রাশিয়ার দুই যোদ্ধা নিহত
সিরিয়ার উত্তর-পূর্বাঞ্চলে গত সপ্তাহে মার্কিন বিমান হামলায় রাশিয়ার দুই যোদ্ধা নিহত হয়েছেন। সংবাদমাধ্যম বিবিসির খবরে বলা হয়, সিরিয়ার সরকারি বাহিনী সামরিক শক্তি বৃদ্ধির জন্য রাশিয়ার একটি ব্যক্তিগত সামরিক ফার্ম থেকে ওই যোদ্ধাদের ভাড়া করেছিল। মার্কিন গণমাধ্যমে এ নিয়ে খবর ছাপা হলেও রাশিয়া কোনো মন্তব্য করেনি। যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, গত এক সপ্তাহে তারা শতাধিক সিরীয় যোদ্ধাকে হত্যা করেছে। তবে দেশটির প্রতিরক্ষামন্ত্রী জেমস ম্যাটিস বলেন, এই হতাহতের মধ্যে কোনো রুশ নাগরিক আছেন কিনা, এ বিষয়ে তার কাছে কোনো তথ্য নেই। যুক্তরাষ্ট্রের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, দেইর আল জোর প্রদেশের খুরশাম শহরে যুক্তরাষ্ট্র সমর্থিত সিরীয় ডেমোক্র্যাটিক ফোর্সেসের (এসডিএফ) ঘাঁটিতে সিরিয়ার প্রেসিডেন্ট বাসার আল আসাদের বাহিনীর কয়েকশ যোদ্ধা হামলা চালিয়েছিল। তারা ইউফ্রেটিস নদী পার হয়ে এসডিএফের ঘাঁটিতে গোলাবর্ষণ করে। যুক্তরাষ্ট্র তখন যুদ্ধবিমান ও কামান দিয়ে পাল্টা হামলা চালালে আসাদপন্থী যোদ্ধারা পিছু হটতে বাধ্য হয়। সিরিয়ার স্থানীয় গণমাধ্যম জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের ওই হামলায় কয়েক ডজন লোক নিহত হয়। তাদের মধ্যেই দুজন হলেন রাশিয়ার ওই যোদ্ধারা। তবে রাশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, সিরিয়ার সরকারি বাহিনী জঙ্গি সংগঠন ইসলামিক স্টেট (আইএস) যোদ্ধাদের ওপর হামলা চালিয়েছে। এতে রাশিয়ার কোনো সেনা সদস্য অংশ নেয়নি।
চীনের সতর্কবার্তা
যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্যিক নিষেধাজ্ঞা বিশ্ব অর্থনীতিকে আঘাত করবে বলে সতর্ক করেছে চীন। চীন থেকে আমদানি করা পণ্যে নতুন করে শুল্ক আরোপে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প হুমকি দেওয়ার পর আজ বুধবার চীন এ সতর্কবার্তা দেয়। ট্রাম্প বলেছেন, তিনি শুল্ক ও কোটাসহ এ ক্ষেত্রে সবদিক বিবেচনা করেছেন। তিনি অভিযোগ করেন, যুক্তরাষ্ট্রের ইস্পাত ও অ্যালুমিনিয়ামশিল্পকে ধ্বংস করছে চীন। ওয়াশিংটন ইতিমধ্যে চীনের তৈরি পণ্যের ওপর শুল্কমাত্রা আরোপ করে দিয়েছে। এর মধ্যে চীন পাল্টা ব্যবস্থা নেওয়ার হুমকি দেওয়ার পর বিশ্ব অর্থনীতির শীর্ষ দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্য সংঘাত শুরুর আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র জেং সুআং সাংবাদিকদের বলেন, যেকোনো ধরনের একতরফা অথবা সংরক্ষণ নীতি বিশ্ববাণিজ্য ইস্যুকে নাজুক করে তুলবে। এটি বিশ্ব অর্থনীতি পুনরুদ্ধারের পথকে আঘাত করবে। তিনি বলেন, অবশ্য চীন ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে যে বাণিজ্যিক পদ্ধতি চালু রয়েছে, তাতে স্বাভাবিকভাবেই কিছু বৈসাদৃশ্য রয়েছে। জেং আরও বলেন, চীন সব সময় যুক্তরাষ্ট্রকে গুরুত্বপূর্ণ ব্যবসায়িক ও অর্থনৈতিক অংশীদার হিসেবে স্বাগত জানায়। কাঙ্ক্ষিত বাজার সম্প্রসারণে আমাদের উদ্যোগ অব্যাহত থাকবে বলে আশা করা যায়। চীন বিশ্ব ইস্পাতের অর্ধেক একাই উৎপাদন করে আসছে। তবে অভিযোগ রয়েছে, দেশটি সস্তা ইস্পাতে বাজার ছেয়ে ফেলছে।
নেতৃত্ব দেবেন কে?
যুক্তরাজ্যের রানি দ্বিতীয় এলিজাবেথের মৃত্যুর পর কমনওয়েলথ জোটের নেতৃত্ব কে দেবেন—তা নিয়ে গুঞ্জন শুরু হয়েছে। এ নিয়ে জোটের সাত সদস্যবিশিষ্ট উচ্চপর্যায়ের নীতিনির্ধারণী কমিটি আজ মঙ্গলবার লন্ডনে গোপন বৈঠকে বসেছে বলে খবর প্রকাশ করেছে বিবিসি। গোপন ওই বৈঠকের আলোচ্যসূচি তাদের হাতে এসেছে দাবি করে বিবিসির খবরে বলা হয়, সূচিতে ‘বৃহত্তর পরিচালনাগত বিবেচনা’ (ওয়াইডার গভারনেন্স কনসিডারেশন) শীর্ষক একটি এজেন্ডা রাখা হয়েছে। ভেতরের লোকজন বলছেন, এটি রানির উত্তরাধিকার নির্ধারণ বিষয়ে আলোচনার সাংকেতিক রূপ (কোড)। রানি দ্বিতীয় এলিজাবেথ ১৯৫৩ সাল থেকে উত্তরাধিকার সূত্রে কমনওয়েলথ জোটের প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। আসন্ন এপ্রিলে ৯২ ছুঁতে যাওয়া রানির মৃত্যুর পর ছেলে প্রিন্স চার্লস (প্রিন্স অব ওয়েলস) সিংহাসনে আসীন হবেন। উত্তরাধিকার সূত্রে প্রিন্স চার্লস কমনওয়েলথ জোটের প্রধান হবেন; নাকি গণতান্ত্রিক উপায়ে নির্বাচনের মাধ্যমে কাউকে প্রধান নির্বাচিত করা হবে—সেটাই এখন বড় প্রশ্ন। কমনওয়েলথ জোটের প্রধান নির্বাচনে কোনো সুনির্দিষ্ট নিয়ম নেই। ব্রিটিশ রাজপরিবারের প্রধানই এর নেতৃত্ব দিয়ে আসছেন। কিন্তু এ জোটের গণতান্ত্রিক অবয়ব মজবুত করার আলোচনা আছে বিভিন্ন তরফে। যে কারণে রানিকে নেতৃত্বে রেখে ভোটের মাধ্যমে একজনকে আনুষ্ঠানিক প্রধান (সিরিমোনিয়াল লিডার) হিসেবে নির্বাচিত করার প্রস্তাবও আসে। যুক্তরাজ্যের উপনিবেশ ছিল এমন দেশগুলোকে নিয়ে ১৯৩১ সঙ্গে গঠিত হয় কমনওয়েলথ জোট। বর্তমান রানির বাবা ষষ্ঠ জর্জ এর নেতা ছিলেন। ১৯৫৩ সালে বাবার মৃত্যুর পর রানি দ্বিতীয় এলিজাবেথ সিংহাসনে আরোহণ করার সূত্রে কমনওয়েলথ জোটেরও প্রধান হন। সে সময় জোটের সদস্যরাষ্ট্র ছিল মাত্র আটটি। এর মধ্যে সাতটি দেশের রাষ্ট্রপ্রধান ছিল ব্রিটিশ রাজ। বর্তমানে কমনওয়েলথ জোটের সদস্যসংখ্যা ৫৩টি। এর মধ্যে ১৫টি দেশের রাষ্ট্রপ্রধান এখনো ব্রিটিশ রাজ। বাংলাদেশও এই জোটের সদস্য। লন্ডনে অবস্থিত সদর দপ্তর থেকেই পরিচালিত হয় এর কার্যক্রম। ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) সঙ্গে বিচ্ছেদের পর কমনওয়েলথভুক্ত দেশগুলোর মধ্যে পারস্পরিক বাণিজ্য ও রাজনৈতিক সম্পর্ক নিবিড় করার কথা ভাবছে যুক্তরাজ্য। বিবিসির খবরে বলা হয়েছে, এপ্রিলে লন্ডনে কমনওয়েলথভুক্ত দেশগুলোর রাষ্ট্রনেতাদের সম্মেলন অনুষ্ঠিত হবে। এতে রানি দ্বিতীয় এলিজাবেথ শেষবারের মতো যোগ দেবেন। এই সম্মেলনেই রাষ্ট্রপ্রধানদের একান্ত বৈঠকে রানির উত্তরাধিকার বিষয়ে নিজেদের আলোচনার কথা তুলে ধরবে উচ্চপর্যায়ের কমিটি। বিবিসির প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, রানির মৃত্যুর পর প্রিন্স চার্লসকে প্রধান করার জন্য জোটে শক্ত অবস্থান রয়েছে। রানি নিজেও প্রিন্স চার্লসকে কমনওয়েলথের প্রধান করার পক্ষে এবং বিভিন্ন দেশে এ বিষয়ে লবি করেছেন। প্রিন্স চার্লস নিজের ওয়েবসাইটের বড় একটি অংশজুড়ে কমনওয়েলথ নিয়ে নিজের নানা কার্যক্রমের কথা তুলে ধরেছেন। বলেছেন, ৫৩টি সদস্য দেশের মধ্যে তিনি ইতিমধ্যে ৪১টি দেশ সফর করেছেন।
অবৈধ বসতি শান্তি প্রক্রিয়া জটিল করছে বল্লেন ট্রাম্প
ইসরাইলের অবৈধ বসতি শান্তি প্রক্রিয়া জটিল করে তুলছে বলে সতর্ক করে দিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ইসরাইলকে বিষয়টি নিয়ে বিবেচনা করার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি। ইসরাইলের একটি দৈনিককে দেয়া সাক্ষাৎকারে ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেন, ইসরাইল-ফিলিস্তিনিদের কেউ শান্তি প্রতিষ্ঠায় প্রস্তুত বলে তিনি মনে করছেন না। গত বছরের ৬ ডিসেম্বর জেরুজালেমকে ইসরাইলের রাজধানী হিসেবে স্বীকৃতি দেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি তেলআবিব থেকে দূতাবাস জেরুজালেমে সরিয়ে নেয়ারও নির্দেশ দেন। রোববার ইসরাইলের হাইয়ুম পত্রিকায় প্রকাশিত এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প এ মন্তব্য করেন। এক প্রশ্নের জবাবে ট্রাম্প বলেন, এ মুহূর্তে ফিলিস্তিন শান্তি স্থাপনের পথে নেই। আর কেবল তারাই নয়, ইসরাইলের ব্যাপারেও আমার মনে হচ্ছে- তারা শান্তি স্থাপন করতে ইচ্ছুক নয়। সুতরাং আমাদের কেবলই অপেক্ষা করে যেতে হবে আর দেখতে হবে কী হয়। শান্তি পরিকল্পনায় ইসরাইলি বসতির বিষয়টি থাকবে কিনা- এ প্রশ্নের জবাবে ট্রাম্প বলেন, আমরা বসতি নিয়ে কথা বলব। বসতি স্থাপন এমন একটি বিষয়, যেটি সবসময়ই শান্তি প্রক্রিয়াকে জটিল করেছে এবং খুবই জটিল করে তুলছে। সুতরাং বিষয়টি নিয়ে ইসরাইলকে খুবই সতর্ক থাকতে হবে বলে আমি মনে করি। ট্রাম্প বলেন, আমি স্পষ্ট করে বলতে চাই- জেরুজালেম ইসরাইলের রাজধানী। এখন দুই পক্ষ কোথায় সীমান্ত টানা হবে তা নিয়ে সমঝোতায় পৌঁছালে আমি সমর্থন দেব। তিনি বলেন, শান্তিচুক্তি সম্ভব করতে চাইলে উভয়পক্ষকেই লক্ষণীয় আপস করতে হবে বলে আমি মনে করি। ১৯৬৭ সালে যুদ্ধের পর ইসরাইল পুরো জেরুজালেমকে নিজেদের রাজধানী বলে দাবি করে আসছে। ভবিষ্যৎ রাষ্ট্রের জন্য ফিলিস্তিন পূর্ব জেরুজালেমকে নিজেদের রাজধানী হিসেবে দেখতে চাচ্ছে। ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষের প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আব্বাস বলেন, জেরুজালেমকে ইসরাইলের রাজধানী হিসেবে বিতর্কিত সিদ্ধান্তের পর যুক্তরাষ্ট্রকে মধ্যস্থতাকারী হিসেবে মানবেন না।
সিরিয়ার সামরিক ঘাঁটিতেবিমান হামলা
সিরিয়া থেকে পাঠানো ইরানের একটি ড্রোন ইসরায়েলের সীমায় ঢুকে পড়েছেএমন অভিযোগ এনে গতকাল শনিবার সিরিয়ায় বিমান হামলা চালিয়েছে ইসরায়েল। সিরিয়ার ভেতর সিরীয় স্থাপনার পাশাপাশি ইরানের বিভিন্ন লক্ষ্যবস্তুতেও হামলা চালায় ইসরায়েল। এদিকে ইসরায়েলের অভিযোগকে মিথ্যা অ্যাখ্যা দিয়ে যৌথ বিবৃতি দিয়েছে ইরান, রাশিয়া ও লেবাননের হিজবুল্লাহ গোষ্ঠী। আবার হামলা হলে সবগুলোর নিষ্ঠুর জবাব দেওয়া হবে বলেও হুমকি দেয় তারা। ইসরায়েলের প্রতিরক্ষা বাহিনীর (আইডিএফ) দাবি, গতকাল সিরিয়া থেকে পাঠানো একটি ইরানি ইউএভি (চালকবিহীন আকাশযান তথা ড্রোন) ইসরায়েলের আকাশসীমায় ঢুকে পড়ে। দ্রুত সেটাকে চিহ্নিত করে ভূপাতিত করা হয়। এরপর সিরিয়ার ভেতর ডজনখানেক হামলা করে ইসরায়েল। এ হামলার শুরুতে ইসরায়েলের একটি এফ-১৬ যুদ্ধবিমান তাদের নিজেদের সীমানার ভেতর ভূপাতিত হয়। ইসরায়েলের উত্তরাঞ্চলে বিধ্বস্ত বিমানটির দুই পাইলটই জীবিত আছেন, তবে তাঁদের একজন গুরুতর আহত হয়েছেন। বিমানটি সিরিয়ার হামলায় বিধ্বস্ত হয়েছে কি না, তা স্পষ্ট নয়। এফ-১৬ বিমানটি বিধ্বস্ত হওয়ার পর সিরিয়ার ভেতর ১২টি স্থান লক্ষ্য করে হামলা চালায় আইডিএফ। হামলার কিছুক্ষণের মধ্যে বাহিনীর বিবৃতিতে বলা হয়, এর মধ্যে তিনটি সিরীয় আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা এবং চারটি ইরানি লক্ষ্যবস্তু ছিল। আইডিএফের দাবি, সিরিয়ার ভেতরে যে নিয়ন্ত্রণকক্ষ থেকে ইরান ড্রোন পাঠিয়েছে, সেই নিয়ন্ত্রণকক্ষেও হামলা চালানো হয়। আইডিএফের আরেক বিবৃতিতে বলা হয়, ইসরায়েলের বিমানবাহিনীকে লক্ষ্য করে সিরিয়া বেশ কয়েকটি প্রতিরক্ষা ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়েছে। সিরিয়াও জানায়, গতকাল তারা ইসরায়েলের দুটি বিমান হামলা প্রতিহত করেছে। সিরিয়ার রাষ্ট্রায়ত্ত সংবাদ সংস্থা সানার প্রতিবেদনে বলা হয়, দেশের মধ্যাঞ্চলে আমাদের সেনা ঘাঁটিগুলোর একটিতে গতকাল ভোরে ইহুদিবাদী শত্রুরা এক নতুন আগ্রাসন চালিয়েছে। আমাদের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সেটি প্রতিহত করেছে এবং একাধিক (ইসরায়েলি) বিমানকে আঘাত করেছে। ব্রিটেনভিত্তিক মানবাধিকার পর্যবেক্ষণ সংস্থা সিরিয়ান অবজারভেটরি ফর হিউম্যান রাইটস জানায়, সিরিয়ার মধ্যাঞ্চলীয় হোমস প্রদেশে বেশ কয়েকটি সেনা ঘাঁটিতে ইসরায়েল গতকাল হামলা চালায়। এসব ঘাঁটিতে মিত্র দেশ ইরান ও রাশিয়ার সেনাও মোতায়েন রয়েছে। সিরিয়ায় চলমান গৃহযুদ্ধে প্রেসিডেন্ট বাশার আল আসাদের বাহিনীকে শক্তিশালী করতে ইরান ও রাশিয়া সেখানে তাদের সেনা মোতায়েন করেছে। সিরিয়ার সঙ্গে ইসরায়েলের গতকালের এ মুখোমুখি অবস্থানের জন্য ইরানকে দায়ী করেছে ইসরায়েল। দেশটির সেনাবাহিনীর মুখপাত্র জোনাথন কর্নিকাস টুইটারে লেখেন, ইসরায়েলের সার্বভৌমত্বের মারাত্মক লঙ্ঘনের জন্য ইরান দায়ী। সিরিয়ায় হামলার পর তিনি সাংবাদিকদের সঙ্গে ফোন কনফারেন্সে বলেন, সিরিয়া ও ইরান আগুন নিয়ে খেলছে। কিন্তু ইসরায়েল পরিস্থিতির অবনতি চায় না। এদিকে ইরান বলছে, ইসরায়েলের সীমায় ড্রোন অনুপ্রবেশের মিথ্যা অজুহাতে সিরিয়ার ভেতর হামলা চালিয়েছে আইডিএফ। ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপত্র বাহরাম ঘাসেমি গতকাল বলেন, ইরান বিশ্বাস করে, আত্মরক্ষা নিশ্চিত করার অধিকার সিরিয়ার আছে। ইসরায়েলি কর্মকর্তারা এ অঞ্চলে তাঁদের অপরাধ ঢাকতে অন্যান্য দেশের বিরুদ্ধে মিথ্যাচার করছে। সিরিয়ার ভেতর ইরানের কোনো সামরিক উপস্থিতি নেই, শুধু সিরীয় সরকারের অনুরোধে সামরিক উপদেষ্টা রয়েছে বলে দাবি করেন ঘাসেমি। রাশিয়া, লেবাননের হিজবুল্লাহসহ সিরিয়ার অন্য মিত্রদের নিয়ে ইরান একটি যৌথ বিবৃতিও দিয়েছে। বিবৃতিতে বলা হয়, অধীকৃত ফিলিস্তিনের আকাশসীমায় ড্রোন হামলার ব্যাপারে ইসরায়েলি শত্রুদের দেওয়া বিবৃতি মিথ্যাচার এবং অভিযোগ ছাড়া আর কিছুই নয়। বিবৃতিতে দাবি করা হয়, ইসরায়েল যে ড্রোন লক্ষ্য করে হামলা চালিয়েছে, সেটা কাজে লাগানো হচ্ছিল সন্ত্রাসী গোষ্ঠীগুলো, প্রধানত দায়েশের (ইসলামিক স্টেট তথা আইএস) বিরুদ্ধে। ইসরায়েল আরো হামলা চালালে সেগুলোর নিষ্ঠুর জবাব দেওয়ার হুমকি দিয়েছে সিরিয়ার মিত্ররা।
জীবন ধ্বংস করে দিতে পারে একটা অভিযোগ : প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, নিছক অভিযোগই যে কারো জীবন শেষ করে দিতে পারে। সাবেক স্ত্রীকে নির্যাতনের অভিযোগে হোয়াইট হাউসের বক্তৃতা-লেখক ও উপদেষ্টা ডেভিড সোরেনসন এবং সেক্রেটারি অব স্টাফ রব পোর্টারের পদত্যাগ ইস্যুতে একথা বলেন মিস্টার ইউএস প্রেসিডেন্ট। টুইট বার্তায় ট্রাম্প বলেন, মানুষ কোন একটি অভিযোগের কারণে শেষ হয়ে যেতে পারে, ধ্বংস হতে পারে ক্যারিয়ার। এসব অভিযোগের কিছু থাকে সত্যি, কিছু থাকে মিথ্যা। কিছু নতুন, কিছু পুরাতন। মিথ্যা দোষারোপে কাউকে অভিযুক্ত করলে তার ক্ষতি অপূরণীয়, জীবন এবং ক্যারিয়ার দুটোই শেষ করে দেয়। উল্লেখ্য, গত সপ্তাহে সাবেক স্ত্রীকে নির্যাতনের অভিযোগ ওঠার পর হোয়াইট হাউসের দায়িত্ব ছাড়ার ঘোষণা দেন ট্রাম্প উপদেষ্টা ডেভিড সোরেনসন। বক্তৃতালেখক সোরেনসন সহিংস এবং অপমানজনক ব্যবহার করতেন বলে দাবি তার সাবেক স্ত্রীর; অভিযোগ অস্বীকার করলেও সোরেনসন এ সপ্তাহের মধ্যেই পদ ছাড়ার ঘোষণা দিয়েছেন। এর আগে গত সপ্তাহে সাবেক দুই স্ত্রীকে নির্যাতন করার অভিযোগ ওঠায় হোয়াইট হাউসের দায়িত্ব ছাড়েন সেক্রেটারি অব স্টাফ রব পোর্টার। কয়েকদিনের মধ্যে কাছাকাছি অভিযোগে হোয়াইট হাউসের দ্বিতীয় উপদেষ্টার পদ ছাড়ার এ ঘোষণা দেন। খবর বিবিসি।
মালদ্বীপে কমছে কাজের ক্ষেত্র ফিরতে হতে পারে বহু কর্মীকে
মালদ্বীপ সঙ্কটে বাংলাদেশী কর্মীরা বড় ধরনের বিপাকে পড়তে যাচ্ছেন। দেশটিতে জরুরী অবস্থা জারির পর থেকে বিদেশী কর্মীদের কাজের ক্ষেত্র সঙ্কুচিত হয়ে পড়েছে। ইতোমধ্যে দেশটিতে বাংলাদেশী বহুকর্মী বেকার হয়ে পড়েছেন। গ্রেফতার এড়াতে অবৈধ কর্মীরা কর্মস্থলে যাওয়ার সাহস পাচ্ছেন না। এখন তাদের জমানো টাকা খরচ করে চলতে হচ্ছে। কাজে যেতে না পারলে অল্পদিনের মধ্যে তারা আরও খারাপ পরিস্থিতির শিকার হবেন। এমন অবস্থায় প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় আশঙ্কা প্রকাশ করেছে মালদ্বীপ থেকে বহু কর্মীকে দেশে ফিরতে হতে পারে। এদিকে মালদ্বীপ নিয়ে ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ) ও যুক্তরাষ্ট্র মালদ্বীপের ওপর অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা জারির চিন্তা করছে। যদি সীমিত আকারেও নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয় তাহলেও দেশটির অর্থনীতিতে চরম চাপ সৃষ্টি হবে। অর্থনৈতিক সঙ্কট তৈরি হলে হাজার হাজার বিদেশী কর্মীদের চাকরি এমনিতেই চলে যাবে। বাংলাদেশের প্রায় এক লাখ কর্মী দেশটিতে বর্তমানে কাজ করছেন। মালদ্বীপ সঙ্কট নিয়ে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, মালদ্বীপ পরিস্থিতি সব সময় মনিটর করা হচ্ছে। দেশটিতে অবস্থিত বাংলাদেশ হাইকমিশন সর্বক্ষণিক মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছে। ইতোমধ্যে মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে কিছু নির্দেশ দেয়া হয়েছে। দূতাবাস নির্দেশগুলো যথাযথভাবে পালন করেছে। দূতাবাস মালদ্বীপে বাংলাদেশী নাগরিকদের বিনা প্রয়োজনে বাইরে চলাফেরায় সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়েছে। জরুরী প্রয়োজনে কর্মীদের জন্য একটি হটলাইনও চালু করা হয়েছে। দেশটিতে জরুরী অবস্থা জারির পর নিজ দেশের নাগরিক ও বিদেশী নাগরিকদের চলাফেরায় অনেক সীমাবদ্ধতা আরোপ করেছে সেনাবাহিনী। হাইকমিশন সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমসহ মোবাইলে এসএমএসের মাধ্যমে কর্মীদের নিতান্ত প্রয়োজন ছাড়া ঘরের বাইরে না যাওয়ার পরামর্শ দিয়েছে। মন্ত্রণালয়ের হিসাবে দেশটিতে বর্তমানে বিভিন্ন পেশায় নিয়োজিত আছেন প্রায় এক লাখ বাংলাদেশী।
আগামী মঙ্গলবার রোহিঙ্গাদের নিয়ে নিরাপত্তা পরিষদের বৈঠক
যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, ফ্রান্সসহ আটটি সদস্যদেশের ডাকে আগামী মঙ্গলবার রোহিঙ্গা পরিস্থিতি নিয়ে বৈঠকে বসছে জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদ। রোহিঙ্গাদের সর্বশেষ পরিস্থিতি কী, সেটা এদিন নিরাপত্তা পরিষদের কাছে তুলে ধরার কথা রয়েছে জাতিসংঘের শরণার্থীবিষয়ক হাইকমিশনার ফিলিপ্পো গ্রান্ডির। নিউইয়র্কের একটি কূটনৈতিক সূত্র গতকাল শনিবার প্রথম আলোকে জানায়, নিরাপত্তা পরিষদের তিন স্থায়ী সদস্য যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স ছাড়াও অস্থায়ী পাঁচ সদস্যদেশ সুইডেন, পোল্যান্ড, নেদারল্যান্ডস, কাজাখস্তান ও গিনি পরিষদকে বৈঠক ডাকার অনুরোধ জানায়। নিরাপত্তা পরিষদ মিয়ানমার নিয়ে বিবৃতি দেওয়ার প্রায় তিন মাসের মাথায় ওই বৈঠক ডাকার অনুরোধ এল। মিয়ানমারের সেনাবাহিনীর লাগাম টেনে ধরে রোহিঙ্গাদের তাদের আবাসে ফেরার পথ সুগম করার আহ্বান জানিয়ে একটি বিবৃতি দিয়েছিল জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদ। নিরাপত্তা পরিষদের বৈঠকটি পূর্বনির্ধারিত হলেও রয়টার্সের অনুসন্ধানী প্রতিবেদন ম্যাসাকার ইন মিয়ানমার প্রকাশের ফলে জাতি হত্যার নতুন অকাট্য তথ্যপ্রমাণ নিয়ে আলোচনা হবে বলে মনে করা হচ্ছে। এদিকে জাতিসংঘ গত শুক্রবার রাতে জানিয়েছে, মিয়ানমারের রাখাইনে রোহিঙ্গাদের নৃশংসভাবে হত্যার পর কবরে পুঁতে ফেলার বিষয়ে রয়টার্সের প্রতিবেদন প্রকাশের পর সেখানে সহিংসতার বিষয়ে পুঙ্খানুপুঙ্খ তদন্তের প্রয়োজনীয়তা আবার জোরালো হয়েছে। মিয়ানমারের সেনাসদস্যদের বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট নিষেধাজ্ঞার প্রস্তাব দিয়ে মার্কিন সিনেটের বৈদেশিক কমিটিতে রিপাবলিকান ও ডেমোক্র্যাট-দলীয় সিনেট সদস্যের আনা একটি বিল ভোটাভুটির জন্য উপস্থাপিত হচ্ছে। ভোটাভুটিতে পাস হলে এটি আইনে পরিণত হবে। নিউইয়র্কে জাতিসংঘ মহাসচিবের উপ-মুখপাত্র ফারহান হক রয়টার্সের প্রতিবেদন সম্পর্কে সাংবাদিকদের বলেন, সাম্প্রতিক প্রতিবেদনের বিষয়টি আমরা জানি এবং এতে বিস্তারিতভাবে যা এসেছে তা অত্যন্ত ভয়ংকর। এটি আবারও রাখাইন রাজ্যের সব ধরনের সহিংসতা ও সেখানকার সব সম্প্রদায়ের বিষয়ে একটি পূর্ণাঙ্গ তদন্তের গুরুত্বকে সামনে এনেছে। মার্কিন সিনেটের বৈদেশিক সম্পর্কবিষয়ক কমিটি মিয়ানমারের বিরুদ্ধে সীমিত আকারে নিষেধাজ্ঞা আরোপের প্রস্তাব নিয়ে দ্য বার্মা হিউম্যান রাইটস অ্যান্ড ফ্রিডম অ্যাক্ট নামের একটি বিল অনুমোদন করেছে। এখন সেটি ভোটাভুটির জন্য সিনেটে উপস্থাপন করা হবে। মার্কিন সিনেটে রিপাবলিকান-দলীয় সিনেটের জন ম্যাককেইন ও ডেমোক্র্যাট-দলীয় সিনেটর বেন কার্ডিনের প্রস্তাবটি বৈদেশিক সম্পর্কবিষয়ক কমিটিতে শুক্রবার পাস হয়েছে। প্রস্তাবটিতে রাখাইন রাজ্যে মানবাধিকার লঙ্ঘনের দায়ে অভিযুক্ত জ্যেষ্ঠ সেনা কর্মকর্তাদের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপের কথা বলা হয়েছে। এ ছাড়া এতে বলা হয়েছে, সেনা কর্মকর্তারা সহিংসতা থামিয়েছেন এটি মার্কিন পররাষ্ট্র ও প্রতিরক্ষা দপ্তর নিশ্চিত না করা পর্যন্ত মিয়ানমার সেনাবাহিনীর সঙ্গে নির্দিষ্ট কিছু সামরিক সহযোগিতা বন্ধ থাকবে। এদিকে মিয়ানমারের রোমান ক্যাথলিকদের কার্ডিনাল চার্লস বো মনে করেন, বাংলাদেশে পালিয়ে যাওয়া রোহিঙ্গারা আর রাখাইনে না-ও ফিরতে পারে। রোহিঙ্গাদের বিরুদ্ধে জাতি নির্মূলের উপাদানের কারণে যে তারা পালিয়েছে তা এখন দৃশ্যমান। ফেরাতে হলে আন্তর্জাতিক সহযোগিতা প্রয়োজন। মানব পাচারবিষয়ক এক সম্মেলনে অংশ নিতে ভ্যাটিকানে গিয়ে চার্লস বো এপিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে এ মন্তব্য করেন।
অবশেষে বাজেট নিয়ে মার্কিন সিনেট নেতাদের সমঝোতা
মার্কিন সিনেট নেতারা বুধবার জানিয়েছেন, তারা ২০১৮ ও ২০১৯ সালের জন্য দ্বিদলীয় একটি বাজেট চুক্তি করেছেন। কংগ্রেসে এটি অনুমোদিত হলে মাত্র তিন সপ্তাহের মধ্যে সরকারের কার্যক্রম দ্বিতীয় দফায় অচল হয়ে পড়ার হাত থেকে রক্ষা পাবে। চুক্তিটিকে ক্ষমতাসিন রিপাবলিকান ও বিরোধী ডেমোক্রেটস উভয়ের জন্য একটি বড় অর্জন হিসেবে দেখা হচ্ছে। মার্কিন সরকারের ব্যয় সংক্রান্ত একটি অস্থায়ী পদক্ষেপ পাসের ব্যাপারে কংগ্রেসের জন্য নির্ধারিত সময়সীমা বৃহস্পতিবার মধ্যরাত পার হওয়ার প্রাক্কালে বাজেট নিয়ে এ সমঝোতা হলো। সহকারিরা জানান, ফেডারেল সরকারে বাজেট বিষয়ে মার্কিন সিনেট নেতারা সমঝোতায় পৌঁছানোয় ২০১১ সালের আইন অনুযায়ী এ সরকারের ব্যয়ের বিষয়ে যে সীমা নির্ধারিত ছিল তা দূর হয়ে যাবে। এর ফলে সামরিক ও বেসামরিক খাতে মোট ৩শ বিলিয়ন ডলারের বরাদ্দের বিষয়টি জোরদার হবে। সিনেটে সংখ্যাগরিষ্ঠ দলের নেতা মিচ ম্যাককনেল বলেন, বিগত কয়েক বছরের মধ্যে এই প্রথমবারের মতো আমরা সমঝোতায় পৌঁছেছি যে, আমেরিকার নিরাপত্তা রক্ষার স্বার্থে আমাদের সশস্ত্র বাহিনীর আরো অর্থ বরাদ্দ প্রয়োজন। রিপাবলিকান সিনেটর লিন্ডসে গ্রাহাম বলেন, ২০১১ সালের পর থেকে সামরিক বাহিনীর জন্য এটি হচ্ছে সবচেয়ে ভাল খবর। এ চুক্তি অনুযায়ী অভ্যন্তরীণ খাতের বরাদ্ধও নিশ্চিত করা হবে। অভ্যন্তরীণ খাতে দুর্যোগ, স্বাস্থ্য সেবা ও মহামারি মোকাবেলার বিষয়টি অগ্রাধিকার পাবে। আর এই বিষয়গুলোর ওপর গুরুত্ব দেয়ার ব্যাপারে ডেমোক্রেটরা চাপ দিয়ে আসছে।