রবিবার, নভেম্বর ১৮, ২০১৮
মসজিদে বিমান হামলা আফগানিস্তানে :৭০ জনের প্রাণহানি
আফগানিস্তানের একটি মসজিদে সামরিক বাহিনীর বিমান হামলায় ৭০ জন নিহত হয়েছেন। সোমবার দেশটির উত্তরাঞ্চলের কুন্দুজ প্রদেশে সন্দেহভাজন তালেবান জমায়েতে এ হামলা চালানো হয়েছে। এ ঘটনায় আরো বহু লোক আহত হন। আফগানিস্তানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী মোহাম্মদ রাদমানিশ জানান, দাস্তি আর্জি জেলায় ওই বিমান হামলায় ৩০ তালেবান যোদ্ধা নিহত হয়েছেন। যার মধ্যে ৯ জনই ছিলেন কমান্ডার পর্যায়ের। এদিকে, স্থানীয় একটি সূত্র জানিয়েছে এ হামলায় অন্তত ৭০ জন নিহত হয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, তাৎক্ষণিকভাবে হতাহতের সংখ্যা নিরূপণ করা সম্ভব নয়। স্থানীয় হাসপাতালে হামলায় আহত ব্যাপকসংখ্যক শিশুকে চিকিৎসা নিতে দেখা গেছে। এতে বোঝা যাচ্ছে, সেখানে বেসামরিক লোকজনও ছিল। তালেবানের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, স্নাতক সমাপনী অনুষ্ঠানে ওই হামলায় কয়েক ডজন বেসামরিক লোক হতাহত হন। একটি মসজিদে বিমান হামলা চালানো হয়েছে। এতে শতাধিক আলেম ও শিক্ষার্থী নিহত হয়েছেন।
আবারো উত্তেজনায় ভারত-চীন
লাদাখ থেকে অরুণাচল প্রদেশ। চীনের সঙ্গে এই সীমান্তে আবারো উত্তেজনা দেখা দিয়েছে ভারতের। তাই ধীরে ধীরে সেখানে সেনা শক্তি বৃদ্ধি করছে ভারত। প্রায় সাত মাস আগে সিকিম-ভুটান-তিব্বত ত্রি-জংশনের কাছে দোকলাম নিয়ে দুদেশ যুদ্ধংদেহী অবস্থান নেয়। সে অবস্থা অব্যাহত থাকে ৭৩ দিন। তার দৃশ্যত অবসান হলেও নতুন করে আবার শুরু হয়েছে উত্তেজনা। বলা হচ্ছে, এই শীতে দোকলামের উত্তরাঞ্চল নিয়ন্ত্রণে নিয়েছে চীনের পিপলস লিবারেশন আর্মি। এর ফলে ভারত সচকিত হয়ে উঠেছে। চীনের সঙ্গে লাইন অব একটুয়াল কন্ট্রোল (এলএসি) বরাবর লাদাখ থেকে অরুণাচল প্রদেশ পর্যন্ত সীমান্তে প্রস্তুতি নিচ্ছে ভারতীয় সেনারা। এসব এলাকায় চীনের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করা ভারতীয় সেনাবাহিনীর জন্য কঠিন। কারণ, এসব অঞ্চলে সড়ক যোগাযোগ, ব্রিজ, একটি উপত্যকার সঙ্গে আরেকটি উপত্যকার সংযুক্তির ক্ষেত্রে রয়েছে সমস্যা। রয়েছে সমরাস্ত্রের ঘাটতি। হেলিকপ্টার, ড্রোনের অভাব রয়েছে। বিশেষায়িত সমরাস্ত্রের মজুত নেই। তারপরও নৈতিক দিক থেকে ভারতীয় সেনারা রয়েছে উচ্চ মানসিক প্রস্তুতিতে। ধীরে তবে অব্যাহত গতিতে তারা এলএসি বরাবর ৪০৫৭ কিলোমিটার সীমান্তে তাদের পেশিশক্তি বাড়াচ্ছে। উদাহরণ হিসেবে বলা যায়, শুধু অরুণাচল প্রদেশের প্রতিরক্ষার জন্য দায়িত্ব দেয়া হয়েছে চারটি ইনফ্যান্ট্রি পাহাড়ি ডিভিশনকে। এর প্রতিটি ডিভিশনে সেনা সদস্য রয়েছেন ১২ হাজারের উপরে। তারা থাকবে ৩ কোর (দিমাপুর) ও ৪ কোর (তেজপুর)-এর অধীনে। সঙ্গে থাকবে অতিরিক্ত দুই ডিভিশন রিজার্ভ সেনা। তিব্বতের দক্ষিণে যে অংশকে চীন তাদের বলে দাবি করছে সেখানকার তেওয়াংয়ে সবচেয়ে বেশি সেনা মোতায়েন করা হয়েছে। যেকোনো ধরনের হুমকি মোকাবিলা করার জন্য এ ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে। কিবিথু-ওয়ালং সেক্টরে তত্ত্বাবধানের দায়িত্বে আছেন এমন একজন সিনিয়র কর্মকর্তা বলেছেন, আমাদের প্রাথমিক কাজ হলো এলএসিকে নিরাপদ রাখা। শান্তিপূর্ণ উপায়ে আমরা তা করতে চাই। যদি আমাদের ওপর চাপিয়ে দেয়া হয় তাহলে যুদ্ধের জন্য প্রস্তুত থাকবো। এবার আমরা তাদেরকে (চীনা) সামনে এগিয়ে আসতে দেবো না।
ভারতরত্ন দেয়ার দাবি পুত্রহারা সেই ইমামকে কবীর সুমনের
ভারতের কলকাতার আসানসোলের নুরানি মসজিদের ইমাম ইমদাদুল রশিদিকে ভারতরত্ন খেতাবে ভূষিত করার দাবি জানিয়েছেন নন্দিত গায়ক কবীর সুমন। ইমাম রশিদির গণসংবর্ধনার আয়োজন করারও দাবি তুলেছেন, বাংলা গানের দ্রোহের বীজ বপন করা এই শিল্পী। রাম নবমীর মিছিলকে কেন্দ্র করে মঙ্গলবার বিকেলে রেলপাড় এলাকা থেকে নিখোঁজ হয় ইমাম রশিদির ১৬ বছর বয়সী ছেলে শিবতুল্লা রশিদি। বুধবার তার মরদেহ উদ্ধার হয়। বৃহস্পতিবার রাতে পুত্রের জানাজার সময় তিনি আসানসোলবাসীর কাছে শান্তির আহ্বান জানান। বলেন, কোনও প্রতিহিংসা নয়। প্রতিশোধ নিতে যদি কারোর মৃত্যু ঘটানো হয়, তাহলে আমি এই শহর ছেড়ে চলে যাব। আমি তোমাদের সঙ্গে ৩০ বছর ধরে আছি, আমাকে যদি তোমরা ভালোবাসো তাহলে আর কাউকে যেন এভাবে মরতে না হয়। কবীর সুমন তার ব্যক্তিগত ফেসবুক একাউন্টে দেওয়া এক পোস্টে লিখেছেন, সাচ্চা মানুষ নুরানি মসজিদের ইমাম, যাঁর ছেলেকে ঐভাবে খুন করল হিন্দুত্বের অভিভাবকরা। এই ইমাম সাহেবকে ভারতরত্ন দেওয়া হবে না? সব রাজনৈতিক দলের, বিশেষ করে এ রাজ্যের তৃণমূল, সি পি আই এম, বিজেপি, নকশালপন্থী বিপ্লবীরা কী বলেন? রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতার ব্যনার্জীর উদ্দেশ্যে সুমন বলেছেন, আমাদের মাননীয় মুখ্যমন্ত্রী, আসানসোলের নুরানি মসজিদের ইমামের জন্য ভারতরত্ন দাবি করো, পাড়ায় পাড়ায় প্রতিরোধের ডাক দাও। উল্লেখ্য, ২০০৯ সালের লোকসভা নির্বাচনে মমতার তৃণমূল কংগ্রেসের হয়ে কবীর সুমন কলকাতার যাদবপুরের সাংসদ হয়েছিলেন। নির্বাচনের এক বছরের মধ্যেই মুখ্যমন্ত্রীর সাথে দূরত্ব সৃষ্টি হলে দল ছাড়েন তিনি।
বিবস্ত্র করে তল্লাশি,বিমানবালাদের বিক্ষোভ
ভারতের বেসরকারি বিমান সংস্থা স্পাইস জেটের বিরুদ্ধে নিরাপত্তারক্ষীদের দিয়ে বিমানবালাদের বিবস্ত্র করে তল্লাশির অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনার প্রতিবাদে শনিবার চেন্নাই বিমানবন্দরে বিক্ষোভ করেন বিমানবালারা। বেশ কয়েক দিন ধরে এভাবে তাদের বিবস্ত্র করে তল্লাশি করা হচ্ছে বলে বিক্ষোভের সময় তারা অভিযোগ করেন। খবর এনডিটিভির। বিক্ষোভের পর গত সোমবার বিক্ষোভকারী বিমানবালাদের সঙ্গে স্পাইস জেটের কর্মকর্তারা বৈঠকে বসার আশ্বাস দিলে কাজে যোগ দেন তারা। তবে বিক্ষোভের কারণে সেখান থেকে কলম্বোগামী একটি ফ্লাইটসহ দুটি বিমানের উড্ডয়নে প্রায় এক ঘণ্টা দেরি হয়। বিক্ষুব্ধ বিমানবালাদের অভিযোগ, গত কয়েক দিন ধরে বিমান থেকে নামার পরপরই তাদের বিবস্ত্র করে তল্লাশি করা হয়। শরীর তল্লাশির পাশাপাশি তাদের ব্যাগ, ব্যক্তিগত সামগ্রীও খুলে দেখা হয়। শৌচাগারেও যেতে দেয়া হয় না। তাদের হাতব্যাগ থেকে স্যানিটারি ন্যাপকিন ফেলে দিতেও বাধ্য করা হয়। বিমানের খাবার অসাধু উপায়ে বিমানবালারা বিক্রি করছেন এমন অভিযোগে এ তল্লাশি করেন বেসরকারি এই বিমান সংস্থা। সেই অর্থ ও বিমানের অন্য মূল্যবান সামগ্রী চুরির অভিযোগও করা হয়। যে কারণে বিমান থেকে নামার পর তাদের শৌচাগারেও যেতে দেয়া হয় না। চেন্নাই বিমানবন্দরে বিমানবালাদের বিক্ষোভের ভিডিও ছড়িয়ে পরে। এরপরই প্রকাশ বিষয়টি প্রকাশ্যে আসে। ওই ভিডিওতে দেখা যায়, স্পাইসজেটের ইউনিফর্ম পরা একদল বিমানবালা বিক্ষোভ করছেন। নিরাপত্তারক্ষীরা তাদের শরীরে আপত্তিকরভাবে হাত দিয়েছেন বলে অভিযোগ করেছেন তারা।
ভারত সীমান্তে ভয়ঙ্কর দুর্গ যুদ্ধের প্রস্তুতি নিচ্ছে পাকিস্তান!
আবারও উত্তপ্ত হয়ে উঠছে ভারত-পাকিস্তান সীমান্ত। চলছে পাল্টাপাল্টি হুমকি আর ভয়ঙ্কর সব মহড়া। আর তারই জের ধরে ভারত সীমান্তের খুব কাছেই নানা ধরনের প্রস্তুতি নিয়েছে পাকিস্তান। জানা গেছে, দেশের বিভিন্ন প্রান্তে অস্ত্র সাজানো হয়েছে। সম্প্রতি পাকিস্তানের সেই সেনা দুর্গের ছবি স্যাটেলাইট ইমেজে ধরা পড়েছে। পাকিস্তানের গুরজানওয়ালায় রয়েছে সেই দুর্গ যা ভারতের সীমান্ত থেকে মাত্র ৬০ থেকে ৮০ কিলোমিটার দূরে। সেখানেই রয়েছে পাকিস্তানের ট্যাকটিক্যাল নিউক্লিয়ার ওয়েপন। জানা গেছে, খুব কাছ থেকে ভারতকে আক্রমণ করার জন্য তৈরি করা হয়েছে। গুরজানওয়ালা ও পানো আকিল নামে দুটি জায়গায় রয়েছে সেই দুর্গ। ২০১১ থেকে ২০১৪ সালের মধ্যে তৈরি করা হয়েছে গুরজানওয়ালার দুর্গ। এতে রয়েছে দুটি গ্যারেজ। পূর্ব দিকে রয়েছে অটোমেটেড ব্লাস্ট ডোর। আর পশ্চিমে পাঁচ মিটার চওড়া একটা এন্ট্রান্স। ইগলুর মতো ঘরে রয়েছে অস্ত্রাগার। এছাড়া ৩২ মিটার লম্বা ও ১৭ মিটার চওড়া আটটি গ্যারেজ আছে। এর মধ্যে ছটি এসি প্লান্টের সঙ্গে যুক্ত। রয়েছে পাঁচটি ব্লাস্ট প্রুফ বাংকার। অস্ত্র মেরামত করার জায়গাও রয়েছে সেখানে। কমান্ড অ্যান্ড কন্ট্রোলের জন্য রয়েছে বিশেষ জায়গা। চার স্তরীয় নিরাপত্তা বলয় রয়েছে সেখানে। আছে ওয়াচ টাওয়ার। অন্যদিকে পানো আকিলে এটি তৈরি করা হয় ২০১০ থেকে ২০১৫ সালের মধ্যে। একই ধরনের ব্লাস্ট ডোর ও এন্ট্রান্স রয়েছে এখানেও। রয়েছে ইগলু। গুরজানওয়ালার তুলনায় একটু বড় মোট নটি গ্যারেজ আছে সেখানে। সবকটি একই সাইজের। অনেকটা খোলা জায়গা আছে সেখানে। এখানেও আছে চার স্তরীয় নিরাপত্তা। মোটা প্রাচীরের আড়ালে রয়েছে সেই দুর্গ।
সৌদি আরবকে বিচারের মুখোমুখি হতে হবে
যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসের ভয়াবহতম ৯/১১ হামলার ঘটনায় বিচারের মুখোমুখি হতে হবে সৌদি আরবকে। নিউইয়র্কের এক বিচারক এমনই নির্দেশ দিয়েছেন। সে অনুযায়ী, শতকোটি ডলার ক্ষতিপূরণ দাবি করে সৌদি আরবের বিরুদ্ধে করা একটি মামলা চলমান থাকবে। সৌদি আরব সবসময়ই বলে আসছিল যে বিমান ছিনতাই ঘটনায় রিয়াদ কোনো ধরনের সহায়তা করেছিল এমন প্রমাণ নেই। -খবর বিবিসি অনলাইনের। কিন্তু বিচারক জর্জ ড্যানিয়েলস বলেছেন, ২০১৬ সালের সন্ত্রাসবিরোধী আইন অনুযায়ী সৌদি আরবের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগটির যুক্তিসঙ্গত ভিত্তি আছে বলেই মনে করেন তিনি। সৌদি আরব ওই হামলায় সম্পৃক্ততার কথা অস্বীকার করে আসছে। তবে হামলাকারী ১৯ জনের মধ্যে ১৫ জনই ছিলেন সৌদি নাগরিক। ২০০১ সালে নাইন ইলেভেনের ওই হামলায় বিমান অপহরণকারীদের অধিকাংশই যুক্তরাষ্ট্রে এসেছিলেন সৌদি আরব থেকে এবং বারবার এমন সন্দেহ করা হয়েছে যে, তাদের সঙ্গে সৌদি সরকারের একটি সংশ্লিষ্টতা ছিল। ছিনতাই করা চারটি যাত্রীবাহী বিমান দিয়ে নিউইয়র্কের ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টার আর ওয়াশিংটনের পেন্টাগনে চালানো আত্মঘাতী হামলায় সব মিলিয়ে প্রায় তিন হাজার লোক নিহত হয়েছিলেন। দুটি বিমান আঘাত হেনেছিল টুইন টাওয়ারে, একটি পেন্টাগন আর চতুর্থ বিমানটি বিধ্বস্ত হয়েছিল পেনসিলভানিয়ার শ্যাংকসভিলে। এর পর তৎকালীন মার্কিন প্রেসিডেন্ট জর্জ বুশ তার ভাষায় সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে যুদ্ধের সূচনা করেন। গত ১০ বছরে আফগানিস্তান ও ইরাকে দুটি যুদ্ধ চালিয়েছে আমেরিকা, যার রেশ এখনও চলছে। ওই আক্রমণের জন্য আল কায়েদার সদস্যদের দায়ী করা হয় এবং আল কায়েদার নেতা ওসামা বিন লাদেন পরে পাকিস্তানের অ্যাবোটাবাদে মার্কিন সেনাদের এক গোপন অভিযানে নিহত হন। নিউইয়র্কে বিশ্ববাণিজ্য কেন্দ্রের দুটি টাওয়ার যেখানে ছিল সেই শূন্যস্থানে গড়ে তোলা হয়েছে বিশাল দুটি জলাশয়, চারপাশে উৎকীর্ণ হয়েছে নিহতদের নাম।
পোল্যান্ড প্যাট্রিয়ট ক্ষেপণাস্ত্র কিনছে যুক্তরাষ্ট্র থেকে
আঞ্চলিক রাজনীতিতে প্রভাব বৃদ্ধি ও প্রতিরক্ষা সক্ষমতা বাড়াতে চলেছে ন্যাটো সদস্য পোল্যান্ড। আর এ জন্য ৪৭৫ কোটি ডলারে মার্কিন রেথিয়ন কোম্পানি থেকে প্যাট্রিয়ট ক্ষেপণাস্ত্র কিনতে যাচ্ছে আন্দ্রেজ দুদা'র সরকার। মূলত প্রতিবেশি দেশ পুতিনের রাশিয়াকে সামাল দিতেই নিজেদের প্রতিরক্ষা খাত আধুনিকীকরণের পরিকল্পনা করছে দেশটি। পোল্যান্ডের প্রেসিডেন্ট আন্দ্রেজ দুদা চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে বলেন,এটি খুবই ব্যতিক্রমী ও ঐতিহাসিক মুহূর্ত। প্রযুক্তি, আধুনিক অস্ত্রসম্ভার ও প্রতিরক্ষার বিশ্বে পোল্যান্ডেরও সূচনা হলো। প্রসঙ্গত, রেথিয়নের সঙ্গে সম্পাদিত অস্ত্র কেনা চুক্তিটি যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে এ-যাবত্কালের মধ্যে সবচেয়ে বড় অস্ত্র ক্রয় চুক্তি। ২০১৪ সালে রাশিয়ার ইউক্রেনের ক্রিমিয়া দখল এবং অঞ্চলটিতে রাজনৈতিক ও প্রতিরক্ষার দিক থেকে দেশটির প্রভাব বৃদ্ধির পর থেকেই নিজেদের অস্ত্রাগার ঢেলে সাজাচ্ছে পোল্যান্ড। দেশটির অস্ত্রাগারের দুই-তৃতীয়াংশ অস্ত্রই মস্কোর নেতৃত্বে সম্মিলিত প্রতিরক্ষা চুক্তি ওয়ারশ প্যাক্টের সময়ে। ১৯৫৫ সালের ১৪ মে চুক্তিটি সই হয়েছিল। যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে অস্ত্র ক্রয় চুক্তির পর দেশটির সঙ্গে পোল্যান্ডের সম্পর্কে স্বস্তি ফিরে আসবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। গত জানুয়ারিতে ওয়ারশ একটি বিল পাস করে, যেখানে বলা হয়, হলোকাস্টে পোল্যান্ডকে অভিযুক্ত করে কিছু বলা হলে তা দণ্ডনীয় অপরাধ হিসেবে বিবেচিত হবে। বিলটি পাসের পর থেকেই ওয়াশিংটনের সঙ্গে দেশটির সম্পর্কে অবনতি ঘটতে থাকে। যুক্তরাষ্ট্রের দাবি, এ ধরনের আইন বাকস্বাধীনতা বিঘ্নিত করে।
মার্কিন বিমানবন্দরে পাকিস্তান প্রধানমন্ত্রীর জ্যাকেট খুলে তল্লাশি
মার্কিন বিমানবন্দরে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শহীদ খাকান আব্বাসিকে তল্লাশি করা হয়েছে। এক দেশের রাষ্ট্রপ্রধান অন্য দেশে গেলে বিমানবন্দরে তাদের যে ধরনের অভ্যর্থনা দেওয়া হয় আব্বাসিকে তার বিন্দুমাত্রও দেওয়া হয়নি। বরং মার্কিন বিমানবন্দরের নিরাপত্তা রক্ষীরা তার জ্যাকেট খুলে সাধারণ যাত্রীদের মতো করেই তল্লাশি করেন। পরবর্তিতে সোশ্যাল মিডিয়ায় সেই ভিডিও ভাইরাল হয়ে যায়। এতে দেখা যায় এক হাতে কোট, অন্য হাতে স্যুটকেস নিয়ে হেঁটে যাচ্ছেন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী। জানা যায়, সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্র সফরে যান পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শহীদ খাকান আব্বাসিকে। মার্কিন প্রশাসনের কেউই তাকে স্বাগত জানাতে বিমানবন্দরে যাননি। বরং বিমানবন্দরের নিরাপত্তা রক্ষীরা তার জ্যাকেট খুলে সাধারণ যাত্রীদের মতো করেই তল্লাশি করেন। এদিকে, দেশের প্রধানমন্ত্রীকে এই ভাবে অপদস্থ হতে দেখে ক্ষোভে ফুঁসছে পাকিস্তানের জনগণ। সে দেশের একটি টিভি চ্যানেলে ভিডিওটি পোস্ট করে মার্কিন বিমানবন্দরে প্রধানমন্ত্রী শাহীদ খাকান আব্বাসিকে অপমান করা হয়েছে বলে দাবি তুলা হয়েছে। যদিও অপর মহল থেকে ভিডিওটির সত্যতা নিয়ে প্রশ্ন তোলা হয়েছে। ভিডিওর ছবিতে দেখানো ব্যক্তি যে পাক প্রধানমন্ত্রী তার কোনো নিশ্চয়তা মেলেনি। তবে ঘটনাটি যদি সত্যি হয় তাহলে এর বিরূপ প্রভাব কিছুটা হলেও আমেরিকা ও পাকিস্তানের সম্পর্কে পড়তে পারে বলে রাজনৈতিক মহল মত দিয়েছে। এমনিতেই ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রেসিডেন্ট হয়ে আসার পর দুই দেশের সম্পর্কে শীতলতা তৈরি হয়েছে। পাকিস্তান নাগরিকদের ভিসার উপর নিষেধাজ্ঞা জারি করার কথা চিন্তা ভাবনা করছে ট্রাম্প প্রশাসন। মাঝে মধ্যেই পাকিস্তানকে জঙ্গিদের মদত না যোগানোর হুঁশিয়ারিও দেন ট্রাম্প।

আন্তর্জাতিক পাতার আরো খবর