একজন তরুণকে মন্ত্রীসভায় ঠাঁই দিয়ে তাক লাগিয়ে দিল মালয়েশিয়ার মাহাথির সরকার
মন্ত্রীসভা গঠনে একেবারে তরুণ একজনকে মন্ত্রীসভায় ঠাঁই দিয়ে তাক লাগিয়ে দিল মালয়েশিয়ার মাহাথির মোহাম্মদ সরকার। মাত্র ২৫ বছর বয়সী সাইদ সাদিক আবদুল রহমানকে দেশটির যুব ও ক্রীড়ামন্ত্রী দেয়া হয়েছে। সোমবার মন্ত্রী হিসেবে শপথ নেন সাঈদ সাদিক। দেশের সর্বকনিষ্ঠ মন্ত্রী হিসেবে নিয়োগ পাওয়ার পর এক বিবৃতিতে তিনি বলেন, তার মতো তরুণকে মন্ত্রী হিসেবে নিয়োগ দিয়ে সরকার এটাই প্রমাণ করল যে, তারা তরুণ নেতৃত্বকে স্বাগত জানিয়েছে। তিনি বলেন, সরকার বিশ্বাস করে যে, দেশের তরুণদের হাতে নিজেদের ভাগ্য এবং ভবিষ্যত নির্ধারিত হবে। এই নিয়োগের মাধ্যমে ভবিষ্যতে দেশের চালিকাশক্তিতে তরুণদের অংশগ্রহণ বাড়বে। ১৯৯২ সালের ডিসেম্বরে জন্মগ্রহণ করেন এ তরুণ রাজনীতিবিদ। দেশটির জুহর প্রদেশের পুলাই থেকে নির্বাচনে জিতে পার্লামেন্টে ঠাঁই করে নেন তিনি। এত অল্প বয়সে দায়িত্ব পাওয়ায় সাঈদ সাদিক প্রশংসার সাগরে ভাসছেন রীতিমত। তবে অনেকে সমালোচনা করেছেন, গুরুত্বপূর্ণ একটি মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব নেয়ার মত তার যোগ্যতা হয়েছে কিনা। তবে সাঈদ জানান, যে দায়িত্ব তিনি পেয়েছেন তা যথাযতভাবে পালন করার চেষ্টা করে যাবেন। সবাই মিলে কাজ করলে সফলতা অর্জন সম্ভ্যব বলে তিনি বিশ্বাস করেন। সাঈদ রয়েল মিলিটারি কলেজে পড়াশোনা করলেও পরবর্তীতে মালয়েশিয়া আন্তর্জাতিক ইসলামি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে আইন বিষয়ে সর্বোচ্চ ডিগ্রি নেন।
ট্রাম্পবিরোধী মিছিলে উত্তাল আমেরিকা
রাজধানী ওয়াশিংটনের তাপমাত্রা এখন ৩৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস। কিন্তু গায়ে ছ্যাঁকা দেওয়া সেই গরম উপেক্ষা করেই পথে নেমেছিলেন হাজার হাজার মানুষ। মুখে স্লোগান,হে হে হো হো, ডোনাল্ড ট্রাম্প হ্যাজ় টু গো। ওয়াশিংটনই শুধু নয়। শিকাগো থেকে বস্টন, লস অ্যাঞ্জেলেস থেকে নিউইয়র্ক একই ছবি দেখেছে ট্রাম্পের দেশ। ছোট-বড় সব শহরে প্রেসিডেন্টের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ দেখিয়েছেন হাজার হাজার মানুষ। গরমে অসুস্থ হয়ে হাসপাতালেও যেতে হয়েছে দুইজনকে। সাধারণ মানুষের সঙ্গে বিক্ষোভকারীদের সেই তালিকায় ছিলেন তাবড় রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব, এমনকি সেলিব্রিটিরাও। মোদ্দা দাবিটা সকলেরই এক। মায়েদের থেকে বিচ্ছিন্ন হওয়া শিশুদের অবিলম্বে তাদের পরিবারের কাছে ফেরত পাঠানো হোক। ট্রাম্প প্রশাসনের জিরো টলারেন্স নীতির অবসান হোক এখনই। গত কয়েক সপ্তাহ ধরেই এই নীতির দৌলতে খবরের শিরোনামে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। আনন্দবাজারের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, জাতীয় নিরাপত্তার কথা মাথায় রেখেই সীমান্তে এমন কঠোর নীতি নেওয়া হচ্ছে বলে জানিয়ে রেখেছিলেন প্রেসিডেন্ট। কিন্তু তার নিজের দেশের মানুষই সেই নীতির বিরোধিতায় হাতে হাত মিলিয়েছেন। শুক্রবার রাজধানীতে হোয়াইট হাউস এবং পেনসিলভ্যানিয়া অ্যাভিনিউয়ে ট্রাম্প ইন্টারন্যাশনাল হোটেলের সামনে প্ল্যাকার্ড হাতে বিক্ষোভ দেখান কয়েক হাজার মার্কিন নাগরিক। সপ্তাহান্তের ছুটি কাটাতে প্রেসিডেন্ট নিউ জার্সি যান। গল্ফ খেলেন ন্যাশনাল গল্ফ ক্লাবে। কিছু বিক্ষোভকারী সেখানেও পিছু ধাওয়া করেছিলেন। কিন্তু চার মাইল দূরে তাদের আটকে দেওয়া হয়। ওয়াশিংটনের বিক্ষোভেই শামিল হয়েছিলেন গায়ক লিন-ম্যানুয়েল মিরান্ডা। প্রতিবাদ সভায় নিজের একটি জনপ্রিয় ছোটদের গান গেয়ে বললেন,আমরা এখানে জড়ো হয়েছি, কারণ অনেক মা-বাবাই এখন তাদের শিশুদের ঘুমপাড়ানি গান গেয়ে শোনাতে পারছেন না। লস অ্যাঞ্জেলেসের এক সভায় আবার সরাসরি প্রেসিডেন্টকে এক হাত নিয়েছেন ডেমোক্র্যাট নেত্রী ম্যাক্সিন ওয়াটার্স। তার বক্তব্য, ওদের এত সাহস হয় কী করে, মায়ের কোল থেকে শিশুদের ছিনিয়ে নেয়? প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প, আপনি ভেবেছেন আপনি অনেক দূর যেতে পারেন, তাই এভাবে পরিবারগুলিকে ভেঙে ফেলছেন। প্রায় একই সুর শোনা গেছে বস্টনের সভা থেকেও। ডেমোক্র্যাট নেত্রী এলিজ়াবেথ ওয়ারেন সেখানে বলেন, ‘প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের এই অনৈতিক নীতি একটাই রাস্তার দিকে আমাদের সকলকে ঠেলে দিয়েছে। আমাদের নতুন করে আবার অভিবাসন নীতি তৈরি করতে হবে। অভিবাসন আর শুল্ক এনফোর্সমেন্ট দফতরকে (আইসিই) ভেঙেই হবে তার সূচনা। শুধু যে ডেমোক্র্যাটরাই ট্রাম্পের বিরোধিতায় নেমেছেন, এমনটা নয়। নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ওয়াশিংটনে শুধু মিছিলে শামিল হতে এসেছিলেন দুই তরুণী। দুইজনেই রিপাবলিকান সমর্থক। তাদেরই একজন অ্যালিসন বললেন,একটি শিশুকে তার মায়ের থেকে বিচ্ছিন্ন করাটা হল সবচেয়ে অমানবিক কাজ। ক্যারি নামের অন্য তরুণীর কথায়,মেয়ের সঙ্গে শিশুদের এক ডিটেনশন সেন্টারের ভিডিও দেখছিলাম। দুইজনই কেঁদে ফেলি। শিকাগোয় এদিন ছিল ওয়াশিংটনের মতোই প্রবল গরম। সেখানকার প্রতিবাদ মিছিলে অসুস্থ হয়ে পড়েন অনেকে। তার মধ্যেই দমকল এসে রাস্তায় পানি ছিটিয়ে দেওয়ার ব্যবস্থা করে। ছিল পানির পাউচ বিলির ব্যবস্থাও। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প অবশ্য এ সবের পেছনে ডেমোক্র্যাটদের ষড়যন্ত্রই দেখছেন। বিতর্কিত (আইসিই) উদ্দেশে টুইট করে তিনি বলেছেন, আইসিই-র কর্মীরা দেশ থেকে সব অপরাধীদের দূরে সরিয়ে রাখার কাজ দারুণ করছে। কট্টর ডেমোক্র্যাটরা তোমাদের সরিয়ে দিতে চায়। তবে ভয় নেই। সেটা কখনওই হবে না।
চীনের মধ্যাঞ্চলীয় প্রদেশে সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত ১৮
চীনের মধ্যাঞ্চলীয় হুনান প্রদেশে শুক্রবার রাতের সড়ক দুর্ঘটনায় মৃতের সংখ্যা বেড়ে ১৮ জনে দাঁড়িয়েছে। এতে অপর ১৪ জন আহত হয়েছে। শনিবার দেশটির স্থানীয় কর্তৃপক্ষ একথা জানিয়েছে। খবর বার্তা সংস্থা সিনহুয়া’র। হুনান প্রদেশে শুক্রবার স্থানীয় সময় রাত ৮টা ৪১ মিনিটে এই দুর্ঘটনা ঘটে। একটি এক্সপ্রেসওয়েতে হুনান প্রদেশের একটি ট্রান্সপোর্ট কোম্পানির মালিকানাধীন একটি কোচের সঙ্গে ট্রাকের মুখোমুখি সংঘর্ষে এ হতাহতের ঘটনা ঘটে। আহতদের হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। এক্সপ্রেসওয়ের যানচলাচল পুনরায় স্বাভাবিক হয়েছে। এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনার কারণ জানতে তদন্ত চলছে।-বাসস
ইউরোপীয় ইউনিয়ন নেতারা অভিবাসন ইস্যুতে সম্মত
দীর্ঘ ১০ ঘণ্টা আলোচনার পর ব্রাসেলসের সম্মেলনে ইউরোপীয় ইউনিয়নের নেতারা অভিবাসন ইস্যুতে সম্মত হয়েছেন। এ ইস্যুতে একটি চুক্তি করতে রাজি হলেন তারা। ইউরোপীয়ান কাউন্সিলের সভাপতি ডোনাল্ড টাস্ক আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমকে বলেছেন, ইউরোপীয় ইউনিয়নের ২৮টি দেশের নেতারা অভিবাসনসহ অনেক ইস্যুতে সম্মত হয়েছেন। ইউরোপে অভিবাসী প্রবেশ নিয়ে সাম্প্রতিক সময়ে বেশ আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে। আর ইউনিয়নভুক্ত দেশগুলোতে ফ্রি ট্রাভেল সুবিধা থাকায় অভিবাসীদের চাপও বাড়ছে। আগে অভিবাসন, বাণিজ্য ও নিরাপত্ত‍া ইস্যুতে কোনো চুক্তির বিষয়ে ইতালি প্রতিবন্ধক হয়ে দাঁড়িয়েছিল। বৃহস্পতিবার (২৮ জুন) থেকে দুইদিনের জন্য এ বৈঠক শুরু হয়। বৈঠকে জার্মানি অভিবাসন ইস্যুতে আলোচনার জন্য জোর দেয়। জার্মান চ্যান্সেলর অ্যাঞ্জেলা মার্কেল অভিবাসন ইস্যুকে ইউনিয়নের ‘তৈরি অথবা ভাঙ্গা’ হিসেবেও উল্লেখ করেন। তাছাড়াও ব্রাসেলসের এ সম্মেলনে নিরাপত্তা, ডোনাল্ড ট্রাম্পের শুল্ক আরোপ, ট্রান্স-আটলান্টিক বাণিজ্য, রাশিয়ার ওপর অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা, ২০২১ সাল থেকে ইউনিয়নের পরবর্তী বাজেট প্রভৃতি ইস্যু নিয়ে আলোচনা করবে দেশগুলো।
নতি স্বীকার করবে না ইরান মার্কিন চাপে: রুহানি
যুক্তরাষ্ট্রের কোনো ধরনের চাপে ইরান নতি স্বীকার করবে না বলে জানিয়েছেন দেশটির প্রেসিডেন্ট হাসান রুহানি। মঙ্গলবার তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের নতুন নিষেধাজ্ঞার ফলে সৃষ্ট অর্থনৈতিক চাপ ইরানের সরকার ভালোভাইে শামাল দিতে পারবে। রাষ্ট্র নিয়ন্ত্রিত টিভি চ্যানেলে দেয়া ভাষণে এসব কথা বলেন তিনি। এ খবর দিয়েছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স। খবরে বলা হয়, বিশ্ববাজারে ইরানের মুদ্রার দরে ব্যাপক পতনের পরেও নিজের অর্থনৈতিক পরিকল্পনার পক্ষে সাফাই গান রুহানি। তিনি সরকারের অর্থনৈতিক সাফল্যের কথা উল্লেখ করে বলেন, সাম্প্রতিক কয়েক মাসে সরকারের আয় কমে নি। আর রিয়ালের দরপতন বিদেশি সংবাদ মাধ্যমগুলোর অপপ্রচারের ফল। এতে ইরানের অর্থনীতির তেমন ক্ষতি হবে না বলে জানান তিনি। পাশাপাশি যে কোনো অবস্থায় ইরানের জনগণের মৌলিক সুবিধা প্রদানের ঘোষণা দেন। তার ভাষায়- ‘সবথেকে কঠিন পরিস্থিতিতেও ইরানের জনগণের মৌলিক সুবিধা প্রদান করা হবে। এটা আমার অঙ্গীকার।’ এর আগে বিশ্ববাজারে ইরানের মুদ্রার মূল্যে ব্যাপক পতন ঘটে। ফলে ইরানের ব্যবসায়ীদের আমদানি ব্যয় ব্যাপক হারে বৃদ্ধি পায়। প্রতিবাদে সোমবার পার্লামেন্টের বাইরে বিক্ষোভ করে দেশটির হাজারো ব্যবসায়ী। তারা তেহরানের শিল্পাঞ্চল গ্র্যান্ড বাজারে সড়ক অবরোধ করে। এর পর থেকে সেখানে অতিরিক্ত নিরাপত্তা বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে। সেখানকার টহল জোরদার করা হয়েছে। বার্তা সংস্থা ফার্স-এর খবরে বলা হয়েছে, তেহরানের বাণিজ্যিক অঞ্চল গ্র্যান্ড বাজারে ব্যবসায়ীরা দ্বিতীয় দিনের মতো সড়ক অবরোধ করেছে। তারা সরকারের বিরুদ্ধে বিভিন্ন স্লোগান দিতে থাকে।
পশ্চিমবঙ্গে বজ্রপাতে মৃত ৫
ভারতের পশ্চিমবঙ্গে বিভিন্ন জায়গায় বাজ পড়ে অন্তত ৫ জনের মৃত্যু হয়েছে। সোমবার এই ঘটনা ঘটে। খবর ইন্ডিয়া টুডে ও এই সময়’র। খবরে বলা হয়, সোমবার সকাল থেকেই বজ্রবিদ্যুত্‍-সহ ঝড়বৃষ্টি শুরু হয়।‌ এর মধ্যে ২ জন মারা গিয়েছেন উত্তর ২৪ পরগনায়। একজনের বাড়ি বসিরহাট ২ ব্লকের রাজেন্দ্রপুরে। অন্য জনের বাড়ি বনগাঁর কেউতে পাড়ায়। পুরুলিয়ার বান্দোয়ানে মৃত্যু হয়েছে বছর সাতেকের এক বালকের। অন্য দুটি ব্রজাহতের ঘটনা ঘটেছে দক্ষিণ ২৪ পরগনার বাসন্তী ও নামখানায়। বাসন্তীর চড়পাড়া গ্রামে এক মহিলা মারা গিয়েছেন। এদিকে, কোচবিহারের মেখলিগঞ্জে সকালে বৃষ্টির সময় নদীতে ডুবে বছর আঠারোর এক যুবক মারা গিয়েছেন। এদিন কলকাতায় বিকেল সাড়ে ৫টা পর্যন্ত সর্বোচ্চ বৃষ্টিপাতের পরিমাণ ছিল ৪৩ মিলিমিটার। দক্ষিণ ২৪ পরগনার ডায়মন্ড হারবারে বৃষ্টিপাতের পরিমাণ ছিল ৪৩ মিলিমিটার, ক্যানিংয়ে ৩২ মিলিমিটার। পূর্ব মেদিনীপুরের হলদিয়ায় বৃষ্টিপাতের পরিমাণ ২৮ মিলিমিটার। মালদায় সেখানে বৃষ্টিপাতের পরিমাণ অনেকটাই কম, ১৮ মিলিমিটার। ইন্ডিয়া টুডে ও এই সময়।
আমেরিকার প্রেসিডেন্টদের সঙ্গে আলোচনা করা সময়ের অপচয়: সিরিয়ার প্রেসিডেন্ট
আমেরিকার প্রেসিডেন্টদের সঙ্গে আলোচনা করা সময়ের অপচয় ছাড়া আর কিছু নয় বলে মনে করেন সিরিয়ার প্রেসিডেন্ট বাশার আল-আসাদ। এর কারণ হিসেবে তিনি বলেন, তারা আমেরিকার প্রেসার গ্রুপগুলোর হাতে জিম্মি। তিনি শুক্রবার রাশিয়ার এনটিভি চ্যানেলকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে এ মন্তব্য করেন। আসাদ বলেন, ১৯৭৪ সালে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সিরিয়ার আলোচনা শুরু হওয়ার পর থেকে দামেস্ক এখন পর্যন্ত কিছু পায়নি। কারণ মার্কিন প্রেসিডেন্টরা দেশটির বিভিন্ন লবি, বৃহৎ গণমাধ্যম, আর্থিক প্রতিষ্ঠান এবং তেল ও অস্ত্র কোম্পানিগুলোর মতো নানা প্রেসার গ্রুপের হাতে জিম্মি হয়ে রয়েছেন। সিরিয়ার প্রেসিডেন্ট বলেন, তার দেশের চলমান সংকট সমাধানে ইতিবাচক ভূমিকা রাখতে পারে এমন যে কোনো পক্ষ ও দেশের সঙ্গে আলোচনায় বসতে দামেস্কের আপত্তি নেই। তিনি আরও বলেন, যুক্তরাষ্ট্র যেহেতু সিরিয়ার ব্যাপারে বিদ্বেষী নীতি পোষণ করে, কাজেই ওয়াশিংটনের সঙ্গে আলোচনা করে সময় নষ্ট করার অর্থ হয় না। সিরিয়ার ব্যাপারে অদূর ভবিষ্যতে আমেরিকার নীতিতে পরিবর্তন আসার কোনো লক্ষণ নেই বলে জানান প্রেসিডেন্ট আসাদ। তারা আমেরিকান বলেই তাদের সঙ্গে আলোচনা করতে হবে, এমনটি মানছেন না বাসার আল আসাদ। তিনি বলেন, সেক্ষেত্রে যাদের সঙ্গে আলোচনা করলে ফল আসবে, তাদের সঙ্গে বসতে আমরা প্রস্তুত রয়েছি।
২৪ জুন থেকে গাড়ি চালাবেন সৌদি নারীরা
সৌদি আরবের নারীরা রোববার (২৪ জুন) থেকে গাড়ি চালাবেন। অনেক তর্ক-বিতর্কের পর নারীদের গাড়ি চালানোর এ অনুমতি দেওয়া হয়। খবর দিয়েছে কাতারভিত্তিক টেলিভিশন আলজাজিরা। বিশ্বের একমাত্র দেশ সৌদি আরবে নারীদের ওপর গাড়ি চালানোয় নিষেধাজ্ঞা জারি ছিল। সম্প্রতি সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানের উদ্যোগে নেওয়া সংস্কার প্রস্তাবে গাড়ি চালানোয় নারীদের ওপর এই নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়ার ঘোষণা দেওয়া হয়। ওই ঘোষণার ধারাবাহিকতায় কাল থেকে নিষেধাজ্ঞা উঠছে। পর্যবেক্ষকদের মতে, সৌদি আরবের এই সিদ্ধান্ত দেশটিতে সামাজিক গতিশীলতা আনবে এবং বহির্বিশ্বের সঙ্গে তাল মিলিয়ে এগিয়ে যেতে সহায়তা করবে। সৌদিপন্থি প্রতিষ্ঠান অ্যারাবিয়া ফাউন্ডেশনের নাজাহ আল ওতাইবির মতে, এটা একটা স্বস্তির সিদ্ধান্ত। সৌদি নারীরা সুবিচার পেয়েছে বলেও তিনি মনে করেন। আগামী ২০২০ সালের মধ্যে সৌদি সরকার ৩০ লাখ নারীকে গাড়ি চালানোর লাইসেন্স দেবে। এ ছাড়া রিয়াদ এবং জেদ্দার মতো বড় শহরে ইতোমধ্যেই নারীদের গাড়ি চালানো শেখাতে বিশেষ ড্রাইভিং স্কুল খোলা হয়েছে। ব্লুমবার্গ ম্যাগাজিনের মতে, এমন যুগান্তকারী সিদ্ধান্তে নারীদের ক্ষমতায়নের কারণে ২০৩০ সাল নাগাদ সৌদি অর্থনীতিতে বাড়তি ৯০ বিলিয়ন ডলার যুক্ত হতে যাচ্ছে। সৌদি আরবের নারী সাংবাদিক হানা আল খামরি জানান, নারীরা সৌদি আরবে পিতৃতান্ত্রিক ব্যবস্থায় বাস করে। নারীদের গাড়ি চালানোর সিদ্ধান্ত লিঙ্গবৈষম্য এবং সমাজ পরিবর্তনে সহায়ক হবে বলেও মনে করেন তিনি।
এলাহি কাণ্ড রাশিয়ায়
এলাহি কাণ্ড মস্কোতে। এখানে ড্যান্স পার্টি তো ওখানে সেক্স ডল দিয়ে সাজানো নিষিদ্ধপল্লী। আছে চকোলেট বার। আছে ইলেক্ট্রনিক্সের দোকান। প্রতিটি দোকানে, স্টোরে, রেস্তোরাঁয় খেলার টিম বুঝে সেভাবে সাজানো হচ্ছে প্রতিদিন। ড্যান্স পার্টিগুলোর জন্য রাশিয়ান মেয়েদের নেয়া হয়েছে। আগে থেকেই এ প্রস্তুতি। যারা ভালো ইংরেজি জানেন এমন যুবতীদের নেয়া হয়েছে ড্যান্স পার্টিগুলোতে। তারপরও তাদের ভাব বিনিময়ে অনেকটাই কষ্ট হচ্ছে বিদেশিদের সঙ্গে। রাত নামার সঙ্গে সঙ্গে ড্যান্স পার্টিগুলোতে হাই বিটে বেজে উঠছে গান। তার মাঝে রঙিন আলোর ঝলকানি। উন্মাতাল নাচছেন সবাই। জুটে যাচ্ছে সাময়িক সময়ের জন্য কোনো সঙ্গীনি। তাকে জড়িয়ে ধরে কোনো এক যুবক মেতে উঠছেন। হারিয়ে যাচ্ছেন আলো-আঁধারির খেলায়। হয়তো তাকে নিয়ে যাচ্ছেন নিজের হোটেল কক্ষে। এ মনি ড্যান্স পার্টিগুলো সন্ধ্যার পর থেকে শুরু হয়ে চলছে সারারাত। সকালে সূর্য উঠার পূর্ব পর্যন্ত এভাবেই চলছে। আর সঙ্গে চলছে ওয়াইন, মদের রমরমা বিকিকিনি। মস্কোর রেড স্কোয়ারে যাওয়ার পথে নুবিয়ানকা স্কোয়ার। তার পাশ দিয়ে হেঁটে যাচ্ছেন পর্যটকদের দল। তারা যে সেখানে মজা করতে গিয়েছেন তা তাদেরকে দেখেই বোঝা যায়। ওই এলাকায় পর্যটকদের দৃষ্টি আকর্ষণ করতে দেয়া হচ্ছে নানা অফার। একটি বারের নাম দেয়া হয়েছে ‘ফুটবল পার্টি বার’। তারা ইংলিশভাষী পর্যটকদের দৃষ্টি আকর্ষণের চেষ্টা করছেন। এ বারটির মালিক ৩৩ বছর বয়সী আলেকজান্দার আব্রামোভ। তিনি বলেছেন, তারা প্রতিদিন সেখানে দুপুরের খাবার, রাতের খাবার পরিবেশন করেন এবং ৯০ এর দশকের ড্যান্স পার্টি আয়োজন করেন। তা চলতে থাকে সূর্যোদয় পর্যন্ত। আর তাতে উপস্থিত থাকেন রাশিয়ার দৃষ্টিনন্দন সুন্দরী যুবতীরা। এখানেই শেষ নয়। মস্কো সিটির কাছেই একটি নতুন উদ্যোগ নিয়েছেন দমিত্রি আলেকজানদ্রোভ। তিনি মে মাসেই উদ্বোধন করেছেন ‘দ্য ডলস হোটেল’। দেখতে হুবহু মানুষের মতো এমন মেয়ে ডল দিয়ে সাজানো হযেছে এটি। এসব ডল বা পুতুলের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করতে হলে প্রয়োজন অর্থ। সেখানেও ভিড়। অনেক পুরুষ ঝামেলাহীন যৌন সম্পর্ক স্থাপন করতে ছুটে যাচ্ছেন সেখানে। আলেকজানদ্রোভ বলেছেন, আমি অনেক বেশি বিদেশি পর্যটককে আকর্ষণ করতে চাই। গত সপ্তাহেই তার ব্যবসা বা খদ্দেরের সংখ্যা বৃদ্ধি পেয়েছে শতকরা ১৫ ভাগ। এর বেশিরভাগই স্প্যানিশ। অনেক পুরুষ সেখানে যাচ্ছেন যুবতীদের মতো দেখতে এমন সেক্স ডলের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করতে।