রামি হামদাল্লাহর গাড়িবহরে বোমা হামলা
গাজা উপত্যকায় বিরল সফরে যাওয়ার সময় ফিলিস্তিনের প্রধানমন্ত্রী রামি হামদাল্লাহর গাড়িবহরে বোমা হামলার ঘটনা ঘটেছে। স্থানীয় সময় মঙ্গলবার রাস্তার পাশে পুঁতে রাখা বোমা বিস্ফোরিত হয়ে এ ঘটনা ঘটে। তবে এ ঘটনায় নিহত হওয়ার খবর পাওয়া না গেলেও সাতজন আহত হয়েছেন বলে জানা গেছে। খবর দ্য গার্ডিয়ান, আল জাজিরার। খবরে বলা হয়, ইসরায়েল পেরিয়ে উপকূলীয় ছিটমহলে পৌঁছানোর কিছুক্ষণ পরই ওই হামলার ঘটনা ঘটে। রাস্তার পাশে পুঁতে রাখার বোমা বিস্ফোরতি হয়ে এ ঘটনা ঘটে। এসময় তিনটি গাড়ির দরজা উড়ে যায়। আর একটি গাড়ির দরজায় রক্তের দাগ দেখা যায়। তবে অক্ষত আছেন প্রধানমন্ত্রী রামি হামদাল্লাহ। পরে তিনি বহুপ্রতীক্ষিত পয়নিষ্কাশন প্লান্ট প্রজেক্টের উদ্বোধন করেন। ওই গাড়িবহরে ফিলিস্তিনের গোয়েন্দা কর্তৃপক্ষের প্রধান মাজেদ ফারাজও ছিলেন। তিনিও অক্ষত আছেন। তবে কেউই তাৎক্ষণিকভাবে ওই হামলায় দায় স্বীকার করেনি। কিন্তু ফিলিস্তিনের কর্তৃপক্ষ এ হামলার জন্য হামাসকে দায়ী করেছে।
নেপালে গিয়ে বিড়ম্বনায় স্বজনরা
ইউএস বাংলার বিমান দুর্ঘটনায় হতাহতদের খোঁজ নিতে গিয়ে নেপালে বিড়ম্বনায় পড়েছেন স্বজনরা। লাশ শনাক্ত তো দূরে কথা দেখতে দেয়া হচ্ছে না আহতদেরও। এতে শোকের সঙ্গে যুক্ত হয়েছে বাড়তি যন্ত্রণা। তবে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত আশ্বাস দিয়েছেন যত দ্রুত সম্ভব লাশ শনাক্ত এবং আহতদের সঙ্গে স্বজনদের দেখা করার ব্যবস্থা করবেন তারা। ইউএস বাংলা, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় কিংবা সিভিল এভিয়েশন, কোন সংস্থার তথ্যই যখন স্বজনহারা মানুষগুলোকে নির্ভার করতে পারেনি ঠিক তখনই নিজ চোখে স্বজনের অবস্থা দেখতে হাজার মাইল পাড়ি দিয়ে দুর্ঘটনাস্থল নেপালে পৌঁছান ৪৬ জন হতভাগা মানুষ। মঙ্গলবার সকাল সাড়ে দশটায় নেপালে পৌঁছালেও শেষ হয়নি অপেক্ষার। নেপাল কর্তৃপক্ষের দীর্ঘসূত্রতার বেড়াজালে এখনো অনিশ্চয়তায় তারা। জানেন না কেমন আছে প্রিয় মানুষগুলো। আদৌ কি বেঁচে আছেন। বিমানে থাকা এক যাত্রীর স্বজন বলেন, 'জানি না কি অবস্থা। সবাই বলছে, মিসিং মিসিং। এখানে আসার পরে শুনলাম যে, বাই পুড়ে গেছে। খুব মর্মান্তিক অবস্থা। কাউকে দেখতে দিচ্ছে না। ওরা আরও চার-পাঁচ দিন সময় নিবে। এতো দিন এখানে থাকা তো আমাদের জন্য কঠিন। বাংলাদেশে মানুষ অপেক্ষা করছে। তারা জানতে চাচ্ছে, দেখেছি কিনা বা জীবিত আছে কিনা। আমরা তো কোন কিছুই বলতে পারছি না।' অপর একজন বলেন, 'হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ লাশ দেখতে দিচ্ছে না। এটাই আমাদের জন্য খুবই দুঃখজনক। ওরা অনেক লম্বা প্রক্রিয়ার কথা বলছে। আমাদের দূতাবাস চেষ্টা করছে যাতে দেখানো যায়।' দীর্ঘসূত্রিতার বিষয়টি স্বীকার করে বাংলাদেশী অ্যাম্বাসেডর মাশফি বিনতে শামস বলছেন, তারা চেষ্টা করছেন জটিলতা কমিয়ে এনে স্বজনদের কে আহতদের সঙ্গে দেখা করানোর ব্যবস্থা করতে। আর যারা মারা গেছেন তাদেরও লাশ দেখানোরও চেষ্টা করছেন তারা। তিনি বলেন, 'এই মাত্রই জানতে পারলাম এই সমস্যাটার কথা। কারণ, সকাল থেকেই তো আমাদের অফিসার ছিলেন সেখানে। ওরা তখন বলে নাই। আমরা যখন স্বজনদের নিয়ে গেছি তখন বলছে। আমরা অবশ্যই মরদেহ দেখার ব্যবস্থা করবো। আমরা অবশ্যই চেষ্টা করবো সবাই যেনো তাদের স্বজনদের খুঁজে পান।' সব প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে দ্রুততম সময়ের মধ্যে মৃতদেহ বাংলাদেশে পাঠানো হবে বলেও আশ্বস্ত করেছেন নেপালে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত।
ইসরাইলি আইনের নিন্দা জানিয়েছে কাতার
ফিলিস্তিনিদের আবাসন অধিকার কেড়ে নেওয়ার ইসরাইলি আইনের নিন্দা জানিয়েছে কাতার। কাতারের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে বলেছে, ইসরাইলের সংসদ এ আইন পাসের মাধ্যমে সব আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘন করেছে। নিঃসন্দেহে ইসরাইলের ওই আইন নীতি-নৈতিকতা ও মানবিকতাবিরোধী। ফিলিস্তিনিদের অধিকার হরণের ইসরাইলি পদক্ষেপ বন্ধে আন্তর্জাতিক সমাজের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে কাতার। দেশটির বিবৃতিতে আরও বলা হয়েছে, ইসরাইল অব্যাহতভাবে ফিলিস্তিনিদের অধিকার হরণ করছে। এ বিষয়ে আন্তর্জাতিক সমাজকে অবশ্যই দায়িত্ব পালন করতে হবে। গত বুধবার ইহুদিবাদী ইসরাইলের সংসদ নেসেটে একটি আইন পাস করা হয়েছে, যা বলবৎ করা হলে ফিলিস্তিনি জনগণের বসবাসের অধিকার কেড়ে নেওয়া যাবে। আইনে বলা হয়েছে, পবিত্র বায়তুল মুকাদ্দাস শহরে বসবাসকারী ফিলিস্তিনিরা ইসরাইলের প্রতি অনুগত না হলে তাদের আবাসন সুবিধা বাতিল করা হবে। বুধবার ইসরাইলি সংসদে এ আইন পাস হয়েছে এবং এতে আরও বলা হয়েছে, যেসব ব্যক্তি মিথ্যা তথ্যের ভিত্তিতে নাগরিকত্ব নিয়েছে তাদের ক্ষেত্রেও এ আইন প্রযোজ্য হবে। এছাড়া, ইসরাইলি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দৃষ্টিতে যারা অপরাধমূলক কর্মকা- করছে তাদেরও এ আইনের আওতায় আনা হবে। এ আইনের আওতায় যেসব ফিলিস্তিনিকে ইসরাইলের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আরিয়েহ দেরি হুমকি বলে মনে করবেন, তিনি সেসব ফিলিস্তিনিকে বায়তুল মুকাদ্দাস থেকে উচ্ছেদ করতে পারবেন। ইসরাইলের এ আইনকে চরম বর্ণবাদী বলে মন্তব্য করেছেন ফিলিস্তিনি মুক্তি সংস্থা বা পিএলওর সিনিয়র সদস্য হানান আশরাভি।
বিমান দুর্ঘটনায় নিহত ৫০ : জীবিত ২০। নিহত বাংলাদেশীদের সংখ্যা নিশ্চিত হওয়া যায়নি
নেপালের রাজধানী কাঠমান্ডুতে ত্রিভুবন আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে বাংলাদেশের বেসরকারি বিমান সংস্থা ইউএসবাংলার উড়োজাহাজ বিধ্বস্ত হয়ে অন্তত ৫০ জন নিহত হয়েছেন। বার্তা সংস্থা রয়টার্স নেপালের সেনাবাহিনীর একজন মুখপাত্রের বরাত দিয়ে এ কথা জানিয়েছে। তবে বার্তা সংস্থা এএফপি বলেছে, কমপক্ষে ৪৯ জন নিহত হয়েছেন। তবে নিহতদের মধ্যে কতজন বাংলাদেশি তা এখনো জানা যায়নি। নেপালের বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত মাশফি বিনতে শামস জানিয়েছেন, বিমানে মোট যাত্রী ছিলেন ৬৭ জন। ৪ জন ক্রু। ৩২ জন বাংলাদেশি। ১ জন মালদ্বীপের। একজন চীনের। বাকিরা নেপালি। ৪৯ জন নিহত হয়েছেন। কতজন নেপালি, কতজন বাংলাদেশি তা আমরা এখনো নিশ্চিত না। ১০ জন বাংলাদেশি জীবিত আছেন বলে নিশ্চিত হওয়া গেছে। আমাদের কর্মকর্তাদের সাথে তাদের কথা হয়েছে। আরো চারজন বাংলাদেশিকে চিকিৎসার পর ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। দুর্ঘটনার কারণ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে মাশফি বিনতে শামস বলেন, কারণ তদন্ত হবে। নেপালের বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ একটি কমিটি করেছে। ওদের ক্যাবিনেট থেকেও একটি কমিটি হবে। এরপর কারণ জানা যাবে। জানা যায়, সোমবার দুপুর ১২টা ৫১ মিনিটে ৭১ জন যাত্রী নিয়ে নেপালের উদ্দেশ্যে ঢাকা ছাড়ে ইউএস বাংলার ড্যাশ এইট কিউ ফোর হানড্রেড মডেলের এই বিমানটি। দুপুর ২টা ২০ মিনিটে কাঠমান্ডুর ত্রিভুবন আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণের সময় বিমানটিতে আগুন ধরে যায়। সাথে সাথে রানওয়ে থেকে ছিটকে বিমানটি পাশের খালি মাঠে গিয়ে পড়ে। দুই ইঞ্জিনের বিমানটি ভেঙ্গে কয়েক টুকরো হয়ে পড়ে। বিক্ষিপ্ত অংশগুলোতে লাগা আগুনের কালো ধোঁয়ায় ছেয়ে যায় গোটা বিমানবন্দর। নেপালের পুলিশ বিবিসিকে জানিয়েছে, ৩১ জন ঘটনাস্থলেই নিহত হয়েছেন। আরো ৯ জন পরে হাসাপাতালে মারা গেছেন। এখনও আটজন নিখোঁজ রয়েছে। বাকিদেরকে হাসপাতালে চিকিৎসা করা হচ্ছে। তাদের মধ্যে অনেকের অবস্থাই গুরুতর। বেঁচে যাওয়া যাত্রীদের একজন নেপালের একটি সংবাদপত্রকে বলেছেন, বিধ্বস্ত বিমানটির জানালা দিয়ে তিনি বের হয়ে আসেন। এবং তিনি নিজেকে ভাগ্যবান বলে মনে করছেন। দুর্ঘটনার কারণ সম্পর্কে এখনও কিছু জানা যায়নি। আমি ভাগ্যবান : দুর্ঘটনার বিবরণ দিলেন বেঁচে যাওয়া বিমান-যাত্রী কাঠমান্ডুতে ইউএস বাংলা বিমান দুর্ঘটনায় বেঁচে যাওয়া যাত্রী বসন্ত বোহরা বলেছেন, সৌভাগ্যক্রমে তিনি বেঁচে গেছেন। সোমবার ত্রিভুবন বিমানবন্দরে ওই দুর্ঘটনা ঘটে। এতে বেশ কয়েকজন যাত্রী হতাহত হয়েছে বলে কাঠমান্ডু পোস্ট জানিয়েছে। বসন্ত বোহরা এবং আরো ১৫ জন নেপালি আরোহী ছিলেন বিমানটিতে। তারা রাস্তবিতা ইন্টারন্যাশনাল ট্রাভেলস অ্যান্ড ট্যুরস-এর পক্ষ থেকে তারা বাংলাদেশে এসেছিলেন প্রশিক্ষণ গ্রহণ করতে। বসন্ত বলেন, ঢাকা থেকে বিমানটি উড্ডয়নের সময় সবকিছুই ঠিকঠাক ছিল। কিন্তু কাঠমান্ডু বিমানবন্দরে অবতরণের সময় বিমানটি অদ্ভূত আচরণ করছিল। তিনি বলেন, হঠাৎ করে বিমানটি প্রবলভাবে ঝাঁকুনি দেয়। তারপরই হয় প্রচণ্ড শব্দ। আমার আসনটি ছিল বিমানের কাছে। আমি জানালা ভেঙে বের হতে পেরেছিলাম। তিনি এখন থাপাথালিভিত্তিক নরভিক হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছেন। নেপালে ইউএস-বাংলা বিমান বিধ্বস্ত বাংলাদেশের ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্সের একটি বিমান আজ নেপালের রাজধানী কাঠমান্ডুতে ত্রিভূবন আন্তর্জাতিক বিমান বন্দরে (টিআইএ) বিধ্বস্ত হয়েছে। কাঠমান্ডু পোস্ট এ খবর জানায়। ইউএস -বাংলা জেনারেল ম্যানেজার (মার্কেটিং সাপোর্ট এন্ড পিআর) কামরুল ইসলাম এ খবরের সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। তিনি দুঘর্টনার কয়েক মিনিট পরেই বাসসকে জানান, আমরা কাঠমান্ডু টিআইএ কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রাখছি। সেখানে উদ্ধার অভিযান চলছে। নেপালের একটি অনলাইন পত্রিকা বিমান বন্দর মুখপাত্র প্রিম নাথ ঠাকুরের উদ্ধৃতি দিয়ে জানিয়েছে, বিমানটি অবতরণ করার সময় বিমান বন্দরের পাশের একটি ফুটবল মাঠে বিধ্বস্ত হয়। এস২-এজিইউ নামের এ বিমানটি ঢাকা থেকে ছেড়ে যায় এবং স্থানীয় সময় দুপুর ২ টা ২০ মিনিটে টিআইএ অবতরণ করে। বিধ্বস্ত হবার পর বিমানটিতে আগুন ধরে যায়। বিমানবন্দরের উদ্ধারকারী দল এবং নেপাল সেনাবাহিনীর সদস্যরা উদ্ধার অভিযান পরিচালনা করছেন। বিমানের যাত্রীদের অবস্থা সম্পর্কে এখনো কিছু জানা যায়নি।
প্রকাশ্যে ভাঙা হল শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের মূর্তি
ত্রিপুরা ও তামিলনাড়ুর পর ভারতের পশ্চিমবঙ্গেও মূর্তি ভাঙার ঘটনা ঘটল। কলকাতায় পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রীর বাড়ির কয়েকশো মিটারের মধ্যে বুধবার সকালে প্রকাশ্যে ভাঙা হল শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের মূর্তি। কেওড়াতলা শ্মশান সংলগ্ন সিআর দাস পার্কে বুধবার সকালে এই ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় সাত তরুণ-তরুণীকে গ্রেপ্তার করেছে টালিগঞ্জ থানার পুলিশ। আটককৃতরা নিজেদের যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রছাত্রী বলে দাবি করেছেন। আনন্দবাজার এক প্রতিবেদনে বলছে, সাত তরুণ-তরুণী হঠাৎ পার্কে ঢুকে হাতুড়ি দিয়ে ভাঙতে থাকেন শ্যামাপ্রসাদের আবক্ষ প্রস্তরমূর্তিতে। মুখের বেশ খানিকটা অংশ ক্ষতবিক্ষত হয়ে যায়। মূর্তিতে কালিও মাখিয়ে দেন তাঁরা। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, সকাল আটটার দিকে স্লোগান দিতে দিতে পার্কের গেট টপকে ভেতরে ঢোকেন সাত তরুণ-তরুণী। তাদের হাতে ছিল পোস্টার। পার্কের ভেতরে শ্যামাপ্রসাদের মূর্তির সামনে এসে স্লোগান দিতে দিতে ছেনি-হাতুড়ি দিয়ে মূর্তিটি ভাঙতে শুরু করেন তারা। বেশ খানিকটা ভাঙাভাঙির পর মূর্তিতে কালি লেপে দেন। ত্রিপুরায় লেনিনের মূর্তি ভাঙার প্রতিক্রিয়া দেখাতেই শ্যামাপ্রসাদের মূর্তি ভাঙা হয়েছে বলে ধারণা পুলিশের। ঘটনাস্থলে যে পোস্টার মিলেছে তার নিচে নামের একটি সংগঠনের নাম লেখা ছিল। রাজ্য সরকার এবং প্রশাসনের পক্ষ থেকে এই ঘটনার তীব্র প্রতিক্রিয়া জানানো হয়েছে। কলকাতার পুলিশ কমিশনার রাজীব কুমার জানিয়েছেন, আটকদের বিরুদ্ধে কড়া আইনি পদক্ষেপ করা হবে। এ ধরনের তাণ্ডব কোনও মতেই বরদাস্ত করা হবে না। এদিকে মূর্তি ভাঙার খবর পেয়েই ঘটনাস্থলে যান স্থানীয় বিধায়ক এবং মন্ত্রী শোভনদেব চট্টোপাধ্যায় এবং স্থানীয় কাউন্সিলর মালা রায়। দুইজনেই এই ঘটনার নিন্দা জানান। শোভনদেব বলেন, এটা কোনো রাজনৈতিক দলের সংস্কৃতি হতে পারে না। লেনিনের মূর্তি ভাঙার প্রতিবাদে শ্যামাপ্রসাদের মূর্তি ভাঙব, এটা কোনও যুক্তি হতে পারে না। এই ধরনের অপপ্রয়াস রুখে দেব। সম্প্রতি ভারতের ত্রিপুরা রাজ্য নির্বাচনে জয়লাভ করেছে কেন্দ্রীয় সরকার নরেন্দ্র মোদির দল বিজেপি। আর এর মাধ্যমে ক্ষমতায় থাকা বামদের পতন হয়েছে। এরপরই সেখানে বিরাট লেলিন মূর্তি বুলডোজার দিয়ে গুড়িয়ে দেয় বিজেপি সমর্থকরা। এ ঘটনার সমালোচনা শেষ হতে না হতেই তামিলনাড়ুতে অবস্থিত দ্রাবিড় নেতা পেরিয়ার ইভা রামাস্বামীর মুর্তি ভেঙে ফেলা হয়। মঙ্গলবার রাতে তামিলনাড়ুর তিরুপাত্তুর শহরের এ মূর্তিতে হামলার ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় এক বিজেপি নেতাসহ দুজনকে আটক করেছে তামিলনাড়ু পুলিশ। এইচ রাজা নামের এক বিজেপি নেতার টুইট থেকে এ হামলার ঘটনা ঘটেছে বলে মনে করছে পুলিশ। এদিকে বিভিন্ন জায়গায় এসব মূর্তি ভাঙার ঘটনায় অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। তিনি এ ঘটনার নিন্দা জানিয়ে দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির অনুরোধ করেন। লেনিনের মূর্তি ভাঙার পর মোদী সরকারের প্রতি ইঙ্গিত করে পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, মূর্তিভাঙা গণতন্ত্রে নির্বাচিত দলের কাজ নয়। বামদের পক্ষে নয় জানিয়ে মমতা বলেন, আমি সিপিএমের পক্ষে নই, মার্ক্স বা লেনিন আমার নেতা নন। কিন্তু লেনিন, মার্ক্স একটা ব্যক্তিত্ব। গণতন্ত্র মানে জবরদখল নয়।
যুক্তরাষ্ট্রে শক্তিশালী ঘূর্ণিঝড়
যুক্তরাষ্ট্রের পূর্ব-উপকূলীয় অঞ্চলে শক্তিশালী ঘূর্ণিঝড়ের আঘাতে ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বহু ঘর-বাড়ি ও রাস্তা-ঘাট। ঝড়ের কবলে পড়ে নিহত হয়েছেন অন্তত ৫ জন। শুক্রবার ঘূর্ণিঝড়ের প্রভাবে উত্তর-কেরোলিনা থেকে মানি পর্যন্ত প্রায় ১৬ লক্ষ বাসস্থানে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে বিদ্যুৎ সংযোগ। এতে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন বাসিন্দারা। ঝড়ে গাছপালা ভেঙ্গে ৫ জনের মৃত্যু হয়েছে বলে জানায় কর্তৃপক্ষ। এছাড়া বিভিন্ন স্থানে দেখা দিয়েছে বন্যা, সেই সাথে শুরু হয়েছে তীব্র তুষারপাত। এদিকে দেশটির ম্যাসাচুসেটস উপকূলে বেশ কিছু জায়গা ডুবে গেছে পানিতে। ফলে বন্ধ ঘোষণা করা হয়ে গেছে অনেক স্কুল ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠান। দেশটির বোস্টনে ঝড়ে দুর্ঘটনা এড়াতে অন্তত আড়াই হাজার বিমানের ফ্লাইট বাতিল করেছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। তবে,পরিস্থিতি মোকাবিলায় কাজ করে যাচ্ছেন উদ্ধার কর্মীরা। এদিকে, গত কয়েকদিন ধরে চলা ইউরোপের বিভিন্ন অঞ্চলে তীব্র তুষার ঝড়ের ঠাণ্ডায় মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৬০ জনে দাঁড়িয়েছে।
কুর্দিদের হামলায় তুরস্কের সেনা নিহত
সিরিয়ার উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলে বৃহস্পতিবার তুরস্কের আট সৈন্য নিহত ও ১৩ জন আহত হয়েছেন। সেখানে কুর্দি মিলিশিয়ার বিরুদ্ধে অভিযান চালানোর সময় তাদের এসব সৈন্য নিহত হয়।বিষয়টি নিশ্চিত করেছে দেশটির সামরিক বাহিনী। খবর এএফপির। গত ২০ জানুয়ারি সিরিয়ার আফরিন অঞ্চলে পিপলস প্রটেকটিভ ইউনিটের (ওয়াইপিজি) বিরুদ্ধে আন্তসীমান্ত অভিযান শুরুর পর থেকে আঙ্কারার জন্য বৃহস্পতিবার ছিল সবচেয়ে ভয়াবহ দিন। তুরস্কের সামরিক বাহিনীর দুটি পৃথক বিবৃতিতে হতাহতের এ সংখ্যা জানানো হয়। প্রথম বিবৃতিতে বলা হয়, আফরিনে অভিযান চালানোর সময় আমাদের পাঁচ বীর সেনা শহীদ ও অপর সাত আহত হয়েছেন। এর পরপরই তাদের দেয়া দ্বিতীয় বিবৃতিতে বলা হয়, তুরস্ক সামরিক বাহিনীর আরো তিন সৈন্য নিহত ও ছয় সৈন্য আহত হয়েছেন। তবে এ ব্যাপারে বিস্তারিত আর কিছু বলা হয়নি। তুরস্কের প্রেসিডেন্টের মুখপাত্র ইব্রাহিম কলিন টুইটবার্তায় বলেন, আমরা আফরিনে শাহাদতবরণ করা আমাদের সৈন্যদের রুহের শান্তি কামনা করছি এবং তাদের পরিবারের সদস্যদের প্রতি গভীর শোক ও সমবেদনা জানাচ্ছি।
মিয়ানমারের সেনা সমাবেশে সীমান্ত এলাকায় আতঙ্ক
সন্ত্রাসী হামলার আশঙ্কায় বাংলাদেশ সীমান্তে নতুন করে সেনা মোতায়েন করা হয়েছে বলে দাবি করেছে মিয়ানমার। তারা বলেছে, বাংলাদেশের বিরোধিতা করা তাদের লক্ষ্য নয়। গতকাল শুক্রবার মিয়ানমার সরকারের মুখপাত্র জ হতে এএফপিকে এ কথা বলেন। বাংলাদেশ যত দ্রুত সম্ভব মিয়ানমারকে সেনা প্রত্যাহার করতে বলেছে। সেনা মোতায়েনের ঘটনায় দুই দেশের সীমান্তে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে। এ ঘটনা মিয়ানমারে রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনের বিষয়টিকে বিলম্বিত করবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এএফপির খবরে জানানো হয়, দুই দেশের শূন্যরেখায় অবস্থান নেওয়া রোহিঙ্গাদের ঘিরে এ সপ্তাহে মিয়ানমার সেনাসমাবেশ বাড়িয়েছে। মিয়ানমারে সামরিক বাহিনীর নৃশংস অভিযানের কারণে গত বছরের আগস্ট মাসে দেশটি থেকে রোহিঙ্গারা পালিয়ে আসছে। এখন পর্যন্ত প্রায় সাত লাখ রোহিঙ্গা সীমান্ত দিয়ে পালিয়ে এসেছে। এর মধ্যে অধিকাংশ বাংলাদেশের কক্সবাজারে আশ্রয় নিয়েছে। শূন্যরেখায় এখন প্রায় ছয় হাজার রোহিঙ্গা আশ্রয় নিয়েছে। দেশ থেকে রোহিঙ্গা মুসলিমদের বিতাড়নে এ ঘটনা ঘটানো হচ্ছে বলে মিয়ানমারকে দোষারোপ করছে জাতিসংঘ। এ ধরনের অভিযানের বিষয়টি বরাবরই অস্বীকার করে আসছে মিয়ানমার। হঠাৎ করে সীমান্তে সেনাসংখ্যা বাড়ানোর বিষয়ে জ হতে বলেন, রোহিঙ্গা জঙ্গিদের তৎপরতা সম্পর্কে গোয়েন্দা তথ্য পাওয়া গেছে। তিনি বলেন, সন্ত্রাসী তৎপরতার তথ্যের ভিত্তিতে এ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। বিশেষ করে রোহিঙ্গা জঙ্গিগোষ্ঠী আরসার (আরাকান রোহিঙ্গা স্যালভেশন আর্মি) নতুন তৎপরতা সম্পর্কে তথ্য পাওয়া গেছে। সেনা মোতায়েনের বিষয়টি বাংলাদেশকে লক্ষ্য করে কিছু নয়। বৃহস্পতিবার বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, এ ঘটনায় ঢাকায় মিয়ানমারের রাষ্ট্রদূতকে তলব করে দ্রুত ওই এলাকা থেকে সামরিক উপকরণসহ সেনাদের সরিয়ে নিতে বলা হয়েছে। গত কয়েক সপ্তাহে শূন্যরেখায় আশ্রয় নেওয়া রোহিঙ্গারা মিয়ানমারের সেনাদের চাপের মধ্য রয়েছে। মাইকিং করে রোহিঙ্গাদের তারা শূন্যরেখা থেকে চলে যেতে বলেছে। বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) ও রোহিঙ্গাদের দেওয়া তথ্য অনুসারে, গতকাল শূন্যরেখার পাশে নতুন করে আরও ১০০ সেনা ভারী অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে টহল দেওয়া শুরু করে। গত জানুয়ারি মাসে দুই দেশের মধ্যে রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন নিয়ে চুক্তি হয়। এর মধ্যে সীমান্তের এই উত্তেজনা প্রত্যাবাসনের বিষয়টিকে বাধাগ্রস্ত করতে পারে। ওই সময় প্রস্তুতির অভাবে রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনের প্রক্রিয়াটি শেষ মুহূর্তে ঝুলে যায়। যথাযথ নিরাপত্তা ও নাগরিকত্বের বিষয়টি নিশ্চিত না করে মিয়ানমারে ফেরত যেতে অস্বীকৃতি জানিয়ে রোহিঙ্গা শরণার্থীদের বিক্ষোভ করে। মিয়ানমার সব সময় দাবি করে আসছে, রোহিঙ্গারা বাংলাদেশের নাগরিক। তারা অবৈধভাবে মিয়ানমারে প্রবেশ করে বাস করছে। রাখাইন রাজ্যে বংশপরম্পরায় বাস করে আসা রোহিঙ্গারা মিয়ানমারে সব ধরনের মৌলিক অধিকার ও সেবা থেকে বঞ্চিত রয়েছে।
হতাহতদের প্রতি জাতিসংঘ মহাসচিবের শোক
সাত বাংলাদেশি শান্তিরক্ষী হতাহতদের হওয়ার ঘটনায় গভীর শোক প্রকাশ করেছেন জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস। এ ঘটনায় বাংলাদেশ সরকার ও হতাহতদের পরিবারের প্রতি গভীর শোক ও সমবেদনা প্রকাশ করেছেনতিনি। স্থানীয় সময় বুধবার বেলা আড়াইটার দিকে পশ্চিম আফ্রিকার দেশ মালির মোপতি অঞ্চলে এ বোমা বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। এতে জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনে থাকা বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর চার সদস্য নিহত এবং গুরুতর আহত হয়েছেন আরও অন্তত তিনজন। জাতিসংঘ মহাসচিব গুতেরেস এই হামলাকে কাপুরুষোচিত বলেও উল্লেখ করেছেন এবং আহতদের দ্রুত আরোগ্য কামনা করেছেন। একই সঙ্গে হামলাকারীদের বিরুদ্ধে হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেছেন গুতেরেস। বিবৃতিতে তিনি বলেন, জাতিসংঘ শান্তি মিশনের কর্মীদের লক্ষ্য করে যারা এসব হামলা চালাচ্ছে আন্তর্জাতিক আইনে তারা যুদ্ধাপরাধী হিসেবে বিবেচিত এবং এজন্য তাদেরকে কঠিন বিচারের সম্মুখীন হতে হবে। এসময় তিনি আরো বলেন, এসব হামলা সত্ত্বেও মালিতে স্থিতিশীলতা প্রতিষ্ঠা এবং সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য দেশটির সরকারের প্রচেষ্টার প্রতি জাতিসংঘের সমর্থন অব্যাহত থাকবে। নিহতরা হলেন- ওয়ারেন্ট অফিসার আবুল কালাম (পিরোজপুর), ল্যান্স কর্পোরাল আকতার (ময়মনসিংহ), সৈনিক রায়হান (পাবনা) ও সৈনিক জামাল (চাঁপাইনবাবগঞ্জ)। আহতরা হলেন- কর্পোরাল রাসেল (নওগাঁ), সৈনিক আকরাম (রাজবাড়ী), সৈনিক নিউটন (যশোর) ও সৈনিক রাশেদ (কুড়িগ্রাম)।