প্রতিশ্রুত আর্থিক সহায়তার পরিমাণ অর্ধেকে নামিয়ে এনেছে যুক্তরাষ্ট্র
ফিলিস্তিনিদের সাহায্যে গঠিত জাতিসংঘের ত্রাণ তহবিলে (ইউএসআরডব্লিউএ) প্রতিশ্রুত আর্থিক সহায়তার পরিমাণ অর্ধেকে নামিয়ে এনেছে যুক্তরাষ্ট্র। বাকি অর্থ দেয়া হবে কিনা তা ভবিষ্যতে বিবেচনা করা হবে বলে জানিয়েছেন কর্মকর্তারা। এ বছর অর্থনৈতিক সহায়তা হিসেবে সাড়ে ১২ কোটি ডলার দেয়ার কথা থাকলেও এখন তার অর্ধেকেরও বেশি পরিমাণ অর্থ না দেয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে ট্রাম্প প্রশাসন। এর মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্র মূলত ফিলিস্তিনের আর্থিক মেরুদণ্ড ভাঙতে যাচ্ছে বলে এর নিন্দা জানিয়েছে আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলো। খবর আলজাজিরার। যুক্তরাষ্ট্রের এ সিদ্ধান্তে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন জাতিসংঘ মহাসচিব অ্যান্তনিও গুতেরেস। মার্কিন এ সিদ্ধান্তের ফলে ফিলিস্তিনে চলমান ত্রাণ কার্যক্রম অর্থসংকটে পড়বে বলে আশঙ্কা করছেন জাতিসংঘের কর্মকর্তারা। ফিলিস্তিনিদের জন্য জাতিসংঘের ত্রাণ কার্যক্রমের প্রায় ৩০ শতাংশ অর্থ আসে যুক্তরাষ্ট্রের কাছ থেকে। এ বাজেটেই স্বাস্থ্য ও শিক্ষাসহ অন্যান্য সেবামূলক কার্যক্রম সরবরাহ করা হয়। তবে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র হিদার নয়ার্ট বলেন, কাউকে শাস্তি দেয়ার উদ্দেশ্যে এই সিদ্ধান্ত নেয়া হয়নি। বরং এ সংস্থায় যুক্তরাষ্ট্র কিছু সংস্কার দেখতে চায় বলেই এটি করেছে। হিউম্যান রাইটস ওয়াচের নির্বাহী পরিচালক কেনেথ রথ মঙ্গলবার এক টুইটার বার্তায় বলেন, ফিলিস্তিনি শিশুদের মানবিক মৌলিক অধিকারগুলোকে আটকে দিচ্ছে ওয়াশিংটন। নরওয়েজিয়ান রিফিউজি কাউন্সিলের মহাসচিব জেন এগল্যান্ড মঙ্গলবার এক বিবৃতিতে নিজেদের সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনার জন্য যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের এ পদক্ষেপে মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে অসহায় ফিলিস্তিনি শরণার্থীদের জন্য ধ্বংসাত্মক পরিণতি বয়ে আনবে। ইসরাইল অধিকৃত পশ্চিম তীর ও গাজা, লেবানন, জর্ডান ও সিরিয়ায় বহু ফিলিস্তিনি শরণার্থী শিশু রয়েছে যারা মূলত তাদের শিক্ষার জন্য জাতিসংঘের এ তহবিলের ওপর নির্ভর করে থাকে।
হুমকি উপেক্ষা করে চিলিতে পোপ ফ্রান্সিস
পোপ ফ্রান্সিসের সফরের বিরোধিতা করে বেশ কয়েকটি গির্জা ভাঙচুর এবং তাকে বোমা মেরে উড়িয়ে দেওয়ার হুমকির পর চিলি সফরে গেছেন তিনি। মঙ্গলবার রাজধানী সান্তিয়াগোতে স্থানীয় সময় ১টা ৩০ মিনিটে পৌঁছান পোপ ফ্রান্সিস। আলজাজিরার এক প্রতিবেদনে বলা হয়, পোপ ফ্রান্সিসের কথা শোনার জন্য পাঁচ লাখের বেশি মানুষ সান্তিয়াগো শহরের একটি পার্কে জমায়েত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। পোপ ফ্রান্সিসের সফরের খবরে চিলিতে বেশ কয়েকটি ক্যাথলিক গির্জা গত শুক্রবার ভাঙচুর করেছেন বিক্ষোভকারীরা। এমনকি পোপ ফ্রান্সিস চিলি সফরে গেলে তাকে বোমা মেরে উড়িয়ে দেওয়ার হুমকিও দিয়েছিলেন তারা। শুক্রবার চিলির রাজধানীতে চারটি গির্জা ভাঙচুর করা হয়েছে। ভাঙচুর চালানোর সময়ই পোপ ফ্রান্সিসকে হুমকি দিয়ে লেখা ওই নোট রেখে যান বিক্ষোভকারীরা। স্থানীয় গণমাধ্যমগুলোর খবরে বলা হয়, ওই নোটে লেখা আছে পরের বোমাটি দিয়ে পোপ ফ্রান্সিসের শরীরের জামাকাপড় পোড়ানো হবে। এ ব্যাপারে ইতোমধ্যেই তদন্ত শুরু করেছে দেশটির সরকারি কর্তৃপক্ষ। তবে তদন্ত প্রতিবেদন কিংবা এ ব্যাপারে পরবর্তী কোনো তথ্য জানা যায়নি।
আমি বর্ণবাদী নই : ডোনাল্ড ট্রাম্প
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প গতকাল রোববার জোর দিয়ে বলেছেন, তিনি বর্ণবাদী নন। শিথলি দেশগুলোর পক্ষ থেকে অভিবাসন নিয়ে দেয়া ট্রাম্পের বক্তব্যের কঠোর নিন্দা জানানোর এবং এটা নিয়ে বিশ্বব্যাপী সমালোচনার ঝড় ওঠার পর তিনি এমন মন্তব্য করলেন। ওয়াশিংটন পোস্ট ও নিউইয়র্ক টাইমস ট্রাম্পের এ মন্তব্যের কথা প্রকাশ করে এবং বৈঠকে অংশ নেয়া ডেমোক্রেটিক সিনেটর ডিক ডারবিন নিশ্চিত করার পরও শুক্রবার টুইটার বার্তায় ট্রাম্প এমন মন্তব্যের কথা অস্বীকার করেন। ফ্লোরিডার ওয়েস্ট পাম বিচে ট্রাম্প আন্তর্জাতিক গলফ ক্লাবে মার্কিন প্রেসিডেন্ট সাংবাদিকদের বলেন,আমি বর্ণবাদী নই। আপনারা এ যাবৎ যাদের সাক্ষাতকার নিয়েছেন এক্ষেত্রে আমি আপনাদের বলতে পারি আমিই সবচেয়ে কম বর্ণবাদী ব্যক্তি। সেখানে তিনি রিপাবলিকান হাউস সংখ্যাগরিষ্ঠ নেতা কেভিন ম্যাক্কার্থির সঙ্গে নৈশভোজ করছিলেন।
হাওয়াই দ্বীপপুঞ্জের দিকে ধেয়ে আসছে ক্ষেপণাস্ত্র
আতঙ্কের ৩৮ মিনিট! শনিবার সকাল ৮টা ৭ মিনিট নাগাদ হঠাৎই বেজে উঠেছিল সকলের মোবাইল ফোন। ইনবক্সে ভেসে উঠেছিল কলাইনের বার্তাব্যালেস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হানা। এখনই নিরাপদ আশ্রয় খুঁজুন। সেনা-মহড়া নয় কিন্তু। হাওয়াই দ্বীপপুঞ্জের দিকে ধেয়ে আসছে ক্ষেপণাস্ত্র! এমনিতেই ঘনঘন হুমকি দিয়ে যাচ্ছে উত্তর কোরিয়া। কিছু দিন আগেই সে দেশের শাসক কিম জং উন বলেছিলেন, তাঁদের কাছে দারুণ শক্তিশালী ক্ষেপণাস্ত্র রয়েছে, যা পিয়ংইয়ংয়ে বসেই গোটা আমেরিকা উড়িয়ে দিতে পারে। ফলে ক্ষেপণাস্ত্র-হানার খবরটা অবিশ্বাস করতে পারেননি কেউই। আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে নিমেষে। আত্মীয়-বন্ধুদের সাহায্য চেয়ে ফোন করতে শুরু করেন বাসিন্দারা। ধোঁয়াশা কাটতে প্রায় ৩৮ মিনিট লেগে যায়। হাওয়াইয়ের গভর্নর ডেভিড ইগে জানান, কোনও এক সরকারি কর্মী ভুল করে একটা বোতাম টিপে দিয়েছিল। তাতেই ওই বিপত্তি। কী ভাবে সেটা ঘটল, তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। হাওয়াইয়ের ওয়াহু দ্বীপের বাসিন্দা অ্যাডাম কুর্ৎজের ঘুম ভেঙেছিল মোবাইলে খবর আসার মিনিট চারেক পরে। হিসেব করতে শুরু করেছিলেন পালানোর জন্য হাতে কতটুকু সময় রয়েছে। কোত্থেকে আবার শুনেছিলেন, ১৫ মিনিটের মধ্যে সব শেষ হয়ে যাবে। ওইটুকু সময়ে কোথায় পালাবেন বুঝে পাননি কুর্ৎজ। বললেন, পোষ্যদের নিয়ে আমি আর স্ত্রী জানলা-দরজা বন্ধ করে বাথরুমে আশ্রয় নিই। যদিও পরে এক বন্ধুর ফোনে জানতে পারেন, সরকারি ভুলে ওই কাণ্ড। ইগে জানান, কর্মীদের শিফ্ট বদলের সময়ে এক কর্মী ভুল করে ওই বোতামটি টিপে দিয়েছিলেন। পরে সংবাদিক বৈঠকে ইগে ও হাওয়াই বিপর্যয় মোকাবিলা দফতরের কর্তা বার্ন মিয়াগি জানান, ভবিষ্যতে যাতে এ ধরনের ভুল না হয়, লক্ষ রাখা হবে। তিনি আরও জানিয়েছেন, ইতিমধ্যেই নতুন নিয়ম জারি করা হয়েছে। সেনা মহড়া বা ক্ষেপণাস্ত্র হামলা যে কোনও ক্ষেত্রে বাধ্যতামূলক ভাবে ওই বোতামের কাছে দুজন কর্মী রাখা হবে। ভুল করে যদি মেসেজ চলেও যায়, সেটা বাতিল করার মেসেজের টেমপ্লেটও তৈরি রাখতে হবে। মার্কিন সেনাবাহিনীর তরফে জানানো হয়েছে, ওই সতর্কবার্তা চলে যাওয়ার সঙ্গে-সঙ্গে আদৌ এমন কিছু ঘটেছে কি না, কম্পিউটার সিস্টেম পরীক্ষা করে তা দেখা হয়। নর্থ আমেরিকান এয়ারোস্পেস ডিফেন্স কম্যান্ডও তড়িঘড়ি আকাশসীমা খতিয়ে দেখে জানায়, ক্ষেপণাস্ত্র হামলার চিহ্ন নেই। দ্রুত সেই খবর সরকারি দফতরগুলোকে জানানো হয়। কয়েক মিনিটের মধ্যেই সবাই টের পান, পুরোটা ভুল। কিন্তু কী ভাবে ভুল বোঝাবুঝি মেটানো হবে, সেটাই বুঝে উঠতে পারছিলেন না কেউ। ১২ মিনিটের মধ্যে ক্ষেপণাস্ত্র হানা নয়, সতর্কবার্তা পাঠানো হয়েছিল। কিন্তু সেটা শুধু বিপর্যয় মোকাবিলা দফতরের টুইটার অ্যাকাউন্টে পৌঁছয়। সকলের মোবাইল ফোন, টেলিভিশনে খবর পৌঁছতে ৮টা ৪৫ বেজে যায়। হাওয়াইয়ের সেনেটর ব্রায়ান শাৎজ বলেন, আজ যা হল, তা ক্ষমার অযোগ্য। গোটা দেশ ভয় পেয়ে গিয়েছিল। হোয়াইট হাউসের ডেপুটি প্রেস সেক্রেটারি লিন্ডসে ওয়াল্টার অবশ্য বলেন, পুরোপুরি প্রাদেশিক সরকারি কর্মীদের ভুল। ঘটনার সময়ে মার-আ-লাগোর গল্ফ কোর্সে ছিলেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। বিষয়টি জানানো হয় তাঁকেও।
আফগানিস্তানে আকাশ পথে ড্রোন হামলা, কমপক্ষে ১৭ জঙ্গি নিহত
আফগানিস্তানে আকাশ পথে ড্রোন হামলা চালিয়ে কমপক্ষে ১৭ জন আইএস জঙ্গিকে হত্যা করা হয়েছে। রোববার আফগানিস্তানের নানগারহর প্রদেশের কাছে আইএস জঙ্গিরা লুকিয়ে আছে বলে খবর পায় মার্কিন সেনাবাহিনী। মার্কিন ড্রোন হামলায় তাদের হত্যা করা হয়। একটি আর্ন্তজাতিক সংবাদসংস্থা জানিয়েছে, রোববার নানগারহর প্রদেশের হাসকা মীনা এবং আচিন জেলায় আইএস জঙ্গিদের খোঁজে ড্রোন হামলা করা হয়। আচিনে ১৪ জন এবং মীনা জেলাতে তিন আইএস জঙ্গিকে হত্যা করা হয়। আফগানিস্তানে এই প্রদেশে গত এক বছর ধরে মার্কিন সেনারা আফগান সেনাদের সঙ্গে যৌথভাবে আইএস নিধনে অভিযান চালাচ্ছে। এই এক বছরে একশর উপর আকাশ পথে হামলা করে দেশটির বিমানবাহিনী। মাটিতে অপারেশন চালানোর জন্য স্পেশাল ফোর্সও নামানো হয়। তাছাড়া, এই মুহূর্তে আফগানিস্তানে ১৪ হাজার মার্কিন সেনা রয়েছে। নানগারহার প্রদেশসহ আটটি প্রদেশে বেশ কিছুদিন আগে ২৪ ঘন্টার সেনা অভিযানে মোট ৭৬ জন জঙ্গিকে হত্যা করেছে আফগান সেনারা। ৭৬ জন জঙ্গির মধ্যে অন্তত তিনজন তালেবান কমান্ডার রয়েছে বলে জানা যায়।
ট্রাম্পের বিরুদ্ধে বর্ণবাদী আচরণের অভিযোগ তুলেছে জাতিসংঘ
আফ্রিকান অভিবাসীদের কটাক্ষ করায় মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিরুদ্ধে বর্ণবাদী আচরণের অভিযোগ তুলেছে জাতিসংঘ। ট্রাম্পকে ক্ষমা চাওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন আফ্রিকান ইউনিয়নের নেতারা। এ অবস্থায় নিজের বক্তব্য অস্বীকার করে গণমাধ্যমের বিরুদ্ধে তথ্য বিকৃতির অভিযোগ তুলেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসকারী হাইতি, এল সালভাদর ও আফ্রিকার বিভিন্ন দেশের অভিবাসীদের আবর্জনা বলে উল্লেখ করেন ট্রাম্প। এর পরপরই তার বক্তব্য নিয়ে বিশ্বজুড়ে তীব্র সমালোচনা শুরু হয়। এমন মন্তব্যকে চূড়ান্ত অপরাধ বলেও আখ্যা দেয় দক্ষিণ আফ্রিকা। এ অবস্থায় নিজের বক্তব্য অস্বীকার করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। শুক্রবার এক টুইট বার্তায় ট্রাম্প দাবি করেন, তিনি আফ্রিকান অভিবাসীদের আবর্জনা বলেননি; বরং তাদেরকে কঠোর বার্তা দিয়েছেন। গণমাধ্যমে বিরুদ্ধে তার বক্তব্য বিকৃত করে প্রচারের অভিযোগ তোলেন ট্রাম্প। বৃহস্পতিবার হোয়াট হাউসের ওভাল দপ্তরে রিপাবলিকান ও ডেমোক্রেট সিনেটরদের সঙ্গে অভিবাসী ইস্যুতে বৈঠকে কাণ্ডটি করেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। এক কথায় দু'কথায় এক পর্যায়ে হাইতি, এল সালভাদর ও আফ্রিকান অভিবাসীদের আবর্জনা বলে আখ্যা দেন তিনি। সেখানে উপস্থিত ব্যক্তিদের বরাতে মার্কিন গণমাধ্যমে এ নিয়ে সংবাদ প্রকাশিত হলে বিশ্বজুড়ে সমালোচনার ঝড় ওঠে। ক্যারাবিয়ানদের কটাক্ষ করায় তীব্র ক্ষোভ জানিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডায় বসবাসকারী হাইতির নাগরিকরা। ট্রাম্পের এ বক্তব্যকে লজ্জাজনক বলে উল্লেখ করেন তারা। হাইতির নাগরিকরা বলেন, এ ধরনের বক্তব্য সত্যিই দুর্ভাগ্যজনক। যুক্তরাষ্ট্রে সবাই সমান। প্রত্যেকের জন্য সমান সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করা উচিৎ। বিতাড়িত করা, বা এরকম অনাকাঙ্ক্ষিত শব্দ লজ্জাজনক। শুক্রবার রাজধানী পোর্ট অ প্রিন্সে আয়োজিত শোকসভায়ও ট্রাম্পের বক্তব্যের তীব্র সমালোচনা করেন হাইতিয়ানরা। এছাড়া, ট্রাম্পের বক্তব্য প্রত্যাখ্যান করে আফ্রিকানদের ইতিহাস জানার জন্য মার্কিন প্রেসিডেন্টের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন কেনিয়রা। তারা বলেন, ট্রাম্পের বক্তব্য এড়িয়ে যাওয়ার সুযোগ নেই। আদিকাল থেকে মার্কিনীদের সঙ্গে হইতিয়ানদের ভালো সম্পর্ক চলে আসছে। এটা খুবই দুঃখজনক প্রেসিডেন্ট আমাদেরকে নিয়ে অসম্মানজনক কথা বলছেন। আমার মনে হয় ট্রাম্পের নিজেকে শোধরানো উচিৎ। কারণ এসব বক্তব্য তাকে বিশ্ব থেকে বিচ্ছিন্ন করে দেবে। ট্রাম্প যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আমাদের তুলনা করতে পারে না। কারণ যুক্তরাষ্ট্র স্বাধীন ২শ বছরেরও বেশি সময় ধরে। আমরা আমাদের জায়গায় উন্নতি করে যাচ্ছি। আমাদেরকে অসম্মান করার কোনো অধিকার ট্রাম্পের নেই। আমি আশা করি ট্রাম্প তার অসুস্থ বক্তব্য প্রত্যাহার করবে। আফ্রিকানদের আবর্জনা বলায় মার্কিন প্রেসিডেন্টকে ক্ষমা চাইতে বলেছে আফ্রিকার রাষ্ট্রগুলোর প্রতিনিধিত্বকারী সংস্থা আফ্রিকান ইউনিয়ন। ট্রাম্পের এ বক্তব্যে আফ্রিকান জাতি মর্মাহত, অপমানিত এবং উদ্বিগ্ন বলেও জানায় সংস্থাটি। এর সালভাদরের নাগরিকদের সম্মান দিয়ে কথা বলার জন্য ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন দেশটির প্রেসিডেন্ট সানচেজ ক্যারেন। এছাড়া, ট্রাম্পের বক্তব্যকে চূড়ান্ত অপরাধ বলে আখ্যা দিয়েছে দক্ষিণ আফ্রিকা। এসবরে মধ্যেই ট্রাম্পের বক্তব্যের তীব্র সমালোচনা করে মার্কিন প্রেসিডেন্টকে বর্ণবাদী বলে উল্লেখ করেছে জাতিসংঘ। জাতিসংঘ মানবাধিকার বিষয়ক সংস্থা সংস্থার মুখপাত্র রুপার্ট কোলভিল বলেন, 'অত্যন্ত বেদনাদায়ক ও লজ্জাজনক বক্তব্য দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। এ জন্য তাকে বর্ণবাদী ছাড়া অন্য শব্দে অভিহিত করা যায়। তিনি কোনো ভাবেই একটি দেশের মানুষকে অবহেলা করতে পারে না। পুরো জাতিকে আবর্জনা বলে অবজ্ঞা করতে পারেন না।' এছাড়া, ট্রাম্পের বক্তব্যকে দুঃখজনক এবং উচ্ছৃঙ্খল বলে মন্তব্য করেছেন নিউইয়র্কের গভর্নর অ্যান্ড্রু কুমো। ঘরে বাইরে তীব্র সমালোচনার মুখে শুক্রবার নিজের বক্তব্য অস্বীকার করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। এক টুইট বার্তায় তিনি বলেন, আবর্জনা শব্দ তিনি ব্যবহার করেননি। আফ্রিকান অভিবাসীদের কঠোর বার্তা দিতে চেয়েছেন। গণমাধ্যমে তার বক্তব্য সঠিকভাবে আসেনি বলেও অভিযোগ করেন ট্রাম্প। তবে ট্রাম্প চাপে পড়ে টুইটে নিজের পক্ষে সাফাই গাইছেন বলে অভিযোগ করেন গত ওভার অফিসে বৃহস্পতিবারের বৈঠকে উপস্থিত থাকা ডেমোক্রেট সিনেটর ডিক ডারবিন। তিনি বলেন, 'যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে কোনো প্রেসিডেন্টকে এ ধরনের ভাষা ব্যবহার করতে দেখিনি। আমি নিজের কানে শুনেছি তিনি কয়েকবার বর্ণবাদী এবং ঘৃণিত শব্দ ব্যবহার করেছেন। পরে গণমাধ্যমে এসব তথ্য দেখে আমি মোটেও বিস্মিত হয়নি। কারণ গণমাধ্যমে ভুল কিছু আসেনি।'
সিরিয়ায় রুশ নৌ ও বিমান ঘাঁটিতে হামলার ঘটনার সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র জড়িত! দাবি রাশিয়ার
আবারও উত্তপ্ত হয়ে উঠছে রাশিয়া-যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্ক। আর তারই জের ধরে সিরিয়ায় রুশ নৌ ও বিমান ঘাঁটিতে হামলার ঘটনার সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র জড়িত থাকতে পারে বলে সন্দেহ করছে রাশিয়া। এ ব্যাপারে রুশ প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে এক বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, গত শনিবার সিরিয়ার লাতাকিয়া প্রদেশে হেমেইমিম বিমানঘাঁটি এবং তারতুস নৌ ঘাঁটিতে ১৩টি ড্রোনের সাহায্যে হামলার চেষ্টা করা হয় বলে অভিযোগ। রাশিয়ার অভিযোগ, সেই সময় আশেপাশে মার্কিন গোয়েন্দা বিমানের উপস্থিতি ছিল। এর ফলে ড্রোন হামলা প্রচেষ্টায় যুক্তরাষ্ট্রের জড়িত থাকার আশঙ্কা আরও বেড়েছে। বিবৃতিতে আরও বলা হয়, ড্রোন হামলার জন্য যেসব তথ্য প্রয়োজন হয় স্যাটেলাইটের মাধ্যমেই পাওয়া সম্ভব! এবং তা অবশ্যই উন্নত দেশই পারে বলে দাবি মস্কোর। এছাড়া জিপিএস ব্যবহার করে ড্রোনকে সঠিকভাবে নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে সুনির্দিষ্ট স্থানে হামলার জন্য যে কারিগরি দক্ষতা ও কৌশল প্রয়োজন হয় সেটাও কেবল উন্নত দেশের মাধ্যমেই অর্জন করা সম্ভব বলে রাশিয়া উল্লেখ করেছে। রাশিয়া আরও বলেছে, ড্রোন হামলার একই সময়ে রুশ ঘাঁটির কাছে মার্কিন গোয়েন্দা বিমানের উপস্থিতি বিস্ময়কর। তবে ওই হামলার পরপরই যুক্তরাষ্ট্র তাদের সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেছে। যদিও মার্কিন প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় বলেছে, আইএসই এই হামলা চালিয়ে থাকতে পারে। তবে আইএসের পক্ষ থেকে এখনও কিছু জানানো হয়নি।
ক্রমশই উত্তপ্ত হয়ে উঠছে পাকিস্তান-ভারত সীমান্ত
ক্রমশই উত্তপ্ত হয়ে উঠছে পাকিস্তান-ভারত সীমান্ত। আর তারই জের ধরে এবার পাকিস্তানের সঙ্গে নিয়ন্ত্রণরেখা এবং আন্তর্জাতিক সীমান্ত বরাবর ১৪ হাজারেরও বেশি বাঙ্কার তৈরি করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে ভারত। এ ব্যাপারে দেশটির স্বরাষ্ট্রমন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, বারবার সংঘর্ষ বিরতি লংঘন করে যেভাবে গোলাবর্ষণ করছে পাকিস্তান, তার হাত থেকে গ্রামবাসীদের সুরক্ষিত রাখতেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে। জানা গেছে, দুই ধরনের বাঙ্কার তৈরি করা হবে। ইনডিভিজুয়াল বাঙ্কার এবং কমিউনিটি বাঙ্কার। দুই ধরনের বাঙ্কারই হবে ভূগর্ভস্থ। নিয়ন্ত্রণরেখা সংলগ্ন দুই জেলা পুঞ্চ এবং রজৌরিতে তৈরি করা হবে ৭ হাজার ২৯৮টি বাঙ্কার। আর আন্তর্জাতিক সীমান্ত সংলগ্ন জম্মু, কঠুয়া এবং সাম্বা জেলায় তৈরি করা হবে ৭ হাজার ১৬২টি বাঙ্কার। মোট ১৪ হাজার ৪৬০টি। এছাড়া, ইনডিভিজুয়াল বাঙ্কারের আয়তন হবে ১৬০ বর্গফুট। সেগুলোতে সর্বোচ্চ ৮ জন আশ্রয় নিতে পারবেন। আর কমিউনিটি বাঙ্কারের আয়তন হবে ৮০০ বর্গফুট। একসঙ্গে ৪০ জন করে থাকতে পারবেন এগুলোতে।
উচ্চ প্রযুক্তি লঞ্চ সিস্টেম সহ তৃতীয় এয়ারক্র্যাফ্ট ক্যারিয়ার তৈরি করছে চীন
তৃতীয় এয়ারক্র্যাফ্ট ক্যারিয়ার তৈরি করছে চীন, সতর্ক ভারত আন্তর্জাতিক মহলকে উত্তপ্ত করে বিশ্বের ক্ষমতাধর দেশগুলো তাদের সামরিক শক্তিকে আরও শক্তিশালী করতে ব্যস্ত। আর তারই জের ধরে এবার উচ্চ প্রযুক্তি লঞ্চ সিস্টেম সহ তৃতীয় এয়ারক্র্যাফ্ট ক্যারিয়ার তৈরি করছে চীন। ভারত মহাসাগর ও দক্ষিণ চীন সাগরে স্থিত আধুনিক অস্ত্র ধ্বংস করার জন্য এই সিস্টেম আনছে চীন৷ ২০১১ সালে শেষ হয় চীনের প্রথম এয়ারক্র্যাফ্ট তৈরির কাজ। এর পর সাংহাই শিপইয়ার্ডে প্রায় দু'বছর ধরে চীনের দ্বিতীয় এয়ারক্র্যাফ্ট নির্মিত হয়। এবছর সেটি লঞ্চ করার কথা। কিন্তু তার আগেই তৃতীয় এয়ারক্র্যাফ্টের কথা ঘোষণা করে দিল চীন। সরকারি সূত্রে খবর, নতুন এই এয়ারক্র্যাফ্ট তৈরির কাজ আরও জটিল ও চ্যালেঞ্জিং। বাকি দু'টি এয়ারক্র্যাফ্ট থেকে এটি অনেকটাই আলাদা হবে এটি। এদিকে, এই ধরনের এয়ারক্র্যাফ্ট পরিচালনার জন্য পাইলটদেরও ট্রেনিং দিচ্ছে চীন। জানা গেছে, ২০৩০ সালের মধ্যে ৪টি এয়ারক্র্যাফ্ট বানানোর টার্গেট নেওয়া হয়েছে। তবে তৃতীয় এয়ারক্র্যাফ্ট কবে লঞ্চ করবে, সে বিষয়ে এখনও কিছু বলতে পারছে না তারা। এ ব্যাপারে চীনের একটি সংবাদমাধ্যমে আরও প্রকাশ হয়েছে, অ্যান্টি মিসাইল, অ্যান্টি শিপ, মর্ডার্ন ডিফেন্স ও অ্যান্টি সাবমেরিন অস্ত্র আটকাতে নতুন অস্ত্র আনছে চীন। সংবাদমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, চীনের এই অস্ত্র তাড়াতাড়ি তৈরি হয়ে যাবে। খুব শিগগিরই হয়তো দক্ষিণ চীন ও ভারত মহাসাগরে এর ব্যবহার চোখে পড়বে। এছাড়া চীনের সরকারি সূত্রে জানা গেছে, হেলকপ্টারের পরিকল্পনা আর করতে চাইছে না চীনা সেনারা। এখন তারা আরও উন্নত প্রযুক্তির দিকে নজর দিয়েছে। সেই কারণেই চীনে নতুন প্রযুক্তি আবিষ্কারের কাজ চলছে। জাহাজে সেনা ও কর্মীদের থাকার পরিবেশ যাতে আরও ভালো হয়, সেদিকেও নজর দেওয়া হচ্ছে।