মার্চের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে অংশ নেবেন ভ্লাদিমির পুতিন
রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন বলেছেন, মার্চের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে অংশ নেবেন। এ জন্য রাজনৈতিক দল ও সুশীল সমাজের সমর্থন চেয়েছেন তিনি। মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে রুশ হস্তক্ষেপের অভিযোগের কড়া জবাব দিয়েছেন তিনি। অন্তত ১ হাজার ৬৪০ জন দেশি-বিদেশি সাংবাদিকের উপস্থিতিতে মস্কোয় বৃহস্পতিবার এক সংবাদ সম্মেলনে পুতিন এসব কথা বলেন। বাংলাদেশের সময় বেলা তিনটায় মস্কোর বিশ্ব বাণিজ্য কেন্দ্রের মিলনায়তনে সংবাদ সম্মেলন শুরু হয়। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন পুতিনের প্রেস সচিব দিমিত্রি পেসকোভ। সংবাদ সম্মেলনে প্রথম প্রশ্নই ছিল প্রেসিডেন্ট নির্বাচন নিয়ে। গাভারিত মাস্কভা বেতার কেন্দ্রের সাংবাদিকের প্রশ্নের জবাবে প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে নিজের প্রার্থিতা সম্পর্কে খোলামেলা কথা বলেন পুতিন। রুশ প্রেসিডেন্ট বলেন, এটি হবে স্বতন্ত্র প্রার্থী। ২০১৮ সালে প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে আমি স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবেই অংশ নেব। যারা আমার আদর্শ ধারণ করে এবং আমার ওপর বিশ্বাস রাখে এমন রাজনৈতিক দল ও সংগঠনের সমর্থন খুব চাইছি। আমি এই সমর্থন আশা করছি। পুতিন মনে করেন, রুশ জনগণই তাঁর মূল শক্তি। এ প্রসঙ্গে পুতিন বলেন,রুশ জনগণের কাছ থেকে সবচেয়ে বেশি সমর্থন আশা করছি। ইউনাইটেড রাশিয়া দলের হয়ে ২০১২ সালে প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে জয়লাভ করেন পুতিন। রাশিয়ার প্রধানমন্ত্রী দিমিত্রি মেদভেদেভ বর্তমানে এই দলের সভাপতি। পুতিন মনে করছেন, নির্দিষ্ট একটি দলের প্রার্থী হয়ে নির্বাচনে অংশ নিলে হয়তো অধিকাংশ ভোটারের সমর্থন তিনি পাবেন না। রাশিয়া গণমতামত গবেষণাকেন্দ্রের সর্বশেষ জরিপে দেখা যায়, শতকরা ৮০ ভাগ রুশ পুতিনকে আসন্ন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে ভোট দিতে তৈরি। ৬ ডিসেম্বর দেওয়া এক ঘোষণায় ২০১৮ সালে প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে অংশ নেওয়ার কথা জানান রাশিয়ার এই নেতা। অবশেষে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে লড়ার নতুন চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিলেন পুতিন। এতে নির্বাচনে পুতিনের অংশ নেওয়া নিয়ে দীর্ঘ জল্পনা-কল্পনার অবসান হলো। মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে রুশ হস্তক্ষেপ প্রসঙ্গে মার্কিন সাংবাদিকের প্রশ্নের জবাবে পুতিন বলেন, যারা ট্রাম্পের বিরোধী দলে রয়েছে, তারাই এই প্রচারণা চালাচ্ছে। তারা নিজ দেশের রাজনৈতিক পরিবেশ নষ্ট করছে, নিজেদের প্রার্থীদের অসম্মান করছে। পুতিন রাশিয়ার বিরুদ্ধে অভিযোগকে বিকারগ্রস্ত গুপ্তচর; বলে উল্লেখ করেন। ট্রাম্প প্রশাসনের সঙ্গে ক্রেমলিনের সম্পর্ক প্রসঙ্গে পুতিন বলেন, প্রেসিডেন্ট হিসেবে ট্রাম্প দায়িত্ব নেওয়ার অল্প সময়ের মধ্যে আমাদের অনেক খাতে দারুণ উন্নতি ঘটেছে। তবে ট্রাম্প কেমন কাজ করছেন, তা মূল্যায়ন করার দায়িত্ব সে দেশের ভোটারদের, আমার নয়। ভবিষ্যতে রাশিয়ার অর্থনীতি কেমন হতে পারেএমন প্রশ্নের জবাবে পুতিন বলেন, আমি বিশ্বাস করি, উন্নত প্রযুক্তি ব্যবহার করে রাশিয়ার অর্থনীতি যুগের সঙ্গে তাল মিলিয়ে এগিয়ে যাবে। রাজনৈতিক পরিবেশ স্থিতিশীল রেখে আমাদের ভবিষ্যতের কথা ভাবতে হবে। রাশিয়ার অর্থনীতি ঘুরে দাঁড়িয়েছে। বিদেশি বিনিয়োগও গত বছরের তুলনায় দ্বিগুণ বেড়েছে। সাম্প্রতিক অর্থনৈতিক সংকট প্রসঙ্গে পুতিন বলেন, রাশিয়ার অর্থনীতি দুটি বড় সংকট মোকাবিলা করেছে। তেলের দরপতন ও পশ্চিমা নিষেধাজ্ঞা কাটিয়ে উঠেছে রাশিয়া। চলতি মৌসুমে শস্যের বাম্পার ফলন হয়েছে বলে উল্লেখ করেন তিনি। কয়েক ঘণ্টাব্যাপী সংবাদ সম্মেলনে রাশিয়ার সামাজিক, অর্থনৈতিক, চিকিৎসা, প্রতিরক্ষা, আইনব্যবস্থা, দুর্নীতি, সিরিয়া ও ইউক্রেন সংকটের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে নানা প্রশ্নের জবাব দেন রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট। রুশ বার্তা সংস্থা তাস জানায়, রাশিয়ার প্রেসিডেন্টের সংবাদ সম্মেলনে অংশ নিতে ১ হাজার ৬৪০ জন দেশি-বিদেশি সাংবাদিক নিবন্ধন করেন। রুশ নেতার একক কোনো সংবাদ সম্মেলনে এই প্রথম এত বিপুলসংখ্যক গণমাধ্যমকর্মী অংশ নিয়েছেন। বেশির ভাগ সাংবাদিকই রাশিয়ার আঞ্চলিক গণমাধ্যমের প্রতিনিধি। তবে যুক্তরাষ্ট্র, জার্মানি, জাপান, ফ্রান্স, চীন, ইউক্রেন, পোল্যান্ড ও এস্তোনিয়ার গণমাধ্যমকর্মীরাও সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন। এর আগে ২০১৫ সালে সর্বোচ্চ ১ হাজার ৩৯০ জন সাংবাদিক নিবন্ধনপত্র গ্রহণ করেছিলেন। আর গত বছর অংশ নেন ১ হাজার ৪৩৭ জন। ক্রেমলিনের মুখপাত্র দিমিত্রি পেসকোভের বরাত দিয়ে তাস অনলাইনের খবরে বলা হয়, বুধবার পুরোটা দিনই সংবাদ সম্মেলনের জন্য প্রস্তুতি নেন পুতিন। সাংবাদিকদের সঙ্গে পুতিনের এটি কোনো সাধারণ সাক্ষাৎ হবে না। এবারের সম্মেলনকে অন্য সব বছরের তুলনায় পুতিন একটু বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন। অনুষ্ঠান শুরু হওয়ার দেড় ঘণ্টা আগে থেকেই সাংবাদিকেরা মিলনায়তনে জড়ো হতে থাকনে। এ সময় অনুষ্ঠানস্থলে সাংবাদিকদের তোলা সেলফিসহ বেশ কয়েকটি ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম থেকে তা অনলাইনে প্রকাশ করা হয়। জানা যায়, ২০০১ সাল থেকে প্রতিবছর দেশি-বিদেশি সাংবাদিকদের নিয়ে সংবাদ সম্মেলন করে আসছেন ভ্লাদিমির পুতিন। ওই বছর ১ ঘণ্টা ৩৫ মিনিটের সংবাদ সম্মেলন পুতিনের সবচেয়ে কম সময়ের সংবাদ সম্মেলন ছিল। আর ২০০৮ সালে সর্বোচ্চ ৪ ঘণ্টা ৪০ মিনিট সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাব দিয়ে রাশিয়ায় কোনো প্রেসিডেন্টের দীর্ঘতম সংবাদ সম্মেলনের রেকর্ড গড়েন পুতিন। আগামী বছরের মার্চে রাশিয়ায় প্রেসিডেন্ট নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। তাই প্রেসিডেন্ট হিসেবে এটিই পুতিনের বড় ধরনের সর্বশেষ সংবাদ সম্মেলন। সব সময় ডিসেম্বর মাসকে সংবাদ সম্মেলনের জন্য বেছে নেন পুতিন। মূলত সারা বছর প্রেসিডেন্টের কাজের পর্যালোচনা করতেই এমন আয়োজন করে থাকে ক্রেমলিন। এতে আঞ্চলিক গণমাধ্যমকর্মীদের প্রশ্ন করার সুযোগ বেশি থাকে। পুতিনের প্রথম সাতটি সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছিল ক্রেমলিনের প্রেসিডেন্ট বাসভবনের ১৪তম ভবনে। পরে ২০১২-১৬ সাল পর্যন্ত ওই ভবন সংস্কারকাজে বন্ধ হয়ে গেলে রুশ প্রেসিডেন্টের সঙ্গে গণমাধ্যমকর্মীদের সাক্ষাতের স্থান ঠিক হয় মস্কোর বিশ্ব বাণিজ্য কেন্দ্রের মিলনায়তন। রাশিয়ার বেশ কয়েকটি সরকারি টেলিভিশন ও বেতারকেন্দ্র পুতিনের সংবাদ সম্মেলন সরাসরি সম্প্রচার করে। আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমেও পুতিনের সংবাদ সম্মেলনের খবর গুরুত্বের সঙ্গে প্রচার করা হয়।
জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের জরুরি বৈঠকে তীব্র সমালোচনা
ইসরায়েলের রাজধানী হিসাবে জেরুসালেমকে ঘোষণা দেওয়ার পর জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের জরুরি বৈঠকে তীব্র সমালোচনার মুখে পড়েছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। এমনকি ব্রিটেন, ফ্রান্স, জার্মানি আর ইউরোপীয় ইউনিয়নও এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের এই স্বীকৃতি অসহযোগিতামূলক। তবে নিরাপত্তা পরিষদের প্রতি পাল্টা অভিযোগ তুলে যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত নিকি হ্যালে বলেছেন, জাতিসংঘ মধ্যপ্রাচ্যে শান্তি রক্ষা করার বদলে শান্তি নষ্টের চেষ্টা চালাচ্ছে। নিকি হ্যালে বলেন, বহুবছর ধরেই জাতিসংঘ ইসরায়েলের প্রতি অসংযতভাবে বৈষম্যমূলক আচরণ করে আসছে। মধ্যপ্রাচ্যে শান্তি প্রতিষ্ঠার পরিবর্তে যা কিনা ক্ষতি এনেছে। সুতরাং যুক্তরাষ্ট্র এর পক্ষে থাকতে পারে না। পুরো বৈঠকে যুক্তরাষ্ট্র অনেকটা কোণঠাসা হয়ে পড়ে। নিরাপত্তা পরিষদের বৈঠকে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ঘোষণার তীব্র বিরোধিতা ও নিন্দা জানানোর দিনে যুক্তরাষ্ট্র এমন অবস্থান নিলো। ব্রিটেনের রাষ্ট্রদূত তার বক্তব্যে আবারো বিষয়টির মীমাংসায় দুই দেশের আলোচনার প্রতি জোর দেন। আর ফ্রান্সের প্রতিনিধি বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের এমন অবস্থান পুরো মধ্যপ্রাচ্যের জন্যেই আরো ভয়ানক পরিণতি ডেকে আনবে। জরুরি বৈঠকে কার্যত যুক্তরাষ্ট্র সবার প্রতিপক্ষে পরিণত হয়। ইসরায়েলের আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘনে মদদ দেবার জন্যে যুক্তরাষ্ট্রকে অভিযুক্ত করেন জাতিসংঘে ফিলিস্তিনি রাষ্ট্রদূত রিয়াদ মনসুর। তিনি বলেন, এখানে খারাপ কাজের সহযোগিতাকে স্বীকার করতে হবে। অঞ্চলটিতে ইসরায়েলের দমন পীড়ন আর বিচারহীনতার সংস্কৃতিকে যুক্তরাষ্ট্রের এই সিদ্ধান্ত আরো উস্কে দিয়েছে। এই স্বীকৃতির মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্র তার শান্তির মধ্যস্থতাকারীর অবস্থান হারিয়েছে।
বিশ্বব্যাপি বিক্ষোভ
প্যালেস্টাইন কর্তৃপক্ষের প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আব্বাস জেরুজালেমকে ইসরায়েলের রাজধানী হিসেবে স্বীকৃতি দানের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছেন। খবর মান নিউজ,এএফপি,বিবিসি,সিনহুয়ার। বুধবার ওয়াশিংটন সময় দুপুরে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জেরুজালেমকে ইসরায়েলের রাজধানী হিসেবে স্বীকৃতি দেন আনুষ্ঠানিকভাবে। ট্রাম্পের এ পদক্ষেপকে ইসরায়েল স্বাগত জানালেও তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে ফিলিস্তিন, জর্ডান, তুরস্ক, ইরান, পাকিস্তানসহ মুসলিম বিশ্বে। হুঁশিয়ারি দিয়েছে ওআইসি, যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স, জার্মানি। ট্রাম্পের এ পদক্ষপকে দায়িত্বজ্ঞানহীন বলে মন্তব্য করেছে তুরস্ক। ট্রাম্পের এই ভুল সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনার জন্য যুক্তরাষ্ট্র প্রশাসনের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে দেশটির সরকার। যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী তেরেসা মে মার্কিন প্রেসিডেন্টের এই সিদ্ধান্তকে সমর্থন না করে বলেছেন, সে অঞ্চলে শান্তি আনয়নের পথে এটি কোনো উপকারী পদক্ষেপ হবে না। ফিলিস্তিনের প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আব্বাস কড়া ভাষায় বলেছেন, শান্তি প্রক্রিয়ায় যুক্তরাষ্ট্র এতদিন মধ্যস্থতাকারী হিসেবে ছিল। এ ঘোষণার মধ্য দিয়ে তাদের সেই ভূমিকা বিতর্কিত হয়ে পড়েছে ফিলিস্তিনের ধর্মনিরপেক্ষ ও মুসলমানরা সবাই আজ বৃহস্পতিবার প্রতিবাদে দেশব্যাপি ধর্মঘট আহ্বান করেছে। জেরুজালেমের পুরো শহরের ওপর ইসরাইলের সার্বভৌমত্বকে স্বীকৃতি দেয় না বিশ্ব সম্প্রদায়। তারা মনে করেন, জেরুজালেমের মর্যাদা কি হবে তা আলোচনার মাধ্যমে সমাধান করতে হবে। তাই জেরুজালেমে এখন পর্যন্ত অন্য কোনো দেশ তাদের দূতাবাস স্থাপন করে নি। আন্তর্জাতিক মহল ফিলিস্তিন-ইসরাইলের মধ্যে শান্তি প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে এমন অবস্থান নিয়েছে।ফিলিস্তিন কর্তৃপক্ষ বহু আগে থেকেই পূর্ব জেরুজালেমকে রাজধানী হিসেবে দাবি করে আসছে। ঠিক সেই সময় ট্রাম্প তার নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি রাখতে এমন একটি আন্তর্জাতিক বিরোধপূর্ণ এলাকাকে ইসরাইলের রাজধানী হিসেবে স্বীকৃতি দিলেন।
জেরুসালেমকে ইসরায়েলের রাজধানী হিসাবে স্বীকৃতি
ডোনাল্ড ট্রাম্প তার ভাষণে জেরুসালেমকে ইসরায়েলের রাজধানী হিসাবে স্বীকৃতি দিয়েছেন। হোয়াইট হাউসে এক ভাষণে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প বিরোধপূর্ণ জেরুসালেম শহরকে এই স্বীকৃতি দিয়েছেন। জেরুজালেম শহর মুসলিম, খ্রিষ্টান ও ইহুদি তিন ধর্মের কাছেই গুরুত্বপূর্ণ স্থান। এখানে মুসলিমদের তিনটি প্রধান মসজিদের একটি আল-আকসা অবস্থিত। কাবাঘরের আগে এই আল-আকসা মসজিদের দিকে মুখ করেই মুসলমানরা নামাজ আদায় করতেন। এই সিদ্ধান্ত কয়েক দশকের আমেরিকান নীতিকে বদলে দিয়েছে। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প আরও ঘোষণা করেছেন, যে আমেরিকান দূতাবাস তেলআবিব থেকে জেরুসালেমে সরিয়ে নিয়ে যাওয়া হবে। তিনি বলেছেন, এই সিদ্ধান্তের মানে এই নয় যে আমেরিকা মধ্যপ্রাচ্যে স্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠার দৃঢ় অঙ্গীকার থেকে সরে আসছে। দীর্ঘ দিনের ইসরায়েল ফিলিস্তিনি সংঘাতের অবসান ঘটাতে আমেরিকা দুই রাষ্ট্র সমাধানকে সমর্থন জানাতে প্রস্তুত, যদি উভয় পক্ষ সেটাই চায়। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের ভাষণের আগে আমেরিকান কর্মকর্তারা বলেছিলেন, তিনি শুধু এই বাস্তবতাকে মেনে নিয়েছেন যে, জেরুসালেম ইসরায়েলের রাজধানী হিসাবে বেশি কার্যকর। যদিও ফিলিস্তিনিরা জেরুসালেমকে তাদেরও রাজধানী হিসাবে দাবি করে। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প বলেছেন, মধ্যপ্রাচ্য শান্তি প্রক্রিয়াকে এগিয়ে নিয়ে যাবার লক্ষ্যে এই পদক্ষেপ ছিল দীর্ঘ প্রতীক্ষিত। এই সিদ্ধান্ত ঘোষণার আগে ফিলিস্তিনি প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আব্বাসের একজন মুখপাত্র সাবধান করে দেন যে, এই সিদ্ধান্ত এলাকার জন্য বিপজ্জনক পরিণতি ডেকে আনবে। অন্যদিকে ট্রাম্পের এই ঘোষণাকে স্বাগত জানিয়ে তাকে ধন্যবাদ জানিয়েছে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। কিন্তু এই ঘোষণার প্রতিক্রিয়ায় নিন্দা জানিয়ে প্যালেস্টাইনের নেতা মাহমুদ আব্বাস এটিকে দুঃখজনক হিসেবে উল্লেখ করেছেন। আর হামাস ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়ায় বলেছে, এই সিদ্ধান্ত এতদ অঞ্চলে নরকের দ্বার খুলে দেবে। সৌদি আরবের বাদশাহ সালমান বলেছেন, এই ঘোষণা সারা পৃথিবীর মুসলিমদের ঘোরতরভাবে প্ররোচিত করবে। এই ঘোষণার প্রতিবাদে ইতোমধ্যেই গাজায় এবং তুরস্কের ইস্তাম্বুলে মার্কিন কনসুলেটের সামনে মিছিল হয়েছে। মার্কিন প্রেসিডেন্টের এই বাঁকবদলকারী সিদ্ধান্তটিকে জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস ভীষণ উদ্বেগের মুহূর্ত বলে উল্লেখ করেছেন। যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী তেরেসা মে মার্কিন প্রেসিডেন্টের এই সিদ্ধান্তকে সমর্থন না করে বলেছেন, সে অঞ্চলে শান্তি আনয়নের পথে এটি কোনো উপকারী পদক্ষেপ হবে না। এছাড়া ফরাসী প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রো এবং ইউরোপীয় ইউনিয়নের প্রধান কূটনীতিক ফেদেরিকা মোগেরিনি-ও বিষয়টিকে উদ্বেগের বলে মনে করছেন। সূত্র : বিবিসি।
উত্তর কোরিয়ার ক্ষমতার সর্বোচ্চ প্রদর্শন
কোন ভাবেই ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণ থেকে বিরত রাখা যাচ্ছে না উত্তর কোরিয়াকে। সম্প্রতি অধিক শক্তিশালী ব্যালেস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণ করে দেশটি। বিজ্ঞানীরা বলছেন, উত্তর কোরিয়ার ক্ষমতার সর্বোচ্চ প্রদর্শন এটি। এই ক্ষেপণাস্ত্র অতি বিপজ্জনক! জাপানকে লক্ষ্য করে প্রথম থেকেই ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণ করেছে উত্তর কোরিয়া। এই উক্ষেপণেও জাপানের মূল ভূখণ্ড ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারত। জাপানের প্রতিরক্ষা দপ্তরের পক্ষ থেকে সে আশঙ্কার কথা সরাসরি জানানো হয়েছে। উত্তর কোরিয়াকে সন্ত্রাসে মদত ও যুদ্ধবাজ দেশ বলার পরই পাল্টা প্রতিক্রিয়া হিসেবে অধিক শক্তিশালী এই মিসাইল উৎক্ষেপণ করে দেশটি। কিম জং উনের ক্ষমতা যে ঠিক কতটা, তা বুঝতে অসুবিধা হয়নি মার্কিন প্রেসিডেন্টের। ইতিমধ্যেই বিবৃতি দিয়ে তিনি জানিয়েছেন, এই পরিস্থিতি কী করে সামলাতে হয় তা তার জানা আছে। মার্কিন প্রতিরক্ষা সচিব জিম ম্যাটিসও জানিয়েছেন, উত্তর কোরিয়া যা করছে, তাতে সারা বিশ্বে অমঙ্গলের ছায়া নেমে আসছে। এদিকে, চলতি বছরের সেপ্টেম্বরে ব্যালেস্টিক মিসাইল উৎক্ষেপণ করেছিল উত্তর কোরিয়া। কিম জং উনের সে আস্ফালন ভালো চোখে নেয়নি বিশ্ববাসী। বিশ্ব জুড়ে শান্তি প্রক্রিয়ার ক্ষেত্রে উত্তর কোরিয়ার এই কাজ যে রীতিমতো বিপজ্জনক, সে বিষয়ে একমত বিশ্ববাসী। সম্প্রতি পরীক্ষা চালানো উত্তর কোরিয়ার ক্ষেপণাস্ত্রটি প্রায় ৯৪০ কিলোমিটার দূরে জাপান সাগরে গিয়ে আঘাত হানে। ক্ষেপণাস্ত্রের সর্বোচ্চ উচ্চতা ছিল ৪ হাাজর ৫০০ কিলোমিটার। উত্তর কোরিয়ার দাবি, আগের ক্ষেপণাস্ত্রের উন্নত রূপ এটি। ১৩ হাজার ০০০ কিলোমিটার পাল্লার এই ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হানতে পারে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের রাজধানী ওয়াশিংটন ডিসিতেও। যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কথাযুদ্ধের মধ্যেই এ নিয়ে চলতি বছর ২০টি ব্যলেস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা চালিয়ে উত্তর কোরিয়া। বরাবরের মতো এবারও কড়া নিন্দা করেছে আন্তর্জাতিক মহল। নিন্দা করেছে জাপান ও দক্ষিণ কোরিয়া। এদিন উত্তর কোরিয়ার ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষার খবর প্রকাশ্যে আসতেই পর পর তিনটি ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা করে পাল্টা শক্তিপ্রদর্শন করে দক্ষিণ কোরিয়া।
পাকিস্তানে সংঘর্ষে আহত কমপক্ষে ২০০
পাকিস্তানে সংঘর্ষে কমপক্ষে ২০০ এর বেশি মানুষ আহত হয়েছে। আহত ব্যক্তিদের মধ্যে পুলিশসহ প্রতিরক্ষা বাহিনীর প্রায় ৯০ জনের মতো সদস্যও রয়েছেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে সেনাবাহিনীকে নির্দেশ দিয়েছে দেশটির স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। ইসলামাবাদ, করাচি, রাওলপিণ্ডি, পেশোয়ারের মতো বড় শহরগুলোতে সংঘর্ষ ছড়িয়ে পড়েছে। এ সংঘর্ষে নেতৃত্ব দিচ্ছে তেহরিক-ই-লাব্বাইক। তারা দেশটির সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী চৌধুরী নিসার আলীর বাড়িতেও আক্রমণ চালিয়েছে। মূল গেটে ভেঙে ফেলে ভেতরে ঢুকে তারা আগুন লাগিয়ে দেয়। এ সংঘর্ষের পেছনে পার্শ্ববর্তী দেশ ভারতের মদদ আছে বলে দাবি করেছেন পাকিস্তানের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এহসান ইকবাল।