শনিবার, ফেব্রুয়ারী ২৭, ২০২১
সব রেকর্ড ভেঙে ভারতে শনাক্ত ১০ লাখ ছাড়াল
১৭,জুলাই,শুক্রবার,আন্তর্জাতিক ডেস্ক,নিউজ একাত্তর ডট কম: বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার আশঙ্কার বাস্তব প্রতিফলন দেখছে দক্ষিণ এশিয়ার দেশ ভারত। যেখানে গত একদিনে অতীতের সব সংক্রমণের রেকর্ড ছাড়িয়ে গেছে। এদিন করোনা শনাক্ত হয়েছে ৩৫ হাজার মানুষের দেহে। এতে করে আক্রান্তের সংখ্যা ১০ লাখ ছাড়িয়ে গেছে। প্রাণ হারিয়েছেন সাড়ে ২৫ হাজারের বেশি ভারতীয়। দেশটির কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের বরাত দিয়ে আনন্দবাজারের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত ২৪ ঘণ্টায় ৩৪ হাজার ৯৫৬ জনের শরীরে করোনা শনাক্ত হয়েছে। এতে করে সংক্রমিতের সংখ্যা বেড়ে ১০ লাখ ৩ হাজার ৮৩২ জনে দাঁড়িয়েছে। যার ষাট শতাংশই তিন রাজ্যের (মহারাষ্ট্র, দিল্লি ও তামিলনাড়ু)। দেশটিতে প্রথম পাঁচ লাখে পৌঁছতে সময় লেগেছিল ১৪৯ দিন। অথচ, পরের পাঁচ লাখ হতে সময় নেয় মাত্র ২০ দিন। বিশেষ করে শেষ এক লাখে (৯ থেকে ১০) পৌঁছতে সময়ে লেগেছে মাত্র তিন দিন। এর আগের লাখ ছুঁতে সময় লেগেছিল চার দিন। কিন্তু প্রতিদিনের রেকর্ড শনাক্তে আক্রান্তের মিছিল তীব্র হতে থাকে। আগামীতে আরও ভয়াবহ রূপ নিতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন দেশটির চিকিৎসক ও বিশেষজ্ঞরা। অন্যদিকে গত একদিনে প্রাণহানি ঘটেছে ৬৮৭ জনের। এ নিয়ে এখন পর্যন্ত ২৫ হাজার ৬০২ জনের মৃত্যু হলো করোনায়। দেশটিতে এখন পর্যন্ত এক কোটি পৌনে ৩০ লাখ নমুনা পরীক্ষা করা হয়েছে। দক্ষিণ এশিয়ার দেশটিতে সর্বাধিক সংক্রমণ ছড়িয়েছে মহারাষ্ট্রে। তারপরেই তামিলনাড়ু, দিল্লি, গুজরাট, উত্তরপ্রদেশ, কর্নাটক এবং তেলেঙ্গানা। এদিকে, বিশ্ব তালিকায় মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং ব্রাজিলের পরে বিশ্বের তৃতীয় সর্বোচ্চ করোনাক্রান্ত দেশ হলো ভারত। এদিকে বৃহস্পতিবার মহারাষ্ট্রে নতুন করে আক্রান্ত হয়েছেন সাড়ে আট হাজারের বেশি মানুষ। এতে করে এ রাজ্যে আক্রান্তের সংখ্যা ২ লাখ ৮৪ হাজারে ২৮১ জনে দাঁড়িয়েছে। মৃত্যু হয়েছে ১১ হাজার ১৯৪ জনের। গত সোমবার (১৩ জুলাই) থেকে এ রাজ্যে ১০ দিনের কড়া লকডাউন শুরু হয়েছে। তামিলনাড়ুতে এখন পর্যন্ত ১ লাখ ৫৬ হাজার ৩৬৯ জনের শরীরে ভাইরাসটির সংক্রমণ পাওয়া গেছে। যেখানে প্রাণহানি ঘটেছে ২ হাজার ২৩৬ জনের। রাজধানী দিল্লিতে করোনার থাবায় প্রাণ গেছে ৩ হাজার ৫৪৫ জনের। আর ভুক্তভোগীর সংখ্যা বেড়ে ১ লাখ ১৮ হাজার ৬৪৫ জনে দাঁড়িয়েছে। সংক্রমণ ঠেকাতে ভারতে প্রথমদিকে সামাজিক দূরত্বের উপর জোর দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু এখন লকডাউনের কড়াকড়ি নেই। অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড শুরু হওয়ায় বাজার-হাট, গণপরিবহনে বেড়েছে লোকের ভিড়। বেড়েছে একে অপরের সংস্পর্শে আসার সম্ভাবনাও। তাই, প্রতিদিনই আশঙ্কাজনকহারে বাড়ছে করোনা রোগীর সংখ্যা। এদিকে গত ২৪ ঘণ্টায় ২২ হাজার ৯৪১ জন ভুক্তভোগী সুস্থ হয়েছেন। এ নিয়ে এখন পর্যন্ত করোনা মুক্ত হয়ে স্বাভাবিক জীবনে ফিরেছেন ৬ লাখ প্রায় ৩৬ হাজার ভুক্তভোগী। দেশটিতে বর্তমানে অ্যাক্টিভ রোগীর সংখ্যা ৩ লাখ ৪৩ হাজার ৪৮১ জন।
তিউনিশিয়ার প্রধানমন্ত্রীর পদত্যাগ
১৬,জুলাই,বৃহস্পতিবার,আন্তর্জাতিক ডেস্ক,নিউজ একাত্তর ডট কম: তিউনিশিয়ার প্রধানমন্ত্রী এলাইস ফাখফাখ দেশটির রাষ্ট্রপতি কাইস সাইয়েদের কাছে পদত্যাগ পত্র জমা দিয়েছেন। (১৬ জুলাই) আন্তর্জাতিক সংবাদ মাধ্যম মিডলইস্টআই এক প্রতিবেদনে এ কথা জানায়। সংবাদ মাধ্যমটির প্রতিবেদনে বলা হয়, ১০৫ জন সংসদ সদস্যের একটি দল তার নেতৃত্বে অনাস্থা প্রস্তাব উত্থাপন করার পরে তিনি এ পদত্যাগ পত্র দেন। দেশটির রাষ্ট্রপতি কাইস সাইয়েদকে এক সপ্তাহের মধ্যে নতুন একজনকে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে মনোনয়ন করতে হবে যিনি নতুন সরকার গঠনের জন্য দুই মাস সময় পাবেন এবং সংসদের মাধ্যমে তা পাস করাতে হবে।
দক্ষিণ চীন সাগরে আমেরিকার নাক গলানোর অভিযোগ চীনের
১৫,জুলাই,বুধবার,আন্তর্জাতিক ডেস্ক,নিউজ একাত্তর ডট কম: দক্ষিণ চিন সাগর বিরোধে যুক্তরাষ্ট্র সরাসরি জড়িত না হলেও এ নিয়ে দেশটি নাক গলাচ্ছে বলে অভিযোগ করেছে চীন। এ ব্যাপারে তীব্র প্রতিবাদ জানিয়ে চিন বলেছে আমেরিকা পেশি শক্তি প্রদর্শন করছে। চীন এটাকে একেবারেই অযৌক্তিক বলে মন্তব্য করেছে। আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের খবরে বলা হয়, দক্ষিণ চিন সাগরে নিজের কর্তৃত্ব কায়েম করতে গিয়ে চিন অন্য কয়েকটি দেশের সার্বভৌমত্বে আঘাত করছে- এমনটাই অভিযোগ করা হয়েছিল মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের এক বিবৃতিতে। তার জবাবে মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) আমেরিকায় চিনা দূতাবাসের পক্ষ্য থেকে এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, দক্ষিণ চীন সাগর নিয়ে বিরোধে আমেরিকা কোনও ভাবেই সরাসরি জড়িত নয়। তা সত্ত্বেও এই বিষয়ে নাক গলিয়ে চলেছে। চীনা দূতাবাসের বিবৃতিতে দক্ষিণ চীন সাগরে দীর্ঘ দিন ধরে আমেরিকার পেশি শক্তি প্রদর্শনেরও কড়া সমালোচনা করা হয়েছে। ওই বিবৃতিতে বলা হয়েছে, দক্ষিণ চীন সাগরে শান্তি স্থাপনের অজুহাতে আমেরিকা আদতে পেশি শক্তি প্রদর্শন করছে। করেও চলেছে। এতে দক্ষিণ চীন সাগর এলাকায় নতুন করে উত্তেজনার সৃষ্টি হচ্ছে। তা ওই এলাকার দেশগুলোর মধ্যে বিরোধকে আরও উস্কে দিচ্ছে। বাণিজ্য যুদ্ধের পর আমেরিকার সঙ্গে সাম্প্রতিক কালে চীনের কর্তৃত্বের দ্বন্দ্ব চলছে দক্ষিণ চীন সাগর নিয়ে। যেখানে আরও বেশি কর্তৃত্ব কায়েম করার চেষ্টা যেমন গত কয়েক বছর ধরেই চালিয়ে যাচ্ছে বেজিং। তেমনই ওয়াশিংটনও দক্ষিণ চীন সাগর এলাকায় তার সহযোগী দেশগুলোর স্বার্থ রক্ষায় মরিয়া চেষ্টা শুরু করেছে। কয়েক বছর আগে দক্ষিণ চীন সাগরে রণতরী পাঠিয়েছিল আমেরিকা। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, করোনা পরিস্থিতিতে চীনকে আরও কোণঠাসা করতে আবার দক্ষিণ চীন সাগর ইস্যুটিকে সামনে আনল আমেরিকা।
পর্যটকদের জন্য খুললো ভূ-স্বর্গ কাশ্মীর
১৪,জুলাই,মঙ্গলবার,আন্তর্জাতিক ডেস্ক,নিউজ একাত্তর ডট কম: দিল্লির কুতুব মিনার, লালকেল্লার পর পর্যটকদের জন্য খুলে দেওয়া হয়েছে ভূ-স্বর্গ খ্যাত ভারতের হিমাচল প্রদেশের জম্মু ও কাশ্মীর। মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) থেকে স্বাস্থ্যবিধি মেনে পর্যটকরা সেখানে ভ্রমণে যেতে পারবেন বলে জানিয়েছে ভারতীয় সংবাদমাধ্যম হিন্দুস্তান টাইমস। গতবছরের আগস্ট মাসের পর থেকেই রাজনৈতিক কারণে পর্যটনে ব্যাপক মন্দা চলছিল কাশ্মীরে। সেখানকার অর্থনীতির অন্যতম ভিত্তি দাঁড়িয়েছে আছে এই খাতের উপর। এর মধ্যে চলতি বছরের মার্চ মাস থেকে করোনা ভাইরাসের প্রকোপ বাড়তে থাকায় সেই মন্দা আরো বাড়তে থাকে। এ অবস্থায় নির্দিষ্ট কিছু নিয়ম মেনে পর্যটকদের জন্য খুলে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিলো দেশটি। জম্মু-কাশ্মীর ভ্রমণে যেসব নিয়ম মানতে হবে: প্রথম পর্যায়ে শুধু প্লেনে আসা যাত্রীদের গাইডলাইন ও স্ট্যান্ডার্ড অপারেটিং প্রোসিডিউর মেনে জম্মু-কাশ্মীরে ঢোকার অনুমতি দেওয়া হবে। প্রত্যেক পর্যটককে আরোগ্য সেতু মোবাইল অ্যাপ ইনস্টল করে রেগুলার স্বাস্থ্য বিষয়ে আপডেট থাকতে হবে। ৬৫ বছরের বেশি বয়সী পর্যটকদের কাশ্মীরে ভ্রমণের ক্ষেত্রে নিরুৎসাহিত করে এড়িয়ে চলতে বলা হয়েছে নির্দেশনায়। কাশ্মীরে ঢোকার আগে অনলাইনে হোটেল বুকিং, হাউসবোট বা গেস্টহাউজ বুকিং বাধ্যতামূলক। রিটার্ন টিকিট, ভ্রমণের সময়কাল- সব পূর্বনির্ধারিত থাকতে হবে। ট্যাক্সি বা ট্রান্সপোর্টের প্রি-বুকিং বিষয়ে হোটেল ম্যানেজমেন্ট বা ট্রাভেল এজেন্ট ট্যুরিজম বিভাগকে অবহিত করতে হবে। কাশ্মীরে ঢোকার সঙ্গে সঙ্গেই আরটিপিসিআর মেশিনে করোনা ভাইরাস (কোভিড-১৯) টেস্ট করা হবে। আগে থেকে টেস্ট করা থাকলে হোটেলে উঠতে পারবেন কিন্তু বের হতে পারবেন না। ২৪ ঘণ্টার মধ্যে টেস্টের ফল জানিয়ে দেওয়া হবে।
চীনের বিরুদ্ধে মার্কিন তথ্য হাতিয়ে নেওয়ার চেষ্টার অভিযোগ
১৩,জুলাই,সোমবার,আন্তর্জাতিক ডেস্ক,নিউজ একাত্তর ডট কম: দুই পরাশক্তি যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের মধ্যকার সম্পর্ক উচ্চ ঝুঁকির সময় পার করছে। মহামারির শুরু থেকেই মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প কোভিড-১৯ চীনের তৈরি এমন মন্তব্য করে আসছেন। জবাবে পাল্টা আক্রমণ চালিয়ে যাচ্ছে বেইজিং। দু দেশের চলমান বিরোধের পরিসর ক্রমে বাড়ছে। এবার যুক্তরাষ্ট্র অভিযোগ তুলেছে, করোনা ভাইরাস সংক্রান্ত মার্কিন গবেষণা হাতিয়ে নিতে চীন নানাভাবে চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় তদন্ত সংস্থার (এফবিআই) হিসেব অনুযায়ী, বর্তমানে তারা যতো ঘটনা তদন্ত করছে, সেগুলোর প্রায় অর্ধেকই চীন সম্পর্কিত। সম্প্রতি এফবিআইয়ের পরিচালক ক্রিস্টোফার রে জানান, যুক্তরাষ্ট্রের স্বাস্থ্যসেবামূলক বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান, ওষুধ কোম্পানি, গবেষণাধর্মী এবং শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের দিকে নজর রয়েছে চীনের। তারা এসব প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে করোনা ভাইরাস সংক্রান্ত মার্কিন গবেষণা হাতিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করছে। তিনি জানান, বর্তমানে এফবিআই প্রায় পাঁচ হাজার ঘটনা তদন্ত করছে। এর মধ্যে প্রায় আড়াই হাজার চীন সম্পর্কিত। আমরা এমন একটা পরিস্থিতির মধ্যে পড়েছি যে, প্রতি ১০ ঘণ্টায় চীনের বিরুদ্ধে একটি করে ঘটনার তদন্তে নামতে হচ্ছে। চীন কী ধরনের কৌশল অবলম্বন করছে এমন প্রশ্নের জবাবে এফবিআই পরিচালক বলেন, মার্কিনিদের জানা দরকার যে, উদ্দেশ্য পূরণের জন্য চীন সাইবার হামলাসহ সম্ভাব্য সব ধরনের পন্থাই অবলম্বন করছে। এমনকি সশরীরে কাউকে পাঠিয়ে নথি চুরির চেষ্টাও করছে তারা। ক্রিস্টোফার বলেন, চীন শুধু তাদের গোয়েন্দা বাহিনীর সদস্যদেরই ব্যবহার করছে না। রাষ্ট্রায়ত্ত বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান, তথাকথিত কিছু বেসরকারি প্রতিষ্ঠান, স্নাতকোত্তর পর্যায়ের নির্দিষ্টসংখ্যক শিক্ষার্থী, গবেষকসহ নানা শ্রেণি-পেশার মানুষকে হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করছে তারা। এফবিআই পরিচালকের অভিযোগ, নিজেরা উদ্ভাবনের দিকে মনোযোগ না দিয়ে চীন প্রায়ই যুক্তরাষ্ট্রের গোয়েন্দা তথ্য চুরি করে। এরপর এসব তথ্য তারা প্রয়োগ করে মার্কিন প্রতিষ্ঠানগুলোর বিরুদ্ধেই। বলা যায়, তথ্য চুরির মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে দু বার প্রতারণা করছে চীন। ক্রিস্টোফার রে মনে করেন, চীন সরকার ও ক্ষমতাসীন কমিউনিস্ট পার্টি আন্তর্জাতিক আইন ও শিষ্টাচার লঙ্ঘন করছে। তিনি বলেন, ২০১৪ সালে চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং ফক্স হান্ট নামে একটি প্রকল্প চালু করেন। বেইজিং বলছে, দুর্নীতি দমনের লক্ষ্যে তারা এ প্রকল্প হাতে নিয়েছে। কিন্তু বাস্তবতা হলো বিরোধীদের দমন করতেই প্রকল্পটি হাতে নিয়েছেন জিনপিং। ক্রিস্টোফার নিজ দেশের নাগরিকদের সতর্ক করে বলেন, আপনি যদি যুক্তরাষ্ট্রের প্রাপ্তবয়স্ক নাগরিক হন, তাহলে ধরেই নিতে পারেন আপনার ব্যক্তিগত অনেক তথ্য হয়তো চীনের হাতে চলে গেছে।
যুক্তরাষ্ট্রে যুদ্ধবিমানে প্রথম কৃষ্ণাঙ্গ নারী পাইলট
১২,জুলাই,রবিবার,আন্তর্জাতিক ডেস্ক,নিউজ একাত্তর ডট কম: দারুণ এক খবর আসলো যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী থেকে। ব্ল্যাক লাইভ ম্যাটার আন্দোলনে যখন দেশটি উত্তাল ঠিক তখন এমন খবরে খুশি কৃষ্ণাঙ্গরা। দেশটির ইতিহাসে প্রথমবারের মতো কোনো কৃষ্ণাঙ্গ নারী কৌশলগত যুদ্ধ বিমানের পাইলটের কোর্স সম্পন্ন করলেন। ট্যাকটিক্যাল এয়ারক্রাফট পাইলট হিসেবে নিয়োগ পাওয়া ওই নারী হলেন লেফটেন্যান্ট জেনারেল ম্যাডেলিন সুইগেল। তাকে স্বাগত জানিয়ে বিষয়টিতে মেকিং হিস্টোরি বলে উল্লেখ করে টুইট করেছে যুক্তরাষ্ট্রের নৌবাহিনী। বার্তা সংস্থা এএপি জানিয়েছে, সুইগেল চলতি সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্রের নেভাল এয়ার ট্রেনিং কমান্ড থেকে উড্ডয়নের সকল কোর্স সম্পন্ন করেছেন। চলতি মাসের শেষ দিকে উইংস অব গোল্ড খেতাব গ্রহণ করবেন তিনি। দেশটির নৌবাহীর বিমান পরিচালনা ট্রেনিংয়ের প্রধান সুইগেলের অর্জনে টুইটারে লিখেছেন- প্রথম কৃষ্ণাঙ্গ নারী ট্যাকটিক্যাল এয়ারক্রাফটের পাইলট হলো সুইগের। চলতি মাসের শেষ দিকে সে তার উইংস অব গোল্ড পদক গ্রহণ করবে। তাতে সুইগেলকে বিজেট তথা ব্রাভো জুলু হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে, নৌবাহিনীতে এই টার্মের অর্থ হলো- সাবাস। চার দশকের বেশি সময় পর যুক্তরাষ্ট্রের কোনো নারী ট্যাকটিক্যাল এয়ারক্রাফট বহরে নতুন কোনো মাইলফলক গড়লেন। এই পাইলটররা যুদ্ধে প্রতিপক্ষের লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানার বিমান পরিচালনা করে থাকেন। নেভাল হিস্ট্রি ও হেরিটেজ কমান্ড ওয়েবসাইটের তথ্যানুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রের প্রথম উইংস অব গোল্ড পদকধারী পাইলট ছিলেন রসেম্যারি ব্রায়ান্ট ম্যারিনার। ১৯৭৪ সালে এই পদবি পান তিনি। ভার্জিনিয়ার বুর্কেতে জন্ম সুইগেল ২০১৭ সালে ইউএস নেভাল অ্যাকাডেমি থেকে গ্র্যাজুয়েট সম্পন্ন করেন। তিনি বর্তমানে টেক্সাসের কিংস ভিলের ট্রেনিং স্কোয়াড্রন ২১ এর রেডহকসে নিযুক্ত আছেন বলে জানিয়েছেন কর্মকর্তারা।
৯ হাজার কর্মী ছাঁটাইয়ের ঘোষণা দিল এমিরেটস
১১,জুলাই,শনিবার,আন্তর্জাতিক ডেস্ক,নিউজ একাত্তর ডট কম: বৈশ্বিক মহামারি করোনাভাইরাসে বিশাল আর্থিক ক্ষতির কারণে বিশ্বের প্রথম সারির বিমান পরিবহন সংস্থা এমিরেটসের প্রেসিডেন্ট এয়ারলাইন্সটির নয় হাজার কর্মীকে ছাঁটাই করার ঘোষণা দিয়েছেন। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসির শনিবারের এক অনলাইন প্রতিবেদনে এ খবর জানানো হয়েছে। বিশ্বের সবচেয়ে বেশি দূরত্বে নিজেদের ফ্লাইট পরিচালনাকারী এই বিমান সংস্থটি প্রথমবারের মতো প্রকাশ্যে জানালো যে তাদের কোম্পানিতে কাজ করা কতজন কর্মীকে ছাঁটাই করা হচ্ছে। মহামারি শুরু হওয়ার আগে এমিরেটসের মোট ৬০ হাজার কর্মী ছিল বলে জানিয়েছে বিবিসি। এমিরেটসের প্রেসিডেন্ট স্যার টিম ক্লার্ক জানিয়েছেন, তাদের বিমান সংস্থা ইতোমধ্যে মোট কর্মীর দশ শতাংশকে ছাঁটাই করেছে। তবে তিনি বলছেন, আমাদের সম্ভবত আরও কিছু লোককে ছাঁটাই করতে হবে, সম্ভবত এই সংখ্যাটা মোট কর্মীর ১৫ শতাংশ পর্যন্ত। মহামারি করোনাভাইরাসের কারণে সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত খাতগুলোর একটি হলো বিমান চলাচল। কেননা বেশিরভাগ বিমান সংস্থাকে তাদের ফ্লাইট বন্ধ রাখতে হয়েছে। বিবিসিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে টিম ক্লার্ক বলেছেন, অন্যদের (অন্যান্য এয়ারলাইন্স) যতটা বাজে অবস্থা হয়েছে, আমাদের ঠিক ততটা হয়নি। বিশ্বের ২৯০টি বিমান পরিবহন সংস্থার প্রতিনিধিত্বকারী সংগঠন ইন্টারন্যাশনাল এয়ার ট্রান্সপোর্ট অ্যাসোসিয়েশন (আইএটিএ) পূর্বাভাস দিয়েছে যে, চলতি বছরে বিশ্বের এয়ারলাইন্সগুলো ৮ হাজার ৪০০ কোটি ডলারের বেশি ক্ষতির মুখে পড়বে এবং এই খাতে চাকরি হারাবে অন্তত ১০ লাখ কর্মী। চলতি সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্রের বৃহৎ তিনটি বিমান সংস্থার একটি ইউনাইটেড এয়ারলাইন্স কর্তৃপক্ষ তাদের কর্মীদের সতর্ক করে বলেছে, আন্তর্জাতিক বিমান চলাচলের চাহিদা বিরাট হ্রাস পাওয়ায় কোম্পানির ৩৬ হাজার কর্মীকে ছাঁটাই করা হতে পারে। এরকম আরও অনেক এয়ারলাইন্সে ছাঁটাই কার্যক্রমের খবর পাওয়া যাচ্ছে প্রতিদিন।
জরুরি অবস্থার মেয়াদ বাড়ছে ইতালিতে
১১,জুলাই,শনিবার,আন্তর্জাতিক ডেস্ক,নিউজ একাত্তর ডট কম: করোনাভাইরাসের বিস্তার বাড়তে থাকায় জরুরি অবস্থার মেয়াদ বাড়াতে যাচ্ছে ইতালি। আগামী ৩১ জুলাই দেশটিতে জরুরি অবস্থার মেয়াদ শেষ হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু শুক্রবার ইতালির প্রধানমন্ত্রী গিসেপে কন্তে জানিয়েছেন যে, তার দেশে জরুরি অবস্থার মেয়াদ বাড়তে পারে। খবর রয়টার্সের। গত বছরের জানুয়ারিতে ছয় মাসের জরুরি অবস্থা জারি করে ইতালি। গত ডিসেম্বরে চীনের হুবেই প্রদেশের উহান শহরে প্রথম করোনার প্রকোপ ধরা পড়ে। এর কিছুদিন পর ইতালিতে দুই চীনা পর্যটকের দেহে করোনার উপস্থিতি পাওয়া যায়। সে কারণে জানুয়ারির শেষ দিক থেকেই দেশব্যাপী জরুরি অবস্থা জারি করা হয়। তবে চলতি মাসে তা শেষ হওয়ার কথা থাকলেও হচ্ছে না। করোনা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে এখনই জরুরি অবস্থা তুলে না নিয়ে সময় বাড়ানোর পরিকল্পনা করছে ইতালি সরকার। এদিকে, সম্প্রতি বাংলাদেশসহ ১৩ দেশের ওপর ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে ইতালি। গত সোমবার বাংলাদেশ থেকে ইতালি যাওয়া বিশেষ ফ্লাইটের ২১ যাত্রীর দেহে করোনাভাইরাস শনাক্ত করা গেছে। সে কারণে রোমের ফিউমিসিনো ও মিলানের মালপেনসা বিমানবন্দরে অবতরণ করা ১৮২ বাংলাদেশির মধ্যে ১৬৭ জনকে সেখানে নামতে না দিয়ে ফেরত পাঠিয়েছে ইতালি। বাংলাদেশের ফ্লাইটে করোনায় আক্রান্ত যাত্রী কীভাবে গেলো তা নিয়ে তুমুল সমালোচনা চলছে ইতালির সংবাদমাধ্যমে। বলা হচ্ছে, টাকার বিনিময়ে করোনাভাইরাস পরীক্ষার ভুয়া সার্টিফিকেট নিয়ে ওই যাত্রীরা ইতালি গেছেন। গত দু’সপ্তাহের মধ্যে বাংলাদেশ ভ্রমণকারী বিদেশি নাগরিকদের জন্যেও প্রবেশ নিষিদ্ধ করেছে ইতালি। বৃহস্পতিবার বাংলাদেশসহ ১৩টি ঝুঁকিপূর্ণ দেশের ওপর এ নিষেধাজ্ঞা জারি করে বিশেষ অর্ডিন্যান্সে স্বাক্ষর করেন ইতালীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রী রবার্তো স্পেরাঞ্জা। ইতালির ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞায় পড়া দেশগুলো হলো- বাংলাদেশ, আর্মেনিয়া, বাহরাইন, ব্রাজিল, বসনিয়া হার্জেগোভিনা, চিলি, কুয়েত, উত্তর মেসিডোনিয়া, মলদোভা, ওমান, পানামা, পেরু এবং ডমিনিকান রিপাবলিক।
২০২১ সালের মধ্যে হাতে আসবে করোনা ভ্যাকসিন: বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা
১০জুলাই,শুক্রবার,আন্তর্জাতিক ডেস্ক,নিউজ একাত্তর ডট কম: অনেক টালবাহানার পর অবশেষে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা জানাল তাদের ভ্যাকসিন সহযোগী Gavi-র সঙ্গে মিলে ভ্যাকসিন তৈরির কাজ চলছে। তাদের এখন একমাত্র লক্ষ্য ২০২১ সালের মধ্যে কোভিড-১৯ ভ্যাকসিনের অন্তত ২০০ কোটি ডোজ বাজারে ছাড়া। ভারতের কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্য মন্ত্রী ডা. হর্ষ বর্ধন সম্প্রতি এই Covax ফেসিলিটি সেশনে অংশ নিয়েছিলেন। এই উদ্যোগেরও প্রধান লক্ষ্য এই মুহূর্তে দ্রুত নভেল করোনাভাইরাসের টিকা বের করা। উল্লেখ্য চলতি বছরের জুন মাসে Gavi-র উদ্যোগে শুরু হয় Covax ফেসিলিটি। কোভিড টিকা তৈরি করার জন্যে এটি একটি অর্থনৈতিক প্ল্যাটফর্ম। এই ফেসিলিটি বিমা পলিসি হিসেবে কাজ করবে, যাতে কিছু গবেষণা সফল না হলেও ভ্যাকসিন তৈরির কাজে কোনও বাধা না আসে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা এবং Covax-এর তরফে আশ্বস্ত করে বলা হয়েছে, শুরুতে বিপজ্জনক পরিস্থিতিতে থাকা মানুষকে এই টিকা দেওয়া হবে বিশেষ করে গরিব এবং উন্নয়নশীল দেশের যাদের আর্থিক সংগতি ভালো নয়। পরবর্তী পর্যায়ে এই টিকা পৌঁছে যাবে প্রত্যেকের কাছেই। ভারতের স্বাস্থ্য মন্ত্রী ডা. হর্ষ বর্ধন বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার নির্বাহী বোর্ডের অন্যতম সদস্য। তিনি জানান, ভারত ৬০ শতাংশ ভ্যাকসিনের যোগান দিতে পারবে। একই সঙ্গে তিনি বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থাকে অনুরোধ করেছেন যাতে ফাস্ট ট্র্যাকে ভ্যাকসিন ট্রায়াল করা যায় সে দিকে নজর দিতে, কারণ বিশ্বের প্রত্যেকটি দেশের নজর এখন করোনা টিকার দিকেই। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার প্রধান বিজ্ঞানী সৌম্য স্বামীনাথন জানিয়েছেন, ‘ভ্যাকসিন প্রস্তুতকারক সংস্থার সঙ্গে জোট বেঁধে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা এই কাজে গতি আনার চেষ্টা করছে। ক্লিনিকাল ট্রায়ালের জন্যে প্রয়োজনীয় সব পদক্ষেপই করা হয়েছে।’ তিনি আরও বলেন, কিছু সংখ্যক মানুষের শরীরে ইতোমধ্যে করোনাভাইরাসের বিরুদ্ধে অ্যান্টিবডি তৈরি হয়ে গিয়েছে। GAVI-র সিইও ডা. সেথ বার্কলে জানিয়েছেন, এই ভ্যাকসিন চুক্তির ফলে ২০২১ সালের মধ্যে ২০০ কোটি ডোজ তৈরি করা সম্ভব হবে। তবে এই সংখ্যক ডোজ বানাতে খরচ পড়বে অন্তত ১৮০০ কোটি মার্কিন ডলার। এখন পর্যন্ত উত্তর আমেরিকা, ইউরোপ এবং এশিয়া প্যাসিফিকে তিনটি ভ্যাকসিন তৈরি হয়েছে। এই ৯টি ভ্যাকসিনের মধ্যে ৬টি ভ্যাকসিনের ইতোমধ্যে ট্রায়াল শুরু হয়ে গিয়েছে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার প্রধান বিজ্ঞানী সৌম্য স্বামীনাথন জানিয়েছেন, এই মুহূর্তে প্রধান লক্ষ্যই হল প্রত্যেক দেশের অন্তত ২০ শতাংশ জনসংখ্যার কাছে দ্রুত করোনা ভ্যাকসিন পৌঁছে দেওয়া। তবে এক্ষেত্রে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে স্বাস্থ্যকর্মীদের। সূত্র: এইসময়।