বৃহস্পতিবার, ফেব্রুয়ারী ২৫, ২০২১
ইউরোপগামী নৌকাডুবে ১৪০ অভিবাসীর মৃত্যু
৩০অক্টোবর,শুক্রবার,আন্তর্জাতিক ডেস্ক,নিউজ একাত্তর ডট কম: ইউরোপগামী একটি নৌকাডুবিতে অন্তত ১৪০ জন অভিবাসীর মৃত্যু হয়েছে। নৌকায় প্রায় ২০০ অভিবাসী ছিলেন। খবর বিবিসির। জাতিসংঘের অভিবাসীবিষয়ক সংস্থা আইওএম জানিয়েছে, শনিবার সেনেগাল উপকূলের বৌর শহর ছেড়ে যাওয়ার পর নৌকাটিতে আগুন ধরে এবং পরে তা ডুবে যায়। নৌকাডুবির ঘটনায় প্রায় ৬০ জনকে উদ্ধার করা হয়েছে। ধারণা করা হচ্ছে, অভিবাসীদের নিয়ে নৌকাটি স্পেনের ক্যানারি আইল্যান্ড হয়ে ইউরোপে পৌঁছানোর লক্ষ্য নিয়ে যাত্রা শুরু করেছিল। এই রুট ২০১৮ সাল থেকে পশ্চিম আফ্রিকা থেকে ইউরোপ পৌঁছার জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে। জাতিসংঘ জানিয়েছে, এটি ২০২০ সালে নৌকাডুবিতে অভিবাসীদের মৃত্যুর সবচেয়ে ভয়াবহ ঘটনা। স্পেন সরকারের তথ্য মতে, এই বছর ক্যানারি আইল্যান্ডে পৌঁছেছেন ১১ হাজারের বেশি অভিবাসী। গত বছরের তুলনায় এই সংখ্যা ছিল ২ হাজার ৫৫৭ জন।
যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘন করে আজারবাইজানে আর্মেনিয়ার হামলা, নিহত ২১
২৯অক্টোবর,বৃহস্পতিবার,আন্তর্জাতিক ডেস্ক,নিউজ একাত্তর ডট কম: বিতর্কিত নার্গোনো-কারাবাখ অঞ্চলকে কেন্দ্র করে আর্মেনীয় বাহিনীর হামলায় নতুন করে আজারবাইজানের ২১ বেসামরিক নিহত হয়েছেন। বুধবার ২৮ অক্টোবর আর্মেনীয় বাহিনী বেশ কয়েকটি ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে বলেও দাবি পাশ্ববর্তী দেশ আজারবাইজানের। বুধবারের হামলার ঘটনায় তাৎক্ষণিকভাবে অস্বীকার করেছে আর্মেনীয় প্রশাসন। বাকুর পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, বার্দা জেলার সীমান্তের কাছাকাছি ক্ষেপণাস্ত্র ছুঁড়লে হতাহতের ঘটনা ঘটে। এ নিয়ে তৃতীয়বারের মতো যুদ্ধবিরতি ভঙ্গ করলো দুদেশ। যদিও উল্টো বাকুর বিরুদ্ধে হামলার অভিযোগ তুলেছে ইয়েরেভান। বলছে, নার্গোনো-কারাবাখে আজারবাইজানের নতুন করে ধ্বংসাত্মক হামলায় বেসামরিক নাগরিক প্রাণ হারাচ্ছেন। প্রসিকিউটর জেনারেলের অফিস বলেছে, জনবহুল অঞ্চল এবং একটি শপিং-এ আঘাত হানলে ২১ বেসামরিক নাগরিক নিহত এবং কমপক্ষে ৭০ জন আহত হন। এদিকে, আর্মেনীয় প্রধানমন্ত্রীর বরাতে রিয়া নোভোস্তি গণমাধ্যম জানায়, নার্গোনো-কারাবাখের আর্মেনিয়ার সীমান্তে রুশ বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে। 'তুরস্ক, ইরানের পাশাপাশি আর্মেনিয়ার দক্ষিণ পূর্বাঞ্চল এবং দক্ষিণ পশ্চিমাঞ্চলীয় সীমান্তে রুশ বাহিনী মোতায়েন থাকবে'। ১৯৯১ সালে আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত আজারবাইজানের ভূখণ্ড নার্গোনো-কারাবাখ দখল করে নেয়া আর্মেনিয়া। তারপর থেকে সাবেক সোভিয়েত ইউনিয়নভুক্ত দেশ দুটির মধ্যে উত্তেজনা চলছে। গেলো ৩০ বছর ধরে আজারবাইজানের ২০ শতাংশ ভূখণ্ড অবৈধভাবে দখল করে রেখেছে আর্মেনিয়া। ১৯৯২ সালে সংকটের শান্তিপূর্ণ সমাধানের জন্য ফ্রান্স, রাশিয়া এবং যুক্তরাষ্ট্রের সমন্বয়ে ওএসসিই মিনস্ক গ্রুপ গঠন করা হয়। ১৯৯৪ সালে যুদ্ধবিরতির একটি চুক্তিতে একমত হয় আজারবাইজান-আর্মেনিয়া। কিন্তু সংকটের কোনো সমাধান হয়নি। জাতিসংঘের বেশ কয়েকটি প্রস্তাবনা এবং অনেক আন্তর্জাতিক সংস্থা আজারবাইজানের ভূখণ্ড ছেড়ে দেয়ার জন্য আর্মেনিয়ার প্রতি আহ্বান জানালেও তাতে সাড়া দেয়নি ইয়েরেভান। আজারবাইজানের আত্মরক্ষা এবং নার্গোনো কারাবাখ থেকে আর্মেনিয়ার উচ্ছেদ দাবি করে বাকুকে সমর্থন দিয়ে যাচ্ছে তুরস্ক। রাশিয়া, ফ্রান্স, যুক্তরাষ্ট্রসহ বিশ্বশক্তিগুলো যুদ্ধবিরতির আহ্বান জানিয়েছে।
বাংলাদেশি কর্মীদের হতাশ করা উচিত নয় ইউরোপের
২৮,অক্টোবর,বুধবার,আন্তর্জাতিক ডেস্ক,নিউজ একাত্তর ডট কম: চলতি বছর করোনাভাইরাস মহামারির কারণে বড় ধাক্কা খেয়েছে বিশ্ব অর্থনীতি। উন্নত দেশগুলোই যখন এই সংকট মোকাবিলায় হিমশিম খাচ্ছে, সেখানে বাংলাদেশের মতো উন্নয়নশীল দেশের অবস্থা আরও শোচনীয় হওয়ার কথা। তবে সরকারের দৃঢ় পদক্ষেপ ও তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেয়ায় ক্ষয়ক্ষতি যতটা মারাত্মক হওয়ার শঙ্কা ছিল, ততটা হয়নি। এ নিয়ে আবারও বিশ্ব মিডিয়ায় আলোড়ন তুলেছে বাংলাদেশ। খ্যাতনামা অনেকের মুখেই ফুটছে প্রশংসা ফুলঝুরি। সম্প্রতি ইউরোপীয় পার্লামেন্টের কর্মসংস্থান ও সমাজ বিষয়ক কমিটির ভাইস চেয়ারম্যান টমাস জেকোভস্কি বাংলাদেশের অর্থনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে সুদীর্ঘ একটি কলাম লিখেছেন। গত ২৭ অক্টোবর ইউরোপের প্রভাবশালী দ্য পার্লামেন্ট ম্যাগাজিনে প্রকাশিত লেখাটির সারমর্ম তুলে ধরা হলো জাগো নিউজের পাঠকদের জন্য- বিশ্ব অর্থনীতিতে চরম আঘাত হেনেছে করোনাভাইরাস মহামারি। এর দ্বিতীয় ঢেউ অনেক দেশেই নিষেধাজ্ঞা ফিরিয়ে এনেছে। ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ) এর সদস্য দেশগুলোর পুনর্গঠনে ৭৫০ বিলিয়ন ইউরো দিতে রাজি হয়েছে, এর মধ্যে ৩৯০ বিলিয়নই অনুদান। অন্য দেশগুলোকেও তাদের অপেক্ষাকৃত ছোট অর্থনীতি পুনরুদ্ধারে পুঁজির সর্বোচ্চ সংস্থান করতে হয়েছে। এটি বিশেষ করে উন্নয়নশীল দেশগুলোর জন্য চরম সত্য। বৃহৎ বাজারে সীমিত অথবা শূন্য যোগসূত্র থাকায় তারা নাগরিকদের জন্য স্থায়ী উদ্ধার কর্মসূচির প্রয়োজনীয় অর্থ ধার করতে অক্ষম। এর প্রভাব পড়েছে লাখ লাখ মানুষের জীবনে। বাংলাদেশ তেমনই একটি দেশ। যদিও তারা সামান্য উন্নত দেশগুলোর একটি হওয়ার চেয়েও বেশি কিছু। বাংলাদেশের বেশিরভাগই সফল উন্নয়নের গল্প। আমরা ৫০ বছরেরও কম সময়ে দেশটিতে একইসঙ্গে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি এবং গণতন্ত্র সুসংহতকরণে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি লক্ষ্য করেছি। এক্ষেত্রে ধন্যবাদ দিতে হয় ইইউ ও বাংলাদেশের মধ্যে অস্ত্র ছাড়া বাকি সব বাণিজ্য উন্মুক্তকরণকে। বাংলাদেশ ইউরোপীয় ইউনিয়নের অন্যতম বৃহৎ বাণিজ্যিক অংশীদার হয়ে উঠেছে। বাংলাদেশের পোশাক শিল্প হচ্ছে এর অর্থনীতির মেরুদণ্ড। ৪৫ লাখ কর্মী নিয়োগ ও রপ্তানির ৮০ ভাগ দখল করে এটি দেশটির এক নম্বর শিল্পে পরিণত হয়েছে। এটিই বাংলাদেশকে বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম পোশাক প্রস্তুতকারক দেশে পরিণত করেছে। এদিক থেকে তারা একমাত্র চীনের পেছনে রয়েছে। অনেক নামী-দামী পশ্চিমা ব্র্যান্ডই বাংলাদেশে নিজদের পণ্য উৎপাদন করছে। পোশাক শিল্প বাংলাদেশের জিডিপির যেমন গুরুত্বপূর্ণ অংশ, তেমনি দেশটি সম্পর্কে আন্তর্জাতিক সংবাদেরও রূপ দিচ্ছে। এ কারণেই ইইউতে এখনও অনেকে বাংলাদেশের পোশাক শিল্পকে নারীদের শোষণ এবং ২০১২ ও ২০১৩ সালে দুটি পোশাক কারখানায় ধ্বংসাত্মক ঘটনার সঙ্গে যুক্ত করে। যদিও তা ভুল। গত সাত বছরে অনেক কিছুই বদলে গেছে। ট্রেড ইউনিয়ন প্রতিষ্ঠিত হয়েছে, শ্রমিকরা আইনিভাবে ন্যূনতম মজুরির পাশাপাশি অন্য সুবিধা পাচ্ছেন। কারখানার নিরাপত্তা উল্লেখযোগ্যভাবে উন্নত হয়েছে। এর জন্য ভবনের পাশাপাশি কাপড় নিরীক্ষা বাধ্যতামূলক করার নিয়মকে ধন্যবাদ দিতে হয়। তবে করোনাভাইরাস মহামারি প্রকাশ করে দিয়েছে যে, কোনও দেশ মাত্র একটি শিল্পের ওপর নির্ভরশীল হলে তা বোঝায় পরিণত হতে পারে। উল্লেখযোগ্যভাবে চাহিদা কম থাকায় পশ্চিমা বহুজাতিক প্রতিষ্ঠানগুলো অর্ডার বাতিল করতে শুরু করেছে। কেউ কেউ নির্ধারিত উৎপাদন ব্যয় না দিয়েই সরে গেছে বলে খবর রয়েছে। দীর্ঘদিনের ব্যবসায়িক অংশীদাররা মুখ ফিরিয়ে নিয়েছে। শ্রমিকদের বেতন পরিশোধ নিশ্চিত করতে বাংলাদেশ সরকার তৈরি পোশাক কারখানাগুলোর (আরএমজি) জন্য পাঁচ হাজার কোটি টাকার একটি প্রণোদনা প্যাকেজ সরবরাহ করেছে। সরকারের এই সমর্থন আরএমজি খাতকে তাদের কর্মীদের নিয়োজিত রাখতে সহায়তা করেছে। তারপরও, ক্রেতারা যখন দৃষ্টিভঙ্গি পরিবর্তন না করেন, তীব্র সংকটের মুখোমুখি হয়ে হাজার হাজার শ্রমিক বিনা বেতনেই বাড়ি ফিরে যাওয়ার হুমকিতে পড়েন। ইউরোপীয় ইউনিয়নভিত্তিক সংস্থাসহ অনেক বহুজাতিক প্রতিষ্ঠান ফোর্স ম্যাজিউর ধারা চালু করে অর্ডারের জন্য অর্থ দেয়ার দায়িত্ব এড়িয়ে গেছে। তাদের যুক্তি, কোভিড-১৯ উত্থানের ফলে তারা চুক্তিভিত্তিক বাধ্যবাধকতা পালন থেকে অব্যাহতি পেয়েছে। এই অজুহাত অবশ্যই গ্রহণযোগ্য নয়। এটি শুধু ইউরোপীয় ব্যবসায়িক নীতির খারাপ চিত্রই তুলে ধরছে না, বরং পুরো সরবরাহ ব্যবস্থা ঝুঁকিতে ফেলেছে। বাংলাদেশের শ্রমিকরা যে কাজ করেছে, তার জন্য বেতন পাওয়ার অধিকার রয়েছে তাদের। সুতরাং, বহুজাতিক প্রতিষ্ঠানগুলো চুক্তি মেনে চলা এবং ইতোমধ্যে উৎপাদিত পণ্যের অর্থ প্রদান করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ইইউ বাজার উন্মুক্ত করে বাংলাদেশের ভবিষ্যতকে রূপ দিয়েছে। এখন এই বাজারে পরিচালিত প্রতিষ্ঠানগুলো নিয়ম মেনে চলবে তা নিশ্চিত করার সময় এসেছে। যদিও ইইউতে অনেক প্রতিষ্ঠানই স্বেচ্ছায় মানবাধিকার ও পরিবেশগত ঝুঁকির সঙ্গে যুক্ত তাদের কার্যক্রম প্রকাশ করেছে, তবে এখনও একটি বিস্তৃত এবং সুসংহত পদ্ধতি অনুপস্থিত। প্রতিষ্ঠানগুলোর জবাবদিহিতা এবং কার্যকলাপ বৃদ্ধিতে ইউরোপীয় ইউনিয়নকে সুনির্দিষ্ট সাধারণ নীতিমালা প্রস্তাব করা প্রয়োজন। এছাড়া সম্প্রদায়, ভোক্তা, বিনিয়োগকারী, সংস্থা এবং বিশেষত যারা সবচেয়ে বেশি দুর্বল, সেই শ্রমিকদের সুরক্ষায় স্বচ্ছতা প্রতিষ্ঠা প্রয়োজন। সুতরাং আসুন, আমরা তাদের ত্যাগ না করি; তারা ন্যায্য শর্তের ওপর নির্ভর করতে পারে তা নিশ্চিত করতে আমাদের সংহতি দেখাই।
রুশ বিমান হামলায় ৫৬ সিরীয় বিদ্রোহী নিহত
২৭,অক্টোবর,মঙ্গলবার,আন্তর্জাতিক ডেস্ক,নিউজ একাত্তর ডট কম: সিরিয়ায় রুশ বিমান হামলায় তুরস্ক সমর্থিত ৫৬ সিরীয় বিদ্রোহী নিহত হয়েছে। সোমবার সিরিয়ার উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলে এ হামলার ঘটনা ঘটে বলে জানায় সিরিয়ান অবজারভেটরি ফর হিউম্যান রাইটস। খবর এএফপি। যুক্তরাজ্যভিত্তিক মানবাধিকার সংস্থাটি জানায়, ইদলিব প্রদেশের জাবাল দুওয়াইলি এলাকায় ফাইলাক আল-শাম গোষ্ঠীর একটি প্রশিক্ষণ কেন্দ্রে ওই হামলায় আহত হয়েছে শতাধিক। গত মার্চে মস্কো ও আঙ্কারার মধ্যে অস্ত্রবিরতি স্বাক্ষরিত হলেও নিয়মিত বিরতিতে তা লঙ্ঘন হচ্ছে। বিদ্রোহীদের নিয়ন্ত্রণে থাকা সর্বশেষ শক্ত ঘাঁটি ইদলিবে হামলা জোরদার করেছে প্রেসিডেন্ট বাশার আল আসাদের মিত্র রুশ বাহিনী। এ হামলায় লাখো বেসামরিক সিরীয় ঘরবাড়ি থেকে পালিয়েছে। আঙ্কারার মদদপুষ্ট দ্য ন্যাশনাল লিবারেশন ফ্রন্ট বার্তা সংস্থা এএফপিকে জানায়, সোমবার রুশ বিমান হামলায় তাদের ঘাঁটিতে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। তবে এতে কতজন হতাহত হয়েছে সে বিষয়ে জানায়নি। এর আগে গত বৃহস্পতিবার মার্কিন ড্রোন হামলায় ১৭ জিহাদি নিহত হয়।
করোনার দ্বিতীয় ঢেউ, লকডাউনে ফিরেছে ইউরোপ
২৬,অক্টোবর,সোমবার,আন্তর্জাতিক ডেস্ক,নিউজ একাত্তর ডট কম: চলতি গ্রীষ্মের শুরুতে ইউরোপের অনেক দেশই ভেবেছিল যে জীবন-যাত্রা হয়তো আবারও স্বাভাবিক গতিতে ফিরে যাবে। প্যারিসের মিউজিয়াম এবং বার্সেলোনার ক্যাফেগুলোও খুলে দেওয়া হয়েছিল। যদিও আগের মতো চিরচেনা রূপে দেখা যায়নি, সবক্ষেত্রেই সীমাবদ্ধতা রাখা হয়েছে। জার্মানি, নেদারল্যান্ডস, ডেনমার্কের লোকজন ছুটি কাটাতে ভূমধ্যসাগরের বিভিন্ন বীচে ঘুরে বেরিয়েছেন। চলতি বছরের আগস্ট ও সেপ্টেম্বরে যখন শিশুরা স্কুলে ফিরতে শুরু করে তখন থেকেই নতুন করে কোভিড-১৯ সংক্রমণ বাড়তে শুরু করে। ফলে বিভিন্ন দেশের সরকার বেশ উদ্বিগ্ন হলেও কঠোর সামাজিক-দূরত্বের মতো বিধি-নিষেধ পুনরায় জারি করার বিষয়ে অনেক দেশেরই কোনো পরিকল্পনা ছিল না। ইকোনমিস্টের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইউরোপীয় দেশগুলোর রাষ্ট্রপ্রধানদের এমন সিদ্ধান্তের জন্যই তাদের চরম মূল্য দিতে হয়েছে। ইউরোপজুড়ে করোনার দ্বিতীয় ঢেউ শুরু হয়েছে। অনেক দেশেই করোনা সংক্রমণ আগের সব রেকর্ডকে ছাড়িয়ে গেছে। বিভিন্ন দেশে করোনার পরীক্ষা-নিরীক্ষা বাড়িয়ে দেওয়ায় সংক্রমণ বাড়ছে বলে জানানো হয়েছে। তবে মৃত্যুহার এখনও কিছুটা কম আছে। হাসপাতালে করোনা আক্রান্ত রোগীর সংখ্যাও বাড়ছে। বেশিরভাগ দেশই এই গ্রীষ্মকে যথাযথভাবে কাজে লাগাতে পারেনি। সে কারণেই এখন তাদের ভুগতে হচ্ছে। অনেক দেশই এখন আবার নতুন করে কড়াকড়ি ও বিধি-নিষেধ জারি করতে বাধ্য হয়েছে। ইউরোপের বিভিন্ন দেশে রেস্টুরেন্ট-বার বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। কারফিউ ও জরুরি অবস্থাও জারি করেছে বেশ কিছু দেশ। তবে করোনার দ্বিতীয় ঢেউয়ে ইউরোপে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে স্পেন। করোনা সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে কারফিউয়ের পাশাপাশি দেশজুড়ে জরুরি অবস্থা জারি করা হয়েছে। দেশটিতে রোববার থেকেই রাত্রিকালীন কারফিউ কার্যকরের ঘোষণা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী পেদ্রো সানচেজ। রাত ১১ থেকে ভোর ৬টা পর্যন্ত কারফিউ জারি থাকবে বলে জানানো হয়েছে। জরুরি অবস্থা জারির কারণে স্থানীয় প্রশাসন এক অঞ্চল থেকে অন্য অঞ্চলে লোকজনের ভ্রমণে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করতে পারবে বলেও উল্লেখ করেন তিনি। দেশজুড়ে ১৫ দিনের জন্য জরুরি অবস্থা এবং কারফিউ জারি করা হয়েছে। তবে এই সময়সীমা আরও বাড়ানো হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। নতুন বিধি-নিষেধের কারণে গণজমায়েত বা ব্যক্তিগত সাক্ষাতেও কিছু সীমাবদ্ধতা আরোপ করা হয়েছে। সর্বোচ্চ ছয়জন একসঙ্গে সমবেত হতে পারবেন। ওয়ার্ল্ডোমিটারের পরিসংখ্যান বলছে, স্পেনে এখন পর্যন্ত করোনায় আক্রান্তের সংখ্যা ১১ লাখ ১০ হাজার ৩৭২। এর মধ্যে মারা গেছে ৩৪ হাজার ৭৫২ জন। সংক্রমণে স্পেনের কাছাকাছি রয়েছে ফ্রান্স। দেশটিতে করোনার দৈনিক সংক্রমণ অর্ধলাখ ছাড়িয়ে গেছে। যা আগের সব রেকর্ড ভেঙেছে। দেশটিতে গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে আক্রান্ত হয়েছে ৫২ হাজার ১০ জন। এখন পর্যন্ত দেশটিতে এটাই সর্বোচ্চ আক্রান্তের সংখ্যা। পাবলিক হেলথ ফ্রান্স (এসপিএফ) জানিয়েছে, দেশটিতে গত ২৪ ঘণ্টায় মারা গেছে আরও ১১৬ জন। দেশটিতে করোনা মহামারি শুরুর পর এখন পর্যন্ত সংক্রমণে মৃত্যু হয়েছে ৩৪ হাজার ৭৬১ জনের। শুক্রবার সপ্তম দেশ হিসেবে দশ লাখ করোনার সংক্রমণ ছাড়িয়েছে ফ্রান্সে। সংক্রমণ ঠেকাতে রাজধানী প্যারিসসহ দেশজুড়ে আবারও রাত্রিকালীন কারফিউ জারি করেছে দেশটির সরকার। ফ্রান্সে দৈনিক গড় মৃত্যু টানা দশদিন ধরে বাড়ছেই। সম্প্রতি ফরাসি প্রেসিডেন্ট এমানুয়েল ম্যাক্রোঁ সতর্ক করেছেন যে, করোনার প্রভাব আগামী গ্রীষ্ম পর্যন্ত থাকবে। এক বিবৃতিতে বলেন, তার দেশের লোকজনকে কমপক্ষে আগামী বছরের মাঝামাঝি পর্যন্ত করোনাভাইরাসের সঙ্গে লড়াই করতে হবে। ওয়ার্ল্ডোমিটারের পরিসংখ্যান বলছে, ফ্রান্সে এখন পর্যন্ত মোট আক্রান্তের সংখ্যা ১১ লাখ ৩৮ হাজার ৫০৭। এর মধ্যে মারা গেছে ৩৪ হাজার ৭৬১ জন। তবে ইতোমধ্যেই সুস্থ হয়ে উঠেছে ১১ লাখ ৩২২ জন। গত ৩১ ডিসেম্বর চীনের হুবেই প্রদেশের উহান শহরে প্রথম করোনার প্রাদুর্ভাব দেখা দেয়। সে সময় ইউরোপের দেশগুলোর মধ্যে ইতালি এবং স্পেন ছিল করোনায় সবচেয়ে বিপর্যস্ত। বর্তমানে বেলজিয়াম এবং নেদারল্যান্ডেও করোনা উদ্বেগ বাড়িয়েছে। বেলজিয়ামের স্বাস্থ্যমন্ত্রী ফ্রাংক ভানদেনব্রুক সতর্ক করে বলেছেন, আমরা হয়তো একটি বিপর্যয়ের খুব কাছাকাছি রয়েছি। দেশটিতে সব ধরনের রেস্টুরেন্ট ও বার বন্ধ রাখা হয়েছে। এছাড়া মধ্যরাত থেকে ভোর ৫টা পর্যন্ত কারফিউ জারি করা হয়েছে। দেশটিতে এখন পর্যন্ত মোট আক্রান্তের সংখ্যা ৩ লাখ ২১ হাজার ৩১। এর মধ্যে মারা গেছে ১০ হাজার ৮১০ জন। এদিকে, নেদারল্যান্ডেও সংক্রমণ আশঙ্কাজনক হারে বাড়ছে। চলতি সপ্তাহে দেশজুড়ে চার সপ্তাহের জন্য রেস্টুরেন্ট বন্ধ ঘোষণা করা হয়। একই সঙ্গে ঘরের বাইরে মাস্ক ব্যবহার বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। দেশটিতে এখন পর্যন্ত আক্রান্তের সংখ্যা ২ লাখ ৯১ হাজার ২৫৪। এর মধ্যে মারা গেছে ৭ হাজার ৪৬ জন। ইউরোপে প্রথমদিকে করোনা মহামারি ছড়িয়ে পড়ার পর ইতালির অবস্থা ছিল সবচেয়ে ভয়াবহ। দেশটি যেন এক মৃত্যুপুরীতে পরিণত হয়েছিল। মাঝে কিছুদিন সংক্রমণ কিছুটা কম থাকলেও নতুন করে আবারও বাড়তে শুরু করেছে। দেশটিতে এখন পর্যন্ত মোট করোনায় আক্রান্তের সংখ্যা ৫ লাখ ২৫ হাজার ৭৮২। অপরদিকে সংক্রমণে মৃত্যু হয়েছে ৩৭ হাজার ৩৩৮ জনের। পোল্যান্ডে রেড জোন লকডাউন জারি করা হয়েছে। দেশের প্রাথমিক বিদ্যালয় এবং রেস্টুরেন্টে আংশিক নিষেধাজ্ঞা জারি রয়েছে। সম্প্রতি দেশটির প্রেসিডেন্ট আন্দ্রেজ দুদা করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন। তবে ৪৮ বছর বয়সী এই প্রেসিডেন্টের অবস্থা ভালো রয়েছে বলে নিশ্চিত করেছেন তার মুখপাত্র। দেশটিতে করোনা সংক্রমণ বেড়ে যাওয়ায় নতুন করে বিধি-নিষেধ জারি করা হয়েছে। সেখানে পাঁচজনের বেশি মানুষের সমবেত হওয়ার ওপর নিষেধাজ্ঞা আনা হয়েছে। এছাড়া ছোট শিশুদের অবশ্যই প্রাপ্ত বয়স্ক কারও সঙ্গে বের হতে হবে। অপরদিকে, ৭০ বছরের বেশি বয়সীদের বাড়ির বাইরে বের হওয়ার ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি হয়েছে। এখন পর্যন্ত দেশটিতে মোট আক্রান্তের সংখ্যা ২ লাখ ৫৩ হাজার ৬৮৮। অপরদিকে মারা গেছে ৪ হাজার ৪৩৮ জন। জার্মানিতে করোনা সংক্রমণ কমিয়ে আনতে বিভিন্ন পদক্ষেপ নেওয়া হলেও বার্লিনে সংক্রমণ বাড়ছেই। করোনার সংক্রমণ যেসব এলাকায় বেশি সেখানে রেস্টুরেন্ট এবং বার আগেই বন্ধ করে দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এছাড়া মাস্ক ব্যবহারেও নির্দেশনা জারি হয়েছে। দেশটিতে এখন পর্যন্ত করোনায় আক্রান্তের সংখ্যা ৪ লাখ ৩৭ হাজার ৬৩৭। এর মধ্যে মারা গেছে ১০ হাজার ১৩৮ জন। তবে ইউরোপের দেশগুলোর মধ্যে এখন পর্যন্ত সবচেয়ে বেশি মৃত্যু দেখেছে যুক্তরাজ্য। দেশটিতে আক্রান্তের সংখ্যা ৮ লাখ ৭৩ হাজার ৮শ। এর মধ্যে মারা গেছে ৪৪ হাজার ৮৯৬ জন। লাতিন আমেরিকার পর দ্বিতীয় অঞ্চল হিসেবে মহামারি করোনায় আড়াই লাখ মৃত্যু ছাড়িয়েছে ইউরোপে। পরিস্থিতি বেশ উদ্বেগজনক বলে সতর্ক করেছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা। গত বৃহস্পতিবার ইউরোপে প্রথমবারের মতো একদিনে দুই লাখের বেশি সংক্রমণ শনাক্ত হয়। এ ছাড়া চলতি সপ্তাহে দৈনিক সর্বোচ্চ করোনা সংক্রমণের রেকর্ড হয়েছে ইউরোপের দক্ষিণাঞ্চলীয় বেশিরভাগ দেশে। ফলে নতুন করে বিধিনিষেধ আরোপ করতে বাধ্য হচ্ছে স্থানীয় প্রশাসন। বিশ্বে মহামারি করোনায় মোট মৃত্যুর ১৯ শতাংশ এবং মোট শনাক্ত সংক্রমণের ২২ শতাংশই ইউরোপে। ওই অঞ্চলে এ পর্যন্ত শনাক্ত ৮০ লাখের বেশি কোভিড-১৯ রোগীর মধ্যে যে আড়াই লাখ মারা গেছে এর মধ্যে দুই তৃতীয়াংশই কয়েকটি দেশে। ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসন বলেছেন, ভ্যাকসিনের ওপর নির্ভর করতে পারে না ব্রিটেন আর তাই মহামারির বিস্তার ঠেকাতে কিংবা লাগাম টানতে বিধি-নিষেধসহ ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
চীনের ধুলায় করোনা আসতে পারে, সতর্ক থাকতে বলল উ. কোরিয়া
২৫,অক্টোবর,রবিবার,আন্তর্জাতিক ডেস্ক,নিউজ একাত্তর ডট কম: চীন থেকে এশিয়ান ডাস্ট বা ইয়েলো ডাস্ট করোনা ভাইরাস নিয়ে আসতে পারে বলে আশঙ্কা করছে উত্তর কোরিয়া। এ কারণে এরইমধ্যে দেশটি নিজেদের নাগরিকদের সতর্ক করে ঘরে থাকতে আহ্বান জানিয়েছে। এই সতর্কতার পরে রাজধানী পিয়ংইয়ংয়ের রাস্তাগুলো বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) কার্যত খালি ছিল বলে জানা গেছে। বিবিসির খবরে বলা হয়েছে, গোপনীয়তা রক্ষা করে চলা উত্তর কোরিয়া নিজেদের করোনা ভাইরাস মুক্ত বলে দাবি করছে। কিন্তু গত জানুয়ারি থেকেই দেশটি উচ্চ সতর্কতায় রয়েছে কঠোর সীমান্ত বন্ধ এবং চলাচলে নিষেধাজ্ঞার মাধ্যমে। চীনের সিজনাল ধুলা এবং করোনা ভাইরাসের মধ্যে কোনো লিঙ্ক আছে কি-না জানা নেই কারও। এরপরও উত্তর কোরিয়ার বাড়তি সতর্কতায় সংশ্লিষ্টদের অনেকেই ইতিবাচক বলে জানা গেছে। যদিও এই দুইয়ের মধ্যে কোনো লিঙ্কের পরামর্শ দেওয়ার জন্য এরাই একমাত্র দেশ নয়। তবে বিবিসির একটি টিম বের করেছে, তুর্কমেনিস্তানেও ভাইরাস এবং ক্ষতিকর ধুলার কারণে নাগরিকরা মাস্ক পরছেন। তারা শুধু একটি প্রাদুর্ভাব মোকাবিলা করার চেষ্টা অস্বীকার করছেন। প্রতিবেদন বলছে, ক্ষতিকারক ভাইরাসের আক্রমণ থেকে রক্ষার জন্যও উত্তর কোরিয়ায় এ সতর্কতা দেওয়া হয়েছে। রাষ্ট্র-নিয়ন্ত্রিত কোরিয়ান সেন্ট্রাল টেলিভিশন (কেসিটিভি) বুধবার (২১ অক্টোবর) আবহাওয়া সংক্রান্ত বিশেষ সম্প্রচারে বলেছে, হলুদ ধুলার প্রবাহ বাড়তে পারে। পরের দিন বৃহস্পতিবার এই প্রবাহ বেশি বাড়তে পারে। এজন্য দেশব্যাপী বাইরে নির্মাণকাজ বন্ধ রাখতেও ঘোষণা দিয়েছে কর্তৃপক্ষ। হলুদ ধুলা সাধারণত মঙ্গোলিয়ান এবং চীনা মরুভূমির বালিকে বোঝায়। যা বছরের একটা নির্দিষ্ট সময়ে উত্তর এবং দক্ষিণ কোরিয়ায় গিয়ে প্রবাহিত হয়। এটি বিষাক্ত ধুলার সঙ্গে মিশে গেছে। যা বছরের পর বছর ধরে উভয় দেশেই স্বাস্থ্য উদ্বেগ বাড়িয়ে তুলছে। উত্তর কোরিয়ার রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম যুক্তি দেখিয়েছে, করোনা ভাইরাসকে বায়ুবাহিত সংক্রমণের সঙ্গে সংযুক্ত করলে এবং গবেষণা মেলালে হলুদ ধলার প্রবাহকে গুরুত্বের সঙ্গে নেওয়া উচিত। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের সেন্টারস ফর ডিজিজ কন্ট্রোলও জানিয়েছিল, করোনা ভাইরাস কয়েক ঘণ্টা বাতাসে থাকতে পারে। তবে কাউকে এভাবে সংক্রমিত করা অত্যন্ত বিরল বলেও উল্লেখ করেছেন অনেক গবেষক। এদিকে, উত্তর কোরিয়ায় করোনা ভাইরাস আক্রান্ত শনাক্ত কোনো রোগী এখন নেই দাবি করা সত্ত্বেও গভীর উদ্বেগে রয়েছে দেশটি। উচ্চ সতর্কতা এবং কঠোর বিধিনিষেধ নিশ্চিত করার জন্য দেশটির নেতা কিম জং উন বার বার উচ্চস্তরের বৈঠক করছেন।
শিশু নিপীড়নের অভিযোগে অস্ট্রেলিয়ায় গ্রেফতার ৪৪
২৪,অক্টোবর,শনিবার,আন্তর্জাতিক ডেস্ক,নিউজ একাত্তর ডট কম: শিশুদের আটকে রেখে যৌন নির্যাতনসহ নিপীড়নের ছবি ও ভিডিও বানিয়ে সেগুলো অনলাইনে পোস্ট করার কাজে জড়িত সন্দেহে ৪৪ জনকে গ্রেফতার করেছে অস্ট্রেলিয়ান ফেডারেল পুলিশ (এএফপি)। সন্দেহভাজনদের গ্রেফতারের পাশাপাশি পুলিশ ১৬ শিশুকে উদ্ধার করেছে। খবর বিবিসি। অনলাইনে শিশু নিপীড়নের নানা ছবি ও ভিডিওর সূত্র ধরে প্রায় এক বছর ধরে তদন্তের পর পুলিশ এসব সন্দেহভাজনকে গ্রেফতার করেছে। অস্ট্রেলিয়ার বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যে অভিযান চালিয়ে তাদের আটক করা হয়। তাদের বিরুদ্ধে মোট ৩৫০টি অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে বলে পুলিশ জানিয়েছে, যার সবগুলোই শিশুদের আটকে রাখা ও নির্যাতন সম্পর্কিত। গ্রেফতারকৃতরা একটি ক্লাউড স্টোরেজ প্লাটফর্ম ব্যবহার করে শিশুদের নিপীড়নের ভিডিও ও ছবি আদান-প্রদান করত। পুলিশ কমিশনার রিস কারশউ জানান, গ্রেফতারকৃতরা সমাজের নানা খাতে কাজ করেন। তাদের কেউ কেউ নির্মাণ, কেউ পরিবহন, প্রশাসন ও সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠানে কর্মরত।
আজ মরুভূমি, ১৭২ বছর আগে এখানেই বয়েছিল নদী
২৩,অক্টোবর,শুক্রবার,আন্তর্জাতিক ডেস্ক,নিউজ একাত্তর ডট কম: থর মরুভূমির মাঝে ১৭২ হাজার বছরের প্রাচীন লুপ্ত নদীর সন্ধান পেলেন গবেষকরা। তাদের দাবি, একদা এই নদীর তীর ধরেই ভারতীয় ভূখণ্ডে প্রবেশ করেছিল আদিম মানুষ। সম্প্রতি কোয়াটার্নারি সায়েন্স রিভিউ জার্নালে প্রকাশিত এক নিবন্ধে বলা হয়েছে, থর মরুভূমির মধ্য ভাগে নল গ্রামের কাছে এক খাদানে অবলুপ্ত সেই নদীর একাধিক চিহ্ন খুঁজে পেয়েছেন বিজ্ঞানীরা। গবেষকদলে ছিলেন জার্মানির দ্য ম্যাক্স প্ল্যাঙ্ক ইনস্টিটিউট ফর দ্য সায়েন্স অফ হিউম্যান হিস্ট্রি, তামিল নাডুর আন্না বিশ্ববিদ্যালয় এবং আইআইএসইআর কলকাতার বিজ্ঞানীরা। তাদের দাবি, প্রস্তরযুগে থর মরুভূমি অঞ্চলের চরিত্র একেবারেই ভিন্ন প্রকৃতির ছিল। রাজস্থানের বিকানেরে সেই আদিম নদীখাতের কিছু প্রমাণ পাওয়া গেছে। এই খাদান থেকে কাছাকাছি বর্তমান নদীর দূরত্ব ২০০ কিলোমিটারের বেশি। গবেষকরা জানিয়েছেন, একদা যেখানে বয়ে নদী, আজ সেখানেই রয়েছে বিস্তীর্ণ শুকনো মরুভূমি অঞ্চল। নদীখাত সরে যাওয়ার ফলেই এই প্রাকৃতিক পরিবর্তন ঘটেছে। গবেষকরা মনে করছেন, এ যাবৎ থর মরুভূমির মধ্যে দিয়ে কোনও নদীর বয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা খতিয়ে দেখা হয়নি। এই নদীপথ ধরেই অতীতে একাধিক প্রজাতির পরিযোজন ঘটেছিল। উপগ্রহ চিত্র বিশ্লেষণ করে তাঁরা দেখেছেন, এক সময় থর মরুভূমির উপর দিয়ে বেশ কিছু নদীখাত বয়ে গিয়েছিল। তবে ঠিক কোন সময়ে এই অঞ্চল নদীমাত্রিক ছিল, তা এখনও সঠিক নির্ণয় করা যায়নি। আন্না বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক হেমা অচ্যুথানের মতে, সাক্ষ্য-প্রমাণ জোগাড় করতে হলে মরুভূমির মধ্যভাগে খনন প্রয়োজন। তবে ইতোমধ্যে অবলুপ্ত নদীর বালি ও পাথরের সন্ধান পাওয়া গেছে মাটির নীচে। নদীর স্রোতে বয়ে আসা সেই পলি বিশ্লেষণ করে দেখেছেন গবেষকরা। প্রাথমিক অনুসন্ধান বলছে, নদীর বয়ে আনা কোয়ার্টজ পাথরের কুচি প্রায় ১৭২ ও ১৪০ হাজার বছর আগে সেখানে জমা হয়েছিল। অনুসন্ধানে আরও জানা গেছে, , ৯৫ থেকে ৭৮ হাজার বছর আগেও স্রোতস্বীনী ছিল এই নদী। এর পরেই নদীখাত শুকিয়ে যেতে থাকে। তবে ২৬,০০০ বছর আগে ফের একবার নদীর মরা খাতে স্রোত ফিরেছিল, সে প্রমাণও পাওয়া গেছে।
আর্মেনিয়া-আজারবাইজান যুদ্ধ: শান্তি আলোচনায় যুক্ত হচ্ছে বৈশ্বিক পরাশক্তি
২২,অক্টোবর,বৃহস্পতিবার,আন্তর্জাতিক ডেস্ক,নিউজ একাত্তর ডট কম: নাগোর্নো-কারাবাখ নিয়ে আর্মেনিয়া ও আজারবাইজানের মধ্যে চলমান যুদ্ধ বন্ধের আলোচনায় আন্তর্জাতিক পরাশক্তিগুলো সম্পৃক্ত হতে যাচ্ছে। ফলে এ অঞ্চলে শান্তি প্রতিষ্ঠায় ইতিবাচক অগ্রগতির সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। খবর রয়টার্স। নাগোর্নো-কারাবাখে সংঘাত বন্ধের বিষয়ে ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ) ও নর্থ আটলান্টিক ট্রিটি অর্গানাইজেশনের (ন্যাটো) নেতাদের সঙ্গে আলোচনায় বসবেন আর্মেনিয়ার প্রেসিডেন্ট আরমেন সারকিসিয়ান। এ লক্ষ্যে তিনি গতকাল ব্রাসেলসের উদ্দেশে যাত্রা করেছেন। এদিকে যুদ্ধ বন্ধে বৈশ্বিক কূটনৈতিক উদ্যোগের অংশ হিসেবে আজারবাইজান ও আর্মেনিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রীরাও রুশ প্রতিনিধিদের সঙ্গে আলোচনার জন্য মস্কোর উদ্দেশে উড়াল দিয়েছেন। এ রাশিয়ার মধ্যস্থতাতেই বিবদমান দেশ দুটির মধ্যে যুদ্ধবিরতি চুক্তি হয়। অবশ্য শেষ পর্যন্ত এ যুদ্ধবিরতিও সংঘর্ষ থামাতে পারেনি। রাশিয়া সফর শেষে দুই দেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা ওয়াশিংটন যাবেন। শুক্রবার সেখানে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মাইক পম্পেওয়ের সঙ্গে তাদের বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে। আন্তর্জাতিক মহলের এ সংশ্লিষ্টতায় নাগোর্নো-কারাবাখ নিয়ে আর্মেনিয়া ও আজারবাইজানের মধ্যে বিরোধ নিষ্পত্তিতে আশার সঞ্চার হয়েছে। আর্মেনিয়ার প্রেসিডেন্টের দপ্তর থেকে এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, আমরা আশা করছি, ন্যাটো ও ইইউ নেতারা নাগোর্নো ও কারাবাখে আজারবাইজান ও ন্যাটো সদস্য তুরস্কের সামরিক কার্যক্রম বন্ধে সম্ভাব্য সব পদক্ষেপই গ্রহণ করবেন। এমনটি হলে যুদ্ধবিরতি চুক্তি আবার প্রাণ ফিরে পাবে। আর্মেনিয়ার অভিযোগ, নাগোর্নো-কারাবাখের যুদ্ধে আজারবাইজানকে সহযোগিতা করার জন্য সেখানে সৈন্য পাঠিয়েছে তুরস্ক। তবে আঙ্কারা এ অভিযোগ নাকচ করে বলেছে, এ যুদ্ধে তাদের সরাসরি কোনো ভূমিকা নেই।

আন্তর্জাতিক পাতার আরো খবর