেশটির প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিও। ভারতীয় সংবাদ সংস্থা এএনআই জানিয়েছে, ইতিমধ্যেই ভেঙে পড়া বাড়িটি থেকে ১০ জনকে উদ্ধার করা হয়েছে। এখনও আরো ২০-২৫ জন ভেতরে আটকে থাকার আশঙ্কা করছেন উদ্ধারকারী দলের কর্মকর্তারা। স্থানীয় করপোরেশনের মুখপাত্র গণমাধ্যমে ১০ জনের মৃত্যুর তথ্য নিশ্চিত করেছেন। এএনআইর খবরে বলা হয়েছে, বহুলতটি ওই ভবনটি প্রায় ৪০ বছরের পুরনো। সেখানে প্রায় ২০টি পরিবার থাকতো। শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত, উদ্ধার কার্যক্রম এখনো চলছে।
সরকারবিরোধী বিক্ষোভে থাইল্যান্ডে জড়ো হচ্ছে হাজারো মানুষ
২০সেপ্টেম্বর,রবিবার,আন্তর্জাতিক ডেস্ক,নিউজ একাত্তর ডট কম: সরকারবিরোধী বিক্ষোভে থাইল্যান্ডের ব্যাংককে জড়ো হচ্ছে হাজার হাজার মানুষ। শনিবার তারা বিক্ষোভে প্রধানমন্ত্রী প্রায়ুথ চান-ওচার পদত্যাগ দাবি করে। খবর রয়টার্স ও বিবিসি। ২০১৪ সালে এক অভ্যুত্থানের মাধ্যমে ক্ষমতায় এসেছেন প্রায়ুথ চান-ওচা। পরবর্তী সময়ে বিতর্কিত নির্বাচনের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত হন তিনি। এমনকি নিজেকে এবং দলকে জয়ী করার জন্য দেশটির সংবিধানে বিতর্কিত সংশোধনীও আনেন ওচা। বিক্ষোভকারীদের অনেকেই থাইল্যান্ডের শক্তিশালী রাজতন্ত্রের পুনর্গঠনও দাবি করছেন। গত জুলাইয়ের মাঝামাঝি থেকেই থাই সরকারের অপসারণের দাবিতে বিক্ষোভ শুরু হয়েছে। নতুন সংবিধান এবং নির্বাচনের দাবি জানিয়েছে মূলত ছাত্র নেতৃত্বাধীন আন্দোলনকারীরা। থাইল্যান্ডে সাধারণত রাজপরিবারের সমালোচনা করা নিষিদ্ধ। কিন্তু সাম্প্রতিক সময়ে থাইল্যান্ডের রাজা মাহা ভাজিরালংকর্নের সমালোচনা করে দীর্ঘদিনের এ প্রথা ভাঙল বিক্ষোভকারীরা। পুলিশ জানিয়েছে, থামাসাত বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাসে কমপক্ষে পাঁচ হাজার বিক্ষোভকারী জড়ো হয়েছে। গ্র্যান্ড প্যালেসের বিপরীত পাশে অবস্থিত সানাম লঞ্জে জড়ো হয় বিক্ষোভকারীরা। ওই এলাকা জনসাধারণের জন্য উন্মুক্ত এবং সেখানে রাষ্ট্রীয় বিভিন্ন অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। থাইল্যান্ডের মানবাধিকার আইনজীবী আর্নন নামপা এক টুইট বার্তায় বলেন, আজ লোকজন তাদের অধিকার আদায়ের জন্য রাজপথে নেমেছে। তিনি এ বিক্ষোভে নেতৃত্ব দিচ্ছেন। ২০০৬ সালের ১৯ সেপ্টেম্বর থাইল্যান্ডের সাবেক প্রধানমন্ত্রী থাকসিন সিনাওয়াত্রাকে অভ্যুত্থানের মাধ্যমে ক্ষমতা থেকে সরিয়ে দেয়া হয়। তিনি জনগণের কাছে বেশ জনপ্রিয় ছিলেন। বিক্ষোভে অংশ নেয়া ৬৮ বছর বয়সী তাসাওয়ান সুয়েবথাই বলেন, আমি আমাদের সন্তানদের ভবিষ্যতের জন্য লড়াই করতে এখানে এসেছি। আমি আশা করছি, আমি যখন থাকব না তখন তারা স্বাধীন হয়ে যাবে। সরকারের পতন চেয়ে বিক্ষোভ হলেও তা ছিল বেশ শান্তিপূর্ণ। গত মাসের একটি বিক্ষোভে ১০ হাজারের বেশি মানুষ জড়ো হয়েছিল। এবার তার চেয়েও আরো বেশি মানুষ বিক্ষোভে অংশ নেবে বলে আশা প্রকাশ করে বিক্ষোভের আয়োজন করে সংগঠনগুলো। পানুপং নামে বিক্ষোভের নেতৃত্ব দেয়া এক নেতা বলেন, আমরা রাজতন্ত্রকে সঠিক স্থানে বসাতে লড়াই করে যাচ্ছি, আমরা এর বিলুপ্তি চাই না। এদিকে ওয়ান নামে ২০ বছর বয়সী এক শিক্ষার্থী বলেন, রাজতন্ত্র পুনর্গঠনের এটাই সময়। আধুনিক থাইল্যান্ডের ১৯টি সংবিধানেই রাজাকে শীর্ষস্থান প্রদান করে বলা হয়, রাজাকে অবশ্যই পূজনীয় জায়গায় রাখতে হবে। কোনো ব্যক্তিই রাজার বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগ বা পদক্ষেপ নিতে পারবে না। এটাকে সমর্থন দিয়েছে সংবিধানটির ১১২ অনুচ্ছেদ যেখানে বলা হয়, রাজপরিবারের সমালোচনাকারী ব্যক্তি গোপন বিচারের সম্মুখীন হবেন এবং তাকে দীর্ঘমেয়াদি সাজা দেয়া হবে। ২০১৪ সালের সেনা অভ্যুত্থানের পর থেকে এ আইনটি হরহামেশাই ব্যবহূত হয়ে আসছে। ২০১৫ সালে এক ব্যক্তি থাই রাজার প্রিয় কুকুরের ছবি শেয়ার করে বিদ্রূপাত্মক মন্তব্য করায় তাকে ১৫ বছরের কারাদণ্ড দেয়া হয়েছিল। বিক্ষোভকারীরা এজন্য রাজতন্ত্রের সংশোধন ও প্রধানমন্ত্রী ওচার পদত্যাগের দাবিতে জোরালো অবস্থান নিচ্ছে। এ মহামারী পরিস্থিতিতে এভাবে বিক্ষোভ করায় করোনার বিস্তার বেড়ে যেতে পারে বলে বিক্ষোভকারীদের সতর্ক করেন প্রধানমন্ত্রী প্রায়ুথ।