বৃহস্পতিবার, নভেম্বর ২৬, ২০২০
মুখ বন্ধ রাখুন, ট্রাম্পকে পুলিশ প্রধান
২জুন,মঙ্গলবার,আন্তর্জাতিক ডেস্ক,নিউজ একাত্তর ডট কম: পুলিশের নির্যাতনে কৃষ্ণাঙ্গ হত্যার ঘটনায় আমেরিকাজুড়ে বিক্ষোভ-প্রতিবাদ চলছেই। বিক্ষোভে অগ্নিগর্ভ হয়ে উঠেছে দেশটির বিভিন্ন শহর। এমন অবস্থায় মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে মুখ বন্ধ রাখতে বলেছেন হৌস্টন পুলিশের প্রধান আর্ট আচেভেদো। চলমান বিক্ষোভ নিয়ে মন্তব্য করায় প্রেসিডেন্টকে চুপ থাকতে বলেন তিনি। খবর সিএনএনের। আর্ট আচেভোদো নামের ওই পুলিশ কর্মকর্তা বলেন, যদি আপনি গঠনমূলক চিন্তা করতে না পারেন, তবে আপনার মুখ বন্ধ রাখুন। এদিকে বিক্ষোভ নিয়ন্ত্রণ করতে না পারার দায় বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যের গভর্নরদের ওপর চাপিয়ে দিচ্ছেন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প। তিনি গভর্নরদেরকে দুর্বল বলে উল্লেখ করে বলেছেন, তারা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করতে পারছেন না। এমন কি বেশ কয়েকজন গভর্নরের বিরুদ্ধে কড়া ভাষায় কথা বলেছেন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প। এক ভিডিও কনফারেন্সে বিক্ষোভকারীদের বিরুদ্ধে গভর্নরদেরকে কঠোর অবস্থান নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন ট্রাম্প। তিনি বিক্ষোভ-প্রতিবাদ নিয়ন্ত্রণে আনার জন্য গভর্নরদের চাপ প্রয়োগ করছেন। গত ২৫ মে পুলিশের নির্যাতনের পর মারা যান জর্জ ফ্লয়েড নামের এক কৃষ্ণাঙ্গ। তাকে পুলিশের নির্যাতনের একটি ভিডিও সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে। ওই ভিডিও প্রকাশ হতেই বিক্ষোভ দানা বাঁধে যুক্তরাষ্ট্রে। এক শহর থেকে আরেক শহরে ছড়িয়ে পড়ে বিক্ষোভের আগুন। ঘাড়ে ও পিঠে ক্রমাগত হাঁটু দিয়ে চাপ দিয়ে রাখার কারণে শ্বাসরুদ্ধ হয়ে মারা যান আফ্রিকান-আমেরিকান জর্জ ফ্লয়েড। মিনিয়াপলিসের এক পুলিশ কর্মকর্তা ফ্লয়েডকে মাটিতে ফেলে হাঁটু দিয়ে তার ঘাড় চেপে ধরেন। আট মিনিটের বেশি সময় ধরে এভাবে হাঁটুর চাপে শ্বাসরোধে মৃত্যু হয় ফ্লয়েডের। সম্প্রতি এক ময়নাতদন্তের প্রতিবেদনে তার মৃত্যুকে হত্যাকাণ্ড হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে বলে নিশ্চিত করেছেন জর্জ ফ্লয়েডের পরিবারের আইনজীবী বেন ক্রাম্প।
বাংলাদেশি হত্যার বিচার হবে লিবিয়া
১জুন,সোমবার,অনলাইন ডেস্ক,চট্টগ্রাম,নিউজ একাত্তর ডট কম: লিবিয়ার দক্ষিণাঞ্চলীয় মিজদাহ শহরে ২৬ বাংলাদেশির ঘৃণ্য হত্যাকাণ্ডের বিষয়ে কঠোর নিন্দা জানিয়েছে লিবিয়ার সরকার। সোমবার (১ জুন) লিবিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে পাঠানো এক শোক বার্তায় এ নিন্দা জানানো হয়। এ হত্যাকাণ্ডকে কাপুরুষোচিত কাজ উল্লেখ করে হত্যাকারীদের বিচারের আওতায় আনারও অঙ্গীকার করা হয়েছে এ শোক বার্তায়। এতে নিহতদের পরিবার ও বাংলাদেশ সরকারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানানো হয়েছে। এ হত্যাকাণ্ডের তদন্ত ও বিচারের বিষয়ে লিবিয়ার সরকার গৃহীত পদক্ষেপসমূহ নিহতদের পরিবার ও বাংলাদেশ সরকারকে জানানো হবে বলে শোকবার্তায় উল্লেখ করা হয়। বৃহস্পতিবার (২৮ মে) রাত ৯টার দিকে লিবিয়ার মিজদা শহরে ২৬ বাংলাদেশিসহ মোট ৩০ জনকে গুলি করে হত্যা করা হয়। হত্যার শিকার বাকিরা আফ্রিকান। প্রাণে বেঁচে যাওয়া এক বাংলাদেশির সঙ্গে টেলিফোনে যোগাযোগে সক্ষম হয় লিবিয়ায় বাংলাদেশি দূতাবাস। বাংলাদেশি দূতাবাসের পক্ষ থেকে সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, তিনি কোনো প্রকারে প্রাণে বেঁচে বর্তমানে একজন লিবিয়ানের আশ্রয়ে আত্মগোপন করে আছেন। তিনি দূতাবাসকে জানান, ১৫ দিন আগে বেনগাজী থেকে মরুভূমি পাড়ি দিয়ে কাজের সন্ধানে মানবপাচারকারীরা তাদের লিবিয়ার ত্রিপোলি শহরে নিয়ে আসার পথে তিনিসহ মোট ৩৮ জন বাংলাদেশি মিজদাহ শহরে দুষ্কৃতিকারীদের হাতে জিম্মি হন। জিম্মি অবস্থায় তাদের অত্যাচার, নির্যাতন করার এক পর্যায়ে অপহৃত আফ্রিকানরা মূল অপহরণকারী লিবিয়ান ব্যক্তিকে হত্যা করে এবং এর জেরে অন্যান্য দুষ্কৃতিকারীরা আকস্মিকভাবে অপহৃতদের ওপর এলোপাতাড়ি গুলিবর্ষণ করে। এতে আনুমানিক ২৬ জন বাংলাদেশি নিহত হন। অবশিষ্ট বাংলাদেশিরা হাতে-পায়ে, বুকে-পিঠে গুলিবিদ্ধ হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।
আগুনে জ্বলছে যুক্তরাষ্ট্র
১জুন,সোমবার,অনলাইন ডেস্ক,চট্টগ্রাম,নিউজ একাত্তর ডট কম:আমেরিকার মিনিয়াপোলিসে পুলিশের নির্মমতার শিকার হয়ে আফ্রিকান-আমেকিান জর্জ ফ্লয়েডের মৃত্যুতে আমেরিকার চল্লিশটি শহরে যেভাবে বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছে তাতে প্রশাসনের মধ্যে উদ্বেগ বাড়ছে। বিক্ষোভকারীরা বিভিন্ন জায়গায় আগুন ধরিয়ে দিচ্ছে। জানা যাচ্ছে যে শুক্রবার রাতে বিক্ষোভের পর এমনকী প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পকে নিরাপত্তামূলক ব্যবস্থা হিসাবে গোয়েন্দা দপ্তর থেকে কিছুক্ষণের জন্য হোয়াইট হাউসের কাছে মাটির নিচের একটি বাঙ্কারে সরিয়ে নিয়ে যাওয়া হয়। খবর বিবিসির সেসময় হোয়াইট হাউসের বাইরে শত শত লোক জর্জ ফ্লয়েডের মৃত্যুর প্রতিবাদে বিক্ষোভ জানাচ্ছিল। তারা পাথর ছুঁড়ছিল এবং পুলিশের দেয়া প্রতিবন্ধকতা সরানোর চেষ্টা করছিল। হোয়াইট হাউসের কাছে বিক্ষোভকারীরা একটি ঐতিহাসিক গির্জায় আগুন দিলে ওয়াশিংটন ডিসি-র পুলিশ কাঁদানে গ্যাস ছোঁড়ে। আমেরিকার বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের খবর থেকে জানা যাচ্ছে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পকে প্রায় এক ঘণ্টা ওই বাঙ্কারে লুকিয়ে রাখা হয়। তবে ট্রাম্পের স্ত্রী ফার্স্ট লেডি মেলানিয়া ট্রাম্প এবং তাদের ১৪ বছরের ছেলে ব্যারনকেও বাঙ্কারে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল কি না তা স্পষ্ট নয়। এই বাঙ্কার তৈরি করা হয় কোনরকম সন্ত্রাসী হামলার সময় প্রেসিডেন্টকে জরুরিকালীন ব্যবস্থায় সরিয়ে নেবার লক্ষ্যে। জর্জ ফ্লয়েডের মৃত্যুকে কেন্দ্র করে হোয়াইট হাউসের বাইরে যে বিক্ষোভ হয়েছে তাতে নাইন-ইলেভেন হামলার পর প্রথমবারের মত আমেরিকান প্রেসিডেন্টের বাসভবনের জন্য সর্বোচ্চ সতর্কতা জারি করা হয়েছে। হোয়াইট হাউসের ঘনিষ্ঠ একজন রিপাবলিকান সদস্য নাম প্রকাশ না করার শর্তে স্কাই নিউজকে জানিয়েছেন হোয়াইট হাউসের বাইরে বিক্ষোভের দৃশ্য ট্রাম্পকে বিচলিত করে দিয়েছে। ট্রাম্পকে তড়িঘড়ি বাঙ্কারে সরিয়ে নেবার জন্য গোয়েন্দা দপ্তরের এই আকস্মিক পদক্ষেপ থেকে হোয়াইট হাউসের ভেতর অস্বস্তির বিষয়টি পরিস্কার হয়েছে। গোটা সপ্তাহান্ত জুড়ে বিক্ষোভকারীদের শ্লোগান শোনা গেছে হোয়াইট হাউসের বাইরে। এবং বিক্ষোভকারীদের দমন করতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে হিমশিম খেতে হয়েছে। যে জর্জ ফ্লয়েডের মৃত্যু নিয়ে উত্তাল আমেরিকা, সেই জর্জ ফ্লয়েডের ওপর পুলিশি নির্মমতার ভাইরাল হওয়া ভিডিওতে দেখা যায় নিঃশ্বাস নেবার জন্য হাঁসফাঁস করছেন তিনি। তাকে মাটিতে শুইয়ে তার গলার ওপর নিজের হাঁটু দিয়ে চেপে ধরেছেন একজন শ্বেতাঙ্গ পুলিশ অফিসার। জর্জ ফ্লয়েড বারবার বলেছেন, "আমার দম বন্ধ হয়ে যাচ্ছে।" জর্জ ফ্লয়েডের মৃত্যুতে ব্যাপক প্রতিবাদের পর শ্বেতাঙ্গ পুলিশ অফিসারের বিরুদ্ধে এখন হত্যার মামলা আনা হয়েছে। কিন্তু কে এই কৃষ্ণাঙ্গ আমেরিকান তরুণ যার মৃত্যুর ঘটনায় আমেরিকা জুড়ে ব্যাপক বিক্ষোভ শুরু হয়েছে। টেক্সাসের হুস্টনে বড় হয়ে ওঠেন জর্জ ফ্লয়েড শহরের কৃষ্ণাঙ্গ অধ্যুষিত এলাকায়। তার ৪৬ বছরের জীবন ছিল ভাল-মন্দের সংমিশ্রণ। খেলাধূলায় আগ্রহ ছিল জর্জের। তরুণ বয়সে হুস্টনে আমেরিকান ফুটবল খেলোয়াড় হিসাবে বেশ নামডাক হয়েছিল তার। ১৯৯২ সালে টেক্সাস স্টেট চ্যাম্পিয়ানশিপে রানার্স আপ হয়েছিল তার স্কুলের দল- ইয়েটস হাই স্কুল লায়ন্স। ১৯৯০এর দশকে হুস্টনে হিপহপ সঙ্গীত গোষ্ঠির সদস্য হিসাবেও তিনি বেশ পরিচিত হয়ে উঠেছিলেন। কিন্তু দারিদ্র, বর্ণবৈষম্য, এবং অর্থনৈতিক অসাম্য তার জীবনের মোড় ঘুরিয়ে দেয়। সামাজিক বঞ্চনার শিকার বহু আফ্রিকান আমেরিকান তরুণের মত জর্জ ফ্লয়েডও জড়িয়ে পড়েন গোষ্ঠি সহিংসতা, এবং আফ্রিকান আমেরিকান গোষ্ঠির বাসস্থানের সংকট নিয়ে নানা সামাজিক আন্দোলনে। তার ছেলেবেলার বন্ধুরা বলেছেন বিশাল দীর্ঘদেহী ছিলেন জর্জ ফ্লয়েড। ছয় ফুট ছয় ইঞ্চি উচ্চতার জর্জ একজন প্রতিভাবান অ্যাথলেট ছিলেন। তার বন্ধুরা বলেছেন আমেরিকান ফুটবল আর বাস্কেটবলে তিনি তুখোড় ও দক্ষ খেলোয়াড় ছিলেন। তার এক বাল্যবন্ধু জনাথান ভিল বলেছেন, "এত লম্বা কাউকে আমি দেখিনি। ১২ বছর বয়সে জর্জ ছয় ফুট দুই ইঞ্চি লম্বা ছিল।তার বর্ণনায় জর্জ ছিলেন, "দৈত্যকায় নরম মনের মানুষ। সিএনএন বলছে জর্জ ফ্লয়েড যখন পরে ফ্লোরিডা স্টেট কলেজে পড়তে যান, তখন ১৯৯৩ থেকে ১৯৯৫ তিনি স্কুলের বাস্কেটবল দলে ফ্লোরিডা রাজ্যের তরুণ টিমে প্রতিনিধিত্ব করেছেন। পরে তিনি আবার ফিরে যান হুস্টনে তার স্কুলের শেষ বছরে, এরপর টেক্সাস এ অ্যান্ড এম ইউনিভার্সিটিতে ভর্তি হলেও তিনি ডিগ্রি কোর্স শেষ করেননি। এসময় জর্জ অপরাধ জগতের সঙ্গে জড়িয়ে পড়ে। চুরি এবং অবৈধ মাদক রাখার অভিযোগে বেশ কয়েকবার তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। ২০০৭ সালে সশস্ত্র ডাকাতির অভিযোগে তার বিরুদ্ধে মামলা হয় এবং তাকে পাঁচ বছরের জন্য কারাভোগ করতে হয়। তবে জেল থেকে ছাড়া পাবার পর জর্জ নিজের জীবন শোধরাতে চেষ্টা করছিলেন। স্থানীয় এক গির্জার মাধ্যমে সামাজিক কাজে নিজেকে জড়ান তিনি। ২০১৭ সালে তিনি তরুণদের সহিংসতা বন্ধের ডাক দিয়ে একটি ভিডিও তৈরি করেন, যে ভিডিও সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে দেয়া হয়। তিনি তরুণদের উদ্দেশ্যে বলেন সহিংসতা ছেড়ে দিয়ে "ঘরে ফিরে এসো", জানিয়েছেন তার সহপাঠী ও বন্ধু ক্রিস্টোফার হ্যারিস। "ফ্লয়েড আবার নতুন করে জীবন গড়ে তোলার, নতুন করে বাঁচার সংগ্রাম শুরু করেছিলেন, তার প্রচেষ্টা নিয়ে তিনি খুশি ছিলেন," আমেরিকার মিডিয়ায় বলেন হ্যারিস। স্যালভেশন আর্মির একটি দাতব্য প্রতিষ্ঠানে তিনি নিরাপত্তা গার্ডের কাজ নিয়েছিলেন। পরে লরি চালকের কাজ নেন এবং একটি পানশালায় নিরাপত্তা কর্মীর কাজ করেন। সেখানে সবাই তাকে ডাকত 'বিগ ফ্লয়েড' বা দীর্ঘদেহী ফ্লয়েড নামে। কিন্তু করোনাভাইরাস মহামারি শুরু হবার পর পানশালা বন্ধ হয়ে যাবার ফলে বহু আমেরিকানের মত জর্জ ফ্লয়েডকেও ছাঁটাই করা হয়। যেদিন তাকে পুলিশ গ্রেপ্তার করে, যেদিন পুলিশের অত্যাচারের কারণে তাকে প্রাণ দিতে হয়, সেদিন পুলিশের অভিযোগ ছিল জর্জ ফ্লয়েড বিশ ডলারের একটা জাল নোট ব্যবহার করে সিগারেট কেনার চেষ্টা করছিলেন।
করোনায় প্রাণহানি ৩ লাখ ৭৪ হাজার প্রায়
১ জুন,সোমবার,আন্তর্জাতিক ডেস্ক,নিউজ একাত্তর ডট কম: একদিন আগে মরণাতাঙ্ক করোনার ভাইরাসের উৎপত্তির পাঁচমাস পূর্ণ হয়েছে। আজ একশ একান্নতম দিনে ভাইরাসটি সংক্রমণ ছড়িয়েছে বিশ্বের ৬২ লাখের বেশি মানুষের দেহে। যাতে পৃথিবী ছাড়তে হয়েছে ৩ লাখ প্রায় ৭৪ হাজার মানুষকে। তবে, বেঁচে ফিরেছেন প্রায় অর্ধেক আক্রান্ত মানুষ। ইউরোপ-আমেরিকা, মধ্যপ্রাচ্য-দক্ষিণ এশিয়া আর সবশেষ তাণ্ডব ছড়িয়ে পড়ে লাতিন আমেরিকায়। যেখানে ইতিমধ্যে অর্ধলাখের বেশি মানুষের মৃত্যু হয়েছে। উৎপত্তিস্থল চীনসহ ইউরোপের কয়েকটি দেশ করোনার লাগাম টেনে ধরতে পারলেও ব্যর্থ মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রসহ অন্যান্য সর্বোচ্চ আক্রান্তের দেশগুলো। এর মধ্যে সবচেয়ে নাজুক অবস্থা যুক্তরাষ্ট্র ও ব্রাজিলে। ভাল নেই দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোও। যার সবচেয়ে ভুক্তভোগী নরেন্দ্র মোদির ভারত। যেখানে আক্রান্ত ২ লাখের কোটায় ঘুরছে। সংক্রমণ তালিকায় শীর্ষ সাতে জায়গা হয়েছে দেশটির। প্রাণ গেছে সেখানে প্রায় সাড়ে ৫ হাজার মানুষের। বাদ যায়নি বাংলাদেশও। যেখানে প্রতিদিনই রেকর্ড আক্রান্তে দ্রুস বিস্তার লাভ করছেন ভাইরাসটি। বাড়ছে স্বজন হারাদের সংখ্যা। এমন অবস্থার পরও খুলে দেয়া হয়েছে অফিস আদালত, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ও গণপরিবহন। তবে বন্ধ রয়েছে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। এতে করে করোনার সংক্রমণ ব্যাপক বিস্তারের শঙ্কা তৈরি হয়েছে। আজ সোমবার বাংলাদেশ সময় সকাল পর্যন্ত বিশ্বখ্যাত জরিপ সংস্থা ওয়ার্ল্ডোমিটারের তথ্যানুযায়ী, বিশ্বব্যাপী ছড়িয়ে পড়া করোনার শিকার এখন পর্যন্ত ৬২ লাখ ৫৯ হাজার ২৪৯ জন মানুষ। এর মধ্যে গত ২৪ ঘণ্টায় আক্রান্ত ১ লাখ ৯ হাজার ২৪৮ জন। নতুন করে প্রাণ গেছে ৩ হাজার ২০১ জনের। এ নিয়ে করোনারাঘাতে পৃথিবী ছেড়েছেন বিশ্বের ৩ লাখ ৭৩ হাজার ৬৯৭ জন মানুষ। আর সুস্থ হয়ে হাসপাতাল ছেড়েছেন ২৮ লাখ ৪৬ হাজার ৭১৩ জন। এর মধ্যে বিপর্যস্ত মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে মৃতের সংখ্যা ১ লাখ ৬ হাজার ১৯৫ জন। আক্রান্ত ১৮ লাখ ৩৭ হাজার ১৭০ জনে দাঁড়িয়েছে। প্রতিদিনের আক্রান্তের হারে শীর্ষে থাকা লাতিন আমেরিকার দেশ ব্রাজিলে সংক্রমিতের সংখ্যা ৫ লাখ ১৪ হাজার ৮৪৯ জন। মৃত্যু হয়েছে ২৯ হাজার ৩১৪ জনের। আক্রান্তের তালিকায় তিনে থাকা রাশিয়ায় করোনার শিকার ৪ লাখ ৫ হাজার ৮৪৩ জন। এর মধ্যে প্রাণ গেছে ৪ হাজার ৬৯৩ জনের। নিয়ন্ত্রণে আসা স্পেনে আক্রান্ত ২ লাখ প্রায় ৮৬ হাজার ৫০৯। এর মধ্যে প্রাণহানি ঘটেছে ২৭ হাজার ১২৭ জনের। প্রাণহানিতে দ্বিতীয় স্থানে থাকা যুক্তরাজ্যে সংক্রমণ পৌনে ৩ লাখ ছুঁই ছুঁই। মৃত্যু হয়েছে সেখানে প্রায় সাড়ে ৩৮ হাজার জনের। ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা তুলে নেয়া ও আংশিক লকডাউনে থাকা ইতালিতে প্রাণহানি ৩৩ হাজার ৪১৫ জনে দাঁড়িয়েছে। যেখানে আক্রান্ত ২ লাখ ৩৩ হাজার। এছাড়া, আক্রান্ত ও প্রাণহানি কমেছে ইউরোপের দুই রাষ্ট্র জার্মানি ও ফ্রান্সে। আর দক্ষিণ এশিয়ার মধ্যে সবচেয়ে খারাপ অবস্থা ভারতে। সংক্রমণে জার্মানি, ফ্রান্সকে ছাড়িয়ে শীর্ষ সাতে উঠেছে দেশটি। যেখানে আক্রান্ত ১ লাখ ৯০ হাজার ৬০৯ জন। প্রাণ গেছে ৫ হাজার ৪০৮ জনের। আর বাংলাদেশে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের দেয়া তথ্যানুযায়ী গতকাল রোববার পর্যন্ত করোনার শিকার ৪৭ হাজার ১৫৩ জন। আক্রান্তদের মধ্যে ৬৬০ জনের মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে বেঁচে ফিরেছেন ৯ হাজার ৭৮১ জন।
খুলে দেওয়া হল আল-আকসা মসজিদ
৩১মে,রবিবার,আন্তর্জাতিক ডেস্ক,নিউজ একাত্তর ডট কম: খুলে দেওয়া হল জেরুজালেমের ঐতিহাসিক আল-আকসা মসজিদ। করোনাভাইরাসের মহামারীর কারণে বন্ধ করে দেওয়ার দুই মাস পর রবিবার ভোরের দিকে মসজিদটির চত্বর খুলে দেওয়া হয়। মুসলিম ধর্মাবলম্বীদের জন্য সৌদি আরবের মক্কা ও মদিনার পর তৃতীয় গুরুত্বপূর্ণ স্থান হিসেবে ভাবা হয় পবিত্র আল-আকসাকে। জানা গেছে, রবিবার ফজরের নামাজের কয়েক ঘণ্টা আগে মুসল্লিদের মসজিদ চত্বরে প্রবেশ করার অনুমতি দেওয়া হয়। মুসল্লিদের সবাই ছিলেন মাস্ক পরিহিত। এ সময় মুসল্লিদের অভিনন্দন জানান আল-আকসার মসজিদের পরিচালক ওমর আল-কিসওয়ানি। আল-আকসার মসজিদ চত্বরটি অবস্থিত ইসরায়েলের অধিকৃত পূর্ব জেরুজালেমে। করোনা মহামারীর কারণে গত মার্চে মসজিদটির চত্বর বন্ধ করে দেয় ইসরায়েল কর্তৃপক্ষ। রবিবার ওই চত্বরের আল-আকসা মসজিদের পাশাপাশি খুলে দেওয়া হয় বিখ্যাত ডোম অব দ্য রকও। মুসলমানদের বিশ্বাস, মিরাজের রাতে এখান থেকে তাদের নবী হজরত মোহাম্মদ (স.) আল্লাহর সান্নিধ্য লাভের জন্য ঊর্ধ্বাকাশে গমন করেছিলেন। ফিলিস্তিনি ও ইসরায়েলিদের মধ্যে দীর্ঘ বিরোধের অন্যতম কারণ এই আল-আকসা। জায়গাটি ইহুদি ও খ্রিস্টান ধর্মাবলম্বীদের জন্যও গুরুত্বপূর্ণ। ঈদুল ফিতরের সময় আল-আকসা প্রাঙ্গণে ঈদের নামাজ পড়তে আসলে ইসরায়েলি নিরাপত্তাবাহিনীর বাধার মুখে পড়ে ফিলিস্তিনিরা। অনেককে আটকও করা হয়।
রবিবার ফজরের নামাজ থেকে খুলছে মসজিদে নববী
৩০মে,শনিবার,আন্তর্জাতিক ডেস্ক,নিউজ একাত্তর ডট কম: অবশেষে মসজিদে নববী খুলে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সৌদি সরকার। তবে ধারণ ক্ষমতার ৪০ শতাংশ মুসল্লি মসজিদে উপস্থিত হতে পারবেন। ৩১ মে রবিবার ফজরের নামাজ থেকেই চালু হচ্ছে মসজিদটি। বাদশাহ সালমান বিন আবদুল আজিজ আল সৌদ এ পদক্ষেপ নিয়েছেন। করোনা ভাইরাস ছড়িয়ে পড়ার জেরে আরোপিত লকডাউনে মসজিদটি বন্ধ ঘোষণা করেছিল সৌদি আরব কর্তৃপক্ষ। তবে লকডাউন শিথিলের অংশ হিসেবে এ পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে। সৌদি আরবের রাষ্ট্র নিয়ন্ত্রিত টেলিভিশন চ্যানেল সৌদিয়া টিভি এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে। ইতিমধ্যে মসজিদে নববী থেকে সব ধরনের কার্পেট সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। সে কারণে এখন থেকে মুসল্লিরা মার্বেলের মেঝেতে নিজেদের সঙ্গে আনা জায়নামাজে নামাজ আদায় করবেন। নামাজ পড়ার সময় অবশ্য করোনা ভাইরাস সংক্রান্ত সতর্কতা মেনে চলার নির্দেশনা রয়েছে। সেই হিসেবে মুসল্লিদের মাস্ক পরে থাকতে হবে, শারীরিক দূরত্ব বজায় রেখে কাতারে দাঁড়াতে হবে এবং নামাজ পড়তে আসার সময় নিজের জায়নামাজ নিয়ে আসতে হবে। সূত্র : আল আরাবিয়্যাহ
আক্রান্তের হারে শীর্ষে ব্রাজিল, মৃত্যু ২৭ হাজার ছুঁই ছুঁই
২৯মে,শুক্রবার,আন্তর্জাতিক ডেস্ক,নিউজ একাত্তর ডট কম: বিশ্বের সর্বত্র ছড়িয়ে পড়া করোনা ভাইরাসের প্রকৃত রূপ দেখতে শুরু করেছে ব্রাজিল। প্রতিদিনের রেকর্ড আক্রান্তে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রকে ছাপিয়েই চলেছে লাতিন আমেরিকার দেশটি। এতে এখন আক্রান্তের হারে শীর্ষে উঠেছে দেশটি। যেখানে সংক্রমিতের সংখ্যা সোয়া চার লাখ পেরিয়েছে। প্রাণহানি ২৭ হাজার ছুঁই ছুঁই। শুধু ব্রাজিল নয়, ভাইরাসটি দাপট দেখাচ্ছে সহগোত্রীয় পেরু, চিলি, এল সালভেদর, গুয়েতেমালা ও নিকারগুয়ার মতো দেশগুলাতে। যেখানে হু হু করে বাড়ছে সংক্রমণ, স্বজন হারা হচ্ছে হাজার হাজার মানুষ। ব্রাজিলের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের বরাত দিয়ে বিশ্বখ্যাত জরিপ সংস্থা ওয়ার্ল্ডোমিটারের তথ্যমতে, গত ২৪ ঘণ্টায় ২৪ হাজার ৫৩ জনের দেহে মিলেছে করোনা সংক্রমণ। এতে আক্রান্তের সংখ্যা বেড়ে ৪ লাখ ৩৮ হাজার ৮১২ জনে দাঁড়িয়েছে। নতুন করে প্রাণ গেছে ১ হাজার ৬৭ জনের। এ নিয়ে লাতিন আমেরিকার দেশটিতে মৃতের সংখ্যা ২৬ হাজার ৭৬৪ জনে ঠেকেছে। যদিও এখন পর্যন্ত সুস্থ হয়ে ঘরে ফিরেছেন ১ লাখ ৯৩ হাজারের বেশি মানুষ। এদিকে আক্রান্ত ও প্রাণহানির এমন হারে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে বিশ্ব সাস্থ্য সংস্থা-ডব্লিউএইচও। সংস্থাটির বলছে, ‘চলমান অবস্থা অব্যাহত থাকলে আগামী আগস্টের মধ্যে লাতিন আমেরিকার দেশটিতে মৃতের সংখ্যা সোয়া লাখ ছাড়িয়ে যেতে পারে। শুধু তাই, এ অঞ্চলের অন্যান্য দেশেও ভয়াবহ আকার ধারণ করতে পারে করোনা।’ খবর আল জাজিরার। লাতিন আমেরিকার আরেক দেশ পেরুতে আক্রান্ত ১ লাখ ৪২ হাজার ছুঁই ছুঁই। প্রাণহানি ৪ হাজার ছাড়িয়েছে। চিলিতে সংক্রমিতের সংখ্যা প্রায় ৮৭ হাজারের কাছাকাছি। এখন পর্যন্ত ৮৯০ জনের মৃত্যু হয়েছে সেখানে। এদিকে, রোগটি নিয়ন্ত্রণ করতে না পারায় চাপে রয়েছে ব্রাজিলের প্রশাসন। অভিশংসনের ঝুঁকিতে রয়েছেন স্বয়ং প্রেসিডেন্ট জাইর বলসোনারো। তবে এসবের দায় তিনি নিতে নারাজ। মৃত্যুর সংখ্যা বাড়তে থাকার কথা বলসোনারোকে স্মরণ করিয়ে দিলে গত সোমবার সাংবাদিকদের তিনি বলেন, ‘আমি তো মিরাকল কাজ করতে পারি না। আমাকে দিয়ে কী করাতে চান?
সেনাবাহিনীকে যুদ্ধের জন্য প্রস্তুত হওয়ার নির্দেশ চীনা প্রেসিডেন্টের
২৭মে,বুধবার,আন্তর্জাতিক ডেস্ক,নিউজ একাত্তর ডট কম: চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং নিজ দেশের সেনাবাহিনীকে যুদ্ধের জন্য প্রস্তুত থাকার নির্দেশ দিয়েছেন। সবচেয়ে খারাপ পরিস্থিতির জন্য সবাইকে তৈরি থাকার নির্দেশ দিয়েছেন তিনি। শি জিনপিং বলেন, দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষায় সব ধরনের ব্যবস্থা নিতে হবে। সামরিক প্রশিক্ষণ বাড়াতে হবে এবং যুদ্ধের জন্য প্রস্তুত থাকতে হবে। ভারত সীমান্তে চীনের সামরিক উপস্থিতি বৃদ্ধির মধ্যেই ভাষণে তিনি এমন নির্দেশ দিলেন। মঙ্গলবার (২৬ মে) পিপলস লিবারেশন আর্মি ও পিপলস আর্মড পুলিশ ফোর্স-এর প্রতিনিধিদের উদ্দেশে দেওয়া এক ভাষণে তিনি এসব কথা বলেন। এদিকে চীনের প্রেসিডেন্টের যুদ্ধ প্রস্তুতির নির্দেশের দিন নিজ দেশের তিন বাহিনীর প্রধানদের সঙ্গে বৈঠক করেছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। এর আগে গত ২২ মে চীনের সঙ্গে উত্তেজনার মধ্যেই লাদাখ সফরে যান ভারতের সেনাপ্রধান এম এম নারাভানে। সম্প্রতি ভারত ও চীনের মধ্যে উত্তেজনা ব্যাপকভাবে বেড়েছে। বিশেষ করে লাদাখে প্রকৃত নিয়ন্ত্রণ-রেখা বরাবর প্রবল উত্তেজনা বিরাজ করছে। চীন সেখানে ভারতীয় এলাকায় ঢুকে পড়েছে বলেও অভিযোগ উঠেছে। ভারতের পানিসীমা ও আকাশসীমা লঙ্ঘনেরও অভিযোগ উঠছে বেইজিং-এর বিরুদ্ধে। লাদাখ ও উত্তর সিকিমে দুই দেশই সেনা ও সমরাস্ত্রের সংখ্যা উল্লেখযোগ্য পরিমাণে বাড়িয়েছে। ভারতের অবসরপ্রাপ্ত স্কোয়াড্রন লিডার সমীর জোশি ভারতীয় গণমাধ্যম এনডিটিভিকে বলেছেন, চীনের যুদ্ধবিমানগুলো ওই উচ্চতায় এক ঘণ্টার বেশি উড়তে পারবে না। সেই তুলনায় ভারতের যুদ্ধবিমানগুলো সমতলের এয়ারবেস থেকে তিন থেকে চার ঘণ্টা উড়তে পারবে। অবশ্য তার জন্য এয়ার টু এয়ার রিফুয়েলিং ট্যাঙ্কার ব্যবহার করতে হবে। লাদাখ থেকে অরুণাচল প্রদেশ। প্রায় তিন হাজার ৪৮৮ কিলোমিটারজুড়ে চীন-ভারত সীমান্ত অবস্থিত। দিল্লির দাবি, ২০১৫ সাল থেকে চীনা সেনারা দফায় দফায় ভারতীয় ভূখণ্ডে প্রবেশ করেছে। তবে এবার চীনা প্রেসিডেন্ট যেভাবে সরাসরি যুদ্ধ প্রস্তুতির নির্দেশ দিয়েছেন তাতে পরিস্থিতি শেষ পর্যন্ত কোন দিকে গড়ায় তা সময়ই বলে দেবে। সূত্র: ডিডব্লিউ, এনডিটিভি।
চীন-ভারত উত্তেজনা: ৩ বাহিনীর প্রধানদের সঙ্গে মোদির বৈঠক
২৭মে,বুধবার,আন্তর্জাতিক ডেস্ক,নিউজ একাত্তর ডট কম: চীন ও ভারতের মধ্যে উত্তেজনা বাড়ায় লাদাখের পরিস্থিতিতে থমথমে অবস্থা বিরাজ করছে। তাই জরুরি বৈঠক করেছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। জানা গেছে, মঙ্গলবার (২৬ মে) দু'দফা বৈঠক করেন তিনি। লাদাখে নিরাপত্তা সংক্রান্ত দিকগুলো খতিয়ে দেখতে এবং সেনাবাহিনীর কৌশল ঠিক করতে প্রথমে বৈঠক করেন জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা অজিত ডোভাল, চিফ অব ডিফেন্স স্টাফ বিপিন রাওয়াত এবং তিন বাহিনীর প্রধানদের সঙ্গে। কূটনৈতিক অবস্থান ঠিক করতে তারপর আলাদা করে বৈঠক করেন পররাষ্ট্র সচিব হর্ষবর্ধন শ্রিংলার সঙ্গেও। এর আগে মোদি লাদাখ নিয়ে একদফা বৈঠক করেন প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিংয়ের সঙ্গে। তিনবাহিনীর প্রধান এবং চিফ অব ডিফেন্স স্টাফ জেনারেল বিপিন রাওয়াতের সঙ্গে বৈঠক করেন তিনি। সীমান্ত সংলগ্ন এলাকার নিরাপত্তার বিষয়টি পর্যালোচনা করে দেখেন তারা। প্রকৃত নিয়ন্ত্রণ রেখার বর্তমান পরিস্থিতি সম্পর্কে রাজনাথকে সবিস্তার তথ্য দেন সেনাপ্রধান এমএম নারাভানে। লাদাখ সীমান্তের নিরাপত্তা সংক্রান্ত দিকগুলো পর্যালোচনা করে দেখেন তারা। ভারতের স্থানীয় গণমাধ্যমে দাবি করা হয়, সীমান্ত চুক্তি লঙ্ঘন করে ভারতে ঢুকে পড়া নিয়ে একাধিকবার চীনের সঙ্গে সংঘাতে জড়ায় ভারত। চলতি মাসের প্রথম দিকে তা নিয়ে নতুন করে দু'দেশের মধ্যে টানাপোড়েন শুরু হয়। গত ৯ মে উত্তর-পূর্ব সীমান্তে নাকুলা সেক্টরে চীনা বাহিনীর সঙ্গে হাতাহাতিতে জড়িয়ে পড়েন ভারতীয় জওয়ানরা। এতে বেশ কয়েকজন আহতও হন। দু'পক্ষের কর্মকর্তাদের হস্তক্ষেপে সাময়িকভাবে উত্তেজনা কমলেও, পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়নি। বরং গত কয়েক দিনে প্যাংগং এবং গালওয়ান উপত্যকায় সেনা মোতায়েন করেছে দু'পক্ষই। গালওয়ান নদীর তীর বরাবর তাঁবু ফেলেছে চীন। শুরুতে সেখানে দু-তিন হাজার সেনা মোতায়েন করলেও, তা বাড়িয়ে পাঁচ হাজার করা হয়েছে। এদিকে, মঙ্গলবারই লাদাখ সীমান্ত এলাকা থেকে বেশ কিছু স্যাটেলাইট ইমেজ সামনে এসেছে। তাতে দেখা গেছে, প্যাংগং থেকে ২০০ কিলোমিটার দূরে তিব্বতের নারি গানসা বিমানঘাঁটিতে হেলিকপ্টার ও যুদ্ধবিমান অবতরণের জন্য প্রয়োজনীয় নির্মাণকাজ চলছে। বিমানঘাঁটির টারম্যাকে সারি দিয়ে চারটি যুদ্ধবিমান দাঁড়িয়ে থাকতেও দেখা গেছে একটি ছবিতে। সেগুলো চীনা বাহিনীর জে-১১ এবং জে-১৬ যুদ্ধবিমান হতে পারে বলে ধারণা বিশেষজ্ঞদের, যা কি-না ভারতের সুখোই-৩০ যুদ্ধবিমানের সমকক্ষ। প্রকৃত নিয়ন্ত্রণ রেখা পেরিয়ে চীনা সেনার ভারতীয় এলাকায় ঢোকা নিয়ে এর আগেও দু পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা দেখা দিয়েছে। কিন্তু যে গালওয়ানে চীনা সেনার সমাবেশ ঘটেছে, তা নিয়ে দু'দেশের মধ্যে কোনো কালেই বিরোধ ছিল না। আর তাতেই উদ্বেগ বেড়েছে ভারতের। সূত্র: আজকাল।

আন্তর্জাতিক পাতার আরো খবর