বৃহস্পতিবার, নভেম্বর ২৬, ২০২০
ভিয়েনায় সন্ত্রাসী হামলা: বাংলাদেশি দ্বৈত নাগরিকসহ গ্রেফতার ১৪
০৬নভেম্বর,শুক্রবার,আন্তর্জাতিক ডেস্ক,নিউজ একাত্তর ডট কম: অস্ট্রিয়ার ভিয়েনায় সন্ত্রাসী হামলার ঘটনায় গত মঙ্গলবার ১৪ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তাদের মধ্যে বাংলাদেশি দ্বৈত নাগরিকও রয়েছে বলে জানা গেছে। গ্রেফতারদের বয়স ১৮ থেকে ২৮ বছরের মধ্যে। ১৮টি বাড়ি তল্লাশি করে তাদের গ্রেফতার করা হয়। রয়টার্সসহ অস্ট্রিয়ার গণমাধ্যমগুলো এসব তথ্য জানিয়েছে। খবর বিবিসির। গত সোমবার এক বন্দুকধারী ভিয়েনায় গুলি চালিয়ে চারজনকে হত্যা করে। এ হামলার দায় স্বীকার করেছে মধ্যপ্রাচ্যভিত্তিক জঙ্গিগোষ্ঠী ইসলামিক স্টেট (আইএস)। মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) তাদের পক্ষ থেকে দায় স্বীকার করে টেলিগ্রামে ছবিসহ একটি বিবৃতি প্রকাশ করা হয়েছে। হামলার ঘটনায় গ্রেফতারদের কাছ থেকে পাওয়া তথ্য-উপাত্তগুলো বিশ্লেষণ করা হচ্ছে বলে সংবাদমাধ্যমে জানানো হয়েছে। দেশটির স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী কার্ল নেহামার জানান, গ্রেফতার প্রায় সবারই অভিবাসনের ইতিহাস আছে। মোবাইল ফোনের ফুটেজ দেখে নিশ্চিত হওয়া যায়, সোমবার ভিয়েনায় বন্দুকধারী একাই ওই চারজনকে হত্যা করে। তবে এ নিয়ে অস্ট্রিয়ার গোয়েন্দা বাহিনী নানা বিভ্রান্তির মধ্যে ছিলেন বলেও জানান তিনি। ভিয়েনার পুলিশ প্রধান গেরহার্ড পুয়ার্স্টেল জানান, গ্রেফতারদের মধ্যে কয়েকজনের বাংলাদেশ, উত্তর ম্যাসেডোনিয়া, তুরস্ক বা রাশিয়ার দ্বৈত নাগরিকত্ব রয়েছে। বন্দুকধারী একাই হামলা চালিয়েছে বলে জানা যায়। তবে হামলার এই ঘটনা নিয়ে অস্ট্রিয়া ও স্লোভাকিয়ার মধ্যে গোয়েন্দা তথ্য নিয়ে বড় ধরনের বিভ্রান্তি তৈরি হয়েছে। তাদের সঙ্গে কোনো সন্ত্রাসী সংগঠনের যোগসূত্র আছে কি-না, সে বিষয়ে তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। গত জুলাইয়ে স্লোভাকিয়ার গোয়েন্দা সংস্থা এক চিঠির মাধ্যমে অস্ট্রিয়া কর্তৃপক্ষকে জানায়, ২১ জুলাই দুজন ব্যক্তি, সম্ভবত আরব, তুর্কি বা চেচেন নাগরিক, তারা ব্রাতিস্লাভার অস্ত্রের দোকানে যায়। সেখান থেকে তারা একে-ফর্টি সেভেনের সরঞ্জাম কেনে। তাদের দেয়া তথ্য অনুযায়ী, ওই দুই ব্যক্তি অস্ট্রিয়ার নম্বর প্লেটযুক্ত বিএমডব্লিউ গাড়িতে করে আসে। এসব তথ্য ২৩ জুলাই ইউরোপোলের মাধ্যমে অস্ট্রিয়াকে জানানো হয়। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী কার্ল নেহামার বলেন, পরবর্তী পর্যায়ে তাদের মধ্যে যোগাযোগের ক্ষেত্রে কিছু বড় ধরনের ভুল হয়ে যায়। সেই ত্রুটিগুলোর বিষয়ে জানতে একটি স্বাধীন কমিশন গঠনের আহ্বান জানানো হয়েছে। ওই চিঠি অনুযায়ী, গত ১০ সেপ্টেম্বর ইউরোপীয় আইন প্রয়োগকারী সংস্থা ইউরোপোলের মাধ্যমে অস্ট্রিয়ান কর্তৃপক্ষ স্লোভাকিয়াকে জানায়, অস্ট্রিয়ান পুলিশ দুজনের মধ্যে একজনের পরিচয় শনাক্ত করেছে। ওই দুই ব্যক্তি অস্ট্রিয়ান পুলিশের কাছে সন্ত্রাসবাদের সঙ্গে জড়িত হিসেবে আগে থেকেই পরিচিত। এর মধ্যে একজনকে ২২ মাসের কারাদণ্ডে দণ্ডিত করা হয়েছিল। চিঠিতে আরও উল্লেখ করা হয়, গোলাবারুদ কেনার চেষ্টায় ব্যবহৃত গাড়িটি অন্য ২১ বছর বয়সী আরেক ব্যক্তির মায়ের নামে নিবন্ধিত ছিল। উগ্রপন্থী হওয়ায় তার বিরুদ্ধে আগেই মামলা হয়েছিল। ভিয়েনায় হামলার পরে তাকে গ্রেফতারের জন্য আদালতে আবেদনও জানানো হয়। অস্ট্রিয়ার জননিরাপত্তা বিভাগের মহাপরিচালক ফ্রানজ রুফ বলেন, স্লোভাকিয়া থেকে এই তথ্য পাওয়ার পর অস্ট্রিয়ার কেন্দ্রীয় ও প্রাদেশিক পর্যায়ের গোয়েন্দা সংস্থা তথ্যগুলো প্রয়োজনীয় যাচাই-বাছাই করে ব্রাতিস্লাভাতে আবারও প্রশ্ন পাঠায়। ওই বন্দুকধারী একইসঙ্গে অস্ট্রিয়া ও উত্তর ম্যাসেডোনিয়ার নাগরিক বলে জানা গেছে। তিনি গুলি চালানোর কয়েক মিনিটের মধ্যেই পুলিশ তাকে গুলি করে হত্যা করে। ওই তরুণের জন্ম ভিয়েনায়। তিনি সেখানেই বেড়ে ওঠেন। ইতোমধ্যে সিরিয়ায় ইসলামিক স্টেটে যোগদানের চেষ্টা করার জন্য দোষী সাব্যস্ত হয়েছিলেন এবং কারাগারে ছিলেন তিনি। ২০১৮ সালের শেষের দিকে কর্তৃপক্ষ জানতো, অস্ট্রিয়ার ৩২০ জন ব্যক্তি সিরিয়া ও ইরাকের সন্ত্রাসী কাজে সক্রিয়ভাবে জড়িত ছিল বা অংশ নিতে চেয়েছিল। এর মধ্যে প্রায় ৫৮ জন এই অঞ্চলে মারা গেছেন এবং ৯৩ জন অস্ট্রিয়ায় ফিরেছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। আরও ৬২ জনকে দেশ ছাড়তে বাধা দেয়া হয়েছিল। ২০ হাজারেরও বেশি মানুষ তাদের মোবাইল ফোনের ভিডিও কর্তৃপক্ষকে দিয়েছে। ওইসব ভিডিও বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, ঘটনাস্থলে কেবল একজন বন্দুকধারী ছিল। সুইজারল্যান্ডও এই হামলার সঙ্গে জড়িত সন্দেহে দুজনকে গ্রেফতার করেছে। দেশটির আইনমন্ত্রী বলেন, গ্রেফতার দুজনের সঙ্গে ওই বন্দুকধারীর বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক ছিল। অস্ট্রিয়ার সাথে সুইজারল্যান্ড এবং অন্য একটি দেশের সাথে যোগাযোগ ছিল। পুরো তদন্তকালে তিনি তাদের শনাক্ত করার বিষয়টি অস্বীকার করেন। গত মঙ্গলবার উত্তর ম্যাসেডোনিয়া জানিয়ে, তিনজন কোনো না কোনোভাবে এই হামলায় জড়িত ছিল এবং তাদের সবার অস্ট্রিয়ান ও উত্তর ম্যাসেডোনিয়ার দ্বৈত নাগরিকত্ব আছে।
নেভাদা ম্যাজিকের অপেক্ষায় যুক্তরাষ্ট্র
০৫নভেম্বর,বৃহস্পতিবার,আন্তর্জাতিক ডেস্ক,নিউজ একাত্তর ডট কম: মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের পরবর্তী প্রেসিডেন্ট কে হচ্ছেন, সেই সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত করবে নেভাদা অঙ্গরাজ্য। মাত্র ছয়টি ইলেক্টোরাল কলেজ ভোট থাকা নেভাদাই এখন দেশটির ডিসাইডিং স্টেটে এ পরিণত হয়েছে। বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) পর্যন্ত ২৬৪ ইলেক্টোরাল কলেজ ভোট নিয়ে হোয়াইট হাউজের দ্বারপ্রান্তে আছেন ডেমোক্রেট প্রার্থী জো বাইডেন। জয়ের জন্য চাই আর মাত্র ৬ ভোট। সর্বশেষ উইসকনসিন এবং মিশিগানে শুরুতে পিছিয়ে থেকেও চমক সৃষ্টি করে শেষ পর্যন্ত রাজ্য ২টি থেকে ১৬ ইলেক্টোরাল ভোট নিজের সংগ্রহে আনেন বাইডেন। অবশ্য আশা আছে দেশটির বর্তমান প্রেসিডেন্ট এবং রিপাবলিকান প্রার্থী ডোনাল্ড ট্রাম্পেরও। সেক্ষেত্রে ফলাফল প্রকাশে বাকি থাকা পাঁচটি অঙ্গরাজ্যের সবগুলোতেই জিততে হবে তাকে। এ পর্যন্ত ট্রাম্প পেয়েছেন ২১৪টি ইলেক্টোরাল ভোট। এগুলোর মধ্যে ৪টিতেই এগিয়ে আছেন ট্রাম্প। আলাস্কা, জর্জিয়া, নর্থ ক্যারোলিনা এবং পেনসিলভানিয়া। এগুলোর বেশিরভাগ ভোটই গণনা হয়ে যাওয়ায় বাইডেনের এখানে তেমন কোনো আশা নেই। আর ঠিক এখানেই গুরুত্বপূর্ণ চরিত্রে আবির্ভাব হয় নেভাদার। রাজ্যটিতে এখনও ২৫ শতাংশ ভোট গণনা বাকি আছে। উভয় প্রার্থীর ব্যবধানও খুবই কম। মাত্র ৭ হাজার ৬৪৭ ভোটে এগিয়ে আছেন বাইডেন। শতকরার হিসেবে ৪৯.৩ শতাংশ ভোট পেয়েছেন বাইডেন। আর ৪৮.৭ শতাংশ ভোট পড়েছে ট্রাম্প শিবিরে। যেভাবে বাইডেন উইসকনসিন এবং মিশিগানে শেষ মুহূর্তের জয় এনেছেন একইভাবে ট্রাম্প ও বিজয়ী হতে পারেন। আর এমনটা হলে হোয়াইট হাউজ এর ঠিক দরজার বাইরে থেকে ফিরে যেতে হবে বাইডেনকে। বাইডেন এখানকার আর ৬টি ভোট ডেমোক্রেট শিবিরে তুলতে পারলে আগামী জানুয়ারিতে নতুন প্রেসিডেন্টকে বরণ করে নেবে হোয়াইট হাউস। কাজেই পুরো বিশ্বের নজর এখন নেভাদায়।
ভিয়েনায় সন্ত্রাসী হামলার দায় স্বীকার আইএসের
০৪নভেম্বর,বুধবার,আন্তর্জাতিক ডেস্ক,নিউজ একাত্তর ডট কম: অস্ট্রিয়ার রাজধানী ভিয়েনায় সন্ত্রাসী হামলার দায় স্বীকার করেছে মধ্যপ্রাচ্যভিত্তিক জঙ্গিগোষ্ঠী ইসলামিক স্টেট (আইএস)। মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) তাদের পক্ষ থেকে দায় স্বীকার করে টেলিগ্রামে ছবিসহ একটি বিবৃতি প্রকাশ করেছে। খবর রয়টার্সের। বিবৃতিতে কোনো প্রমাণ না দিয়ে কমপক্ষে চারজনকে হত্যা এবং ২২ জনকে আহত করেছে বলে তারা দাবি করেছে। জঙ্গিগোষ্ঠী তাদের বিবৃতিতে ওই ব্যক্তিকে আবু দুজানা আল-আলবানী হিসাবে চিহ্নিত করেছে। এর আগে ভিয়েনার ছয় স্থানে রাইফেল নিয়ে একদল হামলাকারী হামলা চালায়। যেখানে এক বন্দুকধারীসহ মোট চারজন নিহত হয়। ওই হামলায় আরও বেশ কয়েকজন আহত হয়েছে বলে দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে জানানো হয়। এক বিবৃতিতে মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, গোলাগুলির ঘটনায় ১৪ জন আহত হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছেন। এদের মধ্যে ছয়জনের অবস্থা আশঙ্কাজনক। হামলার ঘটনায় এক পুলিশ কর্মকর্তাও আহত হয়েছেন। অস্ট্রিয়ায় করোনার কারণে নতুন করে দেশজুড়ে কড়াকড়ি আরোপ করার কয়েক ঘণ্টা আগেই এই হামলার ঘটনা ঘটেছে। চলতি মাসের শেষ পর্যন্ত এই কড়াকড়ি জারি থাকবে বলে জানানো হয়েছে। কড়াকড়ির আওতায় সব ধরনের বার এবং রেস্টুরেন্ট বন্ধ রাখা হবে। অস্ট্রিয়ার চ্যান্সেলর সেবাস্তিযান কার্য এই হামলাকে বিদ্বেষপূর্ণ সন্ত্রাসী হামলা বলে উল্লেখ করেছেন। এদিকে, ভিয়েনায় গোলাগুলির ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন ইউরোপীয় নেতারা। এই ভয়াবহ হামলায় গভীর শোক প্রকাশ করেছেন ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসন।
সীমান্ত উত্তেজনার মধ্যেই বৈঠকে বসতে যাচ্ছেন মোদি-শি জিনপিং
০৩নভেম্বর,মঙ্গলবার,আন্তর্জাতিক ডেস্ক,নিউজ একাত্তর ডট কম: ভারত-চীন সীমান্তে উত্তাপ কমেনি। এর মধ্যেই চলতি নভেম্বর মাসে তিনবার চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সঙ্গে ভার্চুয়াল বৈঠক করবেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। দুই দেশের মধ্যে সীমান্ত উত্তেজনা শুরুর পর এই প্রথমবার চীনের প্রেসিডেন্টের সঙ্গে বৈঠকে বসতে চলেছেন মোদি। জানা গেছে, মোদি ও শি জিনপিং দুজনই সাংহাই কোঅপারেশন অরগানাইজেশনের বৈঠকে যোগ দিতে চলেছেন। আগামী ১০ নভেম্বর হওয়ার কথা এই বৈঠক। এরপর তারা যোগ দেবেন নভেম্বরের ১৭ তারিখ হতে চলা ব্রিকস সামিটে। ২১ ও ২২ নভেম্বর জি২০ সামিটেও অংশ নেবেন তারা। ব্রিকস ও এসসিও বৈঠকের নেতৃত্ব দিতে চলেছে রাশিয়া। এই দুই সম্মেলনের আয়োজকও রাশিয়া। অন্যদিকে জি২০ সামিট আয়োজন করছে সৌদি আরব। এই প্রথম এত বড় সামিটগুলো ভার্চুয়াল পদ্ধতিতে আয়োজন করা হচ্ছে। জুন মাসের ১৫ তারিখে গালওয়ান সংঘর্ষের পর মোদি-শি জিনপিং বৈঠকের দিকে তাকিয়ে রয়েছে দুই দেশ। এই বৈঠকগুলোতে সদস্য দেশগুলোর মধ্যে অভ্যন্তরীণ সহযোগিতা ও ক্রস বর্ডার টেররিজম নিয়ে কথা হতে পারে। ভারত ও চীনের মধ্যে সীমান্ত সমস্যার প্রসঙ্গও উঠে আসতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে। এর আগে এই ধরনের বৈঠকের সাইড লাইন বৈঠকে ভারত-চীন সীমান্ত সমস্যা নিয়ে আলোচনা হয়েছে। তবে এবার ভার্চুয়াল বৈঠকের কারণে সাইডলাইন বৈঠক সম্ভব নয়। তাই সরাসরি এই বৈঠকের মূল আলোচনার অংশেই ভারত-চীন সীমান্ত সমস্যার কথা উঠে আসতে পারে বলে বিশেষজ্ঞদের ধারণা। নভেম্বরকে এমনিতেই সম্মেলনের মাস হিসেবে ধরা হয়। এই বছর নভেম্বর মাসে এসসিও, জি২০ ও ব্রিকস ছাড়াও রয়েছে আশিয়ান সামিট। আশিয়ান ভার্চুয়াল সম্মেলন হতে চলেছে ১৩ থেকে ১৫ নভেম্বর। অন্যদিকে নভেম্বরের ৩০ তারিখ এসসিও-র সদস্য দেশগুলোর প্রধানদের আলোচনা হওয়ার কথা। আসিয়ানের আয়োজক দেশ ভিয়েতনাম। এসসিও প্রধানদের বৈঠক আয়োজন করছে নয়া দিল্লি। প্রোটোকল মেনে পাকিস্তান ও চীনকেও এই বৈঠকে আমন্ত্রণ জানাতে হবে। এসসিও সদস্যদেশগুলো হল ভারত, রাশিয়া, চীন, পাকিস্তান, কাজাখস্তান, কিরঘিজস্তান, তাজিকিস্তান, উজবেকিস্তান। তথ্যসূত্র: কলকাতা২৪
তুরস্ক-গ্রিসে শক্তিশালী ভূমিকম্প: নিহত বেড়ে ২৬
০২নভেম্বর,সোমবার,আন্তর্জাতিক ডেস্ক,নিউজ একাত্তর ডট কম: তুরস্ক ও গ্রিসে শক্তিশালী ভূমিকম্পে নিহত মানুষের সংখ্যা বেড়ে ২৬ এ পৌঁছেছে। এরমধ্যে তুরস্কেরই ২০ জনের মতো। এছাড়া ধসে পড়া ভবনগুলোর ধ্বংসস্তূপে উদ্ধারকাজ চালাচ্ছেন উদ্ধারকর্মীরা। এএফপি বলছে, ভূমিকম্পের কারণে উপকূলে আছড়ে পড়েছে ঢেউ। বেশকিছু এলাকা প্লাবিত হয়েছে। সামোস দ্বীপতীরবর্তী অ্যাজিয়ান সাগরে ছোট আকারে সুনামি সৃষ্টি হয়েছে। সাগরে জলোচ্ছ্বাসের কারণে তুরস্কের পশ্চিম উপকূলের একটি শহরে রাস্তাগুলো নদীতে পরিণত হয়েছে। ভূমিকম্পে বহু ঘরবাড়ি ভেঙে পড়েছে। চাপা পড়েছে বহু গাড়ি। প্লাবিত হয়েছে সমুদ্র উপকূলীয় অঞ্চল। ধ্বংসস্তূপের নিচে আরও মরদেহ থাকতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তুরস্ক জানিয়েছে, ১৭টি বিধ্বস্ত ভবনে উদ্ধার অভিযান চালানো হচ্ছে। এখন পর্যন্ত ৭০ জনের বেশি মানুষকে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে। এখন পর্যন্ত ১৯৬টি ভূমিকম্প পরবর্তী কম্পন অনুভূত হয়েছে। এর মধ্যে ২৩টির মাত্রা ছিল রিখটার স্কেলে ৪ এর উপরে। যুক্তরাষ্ট্রের ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা (ইউএসজিএস) বলছে, ভূমিকম্পের মাত্রা ছিল রিখটার স্কেলে ৭। তবে তুরস্কের দুর্যোগ ও জরুরি ব্যবস্থাপনা সংস্থা (এএফএডি) বলছে, গ্রিনিচ সময় ১১টা ৫০ মিনিটে (বাংলাদেশ সময় সন্ধ্যা ৬টা ৫০ মিনিট) আঘাত হানা ভূমিকম্পটির মাত্রা ছিল রিখটার স্কেলে ৬ দশমিক ৬। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে পোস্ট করা ভিডিওগুলোতে দেখা যাচ্ছে, পানির তোড়ে রাস্তা দিয়ে বিভিন্ন আসবাবপত্র ভেসে যাচ্ছে। এমনকি গাড়িও ভেসে যেতে দেখা যাচ্ছে। অপরদিকে গ্রিসের স্যামোস দ্বীপে অন্তত ৪৫ হাজার মানুষের বাস। তাদের সমুদ্র উপকূল থেকে দূরে থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। ইউএসজিএস বলছে, ভূমিকম্পটির কেন্দ্রস্থল ছিল তুরস্কের ইজমির প্রদেশ। এটি এথেন্স এবং ইস্তাম্বুলেও অনুভূত হয়। তুরস্ক অন্যতম ভূমিকম্পপ্রবণ একটি দেশ। ১৯৯৯ সালের আগস্টে সেখানে ৭ দশমিক ৬ মাত্রার ভূমিকম্পে ইজমিত শহরে ১৭ হাজার মানুষ মারা যান। ২০১১ সালের ভূমিকম্পে ভ্যান শহরে মারা যান কমপক্ষে ৫০০ মানুষ।
লকডাউন জারি করছে ইংল্যান্ড
৩১অক্টোবর,শনিবার,আন্তর্জাতিক ডেস্ক,নিউজ একাত্তর ডট কম: পুরো ইংল্যান্ডে এক মাসের লকডাউন জারি করতে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসন। এই লকডাউন ক্রিসমাসের আগেই শেষ হবে বলে আশা প্রকাশ করা হয়েছে। সোমবার নতুন করে স্টে অ্যাট হোম অর্ডার ঘোষণা হতে পারে। নতুন বিধি-নিষেধের আওতায় সব স্কুল, কলেজ এবং বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ ঘোষণা করা হবে। খবর বিবিসির। ইউরোপজুড়ে করোনার দ্বিতীয় ঢেউ শুরু হয়েছে। ফলে অনেক দেশই ইতোমধ্যেই কড়াকড়ি ও লকডাউন জারি করেছে। সাম্প্রতিক সময়ে ইউরোপের অন্যান্য দেশের তুলনায় যুক্তরাজ্যে করোনা সংক্রমণে মৃত্যুর সংখ্যা সবচেয়ে বেশি লক্ষ্য করা গেছে। দেশটিতে সংক্রমণও দ্রুত গতিতে বাড়তে শুরু করেছে। ফলে নতুন করে কড়াকড়ি আরোপ করতে বাধ্য হচ্ছে প্রশাসন। সাম্প্রতিক সময়ে সতর্ক করা হয়েছে যে, দেশটিতে করোনা সংক্রমণে দৈনিক মৃত্যু ৪ হাজারে পৌঁছাতে পারে। মাত্র দুদিন আগেই বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন যে, ইংল্যান্ডে প্রতিদিন প্রায় এক লাখ মানুষ করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হচ্ছে। সাম্প্রতিক এক বিশ্লেষণ থেকে এ তথ্য উঠে এসেছে। লন্ডনের ইম্পেরিয়াল কলেজের এক বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, মহামারির গতি ত্বরান্বিত হচ্ছে এবং প্রতি ৯ দিনে সংক্রমিত রোগীর সংখ্যা দ্বিগুণ হচ্ছে। গবেষকরা বলছেন, আমরা একটি জটিল অবস্থার মধ্যে আছি। বেশ কিছু জিনিস পরিবর্তন করা প্রয়োজন বলেও উল্লেখ করেন তারা। পুরো ইউরোপজুড়েই করোনার দ্বিতীয় ঢেউ শুরু হয়েছে। বেশিরভাগ দেশেই সংক্রমণ ও মৃত্যু দ্রুত গতিতে বাড়তে দেখা গেছে। তবে ইংল্যান্ডে পরবর্তীতে কি পদক্ষেপ নেওয়া হবে সে বিষয়ে মন্ত্রিপরিষদের সব সদস্যদের নিয়ে এখনও কোনো আলোচনা হয়নি এবং এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তও হয়নি। তবে করোনা নিয়ন্ত্রণে প্রধানমন্ত্রী জনসন কঠোর পদক্ষেপ নিতে যাচ্ছেন বলেই ধারণা করা হচ্ছে। ব্রিটেনে শীতকালীন সময়ে করোনায় প্রায় ৮৫ হাজার মানুষের মৃত্যু হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। সংক্রমণ বৃদ্ধি পাওয়ায় শুধু ইংল্যান্ডই নয়, এর মধ্যেই জার্মানি, ফ্রান্স, বেলজিয়ামের মতো দেশগুলোও দ্বিতীয় দফায় লকডাউনে ফিরেছে। গত ৩১ ডিসেম্বর চীনের হুবেই প্রদেশে প্রথম করোনা সংক্রমণ ধরা পড়ে। তারপর থেকে এখন পর্যন্ত বিশ্বের দুই শতাধিক দেশ ও অঞ্চলে এই ভাইরাস ছড়িয়ে পড়েছে। তবে এখন পর্যন্ত করোনা সংক্রমণ ও মৃত্যুতে শীর্ষ অবস্থানে রয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। এই তালিকায় ৯ম স্থানে রয়েছে যুক্তরাজ্য। ওয়ার্ল্ডোমিটারের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, যুক্তরাজ্যে এখন পর্যন্ত করোনায় আক্রান্তের সংখ্যা ৯ লাখ ৮৯ হাজার ৭৪৫। এর মধ্যে মারা গেছে ৪৬ হাজার ২২৯ জন।
ইউরোপগামী নৌকাডুবে ১৪০ অভিবাসীর মৃত্যু
৩০অক্টোবর,শুক্রবার,আন্তর্জাতিক ডেস্ক,নিউজ একাত্তর ডট কম: ইউরোপগামী একটি নৌকাডুবিতে অন্তত ১৪০ জন অভিবাসীর মৃত্যু হয়েছে। নৌকায় প্রায় ২০০ অভিবাসী ছিলেন। খবর বিবিসির। জাতিসংঘের অভিবাসীবিষয়ক সংস্থা আইওএম জানিয়েছে, শনিবার সেনেগাল উপকূলের বৌর শহর ছেড়ে যাওয়ার পর নৌকাটিতে আগুন ধরে এবং পরে তা ডুবে যায়। নৌকাডুবির ঘটনায় প্রায় ৬০ জনকে উদ্ধার করা হয়েছে। ধারণা করা হচ্ছে, অভিবাসীদের নিয়ে নৌকাটি স্পেনের ক্যানারি আইল্যান্ড হয়ে ইউরোপে পৌঁছানোর লক্ষ্য নিয়ে যাত্রা শুরু করেছিল। এই রুট ২০১৮ সাল থেকে পশ্চিম আফ্রিকা থেকে ইউরোপ পৌঁছার জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে। জাতিসংঘ জানিয়েছে, এটি ২০২০ সালে নৌকাডুবিতে অভিবাসীদের মৃত্যুর সবচেয়ে ভয়াবহ ঘটনা। স্পেন সরকারের তথ্য মতে, এই বছর ক্যানারি আইল্যান্ডে পৌঁছেছেন ১১ হাজারের বেশি অভিবাসী। গত বছরের তুলনায় এই সংখ্যা ছিল ২ হাজার ৫৫৭ জন।
যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘন করে আজারবাইজানে আর্মেনিয়ার হামলা, নিহত ২১
২৯অক্টোবর,বৃহস্পতিবার,আন্তর্জাতিক ডেস্ক,নিউজ একাত্তর ডট কম: বিতর্কিত নার্গোনো-কারাবাখ অঞ্চলকে কেন্দ্র করে আর্মেনীয় বাহিনীর হামলায় নতুন করে আজারবাইজানের ২১ বেসামরিক নিহত হয়েছেন। বুধবার ২৮ অক্টোবর আর্মেনীয় বাহিনী বেশ কয়েকটি ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে বলেও দাবি পাশ্ববর্তী দেশ আজারবাইজানের। বুধবারের হামলার ঘটনায় তাৎক্ষণিকভাবে অস্বীকার করেছে আর্মেনীয় প্রশাসন। বাকুর পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, বার্দা জেলার সীমান্তের কাছাকাছি ক্ষেপণাস্ত্র ছুঁড়লে হতাহতের ঘটনা ঘটে। এ নিয়ে তৃতীয়বারের মতো যুদ্ধবিরতি ভঙ্গ করলো দুদেশ। যদিও উল্টো বাকুর বিরুদ্ধে হামলার অভিযোগ তুলেছে ইয়েরেভান। বলছে, নার্গোনো-কারাবাখে আজারবাইজানের নতুন করে ধ্বংসাত্মক হামলায় বেসামরিক নাগরিক প্রাণ হারাচ্ছেন। প্রসিকিউটর জেনারেলের অফিস বলেছে, জনবহুল অঞ্চল এবং একটি শপিং-এ আঘাত হানলে ২১ বেসামরিক নাগরিক নিহত এবং কমপক্ষে ৭০ জন আহত হন। এদিকে, আর্মেনীয় প্রধানমন্ত্রীর বরাতে রিয়া নোভোস্তি গণমাধ্যম জানায়, নার্গোনো-কারাবাখের আর্মেনিয়ার সীমান্তে রুশ বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে। 'তুরস্ক, ইরানের পাশাপাশি আর্মেনিয়ার দক্ষিণ পূর্বাঞ্চল এবং দক্ষিণ পশ্চিমাঞ্চলীয় সীমান্তে রুশ বাহিনী মোতায়েন থাকবে'। ১৯৯১ সালে আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত আজারবাইজানের ভূখণ্ড নার্গোনো-কারাবাখ দখল করে নেয়া আর্মেনিয়া। তারপর থেকে সাবেক সোভিয়েত ইউনিয়নভুক্ত দেশ দুটির মধ্যে উত্তেজনা চলছে। গেলো ৩০ বছর ধরে আজারবাইজানের ২০ শতাংশ ভূখণ্ড অবৈধভাবে দখল করে রেখেছে আর্মেনিয়া। ১৯৯২ সালে সংকটের শান্তিপূর্ণ সমাধানের জন্য ফ্রান্স, রাশিয়া এবং যুক্তরাষ্ট্রের সমন্বয়ে ওএসসিই মিনস্ক গ্রুপ গঠন করা হয়। ১৯৯৪ সালে যুদ্ধবিরতির একটি চুক্তিতে একমত হয় আজারবাইজান-আর্মেনিয়া। কিন্তু সংকটের কোনো সমাধান হয়নি। জাতিসংঘের বেশ কয়েকটি প্রস্তাবনা এবং অনেক আন্তর্জাতিক সংস্থা আজারবাইজানের ভূখণ্ড ছেড়ে দেয়ার জন্য আর্মেনিয়ার প্রতি আহ্বান জানালেও তাতে সাড়া দেয়নি ইয়েরেভান। আজারবাইজানের আত্মরক্ষা এবং নার্গোনো কারাবাখ থেকে আর্মেনিয়ার উচ্ছেদ দাবি করে বাকুকে সমর্থন দিয়ে যাচ্ছে তুরস্ক। রাশিয়া, ফ্রান্স, যুক্তরাষ্ট্রসহ বিশ্বশক্তিগুলো যুদ্ধবিরতির আহ্বান জানিয়েছে।
বাংলাদেশি কর্মীদের হতাশ করা উচিত নয় ইউরোপের
২৮,অক্টোবর,বুধবার,আন্তর্জাতিক ডেস্ক,নিউজ একাত্তর ডট কম: চলতি বছর করোনাভাইরাস মহামারির কারণে বড় ধাক্কা খেয়েছে বিশ্ব অর্থনীতি। উন্নত দেশগুলোই যখন এই সংকট মোকাবিলায় হিমশিম খাচ্ছে, সেখানে বাংলাদেশের মতো উন্নয়নশীল দেশের অবস্থা আরও শোচনীয় হওয়ার কথা। তবে সরকারের দৃঢ় পদক্ষেপ ও তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেয়ায় ক্ষয়ক্ষতি যতটা মারাত্মক হওয়ার শঙ্কা ছিল, ততটা হয়নি। এ নিয়ে আবারও বিশ্ব মিডিয়ায় আলোড়ন তুলেছে বাংলাদেশ। খ্যাতনামা অনেকের মুখেই ফুটছে প্রশংসা ফুলঝুরি। সম্প্রতি ইউরোপীয় পার্লামেন্টের কর্মসংস্থান ও সমাজ বিষয়ক কমিটির ভাইস চেয়ারম্যান টমাস জেকোভস্কি বাংলাদেশের অর্থনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে সুদীর্ঘ একটি কলাম লিখেছেন। গত ২৭ অক্টোবর ইউরোপের প্রভাবশালী দ্য পার্লামেন্ট ম্যাগাজিনে প্রকাশিত লেখাটির সারমর্ম তুলে ধরা হলো জাগো নিউজের পাঠকদের জন্য- বিশ্ব অর্থনীতিতে চরম আঘাত হেনেছে করোনাভাইরাস মহামারি। এর দ্বিতীয় ঢেউ অনেক দেশেই নিষেধাজ্ঞা ফিরিয়ে এনেছে। ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ) এর সদস্য দেশগুলোর পুনর্গঠনে ৭৫০ বিলিয়ন ইউরো দিতে রাজি হয়েছে, এর মধ্যে ৩৯০ বিলিয়নই অনুদান। অন্য দেশগুলোকেও তাদের অপেক্ষাকৃত ছোট অর্থনীতি পুনরুদ্ধারে পুঁজির সর্বোচ্চ সংস্থান করতে হয়েছে। এটি বিশেষ করে উন্নয়নশীল দেশগুলোর জন্য চরম সত্য। বৃহৎ বাজারে সীমিত অথবা শূন্য যোগসূত্র থাকায় তারা নাগরিকদের জন্য স্থায়ী উদ্ধার কর্মসূচির প্রয়োজনীয় অর্থ ধার করতে অক্ষম। এর প্রভাব পড়েছে লাখ লাখ মানুষের জীবনে। বাংলাদেশ তেমনই একটি দেশ। যদিও তারা সামান্য উন্নত দেশগুলোর একটি হওয়ার চেয়েও বেশি কিছু। বাংলাদেশের বেশিরভাগই সফল উন্নয়নের গল্প। আমরা ৫০ বছরেরও কম সময়ে দেশটিতে একইসঙ্গে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি এবং গণতন্ত্র সুসংহতকরণে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি লক্ষ্য করেছি। এক্ষেত্রে ধন্যবাদ দিতে হয় ইইউ ও বাংলাদেশের মধ্যে অস্ত্র ছাড়া বাকি সব বাণিজ্য উন্মুক্তকরণকে। বাংলাদেশ ইউরোপীয় ইউনিয়নের অন্যতম বৃহৎ বাণিজ্যিক অংশীদার হয়ে উঠেছে। বাংলাদেশের পোশাক শিল্প হচ্ছে এর অর্থনীতির মেরুদণ্ড। ৪৫ লাখ কর্মী নিয়োগ ও রপ্তানির ৮০ ভাগ দখল করে এটি দেশটির এক নম্বর শিল্পে পরিণত হয়েছে। এটিই বাংলাদেশকে বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম পোশাক প্রস্তুতকারক দেশে পরিণত করেছে। এদিক থেকে তারা একমাত্র চীনের পেছনে রয়েছে। অনেক নামী-দামী পশ্চিমা ব্র্যান্ডই বাংলাদেশে নিজদের পণ্য উৎপাদন করছে। পোশাক শিল্প বাংলাদেশের জিডিপির যেমন গুরুত্বপূর্ণ অংশ, তেমনি দেশটি সম্পর্কে আন্তর্জাতিক সংবাদেরও রূপ দিচ্ছে। এ কারণেই ইইউতে এখনও অনেকে বাংলাদেশের পোশাক শিল্পকে নারীদের শোষণ এবং ২০১২ ও ২০১৩ সালে দুটি পোশাক কারখানায় ধ্বংসাত্মক ঘটনার সঙ্গে যুক্ত করে। যদিও তা ভুল। গত সাত বছরে অনেক কিছুই বদলে গেছে। ট্রেড ইউনিয়ন প্রতিষ্ঠিত হয়েছে, শ্রমিকরা আইনিভাবে ন্যূনতম মজুরির পাশাপাশি অন্য সুবিধা পাচ্ছেন। কারখানার নিরাপত্তা উল্লেখযোগ্যভাবে উন্নত হয়েছে। এর জন্য ভবনের পাশাপাশি কাপড় নিরীক্ষা বাধ্যতামূলক করার নিয়মকে ধন্যবাদ দিতে হয়। তবে করোনাভাইরাস মহামারি প্রকাশ করে দিয়েছে যে, কোনও দেশ মাত্র একটি শিল্পের ওপর নির্ভরশীল হলে তা বোঝায় পরিণত হতে পারে। উল্লেখযোগ্যভাবে চাহিদা কম থাকায় পশ্চিমা বহুজাতিক প্রতিষ্ঠানগুলো অর্ডার বাতিল করতে শুরু করেছে। কেউ কেউ নির্ধারিত উৎপাদন ব্যয় না দিয়েই সরে গেছে বলে খবর রয়েছে। দীর্ঘদিনের ব্যবসায়িক অংশীদাররা মুখ ফিরিয়ে নিয়েছে। শ্রমিকদের বেতন পরিশোধ নিশ্চিত করতে বাংলাদেশ সরকার তৈরি পোশাক কারখানাগুলোর (আরএমজি) জন্য পাঁচ হাজার কোটি টাকার একটি প্রণোদনা প্যাকেজ সরবরাহ করেছে। সরকারের এই সমর্থন আরএমজি খাতকে তাদের কর্মীদের নিয়োজিত রাখতে সহায়তা করেছে। তারপরও, ক্রেতারা যখন দৃষ্টিভঙ্গি পরিবর্তন না করেন, তীব্র সংকটের মুখোমুখি হয়ে হাজার হাজার শ্রমিক বিনা বেতনেই বাড়ি ফিরে যাওয়ার হুমকিতে পড়েন। ইউরোপীয় ইউনিয়নভিত্তিক সংস্থাসহ অনেক বহুজাতিক প্রতিষ্ঠান ফোর্স ম্যাজিউর ধারা চালু করে অর্ডারের জন্য অর্থ দেয়ার দায়িত্ব এড়িয়ে গেছে। তাদের যুক্তি, কোভিড-১৯ উত্থানের ফলে তারা চুক্তিভিত্তিক বাধ্যবাধকতা পালন থেকে অব্যাহতি পেয়েছে। এই অজুহাত অবশ্যই গ্রহণযোগ্য নয়। এটি শুধু ইউরোপীয় ব্যবসায়িক নীতির খারাপ চিত্রই তুলে ধরছে না, বরং পুরো সরবরাহ ব্যবস্থা ঝুঁকিতে ফেলেছে। বাংলাদেশের শ্রমিকরা যে কাজ করেছে, তার জন্য বেতন পাওয়ার অধিকার রয়েছে তাদের। সুতরাং, বহুজাতিক প্রতিষ্ঠানগুলো চুক্তি মেনে চলা এবং ইতোমধ্যে উৎপাদিত পণ্যের অর্থ প্রদান করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ইইউ বাজার উন্মুক্ত করে বাংলাদেশের ভবিষ্যতকে রূপ দিয়েছে। এখন এই বাজারে পরিচালিত প্রতিষ্ঠানগুলো নিয়ম মেনে চলবে তা নিশ্চিত করার সময় এসেছে। যদিও ইইউতে অনেক প্রতিষ্ঠানই স্বেচ্ছায় মানবাধিকার ও পরিবেশগত ঝুঁকির সঙ্গে যুক্ত তাদের কার্যক্রম প্রকাশ করেছে, তবে এখনও একটি বিস্তৃত এবং সুসংহত পদ্ধতি অনুপস্থিত। প্রতিষ্ঠানগুলোর জবাবদিহিতা এবং কার্যকলাপ বৃদ্ধিতে ইউরোপীয় ইউনিয়নকে সুনির্দিষ্ট সাধারণ নীতিমালা প্রস্তাব করা প্রয়োজন। এছাড়া সম্প্রদায়, ভোক্তা, বিনিয়োগকারী, সংস্থা এবং বিশেষত যারা সবচেয়ে বেশি দুর্বল, সেই শ্রমিকদের সুরক্ষায় স্বচ্ছতা প্রতিষ্ঠা প্রয়োজন। সুতরাং আসুন, আমরা তাদের ত্যাগ না করি; তারা ন্যায্য শর্তের ওপর নির্ভর করতে পারে তা নিশ্চিত করতে আমাদের সংহতি দেখাই।

আন্তর্জাতিক পাতার আরো খবর