২৪ জুন থেকে গাড়ি চালাবেন সৌদি নারীরা
সৌদি আরবের নারীরা রোববার (২৪ জুন) থেকে গাড়ি চালাবেন। অনেক তর্ক-বিতর্কের পর নারীদের গাড়ি চালানোর এ অনুমতি দেওয়া হয়। খবর দিয়েছে কাতারভিত্তিক টেলিভিশন আলজাজিরা। বিশ্বের একমাত্র দেশ সৌদি আরবে নারীদের ওপর গাড়ি চালানোয় নিষেধাজ্ঞা জারি ছিল। সম্প্রতি সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানের উদ্যোগে নেওয়া সংস্কার প্রস্তাবে গাড়ি চালানোয় নারীদের ওপর এই নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়ার ঘোষণা দেওয়া হয়। ওই ঘোষণার ধারাবাহিকতায় কাল থেকে নিষেধাজ্ঞা উঠছে। পর্যবেক্ষকদের মতে, সৌদি আরবের এই সিদ্ধান্ত দেশটিতে সামাজিক গতিশীলতা আনবে এবং বহির্বিশ্বের সঙ্গে তাল মিলিয়ে এগিয়ে যেতে সহায়তা করবে। সৌদিপন্থি প্রতিষ্ঠান অ্যারাবিয়া ফাউন্ডেশনের নাজাহ আল ওতাইবির মতে, এটা একটা স্বস্তির সিদ্ধান্ত। সৌদি নারীরা সুবিচার পেয়েছে বলেও তিনি মনে করেন। আগামী ২০২০ সালের মধ্যে সৌদি সরকার ৩০ লাখ নারীকে গাড়ি চালানোর লাইসেন্স দেবে। এ ছাড়া রিয়াদ এবং জেদ্দার মতো বড় শহরে ইতোমধ্যেই নারীদের গাড়ি চালানো শেখাতে বিশেষ ড্রাইভিং স্কুল খোলা হয়েছে। ব্লুমবার্গ ম্যাগাজিনের মতে, এমন যুগান্তকারী সিদ্ধান্তে নারীদের ক্ষমতায়নের কারণে ২০৩০ সাল নাগাদ সৌদি অর্থনীতিতে বাড়তি ৯০ বিলিয়ন ডলার যুক্ত হতে যাচ্ছে। সৌদি আরবের নারী সাংবাদিক হানা আল খামরি জানান, নারীরা সৌদি আরবে পিতৃতান্ত্রিক ব্যবস্থায় বাস করে। নারীদের গাড়ি চালানোর সিদ্ধান্ত লিঙ্গবৈষম্য এবং সমাজ পরিবর্তনে সহায়ক হবে বলেও মনে করেন তিনি।
এলাহি কাণ্ড রাশিয়ায়
এলাহি কাণ্ড মস্কোতে। এখানে ড্যান্স পার্টি তো ওখানে সেক্স ডল দিয়ে সাজানো নিষিদ্ধপল্লী। আছে চকোলেট বার। আছে ইলেক্ট্রনিক্সের দোকান। প্রতিটি দোকানে, স্টোরে, রেস্তোরাঁয় খেলার টিম বুঝে সেভাবে সাজানো হচ্ছে প্রতিদিন। ড্যান্স পার্টিগুলোর জন্য রাশিয়ান মেয়েদের নেয়া হয়েছে। আগে থেকেই এ প্রস্তুতি। যারা ভালো ইংরেজি জানেন এমন যুবতীদের নেয়া হয়েছে ড্যান্স পার্টিগুলোতে। তারপরও তাদের ভাব বিনিময়ে অনেকটাই কষ্ট হচ্ছে বিদেশিদের সঙ্গে। রাত নামার সঙ্গে সঙ্গে ড্যান্স পার্টিগুলোতে হাই বিটে বেজে উঠছে গান। তার মাঝে রঙিন আলোর ঝলকানি। উন্মাতাল নাচছেন সবাই। জুটে যাচ্ছে সাময়িক সময়ের জন্য কোনো সঙ্গীনি। তাকে জড়িয়ে ধরে কোনো এক যুবক মেতে উঠছেন। হারিয়ে যাচ্ছেন আলো-আঁধারির খেলায়। হয়তো তাকে নিয়ে যাচ্ছেন নিজের হোটেল কক্ষে। এ মনি ড্যান্স পার্টিগুলো সন্ধ্যার পর থেকে শুরু হয়ে চলছে সারারাত। সকালে সূর্য উঠার পূর্ব পর্যন্ত এভাবেই চলছে। আর সঙ্গে চলছে ওয়াইন, মদের রমরমা বিকিকিনি। মস্কোর রেড স্কোয়ারে যাওয়ার পথে নুবিয়ানকা স্কোয়ার। তার পাশ দিয়ে হেঁটে যাচ্ছেন পর্যটকদের দল। তারা যে সেখানে মজা করতে গিয়েছেন তা তাদেরকে দেখেই বোঝা যায়। ওই এলাকায় পর্যটকদের দৃষ্টি আকর্ষণ করতে দেয়া হচ্ছে নানা অফার। একটি বারের নাম দেয়া হয়েছে ‘ফুটবল পার্টি বার’। তারা ইংলিশভাষী পর্যটকদের দৃষ্টি আকর্ষণের চেষ্টা করছেন। এ বারটির মালিক ৩৩ বছর বয়সী আলেকজান্দার আব্রামোভ। তিনি বলেছেন, তারা প্রতিদিন সেখানে দুপুরের খাবার, রাতের খাবার পরিবেশন করেন এবং ৯০ এর দশকের ড্যান্স পার্টি আয়োজন করেন। তা চলতে থাকে সূর্যোদয় পর্যন্ত। আর তাতে উপস্থিত থাকেন রাশিয়ার দৃষ্টিনন্দন সুন্দরী যুবতীরা। এখানেই শেষ নয়। মস্কো সিটির কাছেই একটি নতুন উদ্যোগ নিয়েছেন দমিত্রি আলেকজানদ্রোভ। তিনি মে মাসেই উদ্বোধন করেছেন ‘দ্য ডলস হোটেল’। দেখতে হুবহু মানুষের মতো এমন মেয়ে ডল দিয়ে সাজানো হযেছে এটি। এসব ডল বা পুতুলের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করতে হলে প্রয়োজন অর্থ। সেখানেও ভিড়। অনেক পুরুষ ঝামেলাহীন যৌন সম্পর্ক স্থাপন করতে ছুটে যাচ্ছেন সেখানে। আলেকজানদ্রোভ বলেছেন, আমি অনেক বেশি বিদেশি পর্যটককে আকর্ষণ করতে চাই। গত সপ্তাহেই তার ব্যবসা বা খদ্দেরের সংখ্যা বৃদ্ধি পেয়েছে শতকরা ১৫ ভাগ। এর বেশিরভাগই স্প্যানিশ। অনেক পুরুষ সেখানে যাচ্ছেন যুবতীদের মতো দেখতে এমন সেক্স ডলের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করতে।
জাতিসংঘের মানবাধিকার কাউন্সিল থেকে বেরিয়ে আসার ঘোষণা
আন্তর্জাতিক ডেস্ক রিপোর্ট : জাতিসংঘের মানবাধিকার কাউন্সিল থেকে বেরিয়ে আসার ঘোষণা দিলো যুক্তরাষ্ট্র।এ সংস্থাটিকে তারা নোংরা ও রাজনৈতিক পক্ষপাতদুষ্ট বলে অভিহিত করেছে। জাতিসংঘে মার্কিন রাষ্ট্রদূত নিকি হ্যালি এক প্রেস কনফারেন্সে বলেন,স্বার্থপরায়ণ এই কাউন্সিল আসলে মানবাধিকারের রসিকতা করে।-বিবিসি গত বছরও এই কাউন্সিলকে ‘ইসরায়েল-বিরোধী’ আখ্যা দিয়েছিলেন হ্যালে। নিকি হ্যালি প্রকাশ্যে হুমকি দিয়েছিলেন, জাতিসংঘের মানবাধিকার কাউন্সিল ধারাবাহিক ইসরায়েলবিদ্বেষী ভূমিকা পালন করে যাচ্ছে। এখান থেকে সরে না আসলে যুক্তরাষ্ট্র কমিশন ছেড়ে যাবে। জেনেভাভিত্তিক এ সংস্থাটি প্রতিষ্ঠিত হয় ২০০৬ সালে। প্রেস কনফারেন্সে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মাইক পম্পেও উপস্থিত ছিলেন। মানবাধিকার সংস্থাগুলো যুক্তরাষ্ট্রের এ পদক্ষেপকে বিশ্বব্যাপী মানবাধিকার রক্ষার ক্ষেত্রে আঘাত বলে অভিহিত করেছেন। পম্পে বলেছেন, মানবাধিকার রক্ষার ক্ষেত্রে দুর্বল সংস্থা। জাতিসংঘ মহাসচিব বলেন, তিনি চান যুক্তরাষ্ট্র এ সংস্থায় পুনরায় ফিরে আসুক। জাতিসংঘ মানবাধিকার কমিশনার জায়েদ রা’দ আল হোসেইন বলেছেন এটি হতাশাজনক। ইসরায়েল যুক্তরাষ্ট্রের প্রশংসা করেছে।
সৌদি ফুটবল দলের বিমানে আগুন
বিশ্বকাপের শুরুটা ভালো হয়নি সৌদি আরবের। উদ্বোধনী ম্যাচেই স্বাগতিক রাশিয়ার কাছে ৫-০ গোলের বিশাল ব্যবধানে হেরে গেছে তারা। সেই ভয়াবহ দুঃস্মৃতি মাথায় নিয়ে তারা রস্তভে যাচ্ছিল উরুগুয়ের বিপক্ষে নিজেদের দ্বিতীয় ম্যাচে মাঠে নামার জন্য। তখনই ঘটল আরেকটি ভয়াবহ ঘটনা। মাঝ আকাশেই সৌদি আরবের ফুটবল দলকে বহনকারী বিমানটিতে আগুন ধরে যায়। আজ মঙ্গলবার রোস্তভ যাওয়ার পথে ভয়াবহ বিমান দুর্ঘটনা থেকে বেঁচে ফিরেছে সৌদি আরব ফুটবল দল! বুধবার রোস্তভেই উরুগুয়ের সঙ্গে সৌদির পরের ম্যাচ। আর সেখানে যাওয়ার পথে ঘটে এমন অঘটন। মাঝ আকাশেই আগুন লেগে যায় তাদের বিমানে। তাৎক্ষণিকভাবে তাদের বহন করা বিমানটি অবতরণ করে রোস্তভের বিমানবন্দরে। যদিও কোনো হতাহতের ঘটনা ঘটেনি। এ নিয়ে সৌদি আরবের ফুটবল ফেডারেশন জানায়, যান্ত্রিক ত্রুটিতেই ঘটেছে এই দুর্ঘটনা। তবে সবাই নিরাপদেই আছে, ‘সৌদি ফুটবল দলের সবাই নিরাপদে অবতরণ করেছে। তারা বর্তমানে নিজেদের টিম হোটেলেই রয়েছে। আগুনের যে ঘটনাটি ঘটেছে তা পুরোটাই ছিল দুর্ঘটনামাত্র।
সৌদিতে অগ্নিদগ্ধ হয়ে ২ বাংলাদেশি যুবকের মৃত্যু
ডেস্ক রিপোর্ট: সৌদি আরবের একটি ফোম কারখানায় অগ্নিদগ্ধ হয়ে কামরুল ইসলাম (৩৮) ও ইয়াছিন (৩৯) নামে দুই বাংলাদেশি যুবকের মৃত্যু হয়েছে। গত শনিবার স্থানীয় সময় দিবাগত রাতে দেশটির রাজধানী রিয়াদে এ ঘটনা ঘটে। ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছে নিহত দুই শ্রমিকের পরিবার। কামরুল ইসলাম কুমিল্লার চৌদ্দগ্রাম উপজেলার বাতিসা ইউনিয়নের লুদিয়ারা গ্রামের আব্দুল মালেক ভেণ্ডারের ছেলে ও ইয়াছিন একই উপজেলার চিওড়া ইউনিয়নের নেতড়া গ্রামের ওয়াদুদ মিয়ার ছেলে। নিহত কামরুলের ভাগ্নে ফয়সাল জানান, রিয়াদের ছানাইয়া এলাকায় একটি ফোম ফ্যাক্টরিতে কাজ করতেন কামরুল ও ইয়াছিন। ফ্যাক্টরির ওপরেই থাকতেন তারা। গত শনিবার রাতে ফ্যাক্টরিতে কাজ করার সময় বৈদ্যুতিক শর্টসার্কিট থেকে সৃষ্ট আগুনে দগ্ধ হয়ে তারা মারা যান। লাশ খুব শিগগির দেশে আনা হবে।
ঈদের দিনেই আফগানিস্তানে বোমা হামলা
আফগানিস্তানের নানগারহার প্রদেশের বাতিকোট জেলায় যুদ্ধবিরতি পালনকারী তালেবান ও আফগান নিরাপত্তা বাহিনীর একটি জমায়েতে বোমার বিস্ফোরণে অন্তত ২৬ জন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও ৫০ জনের বেশি। পবিত্র ঈদ-উল-ফিতর উপলক্ষে তালেবান ও আফগান বাহিনী যখন যুদ্ধবিরতি পালন করছে তখন এই হামলার ঘটনা ঘটলো। নানগারহার প্রদেশের বাতিকোট জেলায় শনিবারের এ হামলার কারণ এখনও অজানা। বোমা হামলায় তালেবান যোদ্ধা ও বেসামরিক লোকজন হতাহত হয়েছেন। উগ্রবাদী সন্ত্রাসী গোষ্ঠী ইসলামিক স্টেট বা আইএস এ হামলার দায়িত্ব স্বীকার করেছে। তবে এ সম্পর্কে বিস্তারিত কিছু জানায়নি সন্ত্রাসী গোষ্ঠীটি। এদিকে আফগান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াইস আহমাদ বারমাক তালেবান নেতাদের সঙ্গে শনিবার রাজধানী কাবুলে সাক্ষাৎ করেছেন। এছাড়া বাতিকোট জেলায় আফগান নিরাপত্তা বাহিনী ও তালেবান যোদ্ধারা ঈদের দ্বিতীয় দিনে একসঙ্গে নামাজ পড়েছে। কয়েকদিন আগেও এমন দৃশ্য আফগানিস্তানে কল্পনা করা যেত না। নামাজের পাশাপাশি তালেবান যোদ্ধা ও নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যরা এক অপরের সঙ্গে কোলাকুলি করেন। তালেবানের এক সদস্য বলেন, আমরা এখানে এসেছি আমাদের পুলিশ ও সেনাবাহিনীর ভাইদেরকে শুভেচ্ছা জানাতে। আমরা এখন যুদ্ধবিরতি পালন করছি। সবাই যুদ্ধের কারণে ক্লান্ত। যদি আমাদের নেতারা যুদ্ধবিরতি অব্যাহত রাখার নির্দেশ দেন তাহলে আমরা তা চিরদিনের জন্য পালন করে যাবো।
ড্রোন হামলায় মোল্ল্লাহ রেডিও নিহত
পাকিস্তানের মালালা ইউসুফজাইকে যে গুলি চালিয়েছিল, সেই পাক তালিবান নেতা ফজলুল্লাহর মৃত্যু হল মার্কিন ড্রোন হামলায়। ভয়েস অফ আমেরিকা শুক্রবার এই খবর নিশ্চিত করেছে। তেহরিক-ই-তালিবান পাকিস্তানের প্রধান ফজলুল্লাহ ‘মুল্লাহ রেডিয়ো’ নামে পরিচিত। মার্কিন ড্রোন হামলায় মৃত অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তির কথা বলতে গিয়ে এদিন মার্কিন আধিকারিক জানিয়েছেন, বুধবার গভীর রাতে ফজলুল্লাহকে টার্গেট করে হামলা চালানো হয়। তেহরিক-ই-তালিবান পাকিস্তানের প্রধান ফজলুল্লাহ ‘মুল্লাহ রেডিয়ো’ নামে পরিচিত। মার্কিন ফোর্সেস-আফগানিস্তানের মুখপাত্র মার্টিন ও’ডনেল জানিয়েছেন, ‘আফগানিস্তান ও পাকিস্তান সীমান্তের কুনার প্রদেশে গত ১৩ জুন সন্ত্রাসবিরোধী অভিযান চালিয়েছিল আমেরিকা। একটি কুখ্যাত সন্ত্রাসবাদী সংগঠনের এক শীর্ষ নেতাকে টার্গেট করা হয়েছিল।’ তবে ফজলুল্লাহকেই আমেরিকা টার্গেট করেছিল কি না তা স্পষ্টভাবে জানাননি তিনি। মার্কিন ড্রোন হামলায় ফজলুল্লাহের মৃত্যুর খবর এর আগেও ছড়িয়েছে। ২০১০ সালের পর থেকে চারবার তাঁর মৃত্যুর খবর প্রকাশ্যে এসেছে। ওয়াশিংটন ডিসির শীর্ষ আধিকারিক মাইকেল কুগেলম্যান এ কথা টুইটেও জানিয়েছেন। আমেরিকার দাবি, ২০১২ সালে কিশোরী মালালাকে হত্যার পরিকল্পনার মাথা ছিল ফজলুল্লাহ। তিনিই নাকি স্কুল বাস থামিয়ে তাতে চড়ে জিজ্ঞেস করেন, ‘মালালা কে?’ মালালা পরিচয় দিলে তাঁর মাথায় গুলি চালায় ফজলুল্লাহ।
সিঙ্গাপুরে ঐতিহাসিক বৈঠকে যেসব বিষয়ে সম্মত হলেন দুই নেতা
সিঙ্গাপুরে ঐতিহাসিক বৈঠকের পর কিছু বিষয়ে যৌথ ঘোষণা দেন ডোনাল্ড ট্রাম্প ও কিম জং উন। গতকাল বৈঠক শেষে তাদের স্বাক্ষর করা এক যৌথ ঘোষণায় বলা হয়, দুই দেশের মানুষের শান্তি এবং সমৃদ্ধির কথা চিন্তা করে যুক্তরাষ্ট্র ও উত্তর কোরিয়া নতুন করে সম্পর্ক স্থাপন করবে। কোরিয়া উপদ্বীপে স্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠায় দুই দেশ একসঙ্গে কাজ করবে। গত ২৭ এপ্রিল দেওয়া ঘোষণা অনুযায়ী কোরিয়া পরমাণু নিরস্ত্রীকরণের কাজ সম্পন্ন করতে কাজ করে যাবে। যুদ্ধবন্দীদের নিয়ে ব্যবস্থা নিতে একমত হয়েছে যুক্তরাষ্ট্র ও কোরিয়া। একই সঙ্গে যাদের পরিচয় পাওয়া গেছে, তাদের দ্রুত পুনর্বাসন করা হবে। ট্রাম্প ও কিম দুজনই তাদের এই যৌথ ঘোষণায় উল্লিখিত বিষয়গুলো পরিপূর্ণভাবে বাস্তবায়নের জন্য কাজ করবেন বলে অঙ্গীকার করেন। এই ঐতিহাসিক চুক্তির ফলে যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্রদের সঙ্গে কয়েক দশক ধরে চলে আসা উত্তর কোরিয়ার দ্বন্দ্বের অবসান ঘটবে বলে আশা করা হচ্ছে। এই বৈঠকের ফল নিয়ে খুব দ্রুতই দুই দেশের সরকার আবারও আলোচনায় বসবে বলেও তারা জানান।
ট্রাম্প-উনের মধ্যে বিশদ চুক্তি স্বাক্ষর
শেষ পর্যন্ত মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও উত্তর কোরিয়ার শীর্ষ নেতা কিম জং উন ‘বিশদ’ চুক্তিতে স্বাক্ষর করেছেন। মঙ্গলবার সিঙ্গাপুরের সানতোসা দ্বীপের কাপেলা হোটেলে দু্ই নেতার মধ্যে এ চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। তাৎক্ষনিকভাবে চুক্তির বিষয় জানা যায়নি। তবে ট্রাম্প বলেছেন, অতি শিগগিরই উত্তর কোরিয়া পারমাণবিক অস্ত্র নিরস্ত্রীকরণ শুরু করবে বলে তিনি আশা করছেন। দীর্ঘ দিনের বৈরি দেশ দুটির মধ্যে কূটনৈতিক প্রচেষ্টা শুরুর প্রথম ধাপেই অচলাবস্থা কেটে যাওয়ায় ধারণা করা হচ্ছে এর মাধ্যমে হয়তো উত্তর-পূর্ব এশিয়ার নিরাপত্তা মানচিত্রে পরিবর্তন আসতে যাচ্ছে। এর আগে ১৯৭২ সালে প্রায় একইভাবে প্রাক্তন মার্কিন প্রেসিডেন্ট রিচার্ড নিক্সন বেইজিং সফরকালে চীনের ক্ষমতার পালাবদল ঘটেছিল। ট্রাম্প চুক্তিটিকে ‘বিশদ চিঠি’ বলে মন্তব্য করেছেন। তবে তিনি এ বিষয়ে সুষ্পষ্ট কোনো বক্তব্য দেননি। ট্রাম্প বৈঠকের আগে বলেছিলেন, তার অতীতকে পেছনে ফেলার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। বিশ্ব এক বিশাল পরিবর্তনকে দেখবে।’ উনের সঙ্গে ‘বিশেষ সম্পর্কের বন্ধনে আবদ্ধ’ হয়েছেন উল্লেখ করে ট্রাম্প বলেছেন, উত্তর কোরিয়ার সঙ্গে এই সম্পর্ক হবে অনেক ব্যতিক্রম। তিনি বলেছেন, ‘জনগণ অনেক বেশি সন্তুষ্ট হবে এবং তারা অনেক বেশি আনন্দিত হবে এবং আমরা বিশ্বের অনেক বিপজ্জনক একটি সমস্যাকে মোকাবেলা করছি।’ কিমকে হোয়াইট হাউজে আমন্ত্রণ জানাবেন কিনা জানতে চাইলে ট্রাম্প বলেছেন, ‘অবশ্যই, আমি আমন্ত্রণ জানাব।’

আন্তর্জাতিক পাতার আরো খবর