সীমান্তে রাশিয়ার পারমাণবিক ক্ষেপণাস্ত্র মোতায়েন
পূর্ব ইউরোপে রুশ সীমান্তের কাছাকাছি এলাকায় মার্কিন সামরিক তৎপরতা বেড়ে যাওয়ার পরিপ্রেক্ষিতে পারমাণবিক ক্ষেপণাস্ত্র মোতায়েন করেছে দেশটি। জানা গেছে, রাশিয়া সর্ব পশ্চিম প্রান্তে অবস্থিত কালিনিনগ্রাদ অঞ্চলে পরমাণু অস্ত্র বহনে সক্ষম ইস্কান্দার ক্ষেপণাস্ত্র মোতায়েন করা হয়েছে। রুশ পার্লামেন্টের প্রতিরক্ষাবিষয়ক স্থায়ী কমিটির প্রধান ভ্লাদিমির শামানোভ বার্তা সংস্থা রিয়া নোভোস্তিকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে ইস্কান্দার ক্ষেপণাস্ত্র মোতায়েনের খবর জানিয়েছেন। তবে ঠিক কতটি ক্ষেপণাস্ত্র কতদিনের জন্য মোতায়েন করা হয়েছে তা তিনি জানাননি। শামানোভ বলেন, ইস্কান্দার ক্ষেপণাস্ত্রের লক্ষ্যবস্তু হিসেবে বিদেশি সামরিক স্থাপনাকে বাছাই করা হয়েছে। রাশিয়া এর আগেও একাধিকবার তার পশ্চিম সীমান্তে মার্কিন সেনা সমাবেশের জবাব দিতে কালিনিনগ্রাদে ইস্কান্দার ক্ষেপণাস্ত্র মোতায়েন করেছে। ৫০০ কিলোমিটার পর্যন্ত দূরত্বে আঘাত হানতে সক্ষম ইস্কান্দার ক্ষেপণাস্ত্র প্রচলিত অথবা পরমাণু ওয়ারহেড বহন করতে সক্ষম। এদিকে রাশিয়ার এ পদক্ষেপের বিরুদ্ধে প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন লিথুয়ানিয়ার প্রেসিডেন্ট ডালিয়া গ্রিবুসকাইত। তিনি দাবি করেছেন, রাশিয়া স্থায়ীভাবে এ ক্ষেপণাস্ত্র মোতায়েন করেছে এবং ফলে ইউরোপের প্রায় অর্ধেক দেশের রাজধানীর নিরাপত্তা বিপন্ন হয়েছে। রাশিয়ার পশ্চিম সীমান্তবর্তী এস্তোনিয়া, লিথুয়ানিয়া, লাটভিয়া ও পোল্যান্ডে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে মার্কিন নেতৃত্বাধীন জোট প্রায় ৪ হাজার সেনা মোতায়েন করেছে। রাশিয়া নিজের দোরগোড়ায় পাশ্চাত্যের এ সেনা সমাবেশে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে
মালদ্বীপে ১৫ দিনের জন্য জরুরি অবস্থা জারি
মালদ্বীপে ১৫ দিনের জন্য জরুরি অবস্থা জারি করেছেন দেশটির প্রেসিডেন্ট আবদুল্লাহ ইয়ামিন। দেশটির সর্বোচ্চ আদালতের দেওয়া একটি ঐতিহাসিক আদেশকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক সংকট আরও ঘনীভূত হওয়ার পরিপ্রেক্ষিতে গতকাল সোমবার সন্ধ্যায় জরুরি অবস্থা জারি করা হয়। মালদ্বীপের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে প্রেসিডেন্ট ইয়ামিনের পক্ষে এ জরুরি অবস্থা জারির ঘোষণা দেন আইনমন্ত্রী আজিমা শাকুর। পরে প্রেসিডেন্টের পক্ষ থেকে এ-সংক্রান্ত একটি বিবৃতিও প্রকাশ করা হয়েছে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইটে। বিবৃতিতে বলা হয়েছে, মালদ্বীপের সরকার দেশের সব নাগরিক ও আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে নিশ্চয়তা দিচ্ছে, দেশের সব নাগরিক এবং এখানে বসবাসরত ও ভ্রমণরত সব বিদেশি নাগরিকের নিরাপত্তা নিশ্চিত করবে। প্রেসিডেন্টের মুখপাত্র ইব্রাহিম মুয়াজ আলিও জরুরি অবস্থা জারির খবর নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, সংবিধানের ২৫৩ অনুচ্ছেদে দেওয়া ক্ষমতাবলে সোমবার থেকে আগামী ১৫ দিনের জন্য দেশজুড়ে জরুরি অবস্থা জারি করেছেন প্রেসিডেন্ট। আর সংবিধানের ২৫৭ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, জরুরি অবস্থা জারির ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে সংকট সমাধানের উপায় প্রস্তাব করে তা পার্লামেন্টে উপস্থাপন করতে হবে। বিরোধী দল ডেমোক্রেটিক পার্টির (এমডিপি) সাংসদ এভা আবদুল্লাহ বলেন, জরুরি অবস্থা জারি করা মরিয়া চেষ্টা। এতে বোঝা যায়, তিনি (প্রেসিডেন্ট) জনগণ, পার্লামেন্ট, অন্যান্য রাষ্ট্রীয় সংস্থা ও আদালতের আস্থা -সবকিছু হারিয়েছেন। তাঁর এখনই পদত্যাগ করা উচিত। গত সপ্তাহে দেশটির সুপ্রিম কোর্ট সন্ত্রাসবাদে জড়িত অভিযোগে কারাবন্দী বিরোধীদলীয় নয়জন নেতাকে মুক্তির আদেশ দেন। এঁদের মধ্যে বিদেশে স্বেচ্ছানির্বাসনে থাকা দেশটির সাবেক প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ নাশিদও রয়েছেন। এ ছাড়া বহিষ্কার করা ইয়ামিনের দলের ১২ জন আইনপ্রণেতাকে স্বপদে ফিরিয়ে আনার আদেশও দেন আদালত। এই ১২ জন আইনপ্রণেতার ওপর থেকে বহিষ্কারাদেশ ফিরিয়ে নেওয়া হলে ৮৫ সদস্যের আইনসভায় সংখ্যাগরিষ্ঠতা হারাবে সরকারি দল। কিন্তু ইয়ামিনের সরকার আদালতের এ আদেশ প্রত্যাখ্যান করলে শুরু হয় রাজনৈতিক সংকট। আদালত প্রেসিডেন্ট ইয়ামিনের বিরুদ্ধে একটি রুলও জারি করেন। প্রেসিডেন্টের দুর্নীতি, ক্ষমতার অপব্যবহার ও মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগ এনে সমালোচনা করা হয় ওই রুলে। এর আগে আইনমন্ত্রী শাকুর বলেছিলেন, রাজনৈতিক বন্দীদের মুক্তির যে আদেশ সুপ্রিম কোর্ট দিয়েছেন, তা সরকার পালন করবে এমনটা তিনি বিশ্বাস করেন না। আদালতের আদেশ পালন না করায় অ্যাটর্নি জেনারেল ও প্রধান কৌঁসুলিকে অপসারণের জন্য রোববার পার্লামেন্টে একটি পিটিশন দেন বিরোধী দলের নেতারা। এরপরই পার্লামেন্ট সিলগালা করে এর চারপাশে সতর্ক অবস্থান নেয় নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যরা। আদালতের আদেশ কার্যকর না করতে দেশটির সেনাবাহিনী ও পুলিশের প্রতি আহ্বানও জানান প্রেসিডেন্ট ইয়ামিন। তিনি সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারক আবদুল্লাহ সাঈদসহ অন্য বিচারকদের বরখাস্ত করার উপায় খুঁজছেন। তবে মালদ্বীপের সর্বোচ্চ আদালত দেশের বর্তমান সংকটজনক পরিস্থিতি অবসানে রোববার প্রতিবেশী দেশ ভারতের সাহায্য চেয়েছেন। একটি বিশ্বস্ত সূত্র এ খবর নিশ্চিত করেছে। অন্যদিকে মালদ্বীপের পার্লামেন্টের মহাসচিব ও উপমহাসচিব পদত্যাগ করেছেন বলে খবর পাওয়া গেছে। বিশ্বস্ত সূত্রের বরাত দিয়ে টাইমস অব ইন্ডিয়া জানিয়েছে, মালদ্বীপের বিচার বিভাগীয় প্রশাসনের প্রধান হাসান সাঈদের বাড়িতে তল্লাশি চালানো হয়েছে ঘুষ নেওয়ার অভিযোগ তুলে। শুক্রবার এক বিবৃতিতে ভারত বলেছে, মালদ্বীপের চলমান পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। মালদ্বীপে সরকার ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে বিরোধীদের বিক্ষিপ্ত সংঘর্ষের খবর পাওয়া গেছে।
মালদ্বীপে মুখোমুখি আদালত-সরকার
মালদ্বীপে সাবেক প্রেসিডেন্ট মোহামেদ নাশিদের বিচার নিয়ে আদালত ও সরকার মুখোমুখি অবস্থায় নেওয়ায় চরম উত্তেজনা শুরু হয়েছে। সম্প্রতি সন্ত্রাসবাদের অভিযোগে সাবেক প্রেসিডেন্ট মোহামেদ নাশিদের বিচার করাকে হাই কোর্টে শুক্রবার অবৈধ ঘোষণা এবং বিরোধী ১২ এমপিকে মুক্তি দেওয়ার আদেশ দেয়। তবে সরকার তার বিচার করতে বদ্ধপরিকর। পাল্টা পদক্ষেপে পার্লামেন্টের কার্যক্রম অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ ঘোষণা করেছে সরকার। এছাড়া প্রেসিডেন্ট আব্দুল্লাহ ইয়ামিনকে গ্রেপ্তারে আদালতের যে কোনো পদক্ষেপ ঠেকাতে নিরাপত্তা বাহিনীকে তৎপর করেছে সরকার। বিরোধী দল মালদিভিয়ান ডেমোক্রেটিক পার্টির ১২ এমপিকে মুক্তি দেওয়ায় এখন তারাই পার্লামেন্টের সংখ্যাগরিষ্ঠ দল। ওই ১২ জনের মধ্যে নয়জন দেশে কারাবন্দি আছেন। বাকিরা স্বেচ্ছা নির্বাসনে চলে যান। মালদ্বীপ সরকারের আশঙ্কা, সুপ্রিম কোর্ট প্রেসিডেন্ট আব্দুল্লাহ ইয়ামিনকে গ্রেপ্তার বা অভিশংসনের নির্দেশ দিতে পারেন। অ্যাটর্নি জেনারেল মোহামেদ অনিল বলেন, প্রেসিডেন্টকে ক্ষমতাচ্যুত করা বা গ্রেপ্তারের যে কোনো উদ্যোগ বেআইনি হবে। এদিকে সরকারও আইনশৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনীকে সঙ্গে নিয়ে কঠোর মনোভাব বজায় রেখেছে।
মার্কিন সেনারাও হামলার শিকার হবে
সিরিয়ার আফরিন অঞ্চলে চলমান সামরিক অভিযানে মার্কিন সেনারা বাধা দিলে তারাও হামলার শিকার হবে বলে হুশিয়ারি দিয়েছে তুরস্ক। তুরস্কের উপপ্রধানমন্ত্রী বাকির বোজদাগ রোববার সিএনএন টেলিভিশনকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে এ হুশিয়ারি দেন। তিনি বলেন, অভিযানে যদি মার্কিন সেনারা বাধা দেয় কিংবা কুর্দি গেরিলাদের হয়ে লড়াই করতে আসে তাহলে তাদেরকে ছাড় দেয়া হবে না। তারাও হামলা থেকে রেহাই পাবে না। এ ধরনের ঘটনা ঘটলে আমরা মার্কিন সেনাদেরকে সন্ত্রাসী বলেই বিবেচনা করব। মার্কিন সেনাদের সঙ্গে তুরস্ক সংঘাত চায় না উল্লেখ করে বাকির বোজদাগ বলেন, তুরস্কের সংবেদনশীলতা সম্পর্কে মার্কিনিরা সচেতন বলে আমরা মনে করি। তারপরও যদি তারা কুর্দি পোশাক পরে তুরস্কের সেনাদের ওপর হামলা চালায় তাহলে সন্ত্রাসীদের সঙ্গে তাদেরকে আলাদা করার সুযোগ থাকবে না। তুর্কি গণমাধ্যম বলছে, গত শনিবার একটি ট্যাংকে কুর্দি গেরিলাদের হামলায় তুরস্কের সাত সেনা নিহত হয়েছে। আর ওই ট্যাংক বিধ্বংসী অস্ত্র দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র।
সেনাবাহিনীর দখলে পার্লামেন্ট
মালদ্বীপের পার্লামেন্ট ভবন সিলগালা করার পর দখলে নিয়েছে দেশটির সেনাবাহিনী। একই সঙ্গে দেশটির বিরোধীদলীয় দুই সংসদ সদস্যকে গ্রেফতার করা হয়েছে। দুর্নীতি ও সন্ত্রাসবাদের অভিযোগে কারাবন্দি দেশটির সাবেক প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ নাশিদসহ বেশ কয়েকজন বিরোধীদলীয় নেতাকে মুক্তি দিতে সুপ্রিম কোর্ট গত বৃহস্পতিবার আদেশ দেয়। সুপ্রিম কোর্টের এ আদেশ না মানায় বর্তমান প্রেসিডেন্ট আব্দুল্লা ইয়ামিনকে অপসারণের চেষ্টা শুরু হয়েছে বলে রোববার মালদ্বীপের অ্যাটর্নি জেনারেল জানান। সুপ্রিম কোর্টের ওই আদেশ ঘিরে দেশটিতে গভীর রাজনৈতিক সঙ্কট শুরু হয়েছে। সর্বোচ্চ আদালতের আদেশ বাস্তবায়নে দ্বীপরাষ্ট্র মালদ্বীপের অ্যাটর্নি জেনারেল ব্যর্থ হয়েছেন বলে অভিযোগ এনে রোববার তার পদত্যাগের দাবিতে সংসদ সচিবালয়ে পিটিশন দিয়েছেন বিরোধীদলীয় সংসদ সদস্যরা। এর পরপরই রাজধানী মালেতে অবস্থিত দেশটির পার্লামেন্ট ভবনের চারপাশে অবস্থান নেয় সেনাবাহিনীর দাঙ্গা ইউনিটের সদস্যরা। ৮৫ আসনবিশিষ্ট মালদ্বীপের পার্লামেন্টে বিরোধীদলের সংখ্যাগরিষ্ঠতা রয়েছে। গত বছর দেশটির ক্ষমতাসীন দল থেকে বেরিয়ে যাওয়ায় পার্লামেন্টের ১২ সদস্যের পদ বাতিল করা হয়। পরে পুনরায় তাদের স্বপদে বহাল রাখেন সুপ্রিম কোর্ট। প্রেসিডেন্ট আব্দুল্লা ইয়ামিনকে অভিশংসনের জন্য সুপ্রিম কোর্ট চেষ্টা করছে বলে অ্যাটর্নি জেনারেল মোহাম্মদ অনিল অভিযোগ করার কয়েক ঘণ্টার মধ্যে পার্লামেন্ট সিলগালা করে দিল দেশটির নিরাপত্তাবাহিনী। রবিবার স্থানীয় সময় সকালের দিকে মালদ্বীপের সেনাবাহিনী ও পুলিশপ্রধানের উপস্থিতিতে রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে কথা বলেন অ্যাটর্নি জেনারেল মোহাম্মদ অনিল। তিনি বলেন, সুপ্রিম কোর্ট প্রেসিডেন্টকে অভিশংসনের আদেশ জারি করতে পারেন বলে আমরা খবর পেয়েছি। আমি সব আইন প্রয়োগকারী সংস্থাকে জানিয়েছি যে, এ ধরনের একটি অবৈধ আদেশ মানা উচিত হবে না তাদের। অ্যাটর্নি জেনারেল অনিল বলেন, রাজধানী মালেতে যে কোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা ঠেকাতে তিনি আইন-শৃঙ্খলাবাহিনীকে ব্যবস্থা নেয়ার নির্দেশ দিয়েছেন। সেনাবাহিনীর প্রধান আহমেদ শিয়াম বলেন, মালদ্বীপ সঙ্কটে পড়বে আর তা দেখে বসে থাকবে না নিরাপত্তাবাহিনী। তিনি বলেন, আমরা অ্যাটর্নি জেনারেল বৈধ আদেশ অনুস্মরণ করবো এবং বেআইনি কোনো নির্দেশ মানতে বাধ্য হবো না। এদিকে, রবিবার রাজধানী মালের বিমানবন্দরে পৌঁছানোর পর দেশটির বিরোধীদলীয় দুই সংসদ সদস্য আব্দুল্লা সিনান ও ইহাম আহমেদকে গ্রেফতার করা হয়েছে বলে পুলিশের এক মুখপাত্র আলজাজিরাকে জানিয়েছেন। সুপ্রিম কোর্টের আদেশে পার্লামেন্টে হারানো পদ ফিরে পাওয়া ১২ সংসদ সদস্যের মধ্যে এ দুজনও ছিলেন। সংসদ সচিবালয়ের প্রধান কর্মকর্তা আহমেদ মোহাম্মদ পদত্যাগ করেছেন। আলজাজিরাকে তিনি বলেন, আমি পদত্যাগ করেছি। তবে পদত্যাগের কারণ জানাননি তিনি।
প্রথম স্টেট অব দ্য ইউনিয়নে ট্রাম্প ভাষণ দিলেন ঠিক প্রেসিডেন্টদের মতো
আমেরিকার প্রেসিডেন্ট হিসেবে দেওয়া প্রথম স্টেট অব দ্য ইউনিয়ন ভাষণে ডোনাল্ড ট্রাম্পকে শোনাল ঠিক প্রেসিডেন্টদের মতো। কেবল নির্বাচনের খাতিরে যে আক্রমণাত্মক আগ্রাসী প্রার্থী রিপাবলিকান পার্টির মনোনয়ন চেয়েছিলেন, গত বুধবার রাতের ভাষণে মনে হলো, তিনিই ভেতরে-ভেতরে একজন রিপাবলিকান। ভোটে জয়ের খাতিরে আগ্রাসী আর আক্রমণাত্মক রূপ ধরেছিলেন। একেবারে একজন মার্কামারা রিপাবলিকানের মতো করে ট্রাম্প আওড়ালেন দেশপ্রেম, জাতীয়তাবাদ আর আমেরিকান ড্রিমের বুলি, ঠিক যেন তিনি আশির দশকের রোনাল্ড রেগান। তিনি বললেন সমন্বয়ের কথা, একতার কথা। শতবর্ষী মিঠে কথার রাজনীতির সংস্কৃতি অনুসারে তিনিও দেখালেন স্বপ্ন, সেই পর্যন্ত পৌঁছানোর বাস্তবতাকে পুরোপুরি আবছা রেখেই। তবে যদিও ট্রাম্প একজন রাজনীতিবিদের মতো করে কথা বলতে বা স্ক্রিপ্ট পড়তে শিখে গেছেন, তাঁর পৃথিবী এখনো রাজনীতিবিদ হিসেবে তাঁর ভাষণ শুনতে শেখেনি। যাঁরা ট্রাম্পকে ভালোবেসেছিলেন তাঁর সোজাসাপটা বক্তব্যের জন্য, তাঁর অনড় অবস্থানের জন্য আর তাঁর অরাজনীতিবিদসুলভ আচরণের জন্য, তাঁদের কাছে এই জাতির উদ্দেশ্যে ভাষণ বরং একটি হৃদয়ভঙ্গেরই কারণ হয়ে দাঁড়াবে। তবে তাঁর শুভাকাঙ্ক্ষীদের খুশি করবার জন্য কি যথেষ্ট বুলি আওড়াননি ট্রাম্প? তা আউড়েছেন। ব্রুকিংস ইনস্টিটিউটের বিল গ্যালস্টনের মতে, তাঁর এই আবৃত্তি পুরোপুরি মিছে কথাও নয়। আমেরিকার অর্থনীতি আসলেই ফুঁসে উঠেছে, আয় বাড়ছে, বিনিয়োগ বাড়ছে। ট্রাম্পের নেতৃত্বে এরই মাঝে পাস হয়েছে ট্যাক্স রিফর্ম, রক্ষণশীল বিচারকেরা পেয়েছেন আসন আর ওবামাকেয়ারের দারুণ অজনপ্রিয় স্বাস্থ্যবিমা কেনার বাধ্যবাধকতা গিয়েছে আস্তাকুঁড়ে (যদিও ওবামাকেয়ার পুরোপুরি বাতিলের বিষয়টি দারুণ হোঁচট খেয়ে পড়েছে)। কাজেই ভালো অর্থনীতিতে টিকে থাকা সব প্রেসিডেন্টের মতোই সব গুণ নিজের বলে দাবি করে বসেছেন ট্রাম্প। যদিও এর অনেকটাই তিনি পেয়েছিলেন উত্তরাধিকারসূত্রে। উপাত্ত আসলেই বলছে যে কৃষ্ণাঙ্গ আমেরিকানদের বেকারত্বের হার রেকর্ড পরিমাণে কমেছে, তবে এই কমার ধারা শুরু হয়েছিল সেই ২০১০ সালে। উপাত্ত আরও বলছে, আমেরিকার ঋণের বোঝাও বেড়েই চলেছে আর ট্রাম্পের নীতির কারণে আগামী দশকে তা এক ট্রিলিয়ন পেরোবে। তবে এসব ক্ষতিকর উপাত্ত লুকিয়ে ফেলা ট্রাম্পের জন্য কোনো ব্যাপারই নয়। যতই তাঁর বিরোধীরা মাইক হাঁকাক না কেন, ট্রাম্পের কাছে টুইটার আছে! এ জন্যই বলছি যে ট্রাম্পের আজকের ভাষণটি আরেকটু হলেই সফল হয়ে যেত, যদি তাঁর সমর্থকেরা মধ্যপন্থী রক্ষণশীল হতেন। ট্রাম্পের আজকের ভাষণ আবারও প্রমাণ করেছে যে তিনি রক্ষণশীলদের বলে দেওয়া পথেই হাঁটছেন। তবে ট্রাম্পের জন্য দুঃসংবাদ হলো, তাঁর সমর্থকেরা খুব একটা মধ্যপন্থী নন যে এতে তাঁদের মন গলবে। তাঁর সত্যিকারের জীবন-মরণ সমর্থকেরা অনেক বেশি ভাবেন বরং অন্য একটি ইস্যু নিয়ে, যেটি নিয়েই ট্রাম্প কথা বলে ফেলেছেন বড্ড বেশি। আর সব ছেড়েছুড়ে কেবল অভিবাসন নিয়েই সবিস্তারে আলোচনা করতে গেছেন তিনি, আর সেটা বলতে গিয়েই বলে ফেলেছেন আপসের কথা। বলেছেন যে সীমান্তদেয়ালের জন্য ২৫ বিলিয়ন ডলার বরাদ্দ আর আইনগত অভিবাসন সীমিত করার বিনিময়ে তিনি দেড় মিলিয়নের বেশি কাগজবিহীন অভিবাসীকে নাগরিকত্বের সুযোগ করে দেবেন। তবে আইনি অভিবাসনের গলা টিপে ধরার কারণে আর বাজেটের থেকে দেয়ালের নামে টাকা নিয়ে যাওয়ার কারণে ডেমোক্র্যাটরা বা স্বাধীন মধ্যবামপন্থীরা এই আপসে রাজি হবেন বলে মনে হয় না। সত্যিকারের আপসে আসতে গেলে আর মধ্যপন্থীদের দলে টানতে গেলে ট্রাম্পকে আরও অনেক ছাড় দিতে রাজি হতে হবে। কাজেই আজকের ভাষণের মধ্য দিয়ে মধ্যপন্থীদের সঙ্গে পাওয়ার বদলে বরং নিজের দলের কড়া ডানপন্থীদের সমর্থন হারাতে বসেছেন ট্রাম্প। রিপাবলিকান সিনেটর টেড ক্রুজ (ট্রাম্পের সাবেক নির্বাচনী প্রতিদ্বন্দ্বী) এরই মাঝে বলেছেন, কাগজহীনদের নাগরিকত্বের কথা বলে ট্রাম্প তাঁর প্রতিশ্রুতির খেলাপ করছেন। যে অতি ডান ব্রাইটবার্ট নিউজ তীব্রভাবে ট্রাম্পের পক্ষের শক্তি হিসেবে কাজ করেছিল, তাঁরাই এখন ট্রাম্পের বদনাম করে তাঁকে ডাকছেন ‘অ্যামনেস্টি ডন’ বা ক্ষমার সরদার। ডানপন্থী থিংক ট্যাংক হেরিটেজ অ্যাকশন ট্রাম্পের সঙ্গে সম্পর্ক রেখেও যত তীব্রভাবে তাঁর সমালোচনা করা যায়, ততটুকুন করছে। এর সব ঘটে গেছে আজকের ভাষণের আগেই। আর আজকের এই ভাষণে তাঁর এই সমালোচিত প্রকল্পের কথা আবারও আউড়ে ডোনাল্ড ট্রাম্প বরং নিশ্চিত করলেন যে তাঁর অন্তঃপ্রাণ সমর্থকদের সবাই তাঁর প্রতিশ্রুতিতে আপসের কথা শুনছেন। কাজেই যে মুলা ঝোলানো রাজনীতির থেকে মুক্তি পাওয়ার আশায় ট্রাম্পকে তাঁরা ভোট দিয়েছেন, অনেকের কাছে মনে হবে যে ট্রাম্প নির্বাচিত হয়ে ঠিক সেই মুলা ঝোলানোর রাজনীতিরই পুনরাবৃত্তি করছেন। ডোনাল্ড ট্রাম্প ওয়াশিংটন ডিসির বাতাস আর রাজনৈতিক বাতাসার মিঠে ভাষা শিখতে শুরু করেছেন। তাঁর ভাষণ তাই সেই মিঠে ভাষার ওপরে ভাসা প্রচারণা আর ভবিষ্যৎ স্বপ্নের মাঝেই সীমিত থাকা উচিত ছিল। তা না করে বরং ট্রাম্প কথা বলতে গিয়েছেন তাঁর প্রকল্প পরিকল্পনা নিয়ে আর বেছে নিয়েছেন ঠিক সেই প্রকল্প, যেটি হয়তো ভেঙে দেবে তাঁর কঠিনতম সমর্থকদের হৃদয়। ট্রাম্পের সমর্থকেরা আজ টিভি খুলেছিলেন তাঁদের স্বপ্নের বাস্তবায়নের হালখাতা দেখতে, তার বদলে ট্রাম্প তাঁদের ধরিয়ে দিয়েছে আদিম অকৃত্রিম মুলা, যার স্বাদ পেয়েই এত দশক ধরে রাজনীতিবিমুখ হয়ে ছিল আমেরিকার সুপ্ত সংখ্যাগুরু। কাজেই এই ভাষণের পর রিপাবলিকানরা যখন নির্বাচনে লড়তে যাবেন সামনের দিনে, তখন হয়তো তাঁদের হাতেও হারিকেন ধরিয়ে দেবে সুপ্ত জনতা—হয়তো লুপ্ত হয়ে যাবে তাদের ট্রাম্পকার্ড।
আইএসকে পরাজিত না করা পর্যন্ত লড়াই অব্যাহত থাকবে
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইসলামিক স্টেট গ্রুপ বিরোধী যুদ্ধে আরো অনেক কিছু করার রয়েছে বলে সতর্ক করতে যাচ্ছেন। তিনি মঙ্গলবার তার স্টেট অব ইউনিয়ন ভাষণে এ বিষয়ে সতর্ক করবেন বলে জানা গেছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, মার্কিন নেতৃত্বাধীন জোট ইরাক ও সিরিয়া ভূ-খন্ডের প্রায় শতভাগ এলাকা আইএস মুক্ত করেছে বলে ট্রাম্প ঘোষণা দেবেন। এক সময় দেশ দুটির বিশাল এলাকা এ জঙ্গি গ্রুপের দখলে ছিল। এ যুদ্ধক্ষেত্রে মার্কিন সৈন্যের উপস্থিতি অব্যাহত রাখার ব্যাপারে তার প্রশাসনের যুক্তি তুলে ধরে তিনি আরো বলবেন, এক্ষেত্রে আরো অনেক কিছু করার রয়েছে। ২০১১ সালে ইরাক থেকে সৈন্য প্রত্যাহার করে নেয়ার ব্যাপারে তার পূর্বসূরি বারাক ওবামার ভুলের কথা তুলে ধরে এ ব্যাপারে তার নিজের পর্যবেক্ষণ তুলনা করে অঙ্গীকার ব্যক্ত করে বলবেন, আইএসকে পরাজিত না করা পর্যন্ত তাদের বিরুদ্ধে আমাদের লড়াই অব্যাহত থাকবে। উল্লেখ্য, ২০০৩ সাল থেকে ইরাকে মার্কিন সৈন্য মোতায়েন রয়েছে।
উত্তর কোরিয়াকে দক্ষিণ কোরিয়ার প্রতিরক্ষামন্ত্রীর হুঁশিয়ারি
দক্ষিণ কোরিয়ার প্রতিরক্ষামন্ত্রী সং ইয়ং-মু হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেছেন, উত্তর কোরিয়া পরমাণু অস্ত্র ব্যবহার করলে দেশটির নাম বিশ্বের মানচিত্র থেকে মুছে যাবে। প্রতিরক্ষামন্ত্রীর বরাত দিয়ে দেশটির বার্তা সংস্থা ইওনহ্যাপ এ খবর জানিয়েছে। সং ইয়ং-মু মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র সফর শেষে দেশে ফিরে উত্তর কোরিয়ার বিরুদ্ধে এ হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেন। উত্তর কোরিয়া নিজের পরমাণু সক্ষমতাকে শক্তিশালী করার যে প্রচেষ্টা চালাচ্ছে সেকথা উল্লেখ করে ইয়ং-মু বলেন, আমেরিকা কিংবা দক্ষিণ কোরিয়া যার বিরুদ্ধেই পিয়ংইয়ং পরমাণু অস্ত্র ব্যবহার করুক না কেন তা হবে দেশটির জন্য আত্মহত্যার শামিল। দক্ষিণ কোরিয়ার প্রতিরক্ষামন্ত্রী এর আগে উত্তর কোরিয়ার পক্ষ থেকে পরমাণু অস্ত্রের সম্ভাব্য ব্যবহারের ব্যাপারে সংশয় প্রকাশ করেছিলেন। সম্প্রতি তিনি যুক্তরাষ্ট্র সফরে গিয়ে দেশটির হাওয়াই অঙ্গরাজ্যে মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী জিম ম্যাটিসের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। সাক্ষাতে দুই প্রতিরক্ষমন্ত্রী কোরীয় উপদ্বীপকে পরমাণু অস্ত্রমুক্ত করার ব্যাপারে দ্বিপক্ষীয় সহযোগিতা জোরদার করতে অঙ্গীকারবদ্ধ হন। সাম্প্রতিক সময়ে উত্তর কোরিয়া নিজের পরমাণু সক্ষমতা ও দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্রের মাত্রা শক্তিশালী করেছে। দেশটি সতর্ক করে দিয়ে বলেছে, আমেরিকা ও তার মিত্রদের পক্ষ থেকে যতদিন হুমকি বজায় থাকবে ততদিন নিজের সামরিক সক্ষমতা জোরদার করে যাবে পিয়ংইয়ং।
(এফবিআই) ডেপুটি ডিরেক্টর এন্ড্রু ম্যাককেবি এর পদত্যাগ
ফেডারেল ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনের (এফবিআই) ডেপুটি ডিরেক্টর এন্ড্রু ম্যাককেবি পদত্যাগ করেছেন। সম্প্রতি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের একের পর এক সমালোচনার শিকার হচ্ছিলেন তিনি। আগামি মার্চে তার মেয়াদ শেষ হবার কথা ছিল। কিন্তু তার আগেই তাকে পদত্যাগ করতে বাধ্য করা হয়। এফবিআইতে এন্ড্রুকে চান না ট্রাম্প এ ধরণের সংবাদ প্রকাশের এক সপ্তাহের মধ্যেই তিনি পদত্যাগ করলেন। তার বিরুদ্ধে রাজনৈতিকভাবে পক্ষপাতদুষ্টতার অভিযোগ আনেন ট্রাম্প। হোয়াইট হাউজের প্রেস সেক্রেটারি সারাহ স্যান্ডার্স সোমবার এক প্রেস ব্রিফিং-এ বলেন, তার পদত্যাগের সিদ্ধান্ত হোয়াইট হাউজ থেকে আসেনি। তিনি বলেন, এর সাথে প্রেসিডেন্টের কোন ধরণের সম্পর্ক নাই। গত বছর মে মাসে এফবিআই ডিরেক্টর জেমস কমি বরখাস্ত হওয়ার পর এন্ড্রু ম্যাককবি তার স্থলে দায়িত্ব পালন করে আসছিলেন। ২০১৬ সালে মার্কিন নির্বাচনে রাশিয়ার যোগসাজশ নিয়ে তদন্তের দায়িত্বে ছিলেন কমি।