শুক্রবার, জুলাই ১০, ২০২০
সিরিয়ার বিধ্বস্ত অর্থনীতি পুনর্গঠনে বাধা দিচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র
২৮ডিসেম্বর,শনিবার,আন্তর্জাতিক ডেস্ক,নিউজ একাত্তর ডট কম: নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে সিরিয়ার বিধ্বস্ত অর্থনীতি পুনর্গঠনে বাধা দিচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র।এমনটাই মনে করেন দামেস্কের রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা। গেলো সপ্তাহেও এই দেশে ব্যবসার বিষয়ে কিছু প্রতিষ্ঠান ও ব্যক্তিকে নিয়মনীতি বেঁধে দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা দিয়ে যুক্তরাষ্ট্র সিরিয়ার ওপর আধিপত্য বিস্তার করার পরিকল্পনা করছে বলেও মনে করেন সিরিয়ান বিশ্লেষকরা। সিরিয়ায় যুদ্ধ প্রায় শেষ পর্যায়ে। এ যুদ্ধের পরই শুরু হবে অর্থনীতি স্থিতিশীল করার যুদ্ধ। তাই বিশ্লেষকরা বলছেন, এ মুহূর্তে নিষেধাজ্ঞা আরোপ মানেই পুনরায় আলোচনায় বসে সমঝোতায় আসার চেষ্টা করা।
ভারতের লখনৌসহ বেশ কিছু স্থানে ইন্টারনেট সেবা বন্ধ
২৭ ডিসেম্বর,শুক্রবার,আন্তর্জাতিক ডেস্ক,নিউজ একাত্তর ডট কম: ভারতের উত্তর প্রদেশের বেশ কিছু অংশে মোবাইল ইন্টারনেট সেবা বন্ধ করে দিয়েছে দেশটির কর্তৃপক্ষ। গত কয়েক সপ্তাহ ধরে চলা নাগরিকত্ব সংশোধনী আইন নিয়ে চলমান বিক্ষোভ থামাতেই এমন সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। এছাড়া দেশটির বড় শহরগুলোতে বৃদ্ধি করা হয়েছে নিরাপত্তা ব্যবস্থা। উত্তর প্রদেশ ভারতের সবথেকে বেশি মানুষের রাজ্য। বৃহস্পতিবার রাত থেকে এর রাজধানী লখনৌসহ বেশ কিছু স্থানে ইন্টারনেট সেবা বন্ধ রয়েছে। এ খবর দিয়েছে আল-জাজিরা। কয়েকটি টেলিভিশন চ্যানেলের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, রাজধানী নয়া দিল্লির বিভিন্ন অংশে কারফিউ জারি করেছে পুলিশ। এর ফলে একইস্থানে অনেকজন জড়ো হতে পারবে না। উত্তর প্রদেশে এমন আইন গত এক সপ্তাহ ধরে কার্যকর রয়েছে। চলমান সিএএ বিরোধী আন্দোলনে সবথেকে বেশি উত্তাল ছিলো এ রাজ্যটিই। রাজ্যটির পুলিশ বাহিনী আন্দোলন থামাতে ১৯ আন্দোলনকারীকে হত্যা করেছে এমন অভিযোগ রয়েছে। গত ১১ ডিসেম্বর থেকে ভারতের বেশ কয়েকটি রাজ্যে চলছে নাগরিকত্ব সংশোধনী আইনের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ। এখন পর্যন্ত এতে সংঘর্ষে নিহত হয়েছেন অন্তত ২৭ জন। এই আইনকে দেখা হচ্ছে দেশটিতে থাকা মুসলিমদের জন্য বৈষম্যমূলক হিসেবে। প্রায় ১৩০ কোটি মানুষের দেশ ভারতের ১৪ শতাংশ নাগরিক মুসলিম। তবে গত দুই সপ্তাহ ধরে আন্দোলন চরম রূপ ধারণ করেছে। বিভিন্ন শহরে আন্দোলনকারীদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। তবে উত্তর প্রদেশে এমন ঘটনা বেশি ঘটেছে। সেখানে মোট জনসংখ্যার ২০ শতাংশই মুসলিম। সামনের দিনগুলো মুম্বাই, কোলকাতা, আহমেদাবাদ, বেঙ্গালুরু ও চেন্নাইতে আরো বিক্ষোভ হতে পারে বলে আশংকা করা হচ্ছে।
হন্ডুরাসে বড়দিন উদযাপনকালে নিহত ১৩
২৬ডিসেম্বর,বৃহস্পতিবার,আন্তর্জাতিক ডেস্ক,নিউজ একাত্তর ডট কম: হন্ডুরাসে মঙ্গবার থেকে বুধবার সকাল পর্যন্ত বড়দিন উদযাপনকালে কমপক্ষে ১৩ ব্যক্তি প্রাণ হারিযেছেন। নিহত ব্যক্তিদের বেশিরভাগ সড়ক দুর্ঘটনার শিকার হয়েছে। স্থানীয় কর্তৃপক্ষ বুধবার এ কথা জানিয়েছে। খবর শিনহুয়ার। সড়ক ও পরিবহন ব্যবস্থার জাতীয় পরিদপ্তরের উপ-পরিদর্শক জোসে কার্লোস লাগোস সাংবাদিকদের বলেন, যারা প্রাণ হারিয়েছে তাদের মধ্যে আটজন সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত হয়েছে। দেশটির কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, বেশিরভাগ দুর্ঘটনা ঘটে কোমায়াগুয়া, বে দ্বীপপুঞ্জ ও শান্তা বারবারা এলাকায়। কর্তৃপক্ষ আরও জানায়, ২৪ ডিসেম্বর রাতে আট ব্যক্তি আতশবাজির আগুন লেগে আহত হয়। পুলিশ রিপোর্টে জানা গেছে, একই সময়ে বিভিন্ন অপরাধের জন্য ২৭৫ ব্যক্তিকে এবং ৪০টি যানবাহন আটক করা হয়েছে।
বুরকিনা ফাসোয় সেনা-জঙ্গি লড়াইয়ে ৩১ নারীসহ নিহত ১২২
২৫ডিসেম্বর,বুধবার,আন্তর্জাতিক ডেস্ক,নিউজ একাত্তর ডট কম: বুরকিনা ফাসো ও সাহেল অঞ্চলে জঙ্গি হানা ও প্রাণহানির ঘটনা নতুন কিছু নয়। তা সত্ত্বেও মঙ্গলবার গভীর রাতে জঙ্গি হানার পর যেভাবে শতাধিক মানুষের প্রাণ গেছে তা অভূতপূর্ব। এর মধ্যে ৩৫ জন বেসামরিক ব্যক্তির মৃত্যু হয়েছে। আর সেনা ও জঙ্গিদের মধ্যে লড়াইয়ে মৃত্যু হয়েছে ৮৭ জনের। খবর ডয়চে ভেলের। সরকার ও সেনাবাহিনী পক্ষ থেকে বিবৃতি দিয়ে জানানো হয়েছে, জঙ্গিরা উত্তর বুরকিনা ফাসোর শহর আরবিন্দা আক্রমণ করে। প্রথমে তারা পাশের এলাকায় সামরিক ঘাঁটিতে আক্রমণ করতে যায় সেখানে ব্যর্থ হয়ে আরবিন্দাতে আসে। সেখানেও সেনাবাহিনী তাদের প্রতিহত করলে তারা পালাতে থাকে। পালাবার সময়ই এলোপাথাড়ি গুলি চালিয়ে ৩৫ জন বেসামরিক মানুষকে হত্যা করে জঙ্গিরা।। তার মধ্যে ৩১ জনই নারী। সেনাবাহিনী ওই জঙ্গিদের তাড়া করে। সেনার গুলিতে ৮০ জনের মতো জঙ্গি নিহত হয়েছে বলে বিবৃতিতে দাবি করা হয়েছে। সেই সঙ্গে উদ্ধার করা হয়েছে জঙ্গিদের ব্যবহার করা মোটর বাইক ও প্রচুর পরিমাণে অস্ত্রশস্ত্র ও গুলি। সপ্তাহখানেক আগেই ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ এই এলাকায় সফর করে গেছেন। জি ৫ সাহেল দেশগুলোতে কয়েক হাজার ফরাসি সেনা রয়েছে। এই পাঁচ দেশের মধ্যে রয়েছে বুরকিনা ফাসোও। জঙ্গিগোষ্ঠীগুলোর মোকাবিলা করার জন্যই ফরাসি সেনা সেখানে রয়েছে। ফ্রান্স, যুক্তরাষ্ট্র ও জি ৫ সাহেল দেশগুলোর চেষ্টা সত্ত্বেও তাদের পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হয়নি। পুরো এলাকার দখলদারিও নেয়া সম্ভব হয়নি। ২০১৫ থেকে বুরিকনা ফাসো, মালি, চাদসহ দেশগুলোতে বারবার আক্রমণ করে জঙ্গিরা কয়েকশো সাধারণ লোককে হত্যা করেছে। কয়েক লাখ লোক নিরাপদ আশ্রয়ের সন্ধানে ঘর ছেড়েছেন। ফলে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হচ্ছে না।
বিজেপি ফেল, ঝাড়খণ্ডে আসছে কংগ্রেস-জেএমএম জোট সরকার
২৪ডিসেম্বর,মঙ্গলবার,আন্তর্জাতিক ডেস্ক,নিউজ একাত্তর ডট কম: ঝাড়খণ্ডের পাঁচ দফার ভোটে মোট ৯ বার প্রচার চালিয়েছিলেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। রাজ্যজুড়ে তার বিশাল কাটআউট, ফ্লেক্স। রাঁচিতে বসে বিজেপি নেতারা দাবি করেছিলেন, মোদি ম্যাজিকে ভর করেই ফের ক্ষমতায় আসবেন তারা। যেমনটা হয়েছে কয়েক মাস আগের লোকসভা নির্বাচনে। ১৪টি লোকসভা আসনের ১১টিতেই জিতেছে বিজেপি। একটিতে তৎকালীন জোটসঙ্গী আজসু। বিজেপি নেতারা মাছি তাড়ানোর ভঙ্গিতে বলেছিলেন, আব কি বার, ৬৫ পার। অর্থাৎ এবার ৬৫টির বেশি আসন পাব। সোমবার ফল প্রকাশের পরে দেখা গেল, ৮১ আসনের মধ্যে বিজেপির ঝুলিতে এসেছে ২৫টি। গতবারের থেকে ১২টি কম। বিজেপি ছেড়ে স্বতন্ত্র হিসেবে দাঁড়ানো স্বচ্ছ ভাবমূর্তির নেতা সরযূ রাইয়ের কাছে হেরেছেন খোদ মুখ্যমন্ত্রী রঘুবর দাস। অন্যদিকে ঝাড়খণ্ড মুক্তি মোর্চা (জেএমএম)-র জোট পেয়েছে ৪৭টি আসন। তার মধ্যে হেমন্ত সরেনের দল একাই ৩০টি। কংগ্রেসের আসন ১৬, আরজেডির ১। এদিন ফল কিছুটা স্পষ্ট হওয়ার পর হার স্বীকার করে রঘুবর বলেন, এটা আমার হার, বিজেপির নয়। কিন্তু রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকেরা এটিকে দলের শীর্ষ নেতৃত্বকে আড়াল করার চেষ্টা হিসেবেই দেখছেন। তারা বলছেন, রাজ্যজুড়ে রঘুবরের ভাবমূর্তি ধাক্কা খেয়েছে বুঝতে পেরে ভোটের সব দায়দায়িত্বই কার্যত নিজের হাতে তুলে নিয়েছিলেন বিজেপির কেন্দ্রীয় নেতারা। মোদির মতোই রাজ্যে ৯ বার প্রচারে এসেছেন বিজেপি সভাপতি অমিত শাহ। দুজনেই প্রচার করেছেন কাশ্মীরে ৩৭০ অনুচ্ছেদ বাতিল, রামমন্দির নির্মাণ, তিন তালাক বাতিল, সংশোধিত নাগরিকত্ব আইন (সিএএ) চালু করার সাফল্য গাঁথা নিয়ে। কিন্তু ভোটের ফল বলছে, সেই প্রচারকে অনেক পেছনে ফেলে দিয়েছে হেমন্তের জল-জঙ্গল-জমি-র অধিকারের লড়াই। এমনকি বিজেপির একটি সূত্র জানিয়েছে, মোদি-শাহ যেসব জায়গায় জনসভা করেছিলেন, তার বেশির ভাগ এলাকাতেই দল হেরেছে।
উত্তাল ভারত, নাগরিকত্ব আইনবিরোধী আন্দোলনে সক্রিয় নারীরাও
২২ডিসেম্বর,রবিবার,আন্তর্জাতিক ডেস্ক,নিউজ একাত্তর ডট কম: নাগরিকত্ব সংশোধনী আইন বাতিলের দাবিতে উত্তাল ভারত। দেশটির বিভিন্ন রাজ্যে চলছে প্রতিবাদ-বিক্ষোভ। নাগরিকত্ব আইনের বিরুদ্ধে বিভিন্ন পোস্টার, প্ল্যাকার্ড প্রদর্শন করে বিক্ষোভ করছেন আন্দোলনকারীরা। চলমান আন্দোলনে পুরুষদের পাশাপাশি সক্রিয় নারীরাও। শুধু নারী শিক্ষার্থীরাই নন, সক্রিয়ভাবে আন্দোলনে অংশ নিচ্ছেন বিভিন্ন শ্রেণি পেশার নারী। তাদের একটাই কথা, দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত, ঘরে ফিরবেন না। কেউ পোস্টার আঁকছেন, কেউ সংগঠকের দায়িত্ব পালন করছেন। কেউবা প্রতিবাদী সেই পোস্টায় নিয়ে রাস্তায় নামছেন। আন্দোলনের শুরু থেকেই দিল্লির জামিয়া মিলিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রীরা, ছাত্রদের মতই সোচ্চার। তারা বলছেন, যত প্রতিকূলতাই আসুক, আন্দোলন থেকে পিছু হটবেন না। অন্যায় এই আইনের বিরুদ্ধে দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত ফিরে যাবেন না ক্লাসরুমে কিংবা ঘরে। এ ব্যাপারে আন্দোলনে অংশ নেয়া নারীরা জানায়, আমরা ঘরেই থাকতে চেয়েছিলাম। কিন্তু আমাদের বাধ্য করা হয়েছে ঘর ছেড়ে রাস্তায় নামতে। সরকারকে বলছি, আমাদের সরাতে পুলিশ দিয়ে পিটিয়েও লাভ হবে না। আমাদের দাবি মানতেই হবে।
যুক্তরাষ্ট্র-রাশিয়ার সম্পর্ক উন্নয়নে প্রস্তুত ট্রাম্প: রুশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী
২২ডিসেম্বর,রবিবার,আন্তর্জাতিক ডেস্ক,নিউজ একাত্তর ডট কম: যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এক চিঠিতে জানিয়েছেন, তিনি যুক্তরাষ্ট্র ও রাশিয়ার সম্পর্ক উন্নয়নের জন্য আলোচনা চালিয়ে যেতে প্রস্তুত আছেন। শনিবার রুশ সম্প্রচার মাধ্যম চ্যানেল ওয়ানে প্রচারিত এক সাক্ষাৎকারে রাশিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী সেরগেই ল্যাভরভকে এই কথা বলতে দেখা যায়। এদিন তার সাক্ষাৎকারের একটি অংশ প্রচারিত হয়। খবর রুশ সংবাদ সংস্থা তাসের। ল্যাভরভ বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প একটি সংক্ষিপ্ত চিঠি পাঠিয়েছেন। তিনি দুই দেশের মধ্যকার সমস্যাগুলো সমাধান করতে প্রস্তুত আছেন। রাশিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী গত ১০ ডিসেম্বর যুক্তরাষ্ট্রের আমন্ত্রণে দেশটি সফর করেন। তাকে অভ্যর্থনা জানান প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প। এই সফরে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মাইক পম্পেওর সঙ্গেও কথা হয় তার। রুশ পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নারী মুখপাত্র মারিয়া জাখারভা জানান, এই সফরের পর তারা নিরাপত্তা, নিরস্ত্রীকরণ এবং কৌশলগত স্থিতিশীলতার পাশাপাশি সিরিয়া ও আফগানিস্তানের দিকে দৃষ্টিনিবদ্ধ করেছেন।
নাগরিকত্বের ব্যাখ্যা দিলো ভারত সরকার
২১ডিসেম্বর,শনিবার,আন্তর্জাতিক ডেস্ক,নিউজ একাত্তর ডট কম: ভারতের নাগরিক কারা, সে ব্যাখ্যা দিয়েছে দেশটির সরকার। শুক্রবার শীর্ষ একজন সরকারি কর্মকর্তা এই ব্যাখ্যা দিয়েছেন। ওই ব্যাখ্যা অনুযায়ী, ১৯৮৭ সালের ১ জুলাইয়ের আগে ভারতে জন্ম হয়ে থাকলে বা এই সময়ের আগে যদি কারও বাবা-মা এদেশে জন্মগ্রহণ করে থাকেন তাহলে আইন অনুযায়ী তারা উপযুক্ত ভারতীয় নাগরিক এবং নাগরিকত্ব সংশোধন আইন, ২০১৯ বা সম্ভাব্য দেশব্যাপী জাতীয় নাগরিকপঞ্জি বা এনআরসি নিয়ে তাদের উদ্বিগ্ন হওয়ার দরকার নেই। নাগরিকত্ব আইনের ২০০৪ সালের সংশোধনী অনুসারে, আসামের মানুষদের বাদ দিয়ে দেশের মানুষ, যাদের বাবা মায়ের অন্তত একজন ভারতীয় বা দুজনই অবৈধ অভিবাসী না হলে তারাও ভারতীয় নাগরিক হিসেবে বিবেচিত হবেন। নাগরিকত্ব সংশোধনী আইন ২০১৯-এর বিরুদ্ধে চলমান বিক্ষোভ এবং সম্প্রতি এই আইনের বেশ কয়েকটি সংস্করণ সম্পর্কে সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রচার শুরুর পরেই স্পষ্টভাবে এই বিষয়টি প্রকাশ্যে আনা হয়েছে। ওই কর্মকর্তা জানান, যারা ১৯৮৭ সালের ১ জুলাই ভারতে জন্মগ্রহণ করেছেন বা যাদের বাবা-মা এই বছরের আগে এই দেশে জন্মগ্রহণ করেছিলেন তারা আইন অনুযায়ী ভারতীয় বলেই বিবেচিত হবেন। তবে আসামের ক্ষেত্রে ভারতীয় নাগরিকত্ব সনাক্তকরণের সালটি হলো ১৯৭১। সারা দেশে এনআরসি শুরু করার সম্ভাবনা সম্পর্কে জানতে চাওয়া হলে এই কর্মকর্তা জানান যে এ নিয়ে কোনও আলোচনা হয়নি। তিনি বলেন, আমরা জনগণকে বলতে চাই আসামের এনআরসির সঙ্গে নাগরিকত্ব সংশোধনী আইনকে তুলনা করবেন না। আসামের কাট-অফ তারিখ আলাদা। নাগরিকত্ব আইনের ২০০৪ সালের সংশোধনী অনুসারে, ১৯৫০ সালের ২৬ জানুয়ারি বা তার পরে ভারতে জন্মগ্রহণ করেছেন কিন্তু ১৯৮৭ সালের ১ জুলাইয়ের আগে জন্মেছেন, যিনি ১ জুলাই ১৯৮৭ বা তার পরে ভারতে জন্মগ্রহণ করেছেন কিন্তু ৩ ডিসেম্বর ২০০৪ সালের আগে জন্মেছেন এবং জন্মের সময় বাবা-মায়ের কেউ একজন ভারতের নাগরিক হলে তারা যথাযথ ভারতীয় নাগরিক বলেই গণ্য হবেন। ১০ ডিসেম্বর ১৯৯২ বা তার পরে কিন্তু ৩ ডিসেম্বর ২০০৪ এর আগে যারা ভারতের বাইরে জন্মগ্রহণ করেছিলেন এবং যার বাবা-মা জন্মসূত্রে ভারতের নাগরিক তারাও ভারতীয়। কেউ যদি ২০০৪ সালের ৩ ডিসেম্বর বা তার পরে ভারতে জন্মগ্রহণ করেন এবং বাবা-মা উভয়েই যদি ভারতের নাগরিক হন বা বাবা-মায়ের কেউ একজন ভারতের নাগরিক এবং অন্যজন তার জন্মের সময়ে অবৈধ অভিবাসী না হন তবে তারা ভারতীয় নাগরিক। গত সপ্তাহেই সংসদ বিতর্কিত এই আইন পাস করার পর থেকেই দেশের বিভিন্ন স্থানে সহিংস বিক্ষোভ শুরু হয়েছে। আসামে বিক্ষোভ চলাকালীন পুলিশের গুলিতে কমপক্ষে তিনজন, কর্নাটকের মেঙ্গালুরুতে আরও দুজন এবং উত্তরপ্রদেশের লখনউতে একজন নিহত হয়েছেন। নাগরিকত্ব আইনের পাশাপাশি সারা দেশে প্রস্তাবিত এনআরসির বিরুদ্ধেও শুরু হয়েছে প্রতিবাদ। উল্লেখ্য, সংশোধিত নাগরিকত্ব আইন অনুসারে- হিন্দু, শিখ, বৌদ্ধ, জৈন, পার্সি এবং খ্রিস্টান সম্প্রদায়ের সদস্যরা যারা ধর্মীয় নিপীড়নের কারণে পাকিস্তান, বাংলাদেশ এবং আফগানিস্তান থেকে ৩১ ডিসেম্বর ২০১৪ পর্যন্ত এদেশে এসেছেন তাদের অবৈধ অভিবাসী হিসেবে গণ্য করা হবে না এবং তাদেরকে ভারতীয় নাগরিকত্ব দেয়া হবে।
অভিশংসিত হলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প
১৯ডিসেম্বর,বৃহস্পতিবার,আন্তর্জাতিক ডেস্ক,নিউজ একাত্তর ডট কম: প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিরুদ্ধে অভিশংসনের প্রস্তাব সংখ্যাগরিষ্ঠ ভোটে অনুমোদিত হয়েছে মার্কিন প্রতিনিধি পরিষদে। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পকে অভিশংসন করতে যে পরিমাণ ভোট প্রয়োজন, হাউজ অব রিপ্রেজেন্টেটিভে প্রথম দুই অভিযোগে সেই পরিমাণ ভোট পড়েছে। খবর বিবিসির। বিবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, অভিশংসনের জন্য প্রতিনিধি পরিষদে প্রয়োজনীয় সংখ্যক ভোট পড়লেও কংগ্রেসের নিম্নকক্ষ হাউজ অব রিপ্রেজেন্টেটিভস-এর চেয়ারের অনুমোদন দেয়ার পর তার বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা দেয়া হবে। ট্রাম্পের বিরুদ্ধে অভিযোগ দুটি হলো- ট্রাম্প তার পদ ব্যবহার করে তার ডেমোক্র্যাট রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বী জো বাইডেনের বিরুদ্ধে তদন্ত করতে ইউক্রেনের ওপর চাপ সৃষ্টি করতে চেষ্টা করেছিলেন। দ্বিতীয়টি হলো- অভিশংসনের তদন্ত কাজে সহায়তা করতে অস্বীকার করে ট্রাম্প কংগ্রেসের কাজে বাধা সৃষ্টি করেছেন। প্রথম অভিযোগের ক্ষেত্রে অভিশংসনের পক্ষে ২৩০ ভোট পড়েছে এবং বিপক্ষে পড়েছে ১৯৭টি ভোট। দ্বিতীয় অভিযোগে অভিশংসনের পক্ষে পড়েছে ২২৯টি ভোট এবং বিপক্ষে পড়েছে ১৯৮টি ভোট। আগামী মাসে সিনেটের বিচার অনুষ্ঠিত হবে। উল্লেখ্য, যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে ডোনাল্ড ট্রাম্প হলেন অভিশংসিত হওয়া তৃতীয় মার্কিন প্রেসিডেন্ট। এর আগে মাত্র দুজন মার্কিন প্রেসিডেন্ট অভিশংসিত হয়েছিলেন। তারা হলেন- অ্যান্ড্রু জনসন ও বিল ক্লিনটন। তবে সিনেটে তাদের কাউকে সরিয়ে দেয়া হয়নি।

আন্তর্জাতিক পাতার আরো খবর