রবিবার, নভেম্বর ১৮, ২০১৮
সিরিয়ার হামলায় রাসায়নিক অস্ত্রের সরঞ্জাম দিয়েছে উ. কোরিয়া
উত্তর কোরিয়া সিরিয়া সরকারকে রাসায়নিক অস্ত্র তৈরির উপকরণ সরবরাহ করছে বলে দাবি উঠেছে। জাতিসংঘ বিশেষজ্ঞদের তৈরি একটি প্রতিবেদনের বরাতে এমন খবর দিয়েছে মার্কিনসহ কয়েকটি আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম। নিউইয়র্ক টাইমসের প্রতিবেদন অনুযায়ী, উত্তর কোরিয়া থেকে সিরিয়ায় সরবরাহ করা উপকরণগুলোর মধ্যে রয়েছে, এসিড রেসিসট্যন্ট টাইলস, ভালভস এবং থার্মোমিটার। খবর এবিসি নিউজ। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, পিয়ংইয়ংয়ের ক্ষেপণাস্ত্র বিশেষজ্ঞদেরও সিরিয়ার অস্ত্র তৈরির কারখানাগুলোতে দেখা গেছে। জাতিসংঘ মহাসচিব অ্যান্তনিও গুতিয়েরেজ উত্তর কোরিয়া এবং সিরিয়াকে সতর্ক করেছেন যে, রাসায়নিক অস্ত্র তৈরি, এর ব্যবহার এবং উত্তর কোরিয়ার বিরুদ্ধে আরোপিত নিষেধাজ্ঞা সব দেশেরই মেনে চলা উচিৎ। সম্প্রতি সিরিয়ার ঘৌটায় বিষাক্ত ক্লোরিন গ্যাস ব্যবহারের অভিযোগ উঠেছে সিরীয় বাহিনীর বিরুদ্ধে। যদিও এমন অভিযোগ অস্বীকার করে আসছে আসাদ সরকার। সিরিয়ার বিরোধীদলীয় অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে বলেছে, বেশ কয়েকজনকে পার্শ্ববর্তী আল-শিফোনিয়ায় চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে। আহতদের শ্বাসনালীতে যন্ত্রণা, প্রদাহ, চোখ জালা-পোড়া ও মাথা ঘোরার লক্ষণ পাওয়া গেছে। বিদ্রোহীদের হাত থেকে পূর্ব ঘৌটার নিয়ন্ত্রণ নিতে সিরিয়ার সরকারি প্রেসিডেন্ট বাশার আল-আসাদ বাহিনী একাধিক ফ্রন্ট থেকে হামলা চালিয়ে আসছে। গত এক সপ্তাহে পূর্ব ঘৌটায় সরকারি বাহিনীর হামলায় নারী শিশুসহ পাঁচ শতাধিক মানুষের প্রাণহানি ঘটেছে। জাতিসংঘের নিষেধাজ্ঞার পরেও একের পর এক পারমাণবিক অস্ত্রের পরীক্ষা চালিয়ে যাচ্ছে উত্তর কোরিয়া।
মানবিক যুদ্ধ বিরতি ঘোষণা পুতিনের
সিরিয়ার গৌতায় মানবিক যুদ্ধ বিরতির ঘোষণা দিয়েছেন রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন। এর আগে, শনিবার ত্রাণ ও চিকিৎসাসেবা পৌঁছানোর লক্ষ্যে সিরিয়ার গৌতায় ৩০ দিনের যুদ্ধবিরতি ঘোষণা দিয়েছে জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদ। বিভিন্ন পর্যবেক্ষক সংস্থা দাবি করেছে, গত এক সপ্তাহে ওই অঞ্চলে ৫৪০ জন মারা গেছে। জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের যুদ্ধবিরতির সিদ্ধান্তের কয়েক ঘন্টা পরই বিদ্রোহী অধ্যূষিত এলাকায় আক্রমণ চালায় সিরিয় বাহিনী। রবিবার বিদ্রোহী বাহিনীর পক্ষ থেকে জানানো হয়, পূর্ব গৌতার নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার লক্ষ্যে সিরীয় সেনাবাহিনী বিদ্রোহীদের বিরুদ্ধে লড়াই চালিয়ে যাচ্ছে। এদিকে, ত্রাণ সংস্থা 'সিরিয়ান আমেরিকান মেডিক্যাল সোসাইটি' জানায়, তাদের একটি হাসপাতালে আসা রোগীদের উপসর্গ দেখে ধারণা করা হচ্ছে, এখানে রাসায়নিক অস্ত্র ব্যবহার করা হয়েছে।
শি জিনপিং-এর প্রভাব ও ক্ষমতা বৃদ্ধি হতে চলেছে
প্রেসিডেন্ট ও ভাইস প্রেসিডেন্টের দুই দফা মেয়াদ বিষয়ক আইনে পরিবর্তন আনতে চলেছে চীন। স্থানীয় সময় রোববার ক্ষমতাসীন কমিউনিস্ট পার্টির সেন্ট্রাল কমিটি এই পরিবর্তন আনার প্রস্তাব উত্থাপন করেছে। ধারণা করা হচ্ছে, এতে করে দেশটির বর্তমান প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং-এর প্রভাব ও ক্ষমতা বৃদ্ধি হতে চলেছে। প্রসঙ্গত, চীনের বর্তমান আইন অনুযায়ী কোনো ব্যক্তি দুই দফার বেশি প্রেসিডেন্ট বা ভাইস প্রেসিডেন্টের দায়িত্ব পালন করতে পারবেন না। চীনের রাষ্ট্র পরিচালিত বার্তা সংস্থা সিনহুয়া এক সংক্ষিপ্ত বিবৃতিতে জানিয়েছে, সেন্ট্রাল কমিটি দেশটির সংবিধান থেকে প্রেসিডেন্ট ও ভাইস প্রেসিডেন্ট সর্বোচ্চ পরপর দুই দফা দায়িত্ব পালন করতে পারবে- এই বিধান অপসারণের প্রস্তাব উত্থাপন করেছেন। প্রস্তাবটি রোববার জনসাধারণের জন্য প্রকাশ করা হয়েছে। শি জিনপিং গত বছর দ্বিতীয় দফায় পাঁচ বছরের জন্য চীনের প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হয়েছেন। বর্তমান আইন অনুযায়ী, ২০২২ সাল পর্যন্ত দেশটির প্রেসিডেন্টের দায়িত্ব পালন করবেন। এরপর আর প্রেসিডেন্ট পদে নির্বাচন করতে পারবেন না তিনি। তবে অনেক বিশ্লেষকের ধারণা, এতে তুষ্ট নন শি জিনপিং। তিনি আরো বেশিদিন ক্ষমতায় আসীন থাকতে চান। তার দলের সেন্ট্রাল কমিটি কর্তৃক প্রস্তাবিত আইন পাস হলে চলতি মেয়াদ শেষ হওয়ার পর ২০২২ সালেও প্রেসিডেন্ট পদে নির্বাচনে লড়তে পারবেন শি জিনপিং। কমিউনিস্ট পার্টির সেন্ট্রাল কমিটির প্রধান শি, শনিবার সংবিধানের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিয়ে কথা বলেছেন। ওইদিন এক সেন্ট্রাল কমিটি পলিট ব্যুরো বৈঠকে তিনি বলেন, কোনো সংস্থা বা ব্যক্তিরই সংবিধানের আইন লঙ্ঘনের ক্ষমতা নেই। গত মাসে সেন্ট্রাল কমিটির এক পূর্ণাঙ্গ অধিবেশনে দলের নেতারা শির নির্দেশনামূলক নীতিমালা সংবিধানের অন্তর্ভুক্ত করার পরিকল্পনা করেন। তাদের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, মার্চ মাসে অনুষ্ঠেয় ন্যাশনাল পিপলস কংগ্রেস-এ এই পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা হবে। নতুন যুগের জন্য চীনা বৈশিষ্ট্যের সঙ্গে সমাজতন্ত্রের সমপর্ক নিয়ে শি জিনপিংয়ের ভাবনা শীর্ষক শির নীতিমালা গত বছর কমিউনিস্ট পার্টির সংবিধানে যোগ করা হয়।
ইংল্যান্ডে বিস্ফোরণে আহত ৬
ইংল্যান্ডের লিসেস্টারে বিস্ফোরণে আহত হয়েছেন ৬ জন। এর মধ্যে দুজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক। ওই বিস্ফোরণে একটি দোকান ও ওই দোকানের ওপরে একটি ফ্লাটের ভয়াবহ ক্ষতি হয়েছে। পুলিশ এটাকে মেজর ইনসিডেন্ট বা বড় ধরনের বিস্ফোরণ ঘোষণা করেছে। স্থানীয় অধিবাসীরা বলেছেন, তারা বিস্ফোরণে শব্দ শুনতে পেয়েছেন। তবে তা অতোটা তীব্র ছিল না। কিন্তু তাদের বাড়িঘর কেঁপে ওঠে এতে। রোববার স্থানীয় সময় সন্ধ্যা ৭টায় এ বিস্ফোরণ ঘটে। এরপর ৬টি অগ্নিনির্বাপক ইঞ্জিন পাঠানো হয় ঘটনাস্থলে। এরপরেই ৬০টি বাড়ি থেকে লোকজনকে উদ্ধার করেছে পুলিশ। ঘেরাও করে রেখেছে কারলিসলে স্ট্রিট ও হিঙ্কলে রোডের একাংশ। আহত ব্যক্তিদেরকে নেয়া হয়েছে লিসেস্টার রয়েল ইনফারমারিতে। তবে এ বিস্ফোরণ কোনো সন্ত্রাসী কর্মকান্ড এমন কোনো ইঙ্গিত পায় নি পুলিশ। তারা লোকজনকে ঘটনাস্থল থেকে দূরে থাকার পরামর্শ দিয়েছে। এ খবর দিয়েছে অনলাইন দ্য ইন্ডিপেন্ডেন্ট।
পাপুয়া নিউ গিনিতে শক্তিশালী ভূমিকম্প
পাপুয়া নিউ গিনির দক্ষিণাঞ্চলীয় পার্বত্য প্রদেশে ৭.৫ মাত্রার শক্তিশালী একটি ভূমিকম্প হয়েছে। সোমবার ভোরে পার্বত্য প্রদেশের দক্ষিণ-পশ্চিমে পোরগেরা থেকে ৮৯ কিলোমিটার, প্রায় ৫৫ মাইল দূরে প্রচণ্ড ভূকম্পে অঞ্চলটি কেঁপে ওঠে। খবর প্রকাশ করেছে এবিসি ও সিবিএস নিউজ। খবরে বলা হয়েছে, ভূমিকম্পে তাৎক্ষণিক-ভাবে কোন হতাহতের খবর এখনো পাওয়া যায়নি। ৭ দশমিক ৫ মাত্রার এ ভূমিকম্পে ক্ষয়ক্ষতির বিষয় সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা আরো বেশি খবর নেয়ার চেষ্টা করছেন। স্থানীয় সময় সোমবার ভোর ৩টা ৪৫ মিনিটে রাজধানী পোর্ট মোরসবি থেকে প্রায় ৫৬০ কিলোমিটার দূরে পাপুয়া নিউ গিনির প্রধান দ্বীপের কেন্দ্রস্থলের কাছে ভূপৃষ্ঠের ৩৫ কিলোমিটার গভীরে ভূমিকম্পটির উৎপত্তি। রাজধানী পোর্ট মোরেস্বিতে জিওফিজিক্যাল অবজারভেটরির ভূকম্পনবিদ ফেলিক্স তারানু জানান, প্রায় ১৬৮ কিলোমিটার দূরে মাউন্ট হেগানেও শক্তিশালী ভূমিকম্প অনুভূত হয়। পাপুয়া নিউ গিনি সরকারের ভূতত্ত্ব ব্যবস্থাপনা দপ্তরের ভারপ্রাপ্ত পরিচালক ক্রিস ম্যাকি বলেন, ভূকম্প সংগঠিক এলাকায় প্রায় ১০ হাজারের বেশি মানুষের বসবাস। তিনি আরো বলেন, বেশ কয়েকটি প্রতিবেদনে ভূমিকম্পের আভাস ভালমতো পাওয়ার পর ঐ অঞ্চল থেকে অনেককে সরিয়ে নেয়া হয়েছে। প্রদেশটি খনিজ তেল ও প্রাকৃতিক গ্যাস সমৃদ্ধ। পোরগেরা একটি বৃহৎ স্বর্ণখনি বেষ্টিত এলাকা, যেখানে ২৫০০ স্থানীয় মানুষ কাজ করে।
সিরিয়ায় সরকারি বাহিনীর হামলায় এক সপ্তাহে পাঁচ শতাধিক বেসামরিক নিহত
সিরিয়ায় বিদ্রোহী নিয়ন্ত্রিত এলাকায় সরকারি বাহিনীর বিমান হামলায় ৫ শতাধিক বেসামরিক নাগরিক নিহত হয়েছে। এদের মধ্যে ১২১ জন শিশু। যুক্তরাজ্য ভিত্তিক মানবাধিকার সংগঠন সিরিয়ান অবজারভেটরি ফর হিউম্যান রাইটস এই তথ্য জানিয়েছে। এদিকে সিরিয়ায় পৌছেছে রাশিয়ার অত্যাধুনিক যুদ্ধবিমান। খবর বিবিসি ও সিএনএনের গত রবিবার থেকে রাশিয়ার সহযোগিতায় সরকারি বাহিনী বিদ্রোহী এলাকা হিসেবে পরিচিত পূর্ব ঘৌতায় বিমান হামলা চালাচ্ছে। জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদ যুদ্ধবিরতির চেষ্টা চালালেও সম্ভব হয়নি। তবে গতকাল শনিবারও পরিষদের বৈঠকে বসার কথা ছিল। মানবাধিকার সংস্থাটি জানিয়েছে, শনিবারের হামলায় নিহত হয়েছে ২৯ বেসামরিক নাগরিক। প্রধান শহর ডৌমাতেই নিহত হয়েছে ১৭ জন। এ নিয়ে গত এক সপ্তাহে ৫শতাধিক বেসামরিক নাগরিক নিহত হলো। মার্কিন কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, সিরিয়ায় রাশিয়া অত্যাধুনিক যুদ্ধবিমান এসইউ-৫৭ পাঠিয়েছে। এটা মস্কোর সবচেয়ে জটিল প্রকৃতির যুদ্ধবিমান। মার্কিন কর্মকর্তারা আশংকা করছেন, সিরিয়ার অভ্যন্তরে থাকা মার্কিন বাহিনীর জন্য এটা আতংকের হতে পারে।
উ.কোরিয়ার বিরুদ্ধে এ যাবতকালের সবচেয়ে কঠোর অবরোধের ঘোষণা ট্রাম্পের
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প উত্তর কোরিয়ার শিপিং সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন সম্পদের বিরুদ্ধে নতুন করে কঠোর অবরোধ আরোপের ঘোষণা দিয়েছেন। তিনি একে পিয়ংইয়ং সরকারের বিরুদ্ধে এ যাবতকালের সবচেয়ে কঠোর অবরোধ হিসেবে উল্লেখ করেন। উত্তর কোরিয়ার পারমাণবিক কর্মসূচির লাগাম টেনে ধরার লক্ষ্যে দেশটিকে সর্বোচ্চ চাপে রাখতে ট্রাম্প শুক্রবার ওয়াশিংটনের উপকণ্ঠে রক্ষণশীলদের উদ্দেশে দেয়া তার প্রচারণামূলক বক্তব্যে এসব কথা বলেন। তিনি দাবি করেন, আমরা আজ দেশটির বিরুদ্ধে এ যাবতকালের সবচেয়ে কঠোর অবরোধ আরোপ করেছি। মার্কিন অর্থমন্ত্রী স্টিভ মুচিন অবরোধের বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, এ মুহুর্তে উত্তর কোরিয়ার ব্যবহৃত সব ধরণের জাহাজ এ অবরোধের আওতায় পড়বে। এছাড়া শনিবার উইন্টাার অলিম্পিকস এর কারণে দক্ষিণ কোরিয়া সফররত হোয়াইট হাউসের নারী মুখপাত্র সারাহ স্যান্ডার্স বলেন, আমরা আশা করছি নিরস্ত্রীকরণের বিষয়ে উত্তর কোরিয়ার দিক থেকে পরিবর্তন আসবে। তিনি আরো বলেন, পূর্বের প্রশাসনের মতো বর্তমান প্রেসিডেন্ট কোন ভুল করবেন না। উত্তর কোরিয়ার প্রতি তিনি কোন ধরণের দূর্বলতা দেখাবেন না।
কুয়েতে অবৈধ বিদেশীদের জন্য সাধারণ ক্ষমা ঘোষণার মেয়াদ শেষ হয়েছে বৃহস্পতিবার
উপসাগরীয় দেশ কুয়েতে অবৈধভাবে বসবাসরত বিদেশীদের জন্য সাধারণ ক্ষমা ঘোষণার মেয়াদ শেষ হয়েছে বৃহস্পতিবার। এ ঘোষণায় ২৫ হাজারের বেশি বাংলাদেশী কর্মী বৈধ হওয়ার আবেদনের সুযোগ পেয়েছেন। আর কোন অবৈধ কর্মী দেশটিতে বৈধ হওয়ার সুযোগ পাবেন না। অবৈধদের দেশে ফিরতে হবে। কুয়েতের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দেয়া ঘোষণা গত ২৯ জানুয়ারি থেকে ২২ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত কার্যকর ছিল। প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, আবেদনকৃত সবাইকে বৈধ করে নেয়ার আশ্বাস দিয়েছে দেশটির ইমিগ্রেশন বিভাগ। কুয়েতের সাধারণ ক্ষমার বিষয়ে বিএমইটির পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, প্রতিটি শ্রম বাজারেই এ রকম একটি বিষয় থাকে। প্রতিবছরই অল্প কয়েকদিন সময় বেঁধে দেয়া হয় অবৈধদের বৈধ হওয়ার জন্য। কুয়েতও তাই করেছে। বিষয়টি বাংলাদেশের জন্য একটি ইতিবাচক। কুয়েতে বাংলাদেশী কর্মীরা ভাল বেতনে কাজ করেন। অবৈধ বৈধ হলে দেশে রেমিটেন্স প্রবাহ বাড়বে। নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে কুয়েতে কর্মীরা বৈধ হওয়ার আবেদন করতে পেরেছেন। তারা অচিরেই বৈধতার কাগজপত্র পেয়ে যাবেন। কুয়েতে কর্মরত কয়েক কর্মী টেলিফোনে জানান, দেশটিতে বাংলাদেশী প্রায় ৩ লাখ লোক বিভিন্ন পেশায় কাজ করছেন। এখান থেকে প্রতিবছরই কিছু লোক অবৈধ হয়ে পড়েন। তারা আবার কুয়েত সরকার সাধারণ ক্ষমা ঘোষণা করলে বৈধ হওয়ার সুযোগ পান। ২০১৭ সালে দেশটির সরকার সাধারণ ক্ষমা ঘোষণা না করায় বহু লোককে দেশে ফিরতে হয়েছে। তবে এর আগের বছর দেশটির সরকার কর্মীদের জন্য সাধারণ ক্ষমা ঘোষণা করলে ৩০ হাজারের বেশি কর্মী বৈধ হওয়ার সুযোগ পেয়েছিলেন। এক বছর বাদ দিয়ে এবার আবার সাধারণ ক্ষমা ঘোষণা করে দেশটির স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। গত ২৯ জানুয়ারি থেকে ২২ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত সুযোগ দেয়া হয় অবৈধ বসবাসকারীদের জন্য। অন্যান্য দেশের মতো বাংলাদেশীরাও এই সুযোগ নিয়েছেন। দেশটিতে অবৈধভাবে থাকা ২৫ হাজারের বেশি কর্মী বৈধ হওয়ার সুযোগ পেয়েছেন। নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে অবৈধ কর্মীরা বৈধ হওয়ার জন্য আবেদনপত্র জমা দিয়েছেন। তবে এবার সাধারণ ক্ষমার বিষয়ে নির্দিষ্ট জরিমানা দিয়ে বৈধ হতে হবে। জরিমানার বিষয়টি সবার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হবে না। দীর্ঘদিন ধরে অবৈধভাবে বসবাস করার কারণে যারা দেশে ফিরতে পারছিলেন না তাদের বৈধ হতে কোন টাকা লাগবে না। কারণ তাদের বৈধ করে দেশে ফেরার সুযোগ দেয়া হবে। যারা দেশেটিতে কাজের জন্য থাকতে চান তাদের নির্দিষ্ট পরিমাণ টাকা দিয়ে বৈধ হতে হবে। যাদের নামে আদালতে মামলা চলছে তারা এই সুযোগ পাবেন না। আবার যাদের ওপর কুয়েতে ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা রয়েছে, তারাও এ সুযোগ পাবেন না। সূত্র জানিয়েছে, সরকার ঘোষিত জরিমানার পরিমাণ ৬শকেডি (কুয়েতি দিনার)। বাংলাদেশী টাকায় এক লাখ ৬৬ হাজার ৩১৭ টাকা। ২০১৬ সালে সাধারণ ক্ষমায়ও জরিমানার পরিমাণ একই ছিল। যারা বৈধ হয়ে দেশে ফিরবেন তাদের জন্য কুয়েতে নতুন ভিসা নিয়ে আসতে পারবেন। যারা অবৈধ থেকেই দেশে ফিরবেন তারা আর কুয়েতে যেতে পারবেন না। কুয়েতে অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাস কুয়েত সরকারের সাধারণ ক্ষমার বিষয়টি কর্মীদের কাছে পৌঁছে দেয়ার জন্য ফেসবুক পেজসহ নানা উদ্যোগ নিয়েছিল। দূতাবাস প্রচারপত্র ও মোবাইলে এসএমএস পাঠিয়ে কর্মীদের সাধারণ ক্ষমার সুযোগ কাজে লাগানোর আহ্বান জানানো হয়। দূতাবাসের পক্ষ থেকে কর্মীদের কাছে এসএমএস পাঠানো শুরু হয়। ফেসবুক খোলার বিষয়ে দেশে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন নিয়ে ফেসবুক পেজ খোলা হয়েছিল। দূতাবাসের নানা উদ্যোগের কারণেই নির্দিষ্ট সময়ে কর্মীরা বৈধ হওয়ার কাগজপত্র জমা দিতে পেরেছেন। উল্লেখ কুয়েত সরকার সর্বশেষ ২০১৬ সালে সাধারণ ক্ষমা ঘোষণা করেছিল। মাঝখানে এক বছর কেটে যাওয়ার পর চলতি বছর সাধারণ ক্ষমা ঘোষণা করল। ২০১৬ সালে সাধারণ ক্ষমায় ৩০ হাজারের বেশি কর্মী বৈধ হওয়ার সুযোগ পেয়েছিলেন। এবার দেশটিতে ২৫ হাজারের বেশি অবৈধ কর্মী ছিল। যারাই এ সুযোগ হাত ছাড়া করেছে তাদেরই দেশে ফিরে আসতে হবে।
জেরুজালেমে দূতাবাস স্থানান্তর করবে যুক্তরাষ্ট্র
আগামী মে মাসেই যুক্তরাষ্ট্র ইসরাইলের তেল আবিব থেকে জেরুজালেমে তাদের দূতাবাস স্থানান্তর করবে বলে মার্কিন পররাষ্ট্র দফতরের বরাতে জানিয়েছে স্থানীয় গণমাধ্যমগুলো। আসন্ন ১৪ই মে ইসরায়েলের ৭০তম স্বাধীনতা দিবসকে সামনে রেখে এই স্থানান্তর প্রক্রিয়া সম্পন্ন হতে পারে বলে গণমাধ্যমের খবরে বলা হয়। যুক্তরাষ্ট্রের এ সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছে ইসরাইল। শুক্রবার স্থানীয় গণমাধ্যম জেরুজালেম পোস্ট মার্কিন কর্তৃপক্ষের বরাত দিয়ে জানায়, দূতাবাস সরিয়ে নেয়ার লক্ষ্যে হোয়াইট হাউস তার প্রস্তুতি নিচ্ছে। আসন্ন স্বাধীনতা দিবস উদযাপনের আগেই যুক্তরাষ্ট্র এ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে পারে। গত ডিসেম্বরে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জেরুজালেমকে ইসরাইলের রাজধানী ঘোষণা দেয়া এবং তার দেশের দূতাবাস সেখানে স্থানান্তরের ঘোষণার পর থেকে বিশ্বজুড়ে নিন্দার মুখে পড়ে ওয়াশিংটন। এ পরিকল্পনা ২০১৯ সালে বাস্তবায়ন হবে বলে সেসময় বলা হয়েছিল। তবে এ বছরের মে মাসেই যে এই প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হবে সেটি নির্দিষ্ট করে এবারই জানা গেলো। বিশ্লেষকরা বলছেন, এ কার্যক্রম ইসরাইল-ফিলিস্তিন শান্তি আলোচনা নতুনভাবে বাধাগ্রস্ত করবে।

আন্তর্জাতিক পাতার আরো খবর