ফের ভারতীয় আকাশসীমায় ঢুকে পড়লো চিনা হেলিকপ্টার
ফের ভারতীয় আকাশসীমায় ঢুকে পড়ল চিনা সেনাবাহিনীর হেলিকপ্টার। ডোকলামের তিক্ত সম্পর্কের রেশ কাটিয়ে ভারত এবং চিন ঘোষিত ভাবেই মতৈক্যের ক্ষেত্রগুলিকে বাড়ানোর চেষ্টা করছে। পাশাপাশি, পারস্পরিক স্নায়ুচাপও বহাল রাখছে দুদেশ। কূটনৈতিক শিবিরের বক্তব্য, এশিয়ার দুটি শক্তিধর দেশের সম্পর্কের বর্তমান বাস্তবতা এটাই। এমন পরিস্থিতির মধ্যেই চলতি মাসে এই নিয়ে দুবার (এর আগে ৮ মার্চ) চিনা সেনার হেলিকপ্টার ঢুকে পড়ল ভারতের আকাশসীমায়। গোয়েন্দা সূত্রের খবর, গত কাল ভারত-চিন সীমান্তের চারটি পৃথক পৃথক ভারতীয় আকাশসীমায় ঢুকেছে চিনা কপ্টার। যার মধ্যে একটি হল উত্তরাখ-ের চামোলি জেলার বারাহোতি এলাকা, যেটি কি না কৌশলগত ভাবে ভারতের কাছে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ডোকলামের মতোই চামোলির অধিকার নিয়েও চিনের সঙ্গে ভারতের মতভেদ রয়েছে। এই এলাকায় আইটিবিপি জওয়ানদের সেনার পোশাকে অথবা অস্ত্র নিয়ে টহল দেওয়ার প্রশ্নে নিষেধাজ্ঞা রয়েছে। অন্য দিকে, এখানে চিনা সেনারও প্রবেশাধিকার নেই। এ হেন বারাহোতিতে চিনা সেনা কপ্টারের আকাশসীমা লঙ্ঘন নিঃসন্দেহে উদ্বেগ বাড়িয়েছে নয়াদিল্লির। গোয়েন্দা সূত্রের খবর, চিনা কপ্টার কিছু ক্ষণ ভারতীয় আকাশসীমায় চক্কর কেটে ফিরে যায়। সম্ভবত ওখানে ভারতীয় সেনার ছবি তোলাই ছিল তাদের উদ্দেশ্য। এ ছাড়া লাদাখের দুটি এলাকার উপরেও চক্কর কেটেছে চিনা কপ্টার। আগামী মাসে চিনে যাচ্ছেন প্রতিরক্ষামন্ত্রী নির্মলা সীতারামন। তার আগে গত কালই তিনি বলেছেন,ডোকলামের মতো কোনও অবাঞ্ছিত ঘটনা ঘটলে তার জন্য প্রস্তুত ভারত। আমরা সেনার আধুনিকীকরণ চালিয়ে যাচ্ছি। দেশের অখ-তা বজায় রাখা হবে। আকাশ এবং স্থলপথে চিনের বিরুদ্ধে স্নায়ুর চাপ বজায় রাখার পাশাপাশি সমুদ্রপথেও চিনা আগ্রাসনের মোকাবিলায় সক্রিয় হয়েছে নয়াদিল্লি। প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে চিনা আধিপত্য খর্ব করার জন্য গত বছরেই জাপানের সঙ্গে যৌথ উদ্যোগে এশিয়া আফ্রিকা গ্রোথ করিডর গড়ার বিষয় চুক্তিবদ্ধ হয়েছে ভারত। সম্প্রতি আসিয়ান-ভুক্ত দেশগুলির সঙ্গে দক্ষিণ কোরিয়াকেও পাশে টেনে এই করিডরে সামিল হওয়ার জন্য অনুরোধ জানিয়েছে সাউথ ব্লক। গত সপ্তাহে একটি প্রশ্নের লিখিত উত্তরে এ কথা জানিয়ে বিদেশ প্রতিমন্ত্রী ভি কে সিংহ বলেছেন, সমুদ্রপথে প্রত্যেকটি দেশের সার্বভৌমত্ব, ভূখন্ডের সীমারেখার প্রতি মান্যতা, আন্তর্জাতিক আইন এবং পরিবেশ আইন মেনেই এই সংযোগ প্রকল্পটিতে এগোনো হবে।কূটনৈতিক সূত্রের বক্তব্য, চিনের ওবরমেগা প্রকল্প যাতে গোটা অঞ্চলের অর্থনৈতিক এবং কৌশলগত ভারসাম্য টলিয়ে না দেয়, সে জন্য আমেরিকা, অস্ট্রেলিয়া, জাপানের মতো দেশগুলিকে সঙ্গে নিয়ে এগোতে চাইছে ভারত। এশিয়া-আফ্রিকা করিডর ওবর এর পাল্টা দেওয়ারই চেষ্টা।
মিয়ানমারজুড়ে সুচির পদত্যাগের গুঞ্জন
মিয়ানমারজুড়ে গুঞ্জন। অং সান সুচি সহসাই পদত্যাগ করবেন। কিন্তু এমন গুঞ্জন প্রত্যাখ্যান করেছেন সুচির ক্ষমতাসীন দল ন্যাশনাল লীগ ফর ডেমোক্রেসির মুখপাত্র ইউ মিও নিউন্ট। এ খবর দিয়েছে মিয়ানমারের অনলাইন দ্য ইরাবতী। এতে বলা হয়, ইউ মিও নিউন্ট বলেছেন অং সান সুচি পদত্যাগ করবেন এমন রিপোর্ট প্রকাশিত হয়েছে। আমি বলছি, যদি দলীয় সদস্যরা কঠোর পরিশ্রম করেন তাহলে তিনি শিগগিরই অবসরে যেতে পারবেন। তিনি তো সব সময়ই এমনটা বলেন। এর অর্থ এই নয় যে, তিনি সহসাই অবসরে যাচ্ছেন। উল্লেখ্য, এরই মধ্যে মিডিয়ায় খবর প্রকাশিত হয়েছে যে, ক্ষমতাসীন এনএলডি দলের নির্বাহী কমিটিকে সুচি শনিবার বলেছেন- যদি সম্ভব হয় তাহলে তিনি পদত্যাগ করতে পারেন। এর জবাবে ইউ মিও নিউন্ট বলেছেন, ন্যাপিডতে যে বৈঠক হয়েছে শনিবার তা ছিল সামাজিক এক সমাবেশ। সেখানে রাজনৈতিক কোনো ইস্যু আলোচনা করা হয়নি। এটা ছিল সাধারণ এক আলাপচারিতা। কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্যদের সঙ্গে সুচি অনেক আগে সাক্ষাৎ করেছেন। অন্যদিকে ভাইস প্রেসিডেন্ট ইউ উইন মিন্ট সর্বোচ্চ পদে যাচ্ছেন। এসব কারণে দলের পুরনো ও নতুন নির্বাহীদের সঙ্গে ওটা ছিল সামাজিক এক সমাবেশ। উল্লেখ্য, ২০০৮ সালে সেনাবাহিনী মিয়ানমারের সংবিধান সংশোধন করে। এর অধীনে কোনো সরকারি কর্মকর্তা বা কর্মচারী দলীয় রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত থাকতে পারেন না। তবে সামাজিক সমাবেশে যোগ দেয়া বৈধ। এনএলডির এমপি ইউ নাই মিও তুন বলেন, সুচিকে অবশ্যই দেশের নেতা থাকতে হবে। তার প্রভাব ও তার সক্ষমতাকে বিবেচনায় রাখতে হবে। তিনি যতদিন বেঁচে আছেন ততদিন তাকে দেশের গুরুত্বপূর্ণ পদে থাকা উচিত। আমি বিশ্বাস করি তিনি তা করবেন। গত সপ্তাহে অস্ট্রেলিয়া সফরে গিয়েছিলেন ৭৩ বছর বয়সী সুচি। সেখানে তার শরীর শুকিয়ে গিয়েছিল। তিনি কথা পর্যন্ত বলতে পারছিলেন না। তাই বেশির ভাগ সময় কাটিয়েছেন বিছানায় শুয়ে। এ কথা বলেছেন এনএলডির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য ইউ উইন হতেইন।
যেকোনো মুহুর্তে অবসরে যেতে পারেন অং সান সু চি
অবশেষে সরে দাঁড়াচ্ছেন মিয়ানমারের বহুল আলোচিত ডিফ্যাক্টো লিডার অং সান সু চি। তিনি যেকোনো মুহুর্তে অবসরে যেতে পারেন বলে গুঞ্জন চলছে। সু চির রাজনৈতিক দল ন্যাশনাল লীগ ফর ডেমোক্রেসির (এনএলডি) কার্য নির্বাহী কমিটির এক বৈঠকে সু চি সম্ভব হলে নিজেকে সরিয়ে নিতে চান বলে জানানোর পর এ গুঞ্জন ছড়িয়ে পড়ে। শনিবার এনএলডির এ তথ্য জানানো হলেও রোববার এনএলডির এক মুখপাত্র সু চির পদত্যাগের গুঞ্জন উড়িয়ে দিয়েছেন। তিনি বলেন,খবর বেরিয়েছে যে অং সান সু চি অবসরে যাবেন। আমি বললাম, না। তবে দলের কর্মীরা যদি কঠোর পরিশ্রম করেন, তবেই তিনি অবসরে যাবেন। এটা তিনি (সু চি) সব সময়ই বলেন। কিন্তু তার মানে এই নয় যে, তিনি শিগগিরই অবসরে যাবেন। এনএলডির মুখপাত্র শনিবারের বৈঠকের ব্যাপারে বলেন, নেইপিদোতে যে বৈঠক হয়েছে সেটি ছিল শুধুমাত্র সামাজিক সমাবেশ। বৈঠকে রাজনৈতিক কোনো বিষয়ে আলোচনা হয়নি। এটি ছিল অনিয়মিত একটি আলোচনা। সিইসির সদস্যদের সঙ্গে দীর্ঘসময় ধরে এ বৈঠক হয়েছে। তিনি বলেন, প্রেসিডেন্ট পদত্যাগ করায় ভাইস প্রেসিডেন্ট ইউ উইন মিন্ত দেশের শীর্ষ এ পদের দায়িত্ব পালন করছেন। আমরা কার্যনির্বাহী কমিটির পুরনো এবং নতুন সদস্যদের সঙ্গে সামাজিক আড্ডা দিয়েছি।
রাশিয়ার সাইবেরিয়ার শহরের শপিং মলে ভয়াবহ আগুন, নিহত ৩৭
রাশিয়ার সাইবেরিয়ার কেমেরোভো শহরের উইন্টার চেরি শপিং মলে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় কমপক্ষে ৩৭ জন নিহত হয়েছেন। আগুন লাগার পর ওই ভবন থেকে ২২ জনকে উদ্ধার করা হয়েছে। তবে এখনও শিশুসহ অনেকেই নিখোঁজ রয়েছেন। রাশিয়ার রাষ্ট্রায়ত্ত বার্তা সংস্থা তাস ও রাশিয়ান গণমাধ্যম স্পুটনিকের বরাত দিয়ে এ খবর জানিয়েছে ব্রিটিশ গণমাধ্যম বিবিসি ও মার্কিন গণমাধ্যম সিএনএন। বিবিসি জানিয়েছে, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া বিভিন্ন ভিডিওতে আগুন লাগার পরপরই ওই শপিং মলের বিভিন্ন জানালা দিয়ে ধোঁয়া বের হতে দেখা গেছে। এসব ভিডিওতে অনেককেই ভবনটির জানালা দিয়ে লাফিয়ে বাইরে বেরিয়ে বাঁচার চেষ্টা করতে দেখা গেছে। রাশিয়ার উইন্টার চেরি শপিং মলে আগুনজানা গেছে, মস্কো থেকে প্রায় ৩ হাজার ৬শ কিলোমিটার পূর্বে অবস্থিত কয়লা উৎপাদনকারী এলাকা হিসেবে পরিচিত কেমোরোভো। শহরটির উইন্টার চেরি শপিং মলের যে অংশটিতে আগুন লেগেছে সেই অংশে রয়েছে মাল্টিপ্লেক্সসহ বিনোদন কমপ্লেক্স। এর মধ্যে মাল্টিপ্লেক্সের দুইটি হলের ছাড় ধসে পড়েছে বলে জানা গেছে। ধারণা করা হচ্ছে, অনেক শিশুই ওই ভবনে আটকা পড়ে থাকতে পারে। প্রত্যক্ষদর্শীরা বলছেন, জনপ্রিয় এই শপিং মলে একটি ছোট চিড়িয়াখানাও রয়েছে। এখন পর্যন্ত আগুন লাগার কারণ জানা যায়নি। তবে এরই মধ্যে এ বিষয়ে তদন্ত শুরু করেছে রাশিয়া কর্তৃক্ষ।
আইএস জঙ্গিদের হাতে ৮ পুলিশ খুন ইরাকে
শনিবার ইরাকে ৮ পুলিশ সদস্যকে হত্যা করেছে ইসলামিক স্টেট (আইএস) জঙ্গিরা। বাগদাদ-কিরকুক হাইওয়ের কাছে ঘটনাটি ঘটেছে৷ তবে এখন পর্যন্ত ঘটনার দায় স্বীকার করেনি আইএস৷ কিন্তু হামলার ধরন দেখে পুলিশের অনুমান এটি আইএস জঙ্গিদের কাজ৷ দিয়ালা পুলিশ প্রধান হাবিব-আল শাম্মারি জানিয়েছেন, পূর্ব পরিকল্পনা অনুযায়ী হামলা চালানো হয়েছে৷ একজন আইএস জঙ্গি হাইওয়ের পাশে লুকিয়ে বসেছিলেন৷ ওই রাস্তা দিয়ে পুলিশের গাড়ি যাওয়ার সময়ই হামলা করেন তারা৷ তাদের তুলে নিয়ে গিয়ে খুন করা হয়৷ হাবিব-আল শাম্মারি জানান, প্রতিটি পুলিশ সদস্যকে একই কায়দায় হত্যা করা হয়েছে৷ পার্বত্য ঘেরা একটি জায়গায় নিয়ে যাওয়ার পর তাদের গুলি করে খুন করা হয়৷ তিনি জানান, ঘটনার পরপরই এলাকায় বাহিনী পাঠানো হয়৷ এ ঘটনার তদন্ত চলছে। প্রসঙ্গত, ইরাকি সরকার দেশটিকে গত বছর আইএস জঙ্গি মুক্ত বলে ঘোষণা দেয়৷
আঠা লাগিয়ে এটিএম এর কি-বোর্ডের টাকা লুটের চেষ্টা, গ্রেফতার ৩
রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাঙ্কের এটিএম এর কি-বোর্ডে আঠা লাগিয়ে টাকা লুঠের চেষ্টার সময় তিন ব্যক্তিকে হাতেনাতে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। ভারতের উত্তর ২৪ পরগনার বাগদা এলাকা থেকে তাদের গ্রেফতার করা হয়। গত কয়েকদিন ধরেই এলাকায় এটিএম জালিয়াতির অভিযোগ উঠছিল। এক গৃহবধূ রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাঙ্কের এটিএম থেকে টাকা তুলতে যান। অভিযোগ, পিন নম্বর দেয়ার পরেও টাকা বের হয়নি। সেসময় এক যুবক সাহায্য করার নামে এগিয়ে এসে টাকা তুলে চম্পট দেয়। এরপর শনিবার একইভাবে একটি এটিএমে হানা দেয় ৩ যুবক। স্থানীয়দের সন্দেহ হওয়ায় তাদের আটক করে পুলিশের হাতে তুলে দেওয়া হয়। পুলিশ জানিয়েছে, শুধু কি-বোর্ডে আঠা লাগানোই নয়, এমনকি এটিএমেও কোনো কারসাজি করা হচ্ছে। যার কারণে এটিএমে টাকা গণনা শেষ হওয়ার পরেও ট্রেতে টাকা বের হচ্ছে না। এ ঘটনার তদন্ত করছে বাগদা থানার পুলিশ।
বিপজ্জনক আগ্নেয়গিরি এগিয়ে যাচ্ছে ভূমধ্যসাগরের দিকে
ইউরোপের সবচেয়ে বিপজ্জনক আগ্নেয়গিরি মাউন্ট এট্‌না ধীরে ধীরে সমুদ্রের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে বলে জানিয়েছেন বিজ্ঞানীরা। বিজ্ঞানীরা জানিয়েছেন সিসিলি দ্বীপের ওপর এই আগ্নেয়গিরি বছরে ১৪ মিলিমিটার করে ভূমধ্যসাগরের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে। ড. জন মার্ফি মাউন্ট এট্‌না সম্পর্কে এই গবেষণা চালিয়েছেন প্রায় ৫০ বছর ধরে। এই গবেষণায় তিনি এই পর্বতের নানা জায়গায় জিপিএস স্টেশন বসিয়েছেন। সামান্য নড়াচড়া হলেও এই স্টেশনের যন্ত্রে তা ধরা পড়বে। ব্রিটেনের ওপেন ইউনিভার্সিটির ভূবিজ্ঞানের গবেষক ড. জন মার্ফি বলছেন, মাউন্ট এট্‌নার এই সরে যাওয়ার দিকে সতর্কভাবে নজর রাখতে হবে। কারণ এর ফলে নানা ধরনের ঝুঁকি তৈরি হওয়ার শঙ্কা রয়েছে। সাধারণ বিবেচনায় বছরে ১৪মি.মি. -- কিংবা ১০০ বছরে ১.৪ মিটার -- সরে যাওয়া খুব বেশি বলে মনে নাও হতে পারে। সূত্র-বিবিসি কিন্তু ঘুমন্ত আগ্নেয়গিরি, যাদের মধ্যে আগে এধরনের প্রবণতা দেখা গিয়েছে, তাদের কারণে মারাত্মক ভূমিধ্স নানা ধরনের সঙ্কট তৈরি হয়েছে বলে ভূবিজ্ঞানীরা জানিয়েছেন। এসব যন্ত্র থেকে গত ১১ বছরে উপাত্ত থেকেই বিজ্ঞানীরা এখন বলছেন যে মাউন্ট এট্‌না এখন দক্ষিণ-পূর্বমুখী হয়ে একটু একটু করে ভূমধ্যসাগরের দিকে সরে যাচ্ছে।
মিয়ানমারের নতুন প্রেসিডেন্ট হচ্ছেন উইন মিন্ট
মিয়ানমারের বর্তমান প্রেসিডেন্ট ইউ টিন কিয়াউ পদত্যাগ করায় পরবর্তী প্রেসিডেন্ট হতে যাচ্ছেন দেশটির নিম্নকক্ষের সাবেক স্পিকার উইন মিন্ট। এ উপলক্ষে প্রথম পদক্ষেপ হিসেবে শুক্রবার তাকে ভাইস প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত করা হয়েছে। মিয়ানমারে ভাইস প্রেসিডেন্টের পদ তিনটি। তার মধ্যে একটি খালি ছিল। নিম্নকক্ষে সু চির দল এনএলডি সংখ্যাগরিষ্ঠ হিসেবে উইন মিন্টকে ভাইস প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত করেছে। তিনিই দেশটির আগামী প্রেসিডেন্ট হতে যাচ্ছেন। বৃহস্পতিবার ব্যক্তিগত কারণ দেখিয়ে পদত্যাগ করেন মিয়ানমারের প্রেসিডেন্ট ইউ টিন কিয়াউ। তিনি সু চির অনুগত ছিলেন। একইভাবে নতুন প্রেসিডেন্টও নামমাত্র প্রেসিডেন্ট থাকবেন। মূলত নির্বাহী ক্ষমতা সু চির হাতেই থাকবে। ২০১৬ সালে এনএলডি ক্ষমতায় আসার পর থেকে স্টেট কাউন্সেলর হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন সু চি। ৬৬ বছর বয়সী মিয়ানমারের হবু প্রেসিডেন্ট উইন মিন্ট এনএলডির একজন বিশ্বস্ত ও প্রভাবশালী সদস্য। রাজনীতিক হিসেবে তিনি জেলও খেটেছেন। ১৯৯০ সালের পার্লামেন্ট নির্বাচনে তিনি একজন সফল প্রার্থী ছিলেন। কিন্তু সে নির্বাচন সামরিক জান্তা বাতিল ঘোষণা করে। মিয়ানমারের সংবিধান অনুসারে, কোনো প্রেসিডেন্টের মৃত্যু হলে বা অবসরে গেলে ভারপ্রাপ্ত হিসেবে প্রথম ভাইস প্রেসিডেন্ট ক্ষমতা পাবেন। এরপর নতুন ভাইস প্রেসিডেন্ট নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। এরপর তিনজন ভাইস প্রেসিডেন্টের মধ্য থেকে প্রেসিডেন্ট নির্বাচন করা হবে। সেনাবাহিনীর সাবেক জেনারেল মুইন্ট সয়ে এখন প্রথম ভাইস প্রেসিডেন্ট। ফলে তিনিই এখন ভারপ্রাপ্ত প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। আর পরবর্তী ৭ দিনের মধ্যে দেশটির পার্লামেন্ট নতুন প্রেসিডেন্ট নিয়োগ হচ্ছেন মিন্ট।
কলকাতা-বরিশালের বাস পরিষেবা শুরু হচ্ছে খুব শিগগিরই
খুব শিগগিরই কলকাতার সঙ্গে সরাসরি বরিশালের বাস পরিষেবা শুরু হচ্ছে। কলকাতা-বরিশালের পর কলকাতা-চট্টগ্রামের আরো একটা নতুন রুটের দরপত্রও ছাড়া হয়ে গিয়েছে। চলতি বছরে কলকাতা-বরিশাল-কলকাতা রুটের বাস চলতে পারে। তবে পদ্মা সেতু উদ্বোধন হলে চলবে চট্টগ্রাম-কলকাতা-চট্টগ্রাম রুটের বাস। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, বুধবার কলকাতার ইকো-পার্ক গেষ্ট হাউজে নতুন এই রুট নিয়ে দুই দেশের প্রতিনিধিদের মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক হয়। সেখানে কলকাতা-বরিশাল-কলকাতা রুটের বাস চলাচলে রাজ্য সরকারের সবুজ সংকেত পাওয়া যায়। পশ্চিমবঙ্গ সরকার বিষয়টি দিল্লিকে আনুষ্ঠানিকভাবেও জানায়। ওই বৈঠকে বাংলাদেশ সরকারের প্রতিনিধিরাও উপস্থিত ছিলেন। দিল্লি ও ঢাকার মধ্যে খুব শিগগির বিষয়টি নিয়ে চুড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়ে যেতে পারে। এর আগে রাজ্যের পরিবহন সচিব আলাপন বন্দ্যোপাধ্যায় জানিয়েছিলেন, বাংলাদেশ বন্ধু দেশ। ইতিমধ্যেই দেশটির সঙ্গে পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যের সড়কপথ, আকাশ পথ, রেল পথের যোগাযোগ আগের যে কোনও সময়ের তুলনায় বেড়েছে। আগামীতে জল পথেও যোগাযোগ বাড়ানোর পরিকল্পনা আছে। কলকাতা-বরিশাল রুটের যাত্রীপরিবহন করবে শ্যামলী যাত্রী পরিবহন। সংস্থাটির কর্ণধার অবণী ঘোষ জানিয়েছেন, বুধবারের বৈঠকে বাংলাদেশের বিআরটিসির চেয়ারম্যান, সচিব ছাড়াও বিজিবি এবং স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের প্রতিনিধিরাও উপস্থিত ছিলেন। দিল্লির পরিবহন মন্ত্রণালয়ের শীর্ষ কর্মকর্তা এবং পশ্চিমবঙ্গ পরিবহন দফতরের কর্মকর্তারাও বৈঠকে ইতিবাচক আলোচনা করেন। আগামী অক্টোবর-নভেম্বর মাসে ঢাকায় ত্রিপাক্ষিক বৈঠকে নতুন রুট কলকাতা-বরিশাল-কলকাতা চুড়ান্ত হবে। তিনি আরো জানান, পদ্মসেতুর উদ্বোধন হলেই কলকাতা-চট্টগ্রাম-কলকাতা রুটের বাসও শুরু হবে। ইতিমধ্যে এই বিষয়ে দরপত্রও আহবান করা হয়েছে। কলকাতা-ঢাকা-কলকাতা, কলকাতা-ঢাকা-আগরতলা-কলকাতা এবং কলকাতা-খুলনা-ঢাকা-কলকাতা এই মোট চারটি আন্তর্জাতিক রুটে এই মুহুর্তে বাস চলাচল করছে।

আন্তর্জাতিক পাতার আরো খবর